সারাদেশ

  • নোয়াখালীতে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু

    নোয়াখালীতে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালী সদরে অটোরিকশায় চার্জ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: বোরহান উদ্দিন ওরফে রিপন (২৮) নামের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব চর উরিয়া গ্রামের খলিল মিয়ার দরজার হোরন মিয়ার রিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।

    রিপন ওই গ্রামের মো: মিলনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।

    পুলিশ জানায়, সারাদিন অটোরিকশা চালানোর পর রাতে গ্যারেজে ফিরে রিপন নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউচারউজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ এ,আর

  • ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে নারী আসামির যাবজ্জীবন

    ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে নারী আসামির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের বহুল আলোচিত সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় আসামি শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহা: হেলাল উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার বিবরণে যে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সকালে পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা দিনভর আশপাশের বিভিন্ন স্থান ও পুকুরে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পায়নি। সারাদিন নিখোঁজের পরে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনের ঘরের ভেতর থেকে শিশু সাবার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শান্তনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কুমার ঘোষ ঘটনার ২৭ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী রাখা হয়।

    মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিউর রহমান ও অতিরিক্ত পিপি কাজী একরামুল হক আলম এবং রাষ্ট্রকর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আশরাফ জোয়ার্দ্দার মামলা পরিচালনা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার নথি অনুযায়ী, শান্তনা খাতুন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে শিশু সাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

    জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তার ছেলে আবু জুবায়েরের সাথে খেলতে গিয়ে সাবার মারামারি হয়। একপর্যায়ে সাবার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে লাশ ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি শান্তনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। এ,আর

  • মতলবে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোচালকের নিহত

    মতলবে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোচালকের নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় রিকশাটির চালক ছিদ্দিক মিয়াজী (৪৮) নিহত হয়েছেন।

    আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নওগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ছিদ্দিক মিয়াজী উপজেলার মধ্য নওগাঁও গ্রামের মরহুম আব্বাস মিয়াজী ও মানিকজান বেগম দম্পতির ছেলে।

    পরিবার, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর ১টার দিকে নিজের অটোরিকশা চালিয়ে ছিদ্দিক মিয়াজী তার বাড়ির পাশে নওগাঁও আড়ংবাজার থেকে উপজেলার নওগাঁও এলাকার হাজী মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার অটোরিকশায় কোনো যাত্রী ছিল না। নওগাঁও সেতু এলাকায় পৌঁছালে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি উল্টে যায় এবং সড়কের পাশে জলাবদ্ধ জমিতে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হন চালক ছিদ্দিক মিয়াজী। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত অটোরিকশাচালকের বড় ভাই মো: হায়দার মিয়াজী বলেন, ‘ভাই আগে থেকেই কিছুডা অসুস্থ ছিল। তার আয়েই সংসারের খরচ চলত। ভাইডা মইরা গেল, এখন তার তিন ছেলেমেয়ে ও বউর অবস্থা কী হবে।’

    মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক অটোচালক ছিদ্দিক মিয়াজীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ,আর

  • মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর নিখোঁজ ছিলেন শাহ আলমের গর্ভধারিণী মা সাহারা বেগম (৬৫)। এক সময় মাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তিনি ও তার পরিবার। অবশেষে অবসান হলো সেই দীর্ঘ অপেক্ষার। এতো বছর পর মাকে ফিরে পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা সন্তানসহ পরিবারের সবাই।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালার নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, ২০০৯ সালের শুরুতে বাড়ি থেকে হারিয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন সাহেরা। পরিবারের লোকজন আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে ব্যর্থ হন। কিন্তু থেমে যাননি ছেলে শাহ আলম। প্রিয় মাকে খুঁজে বের করতে ধারদেনা করে কেনেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সংসার চালানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি মাকে খোঁজে বেড়িয়েছেন। মায়ের মায়াবী মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রায় কেটে যায় ১৮ বছর।

    শুক্রবার সাহেরা এসে উপস্থিত হন বাড়ির পাশের একটি বাজারে। মা ফিরে আসার সংবাদ পেয়ে শাহ আলম ছুটে যান মায়ের কাছে। মাকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান তিনি। মা-ছেলের আকস্মিক এই আবেগঘন সাক্ষাতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

    শাহ আলম বলেন, ‘১৮ বছর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মাকে পাইনি। মাকে ফিরে পাব, এমন আশাও ছিল না। মাকে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। পাগল হলেও তিনি আমার মা। এতো বছর পর মায়ের সেবা করতে পারছি এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের।’

    স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছোট থাকতে সাহারা বেগম বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। দীর্ঘদিন পর তাকে খুঁজে পেয়ে পরিবারের সবাই অনেক খুশি।’

    মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক লোকজন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। সাহারা বেগম ফিরে আসার ঘটনায় আমরা সবাই আনন্দিত। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। এতোদিন তিনি কোথায় ছিলেন ও কেমন ছিলেন তা জানা যায়নি।’ এ,আর

  • চুয়েট উত্তাল, নতুন ভিসিকে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধা

    চুয়েট উত্তাল, নতুন ভিসিকে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

    সকালে চুয়েটের প্রধান ফটকে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মূল ফটকে তালা দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।

    একই দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন চুয়েটের শিক্ষকরা। এ সময় তারা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান এবং বিভিন্ন বক্তব্য দেন।

    চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘এক মাস ২২ দিনে আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখেছি। কাজের মধ্যে গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জীবন ফিরে এসেছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। মাত্র এক মাস ২২ দিনের মধ্যে তাকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, এর সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক কারণ আমরা জানতে চাই।’

    তিনি বলেন, ‘নতুন উপাচার্য চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। তার প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। তবে আমরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল চাই, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। যৌক্তিক ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থানে থাকব।’

    চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির জিসান বলেন, ‘একজন উপাচার্যকে পদে রাখার দাবিতে আন্দোলন-এমন ঘটনা বিরল। কিন্তু এখানে শিক্ষার্থীরা তা করছে, কারণ তিনি শিক্ষার্থীদের একটি ভিশন দিয়েছেন। সরকার যাচাই-বাছাই করে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তাহলে আবার কেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো?’

    তিনি আরও বলেন, ‘এতে শিক্ষক সমাজ ও চুয়েটকে হেয় করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তার পুনর্বহাল চান। নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে নতুন যিনি এসেছেন, তাকেও যেন কোনোভাবে অপমানিত হতে না হয়। পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে।’

    মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানান।

    যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ‘আমাদের উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে কোনো কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল রাত থেকেই আমাদের কর্মসূচি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ক্যাম্পাস অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। সায়েম স্যার চুয়েট ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। আমরা তার পুনর্বহাল চাই।’

    সোমবার রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ শেষে উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

  • কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার শহরতলির ত্রিমোহনী বাজারে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দোকান থেকে পাওয়া ২৫ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ত্রিমোহনী বাজারের রোহান ট্রেডার্সে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানে থাকা সার পরীক্ষা করে মানহীনতা ও প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দোকান মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইসাথে জব্দ করা ২৫ বস্তা ভেজাল সার ধ্বংস করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত ইয়াসমিন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারি, ত্রিমোহনীর এক ডিলার ভেজাল সার বিক্রি করছেন। ওই ডিলার অন্য একটি স্থান থেকে সার এনে বিক্রি করতেন। অভিযান চালিয়ে সেখানে ২৫ বস্তা ভেজাল সার মিশ্রিত বস্তা পাওয়া যায়। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সারের সঙ্কটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল ও নকল সার বিক্রি করছেন। এসব সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নকল ও ভেজাল সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন

    সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাগরিক সমাজের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন নুরু রহমান, তাওফিকুল ইসলাম ও আবুল হোসেন। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর তাদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়।

    দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাছাই কমিটিতে আবেদনকারী সার ডিলারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা, অযোগ্য আবেদনকারীদের বাতিলের কারণ প্রকাশ করা এবং যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত সংখ্যার বেশি হলে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন করা।

    এছাড়া স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুবিধা না দেয়ার দাবি জানানো হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যারা সার ডিলারশিপ পেতে আবেদন করেছিল, সেই আবেদনে সরকারি দলের কতিপয় নেতার যোগসাজসে যোগ্যদের বাদ দিয়ে দলীয় লোক নিয়োগ দেয়ার পায়তারা চলছে। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগ দেয়ার দাবি জানান।

    তারা আরো বলেন, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হলে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে জেলার কৃষকদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনকারীরা।

    তারা বলেন, মেহেরপুরের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষক। কৃষকদের যাতে বঞ্চিত হতে না হয়, ফসলের উৎপাদন যাতে ব্যহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ,আর

  • জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার

    জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে নিখোঁজের পাঁচদিন পর মামুন হোসেন অন্তর (৩১) নামে এক ট্রাক ড্রাইভারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উথলী গ্রামের আখসেন্টারের পেছনের একটি আমগাছ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মামুন ওই গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

    জানা গেছে, দুপুরে মামুনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।

    পেশায় ট্রাকচালক মামুন বেশ কিছুদিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পরিবার ফেলে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতেন। তবে কয়েকদিন তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশ পচে যাওয়ায় সঠিকভাবে তাকে চেনা যায়নি। তবে পরনের পোশাক দেখে লাশটি মামুনের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘লাশ ঝুলে থাকার খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • শ্রীনগরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    শ্রীনগরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার হাসাড়া-সিংপাড়া কেসি সড়ক-সংলগ্ন একটি আবাদি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, কেসি সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় তারা ওই এলাকা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পায়। পরে আশপাশে খোঁজ নিয়ে জমির মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ওই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, গত তিন-চার দিন আগে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এই পুরুষের লাশটি ফেলে রাখা হয়। পিবিআই টিমকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা এল লাশের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

  • ভেড়ামারায় খাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    ভেড়ামারায় খাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি মাছ আবাদি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রেললাইনের পূর্ব পাশে খালটিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখা যায়। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধা করে পুলিশ।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, লাশটি শনাক্তকরণ ও পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও অন্যান্য তথ্য জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভেড়ামারা থানা পুলিশ উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ,আর

  • হলদে তরমুজ চাষে খোর্শেদের বাজিমাত

    হলদে তরমুজ চাষে খোর্শেদের বাজিমাত

    এক সময় যে জমিতে বছরে একবার ধান চাষ হতো, বছরের বাকি সময় থাকত পতিত। সেই জমিতেই এখন সারি সারি হলুদ তরমুজ। মাটির ওপর বিছিয়ে থাকা সবুজ লতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ রঙের বাহারি ফল। ব্যতিক্রমী এ তরমুজবাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ কিনে নিচ্ছেন পরিবারের জন্য। এ পরিবর্তনের নেপথ্যে জুড়ী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা খোর্শেদ আলম।

    প্রায় পাঁচ বছর আগে ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষের ভিডিও দেখেই তার মনে হয়–একবার চেষ্টা করে দেখা যাক। সেই চেষ্টা শুরু হয়েছিল মাত্র ছয় শতাংশ জমিতে। পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এখন প্রায় তিন বিঘা জমিতে চাষ করছেন বিভিন্ন জাতের হলুদ তরমুজ। চলতি মৌসুমে তার প্রত্যাশা ৮-৯ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে। খরচ বাদে সম্ভাব্য মুনাফা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

    মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ি গ্রামের খোর্শেদ আলম পেশায় পরিবেশ ও সংবাদকর্মী। কৃষিতে তার আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ছিল না বললেই চলে। ইউটিউবের ভিডিও দেখেই শুরু হয়েছিল আগ্রহ। ২০২২ সালে পরিবারের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে ছয় শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ তরমুজ চাষ করেন। ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে চাহিদা থাকায় শখের সেই চাষই পরে পরিণত হয় বাণিজ্যিক উদ্যোগে।

    খোর্শেদ আলম বলেন, ‘ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষ দেখে শখ জাগে। ভাবলাম একবার পরীক্ষা করে দেখি। ছয় শতাংশ জমিতে বীজ বপন করলাম। ফলন ভালো হওয়ার পর দেখলাম এর চাহিদাও বেশ। তখন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষের চিন্তা করি।’

    তার সেই ছোট্ট পরীক্ষাই এখন রূপ নিয়েছে বড় উদ্যোগে। চলতি মৌসুমে নিজের প্রায় তিন বিঘা জমিতে ল্যানফাই, সূর্যডিম, সানগোল্ড, লিয়োনা, রবি, সাম্মাম মার্লিন ও হ্যানিডিউ মেলন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন খোর্শেদ। এর মধ্যে ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজই বেশি নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের।

    গত বছরের ১৮ নভেম্বর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জুড়ীর সহযোগিতায় ডোমাবাড়ি কচুরগুল ব্লকের ৩৩ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এ চাষ শুরু করেন তিনি।

    খোর্শেদের তরমুজ বাগান এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, স্থানীয়দের কাছেও এক ধরনের আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।

    বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তরুণ বয়সে খোর্শেদের এমন উদ্যোগ সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।’

    বাগানে আসা অনেকের কাছেই হলুদ তরমুজ দেখা কিংবা খাওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। কেউ শুধু বাগান ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ পছন্দের তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকজন ক্রেতা একসঙ্গে ৪-১৫টি পর্যন্ত তরমুজও কিনছেন।

    উদ্যোক্তা খোর্শেদ জানান, হলুদ তরমুজ শীত মৌসুমের ফসল। চাষের প্রায় তিন মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে তার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে আট থেকে নয় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তিনি। গত মৌসুমের অভিজ্ঞতা আরও আশাবাদী করেছে তাকে। প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করে প্রায় আট লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছিলেন। অর্থাৎ তিন মাসের ফসল থেকে খরচ বাদে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। খোর্শেদ বলেন, ‘জুড়ীর আবহাওয়া হলুদ তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। মাত্র তিন মাসে ফলন পাওয়া যায়। আমি মনে করি, এ এলাকায় আরও বড় পরিসরে চাষের সুযোগ রয়েছে।’

    নিজের সাফল্যের পাশাপাশি এলাকার পতিত জমিকে কৃষির আওতায় আনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন খোর্শেদ। তার ভাষ্য, জুড়ীতে এখনো বিভিন্ন কারণে হাজার হাজার বিঘা জমি বছরের বড় একটি সময় পতিত পড়ে থাকে। এসব জমিতে স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল আবাদ করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘জুড়ীতে অনেক জমি পতিত পড়ে আছে। শিক্ষিত বেকার যুবকেরা চাইলে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। একটু সাহস করে শুরু করলে কৃষি থেকেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।’

    স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে খোর্শেদ বলেন, ‘আগামী বছর আরও জমিতে চাষ বাড়াব। পাশাপাশি অন্য নতুন ফসলও যুক্ত করতে চাই। আমার লক্ষ্য জুড়ীকে কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা।’

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, ‘ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ চাষ জুড়ী উপজেলায় ইতেমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। খোর্শেদের উদ্যোগ ইতেমধ্যে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। তার বাগান দেখে অনেকেই হলুদ তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পরিচিতিও বাড়ছে দ্রুত। প্রতিদিন শত শত কৃষক ও দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসছেন।’

    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ একটি উচ্চমূল্যের হাইব্রিড জাত। উৎপাদন পদ্ধতি অনেকটা দেশি তরমুজের মতো। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও সি রয়েছে এবং ফলটি বেশ মিষ্টি। জুড়ীর মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী।’

    কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতাকে এ উদ্যোগের অন্যতম সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করে মাহমুদুল আলম বলেন, ‘কেউ আগ্রহী হলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

  • গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা

    গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা

    বিকেল হলেই জমি থেকে সদ্য তোলা করলা নিয়ে আসেন কৃষকেরা। কেউ ব্যাগে, কেউ প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে গ্রামের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসেন এসব সবজি। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে দরদাম ও বেচাকেনা। পরদিন সকালে পিকআপে করে সেই করলা চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে।

    অবাক করার মতো বিষয় হলো, এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়। গ্রামের ভেতরের একটি সাধারণ জায়গায় প্রায় ১৫ বছর ধরে গড়ে উঠেছে করলার এই পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র।

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গাটি এখন আশপাশের গ্রামের করলা চাষিদের কাছে পরিচিত পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র হিসেবে।

    স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এখানে করলার বেচাকেনা শুরু হয়েছে মৌসুম শুরুর প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন মহাজন নিয়মিত করলা কিনছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা আসে এই কেন্দ্রে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে পিকআপে করে এসব করলা পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন বাজারে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মসজিদের সামনে অস্থায়ী ত্রিপলশেডের নিচে ব্যাগ ও প্লাস্টিকের ক্যারেটে করলা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্যারেট। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি পিকআপ। আগের সন্ধ্যায় করলা বিক্রি করা দুই কৃষক মহাজনের কাছ থেকে তাঁদের পাওনা টাকা নিচ্ছিলেন।কৃষকেরা জানান, এখানে করলা বিক্রি করায় তাঁদের বাড়তি ঝামেলা কম। জমি থেকে করলা তুলে সরাসরি বিক্রিকেন্দ্রে নিয়ে এলেই হয়। অন্য কোনো হাটে নিতে হয় না। ফলে পরিবহন খরচ, টোল কিংবা ধলতার মতো বাড়তি খরচও দিতে হয় না। আবার স্থানীয় হাটের তুলনায় অনেক সময় ভালো দাম পাওয়া যায়। এসব কারণে আশপাশের গ্রামের অনেক কৃষক এখন এখানেই করলা বিক্রি করছেন।

    স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কয়েক দিন আগে দাম কম ছিল। হাটের চেয়ে এখানে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এলাকার কৃষকেরা এখানে করলা বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’

    করলা বিক্রির পর তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে এই গ্রামকে ঘিরে। মহাজনেরা কৃষকদের কাছ থেকে করলা সংগ্রহ করে বাছাই ও প্যাকেটজাত করেন। পরে পিকআপে করে সেগুলো বিভিন্ন বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    মহাজন বাবু মণ্ডল বলেন, ‘প্রতিদিন আড়াই শ থেকে ৩০০ মণ করলা এখানে আসে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।’

    স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলাম জানান, আশপাশের মাঠগুলোতে করলার আবাদ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে কয়েকজন মহাজন এখানে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কৃষকের সংখ্যা ও করলার পরিমাণ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

    কৃষকেরা বলেন, মাঠের কাছাকাছি এই বিক্রিকেন্দ্র হওয়ায় তাঁদের সময় ও পরিবহন খরচ—দুটিই কমছে। বিশেষ করে বিকেলে জমি থেকে করলা তুলে এনে রাতের মধ্যেই বিক্রি করে দিতে পারছেন তাঁরা। এতে পরদিন আবার জমিতে কাজ করার সুযোগ থাকছে।ক্ষেতলাল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের ওপর করলার দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ তাঁদের পরামর্শ দিচ্ছে।

    ধান ও আলুর জন্য পরিচিত ক্ষেতলালের কৃষিতে এখন বিভিন্ন সবজির আবাদও বাড়ছে। উঁচু জমিতে করলা, পটল, বেগুন, চিচিঙ্গা, লাউ ও শসার মতো সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে করলাকে ঘিরে বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের এই পাইকারি কেন্দ্রটি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার একটি স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

    কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই ইজারার আওতায় থাকা আনুষ্ঠানিক হাটের অবকাঠামোও। তবু প্রতিদিন শত শত মণ করলার বেচাকেনায় জমে ওঠে গ্রামের এই জায়গাটি। বিকেলে কৃষকেরা নিয়ে আসেন মাঠের ফসল, রাতে চলে দরদাম, আর সকালে সেই করলাই পিকআপে চড়ে পাড়ি দেয় দূরের বাজারের পথে। এভাবেই প্রায় দেড় দশক ধরে গ্রামের একটি সাধারণ জায়গা করলা চাষিদের কাছে হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র।

  • বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

    বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের আওতায় বিনা মূল্যে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আরো চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

    উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, গড়ে প্রতি মাসে দুটি করে অর্থাৎ বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা। ২০২৭ সাল পর্যন্ত হয়তো আমরা সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’

    বিএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। বাকি চারটি সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে সব রোগীরই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে ফলোআপ চিকিৎসা চলছে।

    উপাচার্য জানান, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরো দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য চারজন রোগী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন।

    লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবেশী দেশে একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ১৪ দিনের হাসপাতাল প্যাকেজের খরচ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এর বাইরে ডোনার ও রোগীর ভ্রমণ, দীর্ঘদিন হোটেলে থাকা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিলতা দেখা দিলে অতিরিক্ত আইসিইউ ব্যয়সহ মোট খরচ প্রায় ১ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, নিয়মিতভাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মধ্যেই একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এটি একটি প্রাথমিক বা রাফ এস্টিমেট।’

    উপাচার্য বলেন, ‘একটা সময় আসবে, যখন আমাদের বিনা মূল্যে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাটা সম্ভব হবে না। আমরা হয়তো ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’

    ডোনার নির্বাচন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য জানান, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক ধাপে ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব টিমও ডোনারের পরিচয়, উৎপত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম না থাকে।’

    মাসে দুটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্টের লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, একজন ডোনার ও একজন রিসিপিয়েন্টকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাগত মিল, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি এবং ব্যাপক লজিস্টিক সমন্বয় ছাড়া একটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব নয়।

    তিনি জানান, ভবিষ্যতে রোগীর সংখ্যা ও অবকাঠামো বাড়লে ট্রান্সপ্ল্যান্টের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

    বিএমইউ জানিয়েছে, ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ অংশ নেয়। ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয়।

    উপাচার্য বলেন, ‘এটি কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়; সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইনফেকশন কন্ট্রোল টিম—সবাই মিলে এটি সম্ভব হয়েছে।’

  • ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর পকেটে থাকা এনআইডির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জাবেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খানকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।

    পুলিশ জানায়, জাবেদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে মৃত্যু, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

    এসআই এস এম আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাবেদের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি চার-পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

    জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর বনানীর ১৩ নম্বর সড়কের ১২২ নম্বর বাসা। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ।

  • আগ্রহ বাড়ছে হলুদ চাষে

    আগ্রহ বাড়ছে হলুদ চাষে

    যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চলতি বছর মশলা জাতীয় ফসল হলুদের ব্যাপক চাষ হয়েছে। বাজার মূল্য বেশি থাকায় চাষিদের মধ্যে এ মশলা জাতীয় হলুদ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তারা হলুদ চাষ করে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন।

    উপজেলার বন্যামুক্ত উঁচু এলাকা মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা, মির্জাপুর, শ্রীফলা, প্রতাপপুর, বায়সা, পাঁজিয় ইউনিয়নের কমলাপুর, গড়ভাঙ্গা, বেলকাটি, সাগরদত্তকাটি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মঙ্গলকোট, বসুন্তিয়া ও কেদারপুর, হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর, কাবিলপুর, হাসানপুর, ত্রিমোহিনি ইউনিয়নের চাদড়া, মির্জানগর, বরনডালি, গোপালপুর এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাহানপুর, ভালুকঘর, বেগমপুর এলাকায় জমিতে এ মশলাজাতীয় কৃষিজাত পণ্য হলুদের চাষ হয়েছে ব্যাপক।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, হলুদ রোপণে খরচ একেবারে সীমিত। বীজভেদে কাঠাপ্রতি খরচ হয় মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বীজ হলুদ ৭-৮ কেজি মূল্য ৫০০ টাকা। উৎপাদন হয়ে থাকে কাঠাপ্রতি ৫-৭ মন। কাঁচা হলুদ প্রকারভেদে বিক্রয় হয়ে থাকে ১৫০০-১৬০০ টাকা মন দরে। বর্তমান বাজারে প্রতি কাঠায় সর্বনিম্ন লাভ হয় ২৪০০-৪০০০ টাকা। হলুদ চাষের সময় কাল ৯ মাস। হলুদ ক্যান্সার রোধক, হজম ভালো করে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, ত্বক মসৃন হয়, ব্যাড কোলেস্টেরল নষ্ট করে, ফ্যাটিলিভার ভালো হয়। রূপচর্চায় কার্যকরি ভূমিকা রাখে।

    গড়ভাঙ্গা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘হলুদ চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। হলুদ বিভিন্ন রোগ নিরাময় করে। কৃষকের হলুদ বাগান সবুজ গাছে মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

    এলাকার কৃষকরা জানান, হলুদ চাষে পোকা থেকে মুক্ত থাকতে পারলে অনেক লাভ হয়, যার কারণে এ উপজেলায় হলুদ চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তবে এ সময় হলুদে বিভিন্ন রোগ আক্রমণ করে থেকে। বিশেষ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী হলুদ পচা রোগ, শ্বাসনালী বা কচিডগা পোকার আক্রমণের জন্য নিয়মিত ওষুধ দিতে হবে। পানি যাতে জমে না থাকে, তার জন্য পানি সরানো নালা করতে হবে। রোগের ওষুধ হিসেবে দানা কোস্টার ও তরল টিল্ট ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

    কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গত বছর কেশবপুর উপজেলায় হলুদ চাষ হয়েছিল মাত্র ৬৭০ বিঘা জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১২০ বিঘা, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। উপজেলার কৃষকের মশলাজাতীয় ফসলের চাষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

  • রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েবসাইট সেবা চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে দেখা যাবে।

    মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।

    ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাঁর ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না।আবার কোনো কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ায় অন্য কৃষক তাঁর প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ইউএনও বলেন, এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কৃষককে নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তাঁরা আগের মতোই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনবেন।শুধু ডিলারদের তাঁদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।

    পবা উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে জানিয়ে ইউএনও বলেন, কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

    সারের বিতরণব্যবস্থা তদারকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাঁদের পরিদর্শন জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাঁদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা প্রশাসনও পুরো ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করবে।

    ইউএনও জানান, ‘পবা সার ডটকম’ মূলত একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ। এটি ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো যুক্ত করা যাবে। বর্তমানে এটি পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এতে পরিবর্তন ও নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত আছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক আছেন, তাঁদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে তাঁরা কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন- এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

    বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমন মৌসুমে কোন ব্লকে কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের তালিকা ও তাঁদের সারের চাহিদার তথ্যের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কোন কৃষক কোন ডিলারের কাছ থেকে সার নেবেন, সেটি আগে থেকেই জানা থাকবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্তি কমবে এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। বর্তমানে সারের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম ও বিসিআইসি-বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে ডিলারদের গুদামে থাকা মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করছেন কি না, সেটিও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ‘পবা সার’ প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। অনিয়ম শনাক্ত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোও সহজ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের একটি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

    তবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, এই সভার আয়োজন করেছিল মসজিদ ও মাদ্রাসা কতৃপক্ষ।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    মসজিদে কর্মসূচি পালন বিষয়ে কথা বলতে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তবে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, ভিপি আয়নুল হক এমপির নিজ ইউনিয়ন চান্দাইকোনার কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কতৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিপুল অর্থ বকেয়া রয়েছে। এটি পরিশোধ করতে এমপি সাহেবের সহযোগিতা নিতে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে তাকেসহ আমাদের আমন্ত্রণ জানায়। আমরা ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখতে পাই তারা মাদ্রাসা মসজিদের অভ্যন্তরে সোফা, চেয়ার সেট করে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, যেহেতু এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ফলে আমরা আপত্তি না করে তাদের ব্যবস্থাপনায় মসজিদে মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। এখানে মূলত মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় আলোচনা হয়েছে।

    জানা যায়, ভিপি আয়নুল হক বর্তমানে জেলা বিএনপি, সিরাজগঞ্জের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, রায়গঞ্জ এবং রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ থেকে তিনি তিনবার ভিপি নির্বাচিত হন।

  • সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

    সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন এসব কথা বলেন।

    এদিন জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ের কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল তাতে অংশ নিচ্ছে না বলে আগেই জানা গিয়েছিল।

    আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। যদিও তারা সাহস করে এখনো পর্যন্ত গণভোটকে অবৈধ বলতে পারে নাই। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বলার চেষ্টা করেছে যে গণভোটের একাংশকে তারা মানে, অন্য অংশকে তারা মানে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ তারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এখানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় ধরে যে ফ্যাসিবাদী একটা কাঠামো ছিল, সেখান থেকে উত্তরণের আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি।

    তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো যে, সরকার সংবিধানে ফ্যাসিবাদী যে কাঠামো আছে, সেগুলোকে তারা অক্ষত রাখতে চায় এবং সে কারণেই তারা এই সংবিধানের একটা পরিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য, একটা ফ্যাসিবাদী সাংবিধানিক কাঠামো থেকে একটা গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামোতে উত্তরণের জন্য যে পরিবর্তনটা দরকার, সেটার দিকে অগ্রসর না হয়ে তারা তাদের মতো করে একটা সংশোধনী নিয়ে আসতে চায়। তারা ইতিমধ্যে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি গঠন করেছে।

    কমিটিতে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদেরকে তারা আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা সংসদের বিরোধীদল হিসেবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে যখন ইন্ডিভিজুয়ালি তারা দাওয়াত দিয়েছেন, আমরা সেখানে বলেছি যে জাতীয় নাগরিক পার্টি সংবিধান সংশোধনের যে কমিটি, সেখানে তারা অংশগ্রহণ করবে না। কারণ সংবিধান সংশোধন কমিটি যে আইডিয়ার ভিত্তিতে এখানে গঠিত হয়েছে, সেটাতে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়ের কোনো বাস্তবতা নেই এবং এখানে কোনো প্রয়োগ নেই।

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ব্যাপারে কীভাবে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে গণভোটে রায় দেওয়া হয়েছে এবং সেটা অবশ্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে এটাকে সুরাহা করতে হবে। যদি সংবিধান রিলেটেড পরিবর্তনগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে না করে সংবিধান সংশোধনী করে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ যে সাংবিধানিক সংকটে আছে, এই সংকট আরও গভীর হবে এবং সামনের দিনে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদের মধ্যে পড়তে হবে।

    তিনি আরও বলেন, এ কারণে আমরা সরকারকে শুরুর সময় থেকে দাবি জানিয়ে এসেছি, তারা যেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এবং সেখানে সংবিধানের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করবো এবং তার মধ্য দিয়েই গণভোটের গণরায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু সরকার বিভিন্নভাবে তারা এই সংশোধন কমিটি যেটা আছে, সেটাকেই তারা প্রবল করে তুলছে, সেটাকেই তারা মুখ্য করে তুলছে। যেহেতু তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি আছে এবং তারা মনে করে যে তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি দিয়ে তারা সংবিধানের পরিবর্তনগুলো নিজেদের মতো করে করতে পারবে, সে কারণেই তারা বিরোধীদলের কোনো কথাকে, যেটা জনগণের কথা, সেটাকে তারা গ্রাহ্য করছে না।

    বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, আজকে তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং রেখেছে, আমরা স্পষ্ট করে বলছি, এর মধ্য দিয়ে সংকটের সুরাহা হবে না, বরং সংকটের পথকে আরও দীর্ঘায়িত করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বয়কট করছে এবং কোনোভাবেই আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করবো না। যদি সরকারের বোধোদয় হয়, তারা যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে, সেই শপথ গ্রহণ করে, তাহলেই বাংলাদেশের মানুষেরা সেটাকে অ্যাকসেপ্ট করবে এবং মানুষের রায় অনুযায়ী তা গঠিত হবে এবং সেখানেই আমরা এই সংবিধান রিলেটেড যে সংকট উদ্ভূত হয়েছে, সেগুলোর আমরা একটা সমাধান পাব।

    এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

    কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা শহরের পুরানথানা এলাকার সামাদ প্লাজার সামাদ আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলায় এসি বসানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাই গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৫) ও হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে সাব্বির (৩০)।

    জেলা ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ ও সদর মডেল থানার এসআই দুলাল জানান, দুই রাজমিস্ত্রি সামাদ আবাসিক হোটেলে এসি বসানোর কাজ করছিলেন। আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে একটি লোহার রড বিদ্যুতের খোলা তারের সংস্পর্শে এলে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    আফাজুলের ফুপু জাহেরা খাতুন বলেন, আফাজুলের স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তিনি সংসার চালাতেন।

    অন্যদিকে সাব্বিরের চাচাশ্বশুর জাকির হোসেন জানান, সাব্বিরের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তার সংসার চলত।

    জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করার সময় প্রায়ই ভবনের মালিকরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন না। ফলে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সর্বত্র নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাদের সন্তানদের দায়িত্ব মালিকপক্ষকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    ভবনের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, রিপন মিয়াসহ সামাদ আবাসিক হোটেলের চারজন মালিক রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

    সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখর রঞ্জন পাল জানান, এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষের কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এ ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ,আর

  • আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ

    আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পায়ের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ছয় মাসের ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার ভাবিও গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী ও অভিযুক্ত ইমনের মা মোছা. ফিরোজা বেগম (৬২) এবং ইমনের ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত। আহত ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইমন প্রায় দুই বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান। এতে তার পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপরও পায়ের ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি পায়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় ইমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রোববার রাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে মোছা. ফিরোজা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন।

    পুলিশ জানায়, এর জেরে সোমবার সকালে ইমন তার মা ও ভাবির সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে মোছা. ফিরোজা বেগমকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মায়ের কাছে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে তুলে নিয়ে আছাড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে ভাবি রাবেয়া বেগমকেও মারধর করা হয়।

    চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরোজা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, পায়ের যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার মানসিক অবস্থার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ওসি আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ,আর

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ

    পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ফুলতলা পানিডুবি দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

    মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৩ বছর ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে। নিয়মিতভাবে ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করে আসছে কর্তৃপক্ষ। মাদরাসার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৯৮৩ সালে ময়জউদ্দিনের পিতা মহিরউদ্দিন ওই জমি মাদরাসার নামে দান করেন। কিন্তু হঠাৎ করে এসে গত শনিবার বালু ফেলতে শুরু করেন ময়জউদ্দিন। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় ১০টি দোকান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ ও মাদরাসার সম্পত্তি রক্ষার দাবি জানায়।

    মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। হঠাৎ করে গত শনিবার ময়জউদ্দিন মাদরাসার জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মাদরাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার জমি রক্ষা এবং দখলের চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

    মাদরাসাটির সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, মাদরাসার জমি অবৈধ দখলের প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন করেছি। মাদরাসার জমি উদ্ধার, বন্ধ করে দেওয়া দোকানগুলো খুলে দেওয়া এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন, তার ছেলেসহ কয়েকজন মিলে মাদরাসার দোকানগুলো দখল করে সেখানে বালু ফেলেছেন। মাদরাসার সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

    অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন বলেন, দলের কোনো প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করা হয়নি। সেই জমিটির দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ দিয়ে আসছি জমিটি আমাদের। গত শনিবার জমিটা আমরা দখল করছি৷

    বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, মাদরাসার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে এবং প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা পরিষ্কার হবে।

  • সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

    সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং গ্রেফতার-জামিনের নাটক বন্ধের দাবিতে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে, বেলা ১১টার পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা। এ সময় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

    সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা কামনা করলেও প্রথমে তাতে সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ সময় পুলিশের সাথে বাগ্বিতণ্ডার পর কোর্ট ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে আদালতের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান।

    পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তবে তিনিও ফটক খুলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মধ্যেই আদালত চত্বরে প্রবেশ করেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। সেখানে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

    সমাবেশে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর, সাবেক সেক্রেটারি আবু মনি জুবায়েদ রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, সময়ের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিপু খন্দকার, সাংবাদিক হাসান আলী, কে এম আর শাহিনসহ অন্যরা।

    বক্তারা বলেন, কুমারখালীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। অন্যদিকে, হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার পর জামিনে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাকে তারা ‘পাতানো নাটক’ বলে অভিহিত করেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

    সাংবাদিক নেতারা আরো বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় জেলার সাংবাদিক সমাজ শুধু প্রতিবাদ নয়; এবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    সমাবেশ থেকে সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং গ্রেফতার-জামিনের নামে চলা কথিত নাটক বন্ধের দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমারখালী পৌর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক উল্লাস। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ,আর

  • ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ‘সোনালি আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাটের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ফরিদপুরের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবছরই চাষ হচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের পাট। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও এখন বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা।

    একসময় অবহেলিত ও মূলত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পাটকাঠি বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পাট চাষ হয়। পাট কাটার পর আঁশ সংগ্রহের পাশাপাশি পাটকাঠিও সংরক্ষণ করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকের বাড়ি ও মাঠ থেকে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মান ও শুকনো অবস্থাভেদে বর্তমানে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষকরা জানান, আগে পাটকাঠিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। জমির পাশে, পুকুরপাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখা হতো। অনেকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া ঘরের মাচা, সবজির মাচা ও বেড়াসহ বিভিন্ন কাজে পাটকাঠি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন তারা।

    পার্শ্ববর্তী জেলাতেও যাচ্ছে পাটকাঠি

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পাটকাঠি শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যবসায়ীরা এগুলো মাগুরা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাটকাঠি সংগ্রহের পর শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগের তুলনায় পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনে তারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরাও তা সংরক্ষণে আগ্রহী হচ্ছেন।

    এক পাটকাঠি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে পাটকাঠি অনেকটা অবহেলিত ছিল। এখন এর চাহিদা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে পাটকাঠি কিনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। চাহিদা থাকায় কৃষকরাও এটি বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।’

    কৃষকের মুখে বাড়তি আয়ের কথা

    পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটের আঁশ বিক্রির পর পাটকাঠি থেকেও আয় হওয়ায় উৎপাদন খরচের একটি অংশ উঠে আসছে। এতে পাটচাষে তাদের আগ্রহও বাড়ছে।

    বোয়ালমারী উপজেলার ফেলান নগর গ্রামের কৃষক হালিম বলেন, ‘পাট থেকে আঁশ বিক্রি করার পর পাটকাঠিগুলো আগে তেমন দাম পেতাম না। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাওয়ায় পাটকাঠি থেকেও বাড়তি আয় হচ্ছে।’আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষক হাবিব মোল্লা বলেন, ‘আগে পাটকাঠি দিয়ে রান্নার জ্বালানি, ঘরের মাচা কিংবা বেড়ার কাজে ব্যবহার করতাম। এখন বিক্রি করেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তাই পাট কাটার পর পাটকাঠি যত্ন করে শুকিয়ে রাখি।’

    বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, পাটকাঠি বর্তমানে শুধু জ্বালানি বা ঘরোয়া কাজে সীমাবদ্ধ নেই। পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাটকাঠি থেকে তৈরি কার্বনজাত উপাদান বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কালি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া পানবরজ, সবজির মাচা, ঘরের বেড়া ও বিভিন্ন কৃষিকাজেও পাটকাঠি ব্যবহার করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য একটি মূল্যবান উপজাত পণ্যে পরিণত হয়েছে।’

    বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, পাটকাঠির বাড়তি ব্যবহার ও বাজার তৈরি হওয়া কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন। তবে পাটকাঠি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।

    তিনি আরও বলেন, ‘পাট আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে। কৃষকরা পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছেন। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পাটচাষিদের আয় আরও বাড়তে পারে।’

    এতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পাটচাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

  • টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডিত আসামি হলেন— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মরহুম হাজী আজমত আলীর ছেলে মুস্তাক। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

    টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন নয়া দিগন্তকে জানান, আসামি মুস্তাক দুই শিশুছেলে ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে নিয়ে ভূঞাপুরের ঘাটান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তিনি বিগত ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার পর যেকোনো সময় মুনিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

    অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে নিজ ঘরের বক্সখাটের নিচ থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার ভাই আমিনুল ইসলাম খান ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন।

    বিচার শেষে আদালত আসামি মুস্তাককে স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে স্ত্রীর লাশ গুম করার চেষ্টার দায়ে তাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

    নিহত মুনিয়া গোপালপুরের নলিন বাজার গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে।

    মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: রফিকুল ইসলাম রফিক। এ,আর

  • ঘোড়াঘাটে আদা ক্ষেতে গাঁজা চাষ ১২ ফুটের গাছসহ গ্রেপ্তার

    ঘোড়াঘাটে আদা ক্ষেতে গাঁজা চাষ ১২ ফুটের গাছসহ গ্রেপ্তার

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অভিনব কৌশলে আদা খেতের আড়ালে নিষিদ্ধ মাদক চাষের অভিযোগে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার দুটি গাঁজা গাছসহ আবু তালেব নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের শ্রীহরিবিহরি গ্রামে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। আটককৃত ২৭ বছর বয়সী আবু তালেব ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।

    উদ্ধার হওয়া গাছ দুটির ওজন বিশ কেজি। ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিজ বসতবাড়ির উঠান সংলগ্ন জমিতে গোপনে মাদক চাষ করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল গভীর রাতে শ্রীহরিবিহরি গ্রামে অবস্থান নেয়। সেখানে আবু তালেবের বাড়ির উঠান ঘেঁষা আদা খেতের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে অস্বাভাবিক আকারের গাছ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি গাছের ওজন প্রায় ১২ কেজি এবং অপরটির ওজন প্রায় ৮ কেজি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আবু তালেব জানান, বিগত ছয় থেকে সাত মাস ধরে তিনি নিজের সেবন ও স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আদা চাষের আড়ালে গাছগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করছিলেন। আদা গাছের ঘন পাতার সুযোগ নিয়ে তিনি এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করে রেখেছিলেন।

    ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে চাষাবাদের অভিযোগে আবু তালেবের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এদিকে ফসলের আড়ালে এমন কারবারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বুলাকিপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষিজমির আড়ালে এ ধরনের অপরাধ পুরো এলাকার জন্য মারাত্মক সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারে, সে জন্য পাড়া-মহল্লায় সামাজিক নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি আইনি তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি।

  • বাইশারীতে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ বীজে বিপাকে অর্ধশত কৃষক

    বাইশারীতে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ বীজে বিপাকে অর্ধশত কৃষক

    মাঠে বীজ বুনে ভালো ফলনের আশায় ছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু ধানগাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার আগেই ছড়া চলে আসায় এখন দিশেহারা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত কৃষক। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সোনালী সিড কোম্পানি লিমিটেডের ‘রঞ্জিত পাইজাম’ জাতের বীজধান কিনে ৪৫ থেকে ৫০ কানি জমিতে চাষ করার পর এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

    কৃষকদের দাবি, ধান রোপণের মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই গাছে ছড়া দেখা দিয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ধানের গোছা স্বাভাবিকভাবে বড় হয়নি। অনেক গাছের পাতা ও কাণ্ড লালচে হয়ে গেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন তো দূরের কথা, শেষ পর্যন্ত খড়ও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাইশারী ইউনিয়নের যৌথখামার এলাকার বিভিন্ন ধানখেত এবং পাশের কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বড়বিল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ‘রঞ্জিত পাইজাম’ জাতের ধান চাষ করা কয়েকটি জমিতে অস্বাভাবিকভাবে ছোট অবস্থায়ই গাছে ছড়া এসেছে। অনেক গাছের গোছা স্বাভাবিক আকার ধারণ করেনি। কোথাও কোথাও গাছের পাতা ও কাণ্ডে লালচে ভাব দেখা গেছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মো. আনিসুর রহমান, অলি আহমদ, আকবর আহমদ, আব্দুল জব্বার, আবু তাহের, মো. ইউসুফ, মোতালেব, ওবায়দুর রহমান, মো. হেলাল উদ্দিন, আব্দুল হাকিম ও হামিদুল হকসহ প্রায় অর্ধশত কৃষক রয়েছেন।কৃষকেরা জানান, বাইশারীর ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডুর দোকান থেকে উন্নত ও উফশী জাতের বীজধান হিসেবে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ কিনে জমিতে রোপণ করেন তারা। বীজ বিক্রির সময় যে পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ধানগাছ বড় হওয়ার আগেই ছড়া চলে আসায় এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

    কৃষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘উন্নত জাতের বীজ মনে করেই টাকা দিয়ে বীজ কিনেছি। ধারদেনা করে জমিতে চাষ করেছি। কিন্তু ধানগাছ বড় হওয়ার আগেই ছড়া চলে এসেছে। এখন ফলন পাব কি না জানি না। আমাদের সব টাকা-পয়সা পানিতে গেছে।’

    মো. অলি আহমদ ও মো. আব্দুল জব্বারসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, প্রতি কানি জমিতে তাদের প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বীজ, জমি প্রস্তুত, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করেছেন তারা। ফলন না হলে ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন।

    তাদের ভাষায়, ‘আমরা কৃষক। ধার করে চাষ করি, ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করি এবং সংসার চালাই। এবার যদি ধানই না হয়, তাহলে আমাদের পরিবার চলবে কীভাবে?’

    কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে বাইশারীর ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডু বলেন, তিনি কৃষকদের কাছে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ ধানের বীজের প্যাকেট বিক্রি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘বেশির ভাগ কৃষকের ধান ভালো হয়েছে বলে আমি জেনেছি। তবে মুষ্টিমেয় কয়েকজন কৃষকের ধান খারাপ হয়েছে বলে শুনেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি। কোম্পানির প্রতিনিধি এসে সরেজমিনে জমি দেখেও গেছেন। তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।’

    অভিযোগের বিষয়ে সোনালী সিড কোম্পানির প্রতিনিধি মো. শোয়াইব বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। কৃষকেরা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেননি বলেই এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। যারা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেছেন, তাদের ধান এখন পর্যন্ত ভালো আছে।’

    তিনি দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন সার, কীটনাশক ও উন্নতমানের স্প্রে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি অংশ সেসব পরামর্শ মানছেন না।মো. শোয়াইব বলেন, ‘তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি দেখছি।’

    তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তারা বীজ বিক্রেতা ও কোম্পানির দেওয়া নির্দেশনা মেনেই চাষাবাদ করেছেন। এরপরও রোপণের কয়েক দিনের মধ্যে ধানগাছে ছড়া আসায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

    সোনালী সিড কোম্পানি লিমিটেডের মালিকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বাইশারী ব্লকের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। সেই অনুযায়ী তাদের কাজ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখতে হবে।’

    নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনামুল হক বলেন, ‘রঞ্জিত পাইজাম নামে যে বীজধানের কথা বলা হচ্ছে, এ নাম আমি আগে শুনিনি। ওই বীজধানের চাষ ভালো হয়নি বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে বলেছি। পাশাপাশি বীজধানের প্রতিনিধিকেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।’

    কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বীজের গুণগত মান পরীক্ষা ও কৃষি বিভাগের কারিগরি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের বা অনুপযোগী বীজের কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে কোম্পানির প্রতিনিধি দাবি করছেন, কৃষকেরা কোম্পানির পরামর্শ অনুযায়ী চাষ না করায় এ সমস্যা হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ধানগাছ অস্বাভাবিকভাবে ছড়া আসার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।

  • দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

    পাইপলাইনের ৭২তম চালানের অংশ হিসেবে এই ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টায় ডিজেল হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকালে তা শেষ হয়।

    ২০১৮ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারত ১৫ বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এ লাইনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ টন ডিজেল আমদানি করেছে।

    আমদানিকৃত এই জ্বালানি রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান-পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির মধ্যে প্রায় সমপরিমাণে বিতরণ করা হয়।

    উল্লেখ্য, পাইপলাইনের বাংলাদেশ অংশটি ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি পঞ্চগড়, নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে পার্বতীপুরে পৌঁছেছে।

  • দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে কাশফুলের দোলা। আর কদিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার প্রস্তুতির সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারে বেড়েছে ঝুনা নারকেলের চাহিদা। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর দামও।

    পূজার বিভিন্ন উপকরণ থেকে শুরু করে প্রসাদ তৈরিতে নারকেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এ সময় ঝুনা নারকেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

    ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় আগের তুলনায় নারকেলগাছের সংখ্যা কমেছে। অনেকেই গাছ থেকে কাঁচা ডাব পেড়ে খাওয়ার পর সঠিকভাবে পরিচর্যা করেন না। নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর প্রবণতাও কমেছে। পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছে ফলন হচ্ছে না। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে নারকেলগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরবরাহেও টান পড়েছে।

    অন্যদিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে তেল কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ ঝুনা নারকেল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারকেল কিনতে আসা দীপ্ত সাহা ও অরুণ মণ্ডল বলেন, “পূজার সময় নারকেল না হলে চলে না। কিন্তু এবার দাম আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।”

    ঝুনা নারকেলের বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, “চাহিদার তুলনায় নারকেলের সরবরাহ কম। এছাড়া গাছ থেকে নারকেল পেড়ে এনে বিক্রি করতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিন ১০-১২টি গাছে উঠে গৃহস্থদের নারকেল পেড়ে দিতে হয়। সেখান থেকে ১০-১২টি নারকেল এনে বিক্রি করতে হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এ কারণে নারকেল বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

    তেল কোম্পানিগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল কিনে নেওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে বলেও জানান বিক্রেতারা।

    ফরিদপুরের ময়না গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালীপদ চক্রবর্তী বলেন, “দুর্গাপূজায় আমাদের ঝুনা নারকেল লাগে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পূজার প্রসাদ হিসেবে নারকেলের নাড়ু দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া সারা বছর নাড়ু, পিঠা ও বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও নারকেল লাগে। তাই এর চাহিদা সব সময়ই আছে।”

    নারকেলগাছের সংখ্যা কমার সঙ্গে কমছে ফলনও। অথচ পূজার থালা থেকে শুরু করে বাঙালির ঘরের পিঠা-পায়েস—সবখানেই নারকেলের রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। তাই উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে,  নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে, নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণ যেমন আন্দোলন করে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনই আবার টেনেহিঁচড়ে নামাতেও পারে। প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। মনে রাখবেন, এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

    রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে (কুমিল্লায় নিহত) অপ্রতিমের মা-বাবা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে আহাজারি করছেন। তারা জানেন না এই সন্তানকে ছাড়া কীভাবে বেঁচে থাকবেন! দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। আমরা প্রতিটি পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করা সত্ত্বেও কেন সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে?

    তিনি আরও বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে ঘুরতে এসেছি। গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। আবার সরকারের সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেক শিশু প্রতিদিন নিখোঁজ হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছেন না, সংবিধানের সংস্কার করছেন না, জনগণের যুক্তিসঙ্গত দাবি মানছেন না, এমনকি গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তনগুলো আনছেন না। কেন মানছেন না—তার কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না। কেবল মুখে বলছেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, আর কালক্ষেপণ করে সব দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছেন। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এসব বোঝে না—তা মনে করার কোনো কারণ নেই। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    সংবর্ধিত কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি গোলাপের মতো সুবাস ছড়াবে, ততক্ষণ পিতা-মাতা ও এই সমাজ তোমার প্রশংসা করবে। তাই আত্মগঠন ও মেধার বিকাশ ঘটাতে ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়। সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ বা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের চবি ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের বাবা। এতে মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও পরিচালনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

    ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী। তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।

    সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিড ডে মিলে দেওয়া দুধ খাওয়ার পর তাদের পেটব্যথা শুরু হয়। একে একে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা তাদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, সোমবার মিড ডে মিলে দুধ ও পাউরুটি দেওয়া হয়। দুধ খাওয়ার পরই তাদের পেটব্যথা শুরু হয়।

    জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের সাত উপজেলার মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত জানুয়ারি থেকে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহের পাঁচ দিন বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

    রোববার দেওয়া হয় ডিম ও পাউরুটি, সোমবার দুধ ও পাউরুটি, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার ডিম ও পাউরুটি দেওয়া হয়। ডিম, পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করে স্থানীয় সংস্থা ইএসডিও। দুধ সরবরাহ করে আরডি নামে একটি সংস্থা এবং বিস্কিট সরবরাহ করে প্রাণ কোম্পানি। এ,আর

  • দিনাজপুরে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা আদায়

    দিনাজপুরে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা আদায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সার বিক্রেতা ও ট্রাকচালককে জরিমানা করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মুশিদহাট ইউনিয়নের পড়িয়ালপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।

    ধানের খড়ের ভেতর লুকিয়ে ট্রাকযোগে সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন। বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ তানভি শোভনকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    অভিযানে, অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: এমরানকে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং সার পাচারের অপরাধে ট্রাকচালক আব্দুল জলিলকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে মোট ১৩ বস্তা ২৬ কেজি সার জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ তানভি শোভন বলেন, জব্দ করা সার সোমবার সকালে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ,আর

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদক উদ্ধার

    কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদক উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী পৃথক দু’টি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ৬০০ পিস স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ২০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও তিন হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার প্রাগপুর বাজারসংলগ্ন পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬০০ পিস স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধার করা ডিসপ্লের মধ্যে রয়েছে ২০০ পিস ‘ক্রাউন আলট্রা এলসিডি ডিসপ্লে ৫০০+’ ও ৪০০ পিস ‘ক্রাউন স্মার্ট এলসিডি ডিসপ্লে ৫০০+’। এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৪ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রিফুজি পাড়া মাঠে অভিযান চালায় বিজিবির আরেকটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ২০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও তিন হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য নয় লাখ আট হাজার টাকা। তবে এসব মালামালের সাথে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুয়া পশু চিকিৎসকের দাপট, শঙ্কায় খামারিরা

    ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুয়া পশু চিকিৎসকের দাপট, শঙ্কায় খামারিরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রামেই এক শ্রেণির কথিত ও হাতুড়ে পশু চিকিৎসকের দাপট বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও কাঁধে বড় ব্যাগ ও মোটরসাইকনে ‘চিকিৎসক’ লিখে নিজেদের পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন তারা।

    অভিযোগ রয়েছে, এসব কথিত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে গবাদিপশু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য খামারিদের উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সকাল-বিকেল এসব কথিত পশু চিকিৎসকের আনাগোনা দেখা যায়। তারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ সুযোগে কেউ কেউ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    উপজেলার চান্দলা করিম এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, ‘আগে গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ অফিসে যেতে হতো। এখন সকাল-বিকেল বাড়িতে বাড়িতে ভুয়া চিকিৎসকের আগমন ঘটে। তারা ভুলভাল চিকিৎসা দিয়ে খামারিদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ভেটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতা বলেন, এসব কথিত চিকিৎসকের অনেকেরই গবাদিপশুর রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান নেই। বড় বড় ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানো এসব ব্যক্তির কেউ কেউ নিজেদের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করছেন। এতে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    অভিযোগের বিষয়ে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কথিত পশু চিকিৎসক বলেন, ‘বেকার বসে থাকার চেয়ে কিছু করে খাওয়া ভালো। কয়েক মাসের একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছি। আমাদের সাধ্যের বাইরে কোনো রোগ হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে রেফার করি।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আতিকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলায় ভুয়া ও হাতুড়ে পশু চিকিৎসকের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। তারা ভুল চিকিৎসা দিলে গবাদিপশুর ক্ষতি হতে পারে। এতে অনেক গরু ও বাছুর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘গবাদিপশুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ও সঠিক ওষুধ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন।’

    স্থানীয় খামারিরা জানায়, গবাদিপশু তাদের অনেকের প্রধান আয়ের উৎস। তাই ভুল চিকিৎসায় কোনো পশু মারা গেলে বা স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাদের অভিযোগ, গ্রামে গ্রামে ঘুরে চিকিৎসা দেয়া এসব ব্যক্তির পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা হয় না।

    এ অবস্থায় কথিত ও অনিবন্ধিত পশু চিকিৎসকদের কার্যক্রম যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি খামারিদের সচেতনতা বাড়াতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এ,আর

  • নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে মিম (৭) নামে মাদরাসাপড়ুয়া এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রাম থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত শিশু মিম বিদ্যাকুট গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

    পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্রী মিম শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সোমবার বিকেলে বিদ্যাকুট বড় বাড়ির পুকুরপাড়ের ঝোপে শিশু মিমের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠায়।

    নিহত শিশুর বাবা মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার শিশু মেয়েটা এভাবে চলে যাবে সেটা কল্পনাও করতে পারছি না।

    নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • ২ হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ

    ২ হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দুরন্ত শৈশবে শিশুরা যখন মাঠে ঘাঠে ছুটে বেড়ায়, তখন আশরাফ দূর থেকে কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলে। দু’টি হাত নেই, তাই বন্ধুদের খেলায় শরিক হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। মনের গহিনে জমে উঠে তীব্র এক শূন্যতা। নিয়তির এই বঞ্চনা তার জীবনের গল্পটাকে সেখানে থামিয়ে দেয়নি। হতাশার অন্ধকার পেরিয়ে দুই পা-ই হয়ে উঠেছে তার বেঁচে থাকার, স্বপ্ন দেখার এবং তা বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার। দুই পায়ের আঙুলে সে বুঝতে শিখেছে জীবনকে।

    ইচ্ছেশক্তির জোর থাকলে কোনো কিছুই জীবন যুদ্ধে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তা দেখিয়ে দিলেন আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন। জন্মের পর সবকিছু ঠিক থাকলেও ছয় বছর বয়সে জীবনটা বদলে যায়। কাঁধের দু’পাশ থেকে দুটো হাত নেই। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হার মানেয়নি আশরাফ। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে কাটা হাতে পা দিয়ে লিখে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আশরাফ চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে এবার পা দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কারো গলগ্রহ হয়ে নয়, আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বাঁচতে-সমাজকে আলোকিত করতে চান তিনি।

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পানিছড়া গ্রামে আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেনের জন্ম। বাবা খলিল আহমদ ও মা মোছাম্মৎ আমিনা বেগম দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে বড় সে। মা আমিনা বেগম ছেলেকে সমাজের বোঝা না বানাতে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

    মায়ের প্রচেষ্টা, বিশ্বাস আর অনুপ্রেরণায় মোহাম্মদ আলী হোসেন তার পা দু’টিকে হাতের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার সংগ্রাম শুরু করেন। শুরুর দিকে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হতো, তবু হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ তিন বছরের নিরলস চেষ্টায় তিনি আয়ত্ত করেন পায়ে লেখার কৌশল। প্রতিদিনের ক্লাস থেকে শুরু করে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা সবই তিনি করতে শুরু করেন দুই পায়ের নিপুণ দক্ষতায়।

    পড়াশোনার প্রতি মোহাম্মদ আলী হোসেনের ছিল খুবই চেষ্টা, তাই তিনি ভর্তিহন চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায়। তার লেখা পড়া দেখে মুগ্ধ হন সবাই।

    ২০১৪ সালে দাদির সাথে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ খালেরপাড় এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান আশরাফ। সেখানে দুইতলা ভবনের ছাদ থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যাওয়ার সময় বাঁচার জন্য তিনি ১১হাজার কেভির বৈদ্যুতিক লাইনে হাত লেগে ঝলসে যায়। দুই হাত কেটে তাকে বাঁচিয়ে রাখেন চিকিৎসকরা। দু’হাত হারিয়েও তার পড়ালেখা থেমে থাকেনি।

    ২০২৬ সালে চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এখন হযরত শাহজালাল (র:) ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। সে সব সময় হাসিখুশি থাকে।

    আশরাফের মা আমিনা বেগম জানান, দুই ছেলে মধ্যে আশরাফ সবার বড়। ছোট থেকে কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের। দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর বসে বসে কত কেঁদেছি রাতের পর রাত। আশরাফের হাত না থাকায় কোনো কোনো প্রতিবেশী তাকে পছন্দ করত না। সমবয়সীরা তার সাথে খেলত না। একপর্যায়ে আশরাফের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বাড়িতে পায়ের আঙ্গুলে কলম চেপে ধরে খাতায় লেখার চেষ্টা করে সে। আস্তে আস্তে লিখতে শেখে সে। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তি দেখে তাকে আমরা মাদরাসায় ভর্তি করি। এখন নিজের ইচ্ছা ও যোগ্যতায় সে এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়। তবে সে এখনো তার নিজের কাজ নিজে করতে পারে না। জামা-প্যান্ট নিজেই পরতে পারে না। খাবার মাখতে পারে না। খাবার মেখে দিয়ে মুখে খাইয়ে দিতে হয়। তার বাবার অল্প আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলে। আশরাফ লেখাপড়া করে একটি চাকরি পেলে সমাজের আর দশটা প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েও তাকে অনুসরণ করতে পারবে।

    আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গর্ভধারিণী মা-ই এখন প্রধান ভরসা। তিনি হাঁটাচলা করতে পারলেও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। লেখাপড়ার জন্য মাদরাসায় যাতায়াতের সময়ও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

    আক্ষেপ করে আশরাফ বলেন, ‘আমি হাঁটাহাঁটি ও চলাফেরা করতে পারি। কিন্তু লেখাপড়া করতে মাদরাসায় যাওয়ার সময় অনেকেই আমাকে অবহেলা করে গাড়িতে তুলতেন না। সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে আমি জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি চাই অন্য সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে।’

    নিজের পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কথা তুলে ধরে আশরাফ আরো বলেন, ‘আমার বাবা একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। আমার চিকিৎসার পেছনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। কিছুদিন আগে আমার বড় ভাইও রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দুই ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বাবা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন আমি পরিবারের হাল ধরতে চাই।’

    তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার যদি তাকে একটি চাকরি দেয়, তাহলে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

    প্রতিবেশী মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরও আশরাফ থেমে থাকেনি। জীবনযুদ্ধে লড়াই করে সে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পা দিয়ে লিখে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। সে একজন মেধাবী ও ভালো ছাত্র।’

    তিনি বলেন, ‘আশরাফ সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে আরো এগিয়ে যেতে পারবে। তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। পরিবারের সদস্যরা অনেক কষ্টে দিনযাপন করছেন। বাবা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। পরিবারের আহার, চিকিৎসা ও লেখাপড়ার ব্যয় বহন করে ঋণ পরিশোধ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। আশরাফের বাড়ির কাছেই সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। সেখানে তাঁ জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে বাড়ির কাছ থেকে যাতায়াত করে কাজ করা সম্ভব হবে।’

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

    চিকনাগুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনায় পরিবারটি আজ অসহায় জীবনযাপন করছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও সবাইকে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

    আশরাফের প্রত্যাশা—সহানুভূতি নয়, সুযোগ। একটি কর্মসংস্থানই হতে পারে তার নতুন জীবনের পথচলার শক্তি।

    শৈশবে যে আলী মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের খেলতে দেখতেন, আজ তিনি জীবনের বৃহত্তর এক ময়দানে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। দুই হাত না থাকার সীমাবদ্ধতাকে তিনি তার আত্মপরিচয় হতে দেননি। এখন তার প্রয়োজন কেবল একটি সুযোগের। একটি চাকরি শুধু তার জীবিকা নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজকে এ বার্তা দেবে যে–ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে কোনো বাধা মানুষকে আটকে রাখতে পারে না। এ,আর

  • রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারকে জামায়াতের সহায়তা প্রদান

    রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারকে জামায়াতের সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা। পুনর্বাসনে প্রতিটি পরিবারকে এক বান করে ঢেউটিন ও নগদ দুই হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারসংলগ্ন আশহক ব্যাপারি বাড়িতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল রাছেল, সহকারী সেক্রেটারি ও ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাসেম, সোনাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার ইদ্রিস মিয়া, ঢাকাস্থ রায়পুর ফোরামের সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস মাদানীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

    সহায়তা দেয়ার সময় জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান পুড়ে যায়। এতে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এ,আর

  • তাহিরপুরে দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, আসামিরা অধরা

    তাহিরপুরে দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, আসামিরা অধরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

    অপহরণের শিকার ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার্থী।

    তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ (৩৬) মেয়েকে উদ্ধারে এবং শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন ২ আগস্ট (রোববার)। যার মামলা নম্বর -১/২৬। এর পূর্বে গত ২৬ জুলাই নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শেখ মহসীন এলিন পাশা স্কুলপড়ুয়া তাবাসসুম ইয়াছমিন সিম্মিকে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে কুপ্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। এই বিষয়টি তাবাসসুম তার পরিবারকে জানায়। পরে তার বাবা বিষয়টি মহসীন এলিন পাশার পরিবারকে জানালে উল্টো ছেলের পক্ষ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অশালীন আচরণ করে।

    এরপরই গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে চিকসা গ্রামের বাসিন্দা শেখ কবির আহমেদ পাশার ছেলে শেখ মহসীন এলিন পাশা (২৬), মরহুম আব্দুল আজিজের ছেলে শেখ কবির আহমেদ পাশা (৫০), শেখ শফিক আহমেদ পাশা (৫৪), শেখ আলমগীর পাশা (৪৫) ও শেখ ফরহাদ পাশা (৩২) তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ ঘটনায় শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর বাবা মামলা দায়ের করেন।

    ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ জানান, ‘ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আমার মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। এ ছাড়া মামলার আসামিদের আটকও করছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।’

    তিনি তার মেয়েকে উদ্ধারে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণসহ র‍্যাব ও ডিবি’র সহযোগিতা কামনা করছেন।

    তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জুবায়ের জানান, ‘আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রী অপহরণ হয়েছে—এই বিষয়ে আমাকে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই জানায়নি, আপনার মুখেই প্রথম শুনলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানালে আমি আমার প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ সবার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

    এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, ‘আমাদের পক্ষ থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ এ,আর

  • রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরে পরিমাপে কারচুপি করায় মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা এবং পণ্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মামা-ভাগ্নে আরতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর চারতলা মোড় এলাকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের মালিকানাধীন মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশন ও সিটি বাজারের মামা-ভাগ্নে আরতকে এই জরিমানা করা হয়।

    এর আগে, দুই জায়গাতেই অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই-এর পরিদর্শক ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান (এসআরবি-১৩) টিম অভিযানে সহায়তা করে।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিমাপে কারচুপি করায় স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং ক্রেতাকে ভাউচার না দেয়ায় সিটি বাজার এলাকার মামা-ভাগ্নে আড়তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ,আর

  • প্রধান শিক্ষক নেই হরিপুরের ৩৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    প্রধান শিক্ষক নেই হরিপুরের ৩৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এর সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৯৭টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ফলে একদিকে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নিতে গিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে তাদের।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশনা মানতে অনেকেই অনীহা দেখান। ফলে শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে কাজ করেন, যার প্রভাব পড়ে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হরিপুরে ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদের সংখ্যা ৬৮৭টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত পদ রয়েছে ১৯টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক ৫২৫ জন। সব মিলিয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও সংরক্ষিত পদে শূন্য রয়েছে ১৮১টি পদ।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বকুয়া ইউনিয়নের তাঁতীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় মাস ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, একসঙ্গে প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান সামলাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘একা দুই দিক সামলাতে হচ্ছে। একটা করতে গেলে আরেকটা ঠিকমতো করা সম্ভব হয় না।’

    ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ ও ভুতডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষকের ১৬টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ১৮টি বিদ্যালয়ের এ ইউনিয়নে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।

    প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই এসব পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০২৫ সালে মারা যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুই শিফটে পাঠদান চলছে। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের শীতলপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ বকস সরকার গত তিন মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। দুই দিক একসঙ্গে ঠিকমতো সামলানো কঠিন।’

    প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও।

    বুজরুক গ্রামের বাসিন্দা মহসিম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘এমনিতেই বাচ্চাদের পড়াশোনার উন্নতি নেই। তার ওপর শিক্ষক সংকটে মাঝেমধ্যে ক্লাস না হওয়ার কথাও শোনা যায়। শিক্ষক সংকটে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। তাই বাচ্চাদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করিয়েছি।’

    অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের হলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং অভিভাবকদের একটি অংশ সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    হরিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ‘শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো অচিরেই পূরণ হবে।’

  • হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার সঙ্গে দেখা করে খুনিরা

    হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার সঙ্গে দেখা করে খুনিরা

    আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে ডেকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সি একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে।

    মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

    পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতকেরা অত্যন্ত নির্ভার থাকে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের কয়েকজন অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তার মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দেয়। সেখান থেকে ফিরে তুহিন নিজ বাসায় স্বাভাবিক সময় কাটাতে থাকে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিকালেই তুহিনকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করে। তুহিনের দেখানো স্থান থেকেই নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেফতার চারজন হলো—কুমিল্লা সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্র (১৫), শিশু হওয়ায় যার নাম প্রকাশ করা হলো না, কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।

    নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। অপ্রতিম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিবির টানা জিজ্ঞাসাবাদে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশেই যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

  • ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    গাইবান্ধায় ছুটিতে বাড়িতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আসাদুজ্জামান ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

    পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানায়, ছুটি নিয়ে শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে আসেন আসাদুজ্জামান। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেলে তিনি বাড়িতে আইপিএস (তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের যন্ত্র) মেরামত করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • নবাবগঞ্জে ব্লাড ফাইটার্স টিমের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি

    নবাবগঞ্জে ব্লাড ফাইটার্স টিমের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুইশত তালবীজ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা পেরেছি আমরাই পারব রক্ত দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব স্লোগানকে সামনে রেখে রোববার সকালে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে ব্লাড ফাইটার্স টিম নবাবগঞ্জ। সংগঠনটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা।

    কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ রানা, অ্যাডমিন রনি ও রিমন, মডারেটর সমসের, ফয়সাল কবির ও আইয়ুব, সদস্য রকি ও নূরনবীসহ অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা। অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা জানান শুধুমাত্র রক্তদানের মধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও সামগ্রিক জনকল্যাণে সংগঠনটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

    একটি গাছ মানে একটি নতুন জীবন এই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে তালগাছের বীজ রোপণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতেও আর্তমানবতার সেবা, রক্তদান কার্যক্রম ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড সমান গতিতে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাসযোগ্য সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সর্বস্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

  • প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন

    প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন

    দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ঘাসুড়িয়া এলাকায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক তরুণী। গত দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। প্রেমিক বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতেই অবস্থান করবেন বলে অনড় রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে দুই বছর ধরে ইমাদুল হক ইমনের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। সম্পর্কের কথা জানাজানির পর সম্প্রতি ইমন বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এরপর ওই তরুণী ইমনের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন এবং বিয়ের দাবি জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পরিবারকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করেন, তবে দুই পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ইতোমধ্যে প্রেমিক ইমন বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে অন্যত্র সরে গেছেন এবং তার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুবকের মা দাবি করেছেন, তাদের পরিবারের অমতে বিয়ে সম্ভব নয় এবং প্রয়োজনে আইনি পথ দেখার কথা বলেছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, যদি তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকেই থাকে, তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত।

  • সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে সরকার‍‍` হুইপ

    সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে সরকার‍‍` হুইপ

    সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে সরকার নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই সরকার তার সব নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারের মাত্র আট মাসে বহু উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই সরকার তার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। উপজেলাধীন আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপি এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ময়েন উদ্দিন শাহ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুর আলম সরকার দুলু, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মো. মমিনুল ইসলাম মমিন, উপজেলা বিএনপি নেতা সহকারী অধ্যাপক মো. মেছবাহুল ইসলাম, কবির সরকার এবং আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন মুকুল। মতবিনিময় সভায় উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কর্ণফুলী নদীতে পড়ে চবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

    কর্ণফুলী নদীতে পড়ে চবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর সীতার ঘাটের পাথর ঘাট অংশের নদীতে নেমে তলিয়ে যায় সাজিদ শাহারিয়ার সানম (২৪) নামের এক পর্যটক। আজ রোববার দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজ সানম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী ও ঢাকা থেকে আসা ৯ জনের একটি পর্যটক দল আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে কাপ্তাইয়ে পৌঁছায়। স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিয়ে তারা কাপ্তাইয়ের সীতার পাহাড়ে ট্র্যাকিংয়ে যায়। পাহাড় থেকে নেমে দুপুর দেড়টার দিকে সীতার ঘাটের পাথরঘাট অংশের কর্ণফুলী নদীতে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য নামে। এসময় হঠাৎ সানম পা পিছলে পড়ে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায় সে।

    নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা ঢাকা থেকে ৯ জন এসে সকালে সীতার পাহাড়ে উঠি। পাহাড় ভ্রমণ শেষ করে নেমে নদী থেকে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য ঘাটে নেমেছিলাম। ঠিক তখনই পা পিছলে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে আমাদের বন্ধু সানম পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা নিজেরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারিনি।

    ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাপ্তাই থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বর্তমানে নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. সরোয়ার হোসেন জানান, খবরটি পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল সানমকে উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ,আর

  • জাফলংয়ে পরিত্যক্ত মর্টার শেল ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

    জাফলংয়ে পরিত্যক্ত মর্টার শেল ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি মর্টার শেল উদ্ধার করে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়নের নয়াগাঙ্গের পাড় এলাকায় সিলেট সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় নয়াগাঙ্গের পাড় এলাকায় শিশুরা খেলতে গিয়ে মর্টার শেলটি দেখতে পায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক মর্টার শেলটি আছড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তারা গোয়াইনঘাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মর্টার শেল থেকে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।

    এরপর মর্টার শেলটি পাহারায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি তা উদ্ধার এবং নিষ্ক্রিয়করণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী সিলেটের এটিও ক্যাপ্টেন মনিরার নেতৃত্বে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।

    এ সময় গোয়াইনঘাট থানার সেকেন্ড অফিসার তানভীর ফয়েজসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো: ওমর ফারুক মোড়ল জানান, মর্টার শেলটি উদ্ধারের পর থানা পুলিশের সংরক্ষণে রাখা হয়। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী সিলেটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।’ এ,আর

  • পিকনিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি

    পিকনিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নেতাকর্মীর উপস্থিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীরা ওই মিছিলে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ এলাকায়।

    শনিবার বিকেলে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার ঝাউবাগানে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। ফুলের ডেইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে পিকনিকটির আয়োজন করেন হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম সোহেল। এতে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পিকনিকে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ গাড়ি নিয়ে মেরিন ড্রাইভে ওঠেন। সেখানে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’—এমন স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন।

    ওই সময় সড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

    তবে মিছিল দেওয়ার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হাসান সিদ্দিকী।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আসার পর তারা অন্য জায়গায় সরে গিয়ে স্লোগান দিয়েছে। আমি তখন সেখানে ছিলাম না।’

    হাসান সিদ্দিকী বলেন, ‘মূলত আমি প্রধান অতিথি ছিলাম না। হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম সোহেল আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেখানে নিয়ে গেছেন। এটি তার এলাকার পিকনিক।’

    এ বিষয়ে আয়োজক বিএনপি নেতা নুরুল আজিম সোহেল বলেন, ‘হাসান ভাই (অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী) টেকনাফ থেকে আসার সময় আমরা তাকে সেখানে নামিয়েছি। আমি ও হাসান ভাই চলে আসার পর হয়তো এক-দুটি গাড়ির লোকজন এসব স্লোগান দিয়েছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পিকনিকটা আমার নিজের এলাকার। আমিও এলাকার মানুষ, দল (বিএনপি) করি। এমন পরিস্থিতির কারণে দায় এড়াতে পারি না।’

    তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই পিকনিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত শত শত নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পিকনিক শেষে মেরিন ড্রাইভে স্লোগানেও অংশ নিয়েছেন।

  • চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অটোরিকশার যাত্রী-চালকের মৃত্যু

    চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অটোরিকশার যাত্রী-চালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কালিয়াইশ এলাকায় কক্সবাজারমুখী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালকের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কালিয়াইশ পূর্বকাঠগড় রেলগেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— অটোরিকশাচালক ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর মুহুরীপাড়ার মরহুম সাহেব মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুল সক্কুর (৩৫) ও যাত্রী কালিয়াইশ ইউনিয়নের মাইঙ্গাপাড়া গ্রামের মরহুম হাজী আহমদ হোসেনের ছেলে আবু তাহের (৫৫)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু তাহের তার ছোট ছেলেসহ চন্দনাইশ-দোহাজারী সদরে বাজার করেন। পরে বিওসির মোড়ে তার ছেলেকে চুল কাটার জন্য নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশাযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে রেলগেইট পার হওয়ার সময় ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলেই আবু তাহের ও দোহাজারী হাসপাতলে নেয়ার পথে সুক্কুর মারা যান।

    নিহত আবু তাহেরের প্রতিবেশী আবুল বশর জানান, ওই রেলগেইটের পাশে জঙ্গল থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় ভাল করে দেখা যায় না।

    যোগাযোগ করা হলে জিআরপি থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন কান্তি দে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ,আর

  • ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই

    ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার ধুনটে থানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে জয় নামের এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই করে নেয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    ইজিবাইক চালক জয় উপজেলার বাঁশহাটা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে।

    জহুরুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত তিন যুবক যাত্রী সেজে ধুনট বাজার থেকে জয়ের ইজিবাইক ভাড়া নেয়। রাত ৮টার দিকে ধুনট থানার প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে পাকা রাস্তার উপর যাত্রীবেশী ওই তিন যুবক ইজিবাইক থামিয়ে জয়ের মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ধারালো ছোরা দিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয় জনগণ জয়কে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

    এ ঘটনায় তিনি ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    এদিকে থানার পাশে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

    এ বিষয়ে ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ এ,আর

  • নড়াইলে আদালতে হাজিরা দিতে এসে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১১

    নড়াইলে আদালতে হাজিরা দিতে এসে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে মামলার হাজিরা দিতে এসে আদালত চত্বরে আইনজীবীর চেম্বার থেকে ১১ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

    গ্রেফতাররা হলেন কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামের এস্কেন্দার শেখ (৪৫), আমিনুর শিকদার (৫৬), হাফেজ শেখ (২৫), তৈয়েবুর রহমান (৫৫), সেকেন্দার আলী (৫৮), হাসানুর রহমান (৫৫), রিয়াজুল শিকদার (২৭), আরিফুল শেখ (২২), তারেক শেখ (৩২), জুলফিকার রহমান (৪০) ও শরিফুল মোল্যা (৪০)।

    জানা গেছে, গ্রেফতাররা দুপুরে একটি মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে নড়াইল আদালতে আসেন। এ সময় আদালত চত্বরের একজন আইনজীবীর চেম্বারে অবস্থান করছিলেন তারা। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্রসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। কী উদ্দেশে তারা এসব ধারালো অস্ত্র নিয়ে আদালত চত্বরে এসেছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

    পুলিশের ধারণা, প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালাতে দেশীয় অস্ত্রগুলো কাছে রেখেছিলেন তারা। তাদের কাছ থেকে ধারালো রামদা, দা, চাপাতিসহ ১২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, ১১ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকের ওপর হামলা,  গ্রেপ্তার ২

    কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকের ওপর হামলা,  গ্রেপ্তার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও কথিত পিএস মারুফ হোসেন (৩৫)। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচা আমিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও কথিত পিএস মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় হত্যা চেষ্টা আইনে মামলা করেন সাংবাদিক উল্লাস। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিবরামপুরের শরিফুলের ছেলে রুহুল আমিন (২২), দুর্গাপুরের আলতাফের ছেলে লিটন হোসেন (৪৫), পাথরবাড়িয়ার মো. কাফির ছেলে মো. আল আমিন (২৭), এলংগী এলাকার শফিকুলের ছেলে সোহান (২৬), জিয়ারতের ছেলে আল আমিন (২৬), বাদশার ছেলে সাব্বির (২৮) ও ওবাইদুলের ছেলে সাদিক (২৬)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বলেন, নানা অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্যের ছেলে, ভাই ও স্বজনরা জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এসবের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে এমপির স্বজনরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও আহত করেন। সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

    সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ,আর

  • কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে ডুবে সাজিদ শাহারিয়ার সানাম (২৪) নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার সীতার পাহাড় এলাকায় নদীতে নেমে নিখোঁজ হন। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহত সাজিদ শাহারিয়ার সানাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।

    সানামের বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, তারা ঢাকা থেকে নয়জন মিলে সকালে সীতার পাহাড়ে ঘুরতে যান। পাহাড় ভ্রমণ শেষে নদীর ঘাটে হাত-মুখ ধোয়ার সময় সানাম পানিতে নামেন। একপর্যায়ে মুহূর্তের মধ্যে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। তারা নিজেরা উদ্ধারের চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি।

    কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, নয়জনের দলটি সেখানে ঘুরতে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে সানামই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাকিরা তার স্কুলজীবন ও এলাকার বন্ধু। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে সানাম নদীতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ কাপ্তাই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য : হাসপাতালে ভর্তি

    কুষ্টিয়ায় রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য : হাসপাতালে ভর্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অধীন পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খেয়ে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে নির্ধারিত সময়ে পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা নৈশভোজ করেন। পাটিকাবাড়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে ক্যাম্পে রান্না করা মুরগির মাংস ও আলু দিয়ে ভাত খান তারা। রাত ১০টার দিকে খাওয়ার পরপরই রিঅ্যাকশন শুরু হয়।

    খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একে একে কয়েকজনের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঝিমুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলামসহ প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

    অসুস্থরা হলেন এসআই কফিল, এসআই আমিনুর, এসআই মুক্তার, এসআই শরিফুল, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই কামরুজ্জামান, রেজাউল, মনিরুল, আমিনুল ও নজরুল।

    বিষয়টি বুঝতে পেরে আশপাশের লোকজন ও ক্যাম্পে থাকা অন্য সদস্যরা দ্রুত অসুস্থদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এটি খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) হতে পারে। তবে খাবারে বিষাক্ত বা চেতনানাশক কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এদিকে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। খাবারে কোনো বিষাক্ত বা চেতনানাশক পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ক্যাম্পের রান্নাঘর থেকে থালা-বাসন ও খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ,আর

  • আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই পূবাইল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক এবং পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের একটি বিশেষ দল। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে তিনি পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন।

    ডিবি সূত্র জানায়, একটি মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়। আটকের পর তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এ সময় গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন ফোন করে অমূল্য চন্দ্র দাস বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ নির্বাচনে তার পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন বলে জানান। এমপি মিলন তাকে নিজের লোক হিসেবেও উল্লেখ করেন। তবে অমূল্য চন্দ্র দাসকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী মূল বিবেচনায় ছিল তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই।

    এদিকে গাজীপুর মহানগর ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাহেব আলী পাঠান বলেন, অমূল্য চন্দ্র দাসকে ডিবি আটক করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নামে ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতাকে আটকের পর দ্রুত মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে পুলিশ বলছে, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। অমূল্য চন্দ্র দাসের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক যাচাইয়ে নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • জানাজা শেষে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন

    জানাজা শেষে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে এবং নিহত স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

    আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লা নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সোয়া ১১টায় গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুই জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। এ,আর

  • ফেনী কলেজে ছাত্রশিবিরের সিরাত অলিম্পিয়াড, পুরস্কার বিতরণ

    ফেনী কলেজে ছাত্রশিবিরের সিরাত অলিম্পিয়াড, পুরস্কার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ফেনী সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে সিরাত অলিম্পিয়াড ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

    রোববার সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমীর মুফতি আবদুল হান্নান।

    ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম।

    ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সেক্রেটারি তৌহিদুল ইসলাম মামুন অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী শহর শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের শহর মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম পলাশ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি আবদুল হান্নান বলেন ‘রাসূল সা. জীবনী নিয়ে চর্চা হওয়া প্রয়োজন। রাসূল সা.-এর জীবনী নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। রাসূল সা. যে আদর্শ রেখে গেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত। রাসূল সা. এসেছেন দ্বীন কায়েমের জন্য। তিনি দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করেছেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল সা.-এর জীবন অনুযায়ী নিজেদের গড়বো। আমাদের নিজেদের আল্লাহর কোরআন অনুযায়ী গড়তে হবে। আজকের তরুণ প্রজন্ম আগামীর নেতৃত্ব দিবে। এখানে তোমরা যারা আছো তোমরাই আগামীর ভবিষ্যত। তোমরা রাসূল সা.-এর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের গড়বে।’

    প্রধান আলোচক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সা. আমাদের যেভাবে পথ দেখিয়েছেন আমরা আমাদের জীবনকে সেভাবে সাজাবো। আর সেভাবে সাজাতে হলে আল্লাহর পাঠানো কোরআন আমাদের তেলোয়াত করবো। আমরা রাসূল সা. যতগুলো বই আছে, লেখা আছে সব আমাদের পড়তে হবে। আমাদের বেশি বেশি অধ্যয়ন করতে হবে। আমাদের চালচলনে রাসূল সা.-এর আদর্শ থাকা উচিত।’

    অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়া চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম পাঁচজনকে নগদ অর্থসহ পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়া ৫০ জনকে ক্রেস্ট ও গিফট ব্যাগ দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় বিস্ফোরক মামলায় হেমায়েত হোসেন (৫৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হেমায়েত মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাতাগ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ও সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল কাগদী বাজারে অভিযান চালিয়ে হেমায়েতকে গ্রেফতার করে। তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সালথা থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

    সালথা থানার ওসি মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় হেমায়েতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নাশকতাসহ থানায় আরো একাধিক মামলা বিচারাধীন। গ্রেফতারকে বিকেলে ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

  • নিখোঁজের এক দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলল কিশোরের লাশ

    নিখোঁজের এক দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলল কিশোরের লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের এক দিন পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে মো: শাকিল (১৪) নামে এক কিশোরের লাশ পাওয়া গেছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের লংকামোড়া এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশ থেকে লাশটি পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন।

    নিহত শাকিল আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মালু মিয়ার ছেলে।

    পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ ও বিজিবি জানায়, শাকিল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে সে নিখোঁজ ছিল। শনিবার রাতে লংকামোড়া এলাকায় লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

    বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, লাশটি সীমান্তের ভারতীয় অংশে থাকায় বিজিবি, বিএসএফ ও দুই দেশের পুলিশের মধ্যে আলোচনার পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভারতে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    তিনি জানান, শাকিল কিভাবে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে পৌঁছাল এবং তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    নিখোঁজ কিশোরের লাশ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে উদ্ধারের ঘটনায় আব্দুল্লাহপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে শোক নেমে এসেছে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে।

  • পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীতে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ চাজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার সংলগ্ন ধলু গাজী মোড় এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের খোন্তাখালী গ্রামের অটোরিকশাচালক কাইউম প্যাদা (৫০), একই ইউনিয়নের বউবাজার এলাকার শিল্পি রাণী (৪০), তার মেয়ে বিথি রাণী (২২) ও গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৌবাজার এলাকার চায়ের দোকানী শিল্পি রাণী তার সন্তানসম্ভবা মেয়ে বিথি রাণীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য শনিবার বিকেলে বৌবাজার থেকে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ করে পটুয়াখালী যান।

    রাতে ডাক্তার দেখানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার এলাকায় পৌঁছালে বরগুনার তালতলী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমরান ট্রাভেলস-এর একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে উভয় গাড়ি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    পরে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা তিনজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ঘটনার পর ইমরান ট্রাভেলসের গাড়িটি পটুয়াখালী থানা পুলিশ আটক করেছে।

    গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার স্থান পটুয়াখালী সদর থানায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা পটুয়াখালী থানা নেবে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • গাংনীতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

    গাংনীতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ মো: সাকিব আল হাসান (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে গাংনী থানার তেরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার সাকিব গাংনী থানার ওলিনগর গ্রামের মো: সাইফুল ইসলামের ছেলে।

    এসআরবি-১২ মেহেরপুরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিনায়কের নির্দেশনায় সিপিসি-৩-এর একটি আভিযানিক দল তেরাইল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সাকিবকে ৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব দীর্ঘদিন মাদককারবারের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

    রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১২, সিপিসি-৩, মেহেরপুরের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার।