খুলনা বিভাগ

  • চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ
    জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় চৌগাছা
    পৌরসভার হালদারপাড়ার রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ
    পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ উপলক্ষে আলোচনা
    সভা করা হয়।
    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ
    সদস্য ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
    সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে এটাই
    দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পার¯পরিক সম্প্রীতি,
    সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
    এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চৌগাছা উপজেলা শাখার
    আহ্বায়ক শ্রী গোবিন্দ কুমার রাহা। উপজেলা পূজা মন্ডপ কমিটির সাধারণ
    সম্পাদক শ্রী অভিজিৎ কুমার রায়ের পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন পূজা
    উদযাপন পরিষদ চৌগাছা উপজেলার সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল।বিশেষ অতিথির
    বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, সহকারী কমিশনার
    (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জি. এম. এ. মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ওসি
    মামুনুর রশিদ পিপিএম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ,
    সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ ও সাংবাদিক এম এ রহিম, শুভ জন্মাষ্টমী
    উদযাপন উপকমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক শ্রী ধীরেন্দ্র নাথ দে, সদস্য সচিব শ্রী
    নির্মল কুমার কুন্ডু, শ্রী রণজিত কুমার বিশ্বাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
    ঐক্যপরিষদ, চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী অনন্ত সরকার, বাংলাদেশ পূজা
    উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্রী নিমাই কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের
    নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি র‌্যালী পৌর শহর
    প্রদক্ষিণ করে।
    জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় তাৎপর্যসনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের
    কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই এ দিনটি
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

    অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ
    প্রার্থনা করা হয়।

  • চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ হলরুমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তোমাদের মেধা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও সততা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। শুধু মেধা দিয়ে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; মেধার সাথে নৈতিকতা ও সততার সমন্বয় ঘটাতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্জিত মেধা ও জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এহসানুল কাদের ইমরোজ। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলফাজ হুসাইনের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন শিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ ক্যাম্পাস সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী।

    এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান প্রমুখ।

    সংবর্ধনা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্নব বিশ্বাস পাপন ও তাজরিন নাহার অর্থি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    এ বছর উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৬ জন, ২১টি মাদরাসা থেকে পাঁচজন ও কারিগরি বিভাগ থেকে তিনজনসহ মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২০ জন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চিংড়ী ঘেরের উত্তোলনকৃত লোনা পানির তোড়ে খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। এতে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    উপজেলার শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাটামারী বাজার ভায়া তালতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কের তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ভেঙে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ওই অংশ দিয়ে লোনা পানি অভ্যন্তরের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গত চার দিন ধরে সেখানকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নদী ও চিংড়ী ঘের অধ্যুষিত জনপদের দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই সড়কটি দুই কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আমফান প্রকল্পের আওতায় পুনর্নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স।

    ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর কার্যক্রম শুরু করে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ শুরুর পর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে তারা।

    কাজ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্প এলাকা অত্যন্ত দুর্গম ও প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় রাস্তার অন্যতম প্রধান উপকরণ বালুর যোগান মেটাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাঠামারী থেকে বোট ও পাইপ ফিটিংয়ের মাধ্যমে বালু আনতে হয়। মাঝপথে ড্রেজার ও মেশিনের ত্রুটিজনিত কারণে বালুভরাট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাস্তার শেষ অংশের প্রায় দুই-তিন শ’ ফুট এলাকার বালুভরাট বাকি রয়েছে। এছাড়া শুরুর অংশের অন্তত এক কিলোমিটার এলাকায় সাববেইজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তারা জানান, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ও অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কের এ অংশ সহজেই আক্রান্ত হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাতে প্রান্তিক জনপদের মানুষকে তারা এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধসে গিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে তাদের দুর্ভোগ রীতিমতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে জনপদের কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরনের পোশাক ভিজিয়ে, বই-খাতা মাথায় তুলে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সড়কের ভাঙা অংশ। জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ হাটে-বাজারে পণ্য পরিবহনে বিপাকে পড়ছেন কৃষক ও সাধারণ খামারিরা।

    স্থানীয়দের ক্ষোভ, ঘের মালিকদের পানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা ও জোয়ারে অতিরিক্ত পানির চাপ নির্মাণাধীন সড়ক ভাঙনের কারণ হলেও এর জন্য দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের দীর্ঘসূত্রতা।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদফতর জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বালু সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় এই সঙ্কট। তবে, অতিদ্রুত দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু হবে।

    উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না।

  • চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্থিক প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে এ বিতরণ অনুষ্ঠান করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফারজানা ইসলাম।

    সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুবিধাভোগীদের ১১ জনকে ৩ হাজার করে, ৬ জনকে ৫ হাজার করে ও ৫ জনকে ৭ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলামমোর্শেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, উপজেলা জামাতেরনায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ।

    এ সময় সভাপতি বলেন , সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থেবাইসাইকেল এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান তাদের স্বাবলম্বী হওয়ারপথকে আরও সহজ করবে। পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলোরঅর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

  • কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কসাইখানায় প্রথম দফায় মেশিনের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতেও গবাদিপশুর মাংস প্রস্তুত করা হচ্ছে। শহরের অদূরে লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

    প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “এই কসাইখানায় প্রথমে ইসলাম ধর্মের রীতিতে সনাতন পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই করা হবে। পরে মাংস প্রস্তুত পর্যন্ত বাকি কার্যক্রম মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।”

    কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কসাইখানায় প্রথম পর্যায়ে মেশিন এবং সনাতন উভয় পদ্ধতিতেই মাংস প্রস্তুত করা হবে। আধুনিক মানের এই কসাইখানা চালুর মাধ্যমে একদিকে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধ হবে। পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময়ও সাশ্রয় হবে।

    অন্যদিকে ভোক্তারা পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত মাংস এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এ কসাইখানা চালু হলে শহরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

    প্রাণী সম্পদবিভিাগের কর্মকর্তাদের দাবী, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে আধুনিক এই কসাইখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেখানে–সেখানে পশু জবাই বন্ধ হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রোগবালাই আছে এমন গরু জবাই করা বন্ধ হবে। বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াকৃত মাংস খেতে পারবে জেলাবাসী। এছাড়া এখানে জবাই করা পশুর চামড়াও থাকবে নিখুঁত।

    অপরদিকে মেশিনে পশু জবাই করা ও হালাল মাংস প্রসঙ্গে হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, একটি হালাল পশুর খাবার অনেক সময় হারাম হয়ে যায়। আল্লাহর নামে জবাই করা ব্যতিত হালাল পশুর গোস্ত মুসলমানদের জন্য খাওয়া হারাম। তাই আল্লাহর নামে পশু জবাই হতে হবে।

    এছাড়াও হালাল প্রাণীর অনেক কিছু খাওয়া নিষিদ্ধ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী হালাল প্রাণীর ৮টি অংশ খাওয়া নিষেধ। এর মধ্যে

    ১. পুরুষ লিঙ্গ, ২. স্ত্রী লিঙ্গ, ৩. মুত্রথলি, ৪. মেরুদন্ডের ভেতরের মগজ বা সাদা রগ, ৫. পিত্ত, ৬. অন্ডকোষ, ৭. চামড়ার নিচের টিউমারের মতো উঁচু গোশত, ৮. প্রবাহিত রক্ত। তবে এগুলোর মধ্যে প্রবাহিত রক্ত অকাট্য হারাম, বাকিগুলো মাকরুহে তাহরিমি।

    আধুনিক কসাইখানায় পশুর মাংস প্রস্তুত হোক এতে কোন সমস্যা নেই। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করবেন এ দাবী জেলার হক্কানী উলামায়েকেরাম ও সচেতন মুসলিম সমাজের। এগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এ প্রত্যাশা জেলার সুশীল সমাজের।

  • শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত রাবেয়া খাতুন উপজেলার নাদপাড়া যুব মিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি নাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কাতলা গাড়ি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: কবির উদ্দিন বিশ্বাসের স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলী মেম্বার জানান, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে আসার পথে বাঁশগ্রাম নামক স্থানে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

    এই ব্যাপারে শৈলকূপা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসরত অবস্থায় মোসা: রাবেয়া খাতুন নামে নাদপাড়া স্কুলের এক শিক্ষিকা মারা গেছে বলে শুনেছি।

  • চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ধরন ও ব্যবহারে এসেছে এক আশঙ্কাজনক পরিবর্তন।

    ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি জেলাজুড়ে এখন মারাত্মকভাবে বেড়েছে ট্যাপেন্টাডলের মতো নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের বিস্তার।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অভিযান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও মাদকের এ রূপান্তরের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও, পরবর্তী এক বছরে শুধু ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৪৮৫টিতে। একই সময়ে বিজিবি ১০ হাজার৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার করেছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, উদ্ধার অভিযান ও নজরদারির কৌশলের ওপর মাদকের পরিমাণ নির্ভর করলেও, বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ও বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন জব্দ হওয়ার ঘটনাটি মাদকের নতুন এই প্রবণতাকেই সামনে আনছে।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘ট্যাপেন্টাডল’ ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু করায় ২০২০ সালে সরকার এটিকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে আইনের তফসিলে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে।

    অন্যদিকে, বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের শুরু থেকেই ‘ক’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে এসব ওষুধজাত নেশাদ্রব্য মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদক চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করছে। তবে এর বিস্তার এখন আর শুধু সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫,৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে—সীমান্ত পেরিয়ে পরিবহন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে জেলার অভ্যন্তরে।

    মাদকের এই নতুন রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। সম্প্রতি জীবননগরে এক সচেতনতামূলক সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সীমান্তে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

    মাদক দমনে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলী বলেন, ‘কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে একা এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।’

    চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানান, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। দ্রুত সাজা নিশ্চিত হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি আত্মসমর্পণের সুযোগও দেয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু জানান, ‘সামারি ট্রায়াল’ বা দ্রুত বিচার চালু থাকায় অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সনাতনী কৃষি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যমী কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর তার ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামের এক সমন্বিত কৃষি খামার। সেখানে ফল চাষের পাশাপাশি দুম্বা, ভেড়া, ছাগল ও গরুর ডেইরি খামার থাকলেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে ১০ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকা হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে এ চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে এখন ঝুলছে আট-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটি সদৃশ ভ্যানিলা ফল।

    কৃষক হুমায়ুন জানান, এ পর্যন্ত তার প্রায় নয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এ বছরই সা-আট লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এটি উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি প্রমাণ করেছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মূল্যায়ন
    উচ্চমূল্যের এই ফসলটি দেশে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপক চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। সঠিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে, যা বৈচিত্র্যময় কৃষিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।’

    হুমায়ুনের এমন বৈচিত্র্যময় সাফল্য স্থানীয় তরুণদের সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক ও আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

  • মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পিছনের মাঠে কৃষিকাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন শৌলখালী গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)।

    মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: হাবিবুল্লাহ জানান, নিহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কিছু আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ।

    সোমবার বিকালে শহরের আড়ুয়াপাড়ার দেবাশীষের বাসভবনে যান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন।

    এ সময় তিনি প্রয়াত সাংবাদিকের বাবার হাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এ সময় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী, কুষ্টিয়া কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুন্নবী বাবু ও প্রচার সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক দেবাশীষের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

    উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন উদীয়মান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

  • দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা দর্শনা পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনা এলাকায় এই তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযান সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তদারকি করার পাশাপাশি বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযানকালে লাইসেন্স না থাকা এবং অননুমোদিত রং ও ফ্লেভার ব্যবহারের অপরাধে মো: জামাল মিয়ার মালিকানাধীন ‘মেসার্স রিমি ফুড’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরবর্তীতে একই অপরাধের পাশাপাশি খাবারে শিল্প লবণ ব্যবহার ও চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ‘মুসলিম ফাস্ট ফুড অ্যান্ড বেকারি’-কে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। একই সাথে বেকারিগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে এই ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  র‍্যালী ও  আলোচনা সভা

    চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  র‍্যালী ও  আলোচনা সভা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছায় র‍্যালী আলোচনা সভা ও করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ লা সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ র‍্যালী ও আলোচনা সভা করা হয়। এর আগে দিবসটি পালনে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা মাঠে বৃক্ষরোপন করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পরে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম। সভায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান এবং পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    এছাড়াও বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আলীবুদ্দিন খান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এম এ মান্নান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আজগর আলী, পৌর কৃষকদলের আহবায়ক মিলন হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান, পৌর যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জসিম উদ্দীন, সদস্য সচিব ইমন হাসান রকি প্রমুখ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুল নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন।

  • যশোর কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি কবির হোসেন

    যশোর কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি কবির হোসেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন কবির হোসেন। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) রাত ৯টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    এর আগে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ মাসুম খান। তিনি চলতি বছরের মার্চ মাসে এ থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

    নতুন ওসি কবির হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এদিকে নতুন ওসিকে স্বাগত জানিয়ে থানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া এদিন রাতেই থানা চত্বরে এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন স্ত্রী লিপা খাতুনও। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে নিজের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাসির উদ্দীন আলুকদিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

    এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

    দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, পৃথক এসব ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আনন্দ র‌্যালী, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় পৌরসভা চত্বর থেকে র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শুরু হয়।

    এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্ছু মোল্লা, সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমীন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, আব্দুল মুয়িদ বাবলু, জয়নাল আবেদীন মুরাদ হোসেন প্রমুখ।

    পরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বড় বাজারে শেষ হয়।

  • শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ। কাজেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) হিসেবে রূপান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে অচিরেই ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আর এই নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষায় প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।’

    শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে উৎসাহ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য গোলাপি সাইকেল উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

    কুয়েট প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আজকের খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই প্রকাশ্যে বা গুপ্ত অবস্থায় রাজনীতি করা যাবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক মেডিকেল সেন্টার ও ৫-১০টি বৈদ্যুতিক বাস দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

    এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী ও অধ্যাপক ড. হাসান আলী।

    বেলা সাড়ে ১২টায় অডিটরিয়ামের সামনে প্রীতি সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন, আনন্দ র‍্যালি, স্টল পরিদর্শন, ‘কুয়েটের অর্জন (ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ)’ বিষয়ক উপস্থাপনা, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিকেলে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নিচতলায় পোস্টার বা প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন, একই সময়ে দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবসমূহ উন্মুক্ত রাখা হয়। বিকেল ৪টায় শিক্ষক বনাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া, সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

  • যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পলাশ কুমার মণ্ডলের মুরগির খামারে তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি আছে। খামারে তিনি ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই ডিভাইসের মাধ্যমে তিনি খামারে না গিয়েও তাপমাত্রা, পানি, বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতি মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে একজন শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। উৎপাদন খরচ প্রতি মাসে কমেছে ১৪–১৫ হাজার টাকা।

    পলাশ কুমার যশোরের অভয়নগরের বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির পাশে জমি ইজারা নিয়ে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের লক্ষ্যে শেড নির্মাণ করেন। সেখানে তিন বছর ধরে ব্রয়লার মুরগি পালন করছেন। কিন্তু তাঁর জন্য এটা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। নিজের শ্রমঘণ্টা বেশি ব্যয় হচ্ছিল। যে কারণে তিনি তাঁর মৎস্য চাষে বেশি মনোনিবেশ করতে পারতেন না। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন কর্মীকে বেতন দিয়ে খামারে নিয়োজিত রাখতে হতো। ছয় মাস আগে তিনি খামারে আইওটি ডিভাইস সংযোজন করেছেন। এতে তাঁর নিজের কর্মঘণ্টা যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি একজন কর্মীর আর প্রয়োজন হচ্ছে না।

    পলাশ কুমার বলেন, ‘ছয় মাস আগেও আমার খামারে অতিরিক্ত একজন কর্মী রাখা লাগত। তাঁর বেতন দিতে হতো প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা। আইওটি ডিভাইস স্থাপনের পর থেকে বিদ্যুৎ বিল আসছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক খরচ কমেছে।’

    পলাশ কুমারের স্ত্রী বিথী মণ্ডল বেসরকারি সংস্থা নবলোক পরিষদের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির একটি সমিতির সদস্য। সংস্থাটি বিনা মূল্যে পলাশের খামারে ডিভাইসটি স্থাপন করে দিয়েছে। এ ডিভাইসের কারণে এলাকায় প্রান্তিক পোলট্রি খামারিদের কাছে পলাশ কুমার মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    সম্প্রতি বাগুটিয়া গ্রামে পলাশ কুমারের মুরগির খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতরে কিছু দূর পরপর পানির পাত্র ঝোলানো। সেই পাত্রের সঙ্গে পাইপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে ছাদের ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা। পাশে আইওটি ডিভাইস স্থাপন করা। সেই ডিভাইসের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া আছে। সেই সংযোগের মাধ্যমে মুঠোফোন থেকে অ্যাপসের সাহায্যে পলাশ কুমার খামার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

    বাগুটিয়া গ্রামের খামারি ফয়সাল সরদার এবং বিবাগদী গ্রামের মোহাম্মদ আনারুল মোল্লা আইওটি ডিভাইস সম্পর্কে পলাশ কুমারের কাছ থেকে ধারণা নিতে এসেছেন। ফয়সাল সরদার বলেন, আইওটি খরচ সাশ্রয়ের তেমনই একটি প্রযুক্তি। তবে এর জন্য সরকারকে বিনা মূল্যে বা কম খরচে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে।

    নবলোক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সদস্যদের মধ্য থেকে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের তিনজন উদ্যোক্তাকে প্রণোদনা হিসেবে আইওটি পোলট্রি প্রযুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পলাশ একজন।

    নবলোক পরিষদের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রসূন বিশ্বাস বলেন, পিকেএসএফের (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন) আর্থিক সহায়তায় এ প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রযুক্তিটির মধ্যে একটি সফটওয়্যার ডিভাইস, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। এই প্রযুক্তি স্থাপনে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

    স্থানীয় মুরগির খামারিদের ভাষ্য, সরকারকে প্রান্তিক খামারিদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে এ প্রযুক্তি সরবরাহ করতে হবে।

    অভয়নগরে ডিমপাড়া মুরগি ও মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির ৩০০টির বেশি খামার আছে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র পলাশ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এতে তিনি ভালোই ফল পাচ্ছেন।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    আলোচিত এ মামলায় গত ২৪ আগস্ট শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, মামলাটিতে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেন।

    সোমবার নির্ধারিত দিনে আদালত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া। ওই রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। নিহত শিশুর বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে হত্যারও চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

    গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়।

    একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

    শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

    ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী এ মামলার নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে আজ প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জেলায় ব্যাপকভাবে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে গত ১২ দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫৫৬ জন শিশু, যার বড় একটি অংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একসাথে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০টিরও বেশি শিশু। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও গলিপথে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

    এদিকে, কেবল ইনডোরই নয়, আউটডোরেও রোগীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকরা জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও মাত্র দু’জন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক এ শিশুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

    হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনদের পদচারণায় চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মেঝেই ভরসা হয়ে উঠেছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের।

    চার মাস বয়সী শিশু জাবেরের স্বজনরা জানায়, বাড়িতে চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। একই অভিজ্ঞতা জীবননগর থেকে আসা এক মাসের শিশু রায়হানের বাবারও।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টির তারতম্য ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের মাত্র ২২টি বেড থাকলেও রোগী আসছে বহুগুণ। সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।’

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    এ সময়ে শিশুদের ঘাম বসতে না দেয়া, ধুলাবালি থেকে দূরে রাখা ও অতিরিক্ত গরমে সাবধানে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

    শিশুর দ্রুত শ্বাস নেয়া, বুক দেবে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    একইসাথে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর কথা বলেছেন চিকিৎসকরা।

  • চৌগাছায় জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত


    চৌগাছা, (যশোর ) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের ইউনিট সভাপতি ও সেক্রেটারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে চৌগাছা কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে এ সম্মেলন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক শামসুজ্জামান। বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারী সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাস্টার কামাল আহমেদ, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক,সেক্রেটারী ডা.জিল্লুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন,দেশের সকল মানুষের নিকট জামায়াতের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। সাথে সাথে জনগণকে এ কথা বলতে হবে যে, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সততা ও দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।সম্মেলনে উপজেলার প্রায় তিনশো ইউনিটের সভাপতি সেক্রেটারী যোগদান করেন।

  • শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার ডেথ রেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    এর আগে গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। পরে রায়ের জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হলেও ওইদিন রায় ঘোষণা না করে সোমবার দিন ধার্য করা হয়।

    আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানি করেন।

    যেভাবে ঘটে নির্মম ঘটনা
    মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। রমজানের ছুটিতে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি।

    অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
    এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।

    ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

    মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

    পরে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    তবে মামলার অপর তিন আসামি—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)—কে খালাস দেন আদালত।

    হাইকোর্টে আসে ডেথ রেফারেন্স

    ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলার নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    পরবর্তী সময়ে নথি যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপার বুক প্রস্তুত হওয়ার পর ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন।

  • নড়াইলে শেষ হলো সুলতান উৎসব

    নড়াইলে শেষ হলো সুলতান উৎসব

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ শেষ হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নড়াইলের সুলতান মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ ও ‘চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’য় বিজয়ীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় ডিবিসির নড়াইল প্রতিনিধি ফরহাদ খানসহ পাঁচজনকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সৌখিন আলোকচিত্রীসহ বিভিন্ন পেশার ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন।

    সাংবাদিক ফরহাদ খানের ছবির বিষয়বস্তু ‘রূপসী বাংলা’। নড়াইলের নড়াগাতী থানার পানিপাড়া এলাকায় অবস্থিত অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের লেক থেকে প্রাণ-প্রকৃতি নির্ভর ‘রূপসী বাংলা’ ছটি তোলা হয়। এদিকে, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে ৫০জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

    এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সুলতান উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন-জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু, এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, চিত্রশিল্পী নিখিল দাস, চিত্রশিল্পী ডিডি মল্লিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদ রহমানসহ সুলতানপ্রেমীরা।

    এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ড্রামা সার্কেল’, নড়াইলের পরিবেশনায় ‘এখনও কৃতদাস’ নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। এদিকে, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ গ্রামীণ মেলায় ব্যাপক লোক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।

    গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সুলতান মঞ্চ চত্বরে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

    বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ সুলতানকে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

  • ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

    ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।

    সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। আর রাজশাহী, জগন্নাথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৮ জানুয়ারি। প্রথম দিন ‘বি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রাথমিক আবেদন চলবে ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। প্রথম দিন ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

    এরপর ৮ জানুয়ারি ‘ই’ ইউনিট, ১৫ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ২২ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ২৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তির আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টায়। আবেদন করা যাবে ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি। ওই দিন ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ৩০ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিট, ৩ ফেব্রুয়ারি ‘বি১’ ইউনিট, ৪ ফেব্রুয়ারি ‘বি২’ ইউনিট, ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ‘বি১’, ‘বি২’ ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। চবিতে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    তবে এসব সময়সূচির মধ্যে যেসব পরীক্ষা এখনো চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি, সেগুলো পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভর্তিচ্ছুদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও অফিসিয়াল নোটিশ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮ জানুয়ারি। এবার খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী- এ তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৮ ডিসেম্বর

    ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিট এবং ১৯ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    এবার পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শহরগুলো হলো—ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ।

  • দামুড়হুদার ডিসি ইকোপার্কের মধ্যে খেলার মাঠ স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

    দামুড়হুদার ডিসি ইকোপার্কের মধ্যে খেলার মাঠ স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা শিবনগর গ্রামে ডিসি ইকোপার্কের ভেতর খেলার মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন ও ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ সংগঠন।

    মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চুয়াডাঙ্গা অন্যতম নিদর্শন ও ঐতিহ্য শিবনগর ডিসি ইকোপার্ক। পার্কের ভেতর খেলার মাঠ স্থাপন করার জন্য কিছু মানুষ চেষ্টা করছেন। কিন্তু পার্কে বর্তমানে অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী আছে। অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন মানসিক প্রশান্তির জন্য। যদি এখানে খেলার মাঠ হয় তবে এখানকার জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

    আমরা কেউ খেলার বিপক্ষে নয়। তরুণ ও যুবকদের জন্য খেলার বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না, কিন্তু জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে খেলার মাঠ স্থাপন ঠিক নয়। খেলার মাঠটি বিকল্প স্থানে হওয়া দরকার।

    স্মারকলিপি পেয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষায় কাজ করবো। সেই সাথে খেলার জন্যও ব্যবস্থা করবো। ইকোপার্কের মধ্যে কোনো অবস্থায় খেলার মাঠ স্থাপন করতে দিবো না। অন্যত্র খেলার মাঠ স্থাপন করার জন্য কাজ করছি।’

    এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, চুয়াডাঙ্গা বড় সলুয়া নিউ ডিগ্রী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি আহসান হাবিব শিপলু, মোফাজ্জল হোসেন, সাকিল আহমেদ, রুহিন আলীসহ সংগঠনের সদস্যরা ও সুশীল ব্যক্তিবর্গ।

  • কৃষকের সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা লুটের আয়োজন

    কৃষকের সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা লুটের আয়োজন

    যশোরের শেখহাটি গ্রামের এসএম কবীর হোসেন এবার দেড় বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। এজন্য বর্তমানে তার ৩০ কেজি টিএসপি সার দরকার। কিন্তু এই সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তাকে নানামুখী হয়রানের শিকার হতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জামরুলতলা বাজারের একটি দোকান থেকে ২৫ কেজি সার ম্যানেজ করতে পারলেও এর জন্য তাকে সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।

    এটা শুধু কৃষক কবীর হোসেনের গল্প নয়, যশোরের হাজার হাজার কৃষককে সারের জন্য এখন এমন হয়রানি এবং দ্বিগুণ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
    তবে প্রকাশ্যে এভাবে দ্বিগুন দরে সরকারি সার বিক্রি হলেও বাস্তবিক অর্থে কার্যকর কোন ব্যবস্থাই এখনো নেওয়া হয়নি। ক্ষেত্রবিশেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই একটি অভিযান পরিচালনা করা হলেও কার্যত এই অতিরিক্ত দামের প্রকাশ্য তৎপরতাকে এখনো পর্যন্ত স্বীকার করা হয়নি। তাই প্রকাশ্যেই বাঁধাহীনভাবে চলছে সার সিন্ডিকেটের কৃষকের শ্রম লুটের কারবার।
    এসএম কবীর হোসেন অভিযোগ করেন, ‘প্রকাশ্যেই অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কার্যত কোন ব্যবস্থা তো নেওয়া হচ্ছে না। দোকানদার আমার পরিচিত তাই আমার কাছ থেকে দ্বিগুণের কিছু কম নিয়েছে। কিন্তু আমি থাকতে থাকতেই আরেকজনের কাছে টিএসপি সার ৫২ টাকা কেজি দারে বিক্রি করল।’

    তরিকুল ইসলাম নামে এক সার বিক্রেতা বলেন, ‘সার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই সারের দাম ওঠানামা করছে। আমাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। তাই সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করতে পারছি না।’
    যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নারাঙ্গালী গ্রামের কৃষক আবদুল আলিমও সম্প্রতি জানিয়েছেন, চার বিঘা আমন জমির জন্য তিনি খোলাবাজার থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি টিএসপি কিনেছেন।
    হিসাব বলছে, এভাবে দ্বিগুন দরে সার বিক্রির মাধ্যমে যশোরের সার সিন্ডিকেট কৃষকের কাছ থেকে চলতি আমন মৌসুমেই সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বেশি লুটে নিচ্ছে।
    তবে দায়িত্বশীল কৃষি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিষয়টি শিকার না করলেও মাঠ পর্যায়ের একাধিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানিয়েছেন তারা নিজেরাও কৃষকদের তোপের মুখে পড়ছেন।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমির জন্য সারের মোট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টন।

    এর মধ্যে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৬৮ হাজার ৯০৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৭ হাজার ৫৯৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ৪৩ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন এবং এমওপি ২৫ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন।
    কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামে এই পরিমাণ সারের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইউরিয়ার মূল্য ১৮৬ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা, টিএসপি ৪৭ কোটি ৫১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, ডিএপি ৯০ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং এমওপি ৫১ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
    সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় দ্বিগুণ দামে এসব সার বিক্রি করা হলে কৃষকদের কাছ থেকে মোট অর্থ আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরকারি দামের তুলনায় কৃষকদের অতিরিক্ত গুনতে হবে ৩৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

    সর্বশেষ পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চলতি মাসের বরাদ্দ থেকে যশোরে ইউরিয়া উত্তোলন করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া, টিএসপি ২ হাজার ৮১০ টন, ডিএপি ২ হাজার ১৪০ টন এবং এমওপি ২ হাজার ২৩১ টন।
    একই তারিখে জেলার গুদামগুলোতে মজুত ছিল ইউরিয়া ৩ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন, টিএসপি ১ হাজার ১৪৮ টন, ডিএপি ১ হাজার ২৯ টন এবং এমওপি ১ হাজার ৪১৩ টন। চার ধরনের সারের গুদামজাত মজুতের পরিমাণ দাঁড়ায় মোট ৭ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন দুই সপ্তাহ আগে দৈনিক রানারকে জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই। কেউ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    তবে বর্তমানে প্রকাশ্যেই প্রায় দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে সার। এব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠালেও তিনি কোন জবাব দেননি।

  • বীজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝুঁকিতে কৃষি

    বীজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝুঁকিতে কৃষি

    একসময় কৃষকের গোলাভরা ধানের পাশে মাটির মটকা, বাঁশের গোলা কিংবা ঘরের চালে যত্ন করে রাখা থাকত পরের মৌসুমের বীজ। ভালো ফসল থেকে বাছাই করা সেই বীজেই শুরু হতো নতুন মৌসুমের চাষ। বীজ ছিল কৃষকের নিজের সম্পদ, নিজের নিরাপত্তা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। কৃষকের ঘরের বীজের জায়গা নিয়েছে বাজারের প্যাকেট। নিজের বীজ হারিয়ে কৃষক ক্রমেই হয়ে পড়ছেন বাজারনির্ভর।

    ঝিনাইদহের মাঠে এখন সেই পরিবর্তনের স্পষ্ট চিত্র দেখা যাচ্ছে। কৃষকের হাতে জমি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই পরবর্তী মৌসুমের বীজের নিয়ন্ত্রণ আর তার হাতে নেই। সরকারি সরবরাহ সীমিত হওয়ায় চাহিদার বড় অংশ পূরণ করতে হচ্ছে বেসরকারি কোম্পানি ও স্থানীয় বাজার থেকে। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে কোনো কারণে বাজারে বীজ সরবরাহ ব্যাহত হলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন কৃষকেরা। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষির বৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও।
    চড়া দামে বেসরকারি বীজ
    শৈলকুপা উপজেলার হাজরামিনা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক হাশেম হোসেন চলতি মৌসুমে ৩৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। সরকারি বীজ পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অনুমোদিত ডিলারের কাছে ঘুরেও প্রত্যাশিত বীজ পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাজার থেকে চড়া দামে বেসরকারি কোম্পানির প্যাকেটজাত হাইব্রিড বীজ কিনে বীজতলায় দেন। সেই বীজ থেকে উৎপাদিত চারাই এখন তাঁর জমিতে রোপণ করা হয়েছে।
    একই উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রামের কৃষক মসলেম উদ্দিনের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। তাঁর হাতে পাওয়া বীজের একটি অংশে অঙ্কুরোদগম হয়নি। তিনি বলেন, ‘একসময় ধান কাটার পর ভালো ধান আলাদা করে বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হতো। মাটির মটকা কিংবা গোলায় যত্ন করে রাখা সেই বীজ দিয়েই পরের বছর চাষ করা সম্ভব ছিল। এখন সেই নিশ্চয়তা নেই। প্রতি মৌসুমে বীজের জন্য বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।’
    বাড়ছে বেসরকারি নির্ভরতা
    জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহে মোট আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩৫ হেক্টর। এর মধ্যে বিএডিসি উফশী বীজের প্রায় ১৯ শতাংশ এবং হাইব্রিড বীজের প্রায় ১ শতাংশ সরবরাহ করে। অর্থাৎ বীজের চাহিদার বড় অংশই পূরণ হচ্ছে বেসরকারি কোম্পানি ও বাজারের মাধ্যমে।
    কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক নিজেদের উৎপাদিত ফসল থেকে পরবর্তী মৌসুমের বীজ সংরক্ষণ করতেন। বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। অধিকাংশ কৃষকই বিভিন্ন কোম্পানি ও বাজার থেকে বীজ কিনে চাষ করছেন।
    ঝিনাইদহের বীজের বাজারে লাল তীর, এসিআই, বায়ারসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির বীজ রয়েছে। সরকারি সরবরাহ চাহিদার তুলনায় সীমিত হওয়ায় কৃষকদের বড় একটি অংশকে বেসরকারি বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
    প্রতি মৌসুমে নতুন বীজ
    উচ্চফলনের আশায় কৃষকের মধ্যে হাইব্রিড বীজের ব্যবহারও বাড়ছে। কিন্তু হাইব্রিড বীজের ক্ষেত্রে উৎপাদিত ফসল থেকে পরবর্তী মৌসুমে একই মান ও বৈশিষ্ট্যের বীজ সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা যায় না। ফলে প্রতি মৌসুমেই নতুন বীজ কেনার প্রয়োজন হয়।
    এতে কৃষকের বীজের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ আরও কমে যাচ্ছে। কৃষকের হাতে জমি থাকলেও চাষের অন্যতম প্রধান উপকরণ বীজের জন্য তাঁকে নির্ভর করতে হচ্ছে বাজারের ওপর।
    শৈলকুপার দামুকদিয়া গ্রামের কৃষক মাসুদ মোল্লা বলেন, ‘আগে ধান কাটার সময় ভালো ধান আলাদা করে রেখে দিতাম। পরের মৌসুমে ওই ধান থেকেই বীজ তৈরি করে চাষ করতাম। এখন কোম্পানির বীজ কিনতে হয়। নিজের বীজ রাখার অভ্যাসও অনেকটা চলে গেছে।’
    হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জাত
    বীজের বাজারনির্ভরতার পাশাপাশি ঝিনাইদহে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী জাতের বীজ হারিয়ে যাওয়া নিয়ে।
    একসময় বিভিন্ন মৌসুমে ধানের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি, ডালের ২২ থেকে ২৫টি এবং সবজির প্রায় ৩০টি জাতের চাষ হতো। বর্তমানে ধানের জাত বেড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি, ডালের ৩২ থেকে ৩৫টি এবং সবজির জাত ৫৫ থেকে ৬৫টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে জাতের সংখ্যা বাড়লেও অনেক স্থানীয় জাতের চাষ ও সংরক্ষণ কমে গেছে।
    ঝিঙাশাইল, লতিশাইল, কাটারিভোগ, রাজাশাইল, দুধকলম, বাঁশফুল, রূপশাইল, দিঘাসহ বিভিন্ন স্থানীয় ধানের জাত বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায়। একইভাবে দেশি খেসারি, স্থানীয় লাল মুগ, মাষকলাই, মাঘী সরিষা, তিলসহ বিভিন্ন স্থানীয় সবজির জাতও আগের তুলনায় কম চাষ হচ্ছে।

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় জাত শুধু ঐতিহ্যের অংশ নয়; এগুলো কৃষকের ঝুঁকি মোকাবিলারও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। একাধিক জাতের বীজ কৃষকের হাতে থাকলে কোনো একটি জাত রোগ, পোকামাকড় বা বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য জাত দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার সুযোগ থাকে। বিপরীতে সীমিত কয়েকটি বাণিজ্যিক জাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
    মনোহরপুর গ্রামের কৃষক সিজার জিকরুল বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বীজ পাওয়া যায়। বিক্রেতারা ভালো ফলনের কথা বলে বীজ দেন। কিন্তু বীজ ভালো না হলে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। বীজের সঙ্গে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমের খরচও জড়িয়ে থাকে।’

    কালীগঞ্জের কৃষক বসির আহমেদ বলেন, ‘নিজের ঘরে বীজ মজুদ থাকলে চাষাবাদের খরচ অনেকটা কমে যায়। তাতে কৃষক লাভবান হন। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না। বীজ কিনতে গিয়ে লাভের অংশ কমে যাচ্ছে।’
    বীজ ব্যাংকের প্রয়োজন বাড়ছে
    শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমানের অভিজ্ঞতাতেও সরকারি বীজ সরবরাহের সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে। তাঁর ভাষ্য, কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী দেখে নতুন জাতের ধান চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার পর পরের বছর সেই জাতের বীজ সংগ্রহ করতে গিয়ে সরকারি বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা শুনতে হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বেসরকারি বীজ কিনতে হয়েছে।
    মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ থাকলেও এর আওতা এখনো সীমিত। ফলে অধিকাংশ কৃষক এ সুবিধার বাইরে রয়েছেন।
    এ অবস্থায় ইউনিয়ন পর্যায়ে বীজ ব্যাংক গড়ে তোলা, কৃষকদের বিজ্ঞানসম্মতভাবে বীজ সংরক্ষণের প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্থানীয় জাতের বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বিএডিসির উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

    ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকদের মানসম্মত বীজ ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের উৎপাদিত ভালো ফসল থেকে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
    তিনি বলেন, ‘ভালো ও রোগমুক্ত জমি থেকে উপযুক্ত সময়ে বীজ সংগ্রহ করে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নিজের বীজ ব্যবহার করতে পারবেন। এতে একদিকে বীজ কেনার খরচ কমবে, অন্যদিকে প্রয়োজনের সময় বাজারের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।’

    কৃষকদের মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে উন্নত জাতের ফসলের সঙ্গে কৃষকদের পরিচয় করানো হচ্ছে। ভালো ফলন পাওয়া গেলে কৃষকদের নিজেদের জমির উপযোগী বীজ সংরক্ষণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’
    কামরুজ্জামান আরও বলেন, ‘বীজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু বীজ সংগ্রহ করলেই হবে না, সেটি ভালোভাবে শুকানো, রোগমুক্ত রাখা এবং উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষকদের এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।’

  • কেঁচো সারে স্বাবলম্বী কুষ্টিয়ার শত নারী

    কেঁচো সারে স্বাবলম্বী কুষ্টিয়ার শত নারী

    কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া গ্রামের শতাধিক নারী বাড়ির আঙিনায় কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে আয় করছেন। নিজেদের জমি ও বাড়ির আঙিনায় উৎপাদিত সবজিতে এই সার ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়তি সার বিক্রি করছেন তাঁরা। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় একজনের হাত ধরে শুরু হওয়া উদ্যোগটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের শতাধিক নারীর মধ্যে।

    কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ধরে জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বিত্তিপাড়া বাজার। সেখান থেকে পূর্ব দিকে আধা কিলোমিটার গেলেই বিত্তিপাড়া গ্রাম। গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় সারি করে রাখা সিমেন্টের চাকে তৈরি হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট। গোবর, সবজির উচ্ছিষ্ট ও কলাগাছের বাকল ব্যবহার করে তৈরি এ সার নিজেদের ফসল উৎপাদনে ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রি করছেন নারীরা।
    বিত্তিপাড়া গ্রামে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন গৃহবধূ জাহানারা খাতুন। ২০২১ সালে বাড়ির আঙিনায় দুটি সিমেন্টের চাক বসিয়ে তিনি গোবর ও কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরি শুরু করেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতাও নেন তিনি।

    এখন তাঁর বাড়ির পেছনের টিনশেডে ৪০টি এবং বাড়ির সামনে আরও ১০টি চাক রয়েছে। নিজের গরুর গোবরের পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে গোবর সংগ্রহ করেন। এর সঙ্গে সবজির উচ্ছিষ্ট ও কলাগাছের বাকল মিশিয়ে তৈরি করেন সার।
    জাহানারা খাতুন বলেন, ‘কেঁচো সারেই আমাদের জীবন বদলে গেছে। কয়েক বছর আগেও বাড়িতে ছাপড়া ছিল। সেখানে দালান তুলেছি। গরু-ছাগল পালছি। সামান্য জমি আছে। সেখানে যা ধান হয়, তা দিয়ে আমাদের চলে যায়। তা ছাড়া বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি ফলাই। সরকারি নানা সহযোগিতা পেয়ে এতদূর এসেছি। আমার দেখাদেখি গ্রামের অনেক নারী এখন জৈব সার তৈরি করছেন। তারাও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।’
    জাহানারা খাতুন জানান, প্রতিটি সিমেন্টের চাক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে কেনা হয়। এতে গোবর, সবজির উচ্ছিষ্ট ও কলাগাছের বাকল দেওয়ার পর কেঁচো ছাড়া হয়। ২০ থেকে ২৫ দিন চাক ঢেকে রাখার পর তৈরি হয় জৈব সার। এ সময় মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়।

    প্রতিটি চাক থেকে প্রায় ৩০ কেজি সার পাওয়া যায়। বর্তমানে মাসে প্রায় ৪০ মণ সার উৎপাদন করছেন জাহানারা। প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করলে মাসে প্রায় ২৪ হাজার টাকার সার উৎপাদন হয়। এর মধ্যে দুই থেকে তিন মণ নিজেদের জমিতে ব্যবহার করেন। বাকিটা বিক্রি করেন।
    বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাঁর বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে যান।
    বিত্তিপাড়া গ্রামের নারীরা শুধু সার বিক্রি করছেন না, নিজেদের উৎপাদিত সার দিয়ে বাড়ির আঙিনা ও কৃষিজমিতে সবজি চাষও করছেন।
    রিনা পারভীন ও নিলুফা ইয়াসমীন বলেন, ‘বিত্তিপাড়া গ্রামে সবজি ও অন্যান্য ফসলের আবাদ হয়। জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের চেষ্টা করছেন নারীরা। প্রথমত নিজেদের ফসলের জমিতে এই সার ব্যবহার করা হয়। বাড়তি সার বিক্রি করে কিছু টাকা আয় হয়। সংসারের কাজে লাগে।’

    মনিরা খাতুন বলেন, গ্রামের বাসিন্দারা আগের তুলনায় কম রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। জৈব সার দিয়ে বাড়ির আঙিনায় মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি ধান, ভুট্টা ও শসার ক্ষেতেও এই সার ব্যবহার করা হচ্ছে।
    উদ্যোক্তা নারীরা জানান, জৈব সার বিক্রির অর্থ দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া, স্কুলের পোশাকসহ পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাচ্ছেন তাঁরা। সার তৈরিতে স্থানীয়ভাবে পাওয়া উপকরণ ব্যবহার হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম।

    বিত্তিপাড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ‘পুরুষেরা অনেক সময় বাড়ির বাইরে থাকেন। কিন্তু নারীরা বাড়িতে থেকে নানা কাজ করেন। তাই জৈব সার উৎপাদনের জন্য নারীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। আর্থিকভাবে সুবিধা পাওয়ায় নারীরা এখন নিজেরাই জৈব সার উৎপাদন করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এখন তারা এই সারের উপকারিতা বিষয়ে সচেতন।’
    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালী খাতুন বলেন, ‘আমি একজন নারী। এতে নারীদের সঙ্গে মিশতে সহজ হয়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে আমি ও আমার টিমের সদস্যরা নারীদের কী প্রয়োজন, সেটা জেনে মেটানোর চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নারীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই গ্রামে একজন থেকে শুরু করে এখন শতাধিক নারী জৈব সার উৎপাদন করছেন। এটাই আমাদের জন্য বড় সাফল্য।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রণোদনা ও সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। প্রায় প্রতি বাড়িতে বস্তায় সবজি উৎপাদনের জন্য নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বস্তা ও বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলের গাছ বিতরণ করা হচ্ছে। নারীরা যাতে জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারেন এবং এই সার বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারেন, সে জন্য আমাদের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
    জাহানারা খাতুনের শুরু করা উদ্যোগ এখন বিত্তিপাড়া গ্রামের শতাধিক নারীর বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করেছে। নিজেদের ফসল উৎপাদনে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সার বিক্রি করে সংসারে অর্থ যোগ করছেন তাঁরা। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

  • খরা ও অতিবৃষ্টি জয় করে আমন চাষে সফলতার উপায়

    খরা ও অতিবৃষ্টি জয় করে আমন চাষে সফলতার উপায়

    আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আমন চাষে এখন কখনো খরা, আবার কখনো অতিবৃষ্টির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষককে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বাড়ছে রোগ-পোকার আক্রমণও। ফলে ভালো ফলনের জন্য শুধু জমি ও বীজ প্রস্তুত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন উপযোগী জাত নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ। খরা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে কৃষকের করণীয় নিয়ে রানার কৃষির নিয়মিত আয়োজনে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম শস্যভাণ্ডার যশোর। এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির প্রাণ রোপা আমন ধান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক খরা, অতিবৃষ্টি, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও সুষম সারের অভাবে অনেক কৃষকই কাক্সিক্ষত ফলন পাচ্ছেন না। জলবায়ুর পরিবর্তনকে মাথায় রেখে চলতি মৌসুমে কিছু কৌশল মেনে চললে খরা ও অতিবৃষ্টি দুটোই মোকাবিলা করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
    অনাবৃষ্টি ও সম্পূরক সেচ
    আমন ধানের জীবনচক্রে দুটি সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো চারা রোপণের পর গাছের শিকড় স্থাপনের সময়, অন্যটি কাইচ থোড় আসার সময়। এ দুই সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে জমি শুকিয়ে গিয়ে ফলন কমে যেতে পারে।
    এ সময় জমি কোনোভাবেই ফেটে যাওয়া পর্যন্ত শুকাতে দেওয়া যাবে না। বৃষ্টি না হলে দ্রুত হালকা সম্পূরক সেচ দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ২-৩ ইঞ্চি পানি ধরে রাখা যেতে পারে। অল্প পানিতে বারবার সেচ দিলে পানির অপচয়ও কম হবে।
    মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ
    ইউরিয়া সার বেশি দিলে ধানগাছ অতিরিক্ত সবুজ ও কোমল হয়ে যায়। এতে মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে।
    এ ক্ষেত্রে প্রথমেই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। একে বলা হয় ‘পার্চিং’। প্রতি বিঘা জমিতে ৪-৫টি উঁচু বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে দিতে হবে। পাখিরা এসব কঞ্চিতে বসে মাঠের ক্ষতিকর পোকা খাওয়ার সুযোগ পাবে।
    পোকার আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওষুধের সঠিক মাত্রা ও প্রয়োগের সময় মেনে চলা জরুরি। অপ্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত নয়।
    খোল পচা ও পাতা পোড়া রোগ
    বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এবং অপরিকল্পিতভাবে ইউরিয়া প্রয়োগ করলে ধানে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। খোল পচা ও পাতা পোড়া রোগের ক্ষেত্রেও সুষম সার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।
    শুধু ইউরিয়ার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পটাশ, জিংক ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান দিতে হবে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে রোগ শনাক্ত করে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।
    উচ্চ ফলনের জন্য সঠিক জাত নির্বাচন
    সময় বদলেছে, তাই জাত নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে হবে। জমির ধরন, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় আবহাওয়া এবং ফসল কাটার সময় বিবেচনা করে জাত নির্বাচন করা প্রয়োজন।
    উচ্চফলনশীল জাতের মধ্যে ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭৫ ও ব্রি ধান৯০ উল্লেখযোগ্য। খরা ও প্রতিকূলতা সহনশীল জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান১০৩, বিনাধান-১৭, বিনাধান-২০, বিনাধান-২২ ও বিনাধান-২৩।
    এসব জাতের একটি বড় সুবিধা হলো অনেক জাত তুলনামূলকভাবে দ্রুত পাকে। ফলে আমন কাটার পর দ্রুত সরিষা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষের সুযোগ পাওয়া যায়। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষ করা গেলে কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।
    সুষম সার ও মাটির স্বাস্থ্য
    শুধু রাসায়নিক সার ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফলন ধরে রাখা সম্ভব নয়। মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
    জমি তৈরির সময় গোবর বা অন্যান্য জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বোরো ধান কাটার পর জমিতে ধৈঞ্চা বুনে ৪৫-৫০ দিন পর তা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া যায়। এটি সবুজ সার হিসেবে মাটির জৈব পদার্থ ও উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে। এর ফলে রাসায়নিক সারের প্রয়োজনও কমতে পারে।
    শেষ চাষের সময় মাটির পরীক্ষা ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও জিংক সালফেট প্রয়োগ করতে হবে।
    ইউরিয়া সার একসঙ্গে প্রয়োগ করা যাবে না। কয়েক কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণভাবেÑপ্রথম কিস্তি: চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর। দ্বিতীয় কিস্তি: কাইচ থোড় আসার ১৫-২০ দিন আগে। তৃতীয় কিস্তি: থোড় বের হওয়ার সময়। তবে জমির উর্বরতা, ধানের জাত ও স্থানীয় কৃষি সুপারিশ অনুযায়ী সারের মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
    বিজ্ঞানসম্মত পানি ব্যবস্থাপনা
    কাইচ থোড় আসা থেকে দানায় দুধ আসা পর্যন্ত সময়ে ধানগাছের পানির চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিশ্চিত করতে হবে।
    তবে জমিতে সবসময় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা ঠিক নয়। অতিবৃষ্টির সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জমিতে পানি জমে থাকলে ধানের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।
    ধান কাটার ১০-১২ দিন আগে জমি থেকে পানি বের করে দেওয়া ভালো। এতে জমি কিছুটা শুকিয়ে আসে, ধান কাটতে সুবিধা হয় এবং ফসল সংগ্রহের সময়ও কমে।
    নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ
    আমন চাষে সফলতার অন্যতম শর্ত হলো নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ। আগাছা, পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
    তাই কৃষকদের নিয়মিত জমি দেখতে হবে। পোকামাকড় দেখা দিলেই অযথা কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রথমে পোকার ধরন ও আক্রমণের মাত্রা শনাক্ত করতে হবে। প্রয়োজন হলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে।
    সময়মতো আগাছা দমন, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, পার্চিং, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ, অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ—এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আমনের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

    কৃষক ভাই ও বোনেরা, আমন ধানের জমিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত আপনার এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সমস্যার কথা জানান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিন।
    সবাই ভালো থাকুন।

  • সাংবাদিক ওসমানের উপর সন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা।

    সাংবাদিক ওসমানের উপর সন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা।

    মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহ মহেশপুরে সস্তার হাইস্কুল মাঠে বিকাল পাঁচটার দিকে মহেশপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক শামীম ওসমানের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে।

    স্থানীয় সূত্রে, জানা গেছে সস্তার হাইস্কুল মাঠে হুদো গ্রাম এবং শিবানন্দপুর গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা কে কেন্দ্র করে নাটিমা ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেনের উপর হুদো গ্রামের ছেলেরা আক্রমণ করে।
    সাংবাদিক শামীম ওসমান তখন রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তার মুঠোফোনে মারামারির এই দৃশ্যটি ধারণ করার জন্য ভিডিও করা শুরু করেন। এই বিষয়টি স্থানীয় হুদো গ্রামের ছাত্রদলের আনোয়ার ও তার সাথে থাকা ছেলেরা দেখে ফেলে। এবং সঙ্গে সঙ্গে আনোয়ারের নেতৃত্বে আব্দুল্লাহ, বিল্লাল ,সাব্বির সহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ অতর্কিত হামলা করে বসে সাংবাদিক ওসমানের উপর। শামীম ওসমান সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা বলে ,তোর সাংবাদিকতা ছুটাচ্ছি।এ সময় তারা তাদের হাতে থাকা হকিস্টিক, কালো কালারের পাইপ, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেছন দিক থেকে এবং সামনে দিক থেকে সাংবাদিক শামীম ওসমানের উপর উপর্যুপরি হামলা করে। শামীম ওসমান রাস্তার উপর পড়ে যান ।আবার ওঠার চেষ্টা করে চলে যায়, তাকে আবার ধরে ফেলে এবং অমানবিক নির্যাতন করে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সাংবাদিক শামীম ওসমানকে স্থানীয় জনগণ উদ্ধার করে মহেশপুর হসপিটালে নিয়ে আসে।
    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে সাংবাদিক শামীম ওসমানের মাথায় সাতটা সেলাই দেওয়া লাগছে। এবং তার দুই পা ও হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে যখম করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ সাংবাদিক সমাজ চরম উদ্বিগ্ন ,সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    এ,আরো

  • চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ওরফে আশাদুল (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত শাহাবুদ্দিন মরহুম ওহাব মন্ডলের ছেলে।

    পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মারুফ রহমান।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সন্দেহ

    চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সন্দেহ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহানারা (৫০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা— এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়ায় ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

    নিহত জাহানারা চুয়াডাঙ্গা শহরের মসজিদপাড়ার মো: জামাল শেখের স্ত্রী। তিনি গত আট মাস ধরে স্বামীসহ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার রেলপাড়া এলাকায় মো: তৌফিকুল ইসলাম জোয়ার্দারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে নিজ বসতঘরের সিলিংয়ের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জাহানারার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।

    নিহতের স্বামী জামাল শেখ দাবি করেন, জাহানারা দীর্ঘদিন ধরে পিত্তথলি, লিভার ও পাকস্থলীসহ নানা জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ইতোপূর্বে তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচারও করা হয়। দীর্ঘদিনের শারীরিক যাতনা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

    তবে নিহতের স্বজনরা মৃত্যুটিকে সাধারণ আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক নানাবিধ বিষয় ও পুত্রবধূর সাথে জাহানারার মনোমালিন্য চলছিল। মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না— এ বিষয়ে নিহতের ভাইয়েরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, নিহত নারী দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং পারিবারিক কিছু মনোমালিন্যও ছিল। তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় প্রকৃত কারণ বের করতে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।

  • আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই ন্যূনতম তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে দেশ।

    আজ শনিবার যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব তো তেলের ওপর ভাসছে। সেখানে কেন তেলের দাম বাড়লো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন তেল-গ্যাসের দাম বাড়লো? বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশে সরকার কতদিন সমন্বয় না করে থাকবে?

    তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার জনগণের কথা ভেবে সমন্বয় করছে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে পরিমিতিবোধ তৈরি করার পাশাপাশি বাচ্চাদেরও পরিমিত ব্যবহার শেখাতে হবে।

    শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব বিস্তার কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক, পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, যশোর বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষকরা।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ফুলবাড়ী, আনন্দবাস, নাজিরাকোনা ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দ মালামালের দুই কেজি ভারতীয় গাজা, ৭০ বোতল ভারতীয় মদ, ছয় হাজার পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট, পাঁচ হাজার ১০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৬৯৬ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট এবং ৫৬ পিস ভারতীয় কসমেটিকস। জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৯ লাখ দুই হাজার ৭৬০ টাকা।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান বলেন, ‘দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। ’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • খুলনায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক সভা

    খুলনায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কেডিএ নিউ মার্কেটে ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক জনসচেতনতামূলক সভা শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কো, লি. খুলনার যৌথ আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেডিএ নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গাফফার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওজোপাডিকো লি-র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আরিফুর রহমান।

    সভায় বক্তারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বাসাবাড়িতে সৌর শক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

  • মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, ওষুধ এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে চারজন বাংলাদেশীকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

    তিনি জানান, ২৮ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টার সময় মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়েশপুর বিওপির সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার-৬৮/৪-এস হতে ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়া মাঠের একটি আমবাগানে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আসামিবিহীন ৮৩০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা এবং ৪ হাজার ৩৬০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় খোসালপুর বিওপির হাবিলদার মো: আব্বাস হোসেনের নেতৃত্বে অপর এক বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৬০/৮০-আর হতে ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খোসালপুর গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতে প্রবেশের সময় ৪ বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১ পুরুষ, ১ নারী এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য রয়েছেন।

    আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি-৫৮-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

  • নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় অসন্তোষ

    নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় অসন্তোষ

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হোসাইনের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের নির্ধারিত মতবিনিময় সভা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ইউএনও উপস্থিত না থাকায় অপেক্ষার পর সাংবাদিকরা সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ইউএনও সেখানে উপস্থিত হন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টায় মতবিনিময় সভার সময় নির্ধারণ করা হয়। সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সভাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় তারা সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তারা জানতে পারেন, একই কক্ষে বিকেল সাড়ে ৩টায় কৃষি বিভাগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে ৩টা ২৪ মিনিটের দিকে ইউএনও সভাকক্ষে উপস্থিত হন।

    কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান আপেল বলেন, নির্ধারিত সময়ে ইউএনও উপস্থিত না হওয়ায় সাংবাদিকরা সভা বর্জন করেন।

    তবে ইউএনও শামীম হোসাইন বলেন, “তারা সভা বর্জন করেছেন—এটা আপনাদের কাছ থেকেই জানলাম। আমার জানামতে, তারা অন্য একদিন সময় চেয়েছেন।”

  • নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সুলতান মঞ্চ চত্বরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪০০ শিশু উৎসবে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের পতাকাসহ ফুল-ফল, প্রকৃতি, গ্রামীণ পরিবেশ, সুলতানের প্রতিকৃতি, নৌকাবাইচ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় শিশুদের রঙতুলিতে উঠে আসে। এছাড়া সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সৌখিন আলোকচিত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শুক্রবার সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন-অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ও নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদ রহমান, নাজমুল হাসান লিজাসহ সুলতানপ্রেমীরা। দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

    বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ সুলতানকে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

  • গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় এক ঘণ্টা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টিভির মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এসএম তারিক।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কয়েকজন শিক্ষার্থী টেবিলে বই খুলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

    পরে সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিক রাব্বি ও এসএম তারিক গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এর সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, হল সুপারসহ কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ—দুই বিষয়েই প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

  • বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারকলি

    বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারকলি

    এক সময় আনারকলি বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন হালিম আহম্মেদ বাচ্চু।

    কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়া পাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা বাচ্চুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ রঙের আকর্ষণীয় দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল আনারকলি, প্যাশন বা ট্যাংক ফল।তিনি বলেন, ‘চারা লাগানোর আট মাস পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারাবছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এ ফল চাষ করা যায়। জলবায়ু সহনশীল টক-মিষ্টি স্বাদের এ ফল চাষে তুলনামূলক কম খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় দিনদিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও।’

    কৃষি বিভাগ থেকে যদি ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পান, তাহলে আমার মতো কৃষকরা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। গতবছর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে স্টালিন ভাইয়ের বাগানে সর্বপ্রথম এ ফলের চাষাবাদ দেখি। সেখান থেকেই চারা সংগ্রহ করে আমার এক বিঘা জমিতে রোপন করি।’

    বাচ্চু আরও বলেন, ‘কিছু দিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে মাত্র আট মাসের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। আট মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে।’

    এক বিঘার আনারকলি বাগান করতে বাচ্চুর এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

    বাচ্চুর বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষও। নতুন এ ফলের চাষ ও ফলন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারকলি, প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।’

  • চৌগাছায় সড়ক দুর্গটনায় নিহত-১

    চৌগাছায় সড়ক দুর্গটনায় নিহত-১

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় গরুবোঝাই আলমসাধু গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে চালক
    নুর ইসলাম (৫০) নামে এক জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার
    চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামের খলসি বাজার
    এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলার মনোহরপুর
    গ্রামের মৃত হারেজ আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় আলমসাধু গাড়ী চালক।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম নিজের আলমসাধু চালিয়ে পাঁচটি
    গরু নিয়ে ঝিকরগাছা থেকে চৌগাছা পশুহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে
    পলুয়া গ্রামের খলসি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আলমসাধু গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ
    হারিয়ে সড়কের নিচে উল্টে পড়ে যায়। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনা
    স্থলেই নুর ইসলামের মৃত্যু হয়।
    পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আলমসাধু গাড়ীতে থাকা পাঁচটি গরু
    জীবিত উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কে
    যান চলাচল বন্ধ ছিলো। খবর পেয়ে দশপাখিয়া ফাঁড়ির পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল
    স্বাভাবিক হয়।
    পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরাদেহ উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য
    প্রেরণ করেছেন।
    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    রাশিদুল ইসলাম বোরহান গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় এক ঘণ্টা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টিভির মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এসএম তারিক।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কয়েকজন শিক্ষার্থী টেবিলে বই খুলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

    পরে সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিক রাব্বি ও এসএম তারিক গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এর সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, হল সুপারসহ কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ—দুই বিষয়েই প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

  • মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক

    মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরার বহুল প্রচলিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জিএম নুর ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুের রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    তার বড় ছেলে আদম শফিউল্লাহ জানান, বাবার লাশ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আনা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।

    জিএম নুর ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    আশির দশকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণমাধ্যম জগতে প্রবেশ করেন তিনি।

    এরপর খুলনার দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে শুরু করেন সাংবাদিকতা। ২০০০ সালে বাজারে আসে তার মালিকানাধীন পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত।

    জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • সার সংকট নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে অভিযান

    সার সংকট নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে অভিযান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সার সংকট নিয়ে সারা দেশে ছড়ানো তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটা এবং সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, যশোরে ভেজাল সার বিক্রি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও অবৈধ মজুতের দায়ে একাধিক ডিলার এবং ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে।

    গত সোমবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমাম আমার দেশকে বলেন, সার সংকটের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল ও গুজব। সাধারণ কৃষকদের মাঝে প্যানিক তৈরি সৃষ্টি এবং সরকারকে বিব্রত করার জন্য এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকিতে দেশের ৬৪ জেলার জন্য মন্ত্রণালয়ের ৬৪ কর্মকর্তা এ বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

    অসাধু ডিলারদের বিষয়ে তিনি আরো জানান, বেশি দামে বিক্রি বা কালোবাজারির অভিযোগ পেলেই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ডিলারশিপ স্থগিত ও বাতিল করা হচ্ছে, যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে তদারকি সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে কিছু ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীর নানা অনিয়ম এবং পদ্ধতিগত ত্রুটি সামনে আসছে।

    রংপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে গোডাউনে সার না রাখা এবং পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অনেক ডিলারকে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। তার অঞ্চলের কোথায় কাকে আরো জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা পরে নিশ্চিত করা যাবে।

    এদিকে সাটুরিয়া উপজেলার জান্না বাজারে বিএডিসির সার ডিলার ছানোয়ার হোসেনকে সারের সঙ্গে মাটি মিশিয়ে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় কৃষকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী ওই ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং ৫ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করা হয়।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের মালিক নুর ইসলামকে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং অবৈধভাবে ২৫৯ বস্তা ইউরিয়া, ১০৬ বস্তা ডিএপি ও ৪৫ বস্তা টিএসপি সার মজুত রাখার অপরাধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। সেখানে জব্দ করা সার পরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজারে লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ৩ লাখ ৫৩,৩৫০ টাকা মূল্যের মোট ২৭১ বস্তা (১৩,৫৫০ কেজি) সার অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে গত বুধবার খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা আদায় করা হয় এবং জব্দ সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকের মাঝে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করার আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে চৌগাছায় পাচারকালে আটক আরো ৩৭ বস্তা সার সরকারি মূল্যে বিক্রি করে পরিবহনের দায়ে আলমসাধু চালককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের কোথাও সারের প্রকৃত ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলেই প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    সরকারের দাবি সারের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে। তবে বিভিন্ন জেলায় বেশি দামে বিক্রি, অবৈধ মজুত ও ভেজাল সারের ঘটনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও কৃষক পর্যায়ে নির্ধারিত দামে সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও কৃষকরা সময়মতো ও নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন কি না—সেটিই এখন মাঠ পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    তবে সার সংকট নেই—এমন দাবি করা হলেও নিরাপত্তা মজুতে ঘাটতি দেখা গেছে। গত ২২ আগস্টের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ইউরিয়ার নিরাপত্তা মজুত থাকার কথা ৫ লাখ টন, সেখানে আছে ৪ লাখ ৯৬২ টন; অর্থাৎ ঘাটতি ৯৯ হাজার টন। একইভাবে টিএসপির ৪ লাখ টন; কিন্তু মজুত আছে ৩ লাখ ৩৭৩ টন; অর্থাৎ ঘাটতি সাড়ে ৯৯ হাজান টন। অনুরূপভাবে ডিএপির নিরাপত্তা মজুত থাকার কথা ৫ লাখ টন। কিন্তু আছে ৩ লাখ ২৭৭ টন; এখানেও ঘাটতি ২ লাখ টন। সবশেষ এমওপির মজুত থাকার কথা ৩ লাখ টন, সেখানে আছে ১ লাখ ৪৮৪ টন; এখানেও ঘাটতি প্রায় ২ লাখ টন।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে সারের নিরাপত্তা মজুত অনেকটাই নিম্নমুখী। এ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

  • উড়ো চিঠি পাঠিয়ে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

    উড়ো চিঠি পাঠিয়ে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় উড়ো চিঠিতে হত্যার হুমকি পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসান ইমাম ইবনে হাবীব ওরফে হাসান ইমাম রুবেল। গত বুধবার ভোরে উপজেলার হিড়িমদিয়া গ্রামে অবস্থিত তাঁর বাড়ির প্রধান ফটকের নিচে একটি খামে করে চিঠিটি রেখে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি সেদিনই ভেড়ামারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    ‘তৌহিদী জনতা’র নামে পাঠানো চিঠিতে হাসান ইমাম রুবেলকে তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের লেখালেখি পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব লেখালেখিকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। চিঠির শেষাংশে এটিই ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি হাসান ইমাম
    রুবেলের ঢাকায় অবস্থান ও চলাফেরার তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
    হাসান ইমাম রুবেল দৈনিক প্রথম আলোতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এ ছাড়া চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের আউটপুট এডিটর ও নিউজবাংলার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।

    ভেড়ামারা থানায় করা জিডিতে তিনি লিখেছেন, চিঠিতে তাঁর ফেসবুকের স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও লেখালেখির কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব লেখাকে ইসলাম ও আলেম-ওলামাবিরোধী আখ্যা দিয়ে লেখালেখি বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় ‘প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবেন না’ ও ‘যেকোনো উপায়ে’ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তাঁর ছাত্রজীবনের বামপন্থি রাজনীতি ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে বলেও দাবিও করা হয়েছে। পাশাপাশি চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব কারণে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
    হাসান ইমাম রুবেল বছরে দু’একবার পরিবার নিয়ে হিড়িমদিয়ার বাড়িতে অল্প কয়েকদিন অবস্থান করেন। তিনি বলেন, ‘পরিবার নিয়ে অনেক দিন পর গ্রামের বাড়িতে এসেছি। (বুধবার) ভোরে ফটকের নিচে তৌহিদী জনতার নামে চিঠি রেখে যাওয়া হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে জিডি করেছি। হুমকির প্রকৃত উৎস ও জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’ তাঁর ভাষ্য, চিঠির প্রেরক কে বা কারা, তা নিশ্চিত নন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে সরাসরি দায়ী না করে উৎস শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেল জিডি করেছেন। পুলিশ তাঁর বাড়ি পরিদর্শন করেছে। কারা জড়িত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
    আরও হুমকি
    ভেড়ামারায় সাম্প্রতিক সময়ে এমন আরও কয়েকটি হুমকির তথ্য পাওয়া গেছে। জুনিয়াদহ ইউনিয়নের জগশ্বর গ্রামের কিয়ামাত আলী সরদারকে ১৭ আগস্ট বিশেষ বাহিনীর নামে উড়ো চিঠি দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ছাড়া একটি দলের জেলা কমিটির আহ্বায়ককেও কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

    চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, কবি-সাহিত্যিক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

    দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    পরে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

    বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়েই তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অনন্য অবদান রাখেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

    কার্পাসডাঙ্গার সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রয়েছে গভীর স্মৃতির সম্পর্ক। কবি ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দুবার নদীপথে স্বপরিবারে এখানে এসেছিলেন। স্ত্রী প্রমীলা, দুই ছেলে সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগানবাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে অবস্থান করেন। ঐতিহাসিক সেই ঘরটি এখনো কবির স্মৃতি বহন করছে।

    স্থানীয়দের মতে, কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থানকালে নজরুল বিভিন্ন ছড়া, কবিতা ও গান রচনা করেন। ফলে স্থানটি নজরুলপ্রেমী ও সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কবির স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে প্রতিবছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।

    দিনব্যাপী কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হিজলী বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্টের টহলদল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। দিনব্যাপী অভিযানে ভারতীয় ৫০ বোতল এসকাফ সিরাপ (নেশাজাতীয়), ৫৮টি শাড়ি, ৫৭টি চকলেট, ৩৬ কেজি ফুচকা, ১ কেজি জিরা, ০.৫ কেজি কিসমিস, ৫ প্যাকেট সনপাপড়ি এবং ৩৫২টি কসমেটিকস সামগ্রী আটক করা হয়। জব্দকৃত এসব চোরাচালানি মালামাল ও মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ টাকা।

    যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতাও চোরাচালান দমনে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

  • মেহেরপুরে হারানো ১০৮ মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা

    মেহেরপুরে হারানো ১০৮ মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরে ১০৮টি হারানো মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রকৃত মালিকদের কাছে মোবাইল ও অর্থ হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার উত্তম কুমার রায়। গত দুই মাসে মেহেরপুরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে উদ্ধার হয় এসব মুঠোফোন ও নগদ অর্থ।

    পুলিশ জানায়, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে জেলার তিন থানায় সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে ১০৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। একই সময়ে ২৬টি ফেসবুক আইডিও রিকভার করা হয়। এ ছাড়া বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ভুক্তভোগীদের করা থানার জিডির ভিত্তিতে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ভুলক্রমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চলে যাওয়া টাকা-সংক্রান্ত ছয়টি জিডির ভিত্তিতে ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মোট ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    পুলিশ সুপার উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘অনলাইন জুয়া, বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভিসা জালিয়াতি, বিকাশ প্রতারণা ও অনলাইন কেনাকাটাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীদের থানায় আসতে হবে। ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।’

    অনলাইনে প্রতারণা থেকে বাঁচতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং অনলাইনে কেনাকাটার আগে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শও দেন তিনি।

  • মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা

    মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেন আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

    তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকা, ইভটিজিং প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়া এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন।

    সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সচেতনতামূলক এ আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খোকসা থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • মহেশপুর  ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মানে মতবিনিময় সভা 

    মহেশপুর  ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মানে মতবিনিময় সভা 

    মোঃ মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদাহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সকল তফসিলি ব্যাংকের আয়োজনে এক দেশ এক QR লেনদেনে বাংলা QR ক্যাশলেস, বাংলাদেশ বিনির্মানে বাংলা QR বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

    বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা অডিটোরিয়াম এ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা জয়েন্ট ডিরেক্টর (জেডি) মোঃ সোহানুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহেশপুর ইসলামী ব্যাংকের সহকারী অফিসার (আরডিএস) পিএলসি মোঃ রফিকুল ইসলাম। মহেশপুর সোনালী ব্যাংকের পিএলসি এজিএম মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ঝিনাইদহ জোনাল অফিস ও অগ্রনী ব্যাংকের পিএলসি মোঃ মোজাহারুল ইসলাম। ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি,এসএ ভিপি ও ব্যবস্থাপক মোঃ রুহুল আমীন। অনুষ্ঠান বক্তারা QR লেনদেনে বাংলা QR ব্যবহার করে সহজেই অর্থ লেনদেন করা যায় এবং QR app ব্যবহার করে গ্রাহক র্চাজ ছাড়া সহজেই অর্থ লেনদেন করতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহেশপুর ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ জামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা।

    এ.আর

  • শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

    শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

    এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সকালে মাধবপুর গ্রামের অমর ভৌমিক ও তার স্ত্রী মীনাক্ষী রানী ঘাস কাটা মেশিনে ঘাস কাটতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হন। আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

    স্থানীয় মুকুল নামের এক ব্যক্তি জানান, গরুর ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় তারা স্বামী-স্ত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দু’জনের মৃত্যু হয়।

    এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মাধবপুর গ্রামে ঘাস কাটা মেশিনের সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মৃত্যু হয়েছে ।

  • চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কোর্টপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগী ও সাহসী কর্মী মো: ইউসুফ আলী মোল্লার (৭৫) ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মাসুদ পারভেজ রাসেল।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এক যৌথ শোকবার্তায় এই দুই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মরহুম ইউসুফ আলী মোল্লা ছিলেন দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে তার অপরিসীম ত্যাগ ও অনবদ্য অবদান আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।’

    মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মোল্লা ফারুক এলাহী এবং এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানের সম্মানিত বাবা।

    নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের আকুল প্রার্থনা করেন। একই সাথে তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সন্তানাদি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ও সবর ধারণ করার তৌফিক দান করেন, সেই দোয়া করেন। আমিন।

    উল্লেখ্য, মোল্লা ইউসুফ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

  • মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    আটক সাতজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার পাগলাখানা গ্রামের মোসা: আছমা খাতুন (৩১), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান (২৮), পাগলাখানার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), নলডাঙ্গা এলাকার সাকিব (২৩), কুড়িগ্রাম জেলার কালিঘাট এলাকার ছাব্বির হোসেন (২২) ও মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেবিলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন (২২)।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স রুমে পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্যা আজাদ হোসেন জানান, একটি মাইক্রোবাসযোগে শ্রাবনী নামে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে আটকদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি এপ্রোন, একটি খেলনা পিস্তল ও আটটি মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করেছে।

    তিনি আরো জানান, এই অপহরণ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী শ্রাবনীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুলকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।

  • নড়াইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, ট্রলিচালক নিহত

    নড়াইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, ট্রলিচালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইল-কালিয়া সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খেয়ে ইটভাঙার কাজে ব্যবহৃত ট্রলিচালক মুত্তাকাব্বির সরদার (১৮) নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাচুড়ি বাজারে তুসার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুত্তাকাব্বির কালিয়ার কদমতলা গ্রামের আসগর সরদারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুরে নড়াইল-কালিয়া সড়কের চাচুড়ি বাজার এলাকায় একটি দোকানের মালামাল খালাসের জন্য ট্রাকটি দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় মুত্তাকাব্বির কালিয়া থেকে চাচুড়ির দিকে আসার পথে সেতু থেকে নামার সময় ট্রলিটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খায়। এ দুর্ঘটনায় ট্রলিচালক মুত্তাকাব্বিরের মাথা থেতলে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। তবে ট্রলিতে থাকা চালকের সহকারী রক্ষা পান।

    কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা


    এম এ রহিম, চৌগাছা
    যশোরের চৌগাছায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির
    উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার
    (২৬ আগস্ট দুপুরে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার
    এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার
    ভূমি জি,এম,এ, মুনীব। এ সময় একটি গুদাম থেকে ২৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
    খাইরুল ইসলাম নামে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬
    মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হুসাইন, উপজেলা
    বিএডিসি সার ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউনুচ আলী দফাদার,
    চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও
    চৌগাছা থানা পুলিশ। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা
    হয়েছে।
    এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও
    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির
    হোসাইন পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ১০
    বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ
    করেন। পরে সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সব সার বিক্রি করা হয়। বিক্রির
    টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু
    চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) ২ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
    এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খাইরুল
    ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত খাইরুল
    ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে।
    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিয়িমিত সরকারি সার
    কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও
    ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর
    নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, জব্দ করা সার প্রকৃত
    কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
    ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব বলেন, কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো
    অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে রিফাত হোসেন (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার দিনগত রাত ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের শেখপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিফাত হোসেন উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছোট ছেলে।

    স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রিফাত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন সাপে কেটে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবন চত্বরে মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মহানবী সা:-এর আদর্শ ধারণ, অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের ধর্ম পালন শিখিয়েছেন।

    কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো: মনিরুজ্জামান রহিমের সঞ্চালনায় খুলনা সিটি করপোরেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: আবদুল্লাহ, কেসিসির শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন কাশেমী, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো: গোলাম কিবরিয়া ও মাওলানা মো: মুসফিকুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

    এছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ উপলক্ষে জেলার সব মসজিদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনী, কর্ম ও শিক্ষা, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। এছাড়া কেরাত, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনীর ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, মহানবী সা:-এর জীবন ও কর্মভিত্তিক কবিতা, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার পরিস্থিতি তদারকি করেন।

    পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীদের কাছ থেকেও চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার, হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানূল হক তন্ময়, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও সদর উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।

    জনগণ যাতে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, পরিদর্শনকালে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।

  • চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।

    রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু।

    আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান। আলেয়াকে বিয়ের আগে রহম আলীর আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করতেন।

    ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে খাবার খেয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা খোলার শব্দে মেয়ে লিপছিয়ার ঘুম ভাঙে। সে দেখতে পায়, তার বাবা রহম আলীর হাতে রক্তমাখা একটি গাছি দা। রহম আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে চৌকির নিচে তাকিয়ে লিপছিয়া মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে আলেয়ার মরদেহ দেখতে পান।

    এ ঘটনায় আলেয়ার ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে রহম আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মহসিন আলী। ২০১৬ সালের ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা।

  • চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিরাপ, নগদ টাকা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ ইমন আহম্মেদ (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ইমন আহম্মেদ উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    র‍্যাব-১২ সিপিসি-৩ মেহেরপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমন আহম্মেদকে আটক করা হয়।

    পরে তাঁর কাছ থেকে ৫৪২ বোতল স্ক্যার্ফ সিরাপ ও ১১০ বোতল উইনক্যারেক্স সিরাপ, মোট ৬৫২ বোতল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাঁর হেফাজত থেকে নগদ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা সিরাপগুলো ভারতীয়। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এসব সিরাপ বাংলাদেশে এনে মাদক হিসেবে সরবরাহ বা বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।

    র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবারের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া সিরাপ, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় আটক ইমন আহম্মেদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।