খুলনা বিভাগ

  • নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুনের নাম ঘোষণা

    নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুনের নাম ঘোষণা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা চত্বরে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হন। সবাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বিবাদপূর্ণ পাঁচটি গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন।

    সমাজসেবক চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন-নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির শেখ।

    এছাড়া বক্তব্য দেন-নোয়াগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুর নবী, সাবেক ইউপি সদস্য কায়কোবাদ লস্কার, সমাজসেবক সাহিদার রহমান মোল্লা, নাজির মোল্লা, মনজুরুল ইসলাম মিলন, শামীম পারভেজ জনি, ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের গ্রাম্য সংঘাত, হানাহানি ভুলে সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন আর কোনো মারামারি করবেন না। হত্যাকান্ডে জড়াবেন না। দীর্ঘ ৪০ বছরের ইতিহাসে পাঁচটি গ্রামের দ্বন্দ্বের জেরে অর্ধশতাধিক সহিংসতায় অন্ততপক্ষে পাঁচজন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে ওই পাঁচগ্রামে আর কোনো হানাহানি ও মারামারি কেউ করবেন না। এই মতবিনিময় সভায় পাঁচটি গ্রামে শান্তি অটুট রাখার জন্য নোয়াগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে বিজয়ী করতে এবং গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    প্রসঙ্গত, নড়াইলের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচন, জমিজমাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায়ই দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হতো। যা প্রায় ৪০ বছর ধরে চলে আসছিল। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী বেশি মারামারি হতো। এসব সংঘাত আজ (মঙ্গলবার) থেকে অবসান হলো। সবার মাঝে সম্প্রীতি রক্ষায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে পাঁচটি গ্রামের পক্ষ থেকে একক চেয়ারম্যান প্রাথী ঘোষণা করলেন গ্রামবাসী।

    এদিকে গ্রাম্য হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হত্যাকান্ড এড়াতে পাঁচ গ্রামের মানুষের এককাতারে মিলিত হওয়াকে বিভিন্ন পেশার মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা-এ বন্ধন যেন আজীবন অটুট থাকে।

  • চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    যশোরের চৌগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার জব্দের পর অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে খাইরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    এ সময় জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এই বিপুল পরিমান সার জব্দ ও জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ, মুনিবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ইউনূস আলী দফাদারসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযানকালে খাইরুল ইসলাম তার সার বিক্রেতা হিসেবে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অথচ তার দোকানে ২৮ বস্তা এমওপি, ১৪৭ বস্তা টিএসপি, ৯ বস্তা ডিএপি এবং ৮৭ বস্তা ইউরিয়া সর্বমোট ২৭১ বস্তা সার গুদামজাত করা ছিলো। যার খুচরা বিক্রয় মূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা।

    পরে সার জব্দ করে সরকারি নায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

    আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরেই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বসলেন ত্রিবেদী এছাড়া বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমান সার মজুদ করার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী ২০,০০০ ( বিশ হাজার) টাকা জরিমানা অথবা একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দেন। পরে খাইরুল ইসলাম জরিমানা পরিশোধ করেন। একইসাথে তিনি ভবিষ্যতে অবৈধভাবে সার মজুদ বা ব্যবসা করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

  • ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সবজি ক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: আলেফ (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আলেফ ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আলেফ অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন ছিলেন। তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে সবজির চারা উৎপাদন এবং তা স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

    প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি দনিজের নার্সারিতে চারাগাছে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে সন্তানদের লেখাপড়াসহ পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারটি আগলে রেখেছিলেন আলেফ। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আজ পুরোপুরি অসহায়। এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • চৌগাছায় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ

    চৌগাছায় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় কালো বাজারে পাচারের সময় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
    সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে চৌগাছা পৌরসভার চাঁদপুর মোড় এলাকায় স্থানীয় জনগণ সারগুলো আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়।

    স্থানীয়রা জানান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নসিমনে করে সারগুলো ঝিকরগাছার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা নসিমনটি আটক করেন।

    খবর পেয়ে চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চৌগাছা শহরের ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম অবৈধভাবে সারগুলো মজুদ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সেখান থেকেই সারগুলো অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। পরে খাইরুল ইসলামের দোকানে অভিযান চালানো হলেও দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন এঘটনায় সাইফুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হবে।

    এদিকে, পৌরসভার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল ইসলাম।

    এর আগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সারের সংকট নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারের অবৈধ মজুদ ও পাচারের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, অথচ এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরকারি সার অন্যত্র পাচার হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, সারের সংকটের মধ্যে সরকারি সার কীভাবে পাচার হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন?

    স্থানীয়দের দাবি, শুধু পরিবহনকারী বা নসিমন চালককে আটক না করে সরকারি সার অবৈধভাবে মজুদ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদেরও তদন্তের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

  • মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের ইমিটেশন এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত। 

    মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের ইমিটেশন এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত। 

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্ধারিত প্রকল্পের আওতায় ইমিটেশন জুয়েলারি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রস্ততকারকদের সাথে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার হলরুমে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ বিসিকের ডেপুটি ম্যানেজার সেলিনা রহমান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ক্যামিকেল ব্যবসায়ী তাইজুল ইসলাম,আমির হোসেন। প্রায় অর্ধশত উদ্যোক্তা অংগ্রহণ করেন এই কর্মশালায়। কর্মশালায় ইমিটেশন জুয়েলারি উৎপাদন ও মার্কেটে এর চাহিদা বাড়ানো এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য দেশের উল্লেখ্যযোগ্য বাজার দখল করে আছে মহেশপুর ইমিটেশন জুয়েলারি। এই উপজেলায় প্রায় ৬/৭ হাজার শ্রমিক কাজ করে এবং প্রায় ২/৩ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে। বক্তারা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইমদাদুল হোসেন।

  • জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঘুগরাগাছি গ্রামে ২১ পারা কোরআনের হাফেজ কিশোর সিহাব হোসেন (১৪) গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।

    নিখোঁজ সিহাব হোসেন ঘুগরাগাছি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর মণ্ডলের ছেলে। সে আন্দুলবাড়ীয়া পারেশ শাহ দরগা মাদরাসার ছাত্র। পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় সিহাব। তবে পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সে মাদরাসায় পৌঁছায়নি।

    এরপর পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সিহাবের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সিহাবের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। সন্তানের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় জিডি করা হয়েছে (জিডি নম্বর-১২০০, তারিখ: ২৫-০৮-২৬)। পরিবারের পক্ষ থেকে সিহাবকে দ্রুত খুঁজে পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

    কেউ সিহাব হোসেনের সন্ধান পেয়ে থাকলে অথবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তার ভাই শিলন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    যোগাযোগ: শিলন হোসেন, মোবাইল: ০১৯৯০৩৬৭৮৩, ০১৭৩৪-৫২৭৪৮২।

  • নড়াইলে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    নড়াইলে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফির ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জি এম মাশরাফিকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সম্প্রতি লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফির ইয়াবা সেবনের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাছপালাবেষ্টিত একটি নির্জন স্থানে বসে ইয়াবা সেবন করছেন ছাত্রদল নেতা মাশরাফি। তবে কোথায় বসে ইয়াবা সেবন করছেন, তা জানা যায়নি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়লে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    এ ব্যাপারে ছাত্রদল নেতা জি এম মাশরাফির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে-‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নড়াইল জেলা শাখার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফিকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

    নড়াইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সনি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল এবং সদস্য সচিব মামুন গাজী এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

  • জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরর চৌগাচা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াইয়ের স্বীকৃতির পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি যশোর জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম তাঁর হাতে এ শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন।

    চৌগাছা থানার এই সফল কর্মকর্তা মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্য, সন্ত্রাস দমনে দৃঢ় ভূমিকা, চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাসহ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। বলাচলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করেছেন তিনি। নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানায় দায়িত্ব পালনে ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলছেন। তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বটে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম বলেন, সততা, সাহস, কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ,সাংবাদিকবৃন্দ এবং চৌগাছা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের একান্ত সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।

  • বন্ধ হ্যাচারিতে কাগজে রেণু উৎপাদন

    বন্ধ হ্যাচারিতে কাগজে রেণু উৎপাদন

    ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’Ñপ্রবাদটির বাস্তব উদাহরণ যেন ঝিনাইদহের শৈলকূপা মিনি মৎস্য হ্যাচারি। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হ্যাচারিটির রেণু উৎপাদন কার্যক্রম। অথচ সরকারি নথিতে চলতি বছরও সেখানে ৩৭ কেজি রেণু উৎপাদনের তথ্য দেখানো হয়েছে। এ বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে হ্যাচারিটির বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে হ্যাচারিটিতে কোনো উৎপাদন কার্যক্রমের দেখা মেলেনি।


    মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে শৈলকূপা উপজেলা শহরের কোর্টপাড়ায় নির্মাণ করা হয় মিনি মৎস্য হ্যাচারিটি। দীর্ঘদিন অচল থাকায় বর্তমানে স্থাপনাটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হ্যাচারির অফিস কক্ষেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন দুই বছর আগে অবসরে যাওয়া এক কর্মচারী।
    স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে হ্যাচারিটিতে কোনো রেণু উৎপাদন হয়নি। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর সেখানে ৩৭ কেজি রেণু উৎপাদন হয়েছে। এর বিপরীতে খরচ দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ফলে সরকারি নথিতে দেখানো উৎপাদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।


    স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হ্যাচারিতে কোনো উৎপাদন কার্যক্রম আমরা দেখতে পাইনি। হ্যাচারিটি চালু হলে এলাকার মাছচাষিরা উপকৃত হতেন। কিন্তু এতদিন বন্ধ থাকার পরও যদি সরকারি কাগজে উৎপাদন দেখানো হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।’


    আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাচারিটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত উৎপাদন হলে এখানে কর্মচাঞ্চল্য থাকার কথা। অথচ বাস্তবে তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। সরকারি অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।’
    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে হ্যাচারিটির সংস্কার, শ্রমিক মজুরি, মৎস্যখাদ্য, কম্পিউটার সামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব অর্থ কীভাবে এবং কোথায় ব্যয় করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


    স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে উৎপাদন কার্যক্রম না থাকলেও কাগজপত্রে উৎপাদন দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ঘটনা ঘটছে। তারা হ্যাচারিটির বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
    ঝিনাইদহ সিপিবির সভাপতি স্বপন বাগচি বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। কোনো প্রকল্প কার্যকর না থাকলে সেখানে বছরের পর বছর অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। হ্যাচারিটির বরাদ্দ, ব্যয় এবং কাগজে দেখানো রেণু উৎপাদনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন।’


    এদিকে সরকারি নথিতে রেণু উৎপাদনের তথ্য থাকার বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ‘হ্যাচারিটিতে নতুন করে রেণু উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তবে গত কয়েক বছরে হ্যাচারিটির জন্য কী পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে এবং কীভাবে তা ব্যয় হয়েছেÑএ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।


    মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে নির্মাণের পর হ্যাচারিটির কার্যক্রম ১৯৮৬ সালের দিকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৫ সালে মৎস্য বিভাগ আবারও কিছুদিনের জন্য রেণু উৎপাদন কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাবে সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে হ্যাচারিটির সব কার্যক্রম।


    একদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কোনো উৎপাদন কার্যক্রম নেই, অন্যদিকে সরকারি নথিতে রেণু উৎপাদনের তথ্য এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দÑএমন পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হ্যাচারিটির গত কয়েক বছরের বরাদ্দ, ব্যয় ও কাগজে দেখানো রেণু উৎপাদনের তথ্য তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে হাজার টাকা

    মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে হাজার টাকা

    মাঠজুড়ে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার ব্যস্ততা। কোথাও আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে, কোথাও হাটে উঠছে নতুন পাট। চলতি মৌসুমে নড়াইলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে, আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে। ফলে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময়ই বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাটের দাম মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। বর্তমানে মাঝারি মানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে।

    নড়াইল কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায়। সেখানে ১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। নড়াইল সদরে ৬ হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়ায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

    জেলার বিভিন্ন বিল ও মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে নলদী বাজার, শিয়ারব হাট, মিঠাপুর, লাহুড়িয়া, বড়দিয়া, মাইজপাড়া, লোহাগড়া, কালিয়া ও তুলারামপুরসহ বিভিন্ন হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
    কৃষকেরা বলছেন, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, শ্রমিক, নিড়ানি, কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। ভালো ফলন হলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই খরচ তুলে আনা নিয়ে এখন শঙ্কায় তাঁরা।

    এড়েন্দা মোকামের ফড়িয়া সুজন ও মিরাজ ফকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে যে দরে পাট কেনাবেচা হয়েছে, বর্তমানে তা মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। এখন মাঝারি মানের পাট ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
    নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া গ্রামের কৃষক দীপক রায় বলেন, ‘এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। যদি পাটের বাজারদর ঠিক না থাকে, তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নেই। সরকারের কাছে আবেদন, পাটের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হোক।’

    পাটের আঁশের দাম কমলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষকেরা কিছুটা বাড়তি আয় করছেন। জেলার বিভিন্ন হাটে পাটকাঠিরও কেনাবেচা চলছে।
    কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নড়াইলে পাটকাঠি কিনতে আসছেন। এসব পাটকাঠি পানবরজে ব্যবহার করা হয়।
    ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। তবে পাটের প্রধান উৎপাদিত পণ্য আঁশের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক হিসাবে কৃষকের প্রত্যাশিত আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
    নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মতো উন্নতমানের বীজ, সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়ায় জেলায় পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে।’
    তিনি জানান, পাটের গুণগত মানোন্নয়নে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

    চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চার কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

    থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বেলন-বিলে নুরুজ্জামানের মাছের ঘের এলাকায় অভিযান চালায় চৌগাছা থানার এস আই বেলাল হোসেন। এ সময় পুলিশ ইমরান হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেন তিনি। পরে তার নিকট থেকে ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক ইমরান হোসেন উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের মরহুম মুক্তার হোসেনের ছেলে।

    আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

    এর আগে রাতে চৌগাছা থানা পুলিশের এস আই সলিমুল হকের নেতৃত্বে উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সড়কের বকুলতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফাহিম হোসেন ওরফে আবু তালেবকে (২৭) আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক ফাহিম হোসেন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পৌর শহরের কুটিপাড়া মোড় এলাকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের পাতিবিলা গ্রামের উত্তর পাড়ার তাহাজ্জেল বিশ্বাসের ছেলে সোহান হোসেন দয়াল (২২) ও পৌর শহরের কুঠিপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে নাহিদ হাসানকে (৩০) আটক করা হয়। পরে তাদের নিকট থেকে ৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুইজনের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত একটি মামলা করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মাদক মামলা করা হয়েছে। সোমবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন   পলাতক ১ জন ।

    মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন পলাতক ১ জন ।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহ জেলার সম্মানিত জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, মহেশপুর থানার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ২০ (বিশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মহেশপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অপর ০১ জন আসামী কৌশলে পালিয়ে যায়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাতে মহেশপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম এলাকায় গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ১২নং আজমপুর ইউনিয়নের আজমপুর মন্ডলপাড়া এলাকায় মহেশপুর-জামতলা পাকা রাস্তার উপর কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে থানা পুলিশের টিম রাত আনুমানিক ৮:১৫ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

    এ সময় পুলিশ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ১। মোঃ আসিফ (২০), পিতা-রবিউল ইসলাম, সাং-আজমপুর, থানা-মহেশপুরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তবে অপর আসামী ২। মোঃ রানা (২৫), পিতা-হাবিবুর রহমান, সাং-আজমপুর (খাঁ পাড়া) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীগণের সম্মুখে ধৃত আসামী আসিফ-এর দেহ তল্লাশী করে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট হতে ২০ (বিশ) পিচ হালকা গোলাপী রঙের অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মহেশপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৩৩, তারিখ: ২৪/০৮/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়েছে। ধৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

    মাদক মুক্ত জেলা গড়ার লক্ষ্যে মহেশপুর থানা পুলিশের এই ধরণের জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সভা

    মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সভা

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ( IUGIP) এর আওতায় পৌরসভার প্লান( MP) প্রণয়নের লক্ষ্যেপরামর্শ সভা-৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে মহেশপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনসভা কক্ষে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই পরামর্শকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মহেশপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। মহেশপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোঃ মামুন হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পৌর এলাকার রাস্তা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ,

    বাস টার্মিনাল সহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। আলোচনায়, পৌরসভার বর্তমান অবকাঠামোর অবস্থা, নাগরিকদের চাহিদা এবং ভবিষ্যত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ও বাস্তব সম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জলাবদ্ধতা নিরশনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে মহেশপুর পৌরসভা কে আরো আধুনিক পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পৌরসভার প্লান পরিকল্পনা করা উচিত। উক্ত পরামর্শ সভায় পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগন কোন অংশ নেন। পরামর্শ সভায় উঠে আসা বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের মতামত ও পরিকল্পনা ,ভবিষ্যৎ পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

  • জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দুটি সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ইলিশ মাছ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অন্তর্গত জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৬৩/২-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেদিনীপুর গ্রামের কদর আলীর বাঁশবাগানে নায়েব সুবেদার মো: লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি।

    অন্যদিকে, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবি। সীমান্ত পিলার ৬৮/১-এস থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বড় মিয়ার আমবাগানে সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায়ও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা মো: জাহিদুল আলম ঝুনু বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ২২/৮/২০২৬ইং।

    লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান রোববার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন—উপজেলার করফা গ্রামের সিরু মুন্সীর ছেলে বাবুল মুন্সী, গিলাতলা গ্রামের কাদের মোল্যার ছেলে রিয়াজুল মেম্বর, কাশিপুর গ্রামের মান্নান খানের ছেলে তরিকুল খান, বয়রা গ্রামের এমদাদ কাজীর ছেলে ওহিদ কাজী, পদ্মবিলা গ্রামের রফিকুল শেখের ছেলে রাহুল শেখ, ঈশানগাতী গ্রামের মান্নাফ শেখের ছেলে ফরিদ মেম্বর, গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ইউনুস শেখের ছেলে সদর উদ্দিন শামীম ও তার ভাই সগীর উদ্দিন সনেট, উলা গ্রামের ছাত্তার শেখের ছেলে মশিয়ার রহমান শেখ, বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে আ: কাদের শেখ, গোপীনাথপুর গ্রামের আজিমউদ্দিন শিকদারের ছেলে বাবু শিকদার, একই গ্রামের বক্কার শেখের ছেলে পলাশ শেখ, লাহুড়িয়া ডহরপাড়ার বাঁশি মোল্যার ছেলে সজীব রাজ, ইতনার ইসমাইল শেখের ছেলে ইসলাম শেখ, একই গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে সুহাস শেখ, ধলইতলা গ্রামের জলিল গাজীর ছেলে ওহিদুল গাজী, একই গ্রামের ধলু শেখের ছেলে খায়রুল শেখসহ আরো অজ্ঞাত ২০-২৫ জন।

    পুলিশ ও দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত আসামিরাসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের সদস্য। ২১ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে উল্লেখিত আসামিরা লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামের মশিয়ার জমাদ্দারের বাড়ির অদূরে চাচই-সিডি বাজার সড়কে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। পরবর্তীতে ওই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেসহ অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মিথ্যা-অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে জনগণের সামনে অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, দায়েরকৃত মামলার আসামি শহরের গোপীনাথপুর গ্রামের মরহুম ইউনুস শেখের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা শেখ সগীর উদ্দিন সনেট (২৮) ও জয়পুর ইউনিয়নের বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আ. কাদের শেখকে (৩১) শনিবার শেষরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

  • চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সচেতনতামূলক প্রচারণা

    চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সচেতনতামূলক প্রচারণা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং পুশইন প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (২৩ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসাথে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের বিজিবির সাথে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

    প্রচারকালে স্থানীয় জনগণকে অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে নিজেরা কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) খবর দিতে বলা হয়।

    এছাড়া পুশইনের শিকার হয়ে কোনো ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    ৬ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

    কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারের বাদুরগাছা গ্রামে গরুচোর সন্দেহে হাবিব নামে এক ব্যক্তিকে উল্টো ঝুলিয়ে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলাতেই দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন বাদুরগাছা গ্রামের গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন। এতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    অপর মামলাটি করেছেন গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই যশোর শহরের আরাপপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ মামলায়ও দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুল কালাম আজাদকে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরির অভিযোগে হাবিব ও সুমনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের হাত-পা বেঁধে একটি বাঁশের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন সুমন।

    খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাবিবের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সময় মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মামলা ও তদন্তের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গণপিটুনির ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • কোটচাঁদপুরে ভাইপোর হাতে চাচা নিহত

    কোটচাঁদপুরে ভাইপোর হাতে চাচা নিহত

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের দা-এর কোপে মো. তবিবর রহমান (৪৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
    রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তবিবর রহমান ওই গ্রামের নবী ছদ্দীন মণ্ডলের ছেলে।
    স্থানীয়রা জানান, সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তবিবর রহমান তার চাচি হাসিনা বেগমকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসিনা বেগমের স্বামী উজির মণ্ডল (৫৫) ও তার আত্মীয় শাকিল (৩২) তবিবর রহমানকে দা দিয়ে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
    খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
    অভিযুক্ত উজির মণ্ডল মল্লিকপুর গ্রামের মেরেজ মণ্ডলের ছেলে এবং শাকিল একই গ্রামের গফুর মণ্ডলের ছেলে।
    এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

  • চৌগাছায় শিক্ষক  সমিতির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় শিক্ষক  সমিতির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি জিএমএ মুনিব, চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম বজলুর রশিদ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাটগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তবিবর রহমান, সমিতির সাবেক সভাপতি ও পুড়াহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

    সাধারণ সভায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষকদের বিরাট ভুমিকা রয়েছে। শিক্ষকরা যদী তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন তাহলে দেশ ও জাতি দ্রুত উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহন করতে পারবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান।

  • মাদক কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কোটচাঁদপুরে জোরদার হবে পুলিশের অভিযান

    মাদক কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কোটচাঁদপুরে জোরদার হবে পুলিশের অভিযান

    মোঃ খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উপজেলাকে শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাদ রহমান।

    গত রাত ৮টার দিকে থানার ওসির কক্ষে স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ওসি আজাদ রহমান বলেন, কোটচাঁদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার ও চোরাচালান, কিশোর গ্যাং এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে

    এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এসবের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু পুলিশি তৎপরতায় একটি উপজেলাকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোটচাঁদপুরের কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

    মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা কোটচাঁদপুরের মাদক সমস্যা, কিশোর গ্যাং, সামাজিক অবক্ষয় ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সভায় কোটচাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে আবেগঘন পরিবেশে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু এবং সাংবাদিক ফারুক আহমেদ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, গাংনীতে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও আনোয়ার হোসেন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনসেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা ও জনবান্ধব আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বদলিজনিত কারণে তিনি গাংনী ছাড়লেও তাঁর কর্মময় সময়ের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

    বক্তারা তাঁর নতুন কর্মস্থলের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ভবিষ্যতেও তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    এ সময় গাংনীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে  দুইটি হত্যা

    এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা বালুর মাঠের কাছে পরপর এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। নগরীর টুটপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি গ্রেফতারের পর র‌্যারেব কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

    এর আগে গত শুক্রবার গোপালগঞ্জ জেলার মাঝিগাতী বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সাগর আহম্মেদ নামে সাইফির আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাগর আহমেদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল, শটগানের এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘নগরীর টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী বাহিনী। টুটপাড়ার সন্ত্রাসী সাইফি গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির হয়ে কাজ করে। অপরদিকে রফিক নগরীর অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে ওই এলাকায় মাদকের কারবার করে। এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।’

    তিনি বলেন, “গত ১৯ আগস্ট নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক মো: মঞ্জুরুল ইসলাম ও মো: নাজমুল ইসলামকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। তদন্তের একপর্যায়ে সন্ত্রাসী আলমিন হাসান সাইফি ও তার সন্ত্রাসী দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী রাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। নিহত নাজমুল তার দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল প্রতিপক্ষ ‘রোহান পলাশ’ গ্রুপের সাথে ছিল।”

    তিনি জানান, ‘সাইফির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার দলের সদস্য নাজমুলকে সন্ত্রাসী রফিক আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাইফি ও তার দলের ১৫/১৬ জন প্রতিশোধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় গিয়ে প্রতিপক্ষের মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে তাকে তার বাবার সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।’

    তিনি বলেন, ‘ওই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিরাদেরকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

  • গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    শনিবার (২২ আগস্ট) গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু এবং সাংবাদিক ফারুক আহমেদ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, গাংনীতে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও আনোয়ার হোসেন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনসেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা ও জনবান্ধব আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বদলিজনিত কারণে তিনি গাংনী ছাড়লেও তাঁর কর্মময় সময়ের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

    বক্তারা তাঁর নতুন কর্মস্থলের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ভবিষ্যতেও তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    এ সময় গাংনীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মেহেরপুর শহরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী নিহত

    মেহেরপুর শহরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুর শহরের মানিক টাওয়ারের সামনে নছিমন ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রোকেয়া খাতুন (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রোকেয়া খাতুন মেহেরপুর শহরের নতুনপাড়া এলাকার আবু মন্ডলের স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিক টাওয়ারের সামনে নছিমনের সাথে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নসিমনের যাত্রী রোকেযা খাতুন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কর্মকর্তা হুমায়ুন বলেন, ‘পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করছে। এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে এজেন্ট মাস্টারসহ গ্রেপ্তার ৯

    চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে এজেন্ট মাস্টারসহ গ্রেপ্তার ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে একটি চারতলা ভবনের আন্ডার গ্রাউন্ডে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে। দিনব্যাপী অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের বিল্ডিং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াচুব গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মোঃ আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জুনায়েদকে (২৩) অনলাইনে জুয়া খেলার সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিকাটার ওই ভবনে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম পাওয়া গেছে ও আটক করেছে তারা হলেন হাতিকাটা গ্রামের হাসিবুল এর ছেলে মোঃ রাকিব (২৪) আঃ রহমান এর ছেলে মোঃ আলভী (২৩),
    মোঃ মোস্তাফিজুর এর ছেলে বাধন (২৫), আলী হোসেন জোয়ার্দার এর ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন (৩০)

    মোঃ আল আমিন এর ছেলে মোঃ নাফি (১৮) ও কোটমোড় এলাকার আলী কদর এর ছেলে মোঃ রিফাত (১৯),এবং পলাশপাড়া এলাকার নাজের আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল (২৪) তাদের সবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে।

    স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডে ’-এর আদলে একটি নির্যাতন কক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করে বেশ কয়েক মাস ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

    তাদের দাবি, সেখানে মানুষকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করা হতো। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা অনলাইন জুয়া ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    তবে দুই যুবককে পরিকল্পিত ভাবে আটকে রেখে নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে , মাদক কেনাবেচা ও মাদক সেবনের অভিযোগ এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনসহ (৬০) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে ৬ আগস্ট দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি জয়রামপুর কলোনীপাড়ার মৃত রহিম বক্সের ছেলে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনকে ২১ আগস্ট ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে জয়রামপুর কলোনীপাড়া এলাকার পাকা সড়ক থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ছাড়া ২৮ জুলাই দায়ের করা অপর একটি মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হুদাপাড়ার মৃত আনসার আলীর ছেলে মো: ইয়াসিন আলী ওরফে কালুকে (৩৪) ২১ আগস্ট রাত ২টা ১৫ মিনিটে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং একই মামলার আরেক আসামি জয়রামপুর মালিথাপাড়ার মো: বিপ্লবকে (২২) ২০ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা

    চুয়াডাঙ্গায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে এক মুদিদোকানি ও বিকাশ এজেন্টকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়া এবং পরবর্তীতে আরো এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।

    আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়-সাতজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: কাওছার আলী।

    অভিযুক্তরা হলেন—তপু, তিতাস, সজল, মুন্না, ইকবাল, সজীব ও আশা। ভুক্তভোগী কাওছার আলী সুমিরদিয়া ক্লাবপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় নীলার মোড়ে মুদি ও বিকাশ এজেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্ত তিতাস ও আশা ইয়াবা সেবনের কথা বলে কাওছারের ছোট ভাই সুমনের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। সুমন বিষয়টি তার ভাইকে জানালে অভিযুক্তরা কাওছারের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট সকালে অভিযুক্ত তপু মোবাইল ফোনে কল করে কাওছারের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কাওছার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

    একই দিন দুপুরে তপু, তিতাস ও সজল দোকানে এসে ড্রয়ার থেকে জোরপূর্বক ৪০০ টাকা নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে আবারো আসবেন বলে হুমকি দেন। এরপর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আশা দোকানে এসে টাকার জন্য তাগিদ দেন এবং রাতে তপু ফোনে পুনরায় টাকা চান।

    রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাওছার দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিলে তপু ও তিতাস এসে তাকে মারধর করেন এবং জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে কেদারগঞ্জ আদর্শ স্কুলের মাঠে নিয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়, স্কুলের নৈশপ্রহরী সাগরের সহযোগিতায় স্কুলের গেট খুলে ভেতরে নিয়ে কাওছারকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সেখানে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১৪ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

    অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নয়তো এক লাখ টাকার স্ট্যাম্প সই করে দিতে হবে। তা না করলে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা থেকে ৮ আগস্ট নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র আমানুল ইসলাম আরিফের (১০) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়েছে।

    নিখোঁজ আরিফ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার জিলবুনিয়া গ্রামের মরহুম ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র।

    ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকুরিরত নিখোঁজ আরিফের মা আরিফা বেগম জানান, তার ছেলে আমানুল ইসলাম আরিফ ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ৮ আগষ্ট সকালে আরিফকে মাদরাসায় পাঠিয়ে তিনি গার্মেন্টেসে চলে যান। এরপর থেকে তার ছেলে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মাদরাসা থেকে জানানো হয়েছে সেদিন আরিফ মাদরাসায় যায়নি।

    নিখোঁজ আরিফের নানি মিনারা বেগম জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার নাতির কোনো সন্ধান মেলেনি।

    এ বিষয়ে আরিফের মা আরিফা বেগম গত ১১ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি জিডি করেছেন।

  • বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে নববধূকে ঘরে তুলেছিলেন আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২)। শুক্রবার ছিল বৌভাতের আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ আর স্থায়ী হলো না। গভীর রাতে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আনাসের।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাসের সাথে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এ জন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল রাত পর্যন্ত।

    আনাসও সেখানে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছিলেন। রাত ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মিলন হোসেন বলেন, ‘স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।’

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

  • গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে অবৈধভাবে পাচারকালে ২০ বস্তা সারসহ একটি অটোভ্যান আটক করেছে স্থানীয় কৃষকরা। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সারগুলো উদ্ধার করে এবং অটোভ্যান চালককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে উদ্ধার করা সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধানখোলা বাজার থেকে আজান যাওয়ার পথে ধানখোলা ইউনিয়নের যুগিন্দা বাজার থেকে সারগুলো উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি গাংনী উপজেলায় সারের সঙ্কট দেখা দেয়ায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সার পাচারের খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা যুগিন্দা বাজারে সারবোঝাই একটি অটোভ্যান আটকিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২০ বস্তা সার উদ্ধার করেন। এ সময় অবৈধভাবে সার পরিবহনের অভিযোগে অটোভ্যানচালক শাহাবুল ইসলামকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। অটোভ্যান চালক থেকে আদায় করা জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

    এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দের সার যেন কোনোভাবেই অন্যত্র পাচার না হয় এবং নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

  • সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলের আগুনে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার বাবা-মা ও আট বছরের মেয়ের সাথে দেখা করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে যান। এ সময় মুফতি আমীর হামজা দেবাশীষ দত্তের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের রেখে যাওয়া একমাত্র কন্যাকে স্নেহের মমতায় জড়িয়ে ধরেন। শান্তনা দেন তাকে।

    এ সময় মেয়েটিকে দেখাশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারেও মুফতি আমীর হামজা কথা বলেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের খোঁজ খবর নেন তিনি। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দেখে আসলাম সাক্ষাৎ করে আসলাম। আমাদের সরকারি যেটুকু সাহায্য আছে আমি দেখব। ব্যক্তিগতভাবে মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে মেয়েটির লেখাপড়ার দায়িত্ব যতটুকু পারা যায় আমরা সর্বোচ্চটা দেখছি। উনাদের পারিবারিকভাবে আমি মাঝে মাঝে খোঁজখবর নেব আমার পিএ কে দিয়ে, আমার যারা পার্সোনাল আছে তাদেরকে দিয়ে। আমরা তো দলমত জাতি-ধর্ম-বর্ণ দেখি না। আল্লাহ আমাদের বের করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। সুতরাং উনাদের কল্যাণে যতটুকু লাগানো যায় চেষ্টা করব।

    তিনি আরও বলেন, মেয়েটার দায়িত্ব ইনশাল্লাহ দেখছি। দোয়া করেন, উনার জন্য যেন কিছু করতে পারি। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে খুব খারাপ লাগছে। মানুষের মরণ আজ হোক কাল হোক বিদায় তো নিতেই হবে। মেয়েটা তো অসহায় হয়ে গেল একেবারে। আমি মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে যতদূর এখানে পড়া আছে, পড়ার ব্যবস্থা করব। মেয়েটির পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

    প্রসঙ্গত, বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে নিহত হন নয়জন। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার এই পরিবারের চারজন মারা যান।

    কুষ্টিয়া একই পরিবারের চারজন হলেন- কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীসের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।

    দৈনিক সম্পাদকীয় কলাম

    অপরদিকে জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী এনামুল হকসহ জেলা নেতৃবৃন্দও তার বাড়িতে ছুটে যান। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সুরুজ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আংদিয়া চড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সুরুজকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমের ছোট ভাই আলম ও অনলাইন জুয়ার ডিলার তপুর কাছে কমিশনের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আলমের সঙ্গে তার ভাতিজার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভাতিজা পাওনা টাকা দাবি করলে আলম তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তপু গুলি চালালে সুরুজ গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

    মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই জুয়ার টাকাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

  • যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা ও যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক লোকসমাজের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক হানিফ ডাকুয়াকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যশোরের সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে অবিলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    হানিফ ডাকুয়া অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাজী রুহুল আমিন (৬৮), পিতা-মৃত তফসির উদ্দিন বিশ্বাস, সাং-নাজির শংকরপুর, বর্তমান ঠিকানা-রেল রোডের শাহানাজ হোটেল, কোতোয়ালী থানা, যশোর তাকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জীবননাশের হুমকি দেন। হুমকি দেওয়ার ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ ঘটনায় হানিফ ডাকুয়া গত ১৮ আগস্ট যশোর কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর-১৬১৬। তিনি জানান, হুমকির পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

    এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন নয়, বরং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

    অপর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার সভাপতি গোপীনাথ দাস ও সাধারণ সম্পাদক এম আর খান মিলন ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, একজন সাংবাদিককে এভাবে মোবাইল ফোনে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

    হানিফ ডাকুয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা ও যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ‘ডাকুয়া রিয়েল এস্টেট সেল লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী।

    অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোর্স

    সাংবাদিক মহল বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    তারা হানিফ ডাকুয়া ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল কৃষকের লাশ

    চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল কৃষকের লাশ

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর মো. মফিজুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের হরিন্দীয়া ঝামাঘাটা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মফিজুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন মফিজুল।

    এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

    বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মফিজুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

    খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, চার দিন নিখোঁজ থাকা মফিজুল ইসলামের লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

    মফিজুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে ২৯ পাখি হত্যা, বন বিভাগের মামলা

    চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে ২৯ পাখি হত্যা, বন বিভাগের মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিষটোপ দিয়ে ২৯টি পাখি হত্যার অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করা হয়।

    নিহত পাখিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ক্ষতি ধরা হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকার বেশি।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট রাতে উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমিতে বীজের সাথে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে বিষাক্ত বীজ খেয়ে ২৪টি তিলা ঘুঘু, তিনটি চড়ুই ও দু’টি কবুতর মারা যায়। খবর পেয়ে ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলমের নেতৃত্বে অভিযানে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানকালে মূল অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান পালিয়ে গেলেও তার ছেলে মো: রাজন উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাখি শিকারে সহায়তার কথা স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় ও ঘটনাস্থল থেকে বিষাক্ত বীজ ও মৃত পাখি উদ্ধার করে আলামতের জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়।

    পরে দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    তিনি জানান, নিহত পাখিগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য পাঁচ হাজার ২১০ টাকা হলেও পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা। বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও অবৈধ শিকার রোধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • চৌগাছায় ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

    চৌগাছায় ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৭৪০টি পদের মধ্যে ৮৩টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। শিক্ষকরা জানান, ফিডিং কার্যক্রম না থাকায় টিফিনের পর অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৫ হাজার ৯৯৩ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৩৫ জন উপবৃত্তির আওতাভুক্ত। গত ছয় মাসে উপবৃত্তি পেয়েছে ১৭ হাজার ২৩৫ জন।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর কার্যালয়েও জনবল সংকট রয়েছে। পাঁচটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিনজন। এছাড়া উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে। এই জনবল দিয়ে ১৩৯টি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা কঠিন বলে জানান তিনি।

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    যশোরের চৌগাছায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। সভায় উপজেলার গত এক মাসের আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জি,এম,এ, মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুজ্জামান, মাষ্টার কামাল আহমেদ, সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন, বিজিবির সুবেদার শরিফ কবীর আহমেদ, চৌগাছা উপজেলা হিন্দু ফ্রন্টের গোবিন্দ কুমার রাহা, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সেক্রেটারী আজিজুর রহমান প্রমুখ।

  • ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

    ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩টি ছোট-বড় দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফায়ার সার্ভিস, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে ১৩টি দোকান এবং দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ, মালামাল ও জিনিসপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

    এসব দোকানের মধ্যে দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি ভাতের হোটেল, দুটি মুদি দোকান, ১টি ফাস্টফুডের দোকান ও অন্যান্য খাবারের দোকান ছিল।

    ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার আরিফ শেখ, মো: বক্কার, নিমাই, রূপ সাহাসহ অন্যান্যরা জানান, তারা ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে দোকানে এসে দেখেন সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো: শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

  • কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড : কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

    কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড : কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ অবাসিক হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে বহুতল ওই হোটেলটিতে আগুন লাগে এবং হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও নাগরিক টিভি কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা শাম্মী (৩৬), ছেলে স্বর্ণশীষ (২) এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৮)।

    কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

    সাংবাদিক দেবাশীষের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার চেয়ারম্যান গলিতে আর শ্বশুরের বাড়ি থানাপাড়ায়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেবাশীষ দত্ত গত ৩ আগস্ট ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে যান। স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে গত ১৮ আগস্ট বিমানযোগে কলকাতায় এসে ওই হোটেলে ওঠেন। ১৯ আগস্ট তাদের কুষ্টিয়ায় ফেরার কথা ছিল।

    তার ৬ বছরের এক মেয়ে রয়েছে, যাকে বাংলাদেশে দাদির কাছে রেখে গিয়েছিল।

    দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। দেবাশীষের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    দুপুরে এ খবর কুষ্টিয়ার সংবাদকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সকলে শোকে কাতর হয়ে পড়েন। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর আকরাম হোসেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এ দীর্ঘ দিন কর্মরত ছিলেন। মেয়ের অসুস্থতায় মেয়েকে নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য তাদের সঙ্গী হয়েছিলেন।

    দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের সবাই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে পুরো পরিবারের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।

  • চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ, ভারতীয় নাগরিক ও দালালসহ আটক ৭

    চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ, ভারতীয় নাগরিক ও দালালসহ আটক ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ভারতীয় এক নাগরিকসহ মোট সাতজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ। এর মধ্যে পাঁচজন সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছেন এবং অপর দু’জন তাদেরকে সহযোগিতাকারী স্থানীয় দালাল বলে জানা গেছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বেনীপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাদের আটক করে জীবননগর থানা পুলিশ।

    আটককৃতদের মধ্যে চার বাংলাদেশী নাগরিক হলেন—বাগেরহাটের শরণখোলার আব্দুস শুকুর খান, সিলেটের শারমিন আক্তার রুমি ও হামিদা এবং চাঁদপুরের নয়ন। আটক অপর ব্যক্তি নিয়ান ভারতের কলকাতার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এ ছাড়া সীমান্ত পারাপারে সহায়তার অভিযোগে আটক করা হয়েছে দুই স্থানীয় দালাল হাসিবুল ও আসমাউলকে।

    আটককৃত ব্যক্তিরা জানায়, তারা কাজের সন্ধানে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং ক্যাম্পে রেখে পরবর্তীতে বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয় (পুশইন করে)।

    সীমান্ত পার হয়ে জীবননগর শহরের দিকে আসার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে তারা তাদের গতিরোধ করে আটক করেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জন সহায়তাকারীসহ মোট সাতজনকে থানায় নিয়ে যায়।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • নড়াইলে অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে একব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মশাঘুনি গ্রামের নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে (৭১) অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপাশা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করে জানান, নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮) ও ইমরানসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন তাকে (নাজিম) অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। গত ১২ আগস্ট (বুধবার) বিকেল ৫টার দিকে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে তারা অপহরণ করেন বলে অভিযোগ তার।

    নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি মোটরসাইকেলে লোহাগড়া উপজেলা থেকে বের হওয়ার সময় পরিকল্পিত ভাবে মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন তাকে টানা-হেচড়া ও কিল-ঘুষি মেরে উপজেলার সামনে রাস্তার উত্তর পাশে একটি ঘরে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিনের ছেলে সৌরভ দেওয়ান এবং আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে তার (নাজিম উদ্দিন) মুক্তিপণের জন্য মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংক চেকের পাতা চেয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন অভিযুক্তরা।

    এ সময় মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অভিযুক্তরা নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এছাড়া তিনটি একশত টাকার স্ট্যাম্প ও দু’টি অলিখিত ডেমিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাজিম উদ্দিন।

    এরপর নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে সৌরভ বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে (নাজিম) উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া একশত টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দু’টি ডেমি ফেরত দেইনি। ভুক্তভোগীর আশঙ্কা স্ট্যাম্প ও দু’টি ডেমি ফেরত না পেলে অভিযুক্তরা ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র তৈরি করে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের নামে মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনটি স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য কাগজপত্র দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, ভুক্তভোগী নাজিম দেওয়ানের ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা মনিরুজ্জামান মনিকে দেওয়া হয়। দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পর সৌরভকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও সেই টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনি। এরপর গত ২৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে নাজিম দেওয়ানের বাড়িতে এসে অভিযুক্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

    তবে অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা বলেন, নাজিম উদ্দিনকে অপহরণসহ আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। এসব ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত নয়।

    এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, টাকা-পয়সা পাওনা সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঘটনার দিন এ নিয়ে দুইপক্ষের কথাবার্তা চলছিল। তবে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে আটকে রাখার বিষয়টি সরেজমিন গিয়ে দেখতে পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নড়াইলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যুদন্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    নড়াইলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যুদন্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি প্রতিবেশি রবিউল সিকদার রবির (৩৭) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তিন লাখ জরিমানা করেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ আদেশ দেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম। মাত্র নয় কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ফাঁসির আদেশ শুনে দন্ডপ্রাপ্ত রবিউল সিকদার রবি বিমর্ষ ছিলেন। রবি রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি তিনি। জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    এদিকে, রবিউল সিকদার রবির মৃত্যুদন্ডের রায় শুনে আদালতে উপস্থিত শিশু জান্নাতুল মাওয়ার বাবা মফিজুর রহমান ও মা লাবনী খানম সন্তোষ প্রকাশ করে ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকরের কথা বলেন।

    নড়াইল জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু জানান, মাত্র নয় কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, গত ৪ আগস্ট মাত্র ১১ কার্যদিবসে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক অজয় কুমার কুন্ডু। মৃত্যুদন্ডের আদেশে বাদিপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। আশা করছি রায় দ্রুত কার্যকর হবে। এ মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে লিগ্যাল এইড থেকে একজন আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রতিবেশি ও ফুফাতো ভাই রবিউল সিকদারের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর রবি পালিয়ে গেলেও পরেরদিন সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

    এ ঘটনায় ২১ জুলাই জান্নাতুল মাওয়ার বাবা রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল সিকদার রবিকে আসামি করে সদর থানায় মামলার দায়ের করেন।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি রবি একজন দুশ্চরিত্র লম্পট, শিশু ধর্ষণকারী ও খুন জখমকারী। রবি আগে দু’টি বিয়ে করেছিল। চরিত্র খারাপ হওয়ার কারণে তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে।

    ঘটনার দিন গত ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জান্নাতুল মাওয়াকে নিয়ে স্থানীয় রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে বাড়িতে আসেন বাবা মফিজুর রহমান। বাজার থেকে নুডুলস আনার পর জান্নাতুলের মা লাবনী খানম মেয়ের জন্য নুডুলস রান্না করে খাওয়ার জন্য তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। জান্নাতুল মাওয়ার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তার বাবা ও মা আশেপাশে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে রবির টিনশেডের বসতঘরের খাটের উপর থেকে জান্নাতুল মাওয়ার অচেতন শরীর দেখতে পান। তার গোপনাঙ্গ রক্তাক্ত ছিল। উদ্ধার করে মাওয়াকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে, রবির ঘরে ঢোকার আগেই জান্নাতুলের বাবা-মার উপস্থিতি টের পেয়ে রবি তার ঘর থেকে পালিয়ে যায়।

  • মহেশপুরে দুই কিডনি নষ্ট অসহায় সোহাগের পাশে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই

    মহেশপুরে দুই কিডনি নষ্ট অসহায় সোহাগের পাশে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরের কৃতিসন্তান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য এবং ঝিনাইদহ জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই অবসর জীবনে সরাসরি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কার্যক্রমে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে চলেছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সমাজে নানা ধরনের অসঙ্গতি দূর করার লক্ষ্যে তিনি মূল্যবান মতামত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি ৪ নম্বর স্বরূপপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পিপুলবাড়িয়া গ্রামের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া মো. সোহাগের পাশে দাঁড়ান। এ সময় তিনি অসহায় সোহাগের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের খোঁজখবর নেন।

    পিপুলবাড়িয়া গ্রামের সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। প্রথমে তাঁর একটি কিডনি এবং পরবর্তীতে তার প্রভাবে অপর কিডনিটিও নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে সোহাগ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছেন। অসহায় এই যুবকের পাশে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    এ সময় তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র-পীড়িত মানুষগুলোর পাশে প্রত্যেকেরই দাঁড়ানো উচিত। বিশেষ করে যারা অসহায় জীবনযাপন করে অসুস্থ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করেন, তাঁদেরকে সমাজের বিত্তবান লোক ও সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

    উক্ত মানবিক কার্যক্রমে এ সময় স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. হামিদুর রহমান রানা উপস্থিত ছিলেন।

  • নড়াইলের কালিয়ায় ৫ ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    নড়াইলের কালিয়ায় ৫ ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হাচলা গ্রামে আপন পাঁচ ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই গ্রামের মোতালেব হোসেন মোল্যা পাঁচ ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বাবরা হাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রাম বাজারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী হাচলা গ্রামের এনায়েত মোল্যা বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোতালেব হোসেন মোল্যা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার করছেন। এতে আমাদের মান-সম্মান নষ্ট হচ্ছে। এমনকি নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের নাম ভাঙিয়ে ভুক্তভোগী এনায়েত মোল্যা চাঁদাবাজিসহ প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে অপপ্রচার করা হয়েছে। এতে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। সম্মানহানি হচ্ছে। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় ভাবে একাধিকবার মিমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। অবিলম্বে মোতালেব হোসেন মোল্যার অপপ্রচার বন্ধসহ জমি সংক্রান্ত বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।

    এ সময় এনায়েত মোল্যাসহ তার আপন চার ভাই মোতাহের মোল্যা, মোকাদ্দেস মোল্যা, হেমায়েত মোল্যা ও বেলায়েত মোল্যা এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মরফুদ খান, আজাদ হুসাইন, মোহসিন শেখ, মিরাজ খানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঝিনাইদহে ১৫ আগস্টে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

    ঝিনাইদহে ১৫ আগস্টে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৬ নম্বর আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    মামলায় সাবেক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতে কোটচাঁদপুর পৌর এলাকার গাবতলা পাড়ার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজিম হোসেন বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    পরে রাতেই শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যানার দুটি জব্দ করেছে।

    মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ছাত্রলীগ নেতা মো. নাসির উদ্দিন শুভ (৪০), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শেখ শাহিন (২৮), ওবায়দুল হক (২৫), স্বপন গাজী (২৭), মো. রুবায়েত ইসলাম রাহুল (২৭), মো. শরিফুল ইসলাম (৪০), কালাম (৪০), নয়ন আলী (২৩), আকাশ (২২), নাহিদ (২২), মনময় (২৫), ইমন (২২), মো. শাফিন (২৬), ইমন হোসেন ডন (২৭) এবং অপু শেখকে (২৯), আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে ৪টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত উপজেলা কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তার পাশে দুটি ব্যানার টাঙানো হয়। ব্যানারগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমান, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবির পাশাপাশি নাসির উদ্দিন শুভর ছবি ছিল।

    বাদীর অভিযোগ, নাসির উদ্দিন শুভর অর্থায়ন এবং শেখ শাহিনের নির্দেশে অন্য আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ব্যানার দুটি টাঙান। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোটচাঁদপুর মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত ৬নং আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

    কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের ব্যানার টাঙানো, সরকারবিরোধী স্লোগান এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ও হাউলি ইউনিয়নে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দ থেকে পৃথক অনুষ্ঠানে এসব হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিবন্ধীদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. রুহুল আমিন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিনসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারসহ সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবার পেল ৮২ লাখ টাকার অনুদান

    চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবার পেল ৮২ লাখ টাকার অনুদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সহায়তায় চুয়াডাঙ্গায় ২০টি পরিবারকে মোট ৮২ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক হস্তান্তর করেন।

    এ সময় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করে জেলা প্রশাসক বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীদের আরও সতর্ক হতে হবে এবং সড়ক আইন মেনে চলতে হবে। অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি বলেন, দক্ষ চালকের অভাব ও সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত মূল্যবান প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা কমাতে চালক ও যাত্রী উভয়েরই সচেতন ও দক্ষ হওয়া জরুরি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. বি. এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) লিটন বিশ্বাস, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (শহর ও যানবাহন) আমিরুল ইসলাম, জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দিন এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

    বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, অনেক সময় একটি পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক ভিত্তিও নড়বড়ে করে দেয়। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় এবং উপার্জনক্ষম কাউকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    অনুষ্ঠানে ২০টি পরিবারের হাতে ৮২ লাখ টাকার সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।

  • মহেশপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে অনিয়ম, তদন্তের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান। 

    মহেশপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে অনিয়ম, তদন্তের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান। 

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকট এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের মোঃ মাহিনুর রহমান (মাহি) ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

    তিনি লিখিত অভিযোগে দাবী করেন ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। গোপনে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, মেধা ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দলীয়করণ করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যার কারণে স্থানীয় যোগ্য ও বেকার শিক্ষিত যুবরা বাদ পড়েছে। আর তাতে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি বর্তমান অস্বচ্ছ ও ত্রুটিপূর্ণ চূড়ান্ত ফলাফল অবিলম্বে স্থগিত করে সুস্থ নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবী জানান।

  • তিন মাস কাদায় বাঁধা চার মহিষ, উদ্ধার করলেন ইউএনও

    তিন মাস কাদায় বাঁধা চার মহিষ, উদ্ধার করলেন ইউএনও

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    বাড়ির চারপাশ কাদায় সয়লাব। গত তিন মাস সেই কাদার মধ্যে ২৪ ঘণ্টা বাঁধা ছিল আবদুল আলিমের চারটি মহিষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর পেয়ে গতকাল রোববার রাতে মহিষগুলোকে উদ্ধার করলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

    উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের আবদুল আলিমের বাড়িতে গিয়ে মহিষগুলো উদ্ধার করে বাড়ির পাশেই শুকনা জায়গায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন। সেই সঙ্গে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে মহিষগুলো রাখার জন্য ভালো জায়গা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন।

    সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওই পরিবারকে মহিষগুলোর জন্য নিরাপদ জায়গা ও পর্যাপ্ত খাবারের সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে এই প্রাণীগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গোকুলনগর গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে আবদুল আলিম তাঁর চারটি মহিষ বাড়ির পাশে প্রচণ্ড কাদার মধ্যে বেঁধে রাখেন। আগে মহিষগুলো মাঠে চরাতে নিয়ে গেলেও বর্ষা মৌসুমের তিন মাস ধরে তা সম্ভব হচ্ছে না। সারাক্ষণ এই কাদার মধ্যে বাঁধা ছিল, বিষয়টি এলাকার অনেকে মেনে নিতে পারছিলেন না। মহিষগুলোকে কাদা থেকে সরানোর জন্য আবদুল আলিমকে কেউ কেউ অনুরোধ করেছেন। কিন্তু আলিম কোনো ব্যবস্থা নেননি।

    বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানের। তিনি মহিষগুলোর অবস্থার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। তা নজরে আসে মহেশপুরের ইউএনও সাজ্জাদ হোসেনের। পরে গতকাল সন্ধ্যার পর আবদুল আলিমের বাড়িতে ছুটে যান। সঙ্গে নেন পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানকে। কাদায় বন্দিদশা থেকে মহিষ চারটিকে মুক্ত করেন ইউএনও।

    এ সময় বাড়িতে ছিলেন না আবদুল আলিম। তাঁর মা সত্য খাতুন বলেন, ‘আমরা এভাবে প্রাণীগুলোকে কষ্ট না দিয়ে বেচে ফেলতে বলেছিলাম, কিন্তু কথা শোনেনি আলিম। বাড়ির মেয়েরা ভয়ে মহিষগুলোর কাছে যেতে পারেনি, তাই সরানো সম্ভব হচ্ছিল না।’

    পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসান জানান, গ্রামের লোকজনও এই মহিষগুলোর কষ্ট দেখে কষ্ট পেতেন। কিন্তু আবদুল আলিম জীবন্ত প্রাণীগুলোকে এই কাদার মধ্য থেকে বের করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি মহিষগুলোর এই অবস্থা দেখে ফেসবুকে পোস্ট করি। বিষয়টি নজরে এলে গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এসে মহিষগুলোকে কাদা থেকে মুক্ত করেন।’

  • ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার

    ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার

    আফিল গ্রুপের ডিম ১১ টাকা ৭০ পয়সা, কাজী গ্রুপের ১১ টাকা ২১ পয়সা ও পাবনা গ্রুপের ডিমের দাম পিসপ্রতি ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর সঙ্গে পিসপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ পয়সা যোগ করে বিক্রি করছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা, চাঁদ গ্রুপ ১১ টাকা ৭০ পয়সা, মেগা গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা ও সিপি বাংলাদেশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা দামে পিস প্রতি ডিম সরবরাহ করছে।


    যশোরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে ফার্মের ডিমের দাম একলাফে আড়াই টাকা বেড়েছে। ফলে, সস্তার আমিষের উৎস হিসেবে পরিচিত এই পণ্যটিতে দামের কশাঘাত নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ে বাড়তি চাপ ফেলছে।
    সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা উৎপাদন ব্যয়ের একটি হিসাব তুলে ধরে দাম বৃদ্ধিকে সংগতিপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা দিলেও, অপর একটি সরকারি দপ্তর প্রধান ও প্রান্তিক খামারিরা এ মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন।
    তাঁদের অভিযোগ, ফার্মের ডিম উৎপাদনকারী করপোরেট গোষ্ঠী কারসাজি করে দাম বাড়ায়। এ ছাড়া ‘মিডিয়া’ অর্থাৎ খামার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তদের ‘সিন্ডিকেট তৎপরতায়’ ডিমের দাম ওঠানামা বা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।


    ডিম বিপণন ব্যবস্থার ভাষায় মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটকে ‘মিডিয়া’ বলে। ডিম বিপণন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ‘মিডিয়া’ ছাড়া বাজারে সরাসরি ডিম বিক্রি করতে পারেন না খামারির। ফলে পুঁজি-শ্রম বিনিয়োগ ও কষ্ট করে ডিম উৎপাদনকারী প্রান্তিক খামারিরা কখনই নিজেরা দাম নির্ধারণ করতে পারেন না।
    এদিকে ক্রেতারা বলছেন, দামের উত্তাপে অনেকদিন ধরেই গরু-খাসির মাংসের পদ পাতে উঠছে না। একসময়ের সাশ্রয়ী পাঙাশ-তেলাপিয়ার দাম বাড়ায় প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস মাছও চলে গেছে নাগালের বাইরে। এবার কম দামে সহজলভ্য আমিষের উৎস ডিমেও লেগেছে দামের কশাঘাত।


    খামারিরা বলছেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলসহ উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ, পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধপত্রের দাম কিছুটা বাড়ায় অন্যান্য খাতের মতো পোল্ট্রি শিল্পেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় কিছুটা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। তারপরও এত চাপের মধ্যে খামার সচল রাখতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে স্বল্প মুনাফা যোগ করে ডিম বিক্রি করছেন।
    কিন্তু বাজারে খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ‘মিডিয়া’ এক্ষেত্রে কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছে। এতে খামারিরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। আবার খুচরা ভোক্তার ওপরও চাপ পড়ছে।


    খাতটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দিনগুলোর মতো আবারও বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক প্রভাবের বাইরে খুচরা বাজারে ডিমের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের খামারি বিসমিল্লাহ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী সাব্বির হোসেন জানান, লেয়ার ফিড বা পোল্ট্রি ফিডের দাম কেজিতে ২ টাকা ও বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রতিদিন জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় এখন বেশি হচ্ছে।
    সাব্বির হোসেন দাবি করেন, বাজারে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া মিডিয়া (মধ্যস্বত্বভোগী) ডিমপ্রতি ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা লাভ করে। এতে খুচরা পর্যায়ে কয়েক হাত বদল হয়ে ডিমের দাম বেড়ে যায়। এই খামারির ভাষ্য, মিডিয়া ছাড়া বিক্রি করা যায় না। কয়েক হাজার ডিম যানবাহনে বয়ে নিয়ে বাজারে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা নেই বলে এমনটি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে আরও যোগ করেন তিনি।
    এই খামারি আরও জানান, তাঁর খামার থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে ডিম কিনে যাচ্ছেন ফড়িয়ারা। আর সেই ডিম বাজারে ১৩-১৪ টাকায় বিক্রি হলে সেটি অযৌক্তিক দাম বলে মনে করেন তিনি।
    সরেজমিনে যশোর শহরের নিত্যপণ্যের দোকান ঘুরে জানা গেছে, প্রতি পিস ডিম ১২ টাকা ৫০ পয়সা দামে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামীণ বাজারগুলোয় প্রতি পিস ফার্মের ডিম ১৪ টাকাও নেওয়া হচ্ছে বলে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে। এদিকে, শহরের জেল রোডের আড়তগুলোতে ডিমের পাইকারি দাম আকারভেদে ১২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত।
    ডিমের আড়ত ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, আফিল গ্রুপের ডিম ১১ টাকা ৭০ পয়সা, কাজী গ্রুপের ১১ টাকা ২১ পয়সা ও পাবনা গ্রুপের ডিমের দাম পিসপ্রতি ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর সঙ্গে পিসপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ পয়সা যোগ করে বিক্রি করছেন।


    বিসমিল্লাহ ডিম হাউজের মালিক আকরাম হোসেন পাপ্পু ও মায়ের দোয়া ডিম স্টোরের কর্ণধার শেখ কুদ্দুস আলী জানান, সিরাজগঞ্জ গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা, চাঁদ গ্রুপ ১১ টাকা ৭০ পয়সা, মেগা গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা ও সিপি বাংলাদেশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা দামে পিস প্রতি ডিম সরবরাহ করছে। এই দামের সঙ্গে লভ্যাংশ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করবেন।
    জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ডিমের বার্ষিক চাহিদা ৫১ কোটির ওপর। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫৩ কোটি ডিম। এ জেলায় বর্তমানে ১৩০টি লেয়ার মুরগির খামার চালু রয়েছে।
    তবে জেলায় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলেও তার সুফল ভোক্তা পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। বরং উৎপাদন ও খুচরা দামের মধ্যে বড় ব্যবধানের বিষয়টি সামনে এসেছে।
    যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ডিম উৎপাদনকারী একটি মুরগির খাবারের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হয় ৯ টাকা ৮০ পয়সা। খামারের শতভাগ মুরগি ডিম দেয় না। গড়ে ৮০ শতাংশ ডিম দেয়। এছাড়া বাচ্চা কেনা, ওষুধ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও শ্রমিকের খরচ মিলে আরও ১ টাকা ৮৪ পয়সা যোগ হয়। ফলে প্রতিটি ডিমের মোট উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।


    দামের চাপ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন :
    স্বল্পদামের অন্যান্য প্রাণিজ আমিষের মতো ডিমের দাম বৃদ্ধিতে দৈনন্দিন বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা। শহরের বড় বাজারে ডিম ক্রেতা উপশহরের সাজ্জাদ হোসেন জানান, সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। সস্তার পাঙাশ-তেলাপিয়াও নাগালের বাইরে। এবার বাড়ছে ডিমের দর। এতে প্রতিদিনের খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জীবনধারণ করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

    এদিকে, শহরের রেলবাজার এলাকায় আলাপচারিতায় আরেক ক্রেতা গৃহকর্মী জরিনা বেগম বলেন, বাচ্চাদের মাংস-মাছ খাওয়াতে পারি না। ঝোল ভাত খেতে চাইলে আগে ডিম সিদ্ধ করে আলু-ডিমের ঝোল করে দিতাম। সেটা না হলেও একটা ডিম ভাজা দিলে ভাত খেত। দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই ডিমও কেনা কঠিন হয়ে গেল।
    তবে এ ব্যাপারে সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা জানান, ডিমের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পত্রের মাধ্যমে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবগত করেছেন; যাতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা যায়।


    তিনি আরও জানান, ডিম উৎপাদনকারী যশোরের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়ের হিসাবপত্র যাচাই করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। এটা করা গেলে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় ও তাদের নির্ধারিত দামের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা যাবে। ১০ টাকার ডিম হঠাৎ সাড়ে বারো টাকা কেন হলো, সেটি উদঘাটিত হবে। ডিম উৎপাদনে নিয়োজিত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে ডিমের বাজার বেসামাল হচ্ছে বলে আরও যোগ করেন তিনি।

  • কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    মো. খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি:

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা নম্বর-০৮ দায়ের করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম সিরাজুল ইসলাম।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়, হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুর মৃত্যু

    ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়, হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় বিষধর সাপের কামড়ে তানভীর আহমেদ (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শিশু তানভীর মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের রাশিদুল ইসলামের ছেলে।

    পারিবার সূত্রে জানা যায়, শিশু তানভীর রোববার দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘুমিয়েছিল। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সাপের কামড়ের শিকার হয় সে। বিষয়টি পরিবারের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেনি। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    সেখানে সোমবার ভোরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তানভীরের বাবা রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘুমের মধ্যে তানভীরকে সাপে কামড়েছিল, যা আমরা প্রথমে বুঝতেই পারিনি। অবস্থা খারাপের দিকে গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি, কিন্তু ততক্ষণে সে মারা যায়।’

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: গোলাম মোর্শেদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা তাকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

  • চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু, লাশ আনলেন অপর বন্ধু

    চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু, লাশ আনলেন অপর বন্ধু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছে গাজীপুরের দুই বন্ধুর লাশ।

    কলকাতার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। পরে ভারতে সাথে থাকা অপর এক বন্ধু আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৬ আগস্ট রাতে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে লাশ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনেন।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন—গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার মো: হাবিবুর রহমান (৫৮) এবং কালীগঞ্জ এলাকার বিল্লাল মাঝি (৫০)।

    ইমিগ্রেশন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন চিকিৎসার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান হাবিবুর রহমান ও বিল্লাল মাঝি। সেখানে তারা কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত বিল্লাল মাঝি মারা যান। এর পরদিন ১০ আগস্ট রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে স্ট্রোকজনিত জটিলতায় হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।

    দুই বন্ধুর মৃত্যুর পর ভারতে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন সাথে থাকা তাদের অপর বন্ধু মো: আবু নাহিদ (৪৫)।

    পরে গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে লাশ দুটি এসে পৌঁছায়। সেখানে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: তারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সমস্ত আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

  • মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬

    মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ)

    মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। ১৬ই আগস্ট রবিবার সকাল দশটায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ থেকে ১৮ই আগস্ট ২০২৬ জাতীয় মৎস্যপক্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য (ঝিনাইদাহ -৩) মতিয়ার রহমান। জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ এর উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার আনোয়ার হোসেন, উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অফিসার দীন ইসলাম, মহেশপুর উপজেলা বিআরডিবির কর্মকর্তা বাহাউল ইসলাম, মৎস্য অফিসের মোঃ আব্দুল আলিম, ফতেপুর বাওর এর ম্যানেজার মোহাম্মদ রিপন হোসেন, উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী মহেশপুর পৌর শাখার আমির মোঃ নওফেল হোসেন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২-০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।জাতীয় মৎস্যপক্ষ -২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন ,বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হল মহেশপুর কোটচাঁদপুর। প্রধান অতিথি মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, মৎস্য সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে দেশীয় চাহিদা পূরণ করার পরেও বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমরা লাভবান হতে পারি। সংসদ সদস্য একটি পরিসংখ্যান দেন যে, বাংলাদেশে রেনু পোনা উৎপাদনে বলুহর মৎস্য প্রজেক্ট থেকেই ৩৬ শতাংশ রেনু পোনা উৎপাদন হয়। যা দেশের অর্থনীতিতে দারুন ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আমাদের এই এলাকা ভৈরব তিস্তা করতোয়া কপোতাক্ষ নদসহ প্রায় সাতটি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। সুতরাং ,অপার সম্ভাবনামায় এই এলাকাকে কাজে লাগাতে পারলে, এখানে যেমন খাল বিল বা বাওড় প্রচুর পরিমাণে রয়েছে সেই দিক থেকে মৎস্য উৎপাদন সেভাবে আমরা যদি বৃদ্ধি করতে পারি, রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি, তাহলে আমরা যেমন আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারব দেশীয়ভাবে, ঠিক তেমনি অর্থনৈতিকভাবে বিদেশে রপ্তানি করে সমৃদ্ধ হতে পারব। জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভার এক পর্যায়ে মৎস্য উৎপাদন তথা বিপণন , ব্যবসা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের , যারা এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে তাদের মধ্য থেকে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি এমপি মতিয়ার রহমান উদ্যোক্তাদের মধ্যে থেকে ইঞ্জিনিয়ার জহুরুল হককে সম্মাননা পদক প্রদান করেন। ইঞ্জিনিয়ার জহুরুল হক এর বাড়ি কাজীরবেড় ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামে। উদীয়মান এই যুবক তার এলাকাতে মৎস্য উৎপাদন ব্যবসা ও যুবকদের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অর্থনৈতিক বিভিন্ন কাজে অবদান রেখে চলেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদকদ্রব্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদকদ্রব্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১২ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ ও ৩ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে বিজিবি। শনিবার (১৫ই আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার রাজাপুর বিওপির আওতাধীন মানিকপুর সীমান্ত এলাকা হতে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব সিরাপ ও গাঁজা জব্দ করা হয়।

    রবিবার (১৬ আগস্ট ) সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধীন রাজাপুর বিওপির একদল বিজিবি শনিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটের সময় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৭২/৩-এস হতে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের শরিফের পেয়ারা বাগানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানকালে ওই বাগানের ভেতর হতে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয় ১১২ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ ও ৩ কেজি গাঁজা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নায়েব সুবেদার আবুল কালাম আজাদ।

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর রেলস্টেশনের অদূরে ট্রেনে কাটা পড়ে মিনি খাতুন (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মিনি খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার শিয়ালমারী গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে মোমিনপুর রেলস্টেশনে যান মিনি খাতুন। পরে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় রাজশাহী থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের বড় ছেলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, পানি শোধনাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষিতে সার সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা কোর্ট মোড়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি বড় বাজারের হাসান চত্বর এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    সভায় সদর হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পৌর পানি শোধনাগার চালু এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অবৈধ মজুত ও বৈষম্য রোধে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

  • কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ

    কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনুকূলে মঞ্জুরীকৃত ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ পরিমাণ টাকার চেক ক্ষতিগ্রস্তদের স্বজন ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

    বিআরটিএ সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) যুগ্ম সচিব মোছাম্মদ মমতাজ বেগম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ চেক বিতরণ করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ খুলনার উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুর রহমান রফিক, কুষ্টিয়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুবুল আলম ও বিআরটিএ কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক প্রমুখ।

    এবার ৮৩টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ জন নিহতের পরিবারের মাঝে ৫ লাখ টাকা করে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং আহত ২৮টি পরিবারের জন্য ৪২ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত বা অঙ্গহানিদের ৩ লাখ টাকা এবং সামান্য আহতদের ১ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

  • ছাদ কৃষির সফলতায় নিয়মিত পরিচর্যা জরুরী

    ছাদ কৃষির সফলতায় নিয়মিত পরিচর্যা জরুরী

    শহর ও গ্রামে বাড়ির ছাদকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত শাক-সবজি, ফলমূল, মসলা ও ভেষজ উদ্ভিদ উৎপাদন করা সম্ভব। টব, ড্রাম, বেড, বালতি কিংবা বিভিন্ন পাত্রে পরিকল্পিতভাবে ছাদ কৃষি গড়ে তুললে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজার খরচ কমানো যায়। পরিবেশ ঠান্ডা রাখা, অক্সিজেন বাড়ানো ও মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও ছাদ কৃষির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘রানার কৃষি’র নিয়মিত আয়োজনে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

    ছাদ কৃষি হলো বাড়ির ছাদে টব, ড্রাম, বেড বা ট্রেতে শাক-সবজি, ফলমূল, মসলা ও ভেষজ উদ্ভিদের চাষ। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার বাড়ির ছাদেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের কৃষি করা যায়।
    ছাদ কৃষির মাধ্যমে বিষমুক্ত ও তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল পাওয়া যায়। পাশাপাশি পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে, অক্সিজেন বাড়াতে এবং শহরের সবুজায়ন বৃদ্ধি করতে এটি ভূমিকা রাখে। পরিবারের বাজার খরচ কমানোর পাশাপাশি ছাদে গাছের পরিচর্যা মানসিক প্রশান্তিও দিতে পারে। পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও আর্থিক—তিন দিক থেকেই ছাদ কৃষি উপকারী।


    ছাদ প্রস্তুতি ও পাত্র নির্বাচন
    ছাদে বাগান করার আগে সেখানে পানি জমে থাকে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। ছাদে ওয়াটারপ্রুফিং করা থাকলে ভালো। তবে ছাদের ওপর অতিরিক্ত ভার দেওয়া যাবে না। পাত্র ও মাটির ওজনসহ ছাদের ভার বহনক্ষমতা বিবেচনা করে ছাদ কৃষির পরিকল্পনা করতে হবে।
    গাছ লাগানোর জন্য মাটির টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, বালতি ও ফোম বক্স ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি পাত্রের নিচে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। বড় আকারের গাছের জন্য ২০ থেকে ৩০ লিটার ধারণক্ষমতার পাত্র প্রয়োজন হতে পারে।
    মাটি তৈরি
    ছাদ কৃষিতে ভালো ফলনের জন্য উপযোগী মাটির মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। আদর্শ মাটির মিশ্রণে ৫০ শতাংশ দোআঁশ মাটি, ৩০ শতাংশ পচা গোবর বা কম্পোস্ট এবং ২০ শতাংশ বালি বা কোকোপিট ব্যবহার করা যেতে পারে।
    মাটি ঝুরঝুরে ও পানি নিষ্কাশন উপযোগী রাখতে হবে। পাত্রের আকার অনুযায়ী মাটির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং গাছের ধরন অনুযায়ী পাত্র নির্বাচন করতে হবে।
    যেসব ফসল চাষ করা যায়
    ছাদে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, মসলা, ভেষজ ও ফলমূল চাষ করা যায়। শাকের মধ্যে লালশাক, পালং শাক, ধনেপাতা ও লেটুস; সবজির মধ্যে টমেটো, বেগুন, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও ব্রকলি চাষ করা যেতে পারে।
    মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে মরিচ, এলাচ ও আদা এবং ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে তুলসী, মালটা, কাগুজি লেবু, মেহেদী ও নিম লাগানো যায়। ফলমূলের মধ্যে আম, পেয়ারা, ডালিম ও ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের গাছ ছাদে উপযোগী পাত্রে চাষ করা সম্ভব।
    সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা
    ছাদ কৃষিতে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতিদিন অথবা এক দিন পরপর পানি দেওয়া যেতে পারে। তবে আবহাওয়া, গাছের ধরন ও মাটির আর্দ্রতা বিবেচনা করে সেচ দিতে হবে। সকাল অথবা বিকেলে পানি দেওয়া ভালো। অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। পাত্রে পানি জমে থাকলে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
    প্রতি ১৫ দিন পরপর জৈব সার, কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিটি টবে গাছের ধরন ও পাত্রের আকার অনুযায়ী ১ থেকে ২ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। তরল সার বা জীবাণু সার ব্যবহার করলেও ভালো ফলন পাওয়া যায়।
    পোকা ও রোগ দমন
    ছাদ কৃষিতে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে প্রথমে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করা ভালো। নিম তেল ৩ থেকে ৫ মিলিলিটার প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা যায়। পোকা দমনে রসুন ও মরিচের নির্যাসও ব্যবহার করা যেতে পারে।


    মাইটস, লাল মাকড়সহ ক্ষতিকর পোকা দমনে অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করতে হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে এবং পণ্যের লেবেলে দেওয়া মাত্রা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।


    ছাদ কৃষিতে বাড়ির ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পাত্র এমনভাবে স্থাপন করতে হবে, যাতে শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে।
    ছাদ কৃষি শুধু অব্যবহৃত জায়গাকে উৎপাদনশীল করে না; এটি পরিবারের নিরাপদ খাদ্যের উৎস তৈরির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পারিবারিক ব্যয় কমাতে সহায়তা করে। তাই পরিকল্পিতভাবে ছাদ কৃষির সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

  • সমন্বিত খামারে সফল চৌগাছার সবুজ

    সমন্বিত খামারে সফল চৌগাছার সবুজ

    নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার আবুল হাসান সবুজ। মাত্র তিনটি গরু ও ১০টি ছাগল নিয়ে শুরু করা উদ্যোগ এখন ২৯টি গাভী, দুধ উৎপাদন, ঘি, মাছ, ফল, সবজি, হাঁস-মুরগি, জৈব সার ও বায়োগ্যাসের সমন্বিত খামারে রূপ নিয়েছে। এতে নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।


    চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের হাউলি গ্রামের সন্তান আবুল হাসান সবুজ। কর্মজীবনের শুরুতে দেশের ওষুধ ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রতিষ্ঠান রেনেটা বাংলাদেশে পাঁচ বছর চাকরি করেন। সেখানে ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে কৃষিবিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরে নিজেই ডেইরি খামার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
    বর্তমানে তিনি ঝিকরগাছা শহীদ মশিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজের খামার পরিচালনা করছেন তিনি।
    ছোট পরিসর থেকে বড় খামার
    শুরুতে তিনটি গরু ও বিভিন্ন জাতের ১০টি ছাগল নিয়ে খামার শুরু করেন সবুজ। ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন পরিধি। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৯টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি গাভী থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি দুধ উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি।
    খামারের উৎপাদিত দুধ স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি যশোর শহরের বিসমিল্লাহ ডেইরি, আদি ঘোষ ডেইরি, সাতক্ষীরা ঘোষ ডেইরিসহ বিভিন্ন অর্গানিক সুপার শপে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবারে সরাসরি দুধ বিক্রি করেন সবুজ। খামারের দুধ দিয়ে গাওয়া ঘিও তৈরি করা হয়।
    বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গো-খাদ্য ব্যবস্থাপনা
    খামারে গাভীর খাদ্য ও পরিচর্যায় নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করা হয়। সকালে তাজা নেপিয়ার ঘাসের সঙ্গে সুষম খাদ্য, বিকেলে দানাদার খাদ্য এবং রাতে শুকনা খড় দেওয়া হয়।
    গাভীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গোসল করানো হয়। সবুজ জানান, প্রতিদিন খামারের গবাদিপশুর খাদ্যের পেছনে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে দানাদার খাদ্য, ভুসি, খৈল, খড় ও সবুজ ঘাসের খরচ রয়েছে।
    খাদ্য ব্যয় কমাতে এবং সারা বছর সবুজ ঘাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজের তিন বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন তিনি।
    গরুর পাশাপাশি মাছ, ফল ও সবজি
    সবুজের উদ্যোগ শুধু ডেইরি খামারে সীমাবদ্ধ নয়। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জমিতে কলা, ড্রাগন ফল, আম এবং বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজি চাষ করছেন তিনি। পালন করছেন দেশি মুরগি, হাঁস ও কবুতর। বাড়ির পাশের পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছও চাষ করা হচ্ছে।
    খামারের গোবর ও অন্যান্য বর্জ্যও কাজে লাগানো হচ্ছে। এসব বর্জ্য থেকে জৈব সার, ভার্মি কম্পোস্ট ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হয়। বায়োগ্যাস পরিবারের রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। উৎপাদিত জৈব সার ও ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে ফল, সবজি ও ঘাসের জমিতে।
    খামারে কর্মসংস্থান
    সবুজের এই উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আরও দুইজন স্থায়ী শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের একজন মিলন হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে কাজ করি। নিয়মিত বেতন পাওয়ায় পরিবার নিয়ে ভালো আছি। এখানকার কাজের পরিবেশও ভালো। মালিক আমাদের নিজের পরিবারের মতো দেখেন।’
    সবুজের বাবা ওয়াজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ছেলের কঠোর পরিশ্রমে আজ আমরা গর্বিত। ও চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মেধা দিয়ে এই খামার তৈরি করেছে। আজ ওর কারণে পরিবার সচ্ছল হয়েছে, এলাকার মানুষও দুধ পাচ্ছে।’
    সবুজের ছোট ভাই ও পশুচিকিৎসক শাহিনুজ্জামান টনি বলেন, ‘কৃষিবিজ্ঞান ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক জ্ঞান খামারে প্রয়োগ করায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। আমি নিয়মিত গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিই।’
    নিয়মিত দুধ ক্রেতা বাড়ীয়ারী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সবুজ ভাইয়ের খামারের দুধ ভালো। আমরা নিয়মিত এখান থেকে দুধ ও ঘি কিনি।’
    আরও বড় করার পরিকল্পনা
    নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে আবুল হাসান সবুজ বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা থাকলে যেকোনো খাত থেকে সফল হওয়া সম্ভব। আমি খামারটি আরও বড় করতে চাই। এতে আরও বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারব।’
    যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুগ্ধ উৎপাদনে আবুল হাসান সবুজের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ তরুণরা কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে এভাবে এগিয়ে এলে দেশের ডেইরি ও কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।’