কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান (৪৮)। প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করে এরই মধ্যে ১ হাজার ৯৪ কেজি ফলন তুলেছেন তিনি। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লাভের আশাও করছেন এই কৃষক।
উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্থানপাড়া এলাকায় চলতি মৌসুমে করলার আবাদ করেছেন ইমরান। তিনি মো. সফর উদ্দিনের ছেলে।
ইমরান জানান, “এক বিঘা জমিতে এগ্রো ওয়ান লিডার জাতের করলার চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। মালচিংয়ের জন্য জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মাটির আর্দ্রতাও দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের কারণে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এক বিঘা জমিতে তার প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছেন তিনি।”
ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা, রোগবালাই এবং বাড়তি শ্রমিক খরচ কৃষকদের জন্য প্রতিবছরই বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় মালচিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সেচের পানি সাশ্রয় এবং শ্রমিক খরচ কমানো সম্ভব হয়।”
তিনি আরও বলেন, “রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরান প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন।”
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করে রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “ফেরোমন ফাঁদ ও মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলার প্রতি বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। মাহমুদ আল-ইমরানের এক বিঘা জমির করলা আবাদ ইতোমধ্যে লাভজনক ফলন দিয়েছে।”
