খুলনা বিভাগ

  • চৌগাছায় এক কৃষকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

    চৌগাছায় এক কৃষকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

    চৌগাছা প্রিতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে আব্দুল জব্বার (৫০) নামে এক ব্যাক্তিকে দা দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত আব্দুল জব্বার বুন্দলীতলা গ্রামের আব্দুল খালেক বিশ্বাসের ছেলে।

    আহত কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের রমজান আলী তার ছেলে রিংকু (৪২) ও রিপন হোসেন (৩৮) আমার উপর হামলা চালায়।

    এ সময় তারা আমাকে লোহার রড ও দা দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে আমার দুই হাত ভেঙ্গে যায়।

    পরে আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আমার অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন।

    এদিকে আমার প্রতিপক্ষ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিতে পারছিনা। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।

  • মহেশপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা সফর

    মহেশপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা সফর

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন ঝটিকা সফর করেছেন। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং হাসপাতালের জনবল সংকট,তাৎক্ষণিক ভাবে সমাধানের নির্দেশ প্রদান দান করেন।

    রবিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন হঠাৎ ঝটিকা পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি রোগীদের ওয়ার্ডে যান এবং রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে ঔষধের স্টোর,স্টোক রেজিষ্টার, অপারেশন থিয়েটার এবং অফিসের বিভিন্ন রুম ঘুরে ঘুরে দেখেন । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ম্যানেজম্যান্ট ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের অফিস রুমে ডাক্তার ও কর্মচারিদের সাথে মতবিনিময় করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নেলেনা আক্তার নিপা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান হাসপাতালে ডাক্তার,নার্স ও পরিচ্ছন্ন কর্মী সংকট। তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমডিকে ফোন করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত লোকজনের কাছে জনৈক ঠিকাদার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করায় তাৎক্ষণিক টাকা না দেওয়ার নির্দেশ দেন ও ঠিকাদার মনিরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দেন।

    এছাড়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আউটসোর্সিংয়ে যারা এখনো বেতন পায়নি তাদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা ও হাসপাতালের সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন। মহেশপুরের ভৈরবা হাসপাতালটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের নানা প্রকার পরিকল্পনা রয়েছে। তাতে প্রতিটা ইউনিয়নের একটি করে হেলথ সেন্টার চালু করা হবে।

    এছাড়া তিনি আরো বলেন সারাদেশে ২ থেকে আড়াই হাজার বেডের ১০/১২ টি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। যার মধ্যে ২ টি থাকবে মহিলাদের জন্য। আকস্মিক পরিদর্শন কেনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে ডাক্তার অনুপস্থিত থাকেন, সরকারি ঔষধ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে ঔষধ কিনতে হয়। হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা থাকে। এসকল রোধ করার জনই এই আকস্মিক পরিদর্শন করা হচ্ছে।

  • দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

    দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দুপুরের মধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • গাংনীতে র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারি আটক

    গাংনীতে র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারি আটক

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১২। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ৩টি স্মার্টফোন, ৫টি সিমকার্ড এবং নগদ ১০ হাজার ২শত ৮০ টাকা জব্দ করা হয়।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাব-১২ এর সিপিসি-৩, মেহেরপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাংনী থানাধীন রায়পুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মৃত রবিউল হকের ছেলে আনোয়ার (৩৫) এবং একই এলাকার ষোলটাকা ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল হোসেনের ছেলে মো: হাসান (১৯)।

    র‍্যাব জানায়, আনোয়ারের নিজস্ব গরুর খামারের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে 1XBET প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‍্যাব।

    এ ঘটনায় গাংনী থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ এর ১৬, ১৭, ১৯(১) ও ২৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার, পিপিএম স্বাক্ষরিত রাত সাড়ে ৩টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • মহেশপুর সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি নেত্রী নার্গিস সুলতানা দীপার মতবিনিময় সভা।

    মহেশপুর সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি নেত্রী নার্গিস সুলতানা দীপার মতবিনিময় সভা।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস সুলতানা দিপা। শনিবার সকালে মহেশপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে এ মতবিনিময় সভায করা হয়।

    এ সময় নার্গিস সুলতানা বলেন,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার বাবা মহেশপুর উপজেলা বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমি ও আমার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। আজকের এই দিনে প্রয়াত নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

    বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় নারীদেরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। তার প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমান,সহ সভাপতি ইশারত মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবর আলী বাবু, সহ-সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল,হাসান আলী,আলমগীর হোসেন,নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান, এনামুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

    এক প্রশ্নের উত্তরে নার্গিস সুলতানা বলেন দল যেখানে চাইবে আমি সেখানে নির্বাচন করতে আগ্রহী। বিএনপির এই নেত্রী তার উন্নয়ন পরিকল্পনা তথা সমাজ নিয়ে তার ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

  • ছয় মাসে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার রেকর্ড,১৮৯ জন

    ছয় মাসে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার রেকর্ড,১৮৯ জন

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহ জেলায় ২০২৬ সালে ছয় মাসে আত্মহত্যা ১৮৯ জন । এর মধ্যে পুরুষ ৯২ জন আর নারী ৯৭ জন। শনিবার সকালে মানবধিকার সংগঠন আরডিসির মহেশপুর কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আরডিসি নির্বাহী প্রধান মোঃ আব্দুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে জানু থেকে জুন পর্যন্ত গলায় ফাঁস ও বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে ১৮৯ জন । এর মধ্যে পুরুষ ৯২ জন,নারী ৯৭ জন। সির্ভিল সার্জন ও ডিসি অফিসের রেজুলেশন ও অন্যান্য সূত্র পর্যালোচনা করে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় এই বছর গত ৬ মাসে যে আত্মহত্যা হয়েছে এর মধ্যে র্শীষে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা। যার সংখ্যা ৫৯ জন। এদের মধ্যে নারী ২৯ পুরুষ ৩০ জন। ২য় অবস্থানে রয়েছে শৈলকুপা উপজেলা যার সংখ্যা ৪৪। পুরুষ ১৮,নারী ২৬,৩য় অবস্থানে হরিনাকুন্ড যার সংখ্যা ২৫। পুরুষ ১০,নারী ১৫। ৪র্থ স্থানে আছে কোঁটচাদপুর ২১। পুরুষ ১৪, নারী ৭ জন এবং ৫ম আর ৬ষ্ঠ স্থানে আছে কালিগঞ্জ ও মহেশপুর ২০ জন করে। পুরুষ ১২ আর নারী ৮ জন।

    ঝিনাইদাহ জেলা প্রশাসন থেকে আত্মহত্যা প্রতিরোধে নানা ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তার পরও গত বছর থেকে এ বছর ঝিনাইদাহ জেলায় আত্মহত্যার সংখ্যা ( ৬৪ জন ) বেশি। ২০২৫ সালে জানু-জুন পর্যন্ত এর সংখ্যা ছিল ১২৫ জন , পুরুষ ৫৭ ,নারী ৬৮ ।

    ঝিনাইদহ জেলা সির্ভিল সার্জন অফিসার ডাঃ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, এখানকার মানুষ অতি আবেগী,ভৌগোলিক সমস্যা এবং ধৈর্য্য ধারণের ক্ষমাত কম। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আত্মহত্যা রোধে এড্যাভোকেচি সভা, কাউন্সিলিং বাড়ানো, যুব সমাজের অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় করা।

    আরডিসি নির্বাহী প্রধান মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, আত্মহত্যা রোধে সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে। জিও এনজি এর সমন্বয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে পরিচালনা করতে হবে। তিনি আত্মহত্যা রোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান ।

  • কুষ্টিয়ায় আদম ব্যবসায়ীর ছেলেকে  তুলে নিয়েছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত প্রবাসীর স্বজনেরা

    কুষ্টিয়ায় আদম ব্যবসায়ীর ছেলেকে তুলে নিয়েছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত প্রবাসীর স্বজনেরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আদম ব্যবসায়ী জাফর আলীকে না পেয়ে তার ছেলে হুসাইন আলীকে (৮) তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত এক প্রবাসীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল ৮টায় ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামের ওই আদম ব্যবসায়ীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামের আদম ব্যবসায়ী জাফর আলী ইতালীতে পাঠানোর নামে মানুষকে লিবিয়ায় পাঠায়।

    পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত জাফর গ্রুপের সদস্যরা মানুষকে জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা নিয়ে থাকে। সূত্রমতে, সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার পুলতাডাঙ্গা গ্রামের একজনকে লিবিয়ায় জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে জাফর গ্রুপের সদস্যরা।

    এরই ধারাবাহিকতায় লিবিয়ায় জিম্মি থাকা ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জাফরের বাড়ি থেকে তার ছেলে হুসাইন আলীকে তুলে নিয়ে গেছে।

    সূত্র আরো জানায়, জাফর আলী মানুষকে ইটালিতে পাঠানোর নাম করে লিবিয়ায় পাঠানোর পর জিম্মি করে টাকা আদায়কারী চক্রের অন্যতম সদস্য। মানুষকে জিম্মি করে পাওয়া টাকা দিয়ে কালিনাথপুরের এই অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাতিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন শিশুটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাফর আলী লিবিয়া থেকে ইতালীতে লোক পাঠান বলে শুনেছি। বিদেশগামী অনেক লোকের পরিবার তাকে খুঁজতে আসে। লিবিয়ায় পাঠানোর পর মানুষকে সে দেশে জিম্মি করে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে জাফরের বিরুদ্ধে।

    তিনি আরো বলেন, শুনেছি লিবিয়ায় জিম্মিকৃত আলমডাঙ্গার এক প্রবাসীর স্বজনেরা এসে জাফরের শিশুপুত্রকে তুলে নিয়ে গেছে আজ সকালে।

    এ ব্যাপারে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু অপহরণের বিষয়টি তার জানা নেই।

  • মেহেরপুরে তিন স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার, বেজে উঠল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

    মেহেরপুরে তিন স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার, বেজে উঠল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুর শহরের পৃথক তিনটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে ঝুলানো বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে সকালে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে জানায়, বস্তুগুলো বোমা নয়; অটোরিকশায় ব্যবহৃত সাউন্ড বক্স।

    শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, শহরের কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে থেকে ওই তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পার্কের সামনে থাকা একটি বক্স থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজতে শোনা যায় বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির বিভিন্ন তারের সঙ্গে বক্স আকৃতির একটি বস্তু ঝুলতে দেখা যায়। সেটিকে বোমাসদৃশ বস্তু মনে করে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমে যায়।

    পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বস্তুটি নামিয়ে একটি পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর ব্যাটারির সঙ্গে যুক্ত তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে সেটি খুলে দেখা যায়, এটি সাউন্ড বক্সের মতো একটি যন্ত্র। এরপর শহরের কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনেও একই ধরনের আরও দুটি বস্তু থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে সেগুলোও উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় পথচারীরা জানান, সকাল সোয়া নয়টার দিকে পার্কের সামনে থাকা বক্স থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজতে শোনা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বক্সটি নামিয়ে নেয়।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো কোনো বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তু নয়। অটোরিকশায় ব্যবহৃত সাউন্ড বক্স।’

    ওসি আরও বলেন, উদ্ধার করা তিনটি বস্তু থানায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো কে বা কারা সেখানে রেখেছে, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা সহসভাপতি সোহেল রানা পবন এবং তাঁর ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রুবেল মাহমুদ রতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুচিয়ামোড়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা গেছে, পবন ও রতন দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তাঁরা গোপনে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ভেড়ামারা থানা ও কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

    কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে পবন ও তাঁর ভাই রতনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে খিচুড়ি রান্না করছিলেন। তাঁদের সংগঠিত হওয়ার তথ্য পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, তাঁরা দুজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। সংগঠিত হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চারজনকে পুশইন চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত করল বিজিবি

    চারজনকে পুশইন চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত করল বিজিবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের চাপাতলা এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক চারজনকে পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই চারজন সীমান্তের ১৫০ গজ ভিতরে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।

    ঝিনাইদহ বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, দুপুরে বিএসএফের মাহেন্দ্রা ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তের ৬১/১২ আর পিলারের নিকট গেট খুলে চারজনকে পুশইনের চেষ্টা করে। এদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ১ জন নারী এবং ১ জন শিশু রয়েছে।

    বিষয়টি কুসুমপুর বিওপির টহল দলের নজরে আসলে তারা বাধা দেয়। সে সময় ওই চারজন ভারতের ১৫০ গজ অভ্যন্তরে কলাবাগানের মধ্যে অবস্থান নেয়। বর্তমানে তারা সেখানে অবস্থান করছে। বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানানোসহ বিএসএফকে অবগত করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের বৃক্ষরোপণ,৩০ হাজার গাছলাগানোর লক্ষ্য

    চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের বৃক্ষরোপণ,৩০ হাজার গাছলাগানোর লক্ষ্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ‘বাসযোগ্য দেশ চাইলে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই’—এই প্রতিপাদ্য ও আহ্বানের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার উদ্যোগে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বেগনগর কিন্ডারগার্টেন স্কুল সংলগ্ন জমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

    কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আমির মো: রুহুল আমিন।

    এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: রুহুল আমিন বলেন, আমাদের চুয়াডাঙ্গায় শীত যেমন তীব্র, তেমনি গরমের দিনেও আবহাওয়া চরম আকার ধারণ করে, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তোলে। নিজের জন্মভূমিকে এই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে।

    পরিবেশ রক্ষায় এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৩০ হাজার বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সামাজিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায় থেকেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    উদ্বোধনী দিনেই সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাদের টব এবং বাসাবাড়ির আঙিনায় ২০০টি বিভিন্ন জাতের ফলদ, বনজ ও ওষুধি চারা রোপণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, সহকারী জেলা সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, সমাজকল্যাণ সভাপতি আব্দুল কাদের, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, আইন বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, সদর উপজেলা আমির মাওলানা বেলাল হুসাইন এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর শাখার আমির অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    এ,আর,

  • হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গ্রেপ্তার ঝিনাইদহের সাবেক এমপি

    হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গ্রেপ্তার ঝিনাইদহের সাবেক এমপি

    ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে শহরের আরাপপুর জামতলা মডেল মসজিদ পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিবারের সদস্যরা।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শৈলকূপা থানার ওসির নেতৃত্বে রাতে নায়েব আলীর আরাপপুরের বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    তবে অন্য একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দার। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপিকে আটক করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রেপ্তারের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

  • অকৃতকার্যই শেষ কথা নয়, শিখতে হবে ব্যর্থতাকে জয় করা

    অকৃতকার্যই শেষ কথা নয়, শিখতে হবে ব্যর্থতাকে জয় করা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রবাদ আছে ‘অকৃতকার্য কৃতকার্যের চাবিকাঠি’। তারপরও অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া মেনে নিতে পারে না। পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটি যেকোনো শিক্ষার্থীর জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার কথা। অথচ সে দিনটিতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের হালিমা খাতুন তরিকা, রাজশাহীর কারিনা পাল আর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার তানিয়া খাতুনের পরিবারসহ বেশকিছু পরিবারে নিয়ে এলো চিরঅন্ধকারের বার্তা। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যেখানে দেশের লাখো ঘরে উদযাপনের আলো জ্বলছিল, সেখানে নিমিষে নিভে গেল তিনটি তাজা প্রাণ। এছাড়া দেশের আরো কয়েক জায়গায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ঝরে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

    রাজশাহীর বাগমারায় বিজ্ঞান বিভাগে দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে চরম বিষাদে আত্মহননের পথ বেছে নেন কারিনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অন্যান্য বিষয়ে সফল হলেও কেবল ইংরেজিতে অকৃতকার্য হওয়ার তীব্র কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বিষপান করে হালিমা। আর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একই হতাশায় তানিয়া খাতুন বেছে নেয় আত্মহননের পথ। এ তিনটি অকাল প্রস্থান সমস্বরে আমাদের এক নির্মম সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় যে, একটি পরীক্ষার ফল কি জীবনের চেয়েও বড়? কখনই তা হতে পারে না। বরং জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্যই পড়ালেখা বা এত আয়োজন। তাই একবার অকৃতকার্য হওয়া মানে হেরে যাওয়া কিংবা শেষ কথা নয়; বরং কঠিন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বারবার চেষ্টা করতে হবে। একবার না পারলে হতাশ হওয়া যাবে না, দৃঢ় মনোবল নিয়ে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে হবে।

    তানিয়া কুচিয়ামোড়া গ্রামের প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা খাতুন দম্পতির কন্যা। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি শিক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষায় গত বছরও অকৃতকার্য হয়েছিল সে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার চলতি সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে সে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে তানিয়া।

    আমাদের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থায় এসএসসি পরীক্ষাকে শুধু একটি প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হয় না; কোনো কোনো সময় এটিকে বানিয়ে ফেলা হয় সন্তানের যোগ্যতা, মর্যাদা ও সামাজিক সম্মানের চূড়ান্ত মাপকাঠিও। ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই চারপাশে শুরু হয় ‘জিপিএ-৫ পেয়েছ তো?’, ‘অমুকের সন্তান তো এত পেয়েছে, তোমার কম কেন?’ এ জাতীয় এক প্রতিযোগিতার মহোৎসব। কৈশোরের কোমল ও সংবেদনশীল মন এই তুলনামূলক আলোচনা ও সামাজিক লজ্জাকে সহ্য করতে পারে না। তাদের কাছে সাময়িক একাডেমিক পিছিয়ে পড়াকে জীবনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা বলে মনে হতে শুরু করে। ফলে পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশার অদৃশ্য চাপে পিষ্ট হয়ে অনেক সময় তারা হারিয়ে ফেলে বেঁচে থাকার মৌলিক ইচ্ছাটুকু। অথচ ভালো রেজাল্টের চেয়ে ভালো মানসিকতা ও মানবিক মানুষ হওয়া জরুরি।

    একটি পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ করা বা অকৃতকার্য হওয়া মানেই শেষ গন্তব্য নয়। শিক্ষাব্যবস্থায় মানোন্নয়ন পরীক্ষা, পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনরায় অংশ নেওয়ার মতো একাধিক বৈধ পথ খোলা থাকে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার নির্দিষ্ট কোনো ধাপে থমকে যাওয়া বহু মানুষ পরবর্তী সময়ে মেধা ও পরিচর্যায় সমাজের শীর্ষে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু সেই ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য জীবনটা টিকিয়ে রাখা তো প্রথম ও প্রধান শর্ত।

    পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা ফল খারাপ হওয়া কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি সন্তানের জন্য সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত। এমন সময়ে বকাঝকা, শাসন বা প্রতিবেশীর সন্তানের সঙ্গে তুলনা না করে পরিবারকে হতে হবে প্রধান আশ্রয়স্থল। ‘কত পেয়েছ’Ñএই কঠিন প্রশ্নের আগে অভিভাবকের মুখ থেকে আসা উচিত সহজ একটি বাক্যÑ‘আমরা তোমার পাশেই আছি। যা হয়েছে, তা নিয়ে হতাশ না হয়ে আগামীতে ভালো করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত কর।’

    সন্তান যখন চরম হতাশা প্রকাশ করে বা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, সেটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তাকে এক মুহূর্তের জন্যও একাকী না রেখে মানসিকভাবে বিশ্বস্ততা তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। ফলাফলের দিন কেবল কৃতকার্যদের নিয়ে উদযাপনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে যারা কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি, তাদের কাউন্সেলিং ও পরবর্তী সহজ পথের দিশা দেওয়া জরুরি।

    কারিনা, হালিমা ও তানিয়ার মৃত্যু কেবল তিনটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের গল্পই নয়; এটি পুরো সমাজের জন্য এক তীব্র অনুশোচনা ও সতর্কবার্তা। আমাদের সন্তানদের শুধু জয়ী হতে শেখালে চলবে না, ব্যর্থতার পর ধুলো ঝেড়ে কীভাবে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়, সেই শিক্ষা দিতে হবে। কারণ পরীক্ষার ফল আবার সংশোধন করা যায়, একটি বছর পিছিয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধারও করা সম্ভব; কিন্তু ঝরে যাওয়া একটি অমূল্য জীবন কোনোদিন আর ফিরিয়ে আনা যায় না।

  • চুয়াডাঙ্গায় রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, তবুও লোকসানের আশঙ্কা

    চুয়াডাঙ্গায় রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, তবুও লোকসানের আশঙ্কা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আষাঢ়-শ্রাবণের রোদ-বৃষ্টির খেলা আর বর্ষার পানিতে খাল-বিল কানায় কানায় পূর্ণ হতেই চুয়াডাঙ্গার মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান রোপণের মহোৎসব। আগাম পাট কেটে উঁচু ও নিচু জমি তৈরি করে বীজতলা থেকে চারা তোলা ও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পূর্বের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও ডিজেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের অনিয়ন্ত্রিত দাম বৃদ্ধিতে কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে লোকসানের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত হওয়ায় আমন রোপণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলেও বাজার পরিস্থিতি কৃষকের প্রতিকূলে। খুচরা বাজারে সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পাওয়ার টিলার মালিকরা প্রতি বিঘা জমিতে হাল চাষ বাবদ ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছেন। আগে যা ছিল ১,৩০০ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ টাকায়। এ ছাড়া ধান রোপণে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বিঘা প্রতি বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা।

    কৃষকদের হিসেব মতে, গত বছর এক বিঘা জমিতে আমন উৎপাদনে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার জমি ভাড়া, বীজ, সেচ ও সারসহ মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়া যেতে পারে। তবে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে আলু, পেঁয়াজ ও বিগত বোরো মৌসুমের মতো আমনেও বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃষক সোহাগ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আলুতে লোকসান করে ঋণ নিয়ে বোরো চাষ করেছিলাম, সেখানেও ধানের দাম না পেয়ে বিঘাপ্রতি আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সারের দাম বেশি, ৫০০ টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যায় না। সব কিছুর দাম বাড়লেও আমাদের ধানের দাম নেই।’

    একই উপজেলার আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করা গত মৌসুমের ধান অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে জীবিকার তাগিদে আবারো বুকে আশা বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

    দামুড়হুদার কৃষক জাকারিয়া আলমের মতে, ফসলের সঠিক দাম না পেয়ে কৃষকরা দিন দিন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। আমনেও যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলে, তবে জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

    তাই উৎপাদিত ধানের যৌক্তিক ও ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন তারা।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৩৬ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কৃষকরা যাতে আমন চাষে লাভবান হতে পারেন ও ফলন বৃদ্ধি পায়, সে জন্য কৃষি বিভাগ থেকে মাঠে গিয়ে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে রোপণের ভরা মৌসুম চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও ফলন ভালো হলে কৃষকরা অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে লাভবান হতে পারবেন।

  • উৎপাদন ব্যয়ের চাপে ধুঁকছে যশোরের মৎস্যখাত

    উৎপাদন ব্যয়ের চাপে ধুঁকছে যশোরের মৎস্যখাত

    স্থানীয় চাহিদার তিন গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের সার্বিক মাছ উৎপাদনের একটি বড় অংশীদার যশোর। তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একসময়কার এই লাভজনক খাতে এখন দুর্দিন চলছে। ফিশ ফিড (মাছের খাদ্য), রেণু উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্ল্যান্ড ও হরমোন, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখলেও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হ্যাচারি মালিক ও মাছচাষিদের। টিকে থাকতে না পেরে ইতোমধ্যে জেলার ৪৪টি হ্যাচারি বন্ধও হয়ে গেছে।


    হ্যাচারি মালিকেরা জানান, বহুসংখ্যক হ্যাচারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেণুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে ৮২টি হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন হতো। বর্তমানে চালু রয়েছে ৪৪টি হ্যাচারি। তবে জেলার মৎস্য বিভাগ বলছে, বর্তমানে ৪২টি হ্যাচারি চালু আছে।


    হ্যাচারি মালিকদের ভাষ্য, হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল শিল্প রেটে (হার) ধার্য করায় ব্যবসায়টিতে একরকম ধস নেমেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের রেটে বিদ্যুৎ বিল গুণতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে বিক্রির দাম থেকে লাভ দূরে থাক উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে হ্যাচারি বন্ধ করে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে এই খাতে বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকি বা দীর্ঘদিনের দাবি কৃষি রেট চালু না করলে ব্যবসায় সচল রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।


    যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান গোলদার জানান, মাছ উৎপাদনের কাজে অতি প্রয়োজনীয় তেল ও বিদ্যুতের দাম অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে এই সেক্টর ক্রমাগত লোকসান গুনছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় মাছের পুকুরে ব্যবহৃত স্যালো মেশিন ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে হ্যাচারির বিভিন্ন কাজে পানি সরবরাহে মোটর চালনার ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে অনেক। এছাড়াও মাছের খাবারসহ চাষ কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে হ্যাচারিতে ডিম থেকে উৎপাদিত রেণুর দাম বাড়েনি। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে হ্যাচারি মালিকদের।


    এদিকে মাছের খামারিরা বলছেন, মাছের খাবার এবং ওষুধসহ অন্যান্য উপকরণের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে মাছ লালন-পালন দুরূহ হয়ে পড়েছে। উৎপাদনের সব ধরনের উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পুকুরে মাছ রেখে বড় করে যারা বাজারে বিক্রি করেন তারা জেরবার দশায়।
    মাছ চাষিরা জানান, দাম বাড়তে বাড়তে একবস্তা খৈলের দাম এখন ৩৩০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। একবস্তা ফিডের দাম কোম্পানি ভেদে বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ কেজির এক বস্তা ফিডের দাম ২২০০ টাকা পর্যন্ত। পুকুরের লিজ মূল্য বছর বছর বাড়ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় মাছের সন্তোষজনক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো রকমে ব্যবসায় টিকিয়ে রেখেছেন।


    মৎস্য চাষি কল্যাণ সমিতি যশোর জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি ও ফাল্গুনী মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বাবলু জানান, শ্রমিক মজুরি, ফিড, ওষুধপত্র, সার, খৈলসহ পুকুরের লিজ মূল্য ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অব্যাহতভাবে উৎপাদনের উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে মাছের ব্যবসায়ের জৌলুস হারাচ্ছে। মুনাফার পরিমাণ অব্যাহতভাবে কমছে। এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।


    প্রতিবছরই চাহিদার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি পরিমাণ মাছ উৎপাদন করছেন যশোরের মৎস্য চাষিরা। পুকুর থেকে শুরু করে বিল, বাঁওড়, নদী ও খালে জলশস্য মাছের ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ করছেন। জেলায় বার্ষিক মাছের চাহিদা ৬৭ হাজার ৬৬১ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন। চাহিদার বিপরীতে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৪ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৩৩ দশমিক ১৭ মেট্রিকটন। চাহিদার উদ্ধৃতি মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ ছাড়াও বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বার্ষিক রপ্তানি ৮ হাজার ২৯২ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন। এদিকে যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সচল হ্যাচারিগুলোয় প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ কেজিরও বেশি রেণু ও ধানী পোনা উৎপাদিত হয়।


    জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান গোলদার জানান, বিদ্যুতের দামের কারণে হ্যাচারি সেক্টরে ক্ষতির মুখে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের বিদ্যুৎ বিল কৃষি রেটে নেওয়ার দাবি জানানো হলো সেটি করা হয়নি। কৃষি রেটে বিল ধার্য করা হলে শিল্পটির ধস থামানো সম্ভব হতো।


    সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দীন চৌধুরী সুমন জানান, প্রায় প্রতিবছরই লোকসান গুনছেন হ্যাচারি মালিকরা। গত বছর তার ১৫ লাখের বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এভাবে প্রতি বছর লোকসান কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি জানান, ভর্তুকি দিয়ে অথবা কৃষি রেটে বিদ্যুতের বিল ধার্য করা না হলে হ্যাচারি শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।


    এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন জানান, হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল কৃষি রেটে ধার্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি অবগত। শিল্পের বদলে কৃষি রেটে হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল ধার্যের ব্যাপারটি বাস্তবায়িত হলে সেক্টরটিতে বিদ্যমান এ সমস্যার সমাধান হবে।


    বহু সংখ্যক হ্যাচারি বন্ধের বিষয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, এক সময় যশোরের হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হতো। তবে এখন সেসব জেলাতেও হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। এতে যশোরের হ্যাচারির ওপর নির্ভরতা কমেছে। পাশাপাশি লোকসানে থাকা অনেক হ্যাচারি বন্ধ হয়ে গেছে।

  • যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশের দুই জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জেলা দুটি হলো যশোর ও মাদারীপুর। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন আহত হয়েছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা।

    যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল (৩৫) নামে এক মোটরশ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত জুয়েলকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে থানার পুলিশ বিস্ফোরিত এলাকাটি ঘিরে রেখে আহত জুয়েলকে তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে আরো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

    এলাকাবাসী ও থানার পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেশবপুর পৌর শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে মধ্যকুল গ্রামের ব্যবসায়ী খানজের ছেলে জুয়েলের পায়ে বোমার স্প্লিন্টার লেগে তিনি আহত হন। আহত জুয়েলকে পথচারীরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত উদ্ধারসহ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ জানায়, ওই স্থানে আরও দুটি পলিথিনে মোড়ানো অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে।

    এলাকাবাসীরা জানান, ১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা করতে কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক মোড়ল, একাধিক মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর কামাল খানসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে মধ্যকুল এলাকায় মুজিবুর রহমান মুজির মৎস্য খামারে গোপন মিটিং করেন। বিষয়টি এলাকার বিএনপি নেতাসহ গ্রামবাসী থানার অফিসার ইনচার্জ মোছা. রোকসোনা খাতুনকে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সন্ত্রাসীদের গর্ডফাদার রফিক মোড়ল ও কামাল খান নাশকতাসহ একাধিক মামলায় আটক হওয়ার পর তারা আদালত থেকে জামিনে এসে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সংঘটিত করতে কাজ করছেন।

    হাসপাতালে কর্মরত ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে আহত জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    থানার ওসি মোছা. রোকসোনা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে মধ্যকুল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি মৎস্য ঘেরে মিটিংয়ের বিষয়ে তাকে এলাকাবাসী অবহিত করেছিল।

    এদিকে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরের সিঁড়িতে থাকা ককটেল বিস্ফোরণে গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মাদ্রাসার টিফিনের বিরতি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নাশতা করার উদ্দেশ্যে পাশের ইমন সরদারের বসতঘরের দিকে যায়। সেখানে ঘরের দরজার সিঁড়ির গোড়ায় পড়ে থাকা একটি ককটেল শিক্ষার্থীরা না বুঝে নাড়াচাড়া করতে গেলে হঠাৎ সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

    ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

    যানা যায়, ইমন সরদারের কাজের বুয়া বেবি (৪০) আজ শনিবার সকালে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় বলের মতো একটি বস্তু বারান্দার সিঁড়িতে দেখতে পেয়ে বাড়ির মালিককে জানালেও তারা গুরুত্ব দেননি।

    সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

    মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ককটেলটি ওখানে কীভাবে এলো এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়ে‌ছে।

  • ভোমরা বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কমেছে

    ভোমরা বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কমেছে

    ভোমরা স্থলবন্দরে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য কমেছে। পণ্যবাহী ট্রাক আসা–যাওয়া কমেছে। কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। আমদানি–রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ।

    সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভোমরা স্থলবন্দর। বন্দরের ওপারেই ভারতের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর।

    গত রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে ভোমরা স্থলবন্দরে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক একে একে বন্দরে ঢুকছে। পণ্য খালাস, পরিবহন ও কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    ভোমরা বন্দর সড়কের পাশে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের কার্যালয়ের সামনে বসে ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। কাজের অপেক্ষায় তাঁরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন। অপেক্ষায় থাকা আজিজুল ইসলাম বলেন ‘এখন কাজের অবস্থা খুবই খারাপ। তার ওপর মজুরিও কম। সংসার চলে না। অনেক শ্রমিক কাজের খোঁজে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। আগে যেভাবে আমদানি-রপ্তানি হতো, এখন আর তা হয় না।’

    শুধু হ্যান্ডলিং শ্রমিক নন, বন্দরের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদেরও একই সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, কিছুদিন আগেও বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এতে অনেক কর্মী বেকার হয়ে পড়েন।

    আবু মুসার মতে, ভোমরা বন্দরে সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক পণ্য এ বন্দর দিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

    বাণিজ্য কমেছে, রাজস্ব লক্ষ্য বেড়েছে

    ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এ বন্দরের জন্য ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। এ ধারা চলতে থাকলে বছর শেষ লক্ষ্যের ৫০ শতাংশও পূরণ হবে না।

    ভোমরা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ভোমরা কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। ঘাটতি ছিল প্রায় ৯৫১ কোটি টাকা।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টনে। এক বছরে কমেছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন।

    রপ্তানিতে পতন আরও বড় হয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভোমরা দিয়ে ভারতে ১৯ হাজার ৮৯টি ট্রাকে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৯ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।

    এর আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২৮ লাখ ৬ হাজার টন পণ্য। আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এক বছরে রপ্তানি কমেছে ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯০১ টন। রপ্তানি আয় কমেছে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা।

    কারণ কী

    এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শুল্ক কর্মকর্তা, আমদানি–রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মূলত অবকাঠামোসংক্রান্ত অসুবিধার কারণেই ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি–রপ্তানি কমেছে।

    সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা কিছু কৃষিপণ্যের বাজারদর কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বন্দরে ভারী ক্রেন, পর্যাপ্ত ইয়ার্ড ও আধুনিক গুদাম সুবিধার ঘাটতিও বাণিজ্যের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    নাসিম ফারুক খান আরও বলেন, অবকাঠামোগত দিক থেকে ভোমরা বন্দরের তুলনায় ভারতের ঘোজাডাঙা বন্দরের অবস্থা অনেক দুর্বল। কিন্তু দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। এ জন্য অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

    কাস্টম হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমানের মতে, ব্যবসায়ীদের সেবার মান উন্নয়ন, হয়রানি কমানো এবং দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে কাস্টমস কাজ করছে।

    সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কথাও জানান মুশফিকুর রহমান। সেখানে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক

    মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদক সেবনের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শখের বানু (৫৭) নামে এক নারীকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ছেলে ইখলাসুর রহমানকে আটক করেছেন মহেশপুর থানা পুলিশ।

    স্থানীয়রা জানান, ইখলাসুর রহমান মাদক সেবন করতেন। সে মাদক সেবনের জন্য তার মায়ের নিকট টাকা চাই । এ নিয়ে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে মা শখের বানুর ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত বৃহস্পতিবার রাতেও মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চান ইখলাসুর রহমান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

    পরে ভোররাতে ইখলাসুর রহমান তাঁর মায়ের কক্ষে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলে তাঁর মাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই গ্রামের পাশের একটি পুকুর পাড় থেকে ইখলাসুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

  • যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ, যশোর আয়োজিত বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম এই হাসপাতালটি শুরু করেন। কিন্তু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ভগ্নদশায় পড়ে আছে।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অচিরেই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে এর উদ্বোধন করা হবে। করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পর যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছিলেন। আজকে যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের বৃহৎ একটি অংশ তাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছিল।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছে, তখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, অন্তরে ফ্যাসিস্টকে লালন করে। সুযোগ পেলে তারা আবারও ছোবল মারবে।

    প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজকে জমি দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করারও ঘোষণা দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শামীম ইকবাল।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনসহ অনেকে।

    তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৫০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

  • বাঘারপাড়ায় একই পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

    বাঘারপাড়ায় একই পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামে একই পুকুরে পানিতে ডুবে দুই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশুর নাম লামিয়া (১৩) ও সুলতানা (১০)। তারা জামদিয়া গ্রামের নিছার আলীর মেয়ে। অন্য শিশু ফাহিমা (১০) একই গ্রামের প্রতিবেশী আশিকুলের মেয়ে।

    জামদিয়া গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আতিয়ার রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, নিহত তিন শিশু আশিকুলদের পুকুরের সিঁড়িতে বসে গোসল করছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিছার আলীর মা লামিয়া ও সুলতানাকে খুঁজতে পুকুরের পাশে আসেন। এ সময় তিনি পুকুরের পাকা সিঁড়িতে তাদের কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু শিশুদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হলে তিনি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে পানিতে বুদবুদ উঠতে দেখেন। পরে চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন এবং পুকুরে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর পানির নিচ থেকে তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসনুন আব্দুল্লাহ জানান, তিন শিশুকে হাসপাতালে আনার পর তাদের পালস পরীক্ষা ও ইসিজি করা হয়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের কেউই বেঁচে নেই। পরে লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬১৭ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ জব্দ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে পুটখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় এসকাফ সিরাপগুলো পড়ে থাকতে দেখে জব্দ করা হয়।

    বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব সিরাপ জব্দ করা হয়।

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • যশোর শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ মহড়া

    যশোর শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ মহড়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরে যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের শক্ত হাতে দমনে অল-আউট অ্যাকশনে নেমেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবং অপরাধীদের স্পষ্ট বার্তা দিতে বুধবার রাতে শহরজুড়ে সুসংগঠিত যৌথ মহড়া দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
    এদিন রাত ৮টার দিকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে এই মহড়া শুরু হয়। এরপর মহড়াটি শহরের পালবাড়ি, চাঁচড়া চেকপোস্ট, মুড়লী মোড়, মনিহার মোড়, হাইকোর্ট মোড়, নিউমার্কেট, বাবলাতলা ব্রিজ, কাঁঠালতলা, কাজীপাড়া, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, দড়াটানা, চিত্রামোড়, চৌরাস্তা, চারখাম্বা, সরকারি মুরগীর খামার এলাকা, ভেটেরিনারি মোড়, কলাবাগান মোড়, মেডিকেল কলেজ মোড়, আশ্রম রোড, রেলস্টেশন, চাঁচড়া রেলগেট, মুজিব সড়ক, ঘোপ বাবলাতলা, পিটিআই মোড় ও পুলিশ লাইন হয়ে প্যারিস রোডে গিয়ে শেষ হয়।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সমন্বিত মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কমলেশ মজুমদার, যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) আহসান হাবীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রবেশন) রাইসুল ইসলাম, র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং যশোর জেলা আনসার ও ভিডিপির অতিরিক্ত পরিচালক আবির রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
    মহড়া চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
    এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) আহসান হাবীব জানান, যশোরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বহুমুখি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো জেলা জুড়েই বর্তমানে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানকে আরও ফলপ্রসূ করতে এবং দুষ্কৃতকারীদের কড়া সতর্কবার্তা দিতেই মাঠপর্যায়ে এ যৌথ মহড়া ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে প্রশাসনের এ কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

  • মাগুরায় আলমসাধু উল্টে চালক নিহত

    মাগুরায় আলমসাধু উল্টে চালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আলমসাধু উল্টে মহি (৫০) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোররাতে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের মাগুরা শহরের পুলিশ লাইন এলাকার বাঁশতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মহি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে।

    নিহতের শালা মোহাম্মদ মোজাম্মেল জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহের ডাকবাংলা থেকে চুয়াডাঙ্গার কাঁচামাল নিয়ে মহম্মদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন মহি। রাত ১টার দিকে মহম্মদপুর পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ভোরে পুলিশের ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন।

    রামনগর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মহি চুয়াডাঙ্গা থেকে কাঁচামাল নিয়ে মাগুরার মহম্মদপুরে যান। সেখানে সবজি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ লাইন এলাকার বাঁশতলায় পৌঁছালে আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ মাগুরা

  • বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বেনাপোলে লোহার গ্রিলবোঝাই ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইব্রাহিম হোসেন (৫০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরোহী ও ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার বাইপাস সড়কের ভবারবেড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম হোসেন শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। আহতরা হলেন ইছাপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ফজলুল হক (৪৫) এবং ভ্যানচালক আলী কদর (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইব্রাহিম হোসেন তার সহকর্মী শিক্ষক ফজলুল হককে নিয়ে মোটরসাইকেলে গোগা থেকে শার্শার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ভবারবেড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লোহার গ্রিলবোঝাই একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে ইব্রাহিম হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ভ্যান ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলা, মহিলাদের লাঞ্ছিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার মহিলা বিভাগ। মিরপুর পৌরসভার দারুস ছালাম একাডেমির উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী। এ সময় সংগঠনটির মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী মহিলাদের গণসংযোগ ও দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মো. সোহেলের বাড়িতে একটি তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলের শেষের দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক মাস্টারের নেতৃত্বে এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ আরও ৪-৫ জন ব্যক্তি বাড়ির প্রাচীর টপকে মাহফিলে অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে প্রবেশ করেন। পরে তারা নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং কয়েকজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রী বলেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

    তিনি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মসূচি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

    চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অসহনীয় ভ্যাপসা গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং। শহর এলাকাগুলোতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র করুণ। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলোতে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পখাত।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার শহর এবং উপজেলা সদরে দিনে তিন থেকে চার বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, তবে তা প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আবার স্বাভাবিক হয়। কিন্তু গ্রামীণ জনপদে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তিন থেকে চার ঘণ্টার আগে আসার কোনো লক্ষণ থাকে না। এতে তীব্র গরমে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।

    কৃষিপ্রধান এই জেলায় বর্তমানে মাঠে মাঠে সেচ পাম্প চালু রাখার ব্যস্ত সময়। সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফসলের সেচ কার্যক্রম।

    পৌর এলাকার কৃষক শাহাবুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, পাম্প চালুর পরই বিদ্যুৎ চলে যায় ও কখন আসবে তা অনিশ্চিত থাকে। ফসল বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সঙ্কটে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা রাতে গাড়ি চার্জ দিতে না পেরে দিনে রাস্তায় নামতে পারছেন না। পাশাপাশি চালের মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, পোল্ট্রি ফার্ম ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায় ক্ষতির ধস নেমেছে। বাতাস চলাচলের অভাবে বেশ কিছু পোল্ট্রি খামারে মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

    সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকেই চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা মিলিয়ে ওজোপাডিকোর প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য ২৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে মেলে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট।

    চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চাহিদার এই ঘাটতির কারণে নিরুপায় হয়েই লোডশেডিং পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

    অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৮৪ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট।

    ডিজিএম মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, চাহিদার প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে পাওয়া বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ ওজোপাডিকো ও ৭০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বন্টন করা হলেও দুই সংস্থায় চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে পারছে না।

    এদিকে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যুৎ সেবার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন।

    বৈঠকে বিশেষ করে জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সেবা চালু রাখার প্রতি জোর নির্দেশ দেয়া হয়।

    সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা ও হাসপাতালসহ জরুরি প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’

    মতবিনিময় সভায় মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • তিন বন্ধ পাটকল ইজারা নিয়ে বিনিয়োগ করবে বেসরকারি খাতের দুই প্রতিষ্ঠান, চুক্তি সই

    তিন বন্ধ পাটকল ইজারা নিয়ে বিনিয়োগ করবে বেসরকারি খাতের দুই প্রতিষ্ঠান, চুক্তি সই

    বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ–সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

    চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানির সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিল ৩টি চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পন্ন করে গ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাটসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শার্শায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো অপহৃত কিশোরী

    শার্শায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো অপহৃত কিশোরী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে অপহরণের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে এক কিশোরীকে (১৪) উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণের অভিযোগে নূর মোহাম্মদ বাবু (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ বাবু শার্শা উপজেলার চান্দুরিয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। রাতেই মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে শার্শা থানায় একটি মামলা করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিন ঘণ্টার মধ্যে শার্শা বাজার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদ বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চটকাপোতা গ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালেই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেফতার

    ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেফতার

    মনিরুল ইসলাম মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের উপজেলা সভাপতি আব্বাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় হওয়া একটি বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেফতার আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নাশকতার পরিকল্পনা করে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে তার নাম আসলে তাকে গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়োগে সুপারিশের অভিযোগ, তালিকায় আ.লীগ সংশ্লিষ্টদের নাম নিয়ে তোলপাড়

    চৌগাছায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়োগে সুপারিশের অভিযোগ, তালিকায় আ.লীগ সংশ্লিষ্টদের নাম নিয়ে তোলপাড়

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে নিয়োগে সুপারিশ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শুমারির তালিকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নাম থাকার দাবি তুলে তাদের বাদ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, শুমারি কার্যক্রমে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ও সুপারিশের মাধ্যমে অধিকাংশ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকায় এক প্রভাবশালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক যুবকের নাম থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    জানা গেছে, পাতিবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য দাউদ হোসেনের ছেলে মুক্তদাহ গ্রামের জাকির হোসেন ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ পেয়েছেন। তালিকায় তার ক্রমিক নম্বর ৪৭ এবং রোল নম্বর ১১৪৩। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার আত্মীয় পরিচয়ে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন।

    অন্যদিকে পাতিবিলা গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে নূরনবী শবেকদর বাবু নামের আরেক যুবকের নামও শুমারির তালিকায় রয়েছে। তার ক্রমিক নম্বর ৫০ এবং রোল নম্বর ১১৩০।

    বাবুকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তার ছবি প্রকাশ করে নানা অভিযোগ করা হচ্ছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ছবি থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তাকে শুমারির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

    তবে নূরনবী শবেকদর বাবু পরোক্ষভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়। তার দাবি তিনি একসময় পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি উঠেছে। এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি এমপির সঙ্গে বাবুর নির্বাচনি প্রচারনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।

    বাবুর পদের বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদলের প্যাডে দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, চৌগাছা উপজেলার ৭ নম্বর পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি সংবলিত যে প্যাডের ছবি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ওই কমিটির সভাপতি নূরনবী শবেকদর বাবুর সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগসূত্র প্রমাণিত হওয়ায় কমিটিটি অনেক আগেই জেলা ছাত্রদল কর্তৃক বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুপারিশ বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুমারি কার্যক্রমে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বাদ দিয়ে প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এখন স্থানীয়দের দাবি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও চৌগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে কোন দল সমর্থন করে সেসব খবর তো জানা সম্ভব না। তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছে সবাই।

  • ফেল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই হতে পারে জীবনের বড় শিক্ষা

    ফেল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই হতে পারে জীবনের বড় শিক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর গত দুদিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফেল করার হতাশা থেকে বেশ কজন শিক্ষার্থীর আত্মহননের খবর পাওয়া গেছে। শেরপুরের নকলায় চার বিষয়ে ফেল করে আত্মহননের পথ বেছে নেয় চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিয়ামনি অন্তি (১৬)। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন (১৬) অকৃতকার্য হওয়ার পর একই পথে হাঁটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ইংরেজিতে ফেল করার পর চাকপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হালিমা খাতুন তরিকা (১৬) সোমবার দুপুরে আত্মহত্যা করে।

    রাজশাহীর বাগমারায় বিদ্যালয়ে ভালো ফল করা হিসেবে পরিচিত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কারিনা পাল (১৬) ফেল করার পর একই ধরনের ঘটনা ঘটায়। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী অভি বিশ্বাস (১৭) অকৃতকার্য হওয়ার খবরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। দেশের আরো কয়েকটি স্থান থেকে একই ধরনের ঘটনার খবর আসছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ বলেন, দেশের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতিই ফেল করা শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য অন্যতম দায়ী। ফলে এর দায় সরকার ও সমাজকেও নিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ১০ বছর শিক্ষাজীবনের মূল্যায়ন করা হয় কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষার মাধ্যমে; এটা সম্পূর্ণরূপে মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি। বিশ্ব অনেক এগিয়ে গেলেও আমরা তা গ্রহণ করছি না।

    ফলে এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতির আমূল পরির্তন আনতে হবে। লার্নিং আউটকাম বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট হয়েছে কি না, তা ক্লাসরুমেই ৬০ শতাংশ মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো বিষয়ে ফেল করলে শিক্ষার্থীরা শুধু ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেÑএমন ব্যবস্থা থাকতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফেল মানেই জীবন শেষ নয়। কেননা, বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানী কিংবা উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা জীবনে ফেল করেও সাফল্যের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নিজেদের আত্মসমালোচনা করে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গত সোমবার। এবার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন; ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। এবার ১১ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬.২ শতাংশ কম এবং গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতিই অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে; তাই পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি আরো বলেন, ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষাসহ বিকল্প সুযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ফেল করা মানে জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বিশ্বে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা প্রথমবার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও পরবর্তী জীবনে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছেন।

    এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ তাইমুর শাহরিয়ার। স্কুলজীবনে ‘ফার্স্ট বয়’ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত এই শিক্ষার্থী ২০০১ সালে এসএসসিতে রসায়নে টানা দুবার অকৃতকার্য হন। হাল না ছেড়ে ২০০৩ সালে জিপিএ ৩.৭৫ নিয়ে পাস করার পর এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৮০ পান; এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে ৩৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন। আরেক দৃষ্টান্ত সাইফুল ইসলাম সোহেল। তিনি ২০০৭ সালে প্রথমবার এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে ৪০তম বিসিএসে ট্যাক্স ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

    শিক্ষাগত ব্যর্থতার পর সৃজনশীল পেশাতেও সাফল্যের নজির আছে। ওয়েব সিরিজ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ‘কাবিলা’ চরিত্রে পরিচিত অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ ২০০৯ সালে এসএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর মিডিয়া অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হন। তার মায়ের ভাষ্য, সে ব্যর্থতাই তার মধ্যে কিছু করে দেখানোর জেদ তৈরি করেছিল।

    বাংলাদেশের বাইরেও পরীক্ষার ফলকে ছাপিয়ে সাফল্যের অসংখ্য উদাহরণ আছে। আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় গণিতে মাত্র এক নম্বর পেয়েছিলেন এবং তিনবার চেষ্টা করেও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাননি; এমনকি কেএফসির চাকরিতেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। অ্যাপলের স্টিভ জবস কলেজ শেষ করেননি, মাইক্রোসফটের বিল গেটস হার্ভার্ড অসমাপ্ত রেখেই গড়েছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানি স্কুলজীবনে ছিলেন গড়পড়তা ছাত্র, আর ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল স্কুলে বারবার ফেল করেও পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

    শিক্ষাবিদদের মতে, এসব দৃষ্টান্তই প্রমাণ করে পরীক্ষার নম্বর বা সনদ নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গি, সাহস ও অবিরাম পরিশ্রমই মানুষকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নেয়। যারা এবার কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি, তাদের প্রতি বার্তাÑব্যর্থতা থেকে শেখা ও হাল না ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের চাবিকাঠি। একটি পরীক্ষার ফল ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে নির্ধারণ করে না, বরং প্রতিটি ব্যর্থতার পর নতুন করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই দীর্ঘমেয়াদে একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় গড়ে তোলে।

  • দৌলতপুরে ২ কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

    দৌলতপুরে ২ কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গরুর খামার ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা নকল সিগারেটের কারখানার সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার উপজেলার গড়বাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা মূল্যের নকল সিগারেট ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে।

    বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়বাড়িয়া গ্রামের একটি গরুর খামারে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় কারখানায় কাউকে পাওয়া যায়নি।

    প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়রামপুর গ্রামের আজিরুদ্দিন সরকারের ছেলে শাকিল আহমেদ এবং বৈদ্যনাথতলা গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে লোকমান হোসেন লিওন ওই খামার ভাড়া নিয়ে নকল সিগারেট তৈরি করে আসছিলেন।

    অভিযানে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার শলাকা নকল সিগারেট ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২ লাখ শলাকা ‘ডার্বি’, ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ১১ লাখ ৫০ হাজার শলাকা ‘রয়েলস’ ও ‘রয়েল নেক্সট’, ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ শলাকা ‘নেভি’ এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ বস্তা বা ২ হাজার ১০০ কেজি অপ্রক্রিয়াজাত পচা তামাক রয়েছে। জব্দ করা মালামালের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও নিম্নমানের তামাক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা আগেই পালিয়ে যায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কারখানার সব মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত শাকিল আহমেদ ও লোকমান হোসেন লিওনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    সর্বোচ্চ ১২২২ নম্বর পেয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একই স্কুলের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন প্রিন্স ও যুখরুফ হাসনাইন ১২২০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। আর ১২২১নম্বর পেয়ে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে বলে জানা যায়। যশোর বোর্ডে এ সাফল্যে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রশংসায় ভাসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীরা।

    প্রথম স্থান অধিকারী জেলা স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমন যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে।

    সিমনের পিতা জিল বাংলা সুগার মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) রকিবুল হক জানান, বিভিন্ন বোর্ডের তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ছেলে যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে। এব্যাপারে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান জানান, আমাদের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি। সেই সাথে জিলা স্কুলেরা আরো ২জন শিক্ষার্থী যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।

    এদিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান জানান, যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিম সর্বোচ্চ ১২১৯নম্বর পেয়ে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, খুলনা জিলা স্কুলের দুজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১২১৫ নম্বর পেয়েছে।

    আর যশোর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা সর্বোচ্চ ১২১৬ নম্বর পেয়ে মেয়েদের মধ্যে যশোর বোর্ডের প্রথম স্থান লাভ করেছে। তিনি আরো জানান, আমি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমনের নম্বর পত্র দেখেছি সে ১২২২ নম্বর তাতে সিমনের নম্বরটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর হবে।

    যশোর শিক্ষাা বোর্ডের উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জানান, বোর্ডের মাধ্যমে মেধা তালিকা বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মেধা তালিকা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

    কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ ফ্লাটে সিমনের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সিমন মহান সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, নিমমাবর্তিতার মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া করেছি। সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ার প্রতিমনোযোগী হওয়ার ফলে আজকের এই কাংখিত ফলাফল।

    সে জানায়, পিতা-মাতার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। সিরিয়াসনেস না থাকলে ভাল কিছু করা অসম্ভব। তাই আমি লেখাপড়াকে সিরিয়াস হিসেবে নিয়েছিলাম। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি গনিত অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ের পদক অর্জন করেছে। বাসার শোকেচে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পদক ক্রেষ্ট দেখা গেল। অবসরে বই পড়ে সময় কাটে সিমনের। সিমনের মা শামীমা আহমেদ জানান, সিমন ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সে যশোর জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। আমরা দারুন খুশি। আশা করি পরবর্তিতে আরো ভাল ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সে আমাদেও সম্মানকে সমুজ্জল করবে।

    নিয়োমিত পড়ালেখা এবং বই পড়ার মাধ্যমে অবসর সময় কাটাই। সিমন বুয়েট থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে আগ্রহী। সিমনের মা সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত। সিমনের পিতা রকিবুল হক জানান, ছেলের ফলাফলে আমরা দারুন খুশি এবং তৃপ্ত। তার মেধা, আত্ম বিশ্বাস,অক্লান্ত পরিশ্রম,কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মাবর্তিতাই তাকে গৌরবময় ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। ওর স্বপ্ন বিজ্ঞানী হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে। তিনি আরো বলেন সিমনের এই সাফল্যের পিছনে তার মায়ের ভুমিকা অনেকাংশে প্রশংসার দাবী রাখে। সন্তানকে সর্ব সময়লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ করে তুলতে সে সাংঘাতিক কৌশলী ভুমিকা রেখেছে।

  • কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্বল নজরদারি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় একের পর এক জীবনহানি ঘটছে। গত পাঁচ মাসে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় অন্তত ১১ জন রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলায় দুই শতাধিক এমন প্রতিষ্ঠান থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির।

    জানা যায়, চিকিৎসা সেবার নামে কুষ্টিয়া জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় ২ শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। যার ফলে তারা সরকারি সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একের পর এক দূর্ঘটনা। গত ৫ মাসে এসব সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা ১১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গা ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে লোটাস হাসপাতাল, লোটাস চক্ষু হাসপাতাল ও লোটাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির ভবনের সিঁড়ি অত্যন্ত অপ্রশস্ত এবং লিফটে রোগীর ট্রলি পর্যন্ত ঢোকে না। ফলে অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ার পর রোগীদের হুইল চেয়ারে করে ওঠানো-নামানো হয়। সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক থাকার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে একজনও থাকেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত ৭ আগস্ট এই হাসপাতালেই ডাক্তারের অভাবে পিত্তথলির অস্ত্রোপচার করা এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত রোগীর ছেলের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সকালে ভর্তির পর তড়িঘড়ি করে ওইদিন বিকালেই তাঁর মায়ের অপারেশন করা হয়।

    পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদরে নেওয়ার পরামর্শ দেয়, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া কুষ্টিয়ার আরেকটি চক্ষু হাসপাতালেও সম্প্রতি অপারেশন করতে গিয়ে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, লোটাস হাসপাতাল মালিকপক্ষের ছোট ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মী। কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর এই সখ্যের সুবাদেই অবৈধ কারবার নির্বিঘ্নে চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁরা নিয়ম মেনেই হাসপাতাল চালাচ্ছেন এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা জমা দিয়ে আবেদন করা আছে। রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর দাবি, ওই রোগী হাসপাতালে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, তাঁর ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস দাবি করেন, শ্বাসকষ্টের ওই রোগী দুই সপ্তাহ ধরে ভর্তি ছিলেন, যা নিছকই দুর্ঘটনা।

    জেলার অন্যান্য ক্লিনিকের অবস্থাও একই রকম। কুমারখালী চক্ষু হাসপাতাল পৌরসভা থেকে শুধুমাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সাইনবোর্ড ঝোলানো থাকলেও মালিক আলিমুজ্জামান বদর বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

    তিনি জানান, লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে এবং বর্তমানে মোসাব্বির নামের এক চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের দেখছেন। তবে ওই চিকিৎসকের ডিগ্রি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, যা জনমনে আরও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

    এসব তুঘলকি কাণ্ড ও অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হাবিব চৌহান জানান, লাইসেন্স ও উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়াই সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এসব ব্যবসা চলছে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো আপস করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসব হাসপাতালে অনেক সময় গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করানো হয়, যা সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল।

    এদিকে, ২৮ এপ্রিল কুষ্টিয়ায় একতা ক্লিনিকে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক—একতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, সামান্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দেন। তবে অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত এনেস্থিসিয়া সুবিধা ছিল না—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, যথাযথ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ছাড়াই অজ্ঞান করার পর শিশুটির শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। এরপর শিশুটি মারা যায়।

    সে সময় একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক ডাক্তারকে আটক করা হয়। সিলগালা করা হয় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা মান, লাইসেন্সিং ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে এসেছে। তারা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন।

    সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এস এম কামাল জেলার বেহাল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার কথা স্বীকার করেছেন।

    তিনি জানান, জেলায় দুই শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে প্রায়শই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ও চাপে তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অতি সম্প্রতি স্থানীয় এক শীর্ষ নেতা সুপারিশ নিয়ে তাঁর অফিসেও এসেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সিভিল সার্জন দাবি করেন।

    এত অনিয়ম ও প্রাণহানির পরও এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে টিকে আছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেজন্য অবিলম্বে এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

  • কুষ্টিয়ায় লোডশেডিং নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সাথে এমপি আমীর হামজার মতবিনিময়

    কুষ্টিয়ায় লোডশেডিং নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সাথে এমপি আমীর হামজার মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার সর্বত্র ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময় না থাকায় আরো বেশি ভোগান্তিতে জনগণ।

    ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের খোঁজখবর নিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি মুফতি আমীর হামজা স্থানীয় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে যান।

    এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। শহরের আড়ুয়াপাড়ার ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়কের সভাকক্ষে এ মতবিনিময়কালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহান-ই-শবনম কুষ্টিয়া এলাকার লোডশেডিং বিষয়ে বলেন, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দিনে ১৫০ থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, সেখানে পাচ্ছি ১০০ থেকে ১০৫ মেগাওয়াট। রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট, সেখানে পাচ্ছি ১০০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। দেশে চাহিদার তুলনায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় এই লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে—সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

    এ সময় এমপি মুফতি আমীর হামজা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিষয়টি জাতীয় সমস্যা। আশা করি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের এই বিপর্যয় মুহূর্তে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক থাকতে হবে।’

    ভৌতিক বিলের ব্যাপারে তিনি কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণ যেন কোনোভাবেই প্রতারিত এবং হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।’

    তিনি কর্মকর্তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শোনেন এবং আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুষ্টিয়ার বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, সেই সাথে শিল্প এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয় তুলে ধরবেন বলে জানান।

    এমপি আমীর হামজা বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় অনেক বড় বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। সেই সাথে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের কথা বিবেচনায় এনে এই জেলার বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আমি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে বিষয়গুলো অবগত করাব।’

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ-১) আমজাদ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ-২) অনুপম চক্রবর্তী, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার, সহকারী সেক্রেটারি মোমিনুল ইসলাম।

  • দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান : ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

    দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান : ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা না থাকা, আয়োডিনহীন লবণ ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধে তিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী এ তদারকি অভিযানে দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন সার, বীজ, ওষুধের দোকান, হোটেল ও মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় পণ্যের মূল্য তালিকা সঠিকভাবে প্রদর্শন না করার অপরাধে কার্পাসডাঙ্গার মেসার্স গাউছিয়া স্টোরের মালিক মো: আব্দুল হাই সিদ্দিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া আয়োডিনহীন লবণ ব্যবহার করে খাবার রান্না করায় দামুড়হুদা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: লিটন আলীকে ১০ হাজার টাকা এবং উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ উল্লেখ না করা, লাইসেন্স ছাড়া দই তৈরি ও নোংরা-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি সংরক্ষণ করে বাজারজাত করার অপরাধে মেসার্স সেলিম মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক মো: সেলিম উদ্দীনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট বাজারের ব্যবসায়ীদের হালনাগাদ মূল্য তালিকা টাঙানো, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন বীজ, ওষুধ বা শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের তৌফিকা তারিক জানান। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    তৌফিকা চুটারহুদা গ্রামের তারিকুল ইসলাম ও তহমিনা খাতুন দম্পতির মেয়ে। তার বাবা তারিকুল ইসলাম বর্তমানে গ্রামীণফোনের যশোর রিজিওনাল হেড হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই দায়িত্বে ছিলেন।

    ছোটবেলা থেকেই সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির প্রতি তৌফিকার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে মানবিক উদ্যোক্তা হয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার জীবনের লক্ষ্য।

    তৌফিকার বাবা তারিকুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তৌফিকা যেন তার মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তার স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা সবসময় পাশে থাকব। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।”

  • যশোরে সাংবাদিক সন্তানদের সাফল্য

    যশোরে সাংবাদিক সন্তানদের সাফল্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের সাংবাদিক পরিবারের সন্তানরা কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জন করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। কেউ জিপিএ-৫, কেউ গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং কেউ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে জিহান আন নুর রকিব। সে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আর্কিটেক্ট হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। জিহান প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য, দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার রকিব হোসেন স্বপন এবং ব্যাংকার মনিকা পারভীন চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। সে সকলের দোয়া কামনা করেছে।

    যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কাজী সাদিয়া মেহেজাবিন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য কাজী এ এন এম নুরূজ্জামানের কন্যা। তাঁর মা সেলিনা আক্তার একজন সরকারি চাকরিজীবী।

    সাদিয়া জানান, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করাই তাঁর লক্ষ্য। এজন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সাবিদুর রেজা খান। সে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য আবিদুর রেজা খান ও নাজমুন নাহারের ছেলে। ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় সাবিদুর। উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে সে।

    সেবাসংঘ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৭৮ অর্জন করেছে মোছা. মুসলিমা আমিন। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য রুহুল আমিন ও নূরজাহানের কন্যা। মুসলিমা ভবিষ্যতে মানুষের সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় এবং সবার দোয়া কামনা করেছে।

    যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল অর্জন করেছে মোস্তানূর রহমান সাক্ষর। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা এবং নূরজাহান আরা নীতির ছেলে। সাক্ষর জানায়, ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

    অন্যদিকে, যশোর বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সাদিয়া শবনম সরণি। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি শহিদ জয় ও মরহুমা শামীমা আক্তার স্বপ্নার কন্যা। সরণির পিতা জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর মায়ের মৃত্যু হলেও সেই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সরণি পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য সকলের দোয়া কামনা করা হয়েছে।

    সাংবাদিক পরিবারের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যেও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাদের স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা সবার।

  • কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তানিয়া খাতুন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    তানিয়া উপজেলার কুচিয়ামোড়া গ্রামের চেয়ারম্যান গেটসংলগ্ন এলাকার প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা দম্পতির মেয়ে। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তানিয়া এ বছর বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

    বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মুনির উদ্দিন জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর তারা জানতে পারেন। প্রকাশিত ফলাফলে তানিয়া বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলাফল প্রকাশের পর তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি ভেড়ামারা থানায় নেওয়া হয়।

    ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

    এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় নারীদের কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ায় নারীদের কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলা, নারীদের লাঞ্ছিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার মহিলা বিভাগ।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মিরপুর পৌরসভার দারুস সালাম একাডেমিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী। এ সময় সংগঠনটির মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী নারীদের গণসংযোগ ও দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মো. সোহেলের বাড়িতে তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, মাহফিলের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক মাস্টারের নেতৃত্বে এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ আরো চার-পাঁচজন ব্যক্তি বাড়ির প্রাচীর টপকে মাহফিলে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নারীদের সাথে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং কয়েকজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মহিলা বিভাগের নেত্রী বলেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

    তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

  • কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

    কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শহরের শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওক্লিপ মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে একজনকে (পুরুষ) বলতে শোনা যায়, ‘ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে- বাংলাদেশ হাসবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু। হানিফ সাহেবের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। কামারুল ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। ষড়যন্ত্র করে জঙ্গিবাদীরা আমার নেত্রীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, বাংলাদেশ থেকে যেতে বাধ্য করেছে। আমরা এই জুলাই মানিনা, কখনও মানবো না। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, আমরা শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ইনশাল্লাহ ওয়েলকাম করে নিয়ে আসবো’।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আলমাস হোসেন জানান, এটি পরিকল্পিত ঘটনা। এমন ঘটনা যে ঘটবে তা আগেই তারা জানতে পেরেছিলেন। বিয়টি তারা পুলিশকেও জানিয়েছিলেন।

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার, কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।

  • সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দুই এমপির মতবিনিময়

    সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দুই এমপির মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম পাবিরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহা: ইজ্জতউল্লাহ ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহা: আব্দুল খালেক।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

    মতবিনিময়ে জেলার উন্নয়ন, জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা পরিষদের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের খোঁজখবর নিতেই দুই সংসদ সদস্য জেলা পরিষদে যান বলে জানা গেছে।

    মুহা: ইজ্জতউল্লাহ ও মুহা: আব্দুল খালেক দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য। এ কারণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কাজগুলোতে আরও সমন্বয় ও গতিশীলতা আনতে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    আলোচনায় জেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম, চলমান ও সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্প এবং জেলার পানি ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এসব কাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন দুই সংসদ সদস্য।

    এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম পাবির জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে জেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। জেলা পরিষদকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    মতবিনিময়কালে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

    রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিত উদ্যোগে সাতক্ষীরার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

  • চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ আটক-৩

    চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ আটক-৩

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ তিন জনকে আটক করেছেন পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে চৌগাছা থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করেন।

    আটক আসামীরা হলেন উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিন্টু (৫০) তিনি জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দীনের ছেলে। উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাশিলা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি রহমত আলী (৭০), তিনি লক্ষীপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে। আটক অপর আসামী উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের মৃত লাল চাঁদ নেলো মন্ডলের ছেলে ইদ্রিস ইল্লি মন্ডল (৪৫) ইদ্রিস ইল্লি মন্ডল (৪৫) একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামী। তাকে পুলিশ ঢাকা বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন,মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু  জিপিএ-৫ পেয়েছে  হতে চাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু  জিপিএ-৫ পেয়েছে  হতে চাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি। সে জীবনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চাই। ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • আলমডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৮

    আলমডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আট আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ও সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম নিয়ামুল হকের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীরামপুরের জামালের ভাঙা ব্রিজের ওপর অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক রবিউল আলমডাঙ্গার বক্সীপুর গ্রামের মরহুম নবীরন বেগম ও কুরবান মিস্ত্রির ছেলে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

    অপর এক অভিযানে হাপানিয়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: মোরশেদ আলী গোকুলখালী বাজারের পশুহাটের সামনে থেকে পাঁচ গ্রাম গাঁজাসহ মো: শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতার শরিফুল দামুড়হুদার গোপিনাথপুর খালপাড়ার মরহুম আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    এছাড়া অন্যান্য অভিযানে মাদক মামলার আসামি কোর্টপাড়ার মো: আবু জাফর বাপ্পা (৩৭) এবং মারামারি মামলার এজাহারনামীয় আসামি জেহালা দায়পাড়ার মো: ইব্রাহিম হোসেনকে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশ।

    একই সময়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত চার আসামি কুমারী মাস্টারপাড়ার মো: শাকের আলী, নতিডাঙ্গার মো: আমিরুল ইসলাম, আনন্দধামের মো: রনি মালিথা (২১) এবং একই এলাকার পরেশ কুমার দাশকে গ্রেফতার করা হয়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাঈল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদক ও অপরাধ নির্মূলে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বেনাপোলে ৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বেনাপোলে ৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বেনাপোলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৭ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য উইনসেরেক্স কফ সিরাপ (ফেনসিডিল)সহ মো. সুজন মোড়ল (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

    সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের মো. আওয়ালের বাড়ির গেটের সামনে পাকা সড়ক থেকে সুজন মোড়লকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের শফি মোড়লের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই (নিরস্ত্র) মো. সবুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে সুজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছে থাকা সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে ৯৭ বোতল উইনসেরেক্স কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৯ হাজার ৭০০ মিলিলিটার সিরাপ ছিল। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ছাড়া সুজনের পরিহিত লুঙ্গির ডান কোচড় থেকে একটি ভিভো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ফোনটি মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত হতো।

    উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ সুজনকে থানায় নিয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুজন মোড়লের বিরুদ্ধে মাদক মামলা করা হয়েছে। তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয় সূত্রে করা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    আজিজুর রহমান, চৌগাছা (যশোর)

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি।

    ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রাম থেকে রাজাবুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্রয়লার মুরগির খামারি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।

    সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ খামারে অবস্থানকালে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    নিখোঁজ রাজাবুল ইসলাম ওসমানপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বাড়ির পাশের নিজের ব্রয়লার মুরগির খামারে পাহারার জন্য অবস্থান করছিলেন রাজাবুল। রাত আনুমানিক ২টা ৩৩ মিনিটে তিনি মেসেঞ্জারে স্ত্রীকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে দ্রুত মেজো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে খামারে আসতে এবং আশপাশে কেউ আছে কি না তা দেখতে অনুরোধ করেন।

    বার্তায় রাজাবুল জানান, তিনি ভয় পাচ্ছেন এবং খামারের আশপাশে লোকজনের ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। তবে রাত গভীর হওয়ায় তার স্ত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে ওই সময় তিনি বার্তাটি দেখতে পাননি।

    সোমবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজটি দেখতে পান রাজাবুলের স্ত্রী। পরে তিনি দ্রুত খামারে গিয়ে স্বামীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। স্বজনরা সেখানে গিয়ে রাজাবুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পরনের কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রাজাবুলের সন্ধান পাননি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজের পর ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    রাজাবুলের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং নিখোঁজের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

  • আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    বাবা-মায়ের আদরের ‘লাল মিয়া’ই এস এম সুলতান

    নড়াইল প্রতিনিধি

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এসএম সুলতান। বাবা মেছের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। দরিদ্র সংসারে জীবনযুদ্ধ করে বড় হয়েছেন সুলতান। বাবা-মা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘লাল মিয়া’ নামে।

    অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ এসএম সুলতানকে জন্মভূমি নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

    চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

    চিত্রা নদীর পাড়ের ‘লাল মিয়া’র রঙ তুলিতে দারিদ্র-ক্লিষ্ট ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভিন্ন রকম মর্যাদা পেয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষগুলোকে এঁকেছেন পেশিবহুল করে। শক্তিশালী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছেন তারা।

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ছবি আঁকার পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পটু ছিলেন। পুষতেন বিষধর সাপ, বেজি, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণি।

    বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুর পর তার বাসভবন ঘিরে গড়ে উঠেছে সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা, শিশুস্বর্গ, আর্ট কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার হরেক রকম ফুলসহ প্রকৃতিঘেরা পরিবেশ সুলতানপ্রেমীদের মুগ্ধ করে সব সময়। এছাড়া শান্ত-স্বচ্ছ প্রকৃতিঘেরা চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতানের ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ তথা দ্বিতলা নৌকাটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নড়াইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-কোরআন খতম, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আর্টক্যাম্প ও শিশু-কিশোরদের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারকে ‘এস এম সুলতান সম্মাননা পদক’ প্রদানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ অনুষ্ঠানের এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

    এদিকে, সুলতান সংগ্রহশালার উন্নয়নসহ এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করতে বিভিন্ন কাজের প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার এই কর্মকর্তা।

  • কুষ্টিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং, জনজীবনে অতিষ্ঠ

    কুষ্টিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং, জনজীবনে অতিষ্ঠ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়ছে। কুষ্টিয়া ৬ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষও বিদ্যুতের লোডশেডিং এ নাকাল।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    বাংলাদেশের বৃহত্তম চালকল কুষ্টিয়া খাজানগরের ব্যবসায়িকরা বলেন, এখন আমাদের অটো রাইস মিলে ধান ভাঙা চলছে। মিলে একবারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মণ ধান সেদ্ধ হয়। এ সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো ধানের মান নষ্ট হয়ে যাবে। মানে চাল ভেঙে খুদ হয়। এ জন্য অবশ্য মিলে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর রাখা হয়। কিন্তু জেনারেটর যেভাবে চলছে, এতে আমাদের ব্যয় কোন পর্যায়ে যাবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।

    কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিরপুর জোনাল অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর প্রায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, পোল্ট্রী খামারী ও চাতাল মালিকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

    একজন বিদ্যুতের কর্মকর্তা বলেন, কাগজ-কলমে সময়সূচি থাকলেও তা বাস্তবে মানা হচ্ছে না। কারণ জেলাতে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ না পাওয়াই সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাম্প্রতিক এমন লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়াবাসী। এর মধ্যে অনেক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং পোহাতে হচ্ছে মানুষদের। সারাদিন এক ঘন্টা বিদ্যুৎ দিলেও ৩ ঘন্টা লোডশেডিং দিচ্ছে।

    কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, আসলে আমরা যে বরাদ্দ পাচ্ছি সেই বরাদ্দে সব এলাকায় বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লোডশেডিং হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কমে আসবে। এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে এমন লোডশেডিং চলতে থাকায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

  • সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তাঁর এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে এলজিইডির একটি সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাবিবুল ইসলাম হাবিব নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

    তাঁর দাবি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট কেটে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও অভিযোগ করেন, প্রতিটি ব্যালটে ২০০ থেকে ৩০০ ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের এজেন্ট বানিয়ে ভোট কাটা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

    এ ছাড়া মুড়ির প্যাকেট ও বাদামের মধ্যে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাতের আঁধারে দরিদ্র মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণ করে ভোটে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেন তিনি।

    হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান। ১০ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি।

    প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে না। মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান একজন ‘মজলুম জননেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা’। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অতীতের একটি ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও নৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র। জনগণের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা থেকেই একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    মাওলানা কামারুজ্জামান বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে জনগণের সমর্থন অর্জন বা পরিবর্তন করা যায় না। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবতা ও কাজের মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    এদিকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এর জবাব দিয়েছেন অধ্যক্ষ বিপু। তিনি দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং একজন ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন মিথ্যাচার, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননের পর্যায়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা উচিত। জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

  • যশোর বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে অবনতি, পাসের হার ৭.৪২ শতাংশ

    যশোর বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে অবনতি, পাসের হার ৭.৪২ শতাংশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। এবার বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পয়েন্ট।

    একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪১৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৯৪১ জন। এর আগে ২০২৪ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী।

    সোমবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. হোসেন আলী ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দুর্বলতার কারণেও পাসের হার কমেছে। তিনি বলেন, উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি।

    ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট।

    জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে ২০ হাজার ৭৬১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৪১৯ জন এবং চলতি বছর ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন এবং মেয়ে ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন।

    অপরদিকে, ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৫৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ছিল ৪৬ হাজার ৫৮৭ জন এবং মেয়ে ৫৫ হাজার ৭৩২ জন।

  • প্রেমের টানে যশোরে তরুণীর বাড়িতে হাজির চীনা যুবক

    প্রেমের টানে যশোরে তরুণীর বাড়িতে হাজির চীনা যুবক

    অনলাইনে পরিচয় মাত্র তিন মাসের। শুরুতে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ ছিল বন্ধুত্বের মধ্যেই। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। দূরত্ব, ভিন্ন সংস্কৃতি কিংবা ধর্ম কোনো কিছুই তাদের বন্ধুত্বে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সেই বন্ধুত্বের টানেই চীন থেকে যশোরের মনিরামপুরের প্রত্যন্ত হুরগাতী গ্রামে ছুটে এসেছেন ৪২ বছর বয়সী ইউ লিয়াংলিয়াং।

    রোববার(৯ আগস্ট) সকালে ওই গ্রামে তার আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়িটিতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। অপরিচিত এক বিদেশি নাগরিককে দেখতে স্থানীয় অনেকেই বাড়ির আশপাশে জড়ো হন।

    ইউ লিয়াংলিয়াং পেশায় একজন জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশলী। তার জন্ম চীনের শানডং প্রদেশে। পূর্ব উপকূলীয় এই প্রদেশটি পীত সাগর ও বোহাই সাগরের তীরে অবস্থিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে ইউ লিয়াংলিয়াং বড়। তার বাবা ইউ সংউই এবং মা কিউই জুয়েজুয়ান। পাসপোর্টে থাকা তথ্য ও ভাষাগত অ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাট’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওই তরুণীর সঙ্গে ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাস ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছিল। একপর্যায়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

    ২০ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে পরিচিত কেউ না থাকায় অনলাইনে পরিচিত ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে মনিরামপুরের হুরগাতী গ্রামে আসেন ইউ লিয়াংলিয়াং। লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে তিনি ওই তরুণীর বাড়িতে পৌঁছান।

    ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু বন্ধুত্বের টানেই ওই বাড়িতে আসেননি। পরিবারের সম্মতি পেলে ওই তরুণীকে বিয়ে করার ইচ্ছাও ছিল তার। তবে তরুণীর বয়স কম হওয়ায় তার সেই আশা পূরণ হয়নি।

    এদিকে হঠাৎ করে এক বিদেশি নাগরিক বাড়িতে চলে আসায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে তরুণীর পরিবার। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের নানা কৌতূহল ও আলোচনা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

    তরুণীর মা বিউটি খাতুন ও দাদি আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরেই বন্ধুত্বের টানে ওই চীনা নাগরিক তাদের বাড়িতে এসেছেন। তবে তার আকস্মিক আগমনে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

    ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের আকস্মিক আগমনকে কেন্দ্র করে রোববার (৯আগস্ট) সকাল থেকেই হুরগাতী গ্রামের ওই বাড়িতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়। বিদেশি নাগরিককে একনজর দেখতে অনেকেই সেখানে ভিড় করেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং পর্যালোচনা করা হয়।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ রাভেজ রাসেল।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাসুদ রাভেজ রাসেল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। মাদক, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ভূমি ও স্বাস্থ্যসেবা এবং রাস্তাঘাটসহ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

    সভায় চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক-উজ-জামান এবং চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া জেলার চার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বাজার ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

    সভা শেষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় নিম্নমানের চারা সরবরাহে তদন্ত কমিটি গঠন

    চুয়াডাঙ্গায় নিম্নমানের চারা সরবরাহে তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নিম্নমানের গাছের চারা ও বাঁশের খুঁটি সরবরাহের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে কৃষি বিভাগের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করে। প্রথম দিনে কমিটির সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে গিয়ে জেলার চার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য নেন। পরে চার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় ও বৃক্ষরোপণ করা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

    তবে একদিনে জেলার চার উপজেলায় সরেজমিন তদন্ত কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও দামুড়হুদা উপজেলায় সরেজমিন তদন্ত শুরু করে।

    জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণ এবং চারা, সারসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়।

    কর্মসূচির শুরুতেই নিম্নমানের চারা ও বাঁশের খুঁটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান ও যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হাসান।

    অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক-উজ-জামানকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আতা ইলাহী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা।

  • শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকে নেমেছে। পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়।

    সারাদেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।

    সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে নয় হাজার ২০০ কেজি (৯.২ টন), মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২.২২ টন), বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজর কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

    এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০.৪২ টন বা ৮০ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে।

    মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশী টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরো কমে আসবে। তবে কাস্টমসের নানা জটিলতায় ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুণতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রোববার সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে দাম কমে ১০০-এর নিচে নেমে আসবে।

    ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালান বন্দরে ঢোকার সাথে সাথে তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোই দ্রুত দাম কমে আসছে। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সি অ্যান্ড এফ অ্যাজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সাথে সাথেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরো কাঁচা মরিচবাহী অনেকগুলো ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

  • যশোরে ‘সবুজ সোনা’ চন্দনের বাণিজ্যিক বিপ্লব

    যশোরে ‘সবুজ সোনা’ চন্দনের বাণিজ্যিক বিপ্লব

    যশোরের বাগমারা পাড়া বিসমিল্লাহ গ্যারেজ। শহরের ব্যস্ত পরিবেশের ভেতরেই এক বাড়ির একান্নবর্তী পরিবারের তিনটি ছাদে চোখ জুড়িয়ে যায় অসাধারণ সবুজের সমারোহ দেখে। সেখানে ছোট-বড় গামলা আর বিশেষ মাটিতে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে বিরল প্রজাতির গাছ। সাধারণ দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যায় একটি বিশেষ উদ্ভিদের কাছে। এটি আর দশটি বনসাই বা সাধারণ গাছ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম দামি এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ ‘শ্বেতচন্দন’।


    এক ছাদ বাগানেই লালন-পালন করা হচ্ছে প্রায় ৩৫০টি দুষ্প্রাপ্য শ্বেতচন্দন গাছ! এ যেন এক নীরব ভেষজ বিপ্লব, যা যশোরকে ছাড়িয়ে পুরো দেশের অর্থনীতিতেই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
    এই অসাধারণ উদ্যোগের পেছনের কারিগর ৪৫ বছর বয়সী সাজ্জাদ হোসেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বনসাইয়ের প্রতি তার ঝোঁক ছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রবাস জীবন কাটাতে মালয়েশিয়া গিয়ে এক চীনা ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে সাজানো বনসাই দেখে অনুপ্রেরণা পান। ২০১০ সালে দেশে ফিরে কৃষিতে নামলেও প্রথমে সফলতা পাননি।


    তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ২০১৩ সালে তিনি বট, পাকুড় ও অশ্বত্থের চারা দিয়ে বনসাই তৈরি শুরু করেন। এরপর যশোর বন বিভাগের ঝুমঝুমপুর নার্সারি থেকে মাত্র ১০টি শ্বেতচন্দনের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাবলিক লাইব্রেরির বই-পুস্তক ও ম্যাগাজিন ঘেঁটে নিজেই তৈরি করেন গাছের জন্য উপযুক্ত বিশেষ মাটি।


    গাছের রোগবালাই দূর করতে কেমিক্যাল কীটনাশকের বদলে তিনি ব্যবহার করেন মেহগনি পাতা পচা পানি ও লেবুর রসের পরিবেশবান্ধব মিশ্রণ। সেই ১০টি চারা থেকে আজ তার ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের সাড়ে ৩০০ শ্বেতচন্দনের বনসাই এবং নার্সারিতে রয়েছে ২-৩ বছর বয়সী প্রায় ৪,০০০ চারা।


    ধারণা করা হয়, চন্দনের আদি নিবাস ইন্দোনেশিয়ার তিমুর দ্বীপে হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এর ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। রামায়ণ, মহাভারত এবং কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও (খ্রিস্টপূর্ব-২০০) চন্দনের উল্লেখ পাওয়া যায়।


    বিশ্ববাজারে শ্বেতচন্দনকে বলা হয় ‘সবুজ সোনা’। একটি পরিণত শ্বেতচন্দন গাছ (২০ বছর বয়সী) প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি কাঠ দেয়, যার প্রতি কেজির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সমাজ বন বিভাগ যশোরের তথ্যমতে, এক একর জমিতে চন্দন চাষে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫-২০ বছর পর আয় হতে পারে ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত!
    পেনিসিলিন আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে গনোরিয়া রোগের চিকিৎসায় চন্দনের তেল ব্যবহৃত হতো। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ব্রঙ্কাইটিস, চর্মরোগ, ঘামাচি, বসন্ত এবং হজমের সমস্যায় এর ব্যবহার প্রাচীন। রূপচর্চায় এর জাদুকরী উপকারিতা তো সর্বজনবিদিত।


    এছাড়া সনাতন ধর্মে পূজা-অর্চনা ও শেষকৃত্যে চন্দন কাঠ অপরিহার্য। মুসলিম ঐতিহ্যে সুগন্ধি আতর তৈরিতে চন্দনের তেল অনন্য উপাদান।
    সম্প্রতি যশোর জেলা বন বিভাগ আয়োজিত বৃক্ষমেলায় প্রথমবারের মতো শ্বেতচন্দন নিয়ে হাজির হন সাজ্জাদ হোসেন। মেলার দর্শনার্থীদের মধ্যেও চন্দন কেনা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। মেলায় শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্যোক্তার পুরস্কারও জিতে নেন সাজ্জাদ হোসেন।


    যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র সবুজ বৈরাগী জানান, মাত্র ৫০ টাকায় ৪৪ দিন বয়সী চারা কিনে তিনি ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে এটিকে দেখছেন। অন্যদিকে অরনিমা নামের এক দর্শনার্থী স্মৃতি এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ থেকে কেনা চারাটি ২০ বছর পর নিজের পূজায় ব্যবহারের আশা ব্যক্ত করেন।


    সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্য ১৪ বছর বয়সী ২টি বিশেষ চারাসহ মোট ২,০০০টি চারা প্রস্তুত রেখেছেন। সরকারি ভবনের অব্যবহৃত জায়গায় চন্দন রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিজ কাঁধে নেওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছেন এই উদ্যোক্তা।


    বাংলাদেশ চন্দন চাষের জন্য অনুকূল হলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা ও সুরক্ষার অভাবের কারণে গাছটি দেশে কিছুটা বিলুপ্তপ্রায়। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এস.এম আইয়ূব হোসেন এবং সহকারী বন সংরক্ষক অমিতা মন্ডল এই খাতের বেশ কিছু দিক তুলে ধরেন। এরমধ্যে-
    ‘দীর্ঘমেয়াদী ধৈর্য ও ঋণ সহায়তা: চন্দন গাছ থেকে প্রথম ৫-৭ বছর কোনো আর্থিক আয় আসে না। তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের টিকে থাকতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া জরুরি’।
    সুরক্ষা ও জাতীয় নীতি: মূল্যবান গাছ হওয়ায় চুরির ঝুঁকি থাকে। তাই উপযুক্ত আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।


    গবেষণা ও টিস্যু কালচার: জেনেটিক রিসোর্স সংরক্ষণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চন্দনের ওপর উচ্চতর গবেষণা এবং উন্নত টিস্যু কালচারের সম্প্রসারণ ঘটানো দরকার।
    একটি ছোট্ট চারা-যার আজকের দাম মাত্র ৫০ টাকা, সঠিক পরিচর্যা ও ২০ বছরের ধৈর্য শেষে সেটিই হতে পারে লাখ লাখ টাকার জাতীয় সম্পদ। সাজ্জাদ হোসেনের মতো নিবেদিত প্রাণ উদ্যোক্তারা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শ্বেতচন্দনের এই ‘সবুজ সোনা’ বিপ্লব বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি।

  • কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের অফিসে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাবকে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মোঃ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক।

    আরও বক্তব্য রাখেন খোকসা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওয়াজেদ বাঙালি ও কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের রাজী উদ্দিন আহমেদ শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে অনেক তরুন শিল্পী জুলাইয়ের উপরে আবেগঘন সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেন।

  • জলাবদ্ধতার বুকে সবুজ বিপ্লব

    জলাবদ্ধতার বুকে সবুজ বিপ্লব

    খুলনার বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধ থাকে। বর্ষা এলেই মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, দীর্ঘদিন জমিতে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে সবজির চারা উৎপাদন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ সময়মতো মানসম্মত চারা না পেলে কৃষকদের মৌসুমি সবজি চাষও ব্যাহত হয়। এমন বাস্তবতায় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে পলি নেট হাউস প্রযুক্তি।


    একসময় যেখানে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের দূর-দূরান্ত থেকে চারা সংগ্রহ করতে হতো, সেখানে এখন স্থানীয়ভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের সবজির চারা। শুধু নিজের এলাকার চাহিদা পূরণই নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের কাছেও নির্ভরযোগ্য চারার উৎস হয়ে উঠছে এসব পলি নেট হাউস। ফলে জলাবদ্ধতাকে সীমাবদ্ধতা নয়, বরং নতুন সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার এক সফল উদাহরণ তৈরি হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলায়।


    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পলি নেট হাউস হলো মোটা ও টেকসই পলিথিন দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের সুরক্ষিত ঘর। এর ভেতরে লোহার তৈরি ট্রে বা নেটের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজির বীজ বপন করা হয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত হওয়ায় চারা রোগবালাই, অতিবৃষ্টি কিংবা ঝড়ো আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে চারা সমানভাবে বেড়ে ওঠে এবং কৃষকের হাতে পৌঁছায় উন্নতমান নিশ্চিত করে।


    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, একটি পলি নেট হাউসে একসঙ্গে এক লাখেরও বেশি চারা উৎপাদন করা সম্ভব। সঠিক ব্যবস্থাপনায় বছরে আট থেকে দশ লাখ পর্যন্ত চারা উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে উপজেলার খর্ণিয়া ও আটলিয়া ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ব্যক্তি উদ্যোগে তিনটি পলি নেট হাউস গড়ে উঠেছে। এসব হাউসে প্রধানত বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।


    তার মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় এ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মানসম্মত চারা উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা জলাবদ্ধতার সময়ও চারা নিরাপদ থাকে। ফলে কৃষক নির্ধারিত সময়েই চারা হাতে পান এবং মৌসুমি সবজি চাষে কোনো বিলম্ব হয় না।
    ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা তাপস সরকার এ পরিবর্তনের অন্যতম সফল মুখ। তার প্রতিষ্ঠিত রুদ্রনীল এগ্রি নার্সারি এখন বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের কাছে পরিচিত একটি নাম। উন্নতমানের সবজির চারা উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেননি, স্থানীয় কৃষকদের জন্যও নির্ভরযোগ্য চারার উৎস গড়ে তুলেছেন।


    তাপস সরকার ২০১৭ সাল থেকে সবজির চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তবে ২০২১ সালে সরকারি সহযোগিতায় পলি নেট হাউস স্থাপনের পর তার নার্সারির কার্যক্রম নতুন গতি পায়। বর্তমানে তিনি চুইঝাল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, টমেটো, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির উন্নতমানের চারা উৎপাদন করছেন।
    তার নার্সারি থেকে এখন ডুমুরিয়া ছাড়াও যশোরের কেশবপুর, নড়াইল এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক মৌসুমভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী চারা সংগ্রহ করেন। কৃষকদের দাবি, এখান থেকে সংগ্রহ করা চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় মাঠে রোপণের পর ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে।


    তাপস সরকার বলেন, সরকারি সহায়তায় পলি নেট হাউস স্থাপনের ফলে সারা বছর উন্নতমানের চারা উৎপাদন অনেক সহজ হয়েছে। এ কাজে তার স্ত্রী বিজয়া সরকার সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন। পারিবারিক উদ্যোগেই তারা কৃষিভিত্তিক একটি সফল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
    তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা আরও বাড়ানো হলে বিল ডাকাতিয়াসহ জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি পরিমাণে মানসম্মত চারা উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমবে এবং সময়মতো চারা পাওয়ার নিশ্চয়তা বাড়বে।


    স্থানীয় কৃষকদের মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় সবজি চাষের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল মানসম্মত চারার সংকট। এখন স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। সময়মতো চারা পাওয়ায় কৃষিকাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী করা যাচ্ছে এবং ফলনও বাড়ছে।

  • ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

    রোববার (৯ আগষ্ট) দুপুর বেলা সাড়ে ১১টা দুপুর থেকে ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে ইউএনও কার্যালয়ের কেচিগেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দিলে দুপুর একটার দিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণের আলটিমেটাম দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন আন্দোলনকারীরা।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংরক্ষিত মহিলা এমপির প্রতিনিধি সাজেদা পারভিন, পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর, কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা, কুমারখালী পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোয়াদসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকশ ছাত্রদল ও ছাত্রজনতা অংশ নেন।

    এ সময় পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর বলেন, বিএনপির ফ্যামিলিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল করে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। না হলে দুর্বার আন্দোলন করা হবে।

    উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার অপু জানান, ছাত্রদলের যোগ্য ছেলে থাকলেও ফ্যামিলি কার্ডে শুমারিতে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ এবং ইউএনওর কার্যালয ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও ফারজানাকে অপসারণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, শুমারির ফলাফল বাতিল ও স্বেচ্ছায় ইউএনকে পদত্যাগ করতে হবে। না হলে আগামীকাল (সোমবার) সকাল ১০টায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাতে হটাতে পেরেছি। সেখানে আপনি ( ইউএনও) কিছুই না। আপনি (ইউএনও) দ্রুত কুমারখালী ত্যাগ করেন। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ধরে ধরে আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়োগ দিয়েছে ইউএনও। এই ইউএনওকে আর আমরা চাই না।

    এরপর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ে দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইউএনও ফারজানা আখতার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তথ্য প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীরা চলে যান।

    তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, আন্দোলনকারীদের বলা হয়েছে, তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ের সমস্যা সমাধানে ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।