চালকলের বর্জ্যে
চালকলের ছাই, বর্জ্য, পলিথিন ও দূষিত পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার খাজানগর-কবুরহাট এলাকার কৃষিজমি ও জনবসতি। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দেশের বৃহত্তম চালের মোকাম হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় পরিবেশ দূষণ বন্ধে মিল মালিকদের দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তা পেরিয়ে গেছে দুই মাসের বেশি সময়। কিন্তু দূষণ পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ২৯ জুলাই খাজানগরের চালকলগুলোতে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে অভিযান চালায় পরিবেশ রক্ষা কমিটি। এ সময় দূষণ নিয়ন্ত্রণে মিল মালিকদের দুই মাসের সময় দেওয়া হয়। অভিযানে মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল ওয়াজিউর রহমান মিল মালিকদের সতর্ক করে বলেন, এভাবে পরিবেশ দূষণ করা যাবে না। মিল মালিকদের সদিচ্ছার অভাবে যেভাবে দূষণ হচ্ছে, দুই মাস পর যেন আর এমন পরিস্থিতি দেখতে না হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগরসংলগ্ন স্বর্গপুর গ্রামের কৃষক মন্টু সাধু বলেন, চালকলের ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, নোংরা পানি ও ছাই এসে পড়ছে তাঁদের আবাদি জমিতে। এতে জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে প্রতি বিঘায় ২৫ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন ১০ মণও পাওয়া যাচ্ছে না।
মন্টু সাধুর অভিযোগ, মিল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা বলে, ‘ময়লা পানি ও ছাই এভাবেই যাবে।’ কৃষি কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি তাঁরা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেও মিল মালিকদের রোষানলে পড়তে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
খাজানগর এলাকার বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষি কর্মকর্তা এসে মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।’
এলাকার গৃহবধূ শ্যামলী খাতুন বলেন, ‘ছাই ও দূষণের কারণে সন্তানদের নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মিল মালিকদের সময় বেঁধে দেওয়া হলেও সেই সময় পার হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং ভোগান্তি বেড়েছে।’
কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘যেসব মিল মালিকের বিরুদ্ধে ছাই ছড়ানো ও বায়ুদূষণের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পরিবেশদূষণ বন্ধে নিয়মিত পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দূষণকারী চালকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ২৭টি মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে মিলগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—অতি দূষণকারী, মধ্যম দূষণকারী, নিম্ন দূষণকারী ও গ্রহণযোগ্য। এর মধ্যে অতি দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
