অর্থ ও বাণিজ্য

  • কক্ষপথ জয় জার্মান রকেটের, ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    কক্ষপথ জয় জার্মান রকেটের, ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    জার্মান স্টার্টআপ ইসার অ্যারোস্পেস শনিবার আর্কটিক নরওয়ের একটি কেন্দ্র থেকে মহাকাশে তাদের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। এর মাধ্যমে নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইউরোপ।

    মনুষ্যবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি ছিল মহাদেশীয় ইউরোপ থেকে কক্ষপথে পৌঁছানো প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। এই মহাদেশীয় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মহাকাশ অভিযানের ক্রমবর্ধমান বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব চেয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসার বলেছে, ‘আমরা কক্ষপথে! ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছি।’

    নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মাইরসেথ এক বিবৃতিতে এই উৎক্ষেপণকে ইউরোপের মহাকাশ উৎক্ষেপণ শিল্পের জন্য ‘একটি বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এর ফলে ইউরোপের মহাকাশে প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে।

    মাইরসেথ বলেন, আন্দোয়া থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন বর্তমান অস্থির সময়ে নরওয়ে ও ইউরোপের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।

    মহাকাশে স্বনির্ভরতা চায় ইউরোপ

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মার্চ মাসে ইসার-এর উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, যা ইউরোপের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত বৈশ্বিক ব্যবস্থাটি এখন পরিবর্তিত হচ্ছে।

    ইসার-এর তথ্য অনুযায়ী, নরওয়ের আর্কটিক আন্দোইয়া স্পেসপোর্ট থেকে উৎক্ষেপিত মনুষ্যবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি, যা ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোডের জন্য ডিজাইন করা, পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট এবং একটি উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা বহন করছিল।

    নরওয়ের আর্কটিক অঞ্চলের আন্দোয়া স্পেসপোর্ট থেকে উৎক্ষেপণ করা স্পেকট্রাম রকেটটি ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোড বহনের জন্য তৈরি। ইসার জানিয়েছে, এবারের মিশনে রকেটটি পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট এবং একটি উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষার সরঞ্জাম বহন করে।

    এটি ছিল ইসারের দ্বিতীয় রকেট উৎক্ষেপণ। প্রথম উৎক্ষেপণের ১৮ মাস পর এবার দ্বিতীয়বার রকেট পাঠানো হলো। ২০২৫ সালের মার্চে একই উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে প্রথম রকেটটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সমুদ্রে পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

    ইসার তখন জানিয়েছিল, রকেটটি বিধ্বস্ত হলেও মিশন থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় সেটিকে সফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, শনিবারের উৎক্ষেপণ ছিল রকেটটির সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পেলোড বহন করে পরিচালিত প্রথম মিশন।

    স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং ফ্রান্সের এয়ারিয়ানগ্রুপ অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। এয়ারিয়ানগ্রুপ হলো এয়ারবাস ও সাফরানের যৌথ উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ আমেরিকার ফরাসি গায়ানায় অবস্থিত মহাকাশকেন্দ্র ব্যবহার করে।

    ইউরোপের মহাকাশ উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় সুইডেনের এসরেঞ্জ উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের স্যাক্সাভর্ড স্পেসপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মহাকাশে ইউরোপের নিজস্ব ও স্বাধীন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা তৈরি করা।

    ইসার গত সপ্তাহে জানিয়েছে, নতুন রকেট তৈরি এবং পরীক্ষামূলক ও উৎক্ষেপণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসা) থেকে প্রায় ২০ কোটি ইউরো (২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার) অর্থায়ন পেয়েছে। এ ছাড়া জার্মান প্রতিষ্ঠানটি কানাডায় দ্বিতীয় একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্রও নির্মাণ করছে।

  • বেসরকারি খাতে জ্বালানির আমদানি-বিপণন ঝুঁকিপূর্ণ

    বেসরকারি খাতে জ্বালানির আমদানি-বিপণন ঝুঁকিপূর্ণ

    বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের নীতিমালা তৈরির আগেই সরকারকে সতর্ক করে প্রতিবেদন দিয়েছে বিপিসি। সব বিপণন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা বিপিসির বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ১১ সদস্যের বিশেষ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতে দেশের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকি হতে পারে।বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬ তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। ফলে বিপিসির এই প্রতিবেদন নতুন নীতিমালায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এই গোপনীয় প্রতিবেদনের একটি কপি আমার দেশ পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল) গত ২৪ মে এবং বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ও পি সি গত বছরের ১১ নভেম্বর পরিশোধিত জ্বালানি তেল (ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি করে বিক্রয় ও বিপণন ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপিসি ও কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানকে আহ্বায়ক ও ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মো. ইশতিয়াক হোসেনকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑবিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন, পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিম, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা অয়েলের এমডি মো. মফিজুর রহমান এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি মো. শাহীরুল ইসলাম। গত ১৯ জুলাই প্রতিবেদনটি তৈরির পর পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে।

    এতে উল্লেখ করা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৮-৭০ লাখ টন। বিপিসির আওতাধীন একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল পাওয়া যায়। এর বাইরে স্থানীয় কনডেনসেট এবং নাফথা নির্ভর সরকারি ও বেসরকারি মিনি রিফাইনারিগুলো থেকে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত দরে সংগ্রহ করা হয়। অবশিষ্ট বিপুল পরিশোধিত জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো হয়।

    দেশে মোট চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ চাহিদা ডিজেলের। সেই হিসেবে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৫ দশমিক ৫০ লাখ টন। প্রতিবছর এ চাহিদা ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বছরে প্রায় ছয় দশমিক ৫০ লাখ টন ডিজেল ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে, এক লাখ টন বেসরকারি মিনি রিফাইনারি বা ফ্রাকশনেশন প্লান্টগুলো থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৮ লাখ টন ডিজেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

    তবে ৩০ লাখ টন প্রসেস করার ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন রিফাইনারি ‘ইআরএল-টু’ স্থাপন শেষ হলে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমবে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর জন্য বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) এবং হাইব্রিড গাড়ির উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পরিবর্তে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইন অনুযায়ী দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের এখতিয়ার একচ্ছত্র সরকারের তথা বিপিসির। বেসরকারি এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে এ সংক্রান্ত অনুমতি দেওয়া হলে এটি নজির হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিতে হতে পারে। বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত হলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে। জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এসব প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ হয়ে পড়লে সরকার এলপিজি সিন্ডিকেটের মতো পরিশোধিত জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে এবং মার্কিন ডলারের সরবরাহ সংকট হলে বেসরকারি অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি বন্ধ রাখবে। ফলে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হবে। চলমান ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে বিপিসি ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। কিন্তু বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করতে রাজি হবে না।

    এর বাইরে বেশকিছু কৌশলগত-অর্থনৈতিক জটিলতা এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছে বিপিসির কমিটি। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়বে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে নাও কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানিকারকরা আমদানি হ্রাস বা বিলম্বিত করতে পারে। ওভার ইনভয়েস ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মুদ্রা পাচারের আশঙ্কা থাকে। কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনকল্যাণের চেয়ে ব্যবসায়িক মুনাফাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতে ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বিপিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে জ্বলন্ত উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। দেশটি তাদের জ্বালানি বাজার আংশিক বেসরকারিকরণ করে লঙ্কা আইওসি (এলআইওসি) এবং অন্য বিদেশি ও বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করে। ফলে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বেসরকারি আমদানিকারকরা ডলার সংকটের কারণে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। সরকারি সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশন একাই চাপ সামলাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়, যার ফলে দেশটিতে মাইলের পর মাইল তেলের লাইন, গণপরিবহন বন্ধ হওয়া এবং ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

    পাকিস্তানে জ্বালানি আমদানির বড় অংশ বেসরকারি অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর হাতে ন্যস্ত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বা ডলারের রেট পরিবর্তন হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সেখানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত ‘নো পেট্রোল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।

    ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সম্পূর্ণ জ্বালানি ও ইউটিলিটি খাত বেসরকারিতে ছেড়ে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পর বহু বেসরকারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এক বছরেই দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে যায় এবং লাখ লাখ পরিবার ‘জ্বালানি দরিদ্রতা’র শিকার হয়।

    বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দিলে কৃত্রিম সংকট এবং মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ১. সরকারের সঙ্গে নীতিগতভাবে মতদ্বৈততার উদ্ভব হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। ২. আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আভাস পেলে অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুতের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ৩. দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেল পাঠানো ব্যয়বহুল হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে সরবরাহ কমাতে বা বন্ধ করতে পারে। শুধু লাভজনক ও বড় শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহ সচল রাখার প্রবণতা দেখা যাবে। ফলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। ৪. জ্বালানি একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি হাতে গেলে সংকটের সময় সরকার অসহায় হয়ে পড়তে পারে। ৫. সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে জ্বালানিতে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। ৬. বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেলের বিপণন ও ব্যবস্থাপনা ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। ৭. বেসরকারি খাতের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও কয়েক দফা বাড়ানো হতে পারে। ওয়াসা বা পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাম্প চালাতে খরচ বাড়বে, যা পানির বিল বাড়িয়ে দেবে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ব্যয় বাড়বে। গরিব জনগোষ্ঠী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে। ৮. জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। ৯. জ্বালানির দাম একবার বাড়লে তার প্রভাবে বাজারের সবকিছুর দাম এমনভাবে বাড়ে যা সহজে আর কমে না।

    প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল), যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল) দেশব্যাপী নির্ধারিত মূল্যে বিভিন্ন গ্রেডের জ্বালানি পণ্য বিপণন করে আসছে। এসব কোম্পানির দেশব্যাপী জ্বালানি তেল মজুত, পরিবহন, সংগ্রহ ও বিপণনের ব্যাপক অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। জ্বালানি তেল মজুতে বিপণন কোম্পানির নৌভিত্তিক, রেলহেডভিত্তিক এবং সড়কপথ ভিত্তিক সর্বমোট ২৭টি ডিপো রয়েছে। ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে বিপিসির দেশব্যাপী ২৩৭৯টি ফিলিং স্টেশন, ৬৬৭টি প্যাকড পয়েন্ট ডিলার, ২৬৪০টি এজেন্সি, ১২৯টি মেরিন ডিলার, ৩১১১টি এলপিজি গ্যাস ডিলার এবং ১৭টি বাঙ্কার ডিলার রয়েছে। নৌপথ, রেলপথ ও সড়কপথে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা রয়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগে বিপিসি দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। চলমান ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা গেলেও বিপিসি ও সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চহারে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ অটুট রেখেছে, যা বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে সম্ভব হবে না। সংবেদনশীল ও কৌশলগত পণ্য বিবেচনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, বিপণন ও সরবরাহের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বা ক্ষমতা বিপিসির কাছে থাকা নিরাপদ।

    বিপিসি গত পাঁচ বছরে ৭১ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্বের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পেলে সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে।

    উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি মনে করে জনস্বার্থ রক্ষা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখা এবং চলমান ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে কৌশলগত পণ্য হিসেবে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের একক ক্ষমতা সরকারের কাছে সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩-এর আলোকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনে রিফাইনারি স্থাপন ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

  • দুশ্চিন্তা ও বিষাদ দূর করার দোয়া

    দুশ্চিন্তা ও বিষাদ দূর করার দোয়া

    اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি।

    অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্ত ও দুঃখ-বেদনা থেকে।

    হাম (الْهَمِّ): ভবিষ্যৎ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ বা এনজাইটি (Anxiety) কাজ করে।

    হাযান (الْحَزَنِ): অতীত নিয়ে যে দুঃখ, শোক বা ডিপ্রেশন (Depression) তৈরি হয়।

    আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) চিন্তাযুক্ত অবস্থায় এই দোয়া পড়তেন। (বুখারি, হাদিস : ২৮৯৩)

    একদা রাসুল (সা.) ভাষণ দেন এবং বলেন, তোমরা কৃপণতার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা কৃপণতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অর্থলোভ তাদের কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে তারা কৃপণতা করেছে, তাদের আত্মীয়তা ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে, তখন তারা তা-ই করেছে এবং তাদের পাপাচারে প্ররোচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে।

  • দেশে বড় ঋণ খেলাপিরা  শাস্তি পায় না

    দেশে বড় ঋণ খেলাপিরা শাস্তি পায় না

    ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিস্তি দিতে দেরি হলেই মোবাইল ফোনে এসএমএস, বাড়িতে নোটিশ, শেষে মামলা; অন্যদিকে হাজার কোটি টাকা নিয়ে বছরের পর বছর ফেরত না দেয়া অনেক ঋণ খেলাপিকে দেয়া হয় নীতি সুবিধা- বাংলাদেশে এমন অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায় অহরহই।

    ধাপে ধাপে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিশাল আকার ধারণ করেছে, যা ক্রমশই আরো বড় হচ্ছে।

    ২০০৯ সালে দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে তা দাঁড়ায় দুই লাখ এক হাজার কোটিতে।

    এই সংখ্যা ২০২৬ সালের মার্চে গিয়ে ঠেকেছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটিতে। অর্থাৎ দুই দশকেরও কম সময়ে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের বোঝা সাড়ে পাঁচ লাখ কোটির বেশি বেড়েছে।

    পরিস্থিতি সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তাসহ নানা পদক্ষেপের পরও খেলাপি ঋণের সবশেষ তথ্য আরো ভয়াবহ।

    ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপির স্থিতি ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বলেই দাবি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের একাধিক স্থানীয় গণমাধ্যমে।

    তবে খেলাপি ঋণের সমাধান হিসেবে কঠোর বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বদলে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আবারো ‘ছাড়’ দেয়ার নীতিতেই হাটছে।

    মূলত, ছাড় দিয়েই খেলাপি ঋণগ্রস্তদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এই যুক্তি কতটা কাজে আসবে?

    অর্থনীতিবিদদের অনেকে বলছেন, বর্তমানে দেশের আর্থিক খাতের যে ভঙ্গুর অবস্থা তাতে খেলাপি ঋণের টাকা উদ্ধারে, খুব বেশি বিকল্প কৌশল নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে।

    কিন্তু যে কৌশল বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে তার সফলতা এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেই মনে করেন আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা।

    ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনিটরিং না থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলেই মনে করেন তারা।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বাঁচাতে নীতি সহায়তার পাশাপাশি কঠোর হওয়ার দৃষ্টান্তও জরুরি, নইলে ছয় লাখ কোটি আগামী বছর আট লাখ কোটি হতে সময় লাগবে না।

    শাস্তি কেন হয় না?

    ২০২৪ সালে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খারাপ অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

    সরকার পরিবর্তনের পর খাতাকলমে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমার পরিবর্তে বরং এখনো বেড়েই চলেছে।

    খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

    তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবে অপরিণামদর্শী ঋণ, তদারকির অভাব এবং ব্যাংক পরিচালকদের নামে-বেনামে ঋণ।

    গত দুই দশকে দেশের কয়েকটি শিল্প গোষ্ঠী এবং ব্যাংকের আর্থিক কেলেঙ্কারি খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে বলেই অভিযোগ।

    পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, খেলাপির বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ প্রভিশন আকারে জমা রাখার যে নিয়ম রয়েছে, সেটিও রাখতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে তারল্য সঙ্কট আরো গভীর হচ্ছে।

    পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঋণ খেলাপি নিয়ন্ত্রণে নানা কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার রীতি রয়েছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় খেলাপিদের ক্রেডিট স্কোর শূন্য হয়ে যায়, ফলে তারা নতুন কোনো ঋণ পায় না। চীনেও খেলাপিদের ‘সামাজিক ক্রেডিট ব্ল্যাকলিস্ট’-এ ফেলা হয়।

    আর প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংক্রাপ্টসি কোড’-এর মাধ্যমে বড় খেলাপি কোম্পানির সম্পদ নিলাম করা হয়।

    কিন্তু বাংলাদেশে অর্থঋণ আদালত এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে আইন থাকলেও বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়ার উদাহরণ কম।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম-এর অধ্যাপক ড. মো: আহসান হাবীব বলছেন, ‘বিদ্যমান আইনে আমরা উইলফুল ডিফল্টারের (স্বেচ্ছায় যারা ঋণ পরিশোধ করে না) ক্ষেত্রে কঠিন পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নিতে পারিনি, এটা একদম পরিষ্কার।’

    এছাড়া এই ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

    তারা বলছেন, অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে পাঁচ থেকে সাত বছরের দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে ব্যাংকগুলো নিজেরাই মামলা করতে খুব একটা আগ্রহী হয় না। আর মামলা করলে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন খারাপ দেখানোর বিষয়টিও রয়েছে।

    এছাড়া বড় খেলাপিরা বেশিভাগই শিল্প গ্রুপ। তাদের কারখানায় লাখো শ্রমিক, রফতানিতে বড় অবদান। সরকার ও ব্যাংক মনে করে, এদের চাপ দিলে কারখানা বন্ধ হবে, বেকারত্ব বাড়বে।

    ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বা ঋণগ্রহীতা শিল্পগোষ্ঠীকে ‘বাঁচিয়ে রাখার’ নীতিই বারবার নেয়া হয়। মামলা করলেও তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এর মধ্যে তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুনঃতফসিল বা অবলোপনের সুযোগ তৈরি হয়।

    ঋণ খেলাপি দেওয়ানি বিষয় হওয়ায় ব্যাংককে মামলা করে টাকা আদায় করতে হয়। যেখানে বড় খেলাপিরা সেরা আইনজীবী দিয়ে মামলা দীর্ঘায়িত করে।

    বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো, রক্ষকেরই ভক্ষক হওয়ার প্রবণতা। অর্থাৎ অনেক সময় ব্যাংকের পরিচালক নিজেই আত্মীয়দের কোম্পানির নামে ঋণ নেন, যেখানে জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়।

    ছাড় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক

    গত ৩১ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে নীতি সহায়তা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    যেখানে এক হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণগ্রস্তকে ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়নের পর পরিশোধের জন্য ১৫ বছর সময় দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া প্রথম দুই বছর কোনো কিস্তি দেয়া লাগবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    যারা এই সুযোগ নিতে চান তাদের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই আবেদন করতে বলা হয়েছে। যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিষ্পত্তি করবে ব্যাংকগুলো।

    এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরও একটি প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে ব্যাংকার ও গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে দুই শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।

    ঋণ নিয়মিত হলে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (ঋণ পরিশোধে বিরতি) তা পরিশোধে ১০ বছর সময় দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল।

    একই সাথে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তুকি সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।

    বড় ঋণ খেলাপিদের এসব সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।

    এ বিষয়ে ব্যাখা দিয়ে, সম্প্রতি একটি বিবৃতিও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে তিনটি বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রথমত, বৈশ্বিক প্রভাব- বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও জ্বালানি সঙ্কটে রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কমেছে।

    দ্বিতীয়ত, সুদের চাপ- বাজারভিত্তিক সুদহারে ব্যবসায়ীদের সুদ ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু বিক্রি কমায় পরিশোধ কঠিন হয়েছে।

    এবং তৃতীয়ত, ১৮ মাসের রোডম্যাপ- খেলাপি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তার অংশ হিসেবেই বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের অতিরিক্ত সময় দেয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি, মামলা করে ১০ বছরে যে টাকা আসবে না, আলোচনার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ এখনই আদায় হলে ব্যাংকের তারল্য বাড়বে। এছাড়া, কারখানা চালু থাকলে কর্মসংস্থানও বাঁচবে।

    সমালোচনা ও বাস্তবতা

    বড় ঋণ খেলাপিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ছাড় দেয়ার নীতি গ্রহণ করেছে তা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলছেন, ঋণ পুনঃতফসিল করা হলে কাগজেকলমে খেলাপি কমলেও ব্যাংকের লকারে কত টাকা ফেরত আসতে পারে এ নিয়ে সংশয় আছে।

    এছাড়া, ভালো ঋণ গ্রহীতাদের সাথে বৈষম্যের পাশাপাশি এর ফলে ‘অপরাধ করে পার পাওয়ার’ সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন অনেকে।

    বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, ‘এগুলোর সুযোগ নিয়ে ডিফল্টাররা আরো ডিফল্টের দিকে চলে যেতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়টিকে ব্যাংক ক্লায়েন্ট রিলেশনের ওপর দিয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকেরও একটা বড় দায়িত্ব থাকবে।’

    এক্ষেত্রে ব্যাংক পরিচালকদের জবাবদিহি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কমিশন, অর্থঋণ আদালতে দ্রুত বিচার, খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণ ও নতুন ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. মো: আহসান হাবীব বলছেন, ‘আমাদের উইলফুল ডিফল্টারের যে কালচার সেটা ভাঙা খুব সহজ না। খুবই শক্ত হাতে পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন। কিন্তু এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেরকম শক্ত জায়গায় যায়নি।’

    তিনি বলেন, ‘এই বেনিফিটগুলো যেন উইলফুল ডিফল্টাররা অপব্যবহার করতে না পারে। আর এটা যে স্বল্প সময়ের জন্যই দেয়া হয়, লংটার্ম নয়।’

    এই সব পদক্ষেপের পরও যারা ঋণের অর্থ ফেরত দেবে না তাদের ক্ষেত্রে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটিও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঠিক করতে হবে বলেই মনে করে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

    তবে এই পরিকল্পনার সফলতা বা ব্যর্থতা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেই মনে করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

    তিনি বলছেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত পলিটিক্যালি ব্যাংকগুলোকে প্রভাবিত করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হয়ত এসব পদক্ষেপ একটা সুস্থ ধারায় ফেরার ক্ষেত্রে কিছুটা সহযোগিতা করবে।’

    তার কথায়, ‘কিছু কিছু রিস্কি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, খুব শিগগিরই এখান থেকে বের হওয়া যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন লোনগুলো রেগুলারাইজ করার চেষ্টা করছে। মূলত ব্যালেন্সশিটগুলো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছে।’

    কিন্তু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বাভাবিক প্রবণতা আনতে আরো সময় লাগবে বলেই মনে করেন তিনি।

  • সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সুপারিশ

    সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সুপারিশ

    ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

    কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

    বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য বৈঠক সুপারিশ করে।

    বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, মো: শাহাদাত হোসেন, মো: সাইফুল আলম ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন অংশগ্রহণ করেন।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • পোশাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ

    পোশাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ

    বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে এ সভা হয়। এ সময় পোশাক খাতের শ্রমিকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে পেনশন স্কিমে অর্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন বক্তারা। পাশাপাশি পেনশন স্কিমটি শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তারা।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান ও সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

    স্বাগত বক্তব্যে শেখ কামরুল হাসান বলেন, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃদ্ধ বয়সে যে আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না বিধায় উন্নত দেশের ন‍্যায় বাংলাদেশেও বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন‍্যই সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে।

    আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষার একটি বড় অবলম্বন হয়ে উঠবে। স্কিমে জমা দেওয়া অর্থ গ্রাহকদেরই যথাসময়ে ফেরত দেওয়া হবে এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সে উন্নত জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, পেনশন স্কিমের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করার জন্য সরকার এডিবির অর্থায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা ছাড়া, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর সর্বশেষ সংশোধনীতে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক আছে এমন সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের এই স্কিমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিজিএমইকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কমের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬ এ পেনশন তহবিল গঠনের কথা বলেছেন, যেটি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার কাজ করছেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সার্বিক কল্যাণ, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। সে ক্ষেত্রে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যা সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, এই স্কিমকে শ্রমিকদের মাঝে অধিকতর জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে প্রথম ২ বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা প্রদান এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই সংস্কারসমূহ বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্কিমে যুক্ত হতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরবর্তীতে এর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকারের এই স্কিম চালুর উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয়।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আকর্ষণীয় মুনাফার হার বিবেচনা করলে এটি আমাদের শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। তাই পোশাক খাতের সব শ্রমিককে এই যুগান্তকারী স্কিমের আওতায় নিয়ে আসতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

    সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা স্কিম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয় তুলে ধরলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের আশ্বস্ত করেন। বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যেই সরকারের এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, এবং পোশাক খাতের মতো বৃহৎ কর্মসংস্থানমুখী খাতের সম্পৃক্ততা এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সদস্য, বিভিন্ন পোশাকশিল্পের মালিক, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।শাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ

  • ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

    ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিশেষ কর্মসূচি ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

    ইইউ-এর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে স্কট বেসেন্ট লেখেন, এমন দৃঢ় ও দ্রুত অবস্থানের জন্য ওয়াশিংটন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ইরান যাতে তার পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা, অস্ত্র কর্মসূচি এবং সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর জন্য অর্থায়ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের পাশে রয়েছে। বিশ্ব আজ তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তাদের সর্বশেষ আর্থিক সংযোগটি বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না।

    এর আগে গত মাসের শেষের দিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছিল, ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র, জি-সেভেন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

  • জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলছে পাটকাঠির কেনাবেচা। মাঠ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মোকাম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পানের বরজ, ঘরের বেড়া, কৃষিকাজে মাচা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পাটকাঠি। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পাটকাঠি থেকে চারকোল ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারণে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বেড়েছে।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে রাখছেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা কৃষকের বাড়ি কিংবা নির্দিষ্ট বাজার থেকে এসব পাটকাঠি কিনে নিচ্ছেন। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও কৃষকের হাতে আসছে বাড়তি টাকা।

    বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় পাটচাষি আলিম বলেন, ‘আগে পাটকাঠি তেমন একটা দাম পেতাম না। অনেক সময় জমিতেই পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাটের সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যাচ্ছে, এতে কৃষকের উপকার হচ্ছে।’

    একই ইউনিয়নের আরেক পাটচাষি আবু সেখ বলেন, ‘পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। পাটের দাম প্রত্যাশা মতো না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই এখন আমরা পাটকাঠি ফেলে না রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করি।’

    শুধু কৃষকই নন, পাটকাঠির বাণিজ্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি সংগ্রহ করে তা পাইকারি ক্রেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন।

    ঝিনাইদহ থেকে আগত পাটকাঠি ব্যবসায়ী মো. হাচান মোল্লা বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন পাটকাঠির চাহিদা অনেক বেশি। কৃষকদের কাছ থেকে কিনে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করি। চাহিদা থাকায় এ ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন।’আরেক ব্যবসায়ী রমজান বিশ্বাস বলেন, ‘পাটকাঠির ক্রেতা এখন শুধু স্থানীয় মানুষ নন। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীরাও পাটকাঠি কিনছেন। তাই মৌসুমে আমরা কৃষকদের একশত পাটের আটি ৩০০-৪০০ দরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাটকাঠি সংগ্রহের চেষ্টা করি।’

    স্থানীয় ক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘পাটকাঠি আগে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন এর নানা ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন , ‘পাটকাঠির বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে কৃষকেরা পাটের পাশাপাশি এর উপজাত থেকেও ভালো আয় করতে পারবেন। এতে পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, ‘পাটকাঠিকে আর বর্জ্য বা ফেলনা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও শিল্পে ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। ফরিদপুরে ইতোমধ্যে পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধির সেই সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে।’

  • হাইটেক পার্কের প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অর্থ পরিশোধে ছাড়

    হাইটেক পার্কের প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অর্থ পরিশোধে ছাড়

    হাইটেক পার্কে (এইচটিপি) পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও কারিগরি সহায়তা ফি বাবদ এসব প্রতিষ্ঠান তাদের টাকা হিসাব থেকে বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও কারিগরি সহায়তা ফি পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) পূর্বানুমোদন ছাড়াই বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ব্যবস্থা করতে পারবে।

    এ ক্ষেত্রে টাকা হিসাব থেকে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব ব্যবহারের ব্যবস্থাও বহাল থাকবে। তবে রেমিট্যান্সের আগে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো আয় নেই।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সহজ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তবে নির্ধারিত সীমার বেশি রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও কারিগরি সহায়তা ফি বিদেশে পাঠাতে হলে বিএইচটিপিএর পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও অর্থের পরিমাণ যা-ই হোক বিএইচটিপিএর নির্দিষ্ট অনুমোদন নিতে হবে।

    নতুন এ ব্যবস্থার ফলে হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি চুক্তি ও পরিচালনাগত ব্যয় পরিশোধে আগের তুলনায় বেশি সুবিধা ও শিথিলতা পাবে।

  • সংঘাতের মধ্যেও ১১ দিনে তেল থেকে ইরানের আয় ১০০ কোটি ডলার

    সংঘাতের মধ্যেও ১১ দিনে তেল থেকে ইরানের আয় ১০০ কোটি ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই ইরান গত ১১ দিনে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি তেল বিক্রির রাজস্ব প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স। ২ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া এই ১১ দিনের সময়ে এসব অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের প্রতিবেদক পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, তেল বিক্রি থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে যোগ হওয়ায় দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়বে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইরানের তেল বিক্রি থেকে অর্জিত রাজস্ব ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত মোট তেল আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।

    ইরানের ২০২৬-২৭ অর্থবছর ২১ মার্চ ২০২৬ থেকে ২০ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

  • জামানত ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    জামানত ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য নতুন কর্মসূচি চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ—উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর অর্ধেক হবে ব্যাংক ঋণ, বাকি অর্ধেক অনুদান। ঋণ নিতে কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

    বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘উদ্যোগ’ প্রচলিত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এ কর্মসূচির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করবে। এরপর তাদের ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

    ঋণের অর্ধেক অনুদান

    নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তা তার প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার একটি অর্থায়ন প্যাকেজ পাবেন। এর অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ। বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে।

    গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এ ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

    তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হবে। ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নতুন করে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাও হারাবেন।

    আবেদন করতে পারবেন যারা

    আবেদনের শেষ তারিখে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের বয়স ২৮ বছরের বেশি নয় এবং যারা সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা, তারা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন।

    আবেদনকারীর আগে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে।

    আবেদনের জন্য কোনো টাকা লাগবে না। সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

    আবেদন শুরু সেপ্টেম্বরে

    কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পরবর্তী এক মাস আবেদন দাখিলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    প্রথম ধাপে ৬৪০ উদ্যোক্তা

    প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আট জেলা—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণার—৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি চালু করা হবে।

    প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

    অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শুধু অর্থায়নের মধ্যেই কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অভিজ্ঞ মেন্টরের কাছ থেকে তারা ধারাবাহিক পরামর্শও পাবেন।

    এ ছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। এ বিবেচনায় ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • দুই মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় ৭৫০ কোটি ডলার

    দুই মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় ৭৫০ কোটি ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আয় হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭১৩ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটির আয় বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার বা ৫.১২ শতাংশ। জুলাইয়ে রপ্তানি কমলেও আগস্টে নিট ও ওভেন—উভয় ধরনের পোশাকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হওয়ায় দুই মাসের হিসাবে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে খাতটি।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৪৯ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭১৩ কোটি ছয় লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার আয় বেড়েছে ৫.১২ শতাংশ।

    দুই মাসের হিসাবে নিটওয়্যার খাতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি হয়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৯৪ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.১৭ শতাংশ। অর্থাৎ, নিট পোশাক থেকে বাড়তি আয় হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

    অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকেও আয় বেড়েছে। দুই মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩১৮ কোটি আট লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩.৮১ শতাংশ বা প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে অবশ্য পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক চিত্র দেখা যায়। ওই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। আগের বছরের জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৯৬ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে মাসটিতে রপ্তানি কমেছে ১.৯২ শতাংশ।

    জুলাইয়ে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ২১৫ কোটি ৯ লাখ ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ খাতে আয় হয়েছিল ২১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এতে নিট পোশাকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৯০ শতাংশ।

    একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ আয় ছিল ১৭৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে ওভেন পোশাকে রপ্তানি কমেছে ৩.১৬ শতাংশ। জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবণতার পর আগস্টে পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। মাসটিতে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত বছরের আগস্টে যার পরিমাণ ছিল ৩১৬ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে আয় বেড়েছে ১৩.৯২ শতাংশ বা প্রায় ৪৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

    আগস্টের এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে নিটওয়্যার। মাসটিতে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল ১৭৭ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ, এক মাসে এ খাত থেকে বাড়তি আয় এসেছে প্রায় ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।

    ওভেন পোশাকেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগস্টে। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আগের বছরের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে আয় বেড়েছে ১২.৭০ শতাংশ বা প্রায় ১৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

    ইপিবির পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিটওয়্যার এবং ওভেন—দুই খাতই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে নিটওয়্যারের প্রবৃদ্ধি ও বাড়তি আয়ের পরিমাণ উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে। জুলাই-আগস্টে মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের মধ্যে নিটওয়্যার থেকে এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আর ওভেন থেকে পাওয়া গেছে ৩৩০ কোটি ১৯ লাখ ডলার। ফলে মোট রপ্তানিতে নিট পোশাকের অবদান তুলনামূলক বেশি।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরে মোট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫.১২ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি ৬.১৭ শতাংশ এবং ওভেনে ৩.৮১ শতাংশ। আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত দুই মাসের সামগ্রিক হিসাবকে ইতিবাচক রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

  • ৬সেপ্টেম্বর পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হবে

    ৬সেপ্টেম্বর পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হবে

    নতুন জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে পে স্কেলের খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। গতকালই খসড়া বিজি প্রেসে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, বিজি প্রেস থেকে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বর পেয়ে প্রকাশ করা হবে।

    এদিকে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি। তবে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

    অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, আগামী রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে।

    গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নতুন এই বেতনকাঠামো অনুমোদিত হয়। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিয়েও সরকারের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে।

    মন্ত্রিপরিষদের সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনায় (এমটিবিএফ) বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। ফলে এটি সরকারের জন্য হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো ব্যয় নয়।

    তিনি বলেন, ‘সরকার প্রতিবছর শুধু এক বছরের বাজেট করে না; বরং আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের একটি আগাম হিসাবও করে। নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য ব্যয়ও সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় ছিল।’

  • দাম কমায় তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দাম কমায় তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে দাম কমতে থাকায় প্রায় তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে চারটি ব্যাংক থেকে এই ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডলার কেনার এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা জানান, মঙ্গলবার সকালে ডলারের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। ওই সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স হাউজ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা দরে কিনছিল। আর আমদানি দায় বা এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে।

    সরবরাহ বাড়ায় কমছিল ডলারের দাম

    ব্যাংকাররা বলছেন, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপও আগের তুলনায় কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকায় আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও কম রয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দর কমছিল।

    এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের দাম আরও নেমে যাওয়া ঠেকাতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কিছু অর্থ পরিশোধের সময় হওয়ায় ডলারের চাহিদা আবার কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন একজন ব্যাংকার।

    মঙ্গলবার সকালে বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার কোনো পূর্বাভাস ছিল না। দুপুর ১টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার কেনার বিষয়টি জানানো হয়। সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনলে সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে জানানো হয়। ফলে মঙ্গলবার সকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম দরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এলসি নিষ্পত্তি করে। একইভাবে রেমিট্যান্সের ডলারও কম দরে কেনা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর বিকেলে বাজারে দর কিছুটা বাড়ে। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক তখন রেমিট্যান্সের ডলার কেনার পাশাপাশি এলসি নিষ্পত্তিতেও প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দর নির্ধারণ করে।

    ১৫ দিনে ডলারের দরে বড় ওঠানামা

    ব্যাংকারদের ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহে ডলারের দরে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রতি ডলারের দর ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে দর নেমে এসেছিল ১২২ টাকায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ডলারের দরে প্রায় দেড় টাকার ওঠানামায় ব্যাংকার থেকে শুরু করে আমদানিকারক ও অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক গ্রাহক ঝুঁকি কমাতে ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের মাধ্যমে আগাম ডলার সংগ্রহের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

    এক ব্যাংকার জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনার তথ্য আগে জানালে সকালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এত কম দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনত না কিংবা এলসি নিষ্পত্তিও করত না। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ডলারের দর আবার কমতে শুরু করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখন বাজারে হস্তক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এ অবস্থায় মঙ্গলবার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫ কোটি ডলার কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলারের একটি সম্ভাব্য নিম্নসীমার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

  • টিসিবির জন্য ৪৪৫ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

    টিসিবির জন্য ৪৪৫ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

    টিসিবির কার্ডধারী এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব পণ্য কিনতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনা হবে।

    প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা দরে এ তেল কিনতে ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত তেল সরবরাহ করবে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ঢাকা।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ কোটি লিটার। এরই মধ্যে ৮৪ লাখ ১ হাজার ৮০২ লিটার ভোজ্যতেল কেনা হয়েছে।

    অন্যদিকে, একই বৈঠকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে এ ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

    চলতি অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এরই মধ্যে ৮ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

    সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুত আরও বাড়বে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা

    বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা

    ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব বিষয়ে আগে আলাদা সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করে নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।
    নতুন নির্দেশনাটি আগামী এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

    একইসঙ্গে এ বিষয়ে আগে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো রহিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারটি মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক ঋণ, বিদেশি গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে বেসরকারি খাতে অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যারান্টি দেওয়

    দ্বিতীয় অংশে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিধিবিধান তুলে ধরা হয়েছে।

    তৃতীয় অংশে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ গ্রহণ এবং সেই ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্যারান্টি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

    তবে বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১৫ জুলাইয়ের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা বহাল থাকবে।

    নতুন সার্কুলারে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের (এসবিএলসি) বিপরীতে দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। ফলে বিদেশি গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ব্যবহার করে দেশীয় অর্থায়ন নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে।

    এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি কোনো কোম্পানিকে দেওয়া চুক্তি বা কার্যাদেশের বিপরীতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও একই বিষয়ে এক বছরের জন্য নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে এক বছরের জন্য সমন্বিত নির্দেশনা দেওয়া হলো।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম এক জায়গায় আনার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। বিশেষ করে বিদেশি মালিকানাধীন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশনার মাধ্যমে সুবিধা পাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিবিধান সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ৪৩৭৪ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ৪৩৭৪ টাকা

    বিশ্ববাজারে দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমেছে। ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমেছে। আজ সকাল ১০টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

    দাম কমার পর আজ থেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।

    আজ মূল্যবৃদ্ধির আগে স্বর্ণের দাম ছিল এ রকম: ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।

    এর আগে ৩১ আগস্ট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমানো হয়। দেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এরপর স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে আসে।

  • তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। এইগুলো হলো অগ্রণী, বেসিক ব্যাংক, ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে থেকে পৃথক তিনটি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে এ বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের কামরুজ্জামান খান এর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকার সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী আনোয়ারুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করতে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরো উন্নতি হবে।বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ।

    সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য একটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই টার্মিনালের মাধ্যমে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটবে বলে জানান তিনি।

    এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে এই টার্মিনালগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি গ্যাসের সংকটও অনেকটাই কমে আসবে।

  • বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াল সরকার

    বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াল সরকার

    বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম আগের ১৯৯ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খান।

    বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

    সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে সয়াবিন তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এই মূল্য সমন্বয় আপাতত কেবল বোতলজাত সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। পাম অয়েল বা অন্য কোনো ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে মূল্য পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    বাণিজ্য সচিব আরো বলেন, ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করে আসছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি হিসাব তৈরি করে।

    তিনি বলেন, ট্যারিফ কমিশনের মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে ইরান সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে জাহাজ ভাড়া বা কস্টিং বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে আসে। কমিশনের হিসাবে ১০ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বা সুপারিশ থাকলেও, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সরকার মাত্র ৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সচিব বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে যাতে বাজারে তেলের সরবরাহ পরিপূর্ণভাবে অব্যাহত থাকে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বাজারে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা হবে এবং কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না।

  • ফের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    ফের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    ঋণখেলাপিদের একের পর এক সুবিধা দেওয়ার পরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ আবারও ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন ২০২৬ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

    গত মার্চ শেষে ২০২৬ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা ৩২.২৬ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

    আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খেলাপি বেড়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা।

  • চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সনাতনী কৃষি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যমী কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর তার ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামের এক সমন্বিত কৃষি খামার। সেখানে ফল চাষের পাশাপাশি দুম্বা, ভেড়া, ছাগল ও গরুর ডেইরি খামার থাকলেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে ১০ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকা হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে এ চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে এখন ঝুলছে আট-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটি সদৃশ ভ্যানিলা ফল।

    কৃষক হুমায়ুন জানান, এ পর্যন্ত তার প্রায় নয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এ বছরই সা-আট লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এটি উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি প্রমাণ করেছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মূল্যায়ন
    উচ্চমূল্যের এই ফসলটি দেশে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপক চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। সঠিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে, যা বৈচিত্র্যময় কৃষিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।’

    হুমায়ুনের এমন বৈচিত্র্যময় সাফল্য স্থানীয় তরুণদের সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক ও আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

  • দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি

    দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে স্পট মার্কেট থেকে সরকার প্রতি মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি ১০-১২ ডলারে কিনত। কিন্তু বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ২৪ ডলারেরও বেশি দরে। ফলে ৪১০-৪৯০ কোটি টাকার প্রতি কার্গো এলএনজির দাম এখন পড়ছে হাজার কোটি টাকার ওপরে।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানি করতেই সরকারের ব্যয় ৯০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে বাড়তি দামে দুই কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খোলাবাজার থেকে এই এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে কেনা হচ্ছে এক কার্গো এলএনজি । এজন্য দাম চূড়ান্ত হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬২৫ ডলার। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে কেনা হচ্ছে আরো এক কার্গো এলএনজি। এই এলএনজির দাম পড়ছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.২৫ ডলার। এতে প্রতি কার্গোর পেছনে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা। যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গোর স্বাভাবিক দাম ছিল ৪১০-৪৯০ কোটি টাকা। এ দুই কার্গো এলএনজি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে দেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগস্টের শুরুতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং থেকে ২১.৫৫ ডলার দরে এক কার্গো, বিপি সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে ২১.৮৭৮ ও ২১.৭৭৮ ডলার দরে দুই কার্গো এবং ১৯ আগস্ট আরামকো ট্রেডিংয়ের কাছ থেকে ২৩.৯৩ ডলার দরে আরো এক কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছিল।

    বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথম এলএনজি আমদানি শুরু করে। তার আগে দেশে উৎপাদিত গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন

    করা হতো। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ কার্গো এলএনজি আমদানি বাবদ ব্যয় হয় ১৮ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে এলএনজি বাবদ সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২,৫০০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ৪০ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণ এক কার্গো কমলেও ব্যয় হয় আগের বছরের দ্বিগুণ, তথা ৪০ হাজার কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আমদানি করা হয় ৪৪ কার্গো এলএনজি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয় ৩৯ কার্গো এবং ব্যয় হয় ৩৫ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০ কার্গো এলএনজির আমদানি ব্যয় পড়ে ৪২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায় এলএনজি আমদানি। সে বছর ৮৬ কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয় ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। আর সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০৯-১১৩ কার্গো এলএনজির আমদানিতে ব্যয় হয় ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এ বছর এলএনজির পেছনে সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হয় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

    ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে মোট ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল জাতীয় বাজেটে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে এলএনজি আমদানির জন্য প্রাথমিক ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয় ৬,৫০০ কোটি টাকা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই বার্ষিক ভর্তুকি বরাদ্দের ৪৩ শতাংশ অর্থ শেষ হয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় শীর্ষ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রায় অর্ধেক সরবরাহ কমিয়ে দেয় । জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাতার থেকে আটটি কার্গো এসেছিল। এরপর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ব্যাহত হওয়ায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো কেনা শুরু করে। যেমন—চলতি আগস্ট মাসেই গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৯টি কার্গো আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম আট মাসে ৪০-৫০টির মতো এলএনজিভর্তি কার্গো দেশে এসে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান গতকাল আমার দেশকে বলেন, চলতি বছর ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃত আমদানি কিছুটা কম হতে পারে। কারণ, ভাসমান টার্মিনালগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে নানাবিধ কারণে সেগুলোর উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যখন যে অর্থের প্রয়োজন হবে, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় সে অর্থ ছাড় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সংকট বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলে মতপ্রকাশ করেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

    গত ১৭ বছরে জ্বালানি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে মন্তব্য করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম আমার দেশকে বলেন, আমরা যদি নিজস্ব গ্যাসকূপ থেকে পর্যাপ্ত উত্তোলন করতাম, তবে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে এত এলএনজি আমদানি করতে হতো না।

    ভৌগোলিকভাবেই বাংলাদেশ খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের মাটির নিচে প্রচুর তেল-গ্যাস মজুত আছে। কিন্তু বিদায়ী সরকার সেগুলো অনুসন্ধান বা উত্তোলন না করে আমদানির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। দেশের বিজ্ঞানীদের বসিয়ে রেখে তেল-গ্যাস আমদানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা নষ্ট করেছে।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে না চাইলে এখনই তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সমতলে অনুসন্ধানে দেশি বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে যেহেতু আমাদের তেমন অভিজ্ঞতা নেই, সেখানে অনুসন্ধানের জন্য বিদেশিদের কাজে লাগানো যেতে পারে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ঋণ দিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংক

    রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ঋণ দিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংক

    লোকসানে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকটের বোঝা এবার চাপছে সোনালী ব্যাংকের ওপর। সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের বড় অংশ দীর্ঘদিনেও আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি। এসব ঋণের বিপরীতে সরকারের দেওয়া গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে সোনালী ব্যাংক।

    এ পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকটি। একইসঙ্গে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের ওপর চাপ কমাতে বকেয়া ঋণের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা নতুন করে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    গত ১৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের সচিবকে লেখা এক চিঠিতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন, অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এতে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বিপুল পরিমাণে বাড়বে। একইসঙ্গে ব্যাংকের মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এবং এর অধীন ৯টি চিনিকলকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৩,১০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। শুধু বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটির পাওনা রয়েছে ২,৭৬২ কোটি টাকা।

    দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় এর সঙ্গে সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪,০৮৬ কোটি টাকা। ফলে মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭,১৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫৩ কোটি টাকা পরিশোধের পর নিট বকেয়া রয়েছে ৬,৯৩৮ কোটি টাকা।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ১,০০০ কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি ছিল। তবে ওই গ্যারান্টির মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে বিএসএফআইসি ও চিনিশিল্পের ঋণের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের অনুকূলে ইস্যু করা মোট ৬টি সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় ঋণগুলো নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

    চিনিকলগুলোর ঋণের একটি অংশ বিএসএফআইসি, সংশ্লিষ্ট চিনিকল এবং সোনালী ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। সরকারি গ্যারান্টি ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি থাকায় এতদিন হিসাবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও অশ্রেণিকৃত রাখা হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকে এসব ঋণ আবার শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সোনালী ব্যাংক।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি হওয়া ঠেকাতে এবং ব্যাংকের পাওনা সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে আসছে সোনালী ব্যাংক। ২০২৫ সালের মার্চে ব্যাংকটি বিএসএফআইসি ও এর আওতাধীন চিনিকলগুলোর ঋণের বিপরীতে সুদ মওকুফ করে অবশিষ্ট আদায়যোগ্য অর্থের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানায়।

    একই বছরের ১৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসএফআইসি ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে ওই সভায় কী সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ হয়েছিল- সে বিষয়ে পরে সোনালী ব্যাংককে কিছু জানানো হয়নি।

    চলতি বছরের শুরুতে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবার আবেদন জানায় সোনালী ব্যাংক। বকেয়া অর্থ পরিশোধ অথবা সমপরিমাণ সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য গত ৬ জানুয়ারি অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল আবারও চিঠি দিয়ে সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সব শেষে গত ১৯ আগস্ট একই দাবি জানিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠায় ব্যাংকটি।

    সোনালী ব্যাংক বলেছে, চিনিকলগুলোর ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হওয়া ঠেকাতে এবং বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    এদিকে সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির (অ্যালকো) সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় চিনিশিল্প খাতের অসমন্বিত ঋণ হিসাব সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এসব ঋণের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। এতে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে সোনালী ব্যাংককে একক ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঋণসীমা বা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট অতিক্রমকারী ঋণগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার ফোন ও বার্তা দেওয়া হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ১৫টি চিনিকল। ২০২০ সালে সরকার ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে চালু থাকা ৯টি চিনিকলের মধ্যে অধিকাংশই লোকসানে রয়েছে।

    বিএসএফআইসির কর্মকর্তারা বলছেন, চিনিকলগুলোর উৎপাদন মূল্য ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের পার্থক্যের কারণে ট্রেড গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রেড গ্যাপের কারণে চিনিকলগুলো লোকসান দিচ্ছে- এমনটা মনে হতে পারে। ট্রেড গ্যাপ ও ভর্তুকি বাবদ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের কাছে বিএসএফআইসির পাওনা ৮,০৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়া গেলে এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতো না বলে তারা জানান।

    এ বিষয়ে জানতে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে তার অফিসে গিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য আরো বাড়ানো ও বহুমুখী করতে চায় ভারত।

    বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আমাদের বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বাড়াতে এবং তা বহুমুখী করতে চাই।

    মোদির এই বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর মাত্র সাত দিন পর। ওয়াশিংটন এই অভিযানের আওতায় ইরানের সামরিক কার্যক্রম, জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি পক্ষগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল ছয় মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    মোদি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে যাবে।

    নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর পথ খুঁজছে দিল্লি

    ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কীভাবে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে মোদি বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

    মিশ্রি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন নতুন সম্ভাবনা খুঁজে দেখার কথা বলেছেন, যেগুলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

    এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন, বিমা, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে বলে জানান তিনি।

    বর্তমানে ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য বেসরকারি পক্ষগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থার বিভিন্ন বিধিনিষেধ মেনেই ব্যবসা করতে হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা অনেক কমেছে।

    ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে।

    চাবাহার বন্দর নিয়ে দিল্লির ভাবনা

    ইরানের সঙ্গে পরিবহন ও সামুদ্রিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে চাবাহার বন্দরের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

    মিশ্রি বলেন, ভারত বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চাবাহার বন্দরের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে একটি ‘টেকসই পথ’ খুঁজে বের করাই এর লক্ষ্য।

    চাবাহার বন্দরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারতের পাওয়া ছাড়ের মেয়াদ ২৬ এপ্রিল শেষ হয়েছে। চাবাহারে ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে।

    ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস পেজেশকিয়ানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

    দূতাবাসের ভাষ্য, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করতে পারলে ভারত ও ইরানের সম্পর্ক আরও উচ্চ পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।

    পেজেশকিয়ান মোদিকে আরো অনুরোধ করেছেন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ভারতের বিস্তৃত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ইরানকে যুদ্ধ ও রক্তপাতের পথ থেকে সরে এসে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফিরতে সহায়তা করতে।

    পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি

    বিশকেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন মোদি। চলতি বছরে দুই নেতার এটি ছিল প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।

    বৈঠকে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে বলে জানান বিক্রম মিশ্রি। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনার পর এই ঘাটতি বেড়েছে।

    মিশ্রি বলেন, উভয় পক্ষই বিষয়টি স্বীকার করেছে। বিভিন্ন খাতে রাশিয়ায় ভারতের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

    তিনি জানান, গত বছর পুতিন বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে গেলে মোদি তাকে একটি নথি দিয়েছিলেন। এতে রাশিয়ার বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু অশুল্ক বাধার বিষয়ও ছিল।

    মিশ্রির ভাষ্য, রুশ বন্ধুদের সহযোগিতায় এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাংস, সামুদ্রিক পণ্য ও কিছু দুগ্ধজাত পণ্যসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের রাশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

  • যুদ্ধ, অর্থনীতি ও কূটনীতির প্রধান ক্ষেত্র এখন হরমুজ

    যুদ্ধ, অর্থনীতি ও কূটনীতির প্রধান ক্ষেত্র এখন হরমুজ

    ইরান কেন দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করার হুমকি দিলেও, বাস্তবে একে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা থেকে বিরত ছিল; এবং ২০২৬ সালের যুদ্ধের পর কেন সেই হিসাব বদলে যায়? কারণ, হরমুজ বন্ধ করা ইরানের জন্য একটি ‘শেষ অস্ত্র’। প্রণালিটি বন্ধ করলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না—ইরানের নিজের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    সাউথ এশিয়া মনিটরে ২৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ‘ইরান অ্যান্ড দ্য স্ট্রেইট অভ হরমুজ ব্লকেড: হোয়াই তেহরান ডিড নট ক্লোজ দ্য স্ট্রেইট আরলিয়ার’ শীর্ষক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে ব্রিগ্রেডিয়ার সঞ্জয় আগরওয়াল (অব.) এসব মন্তব্য করেন।

    হরমুজ কেন ইরানের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ

    হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই ইরান চাইলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং সীমিতভাবে নিয়ন্ত্রণ/বাধা সৃষ্টি করা—দুটি এক জিনিস নয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় পথটিই বেশি কার্যকর মনে করেছে।

    পুরোপুরি বন্ধ করলে ইরানেরও ক্ষতি

    ইরান নিজেও তেল রপ্তানি, আমদানি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ সম্পূর্ণ বন্ধ হলে: ইরানের তেল রপ্তানি কমে যাবে; বৈদেশিক মুদ্রা আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে; খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি কঠিন হবে; ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে; যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়বে। অর্থাৎ যে অস্ত্র দিয়ে শত্রুকে আঘাত করা যায়, সেটিই উল্টো নিজের অর্থনীতির বিরুদ্ধেও ব্যবহার হয়। এই কারণেই এতদিন হরমুজ বন্ধ করা ইরানের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত ছিল।

    তাহলে ইরান কী করত?

    সম্পূর্ণ অবরোধের বদলে ইরান বিভিন্ন সময়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতা, পরিদর্শন, সামরিক টহল এবং নির্দিষ্ট জাহাজের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসেও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছিল যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল তাদের অনুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হচ্ছে। এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল তৈরি করে: “প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করেও আমি চাইলে তোমার বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে পারি।”অর্থাৎ হরমুজ ইরানের কাছে শুধু অবরোধের অস্ত্র নয়, কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যসাধনের উপায়।

    ২০২৬ সালে পরিস্থিতি কেন বদলে গেল?

    ২০২৬ সালের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে হরমুজ আর কেবল ইরানের সম্ভাব্য ‘শেষ অস্ত্র’ থাকেনি; প্রণালির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে সরাসরি সামরিক সংঘাতের অংশ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে, আর ইরান তার সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ৩১ আগস্টের ঘটনাবলিতে লারাক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে মার্কিন হামলা এবং পরবর্তী ইরানি পাল্টা হামলা দেখিয়েছে যে হরমুজ এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র।

    ইরানের জন্য নতুন ‘হরমুজ প্যারাডক্স’

    এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। হরমুজ যত বেশি সময় বন্ধ বা অস্থিতিশীল থাকবে, তত বেশি বিকল্প পথ খুঁজবে বিশ্বের দেশগুলো। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে বিকল্প পাইপলাইন ও রপ্তানি পথের ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজের ওপর বিশ্বের নির্ভরতা কমতে পারে। অর্থাৎ ইরান যদি দীর্ঘদিন হরমুজকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে তার সবচেয়ে মূল্যবান ভূকৌশলগত সম্পদের গুরুত্বই ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এটাই হরমুজ প্যারাডক্স: হরমুজকে যত বেশি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, বিশ্ব তত বেশি হরমুজকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

    চীন, ভারত ও এশিয়ার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    হরমুজের গুরুত্ব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় জ্বালানির বড় অংশ এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। ফলে হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ভারতের মতো দেশ ইতিমধ্যে হরমুজ সংকটের সময় নিজেদের জাহাজ ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

    সারকথা হলো— ইরান এতদিন হরমুজকে পুরোপুরি বন্ধ করেনি, কারণ সেটি ছিল নিজের অর্থনীতিকে আঘাত করার মতো সিদ্ধান্ত। কিন্তু ২০২৬ সালের যুদ্ধ সেই পুরোনো হিসাবকে বদলে দিয়েছে। এখন হরমুজ নিজেই যুদ্ধ, অর্থনীতি ও কূটনীতির প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র।

    আর দীর্ঘমেয়াদে ইরানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে—হরমুজকে যত বেশি সময় অস্থিতিশীল রাখা হবে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার তত বেশি বিকল্প পথ তৈরি করবে। ফলে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকৌশলগত উদ্দেশ্যসাধনের উপায়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

  • কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়

    কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়

    সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে সাধারণ ভোক্তার স্বস্তি ফেরাতে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর আমদানিতে বড় ধরনের শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছে।

    দুটি পণ্যের আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আমদানির উপর আরোপিত ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক বিশেষ সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এ প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন।

    শুল্ক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই দ্বিমুখী শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানি পর্যায়ে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, যা স্থানীয় বাজারে পণ্য দুটির খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    গত ১৭ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, কাঁচা মরিচ ও টমেটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্য। তবে মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এ সকল পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।

    দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এরইপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

    এদিকে প্রজ্ঞাপনের সংযুক্ত শুল্ক টেবিল অনুযায়ী, কাস্টমস শুল্কায়নের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট পণ্য দুটির বিবরণ ও এইচ.এস. কোড নিম্নরূপভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কাঁচা মরিচের কাস্টমস শুল্কায়নের জন্য হেডিং ০৭.০৯ এর অধীনে এইচ.এস. কোড ০৭০৯.৬০.১৯ নির্ধারণ করা হয়েছে টমেটোর কাস্টমস শুল্কায়নের জন্য হেডিং ০৭.০২ এর অধীনে এইচ.এস. কোড ০৭০২.০০.১৯ নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • বিরোধী দল সংসদীয় গণতন্ত্রের অলংকার

    বিরোধী দল সংসদীয় গণতন্ত্রের অলংকার

    উপসম্পাদকীয়:

    গণতন্ত্র একটি প্রাচীন ধারণা হলেও সংসদীয় গণতন্ত্র তুলনামূলকভাবে এক নবীন পরিশীলিত ব্যবস্থা। গ্রিক নগররাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ‘ডেমোক্রেসি’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ জনগণের শাসন। আব্রাহাম লিংকন একে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন অমর বাক্যে—‘জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসন’ (Government of the people, by the people, for the people)। এই বিমূর্ত ধারণাকে বাস্তবের কাঠামোয় রূপ দিতে গিয়ে মানবসভ্যতা যে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে, তার নাম সংসদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওয়াল্টার ব্যাজহট তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The English Constitution’-এ পার্লামেন্টকে বলেছেন রাষ্ট্রের ‘মর্যাদাপূর্ণ’ ও ‘কার্যকর’ অংশের সংযোগসেতু। সংসদই সেই মঞ্চ, যেখানে জনগণের প্রতিনিধিরা যুক্তি ও পাল্টা-যুক্তির মধ্য দিয়ে জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ‘Parliament’ শব্দটির উৎপত্তি ফরাসি ‘parler’ থেকে, যার অর্থ কথা বলা। অর্থাৎ সংসদ মূলত কথা বলার জায়গা—কিন্তু সে কথা হবে যুক্তির, বিতর্কের, সহনশীলতার; কলহ ও হট্টগোলের নয়।

    সংসদীয় গণতন্ত্রের দুটি প্রধান মডেল পৃথিবী সমাদৃত—একটি ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি, অন্যটি মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা। ব্রিটেন সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার। তারা কোনো লিখিত সংবিধান রচনা করেনি, বরং শত শত বছরের রীতি, প্রথা ও দৃষ্টান্তকে সংবিধানের মর্যাদা দিয়েছে। সেখানে রাজা রাজত্ব করেন কিন্তু শাসন করেন না। প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। ব্রিটিশ সংসদের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার হলো তার বিরোধী দল। তারা বিরোধী দলকে বলে ‘রাজকীয় অনুগত বিরোধী দল’ (His Majesty’s Loyal Opposition)। এই অভিধাটি তাৎপর্যপূর্ণ; বিরোধিতা মানে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থেকেই সরকারের নীতির গঠনমূলক সমালোচনা। সেখানে রয়েছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা শ্যাডো কেবিনেট, যেখানে বিরোধী দলের প্রতিটি সদস্য সরকারের এক-একজন মন্ত্রীর প্রতিপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিকল্প নীতির খসড়া প্রস্তুত রাখেন। প্রধানমন্ত্রীকে প্রতি সপ্তাহে ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে’ বিরোধী দলের তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণের মুখোমুখি হতে হয়। এই জবাবদিহিতাই ব্রিটিশ গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিন্ন পথ বেছে নেন। মন্তেস্কুর ‘ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ’ তত্ত্বকে তারা সংবিধানের মেরুদণ্ড করেন। আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ—তিনটি অঙ্গকে পৃথক রেখে তারা ‘পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের’ এক অভিনব ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদÑপ্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে সংযত রাখে। প্রেসিডেন্ট যত ক্ষমতাধরই হোন, বাজেট পাস থেকে যুদ্ধ ঘোষণা পর্যন্ত তাকে কংগ্রেসের সম্মতি নিতে হয়। মার্কিন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এই যে, সেখানে প্রেসিডেন্টের নিজ দলই মাঝেমধ্যে তার নীতির বিরোধিতা করে; দলীয় আনুগত্যের চেয়ে বিবেক ও নির্বাচনি এলাকার স্বার্থ সেখানে অগ্রগণ্য। এ দুই ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত শিক্ষা এক ও অভিন্ন—ক্ষমতা যেখানে নিরঙ্কুশ, সেখানে স্বৈরাচার অনিবার্য। লর্ড অ্যাক্টনের সেই অমোঘ উক্তি স্মরণীয়—‘ক্ষমতা মানুষকে কলুষিত করে, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কলুষিত করে নিরঙ্কুশভাবে’ ।

    আমরা যেহেতু ২০০ বছর ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিলাম, উত্তরাধিকার সূত্রে সংসদীয় শাসনব্যবস্থাই আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলাদেশ ওয়েস্টমিনস্টার আদলে সংসদীয় গণতন্ত্র গ্রহণ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, প্রতিষ্ঠানটি আমরা আমদানি করলেও তার আত্মা আমরা আত্মস্থ করতে পারিনি। সংসদীয় গণতন্ত্রের খোলস আমাদের ছিল, কিন্তু মজ্জা ছিল অনুপস্থিত। বিশেষত বিগত দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে জাতীয় সংসদ পরিণত হয়েছিল এক নিষ্প্রাণ, নিরর্থক প্রদর্শনীর মঞ্চে। সংবিধানের প্রথম পঙ্‌ক্তিতে লেখা ছিল ‘জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক’, অথচ বাস্তবে ক্ষমতাই হয়ে উঠেছিল সব রাজনীতির উৎস। ব্যাজহট যাকে বলেছিলেন সরকারের কার্যকর অংশ, সেই সংসদকে পরিণত করা হয়েছিল আলংকারিক শোভায়।

    আওয়ামী আমলের সংসদীয় ইতিহাস প্রকৃত অর্থে নামমাত্র গণতন্ত্রের ইতিহাস। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তামাশার নির্বাচনগুলোর মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদে বিরোধী দল বলে কিছু ছিল না। ২০১৪ সালে দেড় শতাধিক আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি; ভোটের আগেই ফল নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। জাতীয় পার্টিকে একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী আসনে বসিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এক নজিরবিহীন কৌতুক। জনগণ তাকে যথার্থই নাম দিয়েছিল ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’। যে বিরোধী দল সরকারের অনুগ্রহে টিকে থাকে, যে বিরোধিতা সরকারের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয়, তা বিরোধিতা নয়—তা প্রহসন। সেই সংসদ হয়ে উঠেছিল একজন ব্যক্তির প্রশস্তি-গাথার আসর, ‘জি হুজুর’ আর করতালির সমবেত মহড়া। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘রাবার-স্ট্যাম্প সংসদ’, যার একমাত্র কাজ নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্তে বিনা প্রশ্নে সিলমোহর বসানো। আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ—তিনটি অঙ্গ যখন একটি কর্তৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করে, তখন যাকে বলা হয় স্বৈরতন্ত্র, তারই প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল ‘গণতন্ত্রের’ মোড়কে। এ ছিল কাঠামোগত প্রতারণা—সংসদীয় গণতন্ত্রের মোড়কে এক আইনি ও বেআইনি বাকশাল। জনগণ সে সংসদের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ হারিয়েছিল, কারণ যে প্রতিষ্ঠান জনগণের কণ্ঠস্বর বহন করে না, তার প্রতি জনগণের আস্থা থাকবে কেন?

    এই দীর্ঘ অন্ধকারের পর চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতিকে এক নতুন প্রভাত উপহার দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে, তাতে প্রকৃত অর্থে একটি সক্রিয়, সোচ্চার বিরোধী দল রয়েছে। সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, বিরোধী দলের হট্টগোল, ওয়াকআউট, স্পিকারের উদ্বেগ—তা যতই অপ্রীতিকর মনে হোক, এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর ইতিবাচক ইঙ্গিত। যেখানে প্রশ্ন আছে, প্রতিবাদ আছে, বিরোধিতা আছেÑসেখানেই গণতন্ত্রের প্রাণস্পন্দন। গত দেড় দশকে যে সংসদে টুঁ শব্দটি করার সাহস কারো ছিল না, সেই সংসদে আজ তরুণ সদস্যরা পরিসংখ্যান হাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করছেন। এটাই স্বাভাবিক গণতন্ত্রের চিত্র। ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সেও তীব্র বাদানুবাদ হয়, টেবিল চাপড়ানো হয়, অর্ডার! অর্ডার! ধ্বনিতে স্পিকারকে শৃঙ্খলা ফেরাতে হয়। বিতর্ক গণতন্ত্রের দুর্বলতা নয়, শক্তি।

    তবে বিতর্ক আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফারাক রয়েছে। যুক্তির স্থান যখন কণ্ঠের উচ্চগ্রাম দখল করে, পরস্পরকে বলার সুযোগ না দেওয়ার প্রবণতা যখন প্রবল হয়, তখন সংসদ প্রাণবন্ত না হয়ে হয়ে ওঠে অকার্যকর। এখানেই সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ের সংযম কাম্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন প্রবীণ ও বিচক্ষণ পার্লামেন্টারিয়ান; তরুণ সদস্যদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বদলে পিতৃসুলভ সহনশীলতাই তার কাছে প্রত্যাশিত। তিনি যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তাতে তার বিজ্ঞতাই প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলকেও মনে রাখতে হবে, ওয়াকআউট ও প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অস্ত্র বটে, কিন্তু তা সংযমের সঙ্গে প্রয়োগ করাই রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচায়ক। স্পিকার দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

    দেশ এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, আইনশৃঙ্খলার অস্থিরতা—এসবের মধ্যেও জনগণ ধৈর্য ধরে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের অপেক্ষায় আছে। এই মুহূর্তে জাতির সামনে যে সুযোগ এসেছে, তা ঐতিহাসিক। বিগত অর্ধশতাব্দীতে বাংলাদেশ যে প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি, আজ তা প্রতিষ্ঠার এক বিরল সন্ধিক্ষণ উপস্থিত। এই সুযোগকে যদি আমরা কলহ ও অসহিষ্ণুতায় নষ্ট করি, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। সংসদীয় গণতন্ত্র কোনো একদিনের অর্জন নয়; ব্রিটেন সাতশ বছরে যা গড়েছে, তা ধৈর্য, সহনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধার ফসল। আমাদের সংসদ যেন যুক্তি-তর্কের প্রাণবন্ত কেন্দ্র হয়, প্রশ্ন ও জবাবদিহিতার নির্ভীক মঞ্চ হয়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। সরকারি দল ও বিরোধী দল যদি পরস্পরকে শত্রু নয়, বরং একই গণতান্ত্রিক যাত্রার সহযাত্রী মনে করে, তবেই এই সংসদ হয়ে উঠবে প্রকৃত অর্থে জনগণের সংসদ। সেটিই হবে জুলাই শহীদদের রক্তের প্রতি যথার্থ সম্মান।

  • সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

    সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে নিহত অটোচালকের বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

    এ সময় নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়ে মা আসমা বেগম ও স্ত্রী ফেরদৌসি আক্তারের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬ হাজার টাকার চেক ও চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন ইউএনও।

    সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, ছাত্রদলের সদস্য সচিব সিহাব উদ্দিন শান্ত প্রমুখ।

    ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন। তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।

    উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর ভোগা বসন্তপুর রাস্তার পাশ থেকে অটোচালক আনোয়ার হোসেনের হাত-পা ও মুখ বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

  • ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তোলা হয় ব্যবসায়ীকে, ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর রাস্তায় নিক্ষেপ

    ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তোলা হয় ব্যবসায়ীকে, ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর রাস্তায় নিক্ষেপ

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার দুপুরের দিকে চরহাজারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা এ সময় ওই ব্যাংক এজেন্টকে অস্ত্রের মুখে হাতকড়া পরিয়ে ছিনতাই করে।

    ভুক্তভোগী ব্যাংক এজেন্টের নাম আবদুর রহমান। তিনি ইসলামী ব্যাংক আবু মদিনা আউটলেট এজেন্ট শাখার ইনচার্জ ও এজেন্ট ব্যবসায়ী। আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে তিনি ব্যাংক শাখা থেকে ক্যাশ ১২ লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। চরহাজারী ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একটি প্রাইভেট কারে পাঁচজনের একদল দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে।

    আবদুর রহমানের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দেয়। এরপর তাঁর কাছে মাদক রয়েছে বলে দাবি করে তারা। একপর্যায়ে তাঁর গায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে জোর করে গাড়িতে তোলে। গাড়ির ভেতর তাঁর চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর অস্ত্রের মুখে ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। টাকা ছিনতাইয়ের পর কবিরহাট উপজেলার নবীর দোকানের পাশে একটি স্থানে তাঁকে হাত-চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

    ‍স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবদুর রহমান সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় কালো জ্যাকেট ও সাধারণ পোশাক পরা পাঁচজন তাঁকে ঘিরে ধরে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁরা জানতে পারেন, আবদুর রহমান ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে তখনো পর্যন্ত লিখিত এজাহার বা আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন, বাড়ছে ১০০–১৪২%

    নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন, বাড়ছে ১০০–১৪২%

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে। আজ বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

    এখন শুরু হবে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ, যার জন্য এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিই সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশনপ্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।

    বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

    কিন্তু নাসিমুল গনি কমিটি বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের বেশি সুপারিশ করেনি বলে সূত্রগুলো জানায়। এ কমিটি মাঝখানে দুই বছরে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে ছিল চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে, তার সঙ্গে আগের সুপারিশের পার্থক্য আছে। অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে মূল বেতন ঠিকই দেওয়া হবে। তবে তা দেওয়া হবে ভেঙে ভেঙে।

    সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় যা ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

  • মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন, বাস্তবায়ন হবে ৩ ধাপে

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন, বাস্তবায়ন হবে ৩ ধাপে

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার বৈঠক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। এর আগে বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনুমোদন পাওয়া নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আগে আজ সোমবার সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হতে পারে।

  • বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অর্থ দেওয়ার পুরোনো সংস্কৃতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, বিগত আমলে নির্বাচনের সময় থানার পরিধি অনুযায়ী ইউএনওকে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, ওসিকে ১ কোটি টাকা এবং ডিসিকেও বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হতো। তবে এবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউকে ১০ টাকাও দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের সেই ‘ঘুস-দুর্নীতির মহারণ্য’ থেকে দেশ বেরিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিগত আমলে ইলেকশন হয়েছে। আমি ফ্র্যাংকলি একটা কথা বলি- নির্বাচন এলে ইউএনও সাহেব পেতেন ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, থানার পরিধি ভেদে। ওসি সাহেব পেতেন ১ কোটি, ডিসি সাহেবও পেতেন। সব ছিল ঘুসের দুর্নীতির মহারণ্য। এবার একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছেন? আমি দেই নাই কাউকে ১০ টাকা, চায়ও নাই।

    মন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় এবার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশি কাজ করেছেন। কোনো আর্থিক সুবিধা ছাড়াই জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রেখেছেন। অতীতে কর্মকর্তাদের একদিকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে খুশি রাখতে অনৈতিক সুবিধা নিতে বাধ্য করা হতো।

    মন্ত্রী বলেন, নিতে হবে, নেন; চুরি করতে হবে, নেন- এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সেই দিনগুলো এখন চলে গেছে। সবাইকে বুঝতে হবে, ইমান ও পবিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী অতীতের প্রশাসনিক দুর্নীতির আরেকটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগে ঠিকাদাররা মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশের জন্য পিয়নদেরও টাকা দিতেন। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও ঘুসের নির্দিষ্ট অঙ্ক ছিল। নার্সের ট্রান্সফার ও ডাক্তারের ট্রান্সফার ৩ লাখ, ৫ লাখ। ডাইরেক্টর হলে ২ কোটি। এরকম ঘুস খেয়েছে।

    তিনি বলেন, টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অব করাপশন। এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা বেরিয়ে আসছি, ইনশাআল্লাহ। কাজেই এই কাজটা কিন্তু একার না, সমন্বিত।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার কারণে সমাজে অপরাধ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হবে। মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

    তিনি বলেন, কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ না থাকলে আমাদের কারও অস্তিত্ব থাকবে না। অনেক রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষা করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ২৪ এর গণতন্ত্র রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

    স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। বেসিক সরকার সরঞ্জাম এর নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে।

    তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। রোগীদের খাবারের মান উন্নয়ন করা হবে। ডায়ালাইসিস রোগী ও শিশুদের জন্য পৃথক বেডসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জ জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম প্রমুখ।

    এছাড়া জেলার সব সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু, উঠছে নবম পে-স্কেল

    মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু, উঠছে নবম পে-স্কেল

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

    বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর আগে সোমবার সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে এবং এর ফলে বাজেট ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে এর আগে জানানো হয়েছিল।

    সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সূত্রটি জানায়, পে-স্কেলের মূল বিষয়গুলো এখন প্রায় চূড়ান্ত। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি প্রয়োজন অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের (যাচাই ও পর্যালোচনা) জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলেই প্রজ্ঞাপন জারির পথ খুলে যাবে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে।

    এ বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, গত দুদিন ধরে নবম পে-স্কেল নিয়ে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত। এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকটি সংসদে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

  • হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল, কারা পাবেন

    হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল, কারা পাবেন

    রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য ও মৎস্য খাতের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দুই হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রাক্‌-অর্থায়ন (প্রি-ফাইন্যান্সিং) তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, উচ্চ মজুত ব্যয়, কোল্ড-চেইন পরিচালনার বিপুল খরচ এবং স্বল্প সুদে চলতি মূলধনের ঘাটতি মেটাতে এ খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন বছর মেয়াদি এই তহবিল গঠন করেছে।

    এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ গতকাল রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।

    সুদ কত, কারা পাবে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঘোষিত তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। এর বিপরীতে অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে প্রাক্‌-অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

    তফসিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানির উদ্দেশ্যে হিমায়িত চিংড়ি, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য এবং রেডি-টু-কুক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ঋণসুবিধা পাবে। তবে ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুসারে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত কোনো ঋণগ্রহীতা বা প্রতিষ্ঠানকে এই তহবিলের আওতায় কোনো ঋণ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ইডিএফ, ইএফপিএফ কিংবা কৃষিভিত্তিক প্রাক্‌-অর্থায়নের মতো সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য কোনো তহবিল থেকে সুবিধা চলমান থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো একই খাতের জন্য এ তহবিল থেকে আবারও অর্থায়ন পাবে না।

    নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাক্‌-অর্থায়ন তহবিলের ঋণপ্রবাহকে মূলত একাধিক খাতে ভাগ করা হয়েছে। হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সম্পূর্ণ নতুন কারখানা নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদি ঋণ পাওয়া যাবে। অন্যদিকে বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য মেয়াদি ঋণ হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে সাত বছর। আর সংস্কার বা আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পরিশোধের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর।

    এ ছাড়া কাঁচামাল ক্রয়, চুক্তিভিত্তিক চাষিদের কাছ থেকে সংগ্রহ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো চলতি মূলধন মেটাতে প্রতিষ্ঠানের টার্নওভারের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যাবে। চলতি মূলধনের মেয়াদ এক বছর হলেও ব্যবসায়িক লেনদেন সন্তোষজনক হলে তা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত নবায়নযোগ্য হবে।

    সৌরবিদ্যুতে আরও ঋণ মিলবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব শিল্প গঠন ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো কারখানা যদি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করতে চায়, সে ক্ষেত্রে মূল প্রকল্পের ঋণের বাইরে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা (বা মূল ঋণের ৩০ শতাংশ) ঋণসুবিধা পাবে। তবে শর্ত হিসেবে তহবিল গ্রহণকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দুই বছরের মধ্যে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে মেটানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন পাঁচ খাতের খোঁজে সরকার

    রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন পাঁচ খাতের খোঁজে সরকার

    দীর্ঘদিন ধরে গুটি কয়েক পণ্যে আটকে আছে রপ্তানি বাজার। পণ্য রপ্তানিতে আসেনি বৈচিত্র্য। পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতায় ঝুঁকিতে রপ্তানি খাত। ৮০-৮৫ শতাংশ রপ্তানি আয় হয় তৈরি পোশাক খাত থেকে। বাকি পাঁচ থেকে ছয়টি পণ্য থেকে আসে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রপ্তানি আয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেসরকারি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত দ্বিতীয় মতবিনিময় সভায় দেশের সম্ভাবনাময় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা থেকে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মতবিনিময় সভার কার্যপত্র থেকে জানা যায়, সভায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রথম সভার বিভিন্ন অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অধিকতর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

    সভায় অর্থমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টাসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রপ্তানি নীতি ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে পণ্য রপ্তানি বছর বছর আরো কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এমন সময়ে সরকার রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে যেসব উদ্যোগের কথা বলছে সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই, উৎপাদনমুখী ও ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে এই কর্মপরিকল্পনা ভূমিকা রাখবে।

    এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, ইতোমধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইবিপি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে একটি বৈঠক করেছে। শিগগির এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে।

    জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানির ঝুড়ি সমৃদ্ধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের যেসব খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে—বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা সরকারের।

    সভায় বলা হয়েছে, শুধু জাতীয় পর্যায় নয়, বরং দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়িয়ে জেলাভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলার স্থানীয় পণ্য উৎপাদন, বিদ্যমান সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ রপ্তানির সম্ভাবনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরূপণ করার জন্য একটি বিশেষ গবেষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি অঞ্চলের ক্লাস্টারভিত্তিক পণ্যের বিকাশ ঘটানো সহজ হবে।

    এছাড়া গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করতে ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট (এক গ্রাম এক পণ্য) কনসেপ্টটি আরো জোরালোভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়ে সরাসরি রপ্তানির সুযোগ লাভ করবে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনেও বড় ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, যেকোনো নীতি সহায়তাই রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক দিন ধরেই এমন দাবি আমরা করে আসছি। আর ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট শক্তিশালী করতে পারলে রপ্তানির বাজার এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আসবে।

  • রাম মন্দিরে ৪ কোটির চেক, অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স মাত্র ৩ রুপি

    রাম মন্দিরে ৪ কোটির চেক, অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স মাত্র ৩ রুপি

    ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দিরের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য ৪ কোটি রুপি অনুদান দিতে চেক দিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের এক নারী। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর দেখা যায়, ওই নারীর ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র ৩ রুপি। ফলে চেকটি বাউন্স করেছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে চেকটি দিয়েছিলেন। ট্রাস্ট ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জানায়, চেকের অর্থ পরিশোধের মতো পর্যাপ্ত টাকা হিসাবে নেই। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে ওই নারীকে নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংক।

    ওই নারী মন্দিরে আলাদাভাবে ১০ হাজার রুপি অনুদানও দিয়েছেন। ৪ কোটি রুপি শুধু মন্দিরের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধায় ব্যয় করার বিষয়ে ট্রাস্টের কাছে লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন তিনি। তবে ট্রাস্ট এমন নিশ্চয়তা দেয়নি। এখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।

    এর আগে, ২০২০ সালে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ‘নিধি সমর্পণ অভিযান’ কর্মসূচির মাধ্যমে ৪৫ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় ১০০ কোটি রুপির চেক প্রথমে বাউন্স করলেও পরে বেশিরভাগ অর্থ আদায় করা হয়। তবে প্রায় ২২ কোটি রুপি এখনও উদ্ধার হয়নি।

    বর্তমানে রাম মন্দিরে প্রতি মাসে নগদ, অনলাইন ও চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি অনুদান আসে। এর মধ্যে চেকের মাধ্যমে আসে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি রুপি।

    এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ট্রাস্ট। গত জুনে মন্দিরে দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরি ও আত্মসাতের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছিল।

    উল্লেখ্য, ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ ও এর ঐতিহাসিক ভূমি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। ১৯৯২ সালে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ষোড়শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়, যার ফলে দেশব্যাপী মারাত্মক দাঙ্গা ও প্রাণহানি ঘটে।

    ২০১৯ সালে ভারতের উচ্চ আদালতের এক রায়ে বাবরি মসজিদের জায়গাটি হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মাণের জন্য এবং মুসলমানদের মসজিদ তৈরির জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরটির উদ্বোধন করেন।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপুল মুনাফা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক নিট বা প্রকৃত ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর তুলনায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে গত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী অনুমোদন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংস্থাটির পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মূল বেতনের ছয় গুণ প্রণোদনা বোনাস অনুমোদন দেয় পরিচালনা পর্ষদ।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ মুনাফা করা নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংক খাতের তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর মূল দায়িত্ব। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের দুর্দশার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা এতটা বেড়েছে। তবে মুনাফা করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়, সেটি নজরে রাখতে হবে।

    জানা গেছে, অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চাঙা ছিল। ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট থাকায় বিভিন্ন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা ধার করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয়ও বেড়েছে। আবার রিজার্ভের অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা থাকায় সেখান থেকেও ভালো মুনাফা হয়েছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে।

    ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকৃত মুনাফা করেছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

  • কাল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল

    কাল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতিক্ষীত নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের জন্য আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে। ওইদিন অনুমোদন পেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে এ সপ্তাহের মধ্যেই। ইতোমধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন অনুমোদন হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।এর

    আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে।

    ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে শুরু হবে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা বলেন, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। দুই ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

    সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

    ওই বইয়ে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষক উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি।

    বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৪০ শতাংশ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    এদিকে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।

    বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে লালদিয়া টার্মিনাল মাইলফলক হবে : অর্থমন্ত্রী

    ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে লালদিয়া টার্মিনাল মাইলফলক হবে : অর্থমন্ত্রী

    অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল একটি মাইলফলক হবে। এটি শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশেরই নয়; পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বসেরা টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস্ ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে প্রায়ই কথা উঠে। আসলে বাণিজ্যিক রাজধানী তো করার বিষয় নয়, হওয়ার বিষয়। চট্টগ্রামে এই ধরনের আরো অনেক প্রকল্প হবে, বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। এই ধরনের কার্যপরিধি বাড়তে বাড়তে চট্টগ্রাম সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে রূপ নেবে।’

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব সরকার। যার আছে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি। তবে আমরা সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।’

    ডেনমার্কের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এসপিএম বিশ্বের শীর্ষ বন্দরে অনেক টার্মিনাল পরিচালনা করছে। তারা চট্টগ্রামের এই টার্মিনাল নির্মাণে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং যতটুকু জানি, তা পর্যায়ক্রমে আরো বাড়তে থাকবে। এপিএম মুলারের বাংলাদেশে আসাটা একটা মাইলস্টোন। তারা লালদিয়ায় আধুনিক বন্দরও নির্মাণ করবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।’

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মিত হয়ে গেলে এটার সুবিধা শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ পাবে তা নয়; এই টার্মিনালটির সুবিধা ভোগ করতে পারবে পুরো অঞ্চল। আঞ্চলিক বন্দরগুলোও তাদের প্রয়োজনে লালদিয়ায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। সেটা হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে।’

    তিনি বলেন, আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন দেখি, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় দেখা যায়। কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগের এখন যে গতি শুরু হয়েছে, বেসরকারি খাতও যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই এই দেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই দেশের অর্থনীতিকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই, এই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন ঘটাতে চাই। সে জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের, অংশীদারদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে বাণিজ্যিক হাব রয়েছে, সেটি আরো প্রসারিত হচ্ছে। বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে। আজ নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। আমাদের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানের হতে চলেছে। লালদিয়া এপিএম টার্মিনাল পিপিপি পদ্ধতিতে বড় বিনিয়োগ। এখানে অনেক ফ্যাসিলিটিজ থাকবে, যা জাতির জন্য সুসংবাদ।’

    স্বাগত বক্তব্যে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, ‘টার্মিনালে অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। টার্মিনালে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর থাকবে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেনার হ্যান্ডেলিংয়ের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।’

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মেজর গেটওয়ে। এ বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে। ডেনমার্কে গ্রিন টেকনোলজির কিছু টার্মিনাল দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ১০ বছরে আমাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ হবে। আমরা বিদেশী বিনিয়োগ পার্টনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।’

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, এপিএম টার্মিনালসের বিভি’র গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লেমেন্টেশন জ্যাক ক্রেইগ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার।

    অনুষ্ঠানের শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অতিথিবৃন্দ মঞ্চে এসে লালদিয়া কন্টেইনাল টার্মিনাল ভিত্তিস্থাপন ও আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসের প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারত-উজবেকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম চুক্তি সই

    ভারত-উজবেকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম চুক্তি সই

    ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম চুক্তি সই হয়েছে। রোববার তাসখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    এ ছাড়া তিনটি সিস্টার সিটি ও সিস্টার স্টেট চুক্তি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উজবেকিস্তানের নতুন শহর ‘নিউ তাশখন্দ’ নির্মাণে ভারতের গুজরাটের গিফট সিটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রস্তাবও দেন মোদি।

    মিরজিয়োয়েভ জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো দুই দেশের বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং সরাসরি ফ্লাইট বেড়ে সপ্তাহে ১৪টিতে দাঁড়িয়েছে।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসামুক্ত ভ্রমণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সংস্কৃতির পাশাপাশি এখন পারমাণবিক জ্বালানি ও নগর উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ছে।

  • বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি

    বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, লজিস্টিকস ব্যয় হ্রাস এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। একই সঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

    বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসাকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    এমএসএমই খাতকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানান। একই সঙ্গে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্টিফেন রড্রিকস বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক, ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারি এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন।

  • মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এ বছর মাত্র ৫ লাখ লোক দারিদ্র্য কাটাবে, কাজ হারাবে ৬ লাখ

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এ বছর মাত্র ৫ লাখ লোক দারিদ্র্য কাটাবে, কাজ হারাবে ৬ লাখ

    ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে এমনিতে দারিদ্র্য লোকের সংখ্যা বেড়েছে।

    বিশ্বব্যাংক বলেছে, ২০২৬ সালে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে এ বছর মাত্র পাঁচ লাখ মানুষ দারিদ্র্য অবস্থা কাটাতে পারবে। বাকি ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বের হওয়ার কথা থাকলেও তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে পারবে না। শুধু তা–ই নয়, এ বছর ছয় লাখ মানুষ কাজ হারাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি তেল, সার কেনাসহ আমদানি খরচ মেটাতে বাংলাদেশ সরকার বাজেট সহায়তা চাইলে গত ১৫ জুন বিশ্বব্যাংক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। সেখানে এ কথাগুলো বলা হয়।

    দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট দেখা দেওয়ার পর বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছিল বর্তমান সরকার। বিশ্বব্যাংক তাতে রাজি হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক শর্ত দেয়, এত দিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে অব্যবহৃত অর্থ পড়ে আছে, তা একসঙ্গে করে বাজেট সহায়তা দেওয়া হবে। এসব অর্থ বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া আছে। ২৬ জুন ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বাজেট সহায়তা অনুমোদন করে বিশ্বব্যাংক।

    এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার লোকের সংখ্যা কমছে। এটি বেশ উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তখন প্রত্যাশা ছিল, নতুন রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিনিয়োগ বাড়বে ও নতুন কর্মসংস্থান হবে।

    নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের এই তথ্য নতুন সরকারের জন্য বিব্রতকর। এর মানে, অর্থনীতি আটকে থাকার পরিস্থিতি অব্যাহত আছে, এমন ইঙ্গিত দেয়। সরকার ঘোষিত জনপ্রিয় উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি অর্থনীতির দুর্বল কাঠামোগত বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। যেহেতু দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার লোকের সংখ্যা কমেছে, তাই সরকার ঘোষিত বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো যেন দরিদ্রদের উপযোগী হয়। রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে বেরিয়ে এসে নির্মোহভাবে সুবিধাভোগী চিহ্নিত করতে হবে।

    বাজেট সহায়তার অর্থ কীভাবে খরচ হবে

    বিশ্বব্যাংকের বাজেট সহায়তার অর্থ দিয়ে মূলত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা জ্বালানি পণ্যের দাম পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য নগদ সহায়তা ও জীবিকা সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে সংকটের সময়ে আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে প্রকল্পটি।

    ইতিমধ্যে বাজেট সহায়তার অর্থ বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার কেনাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে তা খরচ করা শুরু হয়েছে বলে সূত্রগুলো বলছে।

    বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে কী আছে

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সীমিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্য কমানোর গতি কমে যায়। ২০২৫ সালে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে। ২০২৬ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এ বছর মাত্র পাঁচ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

    বিশ্বব্যাংক মনে করে, এ বছর যে অর্জন প্রত্যাশা করা হয়েছিল, এর বড় অংশ অর্জন করা যাবে না। উল্টো প্রায় ছয় লাখ কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৬ সালে দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রায় ১০ শতাংশের জন্য জিনিসপত্রের বাড়তি দামকে দায়ী করা হচ্ছে।

    পরিস্থিতি জটিল হয়েছে

    বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ এক বহুমাত্রিক সংকট ও ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা এবং তীব্র ভূরাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতাগুলো বড় ধরনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে সীমিত করে দিয়েছে। ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কর–জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। টানা তিন বছর মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। জ্বালানি ভর্তুকি ও ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণের ব্যয় বাড়ার কারণে রাজস্ব ঘাটতি আরও বেড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

    জ্বালানি খাত নিয়ে যা আছে

    আমদানিনির্ভর জ্বালানি, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর বাংলাদেশের ব্যাপক নির্ভরতা বড় কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করেছে, যা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বারবার দেখা গেছে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে এমন কথা বলা হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংক বলেছে, দেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের ৫০ শতাংশের বেশি আসে গ্যাস থেকে। বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের ৬০–৬৫ শতাংশ ও এলএনজির ৫৫–৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইতিমধ্যে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির মধ্যে পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এলএনজির স্পট মূল্য বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ২৪–২৮ মার্কিন ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণের বেশি।

    বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, ২০২৬ সালে জ্বালানি খাতে মোট ভর্তুকির বোঝা দাঁড়াতে পারে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর পরিমাণ দেড় থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার হয়েছিল। ভর্তুকি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক ও জরুরি খাতে খরচ করার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

    ইউরিয়া, ডায়ামোনিয়াম ফসফেট, ট্রিপল সুপার ফসফেট ও মিউরিয়েট অব পটাশের মতো সারের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। অন্যদিকে দেশে ইউরিয়া উৎপাদনও স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ইউরিয়ার দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই দাম দ্বিগুণও হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

    বেসরকারি খাত ও কর্মসংস্থান

    বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ও শ্রমবাজার ব্যাপক কাঠামোগত দুর্বলতার মুখে রয়েছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে ২৬ বার বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের মুখে পড়ে, যার ফলে বার্ষিক বিক্রির ৯ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন বিধিবিধানের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ কমে যায়।

    বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, শ্রমবাজারের অবস্থাও কাঠামোগতভাবে অবনতি হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রতি ১০টির মধ্যে সাতটি হয়েছে কম উৎপাদনশীল কৃষিতে।

  • চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে: শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে: শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলাস্থ জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবগঠিত বগুড়ার মোকামতলা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা জানান। এসময় নেতৃত্বকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। চলমান অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা। এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ই-রিকশা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের প্রয়োজন ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুপরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

  • রূপালী ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রূপালী ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের আওতাধীন শাখাগুলোর জুলাই-২০২৬ ভিত্তিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর দিলকুশাস্থ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর জুলাই-২০২৬ ভিত্তিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো: ওয়াহিদুল ইসলাম। এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার আহ্বান জানান।

    এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার।

    অনুষ্ঠানে প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো: মইন উদ্দিন মাসুদ, বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা দক্ষিণের মহাব্যবস্থাপক তানভীর হাসনাইন মইন, ঢাকা উত্তরের মহাব্যবস্থাপক শেখ মুনজুর করিম ও আদায় বিভাগ-২ এর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: মাহমুদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় জুলাই-২০২৬ ভিত্তিক ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একইসাথে চলতি বছরের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

  • চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন রোববার

    চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন রোববার

    চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামীকাল রোববার।

    চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া প্রজেক্ট সাইটে আগামীকাল বেলা ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি ও বিশেষ অতিথি থাকবেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।

    চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সিংহভাগ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

    ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতি আনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এই প্রেক্ষাপটে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ টার্মিনাল দেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরো দক্ষ ও গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য এ টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কনটেইনার পরিবহন ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরো সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় দেশের বন্দর ও নৌপরিবহন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পও এ ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এই প্রকল্পটি পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বিনিয়োগ, যার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। প্রকল্পের আওতায় কনটেইনার ইয়ার্ড, জেটি, গেট, আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

    প্রস্তাবিত টার্মিনালের বার্ষিক হ্যান্ডলিং সক্ষমতা হবে প্রায় ০.৮ মিলিয়ন টিইইউস (TEUs) এবং জেটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬১৫ মিটার। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও আধুনিক এসটিএস ক্রেনসহ উন্নত কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা এখানে স্থাপন করা হবে।

    ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত থাকবেন।

  • কৃষিকে আধুনিক করতে পার্টনার প্রকল্পে অগ্রগতি

    কৃষিকে আধুনিক করতে পার্টনার প্রকল্পে অগ্রগতি

    উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা, উত্তম কৃষি চর্চা, নিরাপদ খাদ্য, গবেষণা, কৃষিপণ্য রপ্তানি ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি বিস্তারে কাজ করছে প্রকল্পটি।

    ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পটির নির্ধারিত ফলাফলের বিপরীতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ শতাংশ সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ছয় হাজার ৯১১ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সাতটি সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

    প্রকল্পের আওতায় ২৮ হাজার ৫৯৭টি মাঠ স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০টির কার্যক্রম চলছে। কৃষকদের উত্তম কৃষি চর্চা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ২০ হাজার ব্যাচের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে ৩০টি প্রশিক্ষণ ব্যাচের মধ্যে ২৭টি শেষ হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ১১২টি কর্মশালার মধ্যে ৩১টি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রকল্পের অন্যতম বড় উদ্যোগ কৃষক কার্ড। চলতি আগস্টে ১০ লাখ এবং এ বছরের মধ্যে ৪৭ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকদের ভর্তুকি, ঋণ, প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা সহজে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সোনালী, জনতা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এ বিষয়ে পার্টনার প্রকল্পের কোর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও রূপান্তরের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন পার্টনার প্রকল্পের অগ্রগতি শুধু ব্যয়ের হার দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভিত্তিতেই এ প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি প্রায় ৪৭ শতাংশ।

    তিনি বলেন, পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়ন পদ্ধতি ফলাফলভিত্তিক। বাংলাদেশের কৃষি খাতে এ ধরনের অর্থায়ন পদ্ধতির প্রকল্প আগে বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়ন সহযোগীদের নির্ধারিত ফলাফল অর্জনের প্রমাণ যাচাইয়ের পরই অর্থ ছাড় করা হয়।

    ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের ঋণ চুক্তির পরিমাণ ৫৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জীভূত ফলাফলের বিপরীতে ২৫২ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ের জন্য দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ চুক্তির মোট অর্থের প্রায় ৪৭ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থের দাবি উত্থাপিত হয়েছে।

    কোর্ডিনেটর আবুল কালাম বলেন, প্রকল্পে মোট ১০টি অর্থ ছাড়ের সংযোগ নির্দেশকের আওতায় ২৪টি ফলাফলভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের প্রমাণপত্র প্রকল্প থেকে দাখিল করা হয়। পরে একটি স্বাধীন যাচাইকারী সংস্থা তা যাচাই করে। যাচাই শেষে নির্ধারিত হারে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় হয়। তবে কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা প্রয়োজন।

    এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ৫০ লাখ কৃষকের কাছে ডিজিটাল কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া। এছাড়া উত্তম কৃষিচর্চার আওতায় তিন লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ও খামারকে সনদের আওতায় আনা, স্বীকৃত পরীক্ষাগার স্থাপন এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে ১০ শতাংশ হারে বাড়ানোর মতো লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে।

    তিনি বলেন, গত ১ থেকে ২৩ জুন বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের যৌথ মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা মিশনে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে ডিপিপি সংশোধনের পাশাপাশি কিছু লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

    কোর্ডিনেটর জানান, উন্নয়ন সহযোগীদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে থাকা অন্যান্য কার্যক্রম, বিশেষ করে অবকাঠামো ও ভৌত নির্মাণকাজ, ডিপিপি সংশোধন ছাড়া শুরু করা সম্ভব নয়। সংশোধনের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। সংশোধন ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করলে পরবর্তী সময়ে অর্থ ছাড় নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ডিপিপি সংশোধন সম্পন্ন হলে প্রকল্পের অন্যান্য কার্যক্রমও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫ বিলিয়ন ডলার

    বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫ বিলিয়ন ডলার

    বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে।

    শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াগলে বলেন, ‘প্রাথমিক হিসাবে পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এটি এখনো কেবল একটি অনুমান। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।’

    অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নেপাল পুনর্গঠনে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল, এবার তার চেয়ে কম অর্থ লাগতে পারে। তবে কেন এবারের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

    হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা

    গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ধসে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদীর স্রোতের সঙ্গে নিচে নেমে আসে। এর ফলে নেপাল ও চীনের তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।

    এই দুর্যোগে দুই দেশে ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

    বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সীমান্তবর্তী এলাকার বেশ কয়েকটি শহর ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে সেতু ও সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও।

    দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো শেষ হয়নি। ফলে পুনর্গঠনে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে ব্যয় ৯ বিলিয়ন ডলার

    ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হন। ধ্বংস হয় ৫ লাখের বেশি বাড়িঘর।

    ভূমিকম্পে নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে দেশটির পুনর্গঠনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।

    এবার প্রাথমিক হিসাবে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে এবারের পুনর্গঠনে কেন ২০১৫ সালের তুলনায় কম অর্থ লাগবে, তার ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

    জলবিদ্যুৎ খাতেও বড় ক্ষতি

    বন্যার ধাক্কা শুধু অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি আসে।

    ফলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করাও নেপালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দেশটির অর্থনীতি মূলত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ, পর্যটন ও জলবিদ্যুতের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাব শুধু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বা অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করাই এখন নেপালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরানের তেল রাজস্ব ও বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

    যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরানের তেল রাজস্ব ও বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

    যুদ্ধ ও নৌ অবরোধ সত্ত্বেও তেল রাজস্ব-বাজেট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে ইরান। বার্তা সংস্থা ফার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, বাজেট অর্থায়নের জন্য ইরানের কাছে বিক্রির উপযোগী পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে।

    পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাজেটে নির্ধারিত তেল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চার মাসে তেল বিক্রি থেকে অর্জিত ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তান্তর করেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়। এই অর্থ দিয়ে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রাভিত্তিক ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

  • দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত কমল

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত কমল

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় ২২ ক্যারেটসহ সব ধরনের স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রৌপ্যের দামও।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৬ টাকা। আগের দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ৭ হাজার ১০৯ টাকা।

    শনিবার সকালে বাজুসের ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’-এর সভায় স্বর্ণ ও রৌপ্যের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। তেজাবি স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম কমার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নতুন দামে স্বর্ণ

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৬৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৬ হাজার ৯২০ টাকা।

    এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৮২০ টাকা।

    ভরি হিসাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৮৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম হবে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭৩ টাকা।

    কমেছে রৌপ্যের দামও

    স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যের দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্য ৪৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রৌপ্য ২৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ছিল ৪৭০ টাকা। ফলে এবার প্রতি গ্রামে দাম কমেছে ১৫ টাকা।

    এর আগে কত ছিল স্বর্ণের দাম?

    সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ২১ হাজার ২৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। সে হিসাবে প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৫ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ২০ হাজার ২৮৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১৭ হাজার ৪২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১৪ হাজার ২২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

    এর আগে ২২ আগস্টও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে কয়েক দফা দাম বাড়া-কমার পর এবার স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন হলো।

    বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে মজুরি যুক্ত হবে।

    পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন এই মূল্য কার্যকর থাকবে।

  • আগস্টের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    আগস্টের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ থেকে ২৬ আগস্ট দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে।

    তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ আগস্ট-এই দুই দিনে প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।

      এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৪৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

      ফলে চলতি অর্থবছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    • আইন পেশায় সফলতা পেতে অর্থের পেছনে না ছোটার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

      আইন পেশায় সফলতা পেতে অর্থের পেছনে না ছোটার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

      আইনজীবী হিসেবে সফল হতে হলে অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

      শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত ফেলিসিটেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

      আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে সফল হতে হলে শুধু অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের শর্টকাট অবলম্বন করে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

      তিনি বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন।’

      নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় কোনো ধরনের নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি আস্থা রেখে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে হবে। আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে। তাই পেশাগত জীবনের শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে যোগ্য আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

      আইনমন্ত্রী আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়। মেধা, সততা, নীতি-নৈতিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে।’

      তিনি ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘ক্লায়েন্ট ইজ এ ক্লায়েন্ট। ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’

      আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব।’

      তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিচালিত মামলার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার চেষ্টা করার আহ্বান জানান।

      নিজের আইনজীবী জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের ভূমিকা রাখতে হবে।’

      নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন পেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। যত বেশি পড়াশোনা করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিংসহ পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য আইনজীবীদের নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে।’

      তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আইন পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষতাভিত্তিক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

      আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনে এমন একটি আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার কারণে আইনজীবী পেশা মানুষের কাছে আরও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠবে। আইনজীবীরা যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন, সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

      অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কেএম মজিবুল হক, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এমএ বাকি খলিলি। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন।

      অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

    • বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

      বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

      হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে আশা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আজ শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কমেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

      শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৫ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৯.৪৫ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ২২ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৩.৩১ ডলারে নেমে আসে।

        সপ্তাহজুড়ে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫.৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪.৩ শতাংশ কমেছে।

        আগের দিন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শুক্রবার আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল।

        এদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে কাতারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ইরান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের বিনিময়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্ত দিয়েছে দেশটি।

        ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।

        রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

      • বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারকলি

        বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারকলি

        এক সময় আনারকলি বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন হালিম আহম্মেদ বাচ্চু।

        কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়া পাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা বাচ্চুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ রঙের আকর্ষণীয় দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল আনারকলি, প্যাশন বা ট্যাংক ফল।তিনি বলেন, ‘চারা লাগানোর আট মাস পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারাবছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এ ফল চাষ করা যায়। জলবায়ু সহনশীল টক-মিষ্টি স্বাদের এ ফল চাষে তুলনামূলক কম খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় দিনদিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও।’

        কৃষি বিভাগ থেকে যদি ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পান, তাহলে আমার মতো কৃষকরা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

        তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। গতবছর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে স্টালিন ভাইয়ের বাগানে সর্বপ্রথম এ ফলের চাষাবাদ দেখি। সেখান থেকেই চারা সংগ্রহ করে আমার এক বিঘা জমিতে রোপন করি।’

        বাচ্চু আরও বলেন, ‘কিছু দিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে মাত্র আট মাসের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। আট মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে।’

        এক বিঘার আনারকলি বাগান করতে বাচ্চুর এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

        বাচ্চুর বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষও। নতুন এ ফলের চাষ ও ফলন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারকলি, প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।’

      • এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী, নজর ফেডপ্রধানের বক্তব্যের দিকে

        এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী, নজর ফেডপ্রধানের বক্তব্যের দিকে

        যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের আগে শুক্রবার এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা তার বক্তব্য থেকে সুদের হার নিয়ে ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের কোনো ইঙ্গিত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

        বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের অবসানের কোনো লক্ষণ না থাকায় সুদের হার নিয়ে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

        এনভিডিয়ার শক্তিশালী আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর আবার অর্থনীতির দিকে ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কখন বাড়াবে, আদৌ বাড়াবে কি না—এ নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

        গত মাসের ফেড বৈঠকে কর্মকর্তারা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখেন। তবে তিনজন কর্মকর্তা সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও তা এখনো ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।

        দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার আশঙ্কা এবং ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও বাড়ছে। এর ফলে সরকারের জন্য ঋণ নেয়ার খরচও বাড়ছে।

        বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ওয়াইওমিংয়ের জ্যাকসন হোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ও অর্থনীতিবিদদের বার্ষিক সম্মেলনে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্য থেকে নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে।

        তবে জুলাইয়ের ফেড বৈঠকের পর তার সর্বশেষ বড় বক্তব্যটি ছিল বেশ অস্পষ্ট। এ কারণে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এবারো ওয়ারশ যদি ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে সরাসরি কোনো দিকনির্দেশনা না দেন, তাহলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো প্রত্যাশিত উত্তর পাবেন না।

        কুইনটেক্স ইন্টেলের স্টিফেন ইনেস বলেন, ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ওয়ারশের এটিই প্রথম বক্তব্য। তার মতে, এ বক্তব্যটি এ বছরের বাকি সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক-সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হতে পারে। কারণ, এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে।

        তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য আপাতত সুদের হার দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমিয়েছে। ফলে ওয়ারশ এখনই সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা না দিয়েও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে ফেডের কঠোর অবস্থান আবারো স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

        ইনেস আরো বলেন, ‘একটি কঠিন নীতিগত পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়ারশ এই বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। টানা ষষ্ঠ বছর মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। এদিকে, ফেডের কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রয়োজন এখনো রয়েছে কি না এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

        শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার আগের দিনের বড় উত্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল। এনভিডিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক পূর্বাভাসের কারণে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি শেয়ারে বড় উত্থান হয়েছিল। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অতিরিক্ত উত্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমেছিল।

        এদিন টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, জাকার্তা ও তাইপের শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। অন্যদিকে সিউল, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলার বাজারে সূচক কমেছে।

        এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও তিনটি প্রধান শেয়ারসূচকই বেড়েছিল। তবে এই উত্থান মূলত প্রযুক্তি খাতনির্ভর ছিল। ১১টি প্রধান খাতের মধ্যে শুধু প্রযুক্তি খাতই সেদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

        আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার তেলের দাম সামান্য কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় ভবিষ্যতে তেলের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

        ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

        বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই সেখানে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা এখনো কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আনতে পারেনি।

      • মেহেরপুরে হারানো ১০৮ মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা

        মেহেরপুরে হারানো ১০৮ মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        মেহেরপুরে ১০৮টি হারানো মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রকৃত মালিকদের কাছে মোবাইল ও অর্থ হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার উত্তম কুমার রায়। গত দুই মাসে মেহেরপুরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে উদ্ধার হয় এসব মুঠোফোন ও নগদ অর্থ।

        পুলিশ জানায়, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে জেলার তিন থানায় সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে ১০৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। একই সময়ে ২৬টি ফেসবুক আইডিও রিকভার করা হয়। এ ছাড়া বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ভুক্তভোগীদের করা থানার জিডির ভিত্তিতে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ভুলক্রমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চলে যাওয়া টাকা-সংক্রান্ত ছয়টি জিডির ভিত্তিতে ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মোট ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

        পুলিশ সুপার উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘অনলাইন জুয়া, বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভিসা জালিয়াতি, বিকাশ প্রতারণা ও অনলাইন কেনাকাটাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীদের থানায় আসতে হবে। ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।’

        অনলাইনে প্রতারণা থেকে বাঁচতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং অনলাইনে কেনাকাটার আগে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শও দেন তিনি।

      • অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের আহ্বান

        অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের আহ্বান

        ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোর জনসংখ্যা এবং ভূ-কৌশলগত অবস্থানের তুলনায় তাদের অর্থনৈতিক আকার ছোট। তাই এ ক্ষেত্রে আরো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান এ আহ্বান জানান।

        মতপার্থক্য সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দেন পেজেশকিয়ান।

        তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭টি সদস্য দেশ ‘জ্বালানি সম্পদ, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং একটি বিশাল বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ও স্থলপথের কেন্দ্রবিন্দুতে’ অবস্থিত।

        তিনি আরো বলেন, সদস্য দেশগুলোর রপ্তানির মাত্র ১৯ শতাংশ এই গোষ্ঠীর মধ্যেই থাকে, বাকিটা ওআইসির বাইরের দেশগুলোতে যায়। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান জানান।

      • মহেশপুর  ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মানে মতবিনিময় সভা 

        মহেশপুর  ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মানে মতবিনিময় সভা 

        মোঃ মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদাহ)

        ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সকল তফসিলি ব্যাংকের আয়োজনে এক দেশ এক QR লেনদেনে বাংলা QR ক্যাশলেস, বাংলাদেশ বিনির্মানে বাংলা QR বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

        বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা অডিটোরিয়াম এ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা জয়েন্ট ডিরেক্টর (জেডি) মোঃ সোহানুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহেশপুর ইসলামী ব্যাংকের সহকারী অফিসার (আরডিএস) পিএলসি মোঃ রফিকুল ইসলাম। মহেশপুর সোনালী ব্যাংকের পিএলসি এজিএম মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ঝিনাইদহ জোনাল অফিস ও অগ্রনী ব্যাংকের পিএলসি মোঃ মোজাহারুল ইসলাম। ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি,এসএ ভিপি ও ব্যবস্থাপক মোঃ রুহুল আমীন। অনুষ্ঠান বক্তারা QR লেনদেনে বাংলা QR ব্যবহার করে সহজেই অর্থ লেনদেন করা যায় এবং QR app ব্যবহার করে গ্রাহক র্চাজ ছাড়া সহজেই অর্থ লেনদেন করতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহেশপুর ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ জামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা।

        এ.আর

      • প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সুযোগ পেল ব্যাংকগুলো

        প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সুযোগ পেল ব্যাংকগুলো

        আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) ইস্যুর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

        নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও এসবিএলসি ইস্যু করতে পারবে স্থানীয় ব্যাংকগুলো। এর মাধ্যমে ওই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি ইস্যুসংক্রান্ত বিধান আংশিক সংশোধন করা হলো।

        বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত অংশীদার, স্থানীয় এজেন্ট বা অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিড বন্ড, পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বা এসবিএলসির সংস্থান করতে পারবে।

        এ সুযোগ পেতে কিছু শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে মূল চুক্তিতে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি গ্রহণের স্পষ্ট সুযোগ থাকতে হবে। দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য চুক্তি বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং এর সপক্ষে বৈধ দলিলাদি থাকতে হবে। গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যুর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি ও দায়ের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত জামানত বা কাউন্টার–সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে।

        জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ঝুঁকির মাত্রা এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে। গ্যারান্টির কারণে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের ব্যয়, দায় ও অন্যান্য খরচ কীভাবে পরিশোধ করা হবে এবং গ্যারান্টি কার্যকর (ক্যাশ) হলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান কীভাবে অর্থ ফেরত দেবে, তা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

        ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব ঋণনীতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও একক গ্রাহক ঋণসীমা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

      • খেলাপি ঋণ আদায়ে একীভূত ৫ ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

        খেলাপি ঋণ আদায়ে একীভূত ৫ ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

        খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা করেছে একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংক। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।

        ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

        সভায় পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণ ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

        সভায় জানানো হয়, খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রচলিত আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশনের (এডিআর) মতো সমঝোতাভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায় ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

        এছাড়া ব্যাংকগুলোর আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

        বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত ছয় মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

        এ ছাড়া প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৫টি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), সুইফট ও আরএমএসহ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজও এগিয়ে চলছে। তাছাড়া আমানতকারীরা যাতে ৫ ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে তাঁদের আমানতের অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

        বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকটির শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসায়িক ইউনিটের একীভূতকরণ, পুনর্বিন্যাস ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার কাজ চলমান রয়েছে।

        বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও ব্যবসায়িক ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত একীভূতকরণের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে বিআরডি।

        কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।