অর্থ ও বাণিজ্য

  • ঢাকায় পাঁচ দিনব্যাপী পাকিস্তান মেলা শুরু

    ঢাকায় পাঁচ দিনব্যাপী পাকিস্তান মেলা শুরু

    ঢাকায় শুরু হয়েছে পাকিস্তানি পণ্য ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরার পাঁচ দিনব্যাপী প্রদর্শনী। পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রি (পিএইআই) আয়োজিত চতুর্থ ‘মেড ইন পাকিস্তান এক্সিবিশন অ্যান্ড বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) উদ্বোধন করা হয়।

    উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাকিস্তানের এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হুসাইন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, পিএইআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খুরশিদ বারলাস, চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, খাদ্যপণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রান্নাঘরের সামগ্রী ও ক্রোকারিজ, ভোগ্যপণ্য, জুতা, গৃহস্থালি পণ্য, রত্ন ও জুয়েলারি, ফ্যাশন ও ফেব্রিক, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, হস্তশিল্প এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা সেবা।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে ৫ হাজারের বেশি দর্শনার্থী ও প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তারা পাকিস্তানি পণ্য এবং দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রদর্শনী সফলভাবে আয়োজন ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

    প্রদর্শনীতে পাকিস্তানি বিভিন্ন কোম্পানি, ব্র্যান্ড ও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ অনুসন্ধান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে ফাহাদ বারলাস বলেন, এ প্রদর্শনী বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরো জোরদারে ভূমিকা রাখবে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আরো বেশি অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এ আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    পিএইআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খুরশিদ বারলাস বলেন, প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশি ভোক্তা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পাকিস্তানি পণ্য তুলে ধরা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই রপ্তানির ক্ষেত্রে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। তাই দুই দেশের রপ্তানি খাতকে আরো শক্তিশালী করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    নারী উদ্যোক্তাদের জন্যও দুই দেশের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন খুরশিদ বারলাস। তিনি বলেন, পাকিস্তানের নারী উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বিকাশমান টেক্সটাইল শিল্প থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ নিতে পারেন। একইভাবে বাংলাদেশের নারী ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানের বিকাশমান খুচরা বাজারে নতুন ক্রেতা খুঁজে নিতে পারেন।

  • এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ নিয়োগ

    এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ নিয়োগ

    গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে দেশের বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই ৮,৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেশিরভাগই সাইফুল আলমের (এস আলম) জন্মস্থান চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী বর্তমানে পলাতক এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময়ে ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রি (সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ) এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরাসরি নিয়োগ পাওয়া

    কর্মীদের মধ্যে ৬,৩৭৫ জনকে প্রথমে এন্ট্রি পদে রাখা হয়। বাকি ৩,৯৯১

    জনকে সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগের বিধান অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

    তবে ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানায় পরিবর্তনের পর ওই বিধানের তোয়াক্কা না করে ৮,৫৪২ জনকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করেই নিয়োগ দেওয়া হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে ওই সময় ব্যাংকটি তাদের মানবসম্পদ নীতিমালা সংশোধন করেছিল। নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার পদমর্যাদার অবিলম্বে নিচের দুই স্তর বাদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করা যাবে’ বলে যুক্ত করা হয়।

    তবে এই বিধানের ৭.০১ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ৭.০১ ধারায় বলা হয়েছে, সাধারণত বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সাধারণত নিয়োগ বিধিমালায় এ ধরনের ধারা রাখা হয়, যাতে জরুরি মুহূর্তে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে লেটারাল এন্ট্রির এক-দুটি পদ বা কারিগরি পদে নিয়োগ দেওয়া যায়। কিন্তু ওই ধারা নতুন করে সংযোজন করে ব্যাংকের প্রবেশনারি এন্ট্রি পদে ছয় হাজারের বেশি কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়, যা খুবই অস্বাভাবিক।

    নতুন যুক্ত করা ওই ধারায় ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দেওয়ার কথা বলা হলেও’ ব্যাংকটির ওই সময়কার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের কখনো বড় ধরনের জনবল সংকট ছিল না। বরং ওই সময় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই যে পরিমাণ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

    নিয়োগের অর্ধেকই পটিয়ার

    এস আলমের নিয়ন্ত্রণের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ছিল ৮,০৯৯ জন। এর মধ্যে ৫,১৪৮ জনই এস আলমের জন্মস্থান পটিয়ার। মূলত নিয়োগের বিজ্ঞাপন না থাকার কারণেই চট্টগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই জেলা থেকে উচ্চহারে নিয়োগের কারণে একটি কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মেধাবী ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

    এস আলমের বাসায় সিভি সংগ্রহ

    বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়ার জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়। জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহের জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি ও চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ অফিসে বিভিন্ন ধরনের বক্স রাখা হতো। ওই সব বক্সে ‘পটিয়া জেনারেল’, ‘পটিয়া ক্যাশ’, ‘পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’, ‘পুরুষ ক্যাশ-গন্ডামারা-বাঁশখালী’, ‘মহিলা-ক্যাশ’, ‘নারী’, ‘ডিপ্লোমা’ ইত্যাদি লেখা থাকত। পরে পছন্দের প্রার্থীদের ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো। পরে প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হতো বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে।

    প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগে নিয়ম লঙ্ঘন

    ইসলামী ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার ২৪তম ব্যাচের নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের ২৬টি প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের মধ্যে শুধু ২৪তম ব্যাচেই কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ২০১৯ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে ৮৪০ প্রার্থীর তালিকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে এসব প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে। ওই পরীক্ষায় ৭৬৩ জন অংশ নেন। ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু এই নম্বর পান মাত্র ৩৬ জন। পরে পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এতে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩০৪ জন। এর বাইরে লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই ১২ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    পরে তালিকার প্রথম ১৭৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ মোট ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১২৬ জনকে পাঠানো হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এসব প্রার্থীর সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন চাকরিতে যোগ দেন।

    এছাড়া নিয়ম ভেঙে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২,২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসারকে (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। একই ঘটনা ঘটেছে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) ও ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও। এসব পদে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যথাক্রমে ২,৮২৮ জন ও ৫০১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এছাড়া লেটারাল এন্ট্রি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, ২০১৭-২৪ সাল পর্যন্ত ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের লক্ষ্য করা হয়েছে। এ সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৬৪ জনকে চট্টগ্রাম জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় ২০১৭-২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাকায় কর্মরত ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। তাদের সবাই সিভি জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু ভাইভা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানান। দুই প্রার্থী কোনো ভাইভাও দেননি বলে জানানো হয়। তাদের কেউ কেউ সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশে (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি) এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ অফিসের বক্সে সিভি জমা দেন। সেখানে ভাইভা দেন এবং যোগদানপত্রও সংগ্রহ করেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

    ডিএমডি হিসেবে পদোন্নতিতেও অনিয়ম

    ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে যোগদানের আগে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিন মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত থাকলেও মাত্র এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি ডিএমডি হন।

    এছাড়া আরেক ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন ২০ বছরের বিপরীতে মাত্র ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি হন। একই সঙ্গে ডিএমডি হওয়ার আগে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত থাকলেও তার ছিল মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতা।

    যা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর নীতিগত পরিবর্তনগুলো শুধু একটি গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক বাড়তি সুবিধা দিতে সংযোজন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের নিয়োগের জন্য লিখিত ও ভাইভা নেওয়া এবং যোগ্যতার নম্বর হিসেবে ৫০ শতাংশ পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

    জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি জড়িত নয়। এটি ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। তবে ব্যাংক খাতের অভিভাবক হিসেবে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা রাখে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    ৪৬৮৫ জনকে চাকরিচ্যুত

    ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তের জন্য বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনায় চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। নিরীক্ষায় এস আলমের সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের চিত্র উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

    তবে এই পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

    এরপর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার আয়োজন করে।

    ব্যাংকের তথ্যমতে, মোট ৫,৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে বহাল আছেন।

    অন্যদিকে ৪,৯৭২ জন ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। এদের মধ্যে কিছু কর্মী পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন। পাশাপাশি তারা কর্মবিরতি পালন, সড়কে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ আনা হয়।

    ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিমালাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে। বোর্ডের পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ৪,৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘তাদের নিয়োগের বৈধতা-অবৈধতার বিষয় বিবেচনা করে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। সে সময় যে প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সার্ভিস রুল অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে তাদের পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাপার এবং প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

  • মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরির ঝুঁকি: বাংলাদেশ ব্যাংক

    মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরির ঝুঁকি: বাংলাদেশ ব্যাংক

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কারণে দেশে মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি)। এ কারণে এখনই নীতি সুদহার পরিবর্তন না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এমপিসির ১৪তম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

    বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক ও বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি

    পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।

    কমিটি মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো অস্থির। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিটি।

    এ পরিস্থিতিতে বর্তমান নীতি সুদহারে এখনই কোনো পরিবর্তন না এনে অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিঘাতের প্রভাব পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমপিসি। বিশেষ করে এসব অভিঘাত দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক (সিপিআই) মূল্যস্ফীতির ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা পর্যালোচনা করা হবে।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফিরদৌসী নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ইমাম আবু সায়েদ। এছাড়া এমপিসির সদস্যসচিব ও মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া

    বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার বাড়ানো হয়েছে লঞ্চ ভাড়া। প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে লঞ্চের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২০ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে।

    সচিবালয়ে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সড়ক ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধিসহ সবকিছু বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া আগে ৩২ টাকা ছিল। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি আমাদের কাম্য না। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। এজন্য জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই আমরা সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কাউকে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দিইনি।জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন মালিকরা। তারা একজন যাত্রীর যাতায়াতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর জন্য নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তারা প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান দুই টাকা ৯৫ পয়সার স্থলে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ৫২ পয়সার স্থলে চার টাকা দুই পয়সা করার কথা বলেছে। অন্যথায় জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া দূরপাল্লা ও রাজধানীসহ শহরে কিলোমিটার প্রতি ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ৩ পয়সা ভাড়া কম নিতে বলা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১৭ পয়সা হয়।

    গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানোর আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা।অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা বাড়ে। তবে দূরাল্লার পথে অনেক নন–এসি বাসের আসন কমিয়ে ৪০ বা এর চেয়ে কমে নামিয়ে আরমাদায়ক করা হয়েছে। সেগুলোতে ভাড়া আরও বেশি। এ ছাড়া যুক্ত হতো সেতু ও সড়কের টোল। এবার নতুন করে ১৭ পয়সা বাড়ার কারণে নতুন করে নির্ধারিত হবে বাস ভাড়া।

  • চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

    চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

    যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে সরকারি গম সংগ্রহ অভিযানে এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। খোলাবাজারের তুলনায় সরকারি দর কম এবং জটিল নিয়মকানুনের কারণে কৃষকেরা সরকারি গুদামে গম বিক্রিতে আগ্রহ দেখাননি। গত ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে চলতি মৌসুমের সরকারি গম সংগ্রহ অভিযান।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে থেকে ৫২ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠপর্যায়ে ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়।

    এবার প্রতি কেজি গমের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি।

    চৌগাছায় এবার প্রায় আড়াই হাজার কৃষক ২৮৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেছেন। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন। এত উৎপাদনের পরও সরকারি গুদামে কোনো কৃষক গম বিক্রি করেননি।

    কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি মণ গম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দরের তুলনায় খোলাবাজারে মণপ্রতি অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষকেরা গুদামে গম দিতে আগ্রহী নন।

    এ ছাড়া সরকারি গুদামে গম বিক্রির ক্ষেত্রে আর্দ্রতার মাত্রা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ রাখার শর্ত রয়েছে।

    অন্যদিকে, খোলাবাজারে ১৮ শতাংশ আর্দ্রতার গমও ব্যবসায়ীরা কিনছেন।

    চাষিদের অভিযোগ, গুদামে গম নিতে গেলে পরিবহন, কুলি ও পরিমাপ বাবদ মণপ্রতি আরও ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচ হয়। এসব কারণে লোকসান ও ঝামেলা এড়াতে তারা খোলাবাজারেই গম বিক্রি করছেন।

    রামকৃষ্ণপুর গ্রামের গমচাষি লাবলু রহমান বলেন, খোলাবাজারে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভালো দামে নগদ টাকা পাওয়া যায়। সরকারি গুদামে বাজারের তুলনায় মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দাম দেওয়া হলে কৃষকেরা সেখানে গম বিক্রি করতেন।

    খাদ্য পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা খোলাবাজারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ টাকা কম। এ কারণে কৃষকেরা গুদামে গম দেননি।

    উপজেলা গম, ধান ও চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, বাজারের প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বাস্তবসম্মত দর নির্ধারণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

  • জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

    সব ধরনের জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সর্বত্র। বেড়েছে বাস ভাড়া, পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক-লরি ভাড়া এবং সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। শিল্পোৎপাদন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়েছে অস্বাভাবিক চাপ। অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে ঝগড়া-বিবাদও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও কাঁচা বাজারগুলোতে বিবাদ বেশি দেখা গেছে।

    উত্তাপ লেগেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের গায়ে

    * বেড়েছে বাস-ট্রাক ভাড়া

    * সবচেয়ে বেশি চাপে রাইড শেয়ারকারীরা

    গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহনের চালক-হেলপার, কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভ ও হতাশা। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না কেউই। কারওয়ান বাজারের টং দোকানি বাবলু শেখ বলেন, ‘তেলের দাম বাইড়া যাওয়ায় গত দুইদিন ধইরা বিক্রি অনেক কোইমা গ্যাছে। মানুষ মনে হয় চা খাওয়াও ছাইড়া দিছে!’

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া কিলোমিটার (কিমি) প্রতি ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিমিপ্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানোর আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিমিপ্রতি ছিল দুই টাকা ৫৩ পয়সা। নতুন ভাড়া হবে দুই টাকা ৭০ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া দুই টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হবে দুই টাকা ৫৯ পয়সা।

    রাজধানীর ফার্মগেট থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে সাইনবোর্ডের দূরত্ব ১৪.৪০ কিমি। নতুন নির্ধারিত কিমিপ্রতি ২.৭০ টাকা পয়সা হিসাবে এ পথের ভাড়া হবে ৩৮.৪৪ টাকা। এই রুটের লাব্বাইক পরিবহনে আগেই নেওয়া হতো ৪০-৪৫ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। ফার্মগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত এতদিন ভাড়া ছিল ১০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা।

    অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিমিপ্রতি ভাড়া এতদিন ছিল দুই টাকা ২৩ পয়সা। বর্ধিত ভাড়া হবে দুই টাকা ৪০ পয়সা। যদিও রাজধানীর প্রায় প্রতিটি রুটেই তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে যাত্রীপ্রতি ৫-২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আর ঢাকার বাইরে দূরত্ব ও বাসভেদে ভাড়া বেড়েছে যাত্রীপ্রতি ৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। বর্ধিত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারের তর্ক-বিতর্ক ক্রমেই ঝগড়া-বিবাদে রূপ নিচ্ছে।

    কাঁচাবাজারে প্রভাব

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কাঁচাবাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে জানিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫-১৫ টাকা বেড়েছে। ৬০-৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৭০-৮০ টাকা। সবচেয়ে কম দামি সবজি আলু ও পেঁপের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৪০ টাকায়। বেগুনসহ কিছু সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলের দাম আগে থেকেই বেশি। এখন পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থা। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত বিতর্কে লিপ্ত হলেও সমাধানের কোনো সূত্র তারা বের করতে পারছেন না। পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে পারিবহন খরচ দূরত্ব ও ট্রাকভেদে ২০০০-৬০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

    বেশি চাপে রাইড শেয়ারকারীরা

    ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা পেতে লাখ লাখ শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত যুবক রাইড শেয়ারিং তথা মোটর সাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবনযাপনের পথ বেছে নিয়েছেন। অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। রাইড শেয়ারার আলাউদ্দিন বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, কিন্তু মোটর সাইকেলের ভাড়া বাড়েনি। যাত্রী কম হওয়ায় একটি ট্রিপের (যাত্রা) জন্য কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৮০০-৯০০ টাকা আয় করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

    শিল্পোৎপাদনে গতি কমবে

    বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল, সিরামিকসহ সব রকম কারখানায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেল প্রয়োজন উল্লেখ করে উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পণ্যের উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসবে।

    বেড়েছে ট্রাক ভাড়াও

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে। দূরত্ব, পরিবহনের আকার ও পণ্যভেদে প্রতি ট্রিপে ভাড়া বেড়েছে ২০০০-৮০০০ টাকা। জ্বালানির পাশাপাশি টায়ার, যন্ত্রাংশের মূল্য এবং ফেরি ভাড়া বৃদ্ধির কারণেও ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বাড়তি খরচ সামলাতে না পেরে অনেকে ট্রাক বের করছেন না বলেও জানা গেছে। বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২০-২১ হাজার টাকা। গতকাল সেই ভাড়া নেওয়া হয়েছে ২৫-২৬ হাজার টাকা। ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রাক সংকটের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি করায় বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে অনেকে আমদানি করা মালামাল খালাস করতে সমস্যায় পড়েন। তারা জানান, প্রতিদিন যেখানে ৪০০-৬০০ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোডিং হতো, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    সুতা আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে, হুমকিতে দেশি উদ্যোক্তারা

    সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি

    কোনো আলোচনা, গণশুনানি, জনপরামর্শ ও অংশীজনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা কিংবা মূল্যবৃদ্ধির সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রকাশ্য মূল্যায়ন ছাড়াই আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা ও নীতি সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী, অপরিণামদর্শী ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায় মন্তব্য করে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আদিল খান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

    বিদ্যুতের দামও কী বাড়বে?

    বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভর্তুকি কমাতে এমনিতেই বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়াতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপ অব্যাহত আছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। কারণ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমেই জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়ছে। তাদের অনুমান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভর্তুকি কমাতে শিগগিরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সমস্যা, কমালেও সমস্যা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয় কমাতে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোর চিন্তা করা হয়, সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান লোডশেডিং আরো বাড়বে।

    যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, কৃষির উৎপাদন, শিল্পোৎপাদন— সবই বাড়বে জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে কারখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। কারখানা থেকে পণ্যের সরবরাহ ব্যয়ও বাড়বে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এমনিতেই নিম্নআয়ের মানুষ তীব্র চাপে আছেন। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বাড়ানোয় পরিবারের মাসিক বাজেটে আরো বড় চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, বৈষম্য আরো বেড়ে যাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখতে হতে পারে।

    বারবার জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালে দেশে দারিদ্র্য বেড়ে যাবে আশঙ্কা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিমধ্যে দারিদ্র্য বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারের ব্যয় কমানোর দিকে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • গভর্নরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

    গভর্নরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

    বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্প্রসারণ, আন্তসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

    ভারতের হাইকমিশনার বিদেশি বিনিয়োগ আরও সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বিনিয়োগবান্ধব একাধিক নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ ও মুনাফা সহজে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবেন। তিনি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শিল্প খাতে অধিক ভারতীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    বৈঠকে ছিলেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, সরোয়ার হোসেন, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে, দ্বিতীয় সচিব (অর্থনীতি ও বাণিজ্য) গৌরব কুমার আগারওয়াল উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় অনিরাপদ গ্যাস পরিবহন বেড়েছে

    জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় অনিরাপদ গ্যাস পরিবহন বেড়েছে

    সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকলে উৎপাদন সচল রাখতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস নেন তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, সিরামিকসহ বিভিন্ন খাতের অনেক শিল্পকারখানার মালিকেরা। এভাবে অনিরাপদ সিলিন্ডারে গ্যাস পরিবহন গ্যাস আইন–২০১০ ও গ্যাস বিতরণ বিধিমালা–২০১৬ অনুযায়ী নিষিদ্ধ। তবে বিষয়টি অনেক দিন ধরে প্রকাশ্যেই চলছে। সাম্প্রতিক গ্যাস–সংকটে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

    টানা দুই মাসের সংকট শেষে গত সপ্তাহে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও যে সিলিন্ডারে গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়নি, তা প্রমাণ করে ঢাকার আশুলিয়ার ঘটনাটি।

    প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইলের কর্তৃপক্ষ বয়লার চালাতে কাভার্ড ভ্যানে করে রোববার সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) সিলিন্ডার নিয়ে আসে। সেই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ জন। এ ঘটনায় সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ পাঁচ-ছয়টি গাড়ি পুড়ে গেছে।

    জানা যায়, আইনে নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসন ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের ‘নীরব সম্মতি’তে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া হয় শিল্পকারখানায়। এই বাণিজ্যকে ঘিরে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠীও গড়ে উঠেছে। তারা প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৫–১০ টাকা বা তার বেশি দামে শিল্পকারখানায় সরবরাহ করছে। এতে সংশ্লিষ্ট সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকের পকেটও ভারী হচ্ছে।

    তৈরি পোশাকশিল্প মালিকপক্ষের নেতারা বলছেন, খাতের গ্যাস–সংকটে উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হয়েই অনেক কারখানা মালিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস আনছেন। তবে শ্রমিকনেতাদের ভাষ্য, এ ধরনের শিল্পদুর্ঘটনাকে কোনোভাবেই শুধু দুর্ঘটনা বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে করে শিল্পকারখানায় গ্যাস দেওয়ার কোনো অনুমতি কখনো দেওয়া হয়নি। তবে সংকটের সময় অনেক শিল্পকারখানা এই কাজটি করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য আমরা বিভিন্ন সময় অভিযানও পরিচালনা করেছি।’

    মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার

    আশুলিয়ার প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইলে বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে ১০–১২টি কাভার্ড ভ্যান ছিল। পরে কয়েকটি ভ্যান সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে ৯টি সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রতিটি কাভার্ড ভ্যানে ৯০ থেকে ১০০টি করে সিলিন্ডার ছিল।

    গতকাল সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে খাবার দোকান রানা হোটেলের ভেতর একটি সিলিন্ডার পড়ে আছে। সেই সিলিন্ডারের গায়ে খোদাই করে লেখা রয়েছে, ‘অ্যাপ্রোভড পিআরডি সিএনজি অনলি, ডু নট ইউজ আফটার ২০২১।’ তার মানে হচ্ছে, সিলিন্ডারটি মেয়াদোত্তীর্ণ।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক বলেন, আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী গড়ে উঠেছে। তাদের বড় অংশই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তাঁরা স্টেশনে গ্যাস নিতে নিম্নমানের সিলিন্ডার নিয়ে আসেন।

    অনুমতি চেয়েও পায়নি দুই সমিতি

    গত জুলাইয়ে তীব্র গ্যাস–সংকট শুরু হলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাকে সিলিন্ডারে গ্যাস দিতে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতিকে চিঠি দেয়। তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে পেট্রোবাংলার কাছে নির্দেশনা চায়। তবে পেট্রোবাংলা এ–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে শিল্পকারখানায় সিলিন্ডারে করে গ্যাস যেতে থাকে ঠিকই।

    বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জ্বালানি–সংকটের কারণে সিলিন্ডারে গ্যাস নেওয়ার প্রবণতা আগেও ছিল। ইদানীং সেটি বেড়েছে। আমরা সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলাম। অনুমতি দেওয়া হয় নাই। আবার শক্তভাবে বন্ধও করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে মালিকদের চিঠি দেব। সংকটে এলপিজি সরবরাহ করা গেলে ভালো হয়। তবে মূল বিষয় হচ্ছে, শিল্পে গ্যাসের চাপ বাড়াতে হবে।’

    শিল্পকারখানার যাতে ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নিতে পারে, সে জন্য নীতিমালা করে দেওয়া দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির মহাসচিব ফারহান নূর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডারে গ্যাস দিতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন এভাবে শিল্পকারখানার জন্য গ্যাস দেওয়ার জন্য চাপ দেন।’

  • ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা

    ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা

    প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে জোয়ার, বাজারে ডলারের সহজলভ্যতা আর বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের টাকা। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান এখন বেশ শক্ত অবস্থানে। শুধু ডলারই নয়, গত এক বছর ধরে প্রতিবেশী ভারতের রুপিকে পেছনে ফেলে টাকা একটু একটু করে নিজের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে দেশের মুদ্রা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। এরপর চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার প্রবণতায় পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তা ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

    এদিকে গত এক বছর ধরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা।

    একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে যেখানে প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।

    তবে এর পেছনে শুধু বাংলাদেশের টাকার শক্তিশালী হওয়া কাজ করছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও বড় একটি কারণ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশের টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ফলে দুই দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হারে বাংলাদেশের টাকা সুবিধাজনক অবস্থানে এসেছে।

  • জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে ‘আইএমএফের কোনো শর্ত নেই

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে ‘আইএমএফের কোনো শর্ত নেই

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বলেন।

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইএমএফের কোনো শর্ত আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এমন কোনো শর্ত নেই। আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক। এটা তাদের গ্রস নিয়ম।

    তিনি বলেন, খেয়াল করলে দেখবেন, আমরা সবসময় সবকিছু মেনে যাচ্ছি, নট নেসেসারিলি।

    এমনকি আমাদের যেসব গার্ডের প্রজেক্ট আছে, যা যা আছে, এগুলোর ব্যাপারেও তাদের আসলে যে খুব কমফোর্টেবল, তা কিন্তু না। কিন্তু আমরা আমাদের জনগণের কল্যাণে এটা করছি। এর সাথে এটার কোনো সম্পর্ক নেই।

    উপদেষ্টা ডা: জাহেদ বলেন, আমরা যে পরিমাণ ভর্তুকি জ্বালানি হিসেবে দিচ্ছি, যদি এই তরল জ্বালানির সাথে গ্যাস এবং বিদ্যুৎকে যোগ করি, তাহলে দেখুন কত বড় অঙ্কের ভর্তুকি আছে। এই ভর্তুকি কমাতে হবে। এটা খুবই বেসিক অর্থনৈতিক জ্ঞান দিয়ে আমরা বুঝতে পারি।

    তিনি বলেন, এখন কতটুকু কমাব, কোনটায় কতটুকু কমানো যেতে পারে, আমরা হয়তো সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

    জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আইএমএফের কোনো শর্তের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারের মূল বিবেচনা হচ্ছে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে দেয়া ভর্তুকির পরিমাণ কমানো এবং এ ক্ষেত্রে কতটা সমন্বয় করা হবে, তা নির্ধারণ করা।

  • আইআরসি ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ

    আইআরসি ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ

    রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে সরকার। এখন থেকে অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনে আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আনতে পারবে। একই সঙ্গে উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগও আছে। চূড়ান্ত আমদানি নীতিমালায় এমন বিধান রাখা হয়েছে।

    রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ অধিশাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বিধানগুলো জানানো হয়। আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯–এ একগুচ্ছ সংশোধনী এনে এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

    সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাপিটাল মেশিনারি আইআরসি ছাড়াই আমদানি করতে পারবে। পাশাপাশি কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী আনার পথও সহজ করা হয়েছে। শিল্প স্থাপনের প্রাথমিক পর্যায়ে আমদানি প্রক্রিয়ার একটি প্রশাসনিক বাধা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন ধারাবাহিক রাখতেও এ সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে।

    রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতেও শর্ত শিথিল করা হয়েছে। সিমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও ফাংশনাল পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের কৃত্রিম তন্তুর কাপড় এখন আকার ও সাইজের বাধা ছাড়াই আনা যাবে। তবে এসব পণ্য আমদানিতে বিজিএমইএ অথবা বিকেএমইএর সুপারিশ নিতে হবে।

    সংশোধনীতে কটন ফেব্রিক, ম্যান-মেইড ফাইবার ও সিনথেটিক ফেব্রিকের পাশাপাশি ‘অন্যান্য উপকরণ’ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে বিশেষায়িত পোশাক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে।

    বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও কাঁচামাল সংগ্রহের বিধান সহজ করা হয়েছে। ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের বিপরীতে ইউডি কিংবা ইউপি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে কাঁচামাল ও মোড়কসামগ্রী আমদানি করা যাবে। নির্ধারিত নিয়মে নিষিদ্ধ বা শর্তযুক্ত তালিকায় থাকা পণ্যও এ সুবিধার আওতায় আনা যাবে।

    নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অপ্রত্যাহারযোগ্য ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের পাশাপাশি টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের (টিটি) মাধ্যমেও পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। বন্ড লাইসেন্সধারী শিল্পকারখানার লবণ আমদানির ক্ষেত্রেও কমেছে প্রশাসনিক ধাপ। এখন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত বার্ষিক প্রাপ্যতা ও প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পোষক কর্তৃপক্ষের সুপারিশ আর প্রয়োজন হবে না।

    এছাড়া বেসরকারি আমদানিকারকদের বীমাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমার প্রক্রিয়া অনলাইনে করা হয়েছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন, দেশীয় বীমা কোম্পানি অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কভার নোট ও বীমা পলিসি পণ্য খালাসের সময় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিমুখী শিল্পের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্দেশ্যেই এসব সংশোধনী আনা হয়েছে। বিশেষ করে ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, বিশেষায়িত টেক্সটাইল এবং নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিদ্যমান কিছু জটিলতা কমবে।

    উল্লেখ্য, আইআরসি হলো বাংলাদেশে পণ্য আমদানির জন্য ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সরকারি নিবন্ধন সনদ, যা আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক ও শিল্প আমদানিকারকদের জন্য পৃথক আইআরসি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে আমদানিকারকের বৈধতা, কে কী ধরনের পণ্য আমদানি করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার তথ্য যাচাই করা হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে এলসি খোলা বা বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের আগে আমদানিকারকের আইআরসি নিবন্ধন যাচাইয়ের বিধানও ছিল।

  • ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী

    ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী

    অর্থ আত্মসাতকারী পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৯৭ শতাংশ তাদের ক্ষতিপূরণ পাবেন। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ বাবাদ প্রায় ৭২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আগামী ২ মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ইনভেস্টর প্রটেকশান ফান্ডের (আইটিএফ) চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, মশিউর, বানকো, তামহা, ক্রেস্ট ও শাহ মোহাম্মদ সগির সিকিউরিটিজ হাউস বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। ২০২২ সাল ও তার পূর্বেকার সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। পাঁচটি ব্রেকারেজ হাউস থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়া সালতা সিকিউরিটিজ হাউসের বিরুদ্ধেও বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তদন্ত চলমান রয়েছে। এ হাউসটি বিনিয়োগকারীদের কি পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেছে সে বিষয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।

    সংবাদ সম্মেলনে আইটিএফ চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ইনভেস্টর প্রটেকশান ফান্ড) বিধিমালা-২০১৪৫ এর ১৬ ধারার উপবিধি (৭) অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে বিধানের আলোকে আইটিএফ থেকে প্রত্যেক গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে শুধু বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আস্থা পুনর্গঠনের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াসও বটে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলে পুঁজিবাজারের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন আইটিএফ ফান্ড থেকে প্রায় ৭২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এরমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ১৭ হাজার ৩৩২ জন তাদের পুরো অর্থই ফেরত পাবেন। অর্থ আত্মসাতকারী পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে চাপ তৈরি করা হবে। তাদের নিজস্ব শেয়ার, ডিএসইতে তাদের ধারণকৃত শেয়ার, ব্যক্তিগত যেসব সম্পত্তি রয়েছে সেগুলো বিক্রির চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি আইটিএফ ফান্ডে ভবিষ্যতে যে অর্থ জমা হবে সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আরও অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

    ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, এটা শুধু আইনগত বিষয়ই নয়, এটা একটা মানবিক ইস্যুও বটে। টাকা ফেরত না পাওয়ায় এসব ব্রোকারেজ হাউসের বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য মনিটিরিং ও সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

  • দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

    পাইপলাইনের ৭২তম চালানের অংশ হিসেবে এই ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টায় ডিজেল হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকালে তা শেষ হয়।

    ২০১৮ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারত ১৫ বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এ লাইনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ টন ডিজেল আমদানি করেছে।

    আমদানিকৃত এই জ্বালানি রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান-পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির মধ্যে প্রায় সমপরিমাণে বিতরণ করা হয়।

    উল্লেখ্য, পাইপলাইনের বাংলাদেশ অংশটি ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি পঞ্চগড়, নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে পার্বতীপুরে পৌঁছেছে।

  • জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

    জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

    দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তখন ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।

    সর্বশেষ বড় ধরনের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

  • ওবিইউর মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন পদক্ষেপ

    ওবিইউর মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন পদক্ষেপ

    বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অনুমোদিত বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়বে।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গ্রাহক লেনদেন সহজ করা, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

    সার্কুলার বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় ওবিইউগুলো নিজ নিজ ডোমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিট, অন্যান্য অনুমোদিত ডিলার ও ওবিইউ এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্টারপার্টির সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেন করতে পারবে।

    এর ফলে ওবিইউগুলো উপযুক্ত উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ, তহবিলের কাঠামো আরও কার্যকরভাবে সাজানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করতে পারবে। বিশেষ করে অনুমোদিত বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে অর্থায়ন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, এসব লেনদেন অনুমোদিত গ্রাহক লেনদেন, তহবিলের প্রয়োজন, নিষ্পত্তির দায়, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা অথবা বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ওবিইউগুলোকে বিচক্ষণ বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। প্রয়োজনে তুলনামূলক কম ব্যয়ের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ এবং উপযুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় বা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • রূপালী ব্যাংকের ফরিদপুর বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রূপালী ব্যাংকের ফরিদপুর বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা ফরিদপুর জেলা সদরে অবস্থিত এসডিসি টাওয়ার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

    তিনি ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার পাশাপাশি ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ত্বরান্বিতকরণ এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবার পরিধি সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. মইনুদ্দিন মাসুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল হক।

    এ সময় ফরিদপুর বিভাগের আওতাধীন ৩টি জোনাল অফিসের জোনাল ম্যানেজার, ৩৫টি শাখার ব্যবস্থাপক এবং ৩টি উপ-শাখার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বিভাগের সার্বিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ জোরদার, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ত্বরান্বিতকরণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও তাদের অর্থায়ন এবং রূপালী ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ‘রূপালী ক্যাশ’, রূপালী ই-ব্যাংকিং অ্যাপ, বাংলা কিউআর ও সর্বজনীন পেনশন স্কিমসহ আধুনিক ব্যাংকিং সেবাগুলো গ্রাহকদের কাছে আরো সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ

    বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ

    বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আর জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার তুলশিদাস বাধে।

    এফবিসিসিআইর গুলশান কার্যালয়ে আজ প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব বিষয়ে আলোকপাত করেন।

    এসময় দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন ডেপুটি হাইকমিশনার। তিনি জানান, টাস্কফোর্স গঠনের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে তার দপ্তর দুই দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি।

    ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, এই মুহূর্তে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান হাইকমিশন দৈনিক প্রচুর সংখ্যক ভিসা ইস্যু করছে বলেও জানান তিনি।

    এফবিসিসিআইর প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। উদীয়মান এবং সম্ভাবনাময় খাতসমূহে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য এগিয়ে নিতে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মো. ফজলুল হক।

  • কোন গ্রেডে বেতন বেড়ে কত হলো

    কোন গ্রেডে বেতন বেড়ে কত হলো

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ বিভাগ আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের মূল বেতন কত হবে, সেটিও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেড ভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্রেড-১২ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা (নির্ধারিত মানে মূল বেতন এটিই থাকবে)। এত দিন তাঁদের মূল বেতন ছিল ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এত দিন পেতেন ৮২ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে গ্রেড-১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা; গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার; গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এভাবে ২০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। এর মধ্যে গ্রেড-৫-এ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা; গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৯-এ ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    গ্রেড-১১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১২-এ ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা; গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা; গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা; গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা; গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

  • সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

    সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

    চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীনের ইউনিপ্যাক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর বাইরেও দরপত্র ছাড়া একই সময়ের জন্য আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল এবং জেট ফুয়েল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের নীতিগত অনুমোদন লাগে।

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় এর আগে দরপত্র ছাড়া ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এ কমিটির সভায়।

    অগাস্টেও একইভাবে দরপত্র ছাড়া দুই দফায় ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ১৯ অগাস্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪টি কার্গো এলএনজি কেনার। ৮ কার্গো এলএনজি এবং দেশের ‘আপৎকালীন’ এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের ‘স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।

    বুধবারের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে কেনার যে শর্ত ছিল তা বৈঠকে শিথিল করা হয়েছে।

    সে অনুযায়ী দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি (চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি) থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় এসব পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।
    তাতে খরচ হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা মান্দেব প্রণালিতেও হুমকি তৈরি করায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

    জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে অন্য উৎস থেকে বাড়তি দামে তেল-গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। কখনও আবার দরপত্র ছাড়াই কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

  • ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা

    রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সচেতন গ্রাহক ফোরাম ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে যায়।

    পরে তারা আবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ফিরে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের সড়কে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত নারী-পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাতা মাথায় দিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। চাকরি পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

    কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়েছে। এর আগে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চাকরিচ্যুতরা।

    সচেতন গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।

    চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের এক দফা দাবি তারা চাকরি পুনর্বহালের চাই।

    ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবি, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এস আলম গ্রুপ কোনো পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে অনেকে মূল সনদ ছাড়াই চাকরি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বেশির ভাগ কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেননি। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা চাকরি হারান।

  • মূল্যস্ফীতি কমছে, বেড়েছে বাজার খরচ

    মূল্যস্ফীতি কমছে, বেড়েছে বাজার খরচ

    সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমছে, মানে মূল্যবৃৃদ্ধির হার কমছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বাজারের খরচ কমছে না; বরং নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এর প্রধান কারণ- মূল্যস্ফীতির হার কমেছে, কিন্তু গত কয়েক বছরে যে উচ্চ মূল্যস্তর তৈরি হয়েছে, তা নিচে নামেনি। ফলে বাজারে নতুন করে দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমলেও আগের বাড়তি দামের ওপরই নতুন দাম যোগ হচ্ছে।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে আগস্টে দেশের সার্বিক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ; অর্থাৎ এক মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে। কিন্তু একই সময়ে খাদ্যপণ্যের মাসওয়ারি মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ; অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমলেও বাজারে দামের স্তর কমেনি। আরো উদ্বেগের বিষয়, আগস্টে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশে; অর্থাৎ গড় মজুরি বৃদ্ধির হারও ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির নিচে। এর অর্থ গড়ে মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, তার চেয়ে সামান্য বেশি হারে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। ফলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
    মূল্যস্ফীতি কমলেই দাম কমে না : অর্থনীতির এই পার্থক্যটিই এখন সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি করছে। ধরা যাক, একটি পণ্যের দাম এক বছর আগে ছিল ১০০ টাকা। এক বছর পর দাম হলো ১০৮ টাকা। তা হলে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ। পরের বছর দাম ১০৮ টাকা থেকে ১১২ টাকা হলে মূল্যস্ফীতি কমে প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। কিন্তু পণ্যের দাম ১০০ টাকায় ফিরে যায়নি; বরং দুই বছরে তা ১২ টাকা বেড়েছে।
    বাংলাদেশের বাজারেও অনেকটা একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে চাল, তেল, ডাল, মাছ, গোশত, মসলা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও আগের মূল্যস্তর বহাল রয়েছে। ফলে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমার যে স্বস্তির কথা বলা হচ্ছে, তা বাজারে গিয়ে অনেক পরিবার অনুভব করছে না।
    এক বছরে কোন পণ্যে কী পরিবর্তন
    টিসিবির বাজারদর বিশ্লেষণেও এই দ্বৈত চিত্র স্পষ্ট। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি সময়ে কিছু পণ্যের দাম কমেছে, আবার বেশ কয়েকটি মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
    সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত টিসিবি-ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছর আগের থেকে মোটা চালের দাম প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ, সরু চাল ১১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং মাঝারি মানের চিকন চাল ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি ছিল। দেশী পেঁয়াজ অবশ্য গত বছরের একই সময়ের ১১০-১২০ টাকা থেকে নেমে ৫০-৬০ টাকার আশপাশে এসেছিল; অর্থাৎ পেঁয়াজে বড় ধরনের বার্ষিক স্বস্তি তৈরি হয়েছে।
    অন্য দিকে টিসিবির পরবর্তী এক বছর মেয়াদি তুলনায় দেখা গেছে, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, মাছ ও গোশতসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে; বিপরীতে পেঁয়াজ, রসুন ও ডিমের মতো কিছু পণ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। টিসিবি-ভিত্তিক ওই বিশ্লেষণে মোটা চাল, আটা, খোলা সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, ব্রয়লার মুরগি, রুই মাছ ও গরুর গোশতে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির কথা উঠে আসে; অর্থাৎ বাজারে এখন একক কোনো প্রবণতা নেই। কিছু পণ্যের দাম কমেছে, কিন্তু পরিবারের মোট খাদ্যঝুড়ির ব্যয় কমার মতো পর্যায়ে তা নামেনি।
    এক বছরের হিসাব ছাড়িয়ে এখনকার বাজার
    রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে পণ্যের দামে আবার নতুন করে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকায়। কয়েক দিন আগেও দাম ছিল ১৪০-১৪৫ টাকা; অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।
    সবজির বাজারেও একই সাথে বৃদ্ধি ও পতনের প্রবণতা রয়েছে। আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৫ টাকা, টমেটো ১০০, পেঁয়াজ ৫০, করলা ৮০, সাদা বেগুন ১২০ ও লম্বা বেগুন ১০০ টাকায়। সাদা বেগুন কিছু দিন আগেও ৯০-১০০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ৮০ টাকা ছিল।
    পটোল ৬০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। অন্য দিকে মুলা ৬০ থেকে কমে ৫০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে কমে ১২০ টাকা হয়েছে।
    লাউ আকারভেদে ৫০-৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং ধনেপাতা প্রায় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাস আগে আলু ছয় কেজি ১০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন কেজি ২৫ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
    মুরগির বাজারে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ব্রয়লার ১৮০ টাকা কেজি, যা প্রায় এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৯০ টাকা। তবে লেয়ার ও কক মুরগি প্রায় ৩৭০ টাকা কেজি।
    মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা কেজি। বিক্রেতাদের হিসাবে আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে। বড় পাঙ্গাশ ২২০-২৫০ টাকা এবং ছোট পাঙ্গাশ প্রায় ২০০ টাকা কেজি।
    এই ওঠানামার মধ্যেই প্রকৃত সমস্যা হলো- একটি পণ্যের দাম কমলেও অন্য কয়েকটি পণ্যের বৃদ্ধি সেই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে।
    নিম্নআয়ের পরিবারের বাজেটে কোথায় কাটছাঁট?
    ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ছয় সদস্যের সংসার চালান মনির হোসেন। তার মাসিক আয় প্রায় ১৮ হাজার টাকা এবং ছেলের আয় প্রায় ২৪ হাজার টাকা; অর্থাৎ পরিবারের মোট আয় প্রায় ৪২ হাজার টাকা।
    বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা এবং খাবারে ২৩-২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। প্রতিদিন বাজারে গড়ে ৭০০-৮০০ টাকা খরচ হয়।
    দেড় মাসে পরিবারের প্রায় ৫০ কেজি চাল লাগে। মাসে প্রায় ছয় লিটার ভোজ্যতেল প্রয়োজন। প্রতি লিটার ২১০ টাকা হিসাবে শুধু তেলেই মাসে প্রায় এক হাজার ২৬০ টাকা চলে যাচ্ছে।
    মনিরের হিসাবে, তিন-চার মাস আগেও নিত্যপণ্যের পেছনে মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা কম খরচ হতো। তার বক্তব্যের মূল সঙ্কটটি হলো- আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে।
    এর অর্থ মূল্যস্ফীতি শুধু বাজারের সমস্যা নয়; এটি পরিবারের বাজেট পুনর্বিন্যাসের সমস্যা। খাবারের ব্যয় বাড়লে চিকিৎসা, শিক্ষা, পোশাক, যাতায়াত কিংবা সঞ্চয়ে কাটছাঁট করতে হয়। নিম্নআয়ের পরিবারে এ কাটছাঁট আরো দ্রুত ঘটে।
    তেজগাঁওয়ের ক্ষুদ্র টং দোকানদার হাসানের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। দুই-তিন মাস আগে যেখানে সপ্তাহে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় কাঁচাবাজার করা যেত, এখন একই ধরনের বাজারে তার ব্যয় বেড়েছে। তার হিসাবে দুই-তিন মাসে সাপ্তাহিক বাজার খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
    আসল চাপ খাদ্যে নয়, ক্রয়ক্ষমতায়
    মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃত আয় বা ক্রয়ক্ষমতায়। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হলেও জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ; অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার ০ দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
    এই ব্যবধানকে ছোট মনে হলেও নিম্নআয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বড়। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও জ্বালানিতে চলে যায়। উচ্চ আয়ের পরিবারের মতো তারা ব্যয়ের বড় অংশ সহজে সঞ্চয় বা বিলাসী খাত থেকে কমিয়ে সামঞ্জস্য করতে পারে না।
    তাই মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে স্বস্তি আসতে হলে একই সাথে প্রয়োজন- খাদ্যপণ্যের মূল্যস্তর স্থিতিশীল হওয়া; প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি; সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি; পরিবহন ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যয় কমানো; বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো; এবং আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি।
    বাজারে সমস্যা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়
    নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় প্রায়ই আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানি ব্যয় ও ভর্তুকির প্রসঙ্গ সামনে আসে। তার মতে, এর পাশাপাশি দেশীয় কাঠামোগত অদক্ষতা, অস্বচ্ছ চুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমস্যাও বিবেচনায় নিতে হবে।
    তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো কার্যকরভাবে মোকাবেলা না করলে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যচাপ সামাল দেয়া কঠিন। তবে তার দাবি, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ঢাকায় পণ্যের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে- এটি তার একটি অনুমান; এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য পরিমাণগত প্রমাণ ছাড়া এটিকে বাজারদরের নিশ্চিত সম্ভাব্য পতন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
    এ জায়গাটিই নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে কোনো একটি পণ্যের দাম কত শতাংশ বেশি, সেটি জানা জরুরি; কিন্তু সেই অতিরিক্ত দামের কত অংশ উৎপাদন ব্যয়, কত অংশ পরিবহন, কত অংশ পাইকারি-খুচরা মার্জিন এবং কত অংশ অনানুষ্ঠানিক খরচ- সেটি না জানলে প্রকৃত কারণ নির্ণয় কঠিন।
    সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কঠিন
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, মূল্যস্ফীতি কমলেই বাজারে পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। মৌসুমি পণ্যের দাম, উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেশি থাকতে পারে।
    তার মতে, উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে বেসরকারি খাতকে সক্রিয় করা প্রয়োজন। বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
    এ বক্তব্যের সাথে সাম্প্রতিক বাজারচিত্রের একটি সরাসরি যোগ রয়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে, কিন্তু খাদ্যদ্রব্যের মাসওয়ারি মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে; অর্থাৎ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কমলেও মাসের মধ্যে বাজারদর বাড়ার চাপ ছিল।
    সরকারি পরিসংখ্যান বনাম বাজারের অভিজ্ঞতা- দু’টিই সত্য
    এখানে সরকারি পরিসংখ্যান এবং সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার মধ্যে আসলে কোনো সরাসরি বিরোধ নেই। বিবিএস বলছে, দাম বাড়ার হার কমেছে। ভোক্তা বলছেন, দাম কমেনি। দু’টি বক্তব্য একই সঙ্গে সত্য হতে পারে।
    মূল্যস্ফীতি হলো দাম বৃদ্ধির হার; এটি সরাসরি বাজারদরের মাত্রা নয়। ফলে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নামার অর্থ এই নয় যে বাজারে পণ্য ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বরং এর অর্থ এক বছর আগের তুলনায় সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো প্রায় ৮ শতাংশের বেশি হারে বেশি।
    আর এই উচ্চ মূল্যস্তর যখন একাধিক বছর ধরে জমা হয়, তখন সামান্য মূল্যস্ফীতি কমে সাধারণ মানুষের জীবনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি তৈরি নাও হতে পারে।
    সামনে নীতির বড় প্রশ্ন
    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখন মূল প্রশ্ন শুধু ‘হার কত’ নয়; বরং কোন পণ্যের দাম কত, কেন বেশি এবং কার আয় কতটা বাড়ছে- এ তিনটি বিষয় একসাথে দেখা।
    টিসিবির বাজারদর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং তাদের দৈনিক ও গত ৩০ দিনের বাজারদরের তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য শুধু তথ্য প্রকাশ যথেষ্ট নয়। কোন পণ্যে অস্বাভাবিক মার্জিন তৈরি হচ্ছে, কোথায় সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কোথায় পরিবহন বা মধ্যস্বত্বভোগীর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে- সেগুলোরও ধারাবাহিক অনুসন্ধান দরকার।
    কৃষি বিপণন অধিদফতরের বর্তমান বাজারদর ব্যবস্থাতেও পণ্যভিত্তিক, বাজারভিত্তিক ও সময়ভিত্তিক তুলনার সুযোগ রয়েছে; অর্থাৎ তথ্যের ঘাটতি পুরোপুরি নেই; ঘাটতি রয়েছে তথ্যকে দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে।
    স্বস্তির মাপকাঠি কোথায়?
    একজন নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ হবে তখনই, যখন মাস শেষে হাতে কিছু টাকা থাকবে। বাজার থেকে আগের চেয়ে বেশি পণ্য কেনা যাবে। চিকিৎসা বা সন্তানের পড়াশোনার জন্য ধার করতে হবে না। হঠাৎ ডিম, মাছ বা সবজির দাম বাড়লে পুরো খাদ্যতালিকা পাল্টাতে হবে না।
    সুতরাং মূল্যস্ফীতির ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নামা একটি ইতিবাচক পরিসংখ্যানগত পরিবর্তন হলেও এটিকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমে যাওয়ার সমার্থক বলা যাবে না; বরং বর্তমান বাস্তবতা হলো- মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে, কিন্তু উচ্চ মূল্যস্তর রয়ে গেছে; একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হারও মূল্যস্ফীতির নিচে নেমেছে।
    টিসিবির এক বছরের তুলনাতেও একই দ্বৈত চিত্র- পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যে বড় স্বস্তি, কিন্তু চাল, তেল, ডাল, মাছ-গোশতসহ বহু প্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয়ের চাপ।
    তাই বাজারে প্রকৃত স্বস্তি আনতে শুধু মূল্যস্ফীতির হার কমানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মূল্যস্তর স্থিতিশীল করা, প্রকৃত আয় বাড়ানো এবং উৎপাদন-সরবরাহ থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলে অদক্ষতা ও অস্বাভাবিক ব্যয় কমানো।
    কারণ শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের কাছে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানটি হলো- মাস শেষে বেতন বা আয় থেকে বাজার করার পর হাতে কত টাকা থাকে।

  • ৫ বছরের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে

    ৫ বছরের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। ৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরবরাহ ও সাপ্লাই চেইনের মধ্য একটা বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে বাজারে এখনো স্থিতিশীলতা নেই। ভর্তুকির মাধ্যমে টিসিবি যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা দেশের মানুষের জন্য উপকারী হবে।

    তিনি জানান, টিসিবির কার্ড ডিজিটাল রূপান্তর করার ফলে, ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। টিসিবির কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও যাতে কার্ডধারীরা পণ্য পাওয়া থেকে বাদ না পড়েন, সে ব্যবস্থা করা হবে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এই সেবা আরও সহজ করা হবে।

  • সরকারি কোম্পানির কর্মীরা আসছেন ‘প্রগতি’ পেনশন স্কিমে

    সরকারি কোম্পানির কর্মীরা আসছেন ‘প্রগতি’ পেনশন স্কিমে

    সরকারি মালিকানাধীন যেসব কোম্পানির কর্মীরা সরকারের প্রচলিত পেনশন সুবিধা পান না, তাদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

    একই সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালু, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনির সুবিধার বয়সসীমা বাড়ানো এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কর্তৃপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর যেসব কর্মী সরকারের সরাসরি পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নেই, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মীর অবসর-সুবিধা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির চাকরি বিধি ও নিজস্ব ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে; তারা সরকারি সিভিল কর্মচারীদের মতো রাষ্ট্রীয় পেনশন পান না। সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও আনুতোষিকের জন্য আলাদা সরকারি ব্যবস্থা রয়েছে।

    প্রগতি স্কিমে সরকারি কোম্পানির কর্মীরা

    জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মীরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন, যারা সরাসরি সরকারি চাকরির পেনশন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত নন।

    তবে কোন কোন কোম্পানির কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন, তার পূর্ণ তালিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    সর্বোচ্চ মুনাফা ১১.৭২%

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলে ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ।

    এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১১.৬১% মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।

    ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    চালু হবে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা

    সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে পর্ষদ।

    এ বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থার জন্য আলাদা বিধিমালা করা হবে বলে জানান নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    ৫৫ বছর থেকে পেনশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা

    ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়ার প্রস্তাবটি একচুরিয়াল পরামর্শ নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

    ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, অন্যান্য দেশের অবসর ও পেনশন ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, স্পেনে ৬৭ বছর এবং যুক্তরাজ্যে ৬৬ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। তাই ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবটি আর্থিক ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হবে।

    নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়স ৮০ বছর

    পেনশনভোগী মারা গেলে তার নমিনির পেনশন সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, পেনশনভোগীর স্বামী বা স্ত্রী পেনশনভোগীর ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন।

    পাঁচ বছর পর টাকা তুলে বের হওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনায়

    পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পাঁচ বছর পর অংশগ্রহণকারী তার জমা করা পুরো অর্থ তুলে নিয়ে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন—এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান ড. সুরাতুজ্জামান।

    পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে। ঋণ দেওয়া হলে তাতে অংশগ্রহণকারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ঋণের সুদের হারও একচুরিয়াল পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

    স্বাস্থ্যবীমা নিয়েও পর্যালোচনা

    পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবীমা চালু করা হবে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব বা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পেনশন তহবিলের আকার আরও বড় হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বিদেশ যাওয়ার সময় পেনশনে অন্তর্ভুক্তির তথ্য

    প্রবাসীদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে বিদেশে যাওয়ার সময়ই তাদের এ কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হবে।

    এ জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে জানান ড. সুরাতুজ্জামান।

    এ ছাড়া পেনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানিগুলোর অন্তর্ভুক্তির এককালীন ফি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেনশন তহবিল বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্মের মাধ্যমে অডিট করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

  • এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বল স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়বহুল দুই প্রকল্প

    এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বল স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়বহুল দুই প্রকল্প

    বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা স্বাস্থ্য খাতে এবার সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যক্ষ্মা, এইচআইভি বা এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মা-শিশু ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে প্রকল্প দুটিতে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আইএমইডির তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এডিপি বরাদ্দের মাত্র ৩১ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৩৬.৭২ শতাংশ অর্থ খরচ করতে পেরেছে। এমন বাস্তবতায় বড় অঙ্কের নতুন প্রকল্প নেওয়া নিয়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    আজ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সভায় স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের মোট ১৫টি প্রকল্প উঠবে।

    পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপির বিপরীতে বাস্তবায়ন হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৬৭.৫২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা এডিপি বাস্তবায়নের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা খাতগুলোর একটি স্বাস্থ্য।

    এর মধ্যেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন এডিপিতে এ খাতে রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্থ এ খাতে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    প্রস্তাবিত দুই প্রকল্পের মধ্যে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে প্রায় ৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। দ্য গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস, টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া থেকে অনুদান হিসেবে আসবে প্রায় ৮৭০ কোটি টাকা।

    প্রকল্পটির বড় অংশ ব্যয় হবে চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে। চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কেনায় ১ হাজার ৪৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে ৯৫৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পুষ্টি সহায়তায় ব্যয় হবে ৪১৬ কোটি টাকা। স্থানীয় প্রশিক্ষণে ৭০ কোটি এবং জরিপে ১৪৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৮ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ লাখ মানুষের প্রতিরোধমূলক যক্ষ্মা চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ২৩টি অগ্রাধিকার জেলায় চলমান কার্যক্রম ৬৪ জেলার হাসপাতাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। মেয়াদ শেষে সম্ভাব্য এইচআইভি আক্রান্তদের ৮৫ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

    ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণেও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের। এর মধ্যে বান্দরবানে ৪১ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৩৬ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৯ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতি হাজারে আক্রান্তের হার একের নিচে নামিয়ে আনা এবং ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।

    তবে প্রকল্পটির মূল্যায়নে কিছু দুর্বলতাও উঠে এসেছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগের কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের মাত্র ২০ শতাংশ সচল রয়েছে। তাই নতুন যন্ত্রপাতি কেনার আগে বিদ্যমান সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং বৈদেশিক অনুদান শেষ হওয়ার পর কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাস্তবসম্মত ‘এক্সিট প্ল্যান’ তৈরির কথা বলা হয়েছে। অন্য প্রকল্প ‘হেলথ সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং থ্রু এমএনসিএইচ সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড এনসিডি কন্ট্রোল’-এ ব্যয় হবে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ মেয়াদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রাস্ট এটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারের অর্থায়ন ৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং জাইকার ঋণ ৩২১ কোটি ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

    প্রকল্পের আওতায় ১৪ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক, ৪৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ৩০টি জেলা হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। মা, নবজাতক ও শিশুর চিকিৎসার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা ও ফলোআপের ব্যবস্থা করা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে উচ্চতর প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর রেফারেল ব্যবস্থাও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। হৃদরোগেই প্রায় ৩৪ শতাংশ মৃত্যু ঘটে। ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার ৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের হার ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে এসব রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কিনতে ১৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা, স্থানীয় প্রশিক্ষণে ১০৪ কোটি ৩৭ লাখ এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। গবেষণায় ৮ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার এবং বিদেশি প্রশিক্ষণে ৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

  • আইপিওর পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে বিএসইসি

    আইপিওর পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে বিএসইসি

    দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য আইপিওর পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন মূলধন প্রয়োজন এমন কোম্পানিগুলো বিদ্যমান নিয়ম মেনে আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসতে পারবে। আর নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, তবে পুরোনো শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে চায়—এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য রাখা হচ্ছে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পথ।

    বুধবার বিএসইসির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চায়, তাদের ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৫’ অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। ইতোমধ্যে আইপিওর জন্য আবেদন করা কিংবা নতুন করে আবেদন করতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোকে ভবিষ্যতে বিধিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে—এমন কারণে তাদের আবেদন স্থগিত বা প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার প্রয়োজন নেই।

    বিএসইসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, সংশোধন বা শিথিলতা আনা হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদন করা কোম্পানিগুলোও সেই সুবিধার আওতায় আসবে।

    অন্যদিকে, এমন কিছু প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি রয়েছে যাদের ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের জন্য নতুন মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। তবে বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোড করে পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি চান। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করছে কমিশন।

    প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থায় কোম্পানিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করে জনসাধারণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে হবে না। বরং বিদ্যমান শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমেই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে।

    এ জন্য ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে বিএসইসি। খসড়াটি জনমত আহ্বানের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী কোম্পানিগুলো ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।

    বিএসইসির ভাষ্য, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে পুঁজিবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বাজারের গভীরতা ও পরিধিও বাড়তে পারে।

    কমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৬’ খুব শিগগির গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করা হবে। ফলে প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং কাঠামোর আওতায় পড়তে পারে এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি।

    কমিশনের মতে, কোম্পানির ধরন ও প্রয়োজন বিবেচনায় তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

    জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

    জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দেশীয় উৎস থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনের তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
    মঙ্গলবার ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।
    জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে দেশীয় উৎসের উৎপাদন এবং আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় সরবরাহ করা মোট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহের বড় একটি অংশই এসেছে দেশীয় উৎপাদন থেকে। এর পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে।পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাস সরবরাহের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
    পেট্রোবাংলা সূত্র অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে গতকাল জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। আগের দিন রোববার সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট।মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট সরবরাহের ফলে আগের দিনের তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৭ কোটি ঘনফুট। আর রোববারের তুলনায় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

  • জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

    জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

    অনলাইনভিত্তিক তৈরি পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনারের নির্দেশনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের সেকশন-১২ এলাকায় জে-ক্রিয়েশনের কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি ও বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক বিক্রি করে।

    অভিযানের সময় মূসক ফাঁকির আলামত পাওয়ার পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মূসক-১২.৩ ফরমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সিপিইউসহ বিভিন্ন দলিলপত্র জব্দ করা হয়।

    পরে জব্দ করা নথি ও প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে সংগৃহীত দলিলপত্র আরো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

    ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

    প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশ পরিবহণ ও মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

    নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।

    মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়ন এবং প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একইসাথে এ সময় ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ ও বাজারজাত ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরো জোরদার করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইলিশের হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেয়া হবে।’

    অবৈধভাবে ধরা ইলিশ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ৎ ও বাজারগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেয়া যাবে না।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরো বাড়বে।’

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে। এই সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।’

    ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।’

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, ‘বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।’

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

    সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে গিয়ে একটি ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের জন্য আর আটকে থাকতে হবে না বিনিয়োগকারীকে। ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে। এ জন্য জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালু হয়েছে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস)।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে আজ মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর করা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব এখন তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বাস্তবায়িত স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এনএসসি সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বলছে, এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর এন্ট্রির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীর ভোগান্তি হ্রাস পাবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজও কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে পাঠানো সহজ হবে।

    ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি) সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহক সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সঙ্গে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮,০০০ নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়। গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু ছিল। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো ব্যাংক হিসাব যাচাই কার্যক্রম।

    পূর্বে অনলাইন সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। আবেদনকারী যে হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই হুবহু সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়া হতো। কোনো সংখ্যা ভুল হলে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো মুনাফা বা মূল অর্থ ফেরত আসত। পরে তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তির পাশাপাশি ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপ বাড়ত। ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।

    নতুন ব্যবস্থায় এনএসসি সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে সেটি যাচাই করা হবে। প্রথমে দেখা হবে হিসাব নম্বরটি সঠিক ও সচল কি না। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে লেনদেনের আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য ধরা পড়বে।

    এভিএস দুই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় ব্যাংক হিসাব যাচাই হবে। আবার কেনার পর বিনিয়োগকারী ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে নতুন হিসাবটিও একইভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই করা হবে।

    অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা সঞ্চয়পত্রের লেনদেনকে আরো নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করবে। এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক লেনদেনে ভুল কমবে এবং গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ সঠিক সময়ে দ্রুত ও নিরাপদভাবে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।

  • ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা সামান্য বেড়েছে। ডলারের সরবরাহ ঠিক রাখতে ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ছয়টি ব্যাংকের কাছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। সোমবার ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। আজ মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সায়।

    বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

    জানা গেছে, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় এবং চাপ কমে আসায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডলার কেনা শুরু করে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশের আমদানি বিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে জ্বালানি তেলজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে ওই মাসে রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে।

    আমদানি ব্যয় বাড়ার বিপরীতে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে বিক্রি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • তিন মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৫ হাজার

    তিন মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৫ হাজার

    দেশের ব্যাংকগুলোয় কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭টি বেড়েছে। একই সময়ে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব বাড়লেও আমানতের পরিমাণ কমেছে। আমানত বৃদ্ধির পুরোটা হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানত হিসাব ছিল ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ১ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। গত মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ তিন মাসে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।

    তিন মাসে ব্যাংকে নতুন করে জমা হওয়া আমানতের বড় একটি অংশ গেছে কোটিপতি হিসাবগুলোতে। গত মার্চ শেষে এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোয় ১ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। গত মার্চ শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এমন ব্যাংক হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। এসব হিসাবে আমানত ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাব ৭১টি বাড়লেও আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পরিসংখ্যানে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর চলতি মূলধন, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ এবং সাময়িকভাবে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা এ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হাতে থাকা অর্থের বড় অংশ ব্যাংকে রেখে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ বাড়ছে।

    তারা আরও বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ব্যক্তি শ্রেণির আমানত কমলেও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকায় কোটি টাকার হিসাব ও আমানতের সামগ্রিক পরিমাণ বেড়েছে।

  • আলী আফজালকে রিহ্যাব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি

    আলী আফজালকে রিহ্যাব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি

    ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি মো. আলী আফজালকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সংগঠনটির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখার উপ-সচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    অফিস আদেশটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, এফবিসিসিআই এবং রিহ্যাব কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী মো. আলী আফজাল একটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এ কারণে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ২৩(১)(খ) ধারা অনুযায়ী তার সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    ওই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে কিংবা হালনাগাদ কর, ভ্যাট বা শুল্ক পরিশোধ না করলে কোনো বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না এবং কোনো পদেও বহাল থাকতে পারবেন না। নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঋণ বা করখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে ১৮০ দিনের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করলে পদটি শূন্য বলে গণ্য হবে।

    রিহ্যাবের নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আলী আফজাল। প্রগতিশীল প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান ২৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

    তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সংগঠনটির তৎকালীন বিদায়ী সভাপতি ও আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি পেয়েছিলেন ১৯৩ ভোট।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, সোমবার মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সভাপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংগঠনের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

  • ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ৫৫

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ৫৫

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সংঘর্ষ এবং ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে দুই গ্রুপের সদস্যরা আহত হন।

    গ্রাহক ফোরামের ৩০ জন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি নুর উন নবী মানিক বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় হামলা চালানো হয়েছে।’

    তিনি জানান, ‘পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন, তারা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। যারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

    অন্যদিকে, চাকরিচ্যুতদের ২৫ জনের ওপর হামলার দাবি করেন তাদের একজন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আজ উপস্থিত হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, ‘সকালের ঘটনা আমি জানি না। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু এটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের এখান থেকে চলে যেতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।’

  • পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ-এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক

    পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ-এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক

    পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছাড়াই চলছে দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির এমডির পদ শূন্য তিন মাসের বেশি সময় ধরে। অথচ আইন অনুযায়ী এই পদ শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে পূরণ করার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে এতদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে ব্যাংকটি। দুপক্ষের দ্বন্দ্বে এসব নিয়োগ আটকে আছে বলে জানা গেছে। এতে করে ব্যাংকটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকদের ওপর যার প্রভাব পড়ছে।

    এদিকে, এস আলমের সময় করা নিয়মের কারণে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক হিসেবে কর্মরত আছেন। পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত এমডিসহ আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও আটকে আছে।

    বর্তমানে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

    জানতে চাইলে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন বলেন, ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ নেই। আমি পর্ষদের একটা অংশ মাত্র। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদের প্রয়োজন হয়।

    ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন এভাবে চললে ব্যাংকের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা আরো বাড়তে পারে। তাই দেশের চলমান সংকটে ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

    জানা গেছে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে পদত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এরপর জুনের শুরু থেকেই ব্যাংকটিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়। গ্রাহকদের বিক্ষোভ, আন্দোলন ও আমানত তুলে নেওয়ার কারণে ব্যাংকটি তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়।

    সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত গত ১৪ জুন ব্যাংকটির পুরো পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে দেয়।

    একই দিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে। এরপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে ব্যাংকটির যাবতীয় সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তার ওপর রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    নিয়ম ভঙ্গ তবু এমডি নিয়োগ দিচ্ছে না

    এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত এমডি পদও প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে শূন্য। এর আগে ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খান দায়িত্বে ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল তৎকালীন বোর্ড তাকে ছুটিতে পাঠায়। ছুটি শেষ হলেও তিনি ব্যাংকে যোগদান করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করেন।

    এরপর আর নতুন করে নিয়মিত এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    অথচ ব্যাংক কোম্পানি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, এমডির পদ দীর্ঘসময় শূন্য রাখার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতেও বর্তমান পর্ষদে দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকে এমডি পদ শূন্য হলে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এমডির সার্বিক দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ। তবে এমডি পদে তিন মাসের বেশি কোনোভাবেই শূন্য রাখা যাবে না। তিন মাসের বেশি শূন্য থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে।

    শীর্ষ কর্মকর্তাদের মেয়াদ শেষ, হচ্ছে না নবায়ন

    সরকারি চাকরিবিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর পর্যন্ত। আর ৬৫ বছর পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত থাকতে পারে।

    তবে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান করা হয়। এতে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

    বর্তমানে ওই ব্যবস্থা বহাল থাকায় একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। মেয়াদ শেষ হওয়া কর্মকর্তারা পুনর্নিয়োগের জন্য আবেদন করলেও তাদের বিষয়ে বর্তমানে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদারের চাকরির মেয়াদ গত ১১ সেপ্টেম্বর, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আলম এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিনুর রহমানের চাকরির মেয়াদ ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাদের বিষয়ে পুনর্নিয়োগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আটজনকে পুনর্নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে ব্যাংকটি। যদিও এসব পর্যায়ে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদন নিলেই হয়। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে তা পাঠানো হয়েছে।ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয়। যেসব পরিকল্পনা শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বাস্তবায়ন শুরু করে। এতে ব্যাংকটি অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

    তবে নতুন পর্ষদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাংকে আবারও অস্থিরতা শুরু হলে ব্যাপক আকারে আমানত উত্তোলন হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নিয়ে ব্যাংক টিকে থাকার চেষ্টা করে। বর্তমানে উত্তোলন থামলেও নতুন করে ব্যাংকের ব্যবসা-বাণিজ্য অগ্রগতি নেই বললেই চলে। শুধু আমানত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটি তো একটি ব্যাংকের মূল কাজ হতে পারে না।

    অন্যদিকে, যারা ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে তাদের মেয়াদ শেষ হলেও বাড়ানো হচ্ছে না। এতে করে ব্যাংকটি নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

    করপোরেট গ্রাহকদের সিদ্ধান্তেও স্থবিরতা

    ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এখনো কয়েকশ পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এলসি খোলা এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন পাচ্ছে না।

    কেউ কেউ এলসি খুলতে গিয়ে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। এতে ব্যাংকের দীর্ঘদিনের ভালো গ্রাহকদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বড় শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, আমার চারটি গার্মেন্টের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও এলসি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা আমার ফাইল দেখতেন, তারাও নিজেদের অসহায় বলে জানাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে। বেতন না পেলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে পারেন, যা সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

    ব্যাংকটির করপোরেট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বড় করপোরেট গ্রাহকদের ঋণসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়মিত প্রক্রিয়ায় এগোলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। ঋণ নবায়ন, সীমা বাড়ানো, নতুন ঋণ সুবিধা, বড় অঙ্কের আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

    শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের অস্থিরতার খবর নানা মাধ্যমে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে যাচ্ছে। এতে করে এলসি খোলায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও এমডি থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কিন্তু এখন সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

    উদ্যোগ নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    ইসলামী ব্যাংকের আগের পর্ষদ তিন মাস আগে ভেঙে দেওয়া হলেও নতুন বোর্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ পর্যায় থেকে ব্যাংকটির বোর্ড দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

    পর্ষদ ও এমডির নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, তিন মাসের বেশি এমডি পদ শূন্য থাকার নিয়ম নেই। শূন্য হলে প্রশাসক বসানোর নিয়ম। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌক্তিক কারণ থাকলে সেটি বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এখন যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের লোক রয়েছে, তাই প্রশাসক দেওয়া ঠিক হবে না।

    তিনি আরো বলেন, পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দেওয়ার জন্য যোগ্য লোক খোঁজ করা হচ্ছে। সেটি পেলেই পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দেওয়া হবে।

    আর্থিক সূচকও নিম্নমুখী

    অন্যদিকে, নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ব্যাংকের আমানতে। আমানত ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা থেকে নেমে আসে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকায়।

    অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের হিসাবেও। প্রথম ছয় মাসে পরিচালন লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ২৮৫ কোটি টাকায়। ব্যাংকের সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে আছে খেলাপি ঋণ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকায়। এটি ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫২ শতাংশ এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা থাকলে একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা প্রত্যাশা করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে তারা বিকল্প ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে পারেন। যা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • সোনালী ব্যাংকের সেই শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

    সোনালী ব্যাংকের সেই শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এজিএম কামাল পাশাকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য হলেন-পিও আতিকুল ইসলাম।

    এর আগে পীরগাছা সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, দুর্ব্যবহার, অনিয়ম ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ তুলে ঢাকা পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

    প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি সোনালী ব্যাংকের এজিএম ম্যানেজার, আমি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। এই উপজেলার ইউএনও আমার দুই গ্রেড নিচে ষষ্ঠ গ্রেডে চাকরি করেন। আমি এই উপজেলার বড় কর্মকর্তা। আমি যা বলি তাই আইন, ব্যাংক আমার কথায় চলে।’ এ বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভিযোগগুলো তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়।

    রোববার তদন্ত কমিটির সদস্যরা দিনব্যাপী সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তারা সেবা নিতে আসা অসংখ্য গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কেও গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।

    ‘আমি যা বলি তাই আইন, ব্যাংক আমার কথায় চলে’

    তদন্তের সময় গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের সেবার মান, শাখা ব্যবস্থাপকের আচরণ, হয়রানি, চেকবই প্রদান, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ঋণ-সংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় একাধিক গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের দুর্ব্যবহার, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেন।

    এ সময় ব্যবস্থাপকের কক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার নিয়েও অভিযোগ ওঠে। একাধিক গ্রাহক তদন্ত কমিটিকে জানান, প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা বা সমস্যা নিয়ে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও সাধারণ গ্রাহকদের সহজে তার কক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় না। তবে ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়মিত ওই কক্ষে যাতায়াত ও অবস্থানের অভিযোগও করেন তারা।

    তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকজন গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ মহল তৈরি, তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা এবং সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন।

    ঋণ বিতরণ ও চেকবই প্রদানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা তদন্ত কমিটির কাছে জানান কয়েকজন গ্রাহক। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

    তদন্ত কমিটির প্রধান এজিএম কামাল পাশা বলেন, জিএম স্যারের নির্দেশে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সরেজমিনে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দাখিল করব।

    দিনব্যাপী তদন্ত শেষে কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও অভিযোগ সংগ্রহ করেন। তদন্ত কার্যক্রম শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়।

  • তিন কিমের ৭৮ বছর: যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া

    তিন কিমের ৭৮ বছর: যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া

    ১৯৪৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তর কোরিয়া। এরপর কেটে গেছে ৭৮ বছর। এ সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙেছে, পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক শাসন বিলুপ্ত হয়েছে এবং চীন বাজার অর্থনীতির পথে অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা টিকে আছে প্রায় একইভাবে।

    উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাও একটি পরিবারের বাইরে যায়নি। প্রথমে কিম ইল–সুং, পরে তাঁর ছেলে কিম জং–ইল এবং এখন নাতি কিম জং–উন—তিন প্রজন্ম ধরে উত্তর কোরিয়া শাসন করছে কিম পরিবার।

    এই ৭৮ বছরে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে গেছে। তারপরও শাসনব্যবস্থার পতন হয়নি। বরং বর্তমান নেতা কিম জং–উনের হাতে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র, কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও চীন–রাশিয়ার সহায়তা দেশটিকে টিকে থাকার নতুন শক্তি দিয়েছে।

    দুই কোরিয়ার জন্ম

    ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপ জাপানের অধীন ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর কোরিয়াকে সাময়িকভাবে দুই ভাগে ভাগ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ৩৮তম অক্ষরেখার উত্তরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তার করে।

    এই সাময়িক বিভাজন পরে স্থায়ী রূপ নেয়। উত্তরে সোভিয়েত–সমর্থিত কিম ইল–সুং এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত সিংম্যান রি ক্ষমতায় আসেন। ১৯৪৮ সালে দুই অংশে দুটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তর অংশের নাম হয় ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া বা উত্তর কোরিয়া।

    দুই রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষই পুরো কোরীয় উপদ্বীপের বৈধ সরকার বলে নিজেদের দাবি করেছিল। ১৯৫০ সালের জুনে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলা চালায়। শুরু হয় কোরীয় যুদ্ধ।

    যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নামে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয় চীন। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে কোনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি। থেকে যায় উপদ্বীপের বিভাজনও।

    প্রথম কিম: রাষ্ট্র ও পরিবারের ক্ষমতার ভিত্তি

    কিম ইল–সুং উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম নেতা। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৯৪ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত দেশটি শাসন করেন।

    কিম ইল–সুংয়ের সময়েই উত্তর কোরিয়ায় একদলীয় ও অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। রাষ্ট্র, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ক্রমে একজন নেতাকে ঘিরে সাজানো হয়।

    কিম ইল–সুং ‘জুচে’ বা নিজ শক্তির ওপর নির্ভর করার রাজনৈতিক ধারণা সামনে আনেন। এ ধারণার মূলকথা ছিল, উত্তর কোরিয়া রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় নিজের পথ অনুসরণ করবে। তবে বাস্তবে দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

    উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সামরিক কুচকাওয়াজে প্লাস্টিকের ফুল ও পতাকা হাতে উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দারা

    কিম ইল–সুংয়ের শাসনে নেতাকে ঘিরে প্রবল ব্যক্তিপূজাও গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রের ইতিহাস, স্বাধীনতা, যুদ্ধ ও উন্নয়নের সব সাফল্যের কেন্দ্রে তাঁকে রাখা হয়। এভাবে কিম পরিবারের শাসনকে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশে পরিণত করা হয়।

    রাষ্ট্রের ক্ষমতার পাশাপাশি উত্তরসূরি তৈরির কাজও কিম ইল–সুং নিজের জীবনকালেই শুরু করেন। তাঁর ছেলে কিম জং–ইলকে ধীরে ধীরে দল, রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়। ফলে ১৯৯৪ সালে কিম ইল–সুংয়ের মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ায় পিতা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা যায়।

    দ্বিতীয় কিম: দুর্ভিক্ষের মধ্যেও সামরিক শক্তি

    কিম জং–ইল এমন একসময় ক্ষমতা নেন, যখন উত্তর কোরিয়া গভীর সংকটে ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর উত্তর কোরিয়া গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা ও বাণিজ্যের সুযোগ হারায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

    নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি উত্তর কোরিয়ায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ঠিক কত মানুষ মারা গিয়েছিল, তার নিশ্চিত হিসাব নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে, দুর্ভিক্ষে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে। খাদ্যের সন্ধানে কয়েক লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে চীনে চলে যায়।

    এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পরও শাসনব্যবস্থার পতন হয়নি। কিম জং–ইল ‘সামরিক বাহিনী প্রথম’ নীতি গ্রহণ করেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। সামরিক বাহিনী একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কিম পরিবারের শাসন রক্ষার প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে।

    সি চিন পিং, চীনের প্রেসিডেন্ট

    কিম জং–ইলের সময়েই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের পথে দ্রুত এগোয়। দেশটি ২০০৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এরপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

    অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষ উত্তর কোরিয়াকে দুর্বল করেছিল। কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি দেশটির নিরাপত্তাকৌশল বদলে দেয়। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রকে সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা হিসেবে দেখতে শুরু করে পিয়ংইয়ং।

    তৃতীয় কিম: পারমাণবিক শক্তির বিস্তার

    কিম জং–ইল ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। এরপর তাঁর ছেলে কিম জং–উন ক্ষমতায় আসেন। তখন তাঁর বয়স কম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতাও সীমিত ছিল। ফলে তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দেশের বাইরে প্রশ্ন ছিল।

    কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই কিম জং–উন দল, সরকার ও সেনাবাহিনীর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সময়েই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অনেক দ্রুত এগিয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে চারটি হয়েছে কিম জং–উনের শাসনে। ২০১৭ সালের সর্বশেষ পরীক্ষাটি আগের সব পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।

    ২০১৮ সালে কিম জং–উন কূটনীতির দিকে এগোন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুন জে–ইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্প ও কিমের প্রথম বৈঠক হয় ২০১৮ সালের জুনে সিঙ্গাপুরে।

    এ দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এরপর আলোচনা আর এগোয়নি।

    কিম জং–উনের সরকার এখন বলছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রের মর্যাদা বদলানো যাবে না। ২০২২ সালে দেশটি নতুন পারমাণবিক নীতি আইনে পরিণত করে। সেই আইনে কিম জং–উনকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়।

    কিম জং–উনের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত

    কিম জং–উনের শাসনের শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর ক্ষমতা হয়তো দল ও সেনাবাহিনীর প্রবীণ নেতাদের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের কর্তৃত্ব বাড়িয়েছেন।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসে দলের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ, দলের বৈঠক ডাকা এবং বিভিন্ন বিভাগ ভেঙে দেওয়ার স্পষ্ট ক্ষমতা কিম জং–উনকে দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নিয়মে কিম ইল–সুং ও কিম জং–ইলের কাজের উল্লেখও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে বর্তমান নেতা কিম জং–উনের ভূমিকা সামনে আনা হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি একে ‘কিম জং–উন যুগ ২.০’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    কঠোর নিয়ন্ত্রণও টিকে থাকার শক্তি

    উত্তর কোরিয়ার মানুষ কী জানতে পারবেন, কোথায় যেতে পারবেন এবং কীভাবে জীবন কাটাবেন—তার ওপর রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। স্বাধীন গণমাধ্যম নেই। বিদেশি খবর ও বিনোদনের ওপরও কঠিন বিধিনিষেধ আছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলেছে, আগের ১০ বছরে উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি; বরং নজরদারি, বাধ্যতামূলক শ্রম ও কঠোর শাস্তির ব্যবহার বেড়েছে। বিদেশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

    প্রতিবেদনটি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া তিন শতাধিক ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। উত্তর কোরিয়া এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

    তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারি এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা উত্তর কোরিয়ায় বিরোধী শক্তি গড়ে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত করে রেখেছে। কিম পরিবারের শাসনও টিকে থাকার পেছনে এটি বড় একটি কারণ।

    খাদ্যসংকট, তবু চলছে অর্থনীতি

    উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের জীবন এখনো কঠিন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাবে, দেশটির ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় প্রতি পাঁচ শিশুর একজনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চাষযোগ্য জমির স্বল্পতা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও সারের অভাব ও বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশটিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্য উৎপাদিত হয়।

    এরপরও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে টানা তিন বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের বেশি হলো।

    রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও অস্ত্রের চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে উত্তর কোরিয়া নিজে নিয়মিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা ও বাণিজ্য তথ্যের ভিত্তিতে এসব হিসাব তৈরি করা হয়।

    জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনফাইল

    চীনের পাশাপাশি এখন রাশিয়া

    দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তাকারী চীন। ২০২৫ সালে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই ছিল চীনের সঙ্গে।

    কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক দ্রুত বদলে গেছে। পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে বিপুল অস্ত্র ও সেনাসদস্য দিয়েছে। বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা পাচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে।

    ২০২৪ সালে দুই দেশ একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করে। সম্প্রতি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়কসেতুও চালু হয়েছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে রেল ও বিমান যোগাযোগ ছিল। নতুন সেতুটি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘৩৮ নর্থ’–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়াকে সহায়তার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া অর্থ, জ্বালানি, খাদ্য, সামরিক প্রযুক্তি ও আধুনিক যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়ার চেষ্টা করছে। মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে চীনের ওপর একক নির্ভরতাও কমাতে চাইছে দেশটি।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সি ও পুতিনের বার্তা

    উত্তর কোরিয়ার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিম জং–উনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

    সি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা চীনের ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের অবিচল নীতি। অন্যদিকে পুতিন দুই দেশের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে কিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা বলেছেন।

    দুই নেতার বার্তা উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পত্রিকা ‘রোডং সিনমুন’-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে।

    একই দিনে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইয়ংবিয়নের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে উত্তর কোরিয়া নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা তৈরি করেছে। সেখানে ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড রাখার জায়গা থাকতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, একাধিক স্থানে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবকাঠামোর ধারাবাহিক বিস্তারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

    যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া

    উত্তর কোরিয়ার ৭৮ বছরের ইতিহাস থেকে শাসনব্যবস্থাটি টিকে থাকার কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়।

    প্রথমত, কিম পরিবারের নেতৃত্বকে রাষ্ট্রের ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দল, সরকার, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাকে একই নেতৃত্বের অধীন রাখা হয়েছে।

    তৃতীয়ত, তথ্যের প্রবাহ ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে। চতুর্থত, পারমাণবিক অস্ত্রকে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকানোর প্রধান উপায় হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

    পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো সোভিয়েত ইউনিয়ন, কখনো চীন এবং এখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাচ্ছে পিয়ংইয়ং।

    তিন প্রজন্মে উত্তর কোরিয়ার চারপাশের বিশ্ব অনেক বদলেছে। কিন্তু কিম পরিবারের শাসনের মূলভিত্তি—কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, সামরিক শক্তি, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী প্রতিবেশীর সহায়তা রয়েছে এখনো অটুট। প্রতিষ্ঠার ৭৮ বছর পরও উত্তর কোরিয়ার টিকে থাকার মূল ব্যাখ্যা সম্ভবত এখানেই।

  • কমলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম

    কমলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম

    দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। এক দফা বাড়ানোর পর গত কয়েক দিনে টানা কমার ধারাবাহিকতায় এবার ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ৯০ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রৌপ্যের দামও।

    বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বুধবার সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ২০ হাজার ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসাবে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬০ টাকা।

    এছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ৪৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৩ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী এর সঙ্গে মজুরি যুক্ত হবে।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যের দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৭ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। ওই দফায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ টাকা। তখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ২০ হাজার ১৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ২৫৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১৩ হাজার ৫০৫ টাকা।

    এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। ওই সময় প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ হাজার ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক দফা বাড়ানোর পর আবারও কমলো স্বর্ণের দাম।

    এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার আগে ৩১ আগস্ট একই মানের স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানো হয়।

    এছাড়া ২৯ আগস্ট ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছিল ৭ হাজার ১১৫ টাকা।

    ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে কয়েক দফা স্বর্ণের দাম কমার পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক দফা বাড়ানো এবং আবারও কমানোর সিদ্ধান্ত নিল বাজুস।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

    পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই দাম কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

    ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

    বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদার ৯০ শতাংশই মেটাতে হচ্ছে আমদানি করা সয়াবিন ও পাম তেল দিয়ে, যা প্রতিবছর দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা শুষে নিচ্ছে। দেশে আজ অবধি যতরকমের ভোজ্যতেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার কাঁচামালের কোনোটিতেই বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তবে দেশে উৎপাদিত ধানের কুঁড়া থেকে বছরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন স্বাস্থ্যকর ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’ উৎপাদনের সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেড় দশকেও তা সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেনি। এর বিপরীতে সয়াবিন তেল এক অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের ডিনার—সবকিছুতেই এর অবাধ ব্যবহার।

    বাজারে বহুল ব্যবহৃত ডাবল রিফাইনড বা ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আছে অনেক ধরনের প্রশ্ন। ফলে দেশি কাঁচামালের বিপুল সম্ভাবনা কাজে না লাগিয়ে প্রতি বছর বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানিনির্ভর হয়েই মেটাতে হচ্ছে ভোজ্যতেলের চাহিদা। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে খুবই কম। ফলে একদিকে কারখানাগুলোর বড় অংশের সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকছে, অন্যদিকে ভোক্তার রান্নাঘরেও পণ্যটি সহজলভ্য হচ্ছে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেল প্রয়োজন হয়। এর প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমদানি করা অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল পরিশোধনের মাধ্যমে। রাইস ব্র্যানসহ দেশি উৎসের তেলের অংশ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্যমতে, ২০২২ সালে মাথাপিছু ভোজ্যতেল গ্রহণের হার ছিল দিনে প্রায় ৩১ গ্রাম, যা ২০১৬ সালে ছিল প্রায় ২৭ গ্রাম। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর মানুষের মধ্যে ভোজ্যতেল গ্রহণ বাড়ছে।

    সাম্প্রতিক আমদানি তথ্যও এই চিত্র স্পষ্ট করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে ২২ লাখ ২৩ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও অন্যান্য খরচ যুক্ত করলে মোট আমদানি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায়। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। শুল্ক ও ভ্যাটসহ মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।

    গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ধানের কুঁড়া থেকে তৈরি রাইস ব্র্যান অয়েল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী এতে স্যাচুরেটেড, মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিউট্রাসিউটিক্যাল বা ‘ওষুধের বিকল্প খাদ্য’ হিসেবে বিবেচিত এই তেলে ট্রান্সফ্যাট না থাকায় এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই কমপ্লেক্স, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও গামা-ওরিজানল যুক্ত থাকায় এটি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ফ্রি-রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) তথ্যমতে, অলিভ অয়েলের পরই এই তেলের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নিউ ইয়র্কের রোচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও ক্যানসার প্রতিরোধ ও মেদ নিয়ন্ত্রণে রাইস ব্র্যান অয়েলের বিশেষ ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। অ্যালার্জিমুক্ত ও হালকা স্বাদের এ তেলে রান্নার সময় অন্যান্য তেলের তুলনায় ২০ শতাংশ কম শোষণ ঘটে, যার ফলে খাবার কম ক্যালরিযুক্ত হয়।

    সরকারি ক্রয় বাড়ছে

    সরকারি পর্যায়ে রাইস ব্র্যান অয়েলের চাহিদা বাড়ছে। চলতি বছর সরকার ও টিসিবির জন্য একাধিক দফায় এ তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মে মাসে সরকারি ক্রয় কমিটি এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান অয়েল কেনার অনুমোদন দেয়। এর ব্যয় ধরা হয় ১৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর আগে মার্চে আরো বড় পরিমাণ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

    জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে এক কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান অয়েল সংগ্রহের সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি ক্রয়ের এই প্রবণতা দেখাচ্ছে পণ্যটির একটি নিশ্চিত বাজার রয়েছে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন বাজারে স্থায়ী চাহিদা তৈরি না হওয়ায় উৎপাদকরা বড় পরিসরে উৎপাদনে ঝুঁকি নিতে পারছেন না।

    মানুষ কী খাচ্ছে

    বর্তমান খাদ্যাভ্যাসে সয়াবিন তেল রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত হয়েছে। দিনের শুরুতে নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর ও রাতের প্রায় প্রতিটি রান্নাতেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই তেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটজাত অধিকাংশ সয়াবিন তেলই ‘ডাবল রিফাইনড’ বা ‘ফর্টিফাইড’। এগুলো দেখতে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও পাতলা। তেল যত বেশি স্বচ্ছ হবে, তাতে রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণ তত বেশি হচ্ছে। প্রাকৃতিক তেল সাধারণত একটু গাঢ় ও গন্ধযুক্ত হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্যানুযায়ী, সয়াবিন তেলের অতিরিক্ত ও অসচেতন ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। যার অন্যতম প্রধান কারণ এতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০২১ সালের গবেষণায় দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড আছে। এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহিন (এলপিআর) আমার দেশকে বলেন, গবেষণায় দেশের বাজারে পাওয়া সয়াবিন তেলের মান নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনার আলোকে সরকার ভোজ্যতেলে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ করেছে। উৎপাদনের সময় নজরদারি ও তদারকি জোরদার করলে ভোজ্যতেলে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে খাদ্যদ্রব্যে ‘ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ প্রণয়ন করে, যা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই প্রবিধানমালা অনুযায়ী খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় সয়াবিন তেলের নমুনায় এ মাত্রার চেয়ে দুই থেকে চারগুণ বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। এছাড়া সয়াবিন তেল শোধনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং বাসাবাড়ি বা রেস্তোরাঁয় বারবার একই তেল গরম করে ভাজাপোড়ার কাজে (পোড়া তেল) ব্যবহারের ফলে এই ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা আরো আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্সফ্যাট হলো চর্বির এমন এক ক্ষতিকর রূপÑযা রক্তের উপকারী বা ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেয় এবং একইসঙ্গে ক্ষতিকর বা খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রক্তে এই খারাপ কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্তনালীকে ব্লক করে দেয়, যা সরাসরি কার্ডিওভাসকুলার জটিলতা সৃষ্টি করে।

    হৃদরোগের পরিসংখ্যান ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার মানুষ হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে দেশে অকাল মৃত্যুর সবচেয়ে বড় একক কারণ হলো হৃদরোগ, আর সয়াবিন তেলে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি এর অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন তাদের হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর দুই লাখ পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যান। অর্থাৎ, দৈনিক ৫৬২ জনের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে। সয়াবিন তেল পরিশোধন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং একাধিকবার একই তেল ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে হৃদরোগের এ মারাত্মক ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয় বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

    আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ

    দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আমদানির পরিমাণ কমাতে রাইস ব্র্যান অয়েল গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। কারণ, এর প্রধান কাঁচামাল দেশেই উৎপাদিত ধানের উপজাত। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি চালকল, কৃষক ও স্থানীয় শিল্পের জন্যও অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইস ব্র্যান অয়েলের সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে প্রথমে কাঁচামাল সংগ্রহের কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। এরপর কারখানার সক্ষমতা ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় কমানো, ছোট প্যাকের সরবরাহ বাড়ানো এবং খুচরো বাজারে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা দরকার। তাদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোক্তার আস্থা অর্জন।

    রাইস ব্র্যান অয়েল স্বাস্থ্যকর—এমন প্রচারের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য দিতে হবে। কোনো তেলকে অযথা ‘সবচেয়ে ভালো’ কিংবা অন্যটিকে ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে উপস্থাপন না করে পুষ্টি ও ব্যবহারের সঠিক তথ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। কারণ, দেশের কয়েক কোটি মানুষের রান্নাঘরের তেলের প্রশ্নটি শুধু একটি শিল্পের বাজার তৈরির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত খাদ্যনিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষি উপজাতের ব্যবহার; সর্বোপরি ভোক্তার আস্থা।

  • ব্যাংক খাতের মাফিয়া নজরুল, ৩৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন যেভাবে

    ব্যাংক খাতের মাফিয়া নজরুল, ৩৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন যেভাবে

    নজরুল ইসলাম মজুমদার। নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘসময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিতি পান তিনি। বছরের পর বছর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যানের পদও ধরে রাখেন। হাসিনাসহ তার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগের বিষয়টি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের ব্যাংক খাতের অঘোষিত মাফিয়া হয়ে উঠেন নজরুল। ঋণের নামে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে লুটে নেন প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। যার বড় অংশ দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। লুটের সেই বিদেশে সাম্রাজ্য গড়েছেন তিনি।

    ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের শীর্ষ পদে বসে ব্যাংক খাতে যে প্রভাব তৈরি করেছিলেন, সেটিই হয়ে ওঠে তার অন্যতম বড় শক্তি। ব্যাংক মালিকদের ওপর প্রভাব, সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগের অভিযোগ বারবার এসেছে বিভিন্ন অনুসন্ধানে। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও তহবিলের নামে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক খাতের বড় অংশে তার প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। ব্যাংক খাতের অনেকে এ বিষয়ে বলেন, বাস্তবে বলতে গেলে তিনি ছিলেন ওই সময় ব্যাংক সেক্টরের মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রকাশ্যে না বললেও বেশির ভাগ ব্যাংকের মালিক আড়ালে তাকে ‘ব্যাংক চাঁদাবাজ’ হিসাবে সম্বোধন করতেন।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে- যুক্তরাজ্য, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ আইল অব ম্যান, জার্সি দ্বীপ ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে গেছে সেই অর্থের একটি বড় অংশ। এছাড়া বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি, কেনা হয়েছে বিপুল সম্পদ এবং খোলা হয়েছে ব্যাংক হিসাবও। এবার এসব চাঞ্চল্যকর তথ্যের অনেকাংশ জানতে পেরেছে দুদক। জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রীর প্রকৃত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে থাকা ৫৩ লাখ পাউন্ড জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

    আবেদনে বলা হয়, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এসব অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাচার করা অর্থের গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে উল্লেখ দেশ ও বিশেষ স্থানের নাম।

    দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে জানায়, নজরুল ইসলাম মজুমদার ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে বিদেশে নেওয়ার জন্য একাধিক কৌশল ব্যবহার করেছেন। ব্যাংকঋণ, বাণিজ্যিক লেনদেন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পেয়েছে দুদক। পরে এসব অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে থাকা কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাবে গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষায়-টাকা সরানো ও পাচারের এই জটিল কৌশলে নজরুল যেন ‘ম্যাজিক মাস্টার’।

    জার্সিতে ৫৩ লাখ পাউন্ড : দুদকের অনুসন্ধানে নজরুলের বিদেশি সম্পদের যে হিসাব সামনে এসেছে, তার অন্যতম হলো ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আইল অব ম্যানের ঠিকানায় নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই বছরের ২ অক্টোবর জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির নামে হিসাব খোলা হয়। গত ৬ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, ওই হিসাবে জমা ছিল ৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড। দুদকের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিকানা নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম।

    কিন্তু এসব অর্থ সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা এবং সম্পদ হস্তান্তর ঠেকাতে আদালতে এসব অর্থ ও সম্পদ জব্দের আবেদন করে দুদক। আদালত জার্সির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব এবং ওই প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ঋণের জাল ২৬ ব্যাংকে : নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের তথ্য উঠে এসেছে দুদকের অনুসন্ধানে। একাধিক ব্যাংকে একই কায়দায় ঋণ নেওয়া হয়েছে। কোথাও গ্রুপের এক প্রতিষ্ঠানের নামে, কোথাও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে। আবার কোথাও বিশেষ সুবিধায় ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে এক ব্যাংকের টাকা দিয়ে আরেক ব্যাংকের দায় সামাল দেওয়ার ব্যবস্থাও চলেছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুসন্ধানে উঠে আসে। একটি ব্যাংক থেকে নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়। যে তথ্য এর আগে যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯৯৮ কোটি টাকা বিশেষ বিবেচনায় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনেও এসব ঋণ নিয়ে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। নাসা গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও সুতা ব্যবসার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে ঋণের বড় অংশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর তালিকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংকই রয়েছে। দুদকের সর্বশেষ অনুসন্ধানে এই ঋণের হিসাব গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায়।

    ব্যাংকের টাকা লুটে বিদেশে সম্পদ : অভিযোগের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো-ব্যাংক থেকে নেওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের বিভিন্ন পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসাকে ব্যবহার করে অর্থ সরানোর অভিযোগও এসেছে। পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে বিদেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানো, রপ্তানি পণ্যের মূল্য দেশে না এনে বিদেশে রেখে দেওয়া এবং কম মূল্য দেখিয়ে বাকি অর্থ অন্য পথে সরিয়ে নেওয়ার মতো কৌশলের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

    অর্থ পাচারের আরেকটি পথ হিসাবে উঠে এসেছে বিদেশি কোম্পানি। যুক্তরাজ্য, হংকং, আইল অব ম্যান ও জার্সিতে নজরুলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক কোম্পানির তথ্য দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়। বিদেশে এসব কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সম্পদ কেনার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • আর্থিক ও কাঠামোগত সংকটের মুখে রূপালী ব্যাংক

    আর্থিক ও কাঠামোগত সংকটের মুখে রূপালী ব্যাংক

    বড় ধরনের আর্থিক ও কাঠামোগত সংকটের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি। উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, বিশাল সঞ্চিতি ঘাটতি এবং চলতি বছরের প্রথমার্ধে বড় অংকের নিট লোকসান ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতাকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। তবে ব্যাংকের বিশাল আমানত ও শক্তিশালী তারল্যের যে ভিত্তি রয়েছে, সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড়াতে সুনির্দিষ্ট ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

    এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছেÑহিসাব সমন্বয়ের পরিবর্তে প্রকৃত নগদ আদায় বৃদ্ধি, উচ্চ ব্যয়ের আমানত কমানো, ডিজিটাল সেবাকে দক্ষতায় রূপান্তর এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় রূপালী ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক অবস্থা, খেলাপি ঋণ আদায়, মূলধন, মুনাফা, তারল্য, সুশাসন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে ব্যাংকটিকে এসব নির্দেশনা প্রদান করা হয় বলে সভার কার্যবিবরণী ঘেঁটে এ তথ্য জানা গেছে।

    সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের জুলাই মাস শেষে রূপালী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে সার্বিক খেলাপি ঋণের হার ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ হওয়ায় দুই হিসাবের ব্যবধান প্রায় ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংকটিতে যুক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ১৪ কোটি টাকার সঞ্চিতি ঘাটতি, ৫ হাজার ২৩২ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি, ১ দশমিক ৭০ শতাংশ মূলধন পর্যাপ্ততার হার এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৪৩ কোটি টাকার নিট লোকসান। জুলাইয়ে ব্যাংকের মোট সম্পদ প্রায় ৮৬ হাজার ৫৯০ কোটি, আমানত ৭২ হাজার ৪০৫ কোটি এবং ঋণ ও অগ্রিম ৫২ হাজার ১৫৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে সম্পদ বাড়ানোর চেয়ে ঋণের মান ঠিক করাকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এছাড়া নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের নগদ অর্থপ্রবাহ, পরিশোধক্ষমতা, গোষ্ঠীঋণ, প্রকৃত মালিকানা এবং খাতভিত্তিক ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

    সভায় আরো জানানো হয়, ব্যাংকের ৮২ লাখ ২৫ হাজার আমানত হিসাব থাকলেও কম বা বিনা খরচের আমানতের অংশ কমে ৪১ শতাংশে নেমেছে এবং তহবিলের গড় ব্যয় বেড়ে ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার কম খরচের আমানত তুলে নেওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। এ কারণে চলতি ও সঞ্চয়ী, বেতনভিত্তিক, প্রবাসী আয়-সংযুক্ত ও ডিজিটাল হিসাব বাড়িয়ে স্থিতিশীল কম খরচের আমানত বাড়াতে এবং বড় প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীর ওপর নির্ভরতা কমাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    ঋণ-আমানত অনুপাত প্রায় ৭২ শতাংশ হলেও আগ্রাসী ঋণ বিতরণ কোনো সমাধান নয় বলে সভায় মতপ্রকাশ করা হয়। মোট ঋণের প্রায় ৫৭ শতাংশ শিল্প খাতে এবং শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে বড় অঙ্কের অর্থ কেন্দ্রীভূত রয়েছে। বড় করপোরেট ঋণের এই কেন্দ্রীভবন কমিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি, নারী উদ্যোক্তা এবং উৎপাদনশীল খাতে মানসম্মত ঋণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ব্যাংকটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে নামানোর কথা জানায়। এই লক্ষ্য অর্জনে শুধু হিসাব সমন্বয় বা সাময়িক পুনঃতফসিলের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত নগদ আদায় এবং সামগ্রিক প্রভাব আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে সভায়।

    আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ব্যাংকের আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনে ৫টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সম্পদের মান উন্নয়ন; মূলধন ও সঞ্চিতি পুনর্গঠন; মুনাফা পুনরুদ্ধার; ঋণভাণ্ডারে ভারসাম্য এবং সুশাসন ও ডিজিটাল রূপান্তর। প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সময়সীমা এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

    রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহেদুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ইতিমধ্যে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

  • দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

    দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিবেশী ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ভারতে রফতানি আরো বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

    রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রফতানি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে বাংলাদেশ ৩৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।

    অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে দুই কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

    ভারতের বাজারে রফতানি বাড়ার এই প্রবণতা দেশের সামগ্রিক রফতানি আয় বৃদ্ধির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানি প্রায় ৯১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাজারগুলোর একটি। ফলে দেশটিতে রফতানি বাড়ার এই প্রবণতা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

    ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রফতানি আয় বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পেনে রফতানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

    তবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার। ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২১ কোটি ডলার।

    এই বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের জন্য ভারতের বিশাল ভোক্তা বাজারে আরো বেশি প্রবেশাধিকার তৈরি করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার সুযোগ রয়েছে।

    এ সময়ে যুক্তরাজ্যে রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ, পরিমাণ ৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলার। নেদারল্যান্ডসে রফতানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, পরিমাণ ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। কানাডায় রফতানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।

    উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দেশটিতে রফতানি ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, পরিমাণ ৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। মেক্সিকোতে রফতানি ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

    সুইডেনে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ, পরিমাণ ১৩ কোটি ৪ লাখ ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    সামগ্রিক রফতানি চিত্রও আগস্টে বেশ ভালো ছিল। ওই মাসে বাংলাদেশ ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, যা গত বছরের আগস্টের ৩৯২ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

    বড় বাজার, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে রফতানিকারকদের কাছে ভারতের বাজারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক রফতানি প্রবৃদ্ধি বলছে, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি ভারতসহ আঞ্চলিক ও উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি বাড়াতে ভারতের বাজারকে আরো বেশি কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের বাজারে রফতানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামগ্রিক রফতানি আয় আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সাথে ভারতের সাথে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও রফতানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

    চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

    চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের অভিযোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

    ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করা হয়।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজ কনটেইনার খালাস করে। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে সাভারের রফতানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিকস আনা হয়।

    কাস্টমস সূত্রে আরো জানা যায়, আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।

    এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো: হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি নামিয়ে দিতে পারেনি। এরপর কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে কনটেইনার না পেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।

    তিনি আরো জানান, গায়েব হওয়া কনটেইনারে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে গ্রাহকও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রফতানি পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।

    এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।

  • রিজার্ভ বিনিয়োগে তিন বছরে সর্বোচ্চ আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    রিজার্ভ বিনিয়োগে তিন বছরে সর্বোচ্চ আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বাড়ছে। গত অর্থবছর রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি সুদ আয় করেছে, যা গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট মুনাফাও বেড়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষামূলক সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও আমানতে বিনিয়োগ করা থাকে। বৈশ্বিক বাজারে কুপন রেট ও সুদের হার বেশি থাকায় বৈদেশিক রিজার্ভের এই বিনিয়োগ থেকে আয় ও রিটার্নের পরিমাণ বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ থেকে মোট সুদ আয় হয়েছে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক বন্ড ও ইউএস ট্রেজারি নোট থেকে ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকার সুদ আয় হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ঋণ ও আমানত থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণ থেকে সুদ আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। আর বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ থেকে এসেছে আরো প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার আর্থিক সম্পদ থেকে মোট আয় ছিল ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ আয়ই ছিল প্রায় ৭ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছর ২০২৩–২৪-এ এ খাতের মোট আয় ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

    বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ রয়েছে ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস রিজার্ভ রয়েছে ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু মুনাফা করে না, সরকার ও দেশের ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিয়েও আয় করে। গত দুই বছর ধরে দেশে উচ্চ সুদহার বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করেছে। পাশাপাশি সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোও বিপুল পরিমাণ তারল্য সহায়তা নিয়েছে। ফলে গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। যদিও ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয়ের পরিমাণ আরো বেশি ছিল। ওই অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে আয় হয়েছিল ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।

    গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সুদ আয় খাত থেকে। তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আয় করেছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। কমিশন ও ডিসকাউন্ট আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি টাকা। লভ্যাংশ পেয়েছে ২০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য আয় হয়েছে ৪৭৫ কোটি টাকা।

    সব মিলিয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় বা মোট মুনাফা হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ওই সময় মোট মুনাফা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪০ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। এর মধ্যে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট আয়ের ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং এখন বাকি ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক গত অর্থবছর পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে মোট ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা খরচ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় দুই বছর ধরে নীতিসুদহার ১০ শতাংশে ছিল। গত অর্থবছরের পুরো সময় তা বহাল ছিল। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে উচ্চ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করতে হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ মুনাফা করা নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংক খাতের তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর মূল দায়িত্ব। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের দুর্দশার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা এতটা বেড়েছে। তবে মুনাফা করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়, সেটি নজরে রাখতে হবে।

    জানা গেছে, অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চাঙা ছিল। ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট থাকায় বিভিন্ন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা ধার করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয়ও বেড়েছে। আবার রিজার্ভের অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা থাকায় সেখান থেকেও ভালো মুনাফা হয়েছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে।

  • সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

    সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

    সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

    কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    শর্তগুলো হলো— ১. রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। ২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। ৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। ৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না। ৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না। ৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। ১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রোসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    এর আগে দুই দফায় ২৭৮ টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২শত ৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১২৯ টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

    সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

    নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।

  • উৎপাদন-সেবায় ধীরগতি, আগস্টে কমল পিএমআই

    উৎপাদন-সেবায় ধীরগতি, আগস্টে কমল পিএমআই

    বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্সের (পিএমআই) আগস্ট মাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বাংলাদেশের পিএমআই জুলাই মাসের তুলনায় ৭.৯ পয়েন্ট কমে ৪৯.৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামান্য সংকোচনকে নির্দেশ করে। এই পতনের প্রধান কারণ ছিল—উৎপাদন ও সেবা খাতের কর্মকাণ্ডে মন্থরতা। উভয় খাতেই সামান্য সংকোচন দেখা গেছে। তবে এই সময়ে উৎপাদন খাতে তীব্র পতন দেখা গেছে। অন্যদিকে, কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় সম্প্রসারণের ধারায় ফিরে এসেছে।

    মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পিএমআই প্রকাশের লক্ষ্য হলো—দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সময়োপযোগী ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া, যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতি-নির্ধারকেরা অবহিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে কৃষি খাত টানা দ্বাদশ মাসে সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে এবং খাতটির পিএমআই ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬.৫-এ উন্নীত হয়েছে। এর কারণ, নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ধারায় ছিল। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। উপকরণ ব্যয় শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রাখলেও বৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে। অন্যদিকে, অর্ডার ব্যাকলগস বা অসম্পন্ন অর্ডারের সূচক সংকোচনের ধারায় রয়ে গেছে।

    উৎপাদন খাত ১৮.০ পয়েন্টের তীব্র পতনের মাধ্যমে ৪৭.৪-এ নেমে সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়ের মজুত, আমদানি এবং কর্মসংস্থান—সবগুলো সূচকই সংকোচনের পর্যায়ে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, উপকরণের দাম দ্রুততর হারে বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। অর্ডার ব্যাকলগস সংকোচনের ধারায় থাকলেও এর সংকোচনের হার কমেছে এবং সরবরাহকারীদের সরবরাহের সময় অপরিবর্তিত ছিল।

    নির্মাণ খাত আগস্ট মাসে ৫২.৪-এ উন্নীত হয়ে পুনরায় সম্প্রসারণের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পর্যায়ে ফিরে এসেছে, অন্যদিকে নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে সংকোচনের হার কমেছে। একই সময়ে উপকরণ ব্যয় দ্রুততর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, আর অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের পর্যায়ে চলে গেছে।

    সেবা খাত ২২ মাস পর প্রথমবারের মতো সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করে আগস্টে ৪৯.২-এ নেমে এসেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৬.৮ পয়েন্ট কম। নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণের হার কমেছে। কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এর হার কিছুটা কমেছে এবং অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের হারও কমেছে।

    প্রতিবেদনকালীন উত্তরদাতাদের মতামতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক হলেও ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। অনেক উত্তরদাতা বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে, ব্যবসার ব্যয় কমানো, আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আরও সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

    উৎপাদন খাতের উত্তরদাতারা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থপ্রাপ্তিতে জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসার গতি মন্থর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা জ্বালানির মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেবা খাতের উত্তরদাতারা আর্থিক সহায়তা, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আয়কর ও অন্যান্য করের চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছেন। কৃষি খাতের উত্তরদাতারাও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

    সামগ্রিকভাবে, উত্তরদাতাদের মতামত ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি, সহজতর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসাবান্ধব কর ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়িক আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়বে।

    ফিউচার বিজনেস ইনডেক্স বা ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক অনুযায়ী, সব খাতেই ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের মাত্রায় সামান্য পতন ঘটেছে।

    পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আগস্টের পিএমআই ৪৯.৯-এ অবস্থান করায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ সীমার কাছাকাছি ছিল, যদিও উৎপাদন ও সেবা খাতে সাময়িক চাপ বিদ্যমান ছিল। কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে, যা অর্থনীতির অন্তর্নিহিত স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দেয়।’

    মাশরুরু রিয়াজ বলেন, উৎপাদন খাতের মন্থরতা আংশিকভাবে মাসিক রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এলএনজি অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সাময়িক জ্বালানি বিঘ্নের প্রতিফলন। সামনে, জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক পদক্ষেপ অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে এবং আরও দৃঢ় প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

  • ভারতের সিইসির জেলা শাসক মেয়ের শাস্তি, বেতন থেকে কাটা যাবে ৫ লাখ রুপি

    ভারতের সিইসির জেলা শাসক মেয়ের শাস্তি, বেতন থেকে কাটা যাবে ৫ লাখ রুপি

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের মতো তাঁর মেয়েও চলে এসেছেন খবরের শিরোনামে। বাবার মতো বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন উত্তর প্রদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা শাসক (ডিএম) মেধা রুপম। মশা মারতে কামান দাগার অপরাধে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের অর্থ এবার তাঁর বেতন থেকে কাটা হবে।

    শুধু তাই নয়, অন্যায়ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) প্রয়োগ করে কাউকে পাঁচ মাস বন্দী রাখার এই ব্যতিক্রমী ঘটনা নিয়ে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি মেধা রুপমের চাকরিসংক্রান্ত রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও হাইকোর্টের বিচারপতিরা দিয়েছেন। সরকারি আমলাদের বেতন থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ কাটার এই রায় অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন না হলেও নিশ্চিতভাবেই দৃষ্টান্তমূলক। আদালত মনে করেন, এর ফলে আমলাশাহি ও পুলিশ প্রশাসনের বেপরোয়া হয়ে ওঠা রোখা যাবে। তাঁদের আইন ও সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য করা যাবে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কিছুদিন ধরেই বিরোধীদের নিশানায় জ্বলজ্বল করছেন। সারা দেশে ভোটের তালিকা সংশোধনের নামে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ চালু করার মধ্য দিয়ে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের ১০ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি। এখনো ২৭ লাখ ভোটারের নাম বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে বিরোধী অনুগত ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। বিশেষ করে বাদ দেওয়া হচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নাম। এভাবে তিনি শাসকদল বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে প্রতিকারের কোনো উপায়ও নেই, যেহেতু কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে মেধা রুপম। তিনি দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা শাসক। এই জেলা নয়ডা নামেই বেশি পরিচিত। ২০২৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তাঁর এত গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্বভার পাওয়া নিয়ে নানা কথা উঠেছিল। বাবার প্রভাব নিয়ে বেশ চর্চা হয়েছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হয়েছে, যেভাবে তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা যেভাবে তাঁর বেতন থেকে কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই তাঁর কর্মজীবনের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। মাস কয়েক আগে দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত নয়ডার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। আকৃতি সেই আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সেই শ্রমিক আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনকে হিংসাত্মক করে তোলার প্ররোচনা দিয়েছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি ছাত্রী আকৃতি চৌধুরী। সেই অভিযোগে আকৃতিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওই আইনে তাঁকে ৫ মাস বিনা বিচারে আটকও রাখা হয়। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রুজু করা হয়।

    সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে এলাহাবাদ হাইকোর্ট আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আনা মামলা বাতিল করার নির্দেশ দেন। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ এনএসএতে আনা মামলা খারিজ করে জানান, আকৃতিকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর একটাও পুলিশ প্রমাণ করতে পারেনি। এমন কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি যাতে প্রমাণিত হয় তিনি শ্রমিকদের সহিংস আচরণে প্ররোচনা জুগিয়েছেন। তা ছাড়া দেখা যাচ্ছে, শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হওয়ার আগেই আকৃতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দুই বিচারপতি তাঁদের রায়ে জেলা শাসিকা মেধা রুপমের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেছেন, সংবিধানের প্রতি অনুগত না থেকে তিনি রাজনৈতিক প্রশাসনের কাছে অনুগত থাকতে চেয়েছেন। দৃষ্টান্ত স্থাপনের তাগিদে তাই তিনি আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছেন। বিচারপতিরা বলেন, পুলিশ ও আমলাদের মনে রাখা উচিত তাঁরা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ। অন্য কারও প্রতি নন। তাঁদের এমন আচরণ করা উচিত নয় যাতে মনে হয় যে তাঁরা ব্রিটিশ আমলের মতো দমনপীড়নের বাহকে পরিণত হয়েছেন।

    বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৯৮৪’–এর উল্লেখ করে বিচারপতিরা কড়া ভাষায় বলেছেন, এভাবে চললে উত্তর প্রদেশ ক্রমেই ‘অরওয়েলীয় দুঃসহ সমাজব্যবস্থায়’ পরিণত হবে। রাজ্যটা পরিণত হবে ‘সম্পূর্ণভাবে জীবনগ্রাসী রাষ্ট্রে’।

    শুধু এনএসএতে আনা মামলা খারিজ করেই বিচারপতিরা ক্ষান্ত হননি, আকৃতিকে তাঁরা ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জেলা শাসিকা মেধা রুপম মতপ্রকাশের অধিকারে বাধা সৃষ্টি করে তাঁর সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছেন। একই অপরাধ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আকৃতিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে ৫ লাখ রুপি দেওয়া হবে, তা মেধা ও অন্য কর্মকর্তাদের বেতন থেকে কাটতে হবে। জরিমানার অর্থ রাষ্ট্র দেবে না। সেই সঙ্গে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ মেধার কর্মজীবনের রিপোর্ট ও রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধা দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। জাতীয় স্তরের সাবেক শুটারও ছিলেন তিনি। তিনিই নয়ডার প্রথম নারী জেলা শাসক। বাবার মতো তিনিও বিতর্কে জড়ালেন। আইন অনুযায়ী জ্ঞানেশ কুমার আইন আদালতের ঊর্ধ্বে হলেও কন্যা মেধা আদালতের রোষ থেকে বাঁচতে পারলেন না। বরং এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় তাঁর কর্মজীবনের রেকর্ডভুক্ত হয়ে রইল।

  • ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি কি গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

    ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি কি গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

    ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সাম্প্রতিক চুক্তি দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করেছে, আবার একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। এক নিবন্ধে লেখক মিরজানা পেরিচের মূল প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে হওয়া তেল চুক্তি কি অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বিনিময়ে গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে?

    ৩১ আগস্ট ঘোষিত চুক্তিটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এর প্রধান লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ ওয়াশিংটনের কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    চুক্তির আওতায় নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স বা এনএবিইপি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুদের সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ আসতে পারে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সরকার ওই যৌথ উদ্যোগে ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়েছে।

    চুক্তিটির সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হলো এর মেয়াদ। ওয়াশিংটনের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭টি তেলক্ষেত্রের অধিকার ১০০ বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর বলে দাবি করেছে। এই দুই বর্ণনার পার্থক্যই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়িয়েছে।

    চুক্তির সমর্থকদের যুক্তি, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও অব্যবস্থাপনায় ভেঙে পড়া ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনর্গঠনে বিদেশি পুঁজি, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা জরুরি। দেশটির তেল উৎপাদন ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। নতুন বিনিয়োগ এলে পরিশোধনাগার, পাইপলাইন ও উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠন সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুলতে পারে।

    কিন্তু সমালোচনার জায়গাটিও গুরুতর। অভিযোগ উঠেছে, এত বড় একটি জাতীয় সম্পদ-সম্পর্কিত চুক্তি যথেষ্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি এবং ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজের মতো সমালোচকেরা মনে করেন, দেশটির সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্র বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিষদের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

    তেল চুক্তির সঙ্গে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নটি জড়িয়ে আছে নির্বাচন নিয়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ওয়াশিংটন বলেছে, ভেনেজুয়েলায় শেষ পর্যন্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। রদ্রিগেজও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন যদি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের চেয়ে তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে মাদুরো-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তরে না গিয়ে বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামোর নতুন সংস্করণে পরিণত হতে পারে। অর্থাৎ সরকার বদলালেও প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার, স্বাধীন নির্বাচন ও রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে।

    অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য হলো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া গণতান্ত্রিক রূপান্তর টেকসই হবে না। ওয়াশিংটনের যুক্তি অনুযায়ী, প্রথমে অর্থনীতি ও তেলশিল্পকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, এরপর এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে একটি কার্যকর নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্ভব হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা তেল চুক্তিকে তাই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং তার পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

    তবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিকদের একটি অংশ এই যুক্তি মানতে নারাজ। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেছেন, তেলশিল্পে বিনিয়োগের জন্য একটি ‘গুরুতর ও গণতান্ত্রিক সরকার’ প্রয়োজন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এখানে ভেনেজুয়েলার পুরোনো রাজনৈতিক ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দশকে তেল দেশটির অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রধান হাতিয়ারও হয়েছে। হুগো শাভেজ ও নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে ছিল। ফলে তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক আসলে শুধু অর্থনীতির প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্নও।

    নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ তাই ভেনেজুয়েলার জন্য একদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা, অন্যদিকে সার্বভৌমত্ব ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এপি জানিয়েছে, কিছু ভেনেজুয়েলান মনে করছেন মার্কিন অংশীদারিত্ব অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে পারে; আবার অনেকে এটিকে জাতীয় সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তেল কি গণতন্ত্রের পথ খুলবে, নাকি গণতন্ত্রের জায়গা দখল করবে? যদি নতুন বিনিয়োগ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে, কর্মসংস্থান বাড়ায় এবং একই সঙ্গে স্বাধীন নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক জবাবদিহির পথ তৈরি করে, তাহলে চুক্তিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি হতে পারে। কিন্তু যদি তেল উৎপাদন ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থই অগ্রাধিকার পায় এবং নির্বাচন অনির্দিষ্টকাল পিছিয়ে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের আড়ালে নতুন এক ক্ষমতাকাঠামো স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

    ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি তেল চুক্তির গল্প নয়। এটি অর্থনীতি, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্যকার সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটির সাফল্য শুধু কত ব্যারেল তেল উৎপাদন হলো তা দিয়ে মাপা হবে না; বরং ভেনেজুয়েলার জনগণ তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণের সুযোগ পেল কি না—সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।

  • উপকূলে ছত্রাক প্রভাবে বিপন্ন নারকেল

    উপকূলে ছত্রাক প্রভাবে বিপন্ন নারকেল

    একসময় উপকূলীয় জনপদের বাড়ির উঠান, বাগান, সড়কের পাশ ও মাছের ঘেরের পাড়জুড়ে ছিল সারি সারি নারকেলগাছ। বাগেরহাটের ফকিরহাট ছিল নারকেল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা। কিন্তু রোগ-পোকা, ছত্রাক, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের অভিঘাতে কমছে গাছের ফলন। একই সঙ্গে কাঁচা ডাব হিসেবে অধিকাংশ নারকেল বিক্রি হয়ে যাওয়ায় পরিপক্ব নারকেলের সংকটও তীব্র হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ফকিরহাটে নারকেল উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে ৪ হাজার ৫০ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার টনে নেমেছে। এক দশকে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। তবে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই দশকে অনেক গাছে ফলন কমেছে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
    সম্প্রতি ফকিরহাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির বাগান, মাছের ঘের ও সড়কের পাশে এখনও অসংখ্য নারকেলগাছ রয়েছে। তবে অনেক গাছেই পাতায় কালো দাগ ও সাদা আবরণ দেখা যাচ্ছে। কমে গেছে পাতার সংখ্যাও। ফলে গাছ থাকলেও আগের মতো ফলন হচ্ছে না।

    কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বাগেরহাটে রুগোজ স্পাইরালিং হোয়াইটফ্লাইয়ের ব্যাপক সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২১-২২ সালের এক গবেষণায় জেলার প্রায় ৯৭ শতাংশ নারকেলগাছ এ পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। পোকাটি পাতায় সাদা আবরণ তৈরি করে এবং পরে কালো ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হতে সহায়তা করে। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
    ফকিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল হোসেন বলেন, একটি সুস্থ নারকেলগাছে সাধারণত প্রায় ৩৬টি পাতা থাকে। অথচ অনেক গাছে এখন মাত্র ১৫-২০টি পাতা রয়েছে।
    কৃষক জিন্নাত শেখ বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকেই নারকেলের উৎপাদন কমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আইলা, আম্পান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং রোগ-পোকার আক্রমণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    প্রায় ২০০টি নারকেলগাছ রয়েছে জিন্নাত শেখের। তাঁর ভাষ্য, সাত-আট বছর আগে এসব গাছ থেকে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হতো। এখন আয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকায়।
    ফলন কমার প্রভাব পড়েছে ফকিরহাটের ঐতিহ্যবাহী নারকেল বাজারে। স্থানীয় পাইকারদের মতে, একসময় প্রতি রবি ও বুধবার বাজারে লাখ লাখ নারকেল কেনাবেচা হতো। এখন বেচাকেনা সীমিত হয়ে এসেছে মাত্র দুই গলিতে।
    পাইকার নিত্যানন্দ দাস, আলী শেখ ও শেখ হাফিজুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগেও একজন ব্যবসায়ী দিনে ৮-১০ হাজার নারকেল কিনতেন। এখন তাঁরা কিনছেন মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার।
    দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। পাঁচ-ছয় বছর আগে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া একটি নারকেলের দাম এখন আকারভেদে ১৩০-১৬০ টাকা।

    নারকেলের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিল্পেও। গ্র্যান্ড অটো নারকেল তেল মিলের মালিক স্বপন কুমার বসু বলেন, ২০০৩ সালের দিকে বাগেরহাটে প্রায় ১০৯টি নারকেল তেল মিল ছিল। কাঁচামালের সংকটে এর মধ্যে শতাধিক বন্ধ হয়ে গেছে।

    তাঁর দাবি, উৎপাদিত নারকেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন কাঁচা ডাব হিসেবে বিক্রি হয়। কোভিড-১৯ মহামারি ও ডেঙ্গুর সময় ডাবের চাহিদা বাড়ায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই নারকেল বিক্রির প্রবণতা আরও বেড়েছে।
    নারকেলের সংকট শুধু কৃষি ও বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতেও।
    গৃহিণী বিশাখা দাস বলেন, আগে নারকেলের দুধ দিয়ে ডিমের কোরমা ও মাছ রান্না করা হতো। কোরানো নারকেল দিয়ে তৈরি হতো চিংড়ির বড়া, পাটুরি, নাড়ু, পুলি ও ভাপা পিঠা। এখন নারকেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎসব ছাড়া এসব খাবার তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারকেলগাছে রোগ-পোকা দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তবে কৃষি অফিসের লজিস্টিক সহায়তা সীমিত। গত বছর ৩০ জন গাছি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এ বছর ৮০০ কৃষককে নারকেলের চারা দেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতাহার হোসেন বলেন, গাছের বয়স, সুষম সার ব্যবহারের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাদামাছির আক্রমণ নারকেল উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ।
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাইনুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে পোকামাকড় ও ছত্রাকজনিত রোগ নারকেল উৎপাদনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

  • যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বিশ্বের ওপর দায় চাপাচ্ছে: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বিশ্বের ওপর দায় চাপাচ্ছে: ইরান

    ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের প্রভাবের দায় যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরো বিশ্বের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    বাঘাই বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে, ট্যাংকার চলাচল থেমেছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন নিজেদের তৈরি সংকটের দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করলেও অর্থনৈতিক মূল্য পুরো বিশ্বকে দিতে হচ্ছে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছে কিন্তু এখন সেই যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পুরো বিশ্বকে পরিশোধ করতে হবে-এটা একেবারে অযৌক্তিক।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দামসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

  • ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

    ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

    বর্তমান সরকারের একটি বড় উদ্যোগ কৃষক কার্ড। গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এবার কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।ওইদিন একই সঙ্গে ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। সারাদেশের এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    কৃষক কার্ড কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং কৃষিসেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।এর আগে প্রি-পাইলটিংয়ে প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১১টি ব্লকে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনার হচ্ছে।

    এসব পর্যায়ে ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে জানা গেছে, মূল পর্বে কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড। কার্ডধারী কৃষকদের শনাক্ত করতে ও তাদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত হচ্ছে। ফলে কার্ড স্ক্যান করলেই কার্ডধারী কৃষককে সহজে শনাক্ত করা যাবে।

    এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন প্রায় এক লাখ কৃষকের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যাবে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হয়েছে। কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুবিধা পান।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প নামে পরিচিত।

    পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। নিবন্ধিত কৃষকদের প্রায় ৯৬ শতাংশ জমিতে ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্য চাষ করেন দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালন করেন প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লবণচাষি রয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন, যা মোট নিবন্ধিত কৃষকের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

    জমির মালিকানার হিসাবে নিবন্ধিত কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতক। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ শতক জমির মালিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৮ শতাংশ। ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক মাঝারি কৃষক রয়েছেন ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক বড় কৃষক রয়েছেন শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

    এছাড়া চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, দেশে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বাকি কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

  • বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্য পরিবেশ আরও সহজ করার প্রত্যয় নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

    সোমবার রাজধানীতে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতের অংশীদারত্ব এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো উদ্যোগে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা গেলে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

    জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে এফএসআরইউ সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। স্বল্প সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা উপস্থাপন তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

    আমদানি নীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন নীতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে কিছু ধারা আরও ব্যবসাবান্ধব করা সম্ভব। এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আমদানি নীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাজার ও অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কৌশলগত সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের পুরনো বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার পথ তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরেছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে।

    জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গানভর’-এর সঙ্গে চুক্তিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।

    বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক চিফ এঞ্জেলো পালাজ্জেলো উপস্থিত ছিলেন।

    উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নিয়মিত এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

  • একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য গত ছয় দিনে ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ ৩,৯২৫ কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের জন্য গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের আজ সোমবার থেকে টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্য পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় জামানত ছাড়াই ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়। এতে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।

    ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।

    গত ২৫ আগস্ট সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না এমন ঘোষণা দেন গভর্নর। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলেও জানানো হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত গ্রাহকদের আবেদন নেন।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমানত ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাইয়ের করেই তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাওয়া গেছে।

    মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয়

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না।

    কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে ওই গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে টাকা ফেরতের আগে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।

    যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙলে মূল টাকা পাওয়া গেলেও ওই অর্থের ওপর মুনাফা পাওয়া যাবে না। আংশিক টাকা তুললে অবশিষ্ট অর্থের ওপর প্রযোজ্য নিয়মে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যেন অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমানতকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে যাদের তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী দিনগুলোতে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সবাই যদি একই সময়ে টাকা তুলতে ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হন, তাহলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে টাকা উত্তোলনের জন্য আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

    রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

    রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০ জুনের হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

    সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং ব্যাংকভিত্তিক হিসাব জানতে চান।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক—অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি ও সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

    ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংক পিএলসিতে ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংক পিএলসিতেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

    দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

    বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত, ২০২৬ সালে কত ছিল এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?’

    জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

    সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

    এদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ হাজার টাকা।

    এ বিষয়ে গত ৩০ জুনের হিসাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিএর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ হাজার কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ হাজার টাকা।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    গ্রাহকের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরো সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে (ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একইসাথে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে অধিকতর সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে।

    এসব শাখার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসির ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১০৫টি শাখা রয়েছে। এছাড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এর আওতায় রয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরো দু’টি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি আরো বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

  • জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%

    জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%

    চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৬৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫০ শতাংশ কম। এছাড়া শুধু জুলাই মাসেই দেশটিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। বাংলাদেশের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির এই পরিসংখ্যান পোশাকশিল্পের জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি মূল্য ছিল ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ২০ শতাংশের বেশি।

    মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্যমতে, বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৪১.৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ে দেশটির আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯.৪১ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ০.৮৪ শতাংশ।

    ওটেক্সার তথ্যমতে, বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যা গত বছরে ছিল ৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে গত বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ যেখানে ১.৫৯ বিলিয়ন এসএমই (স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট) পোশাক রপ্তানি করেছিল, ২০২৬ সালের একই সময়ে সেটি ৪.৩৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫২ বিলিয়ন এসএমইতে। আর ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের গড় দাম ছিল ৩.১২ মার্কিন ডলার, যা ২০২৬ সালের একই সময়ে ২.২৬ শতাংশ কমে ৩.০৫ মার্কিন ডলারে নেমেছে।

    এই সময়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনের রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতের ২৫.৭৭ শতাংশ। এছাড়া পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের যথাক্রমে ৫.৬০ শতাংশ ও ১.০৩ শতাংশ কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২.৭৬ শতাংশ ও ১০.৪৮ শতাংশ।

    এই সময়ে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে পোশাকের ইউনিট মূল্যে। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে ইউনিট মূল্য কমারও প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন রপ্তানিকারকরা। চলমান গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির গতি কেমন থাকবে সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তারা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রেতাদের অর্ডার, পণ্যের মূল্য এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সরবরাহ সক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, রপ্তানি কম হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারেই এখন অর্ডার কম, রপ্তানিও কমেছে। বিশেষ করে আমেরিকার বাজারটা আমাদের জন্য প্রায় এক বছর ধরেই একটা অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ছিল। এর অন্যতম কারণ, ট্রাম্পের ট্যারিফ এবং এরপর নতুন করে যে সিদ্ধান্তগুলো এসেছে সেগুলো। এসব কারণে একটা অননুমেয় ও অনিশ্চিত সময় যাচ্ছিল। এ কারণেই ইউএস মার্কেটে মোট রপ্তানি কমেছে।

    মোহাম্মদ হাতেম আরো বলেন, তবে সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি নিয়ে আশার জায়গা হলোÑযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে নতুন চুক্তির সেখানে একটা ক্লজ আছেÑইউএসের মেটারিয়াল দ্বারা তৈরি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘ডিউটি ফ্রি এক্সেস’ পাবে। এই সুযোগটা যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তাহলে সেখানে আমাদের রপ্তানিটা বেড়ে যাবে।

  • অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    অর্থের অভাবে দেশের বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নকাজ ধীরগতিতে চলছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রাথমিকভাবে ৫,০০০ কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং পরবর্তী সময়ে চাহিদা ও প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনায় এর আকার ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিইজেডএবি)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই বিশেষ তহবিল চালুর দাবি জানান পিইজেডএবির প্রেসিডেন্ট এএসএম মাঈনুদ্দিন মোনেম। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে শুরুতেই বিশাল অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়, অথচ কারখানা চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে নগদ প্রবাহ তৈরি হয়। উচ্চ সুদের স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ওপর নির্ভর করায় অবকাঠামোর ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যোগ্য ডেভেলপারদের জন্য ঋণে সুদের হার সর্বোচ্চ ৪.৫০ শতাংশে সীমিত রাখা এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ বছর (বড় ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত বিবেচনাযোগ্য) এবং রেয়াতকাল ৪ বছর ধরা হয়েছে।

    পিইজেডএবি জানিয়েছে, সরকারি প্রকল্পগুলো নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও বাজেট বরাদ্দ পেলেও বেসরকারি উদ্যোক্তারা মূলত নিজস্ব মূলধন ও বাণিজ্যিক ঋণের ওপর ভর করে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলেন। প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ঋণ এবং কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ডেভেলপারের নিজস্ব মূলধন রাখার কথা বলা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত তহবিল থেকে ভূমি উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক, ড্রেনেজ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, এসটিপি, সিইটিপি, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অগ্নিনিরাপত্তা এবং আইটি লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করা যাবে।

    তহবিলের অপব্যবহার রোধে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কঠোর মূল্যায়ন, তদারকি এবং ভৌত অগ্রগতির ভিত্তিতে কিস্তিতে অর্থ ছাড় করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। যেসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    পিইজেডএবি আশাবাদী, এই উদ্যোগ সরকারের ওপর কোনো বাড়তি বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি করবে না, বরং এটি দ্রুত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে দ্রুত একটি বৈঠকের আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

    প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পিইজেডএবি) উপদেষ্টা মো. আব্দুল কাদের খান আমার দেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে ১৩টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল লাইসেন্স পেয়েছে এবং আরো কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। আগামীতে আরো প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিত শিল্প ও অবকাঠামো পুরোপুরি চালু হলে ৭ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, বর্তমানে আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল, বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড, কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইস্ট-ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন এবং হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চালু রয়েছে। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড, কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড এবং পূর্বগাঁও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নাধীন রয়েছে। আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ চালু থাকা কয়েকটি অঞ্চলেও পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। সিটিগ্রুপসহ বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ বেসরকারি ইকোনমিক জোনে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে এখন অর্থ সংকটে পড়েছে।

    সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) ও হাই-টেক পার্কগুলোর মূল লক্ষ্য এক হলেও অর্থায়ন মডেলে রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। সরকারি প্রকল্পগুলো রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, বাজেট বরাদ্দ ও সহজ শর্তের ঋণ সুবিধা পেলেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয় নিজস্ব মূলধন ও চড়া সুদের বাণিজ্যিক ঋণের মাধ্যমে। ফলে একই জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে কাজ করেও বেসরকারি ডেভেলপাররা কাঠামোগত অর্থায়নে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পিইজেডএবি) প্রেসিডেন্ট এএসএম মাঈনুদ্দিন মোনেম। এজন্য এই তহবিলের আবেদন করেছে সংগঠনটি।

  • বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এক বছরে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে পারবেন।

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণ কোটার সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত সীমার ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে।

    এদিকে নগদ মার্কিন ডলার নোট নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ভ্রমণ কোটার আওতায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ নিতে পারবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং অন্যান্য অনুমোদিত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে বাড়তি সুযোগ তৈরি হলো।

  • কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখ কৃষক: অর্থমন্ত্রী

    কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখ কৃষক: অর্থমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণকারী ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী এসব কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করে তাদের কাছে ব্যাংকের প্রাপ্য এক হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে।’অর্থমন্ত্রী জানান, এ ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের সব উপজেলার কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন।

    এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় করদাতার সংখ্যা সম্পর্কিত অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলাটিতে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন।

  • অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্ক ফোর্স গঠন করল ইরান

    অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্ক ফোর্স গঠন করল ইরান

    চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট আর্থিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে ইরান । দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম একথা জানিয়েছে।

    অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই টাস্ক ফোর্সের উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে সমন্বয় ও গতি আনা।

    ইরানে অর্থনীতি উপমন্ত্রী মুর্তজা জামানিয়ান বলেছেন, ব্যবসা, বাণিজ্য, অর্থায়ন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

    জামানিয়ান জানান, প্রাথমিকভাবে টাস্কফোর্সটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দায়িত্ব ও এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, অর্থায়নসহ অর্থনীতির অন্যান্য খাতে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তবে কিছু সমস্যা মন্ত্রণালয়ের একক এখতিয়ারের বাইরে চলে যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেসব ক্ষেত্রে সরকারের বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কাজে লাগানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক কমিশন ও অর্থনৈতিক সদর দপ্তর। এসব কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

    একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন—এমন কোনো সমস্যা যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করাও টাস্কফোর্সটির অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক সংকট দ্রুত মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। তেহরানকে আরো বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।