কৃষি

  • অতিবৃষ্টির ভোগান্তি, আমন আবাদে ব্যস্ত কৃষকরা

    অতিবৃষ্টির ভোগান্তি, আমন আবাদে ব্যস্ত কৃষকরা

    ভোলার লালমোহন উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানি, কোথাও বীজতলার চারা নষ্ট হওয়া, আবার কোথাও অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমন আবাদে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। যার ফলে এবারের আমান আবাদ কিছুটা দেরিতে হচ্ছে। তবে এ সব বিপত্তি পেরিয়ে বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে অনেকগুলো কালভার্ট বন্ধ হয়ে গেছে। যার জন্য আমনের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফসলের মাঠের পানি অপসারণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় জমিতে পানি থাকায় আবাদে দেরি হয়েছে। তবে শুরুতেই আমাদের অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন বীজধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যার জন্য বৃষ্টিতে কিছু কিছু বীজতলা নষ্ট হলেও কৃষকদের চারার জন্য তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ শেষ হয়েছে। এছাড়া আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বাকি জমিগুলোতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন।’

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, লালমোহন উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ২৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী ও স্বর্ণা জাতসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ধান ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে, স্থানীয় জাতের রোপা আমন ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে এবং নতুন হাইব্রিড-৪ জাতের ধান ২০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে আমন আবাদে শুরুতে কিছুটা বিপাকে পড়লেও এখন মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।

    চরভূতা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ এলাকার কৃষক মো. বেলাল বলেন, ‘এ বছর প্রায় ১৮৮ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এরই মধ্যে কিছু জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছি। অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় কিছুটা দেরি হয়েছে। বৃষ্টিতে প্রথম দফায় বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আবার নতুন করে চারা তৈরি করতে হয়েছে। ধানের চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমিতে রোপণ শেষ করা পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হবে।’

    ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালিরটেক এলাকার কৃষক মো. আবু তাহের এবার ৩৬০ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করবেন।

    তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিতে বীজতলার কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে আশা করছি তা কাটিয়ে উঠতে পারবো। জমিতে চাষ দেওয়া শেষ করে চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছি। বীজতলায় চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমি প্রস্তুত করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমনের ভালো ফলন পাওয়া যাবে।’

  • জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলছে পাটকাঠির কেনাবেচা। মাঠ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মোকাম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পানের বরজ, ঘরের বেড়া, কৃষিকাজে মাচা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পাটকাঠি। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পাটকাঠি থেকে চারকোল ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারণে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বেড়েছে।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে রাখছেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা কৃষকের বাড়ি কিংবা নির্দিষ্ট বাজার থেকে এসব পাটকাঠি কিনে নিচ্ছেন। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও কৃষকের হাতে আসছে বাড়তি টাকা।

    বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় পাটচাষি আলিম বলেন, ‘আগে পাটকাঠি তেমন একটা দাম পেতাম না। অনেক সময় জমিতেই পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাটের সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যাচ্ছে, এতে কৃষকের উপকার হচ্ছে।’

    একই ইউনিয়নের আরেক পাটচাষি আবু সেখ বলেন, ‘পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। পাটের দাম প্রত্যাশা মতো না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই এখন আমরা পাটকাঠি ফেলে না রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করি।’

    শুধু কৃষকই নন, পাটকাঠির বাণিজ্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি সংগ্রহ করে তা পাইকারি ক্রেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন।

    ঝিনাইদহ থেকে আগত পাটকাঠি ব্যবসায়ী মো. হাচান মোল্লা বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন পাটকাঠির চাহিদা অনেক বেশি। কৃষকদের কাছ থেকে কিনে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করি। চাহিদা থাকায় এ ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন।’আরেক ব্যবসায়ী রমজান বিশ্বাস বলেন, ‘পাটকাঠির ক্রেতা এখন শুধু স্থানীয় মানুষ নন। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীরাও পাটকাঠি কিনছেন। তাই মৌসুমে আমরা কৃষকদের একশত পাটের আটি ৩০০-৪০০ দরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাটকাঠি সংগ্রহের চেষ্টা করি।’

    স্থানীয় ক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘পাটকাঠি আগে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন এর নানা ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন , ‘পাটকাঠির বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে কৃষকেরা পাটের পাশাপাশি এর উপজাত থেকেও ভালো আয় করতে পারবেন। এতে পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, ‘পাটকাঠিকে আর বর্জ্য বা ফেলনা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও শিল্পে ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। ফরিদপুরে ইতোমধ্যে পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধির সেই সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে।’

  • ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। এরপর পুলিশ, বিজিবি ও আনসান সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে কৃষকেরা জানতে পারেন, ওই দিন সার বিতরণের কথা নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ পুলিশ ও সোনাহাট ক্যাম্পের বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার বিতরণের আশ্বাসে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

    মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হয়রত আলী বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ৯০ বস্তা এমওপি সার উত্তোলন করেছি। বুধবার আমাদের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। হঠাৎ শতাধিক কৃষক বিক্ষুব্ধ আচরণ করলে প্রশাসনের সহায়তায় সার বিতরণ করা হয়।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, বুধবার রাকিবুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের দিন নির্ধারিত ছিল না। সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জনার্দন ট্রেডার্সে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণের কথা ছিল। তবে কৃষকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার বিতরণ করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।

  • নবীনগরে জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ

    নবীনগরে জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বর্ষাকালে জলাবদ্ধ ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বছরের ৪-৫ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকা জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্ভব না হলেও আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। পানিতে ডুবে থাকা জমিকে আর অনাবাদি না রেখে সেখানে উৎপাদনমুখী কৃষির সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ।

    হাওর ও জলাভূমি অধ্যুষিত নবীনগর উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষি জমি বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকে। বছরের অন্যান্য সময়ে এ সব জমিতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হলেও বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। ফলে দীর্ঘদিন যাবত কৃষকদের জন্য এটি ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জলাবদ্ধ জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    উপজেলার ইব্রাহিমপুর, নাটঘর, রছুল্লাবাদ, বড়িকান্দি, সলিমগঞ্জ, নবীনগর পূর্ব ও সাতমোড়া এলাকায় গত দুই বছর ধরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি আবাদ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চলমান ফ্রিপ এবং কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের দেওয়া হয়েছে সরকারি সহায়তা। পাশাপাশি দুই শতাধিক কৃষককে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে বাঁশের তৈরি কাঠামোর ওপর মাঁচা নির্মাণ করে সেখানে লতা জাতীয় বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। লাউ, চালকুমড়া, শসা ও করলাসহ বিভিন্ন সবজি এ পদ্ধতিতে ভাল ফলন দেয়। বর্ষাকালে স্বাভাবিক ভাবে যখন বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যায়- তখন ভাসমান পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারেন। বর্ষা শেষ হলে ঐ কাঠামো দিয়ে পুনরায় জমিতে সবজি আবাদ করা যায়, এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় পরবর্তীতে অনেক কমে যায়।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতায়, এ পদ্ধতিতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম এবং আলাদা করে সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলে জলাবদ্ধ ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভাসমান এ চাষাবাদ পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার এবং বালাইনাশকের ব্যবহার কম হওয়াতে খেতেও দারুন সুস্বাদু।

    ইব্রাহিমপুর গ্রামেরর মধ্য পাড়ার কৃষক ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ দুই বছর ধরে আবাদ করছি, আগে বছরে ২-৩ মাস সবজি আবাদ করার সুযোগ ছিল না। আমাকে দেখে এলাকার আরো অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছে।’

    ইব্রাহিমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রবাস ফেরত সুজন গত বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমবারের মত ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে লাউয়ের আবাদ করেছেন ২৫ শতাংশ জমিতে। প্রথমে ইউটিউবে এ ধরনের আবাদ দেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করেন। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কলমি শাক, শসা ও লাউচাষ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘উৎপাদন ভাল হওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এ পদ্ধতির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।’

    রছুল্লাবাদ ইউনিয়নের কৃষক এমরান ২০ শতক জমিতে লাউ ও চালকুমড়া চাষ করেছেন। তার নিকট বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকা জমিতে সবজি উৎপাদন একসময় স্বপ্নের মত মনে হলেও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সেটি এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে ১৫ শতাংশ জমিতে লাউয়ের আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন।

    আরো দুই মাস লাউ উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানান।

    নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘নবীনগরে প্রথমবারের মতো ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করা হয়েছে। কৃষকদের হাতে-কলমে এ প্রযুক্তিটি শেখাতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রদর্শনী স্থাপন, ভাসমান কাঠামো তৈরি, বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভাসমান পদ্ধতিতে চাষ নিরাপদ কৃষি উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। জলাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত জমি ব্যবহার করে কম খরচে সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। বিশেষ করে লতাজাতীয় সবজির ফলনও এ পদ্ধতিতে ভালো হয়। ভবিষ্যতে নবীনগরের জলাবদ্ধ এলাকা গুলোতে এ প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। নবীনগরের জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ শুধু কৃষকদের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করছে না, বরং বর্ষাকালে নিরাপদ সবজি উৎপাদন, পতিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সনাতনী কৃষি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যমী কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর তার ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামের এক সমন্বিত কৃষি খামার। সেখানে ফল চাষের পাশাপাশি দুম্বা, ভেড়া, ছাগল ও গরুর ডেইরি খামার থাকলেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে ১০ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকা হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে এ চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে এখন ঝুলছে আট-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটি সদৃশ ভ্যানিলা ফল।

    কৃষক হুমায়ুন জানান, এ পর্যন্ত তার প্রায় নয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এ বছরই সা-আট লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এটি উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি প্রমাণ করেছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মূল্যায়ন
    উচ্চমূল্যের এই ফসলটি দেশে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপক চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। সঠিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে, যা বৈচিত্র্যময় কৃষিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।’

    হুমায়ুনের এমন বৈচিত্র্যময় সাফল্য স্থানীয় তরুণদের সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক ও আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

  • মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পিছনের মাঠে কৃষিকাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন শৌলখালী গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)।

    মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: হাবিবুল্লাহ জানান, নিহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কিছু আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন স্ত্রী লিপা খাতুনও। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে নিজের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাসির উদ্দীন আলুকদিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

    এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

    দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, পৃথক এসব ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • খেত খামার

    খেত খামার

    রাজারহাটে পানির অভাবে পাট পচানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

    রাজারহাট উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ধান, ভুট্টা কিংবা অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট উৎপাদনে পরিশ্রম ও ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে পাট কাটার পর পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকলে কৃষকের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এতে পাটের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ে উৎপাদন ব্যয়।

    এক সময় গ্রাম অঞ্চলে দেখা যেতো পাটের তৈরি দড়ি, বস্তা, টোপা, বাজারের ব্যাগসহ গ্রামীণ বাড়িঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র । কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। শহর-গ্রাম সব জায়গায় এখন প্লাস্টিকের দাপটে দিনে দিনে কমছে পাটের উৎপাদন। পাটপণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়া সত্বেও এতে মানুষের আগ্রহ কমছে। বাড়ছে পরিবেশের ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার।

    কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৩,৬৫৩ হেক্টর, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উৎপাদিত জমির পরিমাণ ৫৬৫ হেক্টর, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৯৩ হেক্টর এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ২২৩ হেক্টর। গত তিন বছরে উৎপাদিত জমির পরিমাণ কমেছে ৩৪২ হেক্টর।

    বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যত্রতত্র প্লাস্টিকের ব্যবহার শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, এটি মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। বিভিন্ন পরিক্ষায়, মানুষের রক্তে এখন মাইক্রোপ্লাসটিক ধরা পড়ছে। যা ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

    কৃষি কর্মকর্তা সাথী বেগম‌ বলেন, ‘কৃষকরা দিন দিন পাট উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এর অন্যতম কারণ, উৎপাদনের তুলনায় লাভ কম হওয়া সেই সঙ্গে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার যা কিনা পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি করছে।’

    পাট চাষী শ্রী সুভাষ চন্দ্র রায়‌ বলেন, ‘পাট চাষের শুরুতেই জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, আগাছা দমন ও পরিচর্যায় খরচ হয়। এরপর পাট কাটতে শ্রমিক, আঁটি বাঁধা, বহন এবং জাগ দেওয়ার জন্য আবার বাড়তি খরচ করতে হয়। অথচ বাজারে পাটের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী না থাকলে পুরো হিসাবই এলোমেলো হয়ে যায়।’

    কৃষক নির্মলেন্দু বাবু বলেন, ‘পাট বিক্রি করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করা যায় না। মধ্যস্বত্বকারীরা মাঠে এসে কম দামে পাট কিনে নিয়ে যায়। পরবর্তী ধাপে একই পাটের দাম বাড়তে থাকে।’

    পাটপণ্য বিক্রেতা ছবর উদ্দিন বলেন, ‘বাবা আগত মুই পাট দিয়া দড়ি, গরুর টোপা, বস্তা, বাজারের ব্যাগ তৈরি করি বাজারত বিক্রি করছোং, কিন্তু এলা মানুষ এগলা না কিনিয়া প্লাস্টিকের জিনিস কিনে।’

    কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা পাট চাষে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। খরচের তুলনায় বাজার না থাকায় কিছুটা আগ্রহ কমছে তাদের।

    উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন, ‘এ বছরে পাট উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ঘন ঘন বৃষ্টি। বৃষ্টি আগাম হওয়ায়, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে হওয়ায় পাট কাটার পর জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম কারণও হতে পারে।’

  • সার-কীটনাশকের চড়া দাম, কৃষকের মাথায় হাত

    সার-কীটনাশকের চড়া দাম, কৃষকের মাথায় হাত

    মাঠের দিকে তাকালে বুক ভরে যায় শান্তিতে। সবুজ পাতায় হাওয়া খেলছে, ৪৫ দিনের লকলকে আমনখেত যেন সবুজের গালিচা। কিন্তু সেই সবুজ মাঠের ভেতরে নেমেই কৃষকের মুখে ফুটে উঠছে দুশ্চিন্তার ছাপ। কোথাও আগাছা পরিষ্কার করছেন কৃষক, কোথাও সার ছিটাচ্ছেন, আবার কোথাও মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন।

    পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকলেও উৎপাদন খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে দিশেহারা জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আমন চাষিরা। সেচ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়লেও ধানের বাজারদর তেমন বাড়েনি। ফলে ধান ঘরে তোলার পর লাভ কতটা থাকবে, তা নিয়েই শঙ্কায় কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ক্ষেতলালে ১০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। ১০-১৫ দিন আগেই শেষ হয়েছে আমনের চারা রোপণ। এখন চলছে খেত পরিচর্যার সময়।

    কৃষকেরা বলছেন, ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত খরচের এ চাপ আরও বাড়বে।

    কৃষি বিভাগের টাঙানো সরকারি মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) সারের নির্ধারিত দাম ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২৭ টাকা), টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২৭ টাকা), ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২১ টাকা) এবং এমওপি ১ হাজার টাকা (কেজিপ্রতি ২০ টাকা)।

    কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি, ১০ কেজি এমওপি ও ১ কেজি জিংক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে কৃষকদের কেউ কেউ বেশি ফলনের আশায় ইউরিয়া প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত ব্যবহার করছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের টাঙানো সরকারি মূল্যতালিকার দামে তারা সবসময় সার কিনতে পারছেন না।

    তাদের দাবি, প্রয়োজনের সময় নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় অনেক সময় ডিলার বা খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। ফলে সার বাবদ বিঘাপ্রতি তাদের খরচ হচ্ছে প্রায় ১০০০-১৫০০ টাকা। এর সঙ্গে কীটনাশকের খরচও যোগ হচ্ছে।

    কৃষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমি প্রস্তুত করতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, চারা ও রোপণে ৫০০ টাকা, সার বাবদ ১০০০-১৫০০ টাকা, কীটনাশকে ১ হাজার টাকা, আগাছা পরিষ্কারে ১০০ টাকা, সেচে ১ হাজার ২০০ টাকা, ধান কাটায় ৪ হাজার টাকা, মাড়াইয়ে ৬০০ টাকা এবং পরিবহনে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে জমি পত্তনের খরচ বাদে এক বিঘা আমন চাষে কৃষকের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ থেকে ১৪ হাজার ২০০ টাকা।

    তবে যারা জমি পত্তন নিয়ে আমন চাষ করছেন, তাদের খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

    কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন ফসলি জমি এক বছরের জন্য পত্তন নিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তিন ফসলের মধ্যে এক ফসলের আনুপাতিক পত্তন খরচ হিসাব করলে আমন মৌসুমে বিঘাপ্রতি প্রায় ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার ৬৭০ টাকা জমির পেছনে চলে যায়। ফলে পত্তনের খরচসহ এক বিঘা আমন চাষে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার ৭০০ থেকে ২৫ হাজার ৮৭০ টাকা।

    কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বিঘাপ্রতি আমনের ফলন ১৭ মণ হলে এবং প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হলে ধান থেকে আয় হবে ২২ হাজার ৯৫০ টাকা। এর সঙ্গে খড় বিক্রি করে আরও ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পাওয়া গেলে মোট আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা।

    নিজস্ব জমিতে কৃষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ১৩ হাজার ৭০০ থেকে ১৪ হাজার ২০০ টাকা খরচ হলে ধান ও খড় মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা আয় হতে পারে। সে হিসাবে খড়সহ সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত থাকতে পারে প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ থেকে ১৩ হাজার ২৫০ টাকা। তবে এ হিসাবের মধ্যে কৃষকের নিজের শ্রমের মূল্য এবং বাজারদরের ওঠানামা ধরা হয়নি।অন্যদিকে, পত্তন নেওয়া জমিতে একই ফলন ও বাজারদর ধরে হিসাব করলে চিত্রটি অনেকটাই বদলে যায়। পত্তনসহ মোট খরচ ২৩ হাজার ৭০০ থেকে ২৫ হাজার ৮৭০ টাকা হলে ধান ও খড় মিলিয়ে ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা আয়ের বিপরীতে উদ্বৃত্ত থাকতে পারে মাত্র প্রায় ৮০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা। এতে কৃষকের নিজের শ্রমের মূল্যসহ অন্যান্য অনির্ধারিত খরচ বাদ দিলে প্রকৃত লাভ আরও কমে যেতে পারে।

    ক্ষেতলালের আমন চাষি আইজুল বলেন, ‘ধানের ফলন ভালো দেখা গেলেও চাষের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সার, ওষুধ, জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ আর ধান কাটার খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। ১৭ মণ ধান পেয়ে বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে হাতে খুব একটা লাভ থাকে না। নিজের জমি হলে কিছুটা সাশ্রয় হয়, কিন্তু পত্তন নেওয়া জমিতে চাষ করলে লাভের সুযোগ আরও কমে যায়।’

    আরেক কৃষক সোবাহান বলেন, ‘বাজারে এখন ধানের যে দাম আছে, তা একেবারে খারাপ না। কিন্তু খরচের সঙ্গে মেলালে লাভ খুবই কম। সার ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ধান কাটার সময় আরও খরচ হবে। শেষ পর্যন্ত ধান বিক্রি করে ঘরে কত টাকা তুলতে পারব, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।’

    পত্তন নেওয়া জমিতে আমন চাষ করা কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এক বছরের জন্য তিন ফসলি জমি পত্তন নিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাগে। হিসাব করলে শুধু আমন ফসলের জন্যই প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার ৬০০ টাকা জমির পেছনে চলে যায়। এরপর সার, ওষুধ, সেচ, পরিচর্যা, ধান কাটা-মাড়াই ও পরিবহনের খরচ তো আছেই। ধানের ভালো দাম না পেলে আমাদের মতো পত্তন নেওয়া কৃষকদের টিকে থাকা কঠিন।’ক্ষেতলালের কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সারের নির্ধারিত সরকারি মূল্য বাস্তবে কার্যকর করা এবং কৃষকের প্রয়োজনের সময় সঠিক দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর তদারকি চান তারা।

    এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘কৃষকেরা মনে করেন, বেশি সার দিলেই বেশি ধান হবে। অথচ অতিরিক্ত সার ব্যবহারে শুধু উৎপাদন খরচই বাড়ে। আমরা মাঠে মাঠে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি। সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।’

    তবে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের আশ্বাসের পরও ক্ষেতলালের মাঠে কৃষকের দুশ্চিন্তা কাটেনি। সবুজে ভরা আমনখেত দেখে ফলনের আশা জাগলেও উৎপাদন খরচের চাপ সেই আশায় ফাটল ধরাচ্ছে। কৃষকের অপেক্ষা এখন একটাই ধান ঘরে তোলার সময় বাজারে ন্যায্য দাম মিলবে কি না।

  • পাঠ্যপুস্তক: রাজনৈতিক দলিল নয়, জাতি গঠনের নকশা

    পাঠ্যপুস্তক: রাজনৈতিক দলিল নয়, জাতি গঠনের নকশা

    উপসম্পাদকীয়

    একটি জাতির ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তার অনেকখানি নির্ধারিত হয় সেই জাতির শ্রেণিকক্ষের ভেতরে। আর শ্রেণিকক্ষের সবচেয়ে নীরব অথচ সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষক হলো পাঠ্যপুস্তক। পাঠ্যপুস্তক যদি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, তাহলে একটি আত্মবিশ্বাসী জাতি গড়ে ওঠে। আর যদি সেখানে বৈষম্য, সংকীর্ণতা কিংবা অযৌক্তিক সামাজিক ধারণার প্রতিফলন ঘটে, তবে সেই ক্ষতি বহু বছর ধরে সমাজকে বহন করতে হয়।

    একটি শিশুর কাছে পাঠ্যপুস্তকে যা লেখা থাকে, সেটিই অনেক সময় চূড়ান্ত সত্য। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদাবোধের ভিত্তি তৈরি হয় শৈশবেই। বিশ্বব্যাপী গবেষণাগুলো দেখিয়েছে, বিদ্যালয়ের পাঠ্যবস্তু, শিক্ষক এবং পরিবার—এই তিনটি উৎসই শিশুদের আত্মবিশ্বাস গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে পাঠ্যপুস্তক শুধু তথ্য নয়; এটি একটি মানসিক ও সামাজিক নির্মাণের উপকরণ।

    আজও আমাদের সমাজে রান্না, গৃহপরিচর্যা কিংবা পারিবারিক দায়িত্বকে অনেকেই নারীর একক কাজ হিসেবে ভাবেন। অথচ উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় এগুলোকে লাইফ স্কিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন ছেলে যেমন রান্না শিখবে, তেমনি একজন মেয়েও আর্থিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি বা নেতৃত্ব শিখবে। শিক্ষা যদি সমাজকে পরিবর্তন না করে, তবে সেই শিক্ষা শুধু পরীক্ষার খাতা পূরণের জন্যই রয়ে যায়।

    আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট পাঠ্যবই নয়, প্রণয়ন পদ্ধতিতে। আমাদের দেশে পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের আলোচনা প্রায়ই শুরু হয় বই ছাপার পর। অথচ প্রশ্ন হওয়া উচিত—বই লেখার আগেই কি পর্যাপ্ত গবেষণা হয়েছিল? বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জাতীয় পর্যায়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামতের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ থাকে। মাঠপর্যায়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা গবেষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক সময় নীতিনির্ধারণ পর্যন্ত পৌঁছায় না। ফলে যে কারিকুলাম সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নিখুঁত বলে মনে হয়, সেটি প্রত্যন্ত গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক কোনো অফিসকক্ষে বসে তৈরি হয় না; এটি তৈরি হয় শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষণার সম্মিলিত অভিজ্ঞতা থেকে।

    তাহলে কীভাবে হওয়া উচিত কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন? বাংলাদেশে পাঠ্যক্রম তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে। প্রথমেই যে শ্রেণির জন্য বই তৈরি হবে, সেই শ্রেণিতে পাঠদান করেন—এমন শহর ও গ্রামের অন্তত দুটি করে মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতামত সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে ওই বয়সের শিশুর মানসিক বিকাশ, ভাষাগত সক্ষমতা ও শেখার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন—এমন শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, ভাষাবিজ্ঞানী, বিষয়বিশেষজ্ঞ এবং কারিকুলাম গবেষকদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

    এরপর খসড়া পাঠ্যক্রম তৈরি করে সেটি বিভিন্ন গণমাধ্যম, শিক্ষা-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট এবং উন্মুক্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করতে হবে, যাতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ নাগরিক যুক্তিসংগত মতামত দেওয়ার সুযোগ পান।

    প্রথমে অন্তত এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক পাঠ্য করা উচিত। এ উদ্দেশ্যে জাতীয় অনলাইন কারিকুলাম ফিডব্যাক প্ল্যাটফর্ম চালু করা যেতে পারে, যেখানে নিবন্ধিত শিক্ষকরা নির্ধারিত ফরম্যাটে মতামত, সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাব জমা দেবেন। সেই মতামত বিশ্লেষণ করবেন গবেষক ও কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধন করে চূড়ান্ত পাঠ্যক্রম অনুমোদন দেওয়া হবে।

    বিশ্বের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থাগুলো দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—কারিকুলাম কখনো একদিনে তৈরি হয় না।

    ফিনল্যান্ডে জাতীয় মূল কাঠামো তৈরির পর স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যালয়গুলো নিজেদের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ্যক্রম অভিযোজিত করে। শিক্ষকরা শুধু বাস্তবায়নকারী নন; তারা কারিকুলাম উন্নয়নেরও অংশীদার।

    সিঙ্গাপুরে নতুন পাঠ্যক্রম চালুর আগে বহু বছর ধরে গবেষণা, পাইলটিং, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক এবং বিদ্যালয় একসঙ্গে কাজ করে।

    অস্ট্রেলিয়ান কারিকুলাম প্রণয়নের সময় খসড়া জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। হাজার হাজার শিক্ষক, গবেষক, অভিভাবক ও নাগরিকের মতামত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়।

    যুক্তরাজ্যেও জাতীয় কারিকুলাম সংশোধনের সময় ব্যাপক পরামর্শ, গবেষণা ও জনমত গ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

    এই দেশগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়—শিক্ষাব্যবস্থার স্থায়িত্ব আসে অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে, ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ থেকে নয়।একটি দেশের সরকার বদলাতে পারে। রাজনৈতিক দর্শনও পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু পাঠ্যপুস্তক এমন হওয়া উচিত নয়, যা প্রতি কয়েক বছর পরপর নতুন আদর্শের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীর প্রয়োজন স্থিতিশীলতা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান এবং নিরপেক্ষ ইতিহাস। কারণ শিক্ষা কোনো মন্ত্রণালয়ের একক সম্পদ নয়; শিক্ষা একটি জাতির সম্মিলিত বিবেক। আর সেই বিবেকের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল হওয়া উচিত আমাদের পাঠ্যপুস্তক।

  • দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি রেকর্ডিয় রাস্তা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদার বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝ বরাবর সরকারি রাস্তা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো: সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রামিম প্যাদা এবং শাহজাহান প্যাদার স্ত্রী ডেইজি বেগম সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি রাস্তার ওপর দেয়া বাঁশের বেড়া অপসারণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বিবাদী শাহজাহান প্যাদাকে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

    অভিযুক্ত শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই আমি রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। আমি অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের হাঁটার রাস্তার ব্যবস্থা করব, কিন্তু ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেবো না।’

    উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণ না করা হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পলাশ কুমার মণ্ডলের মুরগির খামারে তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি আছে। খামারে তিনি ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই ডিভাইসের মাধ্যমে তিনি খামারে না গিয়েও তাপমাত্রা, পানি, বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতি মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে একজন শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। উৎপাদন খরচ প্রতি মাসে কমেছে ১৪–১৫ হাজার টাকা।

    পলাশ কুমার যশোরের অভয়নগরের বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির পাশে জমি ইজারা নিয়ে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের লক্ষ্যে শেড নির্মাণ করেন। সেখানে তিন বছর ধরে ব্রয়লার মুরগি পালন করছেন। কিন্তু তাঁর জন্য এটা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। নিজের শ্রমঘণ্টা বেশি ব্যয় হচ্ছিল। যে কারণে তিনি তাঁর মৎস্য চাষে বেশি মনোনিবেশ করতে পারতেন না। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন কর্মীকে বেতন দিয়ে খামারে নিয়োজিত রাখতে হতো। ছয় মাস আগে তিনি খামারে আইওটি ডিভাইস সংযোজন করেছেন। এতে তাঁর নিজের কর্মঘণ্টা যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি একজন কর্মীর আর প্রয়োজন হচ্ছে না।

    পলাশ কুমার বলেন, ‘ছয় মাস আগেও আমার খামারে অতিরিক্ত একজন কর্মী রাখা লাগত। তাঁর বেতন দিতে হতো প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা। আইওটি ডিভাইস স্থাপনের পর থেকে বিদ্যুৎ বিল আসছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক খরচ কমেছে।’

    পলাশ কুমারের স্ত্রী বিথী মণ্ডল বেসরকারি সংস্থা নবলোক পরিষদের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির একটি সমিতির সদস্য। সংস্থাটি বিনা মূল্যে পলাশের খামারে ডিভাইসটি স্থাপন করে দিয়েছে। এ ডিভাইসের কারণে এলাকায় প্রান্তিক পোলট্রি খামারিদের কাছে পলাশ কুমার মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    সম্প্রতি বাগুটিয়া গ্রামে পলাশ কুমারের মুরগির খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতরে কিছু দূর পরপর পানির পাত্র ঝোলানো। সেই পাত্রের সঙ্গে পাইপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে ছাদের ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা। পাশে আইওটি ডিভাইস স্থাপন করা। সেই ডিভাইসের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া আছে। সেই সংযোগের মাধ্যমে মুঠোফোন থেকে অ্যাপসের সাহায্যে পলাশ কুমার খামার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

    বাগুটিয়া গ্রামের খামারি ফয়সাল সরদার এবং বিবাগদী গ্রামের মোহাম্মদ আনারুল মোল্লা আইওটি ডিভাইস সম্পর্কে পলাশ কুমারের কাছ থেকে ধারণা নিতে এসেছেন। ফয়সাল সরদার বলেন, আইওটি খরচ সাশ্রয়ের তেমনই একটি প্রযুক্তি। তবে এর জন্য সরকারকে বিনা মূল্যে বা কম খরচে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে।

    নবলোক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সদস্যদের মধ্য থেকে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের তিনজন উদ্যোক্তাকে প্রণোদনা হিসেবে আইওটি পোলট্রি প্রযুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পলাশ একজন।

    নবলোক পরিষদের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রসূন বিশ্বাস বলেন, পিকেএসএফের (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন) আর্থিক সহায়তায় এ প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রযুক্তিটির মধ্যে একটি সফটওয়্যার ডিভাইস, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। এই প্রযুক্তি স্থাপনে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

    স্থানীয় মুরগির খামারিদের ভাষ্য, সরকারকে প্রান্তিক খামারিদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে এ প্রযুক্তি সরবরাহ করতে হবে।

    অভয়নগরে ডিমপাড়া মুরগি ও মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির ৩০০টির বেশি খামার আছে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র পলাশ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এতে তিনি ভালোই ফল পাচ্ছেন।

  • সার মজুতের সরকারি হিসাবে গরমিল

    সার মজুতের সরকারি হিসাবে গরমিল

    দেশে সার মজুতের সরকারি হিসাব নিয়ে গরমিল দেখা দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব মজুতের মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত মজুত দেখানো হলেও গুদামে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার নেই। আবার কোথাও মজুতের হিসাব হালনাগাদ না করেই পুরোনো তথ্য দেখানো হচ্ছে। এতে সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

    বিশেষ করে বোরো ও আমন মৌসুমে কৃষকের চাহিদা বাড়ার সময়ে এ ধরনের হিসাবের গরমিল সংকটকে আরো প্রকট করে তুলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকৃত মজুত যাচাই করে দ্রুত হিসাব সমন্বয় না করা হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ডিলারদের অভিযোগ, কৃষি ও কৃষিকাজের আওতা বাড়লেও সারের বরাদ্দ বাড়েনি।কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছর এ সময় দেশে ইউরিয়ার সরকারি মজুত ছিল ১৪ লাখ ৬ হাজার ৯২৬ টন। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৩ হাজার ৩৯৯ টনে। অর্থাৎ এক বছরে ইউরিয়ার মজুত কমেছে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৫২৭ টন।

    একইভাবে, ডিএপির মজুত গত বছর ছিল ৪৩ হাজার ৩৪৩ টন। বর্তমানে তা কমে হয়েছে ৩৬ হাজার ৪০ টন। তবে টিএসপি ও এমওপি সারের মজুত কিছুটা বেড়েছে। গত বছর টিএসপির মজুত ছিল ২৬ হাজার ১২৩ টন, বর্তমানে তা ৩০ হাজার ২৬৫ টন। এমওপির মজুত ৫১ হাজার ৩৫ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৮ টন।

    এদিকে, সারের মজুতের এই পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ দাবি করেছেন, দেশে চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, কৃষকদের সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে এবং নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিবিড় মনিটরিং চলছে। অঞ্চল, জেলা ও গুদামভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় চাহিদার তুলনায় মজুত কমে গেলে অন্য গুদাম বা অঞ্চল থেকে সার সরবরাহ করে ঘাটতি সমন্বয় করা হবে।

    এদিকে, সার সংকটের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। দেশজুড়ে সার বিতরণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে একজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন সদস্য-পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ওসমান ভূঁইয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    তবে সরকারি মজুত কমে যাওয়া, ডিএপির বাড়তি চাহিদা, আগাম মজুতের প্রবণতা এবং খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, দেশে সত্যিই সারের সংকট নেই, নাকি মাঠপর্যায়ে সংকটের আগেই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম চাপ?

    এ বিষয়ে রাজশাহীর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, বর্তমানে মাঠে সারের প্রকৃত চাহিদা তুলনামূলক কম। আমন ধান রোপণের কাজ প্রায় শেষ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে আসন্ন আলু মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকরা আগাম সার সংগ্রহ করছেন।

    তার ভাষ্যমতে, ইউরিয়ার বিক্রি বর্তমানে তেমন নেই; নন-ইউরিয়া সারের মধ্যে মূলত ডিএপির চাহিদা বেশি। কিছু খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মজুত ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৯ জন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে।

    একই চিত্র কুড়িগ্রামেও। সেখানকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় চার খুচরা বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি ও অবৈধ মজুতের অভিযোগ ছিল। জেলায় বিসিআইসির ৯৪ জন এবং বিএডিসির ১১৪ জন ডিলার রয়েছেন।

    বর্তমানে সারা দেশে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার ডেটাবেজ হালনাগাদের কাজ চলছে। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে ৮৫ জন ডিলার, ৩৩০টি পৌরসভায় ৯৯০ জন ডিলার এবং ৪,৫৯২টি ইউনিয়নে নির্ধারিত অনুপাত অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের তথ্য গুগল শিটের মাধ্যমে হালনাগাদ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এর আগের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট ডিলার ছিল ১০ হাজার ৮১৪ জন এবং খুচরা বিক্রেতা ছিল ৩১ হাজার ৩৮৪ জন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশে সারের অভাবে কোনো জমির আবাদ নষ্ট হওয়ার রেকর্ড নেই। তার দাবি, প্রতি বছরই কিছু ডিলার বাড়তি মুনাফার আশায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করেন।

    উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ডিলারের দোকানে কৃষকের কোনো অস্বাভাবিক ভিড় নেই বলে তিনি জানান।

    তিনি আরো বলেন, গত বছরও যেমন সারের অভাবে আবাদ নষ্ট হওয়ার রেকর্ড নেই, এবারও ঘাটতি নেই। কোনো নতুন জমিও বের হয়নি যে সারের চাহিদা হঠাৎ লাফিয়ে বাড়বে। ডিলাররা অনৈতিকভাবে কিছু বাড়তি পয়সা পকেটে নেওয়ার জন্যই মূলত ভীতি তৈরি করছে।

    তবে মাঠের কৃষকের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে মেলে না। কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরের কোদালকাটি ইউনিয়নের কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, আমন মৌসুমে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের প্রয়োজন থাকলেও তিনি এখনো সার কেনা শুরু করেননি। তার মতে, সরবরাহ একেবারে বন্ধ নয়, তবে কোথাও কোথাও দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, সরকারি মজুত কিছুটা কমলেও মাঠপর্যায়ে সারের জোগান সচল রয়েছে জানান কৃষকরা। তবে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের অবৈধ মজুতদারি ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতার সুযোগে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে চেষ্টা চলছে, তা দ্রুত কঠোর হস্তে দমন করতে হবে বলে জানান তারা।

  • সমতলে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষে সফলতা

    সমতলে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষে সফলতা


    সমতল ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ি ফল আনারস চাষে দারুণ সফলতা পেয়েছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম।বর্তমানে তিনি বাগানের পাকা আনারস বাজারে বিক্রি করছেন। মাঝারি আকারের আনারসগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন মিষ্টি। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষি উদ্যোক্তা প্রতিদিন তার আনারস বাগান দেখতে ভিড় করছেন।সোমবার (৩১ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক রফিকুল ইসলাম মল্লিকপুর বিলে দশ কাঠা জমিতে আনারসের চাষ করেছেন। পুরো জমি জুড়ে সারি সারি গাছে পাকা-আধাপাকা আনারস ঝুলছে।

    এ সময় গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত রফিকুল বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে বাজারে আনারস কিনতে গিয়ে তার এ ফল চাষের আগ্রহ জাগে।’

    বছর দেড়েক আগে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে দেড় হাজার আনারসের চারা নিয়ে আসেন। এর মধ্যে কিছু চারা মরে গেছে। আবার কিছু গাছে এবার ফল ধরেনি। সেগুলো বাদে কমপক্ষে এক হাজার গাছে আনারস ধরেছে এবার।

    ‘ক্যালেন্ডার’ ও ‘জায়েন্ট কিউ’ জাতের আনারস চাষ হচ্ছে তার বাগানে।

    কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, জমিতে আনারসের চারা লাগানোর এক বছর পর ফুল আসতে শুরু করে। এরপর ফল ধরার চার-পাঁচ মাস পর পাকতে শুরু ধরে। এবার তার প্রায় সব গাছে প্রথমবারের মত আনারস ধরেছে। ইতিমধ্যেই আনারস পাকতে শুরু করেছে। বাগানের বেশির ভাগ গাছের আনারস বাজারে বিক্রিও করা করা হয়েছে।

    তিনি জানান, এ ফল চাষে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, পানি সেচ ও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। আনারস চাষে আনুপাতিক হারে খরচ কম।

    দেড় হাজার গাছের চারা কিনে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসতে তার খরচ পড়েছে ছয় হাজার টাকা। চারবার নিড়ানী দিতে হয়েছে, তাতে খরচ পড়েছে ছয় হাজার টাকা। এছাড়া দেড় হাজার টাকার সার-কীটনাশক এবং সেচ বাবদ আরো ৬০০ টাকা খরচ পড়েছে।

    এ পর্যন্ত তিনি মোট ৫০০ পিস আনারস বিক্রি করেছেন। প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে তিনি এ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করেছেন। বাগানে আরো তিন শতাধিক আনারস রয়েছে। এছাড়া রাতের আঁধারে তার বাগান থেকে কে বা কারা আরো শতাধিক পাকা আনারস চুরি করে নিয়ে গেছে।তিনি আরো জানান, আনারসের এক একটি গাছ থেকে কয়েক বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় আগামীতে তার লাভের পরিমাণ আরো বেশি হবে বলেও জানান তিনি।

    তবে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় মাঝে মাঝে বেকায়দায়ও পড়তে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গাছগুলো প্রথম দিকে ভালভাবেই বেড়ে উঠছিল। তবে একটা সময় এসে গাছের গোড়া পঁচা রোগ দেখা দেয়। এতে কিছু গাছ মরেও যায়।’

    জেলায় প্রথম আনারস চাষ হওয়ায় সাধারণ মানুষসহ কৃষি উদ্যোক্তারা প্রায়ই তার আনারস বাগান দেখতে আসেন বলে তিনি জানান।

    গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ভরতপুর গ্রামের আকবর আলী বলেন, মল্লিকপুর গ্রামের একজন কৃষক তার জমিতে আনারস চাষ করেছেন। আনারসতো পাহাড়ি এলাকায় চাষ হয়। তাই প্রথমে বিশ্বাস না হলেও পরে নিজের চোখে দেখে এসেছি, কিছু আনারস কিনেও এনেছি। আনারসগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ বলেন, ‘আমাদের উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের উপযোগী বলেই মনে হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ উপজেলায় আনারস চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। কৃষকদেরকে আনারস চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

  • ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট, কৃষকদের মিলনমেলা

    ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট, কৃষকদের মিলনমেলা

    ধান রোপণের মৌসুমকে ঘিরে জমে উঠেছে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট। স্থানীয় ভাষায় ‘জালা’ নামে পরিচিত ধানের চারা বিক্রি ও কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠছে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ছিলাপাঞ্জা এলাকা। শুধু বানিয়াচং নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ধানের চারা নিয়ে ছুটে আসছেন এই হাটে। সকাল হতেই বিভিন্ন জাতের সবুজ ধানের চারা নিয়ে বসে পড়েন বিক্রেতারা। অন্যদিকে জমিতে রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় চারা কিনতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক। ফলে দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম থাকে ছিলাপাঞ্জা। সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ধানের চারা। কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী চারা গুনে দিচ্ছেন। আবার কেউ দরদাম করছেন। চারা বিক্রি ভালো হওয়ায় অনেক কৃষকের মুখেই দেখা গেছে স্বস্তির হাসি। চারা বিক্রেতা কৃষক তাহের মিয়া বলেন, ধানের চারা তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে চারা পরিচর্যা পর্যন্ত শ্রম দিতে হয়। এখন হাটে এসে ভালোভাবে বিক্রি করতে পারছি। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে। লাখাই থেকে আসা আরেক বিক্রেতা বাদ উললাহ মিয়া বলেন, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকরা চারা কিনতে আসেন। এবার বিক্রি বেশ ভালো। সকালে চারা নিয়ে আসার পর বিকেল হওয়ার আগেই অনেক সময় প্রায় সব চারা বিক্রি হয়ে যায়। চারা কিনতে আসা কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, সব কৃষকের পক্ষে নিজের জমিতে চারা তৈরি করা সম্ভব হয় না। আবার সময়মতো চারা তৈরি করতে না পারলেও সমস্যা হয়। এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকরা চারা নিয়ে আসেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো চারা বেছে কিনে নেওয়া যায়। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ধানের চারা বিক্রির এই হাট একদিকে যেমন আমন মৌসুমে চাষিদের চারা সংগ্রহের সংকট দূর করছে, অন্যদিকে চারা উৎপাদনকারী কৃষকদের জন্য সৃষ্টি করছে বাড়তি আয়ের সুযোগ। ফলে মৌসুমি কৃষিভিত্তিক এই বেচাকেনা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কৃষকরা জানান, ভালো মানের ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করতে পারলে চাহিদা থাকে বেশি। এ কারণে অনেক কৃষক এখন ধানের চারা উৎপাদনকেও বাড়তি আয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। প্রতিদিনের এই ‘জালার হাট’ যেন গ্রামীণ কৃষিজীবনের এক ব্যতিক্রমী চিত্র। সবুজ ধানের চারা, কৃষকদের ব্যস্ততা আর ক্রেতাদের দরদামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রাণ ফিরে পায় ছিলাপাঞ্জা এলাকা। ধানের মৌসুমজুড়ে এমন জমজমাট বেচাকেনা চলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

  • মধুখালীতে আমনের চারা কিনতে হাটে কৃষকের ভিড়

    মধুখালীতে আমনের চারা কিনতে হাটে কৃষকের ভিড়

    ফরিদপুরের মধুখালীর বিভিন্ন হাটে রোপা আমনের চারা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

    উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি হাট মধুখালী সদর ও কামারখালীতে রোপা আমনের চারা কিনতে কৃষকদের ভিড় দেখা গেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মধুখালী হাটে প্রতি বোঝা চারা ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া প্রতি বোঝা চারার জন্য ২০ থেকে ৩০ টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে।

    হাটের চারা বিক্রেতা সামাদ শেখ বলেন, হাটে প্রচুর পরিমাণে ধানের চারা আসছে। কৃষকেরা নিজেদের পছন্দ ও জমির উপযোগিতা অনুযায়ী চারা কিনছেন।

    বাজারের খাজনা আদায়কারী মো. ইমন শেখ বলেন, হাটে চারার আমদানি ভালো। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা কেনাবেচা চলছে। ভালো মানের চারার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেশি।

    মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহাবুব ইলাহী জানান, রোপা আমনের বিরি-৮৭, বিরি-৩৭, বিরি-৭৫ ও বিনা-৭সহ বিভিন্ন জাতের ধান সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রোপণ করা হয়। আগাম ভাসমান চারা ও অন্যান্য পদ্ধতিতে আগস্টের শেষ পর্যন্ত উপজেলায় ৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে।

    তিনি জানান, চলতি বছর উপজেলায় ৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে।

    সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই চারা রোপণের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

  • কৃষকের সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা লুটের আয়োজন

    কৃষকের সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা লুটের আয়োজন

    যশোরের শেখহাটি গ্রামের এসএম কবীর হোসেন এবার দেড় বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। এজন্য বর্তমানে তার ৩০ কেজি টিএসপি সার দরকার। কিন্তু এই সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তাকে নানামুখী হয়রানের শিকার হতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জামরুলতলা বাজারের একটি দোকান থেকে ২৫ কেজি সার ম্যানেজ করতে পারলেও এর জন্য তাকে সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।

    এটা শুধু কৃষক কবীর হোসেনের গল্প নয়, যশোরের হাজার হাজার কৃষককে সারের জন্য এখন এমন হয়রানি এবং দ্বিগুণ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
    তবে প্রকাশ্যে এভাবে দ্বিগুন দরে সরকারি সার বিক্রি হলেও বাস্তবিক অর্থে কার্যকর কোন ব্যবস্থাই এখনো নেওয়া হয়নি। ক্ষেত্রবিশেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই একটি অভিযান পরিচালনা করা হলেও কার্যত এই অতিরিক্ত দামের প্রকাশ্য তৎপরতাকে এখনো পর্যন্ত স্বীকার করা হয়নি। তাই প্রকাশ্যেই বাঁধাহীনভাবে চলছে সার সিন্ডিকেটের কৃষকের শ্রম লুটের কারবার।
    এসএম কবীর হোসেন অভিযোগ করেন, ‘প্রকাশ্যেই অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কার্যত কোন ব্যবস্থা তো নেওয়া হচ্ছে না। দোকানদার আমার পরিচিত তাই আমার কাছ থেকে দ্বিগুণের কিছু কম নিয়েছে। কিন্তু আমি থাকতে থাকতেই আরেকজনের কাছে টিএসপি সার ৫২ টাকা কেজি দারে বিক্রি করল।’

    তরিকুল ইসলাম নামে এক সার বিক্রেতা বলেন, ‘সার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই সারের দাম ওঠানামা করছে। আমাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। তাই সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করতে পারছি না।’
    যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নারাঙ্গালী গ্রামের কৃষক আবদুল আলিমও সম্প্রতি জানিয়েছেন, চার বিঘা আমন জমির জন্য তিনি খোলাবাজার থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি টিএসপি কিনেছেন।
    হিসাব বলছে, এভাবে দ্বিগুন দরে সার বিক্রির মাধ্যমে যশোরের সার সিন্ডিকেট কৃষকের কাছ থেকে চলতি আমন মৌসুমেই সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বেশি লুটে নিচ্ছে।
    তবে দায়িত্বশীল কৃষি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিষয়টি শিকার না করলেও মাঠ পর্যায়ের একাধিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানিয়েছেন তারা নিজেরাও কৃষকদের তোপের মুখে পড়ছেন।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমির জন্য সারের মোট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টন।

    এর মধ্যে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৬৮ হাজার ৯০৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৭ হাজার ৫৯৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ৪৩ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন এবং এমওপি ২৫ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন।
    কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামে এই পরিমাণ সারের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইউরিয়ার মূল্য ১৮৬ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা, টিএসপি ৪৭ কোটি ৫১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, ডিএপি ৯০ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং এমওপি ৫১ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
    সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় দ্বিগুণ দামে এসব সার বিক্রি করা হলে কৃষকদের কাছ থেকে মোট অর্থ আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরকারি দামের তুলনায় কৃষকদের অতিরিক্ত গুনতে হবে ৩৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

    সর্বশেষ পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চলতি মাসের বরাদ্দ থেকে যশোরে ইউরিয়া উত্তোলন করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া, টিএসপি ২ হাজার ৮১০ টন, ডিএপি ২ হাজার ১৪০ টন এবং এমওপি ২ হাজার ২৩১ টন।
    একই তারিখে জেলার গুদামগুলোতে মজুত ছিল ইউরিয়া ৩ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন, টিএসপি ১ হাজার ১৪৮ টন, ডিএপি ১ হাজার ২৯ টন এবং এমওপি ১ হাজার ৪১৩ টন। চার ধরনের সারের গুদামজাত মজুতের পরিমাণ দাঁড়ায় মোট ৭ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন দুই সপ্তাহ আগে দৈনিক রানারকে জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই। কেউ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    তবে বর্তমানে প্রকাশ্যেই প্রায় দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে সার। এব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠালেও তিনি কোন জবাব দেননি।

  • বীজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝুঁকিতে কৃষি

    বীজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝুঁকিতে কৃষি

    একসময় কৃষকের গোলাভরা ধানের পাশে মাটির মটকা, বাঁশের গোলা কিংবা ঘরের চালে যত্ন করে রাখা থাকত পরের মৌসুমের বীজ। ভালো ফসল থেকে বাছাই করা সেই বীজেই শুরু হতো নতুন মৌসুমের চাষ। বীজ ছিল কৃষকের নিজের সম্পদ, নিজের নিরাপত্তা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। কৃষকের ঘরের বীজের জায়গা নিয়েছে বাজারের প্যাকেট। নিজের বীজ হারিয়ে কৃষক ক্রমেই হয়ে পড়ছেন বাজারনির্ভর।

    ঝিনাইদহের মাঠে এখন সেই পরিবর্তনের স্পষ্ট চিত্র দেখা যাচ্ছে। কৃষকের হাতে জমি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই পরবর্তী মৌসুমের বীজের নিয়ন্ত্রণ আর তার হাতে নেই। সরকারি সরবরাহ সীমিত হওয়ায় চাহিদার বড় অংশ পূরণ করতে হচ্ছে বেসরকারি কোম্পানি ও স্থানীয় বাজার থেকে। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে কোনো কারণে বাজারে বীজ সরবরাহ ব্যাহত হলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন কৃষকেরা। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষির বৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও।
    চড়া দামে বেসরকারি বীজ
    শৈলকুপা উপজেলার হাজরামিনা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক হাশেম হোসেন চলতি মৌসুমে ৩৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। সরকারি বীজ পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অনুমোদিত ডিলারের কাছে ঘুরেও প্রত্যাশিত বীজ পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাজার থেকে চড়া দামে বেসরকারি কোম্পানির প্যাকেটজাত হাইব্রিড বীজ কিনে বীজতলায় দেন। সেই বীজ থেকে উৎপাদিত চারাই এখন তাঁর জমিতে রোপণ করা হয়েছে।
    একই উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রামের কৃষক মসলেম উদ্দিনের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। তাঁর হাতে পাওয়া বীজের একটি অংশে অঙ্কুরোদগম হয়নি। তিনি বলেন, ‘একসময় ধান কাটার পর ভালো ধান আলাদা করে বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হতো। মাটির মটকা কিংবা গোলায় যত্ন করে রাখা সেই বীজ দিয়েই পরের বছর চাষ করা সম্ভব ছিল। এখন সেই নিশ্চয়তা নেই। প্রতি মৌসুমে বীজের জন্য বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।’
    বাড়ছে বেসরকারি নির্ভরতা
    জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহে মোট আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩৫ হেক্টর। এর মধ্যে বিএডিসি উফশী বীজের প্রায় ১৯ শতাংশ এবং হাইব্রিড বীজের প্রায় ১ শতাংশ সরবরাহ করে। অর্থাৎ বীজের চাহিদার বড় অংশই পূরণ হচ্ছে বেসরকারি কোম্পানি ও বাজারের মাধ্যমে।
    কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক নিজেদের উৎপাদিত ফসল থেকে পরবর্তী মৌসুমের বীজ সংরক্ষণ করতেন। বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। অধিকাংশ কৃষকই বিভিন্ন কোম্পানি ও বাজার থেকে বীজ কিনে চাষ করছেন।
    ঝিনাইদহের বীজের বাজারে লাল তীর, এসিআই, বায়ারসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির বীজ রয়েছে। সরকারি সরবরাহ চাহিদার তুলনায় সীমিত হওয়ায় কৃষকদের বড় একটি অংশকে বেসরকারি বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
    প্রতি মৌসুমে নতুন বীজ
    উচ্চফলনের আশায় কৃষকের মধ্যে হাইব্রিড বীজের ব্যবহারও বাড়ছে। কিন্তু হাইব্রিড বীজের ক্ষেত্রে উৎপাদিত ফসল থেকে পরবর্তী মৌসুমে একই মান ও বৈশিষ্ট্যের বীজ সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা যায় না। ফলে প্রতি মৌসুমেই নতুন বীজ কেনার প্রয়োজন হয়।
    এতে কৃষকের বীজের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ আরও কমে যাচ্ছে। কৃষকের হাতে জমি থাকলেও চাষের অন্যতম প্রধান উপকরণ বীজের জন্য তাঁকে নির্ভর করতে হচ্ছে বাজারের ওপর।
    শৈলকুপার দামুকদিয়া গ্রামের কৃষক মাসুদ মোল্লা বলেন, ‘আগে ধান কাটার সময় ভালো ধান আলাদা করে রেখে দিতাম। পরের মৌসুমে ওই ধান থেকেই বীজ তৈরি করে চাষ করতাম। এখন কোম্পানির বীজ কিনতে হয়। নিজের বীজ রাখার অভ্যাসও অনেকটা চলে গেছে।’
    হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জাত
    বীজের বাজারনির্ভরতার পাশাপাশি ঝিনাইদহে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী জাতের বীজ হারিয়ে যাওয়া নিয়ে।
    একসময় বিভিন্ন মৌসুমে ধানের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি, ডালের ২২ থেকে ২৫টি এবং সবজির প্রায় ৩০টি জাতের চাষ হতো। বর্তমানে ধানের জাত বেড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি, ডালের ৩২ থেকে ৩৫টি এবং সবজির জাত ৫৫ থেকে ৬৫টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে জাতের সংখ্যা বাড়লেও অনেক স্থানীয় জাতের চাষ ও সংরক্ষণ কমে গেছে।
    ঝিঙাশাইল, লতিশাইল, কাটারিভোগ, রাজাশাইল, দুধকলম, বাঁশফুল, রূপশাইল, দিঘাসহ বিভিন্ন স্থানীয় ধানের জাত বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায়। একইভাবে দেশি খেসারি, স্থানীয় লাল মুগ, মাষকলাই, মাঘী সরিষা, তিলসহ বিভিন্ন স্থানীয় সবজির জাতও আগের তুলনায় কম চাষ হচ্ছে।

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় জাত শুধু ঐতিহ্যের অংশ নয়; এগুলো কৃষকের ঝুঁকি মোকাবিলারও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। একাধিক জাতের বীজ কৃষকের হাতে থাকলে কোনো একটি জাত রোগ, পোকামাকড় বা বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য জাত দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার সুযোগ থাকে। বিপরীতে সীমিত কয়েকটি বাণিজ্যিক জাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
    মনোহরপুর গ্রামের কৃষক সিজার জিকরুল বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বীজ পাওয়া যায়। বিক্রেতারা ভালো ফলনের কথা বলে বীজ দেন। কিন্তু বীজ ভালো না হলে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। বীজের সঙ্গে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমের খরচও জড়িয়ে থাকে।’

    কালীগঞ্জের কৃষক বসির আহমেদ বলেন, ‘নিজের ঘরে বীজ মজুদ থাকলে চাষাবাদের খরচ অনেকটা কমে যায়। তাতে কৃষক লাভবান হন। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না। বীজ কিনতে গিয়ে লাভের অংশ কমে যাচ্ছে।’
    বীজ ব্যাংকের প্রয়োজন বাড়ছে
    শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমানের অভিজ্ঞতাতেও সরকারি বীজ সরবরাহের সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে। তাঁর ভাষ্য, কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী দেখে নতুন জাতের ধান চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার পর পরের বছর সেই জাতের বীজ সংগ্রহ করতে গিয়ে সরকারি বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা শুনতে হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বেসরকারি বীজ কিনতে হয়েছে।
    মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ থাকলেও এর আওতা এখনো সীমিত। ফলে অধিকাংশ কৃষক এ সুবিধার বাইরে রয়েছেন।
    এ অবস্থায় ইউনিয়ন পর্যায়ে বীজ ব্যাংক গড়ে তোলা, কৃষকদের বিজ্ঞানসম্মতভাবে বীজ সংরক্ষণের প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্থানীয় জাতের বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বিএডিসির উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

    ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকদের মানসম্মত বীজ ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের উৎপাদিত ভালো ফসল থেকে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
    তিনি বলেন, ‘ভালো ও রোগমুক্ত জমি থেকে উপযুক্ত সময়ে বীজ সংগ্রহ করে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নিজের বীজ ব্যবহার করতে পারবেন। এতে একদিকে বীজ কেনার খরচ কমবে, অন্যদিকে প্রয়োজনের সময় বাজারের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।’

    কৃষকদের মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে উন্নত জাতের ফসলের সঙ্গে কৃষকদের পরিচয় করানো হচ্ছে। ভালো ফলন পাওয়া গেলে কৃষকদের নিজেদের জমির উপযোগী বীজ সংরক্ষণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’
    কামরুজ্জামান আরও বলেন, ‘বীজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু বীজ সংগ্রহ করলেই হবে না, সেটি ভালোভাবে শুকানো, রোগমুক্ত রাখা এবং উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষকদের এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।’

  • খরা ও অতিবৃষ্টি জয় করে আমন চাষে সফলতার উপায়

    খরা ও অতিবৃষ্টি জয় করে আমন চাষে সফলতার উপায়

    আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আমন চাষে এখন কখনো খরা, আবার কখনো অতিবৃষ্টির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষককে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বাড়ছে রোগ-পোকার আক্রমণও। ফলে ভালো ফলনের জন্য শুধু জমি ও বীজ প্রস্তুত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন উপযোগী জাত নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ। খরা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে কৃষকের করণীয় নিয়ে রানার কৃষির নিয়মিত আয়োজনে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম শস্যভাণ্ডার যশোর। এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির প্রাণ রোপা আমন ধান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক খরা, অতিবৃষ্টি, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও সুষম সারের অভাবে অনেক কৃষকই কাক্সিক্ষত ফলন পাচ্ছেন না। জলবায়ুর পরিবর্তনকে মাথায় রেখে চলতি মৌসুমে কিছু কৌশল মেনে চললে খরা ও অতিবৃষ্টি দুটোই মোকাবিলা করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
    অনাবৃষ্টি ও সম্পূরক সেচ
    আমন ধানের জীবনচক্রে দুটি সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো চারা রোপণের পর গাছের শিকড় স্থাপনের সময়, অন্যটি কাইচ থোড় আসার সময়। এ দুই সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে জমি শুকিয়ে গিয়ে ফলন কমে যেতে পারে।
    এ সময় জমি কোনোভাবেই ফেটে যাওয়া পর্যন্ত শুকাতে দেওয়া যাবে না। বৃষ্টি না হলে দ্রুত হালকা সম্পূরক সেচ দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ২-৩ ইঞ্চি পানি ধরে রাখা যেতে পারে। অল্প পানিতে বারবার সেচ দিলে পানির অপচয়ও কম হবে।
    মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ
    ইউরিয়া সার বেশি দিলে ধানগাছ অতিরিক্ত সবুজ ও কোমল হয়ে যায়। এতে মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে।
    এ ক্ষেত্রে প্রথমেই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। একে বলা হয় ‘পার্চিং’। প্রতি বিঘা জমিতে ৪-৫টি উঁচু বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে দিতে হবে। পাখিরা এসব কঞ্চিতে বসে মাঠের ক্ষতিকর পোকা খাওয়ার সুযোগ পাবে।
    পোকার আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওষুধের সঠিক মাত্রা ও প্রয়োগের সময় মেনে চলা জরুরি। অপ্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত নয়।
    খোল পচা ও পাতা পোড়া রোগ
    বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এবং অপরিকল্পিতভাবে ইউরিয়া প্রয়োগ করলে ধানে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। খোল পচা ও পাতা পোড়া রোগের ক্ষেত্রেও সুষম সার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।
    শুধু ইউরিয়ার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পটাশ, জিংক ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান দিতে হবে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে রোগ শনাক্ত করে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।
    উচ্চ ফলনের জন্য সঠিক জাত নির্বাচন
    সময় বদলেছে, তাই জাত নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে হবে। জমির ধরন, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় আবহাওয়া এবং ফসল কাটার সময় বিবেচনা করে জাত নির্বাচন করা প্রয়োজন।
    উচ্চফলনশীল জাতের মধ্যে ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭৫ ও ব্রি ধান৯০ উল্লেখযোগ্য। খরা ও প্রতিকূলতা সহনশীল জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান১০৩, বিনাধান-১৭, বিনাধান-২০, বিনাধান-২২ ও বিনাধান-২৩।
    এসব জাতের একটি বড় সুবিধা হলো অনেক জাত তুলনামূলকভাবে দ্রুত পাকে। ফলে আমন কাটার পর দ্রুত সরিষা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষের সুযোগ পাওয়া যায়। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষ করা গেলে কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।
    সুষম সার ও মাটির স্বাস্থ্য
    শুধু রাসায়নিক সার ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফলন ধরে রাখা সম্ভব নয়। মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
    জমি তৈরির সময় গোবর বা অন্যান্য জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বোরো ধান কাটার পর জমিতে ধৈঞ্চা বুনে ৪৫-৫০ দিন পর তা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া যায়। এটি সবুজ সার হিসেবে মাটির জৈব পদার্থ ও উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে। এর ফলে রাসায়নিক সারের প্রয়োজনও কমতে পারে।
    শেষ চাষের সময় মাটির পরীক্ষা ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও জিংক সালফেট প্রয়োগ করতে হবে।
    ইউরিয়া সার একসঙ্গে প্রয়োগ করা যাবে না। কয়েক কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণভাবেÑপ্রথম কিস্তি: চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর। দ্বিতীয় কিস্তি: কাইচ থোড় আসার ১৫-২০ দিন আগে। তৃতীয় কিস্তি: থোড় বের হওয়ার সময়। তবে জমির উর্বরতা, ধানের জাত ও স্থানীয় কৃষি সুপারিশ অনুযায়ী সারের মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
    বিজ্ঞানসম্মত পানি ব্যবস্থাপনা
    কাইচ থোড় আসা থেকে দানায় দুধ আসা পর্যন্ত সময়ে ধানগাছের পানির চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিশ্চিত করতে হবে।
    তবে জমিতে সবসময় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা ঠিক নয়। অতিবৃষ্টির সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জমিতে পানি জমে থাকলে ধানের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।
    ধান কাটার ১০-১২ দিন আগে জমি থেকে পানি বের করে দেওয়া ভালো। এতে জমি কিছুটা শুকিয়ে আসে, ধান কাটতে সুবিধা হয় এবং ফসল সংগ্রহের সময়ও কমে।
    নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ
    আমন চাষে সফলতার অন্যতম শর্ত হলো নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ। আগাছা, পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
    তাই কৃষকদের নিয়মিত জমি দেখতে হবে। পোকামাকড় দেখা দিলেই অযথা কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রথমে পোকার ধরন ও আক্রমণের মাত্রা শনাক্ত করতে হবে। প্রয়োজন হলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে।
    সময়মতো আগাছা দমন, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, পার্চিং, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ, অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ—এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আমনের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

    কৃষক ভাই ও বোনেরা, আমন ধানের জমিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত আপনার এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সমস্যার কথা জানান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিন।
    সবাই ভালো থাকুন।

  • চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্বজনদের অভিযোগ, ভ্যান বসানো চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে সিফাতকে (২০) আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও শুক্রবার সেখানে আবার ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন। এ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার তা বসানো হয়। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ‘চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। মারামারি বেশি হয়নি, তবে ঘুষির আঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ভাসমান ভ্যান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ফজল আমিন শাহজাহানের কাছে জানতে চেয়েছিল বলে শুনেছি। গরিব মানুষ ভাসমান দোকান বসিয়ে জীবিকা চালায়, তাদের কাছ থেকে কেন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে শাহজাহান ফজল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

    নিহতের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা চাই, তার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা জড়িত তাদের বিচার হোক। ৫ আগস্টের পর এলাকায় নতুন করে নেতৃত্বে আসা কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।’

    চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

    এদিকে, ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় আনার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিজ দলের কর্মীর হাতে তার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

  • কিছু দুষ্কৃতকারী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: কৃষিমন্ত্রী

    কিছু দুষ্কৃতকারী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, কিছু দুষ্কৃতকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এরকম সারের কৃত্রিম সংকট যারা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার হলরুমে ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া ফরিদপুর অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় এখানে চাষাবাদে তুলনামূলক কম পরিমাণে সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর এসব কারণে এ অঞ্চলে পেঁয়াজ ও পাট চাষাবাদ খুব ভালো হয়। আগামী দিনে পেঁয়াজ এবং পাট বীজ উৎপাদন করে দেশকে স্বাবলম্বী করার সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    ফরিদপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম।

    মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাটচাষি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

  • কৃষিকে আধুনিক করতে পার্টনার প্রকল্পে অগ্রগতি

    কৃষিকে আধুনিক করতে পার্টনার প্রকল্পে অগ্রগতি

    উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা, উত্তম কৃষি চর্চা, নিরাপদ খাদ্য, গবেষণা, কৃষিপণ্য রপ্তানি ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি বিস্তারে কাজ করছে প্রকল্পটি।

    ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পটির নির্ধারিত ফলাফলের বিপরীতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ শতাংশ সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ছয় হাজার ৯১১ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সাতটি সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

    প্রকল্পের আওতায় ২৮ হাজার ৫৯৭টি মাঠ স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০টির কার্যক্রম চলছে। কৃষকদের উত্তম কৃষি চর্চা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ২০ হাজার ব্যাচের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে ৩০টি প্রশিক্ষণ ব্যাচের মধ্যে ২৭টি শেষ হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ১১২টি কর্মশালার মধ্যে ৩১টি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রকল্পের অন্যতম বড় উদ্যোগ কৃষক কার্ড। চলতি আগস্টে ১০ লাখ এবং এ বছরের মধ্যে ৪৭ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকদের ভর্তুকি, ঋণ, প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা সহজে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সোনালী, জনতা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এ বিষয়ে পার্টনার প্রকল্পের কোর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও রূপান্তরের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন পার্টনার প্রকল্পের অগ্রগতি শুধু ব্যয়ের হার দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভিত্তিতেই এ প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি প্রায় ৪৭ শতাংশ।

    তিনি বলেন, পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়ন পদ্ধতি ফলাফলভিত্তিক। বাংলাদেশের কৃষি খাতে এ ধরনের অর্থায়ন পদ্ধতির প্রকল্প আগে বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়ন সহযোগীদের নির্ধারিত ফলাফল অর্জনের প্রমাণ যাচাইয়ের পরই অর্থ ছাড় করা হয়।

    ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের ঋণ চুক্তির পরিমাণ ৫৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জীভূত ফলাফলের বিপরীতে ২৫২ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ের জন্য দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ চুক্তির মোট অর্থের প্রায় ৪৭ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থের দাবি উত্থাপিত হয়েছে।

    কোর্ডিনেটর আবুল কালাম বলেন, প্রকল্পে মোট ১০টি অর্থ ছাড়ের সংযোগ নির্দেশকের আওতায় ২৪টি ফলাফলভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের প্রমাণপত্র প্রকল্প থেকে দাখিল করা হয়। পরে একটি স্বাধীন যাচাইকারী সংস্থা তা যাচাই করে। যাচাই শেষে নির্ধারিত হারে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় হয়। তবে কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা প্রয়োজন।

    এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ৫০ লাখ কৃষকের কাছে ডিজিটাল কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া। এছাড়া উত্তম কৃষিচর্চার আওতায় তিন লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ও খামারকে সনদের আওতায় আনা, স্বীকৃত পরীক্ষাগার স্থাপন এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে ১০ শতাংশ হারে বাড়ানোর মতো লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে।

    তিনি বলেন, গত ১ থেকে ২৩ জুন বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের যৌথ মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা মিশনে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে ডিপিপি সংশোধনের পাশাপাশি কিছু লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

    কোর্ডিনেটর জানান, উন্নয়ন সহযোগীদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে থাকা অন্যান্য কার্যক্রম, বিশেষ করে অবকাঠামো ও ভৌত নির্মাণকাজ, ডিপিপি সংশোধন ছাড়া শুরু করা সম্ভব নয়। সংশোধনের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। সংশোধন ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করলে পরবর্তী সময়ে অর্থ ছাড় নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ডিপিপি সংশোধন সম্পন্ন হলে প্রকল্পের অন্যান্য কার্যক্রমও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারকলি

    বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারকলি

    এক সময় আনারকলি বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন হালিম আহম্মেদ বাচ্চু।

    কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়া পাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা বাচ্চুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ রঙের আকর্ষণীয় দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল আনারকলি, প্যাশন বা ট্যাংক ফল।তিনি বলেন, ‘চারা লাগানোর আট মাস পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারাবছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এ ফল চাষ করা যায়। জলবায়ু সহনশীল টক-মিষ্টি স্বাদের এ ফল চাষে তুলনামূলক কম খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় দিনদিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও।’

    কৃষি বিভাগ থেকে যদি ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পান, তাহলে আমার মতো কৃষকরা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। গতবছর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে স্টালিন ভাইয়ের বাগানে সর্বপ্রথম এ ফলের চাষাবাদ দেখি। সেখান থেকেই চারা সংগ্রহ করে আমার এক বিঘা জমিতে রোপন করি।’

    বাচ্চু আরও বলেন, ‘কিছু দিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে মাত্র আট মাসের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। আট মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে।’

    এক বিঘার আনারকলি বাগান করতে বাচ্চুর এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

    বাচ্চুর বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষও। নতুন এ ফলের চাষ ও ফলন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারকলি, প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।’

  • খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী

    খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী

    দেশের সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে মজুত খাদ্যশস্য নিয়ে কোনো ধরনের নয়ছয়, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

    খাদ্যগুদামকেন্দ্রিক কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠলে কিংবা অনিয়মের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে এসব অনিয়মের নেপথ্যে থাকা মদদ দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

    খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলার সরকারি খাদ্য গুদাম পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। কোথাও মজুতের হিসাবে গরমিল, খাদ্যশস্য আত্মসাৎ, সংরক্ষণে অনিয়ম কিংবা অন্য কোনো দুর্নীতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।

    মন্ত্রী বলেন, জনগণের খাদ্য নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। খাদ্যগুদামকে কেন্দ্র করে কোনো সিন্ডিকেট আমরা বরদাশত করব না। সরকারি গুদামে জনগণের খাদ্য নিরাপদ থাকবে, সঠিক হিসাব থাকবে এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।

    তিনি জানান, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং টেকসই ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বিমানমন্ত্রী থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। বর্তমানে দায়িত্বের চেয়ার বদলালেও কাজের গতি বদলাবে না।

    খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়কে শতভাগ জনবান্ধব ও সেবামুখী হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারে খাদ্য নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে।

    তিনি জানান, সাময়িক অভিযান নয়, স্থায়ী সমাধানের লক্ষে দেশের খাদ্য পরীক্ষাগার ও ল্যাবরেটরিগুলোর আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

    ঘিওরের ঘটনা

    খাদ্যমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে তার নিজ জেলা মানিকগঞ্জ থেকেই সরকারি খাদ্যগুদামে অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত যাচাই করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল ও গমের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    তিনি বলেন, ঘিওরের ঘটনাকে আমরা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছি না। দেশের অন্যান্য খাদ্যগুদামেও একই ধরনের অনিয়ম আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

    আফরোজা খানম রিতা বলেন, ঘিওরের ঘটনায় আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, সরকারি খাদ্যগুদামে নয়ছয় করার দিন শেষ। দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা যদি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু যারা সরাসরি অনিয়ম করেছেন, তারা নন; এর পেছনে যারা মদদ দিয়েছেন বা সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

    তিনি বলেন, খাদ্যগুদামে মজুত খাদ্যশস্যের হিসাব কাগজে-কলমে এক রকম আর বাস্তবে আরেক রকম—এমন চিত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি খাদ্যশস্য জনগণের সম্পদ। এই সম্পদের এক কেজিও অপচয়, আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তদারকির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

    মন্ত্রী বলেন, কোনো গুদামে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সেটিকে ছোটখাটো ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। বিশেষ করে ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামের মতো কোনো ঘটনা দেশের অন্য কোথাও পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম যারই হোক, পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না।

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু খাদ্য সংগ্রহ করলেই হবে না, সংগৃহীত খাদ্যশস্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণ নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।

    খাদ্যমন্ত্রীর ভাষায়, খাদ্য নিরাপত্তা শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য মজুতের বিষয় নয়। সেই খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে কিনা, হিসাব ঠিক আছে কিনা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ জায়গায় কোনো দুর্নীতি বা সিন্ডিকেট থাকলে তা ভেঙে দেওয়া হবে।

    খাদ্যগুদামগুলোকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি খাদ্যগুদামের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্যশস্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে ভবিষ্যতে নজরদারি জোরদার করা হবে।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের খাদ্যগুদাম জনগণের জন্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। জনগণের খাদ্য নিয়ে দুর্নীতি করলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

  • কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ

    কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত দামে ধান কেনার কথা থাকলেও গুদামে ধান ঢোকাতে টনপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষকের ধান ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

    চলতি মৌসুমে নিকলী খাদ্যগুদামে এক হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন ধান ও দুই হাজার এক মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, দালাল চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি বস্তা ব্যবহার করে আগে ধান সংগ্রহ করছেন।

    দামপাড়া ইউনিয়নের কৃষক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ৩০৭ মণ ধান ওজন করে গুদামে নেয়া হলেও টনপ্রতি দুই হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় গুদামের কর্মকর্তা ধান ফেরত নেয়ার চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক আল আমিন জানান, অগ্রিম টাকা দেয়ার শর্ত দেয়ায় তার মতো অনেক প্রান্তিক কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    তবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এলএসডির ওসি হিমেল। তিনি বলেন, গুদামে কোনো অনিয়ম হয়নি বরং তার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    অন্য দিকে নিকলী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফুর নাহার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের কথা বললেও, প্রভাবশালীদের সুপারিশে মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকায় নাম ঢোকানোর বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তার দাবি, জাতীয় পরিচয় সংগ্রহ করে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার কাছে কোনো প্রকার অভিযোগ আসেনি। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    বকশীগঞ্জে সাড়ে ৩ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে লাইসেন্সবিহীনভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে দুলাল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তার গোদাম থেকে ৭২ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের অকুলের মোড় এলাকায় দুলাল মিয়ার দোকান ও গোডামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুলাল মিয়া লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে আসছিলেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গোদাম থেকে ৬৪ বস্তা ডিএপি ও ৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারগুলো পরবর্তীকালে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হবে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, অবৈধভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের স্বার্থে অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সার সংকট নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে অভিযান

    সার সংকট নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে অভিযান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সার সংকট নিয়ে সারা দেশে ছড়ানো তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটা এবং সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, যশোরে ভেজাল সার বিক্রি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও অবৈধ মজুতের দায়ে একাধিক ডিলার এবং ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে।

    গত সোমবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমাম আমার দেশকে বলেন, সার সংকটের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল ও গুজব। সাধারণ কৃষকদের মাঝে প্যানিক তৈরি সৃষ্টি এবং সরকারকে বিব্রত করার জন্য এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকিতে দেশের ৬৪ জেলার জন্য মন্ত্রণালয়ের ৬৪ কর্মকর্তা এ বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

    অসাধু ডিলারদের বিষয়ে তিনি আরো জানান, বেশি দামে বিক্রি বা কালোবাজারির অভিযোগ পেলেই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ডিলারশিপ স্থগিত ও বাতিল করা হচ্ছে, যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে তদারকি সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে কিছু ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীর নানা অনিয়ম এবং পদ্ধতিগত ত্রুটি সামনে আসছে।

    রংপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে গোডাউনে সার না রাখা এবং পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অনেক ডিলারকে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। তার অঞ্চলের কোথায় কাকে আরো জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা পরে নিশ্চিত করা যাবে।

    এদিকে সাটুরিয়া উপজেলার জান্না বাজারে বিএডিসির সার ডিলার ছানোয়ার হোসেনকে সারের সঙ্গে মাটি মিশিয়ে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় কৃষকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী ওই ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং ৫ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করা হয়।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের মালিক নুর ইসলামকে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং অবৈধভাবে ২৫৯ বস্তা ইউরিয়া, ১০৬ বস্তা ডিএপি ও ৪৫ বস্তা টিএসপি সার মজুত রাখার অপরাধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। সেখানে জব্দ করা সার পরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজারে লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ৩ লাখ ৫৩,৩৫০ টাকা মূল্যের মোট ২৭১ বস্তা (১৩,৫৫০ কেজি) সার অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে গত বুধবার খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা আদায় করা হয় এবং জব্দ সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকের মাঝে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করার আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে চৌগাছায় পাচারকালে আটক আরো ৩৭ বস্তা সার সরকারি মূল্যে বিক্রি করে পরিবহনের দায়ে আলমসাধু চালককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের কোথাও সারের প্রকৃত ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলেই প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    সরকারের দাবি সারের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে। তবে বিভিন্ন জেলায় বেশি দামে বিক্রি, অবৈধ মজুত ও ভেজাল সারের ঘটনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও কৃষক পর্যায়ে নির্ধারিত দামে সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও কৃষকরা সময়মতো ও নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন কি না—সেটিই এখন মাঠ পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    তবে সার সংকট নেই—এমন দাবি করা হলেও নিরাপত্তা মজুতে ঘাটতি দেখা গেছে। গত ২২ আগস্টের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ইউরিয়ার নিরাপত্তা মজুত থাকার কথা ৫ লাখ টন, সেখানে আছে ৪ লাখ ৯৬২ টন; অর্থাৎ ঘাটতি ৯৯ হাজার টন। একইভাবে টিএসপির ৪ লাখ টন; কিন্তু মজুত আছে ৩ লাখ ৩৭৩ টন; অর্থাৎ ঘাটতি সাড়ে ৯৯ হাজান টন। অনুরূপভাবে ডিএপির নিরাপত্তা মজুত থাকার কথা ৫ লাখ টন। কিন্তু আছে ৩ লাখ ২৭৭ টন; এখানেও ঘাটতি ২ লাখ টন। সবশেষ এমওপির মজুত থাকার কথা ৩ লাখ টন, সেখানে আছে ১ লাখ ৪৮৪ টন; এখানেও ঘাটতি প্রায় ২ লাখ টন।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে সারের নিরাপত্তা মজুত অনেকটাই নিম্নমুখী। এ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

  • ইখতেয়ারের খামারে তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার

    ইখতেয়ারের খামারে তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার

    বিসিএস ক্যাডারে চাকরির সুযোগ, সরকারি কলেজে শিক্ষকতার সম্ভাবনা, একাধিক ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—সবই ছিল ইখতেয়ার উদ্দিন আহমেদ মুন্নার সামনে। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার পথও খোলা ছিল। কিন্তু এসবের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত তাকে আটকে রাখতে পারেনি। নিজের এলাকার কৃষি ও মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদে নিরাপদ চাকরি ছেড়ে তিনি নেমেছেন কৃষির মাঠে।

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকী গ্রামে প্রায় দুই বছর আগে গড়ে তোলেন ‘এমএম এগ্রো’ নামে সমন্বিত কৃষি খামার। এখানে একই সঙ্গে চলছে মাছ চাষ, মুরগি পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, নেপিয়ার ঘাস ও সবজি চাষ এবং ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। খামারের একটি প্রকল্পের বর্জ্যই আবার অন্য প্রকল্পের সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কমছে উৎপাদন খরচ, তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান; পাশাপাশি জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষারও চেষ্টা চলছে।

    চাকরি থেকে কৃষির মাঠে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষে ২২তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুযোগ পান ইখতেয়ার। তার পোস্টিং হয়েছিল কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে। তবে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ না দিয়ে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হন তিনি।

    ইউসিবিএল, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে কাজ করেছেন। ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় যুক্ত হন। ঠিকাদারি, কনস্ট্রাকশন ও গার্মেন্টস ব্যবসাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে কৃষির সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই ভাবনা থেকেই চরটেকীতে শুরু করেন এমএম এগ্রো।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘আমি মূলত কমার্শিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ। কৃষিতে আগে থেকে খুব বেশি অভিজ্ঞতা ছিল না। এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। কোনো কিছু করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে শিখেছি। এই শেখাটাকেই আমি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ মনে করি।’

    এক খামারে অনেক প্রকল্প

    প্রায় ১৮ থেকে ২০ বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে চলছে এমএম এগ্রোর কার্যক্রম। রয়েছে চারটি ফিশারি। এসব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। আছে প্রায় দুই হাজার ফাওমি মুরগি। চলছে ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণ। গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য চাষ করা হচ্ছে নেপিয়ার ঘাস। পাশাপাশি গবাদিপশুর বর্জ্য ও জৈব উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার।

    তবে ইখতেয়ারের উদ্যোগের বিশেষত্ব শুধু একসঙ্গে এতগুলো প্রকল্প চালানো নয়। তার পরিকল্পনা হলো, একটি প্রকল্পের উৎপাদিত উপকরণ যেন অন্য প্রকল্পে কাজে লাগে।

    নেপিয়ার ঘাস গরু-ছাগল ও গ্রাস কার্পের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। গবাদিপশুর বর্জ্য ও অন্যান্য জৈব উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে। অর্থাৎ খামারে বর্জ্যও হয়ে উঠছে সম্পদ।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘১০ টাকায় কিনে ৯ টাকায় বিক্রি করলে যত ব্যবসাই করেন, কোনো লাভ নেই। তাই কীভাবে উৎপাদন খরচ কমানো যায়, সেটাই বড় বিষয়।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। তাই কৃষিনির্ভরতা আরও বাড়ানো এবং কৃষিকে আরও উন্নত করা দরকার। আমি মনে করি, এটিই প্রকৃত উন্নয়ন—কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন।’

    মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় কেঁচো সার

    এমএম এগ্রোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ভার্মি কম্পোস্ট। গবাদিপশুর বর্জ্য ও বিভিন্ন জৈব উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে এই সার। উদ্যোক্তার কাছে এটি শুধু ব্যবসার একটি খাত নয়; কৃষির ভবিষ্যতের সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘আমাদের মাটিতে জৈব উপাদান কমে যাচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য ঠিক না রেখে কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি চাই, ভার্মি কম্পোস্ট শুধু আমার খামারে নয়, ঘরে ঘরে তৈরি হোক।’বর্তমানে এ প্রকল্পের উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে কেঁচো সার বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

    খামার ঘিরে কর্মসংস্থান

    এমএম এগ্রো এখন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও জায়গা। খামারের বিভিন্ন প্রকল্পে স্থায়ী ও স্থানীয় মিলিয়ে প্রায় আটজন কাজ করছেন। এর বাইরে ভার্মি কম্পোস্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন কাজে আরও স্থানীয় যুবকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    খামার পরিচর্যা কর্মী রবি বলেন, ‘এখানে গরু, মাছ, ভার্মি কম্পোস্ট ও মুরগির প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজে প্রায় আটজন যুক্ত আছি। এর মধ্যে ছয়জন স্থায়ীভাবে কাজ করেন, আর স্থানীয় আরও দুজন রয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বেতন পাই। প্রয়োজন হলে মাস শেষ হওয়ার আগেও বেতন থেকে অগ্রিম নিতে পারি। ঘাস কাটা, গোবর সংগ্রহ, জৈব সার তৈরির উপকরণ সংগ্রহ, মুরগিকে খাবার ও পানি দেওয়া—এসব কাজ করতে হয়।’

    কর্মী রিপন বলেন, ‘আমি এখানে প্রায় এক বছর ধরে কাজ করছি। এই কাজ করে আমার চার সদস্যের পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি। খামারটি যত বড় হবে, তত বেশি মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।’

    পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাজ

    খামারে শুধু পূর্ণকালীন কর্মীরাই নন, পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও কাজ করছেন। পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নিলয় তাঁদের একজন।

    নিলয় বলেন, ‘আমার দাদা এখানে কাজ করেন। তাঁর সঙ্গে আমিও কলেজের সময়ের ফাঁকে ফাঁকে এখানে কাজ করি। এখানে আমার মতো আরও চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী আছে, তারাও পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে।’তিনি বলেন, ‘এই কাজ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে আমরা নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারি। নিজেরা কিছুটা আয় করে পড়াশোনার খরচ দিতে পারছি—এতে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’

    ব্যবস্থাপনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য

    খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বদিউল আলম। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত হন।

    বদিউল আলম বলেন, ‘কে কী কাজ করছে, কোন জায়গায় কী করতে হবে—সবকিছুর দেখাশোনার দায়িত্ব আমার। এক কথায়, পুরো খামার পরিচালনার দায়িত্ব আমি পালন করছি।’

    কেঁচো সার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা যে সার উৎপাদন করছি, কৃষকরা সেটা ব্যবহার করলে ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।’

    ইখতেয়ারের বড় ভাই ইলিয়াস উদ্দিন চুন্নুর চোখে, চাকরির নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছেড়ে কৃষিতে আসার পেছনে তার ভাইয়ের ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই সবচেয়ে বড় বিষয়।

    তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই বিসিএস ক্যাডার ও ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা ছিল। সেই নিরাপদ জায়গাগুলো ছেড়ে নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা থেকেই কৃষিতে এসেছে।’তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখেননি তারা। ইলিয়াস উদ্দিন চুন্নু বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা লাভের মুখ দেখছি না। কিন্তু সে বলে, পিছু হটব না। একবার না পারলে শতবার চেষ্টা করব। দেখতে দেখতে একসময় সফলতা আসবে।’

    কৃষি বিভাগের আশাবাদ

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে-ই-আলম বলেন, ‘ইখতেয়ার উদ্দিনের এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তার উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্টে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন যুবক কাজ করছেন।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষির গুণগত পরিবর্তন ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় জৈব উপকরণও এখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও স্থানীয় যুবকেরা যুক্ত হয়েছেন। ফলে একদিকে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে এটি একটি উৎপাদনশীল কৃষি খামার হিসেবেও গড়ে উঠছে।’

    সামনে আরও বড় স্বপ্ন

    এখনো নিজের উদ্যোগকে সফল বলে মনে করছেন না ইখতেয়ার। বরং ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত কৃষি মডেল গড়ে তুলতে চান তিনি। ভবিষ্যতে ডেইরি ও আরও কিছু কৃষিভিত্তিক প্রকল্প যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘অন্যান্য ব্যবসা থাকার পরও কৃষির প্রতি আমার আগ্রহ বেশি। আমি চাই, এটাকে আরও বড় করা যায়। একদিনে কিছু হয়নি। আস্তে আস্তে একটার পর একটা প্রকল্প যুক্ত করেছি। সামনে আরও বড় করার ইচ্ছা আছে।’

    চাকরির নিরাপদ পথ ছেড়ে কৃষিতে আসা ইখতেয়ারের এমএম এগ্রো এখনো সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছায়নি। তবে মাছ, গরু, মুরগি, ঘাস ও কেঁচো সারকে একই উৎপাদনচক্রে যুক্ত করে তিনি যে পথ তৈরি করছেন, তাতে একদিকে কৃষির নতুন সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ। তাঁর স্বপ্ন—এই ছোট উদ্যোগ একদিন বড় হবে, আর সেই সঙ্গে বড় হবে মাটি ও মানুষের জন্য কিছু করার পরিসর।

  • মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু

    মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে সেচ পাম্প চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আজাহার মন্ডল (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সকালে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজাহার মন্ডল ওই এলাকার তফিল মন্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কৃষক আজাহার মন্ডল নিজের কৃষি জমিতে পানি দেয়ার উদ্দেশ্যে সেচপাম্পের সুইচ চালু করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

    গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • হাটহাজারীতে আমন চাষে বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

    হাটহাজারীতে আমন চাষে বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রোপা আমন চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

    উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আমন চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে পাওয়ার টিলারে জমি চাষ, চারা রোপণ, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি কৃষকদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে।

    চারিয়া এলাকার কৃষক মো. আজগর আলী বলেন, এক কানি জমিতে আমন চাষে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক, সেচ ও ধান কাটাসহ প্রতিটি ধাপেই খরচ হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে প্রয়োজনের সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    মির্জাপুর এলাকার কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘এবার জমি তৈরি, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেশি। ধানের দাম যদি উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে কৃষকের লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে।’

    ধলই ইউনিয়নের কৃষক মো. সেলিম বলেন, ‘আমন চাষে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরিতে। এর সঙ্গে সার ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে। ধানের ভালো দাম না পেলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে।’

    কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় কোথাও কোথাও সার ও কৃষি উপকরণ কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে। তারা সার ও কৃষি উপকরণের বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ টাকা কেজি দামের কিছু সার ৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি তিন টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে সব দোকানে এমন চিত্র দেখা যায়নি।

    হাটহাজারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে হাটহাজারীতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। উপজেলায় সার ও বীজের কোনো সংকট নেই। সার ও বীজের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সার ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা হচ্ছে।

    কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। পাশাপাশি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

    সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

    সারের জন্য কৃষক ভোগান্তিতে থাকলেও, সরকার এসব অভিযোগ এড়াতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ আরও জানান, দুর্বল গুম প্রতিরোধ আইনের প্রতিবাদে ৩০ আগস্ট রাজধানীতে পদযাত্রা করবে বিরোধী জোট।

    বিদ্যুৎ-জ্বালানি-সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জোটের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠকে বসেন বিরোধী জোটের নেতারা। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

    বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত আইনের খসড়া আনছে সরকার। এর প্রতিবাদে আগামী রোববার শাহবাগ থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে বিরোধী জোট।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ৩০ তারিখ গুম প্রতিরোধ দিবস, যেটা আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়, সেটাতে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিব এবং আমরা বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) অধিবেশনে সংসদেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কায়দায় কথা বলব।

  • ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা


    এম এ রহিম, চৌগাছা
    যশোরের চৌগাছায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির
    উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার
    (২৬ আগস্ট দুপুরে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার
    এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার
    ভূমি জি,এম,এ, মুনীব। এ সময় একটি গুদাম থেকে ২৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
    খাইরুল ইসলাম নামে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬
    মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হুসাইন, উপজেলা
    বিএডিসি সার ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউনুচ আলী দফাদার,
    চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও
    চৌগাছা থানা পুলিশ। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা
    হয়েছে।
    এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও
    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির
    হোসাইন পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ১০
    বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ
    করেন। পরে সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সব সার বিক্রি করা হয়। বিক্রির
    টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু
    চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) ২ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
    এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খাইরুল
    ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত খাইরুল
    ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে।
    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিয়িমিত সরকারি সার
    কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও
    ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর
    নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, জব্দ করা সার প্রকৃত
    কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
    ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব বলেন, কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো
    অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এ,আর

  • চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    যশোরের চৌগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার জব্দের পর অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে খাইরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    এ সময় জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এই বিপুল পরিমান সার জব্দ ও জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ, মুনিবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ইউনূস আলী দফাদারসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযানকালে খাইরুল ইসলাম তার সার বিক্রেতা হিসেবে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অথচ তার দোকানে ২৮ বস্তা এমওপি, ১৪৭ বস্তা টিএসপি, ৯ বস্তা ডিএপি এবং ৮৭ বস্তা ইউরিয়া সর্বমোট ২৭১ বস্তা সার গুদামজাত করা ছিলো। যার খুচরা বিক্রয় মূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা।

    পরে সার জব্দ করে সরকারি নায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

    আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরেই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বসলেন ত্রিবেদী এছাড়া বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমান সার মজুদ করার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী ২০,০০০ ( বিশ হাজার) টাকা জরিমানা অথবা একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দেন। পরে খাইরুল ইসলাম জরিমানা পরিশোধ করেন। একইসাথে তিনি ভবিষ্যতে অবৈধভাবে সার মজুদ বা ব্যবসা করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

  • ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সবজি ক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: আলেফ (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আলেফ ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আলেফ অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন ছিলেন। তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে সবজির চারা উৎপাদন এবং তা স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

    প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি দনিজের নার্সারিতে চারাগাছে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে সন্তানদের লেখাপড়াসহ পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারটি আগলে রেখেছিলেন আলেফ। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আজ পুরোপুরি অসহায়। এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • চৌগাছায় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ

    চৌগাছায় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় কালো বাজারে পাচারের সময় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
    সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে চৌগাছা পৌরসভার চাঁদপুর মোড় এলাকায় স্থানীয় জনগণ সারগুলো আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়।

    স্থানীয়রা জানান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নসিমনে করে সারগুলো ঝিকরগাছার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা নসিমনটি আটক করেন।

    খবর পেয়ে চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চৌগাছা শহরের ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম অবৈধভাবে সারগুলো মজুদ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সেখান থেকেই সারগুলো অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। পরে খাইরুল ইসলামের দোকানে অভিযান চালানো হলেও দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন এঘটনায় সাইফুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হবে।

    এদিকে, পৌরসভার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল ইসলাম।

    এর আগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সারের সংকট নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারের অবৈধ মজুদ ও পাচারের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, অথচ এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরকারি সার অন্যত্র পাচার হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, সারের সংকটের মধ্যে সরকারি সার কীভাবে পাচার হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন?

    স্থানীয়দের দাবি, শুধু পরিবহনকারী বা নসিমন চালককে আটক না করে সরকারি সার অবৈধভাবে মজুদ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদেরও তদন্তের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

  • সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন।

    শাহীন সরকার (৬০) উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা এসব সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ২৮ বস্তা জিপসাম, ১৬ বস্তা ডিএপি, ১৩ বস্তা টিএসপি ও ২ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। এসব সারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।

    তবে শাহীন সরকার বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষক। বাড়িতে রাখা এসব সার বিক্রির উদ্দেশ্যে বা অবৈধভাবে মজুত করা হয়নি। রোপা আমন জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। ’

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কেউ অবৈধভাবে মজুত করলে বা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঘুগরাগাছি গ্রামে ২১ পারা কোরআনের হাফেজ কিশোর সিহাব হোসেন (১৪) গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।

    নিখোঁজ সিহাব হোসেন ঘুগরাগাছি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর মণ্ডলের ছেলে। সে আন্দুলবাড়ীয়া পারেশ শাহ দরগা মাদরাসার ছাত্র। পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় সিহাব। তবে পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সে মাদরাসায় পৌঁছায়নি।

    এরপর পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সিহাবের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সিহাবের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। সন্তানের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় জিডি করা হয়েছে (জিডি নম্বর-১২০০, তারিখ: ২৫-০৮-২৬)। পরিবারের পক্ষ থেকে সিহাবকে দ্রুত খুঁজে পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

    কেউ সিহাব হোসেনের সন্ধান পেয়ে থাকলে অথবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তার ভাই শিলন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    যোগাযোগ: শিলন হোসেন, মোবাইল: ০১৯৯০৩৬৭৮৩, ০১৭৩৪-৫২৭৪৮২।

  • সার সংকটে কৃষকের কাহিল অবস্থা, উৎপাদন ব্যাহত

    সার সংকটে কৃষকের কাহিল অবস্থা, উৎপাদন ব্যাহত

    কয়েকদিন ধরে চলা সার সংকট এখনো কাটেনি। মাঠপর্যায়ে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না কৃষক। এতে কাহিল অবস্থা তাদের, কৃষি উৎপাদনে পদে পদে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। চলমান এ সার সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে চলতি বছরের আমন উৎপাদনে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন কম হলে সরকারের আমদানিনির্ভরতা বাড়বে।

    এদিকে সার সংকট পরিস্থিতি উত্তরণে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) তদারকি জোরদারের নিদের্শনা দিয়ে গত শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিন উচ্চপর্যায়ের আরেকটি তদারকি কমিটিও গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।সূত্র জানায়, ইউরিয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নন ইউরিয়ার (টিএসপি ও ডিএপি) তীব্র সংকট চলছে। রোপা আমন ও বীজতলার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়ার সঙ্গে ওই দুটি সারের যেকোনো একটি মিশিয়ে কৃষিজমিতে ব্যবহার করেন কৃষক। তাদের যুক্তি—এর ফলে ফসলের উৎপাদন বাড়ে। এ কারণে টিএসপি ও ডিএপির জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন তারা। কিন্তু বাড়তি দামেও মিলছে না ওই দুটি সার। ফলে ফসল উৎপাদনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন খোদ কৃষকই।

    কুড়িগ্রামের আদিতমারীর কৃষক রোকনুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, টিএসপি ও ডিএপি সার লাইনে দাঁড়িয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলার বলছেন, তাদের সরবরাহ করা হচ্ছে না। অথচ ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২৭ টাকা), টিএসপি সার ১,৩৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২৭ টাকা) এবং ডিএপি সার ১,০৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২১ টাকা)। কিন্তু কিনতে গেলে বলা হচ্ছে সার নেই। বস্তাপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দিলেও চাহিদার চেয়ে কম দেওয়া হচ্ছে। রোপা আমনে বীজতলার জন্য ইউরিয়ার বাইরে অন্য কোনো সারের চাহিদা থাকে না।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের কৃষক আলম অভিযোগ করে আমার দেশকে বলেন, সার দিতে পারছে না বলেই ওই অজুহাত দাঁড় করানো হচ্ছে। ইউরিয়ার সঙ্গে নন ইউরিয়া মিশিয়ে জমিতে দেওয়া হলে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ফসল বেশি উৎপাদন হয়। টিএসপি ও ডিএপির সংকট থাকায় ইউরিয়ার সঙ্গে পটাশ জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে জমিতে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।

    মেসার্স আজমেরী ট্রেডাসের মালিক (সার ডিলার) আজমীর আলম পলাশ আমার দেশকে বলেন, সরকার থেকে মাসের প্রথমদিকে সার সরবরাহ করা হয়। এটা ১৫ দিন পর্যন্ত কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া যায়। এরপর থেকে সারের সংকট তৈরি হয়। এখন কিছুটা ক্রাইসিস রয়েছে। বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, অনেকেই আমাদের পরিচিত। এ সম্পর্কের কারণে দৈনিক কিছু কিছু সার কেনেন। দেখা যায়, এখান থেকে সরকারি মূল্যে সার কিনে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করেন। এর দায় আমাদের না।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোপা আমন ও এর বীজতলার জন্য ইউরিয়ার প্রয়োজন হয়। এর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, কিন্তু এ সময়ে টিএসপি ও ডিএপির দরকার নেই। কিন্তু কৃষকরা ওই দুটির জন্য চাহিদা দিচ্ছেন। এতে মাঠপর্যায়ে সার সংকট নিয়ে হইচই পড়েছে। এ হযবরল অবস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এজন্য দায়ী ডিলাররা।

    বতর্মান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সার ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর আলোকে ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়ায় পুরোনো ডিলাররা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করছে। এর সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থীরাও যোগ দেওয়ায় সংকট প্রকট হয়েছে।

    রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, রবি মৌসুমে টিএসপি ও ডিএপির চাহিদা থাকে। এ সময়ে ইউরিয়ার চাহিদাও থাকে। সারের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে, কিন্তু কিছু ডিলার সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্তিতিশীল করে তুলেছে। এতে ভীত হয়ে কৃষক আগাম টিএসপি ও ডিএপি কিনতে ভিড় করছেন। ফলে নন ইউরিয়া সারের সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বেশি আসায় তাদের প্রত্যাশিত সার পাচ্ছেন না কৃষক।

  • মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে হাজার টাকা

    মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে হাজার টাকা

    মাঠজুড়ে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার ব্যস্ততা। কোথাও আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে, কোথাও হাটে উঠছে নতুন পাট। চলতি মৌসুমে নড়াইলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে, আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে। ফলে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময়ই বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাটের দাম মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। বর্তমানে মাঝারি মানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে।

    নড়াইল কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায়। সেখানে ১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। নড়াইল সদরে ৬ হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়ায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

    জেলার বিভিন্ন বিল ও মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে নলদী বাজার, শিয়ারব হাট, মিঠাপুর, লাহুড়িয়া, বড়দিয়া, মাইজপাড়া, লোহাগড়া, কালিয়া ও তুলারামপুরসহ বিভিন্ন হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
    কৃষকেরা বলছেন, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, শ্রমিক, নিড়ানি, কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। ভালো ফলন হলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই খরচ তুলে আনা নিয়ে এখন শঙ্কায় তাঁরা।

    এড়েন্দা মোকামের ফড়িয়া সুজন ও মিরাজ ফকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে যে দরে পাট কেনাবেচা হয়েছে, বর্তমানে তা মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। এখন মাঝারি মানের পাট ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
    নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া গ্রামের কৃষক দীপক রায় বলেন, ‘এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। যদি পাটের বাজারদর ঠিক না থাকে, তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নেই। সরকারের কাছে আবেদন, পাটের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হোক।’

    পাটের আঁশের দাম কমলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষকেরা কিছুটা বাড়তি আয় করছেন। জেলার বিভিন্ন হাটে পাটকাঠিরও কেনাবেচা চলছে।
    কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নড়াইলে পাটকাঠি কিনতে আসছেন। এসব পাটকাঠি পানবরজে ব্যবহার করা হয়।
    ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। তবে পাটের প্রধান উৎপাদিত পণ্য আঁশের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক হিসাবে কৃষকের প্রত্যাশিত আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
    নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মতো উন্নতমানের বীজ, সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়ায় জেলায় পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে।’
    তিনি জানান, পাটের গুণগত মানোন্নয়নে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • পানের জমিতে চুইঝাল চাষের নতুন সম্ভাবনা

    পানের জমিতে চুইঝাল চাষের নতুন সম্ভাবনা

    একসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রান্নার মসলা হিসেবে পরিচিত ছিল চুইঝাল। এখন সেই চুইঝাল ঢুকে পড়ছে রাজশাহীর কৃষকের মাঠেও। পরীক্ষামূলক চাষের ধাপ পেরিয়ে রাজশাহী ও নাটোরে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক চাষ। দাম ভালো, বাড়তি জমির প্রয়োজন নেই এবং পানের মতোই চাষপদ্ধতি হওয়ায় ফসলটি নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চান্দোপাড়ায় ইতিমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চুইঝাল চাষ করছেন কৃষক আব্দুর রশিদ মোল্লা। বাড়ির পাশে আমগাছের নিচে প্রায় ১০ শতক জমিতে চুইঝালের গাছ লাগিয়েছেন। জমিতে গাছগুলো বেশ সতেজ ও সবল হয়ে বেড়ে উঠছে।

    কৃষক আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, ‘মোহনপুর কৃষি অফিস ও রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের সহযোগিতায় চুইঝাল চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। পানের চাষের অভিজ্ঞতা থাকায় চুইঝালের পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ মনে হয়েছে। এখন পর্যন্ত গাছে কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন করে গ্রামের অন্য কৃষকদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চুইঝালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে। বাজারে দামও ভালো। আমাদের এলাকায় এখনো বড় বাজার তৈরি হয়নি। তবে হর্টিকালচার সেন্টার বাজারদরে চুইঝাল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।’

    কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মোহনপুরে পানের চাষ ভালো হওয়ায় চুইঝালের জন্য এলাকাটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। চুইঝালের চাষপদ্ধতিও অনেকটা পানের মতো। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এখানে পরীক্ষামূলকভাবে চুইঝালের চাষ শুরু করা হয়। প্রায় দুই বছর পর এর ফলন ও গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হওয়ায় এখন চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    চুইঝাল মূলত লতাজাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর কাণ্ড, শিকড় ও ডাল রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে গরু, খাসি, হাঁস ও মুরগির মাংসে চুইঝালের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। রান্নায় এটি যোগ করলে খাবারে ঝাঁঝালো স্বাদ ও আলাদা ঘ্রাণ তৈরি হয়।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে চুইঝাল দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মসলা। বাজারেও এর চাহিদা বাড়ছে। মানভেদে শুকনা চুইঝাল প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। কাঁচা ও শুকনা দুই অবস্থাতেই বাজার রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস এখন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে চুইঝালের সঙ্গে তেমন পরিচয় ছিল না। স্থানীয়ভাবে চাষ হচ্ছে জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজ নিয়ে এর জনপ্রিয়তার কথা জানতে পারি। আমাদের এলাকায় যখন চুইঝাল হচ্ছে, আমরাও এখন মাংসে দিয়ে খেয়ে দেখব।’

    শুধু উৎপাদন নয়, চারা নিয়েও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক শামীম ইকবাল জানান, সেখানে চুইঝালের চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি চুইঝালের কাটিং চারা ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

    তবে চুইঝাল চাষের জন্য তুলনামূলক উঁচু জমি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

    রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ছাইয়্যেদা দিল ছালিন বলেন, ‘মোহনপুরে পরীক্ষামূলকভাবে চুইঝাল দেওয়ার পর ফলন ও বৃদ্ধি ভালো পাওয়া গেছে। নাটোরেও চাষ হচ্ছে। পান ও চুইঝালের চাষপদ্ধতিতে মিল থাকায় মোহনপুরকে চাষ সম্প্রসারণের জন্য উপযোগী মনে করা হয়েছে।’

  • সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব   কান্না

    সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    ‘পাট-পেঁয়াজের রাজধানী’খ্যাত ফরিদপুরের সালথায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। মনপ্রতি উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত দরে। তার ওপর সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মাচায় পচে যাচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট চাষির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার এবং মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। পেঁয়াজ মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি কৃষক মোট জমির ৯০/৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে। এই মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১২৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে প্রায় ১১৫০০ হেক্টর। মুড়িকাটা ২০০ ও পেঁয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে দাম নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের দাম মন প্রতি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। অনেকেই মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তা মজুদ করে রেখে দেয় মৌসুমের শেষে বিক্রি করতে। তবে এবছর আর তা সম্ভব হয়নি, প্রায় ৪০/৫০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে মাচায়। এমতাবস্থায় পেঁয়াজ চাষে কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পেয়াজের দাম বাড়ানোর কথা বলেন সবাই। অনেকেই আবার পেয়াজ আমদানি না করার কথা বলেন।

    সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজের ব্যাপারী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি এবং মোকামে চাহিদা কম থাকায় আজকে পেঁয়াজের বাজার নিচের দিকে। আজ ৭০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। চিকন বা ছোট পেয়াজ ১৬০০ থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। হয়তো আগামী মাসের প্রথম দিকে দাম বাড়তে পারে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে পেঁয়াজ বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। আশা করছি কৃষক পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

  • আখের নতুন জাত ও জৈব সার উৎপাদনে সাফল্য

    আখের নতুন জাত ও জৈব সার উৎপাদনে সাফল্য

    ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চিনি কারখানার ক্ষতি হ্রাস, কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উথলী ইউনিটে স্থানীয় আখ চাষী শামীমের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শনকালে এমডি রাব্বিক হাসান বলেন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির অন্যতম প্রধান অঙ্গ চিনি কারখানার লোকসান বিগত সময়ের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মূল কাঁচামাল আখের সরবরাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে চাষীদের সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, সরকার প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করেছে। আসন্ন মাড়াই মৌসুমে কৃষকরা এই বর্ধিত মূল্য পাবেন। এছাড়া ফলন বাড়াতে ৮২টি প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে নতুন জাতের আখের পরীক্ষামূলক উদ্ভাবন কার্যক্রম চলছে।

    প্রতিষ্ঠানের সার্বিক আর্থিক চিত্র তুলে ধরে এমডি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। চিনি কারখানা ব্যতিত অন্য সবকটি ইউনিটই লাভে রয়েছে—যার মধ্যে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি টাকা, বাণিজ্যিক খামার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং পরীক্ষামূলক খামার থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ অর্জিত হয়েছে।

    বিশেষ করে জৈব সার ‘সোনার দানা’ বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সার বিক্রি থেকে এবার ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী হওয়ায় চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের কৃষকরা এটি ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন।

    কৃষকদের দেশের ‘প্রাণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্য মূল্যের সমন্বয়ে কৃষক ও প্রতিষ্ঠান—উভয়েই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
    অনুষ্ঠানে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কৃষি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমান, ডিএম (সম্প্রসারণ) মাহাফুজুল আলম, সিডিএ সাকী মাহমুদ ও স্থানীয় আখ চাষী শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

  • সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    পাট-পেঁয়াজের রাজধানী’খ্যাত ফরিদপুরের সালথায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। মনপ্রতি উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত দরে। তার ওপর সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মাচায় পচে যাচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট চাষির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার এবং মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। পেঁয়াজ মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি কৃষক মোট জমির ৯০/৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে। এই মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১২৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে প্রায় ১১৫০০ হেক্টর। মুড়িকাটা ২০০ ও পেঁয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে দাম নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের দাম মন প্রতি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। অনেকেই মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তা মজুদ করে রেখে দেয় মৌসুমের শেষে বিক্রি করতে। তবে এবছর আর তা সম্ভব হয়নি, প্রায় ৪০/৫০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে মাচায়। এমতাবস্থায় পেঁয়াজ চাষে কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পেয়াজের দাম বাড়ানোর কথা বলেন সবাই। অনেকেই আবার পেয়াজ আমদানি না করার কথা বলেন।

    সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজের ব্যাপারী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি এবং মোকামে চাহিদা কম থাকায় আজকে পেঁয়াজের বাজার নিচের দিকে। আজ ৭০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। চিকন বা ছোট পেয়াজ ১৬০০ থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। হয়তো আগামী মাসের প্রথম দিকে দাম বাড়তে পারে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে পেঁয়াজ বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। আশা করছি কৃষক পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

  • গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা : রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

    গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা : রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত দু’জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চোরাই অটোরিকশা ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে মো: কিবরিয়া (৪২) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পিবিআই জানায়, নিহত আতাউর রহমান আতা (৬০) কাপাসিয়া উপজেলার মিজজানগর এলাকার একজন কৃষক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। রাত ৮টার আগে সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও মিজজানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্জন কলাবাগানের সামনে ছিনতাইকারীরা তাকে আটক করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তার অটোরিকশা ও একটি বাটন মোবাইলফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

    এদিকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে আতাউর রহমানের ৭৫ বছর বয়সী মা জহুরা খাতুনও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো: মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে পিবিআইয়ের একটি দল তদন্ত শুরু করে। অ্যাডভান্সড আইসিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে কাপাসিয়ার চালার বাজার ও নরোত্তমপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া ‍দু’জন হলেন— কাপাসিয়া থানার ভাগটিয়া চালার বাজার গ্রামের রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৯) ও মিজজানগর এলাকার নাছির উদ্দীনের ছেলে নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)।

    তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী থানাধীন হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকান থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। চোরাই অটোরিকশাটি ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে দোকানের মালিক মো: কিবরিয়াকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির নগদ ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার রাজীব খান ও নকিবুল হাসান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন এবং নকিবুলের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় আতাউর রহমানকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়া হয়।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ আগস্ট বিকেলে আতাউর রহমানকে ফোন করে ডেকে নির্জন কলাবাগানের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রশি দিয়ে গলা চেপে ধরে এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি নরসিংদীর হাতিরদিয়া এলাকায় ধুয়ে পরিষ্কার করে কিবরিয়ার কাছে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

    পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার বলেন, ‘একজন নিরীহ অটোরিকশাচালককে হত্যা এবং তার পরপরই শোকাহত মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। অপরাধীরা ভেবেছিল নির্জন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পার পেয়ে যাবে। কিন্তু পিবিআইয়ের পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা মূল আসামিদের গ্রেফতার ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সাথে আরো কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে আদালতে যথাযথ চার্জশিট দাখিলের জন্য তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’

    মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

  • গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

    গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেছেন কৃষকরা। রোববার সকালের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

    লুট হওয়া সার উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কিছু সার কৃষকরা ফিরিয়ে দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

    জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সারের নীরব সংকট চলছে। শিলখুড়ি ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, তারা বারবার চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত সার পাচ্ছিলেন না। ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামে সার না দিয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’ বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কৃষকরা বারবার ডিলারের গুদামে গিয়েও সার পাচ্ছিলেন না। ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম ভেঙে ইউরিয়া সার নিয়ে যান।

    পরে খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে কিছু সার কৃষকরা ফেরত দিয়ে যান।

    এ বিষয়ে ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কৃষকদের নিয়ে যাওয়া ১৯০ বস্তা সারের মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় কিছু সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, ‘ওই ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে এবারের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন ওই ডিলার। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সার বিতরণ চলাকালীন কিছু উশৃঙ্খল জনতা ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯০ বস্তা সার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে।

    ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘আমি এবং সার্কেল এএসপি ঘটনাস্থলে আছি। লুট হওয়া সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

  • বৃটেনের সহায়তা কমছে ৫০ শতাংশের বেশি

    বৃটেনের সহায়তা কমছে ৫০ শতাংশের বেশি

    বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কমিয়ে দেয়ায় বাংলাদেশে বৃটেনের অর্থায়নে পরিচালিত সুন্দরবনভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকল্পটির আওতায় থাকা প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রত্যাশিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ইতোমধ্যে নেয়া কিছু উদ্যোগও কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়বে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


    বৃটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ২০২৩ সালে সুন্দরবন এলাকায় প্রকল্পটি শুরু করে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলার কথা থাকা প্রকল্পটির আওতায় সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মাছ চাষের প্রযুক্তি এবং ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। লক্ষ্য ছিল ৫৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো। কিন্তু অর্থ কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত

    প্রকল্পটির জন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার কথা থাকলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এর তুলনায় ‘অনেক কম’ অর্থ পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের জুনের মধ্যে প্রকল্প বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। পরে তদবিরের পর সময়সীমা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের প্রকল্পটি বৃটেন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহায়তা কমানোর বৃহত্তর সিদ্ধান্তের অংশ। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশে বৃটেনে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা ৬৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে কমে ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডে নামবে- অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি কমছে।
    একই সময়ে বৃটেনের সামগ্রিক বৈদেশিক সহায়তা বাজেট জিএনআইয়ের ০.৫ শতাংশ থেকে ০.৩ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক প্রধান তামান্না রহমান বলেন, আকস্মিকভাবে প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তৈরি হওয়া আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রকল্পের সুফল টেকসই করার সুযোগও কমে গেছে।

    এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা বিনা মণ্ডল একটি সৌর প্যানেল পেয়েছেন। এতে রাতেও কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তার পরিবারের মাছ ধরার আয় মাসে প্রায় ২-৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪-৫ হাজার টাকায় উঠেছে। আরেক বাসিন্দা বাসন্তী মণ্ডল সৌরচালিত ধান ভাঙানোর মেশিন পেয়ে বাড়িতে বসে আয় করার সুযোগ পেয়েছেন।


    প্রকল্প বন্ধের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেঁদেছেন, আবার কেউ বুঝতে পারেননি- যখন উদ্যোগগুলো সুফল দিতে শুরু করেছে, তখন কেন সহায়তা বন্ধ হচ্ছে।


    এ ছাড়া বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে ১৪০ জন উদ্যোক্তার একটি প্রকল্প নিয়ে। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও এখন প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে তারা আবার ‘শূন্য অবস্থায়’ ফিরে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন।


    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বলছে, প্রকল্পের ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে নতুন অনুদান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের নোটিশে প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ায় নতুন অর্থায়ন খোঁজার সময়ও পাওয়া যায়নি।


    বৃটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটির চেয়ার সারাহ চ্যাম্পিয়ন বলেছেন, এভাবে প্রকল্প দুই বছর আগে বন্ধ করে দেয়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিম্নআয়ের দেশগুলোর পাশে থাকার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। এতে বৃটিশ করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং লন্ডনের আন্তর্জাতিক সুনাম- দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    অন্যদিকে বৃটেনের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস তথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এফসিডিও) বলেছে, তারা উচ্চমাত্রার অনুদানভিত্তিক বৈদেশিক সহায়তা থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্বে বেশি গুরুত্ব দেবে।
    তাদের দাবি, এর মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, অর্থায়ন বাড়ানো এবং সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

  • সার সংকটে দিশেহারা রাজশাহীর আমন চাষিরা

    সার সংকটে দিশেহারা রাজশাহীর আমন চাষিরা

    আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যস্ত সময়ে রাজশাহীর কৃষকদের নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সার। এক ডিলারের দোকানে সার না পেয়ে অন্য ডিলারের কাছে ছুটছেন কৃষকেরা। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদার তুলনায় সামান্য সার মিলছে, আবার কোথাও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এ সুযোগ নিয়ে সরকারি দামের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দরে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

    গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নজরুল ইসলামের দোকানে সারের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দেওপাড়া গ্রামের কৃষক আল্লাম জানান, সকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাজীহাটা গ্রামের কৃষক বাবলু ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নিজের এলাকার ডিলারের কাছে ইউরিয়া না পেয়ে দেওপাড়ায় এলেও মাত্র ২০ কেজি সার দেওয়ার কথা শুনে তিনি সার না নিয়েই বাড়ি ফেরেন।

    পবার ভিমের ডাইং গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ ডিএপি না পাওয়ার কথা জানান। গোদাগাড়ীর কদমশহরের কৃষক রাশিদুল ইসলামও নিজের এলাকার ডিলারের কাছে সার না পেয়ে অন্য এলাকায় ছুটেছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু ইউরিয়া দিলে ধানের ফলন ঠিক রাখা কঠিন।’ একই এলাকার আকবর আলী দুই বস্তা ইউরিয়া পেলেও ডিএপি পাননি।

    চারঘাটেও একই চিত্র। ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আকাশ এন্টারপ্রাইজে টিএসপির জন্য কৃষকদের ভিড় দেখা যায়। কেউ

    এক বস্তার বদলে ২৫ কেজি, আবার কেউ দুই বস্তার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৫ কেজি সার পেয়েছেন।

    ডিলারের কর্মচারীর দাবি, ১০ মেট্রিক টন টিএসপি পাওয়ার পর অবশিষ্ট ছিল মাত্র ২৯ বস্তা। তাই সবাইকে অল্প অল্প করে দেওয়া হচ্ছে।

    সারের সংকটের পাশাপাশি বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাটে এক কৃষক ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনেছেন, যেখানে সরকারি মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা। একই দোকানে ইউরিয়া বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডিএপি ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রাজশাহীতে ইউরিয়ার বরাদ্দ ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৭২৪ টন। ডিএপির ২ হাজার ৬৪৭ টনের বিপরীতে এসেছে ২ হাজার ১৮২ টন। টিএসপির ১ হাজার ৫১১ টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৪০ টন এবং এমওপির ১ হাজার ৭৬০ টনের বিপরীতে এসেছে ১ হাজার ৪৯৬ টন।চলতি আমন মৌসুমে রাজশাহীতে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর বাইরে জেলার প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টর পুকুরে মাছ চাষেও সার ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষিজমির বরাদ্দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম। বেশি দামে সার বিক্রি বা অবৈধ মজুদের অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের দাবি, রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কোথাও বেশি দামে বিক্রি বা পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    মাঠে সার না পাওয়ার তথ্য পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    গত কয়েক দিনে পবা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও চারঘাটে অভিযান চালিয়ে সার বাইরে বিক্রি ও অবৈধ মজুদের অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবসহ তিন সচিব পদে পরিবর্তন

    রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবসহ তিন সচিব পদে পরিবর্তন

    সরকারের তিন সচিব পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ১১ দিন আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব হিসেবে বদলি করা রফিকুল আই মোহাম্মদকে আবারও বদলি করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত এই কর্মকর্তাকে এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাৎ শওকত রশীদ চৌধুরীকে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে। আর ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে ১০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব পদে পরিবর্তন করেছিল সরকার। চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োজিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব (চুক্তিভিত্তিক) করা হয়েছিল। আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়।

    অন্যদিকে সেদিন পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমীনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

  • তরমুজ চাষে সফল কলাপাড়ার সেলিম

    তরমুজ চাষে সফল কলাপাড়ার সেলিম

    দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটায় সমুদ্রতীরবর্তী উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বেড়েছে ছাদ কৃষি ও সেই সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে তরমুজের চাষ। আবহাওয়া ও পরিবেশ তরমুজ চাষের বেশ উপযোগী। আর সেখানে অসময়ে ব্ল্যাক বেবি জাতের কালো রঙের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো: সেলিম গাজী।অসময়ে থোকায় থোকায় মাচায় মাচায় ঝুলছে কালো রঙয়ের তরমুজ। ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। শখের বশে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন সেলিম। সেই তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক জনতা। তার সাফল্য দেখে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্যরাও।কথা হয় কৃষক সেলিম গাজীর সাথে। তার তরমুজ চাষ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছাদে বস্তায় মাটি ও গরুর গোবর দিয়ে সার তৈরি করে তা দিয়ে প্রথমে পলিথিনে তরমুজে বীজ চারা করি। এরকম ৫০টি থানা চারা ছাদে রোপন করি। প্রথম দিকে বৃষ্টিতে চারা নষ্ট হয়ে যায়। ২৫টি থানা চারা ভাল ছিল। তাতেই ৪০ পিছ তরমুজ হয়েছে।’

    তরমুজ বিক্রির টাকা তার পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতিটি তৈরিতে শুরুতে একসাথে কিছুটা খরচ বেশি হলেও পরবর্তী সময়ে খরচ হয় খুবই কম। এ ছাড়া আগাছা হয় না বলে পরিষ্কারের কোনো ঝামেলা নেই। দফায় দফায় সার দেয়ার ঝামেলাও নেই।’

    কৃষক সেলিম গাজীর ভাষ্য মতে, অনলাইনের মাধ্যমে বীজ ক্রয় করে জৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিকে তিনি চারা রোপন করেন। ইউটিউবের মাধ্যমে তরমুজ চাষের বিস্তারিত এবং সার ও ওষুধ দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ পান। এরপর প্রায় সাত হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তরমুজ, শসা, করলা, লাউ ছাদে চাষ করেন। বীজের চারা গজালে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচায় চারা তুলে দেন। এভাবেই তিনি খেত প্রস্তুত করেন।

    বর্তমান তরমুজ শেষ হলে সামনে ৫০ থানা জিওব্যাগের মাধ্যমে আরো বড় আকারে তরমুজ চাষ করবেন বলে তিনি জানান।

    ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে একটি ছাদে চার আকৃতির মাচার ওপরে সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে প্রায় ২৫ থানা গাছে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ।

    স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস গাজী বলেন, ‘সেলিম গাজী একজন আদর্শ কৃষক। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। এলাকায় বিষমুক্ত সবজি, নানা রকম ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েছেন।’

    কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মালচিং পদ্ধতি তরমুজ চাষাবাদ করা ভালো। আর তরমুজ একটি লাভজনক ফসল।’

  • আগাম শিম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

    আগাম শিম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের চণ্ডিপাশা চরপাড়া গ্রামের কৃষকদের কাছে আগাম শিম এখন শুধু একটি সবজি নয়, বাড়তি আয়ের অন্যতম পথ। অল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে চাষ করে কয়েক গুণ বেশি আয় করার সুযোগ থাকায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষ।

    স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আট থেকে দশ বছর আগে এ গ্রামে আগাম জাতের শিম চাষ শুরু হয়। প্রথম দিকে কয়েকজন কৃষক পাবনা থেকে বীজ এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। ফলন ও লাভ ভালো হওয়ায় তাঁদের সাফল্য দেখে অন্যরাও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন গ্রামের অনেক কৃষকই আগাম শিম চাষ করছেন। কেউ কেউ নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করে পরের বছর জমিতে ব্যবহার করছেন।কৃষক গিয়াস উদ্দিন জানান, এবার ২০ শতক জমিতে আগাম শিম চাষ করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। জমিতে আরও প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে তাঁর আশা।

    ২০ শতক জমি থেকে তাঁর মোট বিক্রি হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিলে লাভের পরিমাণও দাঁড়াবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে। গিয়াস উদ্দিন বলেন, গত সাত বছর ধরে তিনি আগাম জাতের শিম চাষ করছেন। প্রতিবছরই ভালো ফলন ও দাম পাওয়া যায়। এ কারণে এখন তিনি নিয়মিত এ জাতের শিম চাষ করেন। গিয়াস উদ্দিনের পাশের জমিতেই আগাম শিম চাষ করেছেন ফারুক মিয়া। ৩৫ শতক জমিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা। এরই মধ্যে তিনি ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। জমিতে আরও প্রায় দুই লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

    ফারুক মিয়া বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি আগাম শিম চাষ করছেন। আগাম শিম বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। তাই অন্য ফসলের তুলনায় এ চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি

    শুধু গিয়াস উদ্দিন ও ফারুক মিয়া নন, একই গ্রামের কৃষক ফয়সাল মিয়াও ২৬ শতক জমিতে আগাম শিম চাষ করে কয়েকগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তাঁদের সাফল্য দেখে গ্রামের আরও অনেক কৃষক এ চাষে যুক্ত হয়েছেন।

    আগাম শিম চাষের শুরুটাও ছিল একেবারে স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে। প্রথম দিকে পাবনা থেকে বীজ এনে চাষ করতেন তাঁরা। পরে চাষের অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের জমির ভালো শিম থেকে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ শুরু করেন।

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চণ্ডিপাশা এলাকার মাটি গ্রীষ্মকালীন আগাম শিম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সবজি প্রণোদনা, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে কিভাবে ফসলকে রক্ষা করবে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

  • মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, শপথ আজ

    মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, শপথ আজ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরো চারজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। আজ রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় আরো রদবদল হতে পারে। এর অংশ হিসেবে বিমান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গভবনের দরবার হলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানান, শপথ অনুষ্ঠানের সব আয়োজন শেষ হয়েছে এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১২০০-এর বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

  • গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে অবৈধভাবে পাচারকালে ২০ বস্তা সারসহ একটি অটোভ্যান আটক করেছে স্থানীয় কৃষকরা। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সারগুলো উদ্ধার করে এবং অটোভ্যান চালককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে উদ্ধার করা সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধানখোলা বাজার থেকে আজান যাওয়ার পথে ধানখোলা ইউনিয়নের যুগিন্দা বাজার থেকে সারগুলো উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি গাংনী উপজেলায় সারের সঙ্কট দেখা দেয়ায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সার পাচারের খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা যুগিন্দা বাজারে সারবোঝাই একটি অটোভ্যান আটকিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২০ বস্তা সার উদ্ধার করেন। এ সময় অবৈধভাবে সার পরিবহনের অভিযোগে অটোভ্যানচালক শাহাবুল ইসলামকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। অটোভ্যান চালক থেকে আদায় করা জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

    এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দের সার যেন কোনোভাবেই অন্যত্র পাচার না হয় এবং নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

  • চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল কৃষকের লাশ

    চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল কৃষকের লাশ

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর মো. মফিজুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের হরিন্দীয়া ঝামাঘাটা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মফিজুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন মফিজুল।

    এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

    বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মফিজুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

    খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, চার দিন নিখোঁজ থাকা মফিজুল ইসলামের লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

    মফিজুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • ভুল আগাছানাশকে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট

    ভুল আগাছানাশকে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ধানক্ষেতে আগাছা দমনের জন্য কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগের পর কৃষক মো. কামরুজ্জামানের ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

    ভুক্তভোগী কৃষক কামরুজ্জামান উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আব্দুর জব্বার সরকারের ছেলে। অভিযুক্ত কীটনাশক বিক্রেতা মো. মাহবুর মিয়া একই ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মো. নয়া মিয়ার ছেলে।

    কৃষক কামরুজ্জামানের অভিযোগ, ধানক্ষেতে আগাছা দেখা দেওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পেয়ে মাহবুর মিয়ার কীটনাশকের দোকানে গিয়ে ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চান। তখন দোকানদার তাকে ‘এরাক্সন ২০০ এসএল’ নামের ১০০ মিলিলিটারের একটি ওষুধ দেন। পরে দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট সেটি ধানক্ষেতে প্রয়োগ করেন তিনি।

    কৃষকের দাবি, ওষুধ প্রয়োগের পরদিন থেকেই ধানের চারা মরে যেতে শুরু করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানালে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়।

    কামরুজ্জামান বলেন, “আমি ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চেয়েছিলাম। দোকানদারের পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে দিয়েছি। পরদিন দেখি ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এখন আমার ১৫ শতক জমির প্রায় সব ধানই নষ্ট হয়ে গেছে।”তবে কীটনাশক বিক্রেতা মাহবুর মিয়া বলেন, “আমি ওষুধ দিতে ভুল করিনি। কারণ, সে আমার কাছ থেকে খাওনা বাড়ির (ফাঁকা জমি) ঘাস মারার কথা বলে ওষুধ নিয়েছিল।”

    সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, “বিষয়টি জানার পর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছি। সব ধানের চারা মারা গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি।”

    সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওষুধটি ও এর প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বিক্রি করা যায় না। ওই বিক্রেতার লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে “

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “অভিযোগ এখনো তার কাছে আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • ছাদ বাগানে সবুজের হাতছানি

    ছাদ বাগানে সবুজের হাতছানি

    ইট-পাথরের শহরে সবুজের ছোঁয়া এনে অনন্য এক ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ী বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হাসান। শখের বশে গড়ে তোলা তার এই বাগানে এখন শতাধিক দেশি-বিদেশি ফলদ গাছ শোভা পাচ্ছে।

    ২০২৪ সালের শেষ দিকে শুরু করা বাগানটিতে রয়েছে জামরুল, আপেল, সফেদাসহ নানা জাতের ফলদ গাছ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ব্যতিক্রমী এই ছাদ বাগানটি পরিদর্শন করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।

    সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বাগানের বিভিন্ন গাছ ঘুরে দেখেন এবং গাছের পরিচর্যা, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দেন।

    কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ছাদ বাগানের টবের মাটিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ধরে রাখতে নিয়মিত জৈব সার ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে গাছ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেন তাঁরা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ছাদ বাগান মানুষের জন্য একদিকে যেমন প্রশান্তির জায়গা তৈরি করছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। শহরের প্রতিটি অব্যবহৃত ছাদ এভাবে সবুজে রূপান্তর করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    খালিদ হাসানের এই ছাদ বাগানটি এখন স্থানীয়দের কাছেও অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। ইট-পাথরের শহরের মধ্যে গড়ে ওঠা এই সবুজ বাগান প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য তৈরি করেছে এক টুকরো প্রশান্তির আবহ।

  • পতিত জমিতে পেয়ারা চাষে সফল ইমামুল

    পতিত জমিতে পেয়ারা চাষে সফল ইমামুল

    মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে পেয়ারা চাষে অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের চম্পকলতা গ্রামে পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে পেয়ারা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষক ইমামুল ইসলাম। তার এ সাফল্যে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    পেয়ারা আমাদের দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, পেয়ারা ভিটামিন-সি, আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ও হজম প্রক্রিয়ায় দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে ‘গোল্ডেন এইট’ ও ‘গোল্ডেন টেন’ জাতের পেয়ারাগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো এবং উচ্চ ফলনশীল। এ জাতের গাছগুলো আকারে ছোট ও ঘন হওয়ায় উচ্চ ঘনত্বের চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী। বছরে দুইবার ফলন পাওয়ায় কৃষকদের কাছে এসব জাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

    চাষি ইমামুল ইসলাম জানান, সিলেট অঞ্চলে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর সহযোগিতায় তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ শুরু করেন। দুই বিঘা জমিতে ‘গোল্ডেন এইট’ ও ‘গোল্ডেন টেন’ জাতের ৬৭টি চারা রোপণ করে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তার বাগানে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকারও বেশি পেয়ারা বিক্রি করেছেন। বর্তমান বাজারদরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৮-২০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করছেন।

    গাছের অবশিষ্ট ফল বিক্রি করে ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন ইমামুল।

    ইমামুল ইসলামের বাগানের সুস্বাদু পেয়ারা কিনতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। এ ছাড়া বাগান দেখতে দর্শনার্থীদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। ইমামুলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে চম্পকলতা গ্রামের আরও অনেকে পতিত জমিতে পেয়ারা বাগান তৈরির পরিকল্পনা করছেন।

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান দৈনিক বলেন, ‘ইমামুল ইসলামের সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে পতিত জমিকেও আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত করা সম্ভব। পেয়ারা চাষের জন্য বেলে ও দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, যা আমাদের উপজেলায় প্রচুর রয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছি।’

    কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়ে ও কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করে জুড়ীর কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব।

  • রাণীনগরে বেশি দামে সার বিক্রি : দুই ডিলারকে জরিমানা

    রাণীনগরে বেশি দামে সার বিক্রি : দুই ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ জন সার ডিলারকে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার আবাদপুকুর বাজার ও পাকুড়িয়া বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন।

    নাবিলা ইয়াসমিন জানান, আবাদপুকুর বাজারে কৃষকদের নিকট সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন ডিলাররা। এমন গোপন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবাদপুকুর বাজার ও এলাকার পাকুড়িয়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    তিনি জানান, অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আবাদপুকুর বাজারের সার ডিলার শহিদুল ইসলাম ফটিককে ১২ হাজার এবং পাকুড়িয়ায় সুধীর ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    নাবিলা ইয়াসমিন আরো জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

    কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

    কৃষি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছানো এবং ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে কঠোরভাবে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর কারণ ও নতুন নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কৃষি খাতে ঋণ বিতরণে এখন বিশেষায়িত ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের অংশগ্রহণও আরো বাড়ানো হচ্ছে।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান বিবেচনায় কৃষি খাতে ঋণের অংশ বর্তমানে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কৃষি ঋণের অংশকে মোট ঋণের আড়াই শতাংশ থেকে এবার চার শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ অংশ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।কৃষির অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ বিতরণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, কৃষিকে স্বনির্ভর এবং কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করাই কৃষি ঋণ বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য। কৃষক যেন ঋণ মওকুফের আশায় না থেকে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে পারেন, উৎপাদন বাড়াতে পারেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন—সে লক্ষ্যেই কৃষি ঋণের পরিমাণ ও আওতা বাড়ানো হচ্ছে।

    কৃষি ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি গভর্নর বলেন, কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সঠিক সময়ে এবং প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছে দেওয়া। কোনো ব্যক্তি প্রকৃত কৃষক না হয়েও কৃষি ঋণ পেলে সেখানে ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের অর্থের অপব্যবহারকে অর্থপাচারের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যেতে পারে

    তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষক কার্ডধারীদের ঋণ দেওয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে কৃষক কার্ড না থাকলে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে, যাকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে তিনি সত্যিই কৃষক কি না। প্রকৃত কৃষক যাচাই না করে ঋণ দিলে এর দায়ভার ব্যাংককেই বহন করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাবিবুর রহমান স্বীকার করেন, কৃষি ঋণ বিতরণে মধ্যস্বত্বভোগী ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছাচ্ছে কি না এবং ঋণের অর্থ যথাযথ কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের জরিপ ও পর্যবেক্ষণ করে। এ ক্ষেত্রে আরো নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

    কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণ বিতরণে পুরোনো ঋণ সমন্বয় করে নতুন করে ঋণ দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, সব ক্ষেত্রে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। একজন কৃষকের আগের ঋণ পরিশোধের পর তার প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হলে সেটিকে নতুন ঋণের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই না করে একই ঋণ বারবার নবায়ন করা হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ঋণ দেওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই অর্থ সঠিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না। ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করে কৃষক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অর্জন করেছেন কি না, সেটিও ব্যাংককে দেখতে হবে। ঋণ বিতরণের শুরু থেকেই এর ব্যবহার ও পরিশোধ সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

    নতুন নীতিমালায় অঞ্চলভেদে কৃষির ধরন ও চাহিদা বিবেচনায় ঋণ বিতরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘এরিয়া অ্যাপ্রোচ’ পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ সরকারের ক্রপ জোনিং, ‘খামারি’ অ্যাপস এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ক্রপ জোনিংয়ের তথ্য ব্যবহার করে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও ঋণের চাহিদা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, কোনো এলাকায় ধান, কোথাও আলু, কোথাও মাছ বা অন্য কোনো কৃষিপণ্য বেশি উৎপাদিত হলে সে অনুযায়ী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ, জমির পরিমাণ, সার, বীজ, শ্রমিক ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করেই ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারদরের সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ থাকবে।

    নতুন নীতিমালায় নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য জামানতবিহীন ঋণসহ বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও ঋণ বিতরণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু চার্জ ডকুমেন্ট ছাড়া অন্য কোনো চার্জ ডকুমেন্ট গ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ বিতরণে প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও দলগত জামানত ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নীতিমালায় কৃষি ঋণের অর্থ যেন নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার হয়, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাংকগুলো একক বা দলবদ্ধ কৃষক ও খামারির অনুকূলে ঋণ দিতে পারবে। হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন, হ্যাচারি, মাছের পোনা উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতকে ঋণের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, চুক্তিভিত্তিক কৃষি, বিভিন্ন নতুন ফসলের উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনাকেও নীতিমালায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল-সংক্রান্ত নীতিমালার সারসংক্ষেপও নতুন কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষুদ্র মূলধনের কৃষক, নতুন উদ্যোক্তা এবং নির্দিষ্ট উৎপাদন খাতকে ঋণের আওতায় আনতে বিভিন্ন সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ২১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধু ঋণের পরিমাণ বাড়ানো নয়; বরং প্রকৃত কৃষকের কাছে ঋণ পৌঁছানো এবং উৎপাদনশীল কাজে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা। কৃষক যেন ঋণ নিয়ে উৎপাদন বাড়াতে পারেন এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করে পরবর্তী সময়ে আরো বড় ঋণ পাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন, সে বিষয়টিই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, কৃষি ঋণ বিতরণে কোনো ব্যত্যয় যেন না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব টিমও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ, ঋণের সঠিক ব্যবহার এবং সময়মতো ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি আরো জোরদার করা হবে।

  • চুনারুঘাটে ধানক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    চুনারুঘাটে ধানক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সুজন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয়রা উপজেলার ১০ নম্বর মিরাশি ইউনিয়নের রাকি গ্রামের ধান ক্ষেতে লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

    সুজন উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের কালামন্ডল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাকি গ্রামের রশিদ মিয়ার মেয়ের জামাই। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি।

    এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্ত কে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে এস আই গিয়াসউদ্দিনের নেতৃত্বে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি একটি হত্যাকান্ড।’

    এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

  • ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের চুক্তি

    ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের চুক্তি

    দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণ করেছে যমুনা ব্যাংক পিএলসি। এ লক্ষ্যে ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংকের মধ্যে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    তিন বছর মেয়াদি এ রিভলভিং পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষি ও পল্লী খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে শস্য ও ফসল উৎপাদন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতিসহ পল্লীভিত্তিক আয়বর্ধক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    স্কিমের আওতায় কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা দেয়ার বিধান রয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান স্বাক্ষর করেন।

    যমুনা ব্যাংকের পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিআরও মো. শাহিদুল ইসলাম এবং হেড অব এগ্রিকালচারাল লোন ইউনিট মো. আবু বক্কর সিদ্দিক উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এগ্রি ক্রেডিট বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক-২ মো. সাখাওয়াত হোসেন ও অতিরিক্ত পরিচালক রাফিয়া সুলতানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজতর অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলায় আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় যমুনা ব্যাংক।