কৃষি

  • সাপের কামড়ে করণীয়

    সাপের কামড়ে করণীয়

    বাংলাদেশে সাপের কামড় একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাভূমি-সংলগ্ন এলাকায় এর ঝুঁকি বেশি। সাপের কামড়ের পর আতঙ্ক, ওঝা-কবিরাজের কাছে যাওয়া, ক্ষত কেটে দেওয়া, বিষ চুষে বের করার চেষ্টা কিংবা শক্ত করে দড়ি বাঁধার মতো ভুল পদ্ধতির কারণে রোগীর অবস্থা আরো জটিল হতে পারে। সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সব সাপ বিষধর নয় । সব বিষধর সাপের কামড়ে একই ধরনের উপসর্গ হয় না। তাই সাপের ধরন অনুমান করে ঘরে চিকিৎসা না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। যেখানে জরুরি চিকিৎসা ও প্রয়োজনে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    সাপ কামড়ালে প্রথম কাজ কী

    সাপ কামড়ানোর পর রোগী ও স্বজনদের প্রথম কাজ হলো আতঙ্কিত না হওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। আতঙ্ক ও অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়াতে পারে। রোগীকে যতটা সম্ভব শান্ত ও স্থির রাখতে হবে। সম্ভব হলে স্প্লিন্ট বা উপযুক্ত সহায়তা দিয়ে স্থির রাখতে হবে। রোগীকে হাঁটিয়ে হাসপাতালে নেওয়া উচিত নয়, সম্ভব হলে বহন করে বা স্ট্রেচারে নেওয়া ভালো। কামড়ের স্থান ফুলে যেতে পারে, তাই আক্রান্ত অঙ্গের আংটি, চুড়ি, পায়ের নূপুর বা অন্য আঁটসাঁট জিনিস দ্রুত খুলে ফেলতে হবে।

    যা কোনোভাবেই করা যাবে না

    সাপের কামড়ের পর কিছু প্রচলিত পদ্ধতি অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

    * দড়ি বা টর্নিকেট দিয়ে শক্ত করে বাঁধা যাবে না। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এমনকি অঙ্গের গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। বিশেষভাবে শক্তি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।

    * ক্ষতস্থান ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কাটা যাবে না। এতে অতিরিক্ত রক্তপাত, সংক্রমণ ও টিস্যু ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।

    * ক্ষত চেপে বিষ বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

    * মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

    * কালো পাথর, ভেষজ ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থ, আগুন বা গরম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে না।

    * ওঝা, কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে হাসপাতালে যেতে দেরি করা যাবে না।

    * ক্ষত কাটা, বিষ চোষা, ‘ব্ল্যাক স্টোন’ এবং অন্যান্য অপ্রমাণিত পদ্ধতি এড়িয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    ব্যান্ডেজ বা চাপ প্রয়োগে সতর্কতা

    সাপের কামড়ে ব্যান্ডেজ ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা যায়। সব ধরনের সাপের কামড়ে শক্ত করে দেওয়া নিরাপদ বা উপযোগী নয়। বিশেষ করে যেসব সাপের বিষ স্থানীয়ভাবে মারাত্মক টিস্যু ক্ষতি ও ফুলে যাওয়া সৃষ্টি করে, সেখানে ভুলভাবে চাপ প্রয়োগ করলে ক্ষতি হতে পারে।

    হাসপাতালে পৌঁছানোর পর

    সাপের কামড়ের রোগী হাসপাতালে পৌঁছালে প্রথমেই রোগীর জীবন-সংকট আছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়। চিকিৎসকরা সাধারণত—

    * শ্বাসনালি খোলা আছে কি না পরীক্ষা করুন।

    * শ্বাস-প্রশ্বাস ও অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।

    * রক্তচাপ, নাড়ির গতি ও অন্যান্য পরীক্ষা করুন।

    * রোগীর স্নায়ুবিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।

    * কামড়ের স্থান ও শরীরের অন্যান্য অংশে ফোলা, রক্তপাত বা টিস্যু ক্ষতি আছে কি না দেখুন।

    * প্রয়োজনে শিরায় ক্যানুলা স্থাপন করুন।

    * রক্ত ও প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা করুন।

    নিউরোটক্সিক বিষের ক্ষেত্রে রোগীর চোখের পাতা পড়ে যাওয়া, কথা বলা বা গিলতে অসুবিধা এবং শ্বাসের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কারণ গুরুতর নিউরোটক্সিক বিষক্রিয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তখন দ্রুত ও প্রয়োজনে জীবন রক্ষা করতে পারে।

    কোন ধরনের বিষক্রিয়া হতে পারে

    সাপের বিষের প্রভাব সাপের প্রজাতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাপের মধ্যে কোবরা, ক্রেইট বা কালাচ এবং বিভিন্ন ভাইপার প্রজাতি উল্লেখযোগ্য।

    নিউরোটক্সিক বিষ

    কোবরা ও ক্রেইটের মতো কিছু সাপের বিষ প্রধানত স্নায়ুতন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—

    * চোখের পাতা পড়ে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া।

    * দ্বিদৃষ্টি।

    * কথা বলতে বা গিলতে অসুবিধা।

    * মুখ ও ঘাড়ের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া।

    * ক্রমশ শ্বাস নিতে অসুবিধা।

    * গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসযন্ত্রের পক্ষাঘাত।

    এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে ভেন্টিলেটরসহ শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা দিতে হতে পারে।

    কখন অ্যান্টিভেনম প্রয়োজন

    অ্যান্টিভেনম সাপের কামড়ের চিকিৎসার প্রধান ও জীবনরক্ষাকারী নির্দিষ্ট চিকিৎসা। তবে শুধু সাপ কামড়েছে বলেই প্রত্যেক রোগীকে অ্যান্টিভেনম দিতে হবে—এমন নয়।

    বিষক্রিয়ার ক্লিনিক্যাল প্রমাণ থাকলে, যেমন—

    * নিউরোটক্সিক লক্ষণ।

    * শ্বাস-প্রশ্বাসের দুর্বলতা।

    * রক্ত জমাট বাঁধার গুরুতর সমস্যা।

    * উল্লেখযোগ্য বা অগ্রসরমান স্থানীয় ফোলা ও টিস্যু ক্ষতি।

    * গুরুতর রক্তপাত।

    * শক বা রক্তচাপের মারাত্মক পতন।

    * বিষক্রিয়াজনিত কিডনি ক্ষতির প্রমাণ।

    চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যান্টিভেনমের প্রকার, পরিমাণ, মিশ্রণ এবং আবার দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট করে সবার জন্য একইভাবে বলা যায় না। এগুলো সাপের সম্ভাব্য প্রজাতি, বিষক্রিয়ার ধরন, রোগীর ক্লিনিক্যাল অবস্থা এবং ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা ও স্থানীয় জাতীয় চিকিৎসা-প্রটোকল অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হয়।

  • কৃষকের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা

    কৃষকের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার শিবগঞ্জে রাতের আঁধারে কৃষক নয়ন প্রামানিকের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার পৌর এলাকার তেঘড়ি মহল্লায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষক নয়ন প্রামানিকের জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী জানান, চাম্পা জাতের কলাগাছগুলো অনেক যত্ন সহকারে লাগানো হয়েছিল। কিন্তু সোমবার রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা শত্রুতাবশত শতাধিক গাছ কেটে বিনষ্ট করে। গাছগুলোতে কলা ধরেছিল। এতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    শিবগঞ্জ থানার কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সিটিজেনস ব্যাংকের চুক্তি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সিটিজেনস ব্যাংকের চুক্তি

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি।

    আলমগীর হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি এবং একেএম সাইদুজ্জামান, পরিচালক, কৃষি ঋণ বিভাগ-২, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিটিজেনস ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল লতিফ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এসএমআর ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান বিজয় চন্দ্র দাস; বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর অতিরিক্ত পরিচালক রাফিয়া সুলতানাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এই চুক্তির আওতায় সিটিজেনস ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের অধীনে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সিটিজেনস ব্যাংক দেশের কৃষি খাতকে শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    চুক্তির আওতায় সিটিজেনস ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষি খাতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে সাশ্রয়ী সুদহারে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তা ও গ্রামীণভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। অর্থায়নে সহজতর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ সুবিধা কৃষি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • কোটি টাকার সেচপাম্প আট বছর বিকল

    কোটি টাকার সেচপাম্প আট বছর বিকল

    নড়াইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকার সেচ প্রকল্প কৃষকের কোন কাজে আসছে না। এটি এখন শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে দুটি শক্তিশালী সেচপাম্প বিকল থাকায় সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এক হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি।
    এছাড়া, প্রকল্পের খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় চিত্রা নদীর পানি আর জমিতে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে ডিজেল কিনে শ্যালোমেশিন চালাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে কৃষকের।
    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ১৯৮৫ সালে নড়াইল সদর উপজেলার কমলাপুর ও গন্ধব্যখালী গ্রামে দুটি সেচ পাম্প বসানো হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় কমলাপুর এলাকায় সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ সেচখাল খনন করা হয়।
    এছাড়া গন্ধব্যখালী এলাকায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেচখাল খনন করা হয়। খাল দুটি দিয়ে পানিপ্রবাহ সরাসরি কৃষকদের জমিতে পৌঁছায়। পাঁচ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে পরিচালিত প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল এক হাজার ৩৭ হেক্টর জমিতে কম খরচে কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন। কিন্তু ২০১৮ সালে সেচ পাম্প দুটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৯ সালে সেচপাম্প মেরামতের জন্য ৩৫ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি।
    কমলাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেচ প্রকল্পটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফটক নষ্ট, অফিস কক্ষে তালা এবং পুরো এলাকা মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত গেট অপারেটর ইয়ামিন তরফদার জানান, পাম্প বন্ধ থাকায় কর্মকর্তারা আসেন না, একা থাকার সুযোগে মাদকসেবীরা সেখানে ভিড় করে। আমাদের বাধা দেবার সাহস নেই।
    স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্তমানে ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিনে এক কানি (৪০ শতাংশ) জমিতে সেচ দিতে ১০০ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে এই সেচ প্রকল্পটি যখন চালু ছিল, তখন কম খরচে ধান, পাট, গমের জমিতে পানি দেওয়া যেত। এখন শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি দিতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে তাদের।
    কৃষক সৌমেন কুমার জানান, সেচপাম্প দুটি ছিল কম খরচে তাদের জন্য সহজ পানির উৎস। চিত্রা নদী থেকে সরাসরি জমিতে পানি সরবরাহ করা হতো এ সেচপাম্পের মাধ্যমে। ফলে তারা কম খরচে তিনটি ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু টানা আট বছর ধরে সেচ পাম্প দুটি বন্ধ রয়েছে। ফলে জমিতে সেচের জন্য এখন ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।
    কমলাপুর গ্রামের মিলন ঘোষ বলেন, একসময় সেচপাম্প থেকে জমিতে বিনামূল্যে সেচ সুবিধা পেতাম। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড সমিতি চালু করে। এরপর বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার অজুহাতে টাকা নেওয়া শুরু করে। তখন বিদ্যুৎ বিল বাবদ তিন শতক জমিতে ৯ টাকা দিতাম। পরে জানতে পারলাম বিদ্যুৎ বিল হাজার হাজার টাকা বাকি পড়ে গেছে। তারপর থেকে সেচ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এখন শুনছি পাম্প নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
    এক একর জমিতে এ বছর ধানের আবাদ করেছেন সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের নাকশি গ্রামের মাসুম খন্দকার। ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিন চালিয়ে নিজ জমিতে সেচ দিচ্ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, সেচপাম্প চালু থাকায় তিন গ্রামের কৃষক কম খরচে ধান, পাট, গম ও অন্যান্য ফসলের জন্য জমিতে সেচ দিতে পারতেন। পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিন গ্রামের কৃষকের উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।
    এ বিষয়ে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটির অধীনে দুইটি সেচ পাম্প ছিল। সেচ পাম্প দুটি বিকল হয়ে যাওয়ায় তা মেরামতের জন্য ২০১৮ সালে ঢাকায় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
    তিনি বলেন, প্রকল্পটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এটি পুনরায় চালু করতে পারলে ওই এলাকার কৃষি জমিতে কৃষকরা কম খরচে সেচ সুবিধা পাবে। অকেজো হয়ে পড়ে থাকা সেচপাম্প দুটি নতুন করে সংস্কারের জন্য পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

  • দেওয়ানগঞ্জে নালা খনন, ৫ হাজার একর জমিতে ফিরবে ফসল

    দেওয়ানগঞ্জে নালা খনন, ৫ হাজার একর জমিতে ফিরবে ফসল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরবাদ ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার একর ফসলি জমির জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা খনন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পোল্যাকান্দি এলাকায় এই খননকাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন।

    স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, পোল্যাকান্দি থেকে নাজিরপুর হয়ে ঝালোরচর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় পাঁচ হাজার একর ফসলি জমি গত ৮-১০ বছর ধরে জলাবদ্ধ ছিল। পোল্যাকান্দি খালের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের সংযোগকারী নালাটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে এক দশকের বেশি সময় ধরে এসব জমিতে কোনো ফসল আবাদ করা সম্ভব হয়নি। নালাটি খনন করায় এখন দ্রুত পানি নিষ্কাশন হবে এবং ধান, ভুট্টা, সরিষা ও পাট চাষের সুযোগ তৈরি হবে।

    উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাহাদুরবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

    ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে ও জনস্বার্থে নালাটি খনন করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং ওই বিশাল এলাকায় কৃষি উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়বে।’

  • উট পালন করতে চান? টাকা দেবে ব্যাংক

    উট পালন করতে চান? টাকা দেবে ব্যাংক

    উট পালন করতে চান; এমন উদ্যোক্তাদের জন্যও এবার কৃষিঋণের দরজা খুলে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় উট পালনকে কৃষিঋণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে উট পালনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কৃষক ও খামারিরা।

    একই সঙ্গে হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন এবং হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের মতো কার্যক্রমও কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার তা প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে নতুন ‘কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

    নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উট পালনেও ব্যাংকের ঋণ

    বাংলাদেশে প্রচলিত কৃষিঋণের বাইরে নতুন কিছু সম্ভাবনাময় খাতকে এবার কর্মসূচির আওতায় এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে উট পালন। অর্থাৎ কেউ বাণিজ্যিকভাবে উট পালন করতে চাইলে নির্ধারিত নিয়ম ও যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    শুধু উট পালন নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে একক বা দলবদ্ধ কৃষক ও খামারিদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন এবং হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনও নতুন করে কৃষিঋণের আওতায় এসেছে।

    এর ফলে কৃষিঋণের পরিধি শুধু ধান, গম, সবজি বা প্রচলিত কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও নতুন ধরনের কৃষিভিত্তিক উদ্যোগেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।

    কৃষকের ঋণ পাওয়া সহজ হবে

    প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছে দিতে এবার বেশ কিছু নিয়মও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষক কার্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    শস্য ও ফসল উৎপাদনসহ আয় সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডে যুক্ত কৃষকদের পল্লি ঋণ দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার নির্ধারিত সীমাও শিথিল করা হয়েছে।

    কৃষিঋণ নিতে বাধ্যতামূলক পাস বই থাকা বা ইস্যু করার বিষয়টিও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে।

    পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে নারী ও প্রান্তিক কৃষক অগ্রাধিকার

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এসব কৃষকের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে জমি বা স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখার পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে যেসব কৃষক বা খামারির জমি-জমা কম, কিন্তু কৃষিভিত্তিক ব্যবসা করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের ব্যাংক ঋণের আওতায় আনার সুযোগ বাড়বে।

    ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কৃষি ও পল্লি খাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে এই ঋণ কর্মসূচি।

    এ জন্য চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

    থাকছে পুনঃঅর্থায়ন ও বিমা সুবিধা

    নতুন নীতিমালায় ১০ হাজার কোটি টাকা ও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিঋণ গ্রহীতাদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টিও নীতিমালায় যুক্ত হয়েছে। ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সারা বছর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখতে কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচুর মতো ফল চাষে ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও ফসল সংগ্রহের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে কৃষি ও পল্লি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি করা। আর সেই উদ্যোগে এবার প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি উট পালন থেকে শুরু করে মাছের পোনা ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের মতো নতুন উদ্যোগেও ব্যাংকের ঋণের সুযোগ তৈরি হলো।

  • বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের তালিকায় মদিনার ৩৫ পণ্য

    বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের তালিকায় মদিনার ৩৫ পণ্য

    সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের ৩৫টি ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক খাদ্য ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব পণ্যকে ‘আর্ক অব টেস্ট’ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কুলিনারি আর্টস কমিশন। দেশটির মোট ১৮০টি পণ্য এখন এই বৈশ্বিক খাদ্য ঐতিহ্য উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।

    ‘আর্ক অব টেস্ট’ হলো স্লো ফুড ফাউন্ডেশনের একটি অনলাইন তালিকা। এর লক্ষ্য হলো বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বা ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, স্থানীয় উৎপাদকদের সহায়তা এবং জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যসংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা।

    মদিনার তালিকাভুক্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে আল-আইস গম, আল-আইস বার্নি খেজুর, হাসাউই পুদিনা, আল-ফিকরা পাহাড়ি মধু, হুমুস, শুরেক রুটি, বালসাম, বাঁধাকপি ও নবক ফলসহ আরও বিভিন্ন স্থানীয় পণ্য।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্যের সঙ্গে মদিনা অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এসব পণ্যের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও তুলে ধরা সম্ভব হবে।

    এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় কৃষক ও উৎপাদকরাও উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে।

    কুলিনারি আর্টস কমিশনের মতে, ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত জ্ঞান, পদ্ধতি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মদিনার সমৃদ্ধ কৃষি ও খাদ্য ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।

    সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক তালিকায় মদিনার ৩৫টি পণ্যের অন্তর্ভুক্তি সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতি ও কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

    কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

    কৃষি ও পল্লি খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার এ লক্ষ্য ৫৩ দশমকি ৮৫ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণ সরবরাহের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতে এই ঋণ নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ নীতিমালা ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক এবং কৃষি ঋণ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নীতিমালা প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তুত করা কৃষি ঋণসংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধনও করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন নীতিমালায় প্রকৃত কৃষকদের কাছে ঋণ পৌঁছাতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়নকে কৃষক কার্ড সংগ্রহের তথ্য হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শস্য ও ফসল খাতে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের জন্য পল্লি ঋণ বিতরণের নির্দেশনা এবং কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার নির্ধারিত সীমা শিথিল করা হয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ আবেদনের ক্ষেত্রে ২.৫ একর পর্যন্ত জমিতে লবণ উৎপাদনের জন্য নীতিমালায় বার্ষিক ডকুমেন্ট চার্জ ছাড়া কোনো চার্জ আদায় করা যাবে না। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণে যথাসময়ে ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিকে কৃষককে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করতে জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে পাশ বই থাকা বা ইস্যুর বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। কৃষি ঋণ বিতরণ সহজ করতে ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি গ্রহণের বিষয়টিও শিথিল করা হয়েছে।

    নীতামালায় বলা হয়েছে, মৎস্য চাষ ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাংকগুলো একক বা দলবদ্ধ কৃষক/খামারির অনুকূলে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এ ছাড়া হ্যাচারি মাছে পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের বিষয়টি কৃষি ঋণ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুনঃঅর্থায়ন সংক্রান্ত নীতিমালায় ১০ হাজার কোটি টাকা এবং ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও কৃষক বা গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে গ্রাহককে বীমা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে সারাবছর ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখতে কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচু চাষে ঋণ বিতরণকাল এবং ফসল সংগ্রহের পর ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষি ও পল্লী খাতে যথাসময়ে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান প্রয়োজন। দেশের কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, পানি শোধনাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষিতে সার সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা কোর্ট মোড়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি বড় বাজারের হাসান চত্বর এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    সভায় সদর হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পৌর পানি শোধনাগার চালু এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অবৈধ মজুত ও বৈষম্য রোধে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

  • ছাদ কৃষির সফলতায় নিয়মিত পরিচর্যা জরুরী

    ছাদ কৃষির সফলতায় নিয়মিত পরিচর্যা জরুরী

    শহর ও গ্রামে বাড়ির ছাদকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত শাক-সবজি, ফলমূল, মসলা ও ভেষজ উদ্ভিদ উৎপাদন করা সম্ভব। টব, ড্রাম, বেড, বালতি কিংবা বিভিন্ন পাত্রে পরিকল্পিতভাবে ছাদ কৃষি গড়ে তুললে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজার খরচ কমানো যায়। পরিবেশ ঠান্ডা রাখা, অক্সিজেন বাড়ানো ও মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও ছাদ কৃষির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘রানার কৃষি’র নিয়মিত আয়োজনে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

    ছাদ কৃষি হলো বাড়ির ছাদে টব, ড্রাম, বেড বা ট্রেতে শাক-সবজি, ফলমূল, মসলা ও ভেষজ উদ্ভিদের চাষ। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার বাড়ির ছাদেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের কৃষি করা যায়।
    ছাদ কৃষির মাধ্যমে বিষমুক্ত ও তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল পাওয়া যায়। পাশাপাশি পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে, অক্সিজেন বাড়াতে এবং শহরের সবুজায়ন বৃদ্ধি করতে এটি ভূমিকা রাখে। পরিবারের বাজার খরচ কমানোর পাশাপাশি ছাদে গাছের পরিচর্যা মানসিক প্রশান্তিও দিতে পারে। পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও আর্থিক—তিন দিক থেকেই ছাদ কৃষি উপকারী।


    ছাদ প্রস্তুতি ও পাত্র নির্বাচন
    ছাদে বাগান করার আগে সেখানে পানি জমে থাকে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। ছাদে ওয়াটারপ্রুফিং করা থাকলে ভালো। তবে ছাদের ওপর অতিরিক্ত ভার দেওয়া যাবে না। পাত্র ও মাটির ওজনসহ ছাদের ভার বহনক্ষমতা বিবেচনা করে ছাদ কৃষির পরিকল্পনা করতে হবে।
    গাছ লাগানোর জন্য মাটির টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, বালতি ও ফোম বক্স ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি পাত্রের নিচে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। বড় আকারের গাছের জন্য ২০ থেকে ৩০ লিটার ধারণক্ষমতার পাত্র প্রয়োজন হতে পারে।
    মাটি তৈরি
    ছাদ কৃষিতে ভালো ফলনের জন্য উপযোগী মাটির মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। আদর্শ মাটির মিশ্রণে ৫০ শতাংশ দোআঁশ মাটি, ৩০ শতাংশ পচা গোবর বা কম্পোস্ট এবং ২০ শতাংশ বালি বা কোকোপিট ব্যবহার করা যেতে পারে।
    মাটি ঝুরঝুরে ও পানি নিষ্কাশন উপযোগী রাখতে হবে। পাত্রের আকার অনুযায়ী মাটির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং গাছের ধরন অনুযায়ী পাত্র নির্বাচন করতে হবে।
    যেসব ফসল চাষ করা যায়
    ছাদে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, মসলা, ভেষজ ও ফলমূল চাষ করা যায়। শাকের মধ্যে লালশাক, পালং শাক, ধনেপাতা ও লেটুস; সবজির মধ্যে টমেটো, বেগুন, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও ব্রকলি চাষ করা যেতে পারে।
    মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে মরিচ, এলাচ ও আদা এবং ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে তুলসী, মালটা, কাগুজি লেবু, মেহেদী ও নিম লাগানো যায়। ফলমূলের মধ্যে আম, পেয়ারা, ডালিম ও ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের গাছ ছাদে উপযোগী পাত্রে চাষ করা সম্ভব।
    সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা
    ছাদ কৃষিতে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতিদিন অথবা এক দিন পরপর পানি দেওয়া যেতে পারে। তবে আবহাওয়া, গাছের ধরন ও মাটির আর্দ্রতা বিবেচনা করে সেচ দিতে হবে। সকাল অথবা বিকেলে পানি দেওয়া ভালো। অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। পাত্রে পানি জমে থাকলে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
    প্রতি ১৫ দিন পরপর জৈব সার, কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিটি টবে গাছের ধরন ও পাত্রের আকার অনুযায়ী ১ থেকে ২ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। তরল সার বা জীবাণু সার ব্যবহার করলেও ভালো ফলন পাওয়া যায়।
    পোকা ও রোগ দমন
    ছাদ কৃষিতে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে প্রথমে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করা ভালো। নিম তেল ৩ থেকে ৫ মিলিলিটার প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা যায়। পোকা দমনে রসুন ও মরিচের নির্যাসও ব্যবহার করা যেতে পারে।


    মাইটস, লাল মাকড়সহ ক্ষতিকর পোকা দমনে অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করতে হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে এবং পণ্যের লেবেলে দেওয়া মাত্রা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।


    ছাদ কৃষিতে বাড়ির ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পাত্র এমনভাবে স্থাপন করতে হবে, যাতে শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে।
    ছাদ কৃষি শুধু অব্যবহৃত জায়গাকে উৎপাদনশীল করে না; এটি পরিবারের নিরাপদ খাদ্যের উৎস তৈরির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পারিবারিক ব্যয় কমাতে সহায়তা করে। তাই পরিকল্পিতভাবে ছাদ কৃষির সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

  • সমন্বিত খামারে সফল চৌগাছার সবুজ

    সমন্বিত খামারে সফল চৌগাছার সবুজ

    নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার আবুল হাসান সবুজ। মাত্র তিনটি গরু ও ১০টি ছাগল নিয়ে শুরু করা উদ্যোগ এখন ২৯টি গাভী, দুধ উৎপাদন, ঘি, মাছ, ফল, সবজি, হাঁস-মুরগি, জৈব সার ও বায়োগ্যাসের সমন্বিত খামারে রূপ নিয়েছে। এতে নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।


    চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের হাউলি গ্রামের সন্তান আবুল হাসান সবুজ। কর্মজীবনের শুরুতে দেশের ওষুধ ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রতিষ্ঠান রেনেটা বাংলাদেশে পাঁচ বছর চাকরি করেন। সেখানে ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে কৃষিবিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরে নিজেই ডেইরি খামার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
    বর্তমানে তিনি ঝিকরগাছা শহীদ মশিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজের খামার পরিচালনা করছেন তিনি।
    ছোট পরিসর থেকে বড় খামার
    শুরুতে তিনটি গরু ও বিভিন্ন জাতের ১০টি ছাগল নিয়ে খামার শুরু করেন সবুজ। ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন পরিধি। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৯টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি গাভী থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি দুধ উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি।
    খামারের উৎপাদিত দুধ স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি যশোর শহরের বিসমিল্লাহ ডেইরি, আদি ঘোষ ডেইরি, সাতক্ষীরা ঘোষ ডেইরিসহ বিভিন্ন অর্গানিক সুপার শপে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবারে সরাসরি দুধ বিক্রি করেন সবুজ। খামারের দুধ দিয়ে গাওয়া ঘিও তৈরি করা হয়।
    বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গো-খাদ্য ব্যবস্থাপনা
    খামারে গাভীর খাদ্য ও পরিচর্যায় নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করা হয়। সকালে তাজা নেপিয়ার ঘাসের সঙ্গে সুষম খাদ্য, বিকেলে দানাদার খাদ্য এবং রাতে শুকনা খড় দেওয়া হয়।
    গাভীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গোসল করানো হয়। সবুজ জানান, প্রতিদিন খামারের গবাদিপশুর খাদ্যের পেছনে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে দানাদার খাদ্য, ভুসি, খৈল, খড় ও সবুজ ঘাসের খরচ রয়েছে।
    খাদ্য ব্যয় কমাতে এবং সারা বছর সবুজ ঘাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজের তিন বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন তিনি।
    গরুর পাশাপাশি মাছ, ফল ও সবজি
    সবুজের উদ্যোগ শুধু ডেইরি খামারে সীমাবদ্ধ নয়। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জমিতে কলা, ড্রাগন ফল, আম এবং বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজি চাষ করছেন তিনি। পালন করছেন দেশি মুরগি, হাঁস ও কবুতর। বাড়ির পাশের পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছও চাষ করা হচ্ছে।
    খামারের গোবর ও অন্যান্য বর্জ্যও কাজে লাগানো হচ্ছে। এসব বর্জ্য থেকে জৈব সার, ভার্মি কম্পোস্ট ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হয়। বায়োগ্যাস পরিবারের রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। উৎপাদিত জৈব সার ও ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে ফল, সবজি ও ঘাসের জমিতে।
    খামারে কর্মসংস্থান
    সবুজের এই উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আরও দুইজন স্থায়ী শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের একজন মিলন হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে কাজ করি। নিয়মিত বেতন পাওয়ায় পরিবার নিয়ে ভালো আছি। এখানকার কাজের পরিবেশও ভালো। মালিক আমাদের নিজের পরিবারের মতো দেখেন।’
    সবুজের বাবা ওয়াজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ছেলের কঠোর পরিশ্রমে আজ আমরা গর্বিত। ও চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মেধা দিয়ে এই খামার তৈরি করেছে। আজ ওর কারণে পরিবার সচ্ছল হয়েছে, এলাকার মানুষও দুধ পাচ্ছে।’
    সবুজের ছোট ভাই ও পশুচিকিৎসক শাহিনুজ্জামান টনি বলেন, ‘কৃষিবিজ্ঞান ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক জ্ঞান খামারে প্রয়োগ করায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। আমি নিয়মিত গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিই।’
    নিয়মিত দুধ ক্রেতা বাড়ীয়ারী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সবুজ ভাইয়ের খামারের দুধ ভালো। আমরা নিয়মিত এখান থেকে দুধ ও ঘি কিনি।’
    আরও বড় করার পরিকল্পনা
    নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে আবুল হাসান সবুজ বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা থাকলে যেকোনো খাত থেকে সফল হওয়া সম্ভব। আমি খামারটি আরও বড় করতে চাই। এতে আরও বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারব।’
    যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুগ্ধ উৎপাদনে আবুল হাসান সবুজের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ তরুণরা কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে এভাবে এগিয়ে এলে দেশের ডেইরি ও কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।’

  • আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি 

    আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি 

    শীত আসার আগেই ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের মাঠজুড়ে শিম ফুল ও কচি শিমে ভরে উঠেছে গাছ। আগাম জাতের শিম চাষ করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় এ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ হয়েছে।


    কোটচাঁদপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি শিম চাষ হয় সাবদারপুর ইউনিয়নে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম শিমের আবাদ হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ৮৩০ বিঘার সমান।
    সাবদারপুর ইউনিয়নের মানিকদিহি গ্রামের কৃষক আকিমুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আগাম শিমের আবাদ। ফলে অন্যদের আগে শিম বাজারে তুলতে পারি। এ সময় বাজারে শিমের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকে। তাই আমরা এ আবাদ করি।’


    তিনি জানান, এক বিঘা জমি থেকে মৌসুমে ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত শিম উৎপাদন হয়। এতে এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। গত বছর দুই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার চার বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন।
    লক্ষ্মীকুণ্ড গ্রামের শিমচাষি ছামারুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছি। ইতোমধ্যে গাছে শিম ধরতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে বাজারেও বিক্রি করছি।’


    তারা জানান, শিম তোলার প্রথম দিকে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। পরে কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম ধরে রাখতে পারলে প্রায় এক মাসে ১৫ কাঠা জমি থেকে প্রায় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন ইপসা-১ জাতের শিম চাষ হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে সাবদারপুর ইউনিয়নে এ আবাদ সবচেয়ে বেশি।’


    তিনি বলেন, ‘কোটচাঁদপুরের কৃষকরা সাধারণত এপ্রিল বা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এ শিমের আবাদ করেন। এরপর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শিম সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়। আগাম গ্রীষ্মকালীন শিম হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে কৃষকরা বিঘাপ্রতি প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেন।’


    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাবদারপুর ফুল, ফল ও সবজি চাষের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে অসময়ে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে কৃষকরা আয় করছেন। এ কারণে আগামীতে শিমের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

  • চৌগাছায় এক কৃষকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

    চৌগাছায় এক কৃষকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

    চৌগাছা প্রিতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে আব্দুল জব্বার (৫০) নামে এক ব্যাক্তিকে দা দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত আব্দুল জব্বার বুন্দলীতলা গ্রামের আব্দুল খালেক বিশ্বাসের ছেলে।

    আহত কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের রমজান আলী তার ছেলে রিংকু (৪২) ও রিপন হোসেন (৩৮) আমার উপর হামলা চালায়।

    এ সময় তারা আমাকে লোহার রড ও দা দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে আমার দুই হাত ভেঙ্গে যায়।

    পরে আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আমার অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন।

    এদিকে আমার প্রতিপক্ষ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিতে পারছিনা। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।

  • সুকান্ত ভট্টাচার্য: জন্মশতবর্ষ

    সুকান্ত ভট্টাচার্য: জন্মশতবর্ষ

    সাহিত্য ডেস্ক:

    জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়ে ‘ঐকতান’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন—
    ‘কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন
    কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,
    যে আছে মাটির কাছাকাছি,
    সে কবির বাণী-লাগি কান পেতে আছি।’
    কৃষাণের জীবনের শরিক হয়ে তাঁদের সত্য আত্মীয়তা অর্জন করেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। অথচ তাঁর জন্ম নগরে, ফসলের খেত আর ফসল ফলানো কৃষক থেকে বহু দূরে তাঁর সামাজিক অবস্থান। কৃষকের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও লড়াইকে চেতনায় ধারণ করে তিনি উপহার দিয়েছেন অসামান্য সব কবিতা। ইট-পাথরের হৃদয়হীন শহরে বাস করেও গ্রামের মাটির ‘ফসলের ডাক’ শুনে তাঁর জোরালো প্রত্যয়:
    ‘কাস্তে দাও আমার এ হাতে—
    সোনালি সমুদ্র সামনে, ঝাঁপ দেব তাতে।’
    শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকের লড়াকু চেতনা অসাধারণ অভিব্যক্তি পেয়েছে ‘দুর্মর’ কবিতায়। ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস। সুকান্ত তখন রোগশয্যায়, ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে গড়ে ওঠা তেভাগা আন্দোলনের খবরে শিহরিত হলেন তিনি। গভীর আবেগে লিখলেন:
    ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ
    কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে বাংলাদেশ ।
    সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
    জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।’
    সুকান্ত উপলব্ধি করেছেন, কৃষক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান/গত আকালের মৃত্যুকে মুছে/আবার এসেছে বাংলা দেশের প্রাণ।’
    তেভাগা আন্দোলনের লড়াকু চেতনা প্রতিধ্বনিত হয় কবিতার রক্তিম পঙ্‌ক্তিতে:
    ‘“হয় ধান নয় প্রাণ”—এ শব্দে
    সারা দেশ দিশাহারা,
    একবার মরে ভুলে গেছে আজ
    মৃত্যুর ভয় তারা’
    কৃষকদের বলিষ্ঠ উত্থান অভূতপূর্ব আশাবাদের প্রতীকে উপস্থাপন করে বাংলাদেশকে যা স্থান ও কালের সীমা অতিক্রম করে যায়:
    ‘সাবাস বাংলা দেশ, এ পৃথিবী
    অবাক তাকিয়ে রয়:
    জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার
    তবু মাথা নোয়াবার নয়।’
    শুধু কৃষক নয়, শ্রমিক, মজুর, ডাকহরকরা, ক্ষুধার্ত মানুষ, শোষিত-বঞ্চিতজনের আর্তি ও সংকল্প মর্মস্পর্শী ভাষা পেয়েছে সুকান্তের কবিতায়। সাধারণ বস্তুকেও রূপকের আড়ালে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন তিনি। ইতিহাস সচেতন ও শ্রেণিসচেতন সুকান্তের কবিতায় এক বিশেষ কালপর্বে (১৯৩৯-১৯৪৭) পরাধীন ভারতবর্ষের ঘটনাবহুল ইতিহাসের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, শ্রমিক ধর্মঘট, ১৯৪২ সালের আগস্ট আন্দোলন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাপ, কালোবাজারি-মজুতদারির দৌরাত্ম্য, আজাদ হিন্দ ফৌজের লড়াই, নৌবিদ্রোহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাবে সুকান্তের সৃজনবিশ্ব উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে।
    জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের চাঞ্চল্যকর ঘটনারও প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর সাহিত্যে। চল্লিশের দশকের ঘটনাবহুল যুগবৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে সুকান্তের রাজনৈতিক চেতনা ও কবিতার সমান্তরাল বিকাশ ঘটেছিল।
    বাঙালি সাহিত্যিকদের সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত সাধারণত কবিতার মাধ্যমে ঘটে। সুকান্তের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যতিক্রম তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু। কৈশোরে ও তারুণ্যে প্রেমের কবিতা লেখাই বাঙালি কবির বিধিলিপি। অথচ এ বয়সে সুকান্ত প্রেম নয়, কবিতার বিষয় হিসেবে বেছে নেয়েছেন সমাজদেহের নানা ব্যাধিকে। তিনি শুধু রোগ নির্ণয় করে দায়িত্ব শেষ করেননি, রোগ নিরাময়ের উপায়ও নির্দেশ করেছেন। স্নায়ুছেঁড়া বাস্তবতায় কঠিন সত্যের মুখোমুখি হয়ে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন প্রেম-সৌন্দর্যের স্বপ্নময় ভাবলোকের মাধুর্য নয়, জীবনসংগ্রামের রূঢ় বাস্তবতাকে মূর্ত করে তুলতে হবে নিজের কবিতায়।

    মার্ক্সবাদী সমাজদৃষ্টিতে ধনতন্ত্র একদিন নিজেই নিজের কবর খুঁড়বে। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার মূলে যে অন্যায়, শোষণ ও লোভ তার গর্ভেই রয়েছে পুজিঁবাদের অনিবার্য ধ্বংসের বীজ। এই বিশ্বাস অসাধারণ রূপ পেয়েছে ‘চারাগাছ’ কবিতায়। এ কবিতায় প্রাচীন এক প্রাসাদের গায়ে অশ্বত্থগাছের চারা দেখা যায়।

    সাম্যবাদের স্বপ্নে উদ্দীপিত সুকান্তের কবিতায় এ স্বপ্নের অনুরণন স্পষ্ট। তাঁর বহুল আলোচিত কবিতাগুলোর শিরোনাম স্মরণ করা যাক: ‘বিবৃতি,’ ‘অনুভব: ১৯৪০’, ‘অনুভব: ১৯৪৬’, ‘খবর’, ‘বোধন’, ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’, ‘লেনিন’, ‘মহাত্মাজীর প্রতি’, ‘ঠিকানা,’ ‘পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশ্যে, ‘সূচনা’, ‘ছাড়পত্র’, ‘দিনবদলের পালা,‘আগ্নেয়গিরি’, ‘রানার,’ দুর্বার, ‘যুদ্ধের গান’, ‘হে মহাজীবন,’ ‘দেশলাই কাঠি’, ‘সিঁড়ি’,‘ কলম’, ‘সিগারেট’, ‘একটি মোরগের কাহিনী,’ ‘হে মহাজীবন’, ‘উদ্যোগ’, ‘আঠারো বছর বয়স’, ‘প্রেম:১৯৪৩’ এবং ‘প্রিয়তমাসু’। এ কবিতাগুলো ব্যবচ্ছেদ করলে দেখা যাবে, ক্ষুধা, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সাম্যের স্বপ্ন সুকান্তের সাহিত্যচর্চার মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

    লেনিন, রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধী—সমকালীন এই তিন মনীষী সুকান্তকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টির কাজে তিনি জীবন উত্সর্গ করেছিলেন। ঢাকায় বিখ্যাত গল্পকার সোমেন চন্দ নিহত হওয়ার পর ফ্যাসিস্টবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘে যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর কবিসত্তায় জাগ্রত ছিল বিপ্লবী রাজনৈতিক আদর্শ। অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধারাবাহিক অসুস্থতা তাঁর অকালমৃত্যুর ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। ১৯৪৫ সালে মেজো বউদিকে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন:
    ‘…আমি কবি বলে নির্জনতাপ্রিয় হব, আমি কি সেই ধরনের কবি? আমি যে জনতার কবি হতে চাই, জনতা বাদ দিলে আমার চলবে কি করে? তা ছাড়া কবির চেয়ে বড় কথা আমি কমিউনিস্ট, কমিউনিস্টদের কাজ–কারবার সব জনতা নিয়েই।’
    ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণে বিপর্যস্ত স্বদেশবাসীর যন্ত্রণা উত্সারিত হয় তাঁর কণ্ঠে—‘এ দেশে জন্মে পদাঘাতই শুধু পেলাম।’ ‘জনতার কবি’ সুকান্ত ‘ছন্দের লালিত্য ঝঙ্কার’ময় ‘স্নিগ্ধ কবিতা’ রচনার তাগিদ অনুভব করেননি। জনগণের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন ‘গদ্যের কড়া হাতুড়ি’কে, ছুটি দিয়েছেন কবিতাকে। ছাড়পত্র কাব্যের ‘হে মহাজীবন’ কবিতাকে সুকান্তের সাহিত্যচর্চার মূল দর্শন হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায়:
    ‘প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
    কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
    ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়;
    পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’
    মানবতাবাদী সুকান্তের কবিতায় জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বারবার মূর্ত হয়ে উঠেছে। সাম্যের পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। ‘ছাড়পত্র’ কবিতায় তিনি অমানবিকতা ও বৈষম্যের জঞ্জাল সরিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ দৃপ্ত ঘোষণা তাঁর কাব্যসাধনা ও জীবনসাধনার অভিন্ন লক্ষ্য:
    ‘চলে যাব, তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
    প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
    এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি—
    নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’
    মার্ক্সবাদী সমাজদৃষ্টিতে ধনতন্ত্র একদিন নিজেই নিজের কবর খুঁড়বে। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার মূলে যে অন্যায়, শোষণ ও লোভ তার গর্ভেই রয়েছে পুজিঁবাদের অনিবার্য ধ্বংসের বীজ। এই বিশ্বাস অসাধারণ রূপ পেয়েছে ‘চারাগাছ’ কবিতায়। এ কবিতায় প্রাচীন এক প্রাসাদের গায়ে অশ্বত্থগাছের চারা দেখা যায়। সুকান্তের ভাষায়: ‘এ শিশুর মধ্যে আমি দেখি এক বৃদ্ধ মহীরূহ/শিকড়ে শিকড়ে আনে অবাধ্য ফাটল/উদ্ধত প্রাচীন সেই বনিয়াদী প্রাসাদের দেহে।’

    অত্যাচারী ও শোষক জমিদারের বিরুদ্ধে সুকান্ত তীব্র বিদ্রূপের চাবুক মেরেছেন ‘ভাল খাবার’ ছড়ায়। প্রবল প্রতাপশালী জমিদার এমন আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে উদরপূর্তি করেন যে একসময় তার খাদ্যে অরুচি হয়। ডাক্তার–কবিরাজ তার রোগ সারাতে ব্যর্থ। ভয়ার্ত নায়েব তখন জমিদার ধনপতি পালের কাছে জানতে চান সবচেয়ে ভালো খাবার কোনটি।

    এই চারাগাছ একদিন অনেক বড় হয়ে তার শিকড়ের শক্তিতে প্রাসাদ ধসিয়ে দেবে, গর্বোদ্ধত প্রাসাদরূপী পুজিঁবাদী সভ্যতার পতন ঘটবে। সুকান্ত শক্তিমান কবি বলেই রাজনৈতিক বিশ্বাসকে শিল্পরূপ দিতে পেরেছেন।
    শৈল্পিক ও প্রতীকী ব্যঞ্জনায় সুকান্ত নানা কবিতায় অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অত্যাচারিতের ক্ষোভকে ভাষা দিয়েছেন। ‘রানার’ কবিতায় রানার বা ডাকহরকরা সমাজের দায়িত্ব কাঁধে বয়ে চলা শোষিত ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক। দারিদ্র্য ও হতাশায় ক্লিষ্ট রানারের জীবনকে পরম মমতায় তুলে ধরেছেন সুকান্ত:
    ‘…জীবনের বহু বছরকে পিছু ফেলে,
    পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌঁছে দিয়েছে মেলে।
    ক্লান্তশ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে,
    জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে।’
    নৈরাশ্যের রাত্রিকে চূড়ান্ত বলে মেনে নেননি সুকান্ত। ‘বিবৃতি’ কবিতায় আহ্বান জানিয়েছেন—‘রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনো ফুটন্ত সকাল।’
    সুকান্তের কবিতায় দুর্ভিক্ষ দুঃস্বপ্নের মতো ফিরে ফিরে এসেছে। ‘ঐতিহাসিক’ কবিতায় তিনি মনে করিয়ে দেন, দুর্ভিক্ষ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় চেনে না। সবাই আক্রান্ত হয় এর করাল গ্রাসে। দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন জনগণের ঐক্যবদ্ধ লাইন, যে ঐক্য তারা দেখিয়েছে খাদ্য সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে। তিনি ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতায় নিজেকে ‘দুর্ভিক্ষের কবি’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তাঁর অন্যতম স্মরণীয় কবিতা ‘বোধন’–এ উন্মোচন করেছেন দুর্ভিক্ষ সৃষ্টিকারী মজুতদার-কালোবাজারিদের বর্বর ভূমিকা। তিনি শুধু তাদেরকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি, তাদের নির্মূল করার জন্য প্রতিশোধের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন:
    ‘আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই
    স্বজনহারানো শ্মশানে তোদের
    চিতা আমি তুলবই।’
    সুকান্ত বিশ্বনাগরিক ছিলেন। তিনি স্বদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্তরেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের শক্তিশালী ভূমিকার কারণে সাম্রাজ্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পতনে তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশিত হয়েছে ‘রোম: ১৯৪৩’ কবিতায়। জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতার অনবদ্য সমন্বয় ঘটেছে ‘প্রিয়তমাসু’ কবিতায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পটভূমিতে রচিত এ কবিতায় সুকান্ত নিজেকে উপস্থাপন করেছেন সৈনিকের অবয়বে। সেই সৈনিক দেশপ্রেমী, কিন্তু উগ্র জাতীয়তাবাদী নয়। সেই সৈনিক প্রেমী, একই সঙ্গে দেশ ও পৃথিবীর প্রতি দায়বদ্ধ। যুদ্ধ শেষে তাঁর অভিব্যক্তি:
    ‘পরের জন্যে যুদ্ধ করেছি অনেক,
    এবার যুদ্ধ তোমার আর আমার জন্যে।
    প্রশ্ন করো যদি এত যুদ্ধ ক’রে পেলাম কী? উত্তর তার—
    তিউনিসিয়ায় পেয়েছি জয়
    ইতালীতে জনগণের বন্ধুত্ব,
    ফ্রান্সে পেয়েছি মুক্তির মন্ত্র;
    আর নিষ্কণ্টক বার্মায় পেলাম ঘরে ফেরার তাগাদা।’
    অত্যাচারী ও শোষক জমিদারের বিরুদ্ধে সুকান্ত তীব্র বিদ্রূপের চাবুক মেরেছেন ‘ভাল খাবার’ ছড়ায়। প্রবল প্রতাপশালী জমিদার এমন আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে উদরপূর্তি করেন যে একসময় তার খাদ্যে অরুচি হয়। ডাক্তার–কবিরাজ তার রোগ সারাতে ব্যর্থ। ভয়ার্ত নায়েব তখন জমিদার ধনপতি পালের কাছে জানতে চান সবচেয়ে ভালো খাবার কোনটি। তারপর—
    ‘নায়েবের অনুরোধে ধনপতি চারিদিক
    দেখে নিয়ে বার কয় হাসলেন ফিক-ফিক।
    তারপর বললেন: বলা ভারি শক্ত
    সবচেয়ে ভালো খেতে গরীবের রক্ত।’

    নব্বইয়ের দশকে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের পতনের পর সুকান্তচর্চায় ভাটা পড়তে শুরু করে। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির উত্থান-পতন দিয়ে সুকান্তের সাহিত্য মূল্যায়ন যথার্থ নয়। প্রকৃত সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করা সম্ভব, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী আজও গদ্যময়। শতবর্ষে পা রাখা সুকান্তের উচ্চারণ তাই পুরোনো হয় না।

    বিভিন্ন পত্র–পত্রিকায় সুকান্তের পাঁচটি গল্পের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯৪৩ সাল; অর্থাৎ ১৩৫০ বঙ্গাব্দ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানলে পুড়ছে। অবিভক্ত বাংলা স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মন্বন্তরের সম্মুখীন হয় যা ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ নামে ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে আছে। খাদ্যের অভাব, ম্যালেরিয়া ও কলেরার প্রভাব এবং অপুষ্টি ও চিকিত্সাব্যবস্থার মর্মান্তিক দুরবস্থার ফলে ৩০ লাখ মানুষের শোচনীয় মৃত্যু ঘটে কয়েক বছরের মধ্যে। ক্ষুধা ও বঞ্চনার জীবন্ত দলিল হয়ে উঠেছে সুকান্তের গল্প। গল্পগুলো হচ্ছে ‘ক্ষুধা’, ‘দরদী কিশোর’, ‘দুর্বোধ্য’, ‘কিশোরের স্বপ্ন’ ও ‘ভদ্রলোক’।

    সুকান্ত পঞ্চাশের মন্বন্তরের মর্মান্তিক স্মৃতি নিয়ে সম্পাদনা করেছিলেন আকাল নামে এক অমূল্য কবিতা সংকলন। শুধু দুর্ভিক্ষ নিয়ে যে একটি কবিতা সংকলন হতে পারে, তা একমাত্র সুকান্ত ভট্টাচার্যই চিন্তা করেছিলেন। এই সংকলনে নিজের কবিতার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, অরুণ মিত্র, অমিয় চক্রবর্তী, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দীনেশ দাসের মতো কবি–সাহিত্যিকদের কবিতা। তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। সম্পাদক হিসেবে ‘কথামুখ’–এ তাঁর বক্তব্য সুকান্তের অসাধারণ ইতিহাসচেতনার সাক্ষ্য বহন করে। তিনি লিখেছেন:
    ‘তেরোশো পঞ্চাশ সম্বন্ধে কোনো বাঙালীকে কিছু বলতে যাওয়া অপচেষ্টা ছাড়া আর কি হতে পারে? কেননা তেরোশো পঞ্চাশ কেবল ইতিহাসের একটা সাল নয়, নিজেই একটা স্বতন্ত্র ইতিহাস। সে ইতিহাস একটা দেশ শ্মশান হয়ে যাওয়ার ইতিহাস; ঘর ভাঙা, গ্রাম ছাড়ার ইতিহাস, দোরে দোরে কান্না আর পথে পথে মৃত্যুর ইতিহাস, আমাদের অক্ষমতার ইতিহাস।’
    ‘জনতার কবি’ হতে চেয়েছিলেন সুকান্ত, তিনি তা হয়েও ছিলেন। রাজনীতি তাঁর কবিতাকে যেমন জনপ্রিয় করেছে, তেমনি রাজনীতির মোড়কে তাঁকে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা তাঁর কবিপ্রতিভার প্রতি অবিচার করেছে। তাঁর জন্ম, বিকাশ ও পরিণতির কালে—এমনকি পরবর্তী কয়েকটি দশকেও বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির শক্তিশালী প্রভাব ছিল। সুকান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তখন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণই মুখ্য ছিল, সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ নয়। নব্বইয়ের দশকে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের পতনের পর সুকান্তচর্চায় ভাটা পড়তে শুরু করে। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির উত্থান-পতন দিয়ে সুকান্তের সাহিত্য মূল্যায়ন যথার্থ নয়। প্রকৃত সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করা সম্ভব, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী আজও গদ্যময়। শতবর্ষে পা রাখা সুকান্তের উচ্চারণ তাই পুরোনো হয় না। যত দিন পৃথিবীতে অসাম্য, শোষণ ও ক্ষুধা থাকবে, তত দিন সুকান্তের সাহিত্য বঞ্চিত ও ক্ষুধার্ত মানুষের বলিষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে বেঁচে থাকবে।

  • গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। গ্যাসের এ সংকট আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া। সমাধানে সময় লাগবে।’

    আজ শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস–সংকটের কারণে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বাস্তবতা স্বীকার করে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।’

    বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি জানান।’

    এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির জানান, ‘চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, তবুও লোকসানের আশঙ্কা

    চুয়াডাঙ্গায় রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, তবুও লোকসানের আশঙ্কা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আষাঢ়-শ্রাবণের রোদ-বৃষ্টির খেলা আর বর্ষার পানিতে খাল-বিল কানায় কানায় পূর্ণ হতেই চুয়াডাঙ্গার মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান রোপণের মহোৎসব। আগাম পাট কেটে উঁচু ও নিচু জমি তৈরি করে বীজতলা থেকে চারা তোলা ও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পূর্বের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও ডিজেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের অনিয়ন্ত্রিত দাম বৃদ্ধিতে কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে লোকসানের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত হওয়ায় আমন রোপণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলেও বাজার পরিস্থিতি কৃষকের প্রতিকূলে। খুচরা বাজারে সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পাওয়ার টিলার মালিকরা প্রতি বিঘা জমিতে হাল চাষ বাবদ ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছেন। আগে যা ছিল ১,৩০০ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ টাকায়। এ ছাড়া ধান রোপণে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বিঘা প্রতি বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা।

    কৃষকদের হিসেব মতে, গত বছর এক বিঘা জমিতে আমন উৎপাদনে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার জমি ভাড়া, বীজ, সেচ ও সারসহ মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়া যেতে পারে। তবে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে আলু, পেঁয়াজ ও বিগত বোরো মৌসুমের মতো আমনেও বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃষক সোহাগ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আলুতে লোকসান করে ঋণ নিয়ে বোরো চাষ করেছিলাম, সেখানেও ধানের দাম না পেয়ে বিঘাপ্রতি আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সারের দাম বেশি, ৫০০ টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যায় না। সব কিছুর দাম বাড়লেও আমাদের ধানের দাম নেই।’

    একই উপজেলার আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করা গত মৌসুমের ধান অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে জীবিকার তাগিদে আবারো বুকে আশা বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

    দামুড়হুদার কৃষক জাকারিয়া আলমের মতে, ফসলের সঠিক দাম না পেয়ে কৃষকরা দিন দিন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। আমনেও যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলে, তবে জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

    তাই উৎপাদিত ধানের যৌক্তিক ও ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন তারা।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৩৬ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কৃষকরা যাতে আমন চাষে লাভবান হতে পারেন ও ফলন বৃদ্ধি পায়, সে জন্য কৃষি বিভাগ থেকে মাঠে গিয়ে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে রোপণের ভরা মৌসুম চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও ফলন ভালো হলে কৃষকরা অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে লাভবান হতে পারবেন।

  • আনারস চাষে বাম্পার ফলন

    আনারস চাষে বাম্পার ফলন

    মধুপুর উপজেলা ঘেঁষা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের অর্থনীতির মূল জোগানদাতা হলো আনারস। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কৃষকরা প্রায় ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার জলডুগি, ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন জাতের আনারস বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে।ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৃষকরা এখন জলডুগি চাষে বেশি ঝুঁকছেন। এর প্রধান কারণ হলো—এই আনারস চাষে সময়, জমি ও উৎপাদন খরচ কম লাগে এবং অধিক লাভ পাওয়া যায়। যেখানে ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন আনারসের ফলন পেতে দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে জলডুগির পূর্ণাঙ্গ ফলন মেলে এক বছরের মধ্যেই। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৫ হেক্টরে জলডুগি, ৪২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার এবং ১০ হেক্টরে হানিকুইন চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় জলডুগির আবাদ ৬৫ হেক্টর বেড়েছে। ৩১৫ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ পিস জলডুগি উৎপাদিত হবে। প্রতিটি ফল গড়ে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে এর বাজারমূল্য দাঁড়াবে ৬৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৪২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ১ কোটি ৫৩ লাখ পিস ক্যালেন্ডার আনারস ৪০ টাকা দরে বিক্রি করে ৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় হবে। এ ছাড়া হানিকুইনসহ অন্যান্য জাতের ৩ লাখ ৬০ হাজার আনারস থেকে আসবে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

    সন্তোষপুর গ্রামের চাষি সোলমান সরকার ৩ একর জমিতে ৬০ হাজার চারা লাগিয়ে ১১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি ফলের দাম আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর মোহাম্মদ জানালেন, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা আনারস থেকে কৃষকরা ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি আয় করবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

  • কোরিয়ায় তীব্র গরমে মাটির নিচেই আলু ‘সেদ্ধ’

    কোরিয়ায় তীব্র গরমে মাটির নিচেই আলু ‘সেদ্ধ’

    দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু এলাকায় মাটির নিচে থেকে তোলার আগেই আলু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আলুগুলো ‘সেদ্ধ’ হওয়ার মতো নরম হয়ে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পর আলুর খেতে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি গ্যাংওন প্রদেশের কৃষকেরা আলুর খেত খুঁড়ে দেখেন, ফসল তোলার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এগুলো দেখতে ভালো ছিল।

    উত্তর কোরিয়া সীমান্তের কাছে ইয়াংগু কাউন্টির হেয়ান এলাকায় চাষাবাদ করেন লি সাং-হিউক। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসকে তিনি বলেন, ‘শুধু যে একটি–দুটি খেতে এমন অবস্থা হয়েছে, তা নয়। আসলে কী করে যে এটা বলে বোঝাব। আমি ভীষণ হতাশ।’

    লি সাং-হিউক বলেন, তিনি ৪০ বছর ধরে চাষাবাদ করছেন। এর আগে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখেননি।

    কাছের এলাকায় কয়েক হাজার পিয়ং পরিমাণ (কোরিয়ার হিসাবে এক পিয়ং প্রায় ৩ দশমিক ৩ বর্গমিটার) জায়গাজুড়ে থাকা বাঁধাকপির খেতও নষ্ট হয়ে গেছে। ভালো দামের আশায় সেখানকার কৃষকেরা ফসল তুলতে দেরি করছিলেন। প্রচণ্ড গরমে খেতেই বাঁধাকপি পুড়ে যায়। পরে সেগুলো মাটিতে চাষ দিয়ে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। নষ্ট হওয়া এসব বাঁধাকপির দাম ছিল কয়েক কোটি ওন।

    যে গ্যাংওন প্রদেশে এই দুটি খামারের অবস্থান, সে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকায় চলতি মাসে প্রথমবারের মতো প্রচণ্ড তাপপ্রবাহজনিত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রদেশটির চুনচন, হংচন ও হোয়ংসং শহরে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    কৃষকেরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে শুধু সবজি নয়, ফলের বাগানেও প্রভাব পড়ছে। সরাসরি সূর্যের আলোয় আপেলের খোসা পুড়ে রং বদলে যাচ্ছে। পিচ ফল ফেটে যাচ্ছে।

    আপেলচাষি চন জং-তে এসবিএসকে বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে চুসক উৎসবের সময় যেসব আপেল পাকা ও রং ধরতে শুরু করার কথা ছিল, সেগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে গেছে। শুধু সূর্যের দিকে থাকা অংশ লাল হচ্ছে। তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে আপেলগুলো সাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ৯ লাখের বেশি গবাদিপশু এবং খামারে চাষ করা ১৪ লাখ মাছ মারা গেছে।

    গত ২ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। ১৯০৪ সালে আধুনিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রা রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সে তুলনায়, যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ে লিংকনশায়ারের কনিংসবিতে রেকর্ড করা হয়েছিল।

    প্রচণ্ড গরমে শুধু ফসল নয়, কৃষকেরাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ঘরের ভেতরে থাকার জন্য সরকারিভাবে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তা মেনে চলা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, ততক্ষণে খেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    পিচচাষি পার্ক ওন-সন বলেন, ‘তাঁরা (সরকার) আমাদের দিনের বেলায় বাইরে গিয়ে কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু পিচগুলো তো পচে যাচ্ছে।’

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং মন্ত্রিসভাকে বলেন, দেশটিতে এমন আবহাওয়া পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানান। লি জে মিয়ং বলেন, এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে উঠছে।

    এ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মূলত মৃত্যু ও গবাদিপশুর ক্ষতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ফসলের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা কর্মকর্তারা এখনো নির্ধারণ করতে পারেননি।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় খাদ্যপণ্যে দাম আগে থেকেই বেশি। কৃষকদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে তিন দিনের শরৎকালীন ফসল উৎসব চুসককে সামনে রেখে মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় উৎসবের খাবারের জন্য পরিবারগুলো প্রচুর পরিমাণে খাদ্যপণ্য কেনে।

    প্রচণ্ড গরমের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ফসল হিসেবে গবেষকেরা যেসব ফসলকে চিহ্নিত করেছেন, আলু তার মধ্যে অন্যতম।

    ২০২৪ সালে পটেটো রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রীষ্মকালীন আলু চাষের জন্য তাপসহনশীল আলুর জাত প্রয়োজন হবে। জার্মানির লাইবনিজ সেন্টার ফর অ্যাগ্রিকালচারাল ল্যান্ডস্কেপ রিসার্চ ও ব্রান্ডেনবুর্গ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির বিজ্ঞানীদের করা ওই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বসন্তকালীন আলুর ক্ষেত্রে আগাম চাষের মধ্য দিয়ে ফলন ভালো হতে পারে।

    ঝড়ের কারণে সাময়িক স্বস্তি আসার আগপর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। জাপানেরও কয়েকটি স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

    হংকংয়ে তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ১৮৮৪ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর সর্বোচ্চ। চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের একটি আবহাওয়া কেন্দ্রেও জুলাইয়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক ‘স্টেট অব দ্য ক্লাইমেট ইন এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩৫ বছরে এশিয়ায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার তার আগের তিন দশকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

  • তীব্র গরমে পাকিস্তানে খেজুর শ্রমিকদের নাভিশ্বাস

    তীব্র গরমে পাকিস্তানে খেজুর শ্রমিকদের নাভিশ্বাস

    পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশে খেজুরের মৌসুম শুরু হয় জুলাইয়ে। এ সময় প্রদেশটির তাপমাত্রা নিয়মিত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়। প্রচণ্ড গরমে খেজুর সংগ্রহ ও সেদ্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

    শ্রমিকরা সূর্য ওঠার আগেই কাজ শুরু করেন। দিনের কাজ কয়েকটি ছোট পালায় ভাগ করে নেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই গরম তাদের কাবু করে ফেলে।

    খেজুরগাছ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা খাইরপুর জেলায় শ্রমিকদের কঠিন রুটিনের মধ্যে রয়েছে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ ও সেদ্ধ করা। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি খেজুর উৎপাদন হয় এই জেলায়। এখানকার হাজারো কৃষক ও মৌসুমি শ্রমিকের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

    এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খেজুর সংগ্রহের কাজ করছেন ইদরিস। তিনি বলেন, এখন এই গরম ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর সময় এএফপিকে ইদরিস বলেন, ‘আগে গরমের তীব্রতা কম ছিল। এখন গরম অনেক বেশি তীব্র। দিনগুলো অত্যন্ত গরম। এ কারণে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।’

    একাধিক শ্রমিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, তারা প্রায়ই হিটস্ট্রোক, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও জ্বরে ভোগেন। ইদরিস বলেন, ‘গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। এরপর আবার কাজে ফিরে আসি।’

    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে দেশটির অবদান এক শতাংশেরও কম।

    দেশটিতে তাপপ্রবাহের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ভয়াবহ বন্যারও শিকার হচ্ছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এতে সিন্ধু প্রদেশ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    দিনের সবচেয়ে বেশি গরম এড়াতে শ্রমিকরা রাত প্রায় ২টায় খেজুরবাগানে কাজ শুরু করেন। পরে বিরতি নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান।

    ইদরিস বলেন, শারীরিকভাবে কঠিন এ কাজ করে তিনি দিনে প্রায় এক হাজার দুশো পাকিস্তানি রুপি আয় করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খেজুর সংগ্রহ করি। ট্রলিতে করে এখানে নিয়ে আসি। এরপর আগুনের ওপর সেগুলো সেদ্ধ করা হয়। পরে বাইরে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়।’

    বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী দেশ পাকিস্তান। শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, দেশটি সাধারণত বছরে ১২ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের খেজুর রপ্তানি করে।

    খেজুরচাষি শাহনওয়াজ ফুলপোতো এক হাজার ৫০০টিরও বেশি খেজুরগাছের মালিক। তিনি বলেন, পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত খেজুরের ফলন ব্যাহত করেছে। এতে আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে। তবে আপাতত প্রধান চ্যালেঞ্জ গরম। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই তাপমাত্রা বাড়ছে। আমরা প্রতি বছরই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখতে পাচ্ছি।’

  • আনারকলি ফল চাষে বাজিমাত

    আনারকলি ফল চাষে বাজিমাত

    বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ বাংলাদেশে ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে পনিচিত। এ ফল চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাষি সালেহ আহমদ। জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে কয়েক বছর আগেই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন তিনি। এ কৃষি উদোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

    জানা গেছে, মুদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে জেলায় ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

    উদ্যোক্ত সালেহ আহমদ জানান, দর্ঘিদিন ধরে তিনি ধান চাষের পাশাপাশি নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন লেবু, লটকনসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের ক্ষুদ্রায়তন বাগান। ২০২২ সালে নিজের চার শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু করেন আনারকলি চাষ। ২০২৪ সালে তার ওই তিনটি গাছের ফল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করেন ১০ হাজার টাকা। আনারকলি ফল বিক্রির পর চাষে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। ওই বছরই আরও বেশ কিছু চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষাবাদে তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোতে যে ফল এসেছে তাতে সালেহ আহমদ চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

    সরেজমিনে সালেহ আহমদের আনারকলি ফলের বাগানের গিয়ে দেখা যায়, মাচাং ও বড় বড় গাছের উপর লতানো আনারকলি, প্যাশন ফ্রন্ট বা ট্যাং ফলের গাছগুলো ভরে গেছে ফুল ও ফলে। আলাপকালে কৃষক সালেহ আহমদ বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। ২০২২ সালে কৃষির কাছে একটি খাসিয়া পান পুঞ্জির মন্ত্রীর (পুঞ্জি প্রধান বা হেডম্যান) বাড়িতে প্রথম প্রথম দেখি আনারকলি ফল। ফলটি দেখে পরে ওই মন্ত্রীর কাছে চারা চাইলে তিনি জানান চারা জানবে মেয়ে মাটিতে রোপন করলেই গাছ হবে।

    তার কথামতো তিনটি ভাল কেটে আনি এবং নিতান্তই শখের বসে আমার পরিতাক্ত একটি জমিতে তা রোপন করি। কিছুদিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে এক বছরের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। ডাল রোপণের প্রথম বছরই বাড়িতে আমরা অনেকগুলো ফল খাই এবং এলাকার মানুষও ফল চেয়ে নেন। এলাকার এমন কোন বাড়ি নেই যারা আগ্রহভরে আমার কাছ থেকে ফল নেননি। তবে কোনদিনও ভাবতে পারিনি এসব ফল বিক্রি করতে পারবো।

    ২০২৪ সালে আমার এলাকার সায়েদ আলী নামের এক যুবক আমাকে ফল কেনার প্রস্তাব দেয়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে তার নানা মৌসুমি ফলের দোকান রয়েছে। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে আমি গাছে ঝুলতে থাকা পাকা ফলগুলো প্রতি পিস ২৫ টাকা দরে তার কাছে বিক্রি করতে থাকি। এলাকায় বণ্ঠন ও আমার পরিবারের চাহিদা মেটানোর পরও মৌসুম শেষে ফল বিক্রির অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকারও বেশি।

    এতে আগ্রহ বাড়ে, নিজের গাছের কলম ও ফলের বীজ থেকে আরও চারা করি। বর্তমানে আমার বাগানের মাচাংয়ে এবং আশপাশের আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন গাছে রয়েছে অনেকগুলো আনারকলি ফলের গাছ। যে পরিমাণ ফুল ও ফল এসেছে তাতে ধারণা করছি এ বছর কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকার বিক্রি করতে পারব। তবে ফুল ধরার পর মৌমাছির আক্রমণে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। নতুবা ফলের ও বিক্রির আয়ের সংখ্যা আরও বাড়তো। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফল ও চারা কিনতে আসছেন।

    বাঘমারা গ্রামের ছদরুল হোসেন বলেন, বকৃষক সালেহ আহমদের আনারকলি ফলের বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। মাত্র চার শতক জমির বাগানে শতশত ফল ধরে। এই ফলের উৎপাদন

    প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর ফল ধরে। এ ফল চাষ করতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। জৈব পদ্ধতিতে আবাদ করা যায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। ভিটামিন-সি, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এ ফল। কৃষক সালেহ আহমদ বলেন, বলেন, বিঘাপ্রতি আনারকলি চাষ করলে কয়েক লাখ টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব। এই ফল পিস হিসেবে বিক্রি করা হয়। উৎপাদন খরচ খুবই কম। বর্তমানে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি চারা উৎপাদন শুরু অনেক বেশি। আনারকলি ফল খেতেও মজাদার।

  • বাংলাদেশি কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    বাংলাদেশি কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিনিধি দল। আজ বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন, ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক ও শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন উপস্থিত ছিলেন।

    থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, থাইল্যান্ড বর্তমানে কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটির নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে সৃষ্টি হওয়া কর্মী সংকট কাটাতে পঞ্চম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা মেয়াদ শেষের পর অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা এমন ব্যবস্থা চাই যেখানে নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তা বহন করবেন, স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মীদের কল্যাণ, ন্যায্য মজুরি, আবাসন ও চিকিৎসা বীমার জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকবে।’

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল হক চৌধুরী থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। থাইল্যান্ডের উদ্বেগের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করে দ্রুতই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, আর বাংলাদেশের রয়েছে জনশক্তির অফুরন্ত ভাণ্ডার। থাইল্যান্ড সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিতে পারে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ জবের পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ জবের জন্যও বাংলাদেশে উপযুক্ত কর্মী রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনায় থাইল্যান্ড বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট স্থান। তবে এক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী প্রেরণ এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেফতার

    ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেফতার

    মনিরুল ইসলাম মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের উপজেলা সভাপতি আব্বাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় হওয়া একটি বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেফতার আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নাশকতার পরিকল্পনা করে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে তার নাম আসলে তাকে গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জেন-জির পর ভারতে এবার জেন-আলফার বিক্ষোভ

    জেন-জির পর ভারতে এবার জেন-আলফার বিক্ষোভ

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় স্কুলে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে জেলা কালেক্টরেটের সামনে অবস্থান নেয়।

    জেন-আলফা বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভারতের স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত চাঁদুপুর থেকে হামিরপুরের দিকে তাদের গ্রামের জন্য কোনো পাকা রাস্তা তৈরি হয়নি। বর্ষায় কাঁচা রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি পেরোতে হয়। এতে পোশাক নোংরা ও জুতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তার অভাবে এক শিক্ষার্থীকে স্কুল ছাড়তেও হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    ‘কৃষক, ছাত্র ও অসুস্থরা সমস্যায়—চাঁদুপুর-হামিরপুর সড়ক নির্মাণ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা পোস্টার নিয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানায়।

    এসডিএম অভিষেক কুমার ও সার্কেল অফিসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দ্রুত রাস্তার কাজ শুরুর আশ্বাস পাওয়ার পর বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়।

    এদিকে, জেন জি-র প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জেন-আলফাদের আন্দোলনের প্রশংসা করেছেন। সংগঠনটি স্বাধীনতা দিবসে গ্রামীণ সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি প্রচারাভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।

  • ভারতে সরকারিভাবে ২০ রুপি লিটারে গোমূত্র সংগ্রহ শুরু

    ভারতে সরকারিভাবে ২০ রুপি লিটারে গোমূত্র সংগ্রহ শুরু

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে বুলন্দ শহরের ১৫টি গ্রামে । বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে আদিত্যনাথের সরকারের । গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্কও বসানো হয়েছে।

    প্রকল্পটির উদ্দেশ্য কৃষকদের অতিরিক্ত আয়, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান এবং দুধ না দেওয়া গরুর রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা।

    প্রকল্পে প্রায় ৩০০ নারী যুক্ত হয়েছেন এবং তাদের এফপিওর শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে। গোমূত্র সংগ্রহে সহযোগিতাকারী নারীরা প্রতি লিটারে দুই রুপি কমিশন পাচ্ছেন।

    সংগৃহীত গোমূত্র কৃষিকাজে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে রাসায়নিক সার ও কৃষি-উপকরণের বিকল্প তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প সফল হলে রাজ্যজুড়ে এটি চালুর জন্য পৃথক নীতি প্রণয়ন করা হবে।

    তবে সমাজবাদী পার্টি এই উদ্যোগকে ‘কেলেঙ্কারি’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই সরকার এই প্রকল্প করছে। বিজেপি অবশ্য অভিযোগ খারিজ করে বলেছে, সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পেরই বিরোধিতা করে এসপি।

  • পুঁতে রাখা ৫ লাখ টাকা এক বছর পর যা হলো

    পুঁতে রাখা ৫ লাখ টাকা এক বছর পর যা হলো

    ভারতের রাজস্থানে চুরি ঠেকাতে জমিতে ৫ লাখ টাকা পুঁতে রেখেছিলেন এক কৃষক। কিন্তু কোথায় টাকা পুঁতে রেখেছেন, তা পরে ভুলে যান তিনি। প্রায় এক বছর পর সেই টাকা খুঁজে পেলেও তখন আর কিছু করার ছিল না। উইপোকায় নষ্ট হয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে পুরো টাকাই।

    জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে নিজের একটি জমি বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন ওই কৃষক। সেই অর্থ দিয়ে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তার। তবে বাড়িতে টাকা রাখলে চুরি হয়ে যেতে পারে কিংবা অপ্রয়োজনীয় খরচ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তিনি টাকাগুলো একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে জমিতে গর্ত করে পুঁতে রাখেন।

    কিন্তু মদ্যপানের অভ্যাস ও ভুলে যাওয়ার কারণে ঠিক কোন জায়গায় টাকা রেখেছিলেন, তা মনে করতে পারেননি তিনি। একাধিকবার খোঁজ করেও টাকার সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ও ছেলেদের বিষয়টি জানান।

    প্রথমে পরিবারের সদস্যরা তার কথা বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে জমির বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন তারা। তবে বেশ কিছু চেষ্টা করেও টাকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    এরপর বর্ষা মৌসুমে জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রায় এক বছর পর মাটির নিচ থেকে ওই পলিথিনের ব্যাগটি বেরিয়ে আসে। তবে রাতের অন্ধকারে বিষয়টি কারও নজরে পড়েনি।

    পরদিন সকালে জমির বেড়া মেরামতের সময় কৃষকের স্ত্রী ও ছেলে ব্যাগটি দেখতে পান। ব্যাগ খুলতেই তারা হতবাক হয়ে যান। ভেতরে ছিল সেই ৫ লাখ টাকা, যা এক বছর আগে জমিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে ততদিনে উইপোকায় নোটগুলো ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।

    নষ্ট হয়ে যাওয়া নোটের কোনো মূল্য উদ্ধার করা যায় কি না, সেই আশায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত নোটগুলো সংগ্রহ করে স্থানীয় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) একটি শাখায় যান। কিন্তু নোটগুলোর অবস্থা দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

    পরে তারা জেলার এসবিআইয়ের প্রধান শাখায় গেলেও সেখান থেকেও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সঞ্চিত ৫ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার আশা নিয়ে শুরু করা পরিবারের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত হতাশাতেই গড়ায়।

  • বিসিআইসি-বিএডিসি সার ডিলার নামে বিভাজন থাকছে না

    বিসিআইসি-বিএডিসি সার ডিলার নামে বিভাজন থাকছে না

    কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার ডিলার সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালাÑ২০২৫ (সংশোধিত)’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
    এ লক্ষ্যে রোববার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিদপ্তর থেকে অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

    জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বিতরণের জন্য ন্যূনতম ৯ জন ডিলার রাখতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলার চাহিদা ও কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনায় ডিলারের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও জেলা ডিলার সমবায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নতুন ডিলারদের নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


    বিদ্যমান ডিলারদের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার চাহিদা, জেলাভিত্তিক কোটা এবং নীতিমালার শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে জেলা কমিটি ডিলারদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করবে।নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ডিলার নীতিমালা লঙ্ঘন করলে বা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


    এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে পারবেন। নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
    আদেশে বলা হয়েছে, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সংশোধিত নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
    বিলুপ্ত হলো সাব-ডিলার ব্যবস্থা সারাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার বিক্রির জন্য বিসিআইসি ডিলারদের আওয়তায় সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হলেও ‘অনিয়ন্ত্রিত’ সাব-ডিলার বা খুচরা সার বিক্রেতা ব্যবস্থা রহিতকরণ করা হয়েছে সংশোধিত নীতিমালায়।


    ফলে সারাদেশের ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েক লাখ ‘অনিয়ন্ত্রিত’ খুচরা সার বিক্রেতার লাইসেন্স সংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
    তবে সংশোধিত নীতিমালায় নতুন ডিলারদের নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
    বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলার নামে বিভাজন থাকবে না দীর্ঘদিন ধরে একই দেশের দুইটি রাষ্টত্ব সংস্থা বিসিআইসি এবং বিএডিসি আলাদা আলাদা সার ডিলার নিয়োগ করে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি কার্যক্রম চালু রেখেছিলো। এতে চাহিদার চেয়ে তুলনামূলক সামান্য বরাদ্ধ পেতেন বিএডিসি ডিলাররা। এতে তাদেরমধ্যে ক্ষোভ-হতাশা ছিলো। তবে সংশোধিত নীতিমালায় পুরাতন সেই আলাদা ডিলার ব্যবস্থা বাতিল করে একটি সমন্বিত ডিলার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে বিসিআইসি ডিলার বা বিএডিসি ডিলার নামক কোনো বিভাজন থাকবে না।


    একই পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নয়নীতিমালায় একই পরিবারে একাধিক সার ডিলার নিয়োগের সুযোগ রহিতকরণ করা হয়েছে। ফলে একই পরিবারে বিসিআইসি বা বিএডিসির একাধিক সার ডিলার লাইসেন্স থাকলে তা বাতিল হবে।


    সার উৎপাদনকারী-সরবরাহকারীদের ডিলার পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ সংশোধিত নীতিমালায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওয়তাধীন দেশীয় সার উৎপাদনকারী টিএসপি কমপ্লেক্স বা ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবং বেসরকারিভাবে আমদানী করা নন ইউরিয়া সার আমদানীকারক বা সরকারি সারের পরিবহণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি ডিলার বা উপজেলা পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

  • লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চলতি আমন মৌসুমে রোপণ করা ধানের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত চাহিদামতো সার না পাওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন লালমনিরহাটের আমন চাষি কয়েক হাজার কৃষক।

    সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জেলার উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় কয়েক হাজার কৃষক সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    কৃষকদের অবরোধের কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পাথরবাহী ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

    খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    কৃষকেরা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিএপি সারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা দর থাকলেও তা ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকেরা অভিযোগ করলেন।

    কাশীরাম এলাকার আইয়ুব আলী জানান, আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষকেরা আরও সঙ্কটে পড়বেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার ডিলারদের কাছে পাওয়া না গেলেও অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক, মো: সাইফুল আরেফিন বলেন, চলতি মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট নেই। চাহিদামতো ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কী কারণে কালীগঞ্জের ওই এলাকায় সার সঙ্কট হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বারবার এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রাম থেকে রাজাবুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্রয়লার মুরগির খামারি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।

    সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ খামারে অবস্থানকালে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    নিখোঁজ রাজাবুল ইসলাম ওসমানপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বাড়ির পাশের নিজের ব্রয়লার মুরগির খামারে পাহারার জন্য অবস্থান করছিলেন রাজাবুল। রাত আনুমানিক ২টা ৩৩ মিনিটে তিনি মেসেঞ্জারে স্ত্রীকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে দ্রুত মেজো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে খামারে আসতে এবং আশপাশে কেউ আছে কি না তা দেখতে অনুরোধ করেন।

    বার্তায় রাজাবুল জানান, তিনি ভয় পাচ্ছেন এবং খামারের আশপাশে লোকজনের ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। তবে রাত গভীর হওয়ায় তার স্ত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে ওই সময় তিনি বার্তাটি দেখতে পাননি।

    সোমবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজটি দেখতে পান রাজাবুলের স্ত্রী। পরে তিনি দ্রুত খামারে গিয়ে স্বামীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। স্বজনরা সেখানে গিয়ে রাজাবুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পরনের কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রাজাবুলের সন্ধান পাননি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজের পর ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    রাজাবুলের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং নিখোঁজের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

  • চুয়াডাঙ্গায় নিম্নমানের চারা সরবরাহে তদন্ত কমিটি গঠন

    চুয়াডাঙ্গায় নিম্নমানের চারা সরবরাহে তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নিম্নমানের গাছের চারা ও বাঁশের খুঁটি সরবরাহের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে কৃষি বিভাগের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করে। প্রথম দিনে কমিটির সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে গিয়ে জেলার চার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য নেন। পরে চার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় ও বৃক্ষরোপণ করা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

    তবে একদিনে জেলার চার উপজেলায় সরেজমিন তদন্ত কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও দামুড়হুদা উপজেলায় সরেজমিন তদন্ত শুরু করে।

    জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণ এবং চারা, সারসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়।

    কর্মসূচির শুরুতেই নিম্নমানের চারা ও বাঁশের খুঁটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান ও যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হাসান।

    অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক-উজ-জামানকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আতা ইলাহী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা।

  • জলাবদ্ধতার বুকে সবুজ বিপ্লব

    জলাবদ্ধতার বুকে সবুজ বিপ্লব

    খুলনার বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধ থাকে। বর্ষা এলেই মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, দীর্ঘদিন জমিতে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে সবজির চারা উৎপাদন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ সময়মতো মানসম্মত চারা না পেলে কৃষকদের মৌসুমি সবজি চাষও ব্যাহত হয়। এমন বাস্তবতায় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে পলি নেট হাউস প্রযুক্তি।


    একসময় যেখানে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের দূর-দূরান্ত থেকে চারা সংগ্রহ করতে হতো, সেখানে এখন স্থানীয়ভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের সবজির চারা। শুধু নিজের এলাকার চাহিদা পূরণই নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের কাছেও নির্ভরযোগ্য চারার উৎস হয়ে উঠছে এসব পলি নেট হাউস। ফলে জলাবদ্ধতাকে সীমাবদ্ধতা নয়, বরং নতুন সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার এক সফল উদাহরণ তৈরি হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলায়।


    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পলি নেট হাউস হলো মোটা ও টেকসই পলিথিন দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের সুরক্ষিত ঘর। এর ভেতরে লোহার তৈরি ট্রে বা নেটের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজির বীজ বপন করা হয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত হওয়ায় চারা রোগবালাই, অতিবৃষ্টি কিংবা ঝড়ো আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে চারা সমানভাবে বেড়ে ওঠে এবং কৃষকের হাতে পৌঁছায় উন্নতমান নিশ্চিত করে।


    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, একটি পলি নেট হাউসে একসঙ্গে এক লাখেরও বেশি চারা উৎপাদন করা সম্ভব। সঠিক ব্যবস্থাপনায় বছরে আট থেকে দশ লাখ পর্যন্ত চারা উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে উপজেলার খর্ণিয়া ও আটলিয়া ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ব্যক্তি উদ্যোগে তিনটি পলি নেট হাউস গড়ে উঠেছে। এসব হাউসে প্রধানত বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।


    তার মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় এ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মানসম্মত চারা উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা জলাবদ্ধতার সময়ও চারা নিরাপদ থাকে। ফলে কৃষক নির্ধারিত সময়েই চারা হাতে পান এবং মৌসুমি সবজি চাষে কোনো বিলম্ব হয় না।
    ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা তাপস সরকার এ পরিবর্তনের অন্যতম সফল মুখ। তার প্রতিষ্ঠিত রুদ্রনীল এগ্রি নার্সারি এখন বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের কাছে পরিচিত একটি নাম। উন্নতমানের সবজির চারা উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেননি, স্থানীয় কৃষকদের জন্যও নির্ভরযোগ্য চারার উৎস গড়ে তুলেছেন।


    তাপস সরকার ২০১৭ সাল থেকে সবজির চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তবে ২০২১ সালে সরকারি সহযোগিতায় পলি নেট হাউস স্থাপনের পর তার নার্সারির কার্যক্রম নতুন গতি পায়। বর্তমানে তিনি চুইঝাল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, টমেটো, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির উন্নতমানের চারা উৎপাদন করছেন।
    তার নার্সারি থেকে এখন ডুমুরিয়া ছাড়াও যশোরের কেশবপুর, নড়াইল এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক মৌসুমভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী চারা সংগ্রহ করেন। কৃষকদের দাবি, এখান থেকে সংগ্রহ করা চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় মাঠে রোপণের পর ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে।


    তাপস সরকার বলেন, সরকারি সহায়তায় পলি নেট হাউস স্থাপনের ফলে সারা বছর উন্নতমানের চারা উৎপাদন অনেক সহজ হয়েছে। এ কাজে তার স্ত্রী বিজয়া সরকার সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন। পারিবারিক উদ্যোগেই তারা কৃষিভিত্তিক একটি সফল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
    তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা আরও বাড়ানো হলে বিল ডাকাতিয়াসহ জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি পরিমাণে মানসম্মত চারা উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমবে এবং সময়মতো চারা পাওয়ার নিশ্চয়তা বাড়বে।


    স্থানীয় কৃষকদের মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় সবজি চাষের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল মানসম্মত চারার সংকট। এখন স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। সময়মতো চারা পাওয়ায় কৃষিকাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী করা যাচ্ছে এবং ফলনও বাড়ছে।

  • উন্নত মানের আঁশ ও ভালো দামের আশা কৃষকদের

    উন্নত মানের আঁশ ও ভালো দামের আশা কৃষকদের

    একসময় খালটি ছিল মৃতপ্রায়। বছরের পর বছর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানিও সেখানে আর স্থায়ী হতো না। পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে প্রতি মৌসুমেই চরম দুর্ভোগে পড়তেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেককে কয়েক কিলোমিটার দূরে পুকুর ভাড়া নিয়ে কিংবা অন্যের জলাশয়ে অতিরিক্ত খরচ করে পাট পচাতে হতো। সেই দুর্ভোগ এখন অনেকটাই অতীত। সরকারি উদ্যোগে খাল পুনঃখননের পর এবার বর্ষার পানিতে থইথই করছে খাল। আর সেই পানিতেই দল বেঁধে মনের আনন্দে পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। উন্নতমানের আঁশ ও ভালো দামের প্রত্যাশায় তাদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।


    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে খালটি ছিল আগাছা আর পলিতে ভরাট, এখন সেখানে টইটম্বুর পানি। খালের দুই তীরে সারি সারি লাগানো বনজ ও ফলজ গাছের চারা পুরো এলাকাকে দিয়েছে এক মনোরম রূপ। খালের পানিতে সারিবদ্ধভাবে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে পাটের আঁটি। কেউ নতুন করে পাট নামাচ্ছেন, কেউ আবার পচা পাট তুলে আঁশ ছাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয় প্রবীণরাও সন্তোষ প্রকাশ করছেন।


    বড়ভাগ গ্রামের কৃষক ইমদাদুল শেখ বাড়ির পাশের খালে পাট জাগ দিতে দিতে বলেন, ‘আগে পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো। অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে পাট পচাতে হতো, এতে খরচও বেশি লাগত। এবার বাড়ির পাশেই খালে পাট জাগ দিতে পারছি। সময়ও বাঁচছে, খরচও কমছে। সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের অনেক উপকার করেছে।’


    একই গ্রামের কৃষকরা জানান, আগে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক সময় পাট ঠিকমতো পচত না। এতে আঁশের মান খারাপ হতো এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যেত না। এবার সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে।
    মালা গ্রামের কৃষক কামরুল শেখ বলেন, ‘আমি এবার দেড় একর জমিতে পাট চাষ করেছি। আগে অন্যের পুকুর ভাড়া নিতে হতো। অনেক সময় সেচ দিয়ে পানি তুলে পাট জাগ দিতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত খরচ হতো। এবার খালেই সব কাজ করতে পারছি। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং ভালো আঁশ পাওয়ার আশা করছি।’


    স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের সুফল শুধু পাট চাষেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্ষার পানি সংরক্ষণ হওয়ায় আগামী মৌসুমে সেচ সুবিধাও বাড়বে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল তৈরি হবে এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ হবে।
    টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, ‘খাল পুনঃখননের কারণে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা সরাসরি এর সুফল পাচ্ছেন। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এলাকার কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে।’


    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত বলেন, ‘প্রকল্পটি ছোট হলেও বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য ছিল না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’


    আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যেই কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন। এটি শুধু কৃষির উন্নয়নেই নয়, এলাকার জলাধার সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থ ও কৃষির উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
    উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেট থেকে মিলন মোল্যার বাড়ি পর্যন্ত ৫৭০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৮ টাকা।


    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় কাজের মান, স্বচ্ছতা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের উপস্থিতি ও কাজের হিসাব-নিকাশ নিয়মিত যাচাই করা হয়। এতে শ্রমিক অনুপস্থিতিজনিত কারণে উদ্বৃত্ত থাকা ৩৭ হাজার ৩৭০ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • আফগানিস্তানে সোনা উত্তোলনের হিড়ক

    আফগানিস্তানে সোনা উত্তোলনের হিড়ক

    আফগানিস্তানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশ। এখানে একসময় গ্রামবাসী ও তাঁদের গবাদিপশু অবাধে বিচরণ করত। এখন সেই পাহাড়গুলো থেকে সোনা উত্তোলনের জন্য ডজনখানেক খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) দিনরাত কাজ করছে।

    কয়েক হাজার খনিশ্রমিক প্রাদেশিক রাজধানী ফয়জাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বের শিওয়া এলাকায় কাজ করছেন। তাঁরা দেশজুড়ে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর জন্য সোনা উত্তোলন করেন।

    এলাকার কিছু বাসিন্দা এই সোনা উত্তোলনের হিড়িক থেকে লাভবান হলেও পরে তা নিয়ে অনুতপ্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কৃষক মোহাম্মদ আমিন।

    পুল–ই–জিরি বান উপত্যকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের বয়স ৭৪ বছর। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আগে নদীটি গভীর ছিল, আর এর পানি ছিল স্বচ্ছ। খননকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে নদীর পানি আর পান করার উপযোগী নেই, এমনকি ওই পানি দিয়ে গোসল বা হাত–পা ধোয়ার কাজও আর করা যায় না।’

    কান্নাভেজা চোখে মোহাম্মদ আমিন আরও বলেন, ‘নদীর তীরের সব ঘাস বিলীন হয়ে গেছে। ধুলাবালু ও বাতাসের কারণে এখন আর চাষাবাদ করা সম্ভব নয়।’

    আগে যেখানে মোহাম্মদ আমিন সর্বোচ্চ ৪০টি ছাগল পালন করতে পারতেন, সেখানে এখন মাত্র ১৫টি ছাগল পালন করাও কষ্ট হয়ে যায়।

    নিজের জমি একটি খনি কোম্পানির কাছে ইজারা দিয়েছেন মোহাম্মদ আমিন। এর বিনিময়ে তাঁকে ২০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি অর্ধেক অর্থ হাতে পেয়েছেন।

    কোম্পানিটি খননকাজ শেষ হওয়ার পর মোহাম্মদ আমিনের জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, খনি কোম্পানি তা পূরণ করেনি।

    রাষ্ট্রীয় আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে তালেবান সরকার আফগানিস্তানের ভূগর্ভস্থ খনিজসম্পদ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেফাইল ছবি: এএফপি

    পাঁচ বছর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর তালেবান কর্তৃপক্ষ খনি খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা আফগানিস্তানের বিশাল ভূগর্ভস্থ খনিজসম্পদ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

    বাদাখশানের খনি বিভাগের প্রধান আবদুল মাতিন রহিমজাই বলেন, ৬৫০ থেকে ৭০০টি কোম্পানি নিবন্ধন করেছে। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ হাতে খনন ও সোনা উত্তোলনের কাজ করছেন।

    বিশ্বব্যাংক তাদের মে মাসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটিতে ২০২১ সালের পর থেকে শত শত খনিসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এ খাতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে হয়েছে।

    ‘অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে ভালো’

    মোহাম্মদ আমিনের গ্রামে খননকাজ আপাতত বন্ধ। তবে তাঁর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গুলাক–দারা উপত্যকায় ডজনখানেক খননযন্ত্র পাহাড় কেটে খনিজ উত্তোলনের কাজ চলছে।

    আফগানিস্তানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকেরা এখানে এসে কাজ করছেন।

    কাবুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ আগা খাজা খাইল পাঁচ বছর ধরে খনিতে কাজ করছেন। তিনি ট্রাকে মাল বোঝাইয়ের কাজ করে মাসে ১০ হাজার আফগানি (প্রায় ১৫০ ডলার) আয় করেন।

    খননযন্ত্রের বিকট শব্দের মধ্যে কাজ করে যাওয়া ২১ বছর বয়সী ওই যুবক বলেন, ‘এটি অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে ভালো। কাবুলে কাজের সুযোগ খুব বেশি নেই।’

    আফগানিস্তানের খনি থেকে উত্তোলিত সোনা

    পাঁচ সন্তানের জনক শফিউল্লাহ এহসাস প্রায় তিন মাস আগে জালালাবাদ থেকে তাঁর এক্সক্যাভেটরটি কয়েক শ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় নিয়ে আসেন।

    শফিউল্লাহ এহসাসের বয়স ৩২ বছর। তিনি এখানে মাসে ২৫ হাজার আফগানি আয় করেন। তিনি বলেন, ‘জালালাবাদে এখনো সোনা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়নি, কিন্তু বাদাখশানে তা চলছিল। তাই আমাদের কাছে যন্ত্রপাতি এখানে নিয়ে আসা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।’

    আফগান খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় এ খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুমায়ুন আফগান বলেন, ‘আগের সরকারের সময় খনিজসম্পদ অনিয়মিতভাবে উত্তোলন করা হতো এবং যথাযথ তত্ত্বাবধানের অধীনে এ কাজ পরিচালিত হতো না।’

    মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে সোনা উত্তোলনের কার্যক্রম দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী তাখার প্রদেশেও সোনা উত্তোলনের কাজ জোরদার হয়েছে। সেখানে একটি আফগান কোম্পানি চীনা অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    আফগানিস্তান অ্যানালিস্টস নেটওয়ার্কের গবেষক ফাব্রিজিও ফসকিনি বলেন, যুদ্ধের আগের কয়েক দশক ধরে খনি খাত থেকে মূলত তালেবানসহ সে সময়ের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই লাভবান হতেন।

    বর্তমানে খনি কোম্পানিগুলোর ওপর প্রতি হেক্টর জমির জন্য প্রতি মাসে ২০ গ্রাম সোনা অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ কর হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো লাভ করুক বা না করুক, এই কর পরিশোধ করতে হয়।

    ‘ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’

    প্রায় এক শ শ্রমিক ও ২০টি খননযন্ত্র নিয়ে পরিচালিত একটি খনি কোম্পানির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদুল্লাহ মোবারিজ বলেন, তাঁদের দল এক সপ্তাহে ‘২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম সোনা’ উত্তোলন করতে সক্ষম।

    কিন্তু এপ্রিলে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে প্রাথমিক বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটি এখনো লোকসানের মধ্যে রয়েছে বলে জানান মোবারিজ।

    প্রাদেশিক খনি বিভাগের প্রধান রহিমজাই জানান, গত বছর বাদাখশান থেকে সরকার ১১২ কিলোগ্রাম (২৪৭ পাউন্ড) সোনা সংগ্রহ করেছে। এএফপির সঙ্গে কথা বলা খনিশ্রমিকদের মতে, প্রতি গ্রাম সোনার বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ১১৮ ডলার।

    তবে গত বছর অধিকাংশ খনি নিবন্ধিত ছিল না এবং সেগুলো থেকে ফি বা রাজস্ব আদায়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না বলে জানান রহিমজাই। তিনি বলেন, পরিবেশ ও অবকাঠামোর ক্ষতি করার কারণে প্রায় ২২৫টি খনি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শিওয়া এলাকার কয়েকটি খনিও রয়েছে।

    সোনা উত্তোলনের কারণে স্থানীয় চারণভূমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পশুপালকদের বিপদে পড়তে হচ্ছে

    এ বিষয়ে রহিমজাই এএফপিকে আরও বলেন, ‘সেখানে একটি সেতু ছিল, দোকানপাট ছিল এবং একটি স্কুলও ছিল। এগুলোর সবই বন্যার পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে গেছে। পুরো এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’

    প্রাদেশিক খনি বিভাগের প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তিনি যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এবং ‘বাদাখশানের খনিজসম্পদ যথাযথভাবে ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করবেন’।

    বাদাখশান প্রদেশের কিছু এলাকায় এখনো খননকাজ শুরু হয়নি; যার মধ্যে শিওয়া থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি এলাকাও আছে। সেখানকার পশুপালক ফাজিল চান, তাঁর এলাকায় খনিশ্রমিকেরা না আসুক।

    নিরাপত্তার ঝুঁকি মনে করায় এই ব্যক্তি তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এটি মানুষের জন্য, ভ্রমণ ও পিকনিকের জন্য এবং গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের একটি জায়গা।’

    ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি শৈশব থেকেই প্রতি গ্রীষ্মে নিজেদের পশুর পাল নিয়ে এই পাহাড়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘সোনা উত্তোলন শিল্প এখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কোনো উপকারে আসে না। এতে শুধু ক্ষমতাবান লোকেরাই লাভবান হন।’

  • সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

    সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

    সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরো ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।

    শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে উপস্থিত আপনারা কেউ জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, আবার কারও আপনজন এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের নিজেদের বা আপনজনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশের মানুষ একটি মুক্ত পরিবেশে থাকতে পারছে।’

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল; সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’

    রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

  • সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেয়ের বিয়ের দেনা দিনমজুরি করে শোধ দিতে চেয়েছিলেন আবু সাঈদ। বাউল গানের বড় শিল্পী হতে চেয়েছিলেন ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী। রেলস্টেশনে ফেরি করে পণ্য বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন আবুল হোসেন। তাদের এসব ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না। বেপরোয়া বাস তাদের সঙ্গে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আর আদরের সন্তান হারানো পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

    গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বাজার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কৃষি শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই দিন বাগেরহাট সদর উপজেলার জয়গাছি-রঘুনাতপুরে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

    মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ হলো না
    দুই মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বর্গাচাষি আবু সাঈদ (৪৮)। বিয়ের সময় বেশ কিছু ধারদেনা করেছিলেন। তা শোধ করতে কয়েক দিন আগে বগুড়ায় এসেছিলেন কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে। কয়েক দিন কাজ করে যে টাকা জমা হয়েছে তা নিয়ে আর তিন দিন পর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি বাস আবু সাঈদের প্রাণ কেড়ে নিল। শজিমেক হাসপাতালের পেছনে মর্গের পাশে বসে বিলাপ করে এসব কথা বলছিলেন নিহত আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন।

    স্বজনরা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ দুই সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের কিছু জমিতে বর্গাচাষ করতেন। তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। তার ওপর দুমাস আগে মেয়ে শারমিনকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর বড় সন্তান শামীম একটি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর কাজ করেন। তিন বছর আগে বিয়ে করে তিনি আলাদা থাকেন। আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী লোকলজ্জার কারণে এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত না। এ জন্য বগুড়ায় গিয়েছিলেন। এখন আমার সব শেষ। দেনা কীভাবে শোধ হবে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

    মাজারে গান গেয়ে ফিরছিলেন পেহেলী মাজারকেন্দ্রিক বাউল ও পীর-মুর্শিদি গান গাইতেন ইসরাত জাহান পেহেলী (১৮)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে তিনি। ৬ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথে ছাওয়াল পীরের মাজারে বাউল আসরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আসর শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। এতে স্বজন, সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. বাবুল মিয়া (৫০) মেয়ে পেহেলীকে নিয়ে সিলেট গিয়েছিলেন। তিনি আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা সদরের চন্ডিবেড় মধ্যপাড়ার মেয়ে ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নদার রামপাশার বৈরাগীবাজার এলাকার ছাওয়াল শাহ (রহ.) মাজারে বাউল গানের আসরে যোগ দেন। আসরে উদীয়মান জনপ্রিয় এই শিল্পী দর্শক-শ্রোতার করতালি আর উপঢৌকন গ্রহণের মধ্য দিয়ে গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসানের ‘গলার হার বানাইয়া দিমু, দিমু হাতের বালা’ গান পরিবেশন করেন। জীবনে লাল শাড়ির সঙ্গে মাথায় টিকলি, গলায় হার, হাতের বালা পরে সাজার আগে ভক্ত-শ্রোতাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দেন এই শিল্পী।

    পেহেলীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল নিজেকে বাউল গানের বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল।’

    দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন শোভা রায়
    সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে হাছননগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা সপ্তমের স্বজন মুহিত রায় জানান, সপ্তম ও প্রিতম রায় দুই ভাই ছিল। প্রিতম বড়, সপ্তম ছোট। ১২ বছর আগে প্রিতম (১১) সুরমা নদী থেকে বল তুলতে গিয়ে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। এখন দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন মা শোভা রায়। দুই ছেলে হারানোর কষ্ট কীভাবে সইবেন তিনি। এ কথা বলেই মূর্ছা যান মুহিত।

    হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানালেন, সপ্তমের বাবা উত্তম রায় স্ত্রী শোভা, ছেলে সপ্তম, প্রিয়ম ও মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলেটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর ছিলেন শোভা। টানাপোড়নের সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন সপ্তম। এরপর বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হলে সপ্তমই ছিল সংসারের ভরসা। কদিন আগেও সপ্তম তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বোনকে (বৈশাখীকে) পড়াশোনা করিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না তাঁর।
    সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় ছিল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের বিরাট গ্রামে। ওখানে তাদের এখন কিছুই নেই।

    ভ্রমণে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে
    সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা পাঁচ বন্ধু। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন চারজন। গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম (৫৩)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও ঠিকাদার ছিলেন।

    দুর্ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ নামে অন্য দুজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আ. লতিফ সিলেট যান। উপজেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক জমরুত মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আমরা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বাসে রওয়ানা করেছিল। দুজন ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়েছিলাম। বিমানটি ছাড়ার আগে সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।’

    মূর্ছা যাচ্ছেন হাফেজ আরমানের মা-বাবা
    সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আরমান শাহপরাণ (রহ.) মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান তিনি। লাশ শনাক্তের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

    আবুল হোসেনের আয়ে চলত পরিবার
    নিহতদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। পেশায় ফেরিওয়ালা। সিলেট রেলস্টেশনে ফেরি করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। বাসে ওঠার আগে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জমানো টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁর লাশ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আবুল হোসেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে।

    কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের বাসচাপা
    স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। আশপাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন আসেন। অধিকাংশ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা দিনে বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। কাজ শেষে রাতে স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় তারা ঘুমান। তাদের সংখ্যা শতাধিক। গতকাল ভোরে শ্রমিকরা এরুলিয়া বাজারে রাস্তার ধারে কাজের সন্ধানে বসে ছিলেন। হঠাৎ ওই বাসটি শ্রমিকদের চাপা দেয়।

    নিহত সাতজন হলেন– গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুরের আবু সাঈদ (৪৮), নুর আলম (৪৫); জয়পুহোটের কালাইয়ের পার্বতীপুরের আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবির আমিরপুরের আমিরুল ইসলাম (৪৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুঘোলগাছির তাজিমুর রহমান (৪৭), বগুড়া সদরের ফাঁপোড় মধ্যেপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নারহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০)। তারা কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার পাঁচজন ১৪ দিন আগে এই এলাকায় আমন ধান রোপণের জন্য এসেছি। কাজের জন্য আজ (গতকাল) ভোরে এরুলিয়া এলাকায় অনেকে বসেছিলাম। হঠাৎ বাস এসে আমাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। আমরা চারজন কোনোমতে বাঁচলেও আমাদের সাথে থাকা তাজিমুর মারা গেছে।’

    বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আহতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, চালক ঘুম ঘুম চোখে বাস চালাচ্ছিলেন।

    শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম আনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    একই এলাকায় দুর্ঘটনা, এবার নিহত ৯
    সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই সড়কের ১৩ মাইল নামক স্থানে ২০১২ সালে দুর্ঘটনায় তৎকালীন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল।

    নিহতরা হলেন– বাউলশিল্পী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী (১৭), নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩), নগরীর মাহাজনপট্টির দোকান কর্মচারী সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফেজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯), একই জেলার বাঙ্গুরাবাজার থানার পীর কাশিমপুরের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ইমন।

    বাসের যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট ছেড়ে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওসমানীনগর এলাকার কাশিকাপন নামক স্থানে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষ হয় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের সাত যাত্রী মারা যান।

    পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শিশু জাইফা। চিকিৎসাধীন মারা যান দোকান কর্মচারী প্রীতম। বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাবুল মিয়া ও হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম ফেরদৌসের অবস্থা গুরুতর।
    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে।

    (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

  • কৃষকদের পাশে ’গো এগ্রো’

    কৃষকদের পাশে ’গো এগ্রো’

    জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দক্ষীণ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের টেকসই কৃষি ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য ‘গোগ্রো’ প্রকল্পের আওতায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    চলমান গোগ্রো প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের ফসলের সঠিকমূল্য নিশ্চিত করতে সিনজেনটা ভ্যালু চেইন পার্টনারশীপ গড়ে তুলেছে। যা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কৃষক সরাসরি স্থানীয় ভ্যালু চেইন পার্টনার এর নিকট তাদের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করছে। এর ফলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির পাশাপাশি বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় অর্থাৎ প্রকল্পের পাশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে করে কৃষক খুব সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে পারে।

    এ প্রসঙ্গে সিনজেনটা বাংলাদেশ এর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স এ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উৎপাদিত পণ্যের বাজারসংযোগ নিশ্চিত করাও কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। সে লক্ষ্যেই কৃষকদের সক্ষমতা ও আধুনিক ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষির বাস্তবতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে ‘গোগ্রো’প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

    ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা ‘গোগ্রা’ প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্থানীয় কৃষকদের আয় ও জীবনমান সমৃদ্ধ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১২০০ কৃষককে বিভিন্ন সময়োপযোগী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জলবায়ু-সহনশীল ফসলের চাষ সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর খনন, খাল পুনঃখনন, রিজেনারেটিভ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের সমন্বিত চর্চা এবং কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে, এসব উদ্যোগের ফলে প্রকল্প এলাকায় কৃষি উৎপাদন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষি অভিবাসন উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে।

    প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে এ প্রকল্পের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হবে অর্থাৎ প্রায় ৩,৫০০ জন কৃষক এবং ১০০০ একর জমিকে জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা উল্ল্যেখ করেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দারিদ্র্য হ্রাস, জলবায়ু কার্যক্রম এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্বের বিষয়ে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।

  • সরকারি গুদামে সার, মাঠে হাহাকার!

    সরকারি গুদামে সার, মাঠে হাহাকার!

    আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুম। অথচ যশোরের মাঠে এখন সারের জন্য হাহাকার। সরকারি হিসাব বলছে, গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ডিলার ও সাব-ডিলারদের দোকানে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার। বাধ্য হয়ে অনুমোদনহীন দোকান থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার কিনছেন কৃষকরা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


    যশোরের চৌগাছা, শার্শা ও সদর উপজেলাসহ জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে আমন চাষ পুরোদমে চললেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার মিলছে না। সবচেয়ে বেশি সংকট ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারে।


    চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী গ্রামের কৃষক আলী কদর বলেন, ‘সাব-ডিলারের কাছে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দিতে পারছে না। অথচ অনুমোদনহীন দোকানে গেলে দুই গুণ বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।’
    একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-ডিলার কামরুল ইসলাম জানান, তাঁর এলাকায় ৫৪৫ জন কৃষক রয়েছেন। অথচ তিনি পেয়েছেন মাত্র ১০ বস্তা ডিএপি, ১০ বস্তা এমওপি, ৫৫ বস্তা টিএসপি ও ১০০ বস্তা ইউরিয়া।


    তিনি বলেন, ‘এখন আমন রোপণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কৃষকের প্রয়োজনের তুলনায় যে বরাদ্দ পেয়েছি, তা খুবই অপ্রতুল। কৃষকদের কোনো সমাধান দিতে পারছি না।’
    ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-ডিলার কিংকর হালদারও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষক টাকা নিয়েও সার পাচ্ছেন না। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।’
    শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের গোকর্ণ গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের প্রথম চাষে সার না দিলে ভালো ফলন হয় না। কিন্তু এখন ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এমওপি—সব সারেরই সংকট। মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কোনো মিল নেই।’
    সদর উপজেলার চুরামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ২৫ টাকা, ডিএপি ১৯ টাকা, টিএসপি ২৫ টাকা ও এমওপি ১৮ টাকা কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমওপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টিএসপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ইউরিয়া অনেক জায়গায় ৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার রয়েছেন ১৬২ জন এবং বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার ১৪১ জন।
    বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার নয়টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় প্রায় দ্বিগুন ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ইউরিয়ার মজুদও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।


    গত জুন মাসে ডিলারদের মধ্যে ২ হাজার ১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৮০৮ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১২৩ মেট্রিক টন এমওপি বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই মাসের জন্যও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির উল্লেখযোগ্য মজুদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
    অর্থাৎ সরকারি হিসাবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলারদের দাবি, তারা প্রয়োজনের ২০ শতাংশ সারও পাচ্ছেন না।
    সরকার প্রতি কেজি সারে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে সার ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, সেটি কৃষকদের জন্য ২০ থেকে ২৭ টাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা।


    কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা, ২১ টাকার ডিএপি ৩০ টাকা, ২০ টাকার এমওপি ৩০ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত মাঠে গিয়ে সার ও বালাইনাশকের দোকান মনিটরিং করছি। বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও সমস্যা থাকলে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


    তবে কৃষক ও সাব-ডিলারদের দাবি, মনিটরিং কার্যক্রম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পৌঁছাচ্ছে না।
    কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন ধানের প্রথম চাষ ও চারা রোপণের সময় প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। এক বিঘা জমি প্রস্তুতের সময়ই প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োজন হয়। ফলে বর্তমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

  • কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

    কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সড়কের ওপর রামদা দিয়ে কুপিয়ে মধু মিয়া (৫৮) নামে এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মধু মিয়ার স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ আরও পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    নিহত মধু মিয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রয়াত হরমুজ আলীর ছেলে।

    শনিবার নিহতের স্ত্রী সাফিয়া বেগম জানান, গত ২৬ জুলাই সকালে সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মৃত তমিজ আলীর ছেলে ও মধু মিয়ার আপন চাচাতো ভাই আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে তার স্ত্রী, ছয় ছেলে-মেয়ে, ছেলের স্ত্রীসহ ১০ জন মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদাঘাট-সুন্দর পাহাড়ি সড়কের ওপর মধু মিয়াকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে আসেন তিনি। এ সময় আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যরা রামদা দিয়ে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। একই ঘটনায় মধু মিয়ার ছেলে শের আলী, ভাই আবু ছালাম ও কাশেম এবং কাশেমের ছেলে বিপ্লবও আহত হন।

    ঘটনার পর আহত চারজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মধু মিয়া ও তার ভাই কাশেমের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ২৬ জুলাই বিকালে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবু ছালাম বাদী হয়ে আব্দুল হাইকে প্রধান করে নয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ জনসহ মোট ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

    মধু মিয়ার প্রতিবেশী হুমায়ুন জানান, সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের সামনে হাওরে থাকা ৫৫ শতক দুই ফসলি জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। এ নিয়ে আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল হাইয়ের মোবাইলে কল দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, থানায় রেকর্ড করা পূর্বের মামলার এজাহারের সঙ্গে হত্যা মামলার ধারা সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • পাকিস্তানে রফতানি হবে বাংলাদেশের আনারস

    পাকিস্তানে রফতানি হবে বাংলাদেশের আনারস

    পাকিস্তানে বাংলাদেশের তাজা আনারস রফতানির অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।

    বাংলাদেশ হাইকমিশন, ইসলামাবাদ, উপ-হাইকমিশন, করাচি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কয়েক বছর যাবৎ ক্রমাগত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারস রফতানির সুযোগ তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য কৃষিপণ্য ও ফলের আমদানি-রফতানি প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ সুগম হয়েছে।

  • হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা

    হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা

    মাগুরার শালিখা উপজেলার নবগঙ্গার কুল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক গঙ্গারামপুর বাজার। শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টির সাথে সাথে গ্রামীণ এই হাটে এখন চোখ মেললেই দেখা মিলছে হলুদ রঙে চোখ ধাঁধানো তাজা মিষ্টি কুমড়ো ফুল ও কুমড়ো শাকের পসরা। একসময় যা কেবল গ্রামের গৃহস্থবাড়ির নিজস্ব পাতেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় সবজিপ্রেমীদের খাদ্যতালিকায় প্রথম পছন্দ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এই ফুলটি।

    গঙ্গারামপুর বাজারে আসা স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে আশেপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা খেত থেকে তুলে আনা সতেজ কুমড়ো ফুল ও শাক বাজারে নিয়ে আসেন। কুচকুচে সবুজ পাতার সাথে উজ্জ্বল হলুদ ফুলের আঁটিগুলো দেখতে যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি রান্নায় এর স্বাদও অতুলনীয়। এটাকা দরে এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।বিক্রেতারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে কুমড়ো ফুল ও শাকের চাহিদা থাকায় প্রতিদিন এখানে বেশ ফুল বিক্রি হচ্ছে।

    কুমড়ো ফুল কিনতে আসা নার্গিস নামে এক গৃহিণী বলেন, “কুমড়া ফুলের তৈরি চপ ও বড়া খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। তাই মাঝেমাঝেই আমি এখানে কুমড়ো ফুল নিতে আসি।”

    মুচমুচে বড়া, তরকারি কিংবা ভাজি হিসেবে পরিবেশনে এর জুরি নেই। কৃত্রিম সারমুক্ত এবং গ্রাম বাংলার একদম সতেজ হওয়ায় ক্রেতারা কাড়াকাড়ি করে তা কিনে নিচ্ছেন।

    পুষ্টিবিদদের মতে, কুমড়ো ফুল দেখতে সাধারণ হলেও এর ফুল এবং ডগা পুষ্টির এক অনন্য আধার। এতে রয়েছে প্রভূত স্বাস্থ্য উপকারিতা। উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত করে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ক্যারোটিনয়েড’ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকার কারণে এটি দাঁত ও হাড় মজবুত করতে অত্যন্ত কার্যকরী এবং প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকায় তা হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

    গ্রামীণ অর্থনীতির পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মেটাতে এই শাক ও ফুলের কদর দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে বাণিজ্যিকভাবেও কুমড়ো ফুল ও শাক বিক্রি করে ভালো আয় করা সম্ভব।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, “কুমড়ো ফুল নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। সাধারণত পরাগায়নের পরে, এই ফুলগুলি গাছ থেকে তুলে খাওয়া যায় পাশাপাশি ভালো দামে বিক্রিও করা যায়। আমাদের উচিত এটির প্রতি খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মিটবে অপরদিকে এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটা অন্যতম উৎস হতে পারে

  • নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা

    নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে এবার সৃষ্টি হয়েছে আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা। আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহনে চলতি মৌসুমে নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ি, সাতমোড়া, রতনপুর ও উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

    তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপিত সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ বারিড পাইপলাইনে কৃষি জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে। এখন মাঠজুড়ে দুলছে পাকা আউশ ধানের সোনালি শীষ। সেখানে প্রথমবারের মতো প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রিধান-৯৮ ও ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

    নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, সরকারের সোলার সেচ স্কিমের কারনে অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো, আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।

    চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, গত বছরের ভালো ফলনের কারণে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। আমার কাছ থেকে আরো কয়েকজন কৃষক বীজ সংগ্রহ করে আউশ চাষ করেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকায় এবার ফলনের সম্ভাবনাও অনেক ভালো।

    সাতমোড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার ক্ষেতে বিনাধান-১৯ এর প্রদর্শনী সফল হওয়ায় তিনি বীজ সংরক্ষণ করেন। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে।

    পৌরসভা বøকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সার্বিক নির্দেশনায় দোলাবাড়ি বøকে নতুন করে আউশ আবাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচ প্রযুক্তির কারনে আগামীতে আরো অনাবাদি জমি আউশ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

    এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়িতে ৭৫ বিঘা জমি এক সাথে আউশ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ১৫০ বিঘা অনাবাদি জমিতে নতুন করে আউশ আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    নবীনগরের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োগ এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এক সাথে মিললে অনাবাদি জমিও সোনালি ফসলে ভরে উঠতে পারে। মাঠ জুড়ে দুলতে থাকা আউশ ধানের শীষ আজ শুধু একটি সফল মৌসুমের প্রতীক নয়, বরং টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেন তিনি।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত এক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছবি ও কিউআর কোড-সংবলিত কৃষক কার্ডে কৃষকের পরিচয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কার্ড তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় জানানো হয়, কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

    কৃষি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি, সহজ শর্তের ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক এ কার্ডের সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের কমবেশি দুই কোটি কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সভায় কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস. এম. আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, “বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

  • খুলনা অঞ্চলে প্রথমবার সয়াবিন চাষ

    খুলনা অঞ্চলে প্রথমবার সয়াবিন চাষ

    খুলনা অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে খুলনা ও বাগেরহাট জেলার মোট ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ করে ২৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নতুন এ উদ্যোগকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে আগামী মে মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


    খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, এবারই প্রথম এ অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৪ হেক্টর এবং বাগেরহাট জেলায় ৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে।


    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সয়াবিন চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। ভোজ্যতেল, পশুখাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পে সয়াবিনের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় ভবিষ্যতে এ ফসলের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


    তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বাজার নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে তুললে উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সয়াবিন সংগ্রহের উদ্যোগ নিলে তারা লাভবান হবেন বলে মত দেন কৃষকরা।
    খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাইনবাড়িয়া গ্রামের কৃষক দেবদাস সানা বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলামের উৎসাহে আমরা এ বছর প্রথমবারের মতো সয়াবিন চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করব।’


    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। ২৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প ও খাদ্য উৎপাদনে সয়াবিনের ব্যবহার বাড়ায় কৃষকদের মধ্যেও এ ফসলের চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
    কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে খুলনা অঞ্চলে সয়াবিন একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।

  • বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু

    বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরের কাছে একটি দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ শনিবার হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য করেছে। এদিকে, অন্যতম ভয়াবহ দাবানল মৌসুম রেকর্ড হওয়ায় অঙ্গরাজ্য জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

    টানা চতুর্থ বছরের মতো রেকর্ড খরার মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঙ্গরাজ্যে দুই লাখ একরেরও বেশি এলাকা আগুনে পুড়ছে।

    গভর্নর বব ফার্গুসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘রেকর্ড খরা ও তীব্র বাতাস পুরো অঙ্গরাজ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’

    তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ উন্মুক্ত স্থানে এবং কৃষিকাজে আগুন জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ বলেন, ‘এ বছর ইতোমধ্যেই আমাদের রেকর্ডের অন্যতম ব্যস্ত দাবানল মৌসুম চলছে। অথচ আগস্ট মাস মাত্র শুরু হয়েছে।’

    স্থানীয় স্পোকসম্যান-রিভিউ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ‘ওল্ড ট্রেইলস’ নামে পরিচিত দাবানলটি শনিবার বিকেলে স্পোকেন নদী অতিক্রম করে শহরের ভেতরে প্রবেশ করে।

    সরকারের সরিয়ে নেয়ার মানচিত্র অনুযায়ী, শহরের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘গো নাউ’ জারি করা হয়েছে। এতে শহরের সীমানার ভেতরে থাকা হাজারো মানুষকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।

    স্পোকসম্যান-রিভিউ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আগুনের বিস্তার ৩ হাজার ৫০০ একরের বেশি এলাকায় পৌঁছেছে। শহর কর্তৃপক্ষ কোনো হতাহতের খবর জানায়নি।

    মেজর জেনারেল জেন্ট ওয়েলশ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ সূর্য অস্ত যাওয়ার পর এবং আগামীকাল সূর্য ওঠার সময় আমরা হতবাক হয়ে যাব।’

    জরুরি কর্তৃপক্ষ স্পোকেন কনভেনশন সেন্টারে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে।

    এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস পূর্ব ওয়াশিংটনের জন্য ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে ‘রেড ফ্ল্যাগ অ্যালার্ট’ জারি করে। এতে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিকে ‘চরম’ বলে উল্লেখ করা হয়।

    ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ড এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানায়, স্পোকেন অঞ্চলে সহায়তার জন্য তারা ‘দ্রুতগতিতে ইউনিট মোতায়েন’ করছে।

  • জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

    জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

    চরফ্যাশনে চাষের জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নীলকমল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবারও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোস্তফা জানান, নীলকমল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আলম কোম্পানি একই এলাকার নাছিরের শুকনা চাষের জমিতে পানি ছেড়ে দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত নীরবের অভিযোগ, সন্ধ্যায় তিনি ও পরিবারের সদস্যরা মৌলভীবাজারে গেলে আলম কোম্পানি, তার ভাই রশিদ, ফয়েজউদ্দিন, শাহিনসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে শরীফ, নাছির, নোমান, মোস্তফা, নীরব, সাজাহানসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।হাসপাতালে ভর্তি নাছির দাবি করেন, দুই বছর ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতা আলম কোম্পানি তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তবে আলম কোম্পানি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির পর প্রতিপক্ষই তাদের ওপর হামলা চালায়। চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন।



  • চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায়, ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০ ফলন্ত গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম নাহরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ রানা ও মহাসচিব সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান। নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, চাঁদার দাবিতে মারধরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

    প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। অনতিবিলম্বে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

  • কাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি শুরু : কৃষিমন্ত্রী

    কাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি শুরু : কৃষিমন্ত্রী

    আগামীকাল সোমবার থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এর ফলে, আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    আজ রোববার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

    পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কাঁচামরিচের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর (ট্যাক্স) কমানো হচ্ছে এবং কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতিও দেয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভোক্তাদের জন্য বাজারকে সহনীয় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সরেজমিনে যা দেখবেন, তা বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। এতে মানুষ সচেতন হবে, বিভ্রান্তি কমবে এবং কেউ বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা মূল্য কারসাজির সুযোগ পাবে না।’

    এর আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (খাদ্য ও কৃষি) পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভায় অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে তারা সরেজমিন শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে যান।

    সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

  • স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সুযোগ পেলে দেশকে তছনছ করবে: কৃষিমন্ত্রী

    স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সুযোগ পেলে দেশকে তছনছ করবে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে। সুযোগ পেলে তারা দেশকে তছনছ করে ফেলবে। শনিবার রাতে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিকথা’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম কি না, জানি না। যারা তখন ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। তারা জনগণের সঙ্গে প্রহসনের নির্বাচন করেছে। ফ্যাসিস্টদের অনুসারীরা এখনো আমাদের আশপাশে লুকিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির নেতা ইউসুফ মোল্লা টিপু।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হানের সঞ্চালনায় এবং ফেইস দ্য পিপলের সম্পাদক সাইফুর সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা।

  • চা চাষে বিপুল সম্ভাবনা

    চা চাষে বিপুল সম্ভাবনা

    উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে চা চাষাবাদে বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিকারক তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে চা বদলে দিতে পারে জেলার অর্থনীতির চাকা। চায়ের চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং চা বোর্ডের সহযোগিতা পেলে চা চাষিরা ঘুরে দাঁড়াবেন।

    আদিতমারীর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালি মৌজায় ২০১৬ সালে পরীক্ষামূলক চা চাষাবাদ শুরু করেন উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন সরকার। পেশায় আইনজীবী হলেও তার হাত ধরেই এখানে চা চাষ শুরু হয়। তাকে অনুসরণ করে অনেক কৃষক চায়ের চাষাবাদ শুরু করেন। এছাড়া সরকার ২০০৭ সালে ‘Eradication of Rural Poverty by Extension of Small Holding Tea Cultivation in Lalmonirhat’ প্রকল্পের আওতায় ১০০ হেক্টর জমিতে চা চাষাবদের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে। বছরে ২ দশমিক ৫ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এতে। পরে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও কালিগঞ্জে চা চাষাবাদ বিস্তৃতি লাভ করে। চা চাষের উন্নয়নে নর্দার্ন টি বেল্টের আওতায় জেলায় চা বোর্ড তাদের অফিস চালু করে।

    করোনার সময় শ্রমিক সংকট ও চায়ের বাজারমূল্য না পাওয়ায় জেলার চা চাষাবাদ লোকসানের মুখে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। জেলায় উৎপাদিত চা বিক্রির জন্য নিজস্ব পারচেজ হাউস গড়ে না ওঠায় পঞ্চগড়ে নিয়ে চা বিক্রি করতে হতো। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় চা পাতার রঙ কিছুটা বিবর্ণ হয়ে যেত। এ সুযোগে ক্রয়কেন্দ্রগুলো চাষিদের কাছ থেকে ২০-৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট কেটে নিত। এতে চাষিরা অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়েন। ফলে অনেক চাষি চাষাবাদ গুটিয়ে নেন।

    সংকট কাটিয়ে উৎপাদিত চায়ের বর্তমান মূল্য প্রতি কেজি ৩৮ টাকা হওয়ায় জেলার চা চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। লালমনিরহাটের কৃষক যখন আলু, ধান, ভুট্টা ও তামাক চাষ করে অব্যাহত লোকসান গুনে কৃষিবিমুখ হচ্ছিলেন, তখন অর্থকরি ফসল চায়ের চাষাবাদ করে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন বুনছেন তারা।

    চায়ের চারা রোপণ করার পর বছরে সাতবার চাপাতা তোলা যায়। প্রতিবিঘা জমিতে বছরের শুরুতে প্রথম দফায় ৮০০ কেজি, দ্বিতীয় দফায় এক হাজার ২০০ কেজি, তৃতীয় দফায় এক হাজার ৭০০ কেজি—এভাবে প্রতি দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিঘাপ্রতি তিন হাজার কেজি পর্যন্ত উৎপাদন হয়ে থাকে।

    প্রতি দফায় চাপাতা সংগ্রহ করার পর বিঘাপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি পটাশ সার দিতে হয়, যার বাজারমূল্য দুই হাজার ৮০০ টাকা। বালাইনাশক ও উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য স্প্রে করতে হয় চারবার, যার বাজারমূল্য এক হাজার টাকা, চাপাতা সংগ্রহ করে গাড়িতে লোড করা ব্যয় কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা, ফ্যাক্টরি পর্যন্ত চাপাতা পরিবহন খরচ এক টাকা, আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ১১-১৩ টাকা কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ হয়, সেটি বিক্রি হয় ৩৮ টাকা দরে। প্রতি দফা চা উত্তোলনের পর গতানুতিক হারে এর উৎপাদন বিঘাপ্রতি ৫০০ কেজি বৃদ্ধি পায়। ফলে বছর শেষে বিঘাপ্রতি কোনো ঝুঁকি ছাড়াই তিন লাখ টাকা মুনাফা করেন চা-চাষিরা।ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের তালুক দুলালির চা-চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে চায়ের চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত সার না পাওয়া এবং চারা সংকট। তিনি চা বোর্ডের সহযোগিতা না করার কথাও উল্লেখ করেন।

    তিনি জানান, প্রতিবার পাতা সংগ্রহের পর উৎপাদন ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত সারের প্রয়োজন হয়। সার সংকটের কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে ভুট্টা, ধান, আলুচাষিরা সার পেলেও চা-চাষিরা প্রয়োজনীয় সার পান না। চা বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চা-চাষিদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখেনি। ফলে চাহিদার সময় দ্বিগুণ দামে কালোবাজার থেকে সার কিনতে হয় চাষিদের।

    উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন ৩৬ বিঘা জমিতে চায়ের আবাদ করেন। তিনি জানান, চা চাষাবাদ বিস্তৃত করতে লালমনিরহাটে চা বোর্ডের অফিস করেছে সরকার। শুরুতে চা বোর্ড আমাদের চায়ের চারা, স্প্রে মেশিন, পানি সরবরাহের শ্যালো মেশিন, পাতা পুলিং মেশিন, কাটিং মেশিন সরবরাহ করলেও গত তিন বছর যাবৎ চা বোর্ডের প্রকল্প বন্ধ থাকায় কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। সরকার চা শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিস আমাদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা এ পর্যন্ত দেয়নি।

    তিনি আরো বলেন, চা চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এ জেলায়। সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে চায়ের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিলে জেলার মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে। চায়ের বর্তমান বাজারমূল্যে চা চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক এবং ঝুঁকিমুক্ত। ফলে করোনার সময়ে যারা চা চাষাবাদ গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তারা নতুন করে চা চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

    লালমনিরহাট চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে চা চাষিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তিন বছর ধরে নতুন প্রকল্প না নেওয়ায় চা চাষাবাদে চাষিদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা উচ্চতর শিক্ষার জন্য ছুটিতে থাকায় মাঠ পর্যায়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে না। আমি পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ পাঁচ জেলার দায়িত্বে থাকায় একাই সব সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। লোকবল সংকট দূর করে নতুন প্রকল্প নেওয়া গেলে জেলায় চা চাষাবাদ সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা দূর করা যেত।

    তিনি আরো জানান, জেলায় গত বছর চার লাখ ২৮ হাজার ৬৪১ কেজি সবুজ চাপাতা উৎপাদন হয়েছে।

  • মরিচ চাষে ধস, দিশেহারা কৃষক

    মরিচ চাষে ধস, দিশেহারা কৃষক

    টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারী বৃষ্টিতে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার মরিচক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পচে ও মারা গেছে অধিকাংশ মরিচগাছ। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষিপ্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়েছে।

    কৃষকদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে এর মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের মরিচচাষিরা।রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. টুকু মণ্ডল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে তার পুরো ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে। এখন মরিচক্ষেত তুলে সেখানে ধানের আবাদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

    টুকু মণ্ডল বলেন, ‘চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও তুলতে পারিনি। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’

    আরেক কৃষক মো. খসরু মিয়া বলেন, ‘সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’

    কৃষক মো. শফিক শেখ বলেন, ‘মরিচগাছ আর বাঁচবে না। তাই ক্ষেতের গাছ তুলে এখন ধানের আবাদ করাই একমাত্র উপায়।’

    কৃষক মো. লালচান মোল্লা বলেন, ‘সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা আবার কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারব।’

    এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী বলেন, ‘মধুখালী উপজেলায় এ বছর ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

    তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য কৃষকদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • কাচাঁ মরিচের কেজি ৪০০, বেশিরভাগ সবজি শতকের ঘরে

    কাচাঁ মরিচের কেজি ৪০০, বেশিরভাগ সবজি শতকের ঘরে

    টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও অধিকাংশ সবজি এখন ১০০ টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে কৃষিপণ্য ও মাছের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনেক এলাকায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় মরিচ, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম ও সবজির দাম একসঙ্গে বেড়েছে। তাদের দাবি, তারা বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হওয়ায় খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের কেজি এখন ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি, মৃগেল, বাইম, শিং ও পোয়া মাছের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে।

    সামুদ্রিক মাছের বাজারে দাম আরও বেশি। ধুপখোলা বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে মান ও আকারভেদে প্রতিকেজি ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, টুনা ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে এসব দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।

    এদিকে কাঁচা মরিচের দাম নতুন করে বেড়ে প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে এ পণ্যের দাম।

    নারিন্দা বাজারের সবজি বিক্রেতা লাল মিয়া বলেন, গত সপ্তাহেও কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন পাইকারি বাজারেই দাম অনেক বেশি, তাই খুচরায় ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টি কারণে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ কারণে সবজির সরবরাহ কম। এ জন্য অল্প কিছু সবজি বাদে সব সবজির দাম বেশি।

    পেঁয়াজের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দেড়-দুই সপ্তাহ আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এখন মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    রায়সাহেব বাজারের বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, পাইকারি বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আগে যে পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেটিই ৬০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। অধিকাংশ সবজি এখন ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১৮০ টাকা, সাদা বেগুন ১৪০ টাকা, করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ধুন্দল ও পটোলের দাম কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে।

    ডিমের দামও নতুন করে বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ায় দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

    অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও সরবরাহ সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

    রিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিদিন যা আয় করি, তার বড় একটা অংশ এখন বাজারেই চলে যায়। আগে সপ্তাহে এক-দুদিন মাছ কিনতে পারতাম, এখন ডিম আর সবজি কিনেই হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাঁচা মরিচের মতো একটা সাধারণ জিনিসও ৪০০ টাকা কেজি হলে আমাদের মতো মানুষের জন্য খুব কষ্টকর।

    ধুপখোলা বাজারের ক্রেতা নাসরিন আক্তার বলেন, শুধু মরিচ নয়, ডিম, পেঁয়াজ আর সবজির দামও একসঙ্গে বেড়েছে। কয়েক দিন আগেও যে ডজন ডিম ১৩৫-১৪০ টাকায় কিনেছি, এখন ১৫০ টাকার কাছাকাছি দিতে হচ্ছে। বাজারে এসে প্রতিদিনই হিসাব বদলাতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই দাম অনেক কষ্টের।

  • তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না- এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) ক্ষমতা পরিচালনায় বরাবরই ব্যর্থ এবং দিন দিন এই ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে।’

    শুক্রবার দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এই এনসিপি নেতা।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট চলছে। সরকারের নানা জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ যেমন কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।’

    আন্তর্জাতিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রত্যাশিতভাবে উন্মুক্ত না হওয়া এবং চীন সফরে আশানুরূপ চুক্তি না পাওয়া বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিগত ব্যর্থতারই প্রমাণ।’

    জাতীয় নির্বাচনের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, ‘নির্বাচনে রাত ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নজিরবিহীন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় খোদ তারেক রহমান প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।’

    পাটওয়ারী স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের দলের প্রধান তিনটি এজেন্ডা ছিল একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ আমলের অপরাধের বিচার।

    জনগণের রায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের সেই রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তবে জনগণের আন্দোলনের মুখে বিএনপির পতন নিশ্চিত।’

    আওয়ামী লীগ আমলের বিচার প্রক্রিয়ায় স্থবিরতার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারে সম্প্রতি ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রকাশ্য মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ উসমান হাদী, আবু সাঈদ ও মুগ্ধর হত্যাকারীরা এখনো মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ তাঁদের পরিবার বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পাটওয়ারী জানান, তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ অথবা একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু কেউ তাতে সাড়া দেয়নি।

    তিনি দাবি করেন, বিএনপি শেখ হাসিনা আমলের সংবিধান বহাল রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় সেই সংবিধানের অধীনেই তাদের শপথ নিতে হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ‘চুপ্পু’র কাছে শপথ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই সেই পথ তৈরি হয়েছিল।

    এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তারেক রহমানকে ‘গ্যাংস্টার’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘তারেক রহমান যা বাংলাদেশে করতেছেন তা দেশের রাজনীতির জন্য লজ্জা এবং রাজনীতির যে সংস্কৃতি- সেটাকে অপসংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। উনার রাজনীতি করার ইচ্ছা নাই।’

    হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর মামলা দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় সিলেট সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “এত বড় ‘গ্যাংস্টার’ বাংলাদেশে আসছে। জিকে গৌছ, আব্বাস, বুলু, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র‌্যাংকিংয়ে কম? কারও কাছে মাদক, কারও কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের ছেলেরা এক জায়গায় বসে, খসরু সাহেব আছে। র‌্যাংকিং করলে তারা ইতালির মাফিয়াকে হার মানাবে। আমরা টেরর রাজ্যে আছি, আমরা ভয় পাচ্ছি।’

  • স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপি সরকার মানবিক সরকার। সরকার প্রতিটি মানুষের পাশে থাকতে চায়, কাছে যেতে চায়। শুধু মাত্র আপনাদের সহযোগিতা দরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় সবার মাঝেই ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড পৌঁছে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন আবার দেশে ফিরে আসতে না পারে সেই দিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ ছাড়াও মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

    এ সময় অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নীতি সহায়তা পেতে মামলা প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক

    নীতি সহায়তা পেতে মামলা প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক

    রপ্তানিমুখী বন্ধ কল-কারখানা চালু করাসহ কৃষি, সিএমএসএমইসহ অন্যান্য খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বা নীতি সহায়তা দিচ্ছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ঘোষিত কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ কিংবা অন্য কোনো নীতি সহায়তা পেতে হলে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশনসহ সব ধরনের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে হলফনামার মাধ্যমে ঘোষণা দিতে হবে যে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তার কোনো মামলা অসম্পন্ন নেই।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এর আওতায় রপ্তানিমুখী বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতসহ বিভিন্ন খাতের ঋণগ্রহীতাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো গ্রাহক একদিকে এসব প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট পিটিশনসহ বিভিন্ন মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি ব্যাংকিং খাতে মামলাজট সৃষ্টি করছে।

    এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত যেকোনো প্রণোদনা প্যাকেজ কিংবা নীতি সহায়তা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রত্যাহার করা মামলার তালিকা সংযুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে হলফনামার মাধ্যমে ঘোষণা দিতে হবে যে, সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে তার কোনো মামলা অনিষ্পন্ন নেই।

  • ভাঙছে নদী বাড়ছে শঙ্কা

    ভাঙছে নদী বাড়ছে শঙ্কা

    সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা নদী ও এর উপনদী ধুরুং এবং সর্তার ২৩টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীর ভেঙে গেছে। এতে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় কয়েক হাজার মানুষ নতুন করে প্লাবন ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মধ্যে ১ হাজার ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

    পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বন্যায় ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় মোট ২ হাজার ৪২০ মিটার নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে হালদা নদীতে ১ হাজার ৯৫ মিটার, ধুরুং নদীতে ১ হাজার ২০৫ মিটার এবং সর্তা নদীতে ১২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থান সংস্কারে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব।

    হালদা নদীর হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পাঠিয়ালছড়ি, নাজিরহাট পৌরসভার ফরহাদাবাদের চাঁদগাজী তালুকদার বাড়ি এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরপুর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধুরুং নদীর পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালির খয়রাতি পাড়া, ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকাতেও নদীতীর ধসে পড়েছে। সর্তা নদীর খিরাম ইউনিয়নের হচ্চারঘাটের পূর্ব পাশ, মধ্যম খিরাম নুরনগরপাড়া, গোয়াজ মোহাম্মদ বাড়ির পূর্ব পাশ এবং প্রাচীন সমাধিখোলা এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কৃষিজমির পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ফরহাদাবাদ এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী (৮০) বলেন, হালদা নদীর বেড়িবাঁধ প্রতিবছরই ভাঙে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে মেরামত করলেও বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। স্থায়ী সমাধান না হলে এই দুর্ভোগ কমবে না।

    খিরাম এলাকার বাসিন্দা মন্টু নাথ বলেন, সর্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বছরের পর বছর একই সমস্যা চললেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

    পাইন্দং ইউনিয়নের বাসিন্দা দৌলত মিয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলে ধুরুং নদীতে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করেছে। এখন দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।

    চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার বলেন, ২০২৬ সালের বন্যায় ফটিকছড়ির হালদা নদী ও এর উপনদী ধুরুং এবং সর্তার ২৩টি স্থানে প্রায় ২ হাজার ৪২০ মিটার বাঁধ ও নদীতীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

    ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • সবুজে ফিরছে আমন চাষিরা

    সবুজে ফিরছে আমন চাষিরা

    ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই কাঁধে ধানের চারা, হাতে কোদাল আর মুখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে ছুটছেন কৃষকরা। কারও পায়ের নিচে কাদামাটি, কারও কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে একের পর এক ধানের চারা রোপণের দৃশ্য। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, যেন সবুজের এক বিশাল ক্যানভাস আঁকছেন তারা। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মাঠগুলো এখন এমনই এক প্রাণচঞ্চল রূপে সেজে উঠেছে।

    বর্ষার টানা বৃষ্টিতে জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নারী-পুরুষ কৃষি শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামের মাঠ। কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে আনা হচ্ছে, আবার কোথাও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম যেন একসঙ্গে মিলেমিশে নতুন এক সম্ভাবনার গল্প লিখছে।

    উপজেলার আলোকঝাড়ী, ভাবকী, ভেড়ভেড়ী, গোয়ালডিহি, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঘুরে দেখা যায়, আমন রোপণের কাজে এখন কৃষকদের দম ফেলারও সময় নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোপণ শেষ করতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও মাঠে কাজ করছেন। শ্রমিক সংকট থাকলেও থেমে নেই চাষাবাদ। কারণ, কৃষকদের বিশ্বাস—সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ফলনও ভালো হবে।

    কৃষকদের ভাষায়, এ বছর প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের খরচ কমেছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কম হবে। তবে সার, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ভালো ফলনের আশায় তারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

  • নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ

    নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ

    দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করছে। এসব পণ্যের কোনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর এবং কোনটির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে—তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যাতে হঠাৎ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি না হয়, সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিয়ে কমাবে কি-না, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো বছর দেশে ডালের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ফসল ঘরে ওঠার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের জানতে হবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে কখন আমদানি করলে ভালো হবে এবং কোন বাজারে দাম তুলনামূলক সুবিধাজনক থাকবে।

    এ লক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্‌ম তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় একটি তথ্য পেতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করতে হতো এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগতো। এআই ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারবে।

    তিনি জানান, এআই ব্যবস্থা আগাম জানাতে পারবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সুবিধাজনক হবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে এবং কখন ক্রয় করলে বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা বছর গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একা এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। যেসব সংস্থা এ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে, তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

    তিনি আরও বলেন, এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক তথ্য উৎস ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুরুতে এ ব্যবস্থার উন্নয়নে সময় লাগলেও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করার পর এটি মানুষের চেয়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ দিতে সক্ষম হবে।

    তিনি বলেন, দ্রুত ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ। এর মাধ্যমে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

    সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

  • নতুন উপাচার্য পেল ৩ বিশ্ববিদ্যালয়

    নতুন উপাচার্য পেল ৩ বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামানকে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৩)’-এর বিধান অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হককে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব, রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস

    কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব, রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস

    নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের আম ও আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যের প্রদর্শনী ও উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ শীর্ষক এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট মানের আম, সমৃদ্ধ কৃষি ঐতিহ্য এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়।

    শনিবার দূতাবাস সংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আমদানিকারক, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

    স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আম শুধু একটি ফল নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎকৃষ্ট আম উৎপাদনকারী দেশ। খিরসাপাত (হিমসাগর), হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, কাটিমন, গৌরমতি ও বারি আমসহ বিভিন্ন জাতের আমের আন্তর্জাতিক সুনামের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    রাষ্ট্রদূত আরও জানান, দেশের বিজ্ঞানীরা দেরিতে ফলনশীল নতুন জাতের বারি আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার ও বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদন করছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আম উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ অঞ্চলের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিখাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিশেষ অতিথি গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার পরিচয় বহন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সফল আমচাষি রফিকুল ইসলাম গত ১৫ বছরের আমচাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP) অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।

    প্রদর্শনীতে রাজশাহীর মৌসুম-পরবর্তী ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌরমতি ও আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের তাজা আম প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি আমের জুস, আচার, ফ্রুট বার, শুকনো আম, চাটনি, জ্যাম ও জেলিসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্যও প্রদর্শিত হয়। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ বিভিন্ন ডেজার্ট। এছাড়া বাংলাদেশে আম চাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন ও ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

    প্রায় ২৫০ জন অতিথি এ উৎসবে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নেপালে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।