BD Global Times — বাংলার সংবাদ

  • রায়পুরে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই ১২ জেলে আটক

    রায়পুরে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই ১২ জেলে আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১২ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পাঁচ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল ও চারটি নৌকা জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার মেঘনা নদীর আজগর সওদাগরের চর এলাকায় উপজেলা মৎস্য অফিস ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের রায়পুর স্টেশনের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান চালান।

    আটককৃত জেলেরা হলেন—বিল্লাল মাল (৫২), খোকন (৩৮), হৃদয় গাইন (৩০), আবুল কালাম (৩৯), মোহাম্মদ আলী (৪০), মো: রাসেল (১৮), মনির মিঝি (৩২), সবুজ হাওলাদার (৩৬), আব্দুল জাব্বার (৩৭), কাদির সর্দার (৫০) ও তসলিম (২৮)।

    অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

    অভিযানে জব্দ করা পাঁচ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। চারটি নৌকার বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য অফিস।

    মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য অফিস ও কোস্টগার্ড মেঘনা নদীতে অভিযান জোরদার করেছে।

    রায়পুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হাসনাইন বলেন, ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইনে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুই হাজার করে মোট ২২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ এ,আর

  • কুমিল্লায় ক্ষেত থেকে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার

    কুমিল্লায় ক্ষেত থেকে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুরে ফসলি জমি থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় লাশের পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয়রা জানান, কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক তরুণীর লাশ দেখতে পান তারা। তার গলায় গামছা পেঁচানো এবং মুখমণ্ডল মাটিতে চেপে রাখা ছিল।

    নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) তাজমিন এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমন্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। পরে সে ওই বান্ধবীর সাথে কক্সবাজারে যায়। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এসে নামার পর মেয়ের সাথে তার ফোনে কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ করতে না পেরে সকালে মেয়ের মোবাইলফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ফোনটির অবস্থান লালমাই এলাকায় জানতে পেরে খোঁজ করতে গিয়ে জগতপুরে মেয়ের লাশ উদ্ধারের খবর পান।

    লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে লাশটি অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • চৌগাছায় মোটরসাইকেল চুরি, থানায় অভিযোগ 

    চৌগাছায় মোটরসাইকেল চুরি, থানায় অভিযোগ 

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় রাস্তার পাশে রেখে ফসলের ক্ষেত দেখতে যাওয়ার পর একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মোটরসাইকেলের মালিক মিলন হোসেন চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা উপজেলার বড়খানপুর খুদেচারা বটতলা মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মিলন হোসেন জানান, সকালে রাস্তার পাশে আমার কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেলটি রেজিষ্ট্রেশন নং: যশোর-ল-১৫-৮৫২০ রেখে ফসলের ক্ষেত দেখতে যায়। আধা ঘণ্টা পর ফিরে এসে দেখি সেখানে আমার মোটরসাইকেলটি নেই।

    চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন নম্বর ডিএইচএক্সসিএনএফ২৬৩২৫ এবং চেসিস নম্বর পি এস ইউ এ ১১ সি ও য়াই ২ পিটি এম ০৬৯৬৯।

    চৌগাছা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই বদরুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।িএ,আর

  • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কারসন

    সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কারসন

    কানাডার কবি ও লেখক অ্যান কারসন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি তার নাম ঘোষণা করে।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, আধুনিক কবিতায় ভাষা, স্মৃতি, পুরাণ ও মানবিক অভিজ্ঞতাকে অনন্যভাবে উপস্থাপনের জন্য তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

    নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, অ্যান কারসন তার কাব্য ও গদ্যে প্রাচীন সাহিত্য ও আধুনিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। তার লেখায় কবিতা, অনুবাদ, প্রবন্ধ ও নাট্যধর্মী রচনার এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। ভাষার প্রতি তার পরীক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর মানবিক অনুসন্ধান তাকে সমকালীন সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লেখকে পরিণত করেছে।

    ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কারসন। তিনি ক্লাসিক্যাল সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের প্রভাব তার লেখায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও গদ্য রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন।

    কারসনের উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘Autobiography of Red’, ‘The Beauty of the Husband’, ‘Nox’ এবং ‘Red Doc>’। তার লেখায় প্রেম, বিচ্ছেদ, আকাঙ্ক্ষা, মৃত্যু ও স্মৃতির মতো বিষয় বারবার উঠে এসেছে।

    সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে কারসন কানাডার সাহিত্যাঙ্গনেও নতুন এক মাইলফলক তৈরি করেছেন। পুরস্কারের সঙ্গে তিনি নোবেল পুরস্কারের পদক ও সনদ এবং আর্থিক সম্মানী পাবেন।

    প্রতি বছর অক্টোবর মাসে নোবেল পুরস্কারের বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

  • এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় মারজানা

    এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় মারজানা

    ২০২৬ সালের ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার। ভাইরোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, সংক্রামক রোগ, বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে কাজ করা এই বিজ্ঞানীর গবেষণা জীবনে এটি একটি বড় স্বীকৃতি। এর আগে তিনি জাতিসংঘের ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ ২০২৫’-এ বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে তার এই অর্জন বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে পরিচিত করেছে।

    ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বড় কিছু : এই তালিকাকে মারজানা শুধু নিজের সাফল্য হিসেবে দেখেন না। তার কাছে এই অর্জন বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা একজন গবেষকও যে এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের সারিতে জায়গা করে নিতে পারেন, এই অর্জন তারই প্রমাণ।

    জাতিসংঘের ফেলোশিপ তাকে দেখিয়েছে, বিজ্ঞান কখনো শুধু পরীক্ষাগারের বিষয় নয়। বায়োসেফটি তাকে শিখিয়েছে গবেষণাগার, গবেষক ও পরিবেশকে নিরাপদ রাখার উপায়। বায়োসিকিউরিটি শিখিয়েছে সংবেদনশীল জৈব উপাদান, তথ্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধের পথ। গ্লোবাল হেলথ সিকিউরিটি দেখিয়েছে, সংক্রামক রোগ কোনো সীমান্ত মানে না। আর সায়েন্স ডিপ্লোম্যাসি দেখিয়েছে, একজন বিজ্ঞানী একই সঙ্গে গবেষক, নীতিনির্ধারণে অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সেতুবন্ধ হতে পারেন। ২০২৫ সালে জাতিসংঘের ফেলোশিপ দিয়ে তিনি বৈশ্বিক মঞ্চে প্রবেশ করেন। এই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতাতেই ২০২৬ সালের ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকার স্বীকৃতি পান।

    কৌতূহল থেকে শুরু : মারজানার বিজ্ঞানচর্চার শুরু কোনো আধুনিক গবেষণাগারে নয়, ছোটবেলার অদম্য কৌতূহলে। মানুষ কেন অসুস্থ হয়, একটি রোগ কীভাবে এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, একই পরিবেশে থেকেও কেন একজন আক্রান্ত হন আর অন্যজন হন না—এসব প্রশ্ন তাকে ভাবিয়ে তুলত। পরিবার কখনো তার কৌতূহল থামিয়ে দেয়নি; বরং প্রশ্ন করতে ও যুক্তি খুঁজতে উৎসাহ দিয়েছে।

    বড় হতে হতে তিনি বোঝেন, বাংলাদেশের মতো দেশে স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, প্রাণিসম্পদ ও সংক্রামক রোগ শুধু গবেষণার বিষয় নয়—এগুলো মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সেখান থেকেই বিজ্ঞানকে তিনি পেশার চেয়েও বেশি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখতে শেখেন।

    দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও একটি স্বপ্ন: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিখেছেন প্রশ্ন করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধান করতে। বিজ্ঞান যে মুখস্থ করার বিষয় নয়, অনুধাবন ও প্রমাণ দিয়ে উত্তর খোঁজার নিরন্তর প্রক্রিয়া—সেই শিক্ষা তিনি এখানেই পেয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার গবেষণাজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মাইক্রোবায়োলজি, ভাইরোলজি, মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস ও প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত রোগজীবাণু নিয়ে হাতে-কলমে কাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, গবেষণার ফল কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও

    অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এখানেই ওয়ান হেলথ ধারণার গুরুত্ব তার কাছে স্পষ্ট হয়, যেখানে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে একই সূত্রে দেখা হয়।

    তার ভাষায়, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় তাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, আর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দেখিয়েছে।

    সামনের লক্ষ্য : তিনি এমন গবেষণায় অবদান রাখতে চান, যার প্রভাব শুধু বৈজ্ঞানিক জার্নালে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রোগ প্রতিরোধ, গবেষণাগারের বায়োসেফটি, বায়োসিকিউরিটি সচেতনতা, ওয়ান হেলথ প্রস্তুতি ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে তা বাস্তব পরিবর্তন আনবে। তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা।তরুণদের প্রতি বার্তা : তার প্রথম পরামর্শ, নিজের স্বপ্নকে কখনো ছোট করে দেখো না। শেখার আগ্রহ, সততা, পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতা থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব। গবেষণা শুধু সিভি সমৃদ্ধ করার জন্য নয়; এমন প্রশ্ন বেছে নিতে হবে যার উত্তর সমাজের কাজে লাগবে। ভালো গবেষণার শুরু ভালো প্রশ্ন থেকে। তরুণীদের উদ্দেশে তার আহ্বান—‘পথ সহজ নাও হতে পারে, কিন্তু আপনি পথ তৈরি করলে আপনার পেছনে আরো অনেকে হাঁটতে পারবে।’ মারজানা আক্তারের এই অর্জন তাই শুধু একজন গবেষকের সাফল্য নয়—বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

  • চীনে পারিবারিক শিল্পের দায়িত্ব নিচ্ছেনা উত্তরসূরিরা

    চীনে পারিবারিক শিল্পের দায়িত্ব নিচ্ছেনা উত্তরসূরিরা

    চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠা পারিবারিক মালিকানাধীন ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নতুন ধরনের সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠাতা প্রজন্ম অবসরে যাওয়ার বয়সে পৌঁছালেও তাদের সন্তানদের একটি বড় অংশ পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নয় বা আগ্রহী নয়। ফলে দেশটির বেসরকারি শিল্প খাতে প্রজন্মান্তরের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে।

    চীনের অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে ছোট পারিবারিক কারখানা ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘ওয়েনঝৌ মডেল’ একসময় পারিবারিক যোগাযোগ, নিজস্ব অর্থায়ন ও ছোট কারখানার মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধির পথ তৈরি করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠান পরে বড় কারখানায় রূপ নেয় এবং চীনকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করতে ভূমিকা রাখে।

    ওয়েনঝৌর একটি জুতা কারখানার উদ্যোক্তা আয়ু। তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকে তিনি তিনতলা বাড়ির নিচতলায় বাবা-মাকে হাতে তৈরি চামড়ার জুতা বানাতে দেখেছেন। কয়েক দশকের মধ্যে সেই ছোট পারিবারিক কর্মশালা প্রায় ৭০০ কর্মীর কারখানায় পরিণত হয়। কিন্তু এখন তার প্রজন্মের সামনে সেই ব্যবসা ধরে রাখার প্রশ্নটি অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।

    মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক হানছিং ফাং বলেন, প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এক রাতেই ছেলে বা মেয়ের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে তারা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেন, যা কাগজে একটি কোম্পানি হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। সেই নেটওয়ার্ক উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কঠিন।

    এই সংকটের পরিসর বোঝাতে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য সহায়ক। এইচএসবিসি লাইফের এক গবেষণা অনুযায়ী, চীনের দুই-তৃতীয়াংশ ধনী ব্যক্তির কোনো উত্তরাধিকার পরিকল্পনা নেই। আবার নিংবো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় ১১৪টি বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় প্রজন্মের সদস্যরা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন।

    চীনের তরুণ ব্যবসায়ী উত্তরসূরিদের অনেকেই পারিবারিক ব্যবসা গ্রহণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এক তরুণ বিপণনকর্মী জানান, তার পরিবারের শানওয়ে শহরে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা এবং শেনঝেন ও হংকংয়ে কয়েক ডজন দোকান রয়েছে। তারপরও তিনি এখনই পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিতে চান না। তার মতে, ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক বিষয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর মতো প্রস্তুতি তার এখনো হয়নি।

    তবে তরুণ প্রজন্মের সবাই পারিবারিক ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাইছে—বিষয়টি এমন নয়। অনেকেই ভবিষ্যতে পরিবারের ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন না। কিন্তু তাদের বক্তব্য, উত্তরাধিকার মানে শুধু সম্পদ পাওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিপুল দায়িত্ব, জটিল সম্পর্ক এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা।

    চীনের পারিবারিক শিল্পের সামনে তাই এখন মূল প্রশ্ন হলো—প্রথম প্রজন্ম যে শ্রম, সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল, দ্বিতীয় প্রজন্ম কি সেই অদৃশ্য সম্পদও উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে? দেশটির অর্থনীতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় এ প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪২৮

    হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪২৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩২ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৬ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১ হাজার ৪২৮ শিশু । এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ১ হাজার ১৪৪ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ শিশুর। বাকি ১ হাজার ৪০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪১ শিশু।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২ লাখ ১ হাজার ৬২৫ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২২ হাজার ১১৬ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৭ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে সিলেট বিভাগে দুজন, ঢাকা ও খুলনা বিভাগে একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৬০ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। আর নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫০ জন।

  • সোমবার ঘোষণা হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ

    সোমবার ঘোষণা হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন শুরু হবে এবং কত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে আগামী ১২ অক্টোবর রোডম্যাপ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী সোমবার কমিশনের সভাতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে তা জানানো হবে।’

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

    এদিকে প্যাকেজ পোস্টাল ভোটিং চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কারিগরি সহায়তা চেয়েছে নেপাল নির্বাচন কমিশন।

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, বাংলাদেশের মতো প্রবাসী ভোটিং ব্যবস্থা চালু করতে চায় নেপাল। এ জন্য বাংলাদেশের আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম সম্পর্কে কারিগরি সহযোগিতা নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি, ধাপ ও কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে আগামী সোমবার কমিশনের সভার পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ।

  • দেশে গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ৭৪ লাখের বেশি মানুষ

    দেশে গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ৭৪ লাখের বেশি মানুষ

    দেশে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন। এর একটি বড় অংশের প্রধান কারণ চোখের ছানি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি নিরাময় করা সম্ভব হলেও তৃণমূল পর্যায়ে চক্ষু সেবার সুযোগ সীমিত থাকায় বহু মানুষ সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশের গুরুতর দৃষ্টি সমস্যায় আক্রান্তদের বড় অংশই ছানিতে ভুগছেন, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এ ছাড়া শিশুদের মধ্যে প্রতিসরণজনিত ত্রুটি এবং বয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো সমস্যাও বাড়ছে। দৃষ্টিশক্তি হারানোর অর্থ শুধু চোখের আলো হারানো নয়; এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা জড়িত। তাই নিজের ও পরিবারের চোখের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    মূল প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, চোখের চিকিৎসা এখনো রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। তাই প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে

    ভিশন সেন্টার চালুর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চক্ষু সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির বেশি মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের দৃষ্টিজনিত সমস্যা যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    সেমিনারে বক্তারা বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ছানিজনিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা পুরোপুরি দূর করার সরকারি লক্ষ্যের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার ও চশমা বিতরণের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। শিশুদের চোখের সুরক্ষায় বিদ্যালয়ভিত্তিক নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলা হয়।

    এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে চোখের যত্ন নিশ্চিত করতে কলকারখানা ও অফিসে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ডিজিটাল পর্দার অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে চোখের ওপর চাপ কমাতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম (প্রতি ২০ মিনিট পরপর ২০ ফুট দূরে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা) মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

    সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিটিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরীসহ বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

  • খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি বদলাতে হবে-ডব্লিউ ডব্লিউ এফ

    খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি বদলাতে হবে-ডব্লিউ ডব্লিউ এফ

    বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্যের পতন ঠেকাতে খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ)। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যপ্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা শুধু পরিবেশ নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

    ডব্লিউডব্লিউএফের ২০২৬ সালের ‘লিভিং প্ল্যানেট রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ১৯৭০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করা বন্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর গড় আকার ৭৩ শতাংশ কমেছে। ৫ হাজার ৭৯০টি মেরুদণ্ডী প্রজাতির ৩৫ হাজার ৮০৩টি জনগোষ্ঠীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

    সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে। সেখানে ১৯৭০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্থল ও মিঠাপানির বন্যপ্রাণীর জনগোষ্ঠীর গড় আকার ৯৫ শতাংশ কমেছে। আফ্রিকায় এই পতন ৮০ শতাংশ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৪৯ শতাংশ। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় কমেছে ২৩ শতাংশ। উত্তর আমেরিকায় পতনের হার ২৮ শতাংশ।

    বাস্তুতন্ত্রের দিক থেকেও মিঠাপানির প্রাণীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। নদী ও হ্রদের প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করা জনগোষ্ঠীর গড় আকার ৮৫ শতাংশ কমেছে। স্থলভাগের প্রাণীর ক্ষেত্রে এই পতন ৬৯ শতাংশ এবং সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষেত্রে ৫৯ শতাংশ।

    ডব্লিউডব্লিউএফ বলছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি সম্প্রসারণের কারণে আবাসস্থল ধ্বংস ও অবক্ষয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত শিকার ও আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, আগ্রাসী প্রজাতি এবং বিভিন্ন রোগও প্রকৃতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। সংস্থাটির মতে, বিশ্ব যেভাবে খাদ্য উৎপাদন ও ভোগ করছে, সেটিই জীববৈচিত্র্য হ্রাসের একক সবচেয়ে বড় কারণ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃতির ক্ষতি এখন আর শুধু পরিবেশগত সংকট নয়। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় অর্ধেক বা প্রায় ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারের কার্যক্রম কোনো না কোনোভাবে প্রকৃতি ও এর সেবা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রজাতি ও বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক পতন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং মানুষের কল্যাণের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    ডব্লিউডব্লিউএফের যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান নির্বাহী তানিয়া স্টিল বলেন, প্রকৃতির ক্ষতি শুধু বন্যপ্রাণীর জন্য সংকট নয়; এর প্রভাব ইতোমধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা, পানির সরবরাহ, অর্থনীতি এবং জলবায়ুজনিত ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর পড়ছে। তার মতে, বিশ্ব এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে প্রকৃতির ক্ষতির ক্রমবর্ধমান মূল্য দিতে থাকবে, অথবা প্রকৃতির পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ করে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে।

    সংস্থাটি বলছে, খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রকৃতিবান্ধব কৃষি, খাদ্য অপচয় কমানো এবং বন ও আবাসস্থল ধ্বংস বন্ধ করার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বড় কোম্পানিগুলোকে জলবায়ু ও প্রকৃতি রক্ষার বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা নিতে হবে এবং বিনিয়োগকে এমন কর্মকাণ্ডে পরিচালিত করতে হবে, যা প্রকৃতি ধ্বংসের পরিবর্তে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

  • ফ্রান্সজুড়ে ফের শিক্ষার্থীদের স্কুল অবরোধ

    ফ্রান্সজুড়ে ফের শিক্ষার্থীদের স্কুল অবরোধ

    শিক্ষাখাতে আরও সম্পদ ও সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার ফের ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবরোধ করেছে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। খবর রয়টার্স।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ল্য পারিসিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় তিনটি শিক্ষার্থী সংগঠন—ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েন, রেনুভো লিসেয়েন ও লিসেয়েনস!—এর প্রতিনিধিদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নো অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষাখাতে প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা।

    প্যারিসের কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে। অবরোধের কারণে প্যানথেয়ন-আসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে সকালের ক্লাস বাতিল করা হয়। আর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় লুমিয়ের লিওঁ-২ বিশ্ববিদ্যালয় এই দিনের জন্য তাদের তিনটি ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে।

    অ্যাঞ্জার্স শহরের কয়েকটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলেও অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আগুন দেওয়া আবর্জনার পাত্র নেভাতে দমকল বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ২২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ এবং আরও ১৫১টি আংশিকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা ছিল। বুধবার একই সময়ে যে সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় বৃহস্পতিবারের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের বিভিন্ন প্রিফেকচারের সামনে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। পরে বিকেল ৩টায় প্যারিসের প্লাস দ্য লা বাস্তিয়েতে বড় জমায়েতের কর্মসূচি রয়েছে। স্নেস-এফএসইউ, সিজিটি, এফও ও সুদের মতো কয়েকটি শিক্ষা ইউনিয়নও ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ২ লাখ ৫০ হাজার আসন তৈরি এবং ‘পারকুরসুপ’ ভর্তি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া বন্ধ করা।

    ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নোর সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ব্যয়ের হিসাবসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

    এদিকে, জাতীয় পরিষদের স্পিকার ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    সরকারের মুখপাত্র মদ ব্রেজোঁ সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, আগামী বছর জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ৬৪ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারবরাদ্দ রাখা হয়েছে।

  • নরেন্দ্র মোদি ‘ভোট চোর’, ককরোচ প্রধান

    নরেন্দ্র মোদি ‘ভোট চোর’, ককরোচ প্রধান

    নরেন্দ্র মোদি ‘ভোট চুরি’ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। ব্যাঙ্গালুরুতে সুশীল সমাজের সংগঠন ও ককরোচ জনতা পার্টির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ‘জনতার আদালত’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ধ্রুব রাঠি এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ।

    বিক্ষোভ সমাবেশে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র হত্যা ও ভোট চুরির’ অভিযোগ আনেন দীপকে। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

    দীপকে অভিযোগ করেন, এসআইআরের আওতায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই হলো বিজেপি বিরোধীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নামব, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব এবং সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

  • এআই দিয়ে তৈরি ছবি চিনে নেওয়ার ৬টি লক্ষণ

    এআই দিয়ে তৈরি ছবি চিনে নেওয়ার ৬টি লক্ষণ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি এখন অনলাইনের প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুগল ইমেজ সার্চ, পিন্টারেস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে এ ধরনের ছবি। এআই-নির্ভর নিম্নমানের বা অতিরিক্ত কনটেন্টের বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে, এর জন্য ‘এআই স্লপ’ নামে নতুন একটি শব্দও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব ছবি ও এআই-তৈরি ছবির পার্থক্য করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক ইমেজ জেনারেটর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করতে সক্ষম। তাই অনলাইনে কোনো ছবি দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার আগে কিছু বিষয় যাচাই করা জরুরি।

    ১. লেখায় অস্বাভাবিকতা খুঁজুন

    এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো ছবির ভেতরের লেখা পরীক্ষা করা। পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, সাইনবোর্ড, টি-শার্ট কিংবা বিজ্ঞাপনের লেখাগুলো যদি বিকৃত, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ বা অর্থহীন মনে হয়, তাহলে সেটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    যদিও আধুনিক এআই আগের চেয়ে ভালোভাবে লেখা তৈরি করতে পারে, তবুও ছোটখাটো ভুল অনেক সময় থেকে যায়। তাই সন্দেহজনক কোনো ছবির লেখা জুম করে দেখা কার্যকর হতে পারে।

    ২. হাত ও শরীরের গঠনে নজর দিন

    মানুষের হাত ও আঙুল তৈরি করতে এআই দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় পড়ে। ফলে কোনো ছবিতে অতিরিক্ত আঙুল, জোড়া লেগে থাকা আঙুল, বিকৃত নখ বা অস্বাভাবিক গাঁট দেখা গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।

    শুধু হাত নয়, কবজি, কনুই, ঘাড়, পা কিংবা শরীরের অনুপাতও খেয়াল করুন। চোখ, নাক ও দাঁতের গঠন অস্বাভাবিক হলে সেটিও এআই-তৈরি ছবির ইঙ্গিত হতে পারে।

    ৩. অতিরিক্ত নিখুঁত চেহারা

    অনেক সময় ছবির মানুষটিকে এতটাই নিখুঁত দেখায় যে সেটি বাস্তব মনে হলেও ভেতরে অস্বাভাবিকতা লুকিয়ে থাকে। অতিরিক্ত মসৃণ ত্বক, অস্বাভাবিক উজ্জ্বল চোখ, অত্যন্ত নিখুঁত চুল কিংবা অস্বাভাবিকভাবে সাজানো দাঁত এ ধরনের ছবির সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

    ছবির মানুষটিকে যদি বাস্তবের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত মনে হয়, তাহলে সেটি এআই-তৈরি হতে পারে।

    ৪. সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখালে

    খাবার, পণ্য বা বিজ্ঞাপনের ছবিতে অনেক সময় এআই ব্যবহার করা হয়। কোনো খাবার যদি অবিশ্বাস্য রকম নিখুঁত দেখায়, কোথাও দাগ, ছোপ বা স্বাভাবিক অসম্পূর্ণতা না থাকে, তাহলে ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাস্তব ছবিতে সাধারণত আলো, ছায়া, তেল বা অন্যান্য ছোটখাটো অসম্পূর্ণতা থাকে। এআই-তৈরি ছবিতে এসব অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখা যায়।

    ৫. অতিরিক্ত বিশৃঙ্খলা বা অস্বাভাবিক বিস্তারিত

    এআই-তৈরি ছবিতে কখনো কখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উপাদান যুক্ত করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে অস্বাভাবিক নকশা, অসম্ভব কোণে ছায়া, বাস্তবতার সঙ্গে না মেলা প্রতিফলন কিংবা অস্বাভাবিক আলোর ব্যবহার এমন ছবির বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

    অনেক সময় পুরো ছবিটিই এমন মনে হয়, যেন একসঙ্গে অনেক কিছু দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের অতিরিক্ত নাটকীয়তা এআই ব্যবহারের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ৬. সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যাওয়া

    এআই দিয়ে পুরোনো ছবি রঙিন করা বা উন্নত করার সময় অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যায়। ভবনের ইটের গাঁথুনি, গাছের পাতার আলাদা বৈশিষ্ট্য বা পোশাকের সূক্ষ্ম নকশা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    ফলে ছবিটি বাস্তব আলোকচিত্রের পরিবর্তে আঁকা ছবির মতো দেখাতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে।

    প্রযুক্তির সাহায্যেও যাচাই করা যায়

    শুধু চোখের পর্যবেক্ষণ নয়, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত টুল ব্যবহার করেও ছবি যাচাই করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ‘সার্কেল টু সার্চ’ কিংবা গুগল লেন্সের ‘অ্যাবাউট দিস ইমেজ’ ফিচার ব্যবহার করে ছবির উৎস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।

    এ ছাড়া গুগলের জেমিনি অ্যাপেও ছবি আপলোড করে সেটি এআই-তৈরি কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। গুগলের ‘SynthID’ ওয়াটারমার্কযুক্ত ছবির ক্ষেত্রেও কিছু টুল সহায়তা করতে পারে।

    ডিটেক্টর কি শতভাগ নির্ভরযোগ্য?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো এআই ইমেজ ডিটেক্টরই শতভাগ নির্ভুল নয়। অনেক সময় এআই-তৈরি ছবিকে বাস্তব ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়, আবার বাস্তব ছবিকেও ভুলভাবে এআই-তৈরি বলে দেখানো হতে পারে।

    তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু ডিটেক্টরের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ছবির উৎস, প্রেক্ষাপট এবং ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্যও পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে সংবাদ, ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছবির ক্ষেত্রে মূল উৎস যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

  • থাইরয়েড ক্যানসারের সতর্কসংকেত

    থাইরয়েড ক্যানসারের সতর্কসংকেত

    থাইরয়েড ক্যানসার অনেক সময় নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ হয়ত দেখা দেবে না। কিন্তু কিছু সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব।

    থাইরয়েড গলার সামনের দিকে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা, শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থির কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে থাইরয়েড ক্যানসার হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পাঁচটি লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ঘাড়ে গাঁট বা ফোলা

    ঘাড়ে নতুন কোনো গাঁট দেখা দেওয়া বা আগে থাকা গাঁট দ্রুত বড় হতে থাকা থাইরয়েড ক্যানসারের অন্যতম সতর্কসংকেত হতে পারে। তবে ঘাড়ের সব গাঁটই ক্যানসার নয়। তাই গাঁট দেখা দিলে পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

    দীর্ঘদিন গলার স্বর ভেঙে থাকা

    কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে গলার স্বর কর্কশ বা ভেঙে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। থাইরয়েডের আশপাশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা

    থাইরয়েডের টিউমার বড় হয়ে আশপাশের অঙ্গ বা টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে খাবার গিলতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে।

    ঘাড়ে ব্যথা বা ফোলা

    থাইরয়েডের আশপাশে অস্বাভাবিক ফোলা বা ব্যথাও সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে ঘাড়ে গাঁট বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া

    ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থি বা লিম্ফ নোড অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেলে সেটিও পরীক্ষা করা দরকার। কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যানসার আশপাশের লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    থাইরয়েডে কোনো অস্বাভাবিকতা সন্দেহ হলে চিকিৎসক সাধারণত উচ্চ রেজোলিউশনের থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নির্দেশিত ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন (FNA) পরীক্ষাও করা হয়। এতে থাইরয়েডের গাঁট থেকে নমুনা নিয়ে ক্যানসার কোষ আছে কি না তা পরীক্ষা করা যায়।

    তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে থাইরয়েড ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: American Cancer Society, National Cancer Institute

  • বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাকৃবির ১৬ জন

    বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাকৃবির ১৬ জন

    যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ যৌথভাবে বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের এই তালিকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে জায়গা করে নিয়েছেন ১৬ জন গবেষক। গত বছর এই তালিকায় বাকৃবির ১২ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছিলেন

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৭ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

    গতবছরের ন্যায় এবারও বাকৃবি দেশের শীর্ষ তিনে রয়েছে। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

    তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হলেন- ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো শাহজাহান, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আব্দুল হান্নান, একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো ফজলে রোহানী, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম লুৎফুল কবির, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম দস্তগীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাহজিব-উল-আরিফ, একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আক্তারুজ্জামান খান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. টুম্পা রানী সরকার, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

    প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ঢাবির ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাকৃবি। বাকৃবির ১৬ জন গবেষক এ বছরের তালিকায় রয়েছেন।

  • স্থানীয় নির্বাচনে লড়তে পারবেন বেসরকারি শিক্ষকরা

    স্থানীয় নির্বাচনে লড়তে পারবেন বেসরকারি শিক্ষকরা

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    তিনি বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।

    বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং মান-মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে, তা হয়েছে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের বড় পরিসরে কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, জাতীয়করণের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। শিক্ষকরা একটি সুশৃঙ্খল ও বড় পরিসরের জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরলে বর্তমান সরকার অবশ্যই বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের নতুন উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল স্থাপন করা যায়।এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ছুটির দিনে ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে বলে জানান তিনি।

    মীর শাহে আলম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবে।

    শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকই একমাত্র পেশা, যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়। আপনারাই সমাজের মূল চালিকাশক্তি এবং গণতন্ত্রের বার্তাবাহক।

    সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

  • পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং রুম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কেরামত আলী হল ও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট নিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) এবং সিয়াম আহমেদের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।

    অভিযোগ রয়েছে, বুধবার ভোরে এ কেরামত আলী হলের একটি কক্ষে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে এক শিক্ষার্থী আহত হন। একই ঘটনায় কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এ ঘটনার জেরে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় দুপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সিয়াম আহমেদের বন্ধু ইফতিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে সিয়াম ও পলক আহমেদ প্যারিস রোডে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    শিব্বিল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, রাতে এক সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের কক্ষের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে তার এক সহপাঠী আহত হন। একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    অন্যদিকে সিয়াম আহমেদ অভিযোগ করেন, তার বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে তাকে ও পলক আহমেদকে প্যারিস রোডে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা করেন।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ১৫ অক্টোবর ঢাবিতে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস-কার্যক্রম

    ১৫ অক্টোবর ঢাবিতে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস-কার্যক্রম

    ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আগামী ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে জগন্নাথ হলের একটি ভবনের ছাদ ধসে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ শিক্ষার্থী এবং ১৪ অতিথি ও কর্মচারীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করে।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবন, সব হল ও হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি রয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোক র‍্যালি বের হবে। র‍্যালিটি জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করা হবে। সকাল ৮টায় জগন্নাথ হলের অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ সব হল মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হবে। এ ছাড়া, হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহতদের তৈলচিত্র ও দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শন করা হবে।

  • নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাকে ‘আক্রমণ করতে পারেন’, এমন আশঙ্কাও শিক্ষক প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে নেকাব পরা ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর ওই শিক্ষকের নেয়া মাস্টার্সের ক্লাস পরিবর্তন করার আশ্বাস দিয়েছে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসের শুরুতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার এর প্রতিবাদ করেন। নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এ কারণে তাকে পেছনে বসতে বাধ্য করা উচিত নয়, এমন যুক্তি দেন তিনি। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয়। সুমি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন- নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া নেকাব পরা কেউ শিক্ষককে আক্রমণ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

    ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে ওই ছাত্রী এবং পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন। এ সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করার কথাও বলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে। নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি।

    তিনি আরও বলেন, “ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। তাদের ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না। ” ফলে একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

    সুমি আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসের বড় একটি সময় একাডেমিক বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন আলোচনা করেন এবং নিজের অবস্থান ও মতামতকে প্রাধান্য দেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়েও তার মন্তব্যে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন।

    ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা মৌখিকভাবে বসেছি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। আমরা তাদের থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শিক্ষার্থী তাদের কনসার্ন এবং ক্লাসে ঘটেছিল তা জানিয়েছে। আমরা আগামীকাল মিটিংয়ের মাধ্যমে অফিসিয়াল ডিসিশনে আসবো। ”

    মাস্টার্সের ক্লাস নেয়া থেকে তাকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তারা ইন্টারেক্ট করতে চাচ্ছে না। আমরা তাদের (শিক্ষার্থীদের) আশ্বস্ত করেছি, ওদেরকে তার (অভিযুক্ত শিক্ষক) মুখাপেক্ষী হতে হবে না। ”

    এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  • প্লেগ কতটা ভয়ংকর, কেন এত আলোচনা?

    প্লেগ কতটা ভয়ংকর, কেন এত আলোচনা?

    স্থানীয় স্বাধীন গণমাধ্যমে ওই এলাকায় কোয়ারেন্টাইনের খবর প্রকাশিত হলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ কী এবং প্লেগ নিয়ে আসলে কতটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যু নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

    সাইবেরিয়া ও দূর প্রাচ্যের প্লেগ-প্রতিরোধী ইনস্টিটিউটে কর্মরত ২৮ বছর বয়সি দারিয়া শিপিলোভাকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর আঞ্চলিক রাজধানী ইরকুটস্কের বাইরে শেলেখভ শহরে তার মৃত্যু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২ অক্টোবর।

    তবে বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

    এরপর ওই হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন জারি করা হয়। স্থানীয় একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরকুটস্কে একটি গণসমাবেশও বাতিল করা হয়েছিল।

    শুক্রবার ইরকুটস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ বলেন, রাশিয়ার প্রধান স্যানিটারি ডাক্তার ‘একটি বিশেষ বিপজ্জনক সংক্রমণের সন্দেহজনক ঘটনা’ তদন্তে ইরকুটস্কে গেছেন। শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    রুশ সংবাদপত্র ইজভেস্তিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯৭ জনকে চিকিৎসাধীন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

    ওইদিনই প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর জানান, ওই ল্যাবকর্মী প্লেগে মারা গেছেন। এরপর অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

    একজন স্থানীয় সাংবাদিকের অপ্রমাণিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একটি টেস্ট টিউব ভেঙে ফেলার পরই শিপিলোভা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখন কী বলা হচ্ছে

    রাশিয়ার ভোক্তা সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রস্পোট্রেবনাদজর শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির বিষয়ে পরে অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করে।

    চলতি সপ্তাহে সংস্থাটি জানায়, ওই ল্যাবকর্মী অজ্ঞাত কারণের একটি নতুন ধরনের নিউমোনিয়ায় মারা গেছেন। পরীক্ষায় তার ‘পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অণুজীব’ পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়।

    এর পর সরকারপন্থী একটি ফেডারেল সংবাদমাধ্যম প্লেগের সম্ভাব্য ঘটনা নিয়ে করা পাঁচটি পোস্ট মুছে দেয়। বৈকালস্ক শহরের কর্তৃপক্ষও সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণের কারণে শেলেখভে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে পাঠানো একটি বার্তা সরিয়ে নেয়।

    তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি খাটো করে দেখানোর জন্য সমন্বিতভাবে বার্তা দিচ্ছে—এমন ধারণার মধ্যে স্থানীয় স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘পিপল অব বাইকাল’ তাদের সূত্রের বরাতে জানায়, ইরকুটস্কের অন্তত চারটি হাসপাতাল তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    এদিকে বিবিসি নিউজ রাশিয়ান জানতে পেরেছে, ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউট অক্টোবরের শেষ দিকে চীন, মঙ্গোলিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্লেগ নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনটি আদৌ হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে বিবিসি ইনস্টিটিউটটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    প্লেগ কী?

    প্লেগ একটি সংক্রামক রোগ। এর জন্য দায়ী জীবাণুর নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক মানুষ এই রোগে মারা যায়। ইতিহাসে সেই মহামারি ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত।

    ওশেনিয়া ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশেই প্লেগের অস্তিত্ব রয়েছে। রাশিয়ার বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের মারমটের মতো ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মধ্যেও এই রোগের জীবাণু পাওয়া যায়।

    মাছির কামড়, আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের তরল বা দূষিত পদার্থের সংস্পর্শ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কণার মাধ্যমে মানুষ প্লেগে আক্রান্ত হতে পারে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্লেগের নিউমোনিক ধরনটির সুপ্তিকাল খুবই কম। কখনো কখনো তা মাত্র ২৪ ঘণ্টা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

    নিউমোনিক প্লেগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট ও কাশি। অনেক সময় রক্তমিশ্রিত কফও হতে পারে।

    তবে শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ যা-ই হোক না কেন, প্লেগের কারণে মহামারির ঝুঁকি খুব কম বলে মনে করেন রুশ বিজ্ঞানবিষয়ক সাংবাদিক ইরিনা ইয়াকুতেঙ্কো।

    বিবিসি রাশিয়ান পডকাস্টে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে প্লেগের ব্যাপক বিস্তার ধরে রাখার মতো প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি নেই।

    তার ভাষ্য, প্লেগের বিরুদ্ধে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর। রোগটি এখন অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরি হওয়ার সুযোগ কম।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী

    ডব্লিউএইচওর একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে বলেছেন, পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়নে সংস্থাটি রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউরোপের সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইসিডিসির বিশেষজ্ঞরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

    রাশিয়ায় প্লেগের সম্ভাব্য ঘটনার খবর যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে’ বলে সোমবার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে ল্যাবকর্মীর মৃত্যু নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন বলেও জানান ট্রাম্প।

    তবে বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন না এটি কোনো জৈব অস্ত্রের ঘটনা।

    তার ভাষায়, বিষয়টি সম্পর্কে ‘খুব শিগগিরই’ জানা যাবে।

    রুশ কর্তৃপক্ষের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, সেটিই সত্য।

    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে ‘গভীর আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ নির্ধারিত ছিল না। অবশ্য ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

    বিবিসি রাশিয়ার সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গকে মঙ্গলবার পেসকভ বলেন, যখন কেউ সাহায্যের প্রস্তাব দেয়, তা সব সময়ই ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, ইরকুটস্কের পরিস্থিতি নিয়ে শুধু সরকারি তথ্যই বিশ্বাসযোগ্য।

    অনলাইনে কী কী দাবি ছড়াচ্ছে

    রাশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী নানা দাবি ছড়াচ্ছে।

    বিবিসি অন্তত পাঁচটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে, যেগুলো কথিত দ্বিতীয় এক ভুক্তভোগী নিয়ে অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের সম্মিলিত অনুসারী প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার। রুশ ভাষায় প্রায় একই ধরনের বার্তা পোস্ট করে তারা দাবি করেছে, দারিয়া শিপিলোভার সহকর্মী ভিক্টর নাকলোনেনি নামের এক ব্যক্তিও মারা গেছেন।

    রস্পোট্রেবনাদজরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ দাবি নিশ্চিত করেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি সরাসরি সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সাইবেরিয়া ও দূর প্রাচ্যের প্লেগ-প্রতিরোধী ইনস্টিটিউট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

    পরে যাচাইবিহীন এসব দাবি যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইলসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে তথ্যের উৎস হিসেবে রাশিয়ার ‘স্থানীয় গণমাধ্যমের’ কথা বলা হয়েছে।

    অনলাইনে এসব পোস্ট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। আবার কেউ এসব অ্যাকাউন্টকে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

    বিবিসি এক্সেও বেশ কিছু যাচাইবিহীন দাবি শনাক্ত করেছে। কয়েকটি পোস্ট লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে।

    একজন ব্লগার দাবি করেন, তিনি এক বন্ধুর কাছ থেকে এমন একটি বার্তা পেয়েছেন, যাতে বলা হয়েছে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ লকডাউনে যেতে পারে। পোস্টটি ৬০ লাখের বেশি বার দেখা হয়। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গের কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় গণমাধ্যম কেউই সেখানে প্লেগের ঘটনা বা লকডাউনের আশঙ্কার কথা জানায়নি।

    অন্য একটি পোস্টে দাবি করা হয়, ‘রাশিয়ার একটি পরীক্ষাগার থেকে সদ্য ছড়িয়ে পড়া নিউমোনিক প্লেগ কোভিডের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি মারাত্মক।’ পোস্টটি ১ কোটি ১৩ লাখ বার দেখা হয়েছে।

    চিকিৎসা না করা হলে নিউমোনিক প্লেগ অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে। তবে কোভিডের মতো ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। এর একটি বড় কারণ হলো, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে প্লেগের চিকিৎসা করা যায়।

  • কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটি কতটা নিরাপদ?

    কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটি কতটা নিরাপদ?

    কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটিতে নানা নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। তবে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। গবেষণাটিতে কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকে ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করে ১৮ বছরের কম বয়সিদের এই সেবা ব্যবহার বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    বুধবার ওপেনএআই জানায়, কিশোরদের মধ্যে চ্যাটজিপিটির গড় ব্যবহার তুলনামূলকভাবে সীমিত। তাদের ব্যবহারের বড় অংশই পড়াশোনাকেন্দ্রিক।

    তবে একই দিনে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কমন সেন্স মিডিয়ার প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, আত্মহানির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কিশোরদের কথোপকথন শনাক্ত করে অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থাসহ চ্যাটজিপিটির বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রায়ই ব্যর্থ হচ্ছে।

    চলতি বছরের আগস্টে ওপেনএআই কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটিতে বেশ কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়।

    এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে এমন রোমান্টিক বা অন্য ধরনের ভাষা ব্যবহারে বাধা, যা চ্যাটজিপিটির ওপর কিশোরদের আবেগগত নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। চ্যাটজিপিটি নিজেকে সচেতন বা কোনোভাবে চেতনাসম্পন্ন বলে বোঝাতে পারবে না—এমন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কিশোর সংবেদনশীল ছবি শেয়ার করলে তাকে সতর্ক করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    কোনো কিশোরের চ্যাটজিপিটি হিসাবের সঙ্গে অভিভাবকের হিসাব যুক্ত থাকলে আত্মহানি বা অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথোপকথনের বিষয়ে অভিভাবককে জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    ওপেনএআই বলছে, এসব ব্যবস্থা চালুর পর কিশোরদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে পড়াশোনাকেন্দ্রিক প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে পড়াশোনায় সহায়তা নেওয়া ও বিদ্যালয়ের কাজের বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া রয়েছে।

    ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে একজন কিশোরের গড় ব্যবহার দিনে ১৫ মিনিটেরও কম। দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে বিরতি নেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, সেটিও কার্যকর হচ্ছে। এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রায় অর্ধেক কিশোর দ্রুত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার বন্ধ করে দেয়।

    কোম্পানিটি আরো বলেছে, যেসব কিশোরকে টানা তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে, তাদের ৮০ শতাংশের বেশি কথোপকথনে পড়াশোনা-সংক্রান্ত কিছু ছিল।

    তবে কমন সেন্স মিডিয়ার গবেষণায় ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটি ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে—এমন প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত ১৮ বছরের কম বয়সিদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

    কমন সেন্স মিডিয়ার গবেষণার পদ্ধতি পর্যালোচনা করে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, গবেষণার বড় একটি অংশের পরীক্ষা শুরু ও শেষ হতে পারে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই।

    ওই মুখপাত্র বলেন, কঠোর ও স্বাধীন মূল্যায়নকে তারা স্বাগত জানান। তবে তাদের মতে, কমন সেন্স মিডিয়ার পরীক্ষা বাস্তবে চ্যাটজিপিটির কিশোরদের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, তা সঠিকভাবে তুলে ধরে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কিশোরদের সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতও এতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

    কমন সেন্স মিডিয়া একাধিক হিসাব ব্যবহার করে গবেষণাটি চালায়। এসব হিসাব কিশোর ব্যবহারকারীর নামে নিবন্ধিত ছিল। নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর আগে ও পরে এসব হিসাবের কথোপকথনও পরীক্ষা করা হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোরদের সঙ্গে যৌন ভূমিকাভিত্তিক কথোপকথন এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ভালো করেছে। তবে আত্মহত্যা বা আত্মহানির মতো বিষয় নিয়ে কথোপকথনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা দেখা গেছে।

    গবেষণায় বলা হয়, নতুন তৈরি করা এবং অভিভাবকের সঙ্গে যুক্ত হিসাব থেকে আত্মহত্যার চিন্তা, আত্মহানি বা অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এক ঘণ্টা পর্যন্ত কথোপকথন চালালেও কোনো অভিভাবকের কাছে সতর্কবার্তা যায়নি। কেবল পুরোনো হিসাব, যেখানে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কয়েক সপ্তাহের কথোপকথনের ইতিহাস ছিল, সেসব ক্ষেত্রে অভিভাবকের কাছে সতর্কবার্তা যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।

    গবেষকেরা আরো বলেন, সংকটের মধ্যে থাকা কিশোরদের সহায়তার জন্য জরুরি সহায়তা নম্বর বা পেশাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিতেও চ্যাটজিপিটি সব সময় নির্ভরযোগ্যভাবে সক্ষম হয়নি।

    পরীক্ষায় আরো দেখা গেছে, কিশোরদের পড়াশোনার কাজে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে চ্যাটজিপিটি এখনো নিজেকে মানুষের মতো উপস্থাপন করে বা বন্ধুর মতো কথা বলে। কিশোরদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওপেনএআই।

    কমন সেন্সের যুব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের প্রধান টম সিগেল বলেন, চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সতর্কবার্তা ঠিকমতো কাজ করছে—এমন ভুল ধারণা অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হতে পারে। অথচ এসব ব্যবস্থা প্রায়ই কাজ করছে না।

    অনলাইনে তরুণদের আচরণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শিশুদের মধ্যে আত্মহানি ও আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

    চলতি বছর শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য মেটা, টিকটকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে করা কয়েকটি মামলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষতিও হয়েছে।

    তরুণদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার নিয়েও ওপেনএআই বাড়তি নজরদারি ও আইনি চাপের মুখে পড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার প্রত্যন্ত টাম্বলার রিজ এলাকায় একটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১৮ বছর বয়সি এক তরুণ জড়িত ছিল। হামলার আগে কয়েক মাস ধরে সে চ্যাটজিপিটিতে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করেছিল।

    ওপেনএআই পরে ওই ব্যবহারকারীর হিসাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। ওই ঘটনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলছে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্প ২০২৬’। নগর উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার উদ্যোগে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদপ্রার্থী ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের জন্য এখন এক বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই, এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে তদারকি করা হোক।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। আমরা চাই, বাস্তবে এসব উদ্যোগের সক্ষমতা কতটুকু বেড়েছে, তা যথাযথভাবে তদারকি করা হোক। মানুষ যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

    সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের আশপাশেই রয়েছে। সুতরাং শুধু সরকার একা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে। এই কাজ শুরু করতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই।’

    বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত। তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাও ভবিষ্যতে এমন উন্নত ও জনবান্ধব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্ব এমনভাবে ঠিক করতে হবে, যারা আগামী দিনে আমাদের জন্য সুন্দর একটি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’

    থানা আমির আবু সাঈদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি তারিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এদিকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহের অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পথেই হাঁটছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

    ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পথেই হাঁটছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

    শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্যাম্পাসগুলো জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছিল ছাত্রলীগ। দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) ঠিক আওয়ামীদের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

    শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও চিত্রপ্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস : নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়। এতে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। পরে বিকেল ৩টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান। সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক। এ সময় ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী আমলে শত শত নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারত একই সূত্রে গাঁথা। ক্যাম্পাসগুলোকে জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছিল ছাত্রলীগ। দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) ঠিক আওয়ামীদের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

    বুয়েটে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের কথাগুলো আমাদের সবার কথা। সেই স্ফুলিঙ্গ পাঁচ বছর পরে বিশাল আকার ধারণ করে। হাসিনার মসনদ কাঁপিয়ে তাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিয়েছে। সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয়—এটা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বুঝতে হবে।

    ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে ভায়োলেন্সমুক্ত ক্যাম্পাস। এই মধুর ক্যান্টিনেই দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। একই সিলসিলায় কথা বলেছিলেন আমাদের মেজর জিয়া, খালেদা জিয়া, শহীদ ওসমান হাদীসহ জুলাই আন্দোলনকারীরা। এখন এই নতুন বাংলাদেশে আমাদের বুঝতে হবে— আমাদের শত্রু কারা এবং মিত্র কারা।

    ডাকসুর জিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে গত ১৫ বছর যত নির্যাতন হয়েছে, তার প্রাইমারি স্ট্রাকচার ছিল গণরুম ও গেস্টরুম। এই গণরুম ও গেস্টরুমের কালচার ছাত্রলীগ শুরু করেনি, বরং ছাত্রদল শুরু করেছিল। আবারও আমরা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাদের সেই প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি।

    সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, যারা নতুন করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতনের পরিকল্পনা করছে, তাদেরও ছাত্রলীগের মতো ভবিষ্যৎ বরণ করতে হবে। আমরা চাই, সব ছাত্রসংগঠন একত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাক।

    আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে নিপীড়ন, সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের মানবিক মর্যাদাহানি বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে মানবিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

  • প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

    প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি, আবার কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই জমা দেননি। অন্যদিকে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন ৮৩ জন।

    ফলে শিক্ষক সংকট কাটাতে শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’ দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন।

    প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।

    নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা এ আদেশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে কাগজপত্র জমা দেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন মারা গেছেন।

    কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তবে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও তাদের সবাই কাজে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন পদে যোগ দিলেও ৯১৮ জন নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ না দেওয়া ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।

    তবে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় এবার বিষয়টি অধিদপ্তরের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। আবদুর রহিম বলেন, বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এরপরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

    ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অর্থায়নের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

    বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রকল্প।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আজকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (৭টি):

    ১. ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প।

    ২. রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

    ৩. রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্প।

    ৪. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প।

    ৫. সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্প।

    ৬. সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

    ৭. গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়) (২য় সংশোধন) প্রকল্প।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প।

    রেলপথ মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ (রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ) প্রকল্প।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় (২টি):

    ১. ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে ২য় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প।

    ২. থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।

    এছাড়া সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক কমিটিকে অবহিত করা হয়, যা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল। এটি হলো—জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প।

  • সিরাজদিখানে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

    সিরাজদিখানে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে অজ্ঞাত গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

    বুধবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী নিমতলা আন্ডারপাসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্ভিস লেনে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে।

    ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহতের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার উক্তো গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সজীব (১৮) নামে এক যুবকের কীটনাশক পানে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সজীব সদর উপজেলার উক্তো গ্রামের হাবলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সজীব দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন।

    এরই মধ্যে বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তিনি কীটনাশক পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পাখিভ্যানে করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।

    স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের জেরেই সজীব কীটনাশক পান করে থাকতে পারেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সজীব নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

  • ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

    ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

    প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

    বুধবার (৭অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

    অতীতে বিএনপি সরকারের সময় এই সাধারণ ছুটি থাকলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই ছুটি বাতিল করেছিল।

  • দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা সুলতান আহমেদকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মুক্তারপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদ মুক্তারপুর গ্রামের মৃত দিদার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে দামুড়হুদা থানা পুলিশের একটি দল মুক্তারপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় নিজ এলাকা থেকে সুলতান আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    আরও পড়ুন:হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোরআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণে যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবেঃবাংলাদেশ ব্যাংক

    বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণে যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবেঃবাংলাদেশ ব্যাংক

    মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের জন্য যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ফরেন কারেন্সি (এফসি) হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি (আইবিএ)-এর ফরেন লোন/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট-সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি কমিটি, বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনের অনুমোদন প্রযোজ্য হবে।

    অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের অনুমোদন ও বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের হিসাবে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে আমদানি মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবা মূল্য পরিশোধেও এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

    অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এফসি হিসাবের বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় ভাঙানো যাবে। এ ছাড়া ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী এসব হিসাবের স্থিতির ওপর সুদ বা মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকবে।

    এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ঋণচুক্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের শর্ত থাকলে, ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত এফসি হিসাব চালু রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি স্থিতি রাখা যাবে না।

  • তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    ঢাকা দক্ষিণ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    আজ বুধবার (৭অক্টোবর) একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রকল্পগুলোর আওতায় এসব সিটি করপোরেশনে মূলত সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করা হবে।

    একনেক সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

    রংপুর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।

  • বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

    বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

    দেশে বিমান চলাচলের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম ফের বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম শুল্ক ও মূসকসহ ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বুধবার জারি করা বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে এ মূল্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হবে ৭ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টা থেকে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দাম বহাল থাকবে।

    এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানিটির দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

    আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের জন্যও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের মূল্য শুল্ক ও মূসক ছাড়া ১ দশমিক ০৭৭০ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ জ্বালানির প্ল্যাটস রেটের গড় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি স্টেটমেন্টে উল্লেখিত মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবরের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিইআরসির এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে বিমান পরিচালনার জ্বালানি ব্যয় বাড়ল। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে এক লিটার জেট ফুয়েলের দাম এক মাসের ব্যবধানে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

  • মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

    মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ। মাঠে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়। কিন্তু ম্যাচ শেষে আনন্দের চেয়ে আবেগই বেশি ছিল এদিন। মেসির বিদায়ী বক্তব্যের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এনজো ফার্নান্দেজ।মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে তখন মেসির কথা শুনছিলেন হাজারো দর্শক। সতীর্থরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় অধিনায়কের পাশে। মেসি কথা বলার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এনজো।

    কান্নার সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ম্যাচ শেষে এনজোকে সেই অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, দিনটি ছিল খুব আবেগের। অনেক রকম অনুভূতি কাজ করছিল। আশা করি, লিও দিনটি উপভোগ করেছে। আমরা তাকে খুব মিস করব।’

    মেসির প্রতি এনজোর ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেসিকে নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। তখন মেসি জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এনজো হিসাব কষতেন, মেসি ও তার বয়সের ব্যবধান কত। একদিন মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারবেন কি না, সেটিও ভাবতেন।

    শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন সত্যি হয়। শুধু মেসির সঙ্গে খেলাই নয়, তার সঙ্গে বিশ্বকাপও জিতেছেন এনজো।মেসিকে নিয়ে লেখা চিঠিতে এনজো বলেছিলেন, ‘আমি ছোট ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়স মিলিয়ে হিসাব করতাম। ভাবতাম, তোমার সঙ্গে একবার হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারব কি না।’

    মেসির সঙ্গে খেলতে এসে এনজোর অভিজ্ঞতা আরও বড় হয়েছে। সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন মেসিকে। ভাগ করে নিয়েছেন অনুশীলন, ড্রেসিংরুম, কঠিন সময় ও আনন্দের মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত দুজন হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    এনজো লিখেছেন, ‘আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব, যেভাবে তুমি আমাকে শুরু থেকেই আপন করে নিয়েছ। আমি আমার আদর্শের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই তুমি আমাকে দলের একজন মনে করেছ।’

    মেসির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও পরামর্শও ভোলেননি এনজো। তার ভাষায়, ‘তোমার একটি ভালো কথা, একটি পরামর্শ, একটি আলিঙ্গন অথবা শুধু এমনভাবে পাশে থাকা, যাতে প্রয়োজনের সময় স্বস্তি পাই- কখনো ভুলব না।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পরের ক্যাম্পের কথাও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এনজোর। এত বছর ১০ নম্বর জার্সিতে সামনে মেসিকে দেখে অভ্যস্ত তিনি। চিঠির শেষ দিকে এনজো লিখেছেন, ‘কী ভাগ্যবান ছিলাম আমি, লিও। সেই ছোট্ট ছেলেটি কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত- সে কখনো সময়মতো তোমার সঙ্গে খেলতে পারবে কি না।’

    এরপর মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এনজোর শেষ কথা, ‘আমাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছ, যা কিছু শিখিয়েছ এবং তোমার গল্পের একটি অংশ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’

  • ‘হাসিনার এ মাসেই আসা উচিত ছিল’—অডিও ক্লিপটি ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুলেরই

    ‘হাসিনার এ মাসেই আসা উচিত ছিল’—অডিও ক্লিপটি ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুলেরই

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপটি ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুলের বলে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তার কণ্ঠ শনাক্ত করা হয়েছে।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ সম্পর্কে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়ার গত ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুলকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

    রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসছেন। কিছুই হবে না। রাস্তায় পুলিশের অবস্থা কতটা দুর্বল, তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। তার এ মাসেই আসা উচিত ছিল … তিনি এলে এই পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।’

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান শফিকুল বলেন, ‘অডিওটির বিষয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে সাবেক ওসি রাকিবুলের ভয়েস টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। অডিওর কণ্ঠটি তারই।’

    তবে, রাকিবুল কার সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং কেন এমন মন্তব্য করেছিলেন, তার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

    ডিবিপ্রধান বলেন, ‘সবকিছুই আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

    অডিও ছড়িয়ে যাওয়ার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুল এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে পুলিশ। সেদিনই রাকিবুলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তার আরও ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

  • শয়তান পরকালে কোনো দায়মুক্তি কাধে রাখবে না

    শয়তান পরকালে কোনো দায়মুক্তি কাধে রাখবে না

    মানুষ ভুল করে অনেক সময় নিজের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়। ‘ও আমাকে প্ররোচিত করেছে’, ‘বন্ধুরা না বললে আমি করতাম না’, ‘পরিস্থিতিই আমাকে বাধ্য করেছে’—এমন অনেক অজুহাত আমাদের পরিচিত। কিন্তু আল্লাহর আদালতে এসব অজুহাত কতটা কাজে আসবে?

    অপরাধীদের দাবি

    কেয়ামতের দিন মানুষকে যখন হিসাবের মুখোমুখি করা হবে, তখন অপরাধীরা শয়তানকে দায়ী করতে থাকবে। বলবে, শয়তানই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছে। কিন্তু সেদিন শয়তানও চুপ থাকবে না।

    সে নিজের দায় অস্বীকার করে বলবে, সে কাউকে জোর করেনি; শুধু ডেকেছে, আর মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। কোরআন সেই ভয়াবহ দৃশ্যের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

    শয়তানের ভাষ্য

    পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন সবকিছুর ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, আল্লাহ তোমাদের সত্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর আমিও তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের ওপর আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না; আমি শুধু তোমাদের আল্লাহর অবাধ্যতা করার জন্য ডেকেছি, আর তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছ।

    সুতরাং এখন আমাকে দোষারোপ করো না, বরং নিজেদেরই দোষারোপ কর। না তোমাদের বিপদ মুক্তিতে আমি তোমাদের কোনো সাহায্য করতে পারব আর না আমার বিপদ মুক্তিতে তোমরা আমার কোনো সাহায্য করতে পারবে। এর আগে তোমরা যে আমাকে আল্লাহর শরিক সাব্যস্ত করেছ (আজ) আমি তা প্রত্যাখ্যান করলাম। যারা এ সীমালংঘন করেছ আজ তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২২)কেয়ামতের সেই দৃশ্যটি কতটা ভয়াবহ হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। মানুষ তখন বুঝতে পারবে, যাকে অনুসরণ করে সে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল, সেই শয়তানও আজ তার পাশে নেই। তাই সময় থাকতেই শত্রুকে চিনতে হবে।

    আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ৬)

    সে শুধু প্ররোচনা দেয়

    শয়তান মানুষের বড় শত্রু। সে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দেয় এবং গুনাহের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। তবে তার ক্ষমতা সীমাহীন নয়। সে কুমন্ত্রণা দিতে পারে, কিন্তু জোর করে পাপ করাতে পারে না। সে একটি পথ দেখায়; সেই পথে হাঁটবে কি না, তা মানুষকেই ঠিক করতে হয়।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে এবং তাদের প্রতিপালক ওপর ভরসা করে, তাদের ওপর তার কোনো কর্তৃত্ব নেই।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৯)

    পাপকে সুশোভিত করে দেখায়

    শয়তানের একটি বড় কৌশল হলো—পাপকে মানুষের কাছে অকর্ষণীয় সুন্দর করে তোলা।গিবতকে সে ‘সত্য কথা’ হিসেবে হাজির করে, অহংকারকে ‘আত্মসম্মান’ হিসাবে দেখায়।

    কখনো বলে, ‘একবার করলে কী হবে?’ কখনো বলে, ‘সবাই তো করছে।’ কখনো আবার বোঝায়, ‘সময় হলে তওবা করে নিও।’

    এভাবেই পাপ ধীরে ধীরে মানুষের কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, শয়তান মানুষের কাছে তাদের কাজকে শোভন করে তোলে। (সুরা আনফাল, আয়াত: ৪৮)পরে তওবা করব, এটাও ধোঁকা

    শয়তান মানুষকে শুধু পাপের দিকে টানে না, তওবা থেকেও দূরে রাখে। সে বলে, ‘এখন তো বয়স আছে।’ ‘আরেকটু জীবন উপভোগ করো।’ ‘পরে নামাজ শুরু করবে।’ ‘পরে ভালো হয়ে যাবে।’ কিন্তু মানুষের জীবনে সেই ‘পরে’ আসবে কি না, কেউ জানে না।

    আবার কেউ গুনাহ করে ফেললে শয়তান তাকে হতাশ করে। মনে করায়, ‘তুমি তো অনেক পাপ করেছ, তোমার আর ক্ষমা নেই।’

    এটিও তার বড় প্রতারণা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)

    প্রতারণাই তার প্রতিশ্রুতি

    দুনিয়ায় শয়তান মানুষকে অনেক কিছুর স্বপ্ন দেখায়। দুনিয়াটাকে সহজ থেকে সহজতর করে হাজির করে। সবই তার প্রতিশ্রুতির নামে প্রতারণা।

    আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তাদের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের মনে আশা জাগায়; কিন্তু শয়তানের প্রতিশ্রুতি তো প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১২০)

    দায় তাকেই নিতে হবে

    কেয়ামতের দিন শয়তান নিজের দায়মুক্তি ঘোষণা করবে। কিন্তু মানুষ নিজের আমল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, শয়তান যতই ডাকুক, আমি তার ডাকে সাড়া দেব না।

    মনে রাখতে হবে, আমার হিসাব আমাকেই দিতে হবে। নিজের কাজের দায় অন্যেরর ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ।’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮)

  • খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে দলিল লেখক, নকল নবিশ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তবে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    সদর দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি বাহাউদ্দীন বলেন, তন্ময় কুমার মণ্ডল প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে লাঞ্চে যান। আজও একই সময়ে লাঞ্চে যাওয়ার পর রেজিস্ট্রি অফিসের গেটের সামনে থেকে কে বা কারা তাকে রিকশায় করে তুলে নিয়ে গেছে বলে তারা শুনতে পান। পরপরই দলিল লেখক ও নকল নবিশরা পেছনে ছুটে যান। পরে জানতে পারেন রেজিস্ট্রি অফিসের পূর্বপাশের রাস্তা দিয়ে তন্ময় কুমার মণ্ডলকে নদীর ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

    বাহাউদ্দীন জানান, পথে এক নারী তাদের বলেন, দুইটি রিকশায় করে তন্ময়কে নিয়ে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে উঠানো হয়েছে। তাকে ছাড়াতে গেলে ওই নারীকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলেও তিনি জানান। তবে কে বা কারা তাকে নিয়ে গেছে এবং পরে কিভাবে তিনি ফিরে এসেছেন, তা তারা জানেন না।

    সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, তিনি নিজের কক্ষে ছিলেন। লাঞ্চের জন্য বাসায় যাওয়ার আগে ওয়াশরুমে গেলে বাইরে চেঁচামেচি শুনতে পান ‘স্যারকে নিয়ে গেছে, স্যার চলে গেছে।’ পরে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে পাওয়া যাচ্ছে না।

    খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: লোকমান হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করে জানানো হয়, সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর কে বা কারা নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলা এবং তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ফিরে আসেন। তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি ডকুমেন্ট দেখার জন্য তাকে আশপাশের একটি জায়গায় যেতে হয়েছিল। তিনি লাঞ্চের জন্য রিকশায় করে বের হওয়ার পর কয়েকজন তাকে সাথে করে নিয়ে যায়। পরে কোনো আঘাত না করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন।

    ওসি লোকমান হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, তিনি কোনো অস্ত্র দেখেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে কোনো অস্ত্র দেখতে পায়নি। তিনি বলেন, ঘটনাটি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, কিংবা আসলে কী ঘটেছে, তদন্তের পর তা বের করা হবে।

    সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, আমি সুস্থ শরীরে আপনাদের সামনে ফিরে এসেছি। কোনো রিকমেন্ডেশন বা নির্দিষ্ট কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। আমাকে বলা হয়েছিল, একটি ডকুমেন্ট দেখে দিতে, কেন বিষয়টি হচ্ছে না। ডকুমেন্টটি অন্য কোনো অফিসেরও হতে পারে। প্রথমে বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তাকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • নাটোরে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    নাটোরে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে সোহেল রানা (১৫) নামে এক তরুণকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া একই মামলায় অপর দুই আসামি রেজাউল করিম ও মুক্তার আলীকে খালাস দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে আসামিদের উপস্থিতে এ রায় ঘোষণা করেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা ৪র্থ আদালতের বিচারক মো: দেলোয়ার হোসেন।

    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু লালপুর উপজেলার পুরাতান ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা মুনসাদ আলীর ছেলে। আর খালাসপ্রাপ্ত দু’জন হলেন— লালপুর উপজেলার পুরাতান ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা মরহুম শামসের প্রামানিকের ছেলে রেজাউল করিম ও মরহুম মোকছেদ আলী প্রামানিকের ছেলে মুক্তার আলী।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পুরাতন ঈশ্বরদী মাঠে নিজের জমিতে বাবা মুকুল হোসেনের সাথে সকালে কলা গাছ রোপণ করতে যায় সোহেল ও তার ভাই সোহাগ। এ সময় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলী লাঠি, লোহার রড় নিয়ে তাদের জমিতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

    মোজাফফরের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয় সোহেল। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ ফেব্রুয়ারি সোহেলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহত সোহেল হোসেনের বাবা মুকুল হোসেন একই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি লালপুর থানায় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলীর নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেন। সোহেল রানা মারা যাওয়ার পরে এজাহারটি মামলা হিসেবে গণ্য করে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

    নাটোর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, আদালতের বিচারক দীর্ঘ দিন মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। জরিমানার অর্থ এক লাখ মামলা পরিচালনা বাবদ খরচ সরকারি কোষাগারে রেখে বাকি চার লাখ টাকা এজাহারকারীকে প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • ৭ অক্টোবরের উদযাপন করল ইসরাইল

    ৭ অক্টোবরের উদযাপন করল ইসরাইল

    ইসরাইল আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উদযাপন করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই হামলা দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী। দিবসটির তিন সপ্তাহ পরই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এবারই প্রথম হামলার বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। হামলায় নিহতদের স্মরণে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

    ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সীমান্ত ভেঙে দক্ষিণ ইসরাইলে ঢুকে গুলি, রকেট ও গ্রেনেড হামলা চালায়। সরকারি ইসরাইলি তথ্যের ভিত্তিতে বার্তাসংস্থা এএফপির হিসাবে, এতে এক হাজার ২২১ জন নিহত হন। ২৫১ জনকে পণবন্দী করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের ৪৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

    তিন বছর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে হামলা শুরু হয়েছিল। ঠিক ওই সময় গাজা সীমান্তের কাছে কিবুতজ কাফার আজায় স্মরণ অনুষ্ঠান হবে। হামলায় সেখানে ৬৪ জন বাসিন্দা নিহত এবং ১৮ জন অপহৃত হন।

    দক্ষিণ ইসরাইলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হামলায় ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ পণবন্দী হন। নিহতদের স্বজনেরা বুধবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের একটি পার্কে সমবেত হবেন।

    কড়া নিরাপত্তা
    সাধারণ নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে এবং তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হওয়ার এক সপ্তাহ পর এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে গাজায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার জন্য হামাসের সম্ভাব্য পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

    সোমবার রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের শাসন থাকবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত এবং পণবন্দী করার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

    হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে গাজার বেশিভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    গত তিন বছরে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত থেকে ইরান পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই করেছে দেশটি।

    গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। লাখ লাখ মানুষ এখনো তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় বসবাস করছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন নিয়েও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

    ইসরাইলের দাবি, তারা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। হামাসের হুমকি নির্মূল এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছে তারা।

    ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক হাজার ৪৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

  • বাংলাদেশের পারমাণু বিদ্যুৎ, আশা ও উদ্বেগ

    বাংলাদেশের পারমাণু বিদ্যুৎ, আশা ও উদ্বেগ

    দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকে ন্দ্রটি উৎপাদনে আনার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয়ে নির্মিত ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট ক্ষমতার এই রূপপুর প্রকল্প দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে বড় স্বস্তি এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যদিও কেন্দ্রটির ঠিক পাশেই বসবাসরত মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নানা শঙ্কা ও উদ্বেগ। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত বিশালাকার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি চুল্লি পুরোদমে চালু হলে তা হলে দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি সংকটে পড়া বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানান, ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই কেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু করার সূচি রয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি এর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে।

    বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বাকি চাহিদা পূরণ হয় কয়লা, তেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে।

    রুপপুর যেন আরেক রাশিয়া: রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় রূপপুরে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে একখণ্ড ‘রুশ বসতি’। বছরের পর বছর হাজার হাজার রুশ প্রকৌশলী ও কর্মী সেখানে অবস্থান করায় গ্রামীণ জনপদ রূপপুরের চিত্র পুরো পাল্টে গেছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি দোকানপাটের সাইনবোর্ডে জায়গা করে নিয়েছে রুশ ভাষা, এমনকি রেস্তোরাঁগুলোতে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি পরিবেশন করা হচ্ছে রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বোরশ স্যুপ। স্থানীয় তরুণরা সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং রুশ কর্মীদের সঙ্গে ভাব বিনিময়ও করছেন।

    প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী পারমাণবিক দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কঠোরতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের শঙ্কা: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন স্পর্শকাতর প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মাঝে ভয় এখনো কাটেনি। কেন্দ্রটির থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের হাঁটা দূরত্বের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মিলকর্মী মো. ইউনুস আলী জানান, কিছুদিন আগে বিকট শব্দে যখন একটি কম্প্রেসার পরীক্ষা চালানো হয়, তখন ঘুমন্ত শিশুরা পর্যন্ত ভয়ে জেগে ওঠে। তিনি বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের জন্য আর ভয় না থাকলেও সন্তান ও নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

    স্বপ্ন থেকে বাস্তবের পথে: রুপপুরে পারমানবিক কেন্দ্রের স্বপ্ন অনেক পুরোনো, এমনকি তা দেশের স্বাধীনতারও পূর্বের। রূপপুরে পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৬০-এর দশকে। স্বাধীনতার পর ফ্রান্স, সৌদি আরব, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে ২০১৫ সালে মস্কোর সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করে বাংলাদেশ, যার মূল ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া।

    ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্পটি বেশ কয়েক দফায় বিলম্বের মুখে পড়ে। এর মধ্যে করোনা মহামারির ধাক্কা এবং পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্মাণ সরঞ্জাম সরবরাহ ও অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া দারুণভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে, যদিও তারা সবসময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

    তবে নানামুখী শঙ্কা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও সাধারণ মানুষের প্রধান চাওয়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে সেচ দিতে হিমশিম খাওয়া ৫৫ বছর বয়সী কৃষক বেলী বেগম জানান, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র যেন দ্রুত চালু হয় এবং মানুষ এর সুফল পায়। বাড়ির পাশেই কেন্দ্রটি হওয়ায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত কোনো বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবেন তারা।

  • সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কাজ করছে একটি গোষ্ঠ: রিজভী

    সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কাজ করছে একটি গোষ্ঠ: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে ঝামেলায় ফেলার ও দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে, নাশকতামূলক কাজে জড়িত হচ্ছে। এ থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ পূর্ব বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

    ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হলে সবার প্রচেষ্টা প্রয়োজন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আগে থেকে সচেতন হওয়া গেলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে বাসার আশেপাশে পচা ও জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে করে ডেঙ্গু বাসা না বাঁধতে পারে। আগে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য টাকা নেওয়া হতো, এখন তা বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়েছে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার, কোনো ধরনের নৈরাজ্য অপরাধকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার।

    পুলিশের ভ্যান থেকে কীভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে পারে এ সময় বক্তব্যে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি সামরিক বিমান হারিয়েছে

    যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি সামরিক বিমান হারিয়েছে

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১টি সামরিক যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এতে দেশটির মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩০ কোটি (৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন) ডলার। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে। এ খবর প্রকাশ করেছে অনলাইন এনডিটিভি।

    ‘ইউএস এয়ারক্রাফট কমব্যাট ড্যামেজ ইন অপারেশন এপিক ফিউরি: কনসিডারেশনস ফর কংগ্রেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওয়াশিংটনের ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া সামরিক যানের তালিকায় দেশটির অত্যন্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও রয়েছে।

    প্রতিটি এফ-১৫ বিমানের বাজারমূল্য ৩ কোটি ডলারেরও বেশি, অন্যদিকে ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের প্রতিটির আনুমানিক দাম ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এছাড়া ধ্বংস হওয়া একেকটি এফ-৩৫এ স্টিলথ বিমানের মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

    প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন বাহিনী ১২টি এফ-১৫ই বিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান হারিয়েছে। এর মধ্যে গত ২রা মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজস্ব বাহিনীর ভুল নিশানায় (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-১৫ বিমান ভূপাতিত হয় এবং পরবর্তী মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়।

    এছাড়া গত ৯ ও ১০ই সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের বিমান হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়


    এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নজরদারি বিমান (যার প্রতিটির মূল্য ২৭ কোটি ডলার), দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশন বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ বহুমুখী ড্রোন এবং ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। সামরিক হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক মেরিটাইম হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

    প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযান চলমান থাকা এবং বেশ কিছু সামরিক তথ্য এখনো অত্যন্ত গোপনীয় থাকায় ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান পরবর্তীতে পরিবর্তন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু যান মেরামতের পর পুনরায় বহরে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এছাড়া কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ইরানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যয় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

  • ট্রাম্পকে ছাড়ছেন রিপাবলিকানরা

    ট্রাম্পকে ছাড়ছেন রিপাবলিকানরা

    আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন পন্থা বেছে নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৬২টি কংগ্রেসনাল আসনের মধ্যে ৪১টিতে থাকা রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত একটি বিষয়ে প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছেন কিংবা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আড়াল করছেন। রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।


    তবে ট্রাম্পের সামগ্রিক এজেন্ডার বিরোধিতা করছেন না তারা। বরং ইরান যুদ্ধ, গরুর মাংস আমদানি ও ডাটা সেন্টারের মতো নির্দিষ্ট ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি করছেন। লক্ষ্য, ট্রাম্পবিরোধী স্বতন্ত্র ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানা, আবার ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদেরও না হারানো।

    ইরান যুদ্ধেই বড় ফাটল
    ৬২টি নির্বাচনী লড়াইয়ের ২৩টিতে নীতিগত মতপার্থক্য দেখা গেছে। এর মধ্যে ১২টি আসনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। কেউ তার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, কেউ যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
    জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় ইরান যুদ্ধ এখন নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।


    রয়টার্স ১২ জন রিপাবলিকান প্রার্থীকে শনাক্ত করেছে, যারা নিজেদের প্রচার ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের নাম, ছবি বা সমর্থনের উল্লেখ সরিয়ে দিয়েছেন। কেউ তার সমাবেশ এড়িয়ে চলছেন, কেউ আবার ট্রাম্প তাদের হয়ে প্রচারে আসবেন কিনা -সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা অবশ্য বিরল। কারণ, রিপাবলিকান পার্টিতে এখনও তার প্রভাব ব্যাপক।

    রয়টার্স/ইপসোসের নতুন জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে, যা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সর্বনিম্ন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যবধান আরও বড়, ডেমোক্র্যাট ৩৭ শতাংশ, রিপাবলিকান ২১ শতাংশ।


    রিপাবলিকান কৌশলবিদ রন বনজাঁ বলেন, ভোটাররা যদি ট্রাম্পের সঙ্গে না থাকেন, তাহলে প্রার্থীদেরও কিছুটা দূরত্ব দেখাতে হবে। রিপাবলিকান পরামর্শক জিনেট হফম্যানের ভাষায়, এটা ভারসাম্য রক্ষার খেলা।


    ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্যকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তার কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন প্রার্থীরা, কারণ এই মুহূর্তে “ট্রাম্প ব্র্যান্ডটি অত্যন্ত বিষাক্ত”।

    তবে দূরত্ব যতই বাড়ুক, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার সাহস দেখাচ্ছেন না অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রার্থী। কারণ, দলের ওপর তার প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।

  • পরামর্শক ব্যয় কমিয়ে নিজস্ব জনবল কাজে লাগানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    পরামর্শক ব্যয় কমিয়ে নিজস্ব জনবল কাজে লাগানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    • বন্ড ছেড়ে টাকা তুলতে হবে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে
    • গাড়ি কেনার প্রস্তাব বাতিল

    উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক্ষেত্রে নিজস্ব দক্ষ কর্মীদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিকদের এমনটিই জানালেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। বললেন, রামপালে তৈরি হতে যাওয়া সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি যুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হলেও দ্রুত এটি সংশোধন করে ৮ ঘণ্টা যাতে বিদ্যুৎ স্টোরেজ করা যায়, সেজন্য ব্যাটারির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া বন্ড ছেড়ে এ প্রকল্পে খরচ তুলতে হবে। এতে কিছুটা খরচ বাড়লেও সেটি করা হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৭ টাকার কম।

    আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জোনায়েদ সাকি।

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. কামরুন্নাহার, ড. মঞ্জুর হোসেন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম মোছাদ্দেক।

    ‘সিটি করপোরেশনের চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই চলছিল। কাজেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই’— যোগ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি জানান, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জায়গায় সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর সুয়্যারেজ লাইন করতে গেলে দুই বছরের মধ্যে এসটিপি স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া রাস্তাঘাটসহ যেকোনো অবকাঠামো তৈরিতে মানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে যেকোনো সরকারি অবকাঠামো করতে হলে অন্তত তিন বছরের মধ্যে যদি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় ঠিকাদারকে নিতে হবে। প্রকল্পে সেরকম ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করার সময় সিটি করপোরেশনের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘একটি প্রকল্পে গাড়ি কেনার প্রস্তাব থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে’—উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। এর অংশ হিসেবেই ৩০ ইলেকট্রিক ইঞ্জিন কেনা হবে।

  • যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক বিশপের কারাদণ্ড

    যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক বিশপের কারাদণ্ড

    অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিশপ ক্রিস্টোফার সন্ডার্সকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ক্যাথলিক চার্চের দায়িত্বে থাকাকালীন দুই আদিবাসী তরুণকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের দায়ে এ দণ্ড দেয়া হয় তাকে। ৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা বিশ্বের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। বুধবার ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ সাজা ঘোষণা করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    গত আগস্টে আদালতের শুনানিতে সন্ডার্স একটি ধর্ষণ এবং ১২টি যৌন হয়রানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে গির্জার তহবিল ও নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবহার করে তিনি তরুণদের নিয়মিত মদ্যপান করাতেন এবং বিভিন্ন আয়োজনে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক যৌনাচার চালাতেন।
    ক্ষতিগ্রস্ত এক তরুণ আদালতে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘তিনি আমাকে একটি খেলনার মতো ব্যবহার করেছিলেন। আজও সেই দুঃসহ যন্ত্রণায় আমার মাথা ফেটে যায়।’ ১৯৭৬ সালে যাজক হিসেবে দায়িত্ব শুরু করা সন্ডার্স ১৯৯৬ সালে ব্রুম অঞ্চলের বিশপ নিযুক্ত হন।

    ২০২০ সালে প্রথম অভিযোগ ওঠার পর সন্ডার্স বিশপের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সে সময় পুলিশ প্রমাণাভাবে মামলাটি বন্ধ করে দিলেও পরবর্তী সময়ে স্বয়ং পোপের নির্দেশে ভ্যাটিকানের ‘ভোস এস্তিস লাক্স মুন্ডি’ (তোমরাই বিশ্বের আলো) বিধির অধীনে বিশেষ তদন্ত শুরু হলে পুলিশ নতুন করে অনুসন্ধান চালায়। রায় ঘোষণার পর পার্থের আর্চবিশপ টিমোথি কস্টেলো ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

    তিনি জানান, চার্চ সন্ডার্সের অবশিষ্ট ধর্মীয় খেতাব ও ক্ষমতা পুরোপুরি বাতিল করার বিষয়ে ভ্যাটিকানের কাছে সুপারিশ পাঠাবে। প্রয়াত কার্ডিনাল জর্জ পেলের পর সন্ডার্সই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্যাথলিক নেতা, যিনি এমন কলঙ্কজনক যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হলেন।

  • লবণাক্ত জমিতে তুলা চাষের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

    লবণাক্ত জমিতে তুলা চাষের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

    খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্তপ্রবণ এলাকা, খরাপ্রবণ অঞ্চল ও অন্যান্য কম ফসলি জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, তুলা উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

    বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িতে তুলা ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুধবার তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে হবে। যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্য উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেসব স্থানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। কম জমিতে বেশি উৎপাদন, উন্নতমানের পণ্য এবং উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে কৃষিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও বিনিয়োগে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য হতে হবে কার্যকর ও লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা।

    রঙিন তুলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড় তৈরিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে। পরিবেশবান্ধব ও রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা রয়েছে। এ ধরনের তুলার উৎপাদন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে নাকি বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

    তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণে বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবছর কত জমিতে আবাদ বাড়ানো হবে, কোন কোন এলাকায় নতুন করে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে এবং কতজন কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে, এসব তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনায় উল্লেখ থাকতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, তুলা চাষের জন্য খাদ্যশস্যের জমি ব্যবহার করা যাবে না। বরং চর, লবণাক্ত ও কম ফসলি জমিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তুলা চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে হলুদসহ অন্যান্য লাভজনক ফসলের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে।

    তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণে অর্থায়ন বড় বাধা হবে না উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি তুলা উৎপাদন ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সলিম খান। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ।

  • গুজরাটে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    গুজরাটে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরেন্দ্রনগর জেলায় পুলিশের তদন্তে ভয়াবহ এক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ধর্মীয়ভাবে পবিত্র করার অজুহাতে এক নারীর ওপর সংঘটিত চরম নির্যাতন, অবৈধ বন্দিদশা ও গণধর্ষণের ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জনসমক্ষে আসে। এ ঘটনা জানাজানির পর পুলিশ এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

    অনলাইনে একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক নারীকে আটকে রেখে হয়রানি ও মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। আর তাঁর চারপাশে ভিড় করা জনতা তাঁকে নিয়ে উপহাস করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী তাঁর স্বামীকে ছেড়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন। জবাবে তাঁর স্বামী এবং কয়েকজন আত্মীয় তাঁকে ঘরের ভেতরে তালা মেরে ও শিকল দিয়ে বেঁধে অবৈধভাবে আটকে রাখে। ওই নারী ঘর থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা তাঁর পিছু ধাওয়া করে তাঁকে ধরে ফেলেন এবং দড়ি দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

    অভিযোগ, ওই নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালান। এর মধ্যে ওই নারী এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাসের কারণে তাঁর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে অন্যদের সতর্কবার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেই আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    সুরেন্দ্রনগর জেলার পুলিশ সুপার প্রেমসুখ দেলু নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনাটি তদন্তের পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ, ভুক্তভোগী নারী শুরুতে থানায় আসেননি।

    প্রেমসুখ দেলু বলেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত তল্লাশি অভিযানে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে খুঁজে বের করেছে। তাঁর আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের কয়েকটি ধারায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে।

    ভয়াবহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, অপরাধে সহায়তা ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধের পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে আরও তদন্ত চলছে।

  • ফেসবুকে লিখে কি লিখেছিল:আবরার ফাহাদ

    ফেসবুকে লিখে কি লিখেছিল:আবরার ফাহাদ

    বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদ ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে বুয়েটের হলে ফিরেছিলেন। রাত ৮টায় তাকে শেরেবাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠায় তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুসারে, তার মোবাইল ফোন ঘেঁটে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস ও মতাদর্শের প্রমাণ পাওয়ার পর ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করে তারা। পরে চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে আরেক দফা নির্যাতন চালায় তার ওপর।

    রাতভর পৈশাচিক নির্যাতনে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন আবরার।

    কী ছিল আবরার ফাহাদের সেই ভারতবিরোধী স্ট্যাটাসে, যা তিনি শাহাদাতবরণের মাত্র দুইদিন আগে লিখেছিলেন?

    তিনি লিখেছিলেন, ’৪৭-এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিয়েছিল। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সেই মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

    আবরার ফাহাদ লিখেছিলেন, ‘কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না, সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দেব।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে, অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে, সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।’

    স্ট্যাটাসের শেষের দিকে তিনি লেখেন, ‘হয়তো এ সুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন—

    পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

    এ জীবন মন সকলি দাও,

    তার মত সুখ কোথাও কি আছে

    আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’

  • শান্তিতে নোবেল:আলোচনায় যেসব নাম

    শান্তিতে নোবেল:আলোচনায় যেসব নাম

    বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সংকটের মধ্যে শুক্রবার ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে শুক্রবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। তবে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তার আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন-সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে যেসব নাম সামনে আসে, সেগুলোর অনেকটাই মনোনয়নদাতা, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।

    শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালত, সাংবাদিক অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং এমনকি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নামও।

    রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ বছরের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে তার শান্তির আহ্বান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় এনেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ভূমিকার কারণে আইসিসি ও আইসিজির নামও আলোচনায় রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান- এ কারণে দুই আন্তর্জাতিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন কিছু বিশ্লেষক।

    অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে আলবানিজের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে তার প্রার্থিতা অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

    ট্রাম্পের নামও আলোচনায়

    এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তবে নোবেল কমিটি এসব মনোনয়ন নিশ্চিত করে না।

    রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করেছেন। তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্ক এ বছরের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো পরে তার নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এবার কমিটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না, যা পুরস্কারকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে যাবে- এ নিয়েও আলোচনা চলছে।

    আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমসে’র নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জন্য খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকদের এসব উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর পরিচালক হাকন গ্যেরলভের ২০২৬ সালের আলোচিত তালিকাতেও সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস’ রয়েছে।

    ইউক্রেনের মাইকোলা কুলেবা

    ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং তার সংগঠন ‘সেইভ ইউক্রেনে’র নামও আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধারে ও পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনে তার সংগঠন কাজ করেছে।

    পিআরআইও-এর তালিকায় কুলেবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনকে’ও রাখা হয়েছে। যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকারকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পক্ষে এটি একটি সম্ভাব্য বার্তা হতে পারে বলে পিআইআইও জানিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)।

    পিআরআইও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন- যা রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর একটি। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে সিপিজে-এর নাম আলোচনায় এসেছে।

    এবারের আলোচনায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নামগুলোর একটি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস)। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের যৌথভাবে পরিচালিত এই মহাকাশ স্টেশনকে পৃথিবীর বাইরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    পিআরআইও-এর পরিচালক গ্যেরলভের ২০২৬ সালের তালিকাতেও আইএসএস রয়েছে। তার যুক্তি, পৃথিবীতে ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়লেও মহাকাশে এই প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার নজির তৈরি করেছে।

    কেন এবার পুরস্কারটি গুরুত্বপূর্ণ?

    এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সময় বিশ্বজুড়ে একাধিক বড় সংঘাত চলছে। ইউক্রেন, সুদান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে।

    নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সচিব ক্রিস্তিয়ান বের্গ হারপভিকেন সম্প্রতি রয়টার্সকে বলেছেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে কমিটি গভীরভাবে নজর রাখছে। বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে এমন কিছু প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যা নোবেল শান্তি পুরস্কার যে মূল্যবোধকে ধারণ করে, সেগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান সময়ে যারা নতুন ধরনের সহযোগিতা ও শান্তির কাঠামো গড়ে তুলছেন, তাদের কাজও কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম বা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর বিষয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।

    শেষ মুহূর্তে কে, নাকি বড় চমক?

    নোবেল শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুমান করা কঠিন। অতীতেও এমন অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে, যাদের নাম ঘোষণার আগে আলোচনায় খুব বেশি ছিল না। এবারও তাই ট্রাম্প, পোপ লিও, আন্তর্জাতিক আদালত, ফ্রান্সেসকা আলবানিজ, সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস, মাইকোলা কুলেবা ও সেভ দ্যা চিলড্রেন, সিপিজে কিংবা আইএসএস- এসব নামের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    নোবেল কমিটি নিজেই বলছে, প্রকাশ্যে আসা সম্ভাব্য নামগুলোকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ২৮৭টি মনোনয়নের মধ্যে কমিটি কোন নামকে শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছে, তা জানা যাবে শুধু শুক্রবারের ঘোষণায়।

  • বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    ফসলি জমি

    মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী বাজারের মাছঘাটের পূর্ব পাশে সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড দিয়ে ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে মো. রাজিব শেখের বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধেশ্বরী বাজারের সরকারি খাল থেকে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাউৎভোগ ও গনাইসার এলাকার দুই ফসলি জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রাস্তার ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নিয়ে গিয়ে এসব জমি ভরাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিদ্ধেশ্বরী বাজার থেকে রাউৎভোগ ও গনাইসার সড়কের পাশে সাইজদ্দিন শেখের প্রায় ৬৯ শতাংশ ফসলি জমিসহ একাধিক জমি ভরাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া রাউৎভোগ গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় আমির আলী মিস্ত্রীর ফসলি জমিতেও একইভাবে বালু ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি বাল্কহেডে করে বালু এনে এসব জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার পরিচালনাকারী রাজিব শেখ বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফসলি জমি ভরাটের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে রাজিব শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার লড়াই

    ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার লড়াই

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন অপহৃত হওয়ার জেরে শুরু হওয়া ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ফলে বিধ্বস্ত হয়েছে গাজা। সেখানকার ২০ লাখ মানুষ চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এদিকে ইসরাইলিরা দিনটিতে শোক পালন করছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন সড়ক ও আশ্রয়কেন্দ্রে শোক পালন করেছেন ইসরাইলিরা। এ ছাড়া তিন বছর আগে হামাস যেখানে হামলা চালিয়েছিল, সেই সংগীত উৎসবের স্থানে শোক পালন করেছেন তারা।

    অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য বার্ষিকীটি নিয়ে এসেছে চরম দুর্দশা ও কষ্টের আরেকটি দিন। গাজায় ইসরাইলের পাল্টা অভিযানে সেখানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উপত্যকাটির ২০ লাখ মানুষের অধিকাংশই এখন অস্বাস্থ্যকর তাঁবুর নিচে বাস করছেন এবং উপত্যকার শহরগুলোর বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অঞ্চলটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে এবং প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

    এই অঞ্চলের জন্য দিনটি গত তিন বছরে ঘটে যাওয়া এক বিস্ময়কর পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের জেরে ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে। হামাসের সমর্থনে ২০২৩ সালে ইসরাইলে হামলা শুরু করেছিল হিজবুল্লাহ।

    এ ছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এমন এক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাতের পেছনে ইসরাইলের ভূমিকা ছিল এবং গাজা যুদ্ধ সম্ভবত এর পথ প্রশস্ত করেছিল।

    ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এই সরু ভূখণ্ডটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন; যাদের অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার শিকার। পণ্য ও ত্রাণ প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধের কারণে সেখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় তাদের পরিসংখ্যানে বেসামরিক নাগরিক ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করলেও জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিলেন নারী ও শিশু। হামাস-পরিচালিত সরকারের অংশ হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলেই মনে করেন।

    ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে তীব্র লড়াই থেমে গেলেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল দাবি করছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় ১ হাজার ১৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাতজন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

    হামাস ৭ অক্টোবরের হামলাকে ইসরাইলের কয়েক দশকের সামরিক দখলদারত্ব, ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ এবং বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন এখন আরও সুদূরপরাহত বলে মনে হচ্ছে।

    চলতি মাসের শেষের দিকে ইসরাইলে অনুষ্ঠেয় একটি বিতর্কিত নির্বাচন এবারের বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ প্রভাব ফেলছে। গত ৫ অক্টোবর দিবসটি উপলক্ষে ইসরাইলি সরকারের আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা হয়। এই পৃথক স্মরণসভাগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি এবং সেই দিনের ব্যর্থতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে তার অনীহা নিয়ে বিদ্যমান গভীর বিভাজনকেই নির্দেশ করে।

    এই হামলার ফলে ধারাবাহিক ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে। সিরিয়া ও লেবাননের বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরাইল, যার ফলে ৩ লাখেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিয়ে দুই দফায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর হামলা চালায়। এতে ইরান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহু দূরে অবস্থিত বিশ্ববাজারও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

    ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। সেখানে ইসরাইলের কট্টর-ডানপন্থি সরকার বসতি স্থাপনকারীদের আরও বেপরোয়া ও সাহসী করে তুলেছে, যারা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের সম্পত্তি ধ্বংস করছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

  • গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    ফরিদপুরের হাট-বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কুমড়ো ফুল। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা ফুল তুলে নিয়ে আসছেন বাজারে। প্রতি পিস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাশাপাশি কুমড়োও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০–৬০ টাকায়। ফলে একই গাছ থেকে সবজি ও ফুল—দুইভাবেই আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষক পরিবারের জন্য।

    কুমড়ো ফুল সাধারণত উষ্ণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো হয়। বাংলাদেশে শীতের শেষভাগ থেকে গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুর দিক পর্যন্ত কুমড়োর ফুলের উৎপাদন ভালো দেখা যায়।

    কুমড়ো ফুলের স্থায়িত্ব কম হলেও এর চাহিদা বেশি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকে, আর এই সময়েই বাজারজাত করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। শুধু আয়ের উৎস নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ এই ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্য আঁশ। গ্রামীণ রান্নায় ভাজি, বড়া কিংবা চচ্চড়ি—সবখানেই কুমড়ো ফুলের ব্যবহার জনপ্রিয়।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার গ্রামগুলোতে দেখা গেছে—বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা ফাঁকা জমিতে কুমড়ো চাষ হচ্ছে। কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, আবার কেউ ফুল বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুলছেন।

    স্থানীয় কৃষক হালিম মোল্লা বলেন, “সকালে ফুল তুলে বাজারে নিয়ে আসি। এখন প্রতি ফুল ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের শ্রমে কিছু বাড়তি টাকা পাওয়া যায়, যা সংসারের কাজে বেশ উপকার করে।” আরেক বিক্রেতা বিল্লাহ সেক জানান, “একই গাছ থেকে কুমড়ো বিক্রি হয়, আবার ফুলও বিক্রি করা যায়। তাই একই জমি থেকে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে।”

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী মনে করেন, আগে কুমড়ো শুধু সবজি হিসেবে উৎপাদন করা হলেও এখন ফুল বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। তার মতে, এটি ছোট হলেও কার্যকর একটি আয়ের উৎস, যা দিন দিন গ্রামীণ পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

    কুমড়ো ফুলের বাজারজাতকরণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কম খরচে চাষ, দ্রুত বিক্রি এবং ভালো দাম—সব মিলিয়ে কুমড়ো ফুল এখন কৃষকের কাছে শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বরং আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।

  • রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে মামলা

    রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে মামলা

    ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। মামলায় অন্য সংসদ সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ চলাকালে অনুমতি ছাড়া আকাশবাণী ভবন চত্বরে প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

    ঘটনা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের দিকে বিরোধী দলগুলোর মিছিল পুলিশ আটকে দেওয়ার পর ওই নেতারা অনুমতি ছাড়াই কার্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেছিলেন।

    এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাসঙ্গিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।’

    নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলীয় অন্তত ৩০০ এমপি সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে মিছিল করার এক দিন পরেই এই ঘটনা ঘটল। পুলিশ নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের বাইরে মিছিলটি আটকে দেয় এবং ২৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

    এই অচলাবস্থার পর রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ প্রায় ২০ জন বিরোধী নেতা নির্বাচন ভবনের পাশের আকাশবাণী ভবন চত্বরে যান এবং সেখানে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন।

    এরপর ওই নেতাদের আটক করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য রাহুল গান্ধীকে সেখান থেকে একটি বাসে তোলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী, দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং অন্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা হয় এবং জোরপূর্বক বাসে তোলা হয়।

    আটক নেতাদের কিংসওয়ে ক্যাম্পে নেওয়া হয় এবং রাত সোয়া ১০টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    আকাশবাণী ভবন চত্বরে অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলায় কোন কোন ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং অভিযোগে কাদের নাম রয়েছে—সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনা সম্পর্কে অবগত এক পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, পরে কিছু কংগ্রেস কর্মী ‘নিউ পুলিশ লাইনস’ এলাকায় পৌঁছান। তাদের বিরুদ্ধে ওই চত্বরের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে।

    নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর যে প্রচার কর্মসূচি চলছিল, মঙ্গলবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ ছিল তারই অংশ।

    বিজেপি এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিক্ষোভের সমালোচনা করেছে।

  • বদলে যাচ্ছে মোনালের কণ্ঠস্বর

    বদলে যাচ্ছে মোনালের কণ্ঠস্বর

    হিমালয়ের নীল-সবুজ পাহাড়, বরফঢাকা চূড়া আর নিস্তব্ধ অরণ্য- এই পরিবেশেই দেখা মেলে অপূর্ব সুন্দর এক পাখির। নাম হিমালয়ান মোনাল। পুরুষ মোনালের শরীরে সবুজ, নীল, তামাটে, বেগুনি ও কমলা রঙের ধাতব আভা। কিন্তু হিমালয়ের এই সৌন্দর্যের প্রতীক পাখিটিই এখন মানুষের তৈরি শব্দ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উত্তরাখণ্ডের গবেষকদের পাঁচ বছরের দুটি পৃথক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটন, অবকাঠামো নির্মাণ ও মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোনালের আবাসস্থল সংকুচিত করছে। শুধু তাই নয়, মানুষের যানবাহন ও পর্যটকদের কোলাহল এড়াতে পাখিটি তার ডাকের স্বরও সামান্য বদলে ফেলছে।

    মোনাল সাধারণত হিমালয়ের বনভূমির ওপরে অবস্থিত আলপাইন তৃণভূমিতে বিচরণ করে। ঋতুভেদে নিচের পাহাড়ি এলাকা থেকে উঁচু অঞ্চলে যাতায়াত করে পাখিটি। কিন্তু গবেষকদের মতে, এসব প্রাকৃতিক আবাসস্থলে মানুষের দখল বাড়ায় মোনালকে ক্রমেই পাহাড়ের আরও উঁচুতে উঠে যেতে হচ্ছে।

    ভারতের উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের হিমালয় অঞ্চলে মোনালের সম্ভাব্য আবাসস্থলের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন নিয়ে মডেল তৈরি করেন গবেষকেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা দেখেছেন, আগামী কয়েক দশকে পাখিটির উপযোগী আবাসস্থল আরও সংকুচিত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

    গবেষক রাজীব লোচনের জানান, তুষার গলার কারণে পাহাড়ের আরও ওপরের দিকে উদ্ভিদ জন্মাচ্ছে এবং সেসব এলাকা মোনালের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। একই সময়ে মানুষের দখলের কারণে নিচের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারাচ্ছে পাখিটি। ফলে দুই দিক থেকেই মোনালকে ওপরের দিকে সরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে পাখির দলগুলো ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে পড়তে পারে। এতে এক দলের সঙ্গে অন্য দলের প্রজননের সুযোগ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয়ভাবে মোনালের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

    শুধু ঠিকানা নয়, বদলাচ্ছে কণ্ঠও

    মোনালের ওপর মানুষের প্রভাবের আরেকটি চমকপ্রদ দিক উঠে এসেছে দ্বিতীয় গবেষণায়। গবেষকেরা উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মাস্ক ডিয়ার স্যাংচুয়ারির দুটি উপত্যকা- পর্যটকদের আনাগোনায় ব্যস্ত চোপতা এবং তুলনামূলক নিরিবিলি মাদমহেশ্বর- থেকে মোনালের ডাক রেকর্ড করেন।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর ধরে দুই এলাকায় ৭০০টির বেশি ডাক রেকর্ড করা হয়। পরে ডাকের কম্পাঙ্ক, দৈর্ঘ্য এবং আশপাশের শব্দের মাত্রা বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।

    ফলাফলে দেখা যায়, কোলাহলপূর্ণ এলাকায় থাকা মোনাল তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে থাকা মোনালের চেয়ে বেশি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ব্যস্ত চোপতা এলাকায় পাখিটির ডাকের স্থায়িত্বও কম ছিল।

    গবেষকদের ধারণা, যানবাহন ও পর্যটকদের পদচারণা থেকে তৈরি অপেক্ষাকৃত নিচু কম্পাঙ্কের শব্দের ওপর দিয়ে নিজের ডাক পৌঁছে দিতেই মোনাল এভাবে কণ্ঠের ব্যবহার সামান্য পরিবর্তন করছে।

    তবে গবেষক লোচন সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে মোনালের কণ্ঠে স্থায়ী বা বিবর্তনীয় পরিবর্তন ঘটেছে। বরং বিভিন্ন শব্দ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে পাখিটির আচরণগত নমনীয়তাই এতে ফুটে উঠেছে।

    পাখির ডাক শুধু শব্দ নয়; প্রজনন, সঙ্গী নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বীকে সতর্ক করা এবং নিজেদের অবস্থান জানানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে শব্দের পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব পাখিটির জীবনচক্রেও পড়তে পারে।

    ফ্লেম ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসি অধ্যাপক ও আইপিসিসির প্রতিবেদনে অবদান রাখা অঞ্জল প্রকাশ বলেন, কোনো পাখিকে পর্যটকদের যানবাহনের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডাকের স্বর বাড়াতে হলে কিংবা মানুষের দখলে তৃণভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ের আরও ওপরে উঠতে হলে তা হিমালয়ের জীবনের ওপর মানুষের চাপের গভীর প্রভাবই প্রকাশ করে।

    পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক বিশাল সিংয়ের প্রশ্ন, মোনালের মতো তুলনামূলকভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম একটি পাখিকে যদি তার ‘কণ্ঠ’ এবং ‘ঠিকানা’- দুটিই বদলাতে হয়, তাহলে আরও সংবেদনশীল প্রজাতিগুলোর কী অবস্থা?

    হিমালয়ের জন্য সতর্কবার্তা

    মোনাল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; গবেষকদের কাছে এটি উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কারণ পাখিটির আবাসস্থল তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ঋতুভেদে তাকে বিভিন্ন উচ্চতার অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, নগরায়ণ ও অবকাঠামো সম্প্রসারণকে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত এক দশকে নতুন সড়ক ও অবকাঠামোর কারণে হিমালয়ের অনেক প্রত্যন্ত এলাকা পর্যটকদের কাছে সহজলভ্য হয়েছে। বেড়েছে মানুষের আনাগোনা, যানবাহন ও বন্যপ্রাণীর ওপর চাপ।

    তবে গবেষকেরা এটিও বলেছেন, মোনালের কণ্ঠ পরিবর্তনের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

  • জ্ঞানেশ পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টি

    জ্ঞানেশ পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টি

    ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। কর্মসূচির বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

    দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর প্রতিবাদেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

    দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সৌরভ দাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। শুধু একজনের পদত্যাগকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখছে না দলটি। বরং নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে তারা।

    সৌরভ দাসের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি। ওই প্রক্রিয়ায় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

    ককরোচ জনতা পার্টির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা দায়িত্ব নিতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার মতে, একজন ব্যক্তির পদত্যাগে নির্বাচন ব্যবস্থার সংকটের সমাধান হবে না; প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার।

    ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে দেশের তরুণদের উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করে সৌরভ বলেন, ভোট চুরি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মতো অভিযোগ নিয়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    দলটির পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি ১০ অক্টোবরের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌরভ দাস বলেন, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

    কর্মসূচির আগে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলটির দাবি, যন্তর মন্তরের সমাবেশের বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

  • রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির রাজাপুরে উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার দু’জন হলেন—উপজেলা সদরের জালিয়াবাড়ি এলাকার মরহুম বাবুল হাওলাদারের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেল এবং দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকার মরহুম আব্দুল শুক্কুর হাওলাদারের ছেলে মো: কামাল হোসেন নয়ন (৩৩)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাসেল ও নয়নকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।

    রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রেফতার দু’জনকে বুধবার সকালে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িত থাকায় রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেয়। বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, আইন শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িত থাকায় রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেলকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ,আর

  • ১৫০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি

    ১৫০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি

    জম্মু-কাশ্মীরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আটক ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের সেখানে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    গত সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে ওই ১৫০ জনকে বাগডোগরায় আনা হয়। বিমানবন্দরে নামার পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    তবে ৭ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫০ বাংলাদেশিকে বাগডোগরায় আনা হয়েছে কি-না, কিংবা তাদের কেউ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত গেছেন কি না- এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

    জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ও পুলিশ কয়েক মাস ধরে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে।

    তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন দৈনিক মজুরির পেশায় যুক্ত ছিলেন অনেকে।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, পরিচয় যাচাইয়ের সময় শ্রমিকদের আধার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে বলা হয়। কয়েকজনের নথিতে অসঙ্গতি পাওয়ার পর তাদের জাতীয়তা নিয়ে বিস্তারিত যাচাই শুরু হয়। পরে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

    কাশ্মীরে শনাক্ত বাংলাদেশির সংখ্যা নিয়ে অবশ্য ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে জানিয়েছিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে জম্মু অঞ্চলে ৪৬ জন এবং কাশ্মীর উপত্যকায় ৪৫৮ জন।

    অন্যদিকে সাম্প্রতিক পুলিশি সমীক্ষায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশিকে শনাক্ত করার দাবি করা হয়েছে। গত ২৬ মে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নভলেকরের নেতৃত্বে জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যার পরিবর্তন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটিটি। এক বছরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

    এদিকে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রীনগরের পান্থা চক এলাকায় থাকা ১২টি অস্থায়ী ঘরকে বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী আটক শিবির হিসেবে ঘোষণা করেছে। পরিচয় ও জাতীয়তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

    জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা ব্যক্তিদের সেখানে অবস্থান করা আইনসঙ্গত নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কাশ্মীরে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেননি।

    এদিকে বাগডোগরায় নেওয়া ১৫০ বাংলাদেশির পরবর্তী গতিবিধি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা বিএসএফের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের ঠিক কবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

  • টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফ (২৩) ও একই গ্রামের আয়নালের ছেলে রুবেল (২৩)।

    শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার মো: রোকুনুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, মামলার বাদি পরিবারের অমতে তার প্রেমিককে বিয়ে করেন। তিনি বিগত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তার স্বামীর সাথে বাড়ির বাইরে দেখা করতে যান। আসামিরা তখন তার স্বামীকে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

    এ ঘটনার ছয় দিন পর ভিকটিম নিজেই বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। একই বছর ১৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

    বিচার শেষে আজ আসামিদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হারাধন চন্দ্র সিংহ। এ,আর

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এখন তুরস্কে

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এখন তুরস্কে

    তুরস্কের ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ অংশ নিতে তুরস্কে যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন জামায়াত আমির।

    এ সময় জামায়াত আমিরকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মো. মোবারক হোসাইন।

    ‘বাংলাদেশ ২.০-এর সংস্কারের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তুরস্ক–বাংলাদেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনটি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ (সিপিএসআর) যৌথভাবে আয়োজন করছে। সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

    তুরস্কে সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন এবং আগামী ১১ অক্টোবর সকালে দেশে ফিরবেন জামায়াত আমির।

  • ইরানই যুদ্ধে জয়ী: আইআরজিসি কমান্ডার

    ইরানই যুদ্ধে জয়ী: আইআরজিসি কমান্ডার

    যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান তাৎপর্যপূর্ণ কৌশলগত জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বন্দর আব্বাসে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এ দাবি করেন আইআরজিসির রাজনৈতিক উপকমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি। খবর বার্তা সংস্থা মেহেরের।

    ইয়াদুল্লাহ জাভানি বলেন, শত্রুপক্ষ এই ধারণা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল যে, তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধসিয়ে দিতে ও খণ্ড-বিখণ্ড করতে পারবে; কিন্তু তাদের সেই অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে।

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাভানি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে শত্রুপক্ষ ভেবেছিল যে, বিদ্যুৎগতিতে আক্রমণ ও তীব্র যুদ্ধের মাধ্যমে তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে পারবে। এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাঠামো অচল করে দিতে পারবে। ইরানকে টুকরো টুকরো করতে পারবে এবং দেশটির ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিতে পারবে; কিন্তু হিসাব-নিকাশে তারা বড় ধরনের ভুল করেছিল।

    তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু করেছিল; কিন্তু আজ বিশ্বের অনেকের স্বীকারোক্তি ও মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগের তুলনায় ইরান এখন আরও শক্তিশালী।’

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে জাভানি সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার পর শত্রুপক্ষের কৌশল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ এখন ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ পথ বেছে নিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, সমুদ্র ও আকাশপথে বিধিনিষেধ আরোপ এবং জনগণের মনোবল ও সহনশীলতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা।

    তিনি আরও যোগ করেন, গত চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানি জাতির ওপর এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছে, কিন্তু দেশটির মহান জাতি প্রমাণ করেছে যে তারা এ ধরনের চাপের মুখেও অবিচল ও দৃঢ়।

In English

English edition · Older English stories