শিরোনাম

  • ৪ মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন সচিব

    ৪ মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন সচিব

    সরকার চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব পদায়ন করেছে। এর মধ্যে তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত অতিরিক্ত সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) পদে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চুক্তিভিত্তিক সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) করা হয়েছে।

    এদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রাখা হয়েছে।

    এ ছাড়া পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহানকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

    আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তাকে পরবর্তী এক বছরের জন্য অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

  • বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানিসংকট: প্রধানমন্ত্রী

    বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানিসংকট: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের বিদ্যমান জ্বালানিসংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। ফলে, অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হয় বর্তমান জ্বালানিসংকট।

    আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানিসংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১০টি ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে প্রায় ৪৫০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি কূপ খনন শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমএসসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

    দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৫ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে ও ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া অফশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

    এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও দু-একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রস্তাবিত এসব ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব কামরুজ্জামান

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব কামরুজ্জামান

    মো. এহছানুল হককে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চুক্তিতে দায়িত্ব পালনকারী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এ দায়িত্ব পালন করবেন।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাকে এ নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তিনিও চুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তখন ম্যাচে লড়াই করাটাই কঠিন মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিনে বদলে গেল পুরো চিত্র। ব্যাট হাতে একাই যেন ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। আগের দিনই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেখানেই থামেননি হৃদয়। চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের ওপর আধিপত্য ধরে রেখে দলকে নিয়ে গেলেন প্রথম ইনিংসে লিডের পথে। যে মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, সেই মাঠেই গড়লেন নতুন ইতিহাস। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে অবিশ্বাস্য এক ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। ৪৫০ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।

    হৃদয়ের এই অবিশ্বাস্য ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জাকের আলী। পঞ্চম উইকেটে তার সঙ্গে হৃদয়ের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনে। মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন জাকেরÑ১৬৮ বলে ৯৪ রান করে থামেন তিনি।

    এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় জুটি গড়েন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে যোগ করেন ১৮৫ রান। সাইফউদ্দিনের অবদান ১৭১ বলে ৮৭। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করে স্বাগতিকরা। সেই বিশাল স্কোরের জবাব দিতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ ছিল ৩৭১/৬। সেখান থেকে শেষ দিনে হৃদয়ের ব্যাটে গল্পটাই বদলে গেল।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। এরপর পুলিশ, বিজিবি ও আনসান সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে কৃষকেরা জানতে পারেন, ওই দিন সার বিতরণের কথা নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ পুলিশ ও সোনাহাট ক্যাম্পের বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার বিতরণের আশ্বাসে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

    মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হয়রত আলী বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ৯০ বস্তা এমওপি সার উত্তোলন করেছি। বুধবার আমাদের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। হঠাৎ শতাধিক কৃষক বিক্ষুব্ধ আচরণ করলে প্রশাসনের সহায়তায় সার বিতরণ করা হয়।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, বুধবার রাকিবুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের দিন নির্ধারিত ছিল না। সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জনার্দন ট্রেডার্সে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণের কথা ছিল। তবে কৃষকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার বিতরণ করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন; ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তরের সুযোগ রেখেছে ইসি

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন; ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তরের সুযোগ রেখেছে ইসি

    ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এসব আবেদন ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ বুধবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। দেশের সকল উপজেলা/থানা ও রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাকে এই চিঠি পাঠানো হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন উপলক্ষে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দাখিল, ইস্যুকরণ ও দাখিলকৃত আবেদনগুলো নিষ্পত্তিকরণ সংক্রান্তে বিস্তারিত সময়সূচি নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করেছে।

    সময়সূচি অনুযায়ী- আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। দাখিলকৃত আবেদন ইস্যুকরণের শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর। আর আবেদন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, সময়সূচি অনুযায়ী স্থানান্তরের আবেদনসমূহ নিষ্পত্তিকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।

    পরে ইসি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য ইতোমধ্যে স্ব স্ব নির্বাচন অফিসে বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছে। এখন স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসির পক্ষ থেকে নতুন করে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ও নিষ্পত্তির জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হল। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসি। দেশে মোট ভোটার আছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে অবশ্যই তাকে সংশ্লিষ্ট এলাকার (সিটি/উপজেলা/ জেলা/ইউনিয়ন/পৌরসভার) ভোটার হতে হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণের আগে ভোটার স্থানান্তরের কাজ চলছে।

    চলতি মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বছর শেষে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ভোট শুরু হতে পারে।

  • কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কসাইখানায় প্রথম দফায় মেশিনের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতেও গবাদিপশুর মাংস প্রস্তুত করা হচ্ছে। শহরের অদূরে লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

    প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “এই কসাইখানায় প্রথমে ইসলাম ধর্মের রীতিতে সনাতন পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই করা হবে। পরে মাংস প্রস্তুত পর্যন্ত বাকি কার্যক্রম মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।”

    কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কসাইখানায় প্রথম পর্যায়ে মেশিন এবং সনাতন উভয় পদ্ধতিতেই মাংস প্রস্তুত করা হবে। আধুনিক মানের এই কসাইখানা চালুর মাধ্যমে একদিকে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধ হবে। পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময়ও সাশ্রয় হবে।

    অন্যদিকে ভোক্তারা পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত মাংস এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এ কসাইখানা চালু হলে শহরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

    প্রাণী সম্পদবিভিাগের কর্মকর্তাদের দাবী, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে আধুনিক এই কসাইখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেখানে–সেখানে পশু জবাই বন্ধ হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রোগবালাই আছে এমন গরু জবাই করা বন্ধ হবে। বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াকৃত মাংস খেতে পারবে জেলাবাসী। এছাড়া এখানে জবাই করা পশুর চামড়াও থাকবে নিখুঁত।

    অপরদিকে মেশিনে পশু জবাই করা ও হালাল মাংস প্রসঙ্গে হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, একটি হালাল পশুর খাবার অনেক সময় হারাম হয়ে যায়। আল্লাহর নামে জবাই করা ব্যতিত হালাল পশুর গোস্ত মুসলমানদের জন্য খাওয়া হারাম। তাই আল্লাহর নামে পশু জবাই হতে হবে।

    এছাড়াও হালাল প্রাণীর অনেক কিছু খাওয়া নিষিদ্ধ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী হালাল প্রাণীর ৮টি অংশ খাওয়া নিষেধ। এর মধ্যে

    ১. পুরুষ লিঙ্গ, ২. স্ত্রী লিঙ্গ, ৩. মুত্রথলি, ৪. মেরুদন্ডের ভেতরের মগজ বা সাদা রগ, ৫. পিত্ত, ৬. অন্ডকোষ, ৭. চামড়ার নিচের টিউমারের মতো উঁচু গোশত, ৮. প্রবাহিত রক্ত। তবে এগুলোর মধ্যে প্রবাহিত রক্ত অকাট্য হারাম, বাকিগুলো মাকরুহে তাহরিমি।

    আধুনিক কসাইখানায় পশুর মাংস প্রস্তুত হোক এতে কোন সমস্যা নেই। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করবেন এ দাবী জেলার হক্কানী উলামায়েকেরাম ও সচেতন মুসলিম সমাজের। এগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এ প্রত্যাশা জেলার সুশীল সমাজের।

  • মারধরের ঘটনার পর স্নিগ্ধা বললেন, এই শহর অনেক কিছু শিখিয়েছে

    মারধরের ঘটনার পর স্নিগ্ধা বললেন, এই শহর অনেক কিছু শিখিয়েছে

    নিজের জন্মদিনকে ‘নতুন এক জন্ম’ হিসেবে দেখছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে জীবনের কঠিন সময়, মানসিক যন্ত্রণা, মানুষের বিচার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরেছেন ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার এই অভিনেত্রী।

    স্নিগ্ধার কাছে জন্মদিন মানে শুধু জীবনের আরও একটি বছর পার হওয়া নয়। বরং এই দিনটি তার কাছে ফিরে দেখার সুযোগ—কোথা থেকে শুরু করেছিলেন, আর সময়ের সঙ্গে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নিগ্ধা লিখেছেন, ‘এই শহর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, অনেক কিছু দিয়েছে। তবে কোনোটাই সহজে দেয়নি। অনেক দরজা বন্ধ হয়েছে, অনেকবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে।’

    স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক

    গত জুলাইয়ে স্নিগ্ধার জীবনে নেমে আসে কঠিন সময়। তিনি মারধরের শিকার হন। এরপর কেটে যাওয়া প্রায় ৪০ দিনকে জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, এই সময়ে শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক যন্ত্রণা ছিল বেশি।

    চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও দূরে ছিলেন স্নিগ্ধা। এ সময় পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছেন সময়। নিজেকে সময় দিয়েছেন, কেঁদেছেন, ভেবেছেন এবং অনেকটা নীরব থেকেছেন।

    মানুষের দ্রুত বিচার করার প্রবণতা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। স্নিগ্ধার মতে, অনেকেই পুরো ঘটনা না জেনেই একজন মানুষকে ভালো কিংবা খারাপ হিসেবে বিচার করে ফেলেন। আবার কারও জীবনের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তকেও তার পুরো পরিচয় হিসেবে দেখেন অনেকে।

    স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক

    তবে এই কঠিন সময় তাকে ভেঙে দিতে পারেনি বলেই মনে করেন স্নিগ্ধা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘যারা ভেবেছিলেন আমি ভেঙে গেছি, হয়তো তারা শুধু আমার নীরবতাটা দেখেছিলেন। আমি জানি, আমি ভাঙিনি। আমি শুধু একটু থেমেছিলাম ক্লান্ত হয়ে। এবার আবার চলার পালা।’

    নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্নিগ্ধা আরও জানান, তিনি অনেক নারীর সামনের দিনের পথচলা সহজ করার চেষ্টা করেছেন। অন্যায়ের শিকার নারীদের হয়ে বিভিন্ন সময়ে কণ্ঠও তুলেছেন তিনি।

    জন্মদিনে সব কর্মজীবী নারীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি প্রত্যেক নারীর কর্মস্থল নিরাপদ হোক—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক

    সবশেষে কঠিন সময়ে নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্নিগ্ধা। তাদের ভালোবাসা তাকে নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে—ভালোবাসার শক্তি অনেক, আর সেই ভালোবাসা অনেক ক্ষতও সারিয়ে তুলতে পারে।

  • শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত রাবেয়া খাতুন উপজেলার নাদপাড়া যুব মিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি নাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কাতলা গাড়ি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: কবির উদ্দিন বিশ্বাসের স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলী মেম্বার জানান, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে আসার পথে বাঁশগ্রাম নামক স্থানে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

    এই ব্যাপারে শৈলকূপা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসরত অবস্থায় মোসা: রাবেয়া খাতুন নামে নাদপাড়া স্কুলের এক শিক্ষিকা মারা গেছে বলে শুনেছি।

  • সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সম্মানজনক ফিলিপস পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) ইন্তেকাল করেন।

    কাজিম রেজার বড় ভাই ও নয়া দিগন্তের সিনিয়র সাব এডিটর সৈয়দ মুসা রেজা জানিয়েছেন, আজ মাগরিবের নামাজের পর প্রেস ক্লাবে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাতে রাজধানীর বাসাবোর কদমতলায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানেই স্ত্রীর পাশে তাকে দাফন করা হবে।

    সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা কাজিম নুরী ও চাঁদপুরের প্রথম নারী শিক্ষিকা সৈয়দা সাইয়েদা বানু দম্পতির সন্তান। তার দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) কর্মরত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ধরন ও ব্যবহারে এসেছে এক আশঙ্কাজনক পরিবর্তন।

    ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি জেলাজুড়ে এখন মারাত্মকভাবে বেড়েছে ট্যাপেন্টাডলের মতো নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের বিস্তার।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অভিযান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও মাদকের এ রূপান্তরের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও, পরবর্তী এক বছরে শুধু ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৪৮৫টিতে। একই সময়ে বিজিবি ১০ হাজার৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার করেছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, উদ্ধার অভিযান ও নজরদারির কৌশলের ওপর মাদকের পরিমাণ নির্ভর করলেও, বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ও বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন জব্দ হওয়ার ঘটনাটি মাদকের নতুন এই প্রবণতাকেই সামনে আনছে।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘ট্যাপেন্টাডল’ ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু করায় ২০২০ সালে সরকার এটিকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে আইনের তফসিলে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে।

    অন্যদিকে, বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের শুরু থেকেই ‘ক’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে এসব ওষুধজাত নেশাদ্রব্য মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদক চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করছে। তবে এর বিস্তার এখন আর শুধু সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫,৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে—সীমান্ত পেরিয়ে পরিবহন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে জেলার অভ্যন্তরে।

    মাদকের এই নতুন রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। সম্প্রতি জীবননগরে এক সচেতনতামূলক সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সীমান্তে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

    মাদক দমনে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলী বলেন, ‘কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে একা এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।’

    চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানান, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। দ্রুত সাজা নিশ্চিত হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি আত্মসমর্পণের সুযোগও দেয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু জানান, ‘সামারি ট্রায়াল’ বা দ্রুত বিচার চালু থাকায় অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে।’

  • সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

    সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

    রিজভী বলেন, তারেক রহমান তখন রাজনীতিতে নবীন। তাকে বন্দি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যেন আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। এটি কোনো ছোটখাটো বা কেবল দেশীয় ষড়যন্ত্র ছিল না; বরং এটি ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের যৌথ বহিঃপ্রকাশ।

    তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, উৎপাদন, উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা এবং একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ঐতিহাসিক অর্জনের সফলতার পতাকাই বহন করছেন তারেক রহমান।

    অতীতের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ, লুটপাট, সহিংসতা, বিরোধী দল দমন, রক্তপাত, পত্রিকা ও রাজনৈতিক দল বন্ধ করে মানুষকে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন। সেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলার ও মুক্তকণ্ঠে আওয়াজ তোলার স্বাধীনতা পেয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই গণতন্ত্রের অর্জনেরই নিশ্চয়তা।

    তিনি বলেন, আল্লাহ যার সহায় এবং জনগণ যার পাশে থাকে, কোনো চক্রান্তই তাদের পরাস্ত করতে পারে না। সেদিন তারেক রহমানের ওপর শুধু মানসিক বা কারাবন্দিত্বের অত্যাচারই চালানো হয়নি, তাকে শারীরিকভাবেও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। সেই শারীরিক আঘাতের ক্ষত তিনি আজও বহন করে চলেছেন।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। শেখ হাসিনার ভয়ংকর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দরজা খোলার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে কিংবা অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে নিয়মিত সহানুভূতি ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনো চলছে। কিন্তু জনগণ দেখছে, তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিন-রাত শুধু ঘরে বসে বা ঘুমিয়ে থাকেননি। দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূরণ করে যাচ্ছেন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রুখে দিতে দেশীয় নানা চক্রান্ত সক্রিয় ছিল। কিন্তু জনগণ এবং মহান আল্লাহ সঙ্গে থাকলে কেউ যে ক্ষতি করতে পারে না, তা আজ প্রমাণিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে তারেক রহমান দেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের হাতে অত্যাচারিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং দেশ রক্ষার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন।

    হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে কিছু দৃশ্যমান কাজ দেখালেও বাকি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন, যা তার দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। অন্যদিকে, তারেক রহমান জনগণের টাকা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

    রিজভী বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

    তিনি বলেন, তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের জন্য যে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা ছাত্রসমাজসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।

    রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের শ্রদ্ধেয় বাবা ও মা যে দেশ গড়ার দূরদর্শী অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, তারেক রহমান আজ সেই আদর্শিক পথই অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

  • চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সনাতনী কৃষি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যমী কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর তার ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামের এক সমন্বিত কৃষি খামার। সেখানে ফল চাষের পাশাপাশি দুম্বা, ভেড়া, ছাগল ও গরুর ডেইরি খামার থাকলেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে ১০ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকা হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে এ চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে এখন ঝুলছে আট-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটি সদৃশ ভ্যানিলা ফল।

    কৃষক হুমায়ুন জানান, এ পর্যন্ত তার প্রায় নয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এ বছরই সা-আট লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এটি উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি প্রমাণ করেছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মূল্যায়ন
    উচ্চমূল্যের এই ফসলটি দেশে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপক চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। সঠিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে, যা বৈচিত্র্যময় কৃষিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।’

    হুমায়ুনের এমন বৈচিত্র্যময় সাফল্য স্থানীয় তরুণদের সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক ও আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

  • মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পিছনের মাঠে কৃষিকাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন শৌলখালী গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)।

    মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: হাবিবুল্লাহ জানান, নিহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কিছু আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • বাজে চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু নেতাদের মতো খারাপ নই: বিপ্লব

    বাজে চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু নেতাদের মতো খারাপ নই: বিপ্লব

    পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে তিনি সুস্থ আছেন। মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই ভিডিও বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি পোস্ট করে তাকে প্রয়াত বলে দাবি করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর অনুরাগীরা। পরে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় সুস্থ আছেন এবং তার মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    এরপর বিষয়টি নিয়ে নিজেই মুখ খোলেন অভিনেতা। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, আমি নাকি মারা গেছি। মারা তো যাবই। তবে ঈশ্বর যতদিন রেখেছেন, ততদিন থাকি। যে বা যিনি এই কাজ করেছেন, তিনি এটা বন্ধ করুন। চট করে সবাইকে মৃত বলে দেবেন না। শুধু আমার নয়, কারও সম্পর্কে এমনটা বলবেন না। বলার আগে একটু ভাববেন।’

    এ ধরনের গুজব ছড়ানোর ঘটনাকে ‘শিক্ষার অভাব’ বলেও মন্তব্য করেন বিপ্লব। তার কথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও তথ্য প্রকাশের আগে সেটি যাচাই করা উচিত।

    পরে নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে খানিকটা রসিকতা করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেক বদমায়েশের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছেন। অনেকেই আমাকে খারাপ লোক হিসেবে চেনে। তবে আমি রাজনৈতিক নেতাদের থেকে খারাপ নই।’

    ভুয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিনোদন জগতের একাধিক তারকাকে নিয়ে এমন গুজব ছড়িয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মিথ্যা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে নেতিবাচক ও খলচরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। তবে এবার নিজের মৃত্যুর গুজবের জবাব দিতে গিয়ে সেই খলনায়ক পরিচয়কেই মজার ছলে সামনে আনলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

  • স্পিকারের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    স্পিকারের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিস্তারে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর, রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীন সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক সামনে এগিয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সবসময় নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। ঐতিহাসিক এ সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েছে।

    স্পিকার বলেন, বিগত ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় গণতন্ত্রের পথযাত্রা সুগম হয়েছে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু সরকারকেন্দ্রিক সম্পর্ক ছিল।

    ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক নির্মাণে ভারত সরকার আগ্রহী। জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বিনির্মাণের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

    হাইকমিশনার ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নতুন পে স্কেলের গেজেট কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

    নতুন পে স্কেলের গেজেট কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

    প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এখন অপেক্ষা শুধু গেজেট জারির। নতুন বেতনকাঠামোসংক্রান্ত আদেশ আজ বুধবার অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

    নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব গণমাধ্যমে বলেন, অর্থ বিভাগ আজ অথবা আগামীকাল এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে। এরপর নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

    এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    পর্যালোচনা শেষে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমানের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পেয়েছে।

    অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

    নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমানো হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে নতুন বেতনস্কেলে তা ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

    ফলে নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।

  • কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ।

    সোমবার বিকালে শহরের আড়ুয়াপাড়ার দেবাশীষের বাসভবনে যান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন।

    এ সময় তিনি প্রয়াত সাংবাদিকের বাবার হাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এ সময় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী, কুষ্টিয়া কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুন্নবী বাবু ও প্রচার সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক দেবাশীষের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

    উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন উদীয়মান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

  • দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা দর্শনা পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনা এলাকায় এই তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযান সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তদারকি করার পাশাপাশি বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযানকালে লাইসেন্স না থাকা এবং অননুমোদিত রং ও ফ্লেভার ব্যবহারের অপরাধে মো: জামাল মিয়ার মালিকানাধীন ‘মেসার্স রিমি ফুড’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরবর্তীতে একই অপরাধের পাশাপাশি খাবারে শিল্প লবণ ব্যবহার ও চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ‘মুসলিম ফাস্ট ফুড অ্যান্ড বেকারি’-কে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। একই সাথে বেকারিগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে এই ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  র‍্যালী ও  আলোচনা সভা

    চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  র‍্যালী ও  আলোচনা সভা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছায় র‍্যালী আলোচনা সভা ও করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ লা সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ র‍্যালী ও আলোচনা সভা করা হয়। এর আগে দিবসটি পালনে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা মাঠে বৃক্ষরোপন করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পরে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম। সভায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান এবং পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    এছাড়াও বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আলীবুদ্দিন খান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এম এ মান্নান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আজগর আলী, পৌর কৃষকদলের আহবায়ক মিলন হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান, পৌর যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জসিম উদ্দীন, সদস্য সচিব ইমন হাসান রকি প্রমুখ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুল নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন।

  • সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এক বুলেটিনে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

    এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না: ভারতীয় হাইকমিশনার

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না: ভারতীয় হাইকমিশনার

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর যা ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) হয়, ওতে আমরা কিছু বলতে চাই না, আর আমাদের কোনো কথা বলা উচিতও না। কেন কি যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, যা দেশের ইলেক্টেড গভর্মেন্ট উইথ মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠসহ নির্বাচিত সরকার), যা ওরা ভালো বুঝবে যে লোকেদের জন্য কী ভালো, ওইটাই সত্যি কথা।’

    ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে তার অবস্থান ও দুই দেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ (জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক), ওইটা সব সময়… আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে একই জিনিস। আপনারও যা প্রতিনিধি ওখানে দিল্লিতে আছে, উনিও একটাই কথা চায় যে, পিপল-টু-পিপল কীভাবে আমরা…।’

    দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কারণে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ এ নেইবার (প্রতিবেশী হিসেবে), আর আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সব সময় বলি, উই আর ইকুয়াল (আমরা সমান), নো বডি ইজ বিগ (কেউ বড় না), নো বডি ইজ স্মল (কেউ ছোট না)।’

    ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু এখানটায় এসে শিখছি। মন্ত্রী মহোদয়ের… আমি ছিলাম অল্প, ৩০ মিনিট বোধহয়। এই ৩০ মিনিটে তো আমি অনেক শিখেছি। কেন কি উনার যা এক্সপেরিয়েন্স আছে, আর কেন? মানুষের জন্য, ঠিক তো? তাহলে এর কোনো শেষ নেই।’

    বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ প্রতিবন্ধকতাকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আর চ্যালেঞ্জেস (প্রতিবন্ধকতা) থাকবে। আমাদের এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কী ডেমোক্রেটিক চ্যালেঞ্জেস। বাংলাদেশকেও এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কী চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেসটা আমাদের মাথায় রেখে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

    অতীতে আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা যদি আমরা পাস্টে (অতীত) যদি আমরা আটকে যাই… পাস্ট আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’

    দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর এটাও আজকে কথা হলো যে, মানুষ-মানুষের জন্য ট্রেড, ফ্রি ট্রেড। কীভাবে আমরা দুই দেশে ফ্রি ট্রেড করতে পারি? ডিপেন্ডেন্সি কিংবা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি ফ্রি ট্রেড… উনি বললেন না, এটা ফ্রি ট্রেড। তাহলে এই নিয়েও কথা হয়েছে।’

    বৈঠকে উপস্থিত থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আজকে পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উনি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উনি নিজেও যেহেতু একজন পলিটিশিয়ান, উনি এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন ভারতের। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি এবং আমার মন্ত্রী আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।’

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি যে, চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত, এই আরকি। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যের মধ্যেই ছিল আরকি।’

  • রাফিনিয়া-ইয়ামালের জোড়া গোলে বার্সার দাপুটে জয়

    রাফিনিয়া-ইয়ামালের জোড়া গোলে বার্সার দাপুটে জয়

    রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল দুজনই জোড়া গোল করেছেন। তাদের নৈপুণ্যে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ গোলে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা।

    ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার বাড়ানো বল থেকে গোল করে রায়োকে এগিয়ে দেন সার্জিও কামেয়ো। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। ১৯ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান রাফিনিয়া। দুই মিনিট পর দারুণ এক গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল।

    মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই বার্সেলোনা এখন ১২ গোল করেছে।

    ম্যাচ শেষে কোচ হান্সি ফ্লিক বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিন পয়েন্ট। মৌসুমের শুরুটা আমাদের ভালো হয়েছে, আমরা এটাই চেয়েছিলাম। প্রথমার্ধে আমরা খুব ভালো খেলেছি। যা দেখেছি, তা আমার খুব ভালো লেগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হয়ে ওঠে, ভালোভাবে চাপ তৈরি করে এবং গোলও করে। তখন আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। তবে রায়ো প্রথম ও দ্বিতীয় গোল করার পর আমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি, তা ভালো ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছু মুহূর্তে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে। কারণ বল নিজেদের দখলে রেখে খেলাটাও আমাদের কৌশলের অংশ। বল নিজেদের কাছে থাকলে শক্তি পুনরুদ্ধার করাও সহজ হয়। শেষ পর্যন্ত এসব জায়গায় আমাদের আরও কিছুটা উন্নতি করতে হবে।’

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামালের প্রথমার্ধের দুর্দান্ত গোলটি ছিল ২০২৬-২৭ মৌসুমে তাঁর প্রথম। তবে সেটিই শেষ নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একবার জালের দেখা পান তিনি।

    ইয়ামালকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘সে সবসময় উন্নতি করতে চায় এবং সে তা পারেও। আমি তাকে নিয়ে খুবই খুশি। আজ সে যেভাবে খেলেছে, ফুটবল যেভাবে খেলেছে, তা দেখাটা অসাধারণ। আমার কাছে সে অবিশ্বাস্য এক পর্যায়ে রয়েছে।’

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে বসেন রায়োর ফ্লোরিয়ান লেজুন। এরপর কামেয়ো নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমালেও রাফিনিয়া ও ইয়ামালের আরও দুই গোলে শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

    প্রথম দুই ম্যাচে জয় না পাওয়া রায়ো শুরু থেকেই বার্সেলোনার ওপর আক্রমণাত্মক চাপ তৈরি করে। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার নিখুঁত পাস থেকে কামেয়োর গোলেই নু ক্যাম্পের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় তারা।

    চলতি মৌসুমে এটাই ছিল বার্সেলোনার হজম করা প্রথম গোল। তবে গোল খেয়েই দ্রুত জেগে ওঠে স্বাগতিকরা।

    রাফিনিয়ার শট সরাসরি রায়োর গোলরক্ষক দানি কার্দেনাসের হাতে জমা পড়ে। ইয়ামালও অল্পের জন্য গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ১৯ মিনিটে রাফিনিয়া রায়োর রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।

    এর মাত্র দুই মিনিট পরই ইয়ামাল নিজের প্রথম গোলটি করেন। বক্সের ভেতরে ঢুকে ওপরের কোণে দুর্দান্ত শটে বল পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন তিনি।

    ইংল্যান্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনও বার্সেলোনার হয়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন কার্দেনাস। এরপর মার্ক বার্নালের শটও ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন রায়োর গোলরক্ষক।

    গর্ডনকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই গর্ডনের অনেক গতি ছিল এবং বল পায়ে সে খুবই পরিষ্কার ছিল। গোলের আগে দুটি পাসেও সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের দলে তাকে পাওয়া, পাশাপাশি করিম, রাফা ও লামিনেকে পাওয়া—এই জায়গাগুলোতে আমাদের গতি বাড়িয়েছে। এটা ভালো বিষয়। আমি তাদের নিয়ে খুশি।’

    দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় বার্সেলোনার তৃতীয় গোল আসে কিছুটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে। বল নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন রায়োর লেজুন। এরপর বার্সেলোনার জুল কুন্দের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

    তবে রায়ো হাল ছাড়েনি। ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে উনাই লোপেসের কর্নার থেকে পায়ে বল লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন কামেয়ো।

    গর্ডন এরপরও রায়োর রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতে থাকেন। একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর, যার মধ্যে বক্সের ভেতরে ফেরমিন লোপেসের শট আটকে যাওয়াও ছিল, গর্ডনের দারুণ এক ব্যাকহিল পাস থেকে চতুর্থ গোলটি করেন রাফিনিয়া।

    নম্বর নয় পজিশনে রাফিনিয়ার খেলা নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই আমি তার কাছ থেকে এমনটাই আশা করি। সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়, বিশ্বমানের খেলোয়াড়। অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়াটাও তার জন্য ইতিবাচক বিষয়। এই মুহূর্তে সে ঠিক সেটাই দেখাচ্ছে, যা আমাদের তার কাছ থেকে প্রয়োজন।’

    শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও রায়ো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ম্যাচের শেষ মিনিটে করিম আদেয়েমির বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। তাতেই ৫-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা এবং মৌসুমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে আবারও লা লিগার শীর্ষে উঠে যায় তারা।

  • বিয়ের ৫ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশার

    বিয়ের ৫ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশার

    বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় র‍্যাপার বাদশা ও পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা। চলতি বছরের মার্চে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিলেন বাদশা ও ইশা। এরপর কয়েক মাস একসঙ্গে থাকার পর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া বিবৃতিতে বাদশা জানান, দুজনেই নিজেদের জীবনের পথ আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার জন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এই র‍্যাপার। একই সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে নতুন কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

    বাদশা আরও স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে এটিই একমাত্র বক্তব্য। ভবিষ্যতে বিচ্ছেদ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

    বাদশা ও ইশার সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এমন আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। জুলাই থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ইশা রিখি বাদশার সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়ে একটি মন্টাজ প্রকাশ করেন। পোস্টটির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি ঝড়ই এক একটি শিক্ষা। প্রতিটি প্রার্থনাই একটি আশা।’

    ক্যাপশনের সঙ্গে ভাঙা হৃদয় ও হাতজোড় করা ইমোজি থাকায় অনেকেই পোস্টটিকে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন। এরপর ইশার মা পুনম রিখির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টও আলোচনায় আসে। সেখানে তিনি ‘কর্মফল’ নিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এসব পোস্টও বাদশা-ইশার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।

    বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের কয়েক মাস আগেই বাদশার সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছিলেন ইশা রিখি। জুনে ইনস্টাগ্রামে আয়োজিত ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ পর্বে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। এদিকে ইশার পেশাগত জীবন নিয়েও সম্প্রতি আলোচনা চলছিল। সালমান খানের পরিচালনায় আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এর প্রতিযোগী হিসেবে তার নাম শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই সামনে এলো বাদশার সঙ্গে তার বিচ্ছেদের খবর।

    ইশা রিখির সঙ্গে বিয়ের আগে বাদশা জেসমিন মসিহের সঙ্গে সংসার করেছিলেন। ২০২০ সালে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। সাবেক এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেয় তাদের মেয়ে।

  • বিয়ে করেছেন মিষ্টি জান্নাত

    বিয়ে করেছেন মিষ্টি জান্নাত

    বিয়ে করেছেন চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘গট ম্যারিড’ লাইফ ইভেন্ট যুক্ত করেছেন তিনি। পরে গণমাধ্যমে নিজের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই অভিনেত্রী। মিষ্টি জানিয়েছেন, তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি মিডিয়ার সঙ্গেও তার কিছুটা সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে আপাতত স্বামীর নাম কিংবা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নন তিনি। বিয়ের সময়, স্থান ও স্বামীর পরিচয় জানতে চাইলে মিষ্টি জানান, এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাবে না। শুধু জানিয়েছেন, তাদের বিয়ে বাংলাদেশেই হয়েছে। মিষ্টির বিয়ে প্রেমের নাকি পারিবারিকভাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি প্রেমের বিয়ে। তবে কবে থেকে তাদের সম্পর্ক, কিংবা ঠিক কবে বিয়ে করেছেন, সেই তথ্যও আপাতত গোপন রাখতে চান অভিনেত্রী। এর কারণ হিসেবে মিষ্টি জানান, সব তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করে দিলে আর কোনো ‘সাসপেন্স’ থাকবে না। তাই আপাতত স্বামীর পরিচয় ও বিয়ের অন্যান্য তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মিষ্টি জানান, তাদের বিয়েটি হুট করে হয়নি। বরং অনেক আগেই বিয়ে করেছেন তারা। তবে ব্যক্তিগত কিছু কারণে এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।

  • যশোর কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি কবির হোসেন

    যশোর কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি কবির হোসেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন কবির হোসেন। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) রাত ৯টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    এর আগে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ মাসুম খান। তিনি চলতি বছরের মার্চ মাসে এ থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

    নতুন ওসি কবির হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এদিকে নতুন ওসিকে স্বাগত জানিয়ে থানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া এদিন রাতেই থানা চত্বরে এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

  • মৌসুমী পপিকে খোঁচা বাপ্পারাজ জয়ের

    মৌসুমী পপিকে খোঁচা বাপ্পারাজ জয়ের

    ঢাকাই সিনেমার সফল চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। নব্বইয়ের দশকের শেষে সিনেমায় আসেন। শূন্য দশকে পার করেছেন তুমুল ব্যস্ত সময়। দীর্ঘদিন অভিনয়ে নেই। আর অভিনয় করবেন না বলেও জানিয়েছেন। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু তার একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। ‘যতটুকু পাপ কামিয়েছি সব ধুয়ে-মুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’

    পপির এই মন্তব্যে কারও বুঝতে বাকি নেই, সিনেমায় অভিনয়কে ‘পাপ’ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। আর প্রসঙ্গটি নিয়ে পপিকে খোঁচা দিয়েছেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। গতকাল ফেসবুক পোস্টে জয় লেখেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, নায়িকা পপিও তা বললেন। এখন শাবনূর এবং পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো। অভিনয় যে একটা গুনাহর কাজ, এটা তারা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন- আপনারা তো ষোলো আনা বুঝে নিয়ে তারপর ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু আমরা যে কিছু না বুঝেই আপনাদের ভক্ত হয়ে ভুল করেছি এবং গুনাহ করেছি, আমাদের কী হবে তাহলে?’

    এদিকে পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেতা বাপ্পারাজ। তিনি লেখেন, ‘যখন ইনকাম করা হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয় আগে পাপ করেছি। ইবাদত সব সময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য নয়।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন স্ত্রী লিপা খাতুনও। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে নিজের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাসির উদ্দীন আলুকদিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

    এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

    দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, পৃথক এসব ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শিয়ালগাড়া (তরককামাল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাছগছি বাজার এলাকার নজরুল মিয়ার ছেলে লিমন (২৮) ও কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া এলাকার শাহীন আলমের ছেলে রুবেল (২৯)।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে সড়কের দুই পাশে দু’টি মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দুই আরোহী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়ায় নেয়ার পর শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরে তাদের বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

  • মক্কা প্যাক্টে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    মক্কা প্যাক্টে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    মক্কা প্যাক্টের ক্ষেত্রে সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি সময় নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    শামা ওবায়েদ ব‌লেন, ‘বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি আমরা অনুসরণ করে থাকি। এখানে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কি সুবিধা, জনগণের কি লাভ, সেটা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনো অফিসিয়ালি কিছু পাইনি। তবে এটা উন্মুক্ত আছে, দেখা যাক।’

    এর আগে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রাকে স্বাগত জানায় আইপিইউ।

    সংসদীয় গণতন্ত্রের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, তরুণ সংসদের উপস্থিতিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছে আইপিইউ।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামগুলোর সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

  • শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

    শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

    শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালবাসার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    একই সঙ্গে, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগের কথাও তিনি ভুলবেন না বলে উল্লেখ করেন।

  • কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আনন্দ র‌্যালী, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় পৌরসভা চত্বর থেকে র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শুরু হয়।

    এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্ছু মোল্লা, সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমীন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, আব্দুল মুয়িদ বাবলু, জয়নাল আবেদীন মুরাদ হোসেন প্রমুখ।

    পরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বড় বাজারে শেষ হয়।

  • হঠাৎ কেন বিটিভির লোগো বদলের সিদ্ধান্ত?

    হঠাৎ কেন বিটিভির লোগো বদলের সিদ্ধান্ত?

    বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি লোকসানের মুখে ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের আমলে রঙিন সম্প্রচার যুগে প্রবেশ করে বিটিভি। ওই বছরই শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের হাতে যুক্ত হয় বিটিভির রঙিন লোগো। ৪৬ বছরে চিরচেনা এই লোগোটি গেঁথে গেছে অনেকের হৃদয়ে। সেই লোগো কেন পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    গত রবিবার রাতে বিটিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়, ‘ফিরছে নতুন রূপে বিটিভি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোগো নির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অংশীদার হতে পারেন আপনিও। আপনার আইডিয়া অথবা লোগো ডিজাইন পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়—logo@btv.gov.bd। জমা দেওয়ার শেষ তারিখ : ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬।’ এ ঘোষণার পর সোশ্যালে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ কেউ বিটিভির অনুষ্ঠানের মান বাড়ানোরও তাগিদ দিচ্ছেন।

    বিষয়টি নিয়ে আগামীর সময় যোগাযোগ করে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিনের সঙ্গে। গত ৭ আগস্ট বিটিভিতে মহাপরিচালক পদে যোগ দিয়েছেন কাজী জেসিন। লোগো পরিবর্তনবিষয়ক যে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে, তার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। কাজী জেসিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়। তারা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    কাজী জেসিন মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত ২৫ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কাজী জেসিন বলেন, বিটিভিকে শুধু আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া নয়, বরং আরও আধুনিক, অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চান প্রধানমন্ত্রী।

    তবে কী লোগো পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বিটিভিকে নতুন রূপে সাজানোর কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে? কাজী জেসিনের ভাষ্য, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিটিভিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি দর্শক হারিয়েছে এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পরও বিটিভিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সূচনা হয়নি। অতীতে কোনো সরকার বিটিভিকে নিয়ে এতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তনে উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বিটিভিকেও নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    বিটিভির রঙিন লোগো অনুমোদন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার সময়েই দর্শকদের জন্য প্রথমবার রঙিন সম্প্রচারে যায় রাষ্ট্রীয় এই টেলিভিশনটি। ফাইল ছবি

    জিয়াউর রহমানের অনুমোদিত লোগো কেন হঠাৎ পরিবর্তন?

    ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন ডিআইটি ভবনের নিচতলায় বিটিভির যাত্রা শুরু হয়। এরপর সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের জন্মের পরের বছর যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ১৯৭৫ সালে ডিআইটি ভবন থেকে বিটিভিকে রামপুরায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৮০ সালে দর্শকদের রঙিন পর্দা উপহার দেওয়ার মাধ্যমে নতুন যুগে পদার্পণ করে বিটিভি। বর্তমানে চ্যানেলটির সম্প্রচার এইচডি (হাই ডেফিনিশন) এবং টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে।

    লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খ ম হারুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘মনে রাখতে হবে বর্তমান লোগোটিতে শিল্পী কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ারের হাতের স্পর্শ আছে। শিল্পী ইমদাদ হোসেন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বিটিভির লোগো নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮০ সালে বিটিভি যখন রঙিন যুগে প্রবেশ করে, তখন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আগের লোগোটিকে আবার নতুন রূপে অঙ্কিত করেন।’

    প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুমোদন করা লোগোটি বর্তমান বিএনপি সরকার কেন পরিবর্তন করতে চাইছে— এই প্রশ্ন তুলে খ ম হারুন বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন ১৯৮০ সালের ১ ডিসেম্বর রঙিন যুগে প্রবেশ করে। সেদিন রঙিন টেলিভিশন এবং মুস্তাফা মনোয়ার পরিকল্পিত বিটিভির রঙিন লোগো (১৯৭১-এর মূল লোগোর নতুন রূপ) উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এখন হঠাৎ লোগোটি পরিবর্তন করা কেন এত জরুরি হলো?’

    বিটিভির এখন কী কী করা উচিত, সে বিষয়ে কিছু পরামর্শও দেন এই টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, ‘এখন দরকার বিটিভির অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা এবং মেধাবী মানুষদের দিয়ে নতুন নতুন কনটেন্ট তৈরি করা। তথাকথিত অডিশন প্রথা বাতিল করে গুণী শিল্পীদের আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা; বিটিভির ত্রৈমাসিক অনুষ্ঠান পরিকল্পনা এবং সেই ভিত্তিতে টিভি গাইড পুনরায় প্রকাশের ব্যবস্থা করা; বিটিভির সব চ্যানেলের শূন্য পদ পূরণসহ সব স্তরে দুর্নীতিমুক্ত করা। নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং শিল্পী সম্মানী কাঠামো যুগোপযোগী করা।’

    এ ছাড়া টেলিভিশন সংযোগ ও টেলিভিশন সেটের ওপর আরোপিত লাইসেন্স ফির যথাযথ হিসাব রাখা, পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টিং অর্গানাইজেশন হিসেবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল না হওয়া এবং বিটিভির ওয়েবসাইটকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

    বিটিভির আয় ও ব্যয় কত?

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত করসহ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। গত ২২ জুন জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ তথ্য জানিয়েছিলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে তা উপস্থাপন করা হয়।

    সাবেক তথ্যমন্ত্রী জানান, ওই অর্থবছরে বিটিভির মোট আয়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন শাখা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা। একই সঙ্গে তিনি বিটিভির গত পাঁচ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন।

    মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ব্যয় ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ব্যয় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় দাঁড়ায় ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা, ব্যয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।

  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপন এবং ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই দলের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্যানে প্রথমে বৃক্ষরোপ করেন । পরে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্ত করেন।


    এসময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু প্রমুখ ছিলেন।

    মঙ্গলবার ভোরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির মধ্যে আছে বৃক্ষরোপন ও মৎস্য অবমুক্তকরণ এবং আলোচনা সভা।

    বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাস্পের উদ্বোধন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময়ে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ এবং মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।


    ১৯৭৮ সালেল ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠিত হয়। দলের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন জিয়াউর রহমান।

  • খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তবে এবারের দিনটি বিএনপির জন্য অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবার দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে দলটির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া। গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর পর এটিই বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তার অনুপস্থিতিতে দলের ভবিষ্যৎ পথচলার প্রশ্ন।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময় ধরে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থাকা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সংকট- সব পর্যায়েই বিএনপির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    তবে দলটির এই দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া। স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আশির দশকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপর প্রায় চার দশক দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থেকে বিএনপিকে পরিচালনা করেন তিনি।

    সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলেও বিএনপির নেতৃত্ব তার হাতেই ছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হলে আবারও সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি।

    তবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুধু ক্ষমতা ও নির্বাচনি সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতি, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তাকে যেতে হয়েছে। ২০০৭ সালের পর দেশের রাজনৈতিক সংকটের সময় থেকে মামলা ও কারাবাসের মুখোমুখি হন তিনি। ২০১৮ সালে ‘দুর্নীতির মামলায়’ সাজা হওয়ার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সীমিত হয়ে পড়ে। এসব মামলা ছিল তার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পলায়নের পর মুক্তি পেলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে আর ফিরতে পারেননি খালেদা জিয়া। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে।

    খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবহে তাই স্বাভাবিকভাবেই এসেছে আবেগের ছোঁয়া। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন শুধু চেয়ারপারসন নন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক ঐক্যের অন্যতম প্রধান প্রতীক। ফলে তার অনুপস্থিতিতে দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে নতুন করে।

    এ অবস্থায় বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর তার দেশে ফেরাকে ঘিরে দলটির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে বিএনপিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া, সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখাই এখন তার সামনে বড় দায়িত্ব বলে মনে করছেন দলটির সংশ্লিষ্টরা।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য একই সঙ্গে স্মরণ ও পুনর্গঠনের বার্তা দেওয়ার সুযোগ। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দর্শন এবং খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামকে ভিত্তি করে নতুন নেতৃত্বে দলটি কীভাবে এগিয়ে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অবর্তমানে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন ভারসাম্য তৈরি করা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের পথেই বিএনপির পথচলা। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, জাতীয়তাবাদ থাকবে, তত দিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

    প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলে থেকেও বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলটি দেশের রাজনীতিতে একটি স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছে। সেই দীর্ঘ পথচলায় জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠাকালীন ভূমিকার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অধ্যায়গুলোর একটি তৈরি হয়েছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে।

    এবার সেই নেত্রী নেই। আছে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। আর সেই উত্তরাধিকার সামনে রেখে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপি এখন নতুন অধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে। প্রতিষ্ঠার দিনটি তাই দলটির জন্য শুধু অতীতের গৌরব স্মরণের নয়, বরং খালেদা জিয়ার পরবর্তী বিএনপির রাজনৈতিক পথচলার দিকনির্দেশনা দেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

  • ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ঘুষ দাবির মুখে পড়েছিল একটি পরিবার। নিজের পাসপোর্ট করতেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদ। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের এই অপসংস্কৃতির প্রতিবাদ জানাতে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের একটি ওয়েবসাইট।

    শাহেদের তৈরি ওয়েবসাইটের নেপথ্যের কারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন- হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান (সবুজ) এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে তাদের নোটিশ দেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন।

    তিনি বলেন, কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা লিখিতভাবে জানাতে দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    ‘মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ দাবি, ক্ষোভে কিশোর শাহেদের ‘ঘুষ.সাইট’’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাহেদের বাবা ও প্রয়াত শিক্ষিকা আমিনা খাতুনের স্বামী শরীফুল ইসলামকে (শামীম) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ডাকা হয়। বেলা ১১টার দিকে তিনি সেখানে যান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

    শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর খুব দ্রুত কাজ হতে শুরু করেছে। আগের তৈরি নথিপত্র পরিবর্তন করে নতুন নথি প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। এটি করতে আরও কিছু সময় লাগবে। আশা করছি, দ্রুত আমাদের পাওনা পেয়ে যাব।’

    শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। শাহেদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়।

    তার মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।

    পরিবারের অভিযোগ, চাকরির ১৩ বছরের মাথায় আমিনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ভবিষ্য তহবিল) প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে। এরমধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৮ হাজার টাকা- সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

    এছাড়া কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্য ৮ লাখ টাকা পেতে শিক্ষা কার্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

    পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সরকারি পাওনা পেতে ঘুষের দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়েই শাহেদ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুষের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের ওয়েব সাইটটি।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জেলা প্রশাসন ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের আয়োজনে তিনি এ পরিদর্শনে আসেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সফরের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ের উন্নয়ন নিয়েও আগামী দিনে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও স্থানীয় লোকসংস্কৃতি সমৃদ্ধ উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।

    পরে রাষ্ট্রদূত মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় কান্তজিউ মন্দিরের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটা অলংকরণ এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ডা. ডিসি রায় রাষ্ট্রদূতকে মন্দিরের ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

    পরিদর্শন শেষে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

    এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও ও প্রটোকল কর্মকর্তা ক্লারিয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম হাবিবুল হাসান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাঝহারুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মিম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ ও কান্তনগর প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা সিহাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীদের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করা হয়। এ সময় মল্লিকা দাস ও তার সহযোগীরা ধর্মীয় পরিবেশনায় অতিথিদের স্বাগত জানান। পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক দলের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে অবস্থিত কান্তজিউ মন্দির দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। অষ্টাদশ শতকে নির্মিত এ মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা অলংকরণ বাংলার প্রাচীন শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

  • দীর্ঘ সংগ্রামের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

    দীর্ঘ সংগ্রামের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

    দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

    তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও তাঁর সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    সাক্ষাতে আন্দা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

    বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে আইপিইউ সেক্রেটারি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আইপিইউ আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

    তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আন্দা ফিলিপ। গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ তাঁদের উদ্যম ও আগ্রহের প্রশংসা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

  • চোট কাটিয়ে কাজে ফিরছেন রাশমিকা

    চোট কাটিয়ে কাজে ফিরছেন রাশমিকা

    চোটের কারণে প্রায় এক মাস অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর আবারও কাজে ফিরছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তার আসন্ন সিনেমা ‘মাইসা’র শুটিংয়ের সময় হিপে চোট পাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। এবার সুস্থ হয়ে শিগগিরই সেটে ফেরার খবর জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    বিরতির সময় বেশিরভাগ সময় বাড়িতে কাটিয়েছেন রাশমিকা। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে বিশ্রামে থাকার সময়ের কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ধর্মীয় রীতি পালন, পোষা কুকুরের সঙ্গে খেলা, ধাঁধা মেলানো কিংবা বাগানে সময় কাটানোর মুহূর্ত দেখা গেছে।

    এই অপ্রতাশিত ছুটিটা যে তিনি বেশ উপভোগ করেছেন, সেটিও জানিয়েছেন রাশমিকা। ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি শিগগিরই কাজে ফিরছি। কিন্তু সত্যি বলতে এই দিনগুলো আমি ভীষণ মিস করব’।

    চোট পাওয়ার আগে টানা কয়েকটি সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন রাশমিকা। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘মাইসা’। গন্ড উপজাতির পটভূমিতে নির্মিত এই ইমোশনাল অ্যাকশন থ্রিলারে রাশমিকাকে দেখা যাবে এক সাহসী উপজাতি নারীর চরিত্রে। সিনেমাটিতে তার চরিত্রটি আগের কাজগুলোর তুলনায় বেশ আলাদা।

  • দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি রেকর্ডিয় রাস্তা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদার বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝ বরাবর সরকারি রাস্তা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো: সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রামিম প্যাদা এবং শাহজাহান প্যাদার স্ত্রী ডেইজি বেগম সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি রাস্তার ওপর দেয়া বাঁশের বেড়া অপসারণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বিবাদী শাহজাহান প্যাদাকে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

    অভিযুক্ত শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই আমি রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। আমি অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের হাঁটার রাস্তার ব্যবস্থা করব, কিন্তু ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেবো না।’

    উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণ না করা হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

    সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে নিহত অটোচালকের বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

    এ সময় নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়ে মা আসমা বেগম ও স্ত্রী ফেরদৌসি আক্তারের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬ হাজার টাকার চেক ও চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন ইউএনও।

    সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, ছাত্রদলের সদস্য সচিব সিহাব উদ্দিন শান্ত প্রমুখ।

    ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন। তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।

    উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর ভোগা বসন্তপুর রাস্তার পাশ থেকে অটোচালক আনোয়ার হোসেনের হাত-পা ও মুখ বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

  • ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তোলা হয় ব্যবসায়ীকে, ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর রাস্তায় নিক্ষেপ

    ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তোলা হয় ব্যবসায়ীকে, ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর রাস্তায় নিক্ষেপ

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার দুপুরের দিকে চরহাজারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা এ সময় ওই ব্যাংক এজেন্টকে অস্ত্রের মুখে হাতকড়া পরিয়ে ছিনতাই করে।

    ভুক্তভোগী ব্যাংক এজেন্টের নাম আবদুর রহমান। তিনি ইসলামী ব্যাংক আবু মদিনা আউটলেট এজেন্ট শাখার ইনচার্জ ও এজেন্ট ব্যবসায়ী। আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে তিনি ব্যাংক শাখা থেকে ক্যাশ ১২ লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। চরহাজারী ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একটি প্রাইভেট কারে পাঁচজনের একদল দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে।

    আবদুর রহমানের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দেয়। এরপর তাঁর কাছে মাদক রয়েছে বলে দাবি করে তারা। একপর্যায়ে তাঁর গায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে জোর করে গাড়িতে তোলে। গাড়ির ভেতর তাঁর চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর অস্ত্রের মুখে ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। টাকা ছিনতাইয়ের পর কবিরহাট উপজেলার নবীর দোকানের পাশে একটি স্থানে তাঁকে হাত-চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

    ‍স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবদুর রহমান সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় কালো জ্যাকেট ও সাধারণ পোশাক পরা পাঁচজন তাঁকে ঘিরে ধরে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁরা জানতে পারেন, আবদুর রহমান ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে তখনো পর্যন্ত লিখিত এজাহার বা আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন, ২০২৮ থেকে একযোগে নতুন ভাতা

    তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন, ২০২৮ থেকে একযোগে নতুন ভাতা

    সব সরকারি চাকরিজীবী পাবেন মোবাইল ভাতা, পেনশনে বড় পরিবর্তন

    নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন। এত দিন নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সুবিধা পেতেন। একই সঙ্গে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের নিট পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    তবে নতুন বেতন কাঠামোর সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

    সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন স্কেলটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

    সবার জন্য মোবাইল ভাতা
    নতুন বেতন কাঠামোর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো। নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম-সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এ ভাতা পাবেন।

    এত দিন ৫ম গ্রেড পর্যন্ত নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। সরকারি দপ্তরগুলোতে ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কাজ বাড়ায় প্রায় সব পর্যায়ের কর্মচারীকেই ব্যক্তিগত মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে।

    কম পেনশন যাদের, বাড়বে তাদের বেশি
    নতুন বেতন কাঠামোয় পুরোনো পেনশনারদের জন্যও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) এখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি এবং এর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    এর আগে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পেনশন বাড়ানোর নতুন ফর্মুলা অনুমোদন করা হয়েছে। এতে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা বেশি হারে সুবিধা পাবেন।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
    ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ।
    ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ।
    ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ।
    ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬০ শতাংশ।
    ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ।

    ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসর নেওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা এ সিদ্ধান্তে বেশি সুবিধা পাবেন।

    মূল বেতন বাড়বে তিন ধাপে
    জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

    সরকারের হিসাবে, নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।

    তবে পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অন্যতম কারণ একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।

    প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা
    নতুন বেতনস্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য একজন সরকারি কর্মচারী মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অতিরিক্ত পরিচর্যা ও পরিবারের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
    নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

    সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন।

    এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ ব্যয়ের সংস্থান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • নতুন বেতন কাঠামো: কোন গ্রেডে কত বেতন হচ্ছে

    নতুন বেতন কাঠামো: কোন গ্রেডে কত বেতন হচ্ছে

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে শেষে বৈঠকে উপস্থিত একজন সচিব প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান। কিছুক্ষণ পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। নিচের বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

    এই বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা

    এর আগে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

    কমিটি দুই ধাপে বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নের কথা বলেছিল। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে বলে আলোচনা ছিল। সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষক উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

    তার আগে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল গত জানুয়ারিতে। ওই কমিশন বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

  • যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পলাশ কুমার মণ্ডলের মুরগির খামারে তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি আছে। খামারে তিনি ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই ডিভাইসের মাধ্যমে তিনি খামারে না গিয়েও তাপমাত্রা, পানি, বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতি মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে একজন শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। উৎপাদন খরচ প্রতি মাসে কমেছে ১৪–১৫ হাজার টাকা।

    পলাশ কুমার যশোরের অভয়নগরের বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির পাশে জমি ইজারা নিয়ে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের লক্ষ্যে শেড নির্মাণ করেন। সেখানে তিন বছর ধরে ব্রয়লার মুরগি পালন করছেন। কিন্তু তাঁর জন্য এটা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। নিজের শ্রমঘণ্টা বেশি ব্যয় হচ্ছিল। যে কারণে তিনি তাঁর মৎস্য চাষে বেশি মনোনিবেশ করতে পারতেন না। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন কর্মীকে বেতন দিয়ে খামারে নিয়োজিত রাখতে হতো। ছয় মাস আগে তিনি খামারে আইওটি ডিভাইস সংযোজন করেছেন। এতে তাঁর নিজের কর্মঘণ্টা যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি একজন কর্মীর আর প্রয়োজন হচ্ছে না।

    পলাশ কুমার বলেন, ‘ছয় মাস আগেও আমার খামারে অতিরিক্ত একজন কর্মী রাখা লাগত। তাঁর বেতন দিতে হতো প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা। আইওটি ডিভাইস স্থাপনের পর থেকে বিদ্যুৎ বিল আসছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক খরচ কমেছে।’

    পলাশ কুমারের স্ত্রী বিথী মণ্ডল বেসরকারি সংস্থা নবলোক পরিষদের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির একটি সমিতির সদস্য। সংস্থাটি বিনা মূল্যে পলাশের খামারে ডিভাইসটি স্থাপন করে দিয়েছে। এ ডিভাইসের কারণে এলাকায় প্রান্তিক পোলট্রি খামারিদের কাছে পলাশ কুমার মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    সম্প্রতি বাগুটিয়া গ্রামে পলাশ কুমারের মুরগির খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতরে কিছু দূর পরপর পানির পাত্র ঝোলানো। সেই পাত্রের সঙ্গে পাইপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে ছাদের ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা। পাশে আইওটি ডিভাইস স্থাপন করা। সেই ডিভাইসের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া আছে। সেই সংযোগের মাধ্যমে মুঠোফোন থেকে অ্যাপসের সাহায্যে পলাশ কুমার খামার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

    বাগুটিয়া গ্রামের খামারি ফয়সাল সরদার এবং বিবাগদী গ্রামের মোহাম্মদ আনারুল মোল্লা আইওটি ডিভাইস সম্পর্কে পলাশ কুমারের কাছ থেকে ধারণা নিতে এসেছেন। ফয়সাল সরদার বলেন, আইওটি খরচ সাশ্রয়ের তেমনই একটি প্রযুক্তি। তবে এর জন্য সরকারকে বিনা মূল্যে বা কম খরচে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে।

    নবলোক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সদস্যদের মধ্য থেকে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের তিনজন উদ্যোক্তাকে প্রণোদনা হিসেবে আইওটি পোলট্রি প্রযুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পলাশ একজন।

    নবলোক পরিষদের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রসূন বিশ্বাস বলেন, পিকেএসএফের (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন) আর্থিক সহায়তায় এ প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রযুক্তিটির মধ্যে একটি সফটওয়্যার ডিভাইস, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। এই প্রযুক্তি স্থাপনে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

    স্থানীয় মুরগির খামারিদের ভাষ্য, সরকারকে প্রান্তিক খামারিদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে এ প্রযুক্তি সরবরাহ করতে হবে।

    অভয়নগরে ডিমপাড়া মুরগি ও মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির ৩০০টির বেশি খামার আছে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র পলাশ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এতে তিনি ভালোই ফল পাচ্ছেন।

  • রংপুরে ৪ খুন

    রংপুরে ৪ খুন

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

    তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    রংপুরে ৪ খুন / সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই: পুলিশ

    পরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’

    চার খুনে দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

    তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।’

    এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

    এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।

  • এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা

    এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টেকসই ও নিরাপত্তার জন্য সারাবিশ্বেই আইফোন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সেই বিলাসী শখ পূরণের অন্ধ মোহে এক বাবা তার নিজের দেড় বছরের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সেই টাকা দিয়ে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স কিনেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে।

    অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। এ ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আটক করা হয় শিশুটির বাবাকে।

    সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবা আটক

    মারুফ জানায়, ‘তিনি আইফোন-১৩ প্রো-ম্যাক্স মডেলের ব্যবহৃত ফোনটি একই এলাকার ইমরান নামের এক যুবকের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় কেনেছেন। ফোন কেনার পর অবশিষ্ট ৪৫ হাজার টাকা তিনি নিজের দেনা পরিশোধসহ অন্যান্য কাজে খরচ করে ফেলেছেন।’

    আলোচিত দেড় বছরের শিশু মুসার সুরক্ষার এগিয়ে এলেন ইউএনও

    এদিকে সন্তানকে বিক্রি করে আইফোন কেনার মতো চরম অনৈতিক কাজ করলেও তার মনে বিন্দুমাত্র অনুতাপ দেখা যায়নি। বরং নতুন আইফোন হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

    এর আগে, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে ছেলে মুসাকে ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলে বের হন। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও তারা না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মারুফ তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় তিনি মুসাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি আইফোন কিনেছেন।

    ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে অতি দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। এরপর রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ১০টার দিকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেয় পুলিশ।

    এ ঘটনার পর শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মে. মাহমুদ হাসান। শিশু মুসার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া সহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    আলোচিত এ মামলায় গত ২৪ আগস্ট শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, মামলাটিতে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেন।

    সোমবার নির্ধারিত দিনে আদালত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া। ওই রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। নিহত শিশুর বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে হত্যারও চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

    গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়।

    একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

    শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

    ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী এ মামলার নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে আজ প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।

  • পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ট্রানজিশন পিয়ার বা সংযোগস্থলের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির একটি বাস উল্টে আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে সেতুর সংযোগস্থলের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিটের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে যে, লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে একটি বাস উল্টে গেছে। ঢাকামুখী নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেস নামে বাসটি মাগুরা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।

    তিনি আরো জানান, সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দু’টি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে থাকা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

    আহতরা হলেন— মাগুরা সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০), মো: লুৎফর (৬৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদা উপজেলার নূর ইসলাম (৪৬), রশিদা (৪০), মাগুরা মোহাম্মদপুরের ফাতেমা (৭), মাগুরা শ্রীপুরের সাইফ (২৩) ও ফরিদপুরের মধুখালি এলাকার মো: আরাফাত (১৩)।

    পদ্মা সেতুর উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আক্তার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গ্রিন এক্সপ্রেস বাসটি পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুতে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা আট-নয়জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জেলায় ব্যাপকভাবে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে গত ১২ দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫৫৬ জন শিশু, যার বড় একটি অংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একসাথে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০টিরও বেশি শিশু। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও গলিপথে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

    এদিকে, কেবল ইনডোরই নয়, আউটডোরেও রোগীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকরা জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও মাত্র দু’জন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক এ শিশুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

    হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনদের পদচারণায় চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মেঝেই ভরসা হয়ে উঠেছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের।

    চার মাস বয়সী শিশু জাবেরের স্বজনরা জানায়, বাড়িতে চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। একই অভিজ্ঞতা জীবননগর থেকে আসা এক মাসের শিশু রায়হানের বাবারও।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টির তারতম্য ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের মাত্র ২২টি বেড থাকলেও রোগী আসছে বহুগুণ। সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।’

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    এ সময়ে শিশুদের ঘাম বসতে না দেয়া, ধুলাবালি থেকে দূরে রাখা ও অতিরিক্ত গরমে সাবধানে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

    শিশুর দ্রুত শ্বাস নেয়া, বুক দেবে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    একইসাথে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর কথা বলেছেন চিকিৎসকরা।

  • পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামে পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ বন্ধু নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদরের পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।

    নিহতরা হলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাকুয়াবাড়ি গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে হিরা মিয়া (২৮) ও রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব মনশ্বর গ্রামের মিজানুর রহমান মজনুর ছেলে সফিউর রহমান শুভ (২৩)।

    নিহতদের স্বজনদের বরাতে ওসি কামাল জানান, কলেজের পরীক্ষা শেষে হিরা ও সফিউরসহ নয় বন্ধু তিন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

    তিনি আরও বলেন, আহতদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে হিরা ও সফিউরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে হিরার মৃত্যু হয় এবং শুভকে ডক্টরস ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

  • চৌগাছায় জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত


    চৌগাছা, (যশোর ) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের ইউনিট সভাপতি ও সেক্রেটারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে চৌগাছা কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে এ সম্মেলন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক শামসুজ্জামান। বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারী সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাস্টার কামাল আহমেদ, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক,সেক্রেটারী ডা.জিল্লুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন,দেশের সকল মানুষের নিকট জামায়াতের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। সাথে সাথে জনগণকে এ কথা বলতে হবে যে, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সততা ও দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।সম্মেলনে উপজেলার প্রায় তিনশো ইউনিটের সভাপতি সেক্রেটারী যোগদান করেন।

  • ৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে পালাচ্ছিল তিনজন, পিছু নিলেন ভুক্তভোগী—যা হলো

    ৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে পালাচ্ছিল তিনজন, পিছু নিলেন ভুক্তভোগী—যা হলো

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ব্যাংক থেকে ৩৮ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী তাঁর টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।

    ভুক্তভোগী তৎক্ষণাৎ ছিনতাইকারীদের পিছু নেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে এক ছিনতাইকারী রাস্তায় ছিটকে পড়েন। তখন স্থানীয় লোকজন তাঁকে একটি রিভলবার, চারটি গুলিসহ আটক করেন।

    গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি লেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে জড়িত আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

    আজ সোমবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে এ ঘটনার কথা জানা গেছে। জাতীয় জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার পর এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক ব্যক্তিকে একটি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর নাম তানভীর আবেদীন (৪১)।

    পরে ধানমন্ডি থানার পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তানভীরকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে এই ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত মো. মজবুর রহমান (৬০) ও মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়।

  • ‘জনবান্ধব কাজ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর’- বিমানমন্ত্রী

    ‘জনবান্ধব কাজ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর’- বিমানমন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, জনগণের উন্নয়ন ও জনবান্ধব কাজ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যারা জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছি তাদের কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যার যার পরিধি থেকে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে।

    সোমবার সকালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ময়মনসিংহ জেলার আইনশৃঙ্খলা মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

    মন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরপ্রধান এবং জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ময়মনসিংহ জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করাই এ সমন্বয় সভার অন্যতম লক্ষ্য। আর এজন্য প্রয়োজন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত চেষ্টা। এছাড়া আমরা যদি আমাদের নির্বাচন ইশতেহার পূরণ করতে পারি তাহলে জনগণ তাদের প্রাপ্যতা বুঝে পাবে। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি জনগণের যে আশা আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তা পূর্ণতা পাবে। যদি আমরা আমাদের কাজগুলো সঠিকভাবে না করতে পারি তাহলে জনগণ আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

    তিনি আরও বলেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আপনাদের আন্তরিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন। আশা করব আপনারা আন্তরিকতা ও সততার মাধ্যমে আপনাদের দায়িত্বটুকু পালন করবেন। বিশেষ করে মাদক ও চোরাচালানের ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, এ জেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্পসমূহের স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলার সব দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কাজের শক্তি আরও প্রবল করে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান তিনি।

    এছাড়াও সভায় জেলা উন্নয়ন কমিটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অর্থ দেওয়ার পুরোনো সংস্কৃতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, বিগত আমলে নির্বাচনের সময় থানার পরিধি অনুযায়ী ইউএনওকে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, ওসিকে ১ কোটি টাকা এবং ডিসিকেও বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হতো। তবে এবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউকে ১০ টাকাও দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের সেই ‘ঘুস-দুর্নীতির মহারণ্য’ থেকে দেশ বেরিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিগত আমলে ইলেকশন হয়েছে। আমি ফ্র্যাংকলি একটা কথা বলি- নির্বাচন এলে ইউএনও সাহেব পেতেন ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, থানার পরিধি ভেদে। ওসি সাহেব পেতেন ১ কোটি, ডিসি সাহেবও পেতেন। সব ছিল ঘুসের দুর্নীতির মহারণ্য। এবার একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছেন? আমি দেই নাই কাউকে ১০ টাকা, চায়ও নাই।

    মন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় এবার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশি কাজ করেছেন। কোনো আর্থিক সুবিধা ছাড়াই জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রেখেছেন। অতীতে কর্মকর্তাদের একদিকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে খুশি রাখতে অনৈতিক সুবিধা নিতে বাধ্য করা হতো।

    মন্ত্রী বলেন, নিতে হবে, নেন; চুরি করতে হবে, নেন- এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সেই দিনগুলো এখন চলে গেছে। সবাইকে বুঝতে হবে, ইমান ও পবিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী অতীতের প্রশাসনিক দুর্নীতির আরেকটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগে ঠিকাদাররা মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশের জন্য পিয়নদেরও টাকা দিতেন। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও ঘুসের নির্দিষ্ট অঙ্ক ছিল। নার্সের ট্রান্সফার ও ডাক্তারের ট্রান্সফার ৩ লাখ, ৫ লাখ। ডাইরেক্টর হলে ২ কোটি। এরকম ঘুস খেয়েছে।

    তিনি বলেন, টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অব করাপশন। এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা বেরিয়ে আসছি, ইনশাআল্লাহ। কাজেই এই কাজটা কিন্তু একার না, সমন্বিত।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার কারণে সমাজে অপরাধ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হবে। মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

    তিনি বলেন, কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ না থাকলে আমাদের কারও অস্তিত্ব থাকবে না। অনেক রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষা করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ২৪ এর গণতন্ত্র রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

    স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। বেসিক সরকার সরঞ্জাম এর নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে।

    তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। রোগীদের খাবারের মান উন্নয়ন করা হবে। ডায়ালাইসিস রোগী ও শিশুদের জন্য পৃথক বেডসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জ জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম প্রমুখ।

    এছাড়া জেলার সব সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইর্য়কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। যুক্তরাষ্ট্র সফর সর্বাত্মকভাবে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ, কানাডা বিএনপি ও নিউইয়র্কসহ ১৮টি স্টেট ও মহানগর কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ভার্চুয়ালি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যৌথ প্রস্তুতি সভার সমন্বয়ক ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিউইয়র্কে আসবেন। তার আগমনকে সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    রিজভী নেতাকর্মীদের খুবই সহনশীলতার সাথে সবকিছু দেখভাল করার জোর তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজকর্ম করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সফরকে আমরা কোনো বিভেদ বা সংঘাতের উপলক্ষ বানাবো না বরং ঐক্য, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করব।

    সভার আরো বক্তব্য রাখেন— বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমদ, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতাদের মধ্যে শরাফত হোসেন বাবু, নেওয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ার হোসেন, কামাল পাশা বাবুল, গিয়াস উদ্দিন, আখতার হোসেন বাদল, আব্দুস সবুর, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, জসিম ভুইয়া, মুশফিকুর রহমান খসরু, একে আজাদ, সালেহ আহমেদ মানিক, শফিকুর রহমান দুলাল, গোলাম ফারুক শাহীন, ডিউক খান, জগলুল হায়দার, মুকুল (জাবি) প্রমুখ।

    সভায় কানাডা পূর্ব ও কানাডা পশ্চিম বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্টেট, মহানগর উওর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানান ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ থেকে তাদের ‘মাইনাস’ বা দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা আইপিইউ প্রতিনিধি দল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে এ তথ্য সামনে আসে।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন যৌথ ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত দলটি আইপিইউ’কে নির্বাচন থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন ও বিরোধী দলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার সার্বিক চিত্র আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    আইপিইউয়ের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কূটনীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

    সফরকালে আইপিইউ প্রতিনিধি দল সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন এবং স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি এবং তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

    বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বৈঠকে আইপিইউ প্রতিনিধিরা এর প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিরোধী দলের নানা সমস্যার সুরাহা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, দেশের চলমান সংবিধান সংশোধন, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি না থাকা এবং আইনসভার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের নতুন প্রস্তাবনাসমূহ আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

    এদিকে, সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন ব্রিফিংয়ে আইপিইউ প্রতিনিধি দলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আইপিইউর কাছে সবসময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বহাল থাকার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করত। কিন্তু বর্তমানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা উল্টো অভিযোগ করে বলছে যে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই বা ‘মাইনাস’ করেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠন করা হয়েছে।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সংসদীয় কূটনীতির কৌশলগত দিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২ সেপ্টেম্বর অ্যান্ডা ফিলিপের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

  • মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু, উঠছে নবম পে-স্কেল

    মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু, উঠছে নবম পে-স্কেল

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

    বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর আগে সোমবার সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে এবং এর ফলে বাজেট ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে এর আগে জানানো হয়েছিল।

    সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সূত্রটি জানায়, পে-স্কেলের মূল বিষয়গুলো এখন প্রায় চূড়ান্ত। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি প্রয়োজন অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের (যাচাই ও পর্যালোচনা) জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলেই প্রজ্ঞাপন জারির পথ খুলে যাবে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে।

    এ বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, গত দুদিন ধরে নবম পে-স্কেল নিয়ে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত। এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকটি সংসদে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইপিইউ মহাসচিবের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইপিইউ মহাসচিবের সাক্ষাৎ

    জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সফররত ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব আন্দা ফিলিপ।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় আইপিইউ-এর সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার রবার্তো রডরিগুয়েজ ভ্যালেন্সিয়া এবং সিনিয়র এক্সপার্ট হেরিয়েনো-এ অ্যাংগোরো।

    সাক্ষাৎকালে তারা জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং সব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সংলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বিরোধীদলীয় নেতা এ সময় সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমতাভিত্তিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা ও সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    এছাড়া সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়, যা আইপিইউ-এর অন্যতম অগ্রাধিকার।

    ইপিইউ মহাসচিব বাংলাদেশের সংসদীয় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সংস্থার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎকালে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে জাতীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, বিরোধী দলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং বিরোধী দলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়াও বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চার আহতযোদ্ধা জসীমউদ্দিন খান, কামরুল হাসান, রিফাত হাওলাদার এবং জাকির শিকদার যোগ দেন।

  • আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়,তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে এক রোগীর মৃত্যু এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে কয়েকজন প্রবাসীর নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে জুমে এ বৈঠক হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি হুইপের পাশে বসে পুরো বৈঠকটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এত বড় জনদুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষ্য, সেতু সংস্কারকাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কিংবা কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শাহাদাত হোসেন সেলিমের দাবি, পরিস্থিতি দেখে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    পরে হুইপ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়নি বলে পোস্টে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    শেষে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি মর্মাহত। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।