সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন, উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে

    রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন, উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে

    শৈশব-কৈশোর কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলে। নিজ বাড়ির পাশেই শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় মাঠ। শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া, রাস্তাঘাটও তার দীর্ঘদিনের পরিচিত। সেই নিজ শহরেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।

    রাষ্ট্রপতির সফর সামনে রেখে কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন পৌরসভার কর্মীরা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ শহরে প্রিয় সন্তানকে প্রথমবার বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওবাসী। পথে পথে চলছে তার আগমনের অপেক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ।

    ঠাকুরগাঁওয়ের কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কারও কাছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার অনেকের কাছে তিনি এখনো পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’—নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে তার ফিরে আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে তাই শুধু রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা ও আবেগেরও মুহূর্ত।

    রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। পরে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

    এরপর শহরের সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি।

    কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

    সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানেই তার রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

    সফরের দ্বিতীয় দিন ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। পরে নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন। এরপর সার্কিট হাউসে গিয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তার।

    রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সম্ভাব্য সফরস্থল, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

    রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাক।’

    জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

  • কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত দরবার প্রধান আবদুর রহমান ওরফে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার নিজস্ব দরবার শরিফে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।

    নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি স্থানীয় কবরস্থানে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় তার ভক্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নতুন করে কবর তৈরি করে তা দাফন করা হয়।

    নিহত দরবার প্রধানের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা কবরস্থানে গিয়ে মাটি খোঁড়া ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পাই। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    খবর পেয়ে আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কবর স্থানান্তরের আলামত মিলেছে। দরবারের নতুন কবরে কঙ্কালসদৃশ অবশেষ দেখা গেছে। তবে সেটি শামীমেরই মরদেহ কি না, তা আইনগত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং প্রাপ্ত নির্দেশনানুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, দরবার চত্বরে একটি কবর খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কাল দাফন করা হয়েছে। কঙ্কালটি শামীমের কি না, তা আমরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ঘটনাটি সত্য হলে মরদেহ আগের কবরে নিয়ে যাওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই দিনই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।

  • বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাখির কিচিরমিচির কলতানে এক সময় গ্রাম বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙতো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই গ্রামের বাগানগুলোতে পাখির কলতানে মুখরিত হতো। দেশের গ্রাম বাংলায় শ্যামল প্রকৃতিতে হরেক রকম পাখির উপস্থিতি আরো মনোরম করে তুলতো বৃহত্তর কুষ্টিয়ার গ্রাম বাংলাকে। স্থায়ী বসবাসকারী পাখি আর মৌসুমী অতিথি ২২১ প্রজাতির পাখি যোগ হয় পাখিদের কাঁতারে। এদের মধ্যে যেসব পাখির নাম আমরা সর্বাধিক শুনেছি এবং দেখেছি গ্রাম বাংলায় অবাধ বিচরণ করতে।

    তাদের মধ্যে দোয়েল, শ্যামা, ময়না, টিয়া, শালিক, কোকিল, পেঁচা, চড়ুই, মাছরাঙা, ঘুঘু, পাপিয়া, ময়ুর, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, শকুন, পানকৌড়ি, কাঠঠোকরা, বুলবুলি, চাতক, বাবুই, বক, বউ কথা কও, হলুদিয়া, কানা কুকো, টুনটুনি, ফিঙে, পায়রাসহ নানা প্রজাতির পাখি।

    বর্তমানে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে যাচ্ছে নানাবিধ কারণে। এর মধ্যে মানুষের সৃষ্ট কারণসমূহই প্রধান। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বনাঞ্চল। পাখিরা হারাচ্ছে তাদের আবাসস্থল। নদী পৃষ্ঠের লবণাক্ততা ও কীটনাশকের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় পাখির খাদ্য সংকটের পাশাপাশি নদী অঞ্চলে লবণাক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

    অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে পাখি তার প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, অপরদিকে বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। মানিকজোর, সবুজ ঘুঘু, হারগিলা, শঙ্খচিল, ভুবনচিল, মদনটাক, ময়ূর, ঈগল, শকুন, বক,বাদুর বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

    এ দেশে শকুনের যেকটি প্রজাতি আছে, তার মধ্যে বাংলা শকুন ছাড়া বাকি সব জাতের শকুন হারিয়ে গেছে। শকুনের খাবার ও আবাসস্থল নেই। যার ফলে বাংলা শুকুন হারিয়ে যাচ্ছে। শকুনরা সাধারণত পুরোনো বড় গাছে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে। পুরোনো বড় বড় গাছ নিধন করে ফেলায় পরিবেশের বন্ধু শকুন হারিয়ে গেছে।

    দেশে ৪৩ প্রজাতির চিল, বাজ, ঈগল ও শকুন পাখি দেখা যেতো। এরা খাবার হিসাবে ইঁদুর, মাছ, ব্যাঙ, ছোট সাপ, পোকামাকড় পছন্দ করে। নদী-নালা ও জলাশয়ের পাশের বড় গাছে বসবাস করত এরা। নদী-নালা ও জলাশয়ের দূষণের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের শঙ্খচিল।

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় যত ধরনের ঘুঘু দেখা যায়, তার মধ্যে সবুজ ঘুঘু সবচেয়ে সুন্দর। ছায়াঘেরা বনের নির্জনে খুব সকালে ও শেষ বিকেলে এরা খাবার খুঁজে বেড়াতো যা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বাকি সময় বৃক্ষের ডালে বসে সময় কাটাতো। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনে এখন ঘুঘুর বিচরণ চোখে পড়ে না । গ্রামীণ জনপদে ঘুঘু দেখা গেলেও সবুজ ঘুঘুর দেখা মেলে না। যাও দেখা যায় শিকারীদের কারণে তা মারা পড়ছে প্রতিদিনই।

    বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইনে বাংলাদেশে পাখি শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি শিকার করেও পাখিকে খাঁচায় বন্দী করে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

    পাখি শিকারী আইন থাকলেও এর নেই কোন প্রয়োগ ফলে পাখি শিকারীরা নির্বিঘ্নে পাখি শিকার করে চলেছে। সংশি¬ষ্ট বিভাগের উদাসীনতায় পাখি শিকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শিকারীরা ইয়ারগান দিয়ে জেলার হাওড় বাওড় খাল বিলে অবস্থানরত অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন পাখি নির্বিঘ্নে মেরে ফেলছে। জেলার নদ-নদী ও বন জঙ্গলে অতিথি পাখির যখন আগমন হতে শুরু করে ঠিক সেই সময়ই পাখি শিকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিনই বিভিন্নভাবে পাখি ধরে জেলার বাবর আলী গেটসহ বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি। পাখি শিকারী বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কুষ্টিয়ার পাখিপ্রেমীসহ জেলার সুশীল সমাজ।

  • কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া শরীয়াতুল্লাহ এতিমখানায় মরহুম আব্দুল ওয়াহিদ অডিটোরিয়ামে এ শিক্ষা শিবির শুরু হয়।

    দুদিন ব্যাপী শিক্ষা শিবির উদ্বোধন করেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একে এম আলী মুহসীন।

    অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এর প্রফেসর ড. আকতার হোসাইন।

    জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আত্মগঠন ও মান উন্নয়নের উপর বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা তারবিয়াতি সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে সহীহ তালিমুল কোরআন ক্লাস গ্রহণ করেন তালিমুল কোরআন বিভাগের কেন্দ্রীয় প্যানেল ওস্তাদ ড. শহিদুল ইসলাম বারী, সকল জামায়াত কর্মীই আদর্শ সমাজ কর্মী বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, দারসুল হাদিস পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ও ভাষা সাহিত্যে বিভাগের প্রফেসর ড. একে এম মফিজুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে অতিথি রয়েছেন ঢাকা বনানী সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতিব পিএইচডি গবেষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। শিক্ষা শিবিরে প্রায় ২শত কর্মী অংশ গ্রহণ করেন।

  • বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে চুরি

    বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে চুরি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একটি মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ১ নম্বর পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ভোরে মসজিদের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মাসিদুল দাঁত ব্রাশ করতে বের হয়ে এবং একই সময়ে এক নারী দানবাক্সে ১০০ টাকা দিতে এসে তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিনকে জানান।

    খবর পেয়ে কমিটির ক্যাশিয়ার ঘটনাস্থলে এসে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি মাথা ও মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দানবাক্সের কাছে আসে। মাত্র ৭ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে তারা দানবাক্সের তালা ভেঙে ব্যাগে টাকা ভরে নিয়ে চলে যায়। তবে মুখে কাপড় থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিন বলেন, “আমি পাশের মাদ্রাসায় শ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছিলাম। ফোন পেয়ে এসে দেখি দানবাক্সের তালা ভাঙা এবং ভেতরের সব টাকা নিয়ে গেছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন ও কমিটির সদস্যদের নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর তিন মাস ধরে দানবাক্সটি খোলা হয়নি। এর আগে তিন মাস পর একবার দানবাক্স খুলে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। চোরদের শনাক্ত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, কেউ তথ্য দিয়ে চোর শনাক্তে সহায়তা করলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হবে।

    মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান দুলাল বলেন, মসজিদে বিভিন্ন দান-অনুদান আসে। প্রতি শুক্রবারও মুসল্লিরা দান করেন। এসব অর্থ দানবাক্সে জমা রাখা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে দুই ব্যক্তি দানবাক্সের কাছে এসে তালা ভাঙে এবং ভোর ৪টা ৫ মিনিটে বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে চলে যায়। মুখে কাপড় থাকায় তাদের চেহারা শনাক্ত করা যায়নি।

    বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

  • সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে প্রতারক চক্র। অজ্ঞান অবস্থায় চালককে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের চৌধুরী টাওয়ারের সামনে থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঘটনার শিকার চালকের নাম শহীদুল ইসলাম (৫০)। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার মরহুম তসির উদ্দিনের ছেলে।

    শহীদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আমার স্বামী আর বাড়ি ফেরেন নাই। শনিবার সকালে জানতে পারি, সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর অটোরিকশা অজ্ঞান পার্টি নিয়ে গেছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ দিনে সৈয়দপুর শহরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পাঁচজন ব্যক্তি তাদের আয়ের একমাত্র উৎস অটোরিকশা হারিয়েছেন। এমনকি প্রকাশ্যে দিনের বেলায়ও ভ্যান, মোবাইল ও ভ্যানিটিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দু’জন যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

    লাগাতার এ ধরনের অপরাধ সঙ্ঘটিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন মহলের মন্তব্য সৈয়দপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন একেবারে নির্বিকার এবং তাদের অবহেলার কারণেই দিন দিন পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হয়ে উঠেছে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নয়তো সার্বিক অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

  • তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে নজরুল ইসলাম মনজু (৫৩) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মেঘনার বুকে জেগে উঠা বাসন চরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম বদিউজ্জামানের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কৃষক মনজু নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

    পরে পার্শ্ববর্তী কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, বজ্রপাতে কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু নিহত হওয়ার ঘটনায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

    স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে তজুমদ্দিনের বিস্তীর্ণ চর ও কৃষিজমিতে কৃষকদের মাঠে কাজ করতে হয়। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করায় কৃষকরা প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তারা বজ্রপাতের সময় কৃষকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এবং বজ্রপাত সহনশীল তাল গাছে লাগানোর দাবি জানান।

  • আনোয়ারায় মাদক সেবনে দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড

    আনোয়ারায় মাদক সেবনে দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বটতলী নতুন গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আকতার কবির (৩৬) ও হান্নান (২২)।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে আকতার ও হান্নান নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড ও ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মো: খালিদ হাসান (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার গোবরা গ্রামের মো: তৈয়ব আলীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার মাত্র ১৭ দিন আগে ওই বাড়ির মেয়ে সানজিদা খাতুনের সাথে খালিদের বিয়ে হয়েছিল।

    নিহত খালিদ হাসান কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর কয়রা গ্রামের মো: আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খালিদ তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে খালিদের স্ত্রী টয়লেট থেকে ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জানালা দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তিনি স্বামী খালিদকে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে কয়রা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রাশেদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

  • সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটির দুই পাশে সাময়িক সংস্কারকাজ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুব বিভাগের সদস্যরা।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা এ সংস্কারকাজে অংশ নেন। তাঁরা ব্রিজের দুই পাশে জমে থাকা কাদা সরিয়ে ইট বিছিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যায়। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পথচারীদেরও হেঁটে চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তাঁরা।

    রইচপুর যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমাতে নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রইচপুর ব্রিজের দুই পাশে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রইচপুর ব্রিজের ওপর দিয়ে আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। এলাকাটি কৃষি ও মৎস্য চাষনির্ভর হওয়ায় কৃষিপণ্য ও মাছসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক হাসানুজ্জামান সবুজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুব বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    এলাকাবাসী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়ক দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • চোটে পড়ে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ নেইমারের, প্রতিপক্ষ দিল খোঁচা

    চোটে পড়ে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ নেইমারের, প্রতিপক্ষ দিল খোঁচা

    এক ম্যাচে তিন চোট। এর মধ্যে একজন নেইমার। চোটের জন্য মাঠ ছাড়ার পরই সান্তোসের মাঠ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে তাঁর এসব কথাকে অজুহাত হিসেবেই দেখছে প্রতিপক্ষ পালমেইরাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তারা খোঁচাই দিয়েছে নেইমারকে।

    বুধবার ব্রাজিলিয়ান কাপে পালমেইরাসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য ড্র করে সান্তোস। প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় নেইমারের দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোর বেহাল দশা এবং চোটের মিছিল।

    প্রথমার্ধেই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার। তাঁর সঙ্গে চোটে পড়েন সান্তোসের উইঙ্গার আলভারো বারেয়াল ও ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারকে কাঁদতেও দেখা যায়।

    এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠের অবস্থা নিয়ে খোঁচা দিয়ে নেইমার লেখেন, ‘ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের মাঠের দায়িত্বে যিনি আছেন, তাঁকে অভিনন্দিত করতে চাই।’

    এরপরই তাঁর সেই খোঁচা পরিণত হলো তীব্র আগুনে, ‘গতকাল যা দেখলাম, তা ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে মাঠ। ম্যাচের ঠিক আগের দিন কাজ করার কারণে পুরো মাঠ গর্তে ভরা ছিল। অবিশ্বাস্য! প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আমাদের মাঠের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে।’

    ব্রাজিলিয়ান কাপ থেকে সান্তোসের ছিটকে যাওয়ার দিনে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন নেইমার ইনস্টাগ্রাম/নেইমার

    ক্ষোভের রেশ টেনে এখানেই থামেননি নেইমার। মাঠের বেহাল দশা কীভাবে তাঁদের টেনে নামাল, সেই হিসাব কষে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, মাঠের এই জঘন্য অবস্থার কারণে আমাদের বাড়তি শারীরিক শক্তি খরচ করতে হয়েছে। প্রথমার্ধেই যে তিনজন খেলোয়াড় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দারুণ কাজ করেছেন সত্যিই…খুবই নিম্নমানের কাজ!’

    নেইমারের এই বিলাপের আগুনে পালমেইরাস বাণ মারতে ছাড়েনি। চরম নাটকীয়তায় সুযোগ বুঝে নিজেদের মাঠের প্রশংসা করে এক খোঁচাপূর্ণ বিবৃতি ছাড়ে ক্লাবটি।

    নিজেদের মাঠের নিয়মিত পরিচর্যা ও গুণগত মান নিয়ে খোঁচা দিয়ে পালমেইরাস লেখে, ‘নুবাঙ্ক পারকের মাঠের দায়িত্বপ্রাপ্তদের আমরা অভিনন্দন জানাতে চাই…দিন যা-ই হোক না কেন, এখানকার ঘাস সব সময় নিখুঁত আর গর্তমুক্ত থাকে। কারণ, প্রতিদিন এর যত্ন নেওয়া হয়। বিশ্বাস করুন আর না–ই করুন, প্রতিপক্ষকে ভালো মাঠ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের খেলোয়াড়েরাও এখানে দৌড়ানোর সময় নিরাপদ বোধ করে। কারণ, পুরো উপরিভাগ সব সময় সমান থাকে। অমনি তো আর গত পাঁচ বছরে সিরি আ-তে পালমেইরাসের খেলোয়াড়েরা সবচেয়ে কম চোটে পড়েনি…সত্যিই অভিনন্দন। দুর্দান্ত কাজ!’

    এখানেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। যেন সমস্যার সহজ সমাধান শেখাতে গিয়ে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল, ‘বাজে মাঠের একমাত্র সমাধান হলো একটি ভালো মাঠ তৈরি করা, সহজ বিষয়।’

    লিগ টেবিলে সান্তোস এখন ১৪ নম্বরে, অবনমন অঞ্চল থেকে মোটে চার পয়েন্ট দূরে।

  • এবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ঘোষণা

    এবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ঘোষণা

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মন্ত্রীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

    সাক্ষাৎকালে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধের উপর মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশেষ করে সীতাকুণ্ড অংশে বড় দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও তুলে ধরেন তারা।

    জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

    পরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে পেশ করেন। এতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির লাইন সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণসহ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।

  • সাবিনা ইয়াসমিন একটি কণ্ঠ, একটি ইতিহাস

    সাবিনা ইয়াসমিন একটি কণ্ঠ, একটি ইতিহাস

    বাংলা গানের ইতিহাসে কিছু কণ্ঠ শুধু গান গায় না, হয়ে ওঠে এক ইতিহাস। সেই কণ্ঠগুলোর অন্যতম সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগীতজীবনে অসংখ্য গান দিয়ে তিনি ছুঁয়েছেন মানুষের হৃদয়। দেশাত্মবোধক গান, চলচ্চিত্রের গান, আধুনিক কিংবা লোকগান–গানের নানা ধারায় তাঁর স্বতন্ত্র উপস্থিতি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।

    আজ এই বরেণ্য কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন সংগীতপ্রেমীরা।

    শৈশব থেকে গানের সঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিনের সখ্য। সংগীতনির্ভর পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকে তিনি পেয়েছেন গানের পরিবেশ। অল্প বয়সে তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য নজর কাড়ে। এরপর ধীরে ধীরে পেশাদার সংগীতজগতে শুরু হয় তাঁর পথচলা। সময়ের সঙ্গে সে কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মানুষের অতিপরিচিত ও প্রিয় এক কণ্ঠ।

    চলচ্চিত্রের গানে সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ষাটের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রোমান্টিক গান থেকে বিরহ, জীবনবোধ থেকে দেশপ্রেম–প্রতিটি আবেগকে তিনি নিজের কণ্ঠে এমনভাবে ধারণ করেছেন, যা শ্রোতার মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। তাঁর গাওয়া দেশাত্মবোধক গানগুলোও বাংলা গানের ভান্ডারের অমূল্য সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা কিংবা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা–এসব অনুভূতি তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে গভীর আবেগ ও শক্তি। ফলে তাঁর গান শুধু বিনোদনের বিষয় হয়ে থাকেনি; বরং অনেক গান হয়ে উঠেছে বাঙালির আবেগ ও ইতিহাসের অংশ।

    সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর আবেগ ও স্বচ্ছতা। উচ্চকিত না হয়েও কীভাবে একটি গানকে গভীরভাবে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাঁর গায়কিতে তার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। শব্দের সঠিক উচ্চারণ, সুরের প্রতি বিশ্বস্ততা এবং গানের ভাবকে ধারণ করার ক্ষমতা তাঁকে সমসাময়িক অনেক শিল্পীর চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

    সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন একাধিকবার। তবে পুরস্কার-সম্মাননার সংখ্যার চেয়েও বড় তাঁর অর্জন-প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার ভালোবাসা। সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গাওয়া বহু গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান আবেদন তৈরি করে। সময় বদলেছে, সংগীতের ধরন বদলেছে, শ্রোতার রুচিতেও এসেছে নানা পরিবর্তন। তাঁর গান হারিয়ে যায়নি; বরং নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে বারবার। পুরোনো দিনের শ্রোতার স্মৃতিতে যেমন তাঁর গান অমলিন, তেমনি তরুণ প্রজন্মও তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো এখানে–সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সৃষ্টি মানুষের মনে বেঁচে থাকে।

    সাবিনা ইয়াসমিন সেই বিরল শিল্পীদের একজন। তাঁর কণ্ঠে যে গান একসময় রেডিও, টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্রের পর্দা পেরিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছিল, সেই গান আজও শোনা হয় একই মুগ্ধতায়। জন্মদিনে তাই সাবিনা ইয়াসমিনকে শুধু একজন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, বাংলা গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে স্মরণ করা যায়। তাঁর গান প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা, দেশ ও মানুষের গল্প বলে। সেই গল্পের আবেদন সময়ের সঙ্গে ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। সুরের ভুবনে তাঁর পথচলা দীর্ঘ হোক। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিক বাংলা গানের সৌন্দর্য।

    জন্মদিনে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি রইল গভীর ভালোবাসা।

  • কেন নিজের ক্যান্সারের খবর লুকিয়েছিলেন ডলি পার্টন? জানালেন ভাগনি

    কেন নিজের ক্যান্সারের খবর লুকিয়েছিলেন ডলি পার্টন? জানালেন ভাগনি

    কান্ট্রি সংগীতের বিশ্বখ্যাত তারকা ডলি পার্টন আর নেই। গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী এই কিংবদন্তি।

    জীবনের শেষ সময়ে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন ডলি। তবে নিজের অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। তার ভাগনি জাডা স্টারের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবার ও কাছের মানুষদের অযথা উদ্বিগ্ন করতে চাননি বলেই শেষ পর্যন্ত রোগের কথা গোপন রেখেছিলেন এই শিল্পী।

    সম্প্রতি ‘এক্সট্রা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডলিকে নিয়ে কথা বলেন জাডা। সেখানে তিনি প্রয়াত তারকার সঙ্গে কাটানো সময়ের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। জাডার কথায়, ডলি নিজের শারীরিক অবস্থার চেয়ে কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন।

    জাডা বলেন, ডলি কখনোই চাইতেন না তার অসুস্থতার কারণে পরিবারের সদস্য কিংবা পরিচিতরা দুশ্চিন্তায় থাকুন। ফলে তার মৃত্যুর খবর স্বজনদের জন্য ছিল বড় ধরনের ধাক্কা। এমনকি কঠিন সময়েও ডলি তাদের কান্নায় ভেঙে না পড়ে নিজেদের কাজে ফিরে যেতে এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখার কথা বলতেন।

    জাডার ভাষায়, ডলি ছিলেন সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা আড়ালে রেখেও অন্যদের ভালো থাকার কথা ভাবতেন তিনি।

    ডলি পার্টনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন সংগীত ও বিনোদন জগতের বহু তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেলর সুইফট, ডলির ধর্মকন্যা মাইলি সাইরাস ও তার বাবা বিলি রে সাইরাস, অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন, গায়িকা বিয়ন্সে, র‍্যাপার এমিনেম এবং কেলি ক্লার্কসনসহ আরও অনেকে।

    ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি টান

    ১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি পার্টন। তার মা লোকগান গাইতেন। শৈশবেই মায়ের কাছ থেকে সংগীতের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তার। মাত্র ছয় বছর বয়সেই গান লেখার হাতেখড়ি হয় ডলির। নিজের প্রিয় পুতুলকে কেন্দ্র করে প্রথম গান লেখেন তিনি। আট বছর বয়সে হাতে তুলে নেন গিটার। এরপর ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে সংগীতচর্চা শুরু করেন।

    মাত্র ১১ বছর বয়সেই স্থানীয় বেতারে গান পরিবেশনের সুযোগ পান ডলি। আর ১৩ বছর বয়সে পৌঁছে যান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্মানজনক কান্ট্রি সংগীতের মঞ্চে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতযাত্রা।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান, অভিনয়, ব্যবসা ও সমাজসেবায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন ডলি পার্টন। তার মৃত্যুতে তাই শুধু কান্ট্রি সংগীত নয়, পুরো বিনোদনজগতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

  • মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    বল নিয়ে কাড়াকাড়ি তাঁরা করেননি। একজন ছিলেন মাঠে, অন্যজন ডাগআউটে। তবু একসময় এল ক্লাসিকোতে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ফুটবল–বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি। একজনের পায়ের নৈপুণ্য আর অন্যজনের মাথার ট্যাকটিকসের লড়াই অনেকের কাছেই ছিল উপভোগ্য।

    এরপর অবশ্য এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মরিনিও বলেছেন, মেসির মতো খেলোয়াড়কে তিনি সব সময়ই মিস করবেন।

    আগামীকাল লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মরিনিও বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে কথা বলা কঠিন। তার খেলোয়াড়ি মান নিয়ে বলার মতো খুব বেশি কিছু নেই। এমনকি এই যে বিশ্বকাপ, সেখানে ৩৮ বা ৩৯ বছর বয়সেও সে আমাদের দেখিয়েছে, সে কী করতে পারে।’

    ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি এবারও দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপরই ঘোষণা দেন—জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলা শেষ। মেসির বিদায় যে ফুটবলের একটি যুগেরও অবসান, মরিনিওর কথায় সেটিই ফুটে উঠেছে, ‘কখনো কখনো এমন খেলোয়াড় থাকে, যাদের আপনি মিস করবেন। তার শেষ কয়েক বছর বা মৌসুমগুলোকে উপভোগ করতে আমাদের হয়তো কিছু এমএলএস ম্যাচ দেখতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা এমএলএস দেখতে পছন্দ করি না, কিন্তু তাকে দেখতে হলে দেখতে হবে। কারণ, সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আপনি সব সময়ই মিস করবেন।’

    যখন মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়, মরিনিও রিয়ালেছবি: এক্স

    মরিনিও ও মেসি কখনো সরাসরি একই দলের হয়ে কাজ করেননি বা খেলেননি। মেসি বার্সেলোনায় থাকার সময় ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনিও। সেই সময়ের এল ক্লাসিকো উত্তাপ ও বিতর্ক মিলিয়ে উত্তেজনাময় ছিল। কোচ হিসেবে মরিনিওকে বারবারই মোকাবিলা করতে হয়েছে মেসির বার্সেলোনাকে।

    তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেসির প্রতি মরিনিওর শ্রদ্ধা কমাতে পারেনি। পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘গত দুই দশকে আমাদের প্রজন্মের জন্য সে কী প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা আমরা সবাই জানি।’

  • মাদক মামলার বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

    মাদক মামলার বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

    মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচারে গতি আনতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং মহানগরে ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার।

    আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৪ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সেগুলোর জন্য পৃথক স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নবগঠিত ট্রাইব্যুনাল ও অধিক্ষেত্র: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এলাকার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের আওতাধীন থানাগুলোর জন্য চারটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে-ঢাকা মহানগর-১ এর অধীন পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরে বাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।

    ঢাকা মহানগর-২ এর অধীন কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালী, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা।

    ঢাকা মহানগর-৩ এর আওতাধীন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।

    ঢাকা মহানগর-৪ আওতাধীন উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।

    নারায়ণগঞ্জের জন্য ২টি (নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২), চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি (চট্টগ্রাম মহানগর-১, ২ ও ৩) ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজার-১ এর অধীন টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা। কক্সবাজার-২ এর আওতাধীন উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও থানা। কক্সবাজার-৩ এর অধীন রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা।

    এছাড়া কুমিল্লার জন্য দু’টি (কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলার জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন আরও বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীন ন্যূনতম ৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাসমূহ বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত ট্রাইব্যুনালসমূহে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানান্তরিত হবে। কোনো মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, ঠিক সে পর্যায় থেকেই বিচারকার্য পরিচালিত হবে। অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

  • না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের ভেতর দুবার ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ালেন তামিম ইকবাল। প্রথম দফায় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিলেন তামিম। এরপর গতকাল আরও এক দফা তাদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছেন বিসিবি সভাপতি। কারণ হিসেবে যদিও বলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর কথা, তবে চলমান ঘটনাপ্রবাহে এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে না পারার ক্ষতি পোষাতেই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত।

    বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল না হওয়া এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অবনমন না থাকা ও সুপার লিগ না থাকায় দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সেই ক্ষতি খানিকটা পূরণ করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি। প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। তামিম অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর আগেই এসেছে আরেক দফা বৃদ্ধির ঘোষণা— এবার ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ গত মৌসুমের চেয়ে শতভাগের চেয়ে বেশি ম্যাচ ফি বাড়ল ক্রিকেটারদের, সেটিও কোনো ম্যাচ না খেলেই!

    আনুপাতিকভাবে বেড়েছে বিসিবি আয়োজিত ৫০ ও ২০ ওভারের ম্যাচের ম্যাচ ফিও। তামিম বলেছেন, ‘এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সবাই অনেক খুশি। একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো সিজন খেললে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকা করে পাবে।’

    সীমিত ওভারের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা হিসেবে বিসিবি এনসিএল টি-টোয়েন্টি এবং বিসিএল ওয়ানডে আয়োজন করে থাকে, তবে তামিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিসিএলের প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট এবং এনসিএল টি- টোয়েন্টিকে এক ছাতার নিচে এনে নতুন একটি টুর্নামেন্ট চালু করার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

    বিপিএল না হওয়ার ঘোষণার পর ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) দেনদরবার করেছে বিসিবির সঙ্গে। বছর দুই আগে তামিম নিজেও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হয়ে সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক কমিয়েও বিপিএলটা আয়োজন করার, অথচ এ বছর কেন এত আগেই হাল ছেড়ে দেওয়া। তামিম বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদে অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিই হয়নি আগের বিপিএলে, তাদের কোনো ব্যাংক গ্যারান্টি বা চেক কিছুই জমা নেই বিসিবির কাছে। আমি ফারুক ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম বিপিএল করার জন্য অনুরোধ করতে, এটা যেমন সত্যি; তেমনি সত্যি হচ্ছে কয়েকদিন পর আমি আবার গিয়ে বলেছি দুটি দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি না দিতে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে রাজশাহী। এরপর আপনারাই দেখেছেন কী অবস্থা হয়েছে।’ শুধু আর্থিক লোকসান এড়াতেই যে বিসিবি এ বছর বিপিএল আয়োজন করা থেকে বিরত আছে, ব্যাপারটা তা নয়, ‘আমরা শুধু যে আর্থিক ক্ষতির কারণে বিপিএল করছি না, তা নয়। যদি মাঠে খেলাটা ভালো হতো, খেলোয়াড়রা ঠিকঠাক টাকা পেত, হোটেলগুলো তাদের টাকা পেত, যারা যানবাহন সরবরাহ করেছে তারা টাকা পেত, তাহলে ক্ষতিটা মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু কিছুই যেখানে ঠিক নেই, সেখানে কেন এই টুর্নামেন্ট আমাদের তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামাতে হবে?’

    তামিমের যুক্তির সঙ্গে ক্রিকেটাররাও একমত হয়েছেন, কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বুধবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটার যেন উপকৃত হয়, সেটা বেছে নিয়েছি।’

    বিপিএল স্থগিত রাখা নিয়ে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং তামিমের ঘোষণা— এ দুইয়ের ভেতর কোনো যোগসূত্র আছে নাকি ব্যাপারটা নিতান্তই কাকতালীয়, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারী কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ৯৬ ঘণ্টার ভেতর ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বেড়ে গেল।

  • পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    চট্টগ্রামের দামপাড়ায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল করেছে।

    আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে মিছিল নিয়ে চলে যায় ছাত্রলীগ।

    মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।’ মিছিলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ ও যুবক অংশ নেন।

    পুলিশ লাইনে নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কার্যালয় রয়েছে। পুলিশ কমিশনার লালদিঘির পাড়স্থ নবনির্মিত ভবনের পাশাপাশি দামপাড়া পুলিশ লাইনের অফিসেও মাঝে মধ্যে বসেন।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর হোসেন মামুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘৫ সেকেন্ডের জন্য তারা মিছিল করেছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। তবে কাজ চলছে।’

  • যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

    যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তির পাঁয়তারা করতে চায় তাদেরকে বয়কট করবো বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শুক্রবার দুপুরে যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘কেউ কেউ ধর্মকে ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাই। ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভক্তির রেখা, রাজনীতির গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। ধর্ম রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসে অনৈতিক সুবিধা লাভের মাধ্যম হতে পারে না। ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তি করতে চাইবে, অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করবে, তিনি যে রাজনৈতিক দলের নেতা হোক না কেন, বা যে ধর্মের বিশ্বাসী হোক না কেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ করবো। এ ক্ষেত্রে সরকার রাষ্ট্র তো থাকবেই; সামাজিকভাবেও বয়কট করবো।’

    ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজে কেউ বঞ্চিত হবে না এটি বর্তমান সরকার নিশ্চিত করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিছক একটি বিশ্বাস, একটি চেতনা। এই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চিত করছে- কোনো ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজের কোনো মানুষ পিছিয়ে পড়বে না, ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কেউ যেন অতিরিক্ত সুবিধা নিতে না পারে; কেউ যেন বঞ্চিত না হতে পারে সেটিও নিশ্চিত করছে বর্তমান সরকার। এই বিশ্বাস তৈরি করতে পারলে বা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারলে- যেই আশায় আমরা বুঁক বেধেছি ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর সেই আশা নিশ্চয়ই দুরাশায় পরিণত হবে না।’

    জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপাঙ্কর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম, মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ প্রমুখ।

    বক্তব্য শেষে অতিথিরা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। পরে টাউন হল ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের দড়াটানা, গাড়িখানা হয়ে টাউন হল ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

    এছাড়া শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে দিনভর উৎসবমুখর বিরাজ করছে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ভিতর। বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও পূজামণ্ডপে চলছে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আয়োজনের মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও আলোচনা সভা।

    এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এ উৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করবে।

  • বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।’

    এ সময় হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও আলাদা একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় বিষয়। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার সুবিধার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নৈতিকতার চর্চা করলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে।’

    তিনি জানান, তৃণমূলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে মাঠের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইনে ও টিভিতে চাইনিজ ও অ্যারাবিক ভাষা শিক্ষার বিশেষ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

    নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী এবং জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।

    সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • অভয়নগরে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু

    অভয়নগরে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের অভয়নগর উপজেলায় মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে আমজাদ গাজী (৬৫) ও একই গ্রামের মালেক সরদারের স্ত্রী আসিরন বিবি (৬৫)। সম্পর্কে তারা ফুফু-ভাতিজা।

    হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আমজাদ গাজী তার ফুফু আসিরন বিবিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। সকাল সোয়া ১১টার দিকে তারা চেঙ্গুটিয়া এলাকায় মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে পৌঁছান। সেখানে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকটি ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল।

    মোটরসাইকেলটি ট্রাকের সারির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন আমজাদ গাজী ও আসিরন বিবি।

    স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ফেরদৌস শান্ত বলেন, দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। কিছুক্ষণ পর অন্যজনও মারা যান।

    নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, দ্রুতগতির গড়াই পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • নিখোঁজ ২ হাজার শিশু ফেরেনি এখনো

    নিখোঁজ ২ হাজার শিশু ফেরেনি এখনো

    দেশের থানাগুলোয় ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এই হিসাব সাত মাসের, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। কিন্তু এখনো সন্ধান মেলেনি ২ হাজার ৩৮ শিশুর। অর্থাৎ নিখোঁজ হওয়া শিশুদের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনো ফেরেনি পরিবারের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয় এসব তথ্য।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জন উদ্ধার হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ জন। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জন উদ্ধার হয়েছে, এখনো নিখোঁজ ১ হাজার ৯৭০ জন। নিখোঁজের কারণ হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ছোট শিশুরা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারিয়ে, ঠিকানা বলতে না পারায় কিংবা একা বাড়ি ফেরার পথে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়। কিশোর -কিশোরীদের ক্ষেত্রে কারণ কিছুটা ভিন্ন। অভিমান, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক কলহ, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা তাদের বাড়ি ছাড়ার বড় কারণ।

    পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৪১৪টিতে। তবে ২০২৫ সালে আবার বেড়ে হয় ২২ হাজার ৫৫০টি।

  • চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় হাসনা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া এলাকার জিকে খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসনা খাতুন মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ী ইউনিয়নের খাড়ারা গ্রামের করিম আলীর স্ত্রী।

    পুলিশ, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১২টার দিকে ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে হাসনা খাতুনের শেষ কথা হয়। এরপর তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে ঘরে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

    আরও পড়ুন: নাইজারে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ সেনাসহ নিহত ২২

    শুক্রবার সকালে গোবিন্দগুনিয়া এলাকায় জিকে খালে ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করলে স্বজনরা সেটি হাসনা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন।

    স্বজনদের অভিযোগ, হাসনা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    চার দিন নিখোঁজ থাকার পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) মাহমুদুল হক মজুমদার জানান, নিহতের ছেলে থানায় জিডি করার পরদিন আজ খালের পানি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • ইত্যাদি’র সংকলিত পর্বের প্রচার

    ইত্যাদি’র সংকলিত পর্বের প্রচার

    ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়েছিল পাহাড়ি সৌন্দর্যের রানী বান্দরবানে। আজ রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে সেই বিশেষ পর্বটির কিছু অংশসহ ইত্যাদি’র কয়েকটি পর্ব থেকে নেয়া চমৎকার সব দৃশ্য দিয়ে সাজানো একটি সংকলিত পর্ব। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর প্রয়াত বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান ইত্যাদি’র বান্দরবান পর্বের একটি নাট্যাংশের মাধ্যমে প্রথম টিভি ক্যামেরার সামনে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খান।

    এই নাট্যাংশটিই ছিল তাদের জীবনের শেষ অভিনয়। এই পর্বে রয়েছে— বান্দরবানের ইতিহাস, ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত, দর্শনীয় ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোর ওপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। রয়েছে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চঞ্চল কান্তি চাকমার ব্যক্তি উদ্যোগে বয়স্ক ভাতা চালুর ওপর প্রতিবেদন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষক পরিবারের ওপর শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসৈকতের পরিবেশের ওপর রয়েছে সচেতনতামূলক প্রতিবেদন। বাংলা ও মারমা গানের দু’জন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী আঁখি আলমগীর এবং মান মান সিংয়ের কণ্ঠে রয়েছে অনুরাগের গান।

    এ ছাড়াও বান্দরবানের সবুজ-শ্যামল রূপ বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন বান্দরবানের ১১টি নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি শিল্পীদের সমন্বয়ে শতাধিক নৃত্যশিল্পী। নানা সামাজিক অসঙ্গতি ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে ইত্যাদি’র বিভিন্ন পর্ব থেকে সংকলন করা বেশ কিছু বিদ্রƒপাত্মক নাট্যাংশসহ এবারো যথারীতি রয়েছে— নানি-নাতি, মামা-ভাগ্নে, দর্শকপর্ব ও চিঠিপত্র বিভাগ। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। পর্বটি প্রচারিত হবে কেয়া কসমেটিকসের সৌজন্যে।

  • ‘গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় আর্থিক চাপে সরকার’

    ‘গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় আর্থিক চাপে সরকার’

    বিগত সরকার প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করায় বর্তমান সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্কে এ কথা বলেন তিনি। ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ এ বিতর্কের আয়োজন করে।

    বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৯৬ সালের পর নতুন করে কার্যকর জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং আমদানিনির্ভরতার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।’

    জালাল আহমেদ বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করায় বাড়তি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারকে বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে। ভুল নীতি ও অনিয়মের কারণেও দীর্ঘদিনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।’

    তবে সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হলেও সৌরবিদ্যুতে বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান। বায়ুশক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও দেশে এর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, সুষম জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে অতীতের ভুল, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। এতে শিল্পকারখানা সচল করার পাশাপাশি রপ্তানি ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

    অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

    যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিশেষ টহলদল ও বেনাপোল চেকপোস্ট (আইসিপি) টহলদল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।

    অভিযানে ভারতীয় ১৩৮টি শাড়ি, ৮২ গজ জিন্সের থান কাপড়, ৬৯ প্যাকেট ফুসকা, ৪ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস, ১৬৫টি চকলেট এবং ৪২৭টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়।

    ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে

    সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’।

    আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার পলাশী মোড়ে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই “সবার আগে বাংলাদেশি”। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’

    অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’; এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন। আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।’

    সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।’

    তিনি বলেন, ‘সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবী রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

    ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সচরাচর “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি “সাম্প্রদায়িক” শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।’

    মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ‘হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    উল্লেখ্য, জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

  • ‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’- গিলেস্পি

    ‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’- গিলেস্পি

    ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ নাম তো এমনি এমনি বসেনি পাকিস্তানের নামের সঙ্গে। মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও (পিসিবি)। কোচ আসেন, কোচ যান। শুধু তাই নয়, অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে নিয়মিত। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি তোপ দাগলেন পিসিবির নির্বাচকের ওপর।

    প্রায় দুই বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হলেও গিলেস্পি যেন তা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। কারণ, পিসিবির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি থাকলেও আট মাসেই শেষ হয়ে যায় সম্পর্ক। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের লাল বলের কোচ হয়ে ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেছিলেন। একই সময়ে (২০২৪ সালের এপ্রিলে) গ্যারি কারস্টেন পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তখন মাত্র ছয় মাস দায়িত্বে থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন।

    হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর পাকিস্তান দলে চলছে টালমাটাল অবস্থা। নির্বাচকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিসবাহ উল হক। আকিব এরপর নির্বাচকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্র ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’-কে আজ গিলেস্পি বলেন, ‘আকিব জাভেদ সম্প্রতি এসে পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক সাদা বলের কোচ গ্যারি কারস্টেন এবং আমাকে দায়ী করেছেন। আকিব গত দুই বছর ধরে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন। অথচ আমরা সেখানে ছিলামই না।’

    পাকিস্তান দলের বাজে অবস্থায় কারস্টেন-গিলেস্পির ওপর দায় চাপানোর কোনো মানেই বের করতে পারলেন না গিলেস্পি। আকিবকে দায়ী করে গিলেস্পি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তারপরও কোনোভাবে তিনি (আকিব) বলছেন, সবকিছুর জন্য আমরা (গিলেস্পি-কারস্টেন) দায়ী। এর কোনো মানে হয়? আমার মনে হয়, আকিব জাভেদের নিজের দিকে আয়নায় তাকানো উচিত।’

    হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় টেস্টে তারা হেরেছে ১৯৪ রানে। টানা দুই ম্যাচে ভরাডুবির পর টেস্টের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইংল্যান্ড সফররত দলের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই সাত ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানও। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের দলে যুক্ত করা হয় পাঁচ ক্রিকেটারকে।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জন্য খারাপ লাগছে গিলেস্পির। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য আমার খারাপ লাগছে। এটা তাদের জীবিকা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে। এটা স্পষ্ট যে তাদের কোনো নির্বাচনী কৌশলই নেই। বিশেষ করে আকিব জাভেদের অধীনে।’

    বাবর প্রথম টেস্টে খেলতে না পারায় সালমানকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টে বাবর অধিনায়ক হয়ে ফেরায় সালমান একাদশ থেকেই বাদ পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তো তাঁকে ফেরত পাঠানো হলো দেশে। গিলেস্পি বলেন, ‘সালমান আলী আগা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকেই বাদ পড়ল। তৃতীয় টেস্টের আগেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এটা কীভাবে সম্ভব? প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদের সঙ্গে আসলে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। এটা স্পষ্ট।’

    হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ। এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্বে থাকছেন মাইক হেসন। অ্যাশলে নফকে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন। এজবাস্টনে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।

  • বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে সালমান খানের ভাতিজা আরহানের

    বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে সালমান খানের ভাতিজা আরহানের

    এবার সিনেমায় নাম লেখাতে চলেছেন বলিউড অভিনেতা আরবাজ খান ও অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা দম্পতির ছেলে আরহান খান। একটি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে সাবেক এ তারকা দম্পতির সন্তানকে। আরহান সম্পর্কে বলিউড ভাইজান সালমান খানের ভাতিজা হন।

    আরহান খানকে হরহামেশাই বিভিন্ন বলিউড পার্টিতে দেখা যায়। এবার জানা গেছে, তিনি অভিনয়ের জগতে পা রাখতে চলেছেন। প্রথম সিনেমায় আরহান একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি পরিচালনা করবেন নির্মাতা অনিরুদ্ধ আইয়ার, যিনি এর আগে ‘অ্যান অ্যাকশন হিরো’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন। এদিকে, আসন্ন এ সিনেমাটির চিত্রনাট্য বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছেলেকে বলিউডে লঞ্চ করা প্রসঙ্গে আরবাজ খান বলেছিলেন, ‘চিত্রনাট্য আমার বা অন্য কারো হতে পারে। এ মুহূর্তে সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।’

    তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা আছেন এবং সবাই নতুন প্রতিভা ও মুখের সন্ধানে আছেন। তার আগে যদি আরহানের জন্য কারো কাছে কোনো প্রস্তাব থাকে, তবে সে তা বিবেচনা করতে পারে।

    তিনি বলেন, এমন নয় যে, আমি আরহানকে কিছুই দেব না। আমার কাছে কিছু থাকলে, আজ হোক কিংবা কাল হোক— আমি অবশ্যই তাকে প্রস্তাব দেব এবং সে কী করতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দেব।

    উল্লেখ্য, আরহান খান কিছু দিন আগে ‘দম বিরিয়ানি’ নামে একটি পডকাস্ট শুরু করেছেন। তিনি তার বন্ধু দেব এবং আরুশের সঙ্গে সেই পডকাস্টটি সঞ্চালনা করতেন। যাতে তাদের পরিবারও অংশ নিত।

    ১৯৯৬ সালে আরহানের বাবা ও সালমান খানের ভাই অভিনেতা আরবাজ খান ‘দারার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ‘ফির প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, ‘মা তুঝে সালাম’, ‘ইয়ে মোহাব্বত হ্যায়’, ‘সোচ’ এবং ‘কুছ না কহো’ সিনেমার মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। এমনকি নির্মাতা হিসেবে তিনি সালমান খানের ‘দাবাং ২’ সিনেমাটি পরিচালনাও করেছেন।

  • কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে জেলের বন্দীদের জামিনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো: আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো: সুরুজ (২৬)।

    গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

    গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের প্রতারণার কৌশলটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও অভিনব। চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। এরপর কৌশলে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করত।

    আসামিদের তথ্য পাওয়ার পর তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের কারারক্ষী ‘সাইফুল’ পরিচয় দিত। তারা পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস করাত যে, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার এক আইনজীবী ‘সিরাজের’ মাধ্যমে হয়েছে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা আইনজীবী পরিচয়ধারী অপর সদস্যের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে, সে অত্যন্ত নরম স্বরে কথা বলে জামিন নিশ্চিত হওয়ার ভুয়া খবর দিত এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় কম দাবি করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলত। ভুক্তভোগীরা সরল বিশ্বাসে কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে, প্রতারকরা মুহূর্তের মধ্যে টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা থেকে চম্পট দিত।

    ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় রুজু হওয়া একটি বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কারো সম্পর্কে নিশ্চিত না জেনে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইনে বা ফোনে কারো পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তা নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রতারিত হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে।’

  • মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের এ দিনে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি শহীদ হন।

    মীর কাসেম আলী ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তা, দানবীর ও ইসলামপন্থী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রদূত। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

    বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছিল। তবুও ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কাশিমপুর কারাগারে রায় কার্যকর করা হয়।

    তাঁর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সমর্থকগোষ্ঠী দোয়া মাহফিল, কুরআন খতম ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

    এ,আর

  • রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রিজভী

    রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রিজভী

    গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সমস্যা সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    বিরোধী দলের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন- ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা একটা অল্টারনেটিভ বলুন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।”

    তিনি বলেন, ‘কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।’

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘একটা পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি করা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। বরং কীভাবে এই সংকট নিবারণ করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা দিতে হবে। অতীতের পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে।’

    গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এটি সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে হয়নি।

    জুলাই আন্দোলনে গান ও নৃত্যের ভূমিকা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও সাহস তৈরি করেছিল।

    বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, নায়ক হেলাল খান, জাকির হোসেন রুকন প্রমুখ। পরে সংস্থাটির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

  • নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলশিক্ষার্থীর মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে। সে নীলফামারী ক্যাডেট অ্যাকাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে খাওয়া শেষ করে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মোন্নাফ। শুক্রবার সকালে তার কক্ষ থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মোন্নাফকে বিছানায় ছটফট করতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে ফেনাও বের হচ্ছিল।

    গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ঘুমের মধ্যেই কোনো বিষধর সাপ মোন্নাফকে দংশন করে। একা ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসেনি। সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    মোন্নাফের স্কুলের শিক্ষক সুমন রায় বলেন, পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল সে। কিন্তু এভাবে তার‌ মৃত্যু হবে এটা ভাবিনি। তার অকাল মৃত্যুতে তার বন্ধুরাও শোকাহত হয়ে পড়েছে।

    পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরটি একা ঘুমিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও রংপুর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

  • লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ বিরোধী দলের লংমার্চে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার জনআস্থা আরও হারাবে। জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।

    তবে সরকারি দল সে পথে হাঁটবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক।

    আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন বিরোধী দল করছে না।

    সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থা বজায় রাখা উচিত।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, আগামীকাল (শনিবার) সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

    যানজট বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর কথা। তবে এ ধরনের কর্মসূচির সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তাই সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পথে মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পথসভার সময় সংক্ষিপ্ত রাখতে সব সভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পথসভার আয়োজন করবে স্থানীয় শাখাগুলো এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তবে গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীরা পথসভায় নামবেন না। শুধু যাঁদের বক্তব্য দেওয়ার কথা, তাঁরাই নামবেন।

    পথে পথে আরও গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া গাড়িগুলো বহরের শেষ দিকে থাকবে।

    লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বলেন, লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। বাসগুলোতে থাকবে স্টিকার। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দলের সাংস্কৃতিক ও আইটি বিভাগ এবং মেডিক্যাল টিমের গাড়ি কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব সমস্যার সমাধানে ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সময়সীমার যে ‘ট্রেন’, সেটি স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। সরকার তা করেনি। এসব বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, সরকার তা সংসদেই বলুক।

    দেশে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তবে নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ আগের সরকারের তুলনায় কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু সরকার তা না করে একই পথে হাঁটছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা’ এখন যে আস্ফালন করছে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে উসকানি দিচ্ছে, তা ছয় মাসের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল না।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা তাঁরা করছেন না। ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে গেলে দুষ্কৃতিকারীরাও ভয় পাবে।

    তবে ন্যূনতম কোনো বিশৃঙ্খলা বা হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমন ঘটনার ‘শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে।

    পাটওয়ারী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‘ফ্যামিলি ব্যবসা’ শুরু করেছেন। এই ব্যবসা আগে গোপালগঞ্জে ছিল, এখন বগুড়ায় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদার দাবিতে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। হামলায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ডসংলগ্ন রিফাত আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি এর আগে কয়েক দফায় টাকা দিলেও সম্প্রতি স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তার কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, শুক্রবার জুমার নামাজের কিছু আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং সেখানে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে এলে তিনি দ্রুত রিফাত আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

    লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, চাঁদার দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতর করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধানের গোলা, গোয়ালঘর ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তায় ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক।

    উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় সারের সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে বেলাল মিয়া এবং রমিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে অভিযুক্তদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর, খড়ির মাচা ও ধানের গোলা তল্লাশি করে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার রয়েছে।

    অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে অবৈধ সার মজুতের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা ঘটনাস্থলেই নগদ আদায় করা হয়েছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উপজেলার সার বিতরণ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কেউ যাতে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে পুলিশ বিশেষভাবে নজর রাখছে।

    এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবৈধভাবে সার মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সময়মতো সহজে সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পর বদলে গেছে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচির পরিকল্পনা। তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে এশিয়া সফরের যে পরিকল্পনা করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), সেটি এখন বাতিল হওয়ার পথে।

    এশিয়া সফর বাতিল করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে তিনটি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।

    ইএসপিএন আর্জেন্টিনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিন ম্যাচের একটি ঘরোয়া সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এএফএ। প্রথম ম্যাচটি বুয়েনস এইরেসের এল মনুমেন্টালে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল অথবা কনক্যাকাফ অঞ্চলের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি দুটি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে আছে কর্দোবা ও রোজারিও।

    এর আগে এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে এশিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টিনার। চীনের বিপক্ষে একটি ম্যাচও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেসি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

    ইএসপিএনের সাংবাদিক দিয়েগো মনরোইগ জানিয়েছেন, পুরো আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার দেশের মাটিতে খেলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। স্পোর্টসসেন্টারের সকালের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘দলটির ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে পুরো সময়টা ঘরের মাঠে কাটানোর।’

    মেসিকে ছাড়া নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানোর ক্ষেত্রে ঘরের মাঠের এই তিন ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য। জুলাইয়ে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ এখন এই কোচের সামনে।

    এর পর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর আরেকটি ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ব্যস্ত সূচি শুরুর আগে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন দলকে প্রস্তুত করার জন্য আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো স্কালোনির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।

  • ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২০

    ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও সেবাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কেয়াবাগান এলাকায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে কুষ্টিয়া থেকে গড়াই পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের কেয়াবাগান এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়।

    এ সময় বাসে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

    আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্থানীয় সেবাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোফাজ্জেল হোসেন বাসসকে বলেন, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছে। আহত যাত্রীদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • পিরিয়ডের সময় মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হয় কেন? জেনে নিন এর কারণ

    পিরিয়ডের সময় মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হয় কেন? জেনে নিন এর কারণ

    এমনটা প্রায় অনেকের হয়; পিরিয়ডের সময় বা তার কয়েক দিন আগে থেকে মিষ্টি, চকলেট বা আইসক্রিম খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে। যতবারই নিজেকে ভোলাতে চান, ঠিক ততবারই মনে হয় একটু মিষ্টিজাতীয় খাবার চেখে দেখলে মন্দ হতো না! প্রায় সব নারীই প্রতি মাসে বা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। এটি নিছক মিষ্টিপ্রীতির ফল নয়, এর বৈজ্ঞানিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। পিরিয়ডের দিনগুলোতে কেন মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে, তার কয়েকটি কারণ সম্পর্কে জেনে নিন ঝটপট।

    হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও সেরোটোনিনের ঘাটতি

    পিরিয়ড শুরু হওয়ার ঠিক আগে শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যায়। এই পরিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক রাসায়নিকের উৎপাদন কমে যায়। সেরোটোনিন হলো আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী বা ফিল গুড হরমোন। যখন শরীরে সেরোটোনিন কমে যায়, তখন মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো করার উপায় খোঁজে। মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দ্রুত সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, তাই শরীরে তখন মিষ্টিজাতীয় খাবারের চাহিদা বাড়ে।

    শক্তির ঘাটতি ও অতিরিক্ত ক্লান্তি

    পিরিয়ড চলাকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং শক্তির অভাব দেখা দেয়। চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে থাকে উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে প্রবেশ করেই দ্রুত শক্তি জোগায়। শরীর যখন ক্লান্ত থাকে, তখন সে সহজে ও দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য মিষ্টি খাবারের সংকেত পাঠায়।

    রক্তে শর্করার তারতম্য

    পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতে হরমোনের কারণে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার ওঠানামা করে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে শরীর তা দ্রুত পূরণ করার জন্য মিষ্টি বা ক্যালরি-বহুল খাবারের তীব্র চাহিদা তৈরি করে।

    মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বৃদ্ধি

    পিরিয়ড চলাকালে শারীরিক অস্বস্তি এবং মুড সুইংয়ের কারণে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বাড়ে। স্ট্রেসের সময় শরীর থেকে অতিমাত্রায় কর্টিসল নামের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই কর্টিসল হরমোন আমাদের চর্বিযুক্ত এবং মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, যা সাময়িকভাবে মন শান্ত করে বা আরাম দেয়।

    স্বাস্থ্যকর উপায়ে ক্রেভিং দূর করবে যেভাবে

    অতিরিক্ত মিষ্টি বা রিফাইন্ড সুগার খেলে পিরিয়ডের ক্র্যাম্প বা পেটে ব্যথা ও ক্লান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে বেছে নিতে হবে এর স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলো।

    ডার্ক চকলেট

    সাধারণ মিল্ক চকলেটের বদলে ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট খান। এটি ম্যাগনেশিয়ামের চমৎকার উৎস, যা মেজাজ ভালো করে এবং পেশির টান কমায়।

    মিষ্টি ফল

    মিষ্টির তীব্র ইচ্ছা কমাতে খেজুর, কিশমিশ, পাকা কলা, আপেল বা আঙুর খেতে পারেন। চাইলে নারকেল ও নারকেলের পানিও পান করতে পারেন। এগুলো মিষ্টির চাহিদা মেটাবে আবার শরীরে পুষ্টিও জোগাবে।

    বাদাম ও নানা ধরনের বীজ

    কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হুটহাট মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমে।

    জটিল শর্করাজাতীয় খাবার

    কিছু শর্করাজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। সেগুলো খেলেও মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমে। ওটস, লাল চালের ভাত ইত্যাদি পিরিয়ডের কয়েক দিন খেয়ে দেখতে পারেন। এগুলো শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

    সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেয়া হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরো বলেন, মুন্নির মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক আব্দুল গনি। সমাজসেবক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রবাসী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নুরুল ওয়াহিদ, রাজনীতিবিদ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আহমদ রিয়াজ, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম, বড়লেখা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সমাজসেবক খালেদ আহমদ, রবিউল ইসলাম সুহেল, শাহিন আহমদ, সুরমান আহমদ ও শিপার আহমদ, সাংবাদিক হাসান শামীম ও ফয়ছল আহমদ সাগর, ছাত্রনেতা তানিম আহমদ, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।

    মুন্নির পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বাবা মকবুল আলী, মা রেনু বেগম ও ভাই মাছুম আহমদ।

    পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে মুন্নির বিরোধের একপর্যায়ে তাকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। পরে তার বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে এক মুরব্বি ফোন করে তাকে জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

    পরিবারের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বিমের সাথে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

    মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, মুন্নিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় একটি পরিবার যেমন স্বজন হারিয়েছে, তেমনি মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের নিরসনে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান তারা। একইসাথে মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

  • আর্থিক সংকট কাটিয়ে রাজস্ব আয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা

    আর্থিক সংকট কাটিয়ে রাজস্ব আয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা

    করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া বার্সেলোনা এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি রাজস্ব আয় করেছে কাতালান ক্লাবটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

    বার্সেলোনার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্লাবটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরোতে। আগের মৌসুমে এই অঙ্ক ছিল ৯৯৪ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    রেকর্ড আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু। সংস্কারকাজ চলার কারণে মৌসুমজুড়ে স্টেডিয়ামটি পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। মৌসুমের শুরুতে কিছু ম্যাচ এস্তাদি জোহান ক্রুইফ ও অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার পরও দর্শক ধারণক্ষমতা সীমিত ছিল ৪২ হাজারে।

    এসব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের প্রায় পুরোটা রাজস্ব আদায় করতে পারাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ক্লাবটি। বার্সেলোনার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি ছিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল মৌসুম, যেখানে প্রথমবারের মতো এক বিলিয়ন ইউরোর সীমা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।

    ক্লাবের মতে, স্টেডিয়াম পরিচালনা ও ম্যাচডে আয়ের বৃদ্ধি এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। ক্যাম্প ন্যু পুরোপুরি চালু হলে ভবিষ্যতে রাজস্ব আরও বাড়বে বলে আশাবাদী বার্সা কর্তৃপক্ষ।

    স্টেডিয়াম আয় ছাড়াও পৃষ্ঠপোষকতা খাত এবং ক্লাবের মার্চেন্ডাইজিং প্রতিষ্ঠান বার্সা লাইসেন্সিং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং (বিএলএম) থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব এসেছে। গত মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার সমান।

    এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য বার্সেলোনা প্রথম নির্ধারণ করেছিল ২০১৮ সালে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব সেই পরিকল্পনাকে পিছিয়ে দেয়। আট বছর পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে ক্লাবটি।

    অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল ছিল বার্সেলোনা। জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্প্যানিশ লা লিগা শিরোপা জিতেছে দলটি।

    তবে রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এখনো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের পেছনে রয়েছে বার্সা। গত মৌসুমে রিয়ালের আয় ছিল প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যদিও দুই ক্লাবের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমছে। দল শক্তিশালী করতে গত গ্রীষ্মে খেলোয়াড় কেনার পেছনে বার্সেলোনা ব্যয় করেছে প্রায় ২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা।

    উল্লেখ্য, ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয়ের কীর্তি গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সেই মাইলফলক স্পর্শ করা ক্লাবটির পর এবার একই কাতারে নাম লেখাল বার্সেলোনা।

  • নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে চকবাজার চক মসজিদ থেকে শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা শাহবাগে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন।

    এ সময় নোয়াখালীকে দ্রুত পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

    আন্দোলনকারীরা বলেন, নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

    উল্লেখ্য, এ আন্দোলনে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদকে দেখা গেছে।

    এদিকে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও। ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    পুলিশের সঙ্গে কথা হলে সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।

  • হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে হঠাৎ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরানের স্বপ্ন।

    বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই মনোহারি দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা-পয়সা ভস্মীভূত হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের হেলিপ্যাড সংলগ্ন একটি মনোহারি দোকানে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপের ব্যবসা শুরু করেন ইমরান মিয়া। ওই দোকান থেকে হোসেনপুর ও আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসব পণ্য সরবরাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও দোকানটি তালাবদ্ধ করে তিনি নিজের বাড়িতে চলে যান। পরে গভীর রাতে এক রিকশাচালক ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানে আগুন জ্বলতে দেখতে পেয়ে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান।

    দোকান মালিক মোবাইলে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, ‘দুটি কোম্পানির প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল দোকানে ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগ মালামাল পুড়ে গেছে। এতে আমার ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো: শামসুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজের খাবার খেয়ে গত চারদিনে শিশুসহ অন্তত ২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্রেতারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হন। একই দোকানের খাবার খেয়ে একাধিক পরিবারের সকল সদস্য একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গার ওই দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান ক্রেতারা। তা খাওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অসুস্থদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন জোড়গাছা গ্রামের মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তার দুই ছেলে তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮)। রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী, মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) ও আত্মীয় সুবর্ণা খাতুন (২১)। চিলাভালকী গ্রামের সোনিয়া খাতুন (২২), সাবিনা খাতুন (৩২), জনি (১১) ও রনি (১৫)।

    এছাড়া হাপানিয়া, গৌরীহ্রদ ও খাসকররা গ্রামের শিরিনা খাতুন (৪০), নুসরাত জাহান (১৬), পারুলা বেগম (৪২), পরিছন নেছা (৪৫), আইভি খাতুন (২৩), জিসান (৫) ও মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশু জায়ান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো অন্তত ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ও তাদের চিকিৎসা চলছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রহস্যজনকভাবে খাবার রান্না করা হতো, যেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা খাদ্য নিরাপত্তার কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্স সম্বল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান।

    ঘটনার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী মঙ্গলবার বিকেলে দোকানটিতে অভিযান চালান। প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি দ্রুত সব প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল সতর্কতায় সন্তুষ্ট নন; অনতিবিলম্বে লাইসেন্সহীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও খাবারের মান পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    হুলিয়ান আলভারেজের জন্য যে এখনো আকুল হয়ে আছে বার্সেলোনা সেটা সবারই জানা। তবে আর্জেন্টাইন এই তারকা ফরোয়ার্ডকে শেষ পর্যন্ত না পেলে বিকল্প একাধিক পরিকল্পনাও নাকি ছিল কাতালান ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আলভারেজের জাতীয় দলের সতীর্থ লাউতারো মার্তিনেজকেও বিবেচনায় রেখেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

    ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন লাউতারো মার্টিনেজ। ‘গ্রান গালা দেল ক্যালসিও’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ইন্টার মিলানের এই অধিনায়ক কথা বলেন ‘স্কাই ইতালি’র সামনে। বার্সেলোনায় হুলিয়ান আলভারেজের সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর মার্তিনেজকে জড়িয়ে যেসব দলবদলের গুঞ্জন চাউর হয়েছিল, সে বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে একদমই পিছপা হননি তিনি।

    দলবদলের এই গুঞ্জন নিয়ে সরাসরিই মার্তিনেজ বলেন, ‘এই ধরনের কোনো প্রস্তাব আসলে সত্যি বলতে বেশ ভালো লাগে, কারণ নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার জন্যই তো আমরা দিনরাত কষ্ট করি। গুঞ্জনগুলো কিন্তু মিথ্যে ছিল না, তবে আমার চিন্তাভাবনা শুরু থেকেই একদম পরিষ্কার ছিল—আমি ইন্টারের সতীর্থ আর আমাদের এই অসাধারণ সমর্থকদের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাকে যত দিন চাইবে, আমি এখানেই থাকব; এমনকি সারা জীবন থেকে যেতে বললেও আমার আপত্তি নেই।’

    অবশ্য পেশাদার ফুটবলে যে ভিন্ন বাস্তবতাও আছে সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মার্তিনেজ, ‘তবে এই পেশার নির্মম বাস্তবতা তো আমাদের সবারই জানা—যখন তুমি আর কারো কাজে আসবে না, তখন তোমাকে ছুড়ে ফেলা হবে। ইন্টার আমার কাছে সবকিছু—আমার গর্ব, আমার আনন্দ আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রেরণা। তাই আবারও এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইন্টারের হয়ে দারুণ কিছু করে দেখাতে চাই।’

    ২৯ বছর বয়সি মার্তিনেজ আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ রানার্সআপ হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিলেন। আবার অধিনায়ক হিসেবে ইন্টারের ঝুলিতে তুলে দিয়েছেন আরও একটি ‘স্কুদেত্তো’। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার পা থেকে এসেছে ২২টি গোল।

    ক্লাবে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ইন্টারের তারকা ফরোয়ার্ড আরও যোগ করেন, ‘আমি এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এখানে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি এবং ইন্টারের হয়ে দারুণ সব সাফল্য পেতে চাই।’

    ২০১৮ সালে ইন্টার মিলানে নাম লিখিয়ে ক্লাবটির হয়ে অনেক সাফল্যই পেয়েছেন মার্তিনেজ। ৩৭৮ ম্যাচে ইতালি জায়ান্ট ক্লাবটির জার্সিতে করেছেন ১৭৫ গোল। তিনটি লিগ শিরোপা সহ জিতেছেন মোট নয়টি ট্রফি।

    ইন্টার মিলানের হয়ে এতটা সাফল্য পাওয়ার কথা কখনো কল্পনাতেও নাকি ছিল না মার্তিনেজের। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড বলেন, ‘ইন্টারে নিজের ক্যারিয়ার এই পর্যায়ে পৌঁছাবে কিংবা সব স্বপ্ন পূরণ হবে—এমনটা আগে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। তবে এই সাফল্যই আমাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে; শুরু থেকেই আমার মানসিকতা এমন। প্রতিটি ট্রেনিং সেশনেই আমি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করি। ফুটবলে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আগে থেকে বলা অসম্ভব, তবে বর্তমান চুক্তিতে আমি অত্যন্ত সুখী। এখানে আমি বেশ ভালো আছি এবং ইন্টারের হয়ে আরও বড় বড় অর্জন ছুঁতে চাই বলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    ইন্টার মিলানের সঙ্গে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মার্তিনেজের। অন্যদিকে ইন্টার কর্তৃপক্ষও ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মূল্যেই হোক নিজেদের অধিনায়ককে হাতছাড়া করতে রাজি নয় তারা।

  • চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ
    জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় চৌগাছা
    পৌরসভার হালদারপাড়ার রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ
    পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ উপলক্ষে আলোচনা
    সভা করা হয়।
    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ
    সদস্য ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
    সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে এটাই
    দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পার¯পরিক সম্প্রীতি,
    সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
    এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চৌগাছা উপজেলা শাখার
    আহ্বায়ক শ্রী গোবিন্দ কুমার রাহা। উপজেলা পূজা মন্ডপ কমিটির সাধারণ
    সম্পাদক শ্রী অভিজিৎ কুমার রায়ের পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন পূজা
    উদযাপন পরিষদ চৌগাছা উপজেলার সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল।বিশেষ অতিথির
    বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, সহকারী কমিশনার
    (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জি. এম. এ. মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ওসি
    মামুনুর রশিদ পিপিএম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ,
    সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ ও সাংবাদিক এম এ রহিম, শুভ জন্মাষ্টমী
    উদযাপন উপকমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক শ্রী ধীরেন্দ্র নাথ দে, সদস্য সচিব শ্রী
    নির্মল কুমার কুন্ডু, শ্রী রণজিত কুমার বিশ্বাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
    ঐক্যপরিষদ, চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী অনন্ত সরকার, বাংলাদেশ পূজা
    উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্রী নিমাই কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের
    নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি র‌্যালী পৌর শহর
    প্রদক্ষিণ করে।
    জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় তাৎপর্যসনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের
    কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই এ দিনটি
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

    অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ
    প্রার্থনা করা হয়।

  • চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ হলরুমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তোমাদের মেধা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও সততা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। শুধু মেধা দিয়ে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; মেধার সাথে নৈতিকতা ও সততার সমন্বয় ঘটাতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্জিত মেধা ও জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এহসানুল কাদের ইমরোজ। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলফাজ হুসাইনের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন শিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ ক্যাম্পাস সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী।

    এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান প্রমুখ।

    সংবর্ধনা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্নব বিশ্বাস পাপন ও তাজরিন নাহার অর্থি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    এ বছর উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৬ জন, ২১টি মাদরাসা থেকে পাঁচজন ও কারিগরি বিভাগ থেকে তিনজনসহ মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২০ জন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বকালের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক এখন স্মৃতি মান্ধানা

    সর্বকালের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক এখন স্মৃতি মান্ধানা

    স্মৃতি মান্ধানার ব্যাট যেন এক অন্য ইতিহাস লিখলো। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন ভারতের এই মারকুটে ওপেনার। স্মৃতি পেছনে ফেলে দিলেন কিংবদন্তি মিতালী রাজকে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মেগ লানিংকে টপকে নারী ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরির মুকুটও নিজের মাথায় পরে নিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

    এশিয়া কাপে হংকংয়ের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মান্ধানা। মাত্র ৬৪ বলে চোখ জুড়ানো ১২৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন তিনি। ১৪টি চার এবং ৭টি ছক্কায় সাজানো এই ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান তোলে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে হংকং গুটিয়ে যায় মাত্র ৫৬ রানে, আর ভারত পায় ১৩৭ রানের বিশাল এক জয়।

    এই ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির সুবাদেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মান্ধানার মোট রান দাঁড়ালো ১০,৮৮০তে। এর আগে ১০,৮৬৮ রান নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিলেন ভারতেরই আরেক গ্রেট মিতালী রাজ। এছাড়া এটি ছিল মান্ধানার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৮তম শতক, যা তাকে ছাড়িয়ে গেছে মেগ লানিংয়ের রেকর্ডকে।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে মান্ধানা বলেন, ‘যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলাম, ঠিক কত রান করেছি বা কোন রেকর্ড ভাঙছি-সেটি আমার জানা ছিল না। তবে পেছনের দিকে তাকালে বলব, এটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য দারুণ একটি দিন। মিতালী সব সময়ই একজন কিংবদন্তি এবং রোল মডেল। আমরা সবাই তাকে দেখেই বড় হয়েছি। তাই রানসংগ্রাহকের তালিকায় তাকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা এমন কিছু, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি।’

    ভারতের এই তারকা ব্যাটার আরও বলেন, ‘মেগ লানিং এবং মিতালী রাজ-খেলার এই দুই গ্রেটকে দেখেই আমরা বড় হয়েছি। ব্যাটার হিসেবে তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। আজ তাদের ছাড়িয়ে যেতে পেরে আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত।’

    স্মৃতির এই সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শুভেচ্ছা জানান খোদ মিতালী। তিনি লেখেন, ‘যথেষ্ট প্রাপ্য ছিল, স্মৃতি। একজন তরুণ খেলোয়াড় থেকে তোমাকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়ে উঠতে দেখেছি। আমার রেকর্ড ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তোমার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হওয়াটা এমন এক মুহূর্ত, যা আমাকে সত্যিই গর্বিত করেছে। তোমার ব্যাট থেকে আরও রান ও মাইলফলক আসুক। এভাবেই এগিয়ে যাও!’

    ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মান্ধানার। চলতি এশিয়া কাপে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ৩০ বছর বয়সী এই ওপেনারের সামনে এবার ১১ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার হাতছানি। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে ভারত।

  • জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে শাহবান আহমদ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তানিশা নামে আরো এক শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু মাঝপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু শাহবান আহমদ ওই গ্রামের কাশেম আলী মাস্টারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু শাহবান ও তানিশা পরিবারের সবার অজান্তে ফতেপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ফারুক আহমদের বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় এক নারী তানিশাকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করেন। তবে সেই সময় শাহবানকে দেখতে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পানির নিচ থেকে শাহবানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    অন্যদিকে আহত তানিশাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

    বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • রাজবাড়ীতে পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

    রাজবাড়ীতে পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজবাড়ীর কালুখালীতে পাটবোঝাই ভ্যানের সাথে ধাক্কায় মো: সিরাজুল শেখ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে (৩ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: সিরাজুল শেখ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহমীরপুর গ্রামের শুকুর আলী শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে শাহমীরপুর গ্রাম থেকে সাত-আটজন ব্যক্তি একটি ভ্যানে করে কালুখালী বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। কালুখালী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে তাদের সেখান থেকে বাসযোগে ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া দরবারে ওরস শরীফে যাওয়ার কথা ছিল।

    পথে বেলা ১১টার দিকে কালুখালীর হরিনবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী ভ্যানটির সাথে অপর একটি পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কা লাগে। এতে ভ্যানে থাকা সিরাজুল ছিটকে পড়ে যান। এ সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে ফরিদপুরেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজুলের মৃত্যু হয় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) গোলাম মোস্তফা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির বাড়ি পাংশা থানায়, তাই মামলা পাংশা থানায় হবে।

  • ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর দাগনভূঞায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মো: জাহিদ হোসাইনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাত হোসাইন মিনার জানান, জামশেদুর রহমান ফটিকের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তিনি ওই মামলার একমাত্র আসামি।

    তিনি জানান, জামিনে গিয়ে ফটিক অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ফেনীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, ফটিকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে।

  • ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে অভিনেতা বুলবুল আহমেদের পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন

    ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে অভিনেতা বুলবুল আহমেদের পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন

    প্রয়াত বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও ‘মহানায়ক’ বুলবুল আহমেদের শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার জন্মদিন উপলক্ষে এসব পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে হস্তান্তর করেছে তার পরিবার।

    আজ বুধবার বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও মেয়ে তিলোত্তমা তার শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের কাছে হস্তান্তর করেন। আগামীকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বুলবুল আহমেদের জন্মদিন।

    দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিতে বুলবুল আহমেদের অসামান্য অবদানের স্মারক হিসেবে তার অর্জিত এসব পুরস্কার ও সম্মাননা জাতীয় সম্পদ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতেই পরিবারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বুলবুল আহমেদের শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের কাছে হস্তান্তর করেন স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও মেয়ে তিলোত্তমা

    প্রতি বছর ৪ সেপ্টেম্বর বুলবুল আহমেদের জন্মদিন ঘিরে পরিবার ও তার অনুরাগীদের নানা আয়োজন থাকে। তবে এ বছর বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব না হলেও তার দীর্ঘ শিল্পীজীবনের অর্জন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে ভবিষ্যৎ সংরক্ষণের জন্য দান করেছে পরিবার। চলচ্চিত্র অনুরাগী দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া এবং তার স্মৃতি ধরে রাখার মধ্য দিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।

    বুলবুল আহমেদ শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে তার অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা সংরক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে তার কর্ম ও কীর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বেঁচে থাকবে।

  • নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতি। সেই মদিনার মাটিতেই যুগের পর যুগ ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে খেজুর চাষ। শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মরূদ্যান ও খেজুরবাগানে ফলছে নানা জাতের খেজুর।

    আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই নগরী কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।

    মদিনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে অঞ্চলটিতে কৃষি খাতের বাণিজ্যিক নিবন্ধন ছিল ৩৭৫টি। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৫৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনা সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেখানে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন খেজুর উৎপাদন হয়, যা দেশটির মোট খেজুর উৎপাদনের ১৮ শতাংশ।

    মদিনায় ২৬ হাজারের বেশি খেজুরের খামার রয়েছে। এসব খামারে খেজুরগাছের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। বিভিন্ন জাতের খেজুর উৎপাদন করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

    প্রতি বছর মদিনা অঞ্চল থেকে ৪ কোটি ১৫ লাখ কেজির বেশি খেজুর ৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। সৌদি আরবের মোট খেজুর রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মদিনায় ৩৯টি খেজুর কারখানা রয়েছে। দেশের ১৬১টি অঞ্চলের মধ্যে খেজুর কারখানার সংখ্যায় মদিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

    এসব কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন খেজুরজাত পণ্য ও উপজাত উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টন খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি মদিনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের রপ্তানি খাতও শক্তিশালী হচ্ছে।

    সূত্র: আরব নিউজ

  • পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে মারামারি মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের পিকআপ উল্টে আব্দুস সালাম (৫১) নামে এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও চার পথচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুস সালাম কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকরমশি গ্রামের আব্দুল বারেক ভূইয়ার ছেলে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে মাদারীপুর পৌর শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে মারামারি মামলার চার আসামি রজ্জব, জহিরুল ইসলাম, মিজান ও আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে শিবচর থানায় নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। পথে পিকআপটি মঠেরবাজার এলাকায় পৌঁছালে ইমা আক্তার নামে এক শিশু হঠাৎ রাস্তা দিয়ে দৌড়ে যায়।

    শিশুটিকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক পিকআপটির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি উল্টে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    এতে পিকআপে থাকা কনস্টেবল আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক (৪৫), কনস্টেবল সোহেল মাতুব্বর (৩৫), কনস্টেবল শামীম মিয়া (৩৪), কনস্টেবল হাসান হোসেন (২৫) ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম (৩২)।

    আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর আড়াই শ’ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত চার পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

    মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, আসামি নিয়ে ফেরার পথে একটি শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গাড়িটি উল্টে যায়। এতে পুলিশের এক সদস্য নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ–নদীর দখল–দূষণ রোধ করে নদীর স্বাভাবিক নাব্য রক্ষা ও দখল হয়ে যাওয়া নদ–নদী পুনরুদ্ধার করতে কেন্দ্রীয় সেল গঠন করেছে সরকার।

    গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সেল গঠনের কথা জানানো হয়।

    ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় এ সেলের আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। এ সেলের অধীনে থাকবে তিনটি সাব–কমিটি। প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় সেল ও এসব সাব–কমিটির কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, ধলেশ্বরীসহ খাল, নালার দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদ-নদী পুনরুদ্ধারে এ সেল কাজ করবে।

    কেন্দ্রীয় এ সেলের উপদেষ্টা করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এ সেলের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবে নৌবাহিনী।

    ৩৭ সদস্যের এ সেলের সদস্য করা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সচিব, নৌবাহিনীর প্রতিনিধি (রিয়ার এডমিরাল পদমর্যাদার কর্মকর্তা), পুলিশের মহাপরিদর্শক, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান, ঢাকার বিভাগী কমিশনার, নৌপুলিশের এআইজি, ঢাকা ওয়াসার এমডি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধি, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্যানারি মালিক সমিতি ও ডক ইয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, এনজিও (পরিবেশ অধিদপ্তর মনোনীত)

    দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা অপসারণ, নদ-নদী পুনরুদ্ধার ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতে তিনটি সাব কমিটি গঠন করে তাদের কাজ পরিধি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাব–কমিটি ১ শিল্পবর্জ্যসহ সকল বর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ, সাব–কমিটি ২ খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদী পুনরুদ্ধার ও পানির প্রবাহ সচল রাখা এবং সাব–কমিটি ৩ নদীর তলদেশে জমে থাকা স্থায়ী বর্জ্য অপসারণসহ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ করবে।

    প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সেল তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে। বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত চলমান প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে কেন্দ্রীয় সেল।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ২০২৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এক ম্যাচের সেই সিরিজটি হবে লর্ডসে। ম্যাচ শুরুর ৮ মাস আগেই শুরু হয়ে গেছে এই টেস্টের টিকিট বিক্রি!

    আগামী বছরের ২৮ মে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড লর্ডস টেস্ট। এই ম্যাচের এখনো বাকি প্রায় ৮ মাস। তবে এরই মধ্যে টেস্টের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

    লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই টিকিট বিক্রির খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘লর্ডসে ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য সাধারণ দর্শক ব্যালট এখন উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে সমর্থকরা ‘হোম অব ক্রিকেটে’ হতে যাওয়া গ্রীষ্মকালীন ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

    লর্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ অক্টোবর সাধারণ দর্শকের জন্য বরাদ্দ ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই বছরের নভেম্বরের শুরুতে সফল আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের তালিকাভুক্তদের ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। প্রথম ধাপের সফল আবেদনকারীদের জন্য টিকিট কেনার নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে ১৭ নভেম্বর। ১০ ডিসেম্বর সাধারণ টিকিট বিক্রি শুরু করবে লর্ডস।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৬ সালে মিরপুরে সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ২০১০ সালে। ওই সফরেও লর্ডসে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ঐতিহাসিক এক সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

  • এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তকরণ এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের নির্বাচন পর্যালোচনায় ৮ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

    ওই কমিটিতে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিটির অপর সদস্যদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    > অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্যসচিব

    > ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, সদস্য

  • আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    একটা সময় আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির গল্পটা ছিল শুধুই আক্ষেপের। বারবার ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়া, আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দিতে না পারার আক্ষেপই ছিল বেশি। সেই মেসিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপসহ পূরণ করেছেন নিজের এবং আর্জেন্টাইনদের সব স্বপ্ন।

    সব ট্রফি জেতা মেসি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় বলেছেন। এখন মেসিকে তাঁর মতো করে ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়ার পক্ষে আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার হোয়ান রোমান রিকেলমে। সে কারণে মেসির এই সাবেক জাতীয় দল সতীর্থ চান, মেসি আর্জেন্টিনায় না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকুক।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির প্রশংসা করে রিকেলমে বলেছেন, আর্জেন্টাইনদের উচিত এখন তাকে আরও বেশি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানো।

    রিকেলমের ভাষায়, ‘আমাদের উচিত মেসিকে আরও বেশি ধন্যবাদ জানানো। ও যা করেছে, এরপর আমরা মেসির কাছে আর কী চাইতে পারি? মেসি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে, আমাদের স্বপ্নও পূরণ করেছে। মেসি সর্বকালের সেরা কি না জানি না, তবে সেরাদের একজন। কোনো ফুটবলার এত বছর ধরে সেরা পর্যায়ে থাকতে পারেনি। এটা অবিশ্বাস্য।’

    মেসির দীর্ঘ সংগ্রামের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রিকেলমে। শুরুতে জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য না পেলেও মেসি কীভাবে লড়াই করে গেছেন, সেটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টাইনরা মেসিকে যে ভালোবাসা দিচ্ছে, সবটুকুই ওর প্রাপ্য। কারণ, মেসি নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছে। অনেক কষ্ট করেছে। শুরুতে জিততে পারেনি, অনেক সংগ্রাম করেছে। শেষ পর্যন্ত মেসি সবকিছু অর্জন করেছেন। ঈশ্বর মেসির প্রতি ন্যায়বিচার করেছে, এটা সত্যিই দারুণ। এখন আমাদের উচিত মেসিকে ভালোবাসা। আর্জেন্টিনার ফুটবল ও পুরো ফুটবলের জন্য মেসি যা করেছে, তার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। পুরো বিশ্ব মেসিকে ভালোবাসে আর ও সেই ভালোবাসার যোগ্য।’

    মেসির সঙ্গে রিকেলমের সম্পর্কও বেশ পুরোনো। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছেন। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন সোনার পদক। সেই সম্পর্ক এখনো অটুট। ২০২৩ সালে রিকেলমের বিদায়ী ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি মেসির আগে পরেছেন রিকেলমে। এখন বোকা জুনিয়র্সে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এ মিডফিল্ডার।

    লিওনেল মেসি ও হুয়ান রোমান রিকেলমে ইনস্টাগ্রাম

    মেসির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিকেলমে বলেন, ‘আমি সব সময় মেসির সঙ্গে কথা বলি। আমাদের সম্পর্কটা দারুণ। মেসি আমাকে খুব ভালোবাসে, আমিও ওকে খুব ভালোবাসি। আমি ওর সঙ্গে আরও অনেক বেশি খেলতে চেয়েছিলাম। তবে যতটুকু খেলতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমাদের মধ্যে যে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান আছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’

    মেসির মতো খেলোয়াড় আবার আসবেন কি না, সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন রিকেলমে। তবে আর্জেন্টাইনরা তাঁর মতো কাউকে পেয়েছিল বলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন রিকেলমে।

    শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আমরা আর কখনো মেসির মতো খেলোয়াড় পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করব কি না, জানি না। ম্যারাডোনা মারা যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম, এমন কেউ আর আসবে না। এরপর এমন একজন এল, যিনি তাঁর মতোই ভালো, কিংবা আরও ভালো। আমরা আর্জেন্টাইনরা খুবই ভাগ্যবান।’

    মেসিকে এখন নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতে দিতে চান রিকেলমে। আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন মেসি।

    এর আগে জানা গিয়েছিল, ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে আর্জেন্টিনায় নিজের শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির ফেরার ইচ্ছা আছে।

    লিওনেল মেসি এখন ইন্টার মায়ামির হয়ে এএফপি

    কিন্তু রিকেলমে মনে করেন, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে ফেরার চেয়ে মেসি যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো, ‘এখন মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রে যত দিন ইচ্ছা ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়া উচিত। আমরা আর্জেন্টাইনরা মেসিকে সব সময় অনেক ভালোবাসা ও স্নেহ দেব। আমাদের উচিত মেসিকে একা ছেড়ে দেওয়া। যত দিন মেসি খেলতে চায়, তাকে খেলতে দেওয়া উচিত। ওর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো। আর আমরা আর্জেন্টিনার সব ফুটবলপ্রেমী মেসিকে সমর্থন করে যাব।’