সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তার ননদ চামেলী আক্তারকে (২৫) ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতারের পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চামেলী আক্তার বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের মরহুম ইয়াছিন আলীর মেয়ে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মা রেনু বেগম বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে মুন্নি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জা-সহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরো পাঁচজনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করা হয়।

    মামলা দায়েরের পর পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বড়লেখা থানার এসআই শেখ কামরুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আবদুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।

    পুলিশ জানায়, প্রায় ৪৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকা থেকে চামেলী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

    বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান চামেলী আক্তারের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রায় ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর শনিবার সকালে তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের কেউ ঠিক করতে পারে না

    মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের কেউ ঠিক করতে পারে না

    মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা কোনো বাইরের দেশের চাওয়া বা নির্দেশে তৈরি হতে পারে না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

    সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল টাউন হল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বরাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আফসোস করে বলেন, বড় বড় শক্তিশালী দেশগুলো যখন নিজেদের স্বার্থের জন্য আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে ফেলে, তখন আর নিয়ম-কানুনের কোনো দাম থাকে না। জাতিসংঘসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যদি এসব অন্যায় আর আক্রমণের বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে না দাঁড়ায়, তবে মানুষ তাদের ওপর থেকে একেবারেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।

    পৃথিবীকে সুন্দরভাবে চালাতে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে পারস্পরিক আলোচনার গুরুত্ব বেশি বলে মনে করেন আরাগচি। যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই থেমে থাকে না, তা বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের খরচ চালাতে সাধারণ মানুষকে ট্যাক্স দিতে হয়, কিন্তু সবচেয়ে বড় মাশুল দিতে হয় সাধারণ জীবন দিয়ে। মানুষ নিজের জীবন, রক্ত, ঘরবাড়ি ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।

    নিরাপত্তার আসল সমাধান কোথায় তা ব্যাখ্যা করে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতি কিংবা তাদের গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে কখনোই শান্তি আসতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস বাড়াতে হবে, একে অপরকে সম্মান জানাতে হবে এবং একসঙ্গে বসে কথা বলতে হবে।

  • চৌগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    চৌগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় আবুল কাশেম (৬৫) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার আড়ারদহ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার কাশেম উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের আড়ারদহ গ্রামের মরহুম আমিনুল্লাহর ছেলে। তিনি ফুলসারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন।

    পুলিশ জানায়, সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক আসামিকে শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

  • ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা বাড়লো ২০৩১পর্যন্ত

    ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা বাড়লো ২০৩১পর্যন্ত

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার আইনে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই আইনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও অন্যান্য বিধিনিষেধ বৃদ্ধি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের ‘এইচআর ৫৩৩৪’ বিলে সই করেন। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সময়সীমা বৃদ্ধি করার সুযোগের পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন আইনে ১৯৯৬ সালের ‘ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট’ আরও পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এর ফলে ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ২০৩১ সাল পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ আইনে ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ধরনের মধ্যে রয়েছে—দেশটির পেট্রোলিয়াম কেনা, পরিবহন, অর্থায়ন, বিমার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা ও পেট্রোলিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগ।

    এদিকে নতুন ও আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে তেহরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ চীনে যায়। ইরানের তেল বিক্রি ও পরিবহনে ভূমিকার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও ভারতের তেল ব্যবসায়ী, জাহাজ কোম্পানি ও ট্যাংকার পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সুযোগ ও ডলারে লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

    এ সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে থাকা বিদেশি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও আগামী পাঁচ বছরের (২০৩১ সাল) জন্য বহাল থাকবে।

    আইনটির নামকরণ করা হয়েছে গত জুলাইয়ে মারা যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জোরালো সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন। এ আইন পাসের জন্যও কাজ করেন তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    চুয়াডাঙ্গায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের চেম্বার অব কমার্স ভবন প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাগর আহমেদের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাসুম বিল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনাস ইবনে মনির।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমির ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আনোয়ারুল হক মালিক ও শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ জামিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও এটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, সৎ চরিত্র ও মানবিক গুণাবলিতে বলীয়ান হতে হবে। শিক্ষার সাথে আদর্শিক চরিত্রের সমন্বয় ঘটলেই অর্জিত মেধা সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

    বক্তারা শিক্ষার্থীদের আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে নিজেদের সৎ, দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় ফেরার চেষ্টা চলছে: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় ফেরার চেষ্টা চলছে: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলি জেইনিভান্দ। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে জেইনিভান্দ বলেন, ইরান চাইছে এই সমঝোতার আওতায় অপর পক্ষ যেন তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলে।

    ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি এমন একটি সমঝোতা, যা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অনুমোদন দিয়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা নিশ্চিত করেছেন। একে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।’

    তিনি আরো বলেন, ভারত ও কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই ও ব্রিকস সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং নিবিড় আলোচনার মধ্য দিয়ে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    কয়েক দশকের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরানে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওই মুখপাত্র বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে এবং সব কর্মকর্তা এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • যেভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে নির্বাচন করা হয়

    যেভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে নির্বাচন করা হয়

    ব্যালন ডি’অরের লড়াই যতই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি প্রশ্ন—বিশ্বসেরা ফুটবলার নির্বাচনে আসলে কোন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়? গোল, অ্যাসিস্ট ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই কি শেষ কথা, নাকি দলের হয়ে জেতা ট্রফিরও বড় ভূমিকা রয়েছে?

    বাস্তবে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে কোনো একটি পরিসংখ্যানই চূড়ান্ত নির্ধারক নয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্য, সেই সাফল্যে খেলোয়াড়ের অবদান, মাঠের আচরণ ও ফেয়ার প্লের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর সামনে রেখে তাই লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, লিওনেল মেসি ও রদ্রির মতো তারকাদের নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত কে পুরস্কারটি জিতবেন, তা নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট ভোটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

    যেভাবে বেছে নেওয়া হয় বিজয়ী

    ব্যালন ডি’অরের আয়োজন করে ফ্রান্স ফুটবল। ২০২৪ সাল থেকে উয়েফাও এই আয়োজনের সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। প্রথমে ৩০ জন ফুটবলারের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রত্যেকটি থেকে একজন করে বিশেষায়িত সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

    প্রতিটি ভোটার ৩০ জনের তালিকা থেকে নিজের পছন্দের সেরা ১০ খেলোয়াড়কে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। এরপর অবস্থান অনুযায়ী এই ক্রমানুসারে দেওয়া হয় পয়েন্ট-

    • প্রথম পছন্দ: ১৫ পয়েন্ট
    • দ্বিতীয়: ১২ পয়েন্ট
    • তৃতীয়: ১০ পয়েন্ট
    • চতুর্থ: ৮ পয়েন্ট
    • পঞ্চম: ৭ পয়েন্ট
    • ষষ্ঠ: ৫ পয়েন্ট
    • সপ্তম: ৪ পয়েন্ট
    • অষ্টম: ৩ পয়েন্ট
    • নবম: ২ পয়েন্ট
    • দশম: ১ পয়েন্ট

    সব ভোটারের দেওয়া পয়েন্ট যোগ করার পর যার স্কোর সবচেয়ে বেশি হয়, তিনিই হন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী।

    দুই বা তার বেশি খেলোয়াড়ের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হয়, কার পক্ষে সবচেয়ে বেশি প্রথম পছন্দের ভোট রয়েছে। সেখানেও সমতা থাকলে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট, এরপর তৃতীয় পছন্দসহ ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী অবস্থানের ভোট বিবেচনা করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

    কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

    ব্যালন ডি’অরের মূল্যায়নে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স:
    মাঠে একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব কতটা ছিল, তার পারফরম্যান্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী—এটি মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি। গোল, অ্যাসিস্টসহ সামগ্রিক নৈপুণ্য এখানে বিবেচনায় আসে।

    দলীয় সাফল্য:
    ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়ের অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ট্রফি জেতাই যথেষ্ট নয়; সেই সাফল্যে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অবদান কতটা ছিল, সেটিও বিবেচনা করা হয়।

    আভিজাত্য ও ফেয়ার প্লে:
    মাঠে খেলোয়াড়ের আচরণ, খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা এবং ফেয়ার প্লে-ও মূল্যায়নের অংশ। অর্থাৎ একজন ফুটবলারের সামগ্রিক আচরণও ব্যালন ডি’অরের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাই ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে শুধু গোলসংখ্যা কিংবা ট্রফির হিসাব দিয়ে সবকিছু নির্ধারণ হয় না। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দলের সাফল্যে অবদান এবং মাঠের আচরণ—সবকিছুর সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভোটাররা তাদের পছন্দের খেলোয়াড়কে বেছে নেন।

  • ইরানি ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিল করল তুরস্ক

    ইরানি ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিল করল তুরস্ক

    ইস্তাম্বুলে ইরানের অন্যতম বড় একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স বাতিল করেছে তুরস্ক। শনিবার ভোরে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে ‘ব্যাংক মেল্লাতের’ লাইসেন্স বাতিলের তথ্য জানানো হয়।

    তুরস্কের ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানভিত্তিক ব্যাংক মেল্লাত দেশটির সরকারকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যভিত্তিক উন্মুক্ত ডেটাবেস ওপেনস্যাংশনস জানিয়েছে, ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

    ডেটাবেসটির তথ্য অনুযায়ী, ইরান সরকারই ব্যাংক মেল্লাতের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার।

    ব্যাংকটির লাইসেন্স বাতিলের সময় তুরস্কের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশটির ব্যাংকিং আইনের ৭১ (বি) ধারা উল্লেখ করেছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা ‘আমানতকারী ও অংশগ্রহণ তহবিলের মালিকদের অধিকার এবং আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ তৈরি করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে তুরস্কের একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দুই সপ্তাহ পর ব্যাংক মেল্লাতের বিরুদ্ধে তুরস্কের এই পদক্ষেপ এলো।

    তবে তুরস্কের ব্যাংকটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক মেল্লাতের লাইসেন্স বাতিলের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

  • মক্কায় হামলা মহাপাপ :হারামাইন ইমাম

    মক্কায় হামলা মহাপাপ :হারামাইন ইমাম

    মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মক্কার মসজিদ আল-হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর দুই ইমাম। এ হামলাকে মহাপাপ এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন তারা।

    মসজিদ আল-হারামের ইমাম শেখ বান্দার বালিলাহ বলেন, পবিত্র স্থান ও নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা ‘রেড লাইন’, এটা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না। । তিনি বলেন, পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হামলা ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

    তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং তাদের পবিত্রতম স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলার মতো কর্মকাণ্ড পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং নিরপরাধ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।

    বালিলাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং তার নবীর মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করার দুঃসাহস দেখায়, তাদের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।’

    অন্যদিকে মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মুহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা-মদিনাকে হুমকির মুখে ফেলা এই হামলা এমন এক ধরনের সন্ত্রাসবাদের বহিঃপ্রকাশ, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং মুসলমানদের রক্ত ঝরানোকে বৈধতা দেয়।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভূপাতিত করে। জোটের দাবি, এটি মক্কা লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা; এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

  • ইউরোপে তেল কমাচ্ছে সৌদি?

    ইউরোপে তেল কমাচ্ছে সৌদি?

    সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপের তেল সরবরাহ নতুন করে চাপে পড়েছে। দীর্ঘ সময় পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে ইউরোপের শোধনাগারগুলোকে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে হবে। এতে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। বাড়তে পারে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দামও।

    সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় ১০ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়। হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথি ও ইরাকের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।

    প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন ১৯৮১ সালে চালু হয়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছাতে এটি ব্যবহার করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল সরবরাহের সুযোগ থাকে।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সৌদি পাইপলাইনটি ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল। বন্ধ হওয়ার আগে পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছিল, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

    পাইপলাইন বন্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে ইউরোপে পড়তে শুরু করেছে। সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপে পাঠানোর কয়েকটি তেলের চালান বাতিল বা পিছিয়ে দিয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আর্গাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের অন্তত তিনটি শোধনাগারের সেপ্টেম্বরের শেষের চালান বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কিছু নভেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    বিকল্প জোগাড়ে নেমেছে ইউরোপের শোধনাগারগুলো। পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অরলেন অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান ও আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত ১৬টি তেলের চালান কিনেছে।

    ১৬ সেপ্টেম্বর অরলেন জানায়, এসব সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং চাহিদা মেটাতে তা যথেষ্ট।

    তবে সৌদি তেলের বিকল্প জোগাড় করলেই সমস্যা মিটবে না। বিভিন্ন শোধনাগার নির্দিষ্ট মানের অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য তৈরি। ইউরোপের অনেক শোধনাগার সৌদি আরবের মাঝারি ও তুলনামূলক ভারী, সালফারযুক্ত তেলের ওপর নির্ভরশীল। অন্য ধরনের তেল ব্যবহার করতে হলে একাধিক উৎসের তেল মিশিয়ে নিতে হতে পারে। এতে খরচ বাড়বে এবং কিছু শোধনাগারে কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

    স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, লোহিত সাগর দিয়ে আরবের তেল নেওয়া ইউরোপীয় শোধনাগারগুলোর বিকল্প প্রয়োজন। কারণ সব ধরনের অপরিশোধিত তেল একে অপরের সরাসরি বিকল্প নয়।

    সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাই তেলের দাম বাড়াতে পারে। পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিশ্লেষকেরা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলছেন। ব্রেন্টের দাম সম্প্রতি ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের ওপরে উঠেছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে ডিজেলের বাড়তি দামের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।

    সংকট কতটা দীর্ঘ হবে, তা নির্ভর করছে সৌদি আরব কত দ্রুত পাইপলাইন মেরামত করতে পারে এবং নতুন করে হামলা হয় কি না, তার ওপর। কেপলারের প্রধান তেল বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহী বলেন, পাইপলাইনের ছোটখাটো ক্ষতি মেরামত করা হলেও পাম্পিং স্টেশনসহ পুরো ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

    কেপলারের ১৪ সেপ্টেম্বরের হিসাবে, ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পিং স্টেশন এড়িয়ে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে এবং মজুতের ওপর নির্ভর করছে। ইয়ানবু বন্দর থেকেও তেল রপ্তানি আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবু টার্মিনালে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৯ হাজার ব্যারেল। পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলোতে মজুত প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ ব্যারেল। নতুন করে পাইপলাইনে তেল না এলে বর্তমান হারে এসব মজুত দিয়ে ইয়ানবু বন্দরের চালান প্রায় তিন দিন এবং শোধনাগারগুলো প্রায় নয় দিন চালানো সম্ভব।

    তবে ১৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনের অর্ধেক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামোয় নতুন হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

    পাইপলাইন দ্রুত পুরোপুরি সচল না হলে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে। তখন সৌদি আরবের একটি আঞ্চলিক সরবরাহ সংকট ইউরোপের শোধনাগার, শিল্প ও ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির চাপ হয়ে উঠতে পারে।

  • সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

    সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করে ৫৬ বছরে পা দিতেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই নায়ক। হয়তো জন্মদিন ঘিরে থাকত বর্ণাঢ্য আয়োজন। তবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান তিনি।

    সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী কিংবা জন্মদিন এলেই শুধু তাকে নিয়ে আলোচনা হয়, এমন নয়। মৃত্যুর তিন দশক পরও বিভিন্ন সময় নানা কারণে দর্শক ও ভক্তদের আলোচনায় থাকেন নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

    সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘সালমান শাহ ফ্যান ক্লাব’-এর সদস্যরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন। তবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।

    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। সিলেট শহরের শেখঘাটে ছিল সালমানের দাদার বাড়ি। আর নানার বাড়ি ছিল দারিয়াপাড়ায়, যে বাড়িটি বর্তমানে ‘সালমান শাহ হাউজ’ নামে পরিচিত।


    সালমান শাহর নানা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। নানার অনুপ্রেরণাতেই অভিনয়ে আসেন সালমান। স্কুলজীবন থেকেই বন্ধুমহলে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে কোর্স সম্পন্ন করেন সালমান শাহ।

    চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তবে এর আগেই নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবন শুরু হয়। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন সালমান। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে তৌকীর আহমেদ অভিনয় করলেও সালমানের চরিত্রটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি।

    তবে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর রাতারাতি দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন সালমান শাহ। মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে মৌসুমীর সঙ্গে আরও দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর জুটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। এই জুটিকে এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাবনূরের পাশাপাশি শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চির সঙ্গেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ।

    জীবদ্দশায় নিজের অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমার সাফল্য দেখে যেতে পেরেছিলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখি’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’।

    সালমান শাহ জীবদ্দশায় সর্বশেষ ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ সিনেমার সাফল্য উপভোগ করে যেতে পেরেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই। তার মৃত্যুর দিনই রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘আখেরী মোকাবেলা’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’।

  • যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইসরাইলের!

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইসরাইলের!

    সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্তের পর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন করে বাড়তি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা সরঞ্জাম পাওয়ার জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা।

    শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়ালা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগে যেসব অস্ত্রব্যবস্থা অনুমোদন করেনি, তেল আবিব এবার সেই সব অস্ত্র কেনার চেষ্টা করবে।

    ইসরায়েলের সামরিক মনোযোগ কেবল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা পরবর্তী প্রজন্মের ‘স্টেল্থ’ (রাডারে ধরা পড়ে না এমন) বিমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা মহাকাশ-ভিত্তিক অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতাও চাইছে দেশটি।

    এ ছাড়া ইসরাইলি কর্মকর্তারা বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমা এবং পাথুরে পাহাড়ের গভীরে কাজ করতে সক্ষম ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে ওয়াল্লা।

    সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির সিদ্ধান্তের পর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নিজেদের জন্য এই অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতাকে ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে আদায় করতে চায় তেল আবিব—প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির ৪৯টি এফ১৩৫-পিডব্লিউ-১০০ ইঞ্জিন, ক্রিপ্টোগ্রাফিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও রসদ সহায়তা রয়েছে।

    চুক্তিটি সম্পন্ন হলে সৌদি আরব হবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহকারী প্রথম আরব দেশ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধবিমানের একমাত্র ব্যবহারকারী ইসরাইল।

    এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি নিয়েও ইসরাইলের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি নয় রিয়াদ। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ সমর্থন করলেও ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

  • পুরনো গান শুনলে মনে হয় সালমান তুমি আবার ফিরে এসেছ : শাবনূর

    পুরনো গান শুনলে মনে হয় সালমান তুমি আবার ফিরে এসেছ : শাবনূর

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করতেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই নায়ক। বিশেষ এই দিনে তাকে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার অন্যতম জনপ্রিয় সহশিল্পী চিত্রনায়িকা শাবনূর।

    ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ওই পোস্টে সালমান শাহকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় সালমান শাহ!’

    সালমান শাহর সঙ্গে কাটানো নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, ‘কত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ ৯০-এর দশকের সেই সোনালি দিনগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে। শুটিং সেটে তুমি শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলে না, ছিলে একজন অসাধারণ হৃদয়ের মানুষ।’

    সালমানের মানবিক গুণের কথা উল্লেখ করে শাবনূর বলেছেন, ‘তোমার আশপাশের প্রতিটি মানুষকে তুমি সম্মান করতে। শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে। তোমার এই সুন্দর মন আর মানবিকতাই তোমাকে মানুষের হৃদয়ে এতটা আপন করে রেখেছে।’

    সালমান শাহর স্মৃতিচারণ করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘পুরনো কোনো গান শুনলে কিংবা তোমার কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয়, তুমি যেন আবার ফিরে এসেছ সেই সোনালি দিনগুলোয়।’

    সপ্রয়াত এ অভিনেতার জন্য দোয়া করে শাবনূর লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন।’

    একই পোস্টে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্য না করার অনুরোধও জানিয়েছেন শাবনূর। তিনি লিখেছেন, ‘সবার প্রতি সবিনয় অনুরোধ, প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সবসময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’

    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সালমান-শাবনূর জুটির উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘তুমি আমার’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’।

  • ১৮ জনকে মালদাদিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা

    ১৮ জনকে মালদাদিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা

    বিএসএফের কাজই যেন এখন কোনো আইন-কানুন বা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে মানুষ ‘পুশ-ইন’ করা। ভারতের এই বেআইনি ও একতরফা পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই চরম ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার।

    এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জাতিবিদ্বেষের রাজনীতি। তাদের অলিখিত নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলায় কথা বললেই, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে দেওয়া। আর এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে রাতের অন্ধকারে খোদ ভারতীয় নাগরিকদেরই অনেক সময় বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি এমনই এক অমানবিক ও সন্দেহজনক ঘটনার সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা।

    ভারতের মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তারা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, ভারতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মতো জায়গাগুলোতে ‘সার’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) বা বিশেষ তল্লাশি চালিয়েও শত শত রোহিঙ্গা বা লাখ লাখ বাংলাদেশির কোনো হদিস তারা পায়নি। উল্টো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর স্পষ্ট অভিযোগ, রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশির নাম করে ভারতীয়দেরই ধরে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রমাণও অতীতে মিলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনকয়েক আগে ভারতের চারটি ভিন্ন রাজ্য থেকে ১৮ জনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করে মালদায় নিয়ে আসা হয়েছে।

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনই নারী ও কিশোরী, আর বাকি চারজন পুরুষ। এদের মধ্যে রাজস্থান থেকে ১০ জন, কেরালা থেকে তিনজন, তেলেঙ্গানা থেকে দুজন এবং মহারাষ্ট্র থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেসব রাজ্যের পুলিশ।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রাজ্যগুলোর কোনোটির সঙ্গেই বাংলাদেশের সরাসরি কোনো সীমান্ত নেই। জানা গেছে, প্রথমে এই ১৮ জনকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে এনে রাজস্থানে জড়ো করা হয়। এরপর তাদের ট্রেনে করে হাওড়ায় আনা হয়। কলকাতা হয়ে কড়া পুলিশি পাহারায় তাদের নিয়ে আসা হয় মালদা স্টেশনে। বর্তমানে তাদের রাখা হয়েছে মালদার ইংরেজবাজারের কাছে একটি হোল্ডিং সেন্টারে। সেখান থেকেই তাদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার অপেক্ষায় রাখা হয়েছে।

    মালদায় আনা এই ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রিমা (৩৪), শিউলা আক্তার (২৩), সোনিয়া আক্তার (২৮), মোসাম্মাৎ রাজিয়া বেগম (৩৪), তসমিয়া ইসলাম ফারিয়া (২২), মোসাম্মাৎ মাফুজা (২৪), আলফনিনা আক্তার (১৯), রোশনে আক্তার মিম (২৩), সোনিয়া খাতুন (২৪), রুমা আক্তার (৩৬), মিস স্মৃতি আক্তার (২৩), কুলসুম আক্তার (২৫), রুবিনা (২৫), আতিয়ার রহমান (২৩), মিস নাসিমা আক্তার (৩৬) এবং তানিয়া সাদিক শেখ (২৮)। মালদা দিয়ে এভাবে মানুষ ফেরত পাঠানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসের ১ তারিখেই বেঙ্গালুরু থেকে একইভাবে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে মালদায় এনে পুশব্যাকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    ওই ১৮ জনকে নিয়ে ট্রেনটি যখন মালদায় পৌঁছায়, তখন খবর পেয়ে স্টেশনে হাজির ছিলেন সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকরা। ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কিশোরীও ছিল এবং অনেককেই দেখে মধ্যবিত্ত পরিবারের বলে মনে হচ্ছিল। সাংবাদিকরা তাদের কাছে জানতে চান, তাদের বাড়ি কোথায়? কিন্তু তারা সাংবাদিকদের দিকে তাকালেও কেউই কোনো উত্তর দেয়নি। হয়তো আগে থেকেই তাদের কথা বলতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারা শান্তভাবে পুলিশের গাড়িতে উঠে যায়।

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাই কেউ যদি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে বসবাস করতে চায়, তবে তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো ভারত সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু মূল প্রশ্ন হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। যদি এরা সত্যিই বাংলাদেশি হন, তবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিজিবির হাতে তুলে দেওয়াই নিয়ম। কিন্তু প্রশাসন এখনও জানায়নি, ঠিক কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের পাঠানো হবে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, আগের মতো এবারও রাতের অন্ধকারে জঙ্গল বা ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে তাদের বেআইনিভাবে পুশব্যাক করা হবে।

    অতীতে এমন জোরপূর্বক পুশব্যাকের সময় অনেকেই কান্নাকাটি করে বলেছেন যে তারা ভারতীয় এবং বাংলাদেশে তাদের কেউ নেই। পরে খোদ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এমন কয়েকজনকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত।

    মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, যেহেতু আটককৃতদের বেশিরভাগই নারী, তাই মহিলা কমিশনের সদস্যদের দিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করানো উচিত ছিল। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে, স্রেফ রাজনীতির স্বার্থে তাদের রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যে আয়োজন চলছে, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি।

    আফগানিস্তান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয় বলে এই ম্যাচও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও মূল দল নিয়েই আফগানদের বিরুদ্ধে লড়বে টাইগাররা।

    আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট, যা আফগানদের হোম টেস্ট।

    নাহিদ রানা এই ম্যাচে খেলবেন না, তিনি মাঠে ফিরবেন ১০ অক্টোবর। সে হিসেবে এই টেস্ট খেলা হচ্ছে না। মূলত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে তাকে ফিট পেতেই কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলার কথা রয়েছে নাহিদের।

    বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আরেক পেসার তাসকিন আহমেদকেও। অমিত হাসান এই সিরিজের দলে নেই। তবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে জাকের আলী অনিককে।

    এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডে থাকা ৬ ক্রিকেটার রয়েছেন টেস্ট দলে। সে কথা ভেবে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে আরব আমিরাতে টেস্ট দলের সাথে যাবেন নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন।

    একনজরে বাংলাদেশের স্কোয়াড

    নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম।

  • মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্যসচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের বেতন বেড়ে কত হলো

    মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্যসচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের বেতন বেড়ে কত হলো

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ বিভাগ আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের মূল বেতন কত হবে, সেটিও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেড ভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্রেড-১২ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা (নির্ধারিত মানে মূল বেতন এটিই থাকবে)। এত দিন তাঁদের মূল বেতন ছিল ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এত দিন পেতেন ৮২ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে গ্রেড-১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা; গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার; গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এভাবে ২০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। এর মধ্যে গ্রেড-৫-এ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা; গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৯-এ ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    গ্রেড-১১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১২-এ ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা; গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা; গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা; গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা; গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

  • কোন গ্রেডে বেতন বেড়ে কত হলো

    কোন গ্রেডে বেতন বেড়ে কত হলো

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ বিভাগ আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের মূল বেতন কত হবে, সেটিও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেড ভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্রেড-১২ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা (নির্ধারিত মানে মূল বেতন এটিই থাকবে)। এত দিন তাঁদের মূল বেতন ছিল ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এত দিন পেতেন ৮২ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে গ্রেড-১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা; গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার; গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এভাবে ২০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। এর মধ্যে গ্রেড-৫-এ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা; গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৯-এ ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    গ্রেড-১১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১২-এ ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা; গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা; গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা; গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা; গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

  • এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চের যাত্রাপথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে আয়োজিত পথসভায় আমিরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    সরকারকে সতর্ক করে আমিরে মজলিস বলেন, জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ১১ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনে এক দফার দিকে ধাবিত হবে। অতীতে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি; ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না।

    তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কারচুপি গ্রহণযোগ্য নয়।ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক জারি হওয়া পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে দেখতে চায় না জনগণ।

  • ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। এই আন্দোলন দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। সরকার যদি আমাদের ঘোষিত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সরকার যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তাহলে এই ৮ দফার আন্দোলন অনতিবিলম্বে ১ দফার আন্দোলনে রূপ নেবে।

    শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে লংমার্চ উপলক্ষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন গাড়িতে করে আসছিলাম, তখন রাজপথে জনগণের মধ্যে বিপ্লবের গর্জন শুনতে পেয়েছি। সাধারণ মানুষ হাতের এক আঙুল তুলে ‘এক দফা এক দফা’ স্লোগান দিচ্ছে। আপনারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, ইনশাআল্লাহ্ আন্দোলন সফল করেই আমরা ঘরে ফিরব। আমরা এখন ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাচ্ছি; কিন্তু প্রয়োজনে আপনাদের সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় লংমার্চ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

    জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরো বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী প্রমুখ।

  • নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, বাস্তবায়ন তিন ধাপে

    নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, বাস্তবায়ন তিন ধাপে

    এর আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আমার দেশকে বলেছেন, নতুন বেতন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন করে আমরা গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিজি প্রেসে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকে প্রকাশ করা হলে এটা গেজেট আকারে জারি করা হয়।

    আজকেই গেজেট জারি হবে কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাজ হয়ে গেছে, এটা এখন সম্পূর্ণ বিজি প্রেসের এখতিয়ার।’

    গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন।

    এর আগে গত ৩১ আগস্ট নতুন কাঠামোর খসড়ার আংশিক অংশ অর্থ বিভাগ থেকে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে বাকি অংশও পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

    নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে ১ জুলাই, ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও একইভাবে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

    প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এজন্য অর্থবছরের বাজেটে আলাদা অর্থ সংস্থান রাখা হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেছেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে।

    এর আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আমার দেশকে বলেছেন, নতুন বেতন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন করে আমরা গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিজি প্রেসে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকে প্রকাশ করা হলে এটা গেজেট আকারে জারি করা হয়।

    আজকেই গেজেট জারি হবে কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাজ হয়ে গেছে, এটা এখন সম্পূর্ণ বিজি প্রেসের এখতিয়ার।’

    গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন।

    এর আগে গত ৩১ আগস্ট নতুন কাঠামোর খসড়ার আংশিক অংশ অর্থ বিভাগ থেকে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে বাকি অংশও পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

    নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে ১ জুলাই, ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও একইভাবে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

    প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এজন্য অর্থবছরের বাজেটে আলাদা অর্থ সংস্থান রাখা হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

  • কোটচাঁদপুরে ইয়াবাসহ হোটেলকর্মী ও নারী আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

    কোটচাঁদপুরে ইয়াবাসহ হোটেলকর্মী ও নারী আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

    কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ মমতা হোটেলের এক কর্মচারী ও এক নারী ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর পৌর এলাকার মেইন বাজারে অবস্থিত মমতা হোটেলকে ঘিরে মাদক সংক্রান্ত তথ্য পায় পুলিশ। পরে সেখানে অভিযান চালানো হলে হোটেলের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অভিযানের সময় মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক নারী ব্যবসায়ীও আটক হন। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত শুনানি শেষে অপরাধের ধরন বিবেচনায় তাদের কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

    কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১.২৫ সুদ হার জাপানে

    ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১.২৫ সুদ হার জাপানে

    সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং মজুরি বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতেই জাপানের মূল সুদের হারের এই বৃদ্ধি। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ খবর জানিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।গত জুনের পর সুদের হারে এটিই প্রথম কোনো বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বজায় রাখা অতি-নিম্ন সুদের নীতি থেকে পুরোপুরি সরে আসার ইঙ্গিত দিল জাপান। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটি এখন বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে দেশটিতে শ্রমিক সংকট প্রকট হওয়ায় মজুরি বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে কাঠামোগত স্থায়ী চাপ তৈরি করেছে।

    এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির পদক্ষেপও জাপানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুদের হারের ব্যবধান বেড়ে গেলে জাপানি মুদ্রা ইয়েন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার আড়াই শতাংশে উন্নীত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা ভবিষ্যতে সুদের হার আরও কতটা বাড়াতে পারেন, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

  • ঢাকা-নয়াদিল্লি ১০১টি চুক্তি: জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেবে ভারত

    ঢাকা-নয়াদিল্লি ১০১টি চুক্তি: জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেবে ভারত

    ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ- এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে তারা।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।এদিন সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
    তিনি বলেন, আমরাও এ বিষয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। অবশ্যই, ভারত নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

    গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, এসব চুক্তির পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানা যাবে।

    এদিকে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন রণধীর জয়সওয়াল। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়েছিল। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে।

    চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, পানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। পানি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।

  • সিরিয়ার  সাবেক কারা প্রধানকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড

    সিরিয়ার সাবেক কারা প্রধানকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড

    সিরিয়ার একটি কুখ্যাত কারাগারের সাবেক প্রধানকে নির্যাতন ও অভিবাসন জালিয়াতির মামলায় ৬০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সামির উসমান আলশেখের বয়স ৭৪ বছর। তিনি ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি দামেস্ক সেন্ট্রাল প্রিজনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়ভাবে কারাগারটি ‘আদরা কারাগার’ নামে পরিচিত। সেখানে ‘শাস্তি শাখায়’ বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

    মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি আলশেখকে নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ, নির্যাতনের তিনটি অভিযোগ, ভিসা জালিয়াতির একটি অভিযোগ এবং নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির চেষ্টার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।

    বিচার চলাকালে সাবেক তিন বন্দি আদালতে সাক্ষ্য দেন। তারা আলশেখের হাতে নিজেদের ওপর চালানো নির্যাতনের পাশাপাশি কারাগারে অন্য বন্দিদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরেন।

    মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, এই মামলায় দেওয়া শাস্তি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সাহসের প্রতিফলন।

    নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগেও আলশেখকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তিনি নিজের অতীত ইতিহাস গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    ডুভা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবে না—এই মামলার মাধ্যমে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে। তাদের শনাক্ত করে গুরুতর অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, ইসলামপন্থী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও তাদের মিত্রদের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বহু সিরীয় নাগরিক দেশটির বিভিন্ন কারাগারে ছুটে যান।

  • ইউরোপে নিশানায় মুসলিমরা

    ইউরোপে নিশানায় মুসলিমরা

    ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক জোট ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) মুসলিমদের নাগরিক কর্মকাণ্ড ও সম্মিলিত ধর্মীয় চর্চাকে সন্দেহের চোখে দেখার পথ তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত দলটির রাজনৈতিক সমাবেশে ‘ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পলিটিক্যাল ইসলামের হস্তক্ষেপ’ শিরোনামে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

    প্রস্তাবে ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ ও ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে মুসলিম সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে বিদেশি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণ এবং কথিত ‘উগ্রপন্থী আন্দোলনে’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

    সমালোচকদের মতে, প্রস্তাবটি জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটদের ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ মোকাবিলার নীতির প্রতিফলন। সেখানে কোনো সহিংস কর্মকাণ্ড না ঘটালেও কথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
    নাগরিক সমাজে সক্রিয় এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার মুসলিমদেরও সন্দেহের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইপিপি অবশ্য প্রস্তাবটিকে গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।

    দলটির প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’-কে প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনে ধীরে ধীরে ঢুকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে মুসলিম ব্রাদারহুড ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিয়েনায় সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘ইসলাম ম্যাপ’ প্রকল্পে অস্ট্রিয়ার মুসলিম সংগঠনগুলোর তথ্য ডিজিটাল মানচিত্রে প্রকাশের নজিরও রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ‘অপারেশন লুক্সর’ অভিযান নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

    সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন প্রস্তাবের ফলে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও কার্যক্রমও চাপে পড়তে পারে।

  • খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৭

    খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপের ২৮ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মো: শাহ আলমগীর (২৩) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার কুর্মিটোলা সিটি কেয়ার হাসপাতালে মারা গেছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান বলে তার প্রতিবেশী মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন ও স্বজনেরা জানান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আবারো দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    গুরুতর আহত চারজনের মধ্যে রাণীচাপুর গ্রামের মো: নূরুল হকের ছেলে মো: শাহ আলমগীর (২৩) নামের এক যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কুর্মিটোলা সিটি কেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হলে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে তার প্রতিবেশী মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন ও স্বজনেরা জানিয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের এক গ্রুপের চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান এবং অপর পক্ষের সাথে শ্রমিক দলের চাকুয়া ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়ার অনুসারীরা রয়েছেন। লিগেল মিয়ার বাবা জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য বলেও জানা গেছে।

    খালিয়াজুরী উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লিগেল মিয়া চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার জানা মতে, লিগেল মিয়ার বাবা মো: জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য।

    ঘটনার খবর পেয়ে খালিয়াজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় পৃথক পৃথক অভিযোগ দিয়েছে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে।

    শাহ আলমগীরের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক বিষয়টি এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।’

    দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়ার পর রাতেই দুটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কুষ্টিয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৫০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    কুষ্টিয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৫০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও সম্মান জানাতে কুষ্টিয়ায় ৫৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া শহর শাখা। জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মো. ইমরান বিশ্বাস, জুলাই যোদ্ধা হাফেজ সেলিম রেজা ও শহর শাখার সেক্রেটারি পারভেজ মোশাররফ। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া শহর শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ, নীতি-নৈতিকতা ও জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে এবং মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। অহংকার ও জুলুমের পরিণতি ধ্বংস—এ কথা মনে রেখে মানবিক হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না; জ্ঞানের গভীরে যেতে হবে এবং জ্ঞান অন্বেষণে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে হবে। ছাত্রশিবির একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা, উৎসাহিত করা এবং নৈতিক ও আদর্শিক বিকাশে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে।’

    অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রশিবির সম্পর্কে আগে তাঁদের যে ধারণা ছিল, অনুষ্ঠানে এসে তা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে সম্মাননা স্মারক ও উপহারের পাশাপাশি পবিত্র কোরআন উপহার পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। ভবিষ্যৎ জীবনে আদর্শিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।

  • সৌদি রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান

    সৌদি রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান

    সৌদি আরবে হামলা কার হলে দেশটির প্রতিরক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান। সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং পবিত্র দুই মসজিদের সুরক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (১৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তান ‘নিঃশর্ত’ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে । আহমেদ শরীফ জানান যে, পাকিস্তান সব দিক থেকেই সৌদি আরবের প্রতি তার পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক সমর্থন থেকে শুরু করে প্রয়োজনে সরাসরি পাশে দাঁড়াবে বলে জানান আইএসপিআর মহাপরিচালক।

    আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘পবিত্র দুই মসজিদ ও সৌদি আরবের রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য আমরা যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমাদের সৌদি ভাইয়েরা যতটুকু চাইবেন এবং প্রয়োজন হবে, আমরা ততটুকুই করব।’

    সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জনগণ সৌদি ভাই-বোনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে পাকিস্তান পাশে থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা সেখানে আছি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে আমরা সেখানে থাকব।’

    পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আইএসপিআর মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ ও অংশীদারদের সহায়তায় জটিল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সৌদি আরবের নেতৃত্বের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ইসলামাবাদ শুধু প্রতিশ্রুতিবদ্ধই নয়, পবিত্র দুই মসজিদ ও সৌদি আরবের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে সেখানে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সুরক্ষায় সেখানে আছি। সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরো যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’

    সৌদি নিরাপত্তায় পাকিস্তানের অঙ্গীকারকে ‘নিঃশর্ত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ঐতিহাসিক, গভীর ও আবেগপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক অটুট এবং তা থেকেই সৌদি নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের থামানোর মতো কিছু নেই, কোনো বাধা নেই। আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো দ্বিধা নেই। যা প্রয়োজন হবে, যা চাওয়া হবে, আমরা তার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হব না।’

    পাকিস্তান বর্তমানে সৌদি আরবে সরাসরি উপস্থিত রয়েছে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সেখানে আছি—এ কথা বলার পর শব্দগুলো নিজেরাই সবকিছু পরিষ্কার করে দেয়।’

    পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য

    সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।

    সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, উভয় চুক্তি বাস্তবায়নে পাকিস্তান ‘উদ্দেশ্য ও চেতনার দিক থেকে’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তবে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া একটি সামরিক কার্যক্রমসংক্রান্ত বিষয় বলে জানান তিনি। সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র বলেন, কখন, কীভাবে, কোথায় এবং কোন শক্তি দিয়ে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে, কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে সামরিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই পর্যায়ে কিছুটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে।

    সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, মক্কা চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং নতুন কোনো জোটও তৈরি করছে না। বরং প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও গবেষণার মতো বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

    এদিকে উপসাগরীয় সংকট যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বুধবার ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। সৌদি আরবের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে হাউছিদের ওপর প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    ইসলামাবাদ বারবার সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে কথা বলার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সৌদি আরবের প্রতি সংহতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

    কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে রাফি (৩) পানিতে ডুবে গেলে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুর ঘোষণা শুনতেই রোগীর স্বজন ও স্থানীয় কিছু লোক চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ শুরু করেন ও একপর্যায়ে ১১ নম্বরের মেডিক্যাল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আব্দুস সামাদ জরুরি বিভাগের সহায়তাকারী বিজয় কুমার ও আনসার সদস্য জসিম সরকার আহত হন।

    মিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল আজিজ ঘটনার সত্যতার নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলেই আছি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: জান্নাতুল রিয়া জানান, স্বজনদের হারিয়ে যাওয়ার বেদনা সহানুভূতির সাথে দেখা হলেও হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

  • সেনা পাঠিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়াবে না দক্ষিণ কোরিয়া

    সেনা পাঠিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়াবে না দক্ষিণ কোরিয়া

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে তাঁর দেশ এ যুদ্ধে জড়াবে না।

    আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ‘এমন কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না, যার মাধ্যমে আমরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব। এ বিষয় আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি। এ উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জামও আমরা মোতায়েন করব না।’

    তবে লি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া আরও বড় ভূমিকা রাখবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জলদস্যু দমন অভিযানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর একটি ইউনিট সোমালিয়ার উপকূলের কাছে মোতায়েন রয়েছে।

    লি বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ ও অপরিশোধিত তেল পরিবহন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তায় অন্য দেশগুলো যেভাবে ন্যূনতম ভূমিকা রাখছে, আমাদেরও তেমন কিছু করা প্রয়োজন—এটি পরিষ্কার।’

    ইরান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া চলতি গ্রীষ্মে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর বড় যৌথ মহড়াও কমিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। তবে এ জন্য অনেক বিষয়ের সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।

    লি বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনা করতে চান এবং আমিও চাই, তিনি তা করুন। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে আমরা সমন্বয় করে যাচ্ছি।’

    ট্রাম্পের বারবার বৈঠকের আহ্বান নিয়ে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের ওপর চাপ দিচ্ছেন।

  • ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোন পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসিকে আটক

    ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোন পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসিকে আটক

    সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটি ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন এক নারী। ভেতরে তার স্বামী রয়েছেন— এমন দাবি করে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া মিলছিল না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা (সাবেক ওসি) ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে দু’জনকেই নেয়া হয় থানায়।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    থানায় নেয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    ফ্ল্যাট থেকে বের করে আনার পর মাহবুব আলম দাবি করেন, ভেতরে থাকা সানজিদা মৌ তার স্ত্রী। তবে তাদের বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি ডিভোর্স দিয়েছেন।

    ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। নওগাঁ থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে ওই ফ্ল্যাটে আসেন আন্নি আক্তার। তার দাবি, আগের রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে এসেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌ নামে এক নারী রয়েছেন। এরপর তিনি এসে দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন আন্নি আক্তার।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও দরজা খোলা হয়নি বলে দাবি করেন আন্নি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও দরজা খোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

    পরে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। সে সময় সানজিদা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে, মাহবুব আলম বলেন, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে সানজিদার সাথে তার বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি।

    পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

    আন্নি আক্তার নওগাঁর বাসিন্দা। তিনি নিজেকে নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। পরে মাহবুবের একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক এবং বিভিন্ন এলাকায় বিয়ের বিষয়ে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

    আন্নির আরো দাবি, রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সাথে পেয়েছিলেন তিনি। তখন বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান আন্নি।

    নাদের হাজির মোড়ের যে ফ্ল্যাটে শুক্রবারের ঘটনা ঘটেছে, সেটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেয়া। সেখানে তার পালিত মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফ্ল্যাটটিতে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

    মাহবুব আলমের চাকরির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রত্যাহার হন। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত থাকার সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রাখা হয়।

    সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা অপরাধ।

    তিনি বলেন, মাহবুব আলম ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

    এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক দু’টি কক্ষে রাখা হয়।

    চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

  • ফিলিপাইনে স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলায় নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ৮

    ফিলিপাইনে স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলায় নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ৮

    দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাও প্রদেশের বাঙ্গা শহরের একটি হাইস্কুলে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত আরও আটজন।

    বাঙ্গার মেয়র আলবার্ট প্যালেনসিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুজনই ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। ১৬ বছর বয়সী বন্দুকধারী নিজেও নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ শুক্রবার দুপুরের পর বাঙ্গা ন্যাশনাল হাইস্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।চলতি বছরের জুনের পর ফিলিপাইনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা।’ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    তদন্ত চলার সময় সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়াতে নিষেধ করেছে তারা।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মেয়র প্যালেনসিয়া জানান, দুপুরের খাবারের সময় বন্ধুদের বাড়ি চলে যেতে বলেছিল হামলাকারী কিশোর। সে বলেছিল, ‘দুপুরের খাবারের পরই আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’

    মেয়র বলেন, ‘বন্ধুরা ওই কিশোরের কথা শুনে হেসেছিল। কারণ, সে সব সময়ই সবার সঙ্গে মজা করত।’ ‘খাবার শেষ করেই সে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করার পর সে আত্মহত্যা করে।’

    ঘটনার পর পুরো বাঙ্গা পৌর এলাকায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    ফিলিপাইন রেডক্রস জানায়, স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় তারা খবর পায়। এরপরই জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য চারজন প্যারামেডিকসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

    ফিলিপাইনে বন্দুকসংক্রান্ত অপরাধ বেশ নিয়মিত ঘটনা। এ অঞ্চলে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার দিক থেকে ফিলিপাইন শীর্ষ দেশগুলোর একটি। তবে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বন্দুক হামলা খুব বেশি দেখা যায় না। তা সত্ত্বেও গত চার মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী হামলা ঘটল।

    এর আগে গত জুনে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে সহপাঠীদের গুলিতে তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় কয়েকজন। বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার ক্ষোভ থেকে সেই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

    এরপর আগস্টে দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি ক্যাথলিক জুনিয়র হাইস্কুলে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে তার সহপাঠী। পরে সে নিজেও আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় হামলাকারী প্রথমে এক শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। তবে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ছকিনা খাতুন (৫৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর মহাসড়কের উপজেলার হাতিকাটা গ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই চালক মাইক্রোবাসটি ফেলে পালিয়ে যান।

    নিহত ছকিনা খাতুন জেলার জীবননগর উপজেলার নিধীকুন্ড গ্রামের মরহুম ছলিম উদ্দিনের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত চার-পাঁচ দিন আগে সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো: মানিকের স্ত্রী ও নিজ মেয়ে ফেরদৌসী খাতুনের (২৫) বাড়িতে বেড়াতে আসেন ছকিনা খাতুন। শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা মেহেরপুরগামী একটি মাইক্রোবাস তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ঘাতক মাইক্রোবাসটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, রাস্তা পারাপারের সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জাতিসংঘে ভিডিও ভাষণ দেবেন -মাহমুদ আব্বাস

    জাতিসংঘে ভিডিও ভাষণ দেবেন -মাহমুদ আব্বাস

    যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তাই ভিসা না থাকায় ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দেওয়ার অনুমতির বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন মাহমুদ আব্বাস।

    বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটির পক্ষে ১৫২টি এবং বিপক্ষে তিনটি ভোট পড়ে; এছাড়া চারটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এই প্রস্তাবের ফলে আব্বাস এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা যদি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ না পান, তবে আগামী এক বছর ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠক বা সম্মেলনে ভিডিওর মাধ্যমে অংশ নিতে পারবেন।

    গত বছর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া ও আগের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ওই সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সদস্যসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রভাবিত হন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়েছে।

    ভোটের আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘পিএ যদি অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে চায়, তাহলে তাদের সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং গুরুতর শাসনব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে কূটনৈতিক নাটক বন্ধ করতে হবে।’

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার জানিয়েছে, কিছু ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের’ চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা মাহমুদ আব্বাসের ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ‘হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশাধিকার সাধারণত নিশ্চিত করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে কোনো ব্যক্তিকে ভিসা না দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

  • নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার

    নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে তাসরিফুল ইসলাম তিতুমীর (১৩) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কাচঁদহ এলাকায় করতোয়া নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    তাসরিফুল উপজেলার কাচঁদহ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তাসরিফুল নিখোঁজ হয়। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। শুক্রবার বিকেলে করতোয়া নদীতে লাশ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি তাসরিফুলের বলে শনাক্ত করেন।

    নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত ইরানিরা

    দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত ইরানিরা

    ইরানের রাজধানী তেহরানের বিখ্যাত ইনকিলাব স্কয়ারে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সংহতি জানাতে লাখো মানুষ জড়ো হয়েছেন। দেশটির বর্তমান ব্যবস্থা ও আয়াতুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানাতে তারা এই সমাবেশে অংশ নেন।

    আলজাজিরার প্রতিবেদক সিনেম কোসেওগলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জানফাদা-ই-ইরান’ নামে একটি কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে শত শত হাজার মানুষ নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন। ফারসি শব্দবন্ধটির মোটামুটি অর্থ ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’।

    কর্মসূচিটি মূলত ইরানের জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং দেশের প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত—এমন বার্তা তুলে ধরার একটি প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ‘জানফাদা-ই-ইরান’-এর মূল ভাবনা হলো—‘আমার জীবন আমার দেশের জন্য উপহার’। কর্মসূচিতে নারী ও কিশোর-কিশোরীরাও নিজেদের নাম নিবন্ধন করছেন। কোনো সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের সংগঠিত করা হতে পারে। তাদের ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাসিজ বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ এটি অনেকটা রিজার্ভ বাহিনীর মতো কাজ করবে।

    সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বক্তব্যে তিনি এটিকে জনগণের সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    পেজেশকিয়ানের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু ইরানের ওপর হামলা চালানো দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রকেও একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে—যেকোনো সংকট মোকাবিলায় ইরানের জনগণ প্রস্তুত।

  • পাকিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ১৫, আহত ৫0

    পাকিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ১৫, আহত ৫0

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি মসজিদের কাছে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন।

    ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্স (ডিএইচকিউ) হাসপাতালের চিকিৎসক তাহির আলী শাহ জিও নিউজকে জানান, বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে ১৫ জনের লাশ এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে।

    পুলিশের তথ্যমতে, জুমার নামাজের সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরে গর্ত হয়ে যায়।

    বিস্ফোরণের পর পুলিশ লাইনস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    উদ্ধারকর্মীরা জানান, বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি দেয়ালও ধসে পড়েছে।

    এদিকে, ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কোহাট-হাঙ্গু সড়কটি সব ধরনের যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।

  • সৌদি আরবের বিমানঘাঁটিতে হামলায় ইতালির বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের বিমানঘাঁটিতে হামলায় ইতালির বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় ইতালির একটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো।

    শুক্রবার ইতালির বার্তা সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের তাইফ বিমানঘাঁটির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ক্রোসেত্তো। ওই ঘাঁটিতে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এর অংশ হিসেবে ইতালির সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছেন। ঘাঁটিটি সম্প্রতি একাধিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

    তবে হামলায় কোনো ইতালীয় সেনা জড়িত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন ক্রোসেত্তো।

    তিনি বলেন, হামলার সময় ঘাঁটির একটি দূরবর্তী এলাকায় থাকা ইতালির একটি এফ-২০০০ যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে ইতালীয় সামরিক সদস্যদের ব্যবহৃত অন্য কোনো যানবাহন বা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    ক্রোসেত্তো জানান, পরিস্থিতির মূল্যায়নের পর সেখানে থাকা ইতালীয় সামরিক সদস্যদের অবস্থা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা বেশ কিছুদিন আগেই নেওয়া হয়েছিল বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

    ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামরিক সদস্যদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

    আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। এসব হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করা হয়েছে।

    এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে জুলাইয়ের শুরু থেকে লড়াইও তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় ছিল, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় তারও অবসান ঘটেছে।

  • লক্ষ্মীপুরে বাসি খাবার বিক্রি, ৩ হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

    লক্ষ্মীপুরে বাসি খাবার বিক্রি, ৩ হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরে হোটেলে বাসি খাবার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয় বলে জানান জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী।

    অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নূরজাহান হোটেলের মালিক সাইফুল আলমকে পাঁচ লাখ, রাজমহল হোটেলের বিষ্ণু বণিককে চার লাখ ও মোহাম্মদীয়া হোটেলের মালিক নাজমা বেগমকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের এ অর্থদণ্ড দেন লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো: ওমর ফারুক।

    অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এসআরবি নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল্লাহ হিল হাকিম।

    জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু বলেন, ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানেই রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, পঁচা ও বাসি খাবার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া নুরজাহান হোটেলে খাবার তৈরিতে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

    নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

  • চৌগাছায় গরুর ফার্ম থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    চৌগাছায় গরুর ফার্ম থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় তানজিলা এগ্রো নামের একটি গরুর ফার্ম থেকে গোলাম রসুল (৬০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া এলাকায় তানজিলা অটোভাটার একটি প্রতিষ্ঠান শিমুল হোসেনের তানজিলা এগ্রো গরুর ফার্ম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত গোলাম রসুল ওই ফার্মে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন এবং রাতে ফার্মেই থাকতেন। তিনি উপজেলার ফুলসারা গ্রামের মরহুম তজিবর মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম রসুল প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গরুর ফার্মে কাজে আসেন। পরে কাজ শেষে তিনি আর বাড়িতে ফিরে যাননি। শুক্রবার সকালে তার ছেলে আল আমিন হোসেন বাবার খোঁজ নিতে ফার্মে যান। তিনি গিয়ে ফার্মের মেঝেতে তার বাবাকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার ডাকচিৎকারে অন্যরা ছুটে আসেন।

    ছেলে আল আমিন হোসেন বলেন, শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই বাবা বৃহস্পতিবার ফার্মে আসেন। শুক্রবার সকালে তিনি বাড়িতে ফেরেননি। তাই বাবাকে খুঁজতে আজ সকালে ফার্মে আসি। তারপর দেখি বাবার নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। এ সময় আমি ডাকচিৎকার দিলে অন্যরা ছুটে আসেন। পরে ফার্মের মালিক শিমুল হোসেন ও চৌগাছা থানা পুলিশকে জানানো হয়।

    চৌগাছা থানার এসআই বেলাল হোসেন লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। তিনি জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত করার পরেই জানা যাবে।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, লাশ উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রির্পোট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • গাজা গনহত্যা: ২০২৭ ইউরোভিশন বর্জন করবে আয়ারল্যান্ড

    গাজা গনহত্যা: ২০২৭ ইউরোভিশন বর্জন করবে আয়ারল্যান্ড

    গাজায় ‘অব্যাহত প্রাণহানির’ প্রতিবাদে ২০২৭ সালের ইউরোভিশন সঙ কনটেস্টে অংশ নেবে না আয়ারল্যান্ড। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই জানিয়েছে, আগামী বছরের এই সংগীত প্রতিযোগিতা আয়ারল্যান্ড সম্প্রচারও করবে না।

    আল জাজিরা ১৭ আগস্ট জানিয়েছে, ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে চলতি বছরের প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেয়নি আয়ারল্যান্ড। এবার ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটি নেদারল্যান্ডসের সাথে একই অবস্থানে গেল। নেদারল্যান্ডসও আগামী বছরের ইউরোভিশনে অংশ নেবে না।

    আরটিই জানিয়েছে, গাজায় ‘অব্যাহত প্রাণহানির’ কারণে আয়ারল্যান্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই কারণে প্রতিযোগিতাটি সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

    ইউরোভিশন সঙ কনটেস্ট ইউরোপের অন্যতম বড় সংগীত প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা এতে নিজ নিজ দেশের হয়ে অংশ নেন। ইসরাইলের অংশগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিযোগিতাটি রাজনৈতিক বিতর্কের মুখেও পড়েছে।

    চলতি বছর ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ড প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। আগামী বছরও একই অবস্থান বজায় রেখে প্রতিযোগিতায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

  • হুতিদের ঠেকাতে মিত্রদের দ্বারে দ্বারে সৌদি

    হুতিদের ঠেকাতে মিত্রদের দ্বারে দ্বারে সৌদি

    ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এসব মোকাবিলায় টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে রিয়াদ। এর মধ্যেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে তাদের।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব সরকার। তাদের কাছে অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত—এমন দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এ কথা জানান।

    এই কর্মকর্তারা বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইরান–সমর্থিত হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ।

    সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধরত যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা টানা যুদ্ধের জেরে দেশটিতে এসব অস্ত্রের মজুত কমতির দিকে। এ কারণে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে অন্যান্য দেশের কাছে সহায়তা চাইছে, বলেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

    ওই দুই কর্মকর্তা নিজেদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করার অনুমতি দেননি। বলেছেন, এ বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি তাঁদের নেই। তাই তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

    সৌদির অভিযোগ, হুতিদের নাকচ

    চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে সৌদি আরব ও হুতিরা। এটা এখন ইরান যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট। গতকাল সৌদি আরব অভিযোগ করে, পবিত্র নগরী মক্কার দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো লক্ষণ এ পর্যন্ত দেখা যায়নি।

    মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মস্থান মক্কা। পবিত্র কাবা এ নগরে অবস্থিত। মুসলিমদের কাছে পবিত্র নগরী হিসেবে স্বীকৃত মক্কা। প্রতি বছর পবিত্র হজ পালনের সময় বিশ্বের লাখো মুসল্লি এখানে জড়ো হন। এ পবিত্র নগরীর দিকেই হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।

    সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পবিত্র নগরীতে হুতিদের এ ধরনের হামলার চেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমা’ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করা হবে না।

    তবে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের পবিত্র নগরীটিতে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

    এর মধ্যেই গতকাল ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

    সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি যোদ্ধারা। ইয়েমেনের মারিব প্রদেশ

    মিত্রদের পাশে পেতে মরিয়া

    জ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। ধনী দেশটি এখন হুতিদের সবচেয়ে বড় নিশানা। দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের পেছনে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে ন

    অতিসম্প্রতি সৌদি আরবে এক হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি তেলের পাইপলাইন (ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন) বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কথা বলা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাইপলাইনটি টানা কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। এ ছাড়া হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজে হামলা করছে।

    এদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতিরা। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবের সামনে হরমুজের বিকল্প ছিল বাব আল–মানদেব। কিন্তু সেখানেও হুতিদের নিয়ন্ত্রণ নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।

    হরমুজের পর বাব আল–মানদেব দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া করেছে। ইতিমধ্যে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানি নিয়ে সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ।

    আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব এখন ‘খুব কঠিন অবস্থায়’ পড়েছে। কারণ, দেশটিকে শুধু সামরিক ঘাঁটি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষা করলেই হচ্ছে না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল স্থাপনাগুলোও নিরাপদ রাখতে হচ্ছে।

    অন্য আরেক কর্মকর্তা বলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক মিত্রদের পাশে টানার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, ইয়েমেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ওমান ও মিসর নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েছে।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলো অ্যাডাম ব্যারন বলেন, এটা শুধু হুতি বনাম সৌদি আরবের ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বৃহত্তর পথগুলো কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সেটিও এখন মুখ্য বিষয়।

    বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে—এমন দুই কর্মকর্তা বলেন, ওমানের মাসকাটে গত সপ্তাহান্তে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠকে একজন হুতি কর্মকর্তা নিজেও উপস্থিত ছিলেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল নিয়ে দুপক্ষ কথা বলেছে।

    এর বাইরে বৈঠকটি সম্পর্কে আর বিস্তারিত জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রও নাম–পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছে।

    কূটনৈতিক সহায়তায় আগ্রহ

    আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে মরিয়া হয়ে সামরিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব। জানা গেছে, মিত্রদেশগুলো সামরিক সহায়তা দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়; বরং তারা কূটনৈতিক সহায়তা দিতে আগ্রহী।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস গত মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের খুবই ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ রয়েছে। তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ব্রিটিশ সেনারা আছেন কি না, সেটি জানাতেও অস্বীকৃতি জানান ওয়েলস।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী ব্যবস্থার তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সহায়তা করার মতো সক্ষমতা ইউরোপের আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    এদিকে তুরস্কের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটি ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনিও নাম–পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

    তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এ চুক্তির সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে হুতিরা। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা এপিকে বলেন, হুতিকে প্রতিহত করতে তাদের কাছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো অনুরোধ আসেনি।

    মক্কায় হামলাচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিন্দা জানাতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘অটলভাবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ একসঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে বলেন, এ ঘটনায় কোনো দেশই ‘নির্লিপ্ত থাকতে পারে না’।

    অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা

    সৌদি–হুতি বিবাদ থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্র

    সৌদি আরবের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে অন্য ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও বেশ আগে থেকেই পেয়ে আসছে সৌদি সরকার। তবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এখন সৌদি–হুতি সংঘাতে সরাসরি জড়াতে আগ্রহী নন।

    গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ‘নিয়মিত যোগাযোগ’ রয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র ‘সরাসরি আলোচনা’ করেছে।

    সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, গত সপ্তাহে আটটি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জার্মানিতে ওই বৈঠক হয়। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করার সুযোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। তবে ওই বৈঠকে কোন কোন দেশ অংশ নেয়, তা জানাননি ওই মার্কিন কর্মকর্তা।

    চীন সফরে আব্বাস আরাগচি

    যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল কেনে চীন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফরে গেছেন।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াং ই।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান এ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়।

  • মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

    মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন হৃদয় মিয়া (২৫) নামে এক মুদি দোকান ব্যবসায়ী।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাদেক খান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল নিয়ে কৃষি মার্কেটে মালামাল আনতে যাওয়ার পথে ৪-৫ জনের একটি দল তার পথরোধ করে। এ সময় চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কুপিয়ে তার ব্যবহৃত সুজুকি মোটরসাইকেল ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

    আহত হৃদয়ের বন্ধু মোহাম্মদ বিপ্লব জানান, সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে কৃষি মার্কেটে যাচ্ছিলেন হৃদয়। পথে সাদেক খান রোড এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন ছিনতাইকারী তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তাকে চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কোপানো হয়। হামলার পর তার মোটরসাইকেল ও সঙ্গে থাকা ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

    পরে খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।

    ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    আহত হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সবুজ মিয়া। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

  • ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

    ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

    রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প বিলটিতে সই করবেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল হওয়া ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৬২ ও বিপক্ষে ১৫৯ ভোট পড়ে।

    ৬১ পৃষ্ঠার এ বিল গত মাসে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। গত জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে গ্রাহাম এ উদ্যোগের জোরালো সমর্থক ছিলেন।

    বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে।

    এ বিলের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ করতে চায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।

    নির্দলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, ‘এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।’

    যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে এবং যাদের আমদানি রাশিয়ার বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম, বিলটিতে তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় সিএসআইএস।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল বলেছে, যদি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বিলটি ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হলো, শুল্ক আরোপ করলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হবে’।

    রাশিয়ার একটি তেলের পাইপলাইন

    এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবেররা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকবে।

    ট্রাম্পের অনুরোধে এ প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

    প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এটির অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান—লুইজিয়ানা) গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময়ই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলটির পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমার মনে হয়, এখন সেই ঐকমত্য আমাদের আছে।’

    ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন র‍্যাজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এক বিবৃতিতে বালসন বলেন, ‘এমন এক সময় বিলটি পাস হলো, যখন রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রায় সেনা মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছেন এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ জোরদার করছেন। এ বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, পুতিন যত দিন ইউক্রেনের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে যাবেন, তত দিন কংগ্রেসও তাঁর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’

  • নেপাল–তিব্বতের প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট

    নেপাল–তিব্বতের প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট

    জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে সম্ভবত হিমবাহটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে সেটি ধসে গত মাসে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। এ দুর্যোগ নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

    গবেষকেরা হিমবাহধসের আগে ওই অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া শনাক্ত করেছেন। হিমবাহটি ধসে পড়ার পর প্রায় ১১ কোটি ঘনমিটার তুষার ও বরফ নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। এতে প্রায় নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ভাটির জনপদগুলোয় আঘাত হানে সেই বন্যা।

    লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে হওয়া নিঃসরণ যে সংকট তৈরি করেছে, নেপালের মানুষ জীবন দিয়ে তার মূল্য দিচ্ছেন।’ ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এ গবেষণা করেছে।

    অটো বলেন, ‘উষ্ণায়ন যখন পৃথিবীর ছাদকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তখন স্থানীয় পর্যায়ে যত অভিযোজনই করা হোক, ভাটির ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব নয়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নিঃসরণ শূন্যে নামাতে আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোয় এমন আরও দুর্যোগ অনিবার্যভাবে দেখতে হবে।’

    গত ২৬ আগস্ট লাংটাং লিরুং পর্বত থেকে ঝুলন্ত হিমবাহ ও শিলার একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এর আয়তন ছিল প্রায় দুই লাখ বর্গমিটার। এ দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ।

    হিমবাহ ও শিলার ওই অংশ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার নিচে পড়ে। এত তীব্র শক্তিতে সেটি উপত্যকার মাটিতে আঘাত করে যে কম্পনটি ভূমিকম্প হিসেবেও ধরা পড়ে। এতে বরফ গলে যায় এবং হিমশীতল বন্যার সৃষ্টি হয়। সেই বন্যা ঘণ্টায় ১৭৭ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নদীপথে নেমে আসে।

    ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। তিব্বতের গিরং অঞ্চলে

    পানি, বরফ, শিলা ও পলির ভয়াবহ স্রোত পরিবার, ঘরবাড়ি, জনপদ, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বেঁচে যাওয়া অনেক মানুষ আটকা পড়েন এবং অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘এত বড় শিলাধসের ঘটনা বিরল। আনুমানিক হিসাবে এক হাজার থেকে দশ হাজার বছরে এ আকারের একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, অভিযোজনের সীমাও ইতিমধ্যে স্পর্শ করা হচ্ছে।’

    অটো ও তাঁর দল এর আগে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন বা ডব্লিউডব্লিউএর অধীন যেসব গবেষণা করেছেন, এটি সেগুলোর চেয়ে আলাদা। ডব্লিউডব্লিউএ হলো ইম্পেরিয়াল কলেজ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলবায়ুবিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ উদ্যোগ।

    আগের গবেষণাগুলোয় সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট আবহাওয়াজনিত ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমনটি করা যায়নি। গবেষকেরা দেখেছেন, কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে এই দুর্যোগ ঘটিয়েছে। কয়েক দশক ধরে গ্রিনহাউস গ্যাসদূষণের কারণে বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হওয়ায় এসব কারণের প্রভাব আরও বেড়েছে।

    ইম্পেরিয়াল কলেজে চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন বেন ক্লার্ক। তিনি বলেন, ভয়াবহ ধসের আগে হিমবাহটির আশপাশে দীর্ঘ মেয়াদে যেসব পরিবর্তন ঘটেছিল, সেখানে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ছাপ’ স্পষ্ট।

    গবেষণার প্রধান তথ্য

    গবেষণায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

    যে অঞ্চলে ধসটি ঘটেছে, সেখানে শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। শুধু জুলাই ও আগস্টে তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    স্থানীয়ভাবে ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্ট ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ দুই মাস। হিমবাহধসের আগের দিনগুলোয় তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

    ১৯৮০-এর দশক থেকে হিমালয়ে হিমাঙ্কের উচ্চতা প্রতি দশকে প্রায় ১০০ মিটার করে ওপরে উঠেছে। অর্থাৎ বরফ গলার মতো তাপমাত্রা এখন আরও উঁচু এলাকায় এবং বেশি সময় ধরে থাকছে। এতে স্থায়ীভাবে জমাট মাটি বা পারমাফ্রস্টে গঠিত পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে হিমবাহটি উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে গেছে। ধসের স্থানটির চারপাশে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা বরফ সরে গেছে। পাশাপাশি বরফগলা পানিও জমেছে।

    আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর হেলিকপ্টার থেকে দেখা যাচ্ছে কাদায় ঢেকে যাওয়া জনপদ। রসুয়া, নেপাল

    ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। তবে আগস্টের দুর্যোগে ওই ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নিশ্চিত করা যায়নি।

    অটো, ক্লার্ক ও ডব্লিউডব্লিউএর গবেষক দল সরাসরি বলেনি যে জলবায়ু বিপর্যয়ই এ দুর্যোগের মূল কারণ। তাঁদের মতে, বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল করে তোলার একটি কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দেখাই বেশি যুক্তিসংগত।

    ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তন উঁচু পাহাড়ি পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে। এই ধসের সম্ভাব্য অনেক কারণের ওপরই এর প্রভাব পড়ছে।’

    বন্যায় হওয়া ধ্বংস মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘের ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে নেপাল। এই তহবিল থেকে সহায়তা পেতে দুর্যোগটির সঙ্গে জলবায়ু সংকটের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়।

    নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল চীন ও ভারতের মতো বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে ‘জেগে ওঠার’ এবং এই দুর্যোগের যৌথ দায় স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ডব্লিউডব্লিউএর অংশ রেডক্রস রেড ক্রিসেন্ট ক্লাইমেট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ কারিগরি উপদেষ্টা মাধব উপ্রেতি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পথ তৈরি হতে পারে শুধু বিশ্বজুড়ে নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমানোর মাধ্যমে।

    মাধব উপ্রেতি আরও বলেন, ‘কল্পনাতীত মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতেও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। যে দেশটি এ সমস্যা তৈরিতে কার্যত কোনো ভূমিকা রাখেনি, তার এ পরিস্থিতি একটি বিষয় আরও স্পষ্ট করে, জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে তাদের সৃষ্টি না করা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’

  • জিন্নাহর সমাধিসৌধে বাংলায় খোদাই করা জন্ম ও মৃত্যুতারিখ

    জিন্নাহর সমাধিসৌধে বাংলায় খোদাই করা জন্ম ও মৃত্যুতারিখ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে জিন্নাহর ঐতিহাসিক অবস্থান ফুটিয়ে তুলতে ছবিটি রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ডাকসু কর্তৃপক্ষ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চাওয়া সেই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সমাধিসৌধে খোদাই করা রয়েছে বাংলায় লেখা জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ।

    করাচিতে অবস্থিত পাকিস্তানের জনক ও তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমাধিস্থল বা মাজার-ই-কায়েদ দেশটির অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। ইতালিয়ান শ্বেত মার্বেলে তৈরি এই সমাধিসৌধে উর্দুর পাশাপাশি বাংলা হরফেও তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ খোদাই করা রয়েছে, যা ইতিহাস সচেতন যেকোনো বাংলা ভাষাভাষীকে বিস্মিত ও গর্বিত করে।

    জানা যায়, শুধু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ নন, আরও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি নেতার কবরেও বাংলা বর্ণমালার ব্যবহার রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন এবং দেশটির সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সরদার আবদুর রব নিশতার। এদের প্রত্যেকের কবরে নাম, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখগুলো বাংলা বর্ণমালায় খোদাই করে লেখা রয়েছে।

    করাচি শহরের মধ্যস্থলে প্রায় ৬১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাজার কমপ্লেক্সটি দেশটির অন্যতম প্রধান জাতীয় প্রতীক। সবার জন্য উন্মুক্ত এই সমাধিস্থলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। নিয়ম অনুযায়ী, এখানে ২৪ ঘণ্টাই গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং প্রতি চার মাস পর পর দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পালাক্রমে এ দায়িত্ব পালন করে।

  • ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

    গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় চালানো দুটি সামরিক হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জোড়ালো প্রমাণ ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন। এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলেও জানিয়েছে মিশনটি।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে।

    ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশব্যাপি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ইরান সরকারের দমনপীড়ন এই দুই বিষয়ই তদন্ত করেছে মিশনটি।

    জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছেন যে মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী। ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জনই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।

    মিশনের সদস্যরা জানান, বিদ্যালয়টি একটি সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত বেসামরিক স্থাপনা ছিল। এটি কোনো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণও তারা পাননি।

    লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে চালানো হামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

    অন্যদিকে, দেশব্যাপি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী মিশন।

  • ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দেওয়ায় ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    কানাডার নেতা মার্ক কার্নি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার এক দিন আগে ইইউর প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন এই প্রস্তাব দেন।

    ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে দূরে সরে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

    প্রস্তাবটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটি হাস্যকর।’

    তিনি বলেন, ‘তারা যদি এটি করে এবং আমি যদি মনে করি এটি কোনোভাবে বৈরী পদক্ষেপ, তাহলে ইউরোপের ওপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক আরোপ করব। অথবা অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘উদ্দেশ্য ভালো হলে ঠিক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ হলে ইউরোপের ওপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক আরোপ করব। এটি একটি সম্ভাবনা।’

    ফন ডার লিয়েন কার্নির কাছে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। কার্নি প্রথম ইউরোপের বাইরের কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণে অংশ নেন।

  • কুয়াকাটায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল

    কুয়াকাটায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-গঙ্গামতি এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে আবারও অবাধে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেট এলাকায় বন বিভাগের সৃজিত গাছপালা কেটে স্থাপনা নির্মাণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

    সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকা হয়ে ধোলাই মার্কেট পর্যন্তও নতুন করে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুই পাশে এখনও স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।

    অভিযোগ রয়েছে, বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে ওই স্থানেই দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার স্বার্থে পাউবোর ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে গড়ে ওঠা ৬৭৩টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয় ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা।

    পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সাগরের ভাঙন ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন এবং বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়।

  • ফিজিতে এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    ফিজিতে এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    ফিজিতে দ্রুত বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন করে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১৬ জনের, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৬ গুণ বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আতোনিও লালাবালাভু বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ‘সমন্বিত ও সর্বাত্মক’ পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিনা মূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদক গ্রহণকারীদের জন্য ক্ষতি কমানোর কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হবে।

    জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের অর্ধেকের বেশি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের কারণে ঘটেছে। ২০২৫ সালে এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেওয়া ৫৯ শিশুর মধ্যে ১৮ জন এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা গেছে।

    ফিজির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। দেশটিতে সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর জন্য আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, গ্লোবাল ফান্ড ও জাতিসংঘ ফিজিকে সহায়তা করছে।

    ইউএনএইডসের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ফিজি ও অন্যান্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে মাদকের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ পরিস্থিতিও আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

  • কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দিলেন বেওয়ারিশ কুকুর

    কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দিলেন বেওয়ারিশ কুকুর

    ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরাজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর বেওয়ারিশ কুকুর ছেড়ে দেন তারা। এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এমন অভিযোগে এ প্রতিবাদ করা হয়।

    ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, যুবসেনার নেতা কর্মীরা একটি বস্তার মুখ খুলে প্রধান কর্মকর্তা টেবিলের ওপর একটি ছোট কুকুর ছেড়ে দিচ্ছেন। আকস্মিক ঘটনায় চেয়ারে বসা ধীরাজ ভামরে টেবিল থেকে সরে যান। পরে আবার চেয়ারে ফিরে আসেন। বস্তার ভেতর আটকে থাকার কারণে আতঙ্কিত কুকুরটি দৌড়ে অফিসের এক কোণে চলে যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পর বস্তা থেকে আরও একটি কুকুর বের করে দেওয়া হয়। সেটি কর্মকর্তার টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে এক কোণে বসে পড়ে।

    প্রতিবাদের সময় গত ছয় মাসে বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা নিয়ে প্রধান কর্মকর্তাকে বারবার অবহিত করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন যুবসেনার নেতা রনধাভে।

    এনডিটিভিকে তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রাম, রাস্তা ও অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। তার দাবি, গত ছয় মাস ধরে নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য জানিয়ে আসছেন তিনি। এরই মধ্যে একটি ছোট শিশু কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে এবং অনেক মানুষ ও নারীকে কুকুর তাড়া করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    রনধাভে বলেন, এলাকার পরিস্থিতির ছবি তুলে এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়ে একাধিকবার কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মনে হওয়ায় প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিনি চারটি কুকুর নিয়ে গিয়ে কর্মকর্তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।

    যুবসেনার এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রধান কর্মকর্তা বিভিন্ন টেন্ডারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এ কারণেই নেতাকর্মীরা নোটের মালা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেগুলো কর্মকর্তার টেবিলেও রাখা হয় বলে জানান তিনি। এটিকে শেষ সতর্কবার্তা উল্লেখ করে রনধাভে বলেন, আগামী আট দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আবারও কর্মকর্তার কার্যালয়ে কুকুর ছেড়ে দেওয়া হবে।

  • চট্টগ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে দুইজনকে পুলিশে দিল জনতা

    চট্টগ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে দুইজনকে পুলিশে দিল জনতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পৌরসভার কাগজীপাড়া এলাকায় এক শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন- কচুয়াই ইউনিয়নের আবুল ফয়েজের ছেলে মো. ফারুক (৪২) এবং কুতুপালং এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে শাহাজাহান বেগম (৪০)। অভিযুক্ত শাহজাহান বেগম উপজেলার বাদামতল এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটিয়া সদরের কাগজীপাড়া এলাকার আশরাফ আলী একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে সালমা ইকরা (৯) ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় এক রিকশাচালক ও এক নারী তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে রিকশায় তুলে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পরে তাকে বাড়ির সামনে না নামিয়ে রিকশাটি অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে রিকশাসহ ওই দুইজনকে আটক করেন।

    শিশুটির বাবা প্রবাসী শাহনেওয়াজ মামুন বলেন, আমার মেয়েকে বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন বের হয়ে আসেন। পরে সবার সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পটিয়া পৌরসভা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ছেলেধরার ঘটনায় আমরা অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছি।

    পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ছেলেধরা অভিযোগে দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • কুরআন শিক্ষায় আলোকিত হচ্ছে যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলের ৩৮ শিক্ষার্থী

    কুরআন শিক্ষায় আলোকিত হচ্ছে যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলের ৩৮ শিক্ষার্থী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কুরআন সবক প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’। অনুষ্ঠানে ৩৮ শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর আমিনিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোরের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা প্রকৌশলী খন্দকার রাশেদুজ্জামান রতন ও ড. মাহবুবুর রহমান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সচিব গাউসুল আযম, পরিচালক মোস্তফা কামাল, আজিজুর রহমান মশিউর, রেজওয়ান আহমেদ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিশুর প্রকৃত শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানী, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

    বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি শিশু যেন পদ্ম বা গোলাপের মতো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সৌন্দর্য ও কল্যাণ ছড়িয়ে দিতে পারে, এটাই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা। কুরআন শুধু পড়তে শেখানো নয়, এর শিক্ষা ও আদর্শকে বুঝে জীবনে প্রতিফলিত করার মানসিকতা তৈরি করাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    অভিভাবকদের সন্তুষ্টি

    অনুষ্ঠানে অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সন্তানদের একই সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা ও কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।

    অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি কুরআনের শিক্ষায়ও আলোকিত হোক। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলে পড়াশোনার সঙ্গে কুরআন শিক্ষার যে সমন্বয় করা হয়েছে, তা আমাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

    অভিভাবিকা মোছা. নাজমা আক্তার বলেন, ‘অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে বাসায় সন্তানকে নিয়মিত কুরআন শেখানোর সুযোগ হয়ে ওঠে না। স্কুলে শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তানদের মধ্যে কুরআন পড়ার আগ্রহ ও ভালো অভ্যাস তৈরি হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য আনন্দের।’

    অভিভাবক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এখানে শুধু ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয় না; তাদের চরিত্র, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্তানদের নামাজ ও ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখে আমরা আশ্বস্ত।’

    প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন করে গড়ে তোলাই ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর আদর্শ ও আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    অনুষ্ঠান শেষে ৩৮ শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, দ্বীনি জীবনে সফলতা এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • নোয়াখালীতে এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

    নোয়াখালীতে এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহে তিন দফায় ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন।

    সিভিল সার্জন বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানসী রানি সরকারকে প্রধান করা করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও হাতিয়া থানার ওসি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

    জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার পেছনে ম্যাস হিস্টিরিয়া কাজ করতে পারে। তবে এটিই চূড়ান্ত কারণ নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি কাজ করবে।

    এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আরো ২১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ বুধবার ১৩ জন অসুস্থ হলে অসুস্থের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ জনে।

  • ভারত যাওয়ার চেষ্টায় মেহেরপুর আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

    ভারত যাওয়ার চেষ্টায় মেহেরপুর আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভ্রমণসংক্রান্ত আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এম এ খালেক মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় বিষয়টি কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে এম এ খালেককে দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    দর্শনা চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ এসআই তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • দোয়ারাবাজারে ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারি গ্রেফতার

    দোয়ারাবাজারে ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পুলিশের অভিযানে ৬৩০ পিস ইয়াবাসহ হোসনা আরা (২৬) নামে এক নারী মাদককারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হোসনা ইউনিয়নের কিরনপাড়া গ্রামের আয়াজ আলীর স্ত্রী।

    জানা গেছে, দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদারের দিকনির্দেশনায় এসআই সঞ্জয় দত্ত সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাংলাবাজার ইউনিয়নের কুশিউড়া এলাকায় হোসনার রুমে অভিযান চালায়। এ সময় ইয়াবার চালানসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

    দোয়ারাবাজার থানার ওসি জানান, আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

  • চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের রুটি পুকুরে

    চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের রুটি পুকুরে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব পৌর শহরের কচি-কাঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত মিড-ডে মিলের বনরুটি পুকুরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের আয়া লিপি দাসকে রুটিগুলো পুকুরে ফেলে দিতে দেখেন স্থানীয়রা। এতে এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ক্ষুব্ধ একাধিক অভিভাবক জানান, শিশুদের পুষ্টির জন্য সরকার যে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের না দিয়ে এভাবে পুকুরে ফেলে দেয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা এ ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

    এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: কামরুল ইসলাম বলেন, ‘রুটি বিতরণের দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় কিছু বনরুটি রয়ে গিয়েছিল। সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুকুরে ফেলে দেয়া হয়েছে।’

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর বিদ্যালয়ে এসে বনরুটিগুলো পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • লালপুরে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১

    লালপুরে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় দু‘জন গুরুতর আহত হন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-নাটোর সড়কে শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের মরহুম শহীদুল ইসলাম লাকীর ছেলে।

    আহতরা হলেন একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ইমরান (২০) ও বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের নাজির হোসেনের ছেলে মনি (২০)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল্লাহ, ইমরান ও মনি একটি মোটরসাইকেলযোগে গোপালপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। এঘটনায় দু‘জন গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় লালপুর ফায়ার সার্ভিস আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: রুমাইয়া হক রাকা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। আহত ইমরান ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

  • মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতার দোকান থেকে ৩ টন সার জব্দ

    মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতার দোকান থেকে ৩ টন সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতা মো: জাকির হোসেনের দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে মজুদ তিন টন সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় তাকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ১ নম্বর দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জাকির ওই এলাকার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।

    জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্রের নেতৃত্বে অভিযানে জাকিরের দোকান মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজ থেকে ১৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ টিএসপি, ৪১ বস্তা ইউরিয়া ও সাত বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। এ সময় দোকানের মালিক জাকিরকে না পাওয়ায় তাকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ইউএনও বলেন, ‘এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ইছাখালি বাজারে অভিযান পরিচালনা করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • বকশীগঞ্জে কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু

    বকশীগঞ্জে কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে সবুজ (১৭) নামে এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে পৌরসভার চরকাউড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ছটফট করতে থাকে সবুজ। মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের দাবি, সবুজ দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

    বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।