সিলেট বিভাগ

  • সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২ লাখ ১৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় চোরাচালানে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাবাজার, প্রতাপপুর, পান্থুমাই, উৎমা, তামাবিল, সংগ্রাম ও কালাইরাগ বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভারতীয় কসমেটিকস, ফুচকা, গরু, কম্বল, চা পাতা, বাসমতি চাল ও মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়। এ সময় চোরাচালানের সাথে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এসব চোরাইপণ্য জব্দ ও একজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ পণ্য ও আটক ব্যক্তির বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরালের পর এএসআই ক্লোজড

    ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরালের পর এএসআই ক্লোজড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াসকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো: তারেক মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সার্কেল এএসপিকে এ ব্যাপারে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    ভিডিওটিতে ইলিয়াস বলেন, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না ? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি ? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

    পরে জানা যায়, সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • সিলেট সীমান্তে বিজিবির হাতে চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে বিজিবির হাতে চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪৬ লাখ ৫৩ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি।

    শনিবার সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, এদিন ভোরে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। এ সময় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাবাজার, তামাবিল, উৎমা, বিছনাকান্দি, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট, দমদমিয়া ও ডিবিরহাওর বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভারতীয় জিরা, গরু, কম্বল, বডি লোশন, বাসমতি চাল, মদ, শুটকি, চকলেট, সুপারি ও চিনিসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • সিলেট সীমান্তে ভারতীয় শটগান-গুলিসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ভারতীয় শটগান-গুলিসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় শটগান, গুলি, মদসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। তবে, এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিজিবি সূত্র জানায়, বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ৪৮ বিজিবির একটি বিশেষ অপারেশন দল প্রতাপপুর বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩০০ বোতল ভারতীয় মদ, একটি ভারতীয় সিঙ্গেল ব্যারেল শটগান ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    এছাড়া ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ জিরা, গরু, সানগ্লাস, কসমেটিকস, কম্বল, বিড়ি, চকলেট, ফুচকা ও এনার্জি ড্রিংক জব্দ করা হয়। একই অভিযানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় মশলা ও শিং মাছসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৭৩ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ, শটগান, গুলি ও অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • সিলেটে বালুভর্তি ট্রাকে মিলল ৪৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি

    সিলেটে বালুভর্তি ট্রাকে মিলল ৪৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুভর্তি ট্রাকে অভিনব কায়দায় পাচারের সময় চার হাজার ৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো: আলালকে (৩৫) আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার মো: সম্রাট তালুকদার।

    তিনি জানান, এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরপূর্বক আটক ট্রাকচালক আলালকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    আটক ট্রাকচালক আলাল গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের পাঁচ সেউতী গ্রামের সিদ্দেক আলীর ছেলে।

    এর আগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সোয়া ৫টার দিকে জৈন্তাপুর থানার নিজপাট ইউনিয়নের নয়াখেল এলাকায় সারী নদীর সেতুর উত্তর পাড়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি বালুভর্তি ট্রাকে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ট্রাকের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, জব্দকৃত শাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এছাড়া পাচারে ব্যবহৃত হলুদ রঙের ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ টাকা। এ,আর

  • মৌলভীবাজারে নাঈম হত্যা মামলার ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    মৌলভীবাজারে নাঈম হত্যা মামলার ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রবিউল আউয়ালের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর রেজাউল করিম নাঈমের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আসামিরা। ধারালো ছুরির আঘাতে নাঈম গুরুতর আহত হন। পরে পরিবার ও স্থানীয়রা মিলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৮ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহত নাঈমের বাবা মো: চেরাগ মিয়া ৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

    পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজ বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে খালাস দেয়া হয়।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন— চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার মরহুম মো: ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মো: নুরুল ইসলাম, দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম রনি, আব্দুল আজিজের ছেলে মো: সাইমন ইসলাম ও আব্দুল কাদিরের ছেলে আনোয়ার হোসেন। সাজাপ্রাপ্ত নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

    খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— বর্ষিজোড়া এলাকার ইদন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া, নাজিরাবাদ ইউনিয়নের সাহিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বর্ষিজোড়া এলাকার মো: রমিজ মিয়ার ছেলে সাকির আহমদ ওরফে শাকিল, দণ্ডপ্রাপ্ত মো: নুরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন বেগম ও মেয়ে রুকশানা আক্তার।

    এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রত্যাশা করি, উচ্চ আদালত এই সাজা বহাল রাখবেন। এ,আর

  • কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ১

    কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ মো: হাসান মিয়া (৩০) নামে এক ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌর এলাকার জয়পাশা গ্রাম থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় তাকে আটক করা হয়।

    হাসান বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে মৌলভীবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযানকালে ডাকাতদলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে চলে যান।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ধৃত ডাকাতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ,আর

  • সিলেট সীমান্তে বিজিবির ৭১ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে বিজিবির ৭১ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৮ বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন বাংলাবাজার, লাফার্জ, বিছনাকান্দি, শ্রীপুর, প্রতাপপুর ও তামাবিল বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভারতীয় গরু, মদ, শাড়ি, জিরা, চকলেট ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা।

    চোরাইপণ্য জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • কমলগঞ্জে গ্রাফটিং চারা ঘিরে কোটি টাকার বাজার

    কমলগঞ্জে গ্রাফটিং চারা ঘিরে কোটি টাকার বাজার

    জংলি বনবেগুনের শক্ত শিকড়ের সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর ডাল জুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘গ্রাফটিং’ চারা। ব্লেডের নিখুঁত কাটে তৈরি এই চারা ঘিরে বদলে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষি অর্থনীতির চিত্র। কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার, ময়মনসিংহ থেকে পটুয়াখালী—দেশের অন্তত ১০টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে কমলগঞ্জের রোগ প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল টমেটোর চারার চাহিদা।

    উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে কমলগঞ্জে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব চারা ঘিরে মাত্র কয়েক মাসেই স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

    কমলগঞ্জের আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁও ও নাজাতকোনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নার্সারিগুলোতে চলছে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। সারি সারি চারার পাশে বসে শ্রমিকেরা ব্লেড দিয়ে বনবেগুনের গোড়া কেটে সেখানে জুড়ে দিচ্ছেন টমেটোর কাণ্ড।উদ্যোক্তারা জানান, বনবেগুনের বীজতলা তৈরি হতে প্রায় ৩৫ দিন এবং টমেটোর চারা প্রস্তুত হতে ২৫ দিন সময় লাগে। এরপর নির্দিষ্ট অংশ কেটে দুই ধরনের চারা জোড়া লাগিয়ে পলিথিন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে দুটি অংশ একসঙ্গে জোড়া লেগে যায়। পরে আরও ১০ থেকে ১২ দিন নিবিড় পরিচর্যাকক্ষে রাখার পর এগুলো বিক্রির উপযোগী হয়। বর্তমানে প্রতিটি গ্রাফটিং চারা ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, সাধারণ টমেটো গাছ সামান্য বৃষ্টিতেই ঢলে পড়া কিংবা গোড়া পচে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে বনবেগুনের শিকড় অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় গ্রাফটিং করা টমেটো গাছে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলক কম হয়।স্থানীয় কৃষক ও সফল চারা উৎপাদনকারী এম এ করিম বলেন, বনবেগুন টমেটোর একটি জংলি জাত। এর সঙ্গে টমেটোর চারা জোড়া দিলে গাছ সহজে মারা যায় না এবং ফলনও বেশি হয়। সাধারণ একটি গাছে যেখানে ৫ থেকে ১০ কেজি টমেটো পাওয়া যায়, সেখানে গ্রাফটিং করা গাছে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। চাহিদা বেশি থাকায় সিলেট, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও পটুয়াখালীসহ ৮-১০টি জেলা থেকে মৌসুম শুরুর আগেই অগ্রিম বায়না আসে।

    গ্রাফটিং চারা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০টি চারা জোড়া দিতে পারেন। এতে শ্রমিকদেরও ভালো আয় হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, এই প্রযুক্তি শুধু কৃষকের মাঠে ফলন বাড়াচ্ছে না, ধীরে ধীরে এটি একটি বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিচ্ছে। নার্সারিগুলোতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে শত শত নারী ও পুরুষের।

    কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করছেন অন্তত ৪৮০ জন কৃষক। কমলগঞ্জের চাষিদের উৎপাদিত ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। এ খাত থেকে এক মৌসুমে গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষির জন্য বড় অর্জন।”

    স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, “কমলগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে গ্রাফটিং চারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সরকারি সহায়তা, মানসম্মত বীজ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে এ খাত থেকে কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।”

  • সিলেট সীমান্তে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক স্বাক্ষারিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকার বাংলাবাজার, প্রতাপপুর, তামাবিল, সংগ্রাম, ডিবিরহাওর বিওপি কর্তৃক চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভারতীয় গরু, মহিষ, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে, লেহেঙ্গা, কম্বল, কসমেটিক্স, চকলেট, জিরা ও জুস আটক করা হয়। আটক চোরাচালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬০ টাকা।

    ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান আটক করা হয়। আটক চোরাচালানের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • ২ হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ

    ২ হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দুরন্ত শৈশবে শিশুরা যখন মাঠে ঘাঠে ছুটে বেড়ায়, তখন আশরাফ দূর থেকে কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলে। দু’টি হাত নেই, তাই বন্ধুদের খেলায় শরিক হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। মনের গহিনে জমে উঠে তীব্র এক শূন্যতা। নিয়তির এই বঞ্চনা তার জীবনের গল্পটাকে সেখানে থামিয়ে দেয়নি। হতাশার অন্ধকার পেরিয়ে দুই পা-ই হয়ে উঠেছে তার বেঁচে থাকার, স্বপ্ন দেখার এবং তা বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার। দুই পায়ের আঙুলে সে বুঝতে শিখেছে জীবনকে।

    ইচ্ছেশক্তির জোর থাকলে কোনো কিছুই জীবন যুদ্ধে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তা দেখিয়ে দিলেন আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন। জন্মের পর সবকিছু ঠিক থাকলেও ছয় বছর বয়সে জীবনটা বদলে যায়। কাঁধের দু’পাশ থেকে দুটো হাত নেই। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হার মানেয়নি আশরাফ। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে কাটা হাতে পা দিয়ে লিখে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আশরাফ চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে এবার পা দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কারো গলগ্রহ হয়ে নয়, আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বাঁচতে-সমাজকে আলোকিত করতে চান তিনি।

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পানিছড়া গ্রামে আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেনের জন্ম। বাবা খলিল আহমদ ও মা মোছাম্মৎ আমিনা বেগম দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে বড় সে। মা আমিনা বেগম ছেলেকে সমাজের বোঝা না বানাতে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

    মায়ের প্রচেষ্টা, বিশ্বাস আর অনুপ্রেরণায় মোহাম্মদ আলী হোসেন তার পা দু’টিকে হাতের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার সংগ্রাম শুরু করেন। শুরুর দিকে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হতো, তবু হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ তিন বছরের নিরলস চেষ্টায় তিনি আয়ত্ত করেন পায়ে লেখার কৌশল। প্রতিদিনের ক্লাস থেকে শুরু করে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা সবই তিনি করতে শুরু করেন দুই পায়ের নিপুণ দক্ষতায়।

    পড়াশোনার প্রতি মোহাম্মদ আলী হোসেনের ছিল খুবই চেষ্টা, তাই তিনি ভর্তিহন চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায়। তার লেখা পড়া দেখে মুগ্ধ হন সবাই।

    ২০১৪ সালে দাদির সাথে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ খালেরপাড় এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান আশরাফ। সেখানে দুইতলা ভবনের ছাদ থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যাওয়ার সময় বাঁচার জন্য তিনি ১১হাজার কেভির বৈদ্যুতিক লাইনে হাত লেগে ঝলসে যায়। দুই হাত কেটে তাকে বাঁচিয়ে রাখেন চিকিৎসকরা। দু’হাত হারিয়েও তার পড়ালেখা থেমে থাকেনি।

    ২০২৬ সালে চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এখন হযরত শাহজালাল (র:) ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। সে সব সময় হাসিখুশি থাকে।

    আশরাফের মা আমিনা বেগম জানান, দুই ছেলে মধ্যে আশরাফ সবার বড়। ছোট থেকে কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের। দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর বসে বসে কত কেঁদেছি রাতের পর রাত। আশরাফের হাত না থাকায় কোনো কোনো প্রতিবেশী তাকে পছন্দ করত না। সমবয়সীরা তার সাথে খেলত না। একপর্যায়ে আশরাফের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বাড়িতে পায়ের আঙ্গুলে কলম চেপে ধরে খাতায় লেখার চেষ্টা করে সে। আস্তে আস্তে লিখতে শেখে সে। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তি দেখে তাকে আমরা মাদরাসায় ভর্তি করি। এখন নিজের ইচ্ছা ও যোগ্যতায় সে এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়। তবে সে এখনো তার নিজের কাজ নিজে করতে পারে না। জামা-প্যান্ট নিজেই পরতে পারে না। খাবার মাখতে পারে না। খাবার মেখে দিয়ে মুখে খাইয়ে দিতে হয়। তার বাবার অল্প আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলে। আশরাফ লেখাপড়া করে একটি চাকরি পেলে সমাজের আর দশটা প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েও তাকে অনুসরণ করতে পারবে।

    আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গর্ভধারিণী মা-ই এখন প্রধান ভরসা। তিনি হাঁটাচলা করতে পারলেও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। লেখাপড়ার জন্য মাদরাসায় যাতায়াতের সময়ও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

    আক্ষেপ করে আশরাফ বলেন, ‘আমি হাঁটাহাঁটি ও চলাফেরা করতে পারি। কিন্তু লেখাপড়া করতে মাদরাসায় যাওয়ার সময় অনেকেই আমাকে অবহেলা করে গাড়িতে তুলতেন না। সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে আমি জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি চাই অন্য সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে।’

    নিজের পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কথা তুলে ধরে আশরাফ আরো বলেন, ‘আমার বাবা একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। আমার চিকিৎসার পেছনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। কিছুদিন আগে আমার বড় ভাইও রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দুই ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বাবা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন আমি পরিবারের হাল ধরতে চাই।’

    তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার যদি তাকে একটি চাকরি দেয়, তাহলে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

    প্রতিবেশী মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরও আশরাফ থেমে থাকেনি। জীবনযুদ্ধে লড়াই করে সে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পা দিয়ে লিখে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। সে একজন মেধাবী ও ভালো ছাত্র।’

    তিনি বলেন, ‘আশরাফ সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে আরো এগিয়ে যেতে পারবে। তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। পরিবারের সদস্যরা অনেক কষ্টে দিনযাপন করছেন। বাবা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। পরিবারের আহার, চিকিৎসা ও লেখাপড়ার ব্যয় বহন করে ঋণ পরিশোধ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। আশরাফের বাড়ির কাছেই সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। সেখানে তাঁ জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে বাড়ির কাছ থেকে যাতায়াত করে কাজ করা সম্ভব হবে।’

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

    চিকনাগুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনায় পরিবারটি আজ অসহায় জীবনযাপন করছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও সবাইকে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

    আশরাফের প্রত্যাশা—সহানুভূতি নয়, সুযোগ। একটি কর্মসংস্থানই হতে পারে তার নতুন জীবনের পথচলার শক্তি।

    শৈশবে যে আলী মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের খেলতে দেখতেন, আজ তিনি জীবনের বৃহত্তর এক ময়দানে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। দুই হাত না থাকার সীমাবদ্ধতাকে তিনি তার আত্মপরিচয় হতে দেননি। এখন তার প্রয়োজন কেবল একটি সুযোগের। একটি চাকরি শুধু তার জীবিকা নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজকে এ বার্তা দেবে যে–ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে কোনো বাধা মানুষকে আটকে রাখতে পারে না। এ,আর

  • তাহিরপুরে দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, আসামিরা অধরা

    তাহিরপুরে দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, আসামিরা অধরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

    অপহরণের শিকার ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার্থী।

    তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ (৩৬) মেয়েকে উদ্ধারে এবং শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন ২ আগস্ট (রোববার)। যার মামলা নম্বর -১/২৬। এর পূর্বে গত ২৬ জুলাই নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শেখ মহসীন এলিন পাশা স্কুলপড়ুয়া তাবাসসুম ইয়াছমিন সিম্মিকে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে কুপ্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। এই বিষয়টি তাবাসসুম তার পরিবারকে জানায়। পরে তার বাবা বিষয়টি মহসীন এলিন পাশার পরিবারকে জানালে উল্টো ছেলের পক্ষ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অশালীন আচরণ করে।

    এরপরই গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে চিকসা গ্রামের বাসিন্দা শেখ কবির আহমেদ পাশার ছেলে শেখ মহসীন এলিন পাশা (২৬), মরহুম আব্দুল আজিজের ছেলে শেখ কবির আহমেদ পাশা (৫০), শেখ শফিক আহমেদ পাশা (৫৪), শেখ আলমগীর পাশা (৪৫) ও শেখ ফরহাদ পাশা (৩২) তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ ঘটনায় শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর বাবা মামলা দায়ের করেন।

    ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ জানান, ‘ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আমার মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। এ ছাড়া মামলার আসামিদের আটকও করছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।’

    তিনি তার মেয়েকে উদ্ধারে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণসহ র‍্যাব ও ডিবি’র সহযোগিতা কামনা করছেন।

    তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জুবায়ের জানান, ‘আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রী অপহরণ হয়েছে—এই বিষয়ে আমাকে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই জানায়নি, আপনার মুখেই প্রথম শুনলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানালে আমি আমার প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ সবার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

    এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, ‘আমাদের পক্ষ থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ এ,আর

  • জাফলংয়ে পরিত্যক্ত মর্টার শেল ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

    জাফলংয়ে পরিত্যক্ত মর্টার শেল ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি মর্টার শেল উদ্ধার করে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়নের নয়াগাঙ্গের পাড় এলাকায় সিলেট সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় নয়াগাঙ্গের পাড় এলাকায় শিশুরা খেলতে গিয়ে মর্টার শেলটি দেখতে পায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক মর্টার শেলটি আছড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তারা গোয়াইনঘাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মর্টার শেল থেকে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।

    এরপর মর্টার শেলটি পাহারায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি তা উদ্ধার এবং নিষ্ক্রিয়করণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী সিলেটের এটিও ক্যাপ্টেন মনিরার নেতৃত্বে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।

    এ সময় গোয়াইনঘাট থানার সেকেন্ড অফিসার তানভীর ফয়েজসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো: ওমর ফারুক মোড়ল জানান, মর্টার শেলটি উদ্ধারের পর থানা পুলিশের সংরক্ষণে রাখা হয়। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী সিলেটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।’ এ,আর

  • সিলেটে ‘অপহৃত’ দুই কিশোর উদ্ধার: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়তেই গা-ঢাকা

    সিলেটে ‘অপহৃত’ দুই কিশোর উদ্ধার: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়তেই গা-ঢাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদরাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি দুই কিশোর। এরপর তাদের অপহরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে থানায় জিডি করেন অভিভাবকেরা।

    এরই মধ্যে একজনের বাবার ইমোতে আসে হাত-পা বাঁধা এক কিশোরকে মারধরের ভিডিও, সাথে মুক্তিপণের দাবি। শেষ পর্যন্ত সেই ‘অপহৃত’ দুই কিশোরের সন্ধান মিলল জৈন্তাপুরের একটি রেস্টুরেন্টে।

    র‍্যাব বলছে, অপহরণ নয়, মাদরাসায় পড়তে অনাগ্রহ থেকেই নিজেরাই গা-ঢাকা দিয়েছিল তারা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড় ৩টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারের মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে র‍্যাব-৯-এর একটি দল।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

    উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তর মনসুরপুর গ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে মো: সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাইম (১৫) এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়বন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো: তামিম আহমদ (১৫)। তারা সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

    র‍্যাব-৯ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের সময় দুই কিশোর একসাথে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর তারা আর মাদরাসায় ফেরেনি।

    বিষয়টি অভিভাবকদের জানান মাদরাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে অভিভাবকেরা শাহপরাণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে নাইমের বাবার মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপে নম্বরবিহীন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কল আসে। সেখানে নাইমের মতো দেখতে এক কিশোরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়। পরে আরো একটি ভিডিও পাঠানো হয়। এতে দুই কিশোরকে অপহরণের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার পর র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারের ওই রেস্টুরেন্টে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকেই উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর জানায়, মাদরাসায় পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল না। তাদের মধ্যে একজন এর আগেও দুইবার মাদরাসা থেকে পালিয়েছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা নিজেরাই জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে চলে যায়। সেখানে ওই রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করে তারা।

    তবে মুক্তিপণের ভিডিও পাঠানোর বিষয়টি এখনো রহস্যের মধ্যে রয়েছে।

    এএসপি কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘ওই দুই কিশোরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের নয় এবং তারাও এমন কোনো ভিডিও পাঠায়নি।’

    তিনি বলেন, ‘শিশু নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অন্য কোনো শিশুর ভিডিও ব্যবহার করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তার ননদ চামেলী আক্তারকে (২৫) ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতারের পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চামেলী আক্তার বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের মরহুম ইয়াছিন আলীর মেয়ে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মা রেনু বেগম বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে মুন্নি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জা-সহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরো পাঁচজনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করা হয়।

    মামলা দায়েরের পর পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বড়লেখা থানার এসআই শেখ কামরুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আবদুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।

    পুলিশ জানায়, প্রায় ৪৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকা থেকে চামেলী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

    বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান চামেলী আক্তারের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রায় ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর শনিবার সকালে তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়।

  • দোয়ারাবাজারে ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারি গ্রেফতার

    দোয়ারাবাজারে ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পুলিশের অভিযানে ৬৩০ পিস ইয়াবাসহ হোসনা আরা (২৬) নামে এক নারী মাদককারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হোসনা ইউনিয়নের কিরনপাড়া গ্রামের আয়াজ আলীর স্ত্রী।

    জানা গেছে, দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদারের দিকনির্দেশনায় এসআই সঞ্জয় দত্ত সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাংলাবাজার ইউনিয়নের কুশিউড়া এলাকায় হোসনার রুমে অভিযান চালায়। এ সময় ইয়াবার চালানসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

    দোয়ারাবাজার থানার ওসি জানান, আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

  • কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব

    কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা আমীর প্রকৌশলী মোঃ সায়েদ আলী বলেছেন, আধুনিক যুগে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক আমাদের জীবন যদি ঢেলে সাজাতে পারি আজকের এই যুগে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি সুনালি সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলা সম্ভব। এই চেষ্টাই জামায়াতে ইসলামী বিগত ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশে করছে। আমরা যদি কুরআন সুন্নাহ আলোকে জীবন সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারি তাহলে সমাজের যে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে তা থাকবে না ।

    তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং কাগাবলা ইউনিয়নের দাওয়াতি সভায় প্রধান অতিথির রক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

    মঙ্গলবার রাতে কাগাবলা বাজারে ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী সুমন আহমদের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আমীর মো: ফখরুল ইসলাম, উপজেলা কর্ম ও শুরা সদস্য দেওয়ান আশিক আল রশিদ চৌধুরী।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি অলিউর রহমান তালুকদার, আমতৈল ইউনিয়ন সেক্রেটারী আশরাফুল ইসলাম, যুব বিভাগের ইউনিয়ন সভাপতি শরফ উদ্দীন।

    তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে একটি গণঅভ্যত্থান হয়েছিল। সেখানে যুবক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিল। সকলের চাওয়া পাওয়া কিছুই ছিলনা। তারা টাকা পয়সা চায়নি। তারা চেয়েছিল একটি পরিবর্তনশীল ও বৈষ্যমহীন নতুন বাংলাদেশ।

    দুভাগ্যভাবে আমরা লক্ষ্য করছি ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এদেশের জনগণ এ পরিবর্তনের জন্য ২টি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল। সবাই নিজ দায়িত্বে উৎসবমুখর পরিবেশ ভোট প্রয়োগ করেছিল কিন্তু রাত ১২টার পর থেকে রিজাল্ট পরিবর্তন করতে শুরু করে। দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ রাখার জন্য আমাদের আমীরে জামায়াত তা মেনে নিয়েছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকার গঠন হয়ে জুলাইয়ের আক্ষাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করে জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করবে।

  • আজমিরীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

    আজমিরীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ–বানিয়াচং সড়কে বাসের ধাক্কায় শ্রাবণ সরকার (১৫) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই কিশোর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়।

    বুধবার আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দিকে আসার পথে স্থানীয় পিঠাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রাবণ সরকারসহ তিন কিশোর একটি মোটরসাইকেলে করে আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দিকে আসছিল। তারা পিঠাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

    বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা শ্রাবণ ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

    পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই কিশোর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়।

    নিহত শ্রাবণ সরকার (১৫) বানিয়াচং উপজেলা সদরের ২ নম্বর উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের বাবুর বাজার সংলগ্ন বিদ্যাভূষণ পাড়ার বাসিন্দা। সে সুন্দর সরকারের ছোট ছেলে। শ্রাবণ বানিয়াচং নতুনবাজারের একটি সেলুনে কাজ করতেন।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খবর পেয়ে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বাসটির পরিচয় জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

  • দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামার (উপশাখা) নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সুরমা ইউনিয়নর শিমুলতলা গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থান। ফলে আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা শিমুলতলা পঞ্চায়েতী কবরস্থানের কিছু অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী খাশিয়ামারা নদীতে মিশে গেছে। বেশ কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কবরের হাড়গোড় তুলে নিয়ে অন্যত্র কবর দিয়েছেন স্বজনরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শত বছর আগে শিমুলতলা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শত বছরে এই কবরস্থানে কয়েকটি প্রজন্মের স্বজনরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এই এলাকার মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে কবরস্থানকে ঘিরে। সুযোগ পেলেই গ্রামের মানুষ কবরস্থানে গিয়ে তাদের বাপ-দাদাসহ স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং দোয়া করেন। কিন্তু নদী ভাঙনের এই কবল থেকে মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের শেষ স্মৃতি রক্ষায় আতষ্কে পড়েছে স্থানীয়রা।

    এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কবরস্থান নয় পুরো গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

    শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন জানান, বহুবছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এই গোরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদী ভাঙনের তীব্রতা দিনদিন বাড়ায় গ্ৰামের অনেক পরিবার তার স্বজনদের শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে, হাড়গোড় ও কঙ্কাল খুঁড়ে নিয়ে অন্যত্র কবরস্থ করছেন। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি কবর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরিভাবে কবরস্থানটি সংরক্ষণ করা না হলে, আমাদের পূর্ব-পুরুষের স্মৃতি সম্বলিত কবরগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    শিমুলতলা গ্রামের মইনূল হক বলেন, ‘চোখের সামনে শতশত কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।’

    সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন আর-রশীদ বলেন, ‘কবরস্থান হলো মানুষের পার্থিব জীবনের শেষ ঠিকানা এবং অনন্তকালের যাত্রার প্রথম ধাপ। এ কবরস্থান নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শুনে অনেক ব্যতিত হয়েছি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি জানা নেই। একবার পরিদর্শন করে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    একসময় আগাছায় ঢাকা পড়ে ছিল জমিটি। চা চাষের উপযোগিতা হারানোয় বছরের পর বছর পড়ে ছিল অনাবাদি। সেই পতিত জমিতেই এখন সারি সারি ড্রাগনগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে রক্তিম লাল ও গোলাপি ফল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে লাল রঙের অসংখ্য প্রদীপ।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সিরাজনগর চা বাগানের এ দৃশ্য এখন কেবল চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও। প্রায় এক হেক্টর চা চাষের অনুপযোগী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের বাগান। প্রায় ১৪ হাজার গাছের এ বাগানে ফলছে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের ড্রাগন।

    ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়ে গেছে। মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজনগর চা বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে চায়ের চিরচেনা সবুজ। তবে সেই সবুজের মাঝেই যেন আলাদা গল্প লিখেছে ড্রাগন বাগান। সারি সারি খুঁটির ওপর বেড়ে উঠেছে ড্রাগনগাছ। কোনো গাছে ফুল, কোনো গাছে কাঁচা ফল, আবার কোনো গাছে পেকে ঝুলছে রক্তিম লাল ড্রাগন। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফলের সমারোহে পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক দৃশ্য।

    ভোরের আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে বাগানটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। আর সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই চলছে পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন।বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চা চাষের অনুপযোগী জমি ফেলে না রেখে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার চিন্তা থেকেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু হয় প্রকল্পটি। প্রথম বছর গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার পর দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে উৎপাদন।

    চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের আশা, মৌসুম শেষ হলে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে।

    এ বাগানের আরেকটি বড় সাফল্য শুধু আয় নয়—এটি বদলে দিয়েছে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও। চা বাগানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগন বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গাছের পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহ—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কাজ ও আয়ের সুযোগ।

    শুধু তাই নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে ফল অনেক শ্রমিক পরিবারের নিয়মিত বাজার থেকে কেনা সম্ভব নয়, সেটিই এখন তারা কর্মস্থল থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন।

    চা শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ‘ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। এতে পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছেন। যেমন আনন্দ লাগছে, তেমনি পুষ্টিরও জোগান হচ্ছে।’

    চা শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, ‘এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।’বাগানের শ্রমিকরা জানান, ড্রাগন গাছে ফুল আসার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফলে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

    ড্রাগন প্রকল্পের ম্যানেজার খান মো. আল মিকাত বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পরিত্যক্ত জায়গা ব্যবহার করতেই আমরা এ ড্রাগন প্রজেক্টটি শুরু করি। এক বছর পর থেকেই ফল আসতে শুরু করে। এখন ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নান্দনিক এ বাগানে রয়েছে টাটকা ও সুস্বাদু ড্রাগন। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগানের এই সাফল্য দেখে কুলাউড়া ও আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে চা-নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি পতিত জমিতে বিকল্প ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’

    সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, ‘চা প্লান্টেশনের বাইরে থাকা পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রগন বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এখন এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

    তিনি জানান, বাগানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত।

    কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি এখন আর পড়ে থাকছে না, এসব জমিকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় এনে গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান। এতে চা বাগানগুলোতে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ তাই শুধু বিকল্প কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং আয়বর্ধক ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাময় এক নতুন দৃষ্টান্ত।’

  • নবীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল

    নবীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে নবীগঞ্জ নতুন বাজার মোড়ে জামায়াতের উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী।

    সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন মুফতি আলী হাসান ওসামা এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ এবং জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি লায়েক আহমদ। মাহফিলের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা এমদাদুল হক।

    নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি এহসানুল হাদী রুম্মান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল হক সাদিকের পরিচালনায় মাহফিলে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

    ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

    বিডি গ্লাবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের ফ্লোর ধসে চার ফুট নিচে পড়ে শিক্ষক রুমা আক্তারসহ পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনার পর পরই বিদ্যালয় ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি—শুধুমাত্র এই শ্রেণিকক্ষই নয়, ভবনের প্রায় সবকটি কক্ষের ফ্লোরই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মেঝের নিচে পর্যাপ্ত মাটি না দিয়ে ফাঁকা রেখে নির্মাণকাজ করায় এ ধরণের বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা।

    শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলছিল। ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষার্থী মেঝের টাইলসে হঠাৎ ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষককে জানায়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ফ্লোরের একটি অংশ প্রায় চার ফুট নিচে ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েক শিশু শিক্ষার্থী সরাসরি ধসে যাওয়া গর্তে পড়ে আহত হয়। শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষক রুমা আক্তারও নিচে পড়ে গিয়ে আঘাত পান।

    পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে—রাহিম বাদশা, আব্দুল মান্নান মিয়া, মোজাক্কির মিয়া ও আজিনুর মিয়া। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুতর নেসা বলেন, চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ফ্লোরটি চার ফুট নিচে ধসে যায়। ফ্লোরের নিচে প্রয়োজনীয় মাটি না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমার বিদ্যালয়ের প্রায় সবকটি কক্ষের একই অবস্থা, পুরো ভবনটিই এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়ার পর অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে গেছেন। আগামীকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আদৌ বিদ্যালয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি।

    আহত শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, এক শিক্ষার্থী মেঝের ফাটল দেখা যাওয়ার কথা বলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফ্লোর ধসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে আঘাত পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই আতঙ্কজনক ছিল।

    মেঝে ধসে পড়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। বহু অভিভাবক দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে নিজ সন্তানদের নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যান। ভবনটির স্থাপত্য নিরাপত্তা পুরোপুরি যাচাই না করে পুনরায় পাঠদান শুরু করা হলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা।

    আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এলজিইডির একজন প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সিলেটে ১২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ নারী আটক

    সিলেটে ১২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ নারী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক হাজার ২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় কুটিনা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনী গ্রামে কুটিনা বেগমের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক জব্দ করা হয়।

    আটক কুটিনা ওই গ্রামের তেরা মিয়ার স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একটি দল কুটিনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এক হাজার ২০৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক কুটিনা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সিলেট সীমান্তে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাবাজার, তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট ও কালাইরাগ বিওপি কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু, শাড়ী, জিরা, কসমেটিক্স, বিড়ি, চকলেট, কম্বল, চা-পাতা, ফুচকা, চিনি, সবজি ও বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে টি-শার্ট, সোয়েটার, জিন্স প্যান্ট জব্দ করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    জব্দ চোরাইপণ্যের বাজারমূল্য এক কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দ পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ, আটক ২

    সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ, আটক ২

    বিডি গ্লোবালা ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি। এ সময় দু’জনকে আটক করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার, লাফার্জ, সোনালীচেলা, বিছনাকান্দি, তামাবিল, লবিয়া, কালাইরাগ, সোনারহাট ও সংগ্রাম বিওপি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু-ছাগল, জিরা, প্রসাধনী সামগ্রী, সানগ্লাস, চকলেট, আতশবাজি, ফুচকা, বিভিন্ন ফল, বিড়ি, চিপস, কিসমিস, জুস, মোবাইলফোন ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় রসুন ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বারকী নৌকাও জব্দ করা হয়। একইসাথে এ সময় দু’জন আসামিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬০ টাকা।

    শনিবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য ও দুই আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। আটক আসামি ও পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

  • মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচ থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

    মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচ থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের লাখাইয়ে বসতবাড়ির মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচে তল্লাশি চালিয়ে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ৪৫০ গ্রাম গাঁজাসহ সালেহা বেগম ওরফে আবুনী (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তার সালেহা বেগম উপজেলার তেঘরিয়া উত্তর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক সাহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সালেহা বেগমের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহজনক মনে হলে ঘরের ভেতর মুরগির খোঁয়াড়ের মাটি খুঁড়ে একটি ডিব্বা উদ্ধার করা হয়। পরে ডিব্বাটি খুলে তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ৪৫০ গ্রাম।

    ঘটনার বিষয়ে এসআই মানিক সাহা জানান, প্রত্যক্ষভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সালেহা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজা জব্দ করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

    এদিকে বসতবাড়ির মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচে কৌশলে মাদক লুকিয়ে রাখার এই অভিনব ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাটি খুঁড়ে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে।

    লাখাই থানার ওসি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় মাদক সংরক্ষণ, কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেয়া হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরো বলেন, মুন্নির মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক আব্দুল গনি। সমাজসেবক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রবাসী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নুরুল ওয়াহিদ, রাজনীতিবিদ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আহমদ রিয়াজ, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম, বড়লেখা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সমাজসেবক খালেদ আহমদ, রবিউল ইসলাম সুহেল, শাহিন আহমদ, সুরমান আহমদ ও শিপার আহমদ, সাংবাদিক হাসান শামীম ও ফয়ছল আহমদ সাগর, ছাত্রনেতা তানিম আহমদ, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।

    মুন্নির পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বাবা মকবুল আলী, মা রেনু বেগম ও ভাই মাছুম আহমদ।

    পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে মুন্নির বিরোধের একপর্যায়ে তাকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। পরে তার বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে এক মুরব্বি ফোন করে তাকে জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

    পরিবারের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বিমের সাথে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

    মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, মুন্নিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় একটি পরিবার যেমন স্বজন হারিয়েছে, তেমনি মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের নিরসনে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান তারা। একইসাথে মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

  • সিলেট সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

    সিলেট সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

    আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে থাকা দলটির সিলেট মহানগর নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুলকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে কেন্দ্র।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী সিলেট মহানগরীর থানা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণা করা হয়।

    একই সঙ্গে জামায়াতের দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নগরীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনি মাঠে নামার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সিলেট সিটিকে একটি ইনসাফভিত্তিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য মডেল নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্র থেকে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    সততা ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতীক হিসেবে প্রার্থীর বার্তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

    প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সমাবেশ থেকেই অতিসত্বর সিসিকের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় সাংগঠনিক গণসংযোগ জোরদার করার প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

  • জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে শাহবান আহমদ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তানিশা নামে আরো এক শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু মাঝপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু শাহবান আহমদ ওই গ্রামের কাশেম আলী মাস্টারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু শাহবান ও তানিশা পরিবারের সবার অজান্তে ফতেপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ফারুক আহমদের বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় এক নারী তানিশাকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করেন। তবে সেই সময় শাহবানকে দেখতে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পানির নিচ থেকে শাহবানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    অন্যদিকে আহত তানিশাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১ এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আহত শিক্ষার্থী তাফসির চহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ঘটনার পর ২০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়। একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে ৭ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে ৪ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশীষ চন্দ্র চন্দকে ২ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    অফিস আদেশে আরও বলা হয়, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে শাস্তি হ্রাস, বৃদ্ধি কিংবা পরিবর্তন হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী কালবেলাকে বলেন, ‘গত ১৯ আগস্ট মারামারিতে আমার এক ছাত্রের একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসের মধ্যে আপিল করতে পারবে। তবে মামলার বিষয়টি আদালত ফয়সালা দেবে। ’

    তিনি জানান, ২৯ আগস্ট থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

  • ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫৫ শিশু। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৫৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এ সময়ে মোট ১৮ হাজার ৭২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • পিস্তল ও ইয়াবাসহ

    পিস্তল ও ইয়াবাসহ

    বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারি আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত অবস্থায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও পাঁচশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ভারতীয় একটি চোরাকারবারি চক্র বড়লেখার কুমারশাইল সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে।

    এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল কুমারশাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও আহত অবস্থায় ভারতীয় নাগরিক বলাই দাসকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫ শত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

  • সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

    সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৩ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাইরাগ, প্রতাপপুর, সংগ্রাম, দমদমিয়া ও সোনারহাট বিওপি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, গরু, শাড়ি, চকলেট, বিড়ি, সুপারি, সবজি ও মাদক বিয়ার জব্দ করা হয়।

    জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

    এ ব্যাপারে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে এসব চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়। আটককৃত চোরাচালানী মালামালগুলোর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছেন। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাটাগাং এলাকা ও পানিছড়া এলাকায় দুর্ঘটনা দু’টি সঙ্ঘটিত হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টা ও বেলা ১১টার দিকে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    এর মধ্যে উপজেলার কাটাগাং এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে হাসান মিয়া গুলাল (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার তামাবিল হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত হাসান মিয়া গুলাল গোয়াইনঘাট উপজেলার হাতিরপাড়া গ্রামের মরহুম সাইফুল্লাহর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান মিয়া মোটরসাইকেলযোগে জাফলং যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী একটি হাইড্রলিক ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন হাসান মিয়া গুলাল। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপরদিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে উপজেলার পানিছড়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড সংলগ্ন ইয়াকুব আলী চেয়ারম্যানের বাড়ির গেইটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত যাত্রীর নাম নুসরাত জাহান (১৭)। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের আব্দুল মুমিনের মেয়ে। আহতরা হলেন— মোহাম্মদ আলী (২৮), তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২) ও মোহাম্মদ আলীর মা কুলসুম বেগম (৬০)। তাদের তিনজনের বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় কদমতলী এলাকায়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামা-মামি ও নানির সাথে সিলেটে বেড়াতে আসে নুসরাত জাহান। সোমবার সকালে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জাফলংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড মেইন গেইট এলাকায় পৌঁছালে সিলেটমুখী দ্রুতগতির আম্মাজান এন্টারপ্রাইজের একটি বাস জাফলংমুখী সিএনজিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা নুসরাত জাহান ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন তার মামা-মামি ও নানি। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

    তামাবিল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। নিহত নুসরাতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। নিহত নুসরাত জাহানের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিয়ে যেতে চায় পরিবার। তাই পরিবারের সম্মতিতে লাশ তাদের কাছে হস্থান্তর করা হবে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও সিএনজি পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।

    অন্যদিকে কাটাগাং এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ওই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করেছে তামাবিল হাইওয়ে থানা পুলিশ। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

    এদিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তামাবিল মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান বহনকারী যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। তাদের এই বেপরোয়া গতির কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই এলাকাবাসী মহাসড়কে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক নজরদারি কঠোর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

  • সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প নেই, তবু কাটা হচ্ছে সাড়ে চার হাজার গাছ

    সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প নেই, তবু কাটা হচ্ছে সাড়ে চার হাজার গাছ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে থাকা এই সড়কে গাছ কাটছে বন বিভাগ। তবে সওজ বলছে, সড়কটি প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। গাছ কাটার কারণও তাদের জানা নেই। বন বিভাগ থেকে শুধু গাছ কাটার দরপত্রের একটি কপি তাদের দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শনিবার সুনামগঞ্জ জেলা হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে সড়কের ইচ্ছারচর এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। সেখানে বক্তারা অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করার দাবি জানান। অন্যথায় বন অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদেশি প্রজাতির গাছ কাটার কথা বলা হলেও সড়কের পাশে থাকা দেশীয় ফলদ ও ছায়াবৃক্ষও কেটে ফেলা হচ্ছে।

    ইচ্ছারচর গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া তার বাড়ির সামনে কেটে ফেলা একটি জামগাছ দেখিয়ে বলেন, ‘জায়গাটুকু সরকারি, কিন্তু জামগাছটি আমি লাগিয়েছি। এলাকার শিক্ষার্থী ও পথচারীরা এই গাছের ছায়া পেতেন। জাম পাকার মৌসুমে সবাই গাছ থেকে জাম নিয়ে খেতেন। গাছটি কাটার সময় আশপাশের সবাই মিলে বাধা দিয়েছি। তবু তারা দুটি গাছ কেটে ফেলেছে।’

    একই গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই সড়কের পাশের শত শত গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। আকাশমণি, রেইনট্রিসহ বিদেশি গাছ কাটার দরপত্র হয়েছে বলে শুনেছেন তিনি। কিন্তু দেশীয় গাছও কাটা হচ্ছে। বাধা দিলেও গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা তা মানছেন না।

    হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলেন, সড়কের পাশে থাকা ছায়াবৃক্ষের মূল্য শুধু টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা যায় না। পথচারী ও স্থানীয় মানুষের জন্য এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ৪ হাজার ৪৬৮টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। অথচ এসব গাছের কাঠের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। এভাবে সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

    সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন অফিস ঘেরাও করা হবে।

    ২০০৪ সালে লাগানো হয়েছিল ২০ হাজার গাছ
    স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ২০০৪ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল। স্থানীয় উপকারভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছের পরিচর্যা করে আসছেন।

    এর আগে ২০২৪ সালে বন বিভাগ ওই সড়কের প্রায় ৩ হাজার গাছ কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল। স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে তখন গাছগুলো কাটা হয়নি।

    হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন, ২০২৫ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) করা একটি রিটের পর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সামাজিক বনায়ন বিধিমালা, ২০০৪-এর আওতায় রোপণ করা গাছ না কেটে গাছের বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নির্বাচিত উপকারভোগীদের অর্থ দেওয়ার বিধান যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই রায়ে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের কমিটির অনুমোদনের বিষয়টিও এসেছিল বলে তিনি জানান।

    সুনামগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন শনিবার বলেন, গাছ কাটার অনুমোদন জেলা কমিটিতে হয়েছিল।

    তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসকের দায়িত্বকালে, অর্থাৎ গত তিন-চার মাসে এ ধরনের কোনো অনুমোদন হয়নি। এর আগে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও ফাইল দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।

    সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়ক প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। গাছ কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু জানা নেই। বন বিভাগ থেকে গাছ কাটার একটি দরপত্রের কপি শুধু তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    বন বিভাগের বক্তব্য
    সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, সড়কের পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ রয়েছে। সামাজিক বনায়নের নিয়ম অনুযায়ী, বাগানের বয়স ১০ বছর পূর্ণ হলে গাছ কাটার পর সদস্যদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ এবং পরে সেখানে নতুন করে বনায়ন করার বিধান রয়েছে।

    তিনি বলেন, সামাজিক বনায়নের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

    সড়কের পাশে আকাশমণিসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এসব গাছের পরিবর্তে নতুন করে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তবে সড়কের পাশে থাকা দেশীয় প্রজাতির গাছও কাটা হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, দেশীয় প্রজাতির গাছ কাটা হবে না।

    সামাজিক বনায়নের গাছ না কেটে উপকারভোগীদের সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে- আদালতের এমন নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তবে এখনো এ বিষয়ে সরকারের কোনো গেজেট বা চূড়ান্ত নির্দেশনা বন বিভাগ পায়নি। সরকার এ ধরনের নির্দেশনা দিলে বন বিভাগ তা অনুসরণ করবে।

  • সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

    সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট-ঢাকা মহাসগড়কের ওসমানীনগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন নারী। তাদের মধ্যে দু’জন ঘটনাস্থলে এবং দু’জন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম (কসরতল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এর সাত যাত্রী আহত হন।

    স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে দু’জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দু’জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ও হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রথমে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দু’জন মারা যান। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তারা।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ আগস্ট সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন। ওই ঘটনার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় একই মহাসড়কে আবারো প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

  • হাওরের ‘নিরালা’ হয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

    হাওরের ‘নিরালা’ হয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

    হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও অপেক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘জলপবন’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা রাজন তালুকদার। আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ থেকে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় শুরু হয়েছে দৃশ্যধারণ।

    এতে ‘নিরালা’ নামে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে রুনা খানকে।

    চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে রুনা খান সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‌‘জলপবন’ মূলত অপেক্ষার গল্প। এতে তিনি অভিনয় করছেন ‌নিরালা চরিত্রে। হাওর এলাকার মানুষের জীবনের গল্প উঠে আসবে এ চলচ্চিত্রে। দর্শকরা একটি ভালো মানের ছবি উপহার পাবেন বলেই বিশ্বাস তার।

    চলচ্চিত্রটিতে রুনা খানের পাশাপাশি প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রাচ্যনাটের সদস্য সুশান্ত পৃথ্বীরাজ ও জাবির নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষার্থী সামিউল হক। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও যুক্ত হয়েছেন সিনেমাটিতে, তাদের অনেকেই থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত।

    জানা যায়, রুনা খান অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘লীলা মন্থন’ ও মাসুদ পথিকের ‘বক’ অন্যতম।

    উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে জনপ্রিয় শিশুতোষ ধারাবাহিক সিসিমপুর-এ ‘সুমনা’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রুনা খান অভিনয়ে পথচলা শুরু করেন। বর্তমানে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোটপর্দায়ও সফলভাবে কাজ করে চলেছেন। ২০১৭ সালে ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পুরস্কার লাভ করেছিলেন তিনি।

  • সিলেটে মাজার ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩৮

    সিলেটে মাজার ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও ৩৫-৪০টি দোকান কোঠা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সিলাম এলাকার চকবাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের কারণে চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যান। এ সময় মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও দোকান কোঠা নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও হামলা-পাল্টা হামলা হয়। এতে ওসি মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ২৫-৩০ জনও আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন— মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি ও লতিফুর রহমান মেহদিসহ আরো অনেকে। আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    পরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    জানা গেছে, ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরো আগে। গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের এক আদেশে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি ও মো: ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়।

    এছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।

    ওই আদেশের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নম্বর ১০৭৬৭/২৬ দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি হয়। বিচারপতি মো: হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো: তাজরুল হোসাইনের আদালত বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন।

    তবে সাময়িকভাবে ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। যা শুক্রবার সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    শুক্রবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেন জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনিসহ আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং সাত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৭২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরও একজনের প্রাণহানি হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮২৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৪ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৮ হাজার ১৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো হোস্টেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    আহতদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।শিক্ষার্থীরা জানান, হোস্টেলে তাফসির ও শরীফ উদ্দিনের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তাদের মধ্যে আগে থেকেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল। একপর্যায়ে তারা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লোহার রড, স্টাম্পসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তাসরিফ আহমেদ, শরীফ উদ্দিন, রায়হান রাজ, রজব সানি, ফারদিন ইফতি, সামি, রিয়াদ, আব্দুল্লাহ চৌধুরী, সামিউল আল আরিফ ও হুজাফ সৌমি।

    হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চুনারুঘাটে ধানক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    চুনারুঘাটে ধানক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সুজন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয়রা উপজেলার ১০ নম্বর মিরাশি ইউনিয়নের রাকি গ্রামের ধান ক্ষেতে লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

    সুজন উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের কালামন্ডল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাকি গ্রামের রশিদ মিয়ার মেয়ের জামাই। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি।

    এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্ত কে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে এস আই গিয়াসউদ্দিনের নেতৃত্বে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি একটি হত্যাকান্ড।’

    এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

  • সমাজের সবাই একটু এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

    সমাজের সবাই একটু এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে যারা এ ধরনের কাজ করতে চায়, সরকার তাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’

    আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের চা-বাগান শ্রমিকদের মধ্যে বেসরকারিখাতের সিএসআর তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের সূচনাকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আজ ১০ জন চা-শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাদের খোঁজ-খবর নেন। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা-বাগানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় মোট ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট দেবে।

    অনুষ্ঠানে বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিরা বলেন, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাও বেসরকারিখাতের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।

    চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। চা-শ্রমিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা-বাগানের শান্তি উড়িয়া, মাকড়িছড়া চা-বাগানের মুন্নী কুর্মি, ভাড়াউড়া চা-বাগানের জ্যোৎস্না আক্তার, রাজঘাট চা-বাগানের রিনা তাঁতী ও শশিকা ব্যানার্জি, মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায়, কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগরের রিতা রাণী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার। মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায় চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চা-পাতা উপহার দেন।

    অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল উপস্থিত ছিলেন।

    অংশগ্রহণকারী বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউনিমেড ও ইউনিহেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন, বাপি’র উপদেষ্টা এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বাপির কার্যকরী সদস্য এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমান, বাপি’র নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, শেভরন বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক মো. ইমরুল কবির, শেভরন বাংলাদেশের অপারেশনস পরিচালক আশিক শেহজাদ রহমান, শেভরন বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এ কে এম আরিফ আখতার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপের পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স চিফ গোলাম হাবিব।

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃত হয়েছে ৯১৮ শিশুর। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জন।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার দুই জনের জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জনে।

  • মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে যুবকের পচাগলা মরদেহ

    মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে যুবকের পচাগলা মরদেহ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জানান, আজ সোমবার সকালে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা একটি পরিত্যক্ত ভবন পরিষ্কার করতে যান। এ সময় ভবনের ভেতরে লোহার হুকের সঙ্গে কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ ঝুলতে দেখেন তারা। মরদেহটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাংস খসে পড়েছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

    মাধবপুর থানার এসআই প্রদীপ চন্দ্র সরকার জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক মাস আগে ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, মরদেহটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় পচে গেছে এবং শরীরের মাংস খসে পড়েছে। ফলে মরদেহটি অত্যন্ত বীভৎস অবস্থায় ছিল। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    এ,আর

  • গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। গ্যাসের এ সংকট আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া। সমাধানে সময় লাগবে।’

    আজ শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস–সংকটের কারণে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বাস্তবতা স্বীকার করে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।’

    বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি জানান।’

    এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির জানান, ‘চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

  • চুনারুঘাটে আ.লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    চুনারুঘাটে আ.লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সহসভাপতি মো. রজব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ আলী, সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সজল দাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সভাপতি রাসেল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সম্রাট মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ সরদার এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুল।

    এছাড়া উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সহসভাপতি মো. রজব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ আলী, সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সজল দাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সভাপতি রাসেল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সম্রাট মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ সরদার এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুল।

    এছাড়া উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবতীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আউটার সিগন্যালের নিকটবর্তী রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    কুলাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্ত করা হবে।

  • চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫টি ডাকাতি মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন কাজল সদর উপজেলার আথানগিরী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাজলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও চারটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপটন পুরকায়স্থের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    মৌলভীবাজার সদর থানা সূত্রে জানা যায়, কাজল দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চার জেলায় মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • আনারকলি ফল চাষে বাজিমাত

    আনারকলি ফল চাষে বাজিমাত

    বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ বাংলাদেশে ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে পনিচিত। এ ফল চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাষি সালেহ আহমদ। জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে কয়েক বছর আগেই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন তিনি। এ কৃষি উদোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

    জানা গেছে, মুদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে জেলায় ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

    উদ্যোক্ত সালেহ আহমদ জানান, দর্ঘিদিন ধরে তিনি ধান চাষের পাশাপাশি নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন লেবু, লটকনসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের ক্ষুদ্রায়তন বাগান। ২০২২ সালে নিজের চার শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু করেন আনারকলি চাষ। ২০২৪ সালে তার ওই তিনটি গাছের ফল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করেন ১০ হাজার টাকা। আনারকলি ফল বিক্রির পর চাষে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। ওই বছরই আরও বেশ কিছু চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষাবাদে তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোতে যে ফল এসেছে তাতে সালেহ আহমদ চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

    সরেজমিনে সালেহ আহমদের আনারকলি ফলের বাগানের গিয়ে দেখা যায়, মাচাং ও বড় বড় গাছের উপর লতানো আনারকলি, প্যাশন ফ্রন্ট বা ট্যাং ফলের গাছগুলো ভরে গেছে ফুল ও ফলে। আলাপকালে কৃষক সালেহ আহমদ বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। ২০২২ সালে কৃষির কাছে একটি খাসিয়া পান পুঞ্জির মন্ত্রীর (পুঞ্জি প্রধান বা হেডম্যান) বাড়িতে প্রথম প্রথম দেখি আনারকলি ফল। ফলটি দেখে পরে ওই মন্ত্রীর কাছে চারা চাইলে তিনি জানান চারা জানবে মেয়ে মাটিতে রোপন করলেই গাছ হবে।

    তার কথামতো তিনটি ভাল কেটে আনি এবং নিতান্তই শখের বসে আমার পরিতাক্ত একটি জমিতে তা রোপন করি। কিছুদিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে এক বছরের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। ডাল রোপণের প্রথম বছরই বাড়িতে আমরা অনেকগুলো ফল খাই এবং এলাকার মানুষও ফল চেয়ে নেন। এলাকার এমন কোন বাড়ি নেই যারা আগ্রহভরে আমার কাছ থেকে ফল নেননি। তবে কোনদিনও ভাবতে পারিনি এসব ফল বিক্রি করতে পারবো।

    ২০২৪ সালে আমার এলাকার সায়েদ আলী নামের এক যুবক আমাকে ফল কেনার প্রস্তাব দেয়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে তার নানা মৌসুমি ফলের দোকান রয়েছে। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে আমি গাছে ঝুলতে থাকা পাকা ফলগুলো প্রতি পিস ২৫ টাকা দরে তার কাছে বিক্রি করতে থাকি। এলাকায় বণ্ঠন ও আমার পরিবারের চাহিদা মেটানোর পরও মৌসুম শেষে ফল বিক্রির অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকারও বেশি।

    এতে আগ্রহ বাড়ে, নিজের গাছের কলম ও ফলের বীজ থেকে আরও চারা করি। বর্তমানে আমার বাগানের মাচাংয়ে এবং আশপাশের আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন গাছে রয়েছে অনেকগুলো আনারকলি ফলের গাছ। যে পরিমাণ ফুল ও ফল এসেছে তাতে ধারণা করছি এ বছর কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকার বিক্রি করতে পারব। তবে ফুল ধরার পর মৌমাছির আক্রমণে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। নতুবা ফলের ও বিক্রির আয়ের সংখ্যা আরও বাড়তো। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফল ও চারা কিনতে আসছেন।

    বাঘমারা গ্রামের ছদরুল হোসেন বলেন, বকৃষক সালেহ আহমদের আনারকলি ফলের বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। মাত্র চার শতক জমির বাগানে শতশত ফল ধরে। এই ফলের উৎপাদন

    প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর ফল ধরে। এ ফল চাষ করতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। জৈব পদ্ধতিতে আবাদ করা যায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। ভিটামিন-সি, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এ ফল। কৃষক সালেহ আহমদ বলেন, বলেন, বিঘাপ্রতি আনারকলি চাষ করলে কয়েক লাখ টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব। এই ফল পিস হিসেবে বিক্রি করা হয়। উৎপাদন খরচ খুবই কম। বর্তমানে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি চারা উৎপাদন শুরু অনেক বেশি। আনারকলি ফল খেতেও মজাদার।

  • স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

    স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

    প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশায় নির্মাণ করা হয়েছিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। উদ্বোধনের সময় এলাকাবাসীর চোখে ছিল স্বস্তির স্বপ্ন—কাছেই মিলবে চিকিৎসা, ওষুধ ও মাতৃ-শিশুস্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই ধুলোয় মিশেছে।

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হলেও ৫ বছর ৯ মাস পরও কার্যকরভাবে চালু হয়নি। জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ। উদ্বোধনের পর হাতেগোনা কয়েক দিন ভবনটি খোলা হলেও অধিকাংশ সময়ই থাকে তালাবদ্ধ।শুধু তালাই নয়—অযত্ন আর অব্যবস্থাপনায় সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন ও আশপাশের পরিবেশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    যে মাঠে রোগী ও স্বজনদের আনাগোনা থাকার কথা, সেখানে এখন অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথে জন্মেছে ঘাস-আগাছা। বিভিন্ন স্থানে জমেছে ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের দেয়ালের রঙও বিবর্ণ হয়ে গেছে।

    বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চারটি পদের মধ্যে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও আয়া—এই দুটি পদের জনবল অনুমোদিত হয়েছে। অপর দুটি পদ—উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও এমএলএসএস—এখনও অনুমোদন করা হয়নি।

    সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলামকে বর্ণি ও নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তার সপ্তাহে দুই দিন বর্ণি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের কথা।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাস্তবে তিনি সপ্তাহে এক দিনের বেশি কেন্দ্রে আসেন না। কখনো কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান, আবার কোনো কোনো সপ্তাহে তাকে দেখাই যায় না।

    সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভবনের মূল দরজায় ঝুলছে তালা। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথের চারপাশে বেড়ে উঠেছে ঘাস-আগাছা। এখানে সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা।

    স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে অবাধে বিচরণ করছে গরু-ছাগল। মাঠের ঘাস খাচ্ছে গবাদিপশু। ভবনের দেয়ালের বিবর্ণ রঙ ও চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে মনে হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

    একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমন চিত্র দেখে প্রশ্ন উঠেছে—মানুষের চিকিৎসার জন্য নির্মিত এই ভবন কি শেষ পর্যন্ত গবাদিপশুর চারণভূমিতেই পরিণত হবে?

    স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জবলুর অভিযোগ, সপ্তাহে একদিন একজন স্বাস্থ্যকর্মী কেন্দ্রে আসেন। তিনি বলেন, সপ্তাহে এক দিন একজন আসেন। খুলেন, মানুষ আসলে বলেন ওষুধ নেই। এরপর আধা ঘণ্টা-৪০ মিনিট বসে চলে যান। আর কোনো খবর মেলে না। কোনো সপ্তাহে আসেন, কোনো সপ্তাহে আসেন না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    জবলু বলেন, ‘ভবনটি উদ্বোধনের সময় আমরা খুশি হয়েছিলাম। প্রতিদিন ডাক্তার থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ছয় বছর হলো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কোনো কাজে আসছে না। আমাদের বর্ণিতে অনেক নেতা, কিন্তু কাজের কোনো নেতা নেই।’

    কেন্দ্রটি কার্যকরভাবে চালু না থাকায় ইউনিয়নের মানুষ শুধু সাধারণ চিকিৎসা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন না; হারাচ্ছেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও।

    পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, প্রসবপূর্ব সেবা, প্রসবকালীন সেবা, নবজাতকের পরিচর্যা, শিশুস্বাস্থ্য সেবা, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, সীমিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা—এসব সেবা পাওয়ার কথা ছিল এই কেন্দ্র থেকে।

    বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাছাকাছি একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু ভবন নির্মাণের পরও যদি সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওষুধ না থাকে, তাহলে অবকাঠামো থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা থেকে যায় অধরাই।

    বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা বলেন, ‘বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নতুন। এখানে পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। জনবল পাওয়া গেলে যথাযথভাবে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

  • সিলেটে ঘরের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে গলা কেটে হত্যা 

    সিলেটে ঘরের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে গলা কেটে হত্যা 

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট নগরীর রায়নগরের রাজবাড়ী মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাসহ গৃহকর্তাকে খুন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১২টার দিকে পুলিশ ওই বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন, মিতালী ১১১ নম্বর নিকুঞ্জ ভিলার মালিক আব্দুস সত্তার মিয়া (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫)। কী কারণে নিজ বাসায় তাদের খুন করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

    আব্দুস সাত্তারের বাড়ি বিয়ানীবাজার। তাঁর সন্তানদের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে আমেরিকায় এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি নিজ বাসায় বসবাস করছিলেন।

    সকালে খবর পেয়ে পুলিশ বাসার দ্বিতীয় তলায় আব্দুস সাত্তারের ঘরের দরজা ভেঙে তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়। তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন সেখানে ভিড় করেন।

    কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, ঘরের মধ্যে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। কেন তাদের হত্যা করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। পাশাপাশি পুলিশের একটি বিশেষ টিম সেখানে যায়।

    হত্যার বিষয়ে পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকের বলেন, ‌‘তিনতলা বাসার দোতলার ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে- এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে দুটি ধারণা করছি। হয়তো ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তাদের খুন করে, অথবা জমি নিয়ে বিরোধ থেকেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।

  • চুয়েটের পুকুরে আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    চুয়েটের পুকুরে আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চমক দত্ত এবং একই বর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব। তারা দুজনই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে শান্ত ও চমক বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। দুপুর ১টা ২০ এর দিকে তারা পানিতে তলিয়ে যান। বিষয়টি অন্যদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করতে পুকুরে নেমে পড়েন। প্রায় ১০ মিনিট পর চমককে উদ্ধার করতে পারলেও অপর শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে লেগে যায় প্রায় ৪০ মিনিট।উদ্ধার পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাদের দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এর দুই সপ্তাহ আগে, ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। সে ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই আবারও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালযয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    এদিকে, একের পর এক পুকুরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাসে নিহতদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।

  • কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, ইসলামী সংগীত, ফুল ও উপহারসামগ্রী হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সিকৃবি শাখা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট শহরের টি.বি গেট সংলগ্ন জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    সিকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত-এর সভাপতিত্বে এবং শাখা সেক্রেটারি তানভীর আহমেদ কনকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আল্লাহর দেয়া একটি বড় নিয়ামত, তাই এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের জবাবদিহিতার কথাও মনে রাখতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু উপরিভাগে কাজ করলে চলবে না, বরং ‘ডিপ ওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও মাল্টিটাস্কিং থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে মনোযোগী হতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থ-সম্পদই প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়; আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ, মানসিক প্রশান্তি এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সফলতা আসে।’

    ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, র‍্যাগিং ও ভয়ভীতির সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রধান কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মেন্টরিং ও অধিকার নিশ্চিত করা। রাজনীতি করা বা না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়—আমাদের এমন একটি নিরাপদ ও স্বাধীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।’

    বক্তব্য শেষে তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের মুক্ত প্রশ্নের জবাব দেন।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ সংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ টিপু। এছাড়া ‘চরিত্র গঠন ও নৈতিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজিন হোসাইন জুয়েল।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু এবং সিকৃবি শাখার সাবেক সভাপতি এবং মহানগর অফিস সম্পাদক কলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য সাবেক নেতারা।

    সবশেষে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাখা সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর  মৃত্যু; আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

    হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু; আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৮৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৪১ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৭ হাজার ৪৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কুলাউড়ার আলীনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবক তারা মিয়ার (২০) লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

    সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিহতের লাশ ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)।

    নিহত তারা মিয়া উপজেলার মুরাইছড়া বস্তির আব্দুল মালেকের ছেলে।

    বিজিবি ও কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে আলীনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে মাগুরুলী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন তারা মিয়া। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও লাশ ফেরত না দেয়ায় নিহতের পরিবার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ ব্যাপারে বিজিবি আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার জানান, লাশ ফেরত আসার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    মুরাইছড়া ক্যাম্পের কমান্ডার সাদেক জানান, বাংলাদেশী যুবক নিহত ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

    নিহত যুবক ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়লেও তাকে আটক না করে গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। এদিকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি দ্রুত লাশ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

    কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

  • ট্রাক-লরি ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ২

    ট্রাক-লরি ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে তেলবাহী লরি-বালুবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেজুরা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- মাধবপুর উপজেলার রতনপুর গ্রামের রিপন মিয়া (২৭) ও পশ্চিম মাধবপুর এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আবুল খায়ের (৫০)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১টার দিকে বেজুরা সেতুর ওপর একটি তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবাহী ট্রাকটি পাশের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ট্রাকে থাকা রিপন মিয়া ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী আবুল খায়ের ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়।

    মাধবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক মিয়া জানান, তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের পর ট্রাকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর উঠে যায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সিলেটে হাম উপসর্গে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

    সিলেটে হাম উপসর্গে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

    সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে এ বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।

    সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ ও হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া দুই শিশু হলো মো. এহসানুল ও আয়ান। এছাড়া নিহত নারী বর্ণা রাণী। এর মধ্যে এহসানুলের বয়স ৩ বছর ৪ মাস, আয়ানের বয়স ৮ মাস ও বর্ণা রাণীর বয়স ১৮ বছর।

    এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন এবং এই সময়ে ৯১ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রোববার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত এ বিভাগে মোট ৮২৭ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৬ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন সেটি নিশ্চিত করা গেছে। বাকিরা সন্দেহভাজন।

  • কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

    কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সড়কের ওপর রামদা দিয়ে কুপিয়ে মধু মিয়া (৫৮) নামে এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মধু মিয়ার স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ আরও পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    নিহত মধু মিয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রয়াত হরমুজ আলীর ছেলে।

    শনিবার নিহতের স্ত্রী সাফিয়া বেগম জানান, গত ২৬ জুলাই সকালে সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মৃত তমিজ আলীর ছেলে ও মধু মিয়ার আপন চাচাতো ভাই আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে তার স্ত্রী, ছয় ছেলে-মেয়ে, ছেলের স্ত্রীসহ ১০ জন মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদাঘাট-সুন্দর পাহাড়ি সড়কের ওপর মধু মিয়াকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে আসেন তিনি। এ সময় আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যরা রামদা দিয়ে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। একই ঘটনায় মধু মিয়ার ছেলে শের আলী, ভাই আবু ছালাম ও কাশেম এবং কাশেমের ছেলে বিপ্লবও আহত হন।

    ঘটনার পর আহত চারজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মধু মিয়া ও তার ভাই কাশেমের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ২৬ জুলাই বিকালে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবু ছালাম বাদী হয়ে আব্দুল হাইকে প্রধান করে নয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ জনসহ মোট ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

    মধু মিয়ার প্রতিবেশী হুমায়ুন জানান, সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের সামনে হাওরে থাকা ৫৫ শতক দুই ফসলি জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। এ নিয়ে আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল হাইয়ের মোবাইলে কল দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, থানায় রেকর্ড করা পূর্বের মামলার এজাহারের সঙ্গে হত্যা মামলার ধারা সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের পারাইরচকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সব স্তরের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের পরই স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বৈঠকে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে যে স্থানীয় সরকারের কোন স্তরের নির্বাচনটি আগে অনুষ্ঠিত হবে।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতের রায় হয়েছে, ফলে তার সরাসরি দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। দেশে ফিরলেই তাকে জেলে যেতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই রায় কার্যকর করা হবে।

    সিলেট নগরীর সুযোগ-সুবিধা ও পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের অন্যান্য নগরের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। খাল খনন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে সিলেট সিটি করপোরেশন বেশ ভালো করছে।

    সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথে লাফার্জ সুরমা হোলসিমের (সিমেন্ট) একটি যৌথ প্রকল্প চালু হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি, যা এখন থেকে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নগরের বর্জ্য পরিশোধন করে প্লাস্টিক অংশ লাফার্জ সুরমা নিয়ে গিয়ে নিজেদের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে এবং অবশিষ্ট বর্জ্যকে জৈবসারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা সিসিকের রয়েছে।

    পরিদর্শনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলায় এক চোখ হারানো আলিফ চৌধুরীকে দেখতে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাসপাতালে গিয়ে তিনি অসুস্থ আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

    এ সময়ে খেলাফত মজলিসের আমিরের সাথে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, ইসলামী যুব মজলিস সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদ, শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সানোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।