সিলেট বিভাগ

  • সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সাথে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।

    স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানায়, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি। শতবর্ষের ইতিহাস বহনকারী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকাবাসী গভীরভাবে মর্মাহত। একইভাবে বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হারিয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    স্থানীয়রা বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়; এটি একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। আর একটি মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। সেই দু’টি স্থাপনাই আজ নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে।

    এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতীরবর্তী সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছে।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

    স্থানীয়দের অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই স্থায়ী সমাধান। আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয় ও কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো অচিরেই বাউসা-কেশবপুর গ্রামের নাম শুধু মানচিত্রে থাকবে, বাস্তবে থাকবে না।

    এই ভাঙনের চিত্র যেন সুরমা নদীরও এক নীরব আর্তনাদ। মনে হয় নদী যেন নিজেই মানুষের কাছে আকুতি জানাচ্ছে—আমি তো জীবন দিতে এসেছিলাম। আমার জলেই তোমাদের ফসল হতো, নৌকা চলত, মাছ মিলত, জনপদ গড়ে উঠেছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ আর অবহেলায় আজ আমি নিজেই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমি ভাঙতে চাই না, আমাকে সঠিকভাবে বাঁচাও। আমার দুই তীর রক্ষা করো, তাহলেই তোমাদের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, মসজিদ ও ভবিষ্যৎও রক্ষা পাবে।

    স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙন শুধু জমি বা স্থাপনা ধ্বংস করছে না; এটি এলাকার শিক্ষা, অর্থনীতি, ধর্মীয় জীবন, সামাজিক স্থিতি এবং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিদিন ভাঙনের শব্দ শুনে আতঙ্কে রাত কাটান নদীতীরের মানুষ। কখন যে নিজের ঘরটিও নদীতে তলিয়ে যাবে, সেই ভয় তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়।

    এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সুরমা নদীর তীর রক্ষায় টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

    একই সাথে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন নদীভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুরমা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    এখন বাউসা-কেশবপুরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ। কারণ প্রতিটি নতুন বর্ষা, প্রতিটি নতুন ঢেউ তাদের জন্য নিয়ে আসে নতুন আতঙ্ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হয়, তবে হয়তো আগামী প্রজন্ম শুধু গল্পেই শুনবে—সুরমার তীরে একসময় বাউসা-কেশবপুর নামে একটি জনপদ ছিল।

  • আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ ভারতের উজান এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পানি বৃদ্ধির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

    অন্যদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়ার প্রবণতা থাকতে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিন প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে তা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার কিছু এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভুগাই ও কংস নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি শিশু শিক্ষার্থী মারুফ আলমের (১৩)।

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর (কোনারবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আছির আলম ও সামিয়া বেগম দম্পতির ছেলে মারুফ চন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    মারুফের বাবা জানান, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকালে তার বাবার দোকান খুলে কিছুক্ষণ দোকানে থাকে। এরপর তার বাবা দোকানে আসলে মারুফকে জুম্মার নামাজের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দুপর ২টার দিকে তার নতুন বাড়ি থেকে পার্শবর্তী চন্দ্রপুর স্কুলে একটি খেলা দেখতে যায় মারুফ। স্কুলের খেলা শেষ হলেও সে আর বাড়ি ফিরেনি।

    গত ৩১ জুলাই শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

    পরিবারসূত্রে জানা যায়, তার গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি, নিখোঁজের দিন গায়ে ছিল গোলাপী রংয়ের শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট। মারুফ আলমের সন্ধান পেলে, শান্তিগঞ্জ থানায় ও তার পিতার ০১৭৮০৭৯৫০৭১ অথবা ভাই এর ০১৪০৮-০৭৩৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ব্যাপরে জানতে চেয়ে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওলিউল্লাহকে মুঠোফোন কল দিলে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে নিখোঁজের সন্ধানে কার্যক্রম চলমান রেখেছি।’

  • চায়ের দোকানে খাতা দেখছিলেন পরীক্ষক, জব্দ ৪০০ উত্তরপত্র 

    চায়ের দোকানে খাতা দেখছিলেন পরীক্ষক, জব্দ ৪০০ উত্তরপত্র 

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অফিস কিংবা বাসায় নয়, একেবারে প্রকাশ্যে অরক্ষিত অবস্থায় চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের খাতা দেখছিলেন ইকবাল হোসেন (সোহান) নামে এক পরীক্ষক। খাতা মূল্যায়নে তার সাথে ছিলেন কয়েকজন বন্ধুও। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ৪০০টি খাতা জব্দ করেন ওই পরীক্ষকের কাছ থেকে।

    শনিবার রাতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তোলপাড়া চলছে শিক্ষাবোর্ড অভ্যন্তর ও পরীক্ষকদের মধ্যে। অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেন (সোহান) সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক।

    রোববার মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব সমকালকে জানিয়েছেন, চায়ের দোকানে খাতা দেখার অভিযোগে একজন শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এসেছিলেন। তারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ডায়রিতে অরক্ষিত অবস্থায় চারশ খাতা শিক্ষকের কাছ থেকে উদ্ধারের কথা বলা হয়।

    এদিকে চায়ের দোকানে বসে খাতা জব্দের ঘটনায় কলেজ পরিদর্শককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। পাশাপাশি রোববার ওই পরীক্ষককে শোকজের চিঠি তার প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    শিক্ষাবোর্ড ও স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন সোহান। সাথে তার কয়েকজন বন্ধু ছিলেন, যারা সাবেক সাস্টিয়ান। এর মধ্যে একজন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আইরিন লিনজা। তারাও খাতা মূল্যায়ন করছিলেন বলেন জানা গেছে।

    আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা দোকানে বসেছিলেন বলে দোকানি ফজলুল হক জানিয়েছেন। তিনি জানান, দোকান লাগানোর সময় তারা ভেতরে পেপার দেখছিলেন। শিক্ষকরা এসে খাতার বস্তাসহ একজনকে নিয়ে যান।

    জানা গেছে, দোকানে বসে খাতা দেখা হচ্ছে- এমন তথ্য পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চায়ের দোকানে হাজির হন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনসহ তিন কর্মকর্তা। প্রথমে দুই কর্মকর্তা দোকানে প্রবেশ করে পরীক্ষক ছাড়াও আরও তিনজনকে দেখতে পান। এর মধ্যে একজন মেয়ে ছিলেন। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ভেতরে প্রবেশ করলে একজন সটকে পড়েন। সত্যতা পেয়ে পুলিশে খবর দেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। পুলিশ খাতাগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি জিডি করে খাতাগুলো নিজেদের জিম্মায় নেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন সমকালকে জানিয়েছেন, চায়ের দোকানে খাতা দেখা অবস্থায় পরীক্ষককে পাওয়া যায়। তার কাছ থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষককে শোকজ ও তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।

  • সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেট অঞ্চলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টানা কর্মসূচির মধ্যেই আবারও হামলার শিকার হয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে সিলেট জেলা সদর ও জৈন্তাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী সড়ক দিয়ে সিলেটে ফেরার পথে তার ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এই হামলার ভিডিও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। হামলায় যাত্রীবাহী গাড়িটির কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ভাঙা কাঁচের আঘাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত দুজন রক্তাক্ত হয়েছেন।

    একই তথ্য নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও।

    তিনি লিখেছেন, সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন।

    এদিকে বহরের গাড়িতে থাকা এনসিপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমদ বলেন, জৈন্তাপুরে পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হরিপুর বাজার পার হয়ে চিকনাগুল পৌছার আগে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এনসিপির বহরের চলন্ত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে নারীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও রেদোয়ান আহত হন।

    উল্লেখ্য, সিলেট বিভাগে এনসিপির রাজনৈতিক সফরকে কেন্দ্র করে পরপর কয়েকদিন ধরে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এর আগে হবিগঞ্জে পদযাত্রা শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন নেতা আহত হন। পরবর্তীতে সিলেটের গোলাপগঞ্জেও এনসিপি নেতাদের বহরে হামলা চালানো হয়। জৈন্তাপুরের এই সাম্প্রতিক হামলার মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে টানা তিনবার এনসিপির বহরে হামলার ঘটনা ঘটল।

  • জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, জেলে নিয়ে গেলে জেলে যাব, আর মেরে ফেললে কবরে চলে যাব। মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষ ভয় পায়, আমরাও ভয় পাই। কিন্তু ভয় পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা ও সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার পর এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনসিপি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। মামলা দিয়ে কিংবা হামলা চালিয়ে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম থামানো সম্ভব নয়।

    দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মামলায় হামলা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আমি মামলাগুলো দেখেছি। সেখানে লেখা হয়েছে আমরা হামলা করেছি, হয়রানি করেছি, ছিনতাই করেছি। এসব কতটুকু সত্য, তা দেশবাসী নিজের চোখেই দেখেছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই এসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “তাদের নতুন সরকার যদি মামলাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে চায়, করুক। কিন্তু একদিন এসবেরও শেষ হবে।”

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে “গ্যাংবাজির সংস্কৃতি” প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “রাজনীতির নামে গ্যাংবাজি চলছে। যদি গ্যাংবাজিই করতে চান, তাহলে রাজনীতির নামে না করে সরাসরি গ্যাংবাজির ঘোষণা দিন।”

    মামলায় আইফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “তারা বলছে আইফোন ছিনতাই হয়েছে। সেটি কি জি কে গাউসের আইফোন, নাকি তারেক রহমানের আইফোন ছিল? এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেন, দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “জি কে গাউস, নুরু, সালাউদ্দিনসহ একটি গ্যাং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে গুলশানের অফিসে জমা দেয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

    পাল্টা মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। সেই ঘটনায় আমরা মামলা করেছি। এরপর তারা পাল্টা একটি মামলা করেছে। ঘটনাটি এতটুকুই।”

    তিনি আবারও বলেন, “মানুষ ভয় পায়, আমরাও ভয় পাই। কিন্তু ভয় পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব না। মামলা-হামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।”

    উল্লেখ্য, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।টওয়ারী।

  • এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো: সারজিস আলম

    এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বর্তমানে বিএনপি যেভাবে আমাদেরকে বাধা দেওয়ার, প্রতিরোধ করার, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছে, এটা হচ্ছে ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো। মানে তাদের তো ওইটুকু ছিল, এরা ওইটুকুও শো করতে পারছে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    হবিগঞ্জে সাম্প্রতিক মামলা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিএনপি এমন আচরণ করছে, যা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    আমরা শুনলাম আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। আসলে ছিনতাই একটা হয়েছে, তারেক রহমান ও বিএনপির মান-সম্মানের ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু ছিনতাই তারা করেছে। তাদের কাজের মাধ্যমে ছিনতাই করেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষের সামনে তাদের তো মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নেই। এইজন্য মানে তাদের এখন অবস্থা।

    তিনি বলেন, যারা ছাত্রদলের হয়ে এটা করেছে, তারা কতটা অথর্ব হলে এত মান-সম্মান চলে যাওয়ার পরে আবার এমন একটা কাজ করে, যেটা দিয়ে মানুষের কাছে হাসির খোরাক হয়। এটা হচ্ছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা।

    সারজিস আলম আরও বলেন, এখন আমি তো শুধু এটাই চিন্তা করি যে যেখানে মামলাটা নেওয়া হলো, যে মামলাটা লিখেছে। সেও হয়তো যারা মামলাটা লিখতে বাধ্য করেছে মনে মনে তাদেরকে গালি দিচ্ছিল।

  • তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না- এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) ক্ষমতা পরিচালনায় বরাবরই ব্যর্থ এবং দিন দিন এই ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে।’

    শুক্রবার দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এই এনসিপি নেতা।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট চলছে। সরকারের নানা জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ যেমন কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।’

    আন্তর্জাতিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রত্যাশিতভাবে উন্মুক্ত না হওয়া এবং চীন সফরে আশানুরূপ চুক্তি না পাওয়া বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিগত ব্যর্থতারই প্রমাণ।’

    জাতীয় নির্বাচনের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, ‘নির্বাচনে রাত ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নজিরবিহীন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় খোদ তারেক রহমান প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।’

    পাটওয়ারী স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের দলের প্রধান তিনটি এজেন্ডা ছিল একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ আমলের অপরাধের বিচার।

    জনগণের রায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের সেই রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তবে জনগণের আন্দোলনের মুখে বিএনপির পতন নিশ্চিত।’

    আওয়ামী লীগ আমলের বিচার প্রক্রিয়ায় স্থবিরতার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারে সম্প্রতি ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রকাশ্য মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ উসমান হাদী, আবু সাঈদ ও মুগ্ধর হত্যাকারীরা এখনো মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ তাঁদের পরিবার বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পাটওয়ারী জানান, তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ অথবা একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু কেউ তাতে সাড়া দেয়নি।

    তিনি দাবি করেন, বিএনপি শেখ হাসিনা আমলের সংবিধান বহাল রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় সেই সংবিধানের অধীনেই তাদের শপথ নিতে হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ‘চুপ্পু’র কাছে শপথ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই সেই পথ তৈরি হয়েছিল।

    এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তারেক রহমানকে ‘গ্যাংস্টার’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘তারেক রহমান যা বাংলাদেশে করতেছেন তা দেশের রাজনীতির জন্য লজ্জা এবং রাজনীতির যে সংস্কৃতি- সেটাকে অপসংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। উনার রাজনীতি করার ইচ্ছা নাই।’

    হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর মামলা দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় সিলেট সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “এত বড় ‘গ্যাংস্টার’ বাংলাদেশে আসছে। জিকে গৌছ, আব্বাস, বুলু, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র‌্যাংকিংয়ে কম? কারও কাছে মাদক, কারও কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের ছেলেরা এক জায়গায় বসে, খসরু সাহেব আছে। র‌্যাংকিং করলে তারা ইতালির মাফিয়াকে হার মানাবে। আমরা টেরর রাজ্যে আছি, আমরা ভয় পাচ্ছি।’

  • আ.লীগের পথেই বিএনপি- এনসিপি

    আ.লীগের পথেই বিএনপি- এনসিপি

    জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতা আলিফ চৌধুরী চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ দাবি জানান।

    আখতার হোসেন বলেন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতা আলিফ চৌধুরী হামলায় এক চোখ হারিয়েছেন। অপারেশনের পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখ আর কখনো ভালো হবে না। এছাড়া অন্য চোখেও তিনি ঝাপসা দেখছেন, ফলে সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু হবিগঞ্জের ঘটনাই নয়, সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেক আগে সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরের ওপরও হামলা হয়েছে। ওই সময় এনসিপির নেতারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফিরছিলেন। ফেরার পথেই তাদের বহরে হামলা চালানো হয়।

    এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, বুধবার হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। সেখানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও উপস্থিত নারী সংসদ সদস্যদেরও হেনস্তা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। একইভাবে হবিগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশে একটি ভয়াবহ ও বীভৎস রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে বিরোধী দলের ওপর হামলা-নিপীড়ন চালানো হতো, বর্তমান বিএনপি সরকারও একই পথে হাঁটছে। সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর হামলা, মামলা ও নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্ত্রের মহড়া ছিল না। তারপরও পুলিশ ব্যারিকেড ও ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যেভাবে বিরোধী দলের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হতো, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই রকম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় সরকারের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় জড়িত ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির চিহ্নিত হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এনসিপিসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, জুলাই পদযাত্রাসহ সব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

  • ছাতকে ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ২

    ছাতকে ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ২

    সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিএনজিচালকসহ আরো চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জাতুয়া গ্রামের মুসাব্বির মিয়ার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী (৫০) ও ছাতক উপজেলার জিটি গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর উদ্দিন (৩৫)। দুর্ঘটনায় সিএনজিচালকসহ আরো চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটগামী লেনে একটি ট্রাক সড়কের পাশে পার্কিং করা ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশার সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে জয়কলস হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়ে।

    জয়কলস হাইওয়ে থানার এসআই (নি.) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

    সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

    সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহন করা গাড়িতে হামলা হয়েছে। গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে গেছে। হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন সারজিস।

    আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে চলে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

    এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শিব্বির আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু ও আতিকুর রহমান মোজাহিদের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সাত শহীদ পরিবারের সদস্যদের বহন করা গাড়ি আক্রান্ত হয়েছে।

    এনসিপির একাধিক স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, সভা শেষে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িবহর অডিটোরিয়াম এলাকা ত্যাগ করছিল। তখন কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারেন। এতে গাড়িতে আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সারজিস আলমের গাড়ি ও পৌরসভার সামনে পুলিশের সদস্যরা ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গাড়ি লক্ষ্য করে কোমল পানীয়র ছোট বোতল ছুড়ে মরা হয়। সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।

    সিলেটের গোলাপগঞ্জে গাড়িতে হামলার পর সিলেট সার্কিট হাউসে ফিরে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সামনে ঘটনার বর্ণনা দেন সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার দুপুরেছবি: আনিস মাহমুদ

    এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বোতল নিক্ষেপের ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাহারায় সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ি সিলেটের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।

    পরে সিলেট সা‌র্কিট হাউসে ফিরে সারজিস আলম বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা এই হামলা চা‌লিয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে ফেরার পথে পাঁচমাইল এলাকায়ও চাপা‌তি ও রামদা দিয়ে হামলা হয়েছে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ‌সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রদলের‌ নেতা–কর্মীদের একজনও থেকে থাকলে তাঁরা দেখাক। তাঁরা নেতা–কর্মীদের নিয়ে কোনো কথা বললেও বাধা না দেওয়ার‌ নির্দেশনা দেওয়া ছিল। নিহত প‌রিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন; কিন্তু আহতদের কারও সঙ্গে দেখা করেন‌নি, সেখান‌ থেকেই ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছেন।

    এর আগে অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এনসিপির সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা হয়। এতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

  • সিলেটে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

    সিলেটে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

    সিলেট নগরীর বাগবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে মনোজ কান্তি দাস নামে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (২৯ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির।

    এর আগে, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে নগরের বাগবাড়ি নরসিংটিলা এলাকার প্রমুক্ত একতা-২৫৯ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মনোজ কান্তি দাস সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের পরলোকগত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি সম্প্রতি মৌলভীবাজারে কর্মরত অবস্থায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদ থেকে অবসরে যান।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মনোজ কান্তি দাসের স্ত্রী (স্কুলশিক্ষিকা) গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়ির ওই বাসার দ্বিতীয় তলায় একা বসবাস করতেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা নিচতলায় থাকতেন।

    মঙ্গলবার রাতে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এবং কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষের মেঝে থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন।

    এসএমপির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির জানান, নিহতের নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার নিন্দা জানাল ছাত্রশিবির

    হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার নিন্দা জানাল ছাত্রশিবির

    হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলটির শীর্ষ নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের উগ্র ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

    ছাত্রশিবিরের দাবি, হামলায় এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি এবং জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের অপচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া সাভারে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও উল্লেখ করেন তারা। এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন ছাত্রশিবির নেতারা।

    তারা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বেপরোয়া আচরণ, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, হামলা, নারী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তারা।

    বিবৃতিতে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দলীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রচলিত আইনের আওতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান ছাত্রশিবিরের দুই শীর্ষ নেতা।

  • হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

    হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

    জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এনসিপি নেতা সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ি বহরকে হবিগঞ্জে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বাধা প্রদান করেছে।

    এদিকে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা দেয়ার ঘটনায় বুধবার সন্ধা ৬টার দিকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে এনসিপি নেতাকর্মীরা।

    এনসিপির বিক্ষোভ মিছিলটি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে থেকে শুরু হয়ে বেবী স্ট্যান্ড হয়ে কোর্ট স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়।

    উত্তেজনার মধ্যে শহরের শায়েস্তানগরস্থ বিএনপির জেলা অফিস, হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোর করেছে পুলিশ।

    অপরদিকে, মৌলভীবাজার থেকে একটু একটু করে তারা হবিগঞ্জের পথে এগিয়ে আসছেন। মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে আসার পথে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপিসহ শীর্ষ নেতাদের গাড়ি বহরকে প্রথমে শ্রীমঙ্গলে আটকে দেয় পুলিশ।

    সারজিস আলম বলতে থাকেন- হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে মৌলভী বাজারে নয়। তখন তাদেরকে আরেকটু অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। গাড়ি বহর নিয়ে আসা হয় হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সীমান্তের চা কন্যা খ্যাত শ্রীমঙ্গলের চা- কন্যা মোড়ালের কাছে। সেখানে এনসিপি নেতাদের গাড়ি বহরকে আটকে দেয় পুলিশ। সেখান থেকে গাড়ি বহর নিয়ে আসা হয় হবিগঞ্জ জেলার রশিদপুর চা বাগানের মুছাই পাহাড়ের কাছে। সেখানে বালুর ট্রাক দিয়ে এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা প্রদান করে পুলিশ।

    বিএনপি অফিসের সামনে দায়িত্ব পালন করাকালে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল হক জানান, শহরের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উৎসুক জনতা রাস্তায় ভিড় করছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    সার্কিট হাউজের নিরাপত্তায় থাকা সদর থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার ধ্রুবেশ জানান, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কেউ শহরে মিছিল সমাবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সে প্রস্তুতি পুলিশের রয়েছে।

    এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি তার ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন ‘হবিগঞ্জের পথে ৪র্থ ব্যারিকেডের মুখে এনসিপি নেতৃবৃন্দ’।

  • আমাদের আপনাদের মতো বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে ফেলা যাবে না

    আমাদের আপনাদের মতো বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে ফেলা যাবে না

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে ফেলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া।

    বুধবার (২৯ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

    ওই পোস্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া লিখেছেন, ‘বালুর ট্রাক ভোলা সহজ নয়। কিন্তু আমাদের আপনাদের মতো বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে ফেলা যাবে না।’

    এদিকে বৃষ্টির মধ্যেও হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকার রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।

    এর আগে বুধবার এনসিপি নেতৃবৃন্দ মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে রওনা দিয়ে বিকেল ৫টার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে পুলিশ রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, ডা. মাহমুদা জাহান মিতু, সারজিস আলম, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দীর্ঘসময় বাগ্‌বিতণ্ডা চলে। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে অগ্রসর হন তারা।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ জেলা শহরে পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতৃবৃন্দের সংঘর্ষে বাধে। এতে সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনার ওইদিন রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে হবিগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    একই দিনে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে সমাবেশের ডাক দেওয়া হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

  • চতুর্থ ব্যারিকেড অতিক্রম করে বাহুবলে এনসিপি নেতারা

    চতুর্থ ব্যারিকেড অতিক্রম করে বাহুবলে এনসিপি নেতারা

    মঙ্গলবারের জুলাই পদযাত্রায় হামলার অভিযোগে বুধবার সেখানে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি।

    এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতা ও দলটির কর্মীরা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথে পথে তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। বিকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশি বাধার মুখে তারা হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান করেন। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টি নামে। এনসিপি নেতারা বৃষ্টিতে ভিজে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    এনসিপির নেতারা জানান, বিকেল চারটার কিছু আগে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।

    ওই বহরে থাকা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করতে যাওয়ার পথে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন জায়গায় আমাদের আটকে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে পুলিশ দিয়ে, তারপর রাস্তায় ট্রাক আটকে চাকা পাংচার করে এবং সর্বশেষ রাস্তার ওপর ট্রাক্টর রেখে আটকে দেওয়া হয়েছে।’

    এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার ফেসবুকে জানান, তারা চতুর্থ ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে রয়েছেন।

    শ্রীমঙ্গল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই গাড়ি বহর আটকে দেওয়া হয়েছিল। তারা আমাদের কথা শোনেনি। বহর শ্রীমঙ্গল পার হয়ে গেছে।’

    এদিকে, এই কর্মসূচিকে ঘিরে শ্রীমঙ্গলে ১৪৪ ধারা জারি করার কারণে বিকেল সাড়ে চারটায় হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল এনসিপি। তবে এখনও সেখানে পৌঁছাতে পারেননি দলটির নেতাকর্মীর।

    ওই বহরে রয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির সিনিয়র নেতারা।

    হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি জাহিদুল হক জানান, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। মাঠে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। সেখানে ম্যাজিষ্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করছেন।

  • হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে এনসিপি নেতারা

    হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে এনসিপি নেতারা

    রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়েছেন এনসিপি নেতারা। কিন্তু পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।

    বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়ির বহর হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের চা-কন্যা এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।

    সেখানে এনসিপি আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এনসিপি নেতাদের বহরে প্রায় ১০টি মাইক্রোবাস রয়েছে। অপরদিকে চা-কন্যা এলাকায় শতাধিক পুলিশ মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে আটকে রেখেছেন।

    গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপি নেতারা।

    ১৪৪ ধারার মধ্যে পুলিশ এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে না যেতে বলছে। অপরদিকে এনসিপি নেতারা পুলিশি বাধা তুলে নেওয়ার কথা বলছেন।

    মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

    এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

    হবিগঞ্জের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পুলিশ রয়েছেন। তারা সতর্ক রয়েছেন।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

    পুলিশ জানায়, এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন।

    এর মধ্যে বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

  • ১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জে  যাচ্ছেন নাহিদ-হাসনাত

    ১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জে যাচ্ছেন নাহিদ-হাসনাত

    মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে সেখানেই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল এনসিপি। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে এরই মধ্যে হবিগঞ্জের পথে রয়েছে দলটির নেতারা।

    মঙ্গলবার রাতে এনসিপি এই কর্মসূচি ঘোষণার পর একই স্থানে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মসূচি ঘোষণা করায় হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

    তবে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও কর্মসূচি পালন করতে সেখানে যাচ্ছেন এনসিপির নেতারা।

    এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ দলটির সিনিয়র নেতারা।

    আর আগে থেকেই সেখানে আছেন নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

    এনসিপির মিডিয়া উপ কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে এনসিপি নেতারা এখন খুব কাছাকাছি রয়েছেন।

    ১৪৪ ধারার মধ্যে কীভাবে কর্মসূচি পালন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে আরাফাত বলেন, ‘আহ্বায়কসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে পৌঁছানোর পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’র কর্মসূচি চলাকালে ও শেষে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার অভিযোগ ওঠে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

    পরে সারজিস আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। পরে রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় হবিগঞ্জ ছাড়েন তারা।

    এরপরই বুধবার হবিগঞ্জে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করায় সেখানে ১৪৪ ধারা জারির পর জেলাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, গভীর নিম্নচাপটির অবস্থা যেমন জানা গেল

    টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, গভীর নিম্নচাপটির অবস্থা যেমন জানা গেল

    উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    এদিকে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস মিললেও সিলেটের একটি পয়েন্টে এখনো নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামীকাল বুধবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

    আগামী বৃহস্পতিবার রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    আগামী শুক্র ও শনিবারও একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

    এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানির উচ্চতা আট সেন্টিমিটার কমেছে। একই সময়ে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমেছে।

    আগামী দুই দিন পানি আরও কমতে পারে এবং তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে। এতে আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের জারুকুল পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো সতর্কসীমায় রয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমছে এবং আগামী তিন দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও কমছে, যদিও ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা এখনো সতর্কসীমায় রয়েছে।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের মুহুরী নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে, তবে গোমতী, ফেনী, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে। আগামী এক দিন এসব নদীর পানি কিছুটা বাড়তে পারে, পরে তা স্থিতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদ-নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি জোয়ার অব্যাহত থাকতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হলেও এর প্রভাবে আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর

    ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু একটি পরিবারের প্রত্যাশা নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না।

    রোববার সকালে চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুরস্থ কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবি আরও জোরালো করবো। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। আমরা জানি না বর্তমান সরকার এ বিচার করবে কি না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন।”

    কবর জিয়ারত শেষে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, তাদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, জেলা নেতা মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার উপজেলা আমির মোস্তফা উদ্দিন, নায়েবে আমির আবুল খায়ের, পৌর আমির জমির হোসাইন, নায়েবে আমির সৈয়দ আবু কয়ছর কাজল, সেক্রেটারি ছাদ উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি রুকন উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।

    সাংবাদিক এটিএম তুরাব দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর তৎকালীন সিলেট ব্যুরো প্রধান এবং দৈনিক জালালাবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণআন্দোলনের সময় সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।

    উল্লেখ্য, শহীদ সাংবাদিক তুরাবের কবর জিয়ারতের আগে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নানা মাস্টার জোয়াদুর রহমান, প্রবীণ জামায়াত কর্মী মুহুরী আব্দুল খালিক এবং লেখক ও গবেষক আব্দুল হাকিম তাপাদারের কবর জিয়ারত করেন। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

  • হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়নে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ শুনতে চাই না

    হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়নে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ শুনতে চাই না

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে হ্যাঁ বলেছে। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের হ্যাঁ-কে আমরা অপমান করতে দেবো না। হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কোনো ধানাই পানাই শুনতে চাই না।

    তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষের একই দাবি- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে। বংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ আমরা চাই না।

    শনিবার বিকেল সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলীয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই হাঁটা শুরু করেছেন। তারা সকল পর্যায়ে দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে যাচ্ছেন। আমরা এটি মানব না। হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন জনগণ তাদেরও তাড়াবে।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। আমরা আমাদের জুলাইযোদ্ধা, জুলাইশহীদ ও ১৮ কোটি মানুষের সাথে বেঈমানি করব না। আমরা কথা রাখব। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব।

    সিলেটবাসীকে পরবর্তী আন্দোলনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, ঢাকার জন্য ডাক আসবে। প্রস্তুতি নিন। ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। আমরা থামব না, বলেন তিনি।

    সিলেটের বঞ্চনা ও ভোগান্তি তুলে ধরে সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সিলেটের কিছু ন্যায্যদাবি ঝুলে আছে যুগ যুগ ধরে। সিলেট এমএ জি ওসমানী বিমানবন্দরকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করুন। অবিলম্বে সিলেটের ৬ লেনের রাস্তা সম্পন্ন করে জনগণকে স্বস্তি দেয়া হোক। সিলেটের দীর্ঘ দিনের দাবি- এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি হবে। কলেজটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন? এটিকে ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তর করে প্রাণ দেয়া হোক। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে মাত্র একটি ঘর, আর একজন ভিসি। এর বাইরে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবিলম্বে এটাকে পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হোক, বলেন তিনি।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু দুঃখের সাথে দেখতে হচ্ছে- সেই সরকার গণভোটে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে। বিএনপি যদি জুলাই, তরুণদের ভুলে যায়, ১৪শ’ শহীদকে ভুলে যায়- তাহলে এর পরিণতি বিএনপিকে বরণ করতে হবে, সতর্ক করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কারকে ভুলে গেছে। তারা এখন শুধু সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। কিছু দালাল বুদ্ধিজীবীই বলছে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। নাহিদ সতর্ক করে বলেন, সরকার সংস্কার না করলে জনগণের মাঝে যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারবেন না। জুলাই সনদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করতে হবে, বলেন নাহিদ।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ আরও বলেন, বিএনপি দেশের নির্বাচন কমিশনসহ সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করছে। যার কারণে আমরা যে উন্নতি চেয়েছিলাম- তা হবে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না কবরলে এই সরকারকে আর আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। যদি জুলাই সনদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে এই সরকার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। সেজন্য গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নইলে তাকে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য। সরকারি দল বা ১১ দলের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারার জন্য নয়। যতদিন পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। নেতাকর্মীরা হত্যা, খুন গুমের শিকার হয়েছে। আমাদের ভাইয়েরা জুলাই বিপ্লব, শাপলায় রক্ত দিয়েছে। অনেক ভাই-বোনেরা চিরদিনের জন্য পঙ্গত্ববরণ ও চোখ হারিয়েছেন।

    সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই, আপনারাও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন। আমরা আপনাদের বন্ধু মনে করি। আমরা যেমন দেশের কল্যাণ চাই। যে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছেন, যদি সেই জুলাই বিপ্লবের সাথে গাদ্দারি করেন, তাহলে আপনাদের ঘাড় ধরে ধাক্কা দিতে আমাদের বাঁধবে না। গণভোটের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যদি ছিনিমিনি করেন, বিশ্বাসঘাতকতা করেন- তাহলে আপনাদের পরিণাম শেখ হাসিনার মতো হবে।

    মামুনুল হক আরও বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে নিন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করুন। গণভোটের গণরায়ের আলোকে গণপরিষদ গঠন করুন। তা না হলে আন্দোলন করে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। আমাদের আন্দোলন ৩০ হাজার আহত জুলাইযোদ্ধার অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

    এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা বর্তমান সরকারকেও বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, তার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বিচার ও সংস্কার। কিন্তু গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি, আপনারা নির্বাচন নিয়ে যতটা আগ্রহী ও তৎপর ছিলেন, বিচার ও সংস্কারের ক্ষেত্রে ততটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। শুধু জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোট বা গণরায়ের কথা বললেই হবে না। জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর করা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করতে হবে। জনগণ জানতে চায়—যে দল নিজের প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করতে পারে না, তাদের ওপর জনগণ কীভাবে আস্থা রাখবে?

    লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ইরান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে এবং নির্বাচনে প্রকৌশল করে অনেক প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ডা. হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সরকার যদি মনে করে থাকে যে, তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে, তাহলে তারা ভুল করছে। অতীতের সরকারগুলোও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু জনগণের আন্দোলনের মুখে তা সম্ভব হয়নি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

    জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা ৫ মাসে জাতির জন্য কিছু করতে পারে না, তারা আগামী ৫ বছরেও কিছুই করতে পারবে না। আমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর দেখতে চাই না। ভারতের নির্দেশে ইলিয়াস আলীর মতো আর কাউকে গুম হতে দেখতে চাই না। টিপাইমুখ বাঁধের কারণে সিলেটের জনগণকে আর বঞ্চিত হতে দেখতে চাই না। ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার যদি গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু করা হবে।

    নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। জনগণের রায় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারবে না। জনগণ যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল, ভবিষ্যতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো অপচেষ্টা হলে- তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে বিরোধীদলীয় নেতা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আগামী দিনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা মানতে না চাইলেও তারা ১৯৯৬ সালে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। বিএনপি ২০০৪ সালে আবার জাতির সাথে প্রতারণা করে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে জাতীয় সংকট সৃষ্টি করেছিল। ফলে এক-এগারোর সরকার এসেছিল। বিএনপির এই গোয়ার্তুমির কারণেই জাতি ১৭ বছরের গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়েছিল। একইভাবে বিএনপি আবার গণভোটের রায় না মেনে জাতিকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, জনগণের রায় অস্বীকার করা যায়, কিন্তু সে রায়ের ফলাফল মেনে না নেয়ার পরিণতি অস্বীকার করা যায় না। ক্ষমতা বদলায়, চেয়ার বদলায় কিন্তু জনগণের রায় বদলায় না। সময় থাকতে গণরায় মেনে নিন।

    সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ তখনই সম্ভব হবে, যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত করা সম্ভব হবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে, বিএনপির না। আপনি দালাল, চাটুকারদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে বিবেচনা করে সংস্কার বাস্তবায়ন করুন। প্রয়োজনে ১১ দলের নেতাদের সাথে কথা বলেন। জাতিকে মুক্ত করেন।

    তিনি বলেন, জনগণ যে সংস্কার চায় সেই সংস্কার করেন। আপনি বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন। আপনি চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি। আপনাকে ভুলপথে পরিচালিত করছে। আপনি বাহিরে থাকায় আপনি বাস্তবতা এখনো উপলব্ধি করতে পারছেন না। জনগণের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আমাদের সরকার পতনের এক দফায় ধাক্কা দিবেন না। সংস্কারগুলো সংসদের মাধ্যমে পাস করে দেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জনান।

    বিভাগীয় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মো. সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (জাগপার) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহনগরীর সভাপতি জিয়াউল আনোয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট জেলা সভাপতি জুনায়েদ আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরীর সাবেক নায়েবে আমির হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিলেট মহানগরীর আমীর মাওলানা মোজ্জামেল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইকবাল হুসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সিলেট মহানগরীর সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট মহানগরীর সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাজু।

  • জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট শহরের যানজট নিরসনে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সিলেটবাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।

    তিনি শনিবার সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান প্রকল্পসমূহ পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

    মন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট শহর আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রধান সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে।

    তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরের ছড়াগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
    সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী সড়কটি আরও প্রশস্ত করা হবে। একইভাবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

  • ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন: গোলাম পরওয়ার

    ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন: গোলাম পরওয়ার

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা আড়াইটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

    এই সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সিলেট বিভাগ জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা আড়াইটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

    এই সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সিলেট বিভাগ জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।

  • সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে বহুল আলোচিত শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশীরা। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনের দিকে নেয়ার সময় তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে জাকিরকে মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আসামিকে নিরাপদে আদালতে নিয়ে যান।

    এর আগে, গত ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকির হোসেনের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।

    তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিমার এক চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এতে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।

    এদিকে, বারবার আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামির ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই আদালতে আনা-নেয়া করা হয়। তারপরও কিভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির হোসেন একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার মরহুম তোতা মিয়ার ছেলে এবং সম্পর্কে ফাহিমার চাচা।

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মে ভোরে ফাহিমার লাশ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, জাকির হত্যার পর লাশ গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।

    গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশ ও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, পুলিশ জোর করে তার কাছ থেকে ওই জবানবন্দি আদায় করেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর গলা টিপে হত্যা করে লাশ প্রথমে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তদন্তের সময় অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাদর ও একটি ব্রিফকেস উদ্ধার করে পুলিশ।

    ফাহিমা হত্যাকাণ্ড সিলেটসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এবং অভিযুক্তদের বাড়িতে দুই দফা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মামলাটি বর্তমানে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

    মামলার অগ্রগতি :
    ১১ মে রাতে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে এবং তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে এসব সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

    খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

    এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদারদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় দেখা দিলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন ওই ১৯টি বালুমহালে পরবর্তী ইজারা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
    উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালুবাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত থাকায় প্রশাসন কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
    স্থানীয়রা জানান, বালুখেকো চক্রটি খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে দ্রুত পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের লোহজনের আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে সরে পড়েন সংশ্লিষ্টরা এবং অভিযান শেষ হলেই পুনরায় কাজে নেমে পড়েন।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার জানান, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি ঠেকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা মূলত উচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করছেন।
    অভিযানের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আসা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেওছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীকালে সিলিকা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে প্রশসনের পক্ষ থেকে অভিযানে পাঠানো হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছড়াগুলো থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ,আর

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মোট ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭১০ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮৪৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সাথে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে সিআইডির ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে।

    সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের আগের একটি বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

    র‌্যাব ও পুলিশ সদর দপ্তরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে র‌্যাবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের আ ফ ম নিজাম উদ্দিন এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৪ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৬৯৯ জনের।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৮৯ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের। আর একজন ঢাকা বিভাগের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ৩১৮ জন। একই সময়ে ৯৯ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৫ হাজার ৫২৯ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

  • সিলেটের আদালতে জামায়াত সমর্থিত ১৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

    সিলেটের আদালতে জামায়াত সমর্থিত ১৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

    সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্মরত জামায়াত সমর্থিত অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি), অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশনাল জিপি) ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদে দায়িত্ব পালনকারী ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

    বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের হাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে প্রেরণের জন্য একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

    বুধবার বিকেলে দৈনিক নয়া দিগন্তকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: আব্দুল খালিক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কর্তৃক গণভোট, সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা ও বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয় বাতিলের প্রতিবাদ স্বরূপ তারা উক্ত পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

    পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন- অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি) অ্যাডভোকেট মো: আলীম উদ্দীন এবং অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশনাল জিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল হুদা।

    এ ছাড়া সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ থেকে পদত্যাগী ১৫ জন হলেন- অ্যাডভোকেট মো: রবিউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জুনেদ আহমদ, অ্যাডভোকেট মো: মোজাম্মিল আলী, অ্যাডভোকেট মো: রহমত আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কাজী আতিফুল হক, অ্যাডভোকেট সাদেক আহমদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ময়নুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো: আব্দুল গফ্ফার, অ্যাডভোকেট আফজল মিয়া তালুকদার, অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম ও অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।

    জানা গেছে, তারা নিজ নিজ পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। পদত্যাগকারীরা তাদের পৃথক পৃথক আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে বর্তমান সরকার কর্তৃক গণভোট, সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা ও বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয় বাতিলের প্রতিবাদে তারা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। একইসাথে তারা ভবিষ্যতেও দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি একজন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

  • কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর  লাশ উদ্ধার

    কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর মাসুক মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে স্থানীয় মিন্টু মিয়ার বাড়ির সামনে নদীর বালু চরের পাশ থেকে লাশটির উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কৃষক মাসুক মিয়া মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতি গ্রামের মরহুম আজিজ মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে বলাই দাশ ও মাসুক মিয়া ধলাই নদী পার হওয়ার সময় দু’জনই নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যান। কিছুক্ষণ ভাসার পর বলাই দাশ তীরে ভিড়তে সক্ষম হলেও তীব্র স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন মাসুক মিয়া। তার নিখোঁজের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সিলেট থেকে আসা ডুবুরি দল ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

    প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার স্বজনরা কয়েক দিন ধরে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক সন্ধান করেন। অবশেষে আজ বুধবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পাটনীকোণা এলাকায় ধলাই নদীর চরের পাশে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা লাশটি মাসুক মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

    কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজের দিন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের টিম নিখোঁজ কৃষককে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। চার দিন পর তার লাশ ভেসে উঠেছে।

    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, আমরা সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি।

    এদিকে মাসুক মিয়ার লাশ উদ্ধারের পর বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

    এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৫ বছর ১০ মাস পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড। শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— আইনুদ্দিন, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান।

    আসামিরা সাবাই সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকার ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের এক শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকও ছিলেন।

    ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদের কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একইসঙ্গে দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাড়ি আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।

    ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরও দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলাটিও এ মামলার সঙ্গে একত্রে বিচার করা হচ্ছে।

    এদিকে এ ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    দেশে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দেশের ৭টি জেলায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।

    সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭টি জেলা বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির শিকার। বন্যাকবলিত এই জেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

    নিহত ও আহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    অপরদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত মানুষদের জরুরি আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এরইমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

  • আনারকলি ফল চাষে সালেহের বাজিমাত

    আনারকলি ফল চাষে সালেহের বাজিমাত

    বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ বাংলাদেশে ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে পনিচিত। এ ফল চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাষি সালেহ আহমদ। জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে কয়েক বছর আগেই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন তিনি। এ কৃষি উদোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

    জানা গেছে, মুদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে জেলায় ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

    উদ্যোক্ত সালেহ আহমদ জানান, দর্ঘিদিন ধরে তিনি ধান চাষের পাশাপাশি নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন লেবু, লটকনসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের ক্ষুদ্রায়তন বাগান। ২০২২ সালে নিজের চার শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু করেন আনারকলি চাষ। ২০২৪ সালে তার ওই তিনটি গাছের ফল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করেন ১০ হাজার টাকা। আনারকলি ফল বিক্রির পর চাষে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। ওই বছরই আরও বেশ কিছু চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষাবাদে তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোতে যে ফল এসেছে তাতে সালেহ আহমদ চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

  • বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    টানা কয়েকদিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা ছাড়াও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। রোববার (১২ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তারা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।

  • সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ দুর্যোগে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব জেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া জেলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় এবং পাঁচ জন রোহিঙ্গা। নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

    চট্টগ্রামে বন্যায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ছয় জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি।

    এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০ জন, মৌলভীবাজারে ২৬ হাজার ৫৪৪ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে সাত জেলায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন অবস্থান করছেন। বান্দরবানের ২২০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

    এ ছাড়া মৌলভীবাজারের ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন এবং কক্সবাজারের ২৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি।

    সাত জেলায় বরাদ্দ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও চাল

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ির জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

    একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য সাধারণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করেছে মন্ত্রণালয়।

    চলছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৭১০ মেট্রিক টন চাল, ৬০ লাখ টাকা, ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    বান্দরবানে ৬৮ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২৩৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট রান্না করা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১১০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৪১৭ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।


    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

  • পিকআপের ধাক্কায় স্বামী নিহত

    পিকআপের ধাক্কায় স্বামী নিহত

    সিলেটের গোলাপগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় অটোরিকশাযাত্রী আখদ্দছ আলী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের করমপুর গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আরোহী রিতা আক্তার নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় রিতার স্বামীসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া চার স্থানে সড়কে আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা ও গাজীপুরে দুই মোটরসাইকেল আরোহী, বগুড়ায় চালক এবং চট্টগ্রামে প্রাইভেটকার চালক রয়েছেন। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

    গোলাপগঞ্জ (সিলেট) : নিহত আখদ্দছ আলী উপজেলার পৌর এলাকার ইয়াগুল গ্রামের মৃত তছির আলীর ছেলে। আহত হয়েছেন আখদ্দছের স্ত্রী রোকসানা বেগম, ছেলে মুসেদ আহমদ এবং মেয়ে হুমায়রা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    মধুপুর (টাঙ্গাইল) : শুক্রবার সকালে ধনবাড়ী উপজেলার টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রিতা ভুয়াপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। জামালপুরগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ঢাকাগামী বাসের সংঘর্ষ ঘটে।

    ঢাকা : বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়ায় মোটরসাইকেলে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন মুদি দোকান কর্মচারী হুমায়ুন কবির। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন সোহেল নামে তার এক বন্ধু। শুক্রবার ভোরে পোস্তগোলা ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

    কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : কালিয়াকৈরে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা সংঘর্ষে চালক বাবুল ঘোষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার লতিপুর এলাকায় তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মোটরসাইকেলচালক বাবুল ঘোষ মানিকগঞ্জের ঘিউর উপজেলার চককস্তা এলাকার সৃষ্ট কান্ত ঘোষের ছেলে। তিনি উপজেলার কালামপুর এলাকায় সপরিবারে ভাড়া থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

    সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) : সীতাকুণ্ড উপজেলায় প্রাইভেটকার-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে চালক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি কারচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীতমুখী লেনে চলে গেলে চট্টগ্রামমুখী কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    বগুড়া : নন্দীগ্রামে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে চালক আবদুস সালামের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার সিংজানি বাজার এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবদুল সালাম রংপুর সদরের মুন্সীপাড়া এলাকার মৃত রুকু মিয়ার ছেলে।

  • ধর্ম

    ধর্ম

    মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদ উদ্বোধন

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় এর উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।

    অনুষ্ঠাননে গেস্ট অব অনার ছিলেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুমিনুল হক।

    মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মামুন আল ফারুক, মডেল মসজিদ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মাদ ফেরদৌস-উজ-জামান।

  • আবারও খোলা হলো শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স

    আবারও খোলা হলো শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স

    হযরত শাহ জালাল (রহ.) মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়েছে। এবার বাক্সগুলো থেকে ৪ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

    জানা গেছে, বাক্সগুলো থেকে পাওয়া ৪ বস্তার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে লাল রঙের নোটের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। টাকা গণনার এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। গণনা কার্যক্রমের সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং নবগঠিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

    এর আগে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম শাহজালালের মাজার পরিদর্শনে যান এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তার উদ্যোগে গত ১৮ জুন নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন ও ঐতিহাসিক তিনটি ডেক সিলগালা করা হয়েছিল। এরপর ২২ জুন প্রথম দফায় ৪ দিনে সংগৃহীত ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা গণনা করে সোনালী ব্যাংকের বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়, যেখানে প্রথমবার ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য বেশি ছিল।

    সাবেক জেলা প্রশাসক এরপর মাজারে আনসার সদস্যদের মোতায়েন করেন এবং তখন থেকে আনসার সদস্যরা মাজারের দানবাক্স ও ডেক পাহারায় রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে মাজারের ডেক ও দানবাক্সে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, প্রথমবার দানবাক্স খোলার পর জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয় এবং এর মধ্যেই সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক কাঠামোর জন্য আধুনিক সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেটের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য, মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। এই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক।

  • গত চার মাসে হাম ও উপসর্গে  মৃতের সংখ্যা ৭৫০

    গত চার মাসে হাম ও উপসর্গে  মৃতের সংখ্যা ৭৫০

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। এ নিয়ে গত প্রায় চার মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজন ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    সরকারি হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৩ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর রাজশাহী বিভাগে ৮৯, সিলেটে ৮৮, ময়মনসিংহে ৬২, চট্টগ্রামে ৫৩, বরিশালে ৪২, খুলনায় ২৯ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১১, চট্টগ্রামে ১৯০, বরিশালে ১১০, সিলেটে ৬৫, ময়মনসিংহে ৫২, খুলনায় ৪৬, রাজশাহীতে ১৭ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জন ভর্তি হন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ৮৯ হাজার ২৩৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হামের উপসর্গ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩২৬।

    এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, হাম মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, ফিল্ড হাসপাতাল এবং জরুরি আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে নতুন কোনো হামের জেনোটাইপ ছড়িয়ে পড়ছে কি না, তা জানতে জরুরি ভিত্তিতে জেনোটাইপ শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।

    অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন শিশুদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালের আইসিইউর একটি অংশ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের জন্য হাই-ফ্লো অক্সিজেন সেবার ব্যবস্থা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন।

    তার মতে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় হাই-ফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিশুদের চিকিৎসায় একই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউ ও শিশু হাসপাতালের সক্ষমতাও কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

  • ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    বগুড়ার শিবগঞ্জে রাইস মিলের ট্রান্সফরমার চুরি করতে এসে মিল মালিক মোহাম্মদ আলী সরকারকে (৫০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিনের মাথায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের পুটখোর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের কাঠগড়া গ্রামের আব্দুল বারিক সাকিদারের ছেলে আব্দুল আলিম (৪০)।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদ আলী সরকার নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে স্থানীয় ফুলতলা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন তার রাইস মিলে পাহারা দিতে যান। রাত দেড়টার দিকে ৫ থেকে ৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র বা ডাকাত দল মিলের ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করে।

    এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে মোহাম্মদ আলী সরকার বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তিনি হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনে ফেললে, পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

    ঘটনার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

    শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে দস্যুতা, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজা গাছ জব্দ

    ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজা গাছ জব্দ

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে চারটি গাঁজা গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাটগোপালপুরের মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে এসব জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানায়, মোল্লাপাড়া এলাকার মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু তার সুপারি বাগানে গোপনে গাঁজা গাছ রোপণ করে পরিচর্যা করে আসছিলেন। মঞ্জুর দু’টি বাগান থেকে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার দু’টি ও দুই ফুট উচ্চতার দু’টি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়। এ সময় মঞ্জু এলাকায় না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মঞ্জুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

    ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের এএসপি মুনতাসির মামুন মুন ও ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু একজন মাদকসেবী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গাঁজার চাষ করে আসছেন।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

    ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ভূরুঙ্গামারী ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে প্রচুর সুপারি বাগান তৈরি হয়েছে। মাদক কারবারিরা এসব বাগানে গাঁজা চাষ করা শুরু করছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • মধ্যনগরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়মে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা

    মধ্যনগরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়মে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা

    সুনামগঞ্জে মধ্যনগর উপজেলার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অকৃষক ও তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা বিতরণ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

    অভিযোগের মুখে মঙ্গলবার সকালে কিছু সময়ের জন্য বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে তা পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মধ্যনগর সদর ও চামরদানী ইউনিয়নের তিনটি করে ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে সরকারি সহায়তা বিতরণ শুরু হয়। বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পরপরই তালিকায় নাম না থাকা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে চামরদানী ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। পরে অভিযোগের পর সাময়িকভাবে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও পরে আবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

    এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ‘অনিয়মের তালিকা মানি না, মানব না’ স্লোগান দেন তারা। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা বরাদ্দ এলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নিকটাত্মীয়দের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত নয় এমন ব্যক্তি এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভরত কৃষকরা অনিয়মের অভিযোগে তালিকাভুক্ত কয়েকজনের নাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

    এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এর জন্য দায়ী থাকবেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ

    ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ

    সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাতার থেকে আসা ছয় প্রবাসীর লাশ রিসিভকালে নিহতের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিহতদের মরদেহের কফিন ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছার আগেই সেখানে উপস্থিত হন সিলেট জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। এসময় লাশ রিসিভের পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের সহমর্মিতা জানান তারা।

    মঙ্গলবার সকালে কাতার থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ছয়টি লাশের কফিন আসে। এরমধ্যে সকলেই দুর্ঘটনায় মারা যান। তন্মধ্যে পাঁচজন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এবং একজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার।

    গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

    এদিকে, গত ১৭ জুন সকালে কাতারে ডিউটি করার সময় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আশিঘর গ্রামের মরহুম আব্দুল আলীর ছেলে লিফন মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার সকালে ওসমানী বিমানবন্দরে লিফনের লাশও রিসিভ করা হয়।

    কাতার ফেরত ছয় প্রবাসীর লাশ রিসিভকালে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, জেলা নায়েবে আমির হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, সাবেক ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

    এসময় জামায়াত নেতৃবৃন্দ নিহতের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। তারা বলেন, নিহত প্রবাসীরা গরীব পরিবারের মানুষ। তারা স্বজনের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে গিয়েছেন। অনেকেই ঋণ ও দ্বার-কর্জ করে প্রবাসে গিয়েছিলেন। একটি দুর্ঘটনা তাদের জীবন ও স্বজনের মুখে হাসি কেড়ে নিয়েছে। সিলেট এয়ারপোর্টে নিহতের স্বজনদের কান্না দেখে চোখের পানি আটকানো যায়নি। নিহত প্রবাসীদের পরিবারের পাশে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাধ্যমত সহযোগিতা নিয়ে নিহত ছয় প্রবাসীর পরিবারের পাশে আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

    কানাইঘাটের নিহতরা হলেন- ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ ও দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।

  • কানাইঘাটে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোরকে হত্যা

    কানাইঘাটে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোরকে হত্যা

    সিলেটের কানাইঘাট পৌর শহরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোর আব্দুল আহাদকে হত্যা করেছে সায়েম আহমেদ নামে এক যুবক।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

    নিহত কিশোর আব্দুল আহাদ কানাইঘাট পৌরসভার দলইরমাটি গ্রামের রিকশাচালক ছালেহ আহমদের ছেলে। অভিযুক্ত সায়েম আহমেদ কানাইঘাট পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম ভান্ডারির ছেলে।

    জানা যায়, রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টার দিকে স্থানীয় তাজুল ইসলামের ওয়ার্কশপে সায়েম আহমেদের স্ক্রু ড্রাইভারের আঘাতে কিশোর আহাদ গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে আব্দুল আহাদ মারা যায়।

    এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পারিবার এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি।

  • নিখোঁজের ১ দিন পর ধলাই নদী থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

    নিখোঁজের ১ দিন পর ধলাই নদী থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামে নিখোঁজের এক দিন পর ধলাই নদী থেকে তামিম ইকবাল (৫) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    রোববার (২৮ জুন) দুপুরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে নিজ বাড়ির সামনে গ্রামীণ সড়কের সংস্কার কাজ দেখছিল তামিম। এ সময় তার শরীরে কাদা ছিটকে পড়লে সে বাড়িতে গিয়ে পরনের টি-শার্ট খুলে আবার বাইরে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসী রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। রোববার দুপুরে ধলাই নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

    আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুমের আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কমর উদ্দীন বলেন, খবর পেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন হলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

  • এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সারিয়া গ্রাম। ওই গ্রামেরই এক পাহাড়ের ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ফলের বাগান। এই বাগানে চাষ করা হয়েছে ৫০ জাতের আম। শুধু আম নয় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০০টির বেশি জাতের ফলের সংগ্রহশালায় রূপ নিয়েছে এই বাগান।

    এই কাজ নীরবেই করে দেখিয়েছেন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৭ সালে বাড়ির পাশের এক ঢালে মাত্র কয়েকটি আমের চারা দিয়ে তার যাত্রা শুরু। বাগানের গাছের ডালে ডালে ঝুলছে নামের ট্যাগ। এক পাশে আঙুরের সারি তো অন্য পাশে স্ট্রবেরির খেত। লংগান, ড্রাগন আর সালাক ফলের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পিচগাছ।

    রেজাউল করিম জানান, তিনি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেননি। গাছপালা, ফল ও ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই বাগানের শুরু। তিনি বলেন, ‘শখ থেকেই আমের চারা লাগানো শুরু করেছিলাম। যখন গাছে ভালো ফলন এল, তখন অন্য জাতের ফল ফলানোর আগ্রহ জাগে।’ আমের প্রথম ফলন পেয়ে তার কৌতূহল বাড়ে। এরপর তিনি বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিরল প্রজাতির ফলের চারা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। শুরু করেন বিদেশি জাতের ফলের আবাদ। বিদেশ থেকে সরাসরি চারা আনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করার কথা জানান তিনি।

    রেজাউল করিমের দুই একরের এই বাগানে এখন শুধু আমেরই ৫০টি জাত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, ন্যাচ ১, ২ ও ৩, বৈশাখী, বান্দি নুরি, গৌড়মতি, কাটিমন, থাই কাঁচামিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্ল্যাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনেই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, নাম ডক মাই ইয়েলো, নাম ডক মাই মুন, সীতভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং ও সারেঙ্গা।

    এ ছাড়া তার বাগানের আরেকটি অংশজুড়ে রয়েছে ১০ জাতের মালটা ও কমলা। এর মধ্যে আছে কারা কারা কমলা, ওয়াশিংটন নাভেল, সাউথ আফ্রিকান হাল্লাম মালটা ও সিলেটি কমলা। এর বাইরে আরও আছে ডালিম, পার্সিমন, আপেল, রামবুটান, ব্ল্যাকবেরি, লকেট, জামরুল, রোজ জাম, টার্কিশ মালবেরি, কাজুবাদাম, আতা, শরিফা, ব্রাজিলিয়ান পেয়ারা, হানি কুমকোয়াট ও বরই। তবে এখানেই শেষ নয়।

    এই বাগানের দুটি ফল সবার বিশেষ মনোযোগ কাড়ে। ‘হানি কাপোর্ড’ ও ‘চুপাচোপা’ নামের ফল দুটি রেজাউল সরাসরি ইন্দোনেশিয়া থেকে এনেছেন। তিনি জানান, ‘হানি কাপোর্ড’ দেখতে অনেকটাই লিচুর মতো, তবে পুরোপুরি পাকলে এটি জেলির মতো হয়ে যায়। অন্যদিকে ‘চুপাচোপা’ ফলটি মিষ্টি স্বাদের জন্য বেশ সমাদৃত। বাংলাদেশে এই দুটি ফলের কোনোটিই সচরাচর দেখা যায় না।

    ফলের পাশাপাশি রেজাউলের বাগানে রয়েছে নানা রকম সবজি। নিজেদের পরিবারের জন্য এখানে বিট, চাইনিজ গাজর, কালো টমেটো, লাল মুলা, স্ট্রবেরি টমেটো, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম এবং বেশ কয়েক জাতের মরিচ চাষ করা হয়।

    বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রেজাউলের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দারুণ। এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিছু আমের জাত বেশ ভালো ফলন দিয়েছে। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, অনেক বিদেশি চারাও তিনি সংগ্রহ করেছেন।’

    রেজাউলের এই বাগান দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন। সম্প্রতি বাগানটি ঘুরে দেখা স্থানীয় বাসিন্দা এ জে লাভলু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন ফলের বাগান দেখিনি। তিনি যে যত্ন ও ধৈর্য নিয়ে এটি গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। তার কাছ থেকে অনেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।’

    রেজাউল বলেন, এখনই বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের কোনো পরিকল্পনা তার নেই; এটি ভবিষ্যতে হতে পারে। মৌলভীবাজারের মাটি ও জলবায়ুতে কোন বিদেশি জাতের ফল ভালো ফলন দেবে, তা যাচাই করে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই নতুন নতুন ফল আসছে। এগুলো খুব যত্ন করে রাখতে হয়। ফলন ভালো হলে পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করব।’

    এ এম

  • উলিপুরে ৪৯ মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘ফুল’ শিক্ষাবৃত্তি

    উলিপুরে ৪৯ মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘ফুল’ শিক্ষাবৃত্তি

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪৯ মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ‘ফুল শিক্ষাবৃত্তি-২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার (২২ জুন) উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও এককালীন বৃত্তির অর্থ তুলে দেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ।

    আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিনটি মাধ্যমিক ও চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৮ জন এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

    ‘ফাইট আনটিল লাইট (ফুল)’ সংগঠনের পরিচালক আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উলিপুর-কুড়িগ্রাম অ্যাকাডেমি রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদার এবং উলিপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আবু যোবায়ের আল মুকুল।

    বক্তারা শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে শিক্ষার প্রসারে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানানো হয়।

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ফুল’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, উলিপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ৪৯ মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

  • সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সড়ক, নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি

    সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সড়ক, নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি

    টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক। এতে করে তাহিরপুর থেকে যাওয়া ও সুনামগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

    রোববার (২১ জুন) সকাল থেকে যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রবল বেগে নেমে আসা পানিতে সড়কটি তলিয়ে যায়। তবে এর মধ্যেই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়াও উপজেলার যাদুকাটা নদীসহ সীমান্ত নদীর পানি প্রবল বেগে ভাটির দিকে নামছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

    বিএনপি নেতা জুবায়ের জয়নাল জানান, পাহাড়ি ঢল এলেই সড়কটি দিয়ে যানবাহন ও মানুষজনের চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিকে যে পরিমাণে পানি বাড়ছে আর বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আনোয়ারপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি রতি মিয়া জানান, যাদুকাটা নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল রক্তি ও বৌলাই নদী দিয়ে ভাটির দিকে নেমে যায়। আর পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এবং অন্য কোনো দিকে পানি নামতে না পারায় সড়কটি ডুবে যান চলাচলে সমস্যা হয়।

    সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, পানি বাড়ছে, তবে সুনামগঞ্জের সবগুলো পয়েন্ট দিয়েই বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

  • নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় শাবিপ্রবিতে ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক

    নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় শাবিপ্রবিতে ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখা। নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে ক্যাম্পাসে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করেছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য, বিভাগ ও ক্যাম্পাস সম্পর্কিত নির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন প্রকাশনা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

    এ বিষয়ে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “নবীন শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। নতুন পরিবেশে তাদের শুরুটা যেন সহজ ও সুন্দর হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা চাই, তারা পড়াশোনা, গবেষণা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলুক এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করুক।”

    তিনি আরো বলেন, “শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক প্রয়োজন ও সমস্যায় সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আমরা সবসময় পাশে থাকতে চাই। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

  • শরীরে স্কচটেপ পেঁচিয়ে গাঁজা পাচারের সময় একজন আটক

    শরীরে স্কচটেপ পেঁচিয়ে গাঁজা পাচারের সময় একজন আটক

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অভিনব কায়দায় স্কচটেপ দিয়ে শরীরে গাঁজা বহনের সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ-৫৫, বিজিবির একটি বিশেষ দল উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজাসহ ওই মাদক কারবারিকে আটক করে।আটক মাদক কারবারি মো. আরিফ মিয়া (২৮) ময়মনসিংহ জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

    জানা গেছে, অভিযান চালিয়ে আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজাসহ ওই মাদক কারবারিকে আটক করে। পরে জব্দকৃত গাঁজাসহ মাদক কারবারিকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    চুনারুঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    এ এম

  • পাটের বস্তার সংকট, ধান সংগ্রহ বন্ধ

    পাটের বস্তার সংকট, ধান সংগ্রহ বন্ধ

    চলতি বছরে বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারের ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয় মে মাসে। তবে বস্তা সংকটের কারণে উদ্বোধনের এক মাসের মাথায় বন্ধ রয়েছে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম।এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কৃষক।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল লটারির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চলতি মৌসুমে জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় দুই হাজার ৩৭৩ টন। উদ্বোধনের পর থেকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যক্রম চললেও বর্তমানে পাটের বস্তার সংকট দেখা দেওয়ায় কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন ও লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন কিনা—তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত বস্তা সংকট দূর করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক, যাতে তারা ন্যায্য মূল্যে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন।

    কৃষক মো. অহিদ মিয়া বলেন, ‘দিনদশেক আগে আমি ধান দেওয়ার জন্য সিরিয়াল নিয়েছি। কিন্তু এখন পাটের বস্তা না থাকার কারণে ধান দিতে পারছি না।সজল সরকার নামের কৃষক বলেন, ‘বস্তা সংকটের কারণে ধান দিতে না পারায় খুব সমস্যায় আছি। ধান বিক্রি করছি টাকার জন্য। কিন্তু সময়মতো টাকা না পেলে পরে টাকা দিয়ে কী হবে।’

    উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৮০০ টনের মতো ধান সংগ্রহ করেছি। শুধু জামালগঞ্জ উপজেলা না, সুনামগঞ্জ জেলার গুদামেও বস্তা সংকট চলছে।আমাদের উপজেলায় আপাতত ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ আমরা বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি শিগগিরই বস্তা চলে আসবে। তখন পুনরায় ধান সংগ্রহ শুরু হবে।’

    এ এম

  • সিলেটে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

    সিলেটে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

    হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের শ্রদ্ধা ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চির বিদায় নিলেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

    শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের কানাইঘাটে তার প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে নাজমুস সাকিব চৌধুরী।

    জানাজায় কানাইঘাট-জকিগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার শোকাহত মানুষজন ছাড়াও সিলেট নগরীর শত শত মানুষ অনেক দূরের পথ মাড়িয়ে জানাজায় শরীক হোন। জানাজা শেষে নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ক্যাম্পাসে তাকে দাফন করা হয়।

    জানাজা-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এ টি এম আজাহারুল ইসলাম, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মরহুমের জামাতা ডক্টর এনামুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

    জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশীদ, কানাইঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

    মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেশ কিছুদিন আগে তাকে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ৮০-৯০ দশকে দীর্ঘদিন সিলেট জেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বও পালন করেছেন।

  • বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ, আটক ১

    বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ, আটক ১

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ বিজিবির অভিযানে তিন হাজার ৩৮৪ প্যাকেট ভারতীয় অবৈধ সিগারেটসহ এক মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপি থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি করা হয়। এর আওতায় সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত ও বিশেষ টহল, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নজরদারি, পুশইন প্রতিরোধ ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১০ জুন) রাতে কুলাউড়া উপজেলার মুড়াইছড়া ও দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিজিবির একটি টহল দল একজন চোরাকারবারিকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে তিন হাজার ৩৮৪ প্যাকেট অবৈধ ভারতীয় সিগারেট জব্দ করা হয়।

  • তাহিরপুরে গোসল করতে গিয়ে নদীতে নিখোঁজ নারী, ৩ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

    তাহিরপুরে গোসল করতে গিয়ে নদীতে নিখোঁজ নারী, ৩ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বৌলাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর সুলতানা বেগম (২৪) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধুতমা গ্রামের পাশে নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

    এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ধুতমা গ্রাম সংলগ্ন নিজ বাড়ির ঘাটে গোসল করে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

    তিনি ওই গ্রামের আবুল বাসারের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে (৩) ও এক মেয়ে (৫) রয়েছে।

    নিখোঁজ সুলতানা বেগম সাঁতার জানতেন না এবং মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

    তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, দুপুরে গোসল করার জন্য নদীর ঘাটে যান সুলতানা বেগম ছেলে মেয়েকে নিয়ে। পরে ঘাটে গোসল করার সময় পানিতে তলিয়ে যায়। পরে মেয়ে এসে বাড়িতে বললে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি করেও তাকে পায়নি।

    খবর পেয়ে তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় এলাকাবাসী নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলাম।

  • জামালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান

    জামালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান

    সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়ন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নসহ ছয় ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের এই প্রণোদনা দেয়া হয়।

    সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে ১৫ কেজি চাল, নগদ তিন হাজার টাকা ও সহায়তা কার্ড তুলে দেয়া হয়।

    ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতায় ফসলহানির শিকার ৭৫০ জন কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

    সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া তালুকদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিলয় চন্দ্র কর, ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গুনেন্দ্র কুমার তালুকদার, যাচাই-বাছাই কমিটির বিএনপির সদস্য হাসান তালুকদার, ওসমান গণী ও নূরউদ্দিনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগীরা।

    এদিকে ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার, উপজেলা বিএনপির নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী তৌফিক ও জুলফিকার চৌধুরী রানা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী, রাব্বি তালুকদারসহ নেতৃবৃন্দ।

    সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার ছয় কিয়ার জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। ধান কাটতে পারিনি। এই সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।

    ৬৫ বছর বয়সী কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করেছিলাম। জমি তলিয়ে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। আজকের এই সহায়তা আমাদের জন্য কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে।

    কৃষাণী রাণী দেবী বলেন, ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। চাল ও নগদ অর্থ পেয়ে উপকার হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

    সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া তালুকদার বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষ প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এবার অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে বরাদ্দের তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি।’

    তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নে মোট দুই হাজার ৭৫০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৫০০ জন কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করা হলেও মন্ত্রণালয় থেকে ৭৫০ জনকে সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমিত বরাদ্দের কারণে সবাইকে সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে আরো কৃষককে সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।’

    বিতরণ শেষে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • সিলেটে চা বাগানে অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

    সিলেটে চা বাগানে অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

    ডেক্স নিউজ : বকেয়া বেতন, রেশন, পূজার উৎসব বোনাসসহ ৭ দফা দাবীতে হবিগঞ্জের ৪টি চা বাগান অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে চা শ্রমিকরা।

    আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দেউন্দি, লালচান, মৃতিঙ্গা ও মাধবপুরের নোয়াপাড়া চা বাগানে কর্মবিরতি শুরু শ্রমিকরা।

    চা শ্রমিকরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত তলবি (সাপ্তাহিক বেতন) পাচ্ছেন না ৪ বাগানের শ্রমিকরা। ফলে বাগানের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক চরম সংকটে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে বাগানজুড়ে। ফলে শ্রমিকদের বেতন, ঈদ বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    এদিকে, গত ৬ মে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলে মালিক,শ্রমিক ও শ্রম অধিদপ্তরের ত্রিপাক্ষিক একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।এতে সিদ্ধান্ত হয় দ্রুত শ্রমিকদের সকল বকেয়া পরিশোধ করার জন্য। এছাড়াও বর্ষা শুরু আগে জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার, শ্রম আইন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা,বকেয়া বেতন, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সাপ্তাহিক তলব প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত পূরণ না করায় দেঊন্দি কোম্পানির ৪টি বাগানের শ্রমিকরা আজ থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। সকাল থেকে শ্রমিকরা বাগান ও ফ্যাক্টরিতে না গিয়ে নাট্য মন্দিরের অবস্থান নেন।

    এ ব্যাপারে দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন – দেউন্দি কোম্পানির অধীনে ৪টি বাগান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। মালিকপক্ষ ২০২২ সাল থেকে শুধু সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

    এমনকি গত ৬ তারিখ শ্রীমঙ্গলে সভার সিদ্ধান্তও তারা বাস্তবায়ন করেনি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা আজ থেকে অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে। আমাদের ৭ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

    এ এম

  • সিলেটে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৭৪ শিশু

    সিলেটে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৭৪ শিশু

    সিলেটে থামছে না হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সিলেটে কোনো মৃত্যু না হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৭৪ শিশু। এছাড়া এ সময়ে ল্যাব পরীক্ষায়ও কারো হাম নিশ্চিত হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত না হলেও হাম উপসর্গে আরো ৭৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪৮। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৬ জন (রুবেলা দু’জন), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৭৪ জন ও সিলেট জেলার রোগী ৪২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৫ জন, ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে ২২ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে একজন, পার্ক ভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে দু’জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে দু’জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ভর্তি হয়েছে।

    বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৯৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৯৯ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দু’জন, আল হারামাইন হাসপাতালে একজন, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ১০ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চারজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, পার্কভিউ হাসপাতালে চারজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫২ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

    এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নুরে আলম শামীম জানান, সিলেটে হাম উপসর্গে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তবে টিকা কার্যকর হতে শুরু করলে হামের প্রকোপ কমে আসবে। ২০ মে পর্যন্ত টিকা ক্যাম্পেইন চলবে। শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

  • সিলেটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    সিলেটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকায় এক অজ্ঞাত পরিচয় বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চন্ডিপুল সংলগ্ন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিপুল এলাকায় এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষ অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দক্ষিণ সুরমা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বুধবার (১৩ মে) এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান জানান, বৃদ্ধের বয়স ৭০ এর বেশি। মুমূর্ষ অবস্থায় ভবঘুরে বৃদ্ধকে পুলিশ রাতে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    তিনি আরো জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। মৃতের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে আশেপাশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কেউ মৃত ব্যক্তিকে চিনে থাকলে দক্ষিণ সুরমা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

  • জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন মুফতি আবুল হাসান

    জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন মুফতি আবুল হাসান

    সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের পিয়াইপুর ও বারজানি এলাকার কুশিয়ারা নদীর একাধিক স্পট, বারহাল ইউনিয়নের চক স্লুইস গেইট ও কোনাগ্রাম এলাকার সুরমা নদীর ভাঙন এবং মানিকপুর ইউনিয়নের বাল্লাহ তোপখানা এলাকায় গিয়ে ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

    এর আগের দিন সোমবার (১১ মে) সুরমা নদীর ভাঙনে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপুর-গৌরিপুর, রামপুর ও গোসাইনপুর এলাকা তিনি পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং ভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন।

    তিনি ভুক্তভোগী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।

    এ সময় তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে তিনি সব সময় রয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

    সংসদ সদস্য আরো জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসন ও প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মাসুদুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রনি দাস, পাউবোর জকিগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ও জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি রহমত আলী হেলালীসহ জকিগঞ্জ উপজেলা খেলাফত মজলিস, যুব মজলিস ও ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • হাহাকার আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

    হাহাকার আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

    বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া ও টেকসই বাঁধ না দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সহজেই ভেঙে পড়ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরজুড়ে যেন নেমে এসেছে নীরব এক বিপর্যয়। কয়েক দিন আগেও যেখানে দিগন্তজোড়া সোনালি ধানের ঢেউ কৃষকের মনে জাগিয়েছিল আশার আলো, সেখানে আজ শুধুই অথৈ পানি। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ধানক্ষেতগুলোকে পরিণত করেছে পানির নিচে ডুবে থাকা এক বিষন্ন প্রান্তরে। বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার যে দৃশ্য এখন হাওরে দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ফসল সংগ্রহের লড়াই নয়; বরং চরম অভাব আর অনাহারের বিরুদ্ধে এক নীরব হাহাকার।মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরপারের রক্তা গ্রামের কৃষক নোমান মিয়ার করুণ আকুতি এখন পুরো হাওরাঞ্চলের প্রতিচ্ছবি। পাঁচজনের সংসার চালানো নোমান মিয়া বলেন, ‘বুক পানিতে নেমে ধান তুলতেছি, কিন্তু শ্রমিক পাই না। জোঁকের কামড় খেয়েও ধান কাটতে হচ্ছে, কারণ সারা বছরের খোরাকি জোগাড় করতে না পারলে না খেয়ে মরতে হবে। ১৬ বিঘার মধ্যে পাঁচ বিঘা কোনোমতে তুলছি, আর সব শেষ।’

    একই চিত্র সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক রহিছ উদ্দিন চৌধুরীর। তার ৫০ কিয়ার জমি এখন পানির নিচে। শ্রমিক সঙ্কটে তিনি দিশেহারা। বর্গাচাষি ফারুক মিয়া ঋণ করে অন্যের জমি চাষ করেছিলেন। একটি ধানও না কাটতে পেরে তিনি এখন নির্বাক। এসব কৃষকের চোখে এখন কেবল অন্ধকার- এক দিকে ঋণের বোঝা, অন্য দিকে পরিবারের ভরণপোষণের চিন্তা।

    মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ- এই দুই জেলায় বোরো ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তার সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ করা গেছে। মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর আবাদের মধ্যে দুই হাজার ৪৪২ হেক্টর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৮ হাজার কৃষক।

    অন্য দিকে সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। জেলা কৃষি বিভাগের দাবি, প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, হাওরের অর্ধেক ধান এখনো পানির নিচে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সুনামগঞ্জে এবার দুই লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কেবল স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সঙ্কেত।

    হাওরে পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ বা ‘রিপার’ চালানো যাচ্ছে না। ফলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ধান কাটার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় শ্রমিক অনেক কম। বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা এই প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বাড়তি মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। একটি নৌকা ভাড়া নিতে হলেও গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। মৌলভীবাজারের কৃষকদের অভিযোগ, কাউয়াদিঘি হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য কাশিমপুর পাম্প হাউজ ঠিকমতো না চলা এবং জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

    কৃষক যেটুকু ধান কোনোমতে পানি থেকে তুলে ডাঙ্গায় নিয়ে আসছেন, সেটুকু নিয়েও বিপত্তির শেষ নেই। টানা বৃষ্টি আর রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না। খলায় স্তূপ করে রাখা ধানে চারা গজিয়ে যাচ্ছে। পচা ধানের উৎকট গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে হাওরের বাতাস। শুধু ধান নয়, পচে যাচ্ছে গোখাদ্য খড়ও। ফলে হালের বলদ আর দুধের গাভী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বাজারে ধানের দামও এখন তলানিতে, তাই বিক্রিরও কোনো পথ নেই।

    কেন প্রতি বছর আগাম বন্যা ঠেকানো যাচ্ছে না- এই প্রশ্ন এখন হাওরবাসীর মুখে মুখে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি হাওরের ৬০৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে পিআইসির মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং টেকসই বাঁধ না দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সহজেই ভেঙে পড়ছে।

    আবহাওয়া তথ্যানুসারে, এবার মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এপ্রিলে সুনামগঞ্জে যেখানে ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টির কথা ছিল, সেখানে ৩৯৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল মোকাবেলায় বিদ্যমান বেড়িবাঁধগুলো সক্ষমতা হারিয়েছে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইউএনও, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পিআইও সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই তালিকা করছে। গত ৫ মে সরকারের মন্ত্রীরা সুনামগঞ্জ সফর করে সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। তবে কৃষকদের দাবি, কেবল তালিকা নয়, অবিলম্বে দাদন ও মহাজনি ঋণের হাত থেকে তাদের বাঁচাতে আর্থিক প্রণোদনা এবং পরবর্তী চাষাবাদের জন্য বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    হাওরের এই নীরব বিপর্যয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন কৃষক। বানের জলে ভেসে গেছে ঘামের ফসল, ডুবে গেছে এক মৌসুমের আশা। দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনের ঋণের বোঝা শোধ হবে কিভাবে- সেই চিন্তায় ঘুম নেই হাজারো কৃষকের। প্রকৃতির বৈরিতা আর প্রশাসনিক গাফিলতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে হাওরের কৃষকরা আজ দিশেহারা। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান না এলে দেশের এই অন্নদাতারা চিরতরে নিঃস্ব হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।