সিলেট বিভাগ

  • শ্রীমঙ্গলে পৃথক স্থান থেকে ২ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    শ্রীমঙ্গলে পৃথক স্থান থেকে ২ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৃথক দু’টি চা বাগানের পুকুর থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (৯ মে) সকালে ও বিকেলে ওই দুই লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বিকেলে উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের ফুসকুড়ি চা বাগানের ৪ নম্বর বস্তির একটি পুকুর থেকে মো: আবেদ আলী (৫৮) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের ষাড়েরগজ পূর্ব নওয়াগাও এলাকার মরহুম কমরউদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কৃষক আবেদ আলী বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

    অন্যদিকে, একইদিন সকালে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা-বাগানের রামপাড়া এলাকায় অজয় হাজারার বাড়ির পুকুর থেকে মোহাম্মদ হোসেন (৫৪) নামে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হোসেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের খোজারকলা গ্রামের মরহুম শরবত আলীর ছেলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পুকুরে এক ব্যক্তির পা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে জানালে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    একই দিনে পৃথক স্থান থেকে দু’টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফুসকুড়ি চা বাগানের পুকুর থেকে এক কৃষক এবং ভাড়াউড়া চা-বাগানের পুকুর থেকে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    ওসি আরো জানান, উদ্ধার হওয়া লাশ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের অর্ধকোটি টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় বিকাশ কর্মীসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পেস্টে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

    গ্রেফতার নয়জন হলেন— দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ আহমদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের (২৬), জকিগঞ্জের রুপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) ও কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।

    এর মধ্যে শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার, আদনান (৩৮), আবু তাহের (২৬) ও রুপায়ন বিশ্বাস (৪০) ডিএসও।

    ভুক্তভোগী সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার (৮ মে) সকালে নিজ কর্মীদের দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের দিতে ৮১ লাখ ৮২ টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে করে পাঠান নাসিম। এরপর দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ছিনতাইকারীরা ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ তার।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল বিকাশের টাকা বহনকারী গাড়িটিকে থামার সঙ্কেত দেয়। তখন গাড়ির ড্রাইভার গাড়ির গতি কমালে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়িটি থামিয়ে গাড়িতে থাকা সকলকে ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শনসহ একজনকে মারপিট করে পাঁচটি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, অভিযোগ রয়েছে, গাড়িতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গাড়ির গতি কমিয়ে টাকা ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এছাড়া টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ (৪৪), সালমান আহমদ (২৮), গোলাম শহীদ (২৯) ও জুনায়েদ (২২) ঘটনার সময় গাড়ির সাথে উপস্থিত ছিলেন না, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোগলাবাজার থানা পুলিশ নয়জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চুনারুঘাটে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান শুরু

    চুনারুঘাটে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান শুরু

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌর শহরে রাস্তার দুই পাশে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১১টা থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ারের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

    অভিযানে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অংশ নেন। অভিযান চলাকালে রাস্তার পাশে স্থাপিত অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে দেয়া হয় এবং দখলদারদের সতর্ক করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ ফারুক উদ্দিন চৌধুরী, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত মিয়া প্রমুখ।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার বলেন, ‘আজ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সরকারি আইন অমান্য করে কেউ সরকারি জায়গা দখল করলে পরবর্তীতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    সোমবার দুপুরে রোদ উঠতেই হাওরপারের গ্রামগুলো কিছুটা চাঙা হয়ে ওঠে। গ্রামীণ পাকা–কাঁচা সড়ক, উঁচু ফাঁকা জায়গা যেখানে সুযোগ মিলেছে, সেখানেই রোদে ধান শুকানোর ধুম পড়ে যায়। কেউ সড়কের ওপর, কেউ পলিথিন বা চটের চাটাইয়ে, আবার কেউ খলায় ধান মেলে দিয়েছেন। তবে ধান শুকাতে দিলেও কারও মনে স্বস্তি নেই।

    কৃষকেরা জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তোলা ধানের অনেকটাই সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের দিকে তাকালেই তাঁদের বুক কষ্টে ভরে ওঠে। যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে এখন খলায় আছে মাত্র ১০–২০ মণ। অনেকেই ধান দিয়ে শোধ করার শর্তে আগাম ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠেছে। এতে ঋণ শোধ তো দূরের কথা, বছরের খোরাকিও জুটবে না।

    মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি। অনেক ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে। গতকাল বিকেলে অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় বিছানো। গ্রামে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই—সবখানেই ভেজা ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে। হাওরের দিকে নারী–পুরুষ ছড়িয়ে কাজ করছেন। ধান শুকাতে ব্যস্ত সবাই।

    একটি খলার পাশে দাঁড়িয়ে সুমি রানি দাস বলছিলেন, ‘খলায় এ সময় চাইরবায় (চারপাশে) ধানর গিলা (স্তূপ) থাকে। এখন ধানই নাই।’ তাঁর সঙ্গে থাকা তপন দাস বলেন, ‘খলায় এখন ২০-২৫ মণ ধান আছে। এবার ধান অইছিল খেতে। ২০-২২ মণ ধান অইলোনে কিয়ারও (১ কিয়ার=৩০ শতাংশ)। ২২ কিয়ার করছিলাম। যদি দিন দেয়, তাইলে সাত কিয়ার তোলা যাইব। বড় খলা করছিলাম, ৭০ মণ ধান আটে। ৪০০ থাকি সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা। ১০০ মণ পাইমু কি না সন্দেহ আছে।’

    স্থানীয় লোকজন জানান, দুশ্চিন্তা শুধু ফলনহানিই নয়, ঋণ শোধ নিয়েও। অনেক কৃষক ৮০০ টাকা মণ দরে ধান দেওয়ার শর্তে আগাম টাকা নিয়েছিলেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদ বা দাদন ছাড়া ঋণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়েই এ ধরনের শর্তে ঋণ নিতে হয়। অন্তেহরি গ্রামের সুখেন দাস বলেন, ‘তার চেয়ে রুজি করতাম, ভালা থাকতাম। যেদিন ধান কাটার পরিকল্পনা করছি, শ্রমিক জোগার করছি। অউদিনই এক রাইতে খেতর মধ্যে কোমরসমান পানি।’ এক নারী বলেন, ‘এলাকায় সুদ ছাড়া কেউ টাকা ধার দেয় না।’

    রনি চক্রবর্তী বলেন, ‘চাইর আনাও ধান কাটা অইছে না। ঋণের জ্বালায় প্রায় জনরই বাড়িঘর ছাড়া লাগব। ১৫ বছরর মাঝে এত ক্ষতি অইছে না।’ সুমন দাস আধা পচা ধানের আঁটি মাথায় নিয়ে স্তূপ করছিলেন, আর গান গাইছিলেন। তিনি বলেন, ‘আনন্দে নায় ভাই, মনের জ্বালায় গান গাইরাম। এক লাখ টাকা ঋণ আছে। ভাবছিলাম ২০০ মণ ধান পাইমু। ১০০ মণে ঋণ দিমু। ১০০ মণ থাকব। এখন ধান, খেড় সব গেছে।…এখন গরু বাঁচব, না মানুষ বাঁচব।’

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন আজ মঙ্গলবার বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। এক দফা কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে।

  • কুলাউড়ায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

    কুলাউড়ায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজিপুর নামক স্থানে গোগালীছড়া ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাতে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ফসল রক্ষা বাঁধে এ ভাঙন দেখা দেয়।

    এ সময় পাহাড়ী ঢলে গোগালীছড়ার বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজ তলাসহ শতাধিক ফিশারি তলিয়ে যায়

    সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের গাজিপুরসহ ১৫ গ্রামের বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।

    ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ জানান, বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রামের ফসল ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিউদ্দিন জানান, কুলাউড়া ও জয়চণ্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছে।

  • যাদুকাটা নদীতে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

    যাদুকাটা নদীতে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত নদী যাদুকাটায় গোসল করতে নেমে আবু সাঈদ (১২) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্পের উত্তরে যাদুকাটা নদীর শাহিদাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আব্দুর রশিদ।

    নিখোঁজ আবু সাঈদ উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের শাহিদাবাদ গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে।

    নিখোঁজ আবু সাঈদের চাচা শহিদ মিয়া জানান, দুপুরের দিকে শাহ আরেফিন শাহিদাবাদ এতিমখানা ও মাদরাসা থেকে সমবয়সী চার-পাঁচজন ছাত্র গোসল করতে মাদরাসার পেছনে যাদুকাটা নদীতে যায়। এ সময় যাদুকাটা নদীর উৎস মুখে পূর্ব পাড়ে থাকা ছোট একটি নালা পাড় হয়ে নদীর পশ্চিম পাড় বারিক্কার টিলা সংলগ্ন বাঘের মুখ নামক নালায় গিয়ে গোসল করতে নামে সবাই।

    তবে, আবু সাঈদের সাথে থাকা অন্য ছাত্ররা সাঁতার কেটে টিলার পাড়ে উঠতে পারলেও আবু সাঈদ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। এ সময় তার সাথে থাকা ছাত্ররা মাদরাসা ও আবু সাঈদের বাড়িতে তার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ জানায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী বিকেল থেকে যাদুকাটা নদীতে নিখোঁজ আবু সাঈদকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে তাকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

  • প্রাণ গেল দুই কর্মচারীর

    প্রাণ গেল দুই কর্মচারীর

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে প্রাইভেট কারে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে দুজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়কলস এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার সাউদেরগাঁও আমবাড়ি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে ছমিরুল হক জুয়েল (৩৮) ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হাছননগর এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ছব্দর আলী (৩৭)। তাঁরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জারিকারক পদে কর্মরত ছিলেন। সরকারি ডাকপত্র নিয়ে জগন্নাথপুর যাওয়ার পথে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক জুয়েল ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা ছব্দর আলী গুরুতর আহত হন। আহত ব্যক্তিকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু সিলেটে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, অপরজনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হলে তিনিও পথিমধ্যে মারা যান।

    জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

    সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান বলেন, নিহত দুজনই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জারিকারক পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁরা সরকারি ডাকপত্র নিয়ে জগন্নাথপুর যাওয়ার পথে এ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। পরিবারের লোকদের খবর পাঠানো হয়েছে।

  • শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ছাউনি ভেঙে ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার পথচারী, যাত্রীসহ স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া।

    অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন,পাথারিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মমিন তার বাড়ির সামনের পূর্বদিকে বড় মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তার জন্য পাথারিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যাত্রী ছাউনি গত ডিসেম্বর থেকে দখলে নিয়েছেন। ছাউনি দখলের পর পর্যায়ক্রমে ছাউনি ভেঙে তার ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী ও যাত্রীরা। এই ঘটনায় পাথারিয়া বাজারের অনেকেই বাধা আপত্তি দিলেও তার তোয়াক্কা করেননি আব্দুল মমিন। ফলে রোদ-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া এবং গাড়ীতে উঠার জন্য অপেক্ষা করা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।

    এই অবস্থায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার করে সেটি জনগণের জন্য পুনরায় স্থাপনের অনুরোধ জানান অভিযোগকারী আঙ্গুর মিয়া।

    স্থানীয় পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মিয়া বলেন, ‘পাথারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরকারী যাত্রী ছাউনি ছিল। সেখানে এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী, দুরপথের যাত্রী বসে সেখানে বসতেন। কিন্তু মমিন মিয়া সেটি দখল করে ভেঙ্গে শেষ করে দিয়েছেন।

    গাজীনগর গ্রামের জিয়াউদ্দিন তুহিন বলেন, ‘পাথারিয়া বাজারের একমাত্র যাত্রী ছাউনি বাজারের যাত্রী, পথচারী ও সুরমা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা দখলমুক্ত করে পুনরায় নির্মান করা জরুরী।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী ছাউনি ভাঙার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যাত্রী ছাউনি সরকারীভাবে স্থাপন করা হলেও জায়গাটি আমার নিজের। কে বা কারা ছাউনিটি ভেঙেছে তা আমি জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত ছিল।’

    এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বালাগঞ্জে ৪ বছর পর শপথ নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

    বালাগঞ্জে ৪ বছর পর শপথ নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

    দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষা ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে শপথ নিলেন সিলেটের বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম।

    বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

    অনুষ্ঠানে ডিজিএলজি সুবর্ণ সরকার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

    শপথ শেষে আব্দুল মুনিম বলেন, ‘জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে মহান আল্লাহ সাহায্য করেছেন এবং জনগণের ভালোবাসা দিয়েছেন। আজকের শপথ আমাকে নতুন করে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা জোগাবে।’

    ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আব্দুল মুনিম। কিন্তু নানা আইনি জটিলতা, আদালতের স্থগিতাদেশ ও প্রতিপক্ষের বাধার কারণে তার শপথ গ্রহণ দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে চার বছর পর জনগণের রায় কার্যকর হলো।

  • আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন!

    আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন!

    সিলেটের বিয়ানীবাজারে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের শালেস্বর গ্রামের একটি ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ইমন আহমদ (২২) কুড়ারবাজার ইউনিয়নের খশির নামনগর গ্রামের মুতলিব মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশরাফুল করিমকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ। তিনি একই গ্রামের আব্দুল করিম মনাইর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইমন আহমদ আইফোন ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করত। ওই মোবাইলের প্রতি দুর্বলতা ছিল বন্ধু আশরাফুল করিমের। তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল ইমন। অনেক খোঁজাঁখুজি করেও তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে ইমন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আশরাফুলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তখন অন্যত্র পালিয়ে যাওয়া অবস্থায় তাকে আটক করে পুলিশ। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

  • দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে কৃষক দলের আহ্বায়ক নিহত

    দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে কৃষক দলের আহ্বায়ক নিহত

    সিলেটের দক্ষিণ সুরমা নাজিরবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইরন মিয়া (৫২) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ইরন মিয়া ওসমানীনগর থেকে মোটরসাইকেলে বিশ্বনাথ ফেরার পথে একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়।

    নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির।

    ইরন বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও নোয়াগাঁওয়ের গ্রামের বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইরন ওসমানীনগরে দলীয় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে মোটরসাইকেলে বিশ্বনাথ ফিরছিলেন। এ সময় নাজিরবাজারে একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইরন মিয়াকে হাসপাতাল নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

  • ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

    ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

    সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে ইয়াকুব আলী ও আশিকুর রহমান নামে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বরম সিদ্ধিপুর এলাকায় উৎমা সীমান্ত এলাকার সীমান্তের ওপারে ইয়াকুব গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

    অপরদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে দমদমীয়া সীমান্ত এলাকার ভারতের অভ্যন্তরে আশিকুর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন।

    নিহত ইয়াকুব আলী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বরম সিদ্ধিপুর গ্রামের আজমল আলীর ছেলে। আশিকুর রহমান উপজেলার তুরুং গ্রামের বুরহান উদ্দিনের ছেলে।

  • সিলেটে মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২

    সিলেটে মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২

    সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (০৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ইলাশপুরে সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান।

    নিহত দুজনই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    নিহতরা হলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে সুফিয়ান ইসলাম নাহিদ বয়স (২০), মোহাম্মদপুর গ্রামের শওকত আলী ছেলে আহমেদ মোহাম্মদ সায়েম আহমেদ (১৪)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে সিলেট থেকে দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে ফেঞ্চুগঞ্জ যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস তাদের ধাক্কা দিয়ে দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়। পরে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লাশ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • সিলেট-৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যিনি

    সিলেট-৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যিনি

    সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র হাতে পান তিনি।

    এমরান আহমদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, আমাকে চূড়ান্ত মনোয়ন দেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার এ প্রাপ্তি আমি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সম্মানিত ভোটার ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি। আমি আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। সিলেট-৬ আসনে উন্নয়নে সবাইকে পাশে নিয়ে কাজ করা আমার একমাত্র লক্ষ্য। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী মতপার্থক্য ভুলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন।

    তিনি আরও বলেন, সিলেট-৬ আসনে যারা দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তারা সবাই যোগ্য। তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। দলের জন্য তাদের ত্যাগ, শ্রম ও অবদান কোনো অংশেই কম নয়। তারা মনোনয়ন না পেলেও আমরা সবাই একই মঞ্চের। আজ থেকে সবাই নবোদ্যমে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ব। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত করেই ঘরে ফিরব।

  • গোয়াইনঘাট সীমান্তে ৭৯ ভারতীয় গরু ও মহিষ আটক

    গোয়াইনঘাট সীমান্তে ৭৯ ভারতীয় গরু ও মহিষ আটক

    সিলেটের গোয়াইনঘাটে ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ২৩৭টি ভারতীয় গরু এবং ৪২টি মহিষ আটক করা হয়েছে। এটি ৪৮ বিজিবির ইতিহাসে সীমান্তে সবচেয়ে বড় গবাদিপশু আটকের ঘটনা বলে জানা গেছে। আটক গরু ও মহিষের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

    মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাতভর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলা ও সুনামগঞ্জের লাফার্জ সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়াইনঘাট সীমান্তে অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর নুরুল হুদা এবং গোয়াইনঘাট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক কালবেলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট ৪৮ বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর নুরুল হুদার নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টিম সিলেট গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের ইটাচকি গ্রাম থেকে ২৩৭টি ভারতীয় ছোট-বড় আকারের গরু আটক করে। অন্যদিকে ৪৮ বিজিবির অধীনস্থ সুনামগঞ্জের লাফার্জ সীমান্তে থেকে ৪২টি ভারতীয় মহিষ আটক করা হয়।

  • জৈন্তাপুরে চায়ের দোকানে মাইক্রোবাস, আনসার সদস্যসহ নিহত ২

    জৈন্তাপুরে চায়ের দোকানে মাইক্রোবাস, আনসার সদস্যসহ নিহত ২

    সিলেটের জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক আনসার সদস্যসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সিলেট-তামাবিল সড়কে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    জৈন্তাপুর থানা ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সিলেট তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু করিচর ব্রিজ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. জিহাদ নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত জিহাদ (২০) নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার হাজিগঞ্জ (পার্ট) গ্রামের নুরুল হক নূরার ছেলে। তিনি এশিয়া ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের একটি বাসের হেলপার ছিলেন। এ ঘটনায় ওই বাসের আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে জাফলং যাচ্ছিল এশিয়া ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। হেমু করিচর ব্রিজ এলাকায় আসার পর বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এশিয়া ট্রান্সপোর্টের বাসে এসে ধাক্কা দিলে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে বাসের হেলপার নিহত হয়। আহত হন অন্তত ২০ জন।

    অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের হরিপুর ৭ নম্বর কূপের সামনে হাইয়েস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক আনসার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার সময় জৈন্তাপুর থানাধীন সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ৭ নম্বর কূপের সামনে হাইয়েস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে হাইয়েস গাড়িটি রাস্তার পাশে চা দোকানের বসা ৭ নম্বর কূপে কর্মরত আনসার সদস্য মোস্তফা মিয়াকে চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।

  • কানাইঘাটে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে যুবক নিহত

    কানাইঘাটে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে যুবক নিহত

    সিলেটের কানাইঘাটের দনা সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে শাকিল আহমদ (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

    রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে দনা সীমান্তবর্তী ১৩৩৪নং মেইন পিলারের ভারতের অভ্যন্তরে ৩’শ গজ ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, সীমান্তবর্তী দনা পাতিছড়া গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে শাকিল আহমদসহ আরও দুজন রোববার দুপুরে দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দনা খাসিয়া পুঞ্জিতে প্রবেশ করে সুপারি সংগৃহ করতে যায়। এ সময় অস্ত্রধারী খাসিয়ারা তাদের ওপর গুলি চালালে শাকিল আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়।

    পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাকিল আহমদকে তার সহযোগীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পথিমধ্যে মারা যায়।

  • জকিগঞ্জে সাড়ে তিন বছর পর শপথ নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

    জকিগঞ্জে সাড়ে তিন বছর পর শপথ নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

    সিলেটের জকিগঞ্জে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে শপথ নিলেন এক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। হাসান আহমদ নামের ওই চেয়ারম্যান জকিগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর জকিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    আদালতের রায়ে তাকে নির্বাচিত ঘোষণার পর ০৩ আগস্ট বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল আহমদ, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম ও জকিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি রহমত আলী হেলালীসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল নেতারা ও জকিগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ।

    জানা গেছে, ২০২২ সালের ০৫ জানুয়ারি উপজেলার জকিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফলে ৩ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আফতাব আহমদকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা হাসান আহমদ চশমা প্রতীকে পান ২ হাজার ৯৭৮ ভোট।

    বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে ১৫৯টি ভোটের ব্যবধান দেখানো হলে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃগণনার জন্য সিলেট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন হাসান আহমদ। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর গণনা শেষে ৭৮ ভোট বেশি পাওয়ায় তার পক্ষে রায় ঘোষণা করেন সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক।

    আদালতের রায় পেয়ে গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় সংশোধনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। সেই ধারাবাহিকতায় হাসান আহমদকে চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ পড়ান সিলেট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।

    এ বিষয়ে হাসান আহমদ বলেন, ‘আদালতের রায়ে নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করায় আমি অত্যন্ত খুশি। জকিগঞ্জ ইউনিয়নের জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমাকে নির্বাচিত করলেও বিগত আওয়ামী সরকারের অনুগত নির্বাচন কমিশন নৌকার প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে। পরে আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে দীর্ঘ তিন বছর আট মাস পর আজ শপথ গ্রহণ করলাম। আগামী দিনের সুন্দর পথচলায় আমার প্রিয় ইউনিয়নবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

  • দক্ষিণ সুরমা‌য় বিএনপি নেতা কোহিনুর বহিষ্কার

    দক্ষিণ সুরমা‌য় বিএনপি নেতা কোহিনুর বহিষ্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    গত ১১ জুন বিএনপির সহদফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট জেলাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর আহমেদকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কোহিনুর আহমেদের বিরুদ্ধে সীমান্তপথে চিনি চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও গ্যাং পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

  • সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

    সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

    সিলেটের ওসমানীনগরে দুপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আতিক মিয়া (৪২) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হবার পর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই আতিক মিয়া মারা যান।

    নিহত আতিক উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের মাহমদ আলীর ছেলে ও ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের আকলিছ মিয়া ও আব্দুল ওহাব পাছুর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে আসছে। গত বুধবার দুপুরে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ফিরে যাওয়ার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করার জন্য সমবেত হন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

    ওই রাতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে আপস-মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়। সালিশ বৈঠক থেকে ফেরার পথে সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আব্দুল ওয়াহাবের পক্ষের লোকজন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপর্যুপরি মাথায় এবং বুকে জখম করলে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই আতিক মিয়া হাসপাতালে মারা যান।

    নিহত আতিক মিয়ার পিতা মাহমদ আলী বলেন, দুইপক্ষের লোকের সমস্যা সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়ায় আব্দুল ওয়াহাব ওরফে পাছু ও তার ছেলে এবং আত্তর আলী, মঞ্জু মিয়া, মিজান মিয়া, মুকিদগংরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।

    এ ব্যাপারে ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে।

  • একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় : মির্জা ফখরুল

    একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় : মির্জা ফখরুল

    একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা বিএনপির বিরুদ্ধে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা কি ভোট পাবে? তাদের কি জনগন ভোট দিবে?

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ধানের শীষের প্রথম জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর এদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, কিন্তু মাথা নত করেনি। আমাদের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ যাত্রা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যাত্রা। এ কাজে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে একটি বিশেষ দলের ব্যাপারে। যারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, যারা স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। তারা আমাদের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমান সম্পর্কেও কুৎসা রটাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

  • আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন রাজু আহমদ (৪০)। তবে সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন।

    রাজু আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা গ্রামে। তিনি একাধারে গণমাধ্যমকর্মী, কবি ও গায়ক। পাশাপাশি উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

    সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় দেখা যায়, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের পাশে রাজু দাঁড়ানো। তাঁর হাতে পাউরুটির একটি প্যাকেট। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে রয়েছে চার থেকে পাঁচটি কুকুর। পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রাণীগুলোকে দিচ্ছিলেন রাজু। তৃপ্তি নিয়ে সেগুলো খাচ্ছিল কুকুরগুলো।

    আলাপচারিতায় রাজু বলেন, ‘দুই বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এ কাজ করছি। সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। আশপাশের কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে এসব খাবার কিনে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়ি।’

    কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর দল বেঁধে থাকে। পালাক্রমে দুটি স্থানে গিয়ে সেগুলোকে খাবার খাওয়ান রাজু।

    কুকুরের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘একেক মানুষ একেক কাজে আনন্দ পায়। পথকুকুরদের অনেকে ভালোবাসেন না। দেখলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন, ঘেন্না করেন। এটা দেখে কষ্ট লাগে। কুকুরদের খাইয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। সামান্য আয়োজন থাকে। এতে বেশি টাকাও খরচ পড়ে না, সময়ও নষ্ট হয় না।’

    গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে পথকুকুরগুলো বেশ কষ্ট পোহাচ্ছে জানিয়ে রাজু বলেন, রাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় তিনি সড়কের পাশে কিছু খড় বিছিয়ে সেগুলোর ওপর চটের বস্তা পেতে রেখেছিলেন। শীত নিবারণে রাতে কুকুরেরা সেখানে বসে থাকে। তবে পরদিন সকালে একই স্থানে গিয়ে দেখেন, বস্তা বা খড় কিছুই নেই। কে বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে। সেখানে পড়ে শুধু ছাই। বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

  • স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    এইচএসসি বিভিন্ন ব্যাচের সহপাঠীরা মঞ্চে উঠে কলেজজীবনের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন। সামনে চেয়ারে বসে অনেকে তন্ময় হয়ে তা শুনেছিলেন। কেউ কেউ সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে, গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন, খুনসুটি করছিলেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছিলেন।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুলাউড়া সরকারি কলেজে গতকাল শনিবার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দিনভর এভাবেই সময় কাটান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কুলাউড়া সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ১৯৬৯ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়।

    গতকাল রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য দেন পুনর্মিলনী প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্যপ্রদীপ ভট্টাচার্য। শুরুতে প্রতিষ্ঠানের প্রয়াত সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা শুরু হয়। দুপুরে প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সুফিয়ান আহমদ।কলেজের ১৯৭২ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন খন্দকার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, কুলাউড়া কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে আশপাশের বড়লেখা, জুড়ী ও রাজনগর উপজেলায় কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা কুলাউড়া কলেজেই পড়তেন। তখন ভালো যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। বাস-ট্রেনে করে, কেউ হেঁটে কলেজে যাতায়াত করতেন। সে সময় কলেজে ৭০০ থেকে ৮০০ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময়ে মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ঠিকানা ছিল এ কলেজই। কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলত। এখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। রাজনীতিতেও অসহিষ্ণু পরিবেশ। আগে এমনটা ছিল না।’

    ১৯৮৭ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন রাহাত আরা বেগম। তিনি বর্তমানে কুলাউড়া পৌর শহরে অবস্থিত লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সহপাঠী ও চাচাতো বোন রুবিনা বেগমকে নিয়ে মঞ্চের সামনের চেয়ারে পাশাপাশি বসা ছিলেন। রাহাত আরা বললেন, ‘আমাদের ব্যাচের কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। মেয়েবন্ধুদের কেউ আসেনি। তাদের কেউ বিদেশে, কেউ কেউ ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত। তবে তাদের মিস করছি।’

    ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর কলেজে যাননি বেসরকারি একটি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান ইকবাল নেওয়াজের। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর পর এলাম। দুই সহপাঠীকে পেয়ে আড্ডা দিলাম, একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম। অনেক স্মৃতি মনে হলো। মনে হচ্ছে, পুরোনো দিনে ফিরে গেছি।’

    অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘এ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন সৃষ্টি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।’

  • দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    পৌষসংক্রান্তি এলেই মৌলভীবাজারের শেরপুরে প্রাণ ফিরে পায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটির বাস্তব রূপ যেন এই আয়োজন। শুধু মাছকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ মেলা আজ আর কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের আনন্দ, উৎসব ও মিলনমেলার নাম।

    পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।

    কুশিয়ারা নদীপাড়ের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় মেলাটির আয়োজন করা হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে। আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।স্থানীয় মানুষ, মৎস্য ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় ট্রাকসহ নানা যানবাহনে করে মাছ নিয়ে বিক্রেতারা মেলায় আসেন। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তগুলোয় দরদাম হাঁকাহাঁকিতে জমে ওঠে কেনাবেচা। এখান থেকে মাছ ছড়িয়ে পড়ে জেলার ছোট-বড় হাটে।

    সোমবার রাতে দেখা গেছে, ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। পছন্দ হলে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন।

    মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দুই মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন তিন লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। সেলফি তুলছে বেশি। প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।

  • কুয়াশামাখা শীতের সকালে হাইল হাওরের পাড়ে

    কুয়াশামাখা শীতের সকালে হাইল হাওরের পাড়ে

    শুক্রবার সকালে হাওরপারের বাড়িগুলো তখনো ঘুমিয়ে। হাওরপারের সেই স্থান থেকে পথের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো মাছের খামার। এখন বোরোখেত চাষের সময়। বিভিন্ন স্থানে বোরো ফসলের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। অনেক স্থানেই হালিচারার জমিকে মনে হয় সবুজ চাদরের মতো, যেন কেউ বিছিয়ে রেখেছে।

    একটি খেতে কয়েকজন কৃষক রোপণের জন্য হালি চারা উত্তোলন করছেন। কোথাও চারা রোপণ করছেন কৃষক। কিছু খেতে এরই মধ্যে চারা রোপণ শেষ হয়ে গেছে। ধূসর কুয়াশায় সেই খেতগুলো ডুবে আছে।

    একটি স্থানে মাছ ধরতে কয়েকজন সেচযন্ত্র লাগিয়ে ডোবার পানি শুকিয়ে নিচ্ছেন। পানি শুকানো হলে তাঁরা মাছ ধরবেন, চলছে সেই প্রস্তুতি। কেউ রাতের বেলা, নয়তো ভোরে হাওরের বিভিন্ন খাল-বিলে মাছ ধরে একা একা বাড়ি ফিরছেন।

    কেউ সেঁউতি (পানি সেচার বাঁশ-বেতের যন্ত্র), কাকরাইন (বাঁশ-বেতের তৈরি মাছ রাখার পাত্র) কাঁধে ঝুলিয়ে হাওরের দিকে ছুটছেন। তাঁরা ‘খাইনজা (ছোট ছোট ডোবা)’ সেচ দিয়ে মাছ ধরবেন। নিজেদের খাওয়ার জন্য মাছ রেখে বাকিগুলো বিক্রি করতে পারেন।

  • বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া আহত পোষা হাতিটিকে বাঁচানো গেল না। চিকিৎসাচেষ্টার মধ্যে আজ সোমবার দুপুরে হাতিটির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পোষা হাতিটির নাম সুন্দরমালা। বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম হাতিটির মালিক।

    ঢাকার প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠান পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাকিবুল হক আজ বেলা একটার দিকে মুঠোফোনে বলেন, সকাল থেকেই হাতিটি নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে ছিল। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এটি মারা যায়। এ সময় হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবদুস সবুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্ধার করার পর আহত হাতিটি ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে ছিল জানিয়ে রাকিবুল হক বলেন, প্রাণীটির দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না। পেট ফোলা ছিল এবং পেছনের ডান পা নাড়াতে পারছিল না। পিঠে মেরুদণ্ডের মাঝবরাবর ক্ষত দেখা গেছে। এসব কারণে রক্তচাপ বেড়ে হাতিটির হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে রথযাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠানে হাতিটিকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে ইমন ও রাকিব নামের দুজন মাহুত ছিলেন। ফেরার পথে গত শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি রেললাইন-সংলগ্ন একটি ডোবায় পড়ে যায়।

    এরপর গতকাল রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় পেলোডার যন্ত্রের সঙ্গে রশি বেঁধে হাতিটিকে ডোবা থেকে টেনে ডাঙায় তোলা হয়। দীর্ঘ সময় ডোবায় পড়ে থাকায় হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ জন্য এটিকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এর আগে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন প্রয়োগ করা হয়েছিল।

  • মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে আসছেন। এদিন তিনি শেরপুরের আইনপুর মাঠে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ জনসভা হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান এই অঞ্চলে আসছেন। এই সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কর্মযজ্ঞ চলছে। বিএনপি আশা করছে, এ জনসভায় সারা জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটবে।

    জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন। এ জন্য বুধবার রাতে আকাশপথে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন।

    তারেক রহমান পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর এদিন বেলা ১১টায় সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি।

    সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান ঢাকা-সিলেট সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এ সময় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় আইনপুর খেলার মাঠে দিনের দ্বিতীয় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। বেলা একটা থেকে দুইটার মধ্যে জনসভায় তাঁর উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। পরে

    তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, জেলার সাতটি উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। জনসভা সফল করতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। মৌলভীবাজার জেলা ছাড়াও শেরপুরের কাছাকাছি হওয়ায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশের মানুষ এ জনসভায় অংশ নেবেন।

    জেলা বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, সমাবেশের আগের দিন বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে মাঠের কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রায় দিনই কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা মাঠ ঘুরে দেখছেন

    জেলা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর মৌলভীবাজারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এ জনসভা হচ্ছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৌলভীবাজারের এই শেরপুর এলাকা সফর করেছেন।

    মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম আজ সোমবার বলেন, ‘শেরপুরের আইনপুর মাঠে জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে। এই জনসভায় আমরা লক্ষাধিক লোকসমাবেশ আশা করছি। এটা একটা বড় প্রোগ্রাম। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন মাঠে কাজ চলছে। আমরা রেগুলার মাঠে যাচ্ছি, মিটিং করছি। জেলা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন।’

  • পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া

    পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া

    কৃষক পাখি মিয়া (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতের শাকসবজির আবাদ করছেন। এবার তিনি এক বিঘা পতিত জমি বর্গা নিয়ে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের বাগান করেন, যা থেকে ব্যাপক ফলন এসেছে এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনিই এলাকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এ ফলের আবাদ করেন।

    কুলগাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে ডাঁটাশাকের আবাদ করেছেন পাখি মিয়া। তাঁর এই সফলতায় আশপাশের অনেকেই এখন পতিত জমিতে কুলবাগান তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাঁর বাগান পরিদর্শন করে মুগ্ধ হন।

    পাখি মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে। তিনি বাড়ির পাশে এক আত্মীয়ের পতিত জমি বর্গা নিয়ে কুলবাগান করেন।

    গত রোববার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ১ বিঘা জমিতে ২৩০টি আপেল ও বলসুন্দরী কুলগাছ, যেগুলোর সব গাছে কমবেশি ফলন এসেছে এবং ফলের ভারে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। কুলগাছের প্রতিটি সারির মাঝখানে ফাঁকা স্থানে ডাঁটাশাক লাগানো হয়েছে।

    পাখি মিয়া বলেন, ছয় মাস আগে যশোর থেকে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের কলমচারা কিনে এনে জমিতে লাগান এবং নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করেন, এরপর ফলন আসে। সপ্তাহখানেক আগে পাইকারি বিক্রি শুরু করেন এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কেজি বরই বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি দাম ৮০ টাকা। তাঁর আশা, অন্তত চার লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে, ফল আবাদে তাঁর খরচ পড়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ফলে তিনি লাখ টাকার বেশি লাভ করতে পারেন।

    পাখি মিয়া বলেন, ‘আমার কিছু জমি আছে, কোনোটাই খালি ফালাই রাখছি না। লাউ, টমেটো, বেগুন ও শিমের চাষ করছি। এখন পর্যন্ত ১ লাখ টাকার লাউ আর বেগুন বিক্রি করছি, খরচ হয়ছে ২০ হাজার টাকা। কয়েক দিন পর টমেটো আর শিম বিক্রি শুরু করব। মৌসুমি শাকসবজি বিক্রি করে আল্লাহর রহমতে ভালোই সংসার চলছে।’

    কৃষি বিভাগের স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন পাল বলেন, জুড়ীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আগে কেউ আপেল ও বলসুন্দরী কুলের চাষ করেননি। পাখি মিয়া সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এবং এ কাজে তাঁকে অনেক শ্রমও দিতে হয়েছে। হাসনাবাদ ও পাশের বাহাদুরপুর এলাকায় অনেক পতিত টিলাভূমি আছে। পাখি মিয়ার সফলতা দেখে অনেকেই পতিত টিলাভূমিতে বরইগাছ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

    রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিমসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা পাখি মিয়ার কুলবাগান পরিদর্শন করেন।

  • হবিগঞ্জ-১  মনোনয়ন প্রত্যাহার  জামায়াতের:  ড. রেজা ও শেখ সুজাতের মাঝে সমঝোতা

    হবিগঞ্জ-১ মনোনয়ন প্রত্যাহার জামায়াতের: ড. রেজা ও শেখ সুজাতের মাঝে সমঝোতা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। এনিয়ে বিএনপির মধ্যে ভাঙ্গনের সুর বাজতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে শেখ সুজাত মিয়া বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ড. রেজা কিবরিয়া’কে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দলের কার্যালয়ে আমার সাথে সমঝোতায় বসবেন। কিন্তু সকাল থেকে অপেক্ষা করার পরও তিনি বা তার কোন প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে না আসায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। তিনি সন্ধ্যা ৬ টায় দলীয় কার্যালয় গোল্ডেন প্লাজায় আসেন এবং উনার কথা বার্তায় উপস্থিত দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ফলে কোন সমঝোতা হয়নি।
    এদিকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া দলীয় নেতাকর্মীসহ সন্ধ্যায় বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার সাথে স্বাক্ষাত করতে দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের’কে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বিদায় নেন। এর আগে বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সরফরাজ চৌধুরী, নবনির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি বয়েত উল্লা, সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান মজিদ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি শেখ সুজাত মিয়ার মিটিংয়ে উপস্থিত হন। তবে ওই মিটিংয়ে তাদেরকে কোন কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। বরং ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দেয়ায় তারা বের হয়ে আসেন। ফলে হবিগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠে নতুন সমিকরণ দেখা দিয়েছে। লড়াই হচ্ছে দ্বিমূখী। এদিকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীকে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করায় দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী তাদের প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী’কে প্রার্থী হিসেবে বহাল রাখার দাবিতে প্রায় দুই ঘন্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আউশকান্দি এলাকায় অবরোধ ও প্রার্থীকে মহাসড়কে আটকে রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বিকাল ৪টার দিকে অবরোধ থেকে প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলীকে মুক্ত করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্য্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল ৫টার ১ মিনিট পূর্বে হবিগঞ্জ রিটানিং অফিসারের কার্য্যালয়ে প্রস্তাবকারী ও সর্মথনকারীসহ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। নবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আশরাফ আলী জানান, প্রার্থীতা বহাল রাখার দাবীতে কিছু নেতাকর্মী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াতের প্রার্থীকে আটকে রাখে, পরে আমরা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে তাকে অবরোধ মুক্ত করা হয়। এরপর তিনি দ্রুত হবিগঞ্জ জেলা রির্টানিং অফিসারের কার্য্যালয়ে পৌছে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। হবিগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, আমি দলের প্রতি অনুগত্য স্বীকার করে বড় ধরনে ত্যাগ শিকার করেছি। কারন সব ধরনের জনমত জরিপে আমি এগিয়ে ছিলাম তবুও দলের নির্দেশ মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। উল্লেখ্য যে হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীকে জোট প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়েছে।

  • জামায়াত আমিরের গাড়িবহরে হামলা

    জামায়াত আমিরের গাড়িবহরে হামলা

    সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমানের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাসিমনগর বাজারের কাছে দুর্বৃত্তরা তার গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে যায়। তবে এতে কেউ আহত হননি।

    মাওলানা মুখলিছুর রহমান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ শেষে ফিরছিলাম। হঠাৎ গাড়ির দিকে ইট ছোড়া হয়। আমরা তখন গাড়িতে ছিলাম না। হামলাকারীদের পরিচয় জানি না। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।”

    হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান জানান, “ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এদিকে এই হামলার প্রতিবাদে স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনের নেতারা বলেন, “পরিকল্পিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে।”

  • কোটিপতি তাহেরীর আয়ের উৎস ব্যাংক আমানতের সুদ

    কোটিপতি তাহেরীর আয়ের উৎস ব্যাংক আমানতের সুদ

    হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী, আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা, কৃষি এবং ব্যাংক আমানতের সুদ।

    হলফনামায় তাহেরী উল্লেখ করেছেন, তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো ধরনের সম্পদ নেই। এমনকি তার স্ত্রীর নামে কোনো স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ বা ব্যাংক জমার অস্তিত্বও দেখানো হয়নি। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রী গৃহিণী—তবে স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    হলফনামা অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পদের হিসাবে কৃষি খাত থেকে তাহেরীর বার্ষিক আয় ২৬ হাজার ৪০০ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় হয় ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে তিনি পান ২২ হাজার ৮৯২ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৪১ হাজার ২৮৬ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০৬ টাকা। এছাড়া নিজের নামে ৩১ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ টাকা। আসবাবপত্রের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৯২

    স্থাবর সম্পদের মধ্যে তাহেরীর নামে কৃষিজমি রয়েছে, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯২ টাকা।

    হলফনামায় আরও বলা হয়, তাহেরীর স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল অন্য কোনো ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদ, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র কিংবা নগদ অর্থ নেই।

    ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে গিয়াস উদ্দিন তাহেরী উল্লেখ করেন, তার স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা গ্রামে। তবে হবিগঞ্জের মাধবপুরে তার শ্বশুরবাড়ি

    থাকায় সেখানকার আসন থেকেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

    আইনি বিষয়ে হলফনামায় তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাহেরীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • চরহামুয়া গ্রামে গৃহকর্তাকে মারধোর করে ঘরে আগুণ, ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

    চরহামুয়া গ্রামে গৃহকর্তাকে মারধোর করে ঘরে আগুণ, ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া গ্রামে গৃহকর্তা আব্দুস শহীদ (৭০)কে মুখোশধারী দুবৃত্তরা পিটিয়ে আহত করেছে। এছাড়াও তার ঘরে আগুন দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। গুরতর আহত অবস্তায় তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে এলাকা জুড়ে আতংক বিরাজ করছে।
    স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই গ্রামের মোঃ আব্দুস শহীদ প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাওয়া শেষ করে পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে একদল মুখোশধারী দুবৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় গৃহকর্তা জাগ্রত হলে তাকে বেধরক মারপিট করে অন্যন্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। যাওয়ার সময় মুখোশধারী দুবৃত্তরা হুমকি ধামকি দিয়ে বলে তর ছেলে মোঃ শাহমীর মিয়া দেশে আসলে হত্যা করে লাশ ঘুম করে ফেলে দিব। শুধু তাই নয়, ঘর থেকে বের হয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘরে থাকা লোকজনের শোর চিৎকার শুণে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গুরতর আহত অবস্তায় আব্দুস শহীদকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।

  • নিলাম চলাকালে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে

    নিলাম চলাকালে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বন কর্মকর্তাকে মারধর করে চোরাই গাছ ও কাঠ বিক্রির নিলাম বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তা আজ বুধবার চুনারুঘাট থানায় মামলা করেছেন।

    মামলায় আসামি করা হয়েছে, চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (৪৫) ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. সাইফুল ইসলামকে। সাইফুল হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহসম্পাদক শাম্মি আক্তারের ছোট ভাই।

    অভিযোগের বিষয়ে শাম্মি আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটিয়েছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক এক মেয়রের ভাই। বন কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমার ভাইকে এ ঘটনায়

    মামলার এজাহারে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, কালেঙ্গা ও রঘুনন্দন বন রেঞ্জের জব্দ করা ২৯টি লট গাছ ও কাঠ বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হয়। চুনারুঘাটের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিলাম শুরু হয়। এ সময় শ্রমিক দলের নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান ও বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা নিলামের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আশিক আহমেদকে নিলাম বন্ধ করে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম চালাতে বলেন। এ নিয়ে বন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল ও জাহাঙ্গীর বন কর্মকর্তা সৈয়দ আশিককে মারধর শুরু করেন। তাঁরা বন কর্মকর্তাকে বলেন, ‘তুই কে এ নিলাম ডাকার? লাথি মেরে তোর সব দাঁত ভে

    দিব।’ এ সময় আশপাশে থাকা অন্য বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে এসে সৈয়দ আশিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম ডেপুটি রেঞ্জারের প্যান্টের পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে যাওয়ার আগে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং মামলা করলে খুন করে ফেলার হুমকিও দেন।

  • সুনামগঞ্জে দূর্ঘটনায় নিহত ২

    সুনামগঞ্জে দূর্ঘটনায় নিহত ২

    শনিবার বেলা ১১টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরোহী মৃত আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে জুয়েল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা ময়না মিয়ার ছেলে শব্দর আলী গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটে প্রেরণ করেন এবং সিলেটে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান। নিহত দুজন সুনামগঞ্জ পৌরশহরের বাসিন্দা।

    য়কলস হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • ৪৯তম বিসিএসে সুনামগঞ্জের তরুণ-তরুণীর বাজিমাত

    ৪৯তম বিসিএসে সুনামগঞ্জের তরুণ-তরুণীর বাজিমাত

    সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় বইছে উৎসবের আমেজ। ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে উপজেলার দুই মেধাবী তরুণ-তরুণী বাজিমাত করেছেন। একজন হয়েছেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ ক্যাডার, আরেকজন গণিত ক্যাডারে সারাদেশে অর্জন করেছেন প্রথম স্থান।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার এবার দেশের সর্বকনিষ্ঠ ক্যাডার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। অনার্সের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি নজির স্থাপন করেছেন।

    খাদিজা মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের মরহুম আব্দুল আজিজ ও হাজেরা বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যা। স্থানীয় মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে খাদিজা আক্তার বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এই অর্জন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার এই সাফল্যের পেছনে ছিল মায়ের দোয়া। আজকের এই আনন্দঘন সময়ে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে বাবাকে। আমার মা, ভাই, শিক্ষক ও বন্ধুদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমি আমাদের পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এজন্য সবার দোয়া চাই।

    অন্যদিকে, গণিত ক্যাডারে সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মধ্যনগরেরই আরেক কৃতি শিক্ষার্থী মো. অলি উল্লাহ। তিনি উপজেলার বংশীকুন্ডা গ্রামের মো. আব্দুল হেকিম ও হাজেরা খাতুন দম্পতির একমাত্র ছেলে।

    দুই তরুণের এই সাফল্যে পুরো মধ্যনগরজুড়ে বইছে আনন্দের ঢেউ। শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তা ও শুভেচ্ছায় ভাসছে মধ্যনগর।

  • হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির

    হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির

    সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির বলেছেন, নির্বাচনে তিনি হারলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় একটি বড় ফুলের তোড়া নিয়ে যাবেন। একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হারলে যেন তার বাড়িতেও ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি বিজয়ী হবেন, তাকেই তিনি অভিনন্দন জানাবেন। বর্তমান বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে পুরোনো পথেই হাঁটা হবে, এতে কোনো উপকার হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, আমি হেরে গেলেও বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আবার আমি জিতলেও অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। জনগণ যে রায় দেবে, আমরা তা সাদরে গ্রহণ করবো।

    নির্বাচনে গালিগালাজ ও বকাবকির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিশির মনির বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মার শান্তির জন্যও একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি জরুরি।

    এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সুনামগঞ্জের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচটি আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ঈগল, হাতপাখাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের সময় আচরণবিধি প্রতিপালন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ তুললেও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে সমান সুযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

  • সুনামগঞ্জে ১৫ লাখ টাকার গাঁজাসহ আটক ৩

    সুনামগঞ্জে ১৫ লাখ টাকার গাঁজাসহ আটক ৩

    সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বিশেষ অভিযানে ৪৬ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত ধারাবাহিক এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৫ কেজি গাঁজাসহ উজানগাঁও গ্রামের আব্দুল মন্নাছের ছেলে জহিরুল ইসলামকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একই রাত সাড়ে ৩টায় পৃথক আরেকটি অভিযানে দৌলতপুর গ্রামের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী উজ্জলা বেগম (৩৭) এবং রূপ মিয়া ওরফে রুইক্কাকে (৫০) ১ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়।

    স্থানীয়দের মতে, শাল্লায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিরা সক্রিয় থাকলেও এতো বড় চালান একসঙ্গে ধরা পড়া বিরল ঘটনা। পুলিশি তৎপরতায় এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    শাল্লা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গাঁজার একটি বড় চালান শাল্লায় আসছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। দুটি পৃথক অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের গাঁজাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • জামালগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

    জামালগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

    সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সেজাউল ইসলাম কালা মিয়া (৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে।

    শুক্রবার দুপুরে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ও আব্দুল মতিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ইতোপূর্বে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ সকালে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিলে গ্রামবাসী সালিসে মীমাংসা করেন। কিন্তু দুপুরে আবারও দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ধারালে সুলফির আঘাতে সেজাউল ইসলাম কালা মিয়া গুরুতর আহত হয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    জামালগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) জয়নাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রামের পরিবেশ শান্ত আছে।

  • সুনামগঞ্জ সীমান্ত থেকে ২৪ ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার

    সুনামগঞ্জ সীমান্ত থেকে ২৪ ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে বিস্ফোরক জাতীয় ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সীমান্ত পিলার ১১৯৫/১-এস-এর নিকট থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৩০ গজ ভেতরে মাইজহাটি নামক স্থানে পলিথিনে মোড়ানো ও গাছের ডালপালা দিয়ে আচ্ছাদিত অবস্থায় ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত এসব ডেটনেটর ব্যবহার করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি করা সম্ভব, যা জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেশের বিদ্যমান স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ভাতিজার হাতে চাচি খুন

    ভাতিজার হাতে চাচি খুন

    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ। অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় আপন ভাতিজার হাতে গতকাল রাতে নির্মমভাবে খুন হন চাচি রুকশানা বেগম (৩৫)।

    রুকশানা বেগম দোহালিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ফিরিজ আলীর স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ওয়ারিছ আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন (২৬) দীর্ঘদিন ধরেই চাচি রুকশানা বেগমের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও জসিমের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে রুকশানা বেগম বারান্দায় বের হলে, জসিম উদ্দিন তার দেখে অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। চাচি এর প্রতিবাদ করলে, উত্তেজিত হয়ে জসিম ঘর থেকে বটি এনে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ঘাতক জসিম পালিয়ে যায়।

    এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় রুকশানাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পলাতক ঘাতক ভাতিজাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

  • সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

    সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

    সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত টমটম গাড়ির স্ট্যান্ড ও ভাড়া নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    শনিবার দুপুরে দিকে উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের স্বজনশ্রী ও বাউধরন গ্রামের লোকজনের মধ্যে খাড়ারপার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজার গাড়ি স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষ রানীগঞ্জ থেকে বাউধরন রোডের টমটম ভাড়া ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে। এতে বাউধরন ও স্বজনশ্রী গ্রামের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের সদস্য বাউধরন গ্রামের সালেহ উদ্দিন আহমদ পুনরায় ভাড়া ৩০ টাকা নির্ধারণ করেন। এতে উভয় গ্রামের টমটম চালকদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

    এর জেরে শুক্রবার বিকেলে বাউধরন গ্রামের মুজিব মার্কেট এলাকার গাড়ি স্ট্যান্ড থেকে স্বজনশ্রী গ্রামের টমটমগুলো বের করে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার সকালে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সংঘর্ষে আহতদের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক বদরুদ্দোজা জানান, আহত ৩০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বেড়িবাঁধ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বেড়িবাঁধ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান (চলতি) নদীর পাড়ে পেয়ারপুল ডালা নামক বেড়িবাঁধ রক্ষায় মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা।

    সোমবার দুপুরে ‘আমাদের নদী, আমাদের জীবন : সুস্থ ধারার সুরক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত নদীর পুনর্জাগরণ’ এই স্লোগানে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে এসো কাজ করি মহিলা উন্নয়ন সমিতি। আর এতে সহযোগিতায় করেছে এলআরডি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই ধোপাজান নদীর পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৫টি গ্রামজুড়ে আতঙ্কে দিন কাটছে মানুষের, আর ধোপাজানের তীরে প্রতিনিয়ত শোনা যাচ্ছে হাহাকারের শব্দ।

    এসো কাজ করি সমিতির সভাপতি জাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুহসীন আহমদ ইয়াসিন, শিক্ষক হাবিবুর রহমান, আবদুল হালিম, আবুল মনসুর, বদরুল আলম, সোহাগ হোসেন, আব্দুল খালেক, কামাল উদ্দিন, রহমত আলী, সাজেদা বেগম, পারুল বেগম, এবং শিক্ষার্থী নাঈম ও আশরাফুল।

    এসো কাজ করি মহিলা উন্নয়ন সমিতি’র সভাপতি জাহানারা বেগম বলেন, পানির স্তর কম থাকলেও ভাঙন থামছে না। বর্ষায় পানি বাড়লে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

  • সুনামগঞ্জে বাস-পিকআপের সংঘর্ষে চালক নিহত

    সুনামগঞ্জে বাস-পিকআপের সংঘর্ষে চালক নিহত

    সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনা পরিবহনের একটি বাস ও পিকআপ ভ্যনের সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ঘোড়ারগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়কের পাশের একটি ছোট খালে পড়ে যায় এবং পিকআপটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে আসা এনা পরিবহনের একটি বাস সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালক মারা যান।

    দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে সাত থেকে আটজন বিভিন্নভাবে আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুইজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে এনা বাসের চালকও রয়েছেন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়।

    জয়কলস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেছেন।

  • প্রার্থিতা প্রত্যাহারে কর্মীদের বাধা

    প্রার্থিতা প্রত্যাহারে কর্মীদের বাধা

    কর্মীদের বাধায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমেদ খান। জামায়াতের কার্যালয়ে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ৬ ঘণ্টা পর তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অবরুদ্ধ প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খান।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরে জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ের ভেতরে সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খানকে ভেতরে রেখে কার্যালয়ের প্রধান ফটক ও ভেতরে তালা দেন তার সর্মথক ও কর্মীরা। রাত ৮টা পর্যন্ত সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

    এ সময় জামায়াতের কর্মীরা জানান, এই আসনের জামায়েতের কর্মীরা কেবল নয়, সাধারণ ভোটারও তোফায়েল খানকেই প্রার্থী চায়। জোটের পক্ষ থেকে যাকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তাকে চেনেন না কেউ।

    জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল্লাহ্ বললেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদকে নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য রওয়ানা দেওয়ার সময় সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা ঘিরে রাখে, তারা দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখে তোফায়েল আহমদসহ নেতৃবৃন্দকে। এ কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়নি।

    ১০ দলীয় জোট এই আসনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদারকে (বই প্রতীক) প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের স্বরস্বতীপুর গ্রামে।

    সুনামগঞ্জ-১ আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা প্রার্থী মুজাম্মিল হক তালুকদার জানান, তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা, সিলেট মহানগরের আমির, সুনামগঞ্জেরও আহ্বায়ক। তাকে এই আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে। জামায়েতের জেলা আমির মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন না কেন- এটা তার সিদ্ধান্ত।

    তিনি আরও বলেন, আমরা যেহেতু জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটে আছি তাই এই বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ খান ও তার কেন্দ্রীয় নেতারা বুঝবেন। আমার এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য নেই।

  • গুলি ছুড়ে প্রহরীদের ভয় দেখিয়ে বনের গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    গুলি ছুড়ে প্রহরীদের ভয় দেখিয়ে বনের গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    গুলি ছুড়ে প্রহরীদের ভয় দেখিয়ে বনের গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    হবিগঞ্জে বনে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও বনপ্রহরীদের ভয় দেখিয়ে ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বনাঞ্চল রেমা–কালেঙ্গায় এ ঘটনাটি ঘটে।

    বন বিভাগের হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের জনবল কম। যে কারণে ৫০ থেকে ৬০ জনের বনদস্যু দল বনের ভেতরে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

    ১ হাজার ৮০০ একর আয়তনের এই সংরক্ষিত বনের ভেতরে সেগুনগাছসহ নানা প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে। সম্প্রতি এ বনের গাছ কেটে নেওয়াসহ নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বনের হিমানিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। তারা বনে ঢুকে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির আওয়াজ শুনে বনপ্রহরীরা এগিয়ে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করেও গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় প্রহরীরা পাল্টা গুলি চালান। একপর্যায়ে বনদুস্যদের তাড়া খেয়ে বনপ্রহরীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা বনের ভেতর থেকে একে একে ২০ থেকে ২২টি সেগুনগাছ কেটে ট্রাক্টরে নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে আজ শুক্রবার সকালে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    রেমা–কালেঙ্গা বন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) আবদুল খালেক বলেন, প্রহরীদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়লে তাঁরা পিছু হটেন। কারণ, এ সময় মাত্র তিন প্রহরী দায়িত্বরত ছিলেন। এর বিপরীতে দুর্বৃত্তরা ছিল বেশ সংঘবদ্ধ। বন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বনদস্যুরা বেশি গাছ নিতে পারেনি। সেগুন ও আকাশমণি জাতের ২০ থেকে ২২টি গাছ নিয়ে গেছে। আমরা কিছু উদ্ধার করতে পেরেছি। দুর্বৃত্তরা আধুনিক করাত ব্যবহার করে। এই করাত দিয়ে তিন থেকে চার মিনিটে একটি কাছ কাটা যায়।’

    হবিগঞ্জ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, এত বড় বন কমসংখ্যক জনবল দিয়ে সংরক্ষণ করা কঠিন। এ ছাড়া বনের কর্মকর্তা ও বনপ্রহরী সবাই এ বনে নতুন যোগদান করেছেন। যে কারণে তাঁরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, কী পরিমাণ গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা, তা নির্ণয় ও তদন্তকাজ চলছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

  • রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন বিএনপি নেতা সুজাত

    রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন বিএনপি নেতা সুজাত

    হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার তাঁরা দুজন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তফসিল অনুযায়ী, গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

    রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। এই আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, তবে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। গতকাল দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ৩৬ বছর ধরে তিনি এলাকার মানুষের পাশে কাজ করে আসছেন। এলাকার মানুষ তাঁকে পাশে পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। সে কারণেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

    তবে শেখ সুজাত মিয়ার প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে রেজা কিবরিয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    রেজা কিবরিয়ার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জলালশাপ গ্রামে। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।

  • ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’ বলা সেই নেতার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’ বলা সেই নেতার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    হবিগঞ্জে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় আসা মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মোড়টি অবরোধ করায় কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাহদী হাসানকে আটক করে পুলিশ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্য সচিব এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।

    সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। সেখানে তাঁরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে একটু পর পর তাঁরা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ এমন স্লোগান দিচ্ছেন।

    মাহদীকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে সংগঠনের নেতা–কর্মীদের শাহবাগে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে সবাইকে শাহবাগে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’এই পোস্টের পরপরই রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ অবরোধ করেন তাঁরা।

    মাহদী হাসানকে আটক করার খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পুলিশ থানার প্রধান ফটক বন্ধ ক‌রে থানার ভেত‌রে অবস্থান কর‌ছেন। সেখানে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতায়েন করা হ‌য়ে‌ছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে শায়েস্তাগঞ্জ থানা–পুলিশ। এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এনামুলকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন। এ সময় ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

  • হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

    হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

    হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার উমেদনগর এলাকার বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক (সাকিব) (২৪), উমেদনগর (পুরানহাটি) এলাকার শিহাব আহমেদ (২০) ও সদর উপজেলার নছরপুর গ্রামের মো. মোশারফ (১৯)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হকের নেতৃত্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গতকাল রাতে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকার ‘আল মদিনা ট্রেডার্স’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ শেখ জামাল মিয়ার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। পরে তাঁদেরকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আটকে রাখেন। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। তারা দোকানের সামনে হট্টগোল দেখে সেখানে যায়। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক অভিযোগ করলে সেনাবাহিনী তিনজনকে আটকের পর সদর থানায় হস্তান্তর করে।

    এ বিষয়ে কথা বলতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির এক নেতা বলেন, এনামুল হক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দল থেকে কয়েক মাস আগে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি একই অভিযোগে কয়েক মাস আগে কারাভোগও করেছেন।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শেখ জামাল মিয়া তিনজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বুধবার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

  • হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫০

    হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫০

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের চানপুর ও আনন্দপুরে ডেমিকান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে রাসেল মিয়া (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতদের মধ্যে রাব্বি মিয়া (১৮), ছাব্বির (২১), ইন্তাজ আলী (১৬), সেলিম (২৫), বাবলু (৩৫), জিয়াউর (৫০), তকদির(২৮), আলতু মিয়া (১৮), রায়হান (২৮), আশরাফ উদ্দিন( ২৪), মাসুম (২৬), জীবন (২৮), আমেনা খাতুন (২৫)। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আনন্দপুর গ্রামের আলকুরান সওদাগর গোষ্ঠী এবং কুমেদপুর গ্রামের হান্নান মিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি কাকাইলছেও পঞ্চায়েত কমিটি গঠন ও স্থানীয় বাজারে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই পক্ষ থেকে নানা উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল।এর জের ধরেই সোমবার রাতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ সকালে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে রাসেল মিয়া নিহত হন এবং অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিকেল অফিসার অভিজিৎ পাল বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রাসেল মিয়াকে মৃত্যু অবস্থায় পাই। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আকবর হোসেন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একজন হাসপাতালে নিহত হয়েছেন।

  • সকালে হাঁটতে বেরিয়ে প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের

    সকালে হাঁটতে বেরিয়ে প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের

    হবিগঞ্জের বাহুবলে ট্রাকচাপায় রূপজিত কর রাজু নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নতুনবাজার এলাকার বেন্দারপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রূপজিত কর রাজু (৩৬) উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং বানিয়াগাঁও গ্রামের নিপেশ করের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে চাকরিজীবী স্ত্রীকে কুলাউড়া যাওয়ার উদ্দেশে মিরপুর বাজারে বাসে তুলে দেওয়ার পর রাজু কর বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর এলাকার আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর-শ্রীমঙ্গল আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে নতুনবাজার এলাকায় হাঁটতে যান। সকাল ৭টার দিকে বেন্দারপুল এলাকায় পৌঁছলে শ্রীমঙ্গলগামী একটি সবজিবোঝাই ট্রাক তাদেরকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।দুর্ঘটনায় রূপজিত কর রাজু ও ফুরঞ্জন দেব গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক রূপজিত কর রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ফুরঞ্জন দেবকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

  • ১৭ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচন

    ১৭ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচন

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ক্যাম্পাসে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর নির্ধারিত হলেও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বলছে, ওই সময় ক্যাম্পাস কার্যত শিক্ষার্থীশূন্য থাকবে।

    শিক্ষার্থীরা জানায়, ১১ ও ১২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ছুটি, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস মিলিয়ে পাঁচ দিনের বিরতির পরপরই শুরু হবে দীর্ঘ শীতকালীন ছুটি। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বাড়ি চলে যাবে, আর এতে ভোটার উপস্থিতি নেমে আসবে ন্যূনতম পর্যায়ে।

    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা ১০ ডিসেম্বর ভোট আয়োজনের দাবি জানালেও নির্বাচন কমিশন তারিখ পরিবর্তন না করে ১৭ ডিসেম্বরই বহাল রাখে। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে অনেকে বয়কটের ঘোষণা দেন।

    অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “১৭ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসে নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ডামি নির্বাচন বর্জন করছি।” যৌক্তিক তারিখ ঘোষণা হলে তারা অংশ নিতে রাজি বলেও জানান তিনি।

    গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হলেও নির্বাচনের তারিখ এমন সময় দেওয়া হয়েছে যখন শিক্ষার্থীরা ছুটিতে থাকবে। আমাদের অনুরোধ সত্ত্বেও প্রথম সপ্তাহের বাইরে তারিখ দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট মহলের চাপে।”

    সি এস ই বিভাগের শিক্ষার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “প্রায় তিন দশক পর এ নির্বাচনের আয়োজন হতে যাচ্ছে। অথচ ১৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে ১০–১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীও থাকবে না। এ অবস্থায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।” তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, এমন সময়ে পুনঃতফসিলের আবেদন করা হয়েছে।

    এদিকে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, মনোনয়ন বিতরণ থেকে শুরু করে যাচাই-বাছাই ও প্রচার, সব মিলিয়ে স্বল্প সময়ে নির্বাচন প্রস্তুতি নেওয়া অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কঠিন। তাই তার মতে ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন করাও অযৌক্তিক।

    এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন, “আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। যদি দেখা যায় ১৭ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হবে, তবে পুনঃতফসিল বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই শেষ সিদ্ধান্ত হবে।”

  • বালুর ট্রাকে লুকানো ছিল ৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য

    বালুর ট্রাকে লুকানো ছিল ৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য

    হবিগঞ্জে বালু ও পাথরের ভেতরে লুকিয়ে ৫টি ট্রাকে করে আনা হচ্ছিল সাড়ে ৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য। পাচারের সময় এসব পণ্য আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ বিজিবি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির ৫৫ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান।এ সময় তিনি জানান, শনিবার থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫টি বালু ভর্তি ও পাথরবোঝাই ট্রাক আটক করে ভারতীয় জিরা, শাড়ি, কসমেটিক্সসহ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য আটক করা হয়। এ সময় চোরাকারবারিরা অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।তিনি আরও জানান, চলতি মাসে বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৯ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানে আটক করা হয়েছে ৩৭ জনকে।তিনি আরও জানান, উন্নত প্রযুক্তি ডিভাইস ব্যবহার করে বিজিবি পাচারকারীদের শনাক্ত করে এসব পণ্য আটক করেছে। আটক পণ্যগুলো কাস্টম অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

  • সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন (১৪ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের অস্ত্র চুক্তি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি হয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার এই চুক্তি ছাড়াও দেশটিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের চুক্তি করেছে সৌদি আরব।

    সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি সইয়ের পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশ সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আজ ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে তা বেড়ে ১ ট্রিলিয়ন (এক হাজার বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে আজ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপর দুজন প্রাথমিক বৈঠক করেন। পরে সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। হোয়াইট হাউস বলছে, এদিন সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি’ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি চুক্তির আওতায় মোট পাঁচটি খাত রয়েছে। সেগুলো হলো বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও মহাকাশ সক্ষমতা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থলবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশটির সেনাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামরিক চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে কাজ করা হবে। অস্ত্র চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্যাস টারবাইন, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।

    চুক্তি স্বাক্ষরের পর মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘অসাধারণ একজন মানুষ’ অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সৌদি আরব একটি ‘চমৎকার জায়গা’। এখানে ‘চমৎকার মানুষ’ বসবাস করেন।

    সৌদি আরব সফর শেষে আগামীকাল বুধবার কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) যাবেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এ সফরের সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ইসরায়েল ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের। এমন সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইসরায়েলে না গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সফরের সময় বৃহস্পতিবার তুরস্কে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দেশটির ইস্তাম্বুল শহরে অনুষ্ঠিত মস্কো ও কিয়েভের বৈঠকে অংশ নিতে পারেন তিনি। গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই এই যুদ্ধ থামাতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। গত শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। কূটনৈতিক এই আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

  • মাছের বাজারে চেরি ব্লসম

    মাছের বাজারে চেরি ব্লসম

    টকটকে লাল ট্রেনটা অন্তত দুবার ঘুরে গেল আমাদের সামনে দিয়ে। ট্রেনের জন‍্য অপেক্ষা করতে করতে আমাদের একটা আইসক্রিম খাওয়া শেষ। আরেকটি খাব? এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গরমও লাগছে। আইসক্রিমের লাইনে বিরাট লম্বা ভিড়। ট্রেনে চড়ার লাইনেও। কোনটা ধরব? টরন্টো শহরে লাইনে না দাঁড়িয়ে কোনো কিছু করার মতো অর্বাচীন আছে কে?

    তৃতীয়বারও ট্রেনটা একদম যাত্রীভর্তি হয়ে আমাদের স্টপেজে এল, আর এখান থেকে কোনো যাত্রীই নিল না। টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে আছে এক জেন-জি। ‘আমি কী করব’-জাতীয় ভাব ধরে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে সে।

    আমার বন্ধু ফারজানা শাহরিনের জেদ চেপে গেল। ‘তুই এইখানে দাঁড়া, কাহিনি কী দেখে আসি,’ বলে আমি তার পিছু নেওয়ার আগেই জ‍্যাকেট, ব‍্যাগসহ ছুট দিলাম সামনে। ওখান থেকে ফোনে জানাল আসল কাহিনি। ওটা প্রথম স্টপেজ। সেখান থেকেই একদম ভরে পরের স্টপেজগুলোয় আসছে। এটাও কি সম্ভব! ওরা সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী তুলবে না! মতিঝিল কিংবা ফার্মগেটের কন্ডাক্টর হলে এমনটা করতে পারত! আর আমাদের এত কষ্ট করে ট্রেনে ওঠার কী দরকার! চেরি তো আমরা দেখেই ফেলেছি। আর ট্রেনে কি জীবনে উঠিসনি। আমরা তো ট্রেনে যমুনা ব্রিজ পার করেছি, কতবার আমার মা-খালারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পার করেছে…আর কানাডার এই খেলনা ট্রেন… ‘দৌড় দিয়ে এই স্টপে আয়। ট্রেন প্রায় চলে এসেছে,’ শাহরিনের শীতল কণ্ঠ শুনে আমি আর তর্ক করার সাহস পেলাম না।

    গিয়ে শুনি ওখানেও এতক্ষণ ছিল এক জেন-জি। এই স্টপেজেই ট্রেন ভরে গেলে পরের স্টপেজে মানুষ উঠবে কীভাবে, এ নিয়ে তার হেলদোল নেই। যাক, বুদ্ধি করে প্রথম স্টপেজে এসে ট্রেন ধরব আর পরের স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে ‘কানাডিয়ান নাইসনেস’ দেখিয়ে বেশ একটা সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকাব, একটু মাথা নেড়ে ‘সরি’ বলার ভঙ্গি করব, এসব ভেবে ভালো লাগছে। এর মধ্যে জেন-জির শিফট শেষ হলো। এলেন বুমার আর মিলেনিয়ালের মাঝামাঝি এক নারী। ট্রেন এলে কয়েকটা সিট ভরলে তিনি রীতিমতো দরজা আগলে ‘নো, নো, নেক্সট ট্রেন’ করতে থাকলেন।

    আমরা এসেছি টরন্টোর হাই পার্কে চেরি ব্লসম দেখার মৌসুমে। সকালে-বিকেলে জ্যাকেট লাগে, আবার দুপুরে কটকটে রোদ। কানাডার আবহাওয়ার মুড সুইংয়ের সময় এটা। অবশ্য তৈরি হয়েই এসেছি আমরা। জ‍্যাকেটের নিচে পছন্দের পোশাক, ব‍্যাকপ‍্যাকে পানি।

    লাল টুকটুকে ছোট্ট একটা ট্রেন। বড়জোর ১৫-২০ জন বসতে পারে। লাল লাল বেঞ্চ। ট্রেন বলাও যায় না বোধ হয় একে। ট্র্যাক নেই কোনো। চারপাশ খোলা। টরন্টো শহরের মধ্যে হাই পার্কটা এত বিশাল, ট্রেনে চড়ে একবারে ঘুরে দেখার জন্যই রয়েছে এটা। এটুকু ট্রেনে ওঠার জন্য এত পাগল হওয়ার কী আছে! এ তো শিশুপার্কের ট্রেনের চেয়েও ছোট! আমরা আন্তনগর ভেজে খেয়ে ফেলার দেশের মানুষ। আমার বন্ধুর এই ট্রেন ব‍্যাকুলতার কোনো ব‍্যাখ‍্যা নেই।

    তবে সিটি বাজিয়ে সত্যিই যখন ট্রেনটা চলা শুরু করল, মুখে লাগল হাই পার্কের ঘাস-মাটি আর দূর থেকে আসা কোনো ফুলের মিষ্টি গন্ধ—আমি আমার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে হাসলাম যার অর্থ, ‘ইটস টোটালি ওয়ার্থ ইট।’ পাল্টা হাসিতে সে-ও বুঝিয়ে দিল, ‘জানতাম।’ স্কুলজীবনের বন্ধুদের তো আর সব মুখে বলে বোঝাতে হয় না!

    দুই-তিন স্টপেজ পরেই আমরা নেমে গেলাম। ছবি তুলতে হবে তো! ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বড় ক‍্যামেরা, ট্রাইপড, বিরাট বিরাট লাইট নিয়ে ছবি তুলতে এসেছে মানুষ। বড় গাছগুলোর সামনে বেজায় ভিড়। আমরা ধারেকাছেই যেতে পারছি না। এরপর ঠিক করলাম আমাদের তো গাছ দরকার নেই। লাগবে চেরি ফুলের বড়সড় কয়েকটা ছড়া। একটু ফাঁকা দেখে ছোট একটা গাছ খুঁজে বের করে জ‍্যাকেট-ব্যাগ মাটিতে রেখে ছবি তোলা শুরু করলাম। পরে দেখি অনেকেই এই বাঙালি বুদ্ধি খাটানো শুরু করল। ছোট গাছের সামনেও ভিড় জমতে থাকল। আমরা ফোন চেক করলাম। অন্তত পাঁচটা ছবি হয়েছে না পোস্ট করার মতো! আবার চোখাচোখিতে যোগাযোগ, ‘ডান! চল এবার খেতে যাই।’

    ওগো বিদেশিনী/ তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার শিউলি নাও

    চেরি ফুলের ছবি পোস্ট করেছি আর এই কথাটুকু কেউ মন্তব্যে লেখেনি, আজ পর্যন্ত তা ঘটেনি। এই গান আমার আগে শোনা হয়নি। ব‍্যাপারটা কী। একবার ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখলাম। লাল মেমসাহেব সিনেমার গান। প্রয়াত শিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের গাওয়া গান। অভিনয়ে অলিভিয়া ও ওয়াসিম।

    পুরো গানটা শুনে বুঝলাম চতুর্থ লাইনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
    ওগো বিদেশিনী
    তোমার চেরি ফুল দাও
    আমার শিউলি নাও
    দু’জনে প্রেমে হই ঋণী

    চেরি ফুল নিয়ে এত সুন্দর গান কি জাপানেও হয়েছে? আমি হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় ক‍্যাটাগরিতে পড়ি। একদল আছে না, যাদের বিদেশের সবকিছুই ভালো লাগে। আরেক দল যা-ই দেখে মুখ বাঁকা করে বলে এ তো আমাদের দেশেই আরও ভালো পাওয়া যায়!

    শিউলির সঙ্গে চেরির অদলবদল? নাহ আমি মনে হয় রাজি হতাম না। এক, চেরি ফুলের স্থায়িত্ব খুব কম। মার্চ-এপ্রিল-মে বলা হলেও গোটা বছরে বড়জোর সপ্তাহ চারেক থাকে এই ফুল। আর তার চেয়েও বড় কথা, আমি আসলে আজ অবধি বুঝিইনি এর হালকা গোলাপি থেকে সাদার মাঝের নরম, খুব সূক্ষ্ম সৌন্দর্য। আমরা তো আগুনরঙা ফুলের দেশের মানুষ—কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জবা, রক্তকরবী, জারুল। আমাদের হালকা রঙের ফুলগুলোও তীব্র সুগন্ধে জানান দেয় তার উপস্থিতি—শিউলি, বকুল, হাসনাহেনা, কামিনী। অত নরম, পলকা, ‘এসেই বলে যাই যাই’ চেরিতে আমাদের পোষায় নাকি!

    ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইছবি: রুহিনা তাসকিন

    তবে কানাডার সরকার কিন্তু এই গানের কপিরাইট নিয়ে অনুবাদ করে কাজে লাগাতে পারে। কানাডার চেরি ফুল সব জাপানের উপহার দেওয়া। বন্ধুত্ব-সৌহার্দ‍্যের প্রতীক হিসেবে। এর বদলে কানাডাও কিন্তু গান গেয়ে ধন্যবান জানাতে পারে।
    কানাডার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গাইছেন—ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার মেপল নাও।
    দারুণ না ব‍্যাপারটা!

    শহরের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা

    ‘ছয় টাকা ভাড়া। যাবেন?’
    ‘ওঠেন।’
    রিকশাওয়ালার এই কথা শুনলেই আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করত। তার মানে আমরা বড় খালার বাসায় যাচ্ছি। আর খালার বাসায় যাওয়ার পথেই পড়বে সেই রাস্তাটা। জানি, তা-ও জিজ্ঞেস করতাম, ‘আমরা কি ওই রাস্তাটা দিয়ে যাব?’ অনেক পরে জেনেছি, ওই রাস্তাটা হলো শহীদ মিনার থেকে নীলক্ষেত। লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়ায় ভরা। আমি আজও এই দুই ফুলের পার্থক্য মনে রাখতে পারি না।

    শহীদ মিনারের দিকে এগোতে থাকলেই আমরা রিকশার হুড ফেলে দেব। আম্মা শক্ত করে ধরে রাখবেন চার-পাঁচ বছরের আমাকে। আমাদের মাথার ওপর ছাউনি হয়ে থাকবে অজস্র লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়া। আমার মাথার ওপর টুপটুপ করে ঝরবে কিছু পাপড়ি। আম্মা সাবধানে সরিয়ে দিয়ে আমার ক্লিপ দিয়ে চুল ঠিক করে দেবেন।
    এরপর ওই রাস্তাই একরকম আমার ঘরবাড়ি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে পড়ার সময়। কতবার হেঁটে, রিকশায় পার করেছি শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তাটা। তখন আর তা সবচেয়ে সুন্দর মনে হতো না। জ্যাম পড়লে বিরক্ত হতাম, ক্লাস ধরার তাড়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার বিরক্তি। আম্মাকেও কোনো দিন বলিনি, মা চলো তোমাকে হুডখোলা রিকশায় আমার ক‍্যাম্পাস দেখিয়ে আনি।

    প্রতিবছর কানাডায় আমি আর শাহরিন চেরি ব্লসম দেখতে যাই। ওর ডাকনাম তিসি, আর আমার শামা। সময় অনুযায়ী চেরি ফুলের রং বুঝে একই রকম কাপড় পরে তিসি আর শামা চেরি ব্লসম দেখতে যাবেই। এ বছর চেরি ব্লসমের সময়টা আমি কানাডায় নেই। তিসি অনেকবার টেক্সট দিয়েছে, ‘তুই আসলি না, আমরা চেরি দেখতে যাব না?’

    অন‍্য সময় হলে হয়তো আমার খারাপ লাগত। কিন্তু এবার ওর সঙ্গে আছে ছোট্ট আরিশা। স্ট্রলারে করে আরিশাকে নিয়ে ও ঠিকই যাবে হাই পার্ক। আরিশা ফুল দেখার চেয়ে রঙিন আইসক্রিমের দিকেই তাকিয়ে থাকবে। ওর কপালে এসে পড়বে চেরির পাতলা পাপড়ি। তিসি আলতো হাতে তুলে নিয়ে ক্লিপ দিয়ে ওর চুলটা ঠিক করে দেবে। ওরা হয়তো পার্ক থেকে ভিডিও কল দেবে আমাকে। আমি না থাকলেও আরিশার সঙ্গে লাল টুকটুকে ট্রেনে চড়ে মা-মেয়ে এবার চেরি ব্লসম দেখবে।

  • যোগাসন না পিলাটিস, ফিটনেসের জন্য কোনটি ভালো

    যোগাসন না পিলাটিস, ফিটনেসের জন্য কোনটি ভালো

    যোগাসন ও পিলাটিস এই সময়ের জনপ্রিয় দুই শরীরচর্চার পদ্ধতি। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে অনেকেই এই দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটির দিকে ঝুঁকছেন। অনেকে আবার দুটি পদ্ধতির চর্চা করছেন সমন্বয় করে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, পিলাটিস না যোগাসন, শরীরের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর? বা কোনটিতে বেশি উপকার?

    যোগাসন

    নিয়মিত যোগাসন করলে শরীর নীরোগ থাকে। এটি এমন এক শরীরচর্চা, যার কোনো নেতিবাচক দিক নেই। প্রয়োজন হয় না কোনো যন্ত্রপাতিরও। যেকোনো বয়সে যে কেউ যোগাসন শুরু করতে পারেন। জিমে গিয়ে যাঁরা শরীরচর্চার সময় পান না, তাঁদের জন্য যোগাসন আদর্শ। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে যোগাসন বেশ কার্যকর। এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় যে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে, তা প্রতিরোধের জন্যও যোগাসনে রয়েছে বিভিন্ন আসন। ঋতু পরিবর্তনে যে রোগগুলো শরীরে হানা দেয়, নিয়মিত যোগচর্চায় সেসব থেকেও মিলবে মুক্তি।

    পিলাটিস

    অপর দিকে পিলাটিসকে বলা হয় কার্ডিও ব্যায়াম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জোসেফ পিলাটিস আহত সৈনিকদের নানা ধরনের শারীরিক কসরতের মাধ্যমে আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই পিলাটিস নামের শরীরচর্চার জন্ম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যখন নানা ধরনের ব্যথার উৎপত্তি হয়, তখন পিলাটিস অনুশীলনে আরাম মেলে।

    শরীরচর্চার জন্য এই দুটি পদ্ধতিই জনপ্রিয়। যোগ প্রসঙ্গে যোগব্যয়াম প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তুনু জানান, যোগাসনে সাধারণের রোগ বা শারীরিক সমস্যার প্রতিকার মিলবে। তবে যোগাসনের ক্ষেত্রে ব্রিদ্রিং এক্সারসাইজ বা শ্বাসপ্রশ্বাসের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাস ঠিক না থাকলে নিয়মিত যোগাসন করলেও কোনো উপকার মিলবে না। তবে শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক রেখে যাঁরা যোগাসন করেন, তাঁরা অনেক উপকার পান। যেহেতু শরীর ও মনের যোগকে বলে যোগাসন বা ইয়োগা, এই যোগ সম্পন্ন করে নিশ্বাস। মানুষ নিশ্বাস নিতে নিতে প্রাণায়ামের মধ্য দিয়েই নানা আসন করেন। যোগাসনে শরীরের প্রতিটি সমস্যা ধরে ধরে আলাদাভাবে আসন করা হয়। উচ্চতা বৃদ্ধি, মুখের গড়নে পরিবর্তন, পেটের মেদ কমানোর মতো আরও অনেক উপকারিতা মেলে যোগাসনে।

    অপর দিকে যাঁরা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন, তাঁদের জন্য পিলাটিস বেশ কার্যকর। পিলাটিস শরীরের কাঠামো ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের জটিল সব রোগ সারাতে সাহায্য করে। তবে শরীরের ধরন ও জীবনযাপন বুঝে পিলাটিস করা ভালো। অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া একসময় নিয়মিত যোগাসন করতেন। এখন পিলাটিসে ঝুঁকেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত হলো, যোগাসনের চেয়ে পিলাটিসে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। পিলাটিস বডি টোনিংয়ের জন্য খুব ভালো। শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়। লুকে একধরনের বোল্ডনেস আনে বলেও মনে করেন নুসরাত ফারিয়া।