বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রবিউল আউয়ালের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর রেজাউল করিম নাঈমের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আসামিরা। ধারালো ছুরির আঘাতে নাঈম গুরুতর আহত হন। পরে পরিবার ও স্থানীয়রা মিলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৮ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত নাঈমের বাবা মো: চেরাগ মিয়া ৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজ বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে খালাস দেয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন— চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার মরহুম মো: ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মো: নুরুল ইসলাম, দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম রনি, আব্দুল আজিজের ছেলে মো: সাইমন ইসলাম ও আব্দুল কাদিরের ছেলে আনোয়ার হোসেন। সাজাপ্রাপ্ত নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— বর্ষিজোড়া এলাকার ইদন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া, নাজিরাবাদ ইউনিয়নের সাহিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বর্ষিজোড়া এলাকার মো: রমিজ মিয়ার ছেলে সাকির আহমদ ওরফে শাকিল, দণ্ডপ্রাপ্ত মো: নুরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন বেগম ও মেয়ে রুকশানা আক্তার।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রত্যাশা করি, উচ্চ আদালত এই সাজা বহাল রাখবেন। এ,আর
