শিরোনাম

  • সিলেট সীমান্তে ভারতীয় শটগান-গুলিসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ভারতীয় শটগান-গুলিসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় শটগান, গুলি, মদসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। তবে, এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিজিবি সূত্র জানায়, বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ৪৮ বিজিবির একটি বিশেষ অপারেশন দল প্রতাপপুর বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩০০ বোতল ভারতীয় মদ, একটি ভারতীয় সিঙ্গেল ব্যারেল শটগান ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    এছাড়া ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ জিরা, গরু, সানগ্লাস, কসমেটিকস, কম্বল, বিড়ি, চকলেট, ফুচকা ও এনার্জি ড্রিংক জব্দ করা হয়। একই অভিযানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় মশলা ও শিং মাছসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৭৩ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ, শটগান, গুলি ও অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • ইরানের পরমাণু নিয়ে ন্যাটোর কোনো ধারণাই নেই : রাশিয়া

    ইরানের পরমাণু নিয়ে ন্যাটোর কোনো ধারণাই নেই : রাশিয়া

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। তিনি বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে ন্যাটো মহাসচিবের কোনো ধারণাই নেই।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উলিয়ানভ বলেন, এই ব্যক্তি নিজেকে ন্যাটোর সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা বলে দাবি করেন। অথচ তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

    তিনি আরো বলেন, পশ্চিমাদের পেশাদারিত্বের অভাব কিংবা এর নিম্নমান একটি প্রকৃত বিপর্যয়।

    এর আগে বুধবার ‘এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে মার্ক রুটে দাবি করেন, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বিমান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য উড্ডয়ন করেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে ইউরোপের সামরিক অবকাঠামোর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শন ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপকে ব্যবহার করা না হলে এই অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন, এমনকি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত।

    রুটে আরো দাবি করেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে।

    তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সম্ভাব্য ও আসন্ন হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি শুধু ইসরাইল ও পশ্চিম এশিয়ার জন্যই নয়, ইউরোপের জন্যও বিপজ্জনক।

    তবে ন্যাটো মহাসচিবের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসেও বিভিন্ন বক্তব্য ও সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইউরোপের সহযোগিতার বিষয়টি স্বীকার করেন। এমনকি ইতালির মতো দেশগুলো কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

  • ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ

    ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ

    সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাদের মিশন শেষ করেছে। দেশটির নেতারা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ২০১৪ সালে তথাকথিত উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করার অজুহাতে ইরাক ও সিরিয়ায় জোটের সেনা মোতায়েন করা হয়।

    ২০১৭ সালে ইরাকে এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হয়। তবে গোষ্ঠীটির অবশিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে জোটের সেনারা সেখানে থেকে যান।

    ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক মিশনটি ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। একপর্যায়ে তাদের উপস্থিতি স্বায়ত্তশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত হয়ে পড়ে।

    ইসলামিক স্টেটকে বোঝাতে ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, ‘এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়, ইরাকের বিজয় এবং আইএসের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট বিজয়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমার সামনে সেখানে থেকে যাওয়া অথবা সেখান থেকে চলে যাওয়ার মধ্যে একটি বেছে নেয়ার সুযোগ ছিল। আর কোনো প্রশ্ন ছাড়াই আমার মনে হয়েছে, আমেরিকার ঘরে ফেরার সময় হয়েছে।’

    ‘সার্বভৌমত্ব’
    মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট একাই আইএসকে পরাজিত করেনি। কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোসহ ইরাকের শক্তিশালী কয়েকটি গোষ্ঠীও এতে ভূমিকা রাখে। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি।

    ইরাক সরকার মনে করে, জোটের সেনা প্রত্যাহার হলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রভাণ্ডার ধরে রাখার যে অজুহাত ব্যবহার করে আসছে, তা আর থাকবে না।

    তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী হতে পারে এবং দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এসব গোষ্ঠীর সমর্থকেরা পতাকায় সাজানো একটি জনসমাগমস্থলে জড়ো হয়ে উদযাপন করেন। সেখানে মডেল ড্রোন দিয়ে সাজানো মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে কাতায়েব হিজবুল্লাহর সামরিক মুখপাত্র জাফর আল-হুসেইনি বলেন, গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্ত্র ‘নিয়ন্ত্রণে আনার’ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে ‘ইরাক সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি’।

    তিনি আরো বলেন, এ কারণে অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে তারা ‘কোনো সময়সীমা বা চুক্তির আওতাভুক্ত নয়’। ইরাকের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী যেকোনো মার্কিন বা ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের সরাসরি জবাব দেয়ার অধিকার’ তাদের রয়েছে।

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেন, ‘নতুন একটি পর্যায় শুরু হয়েছে। এ পর্যায় ইরাকের সার্বভৌমত্ব, প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি এবং দেশের বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি দ্বারা নির্ধারিত হবে।’

    হামলা বেড়েছে
    যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলতি বছর ক্ষমতায় আসা জাইদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র হস্তান্তরে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    তার সরকার গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তবে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা চলতে থাকায় পরে সেই সময়সীমা প্রত্যাহার করা হয়।

    কুর্দি সামরিক কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুর্দিস্তানের আকাশ সুরক্ষার জন্য আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেই।’

    তবে তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, পেশমার্গা বাহিনী যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।

    জোটের দেয়া প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও অস্ত্রের কারণে তাদের সক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’ বলেও তিনি জানান।

    কুর্দি নেতা মাসুদ বারজানিও বুধবার বলেন, ‘যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে অত্যন্ত ভালো সমন্বয় রয়েছে।’

    ইরান-সমর্থিত কয়েকটি গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোয় জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকেরা এখন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

    গোষ্ঠীগুলো যেসব শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে শুধু বিদেশী সেনা প্রত্যাহার নয়, মার্কিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিও রয়েছে।

    কাতায়েব হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘দখলদার বাহিনীর’ প্রত্যাহার ‘পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথে একটি সূচনা’। তবে গোষ্ঠীটি জাইদি সরকারকেও হুমকি দিয়েছে।

    তারা বলেছে, ‘যে সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করবে না, তাকে সম্ভাব্য সব উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।’

    ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েক বছর ধরে গোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় তেহরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে হামলা আরো জোরদার করে। তারা কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

  • দিনাজপুরে ডোবার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    দিনাজপুরে ডোবার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে মালিহা জান্নাত মেহজাবিন (২) ও তানিয়া জান্নাত (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাটলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু মালিহা জান্নাত মেহজাবিন উত্তর কাটলা গ্রামের হুমায়ুন কবিরের মেয়ে ও তানিয়া জান্নাত তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে খেলতে খেলতে দুই শিশু মেহজাবিন ও তানিয়া বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে যায়। পরে দুই শিশুর ভাসমান লাশ দেখতে পান প্রতিবেশীরা।

    বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক সাইফুদ্দিন প্রামানিক জানান, খবর পেয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের হাতে তুলে দিয়েছেন তারা। এ,আর

  • অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদি

    অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদি

    যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশন দেয়ার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন ক্রিস্টা গেল পাইক (৫০) নামের এক নারী কয়েদি। বুধবার রাতে এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার পর তাকে অচেতন অবস্থায় কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবীরা।

    দীর্ঘ দুই শতাধিক বছরের ইতিহাসে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এভাবে ভন্ডুল হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি।


    ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ক্রিস্টাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বুধবার সকালে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আপিল আদালতের স্থগিতাদেশ এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের তা খারিজ করে দেয়ার দীর্ঘ নাটকীয়তার পর রাত ৭টা ২৭ মিনিটে তাকে এক্সিকিউশন চেম্বারে নেয়া হয়।

    রাত ৮টা ২৬ মিনিটের মধ্যে ক্রিস্টাকে তীব্র প্রাণঘাতী বিষাক্ত ওষুধের দুটি পূর্ণ ডোজ প্রয়োগ করা হয়। তবে ওষুধ প্রয়োগের দীর্ঘক্ষণ পরও তিনি মারা যাননি, বরং তাকে জীবিত থাকতে এবং জোরে নাক ডাকতে শোনা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে মাইক বন্ধ করে পর্যবেক্ষকদের বাইরে বের করে দেয়া হয়।


    ঘটনার পরপরই ক্রিস্টার আইনজীবীরা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টসহ সংশ্লিষ্ট আদালতে জরুরি আবেদন দাখিল করে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের এবং তাকে জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, ব্যর্থ এই প্রক্রিয়ার কারণে তাদের মক্কেল অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন, যা মার্কিন সংবিধানের লঙ্ঘন।

    ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন এম মাহের জানান, রগ খুঁজে না পেয়ে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের নজির অতীতে থাকলেও প্রাণঘাতী ড্রাগ শরীরে প্রবেশের পরও কোনো কয়েদির বেঁচে থাকার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। এ বছর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থ হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

  • পানি সংকটে পড়বে ইউরোপ

    পানি সংকটে পড়বে ইউরোপ

    তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৬ সালে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোতে বরফ গলছে তীব্র গতিতে। হিমবাহ গলার এই গতি সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১২ মাসেই দেশটির মোট হিমবাহের সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি বরফ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

    বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলার এই গতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। ফলে আগামী দশকগুলোতে ইউরোপের কৃষি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নৌপরিবহনে ব্যবহারের উপযোগী সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্কের নতুন তথ্য অনুযায়ী, শীতকালে কম তুষারপাতের পর মে ও জুন মাসের আগাম তাপদাহের কবলে পড়ে হিমবাহগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ে। টাটকা তুষারের তুলনায় খালি বরফ সূর্যের তাপ বেশি শোষণ করায় পরবর্তী সময়ে বরফ গলার গতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মাত্র কয়েক বছর আগেও আল্পস অঞ্চলে বছরে ২ শতাংশ বরফ ক্ষয়কে ‘চরম’ মাত্রার গণ্য করা হতো। কিন্তু এবার তা ৫.৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিংয়ের পরিচালক ড. ম্যাথিয়াস হাস একে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিজ্ঞানীরা জানান, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুইস হিমবাহগুলো থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি লিটার বরফগলা পানি নিঃসরিত হয়েছে। এই গলিত পানি চলতি মৌসুমে পানির সংকট সাময়িক মেটাতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইউরোপের পানির মজুতকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। হাস সতর্ক করে বলেন, তাপপ্রবাহে যে পানি গলে যাচ্ছে, তা মূলত শত শত বছর ধরে সঞ্চিত থাকা প্রাচীন পানির ভাণ্ডার। হিমবাহ সংকুচিত হয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে খরা দেখা দিলে এই পানির সরবরাহ আর অবশিষ্ট থাকবে না।

    ইতিমধ্যেই পানিস্তর রেকর্ড নিচে নেমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে তিন হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতেও গ্রীষ্মের শেষে কোনো তাজা তুষার টিকে থাকেনি। সাধারণত এই উচ্চতায় কয়েক মিটার পুরু শীতকালীন তুষার থাকার কথা। যা পরে জমাট বেঁধে নতুন বরফে পরিণত হতো। কিন্তু সেখানে চার মিটার পর্যন্ত বরফ হারিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফ্রিজ থেকে বের করে রাখা বরফের খণ্ডের মতো মানুষের চোখের সামনেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে আল্পসের চিরচেনা হিমবাহগুলো। এই সংকট ইউরোপ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রূপ ধারণ করার আগেই জীবাশ্ম জ্বালানি দূষণ কমিয়ে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

  • সিলেটে বালুভর্তি ট্রাকে মিলল ৪৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি

    সিলেটে বালুভর্তি ট্রাকে মিলল ৪৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুভর্তি ট্রাকে অভিনব কায়দায় পাচারের সময় চার হাজার ৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো: আলালকে (৩৫) আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার মো: সম্রাট তালুকদার।

    তিনি জানান, এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরপূর্বক আটক ট্রাকচালক আলালকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    আটক ট্রাকচালক আলাল গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের পাঁচ সেউতী গ্রামের সিদ্দেক আলীর ছেলে।

    এর আগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সোয়া ৫টার দিকে জৈন্তাপুর থানার নিজপাট ইউনিয়নের নয়াখেল এলাকায় সারী নদীর সেতুর উত্তর পাড়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি বালুভর্তি ট্রাকে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ট্রাকের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, জব্দকৃত শাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এছাড়া পাচারে ব্যবহৃত হলুদ রঙের ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ টাকা। এ,আর

  • কারও দান-খয়রাতের প্রয়োজন নেই আমাদের: পুতিন

    কারও দান-খয়রাতের প্রয়োজন নেই আমাদের: পুতিন

    রাশিয়ার নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্ট দুমা’য় প্রথম ভাষণ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, সামাজিক ব্যয়, প্রতিরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন তিনি।

    বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নবম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় পুতিন আইনপ্রণেতাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভুল পদক্ষেপ এবং ‘ধ্বংসাত্মক জনতুষ্টি’ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাইরের কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাশিয়ার প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি। পুতিন বলেন, রাশিয়া সারা বিশ্বে ‘হাত পেতে দান-খয়রাতের জন্য ভিক্ষা করবে না’।

    দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন ফেডারেল বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথমত, এটি অপমানজনক। দ্বিতীয়ত, কেউ আমাদের কিছু দেবে না। এটা আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। আর তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের এর প্রয়োজন নেই। পুতিন রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে আত্মবিশ্বাসী ও স্থিতিশীল হিসেবে বর্ণনা করেন।

    তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের ভুল একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় প্রকল্প ও ফেডারেল কর্মসূচিগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ পুরোপুরি বরাদ্দ এবং সরকারের সব সামাজিক অঙ্গীকার পূরণের ওপর জোর দেন। বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশাসনিক বাধা কমানোর আহ্বান জানান আইনপ্রণেতাদের প্রতি।


    প্রতিরক্ষা এবং রুশ সেনাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্য সহায়তা পার্লামেন্টের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন পুতিন। তার মতে, আইনপ্রণেতাদের ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দিতে হবে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে এবং ‘আমাদের বিজয়ের জন্য সবকিছু করতে হবে’। ইউক্রেন সংঘাতে অংশ নেয়া এবং পরে নতুন পার্লামেন্টে নির্বাচিত রুশ সেনা ও সাবেক যোদ্ধাদেরও স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, তারা ইতিমধ্যেই ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ দেশের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের প্রমাণ দিয়েছেন।

  • বাকেরগঞ্জে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

    বাকেরগঞ্জে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের বাকেরগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হওয়া দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্রীকে ঢাকার শ্যামপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে কদমতলী থানার আওতাধীন শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্রী বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    পরে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো: আদিল হোসেনের নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। উপ-পরিদর্শক নাজমুল মোল্লা ও সবিতা রানীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

    ওসি আদিল বলেন, ‘দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে ঢাকার শ্যামপুর থেকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’ এ,আর

  • সিডনিতে কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুর, মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

    সিডনিতে কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুর, মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নারেলানে আল নূর ইসলামিক কবরস্থানে একাধিক কবরের হেডস্টোন ও স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


    গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
    পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার উদ্দেশ্য বা এটি ইসলামবিদ্বেষী হামলা কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি।

    ইতোমধ্যে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ)। সংগঠনটির সেক্রেটারি গামেল খেইর বলেন, কবরের ওপর হামলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জীবিত মানুষের পাশাপাশি মৃতদের মর্যাদাও রক্ষা করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
    এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ) বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলোর মধ্যে মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও সন্তানদের কবর রয়েছে। তারা সবাই মুসলিম অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ছিলেন। মৃত্যুর পরও তাঁদের কবর অন্য যেকোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মতোই মর্যাদা ও সম্মানের দাবিদার।

    সংগঠনটি আরও বলেছে, কবর ভাঙচুরের কারণে স্বজনরা প্রিয়জনের সমাধিতে গিয়ে গভীর মানসিক কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, একই কবরস্থানে এর আগেও মুসলিম কবরের ওপর শূকরের মাথা ও অবশিষ্টাংশ নিক্ষেপের পৃথক ঘটনা ঘটেছিল। তবে আগের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    অ্যাসোসিয়েশন ঘটনাটিকে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ধর্মীয় বিদ্বেষকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সংগঠনটি দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে এনএসডব্লিউ পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

    এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাড়াতে কবরস্থানে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কাজও এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য মাল্টিকালচারালিজম বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ক্যাম্পার ও মাল্টিকালচারাল এনএসডব্লিউ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন।
    অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস (এএফআইসি)ও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি ধর্মীয় বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • কলারোয়ায় মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

    কলারোয়ায় মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে কলারোয়া উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ১০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

    এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মাহফুজুর রহমান।

    কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান চান্দু, শিক্ষক মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক তামিম আজাদ মেরিন। অনুষ্ঠানে ছেলেদের লাল ও মেয়েদের মাঝে গোলাপী রঙের সাইকেল বিতরণ করা হয়। এ,আর

  • যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে কোরিয়া: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে কোরিয়া: ট্রাম্প

    দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সিউল বলছে, আলাস্কায় তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্পের জন্য ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

    স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয় ওভাল অফিস থেকে এ বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।

    গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়। সেই বৃহত্তর কৌশলগত বিনিয়োগ প্যাকেজের আওতায় জাহাজ নির্মাণ খাতে ১৫০ বিলিয়ন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে সিউল।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমার প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যে চুক্তিগুলো করেছে, তার আওতায় তারা ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।’

    তিনি জানান, এই বিনিয়োগের আওতায় আটটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, একটি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন এবং টেক্সাসে ৬-গিগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

    নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের করা অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ এটি। মূলত ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মাঝে নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

    তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ও আইনি শর্ত পূরণ হলেই কেবল পাইপলাইন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হবে। সিউল ট্রাম্পের ঘোষণার অন্যান্য বিষয়গুলো নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এআই ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টেক্সাসের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং আটটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে ১২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলাস্কা এলএনজি প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যকারিতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি যাচাই করতে তারা পর্যালোচনা শুরু করবে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিনিয়োগ করা হবে কি না কিংবা বিনিয়োগের পরিমাণ কত হবে—এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এক্স বার্তায় লিখেছেন, এলএনজি প্রকল্প এবং পারমাণবিক চুল্লি—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ শুরুর আগে সেগুলোর বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    সিউলের বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে।

    আলাস্কা এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এর আওতায় একটি ৮০৭ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। পাইপলাইনটি ‘নর্থ স্লোপ’ থেকে আলাস্কার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি তরলীকরণ কেন্দ্রে প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করবে। এতে এশিয়ার বাজারে এই জ্বালানি পাঠানো সম্ভব হবে।

    হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৯০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন এবং বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি টন এলএনজি উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    ট্রাম্প বারবার এই প্রকল্পটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ব্যয়, অর্থায়ন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরে হয়রানি, লিখিত অভিযোগ জামায়াতের চার এমপির

    শাহজালাল বিমানবন্দরে হয়রানি, লিখিত অভিযোগ জামায়াতের চার এমপির

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চারজন সংসদ সদস্য।

    তারা হলেন- শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন আইউবী ও খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।

    এই চার সংসদ সদস্যের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে বিমানের বিজি৩৩৮ ফ্লাইটটি। কিন্তু বেশির ভাগ যাত্রী তিন ঘণ্টা পরও ট্যাগযুক্ত লাগেজ বুঝে পাননি।

    এ ঘটনায় যাত্রী হয়রানি, লাগেজ যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর করা ওই অভিযোগে বলা হয়, বিজি৩৩৮ (মদিনা-ঢাকা) ফ্লাইটে ঢাকায় আসা যাত্রীদের বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ পাননি। যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন সংসদ সদস্য ছিলেন। লাগেজ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও যৌক্তিক কারণ জানানো কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি ও হয়রানির সৃষ্টি হয়।

    অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, লাগেজ বুঝে না পেয়ে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অভিযোগকারীরা।

    ওই অভিযোগের কপির ছবি নিজ ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এর সঙ্গে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? আজ সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অবতরণ করা বিজি৩৩৮ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রীদের পক্ষ হতে যাত্রী হয়রানি, মালামাল যথাযথভাবে বুঝিয়ে না পাওয়া ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে আমরা ৪ জন জাতীয় সংসদ সদস্য বিমান কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দাখিল করলাম।

    ওই অভিযোগের কপি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ পেয়েছে বলে বিমান সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

  • স্ত্রীর কবর জিয়ারতে মাহাথির, ফুল ছিটিয়ে করলেন দোয়া

    স্ত্রীর কবর জিয়ারতে মাহাথির, ফুল ছিটিয়ে করলেন দোয়া

    ৭০ বছরের জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর তিন দিন পর তার কবর জিয়ারত করেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন) থেকে সরাসরি পুত্রজয়ার প্রিসিঙ্কট কবরস্থানে যান মাহাথির। সেখানে স্ত্রীর কবরে ফুল ছড়িয়ে দেন তিনি। এরপর দুই হাত তুলে দোয়া করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে কবরের পাশে অবস্থান করেন। ফুল দেওয়ার পর দোয়া করে সেখান থেকে চলে যান দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কবরস্থানে মাহাথিরকে বেশ শান্ত ও বিষণ্ন দেখাচ্ছিল।

    গত ২৮ সেপ্টেম্বর ১০০ বছর বয়সে মারা যান সিতি হাসমাহ। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর পর এককভাবে এবারই প্রথম তার কবরে গিয়ে দোয়া করলেন মাহাথির।

    সিতি হাসমাহ ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মালয়েশিয়ার জাতীয় জীবনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৬ সালে মাহাথিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর প্রায় সাত দশক তারা একসঙ্গে ছিলেন। মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতেও সিতি হাসমাহ ছিলেন তার পাশে।

    মাহাথির প্রথমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত। পরে ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় সিতি হাসমাহ সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

    সিতি হাসমাহর মৃত্যুর পর ২৮ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের ইস্তানা নেগারা থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হয়। রাজপরিবার, প্রধানমন্ত্রী, সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

  • উড়োজাহাজের ঘটনা নিয়ে ইসরাইল সরকার ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে

    উড়োজাহাজের ঘটনা নিয়ে ইসরাইল সরকার ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে

    উড়োজাহাজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সরকার ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি এ অভিযোগ করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকে পাওয়া নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজের ঘটনাটিকে যুক্ত করার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন লাপিদ। তার দাবি, ওই ব্রিফিংয়ে উড়োজাহাজের ঘটনা নিয়ে সামান্যতম কোনো আলোচনা হয়নি।

    মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, ‘বিষয়টি পরিষ্কার করে বলতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিংয়ে উড়োজাহাজের ঘটনার ন্যূনতম আভাসও ছিল না। এ ধরনের কিছু, এমনকি এর কাছাকাছি কোনো বিষয়ও সেখানে বলা হয়নি।’

    সরকারঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    লাপিদ বলেন, ‘মুখপাত্ররা এখন যে সমস্ত ব্যাখ্যা ও প্রচারণা চালাচ্ছে, তা শুধু গতকাল যা পরিষ্কার ছিল সেটিই প্রমাণ করে—তারা আবারও ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়কে ব্যবহার করে সস্তা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন গোষ্ঠী।’

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরাইলে সম্ভাব্য একটি অনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সতর্ক করার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার লাপিদকে নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিং দেওয়া হয়। এর একদিন পরই এসব মন্তব্য করলেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।

    বৈঠকের পর লাপিদ বলেছিলেন, জনসাধারণকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। একই সঙ্গে নিরাপত্তা হুমকিগুলো পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এর মধ্যেই বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটকে ঘিরে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। একপর্যায়ে এটি জরুরি অবস্থা ও বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত পাঠালে উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। পরে এটি সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে। এ সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজ ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে পরবর্তী প্রতিবেদনে উড়োজাহাজটির ককপিটে একটি বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে।

    তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার দুজনই আহত হয়েছেন। পরে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

  • চৌগাছায় জিসিবি আদর্শ কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জিসিবি আদর্শ কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জিসিবি আদর্শ কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে । বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় কলেজ হলরুমে এ অনুষ্ঠান করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবু শরীফ বকুল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথি এবং নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় । প্রভাষক শহীদ আলম ও সাজেদা খাতুনের যৌথ পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলা প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, রসায়ন প্রভাষক আইনুল হক, ইসলাম শিক্ষা প্রভাষক মেহেদী ইসলাম। ছাত্রীদের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রথম বর্ষের ছাত্র সিয়াম হোসন, নায়িম হোসেন, সুরাইয়া , বৃষ্টি খাতুন ও শশি । বক্তৃতা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ,আর

  • যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সাবমেরিন ড্রোন আটক

    যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সাবমেরিন ড্রোন আটক

    যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিজস্ব সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

    বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এক সমন্বিত ও জটিল অভিযানের মাধ্যমে এই স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানটি আটক করা হয়।

    নৌবাহিনী ডুবোযানটিকে ‘রেমাস ৬০০’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনটির তথ্য বা ডেটা উদ্ধারের জন্য যানটি বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এর আগে সেপ্টেম্বরে হরমুজ প্রণালিতে অত্যাধুনিক আরেকটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটক করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)।

    হরমুজের প্রবেশমুখে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক, মানুষবিহীন ও স্মার্ট একটি সাবমেরিন আটক করে ইরানের নৌবাহিনী।

  • নামাজই ইরানের শক্তির উৎস: সর্বোচ্চ নেতা

    নামাজই ইরানের শক্তির উৎস: সর্বোচ্চ নেতা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি নামাজকে ইরানের শক্তি, আশা ও শান্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার ধর্মীয় ইবাদতবিষয়ক এক সম্মেলনে পাঠানো বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, নামাজ ইসলামি সমাজের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব এবং আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের প্রধান মাধ্যম। এটি আত্মসংযম ও ‘শয়তানের’ বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষের জন্য অবিচল শক্তি ও সহায়তা জোগায়।

    মুজতবা খামেনি বলেন, নামাজ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; সৎ ও আদর্শ ইসলামি শাসনব্যবস্থারও অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বর্তমান সময়ে ইরানি জাতির সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় নামাজ আল্লাহর স্মরণ, আশা ও তার ওপর আস্থার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    খামেনি বলেন, ‘নামাজ কায়েম করো’—বারবার উচ্চারিত আল্লাহর এই নির্দেশ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ইরানি জনগণের জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ।

    নামাজকে সমাজে আরো বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক করার আহ্বান জানিয়ে তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নামাজের চর্চা প্রসারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

  • নির্বাচনের আগে বিভক্ত ইসরাইলিরা

    নির্বাচনের আগে বিভক্ত ইসরাইলিরা

    ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসেরও কম সময় বাকি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এরপর প্রায় তিন বছর ধরে গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর দেশটির রাজনীতিতে গভীর পরিবর্তন এসেছে। আসন্ন নির্বাচন সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির—দুই পক্ষই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় সীমা থেকে দূরে রয়েছে। ফলে নির্বাচন শেষে আবারও বিভক্ত পার্লামেন্ট বা নেসেট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক চ্যানেল ১৩-এর জরিপে নেতানিয়াহু বিরোধী ইহুদি দলগুলো ৫২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি আসন পেতে পারে বলে দেখানো হয়েছে। আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ ১৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ওই জরিপে। তবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

    আইজেনকট ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব স্টাফ। গাজায় যুদ্ধের সময় তার ছেলে ও দুই ভাতিজা নিহত হন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহু যে ঐক্য সরকার গঠন করেছিলেন, আইজেনকটও প্রায় আট মাস সেই সরকারের অংশ ছিলেন।

    অন্যদিকে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে নিজের নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রীদের একজন এবং লিকুদের নেতৃত্বে বহুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

    তবে আইজেনকটের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি ইসরাইলি আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে জরিপে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি গেলেও সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে রয়েছে।

    নির্বাচনকে ঘিরে ইসরাইলি সমাজেও বিভাজন স্পষ্ট। নেতানিয়াহুর সমর্থকদের পাশাপাশি তার সরকারের যুদ্ধনীতি, সামরিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারেদি ইহুদিদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

    ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালে হারেদি পুরুষদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি অব্যাহত রাখার আইনি ভিত্তি নেই বলে রায় দেওয়ার পর বিষয়টি আরো উত্তপ্ত হয়। নেতানিয়াহুর জোটের গুরুত্বপূর্ণ হারেদি দলগুলো তার সরকারের ওপর এ বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করছে।

    নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনীতি। আঞ্চলিক সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্নের মধ্যে ইসরাইলে খাদ্যের দাম গত দুই বছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।

    ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তবে বর্তমান জরিপগুলো কোনো পক্ষের সরকার গঠনের নিশ্চিত চিত্র দিচ্ছে না। বরং প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি নয় এবং জোট গঠনের সমীকরণই নির্বাচনের পরবর্তী সরকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সৌদি

    হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সৌদি

    সৌদি আরবের নিরাপত্তার ওপর যেকোনো হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। খবর আরব নিউজের।

    মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস না করে উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানে কাজ করছে সৌদি আরব। তবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না রিয়াদ।

    তিনি জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ। তিনি বলেন, উত্তেজনা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে সৌদি আরব। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিও সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

    ইয়েমেনে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা এবং বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।

    অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৬ সালের তুলনায় সৌদির তেলবহির্ভূত রপ্তানি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালকে ‘এআইয়ের বছর’ উল্লেখ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিশ্ব নেতৃত্ব অর্জনের লক্ষ্যও জানান তিনি।

  • দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য যাতে শহরে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সুবরবাজার সড়কের পাশে মুহুরী নদীর তীরে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা নয়, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে নদী খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে ঘাটঘর জামে মসজিদের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতে কলকারখানা বন্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করবে। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং নদী-খাল খনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পুরো পরিবার উপকৃত হবে। একইভাবে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না।

    ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় এ এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এমনকি সেতুর ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচনের আগে বিএনপি নদী-খাল খননের কথা বলেছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক।

    প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে পরশুরামে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেও নির্ধারিত প্যান্ডেলের বাইরে মুহুরী নদীর তীর, মডেল স্কুল-সংলগ্ন এলাকা এবং ওমরী ব্রিজের ওপর মানুষের উপস্থিতি ছিল।

    পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুলগাজীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তাঁর পরবর্তী কর্মসূচিতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতাধীন কার্যক্রমের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসংক্রান্ত কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার বিষয়েও কর্মসূচি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    পরশুরামের পর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • ভারতে নিজ বাহিনীর সদস্যের গুলিতে কমান্ডারসহ নিহত ৪

    ভারতে নিজ বাহিনীর সদস্যের গুলিতে কমান্ডারসহ নিহত ৪

    ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় তর্কের জেরে সহকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছেন কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) এক সদস্য।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসোহলির মাশকা গ্রামে সেবা পাওয়ার প্রকল্পে মোতায়েন সিআইএসএফ ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর হেড কনস্টেবল অবদেশ কুমার সিং তার ইস্যু করা একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে গুলি চালান বলে জানা গেছে।

    নিহতরা হলেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল রফিক আহমেদ ও কনস্টেবল সন্দীপ কুমার। আহত অবস্থায় তাদের হিমাচল প্রদেশের এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।

    ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং অবদেশ কুমার সিংকে আটক করে। তার কাছ থেকে সার্ভিস রাইফেল ও ১৫০ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইএসএফ।

    হামলার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

  • দুই দশক পর সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

    দুই দশক পর সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

    দুই দশক অবস্থানের পর ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়।

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ বুধবার। এর এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে আল–জাজিরাকে জানিয়েছেন ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম ইরাকি বাহিনী।

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটলো দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আগ্রাসনের ২৩ বছর পর। ২০০৩ সালে ওই বাহিনী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে। কয়েক বছর ধরে বিদ্রোহ দমন অভিযান চালায় তারা। প্রথমে সাদ্দাম-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এবং পরে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াই করে মার্কিন বাহিনী। এরপর দেশটিতে ব্যাপক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার ধারাবাহিকতায় ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে।

    ২০১১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। তবে এর তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে ফিরে আসে তারা। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে মার্কিন সেনারা।‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এ আফগানিস্তানে একই সময়ে চলা যুদ্ধের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইরাকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

    পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তি হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল।

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাগদাদের জন্য নতুন একটি যুগ শুরু হলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরাকের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে।

  • জেন-জির বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

    জেন-জির বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

    ফ্রান্সে জেন-জির বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে দেশজুড়ে ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

    প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও।

    ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এবং বাসস্টপেরও ক্ষতি করেছেন।

    বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সি এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। কোনো কারণ ছাড়াই সবকিছু ভাঙচুর করতে আসিনি। আমরা বলতে এসেছি যে, শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।’

    ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে।’ তবে, সহিংসতার খবরকে তিনি ‘কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে নিন্দা জানান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এক গণমাধ্যমে বলেন, ‘৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের কাছে এখনো চূড়ান্ত হিসাব নেই। তবে আমাকে বলা হয়েছে, তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মেরেছেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

    শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে বলেন, “ফরাসি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়ন’ চালাচ্ছে।” পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগেরও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিক সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে নুনেজ বলেন, “পুলিশের পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত সংযত ও আনুপাতিকভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।”

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেন, ‘বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে, কোনোভাবেই এটিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া কিংবা এই পরিস্থিতিতে অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো আমাদের শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।’

    যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। এরপর সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিলে তা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হবে বলে সতর্ক করেন। এর আগে, ১৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    এদিকে, মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার পাশাপাশি দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

    নুনেজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিলেও বেশিরভাগ জায়গায় তা কোনো বড় ধরনের ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

  • জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

    জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

    জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিয়োগ পাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। দেশে ছড়ানো নানা রকম গুজবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের এই দায়িত্বশীল পদের জন্য সব প্রফেশনাল শর্ত পূরণ করে নিজ যোগ্যতায় জাইমা রহমান সেখানে নিয়োগ পেয়েছেন। বরং এ কারণে তাঁকে সাধুবাদ জানানো উচিত।

    আজ বুধবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

    মাহদী আমিন বলেন, জাইমা রহমানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জাতিসংঘের রুলস, রেগুলেশন এবং প্রসিডিউরস, জাতিসংঘের যে এক্সিকিউটিভ অফিস রয়েছে তার আন্ডারে যে রিক্রুটমেন্ট প্রসিডিউরস, সেখানে ডিটেইলস ইনফরমেশন রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আরও বলেন, আরেকটি বিষয় হলো, উনি (জাইমা রহমান) নিজ মেধা যোগ্যতায় যে পজিশনে অ্যাপ্লাই করেছেন সেটি হলো ‘পি-3’ পজিশন। যেটির জন্য ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। পি ১ বা প্রফেশনাল-১ মিনিমাম এক্সপেরিয়েন্স, পি-২ বা প্রফেশনাল-২ তে অন্তত ২ বছরের অভিজ্ঞতা লাগে। আর পি-৩ বা প্রফেশনাল ৩ এর জন্য ৫ বছরের প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। এভাবে পি-৪, পি-৫ আরও লেভেল রয়েছে।’

    মাহদী আমিন বলেন, বরং পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক কারণে জাতিসংঘে পারিবারিক প্রভাব খাটানোর যে চর্চা ছিল, সে ধরনের কোনো কিছুই তিনি করছেন না।

  • দ্বিগুণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ফি

    দ্বিগুণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ফি

    যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে এখন থেকে তাদের গুনতে হবে আরও বেশি অর্থ। এবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেশটির ইবি-৫ অভিবাসী বিনিয়োগকারী কর্মসূচির আবেদন ফি দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হবে।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস) যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ ভিসার আবেদন ফি দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর একটি নিয়ম চূড়ান্ত করেছে।

    ইবি-৫ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান। এ জন্য তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যবসায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। পাশাপাশি, ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়।

    এককভাবে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৫২৬-এর আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার (৪ লাখ ৫২ হাজার ২৪৩ টাকা) থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার (৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭ টাকা) হবে।

    আর অনুমোদিত আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৫২৬ই-এর আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার (৪ লাখ ৫২ হাজার ২৪৩ টাকা) থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার (৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮১ টাকা) হবে। এর সঙ্গে প্রতিটি আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ৭৫ ডলার (৯ হাজার ২৩১ টাকা) প্রযুক্তি ফি দিতে হবে।

    শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন তুলে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৮২৯-এর আবেদন ফি ৩ হাজার ৭৫০ ডলার (৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৩৫ টাকা) থেকে বেড়ে ৫ হাজার ডলার (৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৮০ টাকা) হবে।

    আর আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৯৫৬-এর আবেদন ফি ১৭ হাজার ৭৯৫ ডলার (২১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৩ টাকা) থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার ১১৫ ডলার (৫৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৩২ টাকা) হবে।

    এছাড়া, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৯৫৬এফ-এর আবেদন ফি ১৭ হাজার ৭৯৫ ডলার (২১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৩ টাকা) থেকে বেড়ে ৪২ হাজার ৬৭৫ ডলার (৫২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬৫ টাকা) হবে।

    তবে, ফর্ম আই-৯৫৬জি-এর বার্ষিক ফি ৩ হাজার ৩৫ ডলার (৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩১ টাকা) থেকে কমে ২ হাজার ১৬৫ ডলার (২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা) হবে।

    এদিকে, পুরোনো আই-৫২৬ আবেদনে সংশোধনের জন্য নতুন আই-৫২৭ ফর্ম চালু করা হয়েছে। এ ফর্মের আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৩০ ডলার (১২ লাখ ৭১ হাজার ৮৪৬ টাকা)।

    নতুন ফি ঘোষণা করে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সংস্থাটির বেশির ভাগ অর্থ আবেদনকারীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি থেকে আসে, করের অর্থ থেকে নয়। আবেদন যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই, জালিয়াতি শনাক্ত করা এবং কর্মসূচি পরিচালনার খরচ এসব ফি থেকেই মেটানো হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ১৯৯০ সালে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইবি-৫ কর্মসূচি চালু করে। এ কর্মসূচির আওতায় আবেদনকারীদের যোগ্য কোনো ব্যবসায় ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার (১২ কোটি ৯২ লাখ ২৯ হাজার ৭০০ টাকা) বিনিয়োগ করতে হয়।

    তবে, নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান এলাকা বা অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে ৮ লাখ ডলার (৯ কোটি ৮৪ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা) বিনিয়োগ করলেই হয়। পাশাপাশি, ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়।

    এসব শর্ত পূরণ করতে পারলে বিনিয়োগকারী, তার স্বামী বা স্ত্রী এবং যোগ্য সন্তানরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান।

  • নিউইয়র্ক সফরের বিষয়ে অবহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী

    নিউইয়র্ক সফরের বিষয়ে অবহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ কথা জানিয়েছেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে গত রোববার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৩০টি বৈঠক, সভা ও কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। রেওয়াজ অনুযায়ী, বিদেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দেখা করে সফরের বিষয়বস্তু অবহিত করেন।

    বিকাল ৩টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ সফরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান এবং বক্তব্যটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ভাষণটিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এবং প্রধান বৈশ্বিক ইস্যুগুলোয় বাংলাদেশের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত ও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ সময় জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনকল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভাকে হ্রাস করছে। তাই জনকল্যাণে ও পরিমিত মাত্রায় এর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

    সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্য কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিবগণ ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: ময়মনসিংহে ২২ নিয়োগপ্রার্থীর আমরণ অনশন

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: ময়মনসিংহে ২২ নিয়োগপ্রার্থীর আমরণ অনশন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহে নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ২২ জন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থী। চূড়ান্ত নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

    বুধবার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

    অনশনকারীদের থেকে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ময়মনসিংহ জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও একই প্রক্রিয়ার ২২ জন প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি।

    তাদের দাবি, দেশের অন্যান্য জেলায় সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও ময়মনসিংহে তাদের ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। কেন তাদের নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কার্যালয় থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    অনশন কর্মসূচিতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ জেলায় আমরা ২৫৯ জন সুপারিশ পেয়েছিলাম। প্রথম ধাপে ২১৯ জন ও পরে আরও দুজন নিয়োগ পেলেও আমরা ২২ জন কোনো কারণ ছাড়াই বাদ পড়ে আছি। আমরা আজকের মধ্যেই নিয়োগপত্র হাতে পেতে চাই। এটি ছাড়া আজ এখান থেকে কেউ ফিরব না। প্রয়োজনে না খেয়ে মারা যাব, তবুও কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

    একই দাবি জানিয়ে আরেক অনশনকারী হাসি আক্তার বলেন, ‘অন্যরা নিয়োগ পেয়ে স্কুলে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। কারণটাও আমাদের জানানো হচ্ছে না। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অনশনস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরব না।’

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও ১৮ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ওই ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে পরে নতুন কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে; অন্যথায় বর্তমান সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।’

    শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা অনশনকারীদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি। আমাদের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। বিষয়টি সচিব, মহাপরিচালক ও মন্ত্রী মহোদয়সহ জাতীয় পর্যায়ে অবহিত রয়েছে।’

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন অত্যন্ত গোপনীয় নথি। ওই প্রতিবেদনে ঠিক কী উল্লেখ রয়েছে, তা আমাদের জানা বা প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে অবগত আছেন, আমরা শুধু নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি।’ এ,আর

  • ভারতে মুসলিমদের নিশানা করে তথ্য চাওয়া হচ্ছে: ওয়াইসি

    ভারতে মুসলিমদের নিশানা করে তথ্য চাওয়া হচ্ছে: ওয়াইসি

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত ডেমোগ্রাফি কমিশন থেকে গাড়ি নিবন্ধন ও সম্পত্তি কেনাবেচা সংক্রান্ত ধর্ম-ভিত্তিক তথ্য চেয়ে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

    মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    ওয়াইসি বলেন, আমরা যখন মোদী সরকারের কাছে মুসলিমদের শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহের দাবি জানিয়েছিলাম, তখন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ অমিত শাহের ‘ডেমোগ্রাফি কমিশন’ এখন রাজ্যগুলোর কাছে জানতে চাইছে কোন ধর্মের মানুষ কতগুলো গাড়ি কিনেছে, কার কত জমি আছে—ইত্যাদি।

    তার দাবি, তথ্যের ভিত্তিতে উন্নত নীতি প্রণয়ন করা এই কমিশনের উদ্দেশ্য নয়। বরং তথ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন ও বিকৃত করা হতে পারে, যাতে মুসলিমদের টার্গেট করা যায় এবং তাদের অবশিষ্ট অধিকারও কেড়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি (এইচএলসিডিসি) গত ১৫ বছরের ধর্মভিত্তিক জন্মনিবন্ধন, গাড়ি নিবন্ধন, স্কুলে ভর্তি ও সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য চেয়েছে। পাশাপাশি জেলা অনুযায়ী ধর্মীয় স্থাপনার সংখ্যা এবং আধার, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ড নিবন্ধনে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া তফসিলি উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মান্তর নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন কমিশনের প্রতিবেদন এবং কার্যকর আটককেন্দ্রগুলোর তথ্যও কমিটি চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ২৬ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসনসহ অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে সৃষ্ট জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় সুপারিশের জন্য এইচএলসিডিসি গঠন করে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

    এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটেছে এমন এলাকায় এই কমিটি যাবে। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) শেষ হওয়া এলাকাগুলোতে গিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করা হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

    ওয়াইসি আরো বলেন, অমিত শাহ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তার আশঙ্কা, এসআইআরের মাধ্যমে প্রস্তুত করা ভোটার তালিকার ভিত্তিতেও এনআরসি করা হতে পারে।

  • চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বুধবার বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, চীনের উদ্যোগ সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়ক হবে।

    রাষ্ট্রপতি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

    কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে তিনি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

    তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

    বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীনে সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

    এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে − জনগণের জন্য উন্মুক্ত − জটিল রক্তের ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত সহযোগিতা আশ্বাস দেন।

    রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

  • ময়মনসিংহে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ২ যুবকের যাবজ্জীবন

    ময়মনসিংহে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ২ যুবকের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এম এল বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা এলাকার মো: মারুফ (২১) ও স্বাধীন (২০)।

    মামলার এজাহার ও নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ আগস্ট সকালে ওই ছাত্রীর মা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ওই দিন দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে মারুফ ও স্বাধীন ঘরে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে ভুক্তভোগীর মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন আদালতে বিচারাধীন থাকার পর সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। রায়ের পর মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার অবসান হলো। এ,আর

  • গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইকে ‘দানব’ বললেন ট্রাম্প

    গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইকে ‘দানব’ বললেন ট্রাম্প

    হোয়াইট হাউসে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রধানদের নিয়ে এক চমৎকার দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খাবার শেষে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলার সময় গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইকে নিয়ে হুট করে এক মজার মন্তব্য করেন তিনি।

    ট্রাম্প হঠাৎ সুন্দর পিচাইকে ‘দানব’ বলে ডাকেন, তবে সাথে সাথেই তার সফল ও ঝামেলাহীন জীবনের প্রশংসাও করেন। ট্রাম্পের মুখে এমন অদ্ভুত কথা শুনে সবাই বেশ অবাক হন, আর ভিডিওতে দেখা যায় সুন্দর পিচাইও বেশ হাসিমুখে এর দারুণ এক উত্তর দিয়েছেন।

    ঘটনাটি তখন ঘটে যখন ট্রাম্প সুন্দর পিচাইকে কিছু বলার জন্য ডাকেন। ট্রাম্প তাকে বলতে বলতেই নিজেই থামিয়ে দিয়ে বলে ওঠেন, এই লোকটা একটা দানব, আর কেউ তাকে সেভাবে চেনেই না। কী দারুণ একটা জীবন! দানব হয়েও তাকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। আপনার শুধু এটুকুই জানা দরকার—সুন্দর! সুন্দর হলো তার নাম…।

    ট্রাম্পের এমন মজার রসিকতার জবাবে সুন্দর পিচাই মুচকি হেসে বুদ্ধিমত্তার সাথে পাল্টা বলেন, আশা করি এটি আমার সম্পর্কে বলা অন্য যেকোনো কথার চেয়ে বেশ ভালো একটা ট্যাগলাইন হবে…।

    এদিকে এই হাসাহাসির বাইরেও অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি দুনিয়ার বড় বড় কর্তারা একত্রিত হয়েছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের সাথে গুগলের সুন্দর পিচাই, মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার প্রধানরা একটি বড় চুক্তিতে সই করেছেন।

    ‘দ্য হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামের এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো, উন্নত প্রযুক্তি যেন নিরাপদে মানুষের উপকারে আসে এবং কোনো ঝুঁকি তৈরি না করে।

    অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই জানান, গুগল গত দুই বছরে তাদের এআই প্রযুক্তির পেছনে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সামনেও এই ধারা বজায় রাখবে। মানুষের জীবন সহজ করা এবং প্রযুক্তির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কড়া নিয়ম মেনে ও যাচাই-বাছাই করে এআই মডেলগুলো তৈরি করতে সম্মত হয়েছে।

  • ‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, এখন যে প্রস্তাব পুলিশের

    ‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, এখন যে প্রস্তাব পুলিশের

    অপরাধ দমনের নামে আগে কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর প্রচলন ছিল দেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পটপরিবর্তনের পর সেই ‘ক্রসফায়ার’ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ওই সময় অপরাধীরা আতঙ্কে থাকত ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয়ে। যদিও সেটি বিতর্কিত ছিল। তখন যেসব ঘটনা ঘটেছিল, সবগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ রয়েছে।

    বর্তমানে দেশে অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখন আগের মতো ভয় পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষও আস্থায় নিতে পারছে না পুলিশকে। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে ঘটছে একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা। এসব সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে অস্থিরতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

    মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মর্নিং মিটিংয়ে (সভা) পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ মত দেন। তারা বিরাজমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শক্ত হাতে অপরাধ দমনের প্রস্তাব করেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনে নেওয়ার কথা বলেন। তারা নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে গোটা বাহিনীকে স্ট্রিমলাইনিং (সুসংগঠিত) করা জরুরি বলে মত দেন। কর্মকর্তারা বলেন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিরা আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে জামিন পাচ্ছে।

    মাদকের বিস্তার রোধে সভায় অতিরিক্ত আইজিপিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি করার পরামর্শও দেওয়া হয়। এছাড়া মাঠপর্যায়ের পুলিশিং জোরদার করা এবং পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতি জোর দেওয়া হয়।

    পুলিশের গোপনীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। এ সময় সব অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, ডিআইজি (ক্রাইম) এবং ডিআইজি (প্রশাসন)সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

    অপর এক সভায় চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের যে কোনোভাবেই হোক আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। সূত্র জানায়, আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে মর্নিং মিটিংয়ে বলা হয়, পুলিশ আসামি গ্রেফতার করলেও অল্প সময়েই তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, আইনি বাধ্যবাধকতা ও তদন্তে দুর্বলতার কারণেই আসামিরা দ্রুত জামিন পাচ্ছে। ওই অতিরিক্ত আইজিপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসাবে পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। আরেকজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, বর্তমানে ক্রসফায়ার বন্ধ আছে। তাই অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়া উচিত।

    বৈঠকে উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো, অপরাধীদের জামিন রোধে আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করা এবং পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের মর্নিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, পুলিশি সেবার মূল ভিত্তিই হলো জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা। কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব যেমন-কটি ছিনতাই, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ড হলো অথবা কজন ধরা পড়ল-এসব দিয়ে জনগণের আস্থা ফেরানো যাবে না। বর্তমানে পুলিশ কোন অবস্থানে আছে এবং এ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ কতটুকু সেবা দেওয়া যায় তার একটি নিবিড় পর্যালোচনাও প্রয়োজন। তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি মানুষের ভুল বোঝাবুঝি বা অসন্তোষ দূর করতে হলে সরাসরি জনসংযোগ বাড়াতে হবে। সম্পর্কের উন্নয়ন ও কাজের প্রতি স্বচ্ছতা এলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে।

    একজন অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে বর্তমানে নানা বিষয়ে দ্বিধা বা ‘কনফিউশন’ কাজ করছে। বাইরের নানা গুঞ্জন, অডিও-ভিডিও প্রচার এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণে বাহিনীর সদস্যদের মনোবলের ওপর প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে গোটা পুলিশ বাহিনীকে ‘স্ট্রিমলাইনিং’ বা সুসংগঠিত করা জরুরি। তার মতে, হঠাৎ বা একদিনের চেষ্টায় ‘ফেরেশতা’ হওয়ার মতো কোনো অলৌকিক পরিবর্তন আসবে না। এজন্য দরকার একটি ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়াস। কার্যকর পরিবর্তনের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং পলিসি লেভেলের সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

    সভা সূত্রে আরও জানা যায়, চাঁদাবাজিসহ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা আলোচনায় উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা ও আইনগত সীমাবদ্ধতা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ অতর্কিত হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রোপার্টিজে সশস্ত্র হামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, আদাবরে আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টা, ২৫ মামলার আসামি শীর্ষ মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজনভ্যান থেকে পলায়ন, চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যা, মিরপুর এলাকায় চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ, জমি দখলকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ ও নাটোরে বড় ধরনের সংঘর্ষ ইত্যাদি।

    বৈঠকে রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, বিচারপ্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আসামিরা আদালত থেকে সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারলে আসামির জামিনের অধিকার তৈরি হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন এবং সেশন কোর্টে ৩৬০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল (বিচার) শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয় না। ফলে এ সুযোগে আসামিরা জামিন পেয়ে যায়।

    বর্তমানে ‘ক্রসফায়ার’ না থাকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে অপরাধীদের ‘ডিটেনশন’-এ নেওয়ার প্রস্তাব দেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।

    এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রেলওয়ে পুলিশপ্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, ঢালাওভাবে আটক না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজ তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিটেনশন দেওয়া উচিত। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) পুলিশের প্রত্যক্ষ কমান্ড বা অধীনে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, সব অপরাধের মূল মাদক। পুলিশ মাদক নিয়ে কাজ করে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

    সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদকই বেশির ভাগ অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। তাই যে কোনো মূল্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ দমনে পুরোনো প্রথা বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ফারুক আহমেদ। পুলিশ আসামি গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালেও অপরাধীরা খুব দ্রুত জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি প্রধান করিম। ডিটেনশন দেওয়া একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে বলে একমত পোষণ করেন সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

    বিভিন্ন ইউনিটপ্রধানদের সঙ্গে সভা শেষে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (ক্রাইম কনফারেন্স) যোগ দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ক্রাইম কনফারেন্সে আইজিপি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। তিনি কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান। এ সময় সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে ছিলেন ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় গুজব ও অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান।

    সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী রয়েছে কিনা তা উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

  • জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

    জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। এ সময়ে তিনি ঐতিহাসিক ভাষণসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

    আজ বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বা কার্যক্রমে অংশ নেন, ছয়টি বক্তব্য দেন ও একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চার দিনে প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করা হয়।

    মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ৩০টি কর্মসূচির মধ্যে আটটি ছিল সরাসরি জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ ও সাধারণ পরিষদে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সেশনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন বলেও জানান মাহদী আমিন।

    জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। মাহদী আমিন বলেন, ‘হাই লেভেল মিটিং অন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ ও ‘হাই লেভেল মিটিং অন সি লেভেল রাইজ’—এই দুই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ আরও কার্যকর করা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি ও মাতৃমৃত্যু কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ও এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী রাখার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি জনগণের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাহদী আমিন জানান, এ কর্মসূচিতে প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারে হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুটি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। একদিকে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নারী, তরুণ, যুবক, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের জন্য ‘থ্রি-আর’-রিকভার, রিস্টোর ও রিকনস্ট্রাক্ট নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড, ইউনিভার্সাল কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখা জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়েও ভাষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

  • মৌলভীবাজারে নাঈম হত্যা মামলার ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    মৌলভীবাজারে নাঈম হত্যা মামলার ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রবিউল আউয়ালের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর রেজাউল করিম নাঈমের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আসামিরা। ধারালো ছুরির আঘাতে নাঈম গুরুতর আহত হন। পরে পরিবার ও স্থানীয়রা মিলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৮ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহত নাঈমের বাবা মো: চেরাগ মিয়া ৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

    পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজ বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে খালাস দেয়া হয়।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন— চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার মরহুম মো: ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মো: নুরুল ইসলাম, দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম রনি, আব্দুল আজিজের ছেলে মো: সাইমন ইসলাম ও আব্দুল কাদিরের ছেলে আনোয়ার হোসেন। সাজাপ্রাপ্ত নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

    খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— বর্ষিজোড়া এলাকার ইদন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া, নাজিরাবাদ ইউনিয়নের সাহিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বর্ষিজোড়া এলাকার মো: রমিজ মিয়ার ছেলে সাকির আহমদ ওরফে শাকিল, দণ্ডপ্রাপ্ত মো: নুরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন বেগম ও মেয়ে রুকশানা আক্তার।

    এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রত্যাশা করি, উচ্চ আদালত এই সাজা বহাল রাখবেন। এ,আর

  • কুষ্টিয়ার চামড়াপট্টি স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও ফাইল বন্দি

    কুষ্টিয়ার চামড়াপট্টি স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও ফাইল বন্দি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশ রক্ষায় যখন সরকারের নতুন নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে ঠিক তখন কুষ্টিয়া শহরের একেবারে মধ্যবর্তিস্থানে কাঁচা চামড়ার কারখানায় দিনভর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ আর গুদামজাত করায় এক দুর্গন্ধে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। শহরের এ চামড়াপট্রিটি আবাসিক এলাকা থেকে স্থানান্তর করার জন্য ইতিপুর্বে বহুবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কোন এক অজ্ঞাত কারণে ফাইল বন্দি হয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    সরজমিনে শহরের ওই চামড়া পট্রিটি ঘুরে এমন দৃশই পরিলক্ষিত হয়েছে। চামড়ার দূর্গন্ধযুক্ত পচা বর্জে সেখানকার এলাকাবাসীর জীবন বিষিয়ে তুললেও চামড়াপট্টি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন স্বপ্নই রয়ে গেল। পচা বর্জের দূর্গন্ধে শহরের এই অভিজাত এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে নাকে রুমাল থাকলেও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বরত পরিবেশবিদদের গন্ধ লাগেনা তেমন একটা। দিনের পর দিন নয়, সেই দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই একসময়ের শহরের এক কর্ণারে ফাঁকা জায়গায় গড়ে ওঠে কাঁচা চামড়া শিল্পের চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ার এই চামড়াপট্টি। শুরু থেকে কাঁচা চামড়া শিল্পের জন্য কোন সমস্যা না হলেও বর্তমানে এই কালের আবর্তে গড়ে ওঠা অভিজাত আবাসিক এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে প্রতি নিয়ত। এখানকার পরিবেশ এতটায় দূষিত যে, এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ি ও ব্যাংক গ্রাহকদের ওই এলাকায় ঢুকতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠছে। শহরের অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এই চামড়াপট্টি স্থানান্তরিত করার উদ্দ্যোগ নেই কারো।

    চামড়াপট্টির ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিবেশ, ব্যাংক, অবাধে যাতায়াতের ভাল সুব্যবস্থা পেলে তারা চামড়াপট্টি স্থানান্তরের পক্ষে সব সময়, কিন্তু তাদের এই দায়িত্ব নেবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান। চারটি চামড়া বোঝায় ভ্যান এসে দাঁড়ালো চামড়াপট্টির একটি আড়তের সামনে। একপিচ চামড়া নামানোর সাথে সাথে পচাঁ চিমটি দূর্গন্ধ পুরো এলাকার পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে দোকানগুলোতে আগত ক্রেতা, বিশেষ প্রয়োজনে শহরের আসা সাধারণ মানুষ, কুষ্টিয়া অঞ্চলিক আয়কর অফিসে কর দিতে আসা করদাতা, সোনালী ব্যাংকে আসা গ্রাহক সবাই এক মুহুর্তেই নাকে মুখে রুমাল চেপে ধরলো। থেমে গেলো অনেকটাই তাদের চলার গতি। কোন রকমে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে দ্রুত সরে গেলেন অনেকেই।

    চামড়া নামানো শেষে ব্যবসায়ীরা প্রতি দিনই উৎছিষ্ট পচাবর্জ পানি দিয়ে ধুয়ে নামিয়ে দিচ্ছে পৌরসভার আবদ্ধ ড্রেনে। সুর্যের তাপ বাড়ার সাথে সাথে আবদ্ধ ড্রেনের রক্ত মেশানো ও চামড়ার পচা বর্জ আরো পচে গলে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বেশি। এখানে জন্ম নিচ্ছে কোটি কোটি মশা। এই মশকবাহিনী অতিষ্ট ও বিষিয়ে তুলছে শহরবাসীকে এমন কথাই জানালেন ব্যাংক গ্রাহকরা।

    পোড়াদহ থেকে আয়কর দিতে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, চামড়ার পচাবর্জের চিমটি গন্ধে এই অফিসেই আসা দায়। রিক্সা কিংবা হেটে আসার সময় দূর্গন্ধে বোমি উঠে আসে। সামলানো মুশকিল। সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাব আড়–য়া পাড়ার জনৈক ব্যক্তি জানালেন আরো ভিন্ন কথা, চামড়া পচার গন্ধ্যে ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ পথচারীরা নিত্য মুখোমুখি হওয়ার কারনে শ্বাসকষ্ট সহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পক্ষান্তরে পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিতরা কোন ব্যবস্থা নেয়া কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমূলক এই খাতটিকে বাচিয়ে রাখতে চামড়াপট্টিটি স্থানান্তরে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানাতে কোন উদ্দ্যেগতো নেয়নি আজো। সব কিছু দেখেও তারা না দেখার ভান করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান।

    কুষ্টিয়া চামড়াপাট্টির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলররা জানান, পরিবেশ দূষমনমুক্ত রাখতে চামড়া ব্যবসায়ীরাও বদ্ধপরিকর। দেশ স্বাধীনের অনেক আগে থেকেই একসময়ের শহরের এক কর্ণারে ফাঁকা জায়গায় হাতে গনা কয়েকটি আড়ৎ নিয়ে গড়ে ওঠে চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ার কাঁচা চামড়া শিল্পের এই চামড়াপট্টি। বর্তমানে এ পট্টিতে ছোট বড় দিয়ে প্রায় ৫০টি চামড়ার আড়ৎ রয়েছে।

    এসব আড়তে প্রতি বছর ২লাখ ৮০ হাজার থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত গরু ও মহিষের চামড়া এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ পিচ পর্যন্ত ছাগল ও ভেড়ার চামড়া লবনজাত প্রক্রিয়া করণ করে ঢাকা হাজারীবাগ ও যশোরের নয়াপাড়ার টেনারীতে আমদানী করা হয়।

    এতে প্রতি বছরের কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ও চলমান অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করতে প্রায় ৮০/৯০ কোটি টাকা যোগ হয়।

    তিনি বলেন কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল এই খাতটিকে বাচিয়ে রাখা সবার দায়িত্ব। চামড়া ব্যবসায়ীরাও পরিবেশ রক্ষার পরে লোক। চামড়াপট্টির ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নিরাপত্তা, উপযুক্ত জায়গা ও পরিবেশ, ব্যাংক, সুবিধা, অবাধে যাতায়াতের ভাল সুব্যবস্থা পেলে চামড়াপট্টি স্থানান্তরের পক্ষে সব সময়। কিন্তু তাদের এই দায়িত্ব নেবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান।

    সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয় যদি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে চামড়াপট্টি স্থানান্তর করে কুষ্টিয়া শহরের পরিবেশ রক্ষা করার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে চামড়া ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ জানাবেন।

    তিনি আরো জানান, এক সময় ব্যবসায়ীরা চামড়ার বর্জ যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দিতো। এতে পরিবশে মারাত্বক দূষিত হত। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ময়লা আবর্জনার সাথে চামড়ার উৎছিষ্ট বর্জ নিজ নিজ আড়তের গুছিয়ে রাখা হয় এবং পৌরসভার ময়লা নেয়া গাড়ী এলে গুছিয়ে তুলে দেয়া হচ্ছে। শুরু থেকে চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যা না হলেও বর্তমানে কালের আবর্তে গড়ে ওঠা অভিজাত আবাসিক এলাকার জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বইকি। আর এতে শহরের বাবর আলী গেট থেকে চামড়া পট্রিটি স্থানান্তর করা এখন এ এলাকার মানুষের এক মাত্র দাবী। এ,আর

  • কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠ থেকে বস্তাবন্দী যুবকের লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠ থেকে বস্তাবন্দী যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠের সড়কের পাশ থেকে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা অজ্ঞাত এক যুবকের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, লাশটি দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠের একটি ইট বিছানো (হেরিংবোন) সড়কের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। নির্জন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, কয়েকটি শিয়াল একটি বস্তু ঘিরে টানাটানি করছে। কাছে এগিয়ে গেলে শিয়ালগুলো পালিয়ে যায়। পরে তিনি দেখতে পান, ঘাস ও খড় দিয়ে এক ব্যক্তির লাশ ঢেকে রাখা হয়েছে। লাশটির শরীরের একাংশ শিয়ালে খুবলে খেয়েছে।

    বিষয়টি দেখে তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের মাঠে থাকা অন্য কৃষকেরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ জানতে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন টিমকে ঘটনাস্থলে তলব করা হয়েছে।

    পুলিশ বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘লাশটি আনুমানিক দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো। লাশের মুখমণ্ডলসহ শরীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ চলছে। এ জন্য ঝিনাইদহ থেকে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম আসছে।’

    এ বিষয়ে ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিয়ালের টানাটানিতে লাশটি খড়ের বাইরে বেরিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সে সংবাদ পেয়ে আমরা লাশটি উদ্ধার করি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ এ,আর

  • সিরাজগঞ্জে ৯৪ চোরাই মোবাইলসহ ৮ জন আটক

    সিরাজগঞ্জে ৯৪ চোরাই মোবাইলসহ ৮ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে চোরাই ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে চেকপোস্ট বসিয়ে শ্যামলী পরিবহনের বাসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই আটজনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে ৯৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিরা হলো- চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার সৈয়দপাড়া গ্রামের আলামিন (৩০), পাঠানপাড়া গ্রামের ইসরাফিল রহমান (২৭), বাকলিয়া থানার সিএমপি বাকলিয়া গ্রামের আক্কাস আলী (৩৫), পটিয়া থানার ইসমাইল ফয়েজ রোডের মো. রিদয় (৩৪), নরসিংদীর রায়পুর থানার চর মদিনানগর গ্রামের মো. ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার চকবাস মোল্লাবাড়ী গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা থানার নওয়াতপুর গ্রামের মো. রবিউল (৩৩) এবং মুরাদনগর থানার কামাল্লা গ্রামের আলাউদ্দিন (২৫)।

    যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র বগুড়ার ধুনটের মাসুদ টেলিকমের শাটার কেটে দোকানে ঢুকে ৯৪টি মোবাইল ফোন চুরি করে। পরে তারা শ্যামলী পরিবহনের বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধুনট থানা পুলিশ, সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের সমন্বিত দল যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে চেকপোস্ট বসায়। পরে শ্যামলী পরিবহনের বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে আটজনকে আটক ও তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৯৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানায়, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় ধুনট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তিদের ধুনট থানায় হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • ‘বছরের পর বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারবে ইরান’

    ‘বছরের পর বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারবে ইরান’

    শত্রুর সঙ্গে লড়াই যদি বছরের পর বছরও গড়ায়, তবুও আগের মতো একই গতি ও তীব্রতায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা ইরানের হাতে রয়েছে। ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডারের এক উপদেষ্টা এমনটাই জানিয়েছেন।

    ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি বেলালি বলেছেন, বর্তমানে দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো অপারেশন অত্যন্ত শক্তিশালী ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শত্রুকে এমন শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা বুঝতে পারে যে বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার দিন এবার চিরতরে ফুরিয়ে এসেছে।

    অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে তিনি জানান, একসময়ের ইরান-ইরাক যুদ্ধের দিনে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ছিল অত্যন্ত সীমিত। সে সময় অস্ত্রগুলো এত বেশি দামি ছিল যে পুরো খরচ বহন করা অসম্ভব ছিল, যার কারণে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে গুনে গুনে একটি একটি করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই সীমাবদ্ধতা আজ আর নেই। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা ও নানা অবরোধের বেড়াজাল পেরিয়ে ইরান সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে।

    বেলালি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে শত্রু পক্ষ সামান্য কিছু হামলা চালালেও তার বিপরীতে ইরান অনেক বেশি শক্ত ও জোরালো জবাব দিয়েছে। দেশের সামরিক শক্তি এখন এতটাই মজবুত যে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার দিন শেষ এবং যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতেও ইরান সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

  • গাজীপুরে গাড়ির চাপায় বৃদ্ধা নিহত

    গাজীপুরে গাড়ির চাপায় বৃদ্ধা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে গাড়ি চাপায় গৌরী রানী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরীর রাজবাড়ি রোডের রেল ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত বৃদ্ধা ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার নারায়ণ চন্দ্র দাসের স্ত্রী। তিনি সন্তানদের সাথে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকায় বসবাস করতেন।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গৌরী রানী ওষুধ কেনার জন্য বোর্ডবাজার থেকে গাজীপুর শহরে আসেন। এক পর্যায়ে রাজবাড়ি রোডের রেল ক্রসিং এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় তিনি গুরুতর আহত হন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িটি শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • ১০ কেজি সারের জন্য ৬ ঘণ্টার অপেক্ষা, কৃষকের ক্ষোভ

    ১০ কেজি সারের জন্য ৬ ঘণ্টার অপেক্ষা, কৃষকের ক্ষোভ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাত্র ১০ কেজি সার পেতে সকাল থেকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে ডিলারের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে কৃষকদের। টাকা দিয়েও চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

    কারো জমি পাঁচ কানি, কারো সাত কানি, আবার কারো আমন ধানের আবাদ ১৪ কানি পর্যন্ত। অথচ দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মিলছে মাত্র ১০ কেজি সার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকানে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ভোর থেকেই সার নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

    কৃষক নুরুল আলম বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো সার পাইনি। যারা পেয়েছেন, তারা ১০ কেজি করে পেয়েছেন। আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, তা বলা মুশকিল।

    কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় জমিতে প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদার তুলনায় অল্প পরিমাণ সার পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

    উখিয়া উপজেলা সার ডিলারদের সভাপতি মোহাম্মদ কবির বলেন, এই মৌসুমে পুরো উখিয়ায় নয় হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর বাইরে প্রচুর পরিমাণ পিএফ জায়গাতেও ধান চাষ হয়। সোনারপাড়াসহ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বিশাল সুপারি বাগান। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করেন। এসব আবাদে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, তার পুরোটা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

    তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সার মিয়ানমারে পাচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, কৃষিজমি, বাগান ও আঙিনার চাষাবাদসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি চাহিদা এবং সার পাচারের অভিযোগ, সব মিলিয়ে উখিয়ায় বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সঙ্কট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার। তিনি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কৃষকরা ডিলারদের দোকান থেকে সার নিচ্ছেন। সার সঙ্কট নিরসনে আমরা কাজ করছি। কৃষকদের মধ্যে যারা একেবারেই সার পাননি, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার দেয়া হবে। আশা করছি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

    কৃষকদের প্রশ্ন, আমন ধানের মৌসুমে যেখানে সময়মতো সার প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ১০ কেজি সার পেতেই যদি ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে বড় আকারের আবাদ করা কৃষকের প্রয়োজন মিটবে কিভাবে?

    উখিয়ার কৃষকদের দাবি, সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বরাদ্দের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সার পাচার ও অবৈধ মজুতের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ,আর

  • পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি করছে ইরান

    পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি করছে ইরান

    ইরান আবারও পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে এই বার্তা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত রোববার আবুধাবিতে দুই নেতার বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।

    ইসরাইলি এক কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যের মধ্যে ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি পাহাড়ি এলাকায় নতুন নির্মাণকাজের তথ্যও ছিল। স্থানটি তেহরান থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় এই স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেখানে বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

  • আবার ইইউতে ফিরছে ব্রিটেন?

    আবার ইইউতে ফিরছে ব্রিটেন?

    যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করার মতো একটি বিকল্প হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।

    বিবিসি ব্রেকফাস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ব্রেক্সিট চুক্তি কল্যাণের চেয়ে বেশি ক্ষতি ডেকে এনেছে। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের জন্য কোন কাজটি করা সম্ভব, তা তিনি খতিয়ে দেখতে চান।

    এর আগে, মঙ্গলবার লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে চলতি বছরের শেষের দিকে একটি শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরালো করার উপায় খোঁজার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

    তার এই পদক্ষেপে আগামী সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হতে পারে। কনজারভেটিভ পার্টি এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে ‘ব্রেক্সিট আমলের পুরনো লড়াই আবার উসকে দিয়ে পুরনো ক্ষত নতুন করে খোলার’ চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহাম আরো বেশ কিছু নীতিমালার কথা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ২০৩০ সাল থেকে পেনশন ট্রিপল লকের নিয়মে পরিবর্তন এনে একটি জাতীয় পরিচর্যা বা কেয়ার সার্ভিস চালু করা এবং আগামী লেবার ইশতেহারে নির্বাচনি সংস্কারের পরিকল্পনা যুক্ত করা।

    এছাড়া বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ প্রোগ্রামকে বার্নহাম জানিয়েছেন, আসছে শীতে যুক্তরাজ্য আরেকটি জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে, এমন কথা বলা মোটেও অতিরঞ্জিত হবে না। সাধারণ মানুষের বিলের বোঝা কমাতে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন বলেও জানান।

  • মধ্যপ্রাচ্যকে সতর্ক করল ইরান!

    মধ্যপ্রাচ্যকে সতর্ক করল ইরান!

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এই অঞ্চলে দখলদার ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করছে।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসরাইলের ইরানে সামরিক আগ্রাসন এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও লেবাননে দখলদারত্ব ও সংঘাত আরো বাড়ার কারণে পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক ও স্পর্শকাতর সময়গুলোর একটি পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘শত শত হাজার নিরপরাধ মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত এবং আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি’ একজন ব্যক্তির এই অঞ্চলে উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক।

    ইরান বলেছে, ইসরাইলের সঙ্গে ইরান ও অঞ্চলটির অন্যান্য দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বারবার দেওয়া হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সফরের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে অঞ্চলটির সব দেশের সচেতন থাকা উচিত। এ ধরনের উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়। এমন কোনো পদক্ষেপ, যা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তিকে অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, শেষ পর্যন্ত সব আঞ্চলিক দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বিভাজন, অনিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

    এ কারণে অঞ্চলটির সরকারগুলোর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ‘ইসরাইলি সরকারের ধ্বংসাত্মক উপস্থিতির’ জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার এবং কোনো আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

  • ভক্সওয়াগন কারখানায় ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদনের বিরোধিতা জার্মান লেফট পার্টির

    ভক্সওয়াগন কারখানায় ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদনের বিরোধিতা জার্মান লেফট পার্টির

    জার্মানির বিরোধী দল দ্য লেফট পার্টি জানিয়েছে, ভক্সওয়াগনের একটি গাড়ি তৈরির কারখানাকে ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদনের কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও জনসমক্ষে লড়াই করবে। খবর আনাদোলুর।

    লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের লেফট পার্টির সহসভাপতি থরবেন পিটার্স আনাদোলুকে বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ও জনপর্যায়ে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেব।”

    তিনি বলেন, “চুক্তিগুলো সম্পর্কে পূর্ণ স্বচ্ছতা চাই। বেসামরিক শিল্প থেকে অস্ত্র উৎপাদনে রূপান্তরের বিরোধিতা করছি। একই সঙ্গে কর্মী ও শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করে বেসামরিক শিল্পনীতিকে এগিয়ে নিতে চাই।”

    সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভক্সওয়াগন জানায়, তারা জার্মানির ওসনাব্রুক কারখানাটি লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য এবং তেল আবিবভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অরেলিয়াস ক্যাপিটালের কাছে বিক্রি করছে।

    ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের সঙ্গে একটি প্রাথমিক প্রকল্পকে কারখানাটির প্রথম শিল্পভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    তবে কারখানাটি বিক্রি করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে রূপান্তর করাই কর্মসংস্থান রক্ষার একমাত্র পথ—ভক্সওয়াগনের এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে লেফট পার্টি।

    পিটার্স বলেন, “কর্মীদের বলা হচ্ছে, তাদের বেকারত্ব ও অস্ত্র উৎপাদনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। আমরা এই মিথ্যা বিকল্প মেনে নেব না।”

    তিনি আরও বলেন, “ভালো শিল্পনীতি বেসামরিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পরবর্তী অস্ত্রের অর্ডারের ওপর শান্তিকে নির্ভরশীল করে না।”

  • আস্থা সংকটে ভারতের নির্বাচন কমিশন

    আস্থা সংকটে ভারতের নির্বাচন কমিশন

    ভারতের আমলাতন্ত্রে ৩৬ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় জুড়ে জ্ঞানেশ কুমার কঠিন কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য সুনাম অর্জন করেছিলেন। তবে বর্তমানে ৬২ বছর বয়সী কুমার নিজের প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে এক ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন।

    ভারতের সরকারের সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কিছু দায়িত্ব সামলানোর পরও দীর্ঘদিন জনসমক্ষের বাইরে কাটানো একজন আমলার জন্য এটি একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। প্রায় এক বছর ধরে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে কুমার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ নামে দেশের ভোটার তালিকা সংশোধনের এক ব্যাপক উদ্যোগ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন।

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার। ছবি: সংগৃহীত।
    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার।

    গত বছর বিহার থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধনের এমন চর্চা বর্তমানে ভারতের অধিকাংশ স্থানে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের মোট ভোটারের প্রায় ১৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, নকল এবং অযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বৈধ ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তবে বিরোধী দলগুলো ও অধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, এর ফলে বৈধ ভোটাররা ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। তবে কুমার এবং কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই প্রক্রিয়াটি বিকৃত করার সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    চলতি সপ্তাহে বিতর্কটি কুমারের নিজের প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই রূপ নেয়। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি তদন্তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে, তার দুই সহকর্মী নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী তাদের অজান্তে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, এই মতবিরোধগুলো এসআইআর-এর মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ছিল— যার মধ্যে রয়েছে কীভাবে ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়া হচ্ছে, ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়ার পরিবর্তন এবং কোটি কোটি ভোটারের তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের সুযোগ।

    তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে এই ধরনের অভিযোগগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এখানে সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। কুমার ব্যক্তিগতভাবে এই তদন্তের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তদন্তের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কমিশন প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতবিরোধ অস্বীকার করেনি, তবে কোনো অভ্যন্তরীণ ফাটলের কথা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে যে মতের পার্থক্য স্বাভাবিক আলোচনার অংশ এবং গত এক বছরের সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল।

    পরবর্তীতে কুমার, সান্ধু এবং জোশী বৈঠক করেন এবং একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। কমিশন তিন কমিশনারের একসাথে একটি ছবিও প্রকাশ করে। তবে এই প্রতিক্রিয়া বিতর্কটির অবসান ঘটাতে পারেনি। গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলো সংসদে কুমারের অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দেশব্যাপী আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু নির্বাচন কমিশনের স্পষ্টীকরণকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের সততার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।

    কুমারের অতীত কর্মজীবন সম্পর্কে জানা যায়, তিনি উত্তরপ্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং আইআইটি কানপুরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার পর ১৯৮৮ সালে আইএএস-এ যোগ দেন। কেরালা ক্যাডারে তাঁর প্রাথমিক কর্মজীবনে এর্নাকুলামের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর হিসেবে কোচির ওয়াটারফ্রন্ট পুনর্বিকাশ অন্যতম একটি সফল প্রকল্প ছিল।

    পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জম্মু ও কাশ্মীর বিভাগে যোগ দেন এবং ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের খসড়া তৈরিতে জড়িত ছিলেন।

    এছাড়া ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের তদারকি ট্রাস্ট গঠনে তিনি নেতৃত্ব দেন। প্রাক্তন সহকর্মীরা তাকে অত্যন্ত পরিশ্রমী, বিস্তারিত বিষয়ে গভীর মনোযোগী এবং চাপের মুখে শান্ত থাকার ক্ষমতার জন্য প্রশংসা করেছেন।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবসর নেওয়ার পর মার্চ মাসে তাকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন। ২০২৩ সালের নতুন আইনের অধীনে তিনি নিযুক্ত প্রথম সিইসি, যে আইন নিয়ে বিরোধী দলগুলো আপত্তি তুলেছিল এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিবেচনাধীন রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক সংস্কার এবং ‘ইসি ২.০’ উদ্যোগের সূচনা করলেও এসআইআর সংক্রান্ত বিতর্কটিই তার মেয়াদকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে।

    কমিশনের অভ্যন্তরে মতবিরোধ এবং এসআইআর সংশোধনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কমিশন দাবি করেছে যে সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে এবং আগামীতে সভার এজেন্ডা ও কার্যবিবরণী পূর্বেই প্রকাশের নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এই বিতর্ক কুমারের ভূমিকা ও ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

  • আরো এক উগ্র প্রজন্মের উত্থান ঘটছে ইসরাইলে

    আরো এক উগ্র প্রজন্মের উত্থান ঘটছে ইসরাইলে

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলে আদর্শগতভাবে উগ্র একটি নতুন প্রজন্মের উত্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

    কঠোরপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি শিথিলভাবে সংগঠিত আন্দোলন ফিলিস্তিনিদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে। ‘হিলটপ ইয়ুথ’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীর অধিকাংশ সদস্যই তরুণ। তাদের মধ্যে পশ্চিম তীরের বাইরের এলাকার কিছু স্কুলছুট তরুণও রয়েছে।

    ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত এই আন্দোলনের লক্ষ্য ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করা। এ জন্য তারা প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলি বসতিগুলোর বাইরে পাহাড়ের চূড়ায় অনুমোদনহীন নতুন বসতি বা ‘আউটপোস্ট’ গড়ে তোলে। এসব স্থাপনা সাধারণত অস্থায়ী তাঁবু দিয়ে তৈরি করা হয়।

    ১৯৯০-এর দশক থেকেই পশ্চিম তীরে মূলধারার বাইরে বসবাসকারী ইসরাইলিদের বিভিন্ন গোষ্ঠী রয়েছে। তবে নতুন প্রজন্মের এই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের সমর্থনকারী ইহুদি কর্মীদের সংগঠন ‘চিলড্রেন অব আব্রাহাম’-এর ডভির ওয়ারশাভস্কি।

    মঙ্গলবার ভোরে ১০০-এর বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি গ্রাম জালুদে হামলা চালায়। এতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন।

    ঘটনার সময় ইসরাইলি সেনারা একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে সহায়তা করছিল। বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পরিবারটি আগে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

    ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মসজিদ ও গির্জায় হামলার ঘটনাও বেড়েছে। এর জেরে ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছে।

    সম্প্রতি ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, গত ১২ মাসে এই গোষ্ঠী ১৫৮টি ফিলিস্তিনি গ্রামে ৬৩৫টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৪০৯ জন ফিলিস্তিনি আহত এবং ৪৩৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়। তবে এএফপি এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

    এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের খুব কম ক্ষেত্রেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হাতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে ‘প্রায় ১৫০ জন কিশোর অপরাধীর’ কাজ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ফিলিস্তিনিদের সহিংসতা উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন।

    ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখলে রেখেছে। এই ভূখণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।

    ইসরাইলি সরকার প্রায় ১৪০টি বসতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব বসতি অবৈধ। ইসরাইলি পর্যবেক্ষক সংগঠন পিস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি আইনেও অবৈধ এমন খামার ও ছোট বসতির সংখ্যা এখন প্রায় ৪০০।

    বহু বছর ধরে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা ইসরাইলি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৫ সালে ইসরাইল গাজা উপত্যকার ২১টি এবং পশ্চিম তীরের চারটি বসতি ভেঙে দেওয়ার পর এই আন্দোলন নতুন গতি পায়।

    একতরফাভাবে ওই বসতিগুলো থেকে ইসরাইলিদের সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে বসতি আন্দোলনের পুরোনো নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়। হাজার হাজার ইসরাইলিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ আন্দোলনে নতুন একটি পর্যায়ের সূচনা করে।

    এরপর আরো বেশি আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারী সামনে আসে। তারা বসতি আন্দোলনের পুরোনো কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করে। পুরোনো কৌশলের মূলনীতি ছিল—আরও বেশি মানুষ নিয়ে আরও বেশি বসতি গড়ে তোলা।

    এর বিপরীতে নতুন প্রজন্ম ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ছোট ছোট অবৈধ বসতি ও কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়। এই কৌশলকে বলা হয় ‘সর্বোচ্চ জমিতে সর্বনিম্ন মানুষ’।

    ভেড়া ও ছাগলের পাল চরানোর মাধ্যমে ‘হিলটপ ইয়ুথ’ ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের মতো আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এসব সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব অর্থের কিছু অংশ অবৈধ খামার ও বসতিতে ব্যয় করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

    ‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, অবৈধ হওয়ার কারণে সরকার সরাসরি এসব স্থাপনায় অর্থ দিতে পারে না। তবে ‘বাকি সবকিছুর জন্য তারা অর্থ দেয়’—অর্থাৎ সড়ক, টহল গাড়ি, নিরাপত্তা ক্যামেরা, সৌর প্যানেল ও ড্রোনের মতো অবকাঠামোতে অর্থ ব্যয় করা হয়। এসব বসতিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

    তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত অনুদান ও অনলাইন গণ-অর্থসংগ্রহের মাধ্যমেও কিছু অর্থ আসে।

    সেনাবাহিনীর সুরক্ষার অভিযোগ

    ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের কয়েকজন নেতা ‘হিলটপ ইয়ুথ’ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। গত বছরের শেষ দিকে পশ্চিম তীরের তিনটি ইসরাইলি স্থানীয় পরিষদের প্রধান যৌথ বিবৃতি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, এই গোষ্ঠী বৃহত্তর বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে না।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলা এবং এরপর গাজা ও অন্যান্য ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি নিয়মিত সেনাদের একটি অংশ পশ্চিম তীর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এর ফলে বর্তমানে ইসরাইলি বসতিগুলোর আশপাশে টহল দেওয়া সেনাদের মধ্যে অনেকেই রিজার্ভ সেনা, যারা নিজেরাও বসতি স্থাপনকারী।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সেনাদের তুলনায় এসব রিজার্ভ সেনা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ বা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কম আগ্রহী।

    ‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, ‘সেনাবাহিনী আসলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না। তারা তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে চায় না।’

  • নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বাড়বে যেভাবে

    নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বাড়বে যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত জনবলের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না বলে জানা গেছে।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থ এবং শিক্ষার উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার মধ্যে মঙ্গলবার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রয়োজন নেই বলে মত দিয়েছেন অর্থ বিভাগের ওই কর্মকর্তা। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত গেজেটই এমপিওভুক্ত জনবলের জন্য প্রযোজ্য হবে।’অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক গেজেট জারি হয়েছে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত জনবল সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় ভাতা পান না। এ বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তাদের বেতন বৃদ্ধি হবে। ভাতাগুলো আগের মতোই থাকবে। বিষয়গুলো নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কাজ করবে।’

    নতুন পে-স্কেলে নিজের বেতন বৃদ্ধির হিসাব করবেন যেভাবে

    নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই হিসাব-নিকাশ চলছে। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত একজন কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত স্কেলের তথ্যগুলো প্রয়োজন হবে।

    নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনে বেতন নির্ধারণের জন্য দুটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। পুরোনো বেতন স্কেলের একেবারে শুরুতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে হিসাব অপেক্ষাকৃত সহজ। আর যারা স্কেলের মাঝামাঝি বা ওপরের কোনো ধাপে বেতন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান বেতনের ব্যবধান হিসাব করে নতুন স্কেলে তা সমন্বয় করতে হবে।

    স্কেলের শুরুতে থাকা কর্মচারীদের বেতন যেভাবে নির্ধারিত হবে

    কোনো কর্মচারী যদি ৩০ জুন পর্যন্ত তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বা প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।

    ধরা যাক, ১৬তম গ্রেডের একজন কর্মচারী ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের শুরুতে ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১৬তম গ্রেডের স্কেল যদি ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারিত হয়, তাহলে ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে পুরোনো বেতন ও নতুন বেতন স্কেলের শুরুর ধাপের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় করা হবে।

    স্কেলের মাঝামাঝি ধাপে থাকা কর্মচারীদের হিসাব

    কোনো কর্মচারী যদি তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন এবং তার বর্তমান মূল বেতনের মধ্যে ব্যবধান বের করতে হবে।

  • পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে

    পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের পদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দিতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে প্রত্যাশিত ছাঁটাইয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে বলে মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

    মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন পোস্ট, ফক্স নিউজ ও এবিসি নিউজকে জানান, বুধবার ভার্জিনিয়ার মেরিন কোর বেস কোয়ান্টিকোতে ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের পদ কমানোর ঘোষণা দিতে পারেন হেগসেথ।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক ফক্স নিউজ ব্যক্তিত্ব হেগসেথ কঠোরভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বরখাস্ত ও পদাবনতি দিয়ে তিনি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। এসব পদক্ষেপে নারী ও বর্ণগত সংখ্যালঘু কর্মকর্তারা প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পরও হেগসেথ এপ্রিলে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন।

    যুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের দুই সদস্য—চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস ব্রাউন জুনিয়র এবং নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তি—দুজনকেই বরখাস্ত করা হয়।

    এ ছাড়া অবসর ও পদত্যাগের মাধ্যমে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও দায়িত্ব ছাড়ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হেগসেথের সঙ্গে বারবার বিরোধের পর চলতি মাসের শুরুতে তিনি পদত্যাগ করেন।

    হেগসেথের এই ঘোষণার সম্ভাব্য সময় এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করছে। সম্প্রতি পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আগের ঘোষণার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগের স্বীকারোক্তির তুলনায় বেশি অস্ত্র হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নতুন করে কীভাবে এই ছাঁটাই করা হবে, তা এখনো ‘স্পষ্ট নয়’। যুদ্ধ চলাকালে সামরিক নেতৃত্বে এত বড় ধরনের কাটছাঁট দৈনন্দিন সামরিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাবে কি না, তাও অনিশ্চিত। এ বিষয়ে এএফপির মন্তব্যের অনুরোধে পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি।

  • মার্কিন ভোটারদের চিঠি দিল ইরান

    মার্কিন ভোটারদের চিঠি দিল ইরান

    আসছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের হটিয়ে দিতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ আহ্বান জানিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে খোলাচিঠি লিখেছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)।

    ইরানের প্রতিবেশী দেশ ইরাকের ঘাঁটিগুলো থেকে আজ বুধবারের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করার কথা। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর সরে এল যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এভাবে সরে আসাকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের রাশ টানতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে বলে তিনি আশা করছেন।

    এর মধ্যে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে এ চিঠি লিখেছে আইআরজিসি। গতকাল মঙ্গলবার ২৬ পাতার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করুন ও বর্তমান নেতাদের দপ্তর থেকে হটান। সেই সঙ্গে ইসরায়েলকে সমর্থন ও বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আইআরজিসির এ চিঠি মার্কিন ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটা স্পষ্ট নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভোটার হয়তো ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিটি দেখবেন না। তবে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চিঠিতে এমন কিছু বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, যা আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি—উভয়ের জন্যই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। এমনটা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

    চিঠিতে আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী দুষ্ট, প্রতারক আর সহিংস রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন। আপনার রাজনীতিবিদেরা যেন বুঝতে পারেন, পৃথিবী বদলে গেছে—এটা নিশ্চিত করুন।’

    ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না তিনি। সেই সঙ্গে চলমান সংঘাতের রাশ টানা ও মূল্যস্ফীতি কমানোর কথাও বলেছিলেন তিনি। কথা রাখেননি ট্রাম্প। ক্ষমতায় এসে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

    ট্রাম্পের শুরু করা ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। যুদ্ধের রেশ ইরান ছাড়িয়ে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও পৌঁছে গেছে।

    ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর বিষয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এ জরিপে আরও দেখা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করছেন ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।

    ২০১৬ সালে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রচলিত অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ইরাকে মার্কিন অভিযানকে ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। এরপরও আজ বুধবার ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় নেওয়া হয়েছিল।

    এর মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক আগ্রাসনের ২৩ বছর পর দেশটি থেকে পুরোপুরি সরে এল যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে ইরাকের দীর্ঘদিনের শাসক সাদ্দাম হোসেনের পতন হয়। ইরাকজুড়ে দেখা দেয় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা। একপর্যায়ে দেশটিতে উত্থান ঘটে ইসলামিক স্টেটের (আইএস)।

  • আইফেল টাওয়ারের প্রধান পদত্যাগ করছেন, কারণ কী

    আইফেল টাওয়ারের প্রধান পদত্যাগ করছেন, কারণ কী

    নারী কর্মীদের সরিয়ে তাঁদের জায়গায় পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পদ ছাড়ছেন আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটির প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক ব্রঁকো রুইভো। চলতি বছরের শেষেই তিনি পদ ছাড়বেন।

    প্যারিসের বিখ্যাত এই স্থাপনা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা রুইভো বছরের শেষে সরে দাঁড়াবেন।

    একটি হিন্দুধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদলের আইফেল টাওয়ার সফরকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। চলতি মাসের শুরুতে বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (বিএপিএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। ওই সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে তাঁদের জায়গায় পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    পরে এ ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে এসইটিই। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তদন্তে সফরটি আয়োজনের ক্ষেত্রে ‘কার্যক্রম পরিচালনায় ত্রুটি ও ঘাটতি’ পাওয়া গেছে। এ কারণে নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার মতো ‘অগ্রহণযোগ্য’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

    বিএপিএস পুরুষ ও নারীদের কঠোরভাবে আলাদা রাখার নীতি অনুসরণ করে। তাদের মন্দিরের কার্যক্রম ও ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের পৃথক ব্যবস্থা আছে।

    এসইটিই তখন জানিয়েছিল, সফরটি এমনভাবে আয়োজনের অনুরোধ করেছিল প্রতিনিধিদলটি, যাতে ‘নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ’ সীমিত রাখা যায়। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছিল, ‘এ ধরনের শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি।’

    আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের একটি ইউনিয়নের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নারীদের তাঁদের কর্মস্থল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল।’ এতে তাঁরা ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।

    কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটি আইফেল টাওয়ারে অবস্থানকালে নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যেতে বা সেসব এলাকা দিয়ে চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে কর্মীরা ধর্মঘটে গেলে দর্শনার্থীদের জন্য আইফেল টাওয়ার বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রান্সের রাজনীতিকেরাও এ ঘটনার সমালোচনা করেন।

    কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত কারণে আইফেল টাওয়ার খুলতে দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। ফ্রান্সের প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, ৭ সেপ্টেম্বর

    কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত কারণে আইফেল টাওয়ার খুলতে দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

    ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে বলেন, ‘বিদেশি দর্শনার্থীদের দাবির সঙ্গে তাল মেলাতে নারীদের এক পাশে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হবে, আমি তা মেনে নিতে পারি না।’

    প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার ঘটনাটিকে ‘অযৌক্তিক, অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এ বিষয়ে দুটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেন।

    এসইটিইর চেয়ারম্যান অ্যারিয়েল ওয়েইল গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অ্যারিয়েল ওয়েইল বলেন, ‘নেতৃত্বের পরিবর্তন যেন সবচেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য আগামী কয়েক মাসে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারব।’

  • সোনারগাঁওয়ে যুবকের লাশ উদ্ধার, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    সোনারগাঁওয়ে যুবকের লাশ উদ্ধার, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তার বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এশিয়ান হাইওয়ের (ঢাকা বাইপাস) কাঁচপুরের
    চেঙ্গাইন এলাকায় অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত যুবকের নাম হাবিবুল্লাহ শেখ নাসিম (২৩)। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দেওভোগ এলাকার মোশারফ হোসেন ও নাজমা বেগমের ছেলে।

    নিহতের পরিবার জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত থেকে হাবিবুল্লাহ নিখোঁজ ছিলেন।

    সোনারগাঁ থানার তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম জসিম উদ্দিন বলেন, এশিয়ান হাইওয়ের চেঙ্গাইন এলাকায় অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে।

    তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ওই যুবকের বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

    পুলিশ আরো জানায়, লাশের পকেট থেকে পাওয়া পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে নিহতের ছোট বোন মিলি আক্তার লাশটি শনাক্ত করেন।

    নিহতের ভাগিনা সিফাত বলেন, হাবিবুল্লাহ দেওভোগ এলাকার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। প্রায় দেড় বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে বাবার সাথে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে বাসার কাউকে কিছু না বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

    সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • গোপালগঞ্জে পরিত্যক্ত মিলে তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জে পরিত্যক্ত মিলে তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ধানকল থেকে ইমাম রেজা (১৮) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত তরুণের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইমাম রেজা বরিশাল জেলার জহিরুল মৃধার ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের সাথে মামাবাড়িতে থাকতেন। গোপালগঞ্জ শহরের একটি শাড়ির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন ইমাম।

    বুধবার সকালে উলপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ধানকলের ঘরের জানালার সাথে বেল্ট দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় ইমামের লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের সময় ইমামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ দেখা যায়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    এদিকে, ইমাম রেজাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার মা আফি বেগম। তিনি বলেন, তার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর সাথে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ,আর

  • মরক্কোয় প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা আল মানসুরি

    মরক্কোয় প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা আল মানসুরি

    মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মারাকেশের মেয়র ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরিকে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল জয়ী হওয়ার পর রাজকীয় মন্ত্রিসভা এ ঘোষণা দেয়।

    আল মানসুরির মধ্য-ডানপন্থী অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) নির্বাচনে ৩৯৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন লাভ করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে তারা ৩১টি আসন বেশি পেয়েছে। তবে এ নির্বাচন গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রাজকীয় মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী আল মানসুরিকে ‘নতুন সরকার গঠনের’ দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি এর আগে আবাসনমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

    নিয়োগের পরপরই টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে আল মানসুরি বলেন, তার নিয়োগ ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয়।’

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পিএএমকে অন্যান্য দলের সাথে জোট সরকার গঠন করতে হবে। তবে বড় ধরনের নীতিগত বিষয়ে দেশটির রাজা এখনো ব্যাপক ক্ষমতা রাখেন।

    নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজ আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। আমরা প্রথমে আমাদের দলের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু করব। এরপর সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করব।’

    ২০০৮ সালে পিএএম প্রতিষ্ঠার বছরই আল মানসুরি দলটিতে যোগ দেন। দেশটির ইসলামপন্থী আন্দোলনের মোকাবেলায় ভারসাম্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বর্তমান রাজকীয় উপদেষ্টা ফুয়াদ আলি আল হিম্মা দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    আল মানসুরি ২০০৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন। ছয় বছর পর তিনি ওই পদ হারান এবং ২০২১ সালে আবারো মেয়র নির্বাচিত হন।

    আল মানসুরির সরকারকে বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পাশাপাশি বিশেষ করে তরুণদের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলা দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বৈষম্যসহ বেশ কয়েকটি জরুরি সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।

    সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় কয়েক সপ্তাহ আগে হাজার হাজার প্রধানত তরুণ মরক্কোর অভিবাসী হঠাৎ প্রবেশের ঘটনার পর। ওই সঙ্কট দেশটির তরুণদের আর্থসামাজিক হতাশার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

    এর এক বছর আগে জেন-জি প্রজন্মের একটি প্রতিবাদ আন্দোলন রাস্তায় নেমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার দাবি জানিয়েছিল।

    আল মানসুরি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি সচেতন যে এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং মরক্কোর জনগণ, বিশেষ করে তরুণদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এ কারণেই আমরা এমন একটি কর্মসূচি গ্রহণ করব, যা নাগরিকদের উদ্বেগের বিষয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান দেবে।’

    পিএএম পাঁচ বছরের মেয়াদে গড়ে বার্ষিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি এবং কমপক্ষে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    নির্বাচনে পিএএমের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল র‌্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস (আরএনআই)। দলটি বিদায়ী জোট সরকারের নেতৃত্বে ছিল এবং ৬৬টি আসন পেয়েছে।

    ডানপন্থী ইস্তিকলাল পার্টি ৬৫টি আসন নিয়ে তৃতীয় হয়েছে। আর ইসলামপন্থী বিরোধী দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) পেয়েছে ৫৪টি আসন।

    ২০২১ সালের নির্বাচনে মাত্র ১৩টি আসন পাওয়ার পর এবার পিজেডি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে দলটি তাদের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় করেছিল।

    দলটির প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানে এই ফলকে ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি পিএএমের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। পিএএম ‘জালিয়াতিতে কলঙ্কিত’ বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

  • দেওয়ানগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় আইনজীবী গ্রেফতার

    দেওয়ানগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় আইনজীবী গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় আব্দুর রশিদ (৫০) নামের এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভার তেঁতুলতলা মোড় এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার আইনজীবী আব্দুর রশিদ পৌরসভার কাচারিপাড়া গ্রামের মরহুম ইয়ারউদ্দিনের ছেলে।

    দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, গ্রেফতার আইনজীবী আব্দুর রশিদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দেওয়ানগঞ্জ পৌর শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে একটি বিস্ফোরক মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়। এ,আর

  • নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

    নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

    যেকোনো সম্ভাব্য সঙ্ঘাতের হুমকি মোকাবেলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং আরেকটি সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে নতুন সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি।

    একই সময়ে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরের নিন্দা জানিয়েছে এবং এ সফরের পরিণাম সম্পর্কে আঞ্চলিক দেশগুলোকে ‘সতর্ক’ করেছে।

    এদিকে, আইআরজিসির তিনজন মহাকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগের কমান্ডারের ব্যাপারে তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির একজন মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রসম্ভার সমৃদ্ধ করা অব্যাহত রাখবে এবং ‘যেকোনো সম্ভাব্য সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে নতুন অস্ত্র ব্যবহারের সূচনা করবে।’

    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ‘ইরনা’ এই সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘ইরান তার প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ও গতিবিধি সম্পর্কে অজ্ঞ নয়, তারাও পর্যবেক্ষণ করছে।’

    গত কয়েক দিনে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তারা সঙ্ঘাতের সীমানা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

    তারা আরো দাবি করেছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে সঙ্ঘাতের সময় তারা প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।

    এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চলমান থাকায় এখনো কার্যত অচল হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। ফলে জ্বালানি আমদানির বিকল্প রুট হিসেবে সিরিয়ার একটি বন্দর থেকে ইরাক জ্বালানি স্থানান্তর শুরু করেছে।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শক্তি ও জ্বালানির তীব্র চাহিদা মেটাতে ইরাকি জ্বালানি ট্যাংকারগুলো সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে পেট্রোল লোড করেছে।

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে, যার ফলে দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজে বের করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে এবং জ্বালানির দামও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

    যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুতকারী অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারার অধীনস্থ সিরিয়া এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছে।

    সেই সাথে অন্যান্য দেশের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে বানিয়াস বন্দর উন্মুক্ত করে দিয়েছে দেশটি। এখন আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারগুলোও এ বন্দর ব্যবহার করেছে।

    ইরাক গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলার জন্য বানিয়াস রুট ব্যবহার করে সড়কপথে ফুয়েল ট্রাকের মাধ্যমে বিদেশী বাজারে তেল রফতানি করেছে।

    এখন ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে তিন মাসের একটি চুক্তির ভিত্তিতে বাগদাদ সিরিয়ার মাধ্যমে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে। এ রুটে ইরাকের আমদানিকৃত পেট্রোলের প্রথম চালান বৃহস্পতিবার ইরাকে পৌঁছেছে।

    এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিনজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ব্যাপারে তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির মঙ্গলবারের এ ঘোষণায় উল্লেখ করা নামের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ মেহরাবির নাম, যিনি আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্সের জিহাদ গবেষণা সংস্থার প্রধান।

    দ্বিতীয় নাম আহমেদ জাফরাবাদি, যাকে আইআরজিসির এরোস্পেস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এটি আইআরজিসির এরোস্পেস ফোর্সের স্পেস কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি জাফরাবাদিকে নির্দেশ করছে নাকি ঘোষণায় উল্লিখিত অন্য কোনো ব্যক্তিকে, তা স্পষ্ট নয়।

    আলি আসগর নওরোজি, যিনি রেভোলিউশনারি গার্ডসের প্রস্তুতি ও সহায়তার ডেপুটি ডিরেক্টর, তিনি এ ঘোষণার তৃতীয় ব্যক্তি যার পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার মতো তথ্যের জন্য পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে ‘যুক্ত’ ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

    এ সনদের তালিকা মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল ঘোষণা করেছে এবং এর মধ্যে ইরান, মেক্সিকো, চীন ও পাকিস্তানের নাগরিকদের নাম রয়েছে।

    ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর, যা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে যাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে, যার মধ্যে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও রয়েছে।

  • ডিবি-র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি, চক্রের সাথে যুক্ত চাকরিচ্যুত পুলিশ-সেনা সদস্য

    ডিবি-র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি, চক্রের সাথে যুক্ত চাকরিচ্যুত পুলিশ-সেনা সদস্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও এর আশপাশের সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ছিনতাই, অপহরণ করে অর্থ আদায়, লুটের মতো বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

    এসব ঘটনায় কয়েকটি চক্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের চাকরিচ্যুত কিংবা বরখাস্তকৃত কতিপয় সদস্য রয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আশফাক রাসেল নয়া দিগন্তকে জানান, কখনো ডিবি, আবার কখনো র‌্যাব পরিচয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সাধারণ মানুষের সাথে এসব প্রতারণা করা হয়। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগেভাগেই বেশকিছু প্রতারক চক্রকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একইসাথে প্রতারকদের এসব অপরাধ যেন কোনোভাবেই সঙ্ঘটিত হতে না পারে, সে লক্ষ্যে ডিবির টিম সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এদিকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ছদ্মবেশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সিলভার রঙের টয়োটা মাইক্রোবাস, একটি লাল রঙের হিরো এক্সব্লেড মোটরসাইকেল, তিনটি র‍্যাবের কটি, দু’টি ওয়াকিটকি, একটি প্লাস্টিক ও একটি মেটালের খেলনা পিস্তল, দুই জোড়া হ্যান্ডকাফ, র‍্যাবের লোগোযুক্ত তিনটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি ইলেকট্রিক শক মেশিনসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন— শরীয়তপুরের সখিপুর এলাকার ফরহাদ হোসেন (৪০), চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য নওগাঁর বদলগাছি এলাকার নাদিম মাহমুদ শান্ত ওরফে রায়হান হোসেন (৩০), চাকরিচ্যুত সেনা সার্জেন্ট রাজবাড়ীর পাংশা এলাকার মিজানুর রহমান (৪১), বরগুনা সদরের আব্দুল আলীম (৩২), মাগুরা সদরের সাকিবুর জামান মেহেদী (২৬), ভোলার চরফ্যাশনের মেহেদী হাসান সুজন (৩৫) ও বরগুনা সদরের গাড়িচালক আবু হানিফ (৩২)।

    একইদিন সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মেনহাজুল আলম।

    তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, র‍্যাব পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর স্বর্ণ ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে একদল ডাকাত সিংপাড়ার দিকে যাচ্ছে। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ী-ইছাপুরা সড়কের হরিবাড়ী ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসায়।

    একপর্যায়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে সন্দেহভাজন গাড়ি দু’টিকে থামার সঙ্কেত দেয়া হয়। এ সময় মাইক্রোবাসের চালকের পাশের আসনে থাকা এক ব্যক্তি র‍্যাবের কটি পরা অবস্থায় নিজেকে র‍্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দেন এবং ওয়াকিটকি দেখান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ডিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি সদস্যরা ধাওয়া করে সাতজনকেই আটক করেন।

    পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, শ্রীনগর বাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রায় দেড় কেজি স্বর্ণ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাকে র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুট করাই তাদের পরিকল্পনা ছিল।

    জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম আরো বলেন, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে আসছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    এদিকে গত ২৪ জানুয়ারি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতুর উত্তর থানা এলাকা সংলগ্ন সড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

    একইদিন এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা সংলগ্ন ৪ নম্বর লেনে দ্রুতগতির সন্দেহজনক একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে ভেতরে থাকা ছদ্মবেশী ডাকাত সদস্যদের আটক করা হয়। এ সময় ডাকাতদলের সদস্যদের তল্লাশি চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস, একটি খেলনা পিস্তল, এক জোড়া হ্যান্ডকাপ, চারটি ডিবির কোটি, একটি ওয়ারলেস সেট ও চায়না লেজার লাইটসহ ডাকাতিকালে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

    ডিবি পুলিশের ওই অভিযানে আটক ছয়জনের মধ্যে চাকরিচ্যুত ও সাময়িক বরখাস্তকৃত দু’জন পুলিশ সদস্য ও চাকরিচ্যুত একজন সেনা সদস্য ছিলেন।

    এদিকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হাঁসাড়া-ফেরিঘাট সার্ভিস লেনের পাশে বেজগাঁও এলাকায় ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।

    ওই দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীনগর থানার এএসআই ইয়ার মাহমুদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ডিউটিকালে জানতে পারেন, শ্রীনগর থানাধীন বেজগাঁও সাকিনস্থ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ঝোপের আড়ালে কতিপয় ব্যক্তি ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতি করার সরঞ্জামাদিসহ অবস্থান করে শলাপরামর্শ করছে। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই স্থান থেকে আট-নয়জন পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।

    এ সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, গাড়িযোগে ঢাকা থেকে মাওয়ায় ঘুরতে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে তারা সার্ভিস লেনের পাশে ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে থেকে ছিনতাই অথবা গাছ ফেলে ডাকাতি করে থাকে। এ অভিযানে অপরাধীদের হেফাজত থেকে চাপাতি, ধারালো ছুরি, টর্চ লাইট, পাটের রশি, কচস্টেপ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

    তবে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বিশৃঙ্খলা ও মাদকের বিস্তার রোধে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটে গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট ও টহল চলমান রয়েছে। এ,আর

  • আর্জেন্টিনায় বিদেশীদের জমি কেনার বিধিনিষেধ তুলে দিলো সুপ্রিম কোর্ট

    আর্জেন্টিনায় বিদেশীদের জমি কেনার বিধিনিষেধ তুলে দিলো সুপ্রিম কোর্ট

    আর্জেন্টিনার সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বিদেশীদের জমি কেনার ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে নেয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শ্রমিক সংগঠন ও পরিবেশবাদীরা এর বিরোধিতা করছে।

    ২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই মিলেই বিদেশীদের জমি মালিকানার ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে দেন। এর আগে দেশের মোট জমির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশীদের মালিকানার অনুমতি ছিল।

    বিরোধী রাজনৈতিক দল ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। গ্রীষ্মকালজুড়ে তারা বিক্ষোভও করেছে। এসব বিক্ষোভে ‘দেশ বিক্রির জন্য নয়’ লেখা ব্যানার বহন করা হয়।

    সাংবিধানিক আইনজীবী আন্দ্রেস গিল দোমিঙ্গেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মঙ্গলবারের আদালতের সিদ্ধান্তের অর্থ হলো— যেকোনো বিদেশী ব্যক্তি, বিদেশী কোম্পানি বা বিদেশী রাষ্ট্র নিজেদের পছন্দমতো যেকোনো গ্রামীণ জমি কিনতে পারবে। এমনকি সীমান্তবর্তী এলাকাতেও জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো সীমা থাকবে না।

    ২০২৫ সালে বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য গবেষকদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫ শতাংশ বর্তমানে বিদেশীদের মালিকানাধীন। আয়তনের দিক থেকে এই পরিমাণ জমি প্রায় ইংল্যান্ডের সমান।

    তবে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, দেশের কিছু অঞ্চলে বিদেশী মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ইতোমধ্যে ১৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পানি ও খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য অথবা বন্দরসহ কৌশলগত পরিবহন সুবিধা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে বিদেশী মালিকানার হার বেশি।

  • হাসপাতালে ভর্তি মাহাথির

    হাসপাতালে ভর্তি মাহাথির

    মালয়েশিয়ার ১০১ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ সাত দশকের জীবনসঙ্গীর মৃত্যুর একদিন পরই বুধবার এ তথ্য জানান তার এক সহযোগী।

    দু’দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাহাথিরকে মঙ্গলবার রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয় বলে জানান তার সহযোগী সুফি ইউসফ। তবে আনুষ্ঠানিক রোগ নির্ণয় না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে ভর্তির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    সুফি বলেন, সোমবার স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলির মৃত্যুর পর মাহাথির পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারেননি। এতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সুফি বলেন, ‘তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘মানসিকভাবে ওঠানামা, গরম আবহাওয়া এবং বিশ্রামের অভাবে তিনি খুবই ক্লান্ত। ১০১ বছর বয়সী একজন মানুষের জন্য এসবের সমন্বয় মোটেও ভালো নয়।’

    মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ ছিলেন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্যের পক্ষে সোচ্চার একজন ব্যক্তি। ১০০ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। এই দম্পতির সাত সন্তান রয়েছে।

    স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত মাহাথিরকে কাঁদতে কাঁদতে দেশটির সাবেক রাজার কাছে বলতে দেখা যায়, ‘আমি আশা করিনি তিনি আজ মারা যাবেন।’ তার জানাজার সময় ধারণ করা ওই ভিডিও মাহাথিরের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাহাথির বেশ কয়েকবার হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগেছেন। তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। ১০১ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে পড়ে গিয়ে নিতম্বে চোট পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মাহাথির বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সে দায়িত্ব পালনকারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৯২ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

  • ঘাটাইলে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ

    ঘাটাইলে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্ত্রী তামান্না ইসলাম তন্নিকে (২০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো: রোমান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে তাৎক্ষণিক আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত তন্নি দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন উত্তর খিলগাতি গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী রোমান মিয়া মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের শিবরামবাড়ি গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রোমান মিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর সাথে এক রাত্রিযাপন করেন। রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি এবং মারামারি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী রোমান শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সবাইকে ডেকে জানান তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

    পরে বুধবার ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় তন্নিকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবারের দাবি, তন্নির গলায় এবং সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা রাতেই স্বামীর দেয়া কোনো আঘাতে তার মৃত্যু হয়।

    তন্নির বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই রাতেই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে এসেছি।’

    এলাকাবাসী জানায়, এক বছর আগে রোমানের সাথে বিয়ে হয় তন্নির। রাতে রোমান তন্নির ঘরে ছিলেন এবং তাদের ঝগড়া হয়।

    এ ব্যাপারে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, ‘মেয়েটিকে অত্যাচার করে তার স্বামী মেরে ফেলেছে। মেয়েটির পরিবার একটি সুখী পরিবার। মাত্র এক বছর আগে অত্যন্ত ঘটা করে মেয়েটির বিয়ে হয়। এমন ঘটনা আগে কখনো আমাদের এলাকায় ঘটেনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সঠিক বিচার দাবি করছি।’

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত রোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’ এ,আর