জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সংসদকে একটা সাধারণ সংসদে পরিণত করেছে। তারা সংসদকে দলীয় সংসদে পরিণত করেছে। তারা যদি রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংশোধন না করেন তাহলে আমরা যাকেই বসাবো তারা আরেক হাসিনা হবে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারীতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভার আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, শেখ হাসিনা যে স্বৈরাচারীভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছেন এখন পর্যন্ত সে কাঠামোর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে একই মেশিন আরেকজন চালাচ্ছেন এখন। ড্রাইভার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মেশিন পরিবর্তন হয়নি। সেই মেশিন যদি পরিবর্তন না করেন তাহলে সবচেয়ে ভালো ড্রাইভার বসিয়ে সঠিক দিকে গাড়িটি নিয়ে যেতে পারবেন না। যদি সংবিধান পরিবর্তন না করেন তাহলে এটা হবে আগের সরকারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শেখ হাসিনার অবৈধ সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।
এই নেতা বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। স্বরাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলার অবস্থার উন্নতির কথা চিন্তা না করে তিনি সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। যার কারণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব থাকতে পারেন না আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। এছাড়াও জ্বালানি ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় এসেছে তার জন্য কাজ না করে তিনিও সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত। আমরা তারও পদত্যাগ দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, গণভোটকে জণগণ রায় দিয়েছে কিন্তু তারা জনগণের রায় বাস্তবায়ন করছে না। তারা সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায়, কিন্তু তারা গণপরিষদ গঠন করছে না। কিন্তু তারা নিজেদের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দায়িত্বে বসাতে চাচ্ছেন। যারাই বার বার ক্ষমতায় এসেছে তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছে। আওয়ামী লীগ এতে সফল হলেও বিএনপি কখনো সফল হবে না। একই চক্করে মানুষ ঘুরপাক খাচ্ছে যার, কারণে সংবিধান পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, বিএনপি কোনোভাবে আগামীতে নির্বাচব সুষ্ঠুভাবে হতে দেবে না, তারা নির্বাচনে অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আগামীতে তারা পরিকল্পনা করে নির্বাচন কমিশনকে কুক্ষিগত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কীভাবে কুক্ষিগত করা যায় তারা সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে এজন্য মানুষের কণ্ঠরোধ করতে তারা মামলা, সাইবার আইনেকও সংশোধন করছে। তারা বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদেরও নির্যাতন করছে। বিএনপি কিছু নতুন স্বৈরাচার তৈরি করেছে, আমরা যদি প্রথমেই নতুন স্বৈরাচারদের প্রতিহত করতে না পারি তারা আবার ফ্যাসিবাদ তৈরি করে। আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদ তৈরি করে ছিলে বিএনপি এখন একই স্টাইলে আগাচ্ছে। বিএনপি একটি শিশু সরকার এখন তাদের শাসন করার সময় এসেছে। সেক্ষেত্রে সারা দেশে আমাদের নানা কর্মসূচি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে না, নির্বাচন কমিশনে তাদের লোক ঢুকিয়েছে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নিজেই প্রার্থী ঘোষণা দিচ্ছেন। যার করণে এই নির্বাচন নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে নদীতে বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও দখলদারি চলছে। এখানে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন জরিত আছে। তারা ক্ষমতাসীনদের সেল্টারেই রয়েছে।
এই নেতা আরও বলেন, এ সরকার পুলিশকে স্বাভাবিক করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণকে শান্তি দিতে আন্দোলনে নেমেছি। নানাভাবে তারা সব জায়গাতে দলীয়করণ করছে। বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত এমপিদের গোপনে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে যা অসাংবিধানিক। এ নির্বাচিত দায়িত্ব হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে নতুন সংবিধান তৈরি করা। বাংলাদেশকে একটা আমূল পরিবর্তনে নিয়ে আসা।
এছাড়াও হাসিনা ইস্যুতে তিনি বলেন, হাসিনা আর ফিরে আসবে না। যারা বলতেছে হাসিনা আসবে এটা ভারতীয়দের অপপ্রচার।
এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও সদস্য রাজনৈতিক পর্ষদ সারজিস আলম, যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, জেলা এনসিপি আহবায়ক মাজেদুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব মারুফ হাসান মন্টিসহ জেলার এনসিপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
