রাজশাহী বিভাগ

  • নাটোরে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    নাটোরে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে সোহেল রানা (১৫) নামে এক তরুণকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া একই মামলায় অপর দুই আসামি রেজাউল করিম ও মুক্তার আলীকে খালাস দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে আসামিদের উপস্থিতে এ রায় ঘোষণা করেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা ৪র্থ আদালতের বিচারক মো: দেলোয়ার হোসেন।

    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু লালপুর উপজেলার পুরাতান ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা মুনসাদ আলীর ছেলে। আর খালাসপ্রাপ্ত দু’জন হলেন— লালপুর উপজেলার পুরাতান ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা মরহুম শামসের প্রামানিকের ছেলে রেজাউল করিম ও মরহুম মোকছেদ আলী প্রামানিকের ছেলে মুক্তার আলী।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পুরাতন ঈশ্বরদী মাঠে নিজের জমিতে বাবা মুকুল হোসেনের সাথে সকালে কলা গাছ রোপণ করতে যায় সোহেল ও তার ভাই সোহাগ। এ সময় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলী লাঠি, লোহার রড় নিয়ে তাদের জমিতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

    মোজাফফরের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয় সোহেল। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ ফেব্রুয়ারি সোহেলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহত সোহেল হোসেনের বাবা মুকুল হোসেন একই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি লালপুর থানায় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলীর নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেন। সোহেল রানা মারা যাওয়ার পরে এজাহারটি মামলা হিসেবে গণ্য করে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

    নাটোর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, আদালতের বিচারক দীর্ঘ দিন মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। জরিমানার অর্থ এক লাখ মামলা পরিচালনা বাবদ খরচ সরকারি কোষাগারে রেখে বাকি চার লাখ টাকা এজাহারকারীকে প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • বগুড়ায় এক জেলের লাশ উদ্ধার

    বগুড়ায় এক জেলের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বগুড়া সদর উপজেলার ছোট বেলাইল ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বিশ্বরোড এলাকার একটি জমি থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মৃত সাজ্জাদ শাজাহানপুর উপজেলার আবেদ আলীর ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, মাছ ধরার জন্য তিনি রাতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সকালে জমির মধ্যে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    ঘটনাস্থল থেকে মাছ ধরার ফালি, একটি ব্যাগে কিছু মাছ ও একটি টর্চলাইট পাওয়া যায়। এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মাছ ধরতে গিয়েই সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে। সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    সিরাজগঞ্জের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা ৫৫০ টাকা, মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা এবং বেদানা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া প্রতি পিস ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মাল্টার দামও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। দেশি ফলের মধ্যে কাটিমন আম ২০০ টাকা এবং তরমুজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ফল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে বেশি দামে কিনে একই অনুপাতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    ফল কিনতে আসা তৌফিকা নাসরিন বলেন, ‘এ বছর বাজারে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফলের দাম অত্যধিক বেড়েছে। এসব ফল আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। আমাদের আয়ের সঙ্গে পণ্যের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই।’

    সিরাজগঞ্জ শহরের ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। তবে দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়।’

    তিনি বলেন, ‘এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়।’

  • মুয়াজ্জিনকে আজান দেওয়ার সময় ছুরিকাঘাত

    মুয়াজ্জিনকে আজান দেওয়ার সময় ছুরিকাঘাত

    নাটোরের নলডাঙ্গায় মসজিদে ফজরের আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিন সৈয়দকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। সোমবার ভোরে উপজেলার ৪ নম্বর পিপরুল ইউনিয়নের চরবাঙ্গাল পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজান চলাকালীন সময়ে মসজিদে আজান দিচ্ছিলেন মুয়াজ্জিন সৈয়দ। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, সৈয়দ এলাকায় একজন ভালো, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। মসজিদে আজান দেওয়ার সময় তার ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে আহত মুয়াজ্জিন সৈয়দের দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  • ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি, নিহত ১

    ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ইয়াসিন (৫১) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের মধুবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের মিমের সঙ্গে ইয়াসিনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এতে ইয়াসিন গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ,আর

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় বিদ্যালয়ের গেটে বাঁশের বেড়া

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় বিদ্যালয়ের গেটে বাঁশের বেড়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন এক দাতা সদস্য। একই সাথে শিক্ষকদের অফিসে নতুন করে তালা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসব করেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়’ নাম নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে ওই সময়ের দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নামটির প্রস্তাব করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

    বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে কলাগাছ লাগানো হয়েছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষের দরজায় নতুন করে তালা ঝুলছে। স্থানীয়রা জানান, এ কারণে বিদ্যালয়ের নলকূপ ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছেন তারা।

    স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ বলেন, ‘আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি ছিল। মামলা-মোকদ্দমার কারণে শিক্ষার্থী কমেছে। এরপরও নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। হঠাৎ করে আজাদ আলী এসে বিদ্যালয়ের ফটক ঘিরে দেয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা সমস্যায় পড়েছেন।’

    আজাদ আলী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য ছিলেন। তার জমিতে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজ হয়নি এবং ছেলের বউকেও চাকরি দেয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও কলাগাছ লাগিয়েছেন।’

    তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, ‘আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন। পরে জমি রেজিস্ট্রির সময় তার ছেলে ও ছেলের বউকে প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার দাবি ওঠে। কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি নেয়।

    তিনি বলেন, কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে চাকরিরত অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মাধ্যমিক শাখায় অফিস সহকারী পদে নিয়োগের দাবি করেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয় এবং এ বিষয়ে রেজুলেশন রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান। এর মধ্যেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।

    বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ‘কটি প্রতিষ্ঠান একদিনে দাঁড়ায় না। দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলছে।’

    তিনি জানান, গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।

    এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। রোববার পুঠিয়ায় ফিরে বিদ্যালয়টি চালু করার ব্যবস্থা করবেন।

    তিনি বলেন, পেছনে যে ঘটনাই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কেউ বন্ধ করতে পারবেন না। এ,আর

  • নওগাঁয় ছাগলে ফসল খাওয়ায় সংঘর্ষে নিহত ১

    নওগাঁয় ছাগলে ফসল খাওয়ায় সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর ধামুইহাটে করলা ক্ষেতে ছাগল প্রবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আবুল কাশেম (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে ওই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পাঁচবিবি থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামে আবুল কাশেম ও রনি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিহত আবুল কাশেম বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামের আব্দুর হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম (২৮), মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল হাকিম (৬০), মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে কফিল উদ্দীন (৬৫), ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫), ইসমাইলের মেয়ে হামিদা বেগম (৩৮), আব্দুল হাকিমের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) ও রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম (২১)।

    পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে আবুল কাশেম ও রাকিবুল ইসলাম রনি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন দুপুরে একটি ছাগল করলা ক্ষেতে প্রবেশ করে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়ে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে আবুল কাশেম গ্রুপের আবুল কাশেমের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

    এ ব্যাপারে ওই দিন আবুল কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ,আর

  • শেষ বয়সে এসেও কোরআন শেখার নেশায় কর্মজীবীরা

    শেষ বয়সে এসেও কোরআন শেখার নেশায় কর্মজীবীরা

    সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে পবিত্র কোরআন শেখার এমন অনন্য নজির স্থাপন করেছেন অর্ধশতাধিক প্রবীণ শ্রমজীবী মানুষ। ছোটবেলায় দারিদ্র্য, জীবনসংগ্রাম কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে যাদের আর কোরআন স্পর্শ করা হয়ে ওঠেনি, জীবনের পাঁচ দশক পার করে এসে তারাই এখন পরম যত্নে প্রতিদিন বানান করে পড়ছেন আল্লাহর বাণী। একই সঙ্গে নিয়মিত শুদ্ধভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নিয়মকানুনও রপ্ত করছেন তারা।

    শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায় এই অনুপ্রেরণাদায়ী দৃশ্য। সেখানে ‘শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনা মূল্যে মাদানি পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন করা ৪২ জন প্রবীণ শিক্ষার্থীর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় কোরআন শরিফ। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সবজি বিক্রেতাকে পরম যত্নে পাঠদান করিয়েছেন উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মোমেন।

    কোরআন উপহারের পাশাপাশি এই শিক্ষার্থীদের একজনের জন্য ছিল বিশেষ এক চমক। লটারির মাধ্যমে ৭০ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম তারা নামের এক বৃদ্ধকে বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেয় ‘স্যাম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’ নামের একটি ভ্রমণ সংস্থা। এমন অপ্রত্যাশিত উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

    বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক মাওলানা ক্বারী মুয়াজ নোমানী জানান, এটি তাদের কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ব্যাচ। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এই ব্যাচের পাঠদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। প্রতিদিন মাগরিবের পর থেকে শুরু করে এশার আজান পর্যন্ত একটানা চলে এই পাঠদান। সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে ক্লান্তি ভুলে প্রতিদিন নিয়মিত মসজিদে এসে হাজির হতেন এই প্রবীণ শিক্ষার্থীরা।

    তিনি আরও জানান, চলমান দ্বিতীয় ব্যাচের মেয়াদ এখনও তিন মাস বাকি রয়েছে। এই পর্ব শেষ হলেই শুরু হবে নতুন তৃতীয় ব্যাচ। স্থানীয় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই বিনা মূল্যের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    কোরআন বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বিভিন্ন দিক ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন, শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশনের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের পরিচালক মাওলানা ক্বারী মো. মুয়াজ মোহা, বেলকুচি ওলামা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি হাফেজ মো. রফিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

  • ১২৩ বছরেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন আব্বাস

    ১২৩ বছরেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন আব্বাস

    নাটোরের গুরুদাসপুরের আব্বাস প্রামাণিকের বয়স ১২৩ বছর। ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রবীণ ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ের সাক্ষী। দীর্ঘ জীবনে শিক্ষকতা করেছেন, পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।

    গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে আব্বাস প্রামাণিক।কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে খুবজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। দুই মেয়ে ও ছয় ছেলের বাবা আব্বাসের স্ত্রীও অনেক বছর আগে মারা গেছেন।

    বয়সের ভারে এখন শরীর অনেকটাই দুর্বল। হাঁটতে লাঠির প্রয়োজন হয়, কমে গেছে শ্রবণশক্তিও। তবে ১২৩ বছর বয়সেও তার দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই স্বাভাবিক। চশমা ছাড়াই নিয়মিত নামাজ আদায় ও কোরআন শরিফ পড়েন তিনি। হাতে পরেন ক্যাসিও ঘড়িও।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্বাসের সমবয়সিদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় অনেকটা একাই কাটিয়েছেন তিনি। একসময় অর্থ-সম্পদ থাকলেও বর্তমানে ভাঙাচোরা একটি ঘরেই বসবাস করছেন। বয়সের সঙ্গে তার বহু পুরোনো স্মৃতিও মলিন হয়ে গেছে। তবু ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন।

    আব্বাসের পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল। নাতি-বউয়েরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার দেখাশোনা করেন।

    নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, তার দাদা খুবই ধার্মিক ও সৎ মানুষ। সাদাসিধে জীবনযাপন করাই ছিল তার পছন্দ। গাড়িতে চড়াকেও তিনি একসময় বিলাসিতা মনে করতেন। তাই বেশির ভাগ সময় হেঁটেই চলাফেরা করতেন। এখন শরীর আগের মতো সায় না দিলেও লাঠিতে ভর করে বাড়ির উঠানে হাঁটার চেষ্টা করেন।

    আরেক নাতি বেলাল হোসেন বলেন, আব্বাসের ছেলেমেয়েরা সবাই নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। ফলে তাকে দেখাশোনার জন্য নির্দিষ্ট কেউ নেই। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার পাশে থাকার চেষ্টা করেন। ভাঙাচোরা ঘরে থাকা আব্বাসের জন্য এই বয়সে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার সবসময় জোগাড় করাও সম্ভব হয় না।

    আব্বাসের মেয়ে আলিমা বেগম জানান, মাত্র ৫ বছর বয়সে তার মাকে হারান আব্বাস। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সৎ ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতে দেখেছেন তিনি।

    আলিমা বলেন, তার বাবা এখনো চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তে পারেন। অথচ তার সন্তানদের অনেকেই এখন চোখে ঝাপসা দেখেন। তিনি সুযোগ পেলেই বাবাকে দেখতে যান এবং পছন্দের খাবার নিয়ে যান।

    গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। বয়সের কারণে তার চলাফেরায় সমস্যা হয়। সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে খুবজীপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

  • বড়াইগ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বড়াইগ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বড়াইগ্রামে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে সাঈদ হোসেন নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের কুশমাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সাঈদ কুশমাইল গ্রামের শাকিল হোসেনের ছেলে।

    জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম রাসেল জানান, বিকেলে শিশুটিকে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলতে দিয়ে তার মা গৃহস্থালী কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণ পরে তাকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের ডোবায় শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ,আর

  • সিরাজগঞ্জে ৯৪ চোরাই মোবাইলসহ ৮ জন আটক

    সিরাজগঞ্জে ৯৪ চোরাই মোবাইলসহ ৮ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে চোরাই ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে চেকপোস্ট বসিয়ে শ্যামলী পরিবহনের বাসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই আটজনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে ৯৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিরা হলো- চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার সৈয়দপাড়া গ্রামের আলামিন (৩০), পাঠানপাড়া গ্রামের ইসরাফিল রহমান (২৭), বাকলিয়া থানার সিএমপি বাকলিয়া গ্রামের আক্কাস আলী (৩৫), পটিয়া থানার ইসমাইল ফয়েজ রোডের মো. রিদয় (৩৪), নরসিংদীর রায়পুর থানার চর মদিনানগর গ্রামের মো. ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার চকবাস মোল্লাবাড়ী গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা থানার নওয়াতপুর গ্রামের মো. রবিউল (৩৩) এবং মুরাদনগর থানার কামাল্লা গ্রামের আলাউদ্দিন (২৫)।

    যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র বগুড়ার ধুনটের মাসুদ টেলিকমের শাটার কেটে দোকানে ঢুকে ৯৪টি মোবাইল ফোন চুরি করে। পরে তারা শ্যামলী পরিবহনের বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধুনট থানা পুলিশ, সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের সমন্বিত দল যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বরে চেকপোস্ট বসায়। পরে শ্যামলী পরিবহনের বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে আটজনকে আটক ও তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৯৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানায়, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় ধুনট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তিদের ধুনট থানায় হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমির তানোর ও মোহনপুরে ধান, আলু ও আমের পাশাপাশি মাচায় তরমুজ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা। সেচ সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে গতানুগতিক ফসলের বাইরে নতুন এ চাষে ভালো ফলন ও বাজারদাম পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

    মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের কৃষক শাফিউল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় তিনি এ উদ্যোগ নেন।

    শাফিউল জানান, তরমুজ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০টি তরমুজে নেট বেঁধেছেন। প্রতিটির ওজন গড়ে দুই কেজি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

    অন্যদিকে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের পাড়িশো গ্রামের কৃষক খাইরুল ও জাকির ২৫ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো মাচায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের বীজ বপন করেন তারা। বর্তমানে মাচায় ঝুলছে রঙ্গীলা, আম্বার সুইট, হলুদ মধুমালা ও ডোরাকাটা জাতের তরমুজ।

    কৃষক জাকির বলেন, ‘মৌসুমের বাইরে তরমুজের চাহিদা ভালো থাকায় বাজারেও দাম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে তরমুজ কিনেছেন। ফলে পরীক্ষামূলক এ চাষে লাভবান হচ্ছি।’

    মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্রভূমিতে মাচায় তরমুজের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছি। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।’

  • সিংড়ায় ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১৮

    সিংড়ায় ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দু’পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নের পাছলাড়ুয়া বাজরে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন পাছলাড়ুয়া গ্রামের মাহফুজ (৪৪), কাউছার (২৬), মোস্তফা (৪৪), আয়নাল হক (৫০), স্বাধীন (১৭), ইয়াছিন আলী (২১), আব্দুর রাজ্জাক (৪০), সবুজ আলী (২২), মোজাহার (৫০), আশরাফুল (৬০), আবুল কাশেম (৬১) ও ইসলাম (৪৫) এবং নতুনবস্তি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা (৫৫), শাহীন (৫০), মনিরুল (২৫), রবিউল (৩৫) ও নাসির (৪৫), বেলাল হোসেন (৪৫)।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার পাছলাড়ুয়া ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে পাছলাড়ুয়া ও পাশবর্তী নতুনবস্তি গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধ মীমাংসায় একাধিক বার উদ্যোগ নেন স্থানীয় নেতারা। পরে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে নতুন করে দুই গ্রামের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    এরই জেরে সকালে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফার নেতৃত্বে পাছলাড়ুয়া বাজারে হামলা চালায় নতুনবস্তি গ্রামের প্রায় শতাধিক লোকজন। এ সময় ওই বাজারে অন্তত ছয়টি দোকান ভাংচুর করা হয় বলে জানা গেছে।

    সংঘর্ষে পাছলাড়ুয়া গ্রামের ১২ জন ও নতুনবস্তি গ্রামের ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    এ বিষয়ে এই হামলায় নেতৃত্বদানকারী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই রেজাউল ইসলাম ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘নতুনবস্তি কবরস্থানটি পাছলাড়ুয়া ঈদগাহ মাঠের সাথে লাগানো। কিন্তু ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণে কবরস্থানের মধ্যে ঢুকে যাওয়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’

    পাছলাড়ুয়া ঈদগাহ মাঠের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, আরএস ১৬৮২ নম্বর দাগে তাদের ঈদগাহ মাঠের ৩৮ শতক রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। সেই জায়গায় ঈদগাহ মাঠের কাজ করতে গেলে সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফার নেতৃত্বে হেলমেট পড়ে শতাধিক লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

    সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’ এ,আর

  • উল্লাপাড়ায় আ’লীগের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    উল্লাপাড়ায় আ’লীগের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আকমাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাখুয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ জানায়, একটি বিস্ফোরক মামলায় আকমালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও হাসপাতালে

    মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার বাবা মুজিব সরদারকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন আমিনুল।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহত জান্নাতুন বেগমের (৫৫) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর আহত মুজিব সরদারকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবন ও এর অর্থ জোগাড় করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। তাকে নিয়ন্ত্রণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও সফল হননি বলে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, বুধবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আমিনুল হাসুয়া নিয়ে তার মা জান্নাতুন বেগমের ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমিনুল তার বাবা মুজিব সরদারকেও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।

    জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে মোহনপুর থানা পুলিশ।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যা মামলা দায়েরের পর আমিনুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে জান্নাতুন বেগমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, গ্রেফতার ১

    ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাকিবুল হাসান রাকিব (১৯) নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর বদির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার রাকিবুল হাসান রাকিব শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় সরকারপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ সরকারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিন যুবক যাত্রী সেজে ধুনট বাজার থেকে জয় নামে এক ইজিবাইক চালকের গাড়ি ভাড়া করেন। পরে রাত ৮টার দিকে তারা ধুনট থানার প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে পাকা সড়কের একটি স্থানে পৌঁছালে চালককে ইজিবাইক থামাতে বলেন।

    ইজিবাইক থামানোর পর ওই তিন যুবক চালক জয়ের মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় জয়কে সড়কের ওপর ফেলে রেখে তার ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যান ওই তিনি যুবক।

    পরে স্থানীয় লোকজন সড়কের পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা জয়কে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আহত চালকের পরিবারের পক্ষ থেকে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাকিবুল হাসান রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বগুড়ার আদালতে পাঠানো হলে, আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ,আর

  • গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা

    গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা

    বিকেল হলেই জমি থেকে সদ্য তোলা করলা নিয়ে আসেন কৃষকেরা। কেউ ব্যাগে, কেউ প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে গ্রামের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসেন এসব সবজি। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে দরদাম ও বেচাকেনা। পরদিন সকালে পিকআপে করে সেই করলা চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে।

    অবাক করার মতো বিষয় হলো, এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়। গ্রামের ভেতরের একটি সাধারণ জায়গায় প্রায় ১৫ বছর ধরে গড়ে উঠেছে করলার এই পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র।

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গাটি এখন আশপাশের গ্রামের করলা চাষিদের কাছে পরিচিত পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র হিসেবে।

    স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এখানে করলার বেচাকেনা শুরু হয়েছে মৌসুম শুরুর প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন মহাজন নিয়মিত করলা কিনছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা আসে এই কেন্দ্রে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে পিকআপে করে এসব করলা পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন বাজারে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মসজিদের সামনে অস্থায়ী ত্রিপলশেডের নিচে ব্যাগ ও প্লাস্টিকের ক্যারেটে করলা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্যারেট। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি পিকআপ। আগের সন্ধ্যায় করলা বিক্রি করা দুই কৃষক মহাজনের কাছ থেকে তাঁদের পাওনা টাকা নিচ্ছিলেন।কৃষকেরা জানান, এখানে করলা বিক্রি করায় তাঁদের বাড়তি ঝামেলা কম। জমি থেকে করলা তুলে সরাসরি বিক্রিকেন্দ্রে নিয়ে এলেই হয়। অন্য কোনো হাটে নিতে হয় না। ফলে পরিবহন খরচ, টোল কিংবা ধলতার মতো বাড়তি খরচও দিতে হয় না। আবার স্থানীয় হাটের তুলনায় অনেক সময় ভালো দাম পাওয়া যায়। এসব কারণে আশপাশের গ্রামের অনেক কৃষক এখন এখানেই করলা বিক্রি করছেন।

    স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কয়েক দিন আগে দাম কম ছিল। হাটের চেয়ে এখানে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এলাকার কৃষকেরা এখানে করলা বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’

    করলা বিক্রির পর তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে এই গ্রামকে ঘিরে। মহাজনেরা কৃষকদের কাছ থেকে করলা সংগ্রহ করে বাছাই ও প্যাকেটজাত করেন। পরে পিকআপে করে সেগুলো বিভিন্ন বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    মহাজন বাবু মণ্ডল বলেন, ‘প্রতিদিন আড়াই শ থেকে ৩০০ মণ করলা এখানে আসে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।’

    স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলাম জানান, আশপাশের মাঠগুলোতে করলার আবাদ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে কয়েকজন মহাজন এখানে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কৃষকের সংখ্যা ও করলার পরিমাণ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

    কৃষকেরা বলেন, মাঠের কাছাকাছি এই বিক্রিকেন্দ্র হওয়ায় তাঁদের সময় ও পরিবহন খরচ—দুটিই কমছে। বিশেষ করে বিকেলে জমি থেকে করলা তুলে এনে রাতের মধ্যেই বিক্রি করে দিতে পারছেন তাঁরা। এতে পরদিন আবার জমিতে কাজ করার সুযোগ থাকছে।ক্ষেতলাল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের ওপর করলার দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ তাঁদের পরামর্শ দিচ্ছে।

    ধান ও আলুর জন্য পরিচিত ক্ষেতলালের কৃষিতে এখন বিভিন্ন সবজির আবাদও বাড়ছে। উঁচু জমিতে করলা, পটল, বেগুন, চিচিঙ্গা, লাউ ও শসার মতো সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে করলাকে ঘিরে বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের এই পাইকারি কেন্দ্রটি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার একটি স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

    কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই ইজারার আওতায় থাকা আনুষ্ঠানিক হাটের অবকাঠামোও। তবু প্রতিদিন শত শত মণ করলার বেচাকেনায় জমে ওঠে গ্রামের এই জায়গাটি। বিকেলে কৃষকেরা নিয়ে আসেন মাঠের ফসল, রাতে চলে দরদাম, আর সকালে সেই করলাই পিকআপে চড়ে পাড়ি দেয় দূরের বাজারের পথে। এভাবেই প্রায় দেড় দশক ধরে গ্রামের একটি সাধারণ জায়গা করলা চাষিদের কাছে হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র।

  • রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েবসাইট সেবা চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে দেখা যাবে।

    মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।

    ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাঁর ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না।আবার কোনো কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ায় অন্য কৃষক তাঁর প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ইউএনও বলেন, এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কৃষককে নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তাঁরা আগের মতোই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনবেন।শুধু ডিলারদের তাঁদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।

    পবা উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে জানিয়ে ইউএনও বলেন, কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

    সারের বিতরণব্যবস্থা তদারকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাঁদের পরিদর্শন জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাঁদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা প্রশাসনও পুরো ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করবে।

    ইউএনও জানান, ‘পবা সার ডটকম’ মূলত একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ। এটি ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো যুক্ত করা যাবে। বর্তমানে এটি পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এতে পরিবর্তন ও নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত আছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক আছেন, তাঁদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে তাঁরা কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন- এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

    বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমন মৌসুমে কোন ব্লকে কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের তালিকা ও তাঁদের সারের চাহিদার তথ্যের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কোন কৃষক কোন ডিলারের কাছ থেকে সার নেবেন, সেটি আগে থেকেই জানা থাকবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্তি কমবে এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। বর্তমানে সারের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম ও বিসিআইসি-বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে ডিলারদের গুদামে থাকা মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করছেন কি না, সেটিও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ‘পবা সার’ প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। অনিয়ম শনাক্ত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোও সহজ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের একটি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

    তবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, এই সভার আয়োজন করেছিল মসজিদ ও মাদ্রাসা কতৃপক্ষ।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    মসজিদে কর্মসূচি পালন বিষয়ে কথা বলতে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তবে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, ভিপি আয়নুল হক এমপির নিজ ইউনিয়ন চান্দাইকোনার কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কতৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিপুল অর্থ বকেয়া রয়েছে। এটি পরিশোধ করতে এমপি সাহেবের সহযোগিতা নিতে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে তাকেসহ আমাদের আমন্ত্রণ জানায়। আমরা ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখতে পাই তারা মাদ্রাসা মসজিদের অভ্যন্তরে সোফা, চেয়ার সেট করে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, যেহেতু এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ফলে আমরা আপত্তি না করে তাদের ব্যবস্থাপনায় মসজিদে মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। এখানে মূলত মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় আলোচনা হয়েছে।

    জানা যায়, ভিপি আয়নুল হক বর্তমানে জেলা বিএনপি, সিরাজগঞ্জের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, রায়গঞ্জ এবং রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ থেকে তিনি তিনবার ভিপি নির্বাচিত হন।

  • ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই

    ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার ধুনটে থানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে জয় নামের এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই করে নেয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    ইজিবাইক চালক জয় উপজেলার বাঁশহাটা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে।

    জহুরুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত তিন যুবক যাত্রী সেজে ধুনট বাজার থেকে জয়ের ইজিবাইক ভাড়া নেয়। রাত ৮টার দিকে ধুনট থানার প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে পাকা রাস্তার উপর যাত্রীবেশী ওই তিন যুবক ইজিবাইক থামিয়ে জয়ের মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ধারালো ছোরা দিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয় জনগণ জয়কে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

    এ ঘটনায় তিনি ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    এদিকে থানার পাশে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

    এ বিষয়ে ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ এ,আর

  • ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। এই আন্দোলন দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। সরকার যদি আমাদের ঘোষিত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সরকার যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তাহলে এই ৮ দফার আন্দোলন অনতিবিলম্বে ১ দফার আন্দোলনে রূপ নেবে।

    শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে লংমার্চ উপলক্ষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন গাড়িতে করে আসছিলাম, তখন রাজপথে জনগণের মধ্যে বিপ্লবের গর্জন শুনতে পেয়েছি। সাধারণ মানুষ হাতের এক আঙুল তুলে ‘এক দফা এক দফা’ স্লোগান দিচ্ছে। আপনারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, ইনশাআল্লাহ্ আন্দোলন সফল করেই আমরা ঘরে ফিরব। আমরা এখন ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাচ্ছি; কিন্তু প্রয়োজনে আপনাদের সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় লংমার্চ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

    জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরো বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী প্রমুখ।

  • ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোন পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসিকে আটক

    ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোন পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসিকে আটক

    সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটি ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন এক নারী। ভেতরে তার স্বামী রয়েছেন— এমন দাবি করে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া মিলছিল না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা (সাবেক ওসি) ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে দু’জনকেই নেয়া হয় থানায়।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    থানায় নেয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    ফ্ল্যাট থেকে বের করে আনার পর মাহবুব আলম দাবি করেন, ভেতরে থাকা সানজিদা মৌ তার স্ত্রী। তবে তাদের বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি ডিভোর্স দিয়েছেন।

    ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। নওগাঁ থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে ওই ফ্ল্যাটে আসেন আন্নি আক্তার। তার দাবি, আগের রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে এসেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌ নামে এক নারী রয়েছেন। এরপর তিনি এসে দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন আন্নি আক্তার।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও দরজা খোলা হয়নি বলে দাবি করেন আন্নি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও দরজা খোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

    পরে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। সে সময় সানজিদা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে, মাহবুব আলম বলেন, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে সানজিদার সাথে তার বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি।

    পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

    আন্নি আক্তার নওগাঁর বাসিন্দা। তিনি নিজেকে নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। পরে মাহবুবের একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক এবং বিভিন্ন এলাকায় বিয়ের বিষয়ে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

    আন্নির আরো দাবি, রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সাথে পেয়েছিলেন তিনি। তখন বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান আন্নি।

    নাদের হাজির মোড়ের যে ফ্ল্যাটে শুক্রবারের ঘটনা ঘটেছে, সেটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেয়া। সেখানে তার পালিত মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফ্ল্যাটটিতে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

    মাহবুব আলমের চাকরির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রত্যাহার হন। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত থাকার সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রাখা হয়।

    সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা অপরাধ।

    তিনি বলেন, মাহবুব আলম ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

    এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক দু’টি কক্ষে রাখা হয়।

    চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

  • লালপুরে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১

    লালপুরে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় দু‘জন গুরুতর আহত হন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-নাটোর সড়কে শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের মরহুম শহীদুল ইসলাম লাকীর ছেলে।

    আহতরা হলেন একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ইমরান (২০) ও বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের নাজির হোসেনের ছেলে মনি (২০)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল্লাহ, ইমরান ও মনি একটি মোটরসাইকেলযোগে গোপালপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। এঘটনায় দু‘জন গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় লালপুর ফায়ার সার্ভিস আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: রুমাইয়া হক রাকা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। আহত ইমরান ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

  • শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষক আছেন তিনজন। খাতায় শিক্ষার্থীর নামও আছে ১১ জনের। তবে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসে না একজন শিক্ষার্থীও। নেই শ্রেণিপাঠ, পরীক্ষা বা কোলাহল। নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন শিক্ষকরা। ওঠে জাতীয় পতাকা, তবে বাজে না ঘণ্টা। এমনই অবস্থা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

    ১৯৮১ সালে বওলাতলা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হয়। ২০১৪ সালে দেশের অন্যান্য রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে এটিও সরকারি করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। একপর্যায়ে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও শিক্ষা বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাবে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকার অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন।

    গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ তিন শিক্ষকই বিদ্যালয়ে উপস্থিত। অপর দুই শিক্ষক হলেন সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে জন্মেছে আগাছা। বড় বড় ঘাসে ঢেকে গেছে মাঠ। দীর্ঘদিন যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের দেয়ালে ময়লা জমেছে, বারান্দার গ্রিলে ধরেছে জং। মলিন হয়ে পড়েছে বিদ্যালয় ভবনটিও।

    প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার বলেন, বিদ্যালয়ের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে তাদের কেউ বিদ্যালয়ে আসে না। ফলে শ্রেণিপাঠদান কিংবা কোনো পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয় না।

    তিনি জানান, তার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি গ্রামে। শিক্ষার্থী না থাকলেও প্রতিদিন প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। বিদ্যালয়টির আশপাশের এলাকায় মানুষের বসবাসও তুলনামূলক কম। সেখানে প্রায় ৭৫টি পরিবার রয়েছে।

    সুশীল কুমার বলেন, ২০২৪ সালের জুনে তারা নতুন নিয়োগ পেয়ে এই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। যোগদানের পর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কোনো অভিভাবকই তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাননি। এলাকার শিশুরা সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুল, সলঙ্গা বেসরকারি আদর্শ স্কুল ও স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আনতে পারিনি। শ্রেণিপাঠদান না হলেও আমরা বিদ্যালয়ে এসে অফিসের কাজ করি এবং নিয়মিত বেতন পাই।’

    শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে তারা বিপাকে পড়েছেন।

    উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি কয়েক মাস আগে এই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৭৮টি। এসব বিদ্যালয় তদারকির জন্য ১১টি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে মাত্র একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে এতগুলো বিদ্যালয় একজন কর্মকর্তার পক্ষে যথাযথভাবে তদারকি করা সম্ভব ছিল না।

    তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থার বিষয়টি দেখতে পান। সেদিন বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী আনার চেষ্টা চলছে।

    স্থানীয় অভিভাবক মনিরা ও আনোয়ারা খাতুন বলেন, একসময় বিদ্যালয়টিতে কিছু শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু ভালো পড়াশোনা না হওয়ায় ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ কমে যায়। পরে তারা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। শিক্ষকদেরও আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি এলাকার মানুষও শিক্ষার বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন। বিদ্যালয়টি রক্ষায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের এখানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

  • আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

    আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

    ‘বৃক্ষরোপনে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— প্রতিপাদ্যে নওগাঁর আত্রাইয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিএমডিএর সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের দাঁড়িয়াগাঁথি ব্রিজ থেকে পারব্রজপুর সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী (বিএমডিএ) মো. আলী হোসেন, উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মৃধা, যুবদলের সিনিয়র আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম প্রমুখ।

    উপজেলা প্রশাসন ও বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় পাঁচ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য

  • দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুরের কয়েকটি জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা মাছ অবমুক্ত করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

    মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার নয়টি জলাশয়ে মোট ২৮৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিলের বিলশা বিলে ৫৫ কেজি, খামারপাথুরিয়া মাদ্রাসার পুকুরে ৫০ কেজি, উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৩০ কেজি, দিকদারিয়া বিলে ৩০ কেজি, মির্জা মাহমুদ খালে ৩০ কেজি, খোলাগাড়ি বিলে ৩০ কেজি, পাটপাড়া মরা তুলশী নদীতে ২০ কেজি, থানা পুকুরে ২০ কেজি এবং বিল কাঠোর মরা নদীতে ২০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়।

    উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বাড়বে জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের মাছের জোগানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুর রশীদ, উপজেলা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মৎস্যজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবমুক্ত পোনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এসব জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বাড়বে।

  • বগুড়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বগুড়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার উদ্যোগে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিন শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি শাহরিয়ার হাসান বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খন্দকার।

    বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার সেক্রেটারি তৌফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, বগুড়া জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী ডা. মাসুদা করিম, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও গার্ডিয়ান পাবলিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া মহানগর সভাপতি শফিকুল ইসলাম, শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম, বগুড়া মহানগর মজলিসুল মোফাসসিরিনের সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম যুক্তিবাদী এবং সাজাপুর ফুলতলা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনের পথচলায় জ্ঞান, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি চরিত্র গঠন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াও জরুরি।

    আয়োজকরা জানান, বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার আওতাধীন এলাকার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিন শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নাটোরে ২৬১ বস্তা অবৈধ সার মজুত, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা-কারাদণ্ড

    নাটোরে ২৬১ বস্তা অবৈধ সার মজুত, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা-কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে চার ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের দোকান থেকে ২৬১ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়গ্রাম বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত পরিচালনা ও দণ্ডাদেশ দেন সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম।

    অভিযানে ব্যবসায়ী সোহেল হোসেনের দোকান থেকে আট বস্তা সার জব্দ করে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের কাছ থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

    অন্যদিকে ব্যবসায়ী আবুল হাসেমের কাছ থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপর ব্যবসায়ী মোবারকের কাছ থেকে ১৪৭ বস্তা সার জব্দ করে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    অভিযানে মোট ২৬১ বস্তা সার জব্দ এবং চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

    অভিযানে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

    সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম বলেন, ‘অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি কিংবা বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    পাবনা শহরের ইসকন মন্দিরে প্রতিমা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

    গত সোমবার সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    প্রান্থ কুমার দাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সুধিরপুর এলাকায়। তিনি প্রশান্ত চন্দ্র ম-লের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


    মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মন্দির খোলার পর প্রান্থ সেখানে প্রবেশ করে মন্দিরে ভাঙচুর করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরের লোকজন তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। আটকের পর মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, প্রান্থ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানো গেছে। মন্দিরে প্রবেশের পর তার মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাঙচুর শুরু করেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রান্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলায় কী কী ধারা দেওয়া হয়েছে এবং মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পাবনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় শত শত কৃষক এই অবরোধে অংশগ্রহণ করেন। এতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

    গত দু’মাস ধরে পুঠিয়ায় কৃত্রিম সার সঙ্কটের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ধান চাষের ভরা মৌসুমে ন্যায্য মূল্য দিয়েও সার পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা। সরকারি দামে সার কেনা কৃষকের কাছে এখন যেন সোনার হরিণ। টিএসপি আর ডিএপি সারের তো দেখাই মিলছে না ডিলারদের কাছে। এগুলো ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর আগেই যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। বেশি দাম দিলে খুচরা ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে।

    কৃষকরা সরকারি বাজারমূল্য অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন না। সরকার নির্ধারণ করে দেয়া সারের বাজারমূল্য প্রতি কেজি পটাশ ২০ টাকা, ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা। অথচ অজানা কারণে ডিলার-সাব ডিলারের হাত ঘুরে বালাইনাশক বিক্রেতাদের দোকানে টিএসপি ৬০ টাকা, ডিএপি ৫০ টাকা আর এমওপি ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে তাদের কাছেও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের শর্ত হচ্ছে সারের সাথে বালাইনাশকের ওষুধগুলো তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে।

    অবরোধে অংশ নেয়া কৃষক আব্দুস সালাম জানান, চার বিঘা রোপা আমন ধান রোপণ করেছি কিন্তু সারের অভাবে ধান চাষ করতে পারছি না ঠিকমতো। ডিলারদের কাছে গেলে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সারের অভাবে ধান চাষে লাভবান হতে পারবে না কৃষকরা। সার কিনতে গেলে ডিলারদের কাছে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্বিগুণ দাম দিলে বালাইনাশকদের কাছে সার মিলছে।’

    এদিকে বানেশ্বরে কৃষকদের অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। প্রতি মাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ আসছে। তবে ধান চাষের মৌসুমে চাষের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।’

    ডিলারদের কাছে সার নেই, সব সার বালাইনাশক বিক্রেতাদের কাছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নীরব থাকেন তিনি।

  • সোনালি আঁশে টিকে থাকার সংগ্রাম

    সোনালি আঁশে টিকে থাকার সংগ্রাম

    বাজারে পাটের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি কৃষকের লাভ। সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ার পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে ফলন কমে যাওয়ায় বাড়তি দামের সুফলও মিলছে না কৃষকের ঘরে। ফলে এক সময়ের ‘সোনালি আঁশ’ পাট এখন অনেক কৃষকের কাছে লাভের চেয়ে টিকে থাকার ফসল হয়ে উঠেছে।

    সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। গুণগতমান অনুযায়ী প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৪৩০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের মৌসুমের শুরুতে যেখানে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ৩৫০০ থেকে ৪২০০ টাকা, এবার সেখানে দাম কিছুটা বেশি। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং অতিবৃষ্টিতে ফলন কমে যাওয়ায় এ বাড়তি দামেও কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকেরা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সদর, কাজীপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, বেলকুচি, তাড়াশ, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া, শুকানো ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় পাটগাছ স্বাভাবিক উচ্চতা অর্জন করতে পারেনি। সাধারণত পাটগাছের উচ্চতা ৭ থেকে ১২ ফুট হলেও এবার অনেক এলাকায় তা ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত কম হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি গড়ে ৪০ থেকে ৫৫ কেজি পর্যন্ত আঁশের উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

    রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দরে কিনছেন। তবে কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ দামও তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল শেখ বলেন, ‘এ বছর তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। দাম কিছুটা ভালো পেলেও মৌসুম জুড়ে এ দাম থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।’

    রেজাউল শেখ আরও বলেন, ‘পাট চাষ করে তেমন লাভ হচ্ছে না। এ কারণে ধীরে ধীরে পাট চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছি।’

    একই উপজেলার পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানা, এবার এক বিঘা জমিতে তার ৬ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করলে মোট দাম দাঁড়ায় ২৫ হাজার ২০০ টাকা। অথচ নিজের শ্রমের মূল্য বাদ দিয়েও তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে তিন মাসে এক বিঘা জমি থেকে নিজের শ্রমের বিনিময়ে লাভ থাকছে মাত্র প্রায় ৭ হাজার টাকা। অতিবৃষ্টির কারণে এবার বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ মণ পর্যন্ত পাট কম উৎপাদন হয়েছে।’

    সোনালি আঁশ এখন কৃষকের দুঃখের আঁশ বলে কাজীপুর উপজেলার কৃষক মকবুল সেখ বলেন, ‘প্রতি মণ পাট উৎপাদনে তার প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়। এবার বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও ফলন কমে যাওয়ায় লাভ তেমন হচ্ছে না।

    ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আগে পাটের আঁশকে বলা হতো সোনালি আঁশ। আর এখন পাটের আঁশ হয়েছে কৃষকের দুঃখের আঁশ।’

  • আদমদীঘিতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    আদমদীঘিতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় সান্তাহার রেলওয়ে ইয়ার্ড কলোনি এলাকায় ছাতিম গাছের ডাল থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছে লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    মৃত এমডি বাঁধন (২৩) সান্তাহার পৌর শহরের ইয়ার্ড কলোনি মহল্লার মাসুদ রানার ছেলে।

    স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি কেবল আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

    এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিঞা জানান, লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

    নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শারমিন আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বকর সিদ্দিক নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের মো: আবু হানিফের ছেলে।

    মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছিল। পথে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক তাকে রাস্তা থেকে ডেকে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    পরে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। এরপর স্বজনরা তাকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠায়।

    দীর্ঘদিন ধরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপন শেষে রোববার বিকেলে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। কিন্তু আসামী জামিনে মুক্ত রয়েছে।

    নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, দীর্ঘদিন সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। জরিমানার টাকা নিহতের পরিবারকে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

  • নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁয় এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬শ’ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “মেধা সততা দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে ক্রেস্ট, বই এবং শিক্ষা উপকরণাদি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নোমান হোসেন নয়নসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, যোগ্য মানুষ তৈরীর কারিগর শিবির। আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এজন্য তাদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিবির শিক্ষার্থীদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।

    এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। শিবিরের এমন সংবর্ধনা পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

  • বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় ৮৭ শতাংশ পুরুষ। একই সময়ে মারা গেছেন ৯ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্কসহ নানা কারণে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ মাসে পরীক্ষা করা ২,১৬৪ জনের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। এ সময়ে বগুড়া জেলার ৯২ জন এবং অন্য জেলার একজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এইচআইভি সন্দেহে ৫৯৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

    চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্ক, যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমণ, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মতো আচরণ থেকে এইচআইভি ছড়াতে পারে।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসেন। পজিটিভ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং করা হয়। আক্রান্তদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়।

    তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য

    শজিমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওয়াদুদুল তরফদার নাহিদ বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সি মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কসহ বিভিন্ন কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের পাশাপাশি সার্জারি করা রোগীদেরও এইচআইভি পরীক্ষা করা জরুরি।

    সপ্তাহব্যাপী শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে বিভিন্ন বয়সি কয়েকজনকে এইচআইভি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নওগাঁর নজিপুরের এক দম্পতিও ছিলেন। মাদকাসক্ত কয়েকজনের শরীরেও এইচআইভি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

    সাত বছরে ৯ মৃত্যু

    গত ২০ আগস্ট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এইচআইভিবিষয়ক সেমিনারে সংক্রমণের আরো তথ্য উঠে আসে।

    সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সাত বছরে বগুড়ায় ৪,০৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে পরীক্ষা করা হয়েছে ১,৭৯৪ জনের। এ সময়ে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাত বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

    এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক। নারী-পুরুষের পাশাপাশি পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের সময় ও বুকের দুধের মাধ্যমেও শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

    সচেতনতায় গুরুত্বচিকিৎসক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে উল্লাপাড়া উপজেলার করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাট এলাকায় এই আদেশ জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

    উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে সমঝোতা হলে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৭-৯ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাটে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

    জামায়াত আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, কালীগঞ্জ নৌকা ঘাটে আমরা ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অসুস্থতার জন্য মন্ত্রী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আমরাও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছ। পাল্টা পাল্টি অভিযোগের কারণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

  • বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে চুরি

    বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে চুরি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একটি মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ১ নম্বর পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ভোরে মসজিদের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মাসিদুল দাঁত ব্রাশ করতে বের হয়ে এবং একই সময়ে এক নারী দানবাক্সে ১০০ টাকা দিতে এসে তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিনকে জানান।

    খবর পেয়ে কমিটির ক্যাশিয়ার ঘটনাস্থলে এসে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি মাথা ও মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দানবাক্সের কাছে আসে। মাত্র ৭ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে তারা দানবাক্সের তালা ভেঙে ব্যাগে টাকা ভরে নিয়ে চলে যায়। তবে মুখে কাপড় থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিন বলেন, “আমি পাশের মাদ্রাসায় শ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছিলাম। ফোন পেয়ে এসে দেখি দানবাক্সের তালা ভাঙা এবং ভেতরের সব টাকা নিয়ে গেছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন ও কমিটির সদস্যদের নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর তিন মাস ধরে দানবাক্সটি খোলা হয়নি। এর আগে তিন মাস পর একবার দানবাক্স খুলে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। চোরদের শনাক্ত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, কেউ তথ্য দিয়ে চোর শনাক্তে সহায়তা করলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হবে।

    মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান দুলাল বলেন, মসজিদে বিভিন্ন দান-অনুদান আসে। প্রতি শুক্রবারও মুসল্লিরা দান করেন। এসব অর্থ দানবাক্সে জমা রাখা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে দুই ব্যক্তি দানবাক্সের কাছে এসে তালা ভাঙে এবং ভোর ৪টা ৫ মিনিটে বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে চলে যায়। মুখে কাপড় থাকায় তাদের চেহারা শনাক্ত করা যায়নি।

    বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

  • কর মওকুফ চায় প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক কোম্পানি

    কর মওকুফ চায় প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক কোম্পানি

    পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল, আটা ও বিস্কুট উৎপাদনে ব্যবহৃত ভিটামিন ও মিনারেল আমদানিতে কর, ভ্যাট ও অন্যান্য শুল্ক মওকুফ চেয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। তিনি মীর শাহে আলমের ছেলে।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ভিজিটিং কার্ড সংযুক্ত করে রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলসের কর মওকুফ বা বিশেষ রেয়াতের একটি আবেদন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এনবিআর।

    রূপসী রাইস মিলের চিঠিতে বলা হয়, বগুড়ার শিবগঞ্জের বেতগাড়ী মীরবাড়ীতে অবস্থিত রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি ফোর্টিফাইড রাইস কার্নেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য অধিদপ্তরকে রাইস কার্নেল সরবরাহ করছে। এ পর্যন্ত সরকারি খাদ্যবান্ধব ও ভিজিডি কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার ১৯৮ টন কার্নেল সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে প্রায় ২০ টন কার্নেল ও দুই হাজার টন পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল সরবরাহ করেছে।

    জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সমকালকে বলেন, ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য সরকারি পরিচয় ব্যবহার করা স্পষ্ট নৈতিক স্খলন এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থি কাজ। এই আচরণ শুধু পদের অবমাননা নয়; বরং এটি স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে ক্ষমতার এমন চর্চা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এনবিআরের মতো প্রতিষ্ঠানের উচিত এ ধরনের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা।

    সাধারণ চালের সঙ্গে একশ অনুপাত এক (১০০: ১) এই হারে কার্নেল মিশ্রণ করে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল উৎপাদন করা হয়। কার্নেল উৎপাদন করতে মূল উপাদান হিসেবে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি১, ভিটামিন-বি১২, ফলিক এসিড, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম কার্বোনেট প্রয়োজন হয়। ফোর্টিফাইড আটা ও ফোর্টিফাইড বিস্কুট উৎপাদনেও এসব ভিটামিন ও মিনারেল ব্যবহার হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব কাঁচামাল বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। ফলে দেশের বর্তমানে ১৪টি কার্নেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভিটামিন, মিনারেলগুলো প্রিমিক্স বা মিশ্রণ হিসেবে একটি এইচএস কোডে বিদেশ থেকে আমদানি করছে। এসব ভিটামিন ও মিনারেলগুলোর আলাদা দামের চেয়ে প্রিমিক্সের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আমদানি বাবদ বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়বে।

    চিঠিতে রূপসী রাইস মিলস জানিয়েছে, সম্প্রতি তারা দেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রিমিক্স উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে। সেখানে তারা প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলগুলো কাঁচামাল হিসেবে আলাদাভাবে আমদানি করে প্রিমিক্স তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানি খরচ কমে যাবে এবং অন্যান্য কার্নেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কম মূল্যে তাদের থেকে প্রিমিক্স কিনতে পারবে। ফলে কার্নেল উৎপাদন খরচও কমে যাবে; বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

    রূপসী রাইস মিলস দাবি করেছে, কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট, ট্যাক্স ও অন্যান্য শুল্ক মওকুফ অথবা বিশেষ রেয়াত সুবিধা পেলে দেশে নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি প্রিমিক্সের দাম কমলে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল, ফোর্টিফাইড আটা ও ফোর্টিফাইড বিস্কুটের দাম কমবে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষের কাছে এসব পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য সহজলভ্য হবে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্তকে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরে সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি আর ধরেননি। পরে সমকালের পরিচয় দিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তাতেও তিনি সাড়া দেননি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। ছাড় দিলে তা সবার জন্যই দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট ছাড় শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে দেশে যদি কোনো বিশেষ পণ্য কেবল একটি প্রতিষ্ঠানই তৈরি করে, তবে তাদের ক্ষেত্রে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

    তবে এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৯ অনুযায়ী একক প্রতিষ্ঠানকে এ জাতীয় সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। করছাড় দিলে যদি নির্দিষ্ট কোনো খাতের সব কোম্পানি উপকৃত হয়, তাহলে দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, এনবিআর একক প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের ছাড় দেওয়ার জন্য মতামত পাঠালে আইন অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয় বা আইন মন্ত্রণালয়ও তা দিতে পারবে না।

  • সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

    সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে নিহত অটোচালকের বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

    এ সময় নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়ে মা আসমা বেগম ও স্ত্রী ফেরদৌসি আক্তারের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬ হাজার টাকার চেক ও চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন ইউএনও।

    সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, ছাত্রদলের সদস্য সচিব সিহাব উদ্দিন শান্ত প্রমুখ।

    ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন। তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।

    উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর ভোগা বসন্তপুর রাস্তার পাশ থেকে অটোচালক আনোয়ার হোসেনের হাত-পা ও মুখ বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

  • নেই স্নাতক ডিগ্রি, তবুও হলেন রাবির রেজিস্ট্রার

    নেই স্নাতক ডিগ্রি, তবুও হলেন রাবির রেজিস্ট্রার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার পদে অনার্স ডিগ্রি না থাকা একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তিনি ২০০৬ সালে রাবিতে সরাসরি উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে অনার্স ডিগ্রী না থাকা একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনা।রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আদেশে অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    তবে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরির আবেদনের শর্তে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও তার নিয়োগের সময় এ শর্ত শিথিল এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের করা হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।

    তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন,”কোনো অনার্স ডিগ্রি নেই, মাদ্রাসায় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরির অভিজ্ঞতা আছে যদিও মাদ্রাসায় চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। উল্লেখ্য, একই সঙ্গে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের চাকরির আবেদনের শর্ত শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনার্স ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও উনার নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি শিথিল ছিল।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারলাম আজ রাবিতে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুনলাম এই বিষয়ে জোর রাজনৈতিক সুপারিশ আছে। এর আগে কোনো ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নিয়োগ দেবার ঘটনা কখনও ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।”

    একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদ্য অব্যহতিপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসুউদ। তিনি বলেন, আমি থাকাকালীন ওনার যে ফাইল দেখে আসছি তাতে উনি কোনোভাবেই যোগ্য বলে মনে করি না। আমি প্রকাশ্যেই বলতে পারব, এমন একজন মানুষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আরো অনেক পিছিয়ে যাবে। ওনার প্রোফাইল অনুযায়ী উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করি।

    তিনি বলেন, আমার ক্লাস-পরীক্ষা থাকার কারণে এ জায়গাটা আমার কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিলো। আমি মনে-প্রাণে চেয়েছি একজন যোগ্য লোক এ জায়গায় আসুক, কিন্তু এরকম একজন অথর্ব মানুষের কাছে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যাবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে ২০ বছরের বেশি কর্মরতদের মধ্য থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। বিধায় প্রয়োজনে আগে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়ে পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে বিবেচনা করা যেত অথবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরাসরি উন্মুক্ত পদে নিয়োগ দেওয়া যেত।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে কথা গুলো বলা হচ্ছে তা মিথ্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী আমাকে এখানে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে তিনি স্নাতক না করলেও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা দেখেই দেয়া হয়েছে ব্যতিক্রম হয়নি। যখন পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেয়া হবে, তখন সেটা সেই যোগ্যতা অনুযায়ী দেয়া হবে। তবে এ নিয়োগে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। “

    উল্লেখ্য, এ.এইচ.এম. আসলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮১ সালে সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

    চাকরিজীবনের শুরুতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ২০০৩ সালে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) পদে সরাসরি যোগদান করেন। রাবিতে যোগদানের পর থেকে তিনি একাডেমিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

  • চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে: শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে: শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলাস্থ জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবগঠিত বগুড়ার মোকামতলা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা জানান। এসময় নেতৃত্বকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। চলমান অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা। এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ই-রিকশা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের প্রয়োজন ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুপরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

  • র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বরাদ্দ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

    র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বরাদ্দ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি দেশীয় মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং বিবেচনা করে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় র‍্যাংকিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট বরাদ্দ করা হবে। আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি দেশীয় মানদণ্ডের র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা তৈরি করতে। এতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেই সুযোগ তৈরি হবে।

    দেশীয় র‍্যাঙ্কিং চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। দ্রুতই আপনারা এর ফল দেখতে পারবেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা ও মান বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

    এ সময় দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দ্বিতীয় ভাষা আমাদের অগ্রাধিকারের অংশ। আমরা ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করেছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ভাষা ইনস্টিটিউট রয়েছে। এটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে, যাতে এখানে শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার আরও ভালো ব্যবস্থা করা যায়।

    নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত শিশুদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

    ওসি একরামুল হোসাইন জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দেবীনগর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নামে বেশ কিছু শিশু। গোসলের একপর্যায়ে পাঁচ শিশু পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা নদীতে তল্লাশী চালিয়ে একে এক পাঁচ শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে।

    তিনি জানান, মৃত পাঁচ শিশুই চর চাকলা এলাকার বাসিন্দা।

    তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

  • বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

    বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বগুড়া পৌর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ছানি রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ক্যাম্পে শনাক্ত হওয়া ৫০০ ছানি রোগীর লেন্সসহ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

    চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। তিনি ক্যাম্পের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি রোগীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ সেক্টরের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আহমেদ তাহের হামিদ আলী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির নেতা ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উল নবী সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বগুড়ার নেতৃবৃন্দের মধ্যে ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, ডা. আফসারুল হাবিব রোজ, আমিনুল হক দেয়ান সজল ও ডা. ইউনুস আলী, আল-নূর চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু সাঈদ, আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের ফ্রি ক্যাম্পিং ম্যানেজার মো. ওবায়দুজ্জামান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সুজন এবং গাবতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মজনুসহ চিকিৎসকরা।

    আয়োজকরা জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ সময়মতো প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামে মরানদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জুমার নামাজের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো- ওই এলাকার মাসুদ রানার মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও আবিদা (৭)। তারাও ওই গ্রামের নেজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৯)। অন্যজন হলেন এই গ্রামের শরীফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (৮)।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পাঁচ শিশু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যায়। এ সময় একে একে পাঁচ শিশুই পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। গ্রেপ্তার রবিউল নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় রবিউলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সর্বশেষ বুধবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের নুন্দহ-মুরাদপুর আঞ্চলিক সড়কের নুন্দহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার নুন্দহ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। পরে এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, র‌্যাব-১২ একটি দল নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে এক ব্যক্তি ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নুন্দহ গ্রামের দিকে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা নুন্দহ থেকে মুরাদপুরগামী পাকা সড়কের নুন্দহ এলাকায় চেকপোস্ট বসান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৫মিনিটের দিকে একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অটোরিকশায় থাকা একমাত্র যাত্রী রবিউল ইসলামকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ছয়টি পলিথিনের ব্যাগে রাখা ১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৫০ টাকাও জব্দ করা হয়।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে সহযোগিতা করেছি। আমরা মাদকমুক্ত নন্দীগ্রাম চাই।

    রবিউলের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, দল কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় নেবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    নন্দীগ্রাম থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিকে নন্দীগ্রাম থানা থেকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশে আনা হবে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বাংলাদেশে পৌঁছাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ (বিজি ৩৪০) ফ্লাইটে তাদের লাশ বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

    মারা যাওয়া ৯ জনের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন– নওগাঁর মো. ফরিদ, মো. রুবেল প্রামানিক, মো. সোহেল রানা, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন আলী, মো. সুমন আলী, আব্দুল জলিল সরদার, নাটোরের রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর মো. শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

    লাশগুলো তাদের পরিবারের স্বজনদের কাছে বিমানবন্দরের কার্গো গেটে হস্তান্তর করা হবে।

    গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

  • আলু পচনের দায়ে মুখোমুখি হিমাগার মালিক-চাষি

    আলু পচনের দায়ে মুখোমুখি হিমাগার মালিক-চাষি

    রাজশাহীর বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত আলু পচে নষ্ট হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ এবং হিমাগার ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকেই আলু পচনের প্রধান কারণ বলে অভিযোগ করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

    অন্যদিকে হিমাগার মালিকেরা দায়ী করছেন ঘন ঘন লোডশেডিংকে। ফলে নষ্ট আলুর দায় ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে।

    চাষিদের অভিযোগ, হিমাগারগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও মৌসুমের শুরুতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত আলুর কারণে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বাতাস চলাচল না করায় পচন ধরছে।

    তবে হিমাগার মালিকেরা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু পচন রোধে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা জ্বালানি খরচ হচ্ছে।

    কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সচল। এসব হিমাগারে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক নেতাদের চাপেও কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়িভর্তি করে পচা আলু বের করা হচ্ছে। সেখানে আলু সংরক্ষণ করা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু লোড নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।’

    রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, ‘লোডশেডিংয়ে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। হিমাগার মালিকদের অব্যবস্থাপনার কারণেই আলু পচছে। মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু নেওয়ায় এখন সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

    সংগঠনটির সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ‘ওভারলোডিংয়ের কারণে আলু পচে যাচ্ছে। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ সময় আলু বের করে বাতাস দেওয়াও প্রয়োজন। এতে অতিরিক্ত খরচ হয়। কিন্তু ধারণক্ষমতার বেশি আলু থাকায় অনেক হিমাগার এবার এ প্রক্রিয়া ঠিকভাবে করতে পারছে না।’ডনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীর আলাই বিদিরপুরে রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

    এভাবে জেলার প্রায় সব হিমাগারেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে চাপের কারণে কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না এবং এ কারণে আলু নষ্ট হওয়ার কথাও নয়।’

    লোডশেডিংয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগার ঠাণ্ডা থাকে। এরপরও বিদ্যুৎ না এলে জেনারেটর চালাতে হয়। প্রতি ঘণ্টায় জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি হিমাগারকে মাসে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়।’

    তাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

    রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত বুধবার থেকে লোডশেডিং কমে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। হিমাগারগুলোতে সমস্যা হচ্ছে এমন অভিযোগ জানিয়ে কেউ ফোন করেননি।’

    কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও হিমাগারগুলোতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেও জানান তিনি।

    এদিকে আলু পচে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও ব্যবসায়ীরা বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নষ্ট আলুর ক্ষতিপূরণ নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

  • বগুড়ায় হাঁস পালন করে লাখপতি

    বগুড়ায় হাঁস পালন করে লাখপতি

    প্রায় ১২ বছর আগে হাঁস খাওয়ার জন্য গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে হাঁস কিনতে গিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। কিন্তু প্রতিবেশী হাঁসটি বিক্রি করতে রাজি হননি। সেই না-পাওয়ার রাগ ও ক্ষোভ থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই হাঁস পালন করবেন। একদিনের সেই জেদই বদলে দিয়েছে তার জীবন।

    বর্তমানে মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে প্রায় ৩ হাজার হাঁস পালন করছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমান। তার খামারে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার ডিম। ডিম বিক্রিসহ হাঁসের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তিনি ভালো আয় করছেন।

    সরেজমিনে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দারুগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ফজলুর রহমানের হাঁসের খামার। ২৪ শতাংশ জমির একাংশে রয়েছে পুকুর, অন্য অংশে তৈরি করা হয়েছে হাঁস পালনের ঘর। সীমিত জায়গার মধ্যেই চলছে প্রায় ৩ হাজার হাঁসের পরিচর্যা।

    ফজলুর রহমান জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজেই হাঁসগুলোকে ধান, শামুক ও ফিড খাওয়ান। ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়ে জমি ফাঁকা থাকলে হাঁসগুলো সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে বাড়তি খাবারের খরচ কিছুটা কমে যায়। তবে হাঁসগুলো মাঠে ছেড়ে দিলে দেখভালের জন্য একজন সহযোগী রাখতে হয়।

    তিনি বলেন, তার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ডিম উৎপাদন হয়। প্রতিদিনের ডিম বিক্রি করে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়া যায়। এ হিসাবে মাসে ডিম বিক্রি থেকেই প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আয় হয়। এ ছাড়া প্রতি ছয় মাসে একটি প্রকল্প শেষ হলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা আয় হয়।

    একসময় ফজলুর রহমানের সংসারে অভাব-অনটন ছিল। হাঁস পালন শুরু করার পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে হাঁস পালন করে এখন তিনি স্বাবলম্বী।

    ফজলুর রহমান জানান, হাঁস পালনের জন্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। এখন পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহায়তা ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাঁসের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে আসছেন তিনি।

    তার এই দক্ষতার কথা আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখন হাঁসের চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে তার কাছে আসেন। তার সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে।

    শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ কাযমীর রহমান বলেন, “এই উপজেলায় প্রায় ৫০ জন হাঁসের খামারি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এ সংখ্যা কম-বেশি হয়। খামারিদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগবালাইয়ের কারণে কোনো খামারি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

  • পানের জমিতে চুইঝাল চাষের নতুন সম্ভাবনা

    পানের জমিতে চুইঝাল চাষের নতুন সম্ভাবনা

    একসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রান্নার মসলা হিসেবে পরিচিত ছিল চুইঝাল। এখন সেই চুইঝাল ঢুকে পড়ছে রাজশাহীর কৃষকের মাঠেও। পরীক্ষামূলক চাষের ধাপ পেরিয়ে রাজশাহী ও নাটোরে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক চাষ। দাম ভালো, বাড়তি জমির প্রয়োজন নেই এবং পানের মতোই চাষপদ্ধতি হওয়ায় ফসলটি নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চান্দোপাড়ায় ইতিমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চুইঝাল চাষ করছেন কৃষক আব্দুর রশিদ মোল্লা। বাড়ির পাশে আমগাছের নিচে প্রায় ১০ শতক জমিতে চুইঝালের গাছ লাগিয়েছেন। জমিতে গাছগুলো বেশ সতেজ ও সবল হয়ে বেড়ে উঠছে।

    কৃষক আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, ‘মোহনপুর কৃষি অফিস ও রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের সহযোগিতায় চুইঝাল চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। পানের চাষের অভিজ্ঞতা থাকায় চুইঝালের পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ মনে হয়েছে। এখন পর্যন্ত গাছে কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন করে গ্রামের অন্য কৃষকদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চুইঝালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে। বাজারে দামও ভালো। আমাদের এলাকায় এখনো বড় বাজার তৈরি হয়নি। তবে হর্টিকালচার সেন্টার বাজারদরে চুইঝাল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।’

    কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মোহনপুরে পানের চাষ ভালো হওয়ায় চুইঝালের জন্য এলাকাটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। চুইঝালের চাষপদ্ধতিও অনেকটা পানের মতো। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এখানে পরীক্ষামূলকভাবে চুইঝালের চাষ শুরু করা হয়। প্রায় দুই বছর পর এর ফলন ও গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হওয়ায় এখন চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    চুইঝাল মূলত লতাজাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর কাণ্ড, শিকড় ও ডাল রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে গরু, খাসি, হাঁস ও মুরগির মাংসে চুইঝালের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। রান্নায় এটি যোগ করলে খাবারে ঝাঁঝালো স্বাদ ও আলাদা ঘ্রাণ তৈরি হয়।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে চুইঝাল দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মসলা। বাজারেও এর চাহিদা বাড়ছে। মানভেদে শুকনা চুইঝাল প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। কাঁচা ও শুকনা দুই অবস্থাতেই বাজার রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস এখন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে চুইঝালের সঙ্গে তেমন পরিচয় ছিল না। স্থানীয়ভাবে চাষ হচ্ছে জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজ নিয়ে এর জনপ্রিয়তার কথা জানতে পারি। আমাদের এলাকায় যখন চুইঝাল হচ্ছে, আমরাও এখন মাংসে দিয়ে খেয়ে দেখব।’

    শুধু উৎপাদন নয়, চারা নিয়েও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক শামীম ইকবাল জানান, সেখানে চুইঝালের চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি চুইঝালের কাটিং চারা ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

    তবে চুইঝাল চাষের জন্য তুলনামূলক উঁচু জমি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

    রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ছাইয়্যেদা দিল ছালিন বলেন, ‘মোহনপুরে পরীক্ষামূলকভাবে চুইঝাল দেওয়ার পর ফলন ও বৃদ্ধি ভালো পাওয়া গেছে। নাটোরেও চাষ হচ্ছে। পান ও চুইঝালের চাষপদ্ধতিতে মিল থাকায় মোহনপুরকে চাষ সম্প্রসারণের জন্য উপযোগী মনে করা হয়েছে।’

  • নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর মানবিকতায় ৬০ বছর বয়সে ঘর পেলেন ‘অপেজান’

    নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর মানবিকতায় ৬০ বছর বয়সে ঘর পেলেন ‘অপেজান’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর মানবিক সহযোগিতায় ৬০ বছর বয়সে নতুন ঘর পেলেন অসহায় অপেজান বেগম।

    স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় না খেয়েও দিন কাটাতে হয়েছে মা-মেয়েকে।

    নলডাঙ্গা উপজেলার ৫ নম্বর বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের মমিনপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুরদীঘা গ্রামে বসবাস করেন অপেজান বেগম। বয়সের ভারে কাজ করার সক্ষমতাও কমে গেছে তার। নিজের কোনো বসতঘর না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা কষ্টে দিন পার করছিলেন তিনি।

    নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘অপেজানের দুর্দশার কথা জানতে পেরে স্থানীয় গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে তার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। আমার এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত হয় ঘরটি। পাশাপাশি অপেজানকে খাদ্যসামগ্রীও দেয়া হয়েছে। এছাড়া অপেজানের একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড এবং অপেজান বেগমের জন্য বয়স্ক ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।’

    মমিনপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অপেজান বেগম স্বামীহীন অবস্থায় প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি শফিকুল ইসলাম বুলবুলকে জানালে তিনি ঘর নির্মাণ ও খাদ্য সহায়তায় এগিয়ে আসেন। ডা: মো: মোজাহের আলীর অর্থায়নে ঘরটি নির্মাণ করা হয়।’

    নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অপেজান বেগম। তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে নিজের একটি ঘর হবে, এটা কখনো ভাবিনি। স্থানীয় নেতা ও গ্রামের মানুষের ভালোবাসা এবং সহযোগিতায় আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

    স্থানীয় ডা: মো: মোজাহের আলী বলেন, ‘সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। অপেজানের মতো অসহায় মানুষের পাশে সবাই এগিয়ে এলে সমাজে মানবিকতার বন্ধন আরো দৃঢ় হবে।’

    অসহায় অপেজানের জন্য গ্রামবাসীর এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

  • নাটোরে বাস-ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত

    নাটোরে বাস-ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাসের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— সাইদ (৪৫) ও সাব্বির (২৩)।

    নিহত সাইদ বড় হরিশপুর ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম হাসান আলী। অপর নিহত সাব্বির (২৩) জয়নগর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম জমশেদ।

    নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনছুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে হরিশপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাসের সঙ্গে একটি ভ্যানের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ সময় মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

  • সার সংকটে দিশেহারা রাজশাহীর আমন চাষিরা

    সার সংকটে দিশেহারা রাজশাহীর আমন চাষিরা

    আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যস্ত সময়ে রাজশাহীর কৃষকদের নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সার। এক ডিলারের দোকানে সার না পেয়ে অন্য ডিলারের কাছে ছুটছেন কৃষকেরা। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদার তুলনায় সামান্য সার মিলছে, আবার কোথাও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এ সুযোগ নিয়ে সরকারি দামের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দরে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

    গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নজরুল ইসলামের দোকানে সারের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দেওপাড়া গ্রামের কৃষক আল্লাম জানান, সকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাজীহাটা গ্রামের কৃষক বাবলু ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নিজের এলাকার ডিলারের কাছে ইউরিয়া না পেয়ে দেওপাড়ায় এলেও মাত্র ২০ কেজি সার দেওয়ার কথা শুনে তিনি সার না নিয়েই বাড়ি ফেরেন।

    পবার ভিমের ডাইং গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ ডিএপি না পাওয়ার কথা জানান। গোদাগাড়ীর কদমশহরের কৃষক রাশিদুল ইসলামও নিজের এলাকার ডিলারের কাছে সার না পেয়ে অন্য এলাকায় ছুটেছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু ইউরিয়া দিলে ধানের ফলন ঠিক রাখা কঠিন।’ একই এলাকার আকবর আলী দুই বস্তা ইউরিয়া পেলেও ডিএপি পাননি।

    চারঘাটেও একই চিত্র। ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আকাশ এন্টারপ্রাইজে টিএসপির জন্য কৃষকদের ভিড় দেখা যায়। কেউ

    এক বস্তার বদলে ২৫ কেজি, আবার কেউ দুই বস্তার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৫ কেজি সার পেয়েছেন।

    ডিলারের কর্মচারীর দাবি, ১০ মেট্রিক টন টিএসপি পাওয়ার পর অবশিষ্ট ছিল মাত্র ২৯ বস্তা। তাই সবাইকে অল্প অল্প করে দেওয়া হচ্ছে।

    সারের সংকটের পাশাপাশি বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাটে এক কৃষক ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনেছেন, যেখানে সরকারি মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা। একই দোকানে ইউরিয়া বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডিএপি ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রাজশাহীতে ইউরিয়ার বরাদ্দ ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৭২৪ টন। ডিএপির ২ হাজার ৬৪৭ টনের বিপরীতে এসেছে ২ হাজার ১৮২ টন। টিএসপির ১ হাজার ৫১১ টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৪০ টন এবং এমওপির ১ হাজার ৭৬০ টনের বিপরীতে এসেছে ১ হাজার ৪৯৬ টন।চলতি আমন মৌসুমে রাজশাহীতে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর বাইরে জেলার প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টর পুকুরে মাছ চাষেও সার ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষিজমির বরাদ্দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম। বেশি দামে সার বিক্রি বা অবৈধ মজুদের অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের দাবি, রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কোথাও বেশি দামে বিক্রি বা পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    মাঠে সার না পাওয়ার তথ্য পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    গত কয়েক দিনে পবা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও চারঘাটে অভিযান চালিয়ে সার বাইরে বিক্রি ও অবৈধ মজুদের অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্ব সফর করতে পারেন, ভারত সফরেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতা, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলে এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, সেটিই বড় বিষয়।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। মানুষের এই আস্থা অর্জন করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক।

  • আগাম শিম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

    আগাম শিম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের চণ্ডিপাশা চরপাড়া গ্রামের কৃষকদের কাছে আগাম শিম এখন শুধু একটি সবজি নয়, বাড়তি আয়ের অন্যতম পথ। অল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে চাষ করে কয়েক গুণ বেশি আয় করার সুযোগ থাকায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষ।

    স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আট থেকে দশ বছর আগে এ গ্রামে আগাম জাতের শিম চাষ শুরু হয়। প্রথম দিকে কয়েকজন কৃষক পাবনা থেকে বীজ এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। ফলন ও লাভ ভালো হওয়ায় তাঁদের সাফল্য দেখে অন্যরাও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন গ্রামের অনেক কৃষকই আগাম শিম চাষ করছেন। কেউ কেউ নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করে পরের বছর জমিতে ব্যবহার করছেন।কৃষক গিয়াস উদ্দিন জানান, এবার ২০ শতক জমিতে আগাম শিম চাষ করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। জমিতে আরও প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে তাঁর আশা।

    ২০ শতক জমি থেকে তাঁর মোট বিক্রি হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিলে লাভের পরিমাণও দাঁড়াবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে। গিয়াস উদ্দিন বলেন, গত সাত বছর ধরে তিনি আগাম জাতের শিম চাষ করছেন। প্রতিবছরই ভালো ফলন ও দাম পাওয়া যায়। এ কারণে এখন তিনি নিয়মিত এ জাতের শিম চাষ করেন। গিয়াস উদ্দিনের পাশের জমিতেই আগাম শিম চাষ করেছেন ফারুক মিয়া। ৩৫ শতক জমিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা। এরই মধ্যে তিনি ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। জমিতে আরও প্রায় দুই লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

    ফারুক মিয়া বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি আগাম শিম চাষ করছেন। আগাম শিম বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। তাই অন্য ফসলের তুলনায় এ চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি

    শুধু গিয়াস উদ্দিন ও ফারুক মিয়া নন, একই গ্রামের কৃষক ফয়সাল মিয়াও ২৬ শতক জমিতে আগাম শিম চাষ করে কয়েকগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তাঁদের সাফল্য দেখে গ্রামের আরও অনেক কৃষক এ চাষে যুক্ত হয়েছেন।

    আগাম শিম চাষের শুরুটাও ছিল একেবারে স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে। প্রথম দিকে পাবনা থেকে বীজ এনে চাষ করতেন তাঁরা। পরে চাষের অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের জমির ভালো শিম থেকে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ শুরু করেন।

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চণ্ডিপাশা এলাকার মাটি গ্রীষ্মকালীন আগাম শিম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সবজি প্রণোদনা, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে কিভাবে ফসলকে রক্ষা করবে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

  • রাণীনগরে বেশি দামে সার বিক্রি : দুই ডিলারকে জরিমানা

    রাণীনগরে বেশি দামে সার বিক্রি : দুই ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ জন সার ডিলারকে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার আবাদপুকুর বাজার ও পাকুড়িয়া বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন।

    নাবিলা ইয়াসমিন জানান, আবাদপুকুর বাজারে কৃষকদের নিকট সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন ডিলাররা। এমন গোপন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবাদপুকুর বাজার ও এলাকার পাকুড়িয়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    তিনি জানান, অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আবাদপুকুর বাজারের সার ডিলার শহিদুল ইসলাম ফটিককে ১২ হাজার এবং পাকুড়িয়ায় সুধীর ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    নাবিলা ইয়াসমিন আরো জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে এবং দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগাতে দেশের মহাসড়কে শিগগিরই ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স নামানো হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এসব অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে।

    পাইলট প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নির্ধারিত অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনজন করে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হবে। রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ—উপযুক্ত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেবাটি বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহতদের সহায়তায় মহাসড়কের পাশে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বা ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ কর্মী রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাদের ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হবে।

    মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষিত স্থানীয় মানুষ প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়ক এ সেবার আওতায় আনা হবে।

  • কৃষকের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা

    কৃষকের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার শিবগঞ্জে রাতের আঁধারে কৃষক নয়ন প্রামানিকের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার পৌর এলাকার তেঘড়ি মহল্লায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষক নয়ন প্রামানিকের জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী জানান, চাম্পা জাতের কলাগাছগুলো অনেক যত্ন সহকারে লাগানো হয়েছিল। কিন্তু সোমবার রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা শত্রুতাবশত শতাধিক গাছ কেটে বিনষ্ট করে। গাছগুলোতে কলা ধরেছিল। এতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    শিবগঞ্জ থানার কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার

    ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার

    আফিল গ্রুপের ডিম ১১ টাকা ৭০ পয়সা, কাজী গ্রুপের ১১ টাকা ২১ পয়সা ও পাবনা গ্রুপের ডিমের দাম পিসপ্রতি ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর সঙ্গে পিসপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ পয়সা যোগ করে বিক্রি করছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা, চাঁদ গ্রুপ ১১ টাকা ৭০ পয়সা, মেগা গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা ও সিপি বাংলাদেশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা দামে পিস প্রতি ডিম সরবরাহ করছে।


    যশোরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে ফার্মের ডিমের দাম একলাফে আড়াই টাকা বেড়েছে। ফলে, সস্তার আমিষের উৎস হিসেবে পরিচিত এই পণ্যটিতে দামের কশাঘাত নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ে বাড়তি চাপ ফেলছে।
    সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা উৎপাদন ব্যয়ের একটি হিসাব তুলে ধরে দাম বৃদ্ধিকে সংগতিপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা দিলেও, অপর একটি সরকারি দপ্তর প্রধান ও প্রান্তিক খামারিরা এ মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন।
    তাঁদের অভিযোগ, ফার্মের ডিম উৎপাদনকারী করপোরেট গোষ্ঠী কারসাজি করে দাম বাড়ায়। এ ছাড়া ‘মিডিয়া’ অর্থাৎ খামার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তদের ‘সিন্ডিকেট তৎপরতায়’ ডিমের দাম ওঠানামা বা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।


    ডিম বিপণন ব্যবস্থার ভাষায় মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটকে ‘মিডিয়া’ বলে। ডিম বিপণন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ‘মিডিয়া’ ছাড়া বাজারে সরাসরি ডিম বিক্রি করতে পারেন না খামারির। ফলে পুঁজি-শ্রম বিনিয়োগ ও কষ্ট করে ডিম উৎপাদনকারী প্রান্তিক খামারিরা কখনই নিজেরা দাম নির্ধারণ করতে পারেন না।
    এদিকে ক্রেতারা বলছেন, দামের উত্তাপে অনেকদিন ধরেই গরু-খাসির মাংসের পদ পাতে উঠছে না। একসময়ের সাশ্রয়ী পাঙাশ-তেলাপিয়ার দাম বাড়ায় প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস মাছও চলে গেছে নাগালের বাইরে। এবার কম দামে সহজলভ্য আমিষের উৎস ডিমেও লেগেছে দামের কশাঘাত।


    খামারিরা বলছেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলসহ উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ, পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধপত্রের দাম কিছুটা বাড়ায় অন্যান্য খাতের মতো পোল্ট্রি শিল্পেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় কিছুটা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। তারপরও এত চাপের মধ্যে খামার সচল রাখতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে স্বল্প মুনাফা যোগ করে ডিম বিক্রি করছেন।
    কিন্তু বাজারে খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ‘মিডিয়া’ এক্ষেত্রে কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছে। এতে খামারিরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। আবার খুচরা ভোক্তার ওপরও চাপ পড়ছে।


    খাতটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দিনগুলোর মতো আবারও বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক প্রভাবের বাইরে খুচরা বাজারে ডিমের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের খামারি বিসমিল্লাহ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী সাব্বির হোসেন জানান, লেয়ার ফিড বা পোল্ট্রি ফিডের দাম কেজিতে ২ টাকা ও বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রতিদিন জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় এখন বেশি হচ্ছে।
    সাব্বির হোসেন দাবি করেন, বাজারে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া মিডিয়া (মধ্যস্বত্বভোগী) ডিমপ্রতি ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা লাভ করে। এতে খুচরা পর্যায়ে কয়েক হাত বদল হয়ে ডিমের দাম বেড়ে যায়। এই খামারির ভাষ্য, মিডিয়া ছাড়া বিক্রি করা যায় না। কয়েক হাজার ডিম যানবাহনে বয়ে নিয়ে বাজারে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা নেই বলে এমনটি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে আরও যোগ করেন তিনি।
    এই খামারি আরও জানান, তাঁর খামার থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে ডিম কিনে যাচ্ছেন ফড়িয়ারা। আর সেই ডিম বাজারে ১৩-১৪ টাকায় বিক্রি হলে সেটি অযৌক্তিক দাম বলে মনে করেন তিনি।
    সরেজমিনে যশোর শহরের নিত্যপণ্যের দোকান ঘুরে জানা গেছে, প্রতি পিস ডিম ১২ টাকা ৫০ পয়সা দামে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামীণ বাজারগুলোয় প্রতি পিস ফার্মের ডিম ১৪ টাকাও নেওয়া হচ্ছে বলে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে। এদিকে, শহরের জেল রোডের আড়তগুলোতে ডিমের পাইকারি দাম আকারভেদে ১২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত।
    ডিমের আড়ত ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, আফিল গ্রুপের ডিম ১১ টাকা ৭০ পয়সা, কাজী গ্রুপের ১১ টাকা ২১ পয়সা ও পাবনা গ্রুপের ডিমের দাম পিসপ্রতি ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর সঙ্গে পিসপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ পয়সা যোগ করে বিক্রি করছেন।


    বিসমিল্লাহ ডিম হাউজের মালিক আকরাম হোসেন পাপ্পু ও মায়ের দোয়া ডিম স্টোরের কর্ণধার শেখ কুদ্দুস আলী জানান, সিরাজগঞ্জ গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা, চাঁদ গ্রুপ ১১ টাকা ৭০ পয়সা, মেগা গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা ও সিপি বাংলাদেশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা দামে পিস প্রতি ডিম সরবরাহ করছে। এই দামের সঙ্গে লভ্যাংশ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করবেন।
    জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ডিমের বার্ষিক চাহিদা ৫১ কোটির ওপর। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫৩ কোটি ডিম। এ জেলায় বর্তমানে ১৩০টি লেয়ার মুরগির খামার চালু রয়েছে।
    তবে জেলায় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলেও তার সুফল ভোক্তা পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। বরং উৎপাদন ও খুচরা দামের মধ্যে বড় ব্যবধানের বিষয়টি সামনে এসেছে।
    যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ডিম উৎপাদনকারী একটি মুরগির খাবারের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হয় ৯ টাকা ৮০ পয়সা। খামারের শতভাগ মুরগি ডিম দেয় না। গড়ে ৮০ শতাংশ ডিম দেয়। এছাড়া বাচ্চা কেনা, ওষুধ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও শ্রমিকের খরচ মিলে আরও ১ টাকা ৮৪ পয়সা যোগ হয়। ফলে প্রতিটি ডিমের মোট উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।


    দামের চাপ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন :
    স্বল্পদামের অন্যান্য প্রাণিজ আমিষের মতো ডিমের দাম বৃদ্ধিতে দৈনন্দিন বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা। শহরের বড় বাজারে ডিম ক্রেতা উপশহরের সাজ্জাদ হোসেন জানান, সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। সস্তার পাঙাশ-তেলাপিয়াও নাগালের বাইরে। এবার বাড়ছে ডিমের দর। এতে প্রতিদিনের খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জীবনধারণ করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

    এদিকে, শহরের রেলবাজার এলাকায় আলাপচারিতায় আরেক ক্রেতা গৃহকর্মী জরিনা বেগম বলেন, বাচ্চাদের মাংস-মাছ খাওয়াতে পারি না। ঝোল ভাত খেতে চাইলে আগে ডিম সিদ্ধ করে আলু-ডিমের ঝোল করে দিতাম। সেটা না হলেও একটা ডিম ভাজা দিলে ভাত খেত। দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই ডিমও কেনা কঠিন হয়ে গেল।
    তবে এ ব্যাপারে সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা জানান, ডিমের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পত্রের মাধ্যমে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবগত করেছেন; যাতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা যায়।


    তিনি আরও জানান, ডিম উৎপাদনকারী যশোরের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়ের হিসাবপত্র যাচাই করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। এটা করা গেলে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় ও তাদের নির্ধারিত দামের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা যাবে। ১০ টাকার ডিম হঠাৎ সাড়ে বারো টাকা কেন হলো, সেটি উদঘাটিত হবে। ডিম উৎপাদনে নিয়োজিত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে ডিমের বাজার বেসামাল হচ্ছে বলে আরও যোগ করেন তিনি।

  • যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত রাবি অধ্যাপক

    যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত রাবি অধ্যাপক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় তার চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তার (প্রবাস কুমার) বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

    তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির দায়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তার একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি। তার বক্তব্যগুলো বিভিন্ন সময়ে লিখিত আকারে পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট তার শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।

    এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাস কুমার নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ক্লাস উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের চেম্বারে যান। পরবর্তীতে সে শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষক তাকে সাজেশনের কথা বলে পরীক্ষার প্রশ্ন দেন এবং ছবি তুলতে নিষেধ করে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর শরীরের একাধিক স্থানে অশোভন স্পর্শ করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন।

    পরে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ওই বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা।এ ঘটনা তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের দ্বারা গঠিত একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠিত হয়। তাদের তদন্ত রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।