রাজশাহী বিভাগ

  • মহাদেবপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

    মহাদেবপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

    বি ডি টাইমস ডেস্ক,

    নওগাঁর মহাদেবপুরে বৃষ্টির পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা আব্দুল জব্বারকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন ভাতিজা চপল।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ছোট মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল জব্বার মহেশপুর গ্রামের মরহুম তাছির উদ্দীনের ছেলে।

    জানা যায়, আব্দুল জব্বারের সাথে তার ভাই আব্দুর হাইয়ের ছেলে চপলের আগে থেকেই জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আব্দুল জব্বারের বাড়ির দিক থেকে সেই বৃষ্টির পানি চপলের জায়গা দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছিল। এই পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা ও ভাতিজার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

    এর একপর্যায়ে ভাতিজা চপল তার চাচাকে তুলে আছাড় মারেন এবং গলা টিপে ধরেন। এতে চাচা আব্দুল জব্বারের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বগুড়ায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বগুড়ায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় চালক আব্দুল মান্নানকে (৪৫) হত্যা করে তার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত মান্নান জেলার গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য।

    নিহতের পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতো রোববার (২৮ জুন) সকালে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মান্নান। তিনি বগুড়া শহরের চেলোপাড়া স্ট্যান্ড থেকে সারিয়াকান্দি রুটে সিএনজি চালাতেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সহকর্মীরা তাকে সর্বশেষ চেলোপাড়া স্ট্যান্ডে দেখেন। এরপর তিনি আর বাড়ি না ফেরায় সোমবার সকাল থেকে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন।

    একপর্যায়ে সারিয়াকান্দির কৈ-খালি বিল এলাকায় স্থানীয়রা একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মান্নানের বলে শনাক্ত করেন।

    সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর শ্বাসরোধে চালক মান্নানকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের মোবাইলফোনটিও তারা নিয়ে গেছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    পাবনার চাটমোহরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আবুল আলীর ছেলে ইমরান নাজির (২৯) ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আ: ওহাবের ছেলে রজব আলী (৩২)।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৩, তাং ০৬/০১/২০২৫ ইং। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • সাপাহারে আম উৎসব চললেও চাষিদের মুখে হতাশা

    সাপাহারে আম উৎসব চললেও চাষিদের মুখে হতাশা

    দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের মোকাম সাপাহারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে আম সংগ্রহ, বাছাই ও পাইকারি বিক্রির ব্যস্ততা। শত শত চাষি, ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর আমের হাট।

    তবে এই কর্মচাঞ্চল্যের আড়ালে বাড়ছে আমচাষিদের হতাশা। উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রচলিত ৪০ কেজির মণের পরিবর্তে ৫২ থেকে ৫৫ কেজি পর্যন্ত ওজনে আম বিক্রির চাপ। ফলে অধিকাংশ চাষি লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

    আমচাষিদের অভিযোগ, গত এক বছরে সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অথচ গত বছরের তুলনায় প্রায় সব জাতের আমের দাম প্রতি মণে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে অনেকেরই উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সাপাহারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আম-বাণিজ্য থেকে এই উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

    সাপাহারের জিরোপয়েন্ট, গোডাউনপাড়া, তিলনা রোড, হাসপাতাল মোড়, মহিলা কলেজ রোড ও থানা মোড় এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বসেছে বিশাল আমের হাট। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, শ্যালোচালিত যান ও ট্রাকভর্তি আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গোসহ বিভিন্ন জাতের আম নিয়ে প্রতিদিন ভিড় করছেন চাষিরা। তবে বাজারজুড়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা কম দাম ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ে।

    আমচাষি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ভ্যাপসা গরমে প্রায় সব আম একসঙ্গে পেকে গেছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায়, দ্রুত বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে আড়তদার যে দাম বলেন, বাধ্য হয়ে সেই দামেই বিক্রি করতে হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরাই।’

    চাষিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ঢলন’ পদ্ধতি এখন তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।

    তবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন মোকামে ৫৪ থেকে ৫৬ কেজি হিসেবে আম কেনাবেচা হয়। সাপাহারে ক্যারেটসহ প্রায় ৫০ কেজি হিসেবে আম কেনা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজ বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি করছি। কৃষকদের কাছ থেকে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলেই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

    এ এম

  • রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

    রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

    রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভায় ‘ম্যাংগো লাভার’ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

    অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত মুরাদ পারভেজের ‘ম্যাংগো লাভার’ কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করা হয়।

    হামলার সময় অফিসে কর্মরত সাকিব ও তামিম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, হামলায় তাদের হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ‘ম্যাংগো লাভার’-এর কর্মী আশিকের সঙ্গে তার ভাই রাসেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুরাদ পারভেজ অভিযোগ করেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজ এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক কাউন্সিলর পারভেজ বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করতেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

  • পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। তিনি বিএনপি কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালেও এ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে দুই গ্রুপের লোকজন বালু আছে কিনা চেক করতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

    সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে আমরা ভাতিজারা বাঁধা দেয়। এ সময় তাদেরকে কয়েকজন আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষিকারা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা নাসরিন (২৮), শিক্ষক ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) এবং সেলিনা বেগম (৫০)। তাদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পড়া না পারায় তাকে শাসন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার মা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে চলে যান। এরপর শিক্ষার্থীর কয়েকজন স্বজন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, শিক্ষার্থীকে শাসনের কিছুক্ষণ পর তিনি জরুরি কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যান। পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা বিদ্যালয়ে এসে তিন শিক্ষিকাকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবক বা তাদের পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়

    দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়

    বৃহস্পতিবার ২৫ জুন এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো— পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া বউবাজারের দুলালের দুই মেয়ে দুলালী বেগম (২২), তার ছোট বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরভী খাতুন (১৪) ও তাদের ভাবি আকলিমা বেগম (১৯)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুলালী বেগম, তার ছোট বোন সুরভী খাতুন ও তাদের ভাবি আকলিমা বেগম বাড়ির পাশে মরা কাল নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় আকস্মিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যায় তারা।

    পরে ঘণ্টাখানেক পরও তাদের বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের লোকজন নদীর ধারে গিয়ে দেখতে পায়, তাদের জামা-কাপড় নদীর ধারে পড়ে আছে অথচ তারা তিনজন নিখোঁজ। এ সময় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা একটি মুঠ জাল (ঝাকি জাল) নদীতে ফেললে ওই তিন নারীর লাশ জালে উঠে আসে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, মরা কাল নদীর বউবাজার ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নারী-পুরুষ গোসল করে আসছে। কিন্তু চলতি বছর আকস্মিকভাবে নদীর তলদেশ গভীর হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    পাবর্তীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে

  • নাটোরে তিন দিনব্যাপী আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু

    নাটোরে তিন দিনব্যাপী আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু

    মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় কানাইখালী মিনি স্টেডিয়ামে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফলের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয় মানুষের খাদ্যাভ্যাস। পাশাপাশি ফল বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবারের অসাধারণ উৎস। নিয়মিত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই নিয়ম করে সকল ঋতুতে দেশীয় মৌসুমী ফল খেতে হবে। ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে এবং সম্ভাবনাময় সকল ক্ষেত্রে ফলের গাছ রোপন করতে হবে।

    ফলের বাজার সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণ, গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় ফলের সময়কাল সম্প্রসারণ, ফল গাছের চারার কেনাবেচায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন। ফল মেলার মাধ্যমে দেশীয় ফলের সাথে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন তৈরি হবে বলেও বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াত, আনসার ও ভিডিপি’র জেলা কমান্ডর খন্দকার মাহবুব এবং আদর্শ ফলচাষী আল আমিন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) শামসুন্নাহার ভূঁইয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
    মেলায় ১৪ ধরণের প্রচলিত ও ২৩ ধরণের অপ্রচলিত দেশীয় ফল এবং ২৫ জাতের আম ১১টি স্টলের মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া নাটোরের ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পল্লীর বিভিন্ন ভেষজ উপকরণ বিক্রি করা হচ্ছে মেলাতে। এছাড়া ফল গাছের চারাও বিক্রি হচ্ছে মেলাতে।

    এ এম

  • রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ছেলের আঘাতে স্কুলশিক্ষক বাবা নিহত

    রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ছেলের আঘাতে স্কুলশিক্ষক বাবা নিহত

    রাজশাহীতে পারিবারিক কলহের জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পড়ুয়া ছেলের লাঠির আঘাতে রেজাউল করিম (৬৫) নামে এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাবির সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেজাউল ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। সোমবার সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে রাকিবুল তার মায়ের পক্ষ নেন। এ নিয়ে বাবার সাথে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রাকিবুল একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে রেজাউল গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। ঘটনার পর রাকিবুল মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

    পরিবারের সদস্যরা রেজাউলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। পারিবারিক কলহের জেরে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ছেলের আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাকিবুল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • হিমাগারে আলু ভাড়া কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা নির্ধারণের দাবি

    হিমাগারে আলু ভাড়া কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা নির্ধারণের দাবি

    বগুড়ায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আলুর ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি। রোববার দুপুরে মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় এ কর্মসূচিতে কৃষক, আলু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।

    মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি ছামিউল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদনে কৃষকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের অতিরিক্ত ভাড়া কৃষকদের জন্য নতুন করে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে মৌসুমেই কম দামে আলু বিক্রি করছেন, ফলে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তাই কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে আলু সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাকে কৃষকবান্ধব করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারা।

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতি বছর কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারেও আলুর মূল্য অস্থির হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে কৃষকদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছামিউল ইসলাম, বগুড়া সদর উপজেলার সেক্রেটারি সোহরাব হোসেন রাতুল, ক্যাশিয়ার বেলাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান, কাশেম, মিল্লাত, আসিক প্রমুখ।

    এ এম

  • রাজশাহীতে চোর সন্দেহে যুবককে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

    রাজশাহীতে চোর সন্দেহে যুবককে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

    রাজশাহীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজশাহী নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) চারু মামার ক্যান্টিনের সামনে এই খুনের ঘটনা ঘটে।

    নিহত যুবকের নাম রাকিবুল হাসান রকি (৩২)। তিনি নগরীর হেতেমখাঁ কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    গ্রেফতার তিন শিক্ষার্থী হলেন রাজশাহী নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী আতিক, সৈয়ব ও ফাহিম।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুরির সন্দেহে রাকিবুল হাসানকে আটক করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে তাকে স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার দুই হাত, দুই পা ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে আহত অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তদন্ত শুরু করে।

    শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাকিবুলের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

    রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, নিহতের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরে মহানগর পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হবে বলে জানান ওসি।

  • বগুড়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহের স্বীকৃতি পুরস্কার পেলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার

    বগুড়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহের স্বীকৃতি পুরস্কার পেলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার

    কৃষি বিষয়ক তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা ‘কৃষি কথা’। এ পত্রিকার গ্রাহক সংগ্রহে অসাধারণ সাফল্যের জন্য বগুড়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রাহক সংগ্রহ করে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস।

    ১৪৩২ বঙ্গাব্দে বগুড়া অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৯৩ জন গ্রাহক সংগ্রহ করায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: গাজীউল হককে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

    গত ১২ জুন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মানিত পরিচালক মো: মসীহর রহমানের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন মো: গাজীউল হক।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, ফসল ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন, কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সরকারি কৃষি সেবা সম্পর্কে সচেতন করতে ‘কৃষি কথা’ পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    এ পত্রিকার গ্রাহক বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি তথ্যকে আরো বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর ফলেই এ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা, বিভিন্ন কৃষি সভা, উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ‘কৃষি কথা’ পত্রিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ফলে কৃষকদের মধ্যে পত্রিকাটির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহক সংখ্যা আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পায়।

    পুরস্কার প্রাপ্তির পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: গাজীউল হক বলেন, ‘এ অর্জন শুধু আমার একার নয়, নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি জ্ঞান ও প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে আমরা ভবিষ্যতেও কাজ করে যাব।’

    কৃষি সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের স্বীকৃতি মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি আরো উৎসাহিত করবে এবং কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে কৃষকদের মাঝে নির্ভরযোগ্য কৃষি তথ্য পৌঁছে দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসের এ অর্জনে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

  • ৭ দিনের ব্যবধানে পদ্মা নদী থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

    ৭ দিনের ব্যবধানে পদ্মা নদী থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

    নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদী থেকে সাত দিনের ব্যবধানে আবারও গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্তি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাইটার চর এলাকার নদীপাড়ে একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সাহাবুল ইসলাম (৪৫) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া গোপালপুর এলাকার ইউনুছ প্রামাণিকের ছেলে। আহত রবিউল ইসলাম (৩৭) একই নৌকায় ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে চরাঞ্চলে এসে নদীর তীর ঘেঁষে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকায় থাকা সাহাবুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তার ডান কাঁধের ওপরের অংশে লাগে। এতে শরীরের সামনের অংশে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তার থুতনির নিচেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় নৌকায় থাকা রবিউল ইসলাম আহত হন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সরে যান বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে রাইটার চর এলাকায় নদীর পাড়ে একটি নৌকা থেকে সাহাবুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সেলিম মিয়া বলেন, নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে শরীরে গুলির আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

    এর আগে গত ৯ জুন পদ্মা নদীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। সেদিন লালপুরের সীমান্তবর্তী চরজাজিরা মৌজার পদ্মা নদীর তীর থেকে একটি স্পিডবোটের ভেতর তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্পিডবোটও জব্দ করা হয়।

    স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পদ্মা নদী ও চরাঞ্চলে পরপর দুটি গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আবারও পুশইনের চেষ্টা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আবারও পুশইনের চেষ্টা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও এক নারীকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় ওই নারীকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

    সোমবার (১৫ জুন) রাতে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২২৫/৩-আর এর পাশ দিয়ে এ অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ।

    ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আর কে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা মাছ ধরা জেলেদের সহায়তায় নৌকা যোগে ওই নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম। তিনি জানান, বিজিবি ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পুশইন প্রতিহত করা হয়। এ সময় ওই মহিলাকে পুশব্যাক করা হয়। তিনি সীমান্তের শূন্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

    এর আগে একই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১৩ জুন ভোরে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি সদস্যরা। পরে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।

    এ এম

  • পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার

    পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার

    পাবনার আতাইকুলায় স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করেছে আতাইকুলা থানা পুলিশ। এছাড়াও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে যুবদল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আতাইকুলা থানা পুলিশের টিম।

    গ্রেফতার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকার আড়িয়াডাংগী গ্রামের মরহুম নিজামুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা গতকাল রোববার (১৪ জুন) সারারাত অভিযান চালিয়েছি। ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে আমরা তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীর মা আবুল কাশেমকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীকে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল রোববার অভিযুক্তের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয়রা।

    এদিকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দল থেকেও আবুল কাশেমকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তার সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়।

  • ধুনটে খালের পানিতে পড়ে ৬ বছরের শিশু নিখোঁজ

    ধুনটে খালের পানিতে পড়ে ৬ বছরের শিশু নিখোঁজ

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় খালের পানিতে পড়ে মারজিয়া খাতুন (৬) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজ মারজিয়া খাতুন নবীনগর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির পাশের আড়িয়ামারা খালের দাবুর বাড়ির ঘাট এলাকায় অন্য শিশুদের সাথে খেলছিল মারজিয়া। একপর্যায়ে সে খালের পানিতে নেমে পড়ে। সাঁতার না জানায় খালের তীব্র স্রোতে সে তলিয়ে যায়। এ সময় অন্য শিশুদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান।

    পরে খবর পেয়ে ধুনট উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় খালের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    ধুনট উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের ফায়ার ফাইটার সাব্বির হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে খালের পানিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। তবে খালের তীব্র স্রোতের কারণে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    তিনি আরো জানান, বিষয়টি রাজশাহী বিভাগের ডুবুরি দলকে অবহিত করা হয়েছে। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।

  • নলডাঙ্গায় দিনব্যাপী ছাত্রশিবিরের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    নলডাঙ্গায় দিনব্যাপী ছাত্রশিবিরের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১৩ জুন) উপজেলার হালতির বিল এলাকায় এক রিসোর্টে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক মাহমুদুল হাসান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলডাঙ্গা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড. মো: জিয়াউল হক জিয়া।

    এ সময় বক্তারা গুরুতর বক্তব্য প্রদান করেন।

    বক্তারা বলেন, ‘জনশক্তির ভেতরের নৈতিক ত্রুটি দূর করে আদর্শ চরিত্র গঠন করতে হবে। ব্যক্তিজীবনে ইসলামের নৈতিক ও ধর্মীয় বিধানসমূহ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত যোগ্যতা বৃদ্ধি করা করতে হবে। একসাথে থাকা, খাওয়া ও ইবাদত করার মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও একতা সুদৃঢ় করতে হবে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার এক যুগোপযোগী সমন্বয় সাধন করা এবং নকলপ্রবণতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।’

    বক্তারা আরো বলেন, ‘ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি, ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। সাংগঠনিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা এবং কৌশলগত যোগ্যতা বাড়ানো। ছাত্রদেরকে কেবল শিক্ষায় শিক্ষিত নয়, বরং একজন আদর্শবান, চরিত্রবান ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জামায়াতের থানা সেক্রেটারি ডা: ফজলুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: আলী আল মাসুদ মিলন। শিবিরের বর্তমান জেলা সভাপতি মো: জাহিদ হোসেন।

    শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি নাজমুল ইসলাম, শিবিরের সাবেক থানা সভাপতি হাফেজ আব্দুল বারিক, শিবিরের বর্তমান থানা সভাপতি মো: তারেক রহমান, থানা সেক্রেটারি মো: আব্দুর রহমানসহ প্রমুখ।

  • নবাবগঞ্জে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    নবাবগঞ্জে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার।

    এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজ স্মার্ট ক্লাব (EESSC) ও এসইএসডিপির উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, ঢাকার সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও স্টার্টআপ ধারণা তুলে ধরার মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

    সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

    ভারতে মুসলিম নির্যাতন, গণহত্যা, মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস, সীমান্তে অবৈধ পুশইন, গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদ এবং বিতর্কিত সংগঠন ‘হেযবুত তওহীদ’কে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধকরণের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।

    শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলাম রাজশাহী মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের এখন আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই, সবাইকে জেগে উঠতে হবে। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত বর্তমানে ইসরাইলের মতো আচরণ শুরু করেছে। সেখানে মুসলমানদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করার এখনই উপযুক্ত সময়।’

    ভারতের মোদি সরকারের সমালোচনা করে তারা বলেন, ‘সে দেশে মুসলমানদের নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে, মসজিদ-মাদরাসা ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই অবৈধ পুশইন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

    বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম দেশ সংস্কার হবে। কিন্তু বর্তমানে সংস্কারের নামে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কালো আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে, যা তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের এত বছর পরেও আমাদের সীমান্তে বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র দেয়া হয়নি। ৫০ বছর আগের খেলনা অস্ত্র দিয়ে ভারতের আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সীমান্তের বিজিবি সদস্যদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে হবে।’

    বক্তারা আরো বলেন, ‘চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের মতো লুটপাট চালালে দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে।’

    গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে তৌহিদী জনতার অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, “হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশে একটি বিতর্কিত ও সমালোচিত ধর্মভিত্তিক সংস্কারবাদী সংগঠন। এই সংগঠনটি মুসলমানদের ঈমান-আকিদা ধ্বংস করছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে একে নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সাথে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ‘ইসকন’ কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে মূর্তি স্থাপন কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে।”

    দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মুফতি জমির হোসেন জমিরী, সহ-সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালহা, যুববিষয়ক সম্পাদক মীর ফরহাদ, হেফাজতে ইসলামের রাজশাহী জেলার যুববিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুজ্জামান, সদস্য হাফেজ মাওলানা হোসায়েন আহমেদ দেওয়ান এবং ছাত্রবিষয়ক সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ।

  • পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    পাবনায় ছেলের সামনে বাবা হোসেন আলী ওরফে হোসেন ঠাকুরকে (৫৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে, মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন— পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আকমল খাঁর ছেলে মতিয়ার রহমান (৪০), পুষ্পপাড়া গ্রামের মরহুম আমিন প্রামানিকের ছেলে শরীফ প্রামানিক (৩৫) ও জাফরাবাদ গ্রামের সোহরাব মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৮)।

    এর আগে, মঙ্গলবার (৯ জুন) নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী আফসানা খাতুন নয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আট থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    বুধবার দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো: ছুফি উল্লাহ জানান, বুধবার ভোরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি অবিস্ফোরিত গুলি ও একটি গুলির খোসা।

    পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’ ও ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা’— এই দুইটি বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র আছে কি-না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তবে, হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি গুলি করা জাফরাবাদ পুরাতনপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা (৩৫) ও গোপলার ছেলে শাহীনকে (২৮) বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া তিনজন এজাহার নামীয় আসামি নন।

    এ বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি আছেন আট থেকে ১০ জন। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত ও হত্যায় জড়িত অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগির তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকায় জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসায় ছেলে রোহানকে (১২) রাখতে গিয়েছিলেন বাবা হোসেন আলী (৫৫)। মাদরাসার গেটে পৌঁছামাত্র ছেলের সামনেই হোসেন আলীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

  • ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলের দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

    নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধু ও মেস সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তাঁর এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ বেলা ২টার দিকে তাঁদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মাহফুজুরের কক্ষে (৪১৫ নম্বর) দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজুরকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেসের অন্য শিক্ষার্থীদের ধারণা, বান্ধবীকে ভিডিও কলে রেখেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান, মাহফুজুরের চার-পাঁচ বছর ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে, কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

    এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, ‘মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, ‘আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

    ওসি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তাঁর পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

  • পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্তদের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।

    তিনজন হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পাশের নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক নারীকে (৪৬) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

    শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর পুলিশ মো. মুরাদ (৩২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ (৩৫), জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম (৪০), তাঁর ভাই মো. বুলবুল (২৮) এবং যুবদল কর্মী মো. সুমন (৩২)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা মামলাটি মিথ্যা দাবি করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আসছেন। তাঁর দুই ছেলে। একজন ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অন্যজন মায়ের সঙ্গে থাকেন। মামলার পর শনিবার ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এজাহারে ওই নারী দাবি করেন, ১ জুন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন সেই বাড়িতে ওঠেন। সেদিনই রাত ৯টার দিকে ১৬ বছরের এক কিশোরকে ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাকে ধরেন। এরপর ওই নারীকে জড়িয়ে তাদের অনৈতিক কাজের অপবাদ দেন। একপর্যায়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২২ হাজার টাকা মূল্যের রুপার নূপুর ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফোন লুট করেন।

    লুটপাটের পর আসামি সাইফুল ওই নারীকে বাড়িতেই ধর্ষণ করেন। এরপর ফিরোজ তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে ফিরোজ ফোন করে আসামি মুরাদকে ডেকে নেন। রাত ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে ধর্ষণ করেন। এরপর আসামি ফিরোজ তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ী বাজারে পৌঁছে দেন। পরে ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে ভ্যানে চড়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

    জানতে চাইলে জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ বলেন, ওই নারীর বাড়িতে এক ছেলে অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছিল। এলাকাবাসী তাঁদের ধরেছিল। তারপর সিদ্ধান্ত হয় যে ওই রাতেই তাঁকে গ্রাম ছাড়তে হবে। তিনি তাঁকে মোটরসাইকেলে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর ওই নারী নলডাঙ্গা চলে যান। এখানে লুটপাট ও ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনৈতিক কাজের জন্য গ্রামছাড়া করার কারণে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

    পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা মিথ্যা নাকি সত্য, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

  • আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    খুনের পর লুট হয় একটি মুঠোফোন। এরপর সেটি একের পর এক হাতবদল হয়েছে—মোট আটবার। কখনো ৫০০, কখনো ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেটি। হত্যার রহস্যের কোনো কূলকিনারা না পেয়ে প্রায় এক বছর পর সেই ফোনের খোঁজে নেমেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান খুনের পরিকল্পনাকারীদের কাছে। আর তাতেই উন্মোচিত হয় রাজশাহীর বাগমারায় মা–ছেলের আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

    ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন আকলিমা বেওয়া (৫৫) ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান (২৮)। ধারালো অস্ত্রে তাঁদের হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন আকলিমার আরেক ছেলে দুলাল উদ্দিন বাগমারা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    শুরুতে মামলাটি তদন্ত করছিল বাগমারা থানা–পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জানা যায়, তাঁরা কেউই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এক বছর পর মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তখনই তদন্তকারীরা নজর দেন খুনের পর আকলিমার নিখোঁজ হওয়া মুঠোফোনের দিকে। মুঠোফোনটি আটবার হাতবদল হয়ে তত দিনে নেত্রকোনার এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে। এই মুঠোফোনটিই হয়ে ওঠে পুরো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া প্রধান আলামত।

    সূত্র মিলল হারিয়ে যাওয়া ফোনে

    পিবিআইয়ের তদন্তে দেখা যায়, খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর সেটি একের পর এক ব্যক্তির হাতে বিক্রি হতে থাকে। তদন্তকারীরা ফোনটির আইএমইআই নম্বর ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন।

    ফোনটি কার কাছ থেকে কার কাছে গেছে, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে—প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে মা–ছেলেকে হত্যার পর হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

    পিবিআই জানায়, মুঠোফোনের হাতবদলের পর্যায়ক্রম পর্যালোচনা করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে নিহত আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান ছিলেন।

    হত্যাকাণ্ডের শিকার আকলিমা বেওয়া ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আকলিমার সঙ্গে আবুল হোসেন মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও আকলিমার বিরোধ ছিল। আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমানের পরিকল্পনায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে মা–ছেলেকে খুন করানো হয়। মুঠোফোনটি নিয়ে যাওয়া হাবিবুর রহমান জোড়া খুনের পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

    —মোস্তফা কামাল, পিবিআইয়ের প্রধান

    পিবিআইয়ের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, জোড়া খুনের এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ ক্লু ছিল একটি মুঠোফোন। খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি লুট হয়েছিল। তারপর আটজনের হাতে ঘুরেছে। কিন্তু সেই মুঠোফোনের হাতবদলের ক্রম অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

    ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি

    পিবিআই সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘পরিচয়হীন অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ এবং ক্লুলেস মার্ডার মামলার তদন্ত’ শীর্ষক বইয়ে এই মামলার তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বইটি প্রকাশিত হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ছিলেন স্থানীয় মাতবর। নানা কারণে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আবার মাদকের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আকলিমার সঙ্গে হাবিবুর রহমানেরও বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের জেরেই আকলিমাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমান।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভাড়াটে খুনি সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল হাবিবুর রহমানের। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচ ভাড়াটে খুনি জোগাড় করা হয়।

    মা–ছেলে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিতরা

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে ভাড়াটে খুনিদের আবুল হোসেন মাস্টার মোটরসাইকেলে পথ দেখিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেন। খুনিরা তাঁর মোটরসাইকেল অনুসরণ করে আকলিমার বাড়ির সামনে আসেন।

    পিবিআই জানায়, রাত সাড়ে ৮টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে আকলিমা ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সময় বাইরে মোটরসাইকেল পাহারায় ছিলেন আরেক ব্যক্তি। হত্যার পর আকলিমার মুঠোফোন নিয়ে খুনিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

    দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আকলিমা–জাহিদ হত্যা মামলার রায় দেন আদালত।

    আদালত আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরেকজন দুর্গাপুরের দেবীপুরের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্য ও ভাড়াটে খুনিদের দলের নেতা।

    এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুর্গাপুরের শ্যামপুরের আবদুল্লাহ আল কাফি, রুহুল আমিন, খিদ্রকাশিপুর গ্রামের রুস্তম আলী ও খিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মনিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

  • ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মরত এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর ভবনের ৮ তলার ৮৪ নম্বর ইউনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    মৃত লাতিপভ ভিল (৪২) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোজেনারগোঅ্যাটম কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজ কক্ষে অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেখতে পান সহকর্মীরা। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    ‘নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছি না, দুই বছর ধরে মুনাফাও বন্ধ। সংসার চালাতে ধার-দেনা করতে হচ্ছে।’ এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। ‘হেয়ারকাট’ বাতিল, পূর্ণ আমানত ও মুনাফা ফেরত এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছেন তারা। রোববার (১০ মে) সকালে নগরীর অলোকার মোড়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ।

    মানববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (জিআইবি), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    তাদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ারকাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ায় জমাকৃত টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের জন্য অমানবিক ও বৈষম্যমূলক।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নওশীন জাহান, মো: আপেল মাহামুদ, তাহমিদুল হক, মো: ফয়সাল কবির ও মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকরা।

    তারা বলেন, অনেক পরিবার জমি, বাড়ি বিক্রি, প্রবাসী আয়, পেনশন কিংবা ব্যবসার সঞ্চিত অর্থ এসব ব্যাংকে রেখেছিলেন। সেই টাকার মুনাফার ওপর নির্ভর করেই চলত সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসা ব্যয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে না পারায় বহু পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লাখো আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা দাবি করেন, দেশে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের প্রায় তিন কোটি পরিবারের সদস্য এই সঙ্কটের সাথে জড়িত।

    ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘হেয়ারকাট’ বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে; অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখতে হবে; এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা পূর্ণ মুনাফাসহ পরিশোধ করতে হবে এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ৯ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফার হার প্রত্যাহার করতে হবে।

    বক্তারা আরো বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। নিজেদের টাকা তুলতে না পারলে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহীতেও চট্টগ্রামের মতো ব্যাংক শাখায় তালা ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    মানববন্ধন শেষে এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

  • শিবগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

    শিবগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

    সিঁধ কেটে কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রাখে। তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এমনকি তার পরনে থাকা গয়নাও খুলে নেয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে ধরে ফেলে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে সেলিম ফকির (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) ভোরে উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের ছাতুয়া মাতালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সেলিম ফকির কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নের পীলখঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভীর রাতে ছাতুয়া গ্রামের গোপাল চন্দ্রের বাড়িতে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে সেলিম ফকিরকে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতার মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    গৃহকর্তার পুত্রবধূ পূর্ণিমা সাহা জানান, সিঁধ কেটে কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রাখে। তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এমনকি তার পরনে থাকা গয়নাও খুলে নেয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে ধরে ফেলে।

    গৃহকর্তা গোপাল চন্দ্র জানান, তার বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও প্রায় সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে।

    শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, নিহত সেলিম ফকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • রাণীনগরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেফতার

    রাণীনগরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেফতার

    গত ২ মে দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিফিনের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যায়। এরপর খাবার খেয়ে স্কুলে ফেরার পথে আব্দুর রাজ্জাক ওই শিশুকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।নওগাঁর রাণীনগরে চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ওই মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে (৪০) গ্রেফতার করেছে।

    গ্রেফতার আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

    মামলার বরাত দিয়ে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, গত ২ মে দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিফিনের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যায়। এরপর খাবার খেয়ে স্কুলে ফেরার পথে আব্দুর রাজ্জাক ওই শিশুকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

    পরে ওই শিশু বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনদের বিষয়টি জানায়। এছাড়া শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর পরিবারের লোকজন থানায় এসে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়।

    ওসি আরো জানান, গ্রেফতার রাজ্জাককে শুক্রবার (৮ মে) আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিশুর শারীরিক পরীক্ষার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারপ্রধানের বাবা ও দুই বোনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- হত্যার শিকার হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা, হালিমা ও ভাগ্নে সবুজ রানা।

    এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৬), স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে জাকির হোসেন (১৪) ও শিশুকন্যা সাদিয়া ইসলাম মৌ (৪)।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং ছেলে ও মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা সকালে তাদের ঘরের দরজার কাছে রক্ত দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের উপর হাবিবুর রহমানের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। স্ত্রীর পপির লাশ ঘরের বাইরে এবং ছেলে জাকির হোসেন ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ পাশের ঘরে দেখতে পান।

    পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। কিভাবে ও কেন তারা খুন হলো তা জানতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

    এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ শাওন, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ওরা (শ্বশুর পরিবার) আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি ও তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামলা করে। জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার পাঁচ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়ি ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়। আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা পাঁচ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনীকে মেরে ফেলেছে।’

    নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

  • সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা

    সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা

    পাবনায় সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে খয়বার আলী নামে এক ব্যক্তি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

    খয়বার আলী (৬০) উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ইকরজানা গ্রামের মৃত হারান উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি দিনমজুর ছিলেন।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খয়বার আলী বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় তিন-চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। একদিকে সংসারের খরচের চাপ অন্যদিকে ঋণের কিস্তির জন্য এনজিওর চাপ। তিনি কোনোভাবেই ঋণ দিতে পারছিলেন না।

    বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা ইকরজানা গ্রামের পাশে কানাবিলের মধ্যে পুকুরপাড়ে জামগাছে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁসি নেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশ ও তার পরিবারকে খবর দেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, খয়বার আলী কৃষি ও দিনমজুরের কাজ করতেন। তিনি অভাবী ও ঋণগ্রস্ত ছিলেন। হতাশা থেকেই হয়তো রাতের যেকোনো সময় আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ও থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাঁথিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অভাব ও ঋণগ্রস্তের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

    m

  • পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম

    পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম

    দেশের ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম বিশু।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম বিশু একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম বিশু এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ১৯৯১ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপির আমলে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য এবং পাবনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। জহুরুল ইসলাম বিশু পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাবনা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদায় উন্নীত হয়।

    এদিকে জহুরুল ইসলাম বিশু জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ায় পাবনার বিভিন্ন মহল অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জহুরুল ইসলাম বিশুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশু ভাইসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলা পরিষদ এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন হবে।

  • নারীসহ পুলিশ পাহারায় রাত কাটাতে চেয়ে ধরা ভুয়া জজ

    নারীসহ পুলিশ পাহারায় রাত কাটাতে চেয়ে ধরা ভুয়া জজ

    যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয় দিয়ে রাতে থানায় হাজির হন এক ব্যক্তি। ওসির কাছে বিশ্রামের জন্য রেস্ট হাউজের একটি রুম ও ট্রেন টিকেটের সুবিধা চান তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার। ভুয়া পরিচয় দেওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে পাবনার ঈশ্বরদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    গ্রেফতার ব্যক্তির নাম সৈয়দ জিয়া পীর মোহাম্মদ আলী। তিনি যশোরের কোতোয়ালী থানার বাগমারা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে।

    পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয়ে বিশেষ সুবিধা আদায়ে থানায় এসেছিলেন। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি তিনি যশোরে একটি নিম্নপদে চাকরি করতেন। বর্তমানে তার কোনো চাকরি নেই।

    পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি এক নারীসহ ঈশ্বরদী থানার ওসির কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজেকে ঝিনাইদহ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি পুলিশি সহযোগিতায় রেস্ট হাউজে কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে বিশ্রামের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। একইসঙ্গে ট্রেনে যশোর যাওয়ার জন্য টিকিট সুবিধা প্রত্যাশা করেন। তবে কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে সন্দেহ হলে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনো বিচারক নন, বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত সটকে পড়েন। পরে তাকে আটক করে তদন্তের পর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ভুয়া জজ পরিচয় দেওয়ায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

  • বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার (২৬) দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। সম্পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।

    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, ‘কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

  • পাবনায় ২৫০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ২

    পাবনায় ২৫০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ২

    পাবনার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে ১২টি ব্যারেলে থাকা ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করেছে থানা পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

    এ ঘটনায় কীটনাশক ও তেল ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন এবং নসিমন চালক শামসুলকে আটক করা হয়েছে।

    আটকদের বরাত দিয়ে চাটমোহর থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, তেলের মালিক উপজেলা সদরের জারদিস মোড় এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে লিটন ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে মুকুল হোসেন। তারা বাঘাবাড়ী এলাকা থেকে তেল ক্রয় করে এনেছিল বলে দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

    পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জব্দকৃত তেল মথুরাপুর এলাকায় নিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেন।

    মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না খাদেমের

    নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না খাদেমের

    পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মসজিদে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মন্টু মিয়া (৮০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পৌরসভার কলেজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও স্থানীয় বাইতুন নুর জামে মসজিদের খাদেম।সোমবার (৩০ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে পৌর শহরের কলেজপাড়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা বলেন, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কলেজপাড়া মোড়ে একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সোমবার রাত ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন মন্টু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ভাঙ্গুড়া থানার ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ট্রাকটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নগরবাড়ী নদীবন্দরে আধুনিক টার্মিনালের উদ্বোধন

    নগরবাড়ী নদীবন্দরে আধুনিক টার্মিনালের উদ্বোধন

    পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী নদীবন্দরে আধুনিক টার্মিনাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই টার্মিনাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়।বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম; জেলা পরিষদ মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম।নগরবাড়ীতে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে নৌপরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে নগরবাড়ী এলাকায় উন্নত ও আধুনিক বন্দর অবকাঠামো সুবিধাদি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ২০ জুন অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বছরের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুনে। এ প্রকল্পে মোট হয়েছে ৫৫৬.৯০৭ কোটি টাকা। যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত নগরবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী ঘাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে নৌপথে মূলত সার, সিমেন্ট, পাথর, বালি, কয়লাসহ অন্যান্য মালামাল উঠানামা করে সড়কপথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পরিবাহিত হয়ে থাকে। ঘাটটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আরিচা নদীবন্দর দ্বারা পরিচালিত হতো। ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্বে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, পদ্মা নদীর দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আরিচা-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-নগরবাড়ী নামে ফেরিঘাট ২টি যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নৌ চলাচলে আরিচা নদীবন্দরের আওতায় পরিচালিত হতো।

  • পাবনায় ‘ময়েজ বাহিনীর’ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান

    পাবনায় ‘ময়েজ বাহিনীর’ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান

    পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত চতরা বিলে সন্ত্রাসী ময়েজ বাহিনীর আস্তানায় অস্ত্র তৈরি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গলবার ভোরে ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আতাইকুলা থানার অন্তর্গত আটঘরিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত চতরা বিলে সন্ত্রাসী ময়েজ বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ও আতাইকুলা থানা পুলিশ মঙ্গলবার ভোরে ওই বিলে ময়েজ বাহিনীর আস্তানায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় বিলের মধ্যে লুকানো ঘাঁটি থেকে অস্ত্র তৈরির ছাঁচ, কাটিং মেশিন, ড্রিল মেশিন, লোহার পাত, গানপাউডারের মতো উপকরণসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা করা হয়।

  • মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে একজনের পরীক্ষার পর হাম শনাক্ত করা গেছে। বাকি ২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।

    সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে পজিটিভ আছে একজন। বাকি ২৯ জনের নমুনা টেস্ট করে হাম পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

    অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত কর্নার এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুটি ওয়ার্ডের কর্নারে আলাদা করে আইসোলেশন করে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রোগী বাড়লে আমার সেটি দেখব।

    আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটি চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগজনক। তবে এক বছরের ওপরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।

    রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান, ১ হাজার ২শ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত

    পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ শনিবার নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে স্বাক্ষর করেন সংস্থার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

    ইসি জানায়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৬৮ (পাবনা-১) ও ৬৯ (পাবনা-২)-এর সীমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগ গত ৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই নির্বাচনি এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

    সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ইসি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলার সমন্বয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়।

    ইসির ওই গেজেটের এই দুটি আসন-সংক্রান্ত অংশের বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করে।

    তাতে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। তাতে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। এছাড়া পাবনা-২ আসনও বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়।

    অন্যদিকে হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও নির্বাচন কমিশন পৃথক আবেদন করে। আবেদন দুটি গত ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে।

    গত ৫ জানুয়ারি এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
    সুত্র আমারদেশ

  • ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জরিমানা গুণলেন ব্যবসায়ী

    ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জরিমানা গুণলেন ব্যবসায়ী

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুইচিং মং মারমার স্বাক্ষর জাল করায় এক মাটি ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ওই ব্যবসায়ীর একটি মাটি ভর্তি ট্রাকও জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের চৌপাকিয়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ীর নাম মামুন হোসেন। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। তিনি জানান, ইউএনও সুইচিং মং মারমার স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে খননযন্ত্র দিয়ে ফসলি জমির মাটি খনন করে অন্যত্র বিক্রি করছিলেন মামুন। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই মাটি ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার রায়দলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ী পশ্চিমপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত গৃহবধূর নাম মোছাঃ দোলা খাতুন (২৫)। তিনি ওই এলাকার মোঃ আসিক মোল্লার স্ত্রী। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রফিক মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিবেশী লাইলী বেগম, পলাশ, পলি, সুমাইয়াসহ আরও কয়েকজন দাও, বটি ও বাটাম দিয়ে মোছাঃ দোলাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ সময় বাড়িতে অন্য কেউ উপস্থিত না থাকায় একা পেয়ে তাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আরও জানা যায়, ঘটনার আগে মোছাঃ দোলার ছোট ছেলে প্রতিবেশীদের বাড়িতে বড়ই কুড়াতে গেলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। মোছাঃ দোলা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে স্থানীয়রা জানান।

    আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাইলী বেগম বলেন, “সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশিক মোল্লাসহ তাদের বাড়ির লোকজন আমাদের মারধর করে। পরে বেলা ১১টার দিকে আমার মেয়ে গিয়ে দোলাকে আঘাত করে।

    এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছেড়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন (পুতুল)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

    গণপ্রতিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কোনো লাভজনক পদে থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

    জানা গেছে, ফারজানা শারমিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা, ক্যাপিটাল ল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, গ্রিন ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) স্বাধীন পরিচালকের পদ ছেড়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তিনি এসব পদ থেকে সরে এসেছেন।

    ফারজানা শারমিন বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো সময়ও দিতে পারছিলেন না।

  • ধুনটে বিএনপির অফিস ভাঙচুর মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    ধুনটে বিএনপির অফিস ভাঙচুর মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ার ধুনটে দোয়া মাহফিলে হামলা, বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও ব্যানারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাহমুদুল হাসান মিথু (৩২) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান মিথু ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য এবং নারায়ণপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ মে ধুনট বাজারে হোটেল আরাফাত ভবনের দোতলায় অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

    এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে দোয়া মাহফিলে হামলা চালায়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয় এবং কার্যালয় ভাঙচুর ও ব্যানারে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর যুবদল নেতা ইমদাদুল হক রনি বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৬১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ জনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে মাহমুদুল হাসান মিথুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোস্তাফিজ আলম জানান, মামলার এজাহারে গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম উল্লেখ না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকে বগুড়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা  শেরপুরে মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

    স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা শেরপুরে মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

    বিডটাইমস ডেস্কঃ

    বগুড়ায় একটি হিমাগারের পলাতক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টার অভিযোগে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    বগুড়ার শেরপুরের খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মিল্লাত হোসেন সম্প্রতি বগুড়ার অবকাশকালীন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা করেন।

    বিচারক সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির মামলাটি আমলে নিয়ে নথিপত্র ও প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব ও দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান, প্রধান কার্যালয়ের ইনচার্জ মাহমুদ হোসেন খান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ, বগুড়ার জোনাল শাখার ইনচার্জ সিকদার শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (বিআরপিডি) ও সদস্য সচিব, নীতি সহায়তা প্রদান বাছাই কমিটি বায়েজিদ সরকার এবং বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক বাজারে আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না (সভাপতি নাগরিক ঐক্য)।

    মামলায় কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম নাজমুল কাদির শাহজাহান চৌধুরী ও পরিচালক তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুসহ পাঁচজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

    বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা জালিয়াতি ও প্রতারণাকারী এবং আইন পরিপন্থি কাজের সঙ্গে জড়িত। তার সঙ্গে ২নং সাক্ষী এবিএম নাজমুল কাদির চৌধুরী ও ৩নং সাক্ষী ইসমত আরা লাইজুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিনামা সম্পাদক হয়। চুক্তিনামা অনুযায়ী এরা দুজন ও ৭নং আসামি মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করে তা বিক্রির জন্য চুক্তি হয়। চুক্তির দিন সাক্ষী ১০ কোটি টাকা বুঝিয়ে দেন এবং অবশিষ্ট ১৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের সময় পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়েও সম্মতি প্রকাশ করেন।

    পরে দেখা যায়, সাক্ষী এবিএম নাজমুল১ কাদির শাহজাহান চৌধুরী ও তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজু গত বছরের ১৯ আগস্ট আমেরিকা চলে যান। পলাতক অবস্থায় তাদের অনুপস্থিতিতে আসামি মাহমুদুর রহমান মান্না ওই দম্পতির স্বাক্ষর জাল করে ১ ডিসেম্বর বোর্ড সভার ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করেন। যেখানে ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    আসামিরা এই জাল রেজুলেশনকে বৈধ রূপ দিয়ে তা বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকে দাখিল করে ঋণ পুনঃতফশিলের আবেদন করেন। পরে তারা পরস্পর যোগসাজশে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে মিথ্যা কাগজপত্রের মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফশিলের অনুমোদন আদায়ের চেষ্টা করেন।

    গত ১১ ডিসেম্বর দাখিল করা ওই মামলায় আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বগুড়ার বড়গোলা শাখা থেকে খেলাপি ৩৮ কোটি চার লাখ ৭৬ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য আসামিদের ‘কল ব্যাক নোটিশ’ দেওয়া হয়।

    ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এরপরও আসামিরা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে পুনঃতফশিলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব বলেন, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিবগঞ্জের কিচক বাজারে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাহজাহান চৌধুরী, তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপরও তাদের উপস্থিত দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা করায় এ মামলা হয়েছে।

    দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল জানান, আদালতের আদেশের কপি বুধবার হাতে এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার আদেশের অনুলিপিসহ নথিপত্র দুদক ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সূত্রঃ যুগান্তর

  • সোনাতলায় বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ৫০ কোটি টাকার সেতু

    সোনাতলায় বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ৫০ কোটি টাকার সেতু

    বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালি নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। এতে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আড়িয়ারঘাট সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে।

    নদীপাড়ের বাড়িঘর বর্ষা মৌসুমে হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খরস্রোতা বাঙালি নদীর ভাঙন দেখা দিতে পারে।

    প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একশ্রেণির বালু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে জানান স্থানীয়রা।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির বালু ব্যবসায়ী উপজেলার আড়িয়ারঘাট থেকে পোড়াপাইকর (ছলুরঘাট) পর্যন্ত অর্ধশতাধিক স্থানে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে। ২০২০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার নামাজখালী, রানীরপাড়া, রংরারপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, হলিদাবগা, পোড়াপাইকর এলাকায় নদীর ডান তীর সংরক্ষণ কাজ করে।

    নদীর তীর সংরক্ষণের এ প্রকল্প হুমকির মুখে রয়েছে। নদীতে অবাধে বালু উত্তোলন করায় বাড়িঘর, ফসলি জমি, গাছপালাও হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য হারাতে বসেছে।

    এআর/নিই

  • দুপচাঁচিয়ায় আ.লীগ নেতা জিল্লুর গ্রেপ্তার

    দুপচাঁচিয়ায় আ.লীগ নেতা জিল্লুর গ্রেপ্তার

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমানকে (৪৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলার পশ্চিম আলোহালী গ্রামের মৃত হাসেন আলী আকন্দের ছেলে।

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

    তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণসহ জুলাই যোদ্ধা শহীদ মনির হত্যার মামলার আসামি হিসেবে অভিযোগ রয়েছে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত জিল্লুর রহমানকে বগুড়া বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • সারিয়াকান্দিতে বিএনপির মনোনয়ন: আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মিছিল, যুবদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি

    সারিয়াকান্দিতে বিএনপির মনোনয়ন: আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মিছিল, যুবদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি

    বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে তাঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে মিছিল সমাবেশ করার অভিযোগে সোনাতলা উপজেলায় দুই যুবদল নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    যাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম।

    জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দলীয় সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

    জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, ৮ নভেম্বর বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপি থেকে ঘোষিত সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্লোগান ও মিছিল সমাবেশ করা হয় শামিম হোসেন ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বে। এ বিষয়ে প্রমাণসহ অভিযোগ উঠলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    জানতে চাইলে অব্যাহতি পাওয়া যুবদল নেতা শামিম হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সে বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার আগে কৈফিয়ত তলব করা হয়নি।’

    শামিম আরও বলেন, ‘আমার নামে ১২ থেকে ১৪টি মামলা। গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর বিএনপিতে নতুন নতুন নেতার আবির্ভাব হয়েছে। আমাকে যুবদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও আমি ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদে আছি। এ কারণে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা নেই।’

  • কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে সন্ত্রাসী নিহত

    কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে সন্ত্রাসী নিহত

    বগুড়ার কাহালুতে স্ত্রী ও ছেলের লাঠির আঘাতে মিলন রহমান ওরফে টাইগার মিলন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

    তিনি এক সপ্তাহ আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন।

    ঘটনার পরপরই পুলিশ স্ত্রী মেঘনা বেগম ও তাঁর ছেলে শামিমকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে কাহালু উপজেলার পালপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, তিন বছর আগে মিলন ও মেঘনা বিয়ের মাধ্যমে উভয়েই তৃতীয়বারের মতো সংসার শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। মিলন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি মারামারির এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি এক সপ্তাহ আগে জামিনে মুক্তি পান।

    বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মিলন ও মেঘনার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে মেঘনার প্রথম পক্ষের ছেলে শামিম সেখানে গিয়ে মা মেঘনার পক্ষ নিয়ে লাঠি দিয়ে মিলনের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ মেঘনা ও তাঁর ছেলে শামিমকে গ্রেপ্তার করে।

    কাহালু থানার ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে মেঘনা ও তাঁর ছেলে শামিমের নামে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদেরকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • বগুড়ার গাবতলী-শাহাজানপুরের সাবেক এমপি বাবলু ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    বগুড়ার গাবতলী-শাহাজানপুরের সাবেক এমপি বাবলু ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সাবেক স্বতন্ত্র (রাতের ভোটের) সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

    তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দেয়।

    বুধবার (২৪ডিসেম্বর) বিকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

    দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (২০১৮ সালের রাতের ভোটের) রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে। এর প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে ওই দম্পতিকে পৃথক নোটিশে তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়।

    ওই নোটিশ পাওয়ার পর রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুন গত ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়া কার্যালয়ে পৃথকভাবে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সম্পদ বিবরণী দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে যাচাই ও অনুসন্ধান করা হয়। তদন্তে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে দুদক বগুড়া কার্যালয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ওই দম্পতির বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ে মামলা করেন।

    তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলামকে। তদন্ত করে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে এক কোটি দুই লাখ ছয় হাজার ২৯৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পান। এরপর দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে দুদক আইনের বিভিন্ন ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এর প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক সম্প্রতি আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

  • বগুড়ার শিবগঞ্জে ফুলকপির কেজি দেড় টাকা

    বগুড়ার শিবগঞ্জে ফুলকপির কেজি দেড় টাকা

    প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশায় কারণে বগুড়ার মহাস্থানে হাটে ফুলকপির দরপতন হয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে দেড় টাকায়। শীতের প্রকোপে হাটে এ সবজির আমদানি বাড়লেও পাইকার কম থাকায় এই মূল্য পতন হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সবজির মোকাম মহাস্থানহাট ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশার চাঁদর ভেদে করে কৃষকরা ভোর থেকেই ভ্যানে করে ফুলকপি মহাস্থান মোকামে আনতে শুরু করেন। প্রথম দিকে ক্রেতা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানি বেশি হওয়ায় ব্যাপারিরা হারিয়ে যায়।

    সেই সময় ১০০ থেকে ১৩০ টাকা মণ দরে ফুলকপি বিক্রি কলেও পরে তা নেমে যায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা মণ দরে।

    ঘন কুয়াশার কারণে দুপুর ২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেনি। আর এ কারণে মোকামে পাইকারদের আগমন কম হয়েছে। এতে করেই দরপতন হয়েছে।

    রোববার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে, শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সামনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

    মহাস্থান হাটে দেখা গেছে, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সবখানেই সবজিতে ঠাসা। সকাল থেকে দূরদূরান্তের কৃষকরা অটোভ্যান, ইজিবাইক, ভটভটি, সিএনজি যোগে তাদের জমিতে উৎপাদিত সবজি হাটে আনেন ভাল দাম পাওয়ার আশায়। ক্রেতা-বিক্রেতা আর আড়তদারদের ভিড় ছিল নিত্যদিনের মতো। কিন্তু ছিল না কপির কাঙ্ক্ষিত দাম। শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুমে প্রতিদিনই বাজার নিন্মমুখী হওয়ায় লোকসানে পড়ছেন কৃষকরা।

    চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি, স্টক সুবিধা না থাকা ও ক্রেতা সংকট হওয়ায় জমিতে চাষ করা টাটকা সবজি বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছেন তারা। যার ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক, উৎপাদন খরচ নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ।

    মহাস্থান মোকামে ফুলকপি বিক্রি করতে আসা শিবগঞ্জ উপজেলার বালুয়া গ্রামের ফারুক ইসলাম বলেন, ১০ মণ ফুলকপি এনেছিলাম বিক্রির জন্য। কিন্তু আমদানি বেশি। ক্রেতা নেই। তাই বাধ্য হয়ে ৪৫০ টাকায় ১০ মণ কপি বিক্রি করে ভ্যান ভাড়া তুলেছি। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ১ টাকা ১৫ পয়সা।

    একই কথা জানালেন উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক হেলাল প্রামাণিক। তিনি ১৭ মণ ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ টাকা মণ দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়েছে এক টাকা পঁচিশ পয়সা।

    নারায়ণগঞ্জ থেকে সবজি কিনতে আসা ব্যাপারি এমদাদদুল হক জানান, তিনি মহাস্থানের গিয়াস উদ্দিনের আড়ত থেকে সবজি কিনেন। রোববার ফুলকপির দাম কমে যাওয়ায় তিনি ৫০ টাকা মণ দরে এক টন কিনেছেন। আরও কিনবেন।

    ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ী মিলন রহমান কামাল হাাজর আড়তে সবজি কিনেন। কপির দাম কম পাওয়ায় তিনি তিন টন কপি কিনেছেন। যার মণ ছিল গড়ে ৫০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

    মহাস্থানের ব্যবসায়ী বিশাল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী তাহেরুল ইসলাম বলেন, মহাস্থানে ছোটবড় আড়ত প্রায় ৪০টি। এখন প্রতিদিন মাল ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় ৪০ ট্রাক। বাজারে আমদানি বেশি, বাহির থেকে ব্যাপারি না আসায় সবজির দাম প্রতিদিন নিম্নমুখী। আমরা কৃষকের কষ্টের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে মালামাল ক্রয় করছি, এতে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমরা ব্যবসায়ীরাও হচ্ছি।

    শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, আবহাওয়াজনিত কারণে হঠাৎ করেই ফুলকপি দাম কমে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে দাম আবার বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

    বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে এবং রোগবালাই না থাকায় এবার প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়েছে। তাছাড়া একই সময় সব শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে এসেছে। নেমে গেছে কিছু সবজির দাম। কদিনে মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হবে। সূত্রঃ কালবেলা

  • পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’। কালের বির্বতনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খেলাটি। তাই এই খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন আয়োজন।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ) বিকালে উপজেলার পীরপাল গ্রামে এই খেলাটির উদ্বোধন করা হয়। খেলায় ৫ জন পাতা অংশ নেন এবং ৪টি গ্রুপের ২০ জন তান্ত্রিক দল অংশ নেয়।ঐতিহ্যবাহী খেলাটি দেখতে আশপাশ থেকে ছুটে আসেন সব বয়সের মানুষ। তবে খেলাটি প্রতি বছর ও বড় পরিসরে করার দাবী দর্শনার্থীদের। তবে আগামীতে সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে খেলাটি করার ইচ্ছে আয়োজকদের।

    কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে প্রাচীন বাংলার খেলাধুলা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছিত পাতা খেলা নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অচেনা। তাই তাদের নতুন করে পরিচয় করে দেবার জন্য আয়োজন করেছে পীরপাল গ্রামের যুবসমাজ। খেলাটি চলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।

    মাঠের চারপাশে মন্ত্র পড়ছে কিছু মানুষ। তান্ত্রিক দল মন্ত্র দিয়ে মানুষরূপী পাতাকে মাঠের মাঝখান থেকে নিজের দিকে টানার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। যে দল তাদের মন্ত্রের মাধ্যমে পাতাকে নিজের জায়গার মধ্যে নিয়ে আসতে পারবে সেই বিজয়ী। প্রতিযোগিতায় যাদের পয়েন্ট বেশি সেই দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

    খেলোয়াড়রা বলেন, এই খেলায় মন্ত্রবিদরা যেমন আনন্দিত তেমনি আনন্দিত খেলোয়াড়রা যা ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। তারা চান মাঝে মধ্যেই যেন এ বিনোদন খেলাটি মানুষেরা উপভোগ করতে পারেন। কোনো পুরস্কারের আশায় নয় খেলাটি খেলতে এসেছের দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য।এদিকে আয়োজকরা বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরা ও নতুনদেরকে এই খেলার সাথে পরিচয় করার জন্য এই খেলার আয়োজন। খেলাটি নিজেদের অর্থায়নে করা। যদি সরকার কিংবা জনপতিনিধিরা একটু সাহায্য করেন তাহলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করা যেতে পারে।খেলায় ৩ টি টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন উপজেলার আটটুল গ্রামের তান্ত্রিক দল । খেলা শেষে চ্যাম্পিয়নকে রাজহাঁস ও রার্নাস আপকে পাতী হাঁস পুরস্কৃত করা হয়।

  • জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠে নেমেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি।

    জয়পুরহাটের কালাই বাসস্ট্যান্ড, নিশ্চিন্তা, বটতলি, ইটাখোলা বাজার, গোপিনাথপুর, জামালগঞ্জ বাজার, মুঞ্জাহার বাজার, পাঁচগ্রাম ও পুনট বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যান তিনি।এ সময় কয়েকশ মোটরসাইকেলের বিশাল শোভাযাত্রা, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি এবং নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়। নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বাজার ও আশপাশের এলাকা। স্থানীয় জনসাধারণও বিএনপির এই গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া দেয়।

    গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালাই থানা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব ইব্রাহিম ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজউদ্দীন, সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান তালুকদার, পুনট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহীন, কালাই থানা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ কাফি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনজুমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    গণসংযোগ চলাকালে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি বলেন, “বিএনপি জনগণের দল, এ দলের রাজনীতি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ৩১ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো রাষ্ট্র মেরামত ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। দল যাকেই মনোনয়ন দিক, আমি তার পক্ষেই কাজ করব।”

  • কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপসারা মহল্লার কৃষক হাসান আলী এবার চাল কুমড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন।

    মাত্র ৮ শতাংশ পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করেছেন চাল কুমড়ার মাচা। এখন সেই মাচায় ঝুলছে সতেজ সবুজ চাল কুমড়া আর তার সঙ্গে দুলছে তাঁর স্বপ্নও।হাসান আলী জানান, জমিতে চাল কুমড়া চাষে তাঁর প্রথম পর্যায়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। মৌসুম শেষে এই ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭ হাজারে। ইতোমধ্যেই প্রথম দফায় ৫০টি চাল কুমড়া তুলেছেন তিনি।

    তাঁর আশা, আগামী তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি চাল কুমড়া তুলতে পারবেন তিনি। সব মিলিয়ে মৌসুম শেষে চাল কুমড়ার সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০০টিতে।

    তিনি আরও জানান, এখন প্রতিটি চাল কুমড়া পাইকারিতে গড়ে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি চাল কুমড়া থেকে ১০ টাকা করে লাভ থাকছে তাঁর। সে হিসাবে মৌসুম শেষে তাঁর সম্ভাব্য লাভ হবে প্রায় ৭ হাজার টাকা।

    তাঁর এই সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। একই এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মোমিন এবং রেজওয়ান বলেন, ‘ধান আর আলু ছাড়া আমরা আর কিছু চাষ করতাম না।

    হাসান আলীর চাল কুমড়া চাষ দেখে বুঝছি, এতে পরিশ্রম ও খরচ কম—কিন্তু লাভ বেশি। তাই আগামীতে আমরাও চাল কুমড়া চাষ শুরু করতে চাই।’

    কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চাল কুমড়া চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম, লাভ দ্বিগুণ—কিন্তু এ এলাকার কৃষকেরা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন না। হাসান আলীর এই উদ্যোগ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, ‘উদ্যোমী কৃষক হাসান আলী খরিপ-২ মৌসুম শুরুর আগেই চাল কুমড়ার মতো ফসল বাজারজাত করতে পেরেছেন, যা খুবই ইতিবাচক।

    প্রতিটি উপজেলায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ চলছে। হাসান আলীর মতো উদ্যোগী চাষিদের নিয়মিত প্রণোদনা দেওয়ার জন্য আমরা কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

  • আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    এক সময় শহর ও গ্রামের অলিগলিতে মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল প্যাডেল চালিত রিকশা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রিকশাচালকরা ঘুরিয়ে যেতেন জীবনের চাকা, আর তাদের ঘণ্টির ‘ক্রিং ক্রিং’ শব্দে মুখর থাকত পথঘাট। এই রিকশাই ছিল নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবারের জীবিকার উৎস।

    কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই প্যাডেল রিকশা হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোর দখলে। নিঃশব্দে বিলীন হচ্ছে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল ঐতিহ্য, রেখে যাচ্ছে কেবল স্মৃতির শব্দ—‘ক্রিং… ক্রিং…’জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের অলিগলিতে একসময় সকাল-বিকেল ভেসে আসত রিকশার ঘণ্টির সুর। কিন্তু এখন সে দৃশ্য প্রায় বিরল। ব্যাটারিচালিত অটোর দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন সেই বাহন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি পাল্টেছে পরিবহন সংস্কৃতিও।

    প্যাডেল রিকশায় পরিশ্রম বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কম শ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় চালকদের বড় একটি অংশ পেশা বদলেছেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই এখন দেখা যায় অটোরিকশার সারি, যা যাত্রীদের কাছেও দ্রুত ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    ৬৫ বছর বয়সী রিকশাচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘বাবা, অটো কিনতে টাকা লাগে, আমি গরিব মানুষ। এই রিকশাটাই আমার ভরসা। আগে যাত্রী তুলতাম, এখন আইসক্রিম বেচে খাই। দিনে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। এখন মানুষ হাঁটতেও চায় না, সবাই অটোতে ওঠে।’

    চোখের কোণে বিষাদ লুকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘণ্টির শব্দেই কেটেছে আমার জীবন। এখন সবাই বলে, ‘দাদু, এইটা চালাও কেন?’ কিন্তু আমি ফেলে দিতে পারি না, এটা তো আমার সঙ্গী।’

    একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

    অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

    জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

    যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

    সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

  • ক্ষেতলালে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান

    ক্ষেতলালে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা প্রদান করেছে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তরুণ মানবকল্যাণ যুব সংস্থার আয়োজনে সকালে পৌর সদরে থানা বাজার খোশবদন জি ইউ আলিম মাদ্রাসায় এ চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন করেন,উপজেলা নিবার্হী অফিসার জনাব সানজিদা চৌধুরী।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজ্জাদ পারভেজ। তিনি বলেন, বিনামূল্যে এই চক্ষু সেবা স্থানীয় মানুষের মাঝে স্বস্তি এনে দেয়। ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছি।দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে চোখের সমস্যা নির্ণয়,দৃষ্টি পরীক্ষা,পাওয়ার মাপা,ছানি রোগ সনাক্তকরণসহ বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যেসব রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের জন্য পৃথকভাবে রেফারেল করা হয়। সেবা নিতে আসা রোগী ছামছূল সহ একাধিক রোগী জানান,ফ্রি সেবা পাওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। গ্রামের মানুষ এমন সুযোগ খুব কম পায়।তরুণ মানবকল্যাণ যুব সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন,শীতকালকে সামনে রেখে পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে এই সেবা পৌঁছে দিতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। আগামীতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

  • পুকুরে বিষ দিয়ে ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

    পুকুরে বিষ দিয়ে ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

    নাটোরের সিংড়ায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের গোয়ালবাড়িয়া গ্রামে ১২ বিঘা আয়তনের ওই পুকুরে এই ঘটনা ঘটে।

    মাছগুলো বিক্রির উপযুক্ত হয়ে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে এমন ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে পুকুরে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি জানাজানি হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়ালবাড়িয়া গ্রামের মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন পুকুরটি গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন পাড়েরা গ্রামের মৎস্যচাষি সিদ্দিক প্রামাণিক। গত ছয় মাস ধরে তিনি সেখানে পাবদা, ট্যাংরা, রুই, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে ছিলেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি সিদ্দিক প্রামাণিক জানান, পুকুরটিতে দেড় লাখ পাবদা, ২ লাখ ট্যাংরা, ২ হাজার রুই, ১ হাজার মৃগেল, ২২০টি বিগহেড ও ৩৮০টি সিলভার কার্পসহ বিপুল পরিমাণ মাছ ছেড়েছিলেন তিনি। মাছের পোনা, খাবার ও পরিচর্যা বাবদ তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা ছিল, ৩৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে কে বা কারা শত্রুতা করে পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট (বিষ) প্রয়োগ করায় সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

    সিদ্দিক প্রামাণিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘শত্রুতা করে আমার সব শেষ করে দিলো। আমি তো পথে বসে গেলাম। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

  • নাটোরে রেললাইনে ফাটল

    নাটোরে রেললাইনে ফাটল

    নাটোরের নলডাঙ্গায় রেললাইনে ফাটল দেখা দিয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মাধনগর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফাটলটি নজরে আসে। তবে রেলকর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় মেরামত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মাধনগর রেলস্টেশনের দক্ষিণে এনড়ার পাড় এলাকায় ২৫৩ নম্বর পিলারের কাছে ১ নম্বর রেললাইনে ফাটল দেখতে পান এলাকাবাসী। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গ্রাম পুলিশ নাজমুল হোসেন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফাটল মেরামতের ব্যবস্থা নেয়।

    রেলওয়ের ট্রলিম্যান জুলফিকার হোসেন জানান, ফাটলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরই দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রেলওয়ের কর্মীরা মেরামত কাজ শেষ করেন। মেরামতের সময় ওই লাইনে সতর্কতামূলকভাবে ট্রেন ধীরগতিতে চলাচল করে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

    খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রেলকর্মী ও স্থানীয়দের ধারণা, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে রেললাইনের লোহা সংকুচিত হয়ে এ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী বীরকুৎসা রেলস্টেশনের উত্তরেও একইভাবে রেললাইনে ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা পরে মেরামত করা হয়।

  • নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রশিদপুর গ্রামের তরুণ কৃষক ইমরান হোসাইন ধানখেতে তৈরি করেছেন জাতীয় পতাকার আকৃতি। ধান গাছ দিয়ে সবুজ জমির মাঝে লাল বৃত্ত তৈরি করে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দেশের পতাকার রূপ। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    ইমরান হোসাইন জানান, দেশপ্রেম আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই উদ্যোগ। প্রায় ৪৫ শতক জমিতে দুই জাতের ধান রোপণ করে তিনি তৈরি করেছেন এই অনন্য চিত্র। সবুজ অংশে ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানি লং বাসমতী ধান, আর মাঝের লাল বৃত্তের স্থানে লাগিয়েছেন বেগুনি রঙের পারপোল রাইস। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ধানের শীষে আঁকা পতাকাটি যেন বাতাসে দুলছে।

    ইমরান বলেন, দেশকে ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়। কাজের মাধ্যমেই দেশপ্রেম প্রকাশ পেতে পারে। এই খেত আমার কাছে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার প্রতীক।

    তার এই ব্যতিক্রমী কাজ দেখতে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন ইমরানের সৃজনশীল এই প্রচেষ্টা।

    জামাল উদ্দিন নামের একজন বলেন, ইমরানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে দেখতে এসেছি। জীবন্ত ধান গাছের পতাকা আগে কখনো দেখেনি। দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

    গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, ইমরানের এই উদ্যোগ শুধু দেশপ্রেম নয়, কৃষিক্ষেত্রে সৃজনশীলতারও এক সুন্দর উদাহরণ। এমন উদ্যোগ তরুণদের কৃষির প্রতি উৎসাহিত করবে।

  • এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল!

    এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল!

    নাটোরের বড়াইগ্রামে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছেন দুই শিক্ষার্থী। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন, উপজেলার বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের আইটি সাপোর্ট অ্যান্ড আইওটি বেসিকস ট্রেডের পরীক্ষার্থী আরাফাত সরদার এবং আহমেদপুর ডিগ্রি কলেজের ফুড প্রসেসিং ট্রেডের পরীক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, আরাফাত সরদার ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ‘আইটি সাপোর্ট এন্ড আইওটি বেসিকস’ ট্রেডে অংশ নেয়। সে বছর ১৫টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে রসায়ন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এরপর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শুধু রসায়ন বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেন। তার প্রবেশপত্রেও শুধু রসায়ন বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের ১০ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি রসায়ন ছাড়াও কৃষি বিষয়েও ফেল করেছেন। অথচ কৃষি বিষয়টি তার পরীক্ষার অন্তর্ভুক্তই ছিল না।

    একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে আহমেদপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদের ক্ষেত্রেও। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ‘ফুড প্রসেসিং’ ট্রেডে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান বিষয়ে অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের পরীক্ষায় শুধু আত্মকর্মসংস্থান বিষয়েই অংশ নেন। তার প্রবেশপত্রেও শুধু ওই একটি বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ফলাফলে দেখা যায়, আত্মকর্মসংস্থান ছাড়া তাকেও কৃষি বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে।

    সাব্বির আহমেদ বলেন, আমি এক বিষয়ে ফেল করেছিলাম, সে বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিয়েছি। এখন ফলাফলে দেখি কৃষি বিষয়েও ফেল। অথচ কৃষি আমার প্রবেশপত্রেই ছিল না।