খুলনা বিভাগ

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, উৎপাদন কম হওয়ায় পেশা ছাড়ছে অনেকে

    কুষ্টিয়ায় বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, উৎপাদন কম হওয়ায় পেশা ছাড়ছে অনেকে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করে সংসার চালায় এখানকার ৫শত পরিবার। কিন্তু বাঁশের উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বাঁশ না পাওয়ায় কুটির শিল্পের কারিগরদের ব্যবসায় ভাটা পড়ছে। তাই অনেকেই পেশা ছাড়ছে।

    জানা যায়, বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অভাবে বাঁশ চাষের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এখানকার পতিত জমিতে অন্যান্য ফসল ও বাঁশ চাষের ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

    গত ২ দশক আগে বন সম্পদের অফিসের অধীনে এক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে গাছ লাগানো হয়। ওই সময় বাঁশের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হলে বাঁশ ঝাড় বৃদ্ধি পায়। গ্রামাঞ্চলে প্রচুর বাঁশের আবাদ করা হয়।

    মৃত্তিকা বাঁশ, বরাক, মুলি, তল্লা, মাকলা, বারিয়ানা, নল, ভুদুম, রেঙ্গুন ও কালি বাঁশ বাঁশ ঝাড়গুলোতে উৎপন্ন হয়। এসব বাঁশ ও বেতের উপর নির্ভর করেই পল্লীতে কুটির শিল্প গড়ে ওঠে।

    কুষ্টিয়ার জগতিতে মীরপুর ও খোকসা এবং কুমারখালীতে আদিবাসী সম্প্রদায় বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র তৈরি করা হয়।

    কুষ্টিয়ার এসব এলাকার বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের তৈরি ঝুড়ী, চালুনি, ডালা, কুলা, ফুলের টব, শোপিস, আসবাবপত্রসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও বিক্রি হয়।

    বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের অন্যতম খাত বাঁশ ও বেত শিল্প। পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং দেশীয় সংস্কৃতির ধারক এই শিল্প এখন নতুন করে সম্ভাবনার আলো দেখছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

    এরই অংশ হিসেবে বিসিক জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়ার উদ্যোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী দাসপাড়া, মিরপুর উপজেলার আবুরি দাসপাড়া, মালিহাদ দাসপাড়া এবং খন্দকবাড়িয়া এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ১০২ জন বাঁশ ও বেত পণ্য উৎপাদনকারী কুটির শিল্প উদ্যোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়।

    বাঁশ দিয়ে কুটির শিল্পে তৈরি করা হয়- কুলা, চালনা, ডোল, খালই, পলো, চাটাই, ডালি, দোলনা, চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র। এছাড়াও বাঁশ দিয়ে কাঁচা ঘরবাড়ী তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বলতে গেলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অনেক। গ্রাম-গঞ্জ শহরে এর চাহিদা ব্যাপক। এ বাঁশ বেতের উপর নির্ভর করেই কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করেই এরা সংসার চালায়। তারা বাঁশ-বেত শিল্পের সাথে জড়িত। মানুষ এ বাঁশ বেত শিল্পের উপর নির্ভরশীল। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দিনের পর দিন বাড়ছে বাঁশের চাহিদা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বাড়ছে না বাঁশের আবাদ। লাগানো হচ্ছে না বাঁশের ঝাড়। বাঁশ কেটে সাবাড় করে নষ্ট করা হচ্ছে পরিবেশ।

    বাঁশের মুতাও কেটে ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে বাঁশ ঝাড়। চাহিদার তুলনায় বাঁশ না লাগানোর জন্য বাঁশের ঘাটতি পড়ছে প্রতি বছর। বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় এ জেলায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও জনসাধারণকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত না করায় বাঁশ আবাদ বাড়ছে না। তাই ধ্বংস হতে চলেছে বাঁশ বেত শিল্প।

    কুষ্টিয়ার বাঁশ ও বেত শিল্পীরা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আধুনিক ডিজাইন জানা না থাকায় বাজারে নতুন ধরনের পণ্য আনতে পারছি না। আমাদের যদি মাঠ পর্যায়ে বিনা ফি-তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা আন্তর্জাতিক মানের শৌখিন ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করতে পারব।”

    “শিল্প সম্প্রসারণের জন্য সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ বা অনুদান অত্যন্ত প্রয়োজন। পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় অনেক সময় বড় অর্ডার পেলেও কাজ করা সম্ভব হয় না। সরকারি সহায়তা পেলে উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান হবে এবং তরুণ প্রজন্মও এই শিল্পে আগ্রহী হবে।”

    এ ব্যাপারে বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, “বাঁশ ও বেত শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক নকশা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই খাত শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করবে না, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিসিকের লক্ষ্য কুটির শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।”

    জেলা বন বিভাগের অধীনে বাঁশ লাগানো কর্মসূচী নিয়ে যদি গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং জেলার পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার করাতে সক্ষম হয় তাহলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ জেলায় বাঁশের আবাদ বাড়বে। উৎপাদিত বাঁশ জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠাতে পারবে এবং বাঁশ ভিত্তিক প্রচুর শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

  • যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ বিতরণ

    যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জাগ্রত করতে যশোরের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ ‘বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার ( ৯আগস্ট) বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামাল আহমেদ।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের কালচারাল শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর শাখার নির্বাহী সচিব গাউসুল আযম, পরিচালক মোস্তফা কামাল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামাল আহমেদ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

    সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল বলেন, ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ নয় বরং নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নিয়মিত বিভিন্ন সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    বক্তারা বলেন, আধুনিক, মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইতোমধ্যে যশোরে একটি আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক উদ্যোগ অভিভাবক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে।

    আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ৩ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গাছ রোপণ ও পরিচর্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

  • যশোরে প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট, ১৩০৬ পদে নেই শিক্ষক

    যশোরে প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট, ১৩০৬ পদে নেই শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। জেলার আটটি উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১ হাজার ৩০৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৬৯১টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬১৫টি পদ খালি। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার সার্বিক পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সর্বশেষ উপজেলা ভিত্তিক শূন্যপদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৯টি। বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় সংকট দিন দিন তীব্রতা ধারণ করছে।

    উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে মণিরামপুর উপজেলায়। সেখানে ২৬৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৮টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক । যশোর সদরে ২৫০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৬টি, শার্শায় ১২৫টির মধ্যে ৮২টি, চৌগাছায় ১৩৯টির মধ্যে ৭৬টি, ঝিকরগাছায় ১৩১টির মধ্যে ৭২টি, অভয়নগরে ১১৭টির মধ্যে ৭০টি, বাঘারপাড়ায় ১০২টির মধ্যে ৬১টি এবং কেশবপুরে ১৩৮টির মধ্যে ৩৬টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

    প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের সংকটও উদ্বেগজনক। প্রাক-প্রাথমিকসহ সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত মোট পদ ৭ হাজার ৯১১টি হলেও বর্তমানে ৬১৫টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে মণিরামপুরে ১৫৪টি, যশোর সদরে ১০৭টি, কেশবপুরে ৭৪টি, শার্শায় ৭২টি, অভয়নগরে ৫৬টি, বাঘারপাড়ায় ৫৫টি, চৌগাছায় ৫৪টি এবং ঝিকরগাছায় ৪৩টি সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে।

    মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছে। ফলে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান চালিয়ে যেতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে।

    এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মণিরামপুর উপজেলার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অফিসের সব প্রশাসনিক দায়িত্ব আমাদেরই সামলাতে হয়ে। একই সাথে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি না হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে নয়ে।

    সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য মাস্টার আনিসুর রহমান বলেন, যশোর সদর উপজেলার ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১৪টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। বাকি ১৩৬টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে প্রায় ৮৫টি বিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, আর প্রায় ৫০টিতে চলতি দায়িত্বে দায়িত্ব পালন করছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। দীর্ঘদিন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার গুণগত মান স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড.মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই শিক্ষা ও প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি। বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকা এবং সহকারী শিক্ষকের ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজ সামলাতেই ব্যস্ত থাকেন। ফলে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করা না হলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামলাজনিত জটিলতা এবং নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব।

  • যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে যশোর ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেল ও একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা গুরুতর আহত হন। পরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে স্বামীর মৃত্যু হয়।

    নিহতরা হলেন যশোর চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৬) এবং তাঁর স্ত্রী সাবিরা খাতুন (৩৩)। বর্তমানে নিহত আব্দুর রশিদ চৌগাছা পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিহত আব্দুর রশিদ দীর্ঘ

    দিন যাবৎ প্রবাসী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রশিদ রোববার সকালে মোটরসাইকেলযোগে স্ত্রী সাবিরা খাতুনকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর শহরের দিকে রওনা হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা যশোর সদর উপজেলার ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়েই গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাবিরা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আব্দুর রশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।

    এরপর স্বজনরা তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

    স্বজনরা জানান, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আব্দুর রশিদ ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা আর হলো না। দুর্ঘটনাই তাদের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়। একসঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল ও বাড়িতে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    এদিকে একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যশোর কোতয়ালী থানার ওসি মাছুম খান।

  • ঢাকায় আটক চৌগাছার ৬ আওয়ামী লীগ নেতা ৩ দিনের রিমান্ডে

    ঢাকায় আটক চৌগাছার ৬ আওয়ামী লীগ নেতা ৩ দিনের রিমান্ডে

    নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় আওয়ামী লীগের ছয় নেতা-কর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

    শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

    রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী, সদস্য এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ ও কর্মী মো. আমিনুর রহমান; এমএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক নান্নু মিয়া, চৌগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন এবং মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সজল আহমেদ।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে গুলশান-১ এলাকার একটি শপিং মলের ফুডকোর্টে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ছয়জনকে আটক করা হয়।

    তাদের কাছ থেকে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটির তালিকা ও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সিল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

    পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নাশকতার পরিকল্পনা, পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

  • বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি নুরুল আমিন।

    শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে পৌঁছান। পরিদর্শনকালে তিনি ইমিগ্রেশন কার্যক্রম, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সীমান্ত দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

    এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা চেকপোস্টের চলমান কার্যক্রম ও যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এসবি প্রধানকে অবহিত করেন।

    পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়েদ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাখাওয়াত হোসেন ও নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফ হোসেন।

    ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নুরুল আমিন বলেন, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ স্থল প্রবেশদ্বার। এখান দিয়ে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন পুলিশকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

    তিনি যাত্রী হয়রানি বন্ধ, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।

    এসবি প্রধান আরও বলেন, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধরনের অনিয়ম বা যাত্রী হয়রানি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এ সময় আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। ইমিগ্রেশন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যাত্রীবান্ধব করার বিষয়েও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

    পরিদর্শন শেষে ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এসবি প্রধান নুরুল আমিন।

    এ সময় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেনসহ ইমিগ্রেশন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে সব হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। শেষ আশ্রয় এখন রেললাইন। জমিনই তার বসতভিটা আর আকাশ মাথার ওপর ছাদ। দুই সন্তানকে নিয়ে নির্মম নিয়তির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন তিনি। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে খাবারের অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভাড়া মেটাতে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন এই নারী।

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেললাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা রেহানা খাতুনের জীবনের দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধের এটি এক নিদারুণ গল্প।

    দুই সন্তানকে নিয়ে তার এই জীবনযুদ্ধ আবারও যেন প্রমাণ করে, মাতৃত্বের শক্তির কাছে পৃথিবীর সব দুঃখ যেন নস্যি। নিজের কষ্টকে উপেক্ষা করে সন্তানদের জন্য প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন রেহানা।

    জানা গেছে, রেহানা একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে রেলব্রিজের পাশে সরকারি জায়গায় স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু যেখানে একবেলার খাবার জোটানোই কঠিন, সেখানে ঘর তৈরি করা যেন তার জীবনে দিবাস্বপ্ন।

    কয়েক মাস ধরে সেখানে শুধু বাঁশের খুঁটির অস্তিত্ব থাকলেও এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়ে ওঠেনি। রোদের প্রখর উত্তাপ আর বৃষ্টির কান্না আসে-যায়। কিন্তু রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবনে স্বস্তির হাসি কবে আসবে, সেই প্রশ্নই যেন থেকে গেছে।

    স্থানীয় নারী ফেরদৌসী বেগম জানান, মাথা গোঁজার কোনো ঠিকানা না থাকায় রেহানা পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে ছিলেন। ওই ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করে দেন তিনি।

    ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমি একদিন হঠাৎ দেখি রেহানার মাথায় চুল নেই। আমি বললাম, কী ব্যাপার, তোর চুল কী হইছে? তখন রেহানা কেঁদে দিয়ে বলে, ‘ও বু, কাউরে কইও না, আমি ঘরের ভাড়া দিতি ৫০০ টাকায় চুল বেইচে দিছি।’

    রেহানার এমন অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আবু তালেব শেখ বলেন, ‘রেহানার যে অবস্থা, তাতে সে একটা ঘর পায়—সরকারের কাছে আবেদন করবো, দ্রুত যেন একটা ঘর দেওয়া হয়।’

    এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশপথের মুখে একটি ঘরের বাঁশের ফ্রেম রয়েছে। সেখানে রেহানা ও তার অবুঝ দুই সন্তানের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে জানান গ্রামের মহিদুল ইসলাম।

    মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশের ফ্রেম যেহেতু আছে, এখন টিন এবং বেড়ার খরচ যোগাতে পারলেই রেহানার একটা বন্দোবস্ত হবে।’ এ জন্য এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেন রেহানা। রেললাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি। বৃষ্টি এলে যেন সন্তানদের ভিজতে না হয়, রাতে যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে নিষ্পাপ দুটি মুখ।

    ছোট দুই সন্তানের মাথা গোঁজার একটু জায়গা পেতে শেষ সম্বল নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন রেহানা। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত রয়েছে খিদের যন্ত্রণা।

    কান্নাভেজা কণ্ঠে রেহানা জানান, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। একদিকে ঘর নেই, অন্যদিকে খিদের যন্ত্রণা। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি।’ তিনি সরকার ও বিত্তশালী মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

    নারীর অহংকার ও শেষ সম্বল হিসেবে বিবেচিত নিজের চুল বিক্রি করে দারিদ্র্যের কাছে হার মানলেও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসাকে হারাতে দেননি রেহানা। সন্তানদের জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।

    এখন প্রশ্ন একটাই—একজন মাকে আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মিলবে মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই?

  • জুলাই সনদ গণমানুষের মুক্তির সনদ- ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি

    জুলাই সনদ গণমানুষের মুক্তির সনদ- ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি

    চৌগাছা (যশোর)

    শতশত ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে এদেশের মানুষ স্বৈরশাসকের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। যে মুক্তির জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ আন্দোলন করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ চৌগাছা উপজেলার স্বর্পরাজপুর আরিফা সুলতানা মহিলা মাদ্রাসার সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আব্দুর রহমান। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আরো বলেন এদেশে এগিয়ে নিতে একদল সৎ এবং দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। সভায় আরো বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, মাওলানা আম্মাদুল ইসলাম, ড. মাহবুবুর রহমান, ম্ওলানা আব্দুল লতিফ, মাওলানা রওশন জামিল প্রমুখ।

  • কৃষকদের পাশে ’গো এগ্রো’

    কৃষকদের পাশে ’গো এগ্রো’

    জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দক্ষীণ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের টেকসই কৃষি ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য ‘গোগ্রো’ প্রকল্পের আওতায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    চলমান গোগ্রো প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের ফসলের সঠিকমূল্য নিশ্চিত করতে সিনজেনটা ভ্যালু চেইন পার্টনারশীপ গড়ে তুলেছে। যা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কৃষক সরাসরি স্থানীয় ভ্যালু চেইন পার্টনার এর নিকট তাদের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করছে। এর ফলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির পাশাপাশি বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় অর্থাৎ প্রকল্পের পাশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে করে কৃষক খুব সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে পারে।

    এ প্রসঙ্গে সিনজেনটা বাংলাদেশ এর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স এ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উৎপাদিত পণ্যের বাজারসংযোগ নিশ্চিত করাও কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। সে লক্ষ্যেই কৃষকদের সক্ষমতা ও আধুনিক ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষির বাস্তবতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে ‘গোগ্রো’প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

    ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা ‘গোগ্রা’ প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্থানীয় কৃষকদের আয় ও জীবনমান সমৃদ্ধ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১২০০ কৃষককে বিভিন্ন সময়োপযোগী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জলবায়ু-সহনশীল ফসলের চাষ সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর খনন, খাল পুনঃখনন, রিজেনারেটিভ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের সমন্বিত চর্চা এবং কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে, এসব উদ্যোগের ফলে প্রকল্প এলাকায় কৃষি উৎপাদন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষি অভিবাসন উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে।

    প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে এ প্রকল্পের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হবে অর্থাৎ প্রায় ৩,৫০০ জন কৃষক এবং ১০০০ একর জমিকে জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা উল্ল্যেখ করেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দারিদ্র্য হ্রাস, জলবায়ু কার্যক্রম এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্বের বিষয়ে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।

  • সরকারি গুদামে সার, মাঠে হাহাকার!

    সরকারি গুদামে সার, মাঠে হাহাকার!

    আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুম। অথচ যশোরের মাঠে এখন সারের জন্য হাহাকার। সরকারি হিসাব বলছে, গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ডিলার ও সাব-ডিলারদের দোকানে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার। বাধ্য হয়ে অনুমোদনহীন দোকান থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার কিনছেন কৃষকরা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


    যশোরের চৌগাছা, শার্শা ও সদর উপজেলাসহ জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে আমন চাষ পুরোদমে চললেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার মিলছে না। সবচেয়ে বেশি সংকট ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারে।


    চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী গ্রামের কৃষক আলী কদর বলেন, ‘সাব-ডিলারের কাছে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দিতে পারছে না। অথচ অনুমোদনহীন দোকানে গেলে দুই গুণ বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।’
    একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-ডিলার কামরুল ইসলাম জানান, তাঁর এলাকায় ৫৪৫ জন কৃষক রয়েছেন। অথচ তিনি পেয়েছেন মাত্র ১০ বস্তা ডিএপি, ১০ বস্তা এমওপি, ৫৫ বস্তা টিএসপি ও ১০০ বস্তা ইউরিয়া।


    তিনি বলেন, ‘এখন আমন রোপণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কৃষকের প্রয়োজনের তুলনায় যে বরাদ্দ পেয়েছি, তা খুবই অপ্রতুল। কৃষকদের কোনো সমাধান দিতে পারছি না।’
    ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-ডিলার কিংকর হালদারও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষক টাকা নিয়েও সার পাচ্ছেন না। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।’
    শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের গোকর্ণ গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের প্রথম চাষে সার না দিলে ভালো ফলন হয় না। কিন্তু এখন ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এমওপি—সব সারেরই সংকট। মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কোনো মিল নেই।’
    সদর উপজেলার চুরামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ২৫ টাকা, ডিএপি ১৯ টাকা, টিএসপি ২৫ টাকা ও এমওপি ১৮ টাকা কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমওপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টিএসপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ইউরিয়া অনেক জায়গায় ৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার রয়েছেন ১৬২ জন এবং বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার ১৪১ জন।
    বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার নয়টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় প্রায় দ্বিগুন ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ইউরিয়ার মজুদও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।


    গত জুন মাসে ডিলারদের মধ্যে ২ হাজার ১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৮০৮ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১২৩ মেট্রিক টন এমওপি বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই মাসের জন্যও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির উল্লেখযোগ্য মজুদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
    অর্থাৎ সরকারি হিসাবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলারদের দাবি, তারা প্রয়োজনের ২০ শতাংশ সারও পাচ্ছেন না।
    সরকার প্রতি কেজি সারে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে সার ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, সেটি কৃষকদের জন্য ২০ থেকে ২৭ টাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা।


    কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা, ২১ টাকার ডিএপি ৩০ টাকা, ২০ টাকার এমওপি ৩০ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত মাঠে গিয়ে সার ও বালাইনাশকের দোকান মনিটরিং করছি। বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও সমস্যা থাকলে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


    তবে কৃষক ও সাব-ডিলারদের দাবি, মনিটরিং কার্যক্রম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পৌঁছাচ্ছে না।
    কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন ধানের প্রথম চাষ ও চারা রোপণের সময় প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। এক বিঘা জমি প্রস্তুতের সময়ই প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োজন হয়। ফলে বর্তমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

  • যবিপ্রবিতে ছাত্রী হয়রানি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    যবিপ্রবিতে ছাত্রী হয়রানি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ছাত্রীদের হয়রানি ও বহিরাগতদের উৎপাত বন্ধে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন থেকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ছাত্রীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।

    এর আগে শুক্রবার এক ছাত্রীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন বহিরাগতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপদ ক্যাম্পাস, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তাসহ ১০ দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর লিখিত মুচলেকাও দিয়েছে। পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • জুলাই যোদ্ধার পাশে যশোর জেলা জামায়াত

    জুলাই যোদ্ধার পাশে যশোর জেলা জামায়াত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় যোদ্ধা রাশেদ খান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শুক্রবার (৭ই আগস্ট) তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    একটি সূত্র জানায় গত ৪ আগস্ট সকালে যশোর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে রাশেদ খানের বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাঁকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

    হাসপাতালে অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি আহত রাশেদ খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সাহস জোগান। তিনি মহান আল্লাহর কাছে রাশেদ খানের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।

    এ সময় অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে যারা সাহসিকতার সঙ্গে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জুলাই বিপ্লবের আহত যোদ্ধাসহ সকল অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে সর্বক্ষণ থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও খোঁজখবর অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার অন্যতম সমন্বয়ক সুয়াইব হুসাইন, সরোয়ার গাজী, আবু হুরায়রা এবং স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মী।

    পরিদর্শন শেষে আহত রাশেদ খানের দ্রুত সুস্থতা, পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত সবাই মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর আশু সুস্থতা কামনা করেন।

  • বেনাপোলে বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    বেনাপোলে বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোরের বেনাপোলে চতুর্থ দিনের মতো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে পৌর বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্ট ও গাজীপুর এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ব্যক্তিগত অর্থায়নে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়।

    আবু তাহের বলেন, চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশকে সবুজায়িত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসছেন।

    তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনধারণে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ অক্সিজেন, জ্বালানি কাঠ, ফুল ও ফল দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ তৈরির উপকরণ সরবরাহ করে।

    কর্মসূচিতে বেনাপোল পৌর বিএনপির সহসভাপতি নাসিরুল গনি বল্টু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল মুনাফ, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইছাহক মিয়া, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামসহ যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী এলাকা সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ধলা সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ধলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৩৫/৪-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধলা মাঠ এলাকায় বিএসএফের ১১ ব্যাটালিয়নের বুড়িপোতা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাত পরিচয়ের চার পুরুষ ও এক নারীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার নিজাম উদ্দীন শিকদার বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তারাও বিজিবির সঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করবেন।

  • মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল টাইমস,

    মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: ইব্রাহিম (২৫) নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামের শুকুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নান্দুয়ালী মধ্যপাড়া কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    নিহত ইব্রাহিমের খালাতো ভাই সোহান জানান, তিন দিনের সময় লাগাতে তাবলিগ জামাতের সাথে শহরের স্টেডিয়াম গেট মসজিদে ছিলেন ইব্রাহিম। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় গরম থেকে স্বস্তির জন্য মসজিদের ছাদে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত মসজিদের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুলাহ আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল টাইমস,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, একটি প্রাইভেটকার ও একটি পিকআপভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে জীবননগর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি জানান।

    গ্রেফতাররা হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মরহুম আনোয়ারের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৫), চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার জাহিদ শেখের ছেলে শিপলু (২৮), বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাশেম খাঁর ছেলে টুলু (৪৪), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মরহুম মজিবরের ছেলে স্বপন উদ্দিন (৩৭), মিজানুরের ছেলে সবুজ শেখ (৩৭) ও আব্দুল গফুরের ছেলে জাফর আহমেদ (৩৪)। তাদেরকে আদালতে সোপর্দের পর সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, গত ৪ আগস্ট সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর বিশ্বাস (৪৮) যাদবপুর দক্ষিণ মাঠে তার সেচ প্রকল্পের বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি চেম্বার পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, ট্রান্সফরমারগুলোর প্রতিটিতে থাকা প্রায় ১০ কেজি ওজনের তামার কয়েলসহ মোট ৩০ কেজি তামা এবং ট্রান্সফরমারের ভেতরের তেল চুরি হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই দিন অপর সেচ ব্যবসায়ী আনারুল ইসলামও তার একটি ট্রান্সফরমার থেকে তামা ও তেল চুরির অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জাফর জীবননগর থানায় একটি মামলা করেন।

    মামলার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, অন্য যন্ত্রাংশ ও চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

    ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে মূল্যবান তামা, তেল ও অন্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ও চক্রটির সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছেন থানা পুলিশ।

    থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। শুক্রবার (৭ জুলাই) চৌগাছা থানার এসআই আব্দুস ছাত্তার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কমলাপুর মোড় এলাকায় চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কে অভিযান চালান। এ সময় রুমেল ওরফে রুবেল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার নিকট থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রুমেল ওরফে রুবেল ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

    পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার টেঙ্গুরপুর মোড় এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ মোল্যা (৩৮) ও জসিম উদ্দীন মন্ডল (৫৫) কে আটক করেন। তাদের নিকট থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল্লাহ মোল্যা খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী (উত্তর গড়ের আবাদ) গ্রামের লিয়াকত মোল্যার ছেলে ও জসিম উদ্দীন মন্ডল চৌগাছা উপজেলার রাজাপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত রওশন আলী মন্ডলের ছেলে।

    এদিকে চৌগাছা থানা পুলিশ উপজেলার টেঙ্গুরপুর-পুড়াপাড়া সড়কের আন্দারকোটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদ (৬২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার নিকট থেকে ৩৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক আব্দুস সামাদ চৌগাছা উপজেলার পান্টিপাড়া গ্রামের মৃত হারেজ গাজীর ছেলে।

    এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংদ সদস্য ভোট দেবেন। সেখানে নৈতিক স্থলনের দায়ে দল থেকে বহিস্কৃত জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচত সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়ার পর এই ভোটার তালিকা বৃহস্পতিবার রাতে গেজেট আকারে প্রকাশ করে ইসি। একই দিন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিলও ঘোষণা করেন।

    গেজেট অনুযায়ী, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তাদের মধ্যে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্য সংখ্যা ২৯৯ জন। আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন। আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন।

    এদিকে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নামও ভোটার তালিকায় থাকা প্রসঙ্গে ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি এখনও সংসদ সদস্য পদে আছেন। স্পিকারের কাছে জামায়াতের উত্থাপিত অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কাজেই এখন পর্যন্ত যারা সংসদ সদস্য পদে রয়েছেন, আইন অনুযায়ী তারাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হবেন।

    সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দল থেকে বহিষ্কারের পর নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিও দেয়। তবে চিঠির ভিত্তিতে এখনও তাঁর এমপি পদ শূন্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত। তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে একক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। সেক্ষেত্রে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না।

    ২৪ জুলাই অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা

    হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা

    মাগুরার শালিখা উপজেলার নবগঙ্গার কুল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক গঙ্গারামপুর বাজার। শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টির সাথে সাথে গ্রামীণ এই হাটে এখন চোখ মেললেই দেখা মিলছে হলুদ রঙে চোখ ধাঁধানো তাজা মিষ্টি কুমড়ো ফুল ও কুমড়ো শাকের পসরা। একসময় যা কেবল গ্রামের গৃহস্থবাড়ির নিজস্ব পাতেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় সবজিপ্রেমীদের খাদ্যতালিকায় প্রথম পছন্দ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এই ফুলটি।

    গঙ্গারামপুর বাজারে আসা স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে আশেপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা খেত থেকে তুলে আনা সতেজ কুমড়ো ফুল ও শাক বাজারে নিয়ে আসেন। কুচকুচে সবুজ পাতার সাথে উজ্জ্বল হলুদ ফুলের আঁটিগুলো দেখতে যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি রান্নায় এর স্বাদও অতুলনীয়। এটাকা দরে এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।বিক্রেতারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে কুমড়ো ফুল ও শাকের চাহিদা থাকায় প্রতিদিন এখানে বেশ ফুল বিক্রি হচ্ছে।

    কুমড়ো ফুল কিনতে আসা নার্গিস নামে এক গৃহিণী বলেন, “কুমড়া ফুলের তৈরি চপ ও বড়া খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। তাই মাঝেমাঝেই আমি এখানে কুমড়ো ফুল নিতে আসি।”

    মুচমুচে বড়া, তরকারি কিংবা ভাজি হিসেবে পরিবেশনে এর জুরি নেই। কৃত্রিম সারমুক্ত এবং গ্রাম বাংলার একদম সতেজ হওয়ায় ক্রেতারা কাড়াকাড়ি করে তা কিনে নিচ্ছেন।

    পুষ্টিবিদদের মতে, কুমড়ো ফুল দেখতে সাধারণ হলেও এর ফুল এবং ডগা পুষ্টির এক অনন্য আধার। এতে রয়েছে প্রভূত স্বাস্থ্য উপকারিতা। উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত করে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ক্যারোটিনয়েড’ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকার কারণে এটি দাঁত ও হাড় মজবুত করতে অত্যন্ত কার্যকরী এবং প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকায় তা হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

    গ্রামীণ অর্থনীতির পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মেটাতে এই শাক ও ফুলের কদর দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে বাণিজ্যিকভাবেও কুমড়ো ফুল ও শাক বিক্রি করে ভালো আয় করা সম্ভব।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, “কুমড়ো ফুল নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। সাধারণত পরাগায়নের পরে, এই ফুলগুলি গাছ থেকে তুলে খাওয়া যায় পাশাপাশি ভালো দামে বিক্রিও করা যায়। আমাদের উচিত এটির প্রতি খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মিটবে অপরদিকে এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটা অন্যতম উৎস হতে পারে

  • হাসিনা ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক: আইনমন্ত্রী

    হাসিনা ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক: আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। আমিও বিশ্বাস করতে চাই, উনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক। আইনি পথ ধরে হাঁটুক।’

    শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সম্পর্কে আমার বলার একটাই কথা, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি বাংলাদেশকে খুন করেননি, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি খুন, গুম, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সেই সব সত্যের মুখোমুখি যদি তিনি হতে চান, তাহলে অবশ্যই তিনি আসবেন।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হলো, যেখানে একজন গরিব, অসহায় মানুষ যাতে অনুভব করতে পারে, সৃষ্টিকর্তার পরেই যেখানে গেলে মানুষ তার আস্থা এবং বিশ্বাস রাখতে পারে, এমন একটি বিচার বিভাগ চাই আমি। সেই বিচার বিভাগে এখনো অনেক সমস্যা আছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিয়ে আপনার কাছে সমস্যা একরকম, আমার কাছে সমস্যা আরেক রকম। কেউ বলবেন বিচার বিভাগ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে, অনেকেই বলবেন টাউট-বাটপারিতে ছেয়ে গেছে। অনেকেই বলবেন স্ট্রাকচার নাই। আর আমার কাছে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় সংকট হলো, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। আমি যদি বিচারককে পেশা হিসেবে বেছে নিই, তাহলে আমাকে ধরে নিতে হবে আমি আর দশটা চাকরির মতোই চাকরি করতে আসছি। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, আমি এখানে এসেছি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, বিধাতা প্রদত্ত সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য।’

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যারা বেশি কথা বলছেন, আপনাদের বলব, একবার বুকের ওপর নিজের হাতটা রেখে বলুন তো, এতগুলো অপরাধের পরেও উনি জনগণের কাছে, মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কিনা? একবারের জন্যও হাসিনার মনে হয়েছে কিনা যে আমরা অপরাধ করেছি?’

    মতবিনিময় ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ।

  • মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: ইব্রাহিম (২৫) নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামের শুকুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নান্দুয়ালী মধ্যপাড়া কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    নিহত ইব্রাহিমের খালাতো ভাই সোহান জানান, তিন দিনের সময় লাগাতে তাবলিগ জামাতের সাথে শহরের স্টেডিয়াম গেট মসজিদে ছিলেন ইব্রাহিম। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় গরম থেকে স্বস্তির জন্য মসজিদের ছাদে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত মসজিদের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুলাহ আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ১

    কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ১

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রশীদের ছেলে।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে কুমারখালীতে ফিরছিলেন নোমান। পথিমধ্যে চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

    খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি আটকের ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে।

  • মহেশপুরে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এ সংবর্ধনা পেলেন জুলাই যোদ্ধারা।

    মহেশপুরে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এ সংবর্ধনা পেলেন জুলাই যোদ্ধারা।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন , মহেশপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই,উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনি,উপজেলা সাবেক ,মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান ,সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস,সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া,মহেশপুর ছাত্রদলের নেতা আব্দুল মালেক। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন জুলাই যোদ্ধা সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান বাপ্পি,শফিকুল ইসলাম,অমিত,নুর আলম,মোঃ হাসান,কাজী বিল্লাল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দেশ গঠনে তাদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরে সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধনা ও উপহার দেওয়া হয়।

  • মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

    মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

    সারাদেশে গ্যাস সঙ্কট, ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী মাগুরা জেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে শহরের নোমানী ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে কলেজ রোড হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মাগুরা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

    সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির অধ্যক্ষ মশিউর রহমান, সহ-সেক্রেটারি মারুফ কারখি, পৌর আমির আশরাফুল আলম, অ্যাডভোকেট আজমত হোসাইন প্রমুখ।

    এ সময় বক্তারা অবিলম্বে সরকারের কাছে গ্যাস সঙ্কট নিরসন, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোসহ সকল দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

  • সাতক্ষীরায় ৬ কোটি টাকার ‘কুশ’ মাদক জব্দ, আটক ১

    সাতক্ষীরায় ৬ কোটি টাকার ‘কুশ’ মাদক জব্দ, আটক ১

    সাতক্ষীরায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে নতুন ধরনের মাদক ‘কুশ’ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি ‘কুশ’-এর বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। জব্দ করা মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনসহ উদ্ধারকৃত মালামালের মোট মূল্য ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাঠি বাজার এলাকায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এ অভিযান পরিচালনা করে। পরে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরা শহর থেকে ঝাউডাঙ্গা বাজার এলাকায় ‘কুশ’ নামের মাদক নিয়ে যাওয়া হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ আভিযানিক দল মাধবকাঠি বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী মো. তারিকুজ্জামানকে (২৪) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের বাসিন্দা। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে ১২ কেজি ‘কুশ’ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

    বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি ‘কুশ’-এর মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এছাড়া জব্দ মোটরসাইকেলের মূল্য ২ লাখ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনের মূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ মালামালের মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

    আটক তারিকুজ্জামান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবির কাছে দাবি করেন, তিনি জানতেন না ব্যাগে কী ছিল। তাঁর ভাষ্য, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পাশ থেকে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে ঝাউডাঙ্গা এলাকায় একটি ব্যাগ পৌঁছে দিতে বলেন। কোনো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়নি। ব্যাগটি পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথেই তিনি বিজিবির হাতে আটক হন। পরে জানতে পারেন, ব্যাগে ‘কুশ’ নামের মাদক ছিল। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    বিজিবি জানায়, ‘কুশ’ মূলত মারিজুয়ানা গাছের ফুল বা কুঁড়ি থেকে প্রস্তুত করা এক ধরনের মাদক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এতে অতিরিক্ত টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) মিশিয়ে তরল, গুঁড়া কিংবা ট্যাবলেট আকারেও বাজারজাত করা হয়ে থাকে।

    সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি বলেন, ভারতের সঙ্গে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের ৫৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

  • মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে নিষিদ্ধ পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম (১৪)। তাদের বাড়ি গাংনী ‍উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালে ২৬ জুন বিকেলে রেজোয়ান আল আবির তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে রেজোয়ান আল আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইলফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় ওই ফোন থেকে আবিরের বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে ইমু নাম্বার থেকে হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেলে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় হত্যাকারী দুই কিশোর বন্ধু।

    বিষয়টি দ্রুত আবিরের বাবা পরিবারকে মোবাইলফোনে জানায়। জানানো হয় পুলিশকেও। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে। পরে তারা আবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। রাতেই মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা খাতুন একইদিন রাতেই গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত নিহত আবিরের বন্ধু মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর হামিমকে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

    রায়ে আরো বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    মামলায় ১১ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

    আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন ও রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

  • চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    বিডি টাইসম ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রেসক্লাব চৌগাছার নেতৃবৃন্দ।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে প্রেসক্লাব চৌগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এম এ রহিমের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক অভিযোগ নেই। একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর। উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম ও বাবুল আক্তার, সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম, আব্দুস শুকুর, অর্থ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুক্ত, ক্রিড়া সম্পাদক এম এ মান্নান, পত্রিকা বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দপ্তর সম্পাদক রায়হান হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক লাভলুর রহমান ও সাংবাদিক আজিজুর রহমান, আজম আশরাফ, জাহাঙ্গীর আলম, জাহিদ হাসানসহ অন্যান্য সদস্যরা।

    প্রসঙ্গত, গত সোমবার ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারে এক ঘটনায় এম এ রহিমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানের উপস্থিতিতে ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সাংবাদিক এম এ রহিমের সাথে ঔদ্ধত্য আচরণ করে। পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষিয়টি নিষ্পত্তি হয়।

    একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্রেতাদের সঙ্গে শালীন আচরণের বিষয়ে দোকান মালিক লিখিত মুচলেকাও দেন। এবং সাংবাদিক এম এ রহিমও বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অভিযোগ নেই এই মর্মে অঙ্গিকার নামা দেন।

  • দামুড়হুদায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাঘাডাঙ্গা নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো-কলিম উদ্দিন ওরফে কালু (৪০), সাজিদ হাসান (২৮) ও আশিকুর রহমান (২৪)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ উদ্দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, বাঘাডাঙ্গা নতুনপাড়া এলাকায় অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ইয়াবা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।

    এ সময় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে কলিম উদ্দিনের কাছ থেকে নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিথিনে রাখা ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পরস্পরের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন।

    এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন জানান, ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বশোয়া গ্রামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় তার বাবা-মা নিকটবর্তী বিলে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে প্রতিবেশী সৈকত শেখ (১৫) শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজবাড়ীর পাংশা সীমান্তসংলগ্ন একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

    সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে পটেটো চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শিশুটিকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিলে সে কান্নাকাটি করতে করতে ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং বুকে ও তলপেটে তীব্র ব্যথার কথা জানায়।

    পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

    অভিযুক্ত সৈকত শেখ বশোয়া গ্রামের গ্রাম পুলিশ এরশাদ শেখের ছেলে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সোনালি আঁশের কাঠিতে খুশি পাঠ চাষিরা

    সোনালি আঁশের কাঠিতে খুশি পাঠ চাষিরা

    মাগুরার শালিখায় পাটের চেয়ে কদর বাড়ছে কাঠির। সোনালি আঁশের রুপালি কাঠিতে আশার আলো দেখছেন চাষিরা। আবহমান কাল থেকে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন সৌখিন পাটজাত পণ্য তৈরির কাজে পাটকাঠির জুড়ি নেই। বর্তমানে বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড তৈরি ছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানায় পাটকাঠি ব্যবহার হচ্ছে। ফলে পাটকাঠির মূল্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একসময় শুধুমাত্র জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হতো পাটকাঠি। এখন পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহারের কারণে কদর বেড়েছে কয়েক গুণ।

    সরেজমিনে গঙ্গারামপুর, বুনাগাতি, বরইচারা, ধনেশ্বরগাতিসহ বিভিন্ন নদীবিধৌত অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে বাঁশ দিয়ে আড়া তৈরি করে তার ওপর অসংখ্য পাটকাঠি শুকাতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি পাটকাঠি একত্র করে আটি বেঁধে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাটচাষিরা।

    এদিকে রান্নার জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ভোরে বিভিন্ন এলাকার মহিলারা পাটচাষিদের কাছ থেকে পাট চেয়ে আঁশ ছাড়াতে সহায়তা করছেন। বিনিময়ে টাকা না নিয়ে নিচ্ছেন পাটকাঠি। উপজেলা সদর আড়পাড়া ইউনিয়নের বরইচারা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, খাল-বিল ও নদীর ধারজুড়ে শত শত নারী পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। দিন শেষে মজুরি হিসেবে পাটকাঠি নিচ্ছেন, যা ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

    এমনই এক নারী সিউলী খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বাড়িতে জ্বালানির সংকট থাকায় তিনি পাট বাছতে এসেছেন। বিনিময়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করছেন। পান্না খাতুন নামের আরেক নারী জানান, পাটকাঠি তাদের দৈনন্দিন জীবনে নানাবিধ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তিনি পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করতে এসেছেন।

  • জ্বালানি-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

    জ্বালানি-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মসূচি পালন করেছেন।

    স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিল্প-কারখানার উৎপাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

    স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব

    আলমগীর হোসেন খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম। জামায়াতের জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু,তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন,সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক,আইন বিষযক সম্পাদক দারুস সালাম,চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির অ্যাড. হাসিবুল ইসলামস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    স্মারকলিপি প্রদান-পূর্ব সমাবেশে জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বক্তব্যে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি এবং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তারা ভূতুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের শিকার হচ্ছেন, যা মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভূতুড়ে বিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    এই সময় বক্তারা অভিযোগ করে আর ও বলেন, এসব কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জ্বালানি সংকট নিরসন, বিদ্যুতের মূল্য ও বিলসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • যশোরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

    যশোরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে শহরের জিরো পয়েন্ট কোর্ট মোড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল তরুণ সমাজ ও আপামর জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের প্রায় ১৬ শ তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও বিভিন্ন ইসলামী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম, নির্যাতন ও ফাঁসির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের দুই বছর অতিক্রম হলেও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। অবিলম্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

    অধ্যাপক গোলাম রসুল আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য, দলীয়করণ ও দুর্নীতি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে গণভোটে জনগণের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, শামসুজ্জামান ও মনিরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহ-সম্পাদক মুফতি রাশেদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, যশোর শহর শিবিরের সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুসাইন, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা ইসমাইল হোসেন এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আশরাফ ও সেক্রেটারি আব্দুল হক।

    সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিশাল গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    যশোরে ভারতে পাচারের সময় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি স্বর্ণের বারসহ ফারুক নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের লাউজানি গাজীর দরগাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    আটক ফারুক কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে।

    যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টিম যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে গাজীর দরগাহ এলাকায় অবস্থান নিয়ে গাড়ি তল্লাশি করছিলো। এসময় বেনাপোলগামী একটি বাস থেকে ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ৫২৯.৬৪ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানায় সে স্বর্ণের বারগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলো। জব্দকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য ১ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৩১ টাকা। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এ,আর

  • চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    এম এ রহিম , চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি. এম. এ. মুনীব। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ (পিপিএম), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, প্রেস ক্লাব চৌগাছার যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. রহিম, ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক এম এ মান্নান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদুল ইসলাম রিতম, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হাসানুজ্জামান, শহিদ আল আমিনের পিতা আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, সম্রাট হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি অদীপ ফারহান, ছাত্রশক্তি নেতা জুবায়ের ও এনসিপি নেতা সিনবাদ।

    অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদদের স্মরণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রেস ক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে বিকেলে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে ১১ দলের উদ্যোগে সমাবেশ ও উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় মিছিল করা হয়।

  • গণ-অভ্যুত্থান দিবসে গাংনীতে আলোচনা সভা, জুলাই চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান

    গণ-অভ্যুত্থান দিবসে গাংনীতে আলোচনা সভা, জুলাই চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান

    জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মতিয়র রহমান, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মূর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, পৌর জামায়াতের আমির আহসানুল হক, এনসিপি নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন এবং গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন।

    এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ছয়জন আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছাড়া বাকীরা পলাতক রয়েছেন। এ মামলার অপর একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার জেলা ও দায়রা অতিরিক্ত চতুর্থ আদালতের জজ মো: খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো: লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত শামীমকে ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত আরো ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় প্রদানকালে মো: লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতের সূত্র জানায়, গত ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো: রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময়ে তার সাথে কর্মচারী ছিলেন। তারা দু’জন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত এবং বাকী তিনজন সিভিল পোশাক পরা অবস্থায় তার গতিরোধ করে।

    এরপর তারা তাকে জানায় যে, তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সাথে থানায় যেতে বলে। তারা রবিউলকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা হয়।

    তখন রবিউল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে মৃত্যুর ভয় দেখায় এবং তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে যায়। ঘটনার পরের দিন তিনি পাইকগাছা থানায় থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    একই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই মো: শাহজুল ইসলাম সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

  • বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে বসত ঘরে একই পরিবারের তিন জনের লাশ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা ঘরের মধ্যে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

    পুলিশ, পিবিআই ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভীর করেছেন। এখনও লাশ ঘরের মধ্যে রয়েছে, সিআইডি পৌঁছালে লাশ উদ্ধার করা হবে।

    মৃতরা হলেন, চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলীর স্ত্রী মনিরা বগেম (৫২) ও তার ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৮৫)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।

    কয়েকদিন আগে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন তিনি।

  • চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সাধারণ ও বিএম শাখা মিলিয়ে উপজেলার অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

    ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি পরে এমপিওভুক্ত হয়। চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

    এর আগে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি আর নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অর্ধেক বেতনে ছুটিতে রয়েছেন।

    চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বাবুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনিও গুরুতর অসুস্থ। নিজের খরচে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক রেখে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ফলে চলাফেরা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজেও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সরকারিকরণের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সরকার থেকেও নতুন শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে সকালের সমাবেশে উপস্থিত ছিল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শৃঙ্খলা ও তদারকির ঘাটতিও চোখে পড়ে।

    সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ও প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তারা দিনের বাকি সময় বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাটায়। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত ক্লাসও হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

    বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

    এ বিষয়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নেতৃত্ব কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকও অসুস্থ থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, চৌগাছার অন্যতম প্রাচীন ও সুনামধন্য এই সরকারি বিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

    তাদের মতে, স্থায়ী নিয়োগে সময় লাগলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান স্বাভাবিক হবে। শিক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু দায়িত্বের চেয়ার পেয়েছি। প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। এমনকি অফিসের আলমারির চাবিও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

    সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক থাকতেই আমি অসুস্থ হয়েছি। এরপর থেকেই আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। তাছাড়া বিদ্যালয়ের অফিস বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রধান শিক্ষকের।”

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণি কার্যক্রম কিছুটা এলোমেলো আছে। বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কবে প্রধান শিক্ষক পাওয়া যাবে, তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

  • শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, “বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

  • জঞ্জালভরা পুকুর এখন স্বপ্নের খামার

    জঞ্জালভরা পুকুর এখন স্বপ্নের খামার

    একসময় কচুরিপানা আর আগাছায় ভরা ছিল পুকুরগুলো। বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা সেই জলাশয়গুলো আজ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের ভাগ্য বদলের প্রধান অবলম্বন। বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন শতাধিক পরিবার। তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান, বাড়ছে নারীদের আয়, আর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন মাছ কিনতে আসছেন পাইকাররা।


    পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের পূর্ব গজালিয়া, উত্তর গড়ের আবাদ, দক্ষিণ গড়ের আবাদ, কালুয়া ও বাদুড়িয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সকাল ও বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ে পুকুরপাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন চাষিরা। তেলাপিয়া ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছ কেটে শোল মাছের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করা হয়। খাবার পানিতে ছড়িয়ে দিতেই শত শত শোল মাছ একসঙ্গে ভেসে ওঠে।
    স্থানীয়রা জানান, পাঁচ-ছয় বছর আগেও এসব পুকুরের অধিকাংশই কচুরিপানায় ভরা ছিল। এখন প্রায় প্রতিটি পুকুরেই বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ হচ্ছে।


    গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রমেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আগে পুকুরগুলো কোনো কাজে লাগত না। এখন সেই পুকুরই গ্রামের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।’
    চাকরির পেছনে ছুটে ব্যর্থ হয়ে অনেক তরুণ এখন মাছ চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্থানীয় উদ্যোক্তা প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘চাকরি না পেয়ে ছোট একটি পুকুর লিজ নিয়ে শোল মাছ চাষ শুরু করি। শুরুতে ভয় ছিল, কিন্তু এখন এই চাষ থেকেই পরিবারের সব খরচ চলছে।’


    শুধু পুরুষ নন, শোল মাছ চাষে যুক্ত হয়েছেন গ্রামের অনেক নারীও। মাছের খাদ্য প্রস্তুত, পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজে অংশ নিয়ে পরিবারের আয় বাড়াচ্ছেন তারা।
    গৃহিণী পম্পা রানী বলেন, ‘প্রতিদিন মাছের খাবার তৈরির কাজ করি। এই আয় দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছি। পরিবারের আয় বাড়াতে পারছি, এটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
    চাষিদের মতে, তুলনামূলক কম জায়গায় এবং স্বল্প সময়ে লাভজনকভাবে শোল মাছ চাষ করা সম্ভব।


    সফল চাষি সুভাষ চন্দ্র মণ্ডল জানান, মাত্র ছয় শতক আয়তনের একটি পুকুরে ২ হাজার ৬০০টি শোল মাছের পোনা ছেড়েছিলেন। সাত থেকে আট মাসের মধ্যে মাছগুলোর ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি হয়। সব খরচ বাদ দিয়েও তিনি প্রায় দ্বিগুণ লাভ পেয়েছেন।
    শোল মাছ চাষকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। মাছের খাদ্য প্রস্তুতকারী, পরিবহন শ্রমিক, পোনা সরবরাহকারী ও পাইকারদের অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী বাজারব্যবস্থা।


    স্থানীয় পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী অনিল কুমার দাস বলেন, ‘খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা এখানে মাছ কিনতে আসেন।’
    উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক বলেন, ‘চাঁদখালী এলাকায় শোল মাছ চাষ দেশের অন্যতম সফল ও টেকসই মডেল হিসেবে গড়ে উঠছে। পরিকল্পিতভাবে এ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাইকগাছা দেশের অন্যতম শোল মাছ উৎপাদন এলাকায় পরিণত হতে পারে।’


    তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলে শোল মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
    স্থানীয়দের মতে, অব্যবহৃত পুকুরকে কাজে লাগিয়ে শোল মাছ চাষ শুধু কৃষকদের আয় বাড়ায়নি, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন গতি এনেছে। একসময় অবহেলিত জলাশয়গুলো এখন কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং স্বাবলম্বিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। চাঁদখালীর এই অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য মৎস্য চাষের মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    একসময় যে উদ্যোগ ছিল কল্পনার বাইরে, সেটিই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের দুম্বা খামারি রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির পশু দুম্বা এখন আর শুধু বিদেশের শুষ্ক অঞ্চলের দৃশ্য নয়, দেখা মিলছে কুষ্টিয়ার মাটিতেও। এই অসাধ্যকে সাধ্য করে মরু অঞ্চলের পশু দুম্বা পালনে সফল এবং স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাকিবুল।

    মহিষ পালন ছেড়ে মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন রয়েছে ১৫টি দুম্বা। দেশীয় খাবার ও পরিচর্যায় তুর্কি জাতের এই দুম্বা পালন করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন তিনি। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হচ্ছে এই দুম্বা। বিদেশি পশুর এ খামার দেখতে প্রতিদিনই রাকিবুলের খামারে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বার খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন রাকিবুলের।

    জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর এলাকার খামারি রাকিবুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মহিষ লালন-পালন করা ছেড়ে দেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলেও মহিষ পালন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দুম্বা পালনের খবর পান। পরে তিনি ২০২৩ সালে একটি খামার থেকে ২টি দুম্বা কিনে শুরু করেন দুম্বার খামার। অল্প সময়ে পান সফলতাও। দুম্বাগুলো ছিল তুর্কি জাতের। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ৩টি দুম্বা যথাক্রমে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতারা বেশিরভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ।

    Islam

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর। ঘরের ভেতরে মাচা করে চারপাশ ঘেরা। দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। নিয়মিত দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার, ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায়, অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হতে চাচ্ছেন।

    খামারি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমি আগে মহিষ লালন-পালন করতাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাই। চলাফেরা ঠিকমতো করতে পারতাম না। সেজন্য মহিষ লালন-পালন করা বন্ধ করে দিই। পরে সুস্থ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে ৩ বছর আগে ২টি দুম্বা কিনে এনে খামার শুরু করি। এর পেছনে পরিশ্রম কম দেওয়া লাগে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১৫টি দুম্বা। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হয় এই দুম্বা।”

    তিনি আরও বলেন, “এই খামারে তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। আমি নিজে ছাড়াও আমার এই খামারের দুম্বা দেখাশোনার জন্য লোক আছে। খামারে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন। তারা দেখেন দুম্বা পালন। কেউ কেউ আবার আগ্রহ দেখাচ্ছেন দুম্বার খামার গড়ে তোলার।”

    তাঁর সহকর্মী ইমদাদুল হক ইমরান বলেন, “দুম্বা জান্নাতি পশু। হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) কোরবানির স্মৃতিবিজড়িত এ পশু। আমিও পরিবার নিয়ে দুম্বা পালন শুরু করতে চাই।”

    সাধারণ ভেড়ার চেয়ে আকারে বড়, আকর্ষণীয় গঠন ও পেছনে ভারী চর্বি থাকার কারণে প্রাণীটি দেখার জন্য অনেকে রাকিবুলের খামারে আসেন। দর্শনার্থী মনিরা জানান, “কখনো দুম্বা কাছ থেকে দেখিনি। হুজুরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখে আমরা খুব আনন্দিত।”

    দুম্বা পালনে আগ্রহী উদ্যোক্তা মিজান জানান, “আমি এখানে সকাল-বিকাল আসি। সব সময় টিভিতে দেখতাম। এখন এই জায়গায় দুম্বা পালন হওয়ায় নিয়মিত দেখতে আসি। তাদের খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও লালন-পালন করা দেখি। আগ্রহ আছে এই বিদেশি জাতের দুম্বা পালনের।”

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “শুধু মরুভূমি নয়, দেশীয় আবহাওয়াতেও দুম্বা লালন-পালন সম্ভব; যার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন রাকিবুল। আমরা সব সময় খামারের খোঁজখবর রাখি। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণাৎ সমাধান করি। নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়।” এছাড়াও সব ধরনের সহযোগিতাসহ যারা দুম্বা পালনে আগ্রহী, তাঁদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

  • খুলনা অঞ্চলে প্রথমবার সয়াবিন চাষ

    খুলনা অঞ্চলে প্রথমবার সয়াবিন চাষ

    খুলনা অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে খুলনা ও বাগেরহাট জেলার মোট ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ করে ২৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নতুন এ উদ্যোগকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে আগামী মে মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


    খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, এবারই প্রথম এ অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৪ হেক্টর এবং বাগেরহাট জেলায় ৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে।


    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সয়াবিন চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। ভোজ্যতেল, পশুখাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পে সয়াবিনের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় ভবিষ্যতে এ ফসলের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


    তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বাজার নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে তুললে উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সয়াবিন সংগ্রহের উদ্যোগ নিলে তারা লাভবান হবেন বলে মত দেন কৃষকরা।
    খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাইনবাড়িয়া গ্রামের কৃষক দেবদাস সানা বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলামের উৎসাহে আমরা এ বছর প্রথমবারের মতো সয়াবিন চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করব।’


    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। ২৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প ও খাদ্য উৎপাদনে সয়াবিনের ব্যবহার বাড়ায় কৃষকদের মধ্যেও এ ফসলের চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
    কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে খুলনা অঞ্চলে সয়াবিন একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের দংশনে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে কবিরাজের কাছে ভুল চিকিৎসা ও সময় অপচয় করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের আল আমিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে এবং স্থানীয় ঘোলদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল্লাহকে একটি বিষধর সাপ দংশন করে। তবে অন্ধকার থাকায় পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে সে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। এ সময় স্বজনরা তাকে তড়িঘড়ি করে গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। ওই কবিরাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সাপে কাটেনি বলে দাবি করেন।

    যন্ত্রণা আরো বাড়লে তাকে দ্বিতীয় আরেক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেয়ে একপর্যায়ে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে সময়মতো হাসপাতালে না নেয়াতেই এমন মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

  • বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু

    বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • গাংনীর করমদি মাদ্রসায় জাল স্বাক্ষরে ছেলে ভাগ্নে ভাস্তে সহ ৫জনকে নিয়োগের পর বেতনের চেষ্টা তদবির

    গাংনীর করমদি মাদ্রসায় জাল স্বাক্ষরে ছেলে ভাগ্নে ভাস্তে সহ ৫জনকে নিয়োগের পর বেতনের চেষ্টা তদবির

    মেহেরপুরের গাংনীতে জাল স্বাক্ষর করে ছেলে ভাগ্নে ও ভাইস্তে সহ ৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরের বিরুদ্ধে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ও সদস্য সচিব সহ কয়েকজনের জাল স্বাক্ষর করে নিয়োগ দেওয়ার পর তাদের বেতন করার জন্য নানা ভাবে শিক্ষা অফিসারের কাছে তদবির ও চাপ প্রয়োগ করছে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফর ও তার শ্যালক আওয়ামীলীগ নেতা করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান।

    এদিকে জালিয়াতির ঘটনায় কেন এমপিও বন্ধ করা হবে না পত্র প্রাপ্তির তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণক সহ লিখিত দিতে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।

    নিয়োগের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে,২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সুপার আবু জাফরের ছেলে ইয়াসির আরাফাতকে ল্যাব সহকারী,ভাগ্নে ও তার শ্যালক আওয়ামীলীগ নেতা করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নানের মেয়ে সাদিয়া মান্নানকে মায়াকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর,ভাইয়ের ছেলে মনিরুল ইসলামকে নিরাপত্তা প্রহরী,রোজিনা খাতুনকে আয়া ও মাসুমকে পরিচ্ছণ্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দিয়েছে। তবে কোথায়, কখন ও কিভাবে পরীক্ষা হয়েছে সে বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সহ সংশ্লিষ্টদের কেউই কিছু জানেন না। নিয়োগপ্রাপ্তরা ২৩ অক্টোবর কাগজে কলমে যোগদান করেছে। তবে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া কাগজপত্রের কারনে কারোর বেতন ভাতা হয়নি। এবিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

    এর আগে দুটি অপ্রচলিত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে স্থানীয়রা স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বানিজ্য বন্ধে মহাপরিচালক সহ বিভিণ্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

    করমদি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা সুজন মাহমুদ বলেন, নিয়োগের বিষয়ে জানতে গ্রামের একাধিক মানুষ মাদ্রাসায় গেলেও সুপার কোনো তথ্য দেননি। বিভিন্ন আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে পদে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে নিয়োগ দিয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। তবে সুষ্ঠ তদন্ত করলে সুপার আবু জাফরের নিয়োগ সহ নানা অনিয়ম বের হয়ে আসবে।
    করমদি মাঠপাড়ার রাসেল মাহমুদ জানান, তিনি একটি পদের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান তার কাছে ১২ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। সে টাকা দিতে না পারায় অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
    নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব মোছা. শামসুন্নাহার বলেন, ফলাফল শিটে থাকা স্বাক্ষরটি তার নয়। পরীক্ষা কবে, কোথায় ও কীভাবে হয়েছে সে সম্পর্কে তার জানা নেই।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত বৈধভাবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তবে নিয়োগের নামে স্বাক্ষর জাল করে আত্নীয় করন ও অবৈধ টাকা লেনদেন হয়েছে।
    মাদ্রাসায় সুপার আবু জাফর জানান, নিয়োগ বৈধভাবে দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তিনি।

    মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মান্নান বলেন নিয়োগ নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।
    গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, নিয়োগ সম্পন্ন ভুয়া ও জালস্বাক্ষরে হয়েছে। এছাড়া ডিজির যিনি প্রতিনিধি ছিলেন তার আদেশর বাতিল করেছে অধিদপ্তর। এছা শিক্ষা অফিসার হিসেবে তিনি কিছুই জানে না তবুও বেতন বিলে স্বাক্ষরের জন্য তদবির ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। জালিয়াতির ঘটনায় গত ২৩/০৫ ২০২৬ ইং তারিখে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে মাদ্রাসায় পাঁচ জন কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তর কর্তৃক ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধি মনোনয়নের পত্রটি স্থগিত হওয়া সত্বেও কিভাবে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করলেন? নিয়োগ পরীক্ষায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল সীটে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির কোন স্বাক্ষর নেই। তারপরও কিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন? বিধি বহির্ভূতভবে নিয়োগ প্রদান করে এমপিও প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছেন। এটা কিভাবে সম্ভব? বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়োগ প্রদান ও এমপিও এর জন্য আবেদন করেছেন। এমন বিধিবহির্ভূত কর্মের জন্য কেন আপনার এমপিও বন্ধ করা হবে না পত্র প্রাপ্তির তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণক সহ লিখিত দিতে বলেছেন। তিন কর্মদিবস পার হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি বরং বিভিণ্ন ভঅবে বেতন করানোর জন্য তদবির করছেন। কারন দর্শানোর জবাব না দেওয়ার ঘটনায় ব্যস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    মহাপরিচালকের প্রতিনিধি সহকারী পরিচালক অর্থ মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার বলেন,তিনি কোন পরীক্ষার ফলাফল শীটে স্বাক্ষর করেননি। তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

  • দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার (সামারি ট্রায়াল) মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

    শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আজমপুরে পৃথক অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো: আমানত উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ দল ঈশ্বরচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালায়। এখান থেকে ইয়াবাসহ মো: জিয়াউর রহমান জিয়াকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।

    জিয়া ঈশ্বরচন্দ্রপুর স্কুলপাড়ার মরহুম শুকুর আলীর ছেলে।

    এরপর রাত ১০টার দিকে পরিচালিত অন্য এক অভিযানে আজমপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে মো: আকাশ হোসেন (২২) নামের আরেক মাদক কারবারিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আকাশ একই গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে।

    গ্রেফতারের পর আসামিদের তাৎক্ষণিকভাবে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে হাজির করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি জিয়াউর রহমানকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অন্যদিকে আসামি আকাশ হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

    দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গ্রেফতার আসামিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রাইস কুকারে ভাত রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহারন খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার আসাননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহারন খাতুন ওই গ্রামের মাসুদ হোসেনের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের জন্য রাইস কুকারে ভাত রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শাহারন খাতুন। রাইস কুকারের সুইচ বোর্ডে প্লাগ যুক্ত করার সময় হঠাৎ বোর্ডটি ভেঙে তার হাতের ওপর খুলে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তার হাতে বিদ্যুতের তার জড়ানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং শহীদদের স্মরণে মেহেরপুরের গাংনীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (১ আগস্ট) বাদ আসর গাংনী মডেল প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির ও গাংনী পৌরসভার জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম।

    এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমির মোঃ আহসানুল হক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ওয়াস কুরুনী জামিল এবং বায়তুল মাল সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

    বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান।

    কর্মসূচিতে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

  • প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 

    প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আব্দুল আজিজ (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবক মথুরাপুর দর্গাতলা এলাকায় খিলাফত আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে ভিজিএফ’র (দুঃস্থ ভাতা) কার্ডের আবেদন করা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মথুরাপুর কলেজপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে পলাশের (২৮) সঙ্গে আকরামের ছেলে বিজয় ও তার বন্ধু আজিজের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই সূত্র ধরে দুই বন্ধু বিজয় ও আজিজ মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে অবস্থানকালে প্রতিপক্ষ পলাশ সশস্ত্র অবস্থায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

    এ সময় পলাশ ছুরি দিয়ে আজিজের পেটে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া পথে মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    দৌলতপুর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, অনলাইনে ভাতার কার্ড করা নিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গোলাবাড়ি বাজারে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে মো. হাবিবুল্লাহ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে দোকান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    পরিবার ও পুলিশ জানান, নিহত হাবিবুল্লাহ পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকার আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি আদম ব্যবসার পাশাপাশি ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। গত বুধবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও তিনি কারও ফোন রিসিভ করছিলেন না।

    নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বিশ্বাস বলেন, সকালে দোকান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে সবাই ধারণা করছিল কিছু একটা পচে গেছে। পরে শাটার খুলে ভেতরে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং হাবিবুল্লাহর স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন। চার-পাঁচ দিন ধরে ছেলে বাড়িতে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজিও করা হয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, বুধবার থেকে স্বামীকে একাধিকবার ফোন করলেও কল রিসিভ করেননি। শনিবার সকালেও ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে হাবিবুল্লাহ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মরদেহ অর্ধগলিত হওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • দর্শনায় শিয়ালের আক্রমণে পোল্ট্রি ফার্মের হাজার মুরগির মৃত্যু

    দর্শনায় শিয়ালের আক্রমণে পোল্ট্রি ফার্মের হাজার মুরগির মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় রাতের আধারে বন্য প্রাণীর আক্রমণে একটি পোল্ট্রি ফার্মের প্রায় এক হাজার মুরগির মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার দর্শনা হল্ট স্টেশনের ওপারে হাসান পোল্ট্রি ফার্মে এ ঘটনা ঘটে।

    খামারের মালিক মো: হাসান জানান, তার খামারে বর্তমানে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার বিভিন্ন জাতের মুরগি রয়েছে। শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় বন্য প্রাণী খামারের ভেতরে প্রবেশ করে মুরগির ওপর আক্রমণ চালায়। সকালে খামারে গিয়ে তিনি শত শত মৃত মুরগি দেখতে পান। পরে গণনা করে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার মুরগি মারা গেছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় তার প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এমন ক্ষতির পর খামারটি পরিচালনা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাঝে মধ্যেই বন্য প্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। খামার ও গবাদিপশু রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

  • রোববার থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু

    রোববার থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা চলমান আন্দোলন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ায় রোববার (২ আগস্ট) থেকে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) শিক্ষার্থীদের দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশাসনের অগ্রগতি সন্তোষজনক হওয়ায় আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হচ্ছে। তবে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতা দেখা গেলে নতুন করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করেন তারা।

    এর আগে গত ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও সন্তোষজনক সমাধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, “শুরু থেকেই প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বস্তি প্রকাশ করছে।

    গত ২২ জুলাই রাতে বিজয়-২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রীও গ্রেপ্তার হন।

    এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্পন্দন-২৪ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

    টানা আন্দোলন, প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক, তদন্ত কার্যক্রম এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর তিন দফা দাবির বিষয়ে অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭২ জন শিশু।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এছাড়া, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৮৬। এদিকে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালেও হাম আক্রান্ত রোগীদের ভিড় রয়েছে।

  • জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো ‘জুলাই সনদের’ আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত এক বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইন সংস্কার কমিশন ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার প্রায় সবগুলোই আমরা গ্রহণ করেছি।’

    একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি এনসিপির বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেন।

    রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা এনসিপিকে পরামর্শ দেব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে তারা দেশের যেখানেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাক না কেন, বিএনপি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

    ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

  • খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

    খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

    খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড়খাল পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ইসমাইল বড়খাল পাড় এলাকার শাজাহানের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, রাতে ইসমাইল দক্ষিণ টুটপাড়া বড়খাল পাড় এলাকায় অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ব্যাপারে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।’

  • আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুস্তাকিম (২০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নির্মাণশ্রমিক মুস্তাকিম একই গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন।

    স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর গ্রামে তিওরবিলা গ্রামের ফুরকানের ছেলে সোহাগ মিয়ার একতলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সকাল থেকেই মুস্তাকিমসহ একদল শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়া প্রধান বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসে মুস্তাকিম। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

    পরে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে নিহতের লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুস্তাকিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • গাংনীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

    গাংনীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আজান ফুটবল মাঠে ফুটবল খেলার সময় রাব্বি আহমেদ (১৬) নামে এক কিশোর মারা গেছে।
    আজ বৃহস্পতিবার বিকালে গাংনী উপজেলার আজান ও সদর উপজেলার বুঁড়িপোতা গ্রামের কিশোরদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল খেলার সময় এঘটনা ঘটে।
    রাব্বি আহমেদ মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোঁতা গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসি মিজার উদ্দিনের ছেলে।
    তার সতির্থ খেলোয়াড় রাব্বি হোসেন ও রাকিবুল ইসলাম বলেন, খেলার সময় হঠাৎ সে খেলার মাঠে বসে পড়ে। পরে তার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়। তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদ হোসেন তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক নাহিদ হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগে সে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে হার্ট অ্যাটার্ক্টে মারা গেছে।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মূর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছেছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬৩ জন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে ডেঙ্গুতে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং খুলনা বিভাগে একজন রয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ১৫৩ জন।

    জনস্বাস্থ্যবিদ ও কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, আগামী আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তেই থাকবে।

    সরকারের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুতে যত মৃত্যু হয়েছিল, জুলাই মাসের ৩০ দিনেই সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
    ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র‍্যালি বের হয়ে।‌ র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় বৃক্ষমেলার। পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

    আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে ৩০ জুলাই থেকে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই বৃক্ষমেলা। জেলার চারটি উপজেলা থেকে অংশ নেয়া মোট ১৪টি স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছসহ নানা ধরনের বৃক্ষ প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান।

    চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ, চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

  • যশোরে ইজিবাইক উল্টে বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু

    যশোরে ইজিবাইক উল্টে বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু

    যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া-সুন্দলী সড়কে ইজিবাইক উল্টে মহিতোষ মণ্ডল (৫০) নামে এক বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে নওয়াপাড়া কয়লাঘাট স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মহিতোষ মণ্ডল উপজেলার ভাটবিলা গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডলের ছেলে। তিনি খুলনার ফুলতলা উপজেলার পথের বাজার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ জানায়, মহিতোষ মণ্ডল নিজ বাড়ি থেকে ইজিবাইকে করে নওয়াপাড়া বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে কয়লাঘাট স্কুলের সামনে পৌঁছালে ইজিবাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে তিনি ইজিবাইকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।
    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, ইজিবাইকের চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।