শিরোনাম

  • হরমুজ ছেড়ে পালাল তেলবাহী ট্যাংকার

    হরমুজ ছেড়ে পালাল তেলবাহী ট্যাংকার

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হুমকির মুখে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরানি বাহিনী জাহাজটিকে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ না মানলে জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

    যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার বা ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে। ওই সময় ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করছিল।

    ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির পক্ষ থেকে ট্যাংকারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন ইরানি বাহিনীর নির্দেশ মেনে নেন এবং জাহাজটি ফিরে যায়।

    এ ঘটনার মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

    তেহরান এরই মধ্যে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে এখন থেকে পারাপারের জন্য অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রণালিটির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

  • এবার মহাকাশ দখলের লড়াই চলছে

    এবার মহাকাশ দখলের লড়াই চলছে

    চাঁদে স্থায়ী মানববসতি স্থাপন ও মহাকাশ গবেষণার জ্বালানি নিশ্চিত করতে চায় বিশ্ব মোড়লরা। এর জন্য চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া।

    ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। অন্যদিকে ২০৩৬ সালের মধ্যে যৌথভাবে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মস্কো ও বেইজিং। এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদে সৌরশক্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ সেখানে রাত টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। এই দীর্ঘ অন্ধকার ও চরম ঠান্ডার সময়ে স্থায়ী ঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও উষ্ণতা বজায় রাখতে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে।

    বিপরীতে চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘সেলেনা’ চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। তবে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এমন তাড়াহুড়ো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    রকেট উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এদিকে পরমাণু স্থাপনা ঘিরে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে পারমাণবিক সুরক্ষার অজুহাতে কোনো দেশ যদি নিজস্ব চুল্লির চারপাশে ‘নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করে, তবে অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প আরও দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। এতে মহাকাশেও তৈরি হচ্ছে বিভাজন।

  • রাশিয়ায় প্লেগ, কোয়ারেন্টিনে শতশত মানুষ

    রাশিয়ায় প্লেগ, কোয়ারেন্টিনে শতশত মানুষ

    রাশিয়ায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। দেশটির একটি গবেষণাগারের এক টেকনিশিয়ান মারা যাওয়ার পর তার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ মানুষকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রাদুর্ভাবটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

    এতে আরও বলা হয়, ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা সাইবেরিয়ার ইরকুৎস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কাজ করছিলেন। সেখানেই তিনি নিউমোনিক প্লেগের জীবাণুর সংস্পর্শে আসেন। সংবাদমাধ্যম লিউদি বাইকালার-এর তথ্য অনুযায়ী, জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাক্রমে ভেঙে যাওয়ার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন শিপিলোভা। এরপর সহকর্মীদের সঙ্গে বুরিয়াতিয়ায় একটি মাঠপর্যায়ের অভিযানে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুরিয়াতিয়া রাশিয়ার মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

    ২৯শে সেপ্টেম্বর শিপিলোভাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। কিন্তু এর দুই দিন পরই তার মৃত্যু হয়। শিপিলোভা প্রায় ২০০ মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন। প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় এখন তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    এদিকে ওই অঞ্চলের তিনটি হাসপাতালে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইরকুৎস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিদের কারও মধ্যে এ পর্যন্ত অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি এবং তাদের পরীক্ষায়ও প্লেগের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে মস্কো টাইমস জানিয়েছে। শিপিলোভা যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেটিও কোয়ারেন্টিনের আওতায় রাখা হয়েছে।

    অন্য হাসপাতালগুলোতে নেয়া হয়েছে শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের। নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং রক্ত ওঠাসহ কাশি। সাধারণত সংস্পর্শে আসার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। সংক্রমণের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে নিউমোনিক প্লেগে মৃত্যুর হার প্রায় ১৭ শতাংশে নেমে আসে। তবে চিকিৎসা না করা হলে এই রোগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী।

    এদিকে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ ঠিক কী ঘটেছে, তা গোপন করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ওই অঞ্চলে রোগটির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মজুত ফুরিয়ে আসছে। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ওষুধের সরবরাহের দাবিতে ফার্মেসি ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। তবে রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ মহামারি বিশেষজ্ঞ মিখাইল ফাভোরভ টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার ব্যাখ্যাটি নাকচ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কো টাইমস। ফাভোরভ বলেন, এটি হাস্যকর।

  • কয়রায় সবজির ক্ষেতে গাঁজা চাষ, ৪টি গাছসহ ১জন আটক

    কয়রায় সবজির ক্ষেতে গাঁজা চাষ, ৪টি গাছসহ ১জন আটক

    খুলনার কয়রায় মাছের ঘেরের পাড়ে শাক-সবজির আড়ালে গাঁজা চাষের অভিযোগে আব্দুল্লাহ মালি (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ঘেরের পাড়ে রোপণ করা চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি মাছের ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি পাড়ে শাক-সবজির মধ্যে গাঁজার গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়রা থানা-পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার দুপুর একটার দিকে ওই ঘেরে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানকালে ঘেরের পাড়ে কৌশলে রোপণ করা চারটি বড় গাঁজা গাছের সন্ধান মেলে। পরে পুলিশ গাছগুলো উপড়ে জব্দ করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মালিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বকশীগঞ্জ সীমান্তে সাড়ে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ

    বকশীগঞ্জ সীমান্তে সাড়ে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের ৯৭১ পিস ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করেছে জামালপুর ৩৫ বিজিবি।

    রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতানিপাড়া বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব কসমেটিকস পণ্য জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার সাতানিপাড়া সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দিগলকোনা গ্রামের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় কসমেটিকসের একটি চালান উদ্ধার করা হয়।

    জব্দ করা পণ্যের মধ্যে চেইন, কানের রিং, স্কিন শাইন ক্রিমসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় কসমেটিকস রয়েছে। বিজিবির হিসাবে জব্দকৃত কসমেটিক ৯৭১ পিস এবং আনুমানিক মূল্য চার লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।

    অভিযানকালে পণ্যগুলোর মালিক বা চোরাচালানের সাথে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জব্দ করা কসমেটিকস কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে বিজিবির নিয়মিত মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • শিগগিরই বিলীন হয়ে যাবে ইরান: নেতানিয়াহু

    শিগগিরই বিলীন হয়ে যাবে ইরান: নেতানিয়াহু

    ইরানের নেতৃত্ব অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত তা টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ৭ই অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু এমন দাবি করেছেন। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।

    নেতানিয়াহু বলেছেন, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র তেহরানকে আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে দিবো না।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বৈরাচার রাষ্ট্রটি এখন সবচেয়ে দুর্বল। ইরান এখন টিকে থাকার জন্য লড়ছে, এবং এর শেষ পরিণতি হলো বিলীন হয়ে যাওয়া। এটিকে বলা যায়, এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া।

    এদিন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরান ত্রিমুখী কৌশলের মাধ্যমে ইসরাইলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। এসব কৌশলের মধ্যে রয়েছে তেলআবিবকে ঘিরে সশস্ত্র গোষ্ঠী রাখা, ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পুরোপুরি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি।

    তবে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় ধাপে ধাপে ইরানের এসব পরিকল্পনা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। আমরা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছি, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি, বলেন নেতানিয়াহু।

    ইসরাইল পুরোপুরি তার কাজ সম্পন্ন করবে- এমন হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে এবং গাজায় হামাস তার কার্যকলাপ চালাতে পারবে না।

  • পিচ্চি রাজা পালিয়েছে পুলিশের সহযোগিতায়, বোনসহ গ্রেপ্তার ৩

    পিচ্চি রাজা পালিয়েছে পুলিশের সহযোগিতায়, বোনসহ গ্রেপ্তার ৩

    ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে ৩০ মামলার আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩৪) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও পিচ্চি রাজার বোনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রিজন ভ্যান থেকে নয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পালিয়েছেন পিচ্চি রাজা। এ ঘটনায় প্রিজনভ্যানে দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। সাময়িক বরখাস্ত অন্য তিন পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেন।

    আজ সোমবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

    জিএমপি কমিশনার বলেছেন, ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে পিচ্চি রাজাসহ ২৯ আসামিকে এসকর্ট করে প্রিজনভ্যানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় মামলা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জিএমপি ডিবির দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলামকে।

    তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে প্রিজনভ্যানটি রওনা হয়ে তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে পৌঁছালে সেটি থামানো হয়। এরপর এসকর্ট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনভ্যানের চাবি নেওয়া হয়।

    পরে পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নেওয়া হয়। খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসেন। তবে পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার ভ্যানে ওঠেননি।

    পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই সময় অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করা হয়। সেখানে বলা হয়, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামিয়ে পিচ্চি রাজা প্রস্রাব করতে গেলে কৌশলে পালিয়ে যান।

    পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য ও তথ্যের ভিত্তিতে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নায়েক কামাল হোসেনের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সময় প্রিজন ভ্যানে থাকা অন্য তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও জানালেন, প্রিজনভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার পথে কোথাও থামার নিয়ম নেই। বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে নিকটবর্তী থানায় থামতে হয়। কিন্তু প্রিজনভ্যানটি যে স্থানে থামানো হয়েছিল বলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দাবি করেছেন, সেখানে থামার কোনো কারণ ছিল না।

    পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও ঘটনার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি পালানোর সময় এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস সিভিল পোশাকে ছিলেন। এসকর্ট পার্টিতে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কর্মকর্তার সিভিল পোশাকে থাকারও নিয়ম নেই।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলাম জানিয়েছেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। আসামি যে স্থান থেকে পালিয়ে গেছেন বলে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে সেটিও সঠিক পাওয়া যায়নি। পালানোর স্থান নিয়ে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক পিচ্চি রাজাসহ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে।

  • ফেনীতে ‘মিথ্যা’ গণধর্ষণ মামলা: জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

    ফেনীতে ‘মিথ্যা’ গণধর্ষণ মামলা: জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীতে গণধর্ষণসহ অর্ধশতাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পলাতক জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

    সোমবার দুপুরে জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর, কিল্লাদিঘী ও তালপাড়িয়ার বাসিন্দারা।

    মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জাল কবির ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি ঘটনাকে গণধর্ষণ হিসেবে সাজিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এছাড়া অর্ধশতাধিক মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

    ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ছাগলনাইয়া সুবেদারি রাস্তার মাথায় মাস্টার ম্যানশনে আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় এক গৃহকর্মীর সাথে জাল কবিরের লোকজন আপসে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পরে সেটিকে গণধর্ষণ হিসেবে সাজিয়ে মামলা করা হয়।

    তারা আরো জানান, গত বছরের জুলাইয়ে একটি গণধর্ষণ মামলায় জাল কবিরকে গ্রেফতার করা হলে তিনি পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান।

    ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাল কবির চক্রের মামলায় জর্জরিত। এখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বয়স্ক মানুষগুলো সবাই এ চক্রের মামলার শিকার। সর্বশেষ এ মামলার যখন কোনো কুল কিনারা পাচ্ছিল না আমাদের বিরুদ্ধে। তখন জাল কবিরের ভাই তাদের কাজের বুয়ার সাথে আপসে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো গণধর্ষণ মামলা দেন। আমরা গত ১ অক্টোবর খালাস পেয়েছি।’

    মোহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, ‘জাল কবির ও তার পুরো চক্র আমাদের সাথে প্রতারণা করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। আমরা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। আমরা চাই, জাল কবিরকে গ্রেফতার করা হোক। সে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে গ্রেফতার করা হলে কেউ আর এমন করার সাহস পাবে না।’

    আরেক ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জাল কবির আমাদের হয়রানি করেছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানির শিকার হয়েছি। সে আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিল। আমরা চাই, জাল কবির ও তার ভাইকে গ্রেফতার করা হোক।’ এ,আর

  • স্টিভ জবসের মৃত্যুর ১৫ বছর: যেভাবে বদলে দিলেন প্রযুক্তির ব্যবহার

    স্টিভ জবসের মৃত্যুর ১৫ বছর: যেভাবে বদলে দিলেন প্রযুক্তির ব্যবহার

    অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মৃত্যুর ১৫ বছর পূর্ণ হলো সোমবার (৫ অক্টোবর)। ২০১১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে ৫৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান। ব্যক্তিগত কম্পিউটার, গান শোনার যন্ত্র ও মুঠোফোন, এই তিন ক্ষেত্রেই মানুষের অভ্যাস বদলে দেওয়া পণ্যের পেছনে ছিল তার নেতৃত্ব।

    জবসের জন্ম ১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, সান ফ্রান্সিসকোতে। জন্মের পরই তাকে দত্তক নেন পল ও ক্লারা জবস দম্পতি। পল জবস ছিলেন যন্ত্রকারিগর। ছেলেবেলায় বাবার কাছেই যন্ত্রপাতির কাজে হাতেখড়ি হয় স্টিভের।

    ১৯৭২ সালে ওরেগনের রিড কলেজে ভর্তি হলেও এক সেমিস্টার পরই পড়া ছেড়ে দেন তিনি। তবে ক্যাম্পাস ছাড়েননি। পছন্দের কয়েকটি ক্লাসে বসতেন, যার একটি ছিল হস্তলিপিবিদ্যা বা ক্যালিগ্রাফি। ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতায় জবস বলেছিলেন, ওই ক্লাসের শিক্ষাই পরে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের হরফের নকশায় কাজে লেগেছিল।

    ১৯৭৪ সালে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আটারিতে কাজ নেন জবস। সে বছরই আধ্যাত্মিকতার খোঁজে ভারতে যান। দেশে ফিরে বন্ধু স্টিভ ওজনিয়াকের সঙ্গে কম্পিউটার বানানোর কাজে হাত দেন। ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল ওজনিয়াক ও রোনাল্ড ওয়েনকে নিয়ে তিনি অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করেন।

    পরের বছর বাজারে আসা অ্যাপল টু প্রতিষ্ঠানটিকে বড় সাফল্য এনে দেয়। ১৯৮০ সালে অ্যাপল শেয়ারবাজারে আসে। ১৯৮৪ সালের ২৪ জানুয়ারি বাজারে আসে ম্যাকিনটোশ। মাউস আর ছবিনির্ভর পর্দার কারণে এই কম্পিউটার সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহার সহজ করে তোলে।

    সাফল্যের মধ্যেই আসে ধাক্কা। তখনকার প্রধান নির্বাহী জন স্কালির সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে ১৯৮৫ সালে নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হয় জবসকে। সে বছরই তিনি নেক্সট নামে নতুন কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান গড়েন। ১৯৮৬ সালে লুকাসফিল্মের কম্পিউটার গ্রাফিকস বিভাগ কিনে নেন, যা পরে পিক্সার নামে পরিচিত হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় পিক্সারের ‘টয় স্টোরি’। এটি পুরোপুরি কম্পিউটারে তৈরি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র।

    ১৯৯৭ সালে অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নিলে জবস পুরোনো প্রতিষ্ঠানে ফেরেন এবং সে বছরই অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন। লোকসানে থাকা অ্যাপল এরপর ঘুরে দাঁড়ায় একের পর এক নতুন পণ্যে। ১৯৯৮ সালে আসে আইম্যাক, ২০০১ সালে আইপড, ২০০৩ সালে আইটিউনস স্টোর। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে জবস আইফোনের ঘোষণা দেন, যা ফোন, গান শোনার যন্ত্র ও ইন্টারনেটকে এক যন্ত্রে নিয়ে আসে। ২০১০ সালে আসে আইপ্যাড।

    ২০০৩ সালে জবসের অগ্ন্যাশয়ে বিরল ধরনের টিউমার ধরা পড়ে। ২০০৯ সালে তার যকৃৎ প্রতিস্থাপন করা হয়। অসুস্থতার কারণে ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট তিনি প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়েন। দায়িত্ব নেন টিম কুক। এর ছয় সপ্তাহ পর জবসের মৃত্যু হয়।

    জবস নিজে প্রকৌশলী বা প্রোগ্রামার ছিলেন না। তার দক্ষতা ছিল প্রযুক্তিকে সহজ, সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলায়। সহকর্মীদের প্রতি কঠোর আচরণের জন্য তিনি সমালোচিতও হয়েছেন। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাকে মরণোত্তর দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেয়।

    স্ট্যানফোর্ডের সেই বক্তৃতায় তরুণদের প্রতি জবসের পরামর্শ ছিল, অন্যের মতো করে বাঁচতে গিয়ে নিজের সীমিত সময় নষ্ট না করা। বক্তৃতার শেষ কথাটি পরে তার নামের সঙ্গেই জুড়ে যায়: ‘ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো।’

  • চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

    চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে মোকছেদুল ইসলাম (৫২) নামে এক রিকশাভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের মানিকবাটি গ্রামের ফুলটঙ্গী ঈদগাহ মাঠের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মোকছেদুল ইসলাম উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামের ফকিরপাড়ার মরহুম আব্দুল মান্নানের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোকছেদুল রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে তার চার্জার রিকশাভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং রাতে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন সাতনালা ইউনিয়নের মানিকবাটি গ্রামের ফুলটঙ্গী ঈদগাহ মাঠের পাশে ধানক্ষেতে গলায় গামছা প্যাঁচানো একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহমুদুন-নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘লাশের ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা মোকছেদুলকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে হত্যা করে তার চার্জার রিকশাভ্যানটি নিয়ে গেছে।’ এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক্টর সংঘর্ষে প্রভাষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক্টর সংঘর্ষে প্রভাষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ট্রাক্টরের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: শাহজাহান আলী (৪০) নামে এক কলেজ প্রভাষক নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার হাটকালুগঞ্জ মেইন রোডসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহজাহান আলী দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় হোগলডাঙ্গা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে শাহজাহান আলী মোটরসাইকেলযোগে নিজ কর্মস্থল ও ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলেন। পথে হাটকালুগঞ্জ মেইন রোড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাটিবোঝাই ট্রাক্টরের সাথে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা শাহজাহান আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাক্টরটি জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, নিহত মোটরসাইকেল আরোহী শাহজাহান আলী একাই পড়ে গেছেন না ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে নিশ্চিত না। তবে তার আত্মীয়-স্বজন এলে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • ৫০০ স্কুল বন্ধ ফ্রান্সে

    ৫০০ স্কুল বন্ধ ফ্রান্সে

    শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে একদিনের জন্য ৪০০-৫০০টি স্কুল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করছে ফ্রান্স। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) এসব স্কুলে পাঠদান ‘পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত’ থাকবে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

    গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। শিক্ষার মান ও স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মনপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

    শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ এবং বেশ কিছু স্কুল ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

    ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে তিনি ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে পাঠদান স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন।

    জেফ্রে অভিযোগ করেন, ‘উগ্র বামপন্থি কিছু কর্মী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চরম সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে।’

  • জ্ঞানেশকে সরতেই হবে-ককরোচ প্রধান

    জ্ঞানেশকে সরতেই হবে-ককরোচ প্রধান

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে থাকাকালে নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

    এমনকি নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মহারাষ্ট্রের পুণেতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন দীপকে। মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেখানে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছে।

    দীপকের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অর্থহীন। তার অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে ভোটের ফলাফল নিয়ে আগে থেকেই একটি ধারণা তৈরি হয়ে যায়।

    তিনি বলেন, তার মতে যতক্ষণ না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। কারণ বিজয়ী কে হবেন, তা আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

    দীপকে আরও অভিযোগ করেন, ভারতের এমন কিছু রাজ্যে বিজেপি জয়ী হচ্ছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ সময়েও দলটি জয় পায়নি। এই বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

    ‌মহারাষ্ট্রের পুণেতে বর্তমানে মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এতে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

    এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের নেতা রোহিত পাওয়ারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

    দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের সব পরীক্ষার্থী এবং তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের প্রতি তিনি সমর্থন জানাচ্ছেন। তার দাবি, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীরা মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের একাংশ আগে থেকেই নানা অভিযোগ তুলে আসছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। এরই মধ্যে দীপকের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

    তবে নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে দীপকের এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি।

  • ইমরানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

    ইমরানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

    ইসলামাবাদে জুডিসিয়াল কমপ্লেক্সে হামলার মামলায় কারাগারে থাকা পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে এই আদেশ দেন বিচারক তাহির আব্বাস সিপ্রা।

    ২০২৩ সালে একটি মামলায় জামিন নিতে ইমরান খান যখন আদালতের জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে তার সমর্থকরা বেশ হাঙ্গামা করেছিল। তারা নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুর চালায়।

    ওই ঘটনার পরই পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিল। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন পিটিআইয়ের এই শীর্ষ নেতা।

    সোমবারের শুনানিতে বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী শুনানিতে ইমরান খানকে হয় সরাসরি আদালতে আনতে হবে, না হয় ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত করতে হবে। এছাড়া এই মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় ফারুক হাবিব, হাম্মাদ আজহার, মুরাদ সাঈদ এবং শিবলি ফারাজকে পলাতক ঘোষণা করে তাদের সম্পত্তির বিবরণ চেয়েছে আদালত। একইসঙ্গে পাঞ্জাব বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ওয়াসিক কাইয়ুম আব্বাসী এবং নেতা হাসান নিয়াজির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

  • ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগন ফল ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। দেশে এর চাষ ও বাজারচাহিদা বাড়ছে। ছাদ কৃষি থেকে মাঠপর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষের সুযোগও রয়েছে। সঠিক জাত নির্বাচন, চারা তৈরি, রোপণ, খুঁটি স্থাপন, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগ-পোকা দমন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে এ চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে নিয়মিত আয়োজন ‘রানার কৃষি’তে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    ড্রাগন ফল এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ। পুষ্টিগুণ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে ফলটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বিদেশ থেকে ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    উপযুক্ত জলবায়ু ও মাটি
    ড্রাগন ফল উষ্ণ জলবায়ুর ফসল। সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও তুষারপাত গাছের জন্য ক্ষতিকর। বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটিতে ড্রাগন ফল ভালো জন্মে। মাটির পিএইচ ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ হলে তা চাষের জন্য উপযোগী।
    আমাদের দেশে বর্তমানে বাউ ড্রাগন ফল-১ ও বাউ ড্রাগন ফল-২ জাত চাষ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক বাগান স্থাপনের ক্ষেত্রে এলাকার আবহাওয়া, মাটির ধরন ও বাজারচাহিদা বিবেচনা করে উপযুক্ত জাত নির্বাচন করা প্রয়োজন।

    চারা তৈরি ও রোপণ
    সাধারণত কাণ্ডের ডাল বা কাটিংয়ের মাধ্যমে ড্রাগন ফলের চারা তৈরি করা হয়। সুস্থ ও রোগমুক্ত গাছ থেকে ৮–১০ ইঞ্চি লম্বা কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। কাটিং সংগ্রহের পর প্রায় সাতদিন ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে কাটিংয়ের কাটা অংশ শুকিয়ে যায় এবং রোপণের পর পচনের ঝুঁকি কমে।
    মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করা যায়। জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর প্রায় ২ ফুট চওড়া ও ২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করতে হবে।
    চারা রোপণের আগে প্রতিটি গর্তে ১০–১৫ কেজি গোবর সার, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগ করা যেতে পারে। জমিতে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকলে গর্তের নিচে বালু ব্যবহার করা যেতে পারে।

    খুঁটি স্থাপন ও চারা লাগানো
    ড্রাগন ফল গাছ লতানো প্রকৃতির হওয়ায় গাছকে ভর দেওয়ার জন্য শক্ত খুঁটি প্রয়োজন। এজন্য ৪ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি বেড়ের ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা আরসিসি খুঁটি ব্যবহার করা যায়। খুঁটির প্রায় দেড় ফুট মাটির নিচে রেখে ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে।
    খুঁটির মাথায় টায়ার অথবা ১ থেকে ১ দশমিক ৫ ফুট ব্যাসের বৃত্তাকার রডের কাঠামো তৈরি করতে হয়। প্রতিটি খুঁটির চারপাশে চারটি করে কাটিং রোপণ করা যায়। তবে কাটিংয়ের গোড়া ৩ থেকে ৪ ইঞ্চির বেশি মাটির নিচে দেওয়া যাবে না। রোপণের পর চারাগুলোকে আলতোভাবে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে।
    সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে রোপণের প্রায় ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে পারে। তবে ফলন ও উৎপাদনকাল জাত, পরিবেশ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে।

    রোগবালাই ও পোকামাকড়
    ড্রাগন ফলের বাগানে অ্যানথ্রাকনোজ, গোড়াপচা, কাণ্ডপচা ও কাণ্ডের ক্যানকার জাতীয় রোগ দেখা দিতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আক্রান্ত অংশ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে প্রয়োগ করতে হবে।
    বাগানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে গোড়া ও কাণ্ড পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং গাছের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
    ড্রাগন ফলে থ্রিপস, মিলিবাগ ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত গাছ ও ফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পোকার আক্রমণ হলে নিমতেল ব্যবহার করা যেতে পারে। আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

    পরিচর্যায় গুরুত্ব
    ড্রাগন ফলের ভালো ফলনের জন্য শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না; নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও পানি নিষ্কাশন, রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণ এবং গাছের বাড়তি শাখা-প্রশাখা ব্যবস্থাপনা করতে হবে। গাছ যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। ড্রাগন ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই বাড়ির ছাদ, বসতভিটা কিংবা উপযুক্ত কৃষিজমিতে পরিকল্পিতভাবে ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষকের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

  • নতুন কৌশলে ইরান

    নতুন কৌশলে ইরান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশের বিশেষ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে প্রশাসন । রোববার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে ‘শত্রুর’ পরিকল্পনা ছিল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ও জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য সংযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেশটির জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

    প্রেসিডেন্ট অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করলেও উল্লেখ করেন যে, জনগণের সমর্থন এবং কর্মকর্তাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে অর্থনৈতিক যুদ্ধে শত্রুপক্ষকে তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে।

  • চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

    চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে মিজানুর রহমান (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার লালন শাহ মাজার এলাকার বাটিকামারি গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাতে উপজেলার বাঘারদাড়ি গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল তিনজন চোর। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইদ্রিস আলী ও তার ছেলে শফিকুল ইসলাম ডাক-চিৎকার করলে গ্রামবাসী চোরদের ধাওয়া করে। জনগণের ধাওয়া খেয়ে দু’জন পালাতে সক্ষম হলেও মিজানুর রহমানকে ধরে ফেলে গ্রামবাসী।

    এ সময় গ্রামবাসীর এলোপাতাড়ি মারপিটে গুরুতর আহত হন মিজানুর রহমান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মিজানুর রহমানকে হেফাজতে নেয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে চৌগাছা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এ,আর

  • সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ইরানি নারীরা

    সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ইরানি নারীরা

    ওপরের ছবির মতো ইরানের সাধারণ নাগরিকদের জন্য আয়োজিত সামরিক প্রশিক্ষণে ইরানি নারীদের অংশগ্রহণের এমন আরো কিছু ছবি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত করা।

    ছবিগুলোতে দেখা যায়, তেহরানের কেন্দ্রস্থলের ইমাম হোসেন স্কোয়ারে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ইরানি নারী স্বেচ্ছাসেবকেরা। একটি ছবিতে এক নারীকে বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে, আরেকটিতে আরেকজনকে দড়িতে ঝুলে পার হতে দেখা যায়।

    তেহরানের ‘জানফাদা’ সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নারী স্বেচ্ছাসেবীরা কাঁটাতারের নিচ দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

    ‘ডিভোটেড টু ইরান’ ক্যাম্পেইনের আওতায় সাধারণ নারী স্বেচ্ছাসেবীদের আত্মরক্ষা ও প্রাথমিক সামরিক অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

  • রোহিঙ্গাদের জমিতে আরাকান আর্মি সামরিক ঘাঁটি গড়ছে

    রোহিঙ্গাদের জমিতে আরাকান আর্মি সামরিক ঘাঁটি গড়ছে

    ২০২৪ সালে মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় আরাকান আর্মি (এএ)। এরপর রোহিঙ্গাদের গ্রাম ধ্বংস করে তাদের জমিতে বন্দিশিবির, সামরিক ব্যারাক ও বসতি নির্মাণ করছে তারা। স্যাটেলাইট চিত্র, জাতিসংঘের গবেষণা এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    অনুসন্ধানে বুথিডং টাউনশিপের হ্নগেট থে এলাকায় একটি ধানখেতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রোহিঙ্গা গ্রামবাসীরা চাষাবাদ করতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে সেখানে ১২০টি ধূসর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন নিয়ে গড়ে উঠেছে আরাকান আর্মি পরিচালিত একটি বন্দিশিবির।

    আশপাশের এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা পরিবারগুলো সেখানে রাখা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া তারা শিবিরে প্রবেশ বা বের হতে পারেন না। আরাকান আর্মি উত্তর রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এ ধরনের অন্তত ১০টি শিবির নির্মাণ করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

    বাংলাদেশে বর্তমানে বসবাসরত ১৮ বছর বয়সি মুহাম্মদ আরেস বলেন, ‘আরাকান আর্মি প্রথম আমাদের এলাকায় আসার পর তীব্র লড়াই শুরু হয়। এসব সংঘর্ষে অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত হন। শেষ পর্যন্ত তারা আমাদের পুরো গ্রাম পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়… তারা সব বাস্তুচ্যুত মানুষকে একত্র করে জোর করে শিবিরে নিয়ে যায়।’

    তিনি বলেন, ‘তারা মূলত আমাদের মাতৃভূমিকে জোরপূর্বক শ্রমের শিবির ও সামরিক চৌকির একটি নেটওয়ার্কে পরিণত করেছে।’

    ‘আমাদের জমিতে তারা বাড়ি বানিয়েছে’

    শিবিরটি থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে মায়ু নদীর তীরে ‘ইয়োয়েট নিয়ো তাউং’ গ্রামের সারি । ২০২৪ সালের এপ্রিলে এলাকাটি পুড়িয়ে দেওয়ার পর রোহিঙ্গা কৃষক ও নৌকার মাঝিরা তাদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও ফলের বাগান হারান।

    ২৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘তারা বড় বড় গাছ ও ফলের বাগান কেটে পুরো এলাকা পরিষ্কার করে ফেলে। গ্রামের আগের কোনো চিহ্নই তারা রাখেনি। আমাদের জমির ওপর তারা বাড়ি বানিয়েছে।’

    বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানান, তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে সেই নির্মাণসামগ্রী দিয়ে বিদ্রোহীদের জন্য নতুন স্থাপনা তৈরি করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এসব স্থাপনার মধ্যে ইয়োয়েট নিয়ো তাউংয়ে ‘এপি ব্যাটালিয়ন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক ব্যারাকও রয়েছে। তরুণ রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, সেখানে তাদের জোরপূর্বক নিয়োগ করা হয়েছিল।

    সাদিক বলেন, ‘তারা আমাদের রাস্তা পরিষ্কার করতে, পরিখা খুঁড়তে এবং তাদের শিবিরের ভেতরে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করত। কেউ ক্লান্তিতে পড়ে গেলে তাকে রোদে ফেলে রাখা হতো।’

    জাতিসংঘের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের অন্তত ৮০০ হেক্টর জমি দখল করে সেখানে শিবির, অন্য জনগোষ্ঠীর বসতি অথবা সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। একই সময়ে রোহিঙ্গাদের জমি দখল বা তাদের বাস্তুচ্যুত করার অন্তত ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।

    ২০২৪ সাল থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর মিয়ানমারে থেকে যাওয়া আনুমানিক ৬ লাখ রোহিঙ্গার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই সময়ে দেশ ছেড়েছে। বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

    ‘উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্বের সমাপ্তি’

    মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্বের এটাই শেষ—এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। রোহিঙ্গারা যত দিন সহ্য করতে পারে, তত দিন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে কারাগারের মতো শিবিরগুলোতে থাকতে পারে। কিন্তু তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।’

    দ্য গার্ডিয়ানের সংগ্রহ করা সাক্ষ্য এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, জোরপূর্বক শ্রম, সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং ‘কর’ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অতীতে যে কৌশলগুলো ব্যবহার করেছে, আরাকান আর্মিও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছে।

    ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, তাকে জোর করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং এক মাস আটক রেখে বারবার মারধর করা হয়। আরেক ব্যক্তি জানান, তার ২২ বছর বয়সী মেয়েকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়, সেখানে তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয় এবং সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হয়।

    হ্নগেট থে শিবিরে আটক অনেকেই ২০২৪ সালের ২ মে হোইয়ার সিরি এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে, ওই ঘটনায় ১৭০ জনের বেশি গ্রামবাসী নিহত বা নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ছিল শিশু।

    আরাকান আর্মি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, তারা কেবল সামরিক সদস্য এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

    মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজমের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান বলেন, যারা রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল ‘বাস্তব পরিস্থিতি এমনভাবে বদলে ফেলা যাতে তা অপরিবর্তনীয় হয়ে পড়ে’।

    তবে রোহিঙ্গাদের জমি ধ্বংসের জন্য আরাকান আর্মিই দায়ী—এমন তথ্য তার সংস্থা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, মিয়ানমারে এখনো অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের চলমান সংঘাতের সব পক্ষই লক্ষ্যবস্তু করছে বলে মনে হচ্ছে।

    স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক টম ড্যানেনবম বলেন, জবরদস্তি এবং রোহিঙ্গাদের নিজ এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই সমন্বিত কর্মকাণ্ড জনসংখ্যা স্থানান্তর বা ‘পপুলেশন ট্রান্সফার’-এর যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    মিয়ানমারের নির্বাসিত ‘জাতীয় ঐক্য সরকারের’ সম্প্রতি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া একমাত্র রোহিঙ্গা সদস্য অং কিয়াও মো বলেন, ‘এখন মূল প্রশ্ন আর এটা নয় যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা টিকে থাকতে পারবে কি না। প্রশ্ন হলো—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে কি না, যা তাদের স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত করা এবং তাদের ভৌত, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার প্রক্রিয়াকে অপরিবর্তনীয় করে তুলবে।’

    রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জানুয়ারিতে শুনানি শুরু করেছে। আদালত এর আগে বলেছে, ‘বাড়িঘর থেকে পরিকল্পিতভাবে বিতাড়ন এবং বাড়িঘর ধ্বংস’ গণহত্যার একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে আদালতের রায় চলতি মাসে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি: আটক ১২

    ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি: আটক ১২

    ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে আবাসিক এলাকায় রাতের আঁধারে হানা দিয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিড়াল চুরি করে জবাইয়ের জন্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার পুলিশ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

    কথিত বিড়াল চোর চক্রটির বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ লোম ছাড়ানোর যন্ত্র, বিড়াল ধরার ফাঁদ, ওজন মাপার মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে। হ্যানয় থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত নিষিদ্ধ নয়। দেশটির বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যেই এসব মাংসের প্রচার ও বিক্রি করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের পশুগুলোর উৎসের সনদ রাখার নিয়ম রয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি করা বিড়ালগুলো রেস্তোরাঁয় প্রতি কেজি অন্তত ৭০ হাজার ডং বা প্রায় ২ দশমিক ৭০ ডলারে বিক্রি করা হতো।

    পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ১২ জন বিড়াল চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন জাতের প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিড়াল চুরি করে পাচার করা হয়েছে।

    রোববার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতেও হো চি মিন সিটিতে বিড়াল চুরির অভিযোগে পৃথক দুটি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

  • নতুন দায়িত্বে আসিফ, সারজিস ও মিতু

    নতুন দায়িত্বে আসিফ, সারজিস ও মিতু

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় ৫ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়েছে। আগামী এক বছরের ঘোষিত এ কমিটিতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন ‘জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্স’র কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি হয়েছেন মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুস্তাইন বিল্লাহ হাবিবী।

    এনসিপির পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাকে রেখে জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম এমপি এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • ১০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান

    ১০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান

    ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালানো মিত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে বাব আল-মান্দেবের কাছে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। খবর আলজাজিরার।

    জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ইয়েমেনে এখন পর্যন্ত ৩০০টির বেশি ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘স্থলভাগে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে আমরা দিনরাত বিমান সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। চলমান লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    আল-মালিকি জানান, সোমবার সকালে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এ ১০০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে স্থল বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি আকাশপথে হামলাও জোরদার করা হয়েছে।

  • ট্যাটু থাকলে কি নামাজ ও অজু শুদ্ধ হবে, ইসলাম কি বলে

    ট্যাটু থাকলে কি নামাজ ও অজু শুদ্ধ হবে, ইসলাম কি বলে

    শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা নিয়ে ইসলামে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হাদিসে উল্কি অঙ্কন ও গ্রহণের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। তবে কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে তার অজু ও নামাজ হবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। ট্যাটু থাকলে অজু-গোসল ও নামাজের বিধান কী, এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের ব্যাখ্যা জানা জরুরি।

    ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা জায়েয নয়। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) উল্কি অঙ্কন করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪০৮)

    আরেক হাদিসে আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) উল্কি অঙ্কনকারিনী, উল্কি গ্রহণকারিনী, সুদগ্রহীতা ও সুদদাতার ওপর অভিসম্পাত করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৪৭)

    হাদিসের আলোকে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা হারাম ও কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে অজু-গোসলের ক্ষেত্রে বিষয়টি নির্ভর করে ট্যাটুর ধরন ও পানি শরীরে পৌঁছানোর ওপর।

    সাধারণত ট্যাটু ত্বকের ভেতরে রং প্রবেশ করিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে ট্যাটুর কারণে যদি শরীরের ওপর এমন কোনো আবরণ সৃষ্টি না হয়, যা ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু ও গোসল শুদ্ধ হবে। অর্থাৎ শুধু ত্বকের ভেতরে ট্যাটুর রং থাকার কারণে অজু-গোসল নষ্ট হবে না। তবে ট্যাটুর ওপর যদি এমন কোনো আবরণ থাকে, যা পানিকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে সেই আবরণ অপসারণ করে অজু বা গোসল করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে ট্যাটু করানো হারাম হওয়ার বিষয়টি আলাদা এবং অজু-গোসল শুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আলাদা। কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে তা অপসারণের ক্ষেত্রে নিজের শরীরের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে আলেমদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করাও জরুরি।

    চিত্র অঙ্কন ও শরীরে আকৃতি পরিবর্তনের বিষয়ে হাদিসেও সতর্ক করা হয়েছে। হজরত সাঈদ বিন আবুল হাসান বলেন, এক ব্যক্তি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমি চিত্রকর এবং চিত্র অঙ্কন করি। এ সম্পর্কে আমাকে শরিয়তের বিধান বলে দিন।’ ইবনে আব্বাস (রা.) তাকে কাছে ডাকেন এবং বলেন, ‘আমি তোমাকে এ সম্পর্কে এমন একটি হাদিস শোনাচ্ছি, যা আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে শুনেছি।’

    তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘সকল চিত্রকরই জাহান্নামে যাবে। আর প্রত্যেক চিত্রের পরিবর্তে জীবিত এক ব্যক্তিকে বানানো হবে, যা জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেবে।’ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যদি তোমাকে এমন করতেই হয়, তাহলে গাছপালা বা এমন বস্তুর ছবি আঁকো, যা প্রাণী নয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬২)

    পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তায়ালা মানুষের সৃষ্টিগত সৌন্দর্য ও কাঠামোর কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে।’ (সুরা তিন, আয়াত: ৪)।

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তারা আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি করবেই।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১১৯)।

    এ প্রসঙ্গে সুরা নিসার ১১৭ থেকে ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। শয়তান বলল, আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে অবলম্বন করব। তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদের আশ্বাস দেব; তাদের পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদের আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।’

    অতএব, ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে শুধু ট্যাটু থাকার কারণে অজু ও গোসল বাতিল হবে—এমন নয়। মূল বিষয় হলো, ত্বকের ওপর এমন কোনো আবরণ আছে কি না, যা শরীরে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়। পানি ত্বকে পৌঁছালে অজু-গোসল শুদ্ধ হবে এবং সে অনুযায়ী নামাজও আদায় করতে হবে।

  • মহেশপুর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের  মূল্য বৃদ্ধি ও তীব্র সার সংকটের প্রতিবাদে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ

    মহেশপুর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও তীব্র সার সংকটের প্রতিবাদে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ)

    তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, তীব্র সারসংকট, সারের ডিলার ও ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার নিয়োগ এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগের প্রতিবাদে ঝিনাইদহের মহেশপুরে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় মহেশপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল হাই।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার আমির ফারুক আহম্মদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা আব্দুল হাই সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    বক্তারা তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, সারসংকট এবং বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ,আর

  • শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রমে বাধা নেই

    শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রমে বাধা নেই

    বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের কার্যক্রম পরিচালনায় সম্প্রতি গঠিত নতুন অ্যাডহক কমিটির ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। এর ফলে এই অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে শুটিং ফেডারেশনে নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকার একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তবে সাবেক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দারসহ সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন।
    এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক পূর্বের কমিটি বাতিল করে গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত এই কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন: সভাপতি পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান (চিফ অব জেনারেল স্টাফ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)। সাধারণ সম্পাদক পদে সাকিব শামীম (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ ও সদস্য, রাজধানী রাইফেল ক্লাব)।
    অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গত ১৮ জুলাই গঠিত নতুন এই কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে ২০২৫ সালে গঠিত অ্যাডহক কমিটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নবগঠিত ২৯ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
    হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ, যুব ও ক্রীড়া পরিষদ এবং বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালতে ‘সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল’ (নম্বর: ৩৬৮৮/২০২৬) দায়ের করা হয়। চেম্বার আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষের শুনানি গ্রহণ শেষে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশটি স্থগিত ঘোষণা করেন।
    তিনি আরও বলেন, আদালতের এই আদেশের ফলে ১৮ জুলাই গঠিত কমিটিটি পুরোপুরি কার্যকর থাকল এবং তারা তাদের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। একই সাথে জানানো হয়েছে, নবগঠিত এই অ্যাডহক কমিটিকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

  • ৭৭ হাজার শূন্য পদ তবুও তিন বছর ধরে বিজ্ঞপ্তি নেই এনটিআরসিএর- ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

    ৭৭ হাজার শূন্য পদ তবুও তিন বছর ধরে বিজ্ঞপ্তি নেই এনটিআরসিএর- ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

    শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব নিরসনে চলতি মাসের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের (এনটিআরসিএ) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    আজ রোববার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানান সাদিক কায়েম। নিচে তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

    তিন বছর ধরে দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগ পরীক্ষা NTRCA শিক্ষক নিবন্ধনের কোনো সার্কুলার নেই।

    এ বছরের এপ্রিল মাসে NTRCA নিজেই ৭৭,৭৯৯টি শূন্য পদের তালিকা করেছে। অথচ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও নিবন্ধনের কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে বারবার আটকে যাচ্ছে বিজ্ঞপ্তি। এসব নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে একেকবার একেক কথা বলা হচ্ছে, বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে সিদ্ধান্ত।

    সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আইএমএফ-এর ‘ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (F&D) সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩৬ জনই বেকার। অথচ এতগুলো পদ খালি থাকার পরও নানারকম টালবাহানায় আটকে রয়েছে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি। দলকানা সরকার এই নিয়োগে নানারকম এক্সপেরিমেন্ট করে সময়ক্ষেপণ করছে এখন। কিন্তু প্রার্থীদের বয়স তো থেমে নেই। আপনাদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও খামখেয়ালি আচরণের খেসারত কেন দেবে তরুণরা?

    আর কোনো টালবাহানা নয়। অক্টোবরেই NTRCA-র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চাই।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ নিচ্ছে কানাডা

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ নিচ্ছে কানাডা

    একসময় যা ছিল কল্পনাতীত, এখন সেই সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে কানাডাকে। আর সেটি হলো, দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণ। গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসনের মতো অকল্পনীয় পরিস্থিতির জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


    তিনি স্পষ্ট করেছেন, এমন হামলার ঝুঁকি খুবই কম এবং সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ। কিন্তু ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক যখন নতুন করে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে, তখন সব সম্ভাবনা বিবেচনায় নেয়াই কার্নির দায়িত্


    ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বারবার দেয়া হুমকির কারণেই সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনা করছে কানাডা।

    ২০২৫ সালে ট্রাম্প অবশ্য বলেছিলেন, কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে -এমন সম্ভাবনা ‘অত্যন্ত কম’। তার বদলে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।


    বিবিসির সঙ্গে কথা বলা সামরিক বিশেষজ্ঞদেরও মত, কানাডায় মার্কিন আগ্রাসনের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা। তারপরও বিষয়টি কানাডীয়দের উদ্বিগ্ন করছে।


    গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর লেজারের এক জরিপে দেখা যায়, ৩০ শতাংশের বেশি কানাডীয় মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।
    রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ারফোর্সের ৩৪ বছরের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটস বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের কথা ভাবাই কঠিন।
    বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘পুরো কর্মজীবন সামরিক অভিযানে ছিলাম। কিন্তু কখনোই ভাবিনি, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে কানাডার বিরুদ্ধে হামলা আসতে পারে।’


    ন্যাটো মিশনে দায়িত্ব পালন করা কোটস বলেন, সামরিক প্রতিরক্ষার বহু ক্ষেত্রে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। দুই দেশই ন্যাটোর সদস্য। কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    এ ছাড়া দুই দেশ আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ প্রতিরক্ষা অভিযান চালায় এবং নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করে।
    তাই কোটসের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় হামলা চালালেও তা সরাসরি সামরিক আক্রমণ দিয়ে শুরু নাও হতে পারে। সাইবার হামলার মতো গোপন ও পরোক্ষ পদ্ধতিই আগে ব্যবহার করা হতে পারে।
    যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক সবসময় ভালো ছিল না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়। অর্থনীতি, সামরিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতেও তারা গভীরভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ইতিহাস বলছে, সম্পর্ক সবসময় এমন ছিল না।


    কানাডিয়ান ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক টিম ফোরানের মতে, ১৮ ও ১৯ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কানাডার জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
    ১৮১২ সালের যুদ্ধেও আমেরিকান বাহিনী তৎকালীন আপার কানাডা, লোয়ার কানাডা ও সামুদ্রিক উপনিবেশগুলোতে একাধিকবার হামলা চালায়।

    এছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান শক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল কানাডা। সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে তারা একটি পরিকল্পনাও তৈরি করেছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে কী হতে পারে?
    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা খুবই কম হলেও কানাডার প্রস্তুতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাথিউ শ্মিট। তার মতে, কানাডা যে এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটিই বদলে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থার বড় ইঙ্গিত ।

    যদি সত্যিই যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে প্রথম পর্যায় খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে গ্লোব অ্যান্ড মেইলের প্রকাশিত কানাডার সামরিক মডেল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এক সপ্তাহের মধ্যেই কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো বিপর্যস্ত হতে পারে। সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা কানাডীয় বাহিনী তখন গেরিলা কৌশলে যেতে পারে।


    গত জানুয়ারিতে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, কানাডার সহায়তায় ফ্রান্স ও বৃটেনের মতো মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তা চাওয়া হতে পারে।
    ধারণা করা হচ্ছে, এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি সামনে রেখে সামরিক পরিকল্পনা করেছে।

  • সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    মরুভূমির প্রাণী দুম্বা বাংলাদেশের মাটিতে পালন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে যুবক রবিউল ইসলাম। দুটি দুম্বা দিয়ে শুরুর সফলতায় সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ ৬৫ দুম্বা। এ সব দুম্বার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

    নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান রবিউল ইসলাম। এসএসসি পাশের পর কাজের সন্ধানে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন দেশের বাইরে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় ভাটা পড়ে সে

    সিদ্ধান্তের। এরপর ভাবতে শুরু করেন এলাকায় ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। এমন ভাবনা থেকে শুরু করেন দুম্বা পালন।

    দুম্বা পালন শিখেছেন ফেসবুক-ইউটিউব দেখে। ফেসবুক ও ইউটিউবে দুম্বা পালনের বিভিন্ন ভিডিও দেখে এ প্রাণীর পালনে

    আগ্রহ তৈরি হয় রবিউলের। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুম্বা সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পরীক্ষামূলভাবে দুটি দুম্বার পালনের সফলতায় আরও সংগ্রহ করেন ছয়টি। মোট আটটি দুম্বা সংগ্রহে তার খরচ হয় ১২ লাখ টাকা।

    রবিউল জানান, ছয়মাসের মধ্যেই এ সব দুম্বা বাচ্চা দিতে শুরু করে। এরপর প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দুম্বার সংখ্যা। সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ করছে ৬৫ দুম্বা। সবুজ ঘাস আর খৈল ভুসি এ সব দুম্বার প্রধানখাবার। ওই ৬৫ দুম্বা পরিচর্যায় তার খামারে কাজ করছেন পাঁচজন কর্মচারী।

    রবিউলের ভাষ্য, একটি দুম্বার ওজন ৫০-১০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বয়স, ওজন ও আকৃতি অনুযায়ী প্রতিটি দুম্বা দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

    রবিউল বলেন, ‘দুম্বার পছন্দের খাবার কাঁচা ঘাস। ঘাস, খৈল-ভুসিসহ প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারের পেছনে খরচ ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। রোগবালাই খুব কম হয়। সময়মতো খাবার এবং রোগ প্রতিরোধের টিকা দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে।’

    প্রতিটি দুম্বা বছরে দুইবার করে বাচ্চা দেয়। প্রতিবার একটি থেকে দুটি পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যায়। তিনমাস বয়সে একটি বাচ্চার ওজন ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। এ বয়সের একটি বাচ্চার বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। দুম্বার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচজনের।

    এক সময় নিজের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন রবিউল ইসলাম। দুম্বার খামার বদলে দিয়েছে তার জীবন। এখন নিজে পার করছেন কর্মব্যস্ত জীবন। তেমনি তার ওই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার পাঁচ শ্রমিকের।

    খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, ‘রবিউল ভাইয়ের দুম্বার খামারের কারণে আমার মতো পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের আহার জুটছে। এর পরিধি বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

    তিনি জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ খামার দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাই দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এলাকায় ব্যাপকতা বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    রবিউল জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুম্বা ক্রেতারা ফোন করছেন। অনলাইনে অনেকে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। আবার অনেকে এর পালন পদ্ধতি শিখতে চাচ্ছেন। তবে কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    তিনি বলেন, ‘কোরবানির জন্য গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে ফোন কল আসছে। বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। তাই বিক্রি নিয়েও কোনো চিন্তা নেই।’

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু কায়েস বিন আজিজ বলেন, ‘দুম্বা পালনে রবিউলের সাফল্য অনেক। তাকে অনুরণ করে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন দুম্বা পালনে। সৈয়দপুরের কাঠারিপাড়ার সবুজ মাঠে এখন তাই মরুর প্রাণী দুম্বার বিচরণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন সেই দৃশ্য দেখতে। কেউ কৌতূহলি হয়ে, কেউ ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজতে, আবার কেউ কোরবানির পশু হিসেবে দুম্বা কিনতে।’

    রবিউলের খামারের গল্প তাই শুধু দুটি দুম্বা থেকে ৬৫টি দুম্বায় পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি নতুন ধরনের পশুপালনে একজন তরুণের আগ্রহ, পরিশ্রম ও উদ্যোগেরও গল্প।

  • হানিট্র্যাপে আটক ভারতীয় নৌ-সেনা

    হানিট্র্যাপে আটক ভারতীয় নৌ-সেনা

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের ফাঁদে (হানিট্র্যাপ) পা দিয়ে পাকিস্তানের এক নারী এজেন্টের কাছে দেশের গোপন তথ্য পাচার করার অভিযোগে ভারতীয় নৌবাহিনীর এক নাবিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) কোয়েম্বাটুরের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রদীপ মুখার্জি নামের ওই ৩১ বছর বয়সি নাবিককে গ্রেফতার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ।

    পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রদীপ ২০১৪ সালে নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশাখাপত্তনমের ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। একটি ট্রেনিং কোর্সের জন্য তিনি কোয়েম্বাটুরে অবস্থান করছিলেন।

    তদন্তে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দা প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়। এই অনলাইন সম্পর্কের জালে জড়িয়ে তিনি বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির যুদ্ধজাহাজের চলাচল ও নানা কৌশলগত গোপন তথ্য ওই এজেন্টের কাছে পাচার করেন। দীর্ঘদিন সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করার পর পুলিশ তাকে নজরদারিতে রেখে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

  • ২ কোটি প্রবীণ মার্কিনিকে এককালীন ৯০ ডলার করে দেবেন ট্রাম্প

    ২ কোটি প্রবীণ মার্কিনিকে এককালীন ৯০ ডলার করে দেবেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মাসিক চিকিৎসা বিমার প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতেই এই অর্থ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে এই অর্থ দেওয়া হবে। কংগ্রেস মেডিকেয়ারের ‘ফি-ফর-সার্ভিস’ কর্মসূচির উন্নয়নের জন্য ওই তহবিলে ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি।

    হোয়াইট হাউসও ট্রাম্পের পরিকল্পনার কিছু বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, যোগ্য অধিকাংশ প্রবীণ নাগরিক অক্টোবরের শুরুতেই সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ৯০ ডলার করে পাবেন।

    যাদের সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য চেক পাঠানো হবে। এসব চেকও অক্টোবরের শুরুতে মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ঠিকানায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই ঘোষণা এসেছে। ওই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছে রিপাবলিকান পার্টি। বর্তমানে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা খুবই সীমিত।

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের উচ্চ দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ভোটারদের জন্য বেশ কিছু আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    গত মাসে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে সব প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে ওই প্রস্তাব নিয়ে অর্থনীতিবিদ, বিশ্লেষক এবং রিপাবলিকান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ মার্কিন নাগরিককে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার আরেকটি উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের আওতায় স্বাস্থ্যবিমা কেনা ব্যক্তিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছিল। ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার অংশ হিসেবেই ৫০০ ডলারের অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় বিদ্যালয়ের গেটে বাঁশের বেড়া

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় বিদ্যালয়ের গেটে বাঁশের বেড়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন এক দাতা সদস্য। একই সাথে শিক্ষকদের অফিসে নতুন করে তালা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসব করেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়’ নাম নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে ওই সময়ের দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নামটির প্রস্তাব করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

    বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে কলাগাছ লাগানো হয়েছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষের দরজায় নতুন করে তালা ঝুলছে। স্থানীয়রা জানান, এ কারণে বিদ্যালয়ের নলকূপ ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছেন তারা।

    স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ বলেন, ‘আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি ছিল। মামলা-মোকদ্দমার কারণে শিক্ষার্থী কমেছে। এরপরও নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। হঠাৎ করে আজাদ আলী এসে বিদ্যালয়ের ফটক ঘিরে দেয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা সমস্যায় পড়েছেন।’

    আজাদ আলী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য ছিলেন। তার জমিতে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজ হয়নি এবং ছেলের বউকেও চাকরি দেয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও কলাগাছ লাগিয়েছেন।’

    তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, ‘আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন। পরে জমি রেজিস্ট্রির সময় তার ছেলে ও ছেলের বউকে প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার দাবি ওঠে। কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি নেয়।

    তিনি বলেন, কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে চাকরিরত অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মাধ্যমিক শাখায় অফিস সহকারী পদে নিয়োগের দাবি করেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয় এবং এ বিষয়ে রেজুলেশন রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান। এর মধ্যেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।

    বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ‘কটি প্রতিষ্ঠান একদিনে দাঁড়ায় না। দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলছে।’

    তিনি জানান, গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।

    এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। রোববার পুঠিয়ায় ফিরে বিদ্যালয়টি চালু করার ব্যবস্থা করবেন।

    তিনি বলেন, পেছনে যে ঘটনাই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কেউ বন্ধ করতে পারবেন না। এ,আর

  • সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নানিয়ারচরে সেলাই প্রশিক্ষণ

    সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নানিয়ারচরে সেলাই প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাহাড়ি-বাঙ্গালি তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে সেলাই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানিয়ারচর জোন।

    রোববার (৪ অক্টোবর) নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মশিউর রহমানের দিক নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম।

    এ প্রশিক্ষণের আওতায় পাহাড়ী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মোট ১৬ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। প্রশিক্ষণটি আজ রোববার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    আয়োজকেরা জানায়, প্রশিক্ষণার্থীদের দর্জি প্রশিক্ষণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেলাই ও কাটিং বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ারা জানায়, দর্জি প্রশিক্ষণ একটি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক দক্ষতা। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটিকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ নিজস্ব দর্জি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন বলেও জানায় তারা।

    সকল জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে প্রশিক্ষনার্থীদের অংশ নেয়ার সুযোগ পাওয়ায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহাদ্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ নানিয়ারচর গড়ে তোলা সম্ভব বলেও জানান প্রশিক্ষনার্থীরা।

    এবিষয়ে নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নানিয়ারচর জোন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর পদ ছাড়ছেন টেনেসির কারাপ্রধান

    ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর পদ ছাড়ছেন টেনেসির কারাপ্রধান

    যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারী বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার তিন দিন পর রাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গভর্নর বিল লি শনিবার (৩ অক্টোবর) জানান, স্ট্রাডা চলতি মাসের শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন। তার জায়গায় কে আসছেন, তা জানানো হয়নি।

    গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে ক্রিস্টা পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। বার্তা সংস্থা এপি ও এবিসি নিউজ জানায়, পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    পাইকের আইনজীবীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিনি ন্যাশভিল এলাকার একটি হাসপাতালে সংকটাপন্ন ও অচেতন অবস্থায় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তায় আছেন। আইনজীবীদের দাবি, শিরায় সুচ ঠিকমতো বসানো হয়নি, ফলে ওষুধ রক্তে না গিয়ে আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। আদালতে দেওয়া জরুরি আবেদনে তারা বলেছেন, অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পাইকের দুই হাত ফুলে ও পুড়ে গেছে।

    গভর্নর বিল লি বলেন, স্ট্রাডা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে টেনেসির মানুষের স্বার্থকে আগে রেখেছেন। স্ট্রাডা নিজে বলেছেন, স্বাধীন পর্যালোচনা চলার সময় সরে দাঁড়ানোই রাজ্যবাসীর জন্য ভালো। কী ঘটেছিল তা বের করতে তিনি সব রকম সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।

    ঘটনা খতিয়ে দেখতে সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি এড স্ট্যানটনের নেতৃত্বে স্বাধীন পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। কারা বিভাগ নির্ধারিত নিয়ম মেনেছিল কি না, তা দেখার পাশাপাশি এতে সুপারিশও দেওয়া হবে। এপি জানায়, গভর্নর চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রেখেছেন।

    পাইকের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, স্ট্রাডার পদত্যাগ যৌক্তিক, তবে এতে পাইকের কোনো উপকার হবে না। তাদের মতে, বুধবারের ঘটনা কোনো একজন ব্যক্তির নয়, গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ চেয়ে তারা শুক্রবার আদালতে জরুরি আবেদন করেন।

    ১৯৯৫ সালে এক তরুণীকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে পাইকের মৃত্যুদণ্ড হয়। দণ্ড কার্যকর হলে তিনি হতেন দুই শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম নারী।

    স্ট্রাডা তিন বছর ধরে টেনেসির কারা বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি অ্যারিজোনার কারা বিভাগে শীর্ষ পর্যায়ের পদে ছিলেন।

    সূত্র: এপি, এবিসি নিউজ

  • ‘ঝাক্কাস’ মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪

    ‘ঝাক্কাস’ মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি পানীয় সেবনের পর মোহাম্মদ সাকিব (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরো চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

    রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান। এর আগে, ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামে।

    নিহত সাকিব উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মুসলিম কলোনির মরহুম এফরান মিয়ার ছেল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে খালপাড় এলাকায় এক প্রবাসী বন্ধু বিদেশ থেকে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা মিলনের বাড়িতে কয়েকজন যুবক শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। পার্টিতে তারা মদের সাথে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামে একটি পানীয় তৈরি করে সেবন করেন। পরে রাতের খাবার ও আড্ডা শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।

    পরদিন শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে সাকিবসহ পাঁচজন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাকিব ও মো: টিপুর (২৫) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেলা ১১টার দিকে তাদের নোয়াখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, অসুস্থ হয়ে পড়া সাইফুল ইসলাম পাখিকে (২২) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর যুবক মো: টিপু, মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মোহাম্মদ রাসেলকে (২৩) নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ,আর

  • ভারতে  সিইসির বিরুদ্ধে মিছিল

    ভারতে সিইসির বিরুদ্ধে মিছিল

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো মামলার বন্ধ ফাইলও নতুন করে খোলা হচ্ছে।

    গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে জ্ঞানেশকে অপসারণের যে অভিযান শুরু হয়েছে, আজ রোববারও তা অব্যাহত। গত শুক্রবার শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো’ অভিযান করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন ঠাকরে ভাইয়েরা, শিবসেনার উদ্ধব ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) নেতা রাজ ঠাকরে।

    আজ সেই ‘ঠাকরে ব্রাদার্স’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করেন মুম্বাইয়ে। লক্ষাধিক মানুষের সেই মিছিলে মুম্বাইয়ের জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যায়। থমকে যায় যান চলাচল।

    মিছিলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বিরাট গর্জনা মোর্চা’। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মেট্রো সিনেমা জংশন থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শেষ হয় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সামনে। মুম্বাইয়ের কংগ্রেস নেতা বালাসাহেব থোরাট, বিজয় ওয়ারেত্তিওয়ার, এনসিপি (শরদ) নেতা জয়ন্ত পাটিল, শশীকান্ত শিন্ডেসহ বহু রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মানুষ ওই মিছিলে হাঁটেন।

    তাঁরা বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির বিপর্যয়ের মাত্র পাঁচ মাস পর এই কমিশন মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের আগে ৬০ লাখ ভোটারের নাম তুলে বিজেপিকে ক্ষমতা দখলে সাহায্য করেছিল। তারাই এবার এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে দুই কোটি ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে।

    দেশজুড়ে জ্ঞানেশ হটাও আন্দোলন যেমন ছড়িয়ে পড়ছে, তেমনই আইনের জালেও তাঁকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। কংগ্রেস–শাসিত কেরলম সরকার তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো এক মামলার তদন্ত নতুনভাবে শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে।

    মামলাটি অন্তত কুড়ি বছরের পুরোনো। কেরলমে তখন বামপন্থীরা ক্ষমতায় এসেছে। সেটা ২০০৬ সালের মধ্যভাগ। রাজ্যের একটি দীর্ঘ রাস্তা তৈরির বরাত পেয়েছিল ‘পাতি–বেল’ নামের এক নির্মাণ সংস্থা।

    প্রকল্পটি ছিল ভারত–মালয়েশিয়ার যৌথ উদ্যোগ। মালয়েশিয় সংস্থা ‘পাতি’ এবং কেরলমের ভগীরথ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (বেল) ওই নির্মাণে অংশ নেয়। অভিযোগ, ২৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেই রাস্তার কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটির পাওনা টাকার এক অংশ আটকে রাখা হয়েছিল।

    সে সময় সেই সংস্থার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মালয়েশিয়ার নাগরিক লি সি বিন। তিনি ছিলেন প্রজেক্ট ম্যানেজার। টাকা পাওয়ার চেষ্টায় বিস্তর ঘোরাঘুরির সময় তিনি আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ, সুইসাইড নোটে তিনি কেরলম সরকারের তৎকালীন পূর্তসচিব জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন। তৎকালীন কেরলম সরকার ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল ভিজিল্যান্স বিভাগের হাতে। কিন্তু তদন্ত শুরু হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। সেই পুরোনো মামলার তদন্ত নতুনভাবে শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন কেরলমের কংগ্রেস সরকারের পূর্তমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।

    কেরলম সরকার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, পূর্ত দপ্তরের সচিব থাকাকালে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরকারি ঠিকাদারির কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধমূলক আচরণের অভিযোগ ছিল। কিন্তু তিনি প্রভাবশালী ছিলেন বলে তদন্ত মাঝপথে থেমে যায়। মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যার ঘটনার পর জ্ঞানেশ ডেপুটেশনে চলে যান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি আইনে জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির রক্ষাকবচ রয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা করা যাবে না। ২০২৩ সালে মোদি সরকারের তৈরি এই আইন অবশ্য কার্যকর হবে না ২০০৬ সালের ঘটনার তদন্তের ক্ষেত্রে।

  • রাষ্ট্রপতির সাথে ঢাবি ভিসির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সাথে ঢাবি ভিসির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠই নয়, দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও কেন্দ্রবিন্দু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও বাড়িয়ে একে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ রোববার বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি, যা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এজন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আবশ্যক। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে প্রতিপক্ষ ও বিরোধী দলকেও পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়া প্রয়োজন। আর সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব গতিতে কার্যকরভাবে চলতে দিতে হবে।’

    সাক্ষাৎকালে উপাচার্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জনান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। উপাচার্য আসন্ন ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন।

  • নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নির্মাণাধীন সড়কে কংক্রিট পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকের ধাক্কায়
    মনিজা খাতুন (৮০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
    রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের
    ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম উদ্দিন জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনিজা খাতুন ওই এলাকার মৃত সায়েদুল হকের স্ত্রী।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে মনিজা খাতুন হাবিবপুর বাজার থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় গ্রাম্য সড়কে সংস্কারকাজের জন্য কংক্রিট পরিবহনে নিয়োজিত একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে অবহিত করে।
    কোম্পনীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান

    চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান

    চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কৃষক রমজান আলী। উন্নত জাতের বীজ, মালচিং পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। বর্তমানে মাছের ঘেরের চারপাশে মাচা তৈরি করে চাষ করছেন অমৌসুমি তরমুজ।

    উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গৌরবদী গ্রামের কৃষক ইউনুস আলীর ছেলে রমজান আলী। বিএসএস পাস করেও চাকরির পেছনে সময় না দিয়ে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে কৃষিতে হাতেখড়ি তার। এরপর ধীরে ধীরে গতানুগতিক চাষাবাদ বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন।

    ২০১৪ সালে ঢাকা বিভাগের প্রথম দিকের চাষিদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন রমজান আলী। টমেটো ও চিচিঙ্গা চাষের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফলে যুক্ত হন তিনি। বর্তমান আবহাওয়া ও বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

    রমজান আলী প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির চারপাশে মাচা তৈরি করে ‘কালাচান’ ও ‘তৃপ্তি’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। মাচার নিচে রয়েছে মাছের ঘের। মাচা থেকে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের ছোট-বড় তরমুজ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারে আসার কথা রয়েছে।

    তরমুজের পাশাপাশি পুকুরের পাড়ে করলা, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিও চাষ করছেন তিনি। তার আধুনিক চাষাবাদ ও পরামর্শ নিতে স্থানীয় কৃষকরাও তার জমিতে আসছেন।

    রমজান আলী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার আগ থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। গতানুগতিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছি। ইউটিউব দেখে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনেছি। পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়েছি। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে ফলন বাড়ানোর চেষ্টা করি। আমার উৎপাদিত ফসল যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া কাঁচাবাজার এবং ফলের আড়তে বিক্রি হয়। কৃষিকাজ স্বাধীন পেশা। বর্তমানে আধুনিক কৃষি থেকে মাসে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করি।’

    মালচিং পদ্ধতি সম্পর্কে রমজান আলী বলেন, ‘অল্প বিনিয়োগে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কম সময়ে কৃষক লাভবান হতে পারেন। আমি চাই, এলাকার অন্য কৃষকরাও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হোন।’গৌরবদী গ্রামের কৃষক জহির আলম বলেন, ‘রমজান আলী এ এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর পরামর্শে অনেকেই চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করে লাভবান হয়েছেন। তিনি পোকামাকড় দমনে জৈব পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তাঁর চাষাবাদ দেখে অন্য কৃষকরাও আধুনিক কৃষির দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হলেও একসময় চাষাবাদ করে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পেতেন না। রমজান আলী আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি সবজি ও ফল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন। তাঁকে দেখে এবং তাঁর পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেক কৃষক লাভজনক কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে অনুকূল পরিবেশ ও বাজারদর থাকলে লাখ টাকার বেশি আয় করার সুযোগ রয়েছে। রমজান আলীর তরমুজ চাষ এই এলাকার কৃষকদের জন্য একটি ভালো উদাহরণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাচায় তরমুজ চাষ একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এতে জলাবদ্ধতা বা অনাবাদি জমিও কাজে লাগানো সম্ভব। মাচায় চাষ করায় গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকার ঝুঁকি কমে এবং ফল মাটির সংস্পর্শে না থাকায় রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও কম থাকে।’

    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তরমুজ সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন বর্ষাকালেও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এ সময় বাজারে তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় কৃষক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। রমজান আলীর মতো কৃষকেরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যদেরও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

  • আইপিইউ সম্মেলন; তাঞ্জানিয়া গেলেন স্পিকার ও বিএনপি-জামায়াতের ৯ সংসদ সদস্য

    আইপিইউ সম্মেলন; তাঞ্জানিয়া গেলেন স্পিকার ও বিএনপি-জামায়াতের ৯ সংসদ সদস্য

    ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলনে যোগ দিতে তাঞ্জানিয়া গেলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও বিএনপি-জামায়াতের ৯ সংসদ সদস্য। রোববার দুপুর আড়াইটায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঞ্জানিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা।
    স্পিকারের সফরসঙ্গী হয়েছেন- জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আজিজুল বারী হেলাল, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন, এবং রোকেয়া বেগম ।

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী ৫-৯ই অক্টোবর তাঞ্জানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণ করবেন। ‘অন্তর্ভুক্তি, আস্থা এবং সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন উন্নয়ন এবং সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’ প্রতিপাদ্যে আগামী ৯ই অক্টোবর সম্মেলনের শেষ দিনে আইপিইউ-এর গভর্নিং কাউন্সিল নতুন আইপিইউ সভাপতি নির্বাচন করবে। উল্লেখ্য, আইপিইউ সম্মেলন শেষে আগামী ১১ই অক্টোবর স্পিকার দেশে ফিরে আসবেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের নিখোঁজ মেডিকেল বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

    যুক্তরাষ্ট্রের নিখোঁজ মেডিকেল বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

    বারমুডা থেকে বোস্টনের উদ্দেশে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া একটি মেডিকেল পরিবহন বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে বিমানে থাকা ছয় আরোহীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের জানায় যে, সি-জিআরজেপি টেইল নম্বরযুক্ত একটি গালফস্ট্রিম জি১০০ বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

    পরে কোস্ট গার্ডের অনুসন্ধানকারী দল নিখোঁজ বিমানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধ্বংসাবশেষের এলাকা শনাক্ত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিমানে থাকা ছয়জনের অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বিমানে চারজন কানাডীয় ও দুজন বারমুডার নাগরিক ছিলেন।

    কানাডা-ভিত্তিক ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিচালিত বিমানটি রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে নিখোঁজ হয় বলে কোম্পানির মুখপাত্র ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ এএফপিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানে ছিলেন দুজন পাইলট, দুজন চিকিৎসাকর্মী, একজন রোগী ও রোগীর পরিবারের এক সদস্য।

    কোম্পানিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের বহরে ১০টি বিমান রয়েছে। এসব বিমানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে রোগী বা অন্য ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিবহন সেবা দেওয়া হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানাতে রোববার সকালে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

  • নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    স্বল্প খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দিন দিন বাড়ছে কলার আবাদ। উৎপাদিত নেপালি সাগর জাতের কলার চাহিদা ও খ্যাতিও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সচ্ছলতা ফিরেছে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের কাজীহাটা গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. আসিফ আওয়াল উৎসের।

    গত বছর প্রথমবার চাষ করেই ভালো ফলন পান তিনি। বড় আকারের কাঁদি ও আকর্ষণীয় গড়নের কলা ব্যাপারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে উৎসাহিত হয়ে এবার কলাবাগানের পরিধি আরও বাড়িয়েছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তার অধিকাংশ কলাগাছে ফল ধরেছে। বাগানজুড়ে কলার কাঁদি ঝুলছে। এ সাফল্যে আসিফ আওয়াল উৎসের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিনিয়ত আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ তার কলাবাগান দেখতে আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে কলা চাষের বিষয়ে পরামর্শও নিচ্ছেন। নিয়মিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করে আসছেন তিনি।

    তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও নেপালি সাগর জাতের কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের কলা চাষের উপযোগী হওয়ায় একবার চারা রোপণ করে বছরে তিনবার কলা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। নেপালি সাগর ছাড়াও তিনি সবরি, চাঁপা, চিনি চাম্পা ও জি নাইনসহ বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ করে থাকেন।

    আসিফ আওয়াল উৎস জানান, একবার চারা রোপণ করে তিনবার কলার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম অথচ লাভ বেশি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করছেন।

    তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করেছি। এ জাতের কলা বড়, সুস্বাদু ও রং সুন্দর হওয়ায় দেশের সব জেলাতেই এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রথমবারেই খরচের টাকা বাদ দিয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। ওই জমি থেকে এখনো দুইবার কলা পাওয়া যাবে।’

    স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধান চাষে লাভ খুব কম। কিন্তু কলা চাষে খরচের প্রায় দ্বিগুণ আয় হয়। তাই এখন অনেকেই এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি কলাবাগানে অনেকের জীবিকার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

    কলাবাগান পরিচর্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি আসিফ ভাইয়ের কলাবাগান নিয়মিত পরিচর্যা করি। কলার কাঁদি বা থোড় যখন বড় হতে শুরু করে, তখন বাতাসের কারণে কিংবা ওজনের চাপে গাছ যেন হেলে বা ভেঙে না পড়ে, সেজন্য বাঁশ বা লাঠি দিয়ে শক্ত খুঁটি বা সাপোর্ট দেওয়ার কাজের দিকে আমাকে বেশি নজর রাখতে হয়।’

    স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা স্বজল ইসলাম জানান, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তিনি কখনো কলার আবাদ করেননি। তাই আসিফ আওয়াল উৎসের কাছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে এবং তাঁর ২৫ বিঘা জমির নেপালি সাগর জাতের কলাবাগান দেখতে এসেছেন।

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সদরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারায় কলার চাষ বেড়েছে। কলা চাষে লাভ হওয়ায় চাষিরা এ ফসলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কাজীহাটা ব্লকে আসিফ আওয়াল উৎস ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয় এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে তিনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কলা সরবরাহ করে থাকেন।

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, কলাচাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। আসিফ আওয়াল উৎস এবার ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কলায় কার্বাইড ও বিষাক্ত স্প্রে ব্যবহার না করার জন্যও চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • গাজার শিশুদের জন্য মিসরে স্কুল

    গাজার শিশুদের জন্য মিসরে স্কুল

    মিসরের উত্তর সিনাইয়ের উপকূলীয় শহর এল-আরিশে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তুচ্যুত শিশুদের জন্য একটি স্কুল গড়ে তুলেছেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক হাদিল জুরোব। গাজা থেকে পালিয়ে মিসরে আশ্রয় নেওয়া শত শত শিশুর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন বর্তমানে এই স্কুলে পড়াশোনা করছে।

    গাজা সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরের এল-আরিশে থাকা এসব শিশুকে যুদ্ধের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। শহরটির বেশির ভাগ ভবন নিচু এবং রাস্তাগুলো ধুলোময়। সেখানে বাস্তুচ্যুত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ না থাকায় উদ্যোগটি নেন জুরোব।

    এএফপিকে জুরোব বলেন, মিসরে পালিয়ে আসা এসব শিশুর জন্য কোনো স্কুল বা শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। এ কারণে তাদের জন্য একটি শিক্ষাকেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    ত্রিশের কোঠায় থাকা জুরোবও যুদ্ধের শিকার। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরাইলে হামলার পর ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রায় ছয় মাস পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাজা ছাড়েন তিনি। পরে তারা এল-আরিশে আশ্রয় নেন। শহরটি গাজায় ত্রাণ পাঠানো এবং চিকিৎসার জন্য রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।

    জুরোবের মতো সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারেরই গাজা ও মিসর—দুই পাশেই স্বজন রয়েছে। এল-আরিশে পৌঁছানোর পর আত্মীয়দের সহায়তায় নতুন জীবন শুরু করেন তারা।

    শুরুতে আরও কয়েকজন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া করা একটি ভবনে অল্পসংখ্যক শিশুকে পড়ানো শুরু করেন জুরোব। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগই রূপ নেয় একটি বিনা মূল্যের পূর্ণাঙ্গ স্কুলে। বর্তমানে ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এখানে পড়ছে। প্রথম বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০।

    শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। জুরোব জানান, ভবন ভাড়া ও শিক্ষা উপকরণের খরচ মেটাতে এখন সহায়তা করছে মিসরের অন্যতম বড় দাতব্য প্রতিষ্ঠান মিসর এল খেইর ফাউন্ডেশন।

    উত্তর সিনাইয়ে বর্তমানে এটিই একমাত্র ফিলিস্তিনি স্কুল। অঞ্চলটি মিসরের প্রত্যন্ত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর একটি। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সেখানে ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা অভিযানও চলেছে।

  • পিটিআইয়ের লংমার্চ

    পিটিআইয়ের লংমার্চ

    কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে লংমার্চ শুরু করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীরা । রোববার খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে সোয়াবি পর্যন্ত লং মার্চের প্রথম ধাপ শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদ অভিমুখে কোনো পদযাত্রার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, কোনোভাবেই মিছিলকে ইসলামাবাদের সীমানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

    এরআগে, খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির দেওয়া এক বিবৃতি জানানো হয়, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১ টায় লাক্কি মারওয়াতের গান্ধী চক থেকে লং মার্চের প্রথম ধাপ শুরু হয়। এরপর ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তান, বান্নু ও লাক্কি মারওয়াতের নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেবেন। রাতে কাফেলা কারাক এলাকায় অবস্থান করবে। এরপর কোহাট, পেশোয়ার ও চরসাদ্দার দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

    আগামী ৮ অক্টোবর খাইরাবাদে কেপির বিভিন্ন এলাকা থেকে পিটিআই নেতাকর্মীদের সমবেত করার পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    দলীয় প্রতিষ্ঠাতার কারাবাসের প্রতিবাদে পিটিআই গত আগস্ট মাসে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘লং মার্চ’ ঘোষণা দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের দু-একদিন আগে দলটি এই কর্মসূচি পিছিয়ে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছিল।

    পিটিআইয়ের ‘লং মার্চ’ নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে শনিবার সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

  • রাজধানীর যানজট; বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর যানজট; বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ঢাকার যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করা, সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (৪অক্টোবর) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক সভায় এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সভার তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত তা দূর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ এবং দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি।

    সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

  • এআই নিরাপত্তা প্রধানের পদত্যাগ

    এআই নিরাপত্তা প্রধানের পদত্যাগ

    ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান ডেভিড রবিনসন পদত্যাগ করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। রবিনসনের অভিযোগ, দ্রুতগতিতে নতুন এআই পণ্য উন্মোচনের প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না।

    দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রবিনসন বলেন, শুধু নতুন আইন বা নিরাপত্তা নীতি নয়, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংগঠনিক সংস্কৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। তার মতে, সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যর্থতাগুলো আরো গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

    সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের এজেন্টগুলো মানুষের সরাসরি তদারকি ছাড়াই কাজ করে হাগিং ফেসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম চালানোর ঘটনায়ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ালেও রবিনসনের দাবি, এআই উন্নয়নের বর্তমান গতি ঝুঁকির তুলনায় অত্যন্ত বেশি।

    এদিকে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন গবেষকও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়ে এ ধরনের নির্দিষ্ট পূর্বাভাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সীমিত।

    রবিনসনের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআই এমনভাবে কাজ করতে পারে, যা মানুষের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে। যেমন—হাসপাতালের কম্পিউটার ব্যবস্থা জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা।

  • নিষেধাজ্ঞায়ও থামানো যাবে না যুদ্ধ: আরাগচি

    নিষেধাজ্ঞায়ও থামানো যাবে না যুদ্ধ: আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। খবর আনাদোলুর।

    রোববার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘এর কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ওপর ভিত্তি করেও কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না।

    আরাগচি বলেন, কেবল আলোচনা, ন্যায়বিচার এবং কূটনৈতিক মর্যাদাবোধের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া পদক্ষেপই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে। এবং এর পাশাপাশি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ও বেআইনি আগ্রাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি চূড়ান্ত সমাধান নিশ্চিত করতে পারে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নেয়, তবে আরো জোরালোভাবে নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং জ্বালানি সরবরাহের কৌশলগত পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে।

    গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তির পর থেকেই যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো কৌশলগত জলপথে নৌ-চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির পথ সুগম করা।

  • মহাকাশ যুদ্ধের হুমকি দিলো রাশিয়া

    মহাকাশ যুদ্ধের হুমকি দিলো রাশিয়া

    ইউক্রেনের অনুরোধে রাশিয়ার নতুন ‘রাশভেট’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক অচল বা বন্ধ করা হলে তা ধ্বংসের শামিল হবে এবং এর পরিণতিতে ‘পূর্ণাঙ্গ মহাকাশযুদ্ধ’ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। খবর আনাদোলুর।

    রোববার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মহাকাশ অত্যন্ত জনাকীর্ণ একটি জায়গা; তাই আমাদের একে অপরের প্রতি সৌজন্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

    মেদভেদেভ বলেন, আমি আশা করি আমেরিকানরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে। কারণ, তা না হলে তাদের লো-অরবিট বা নিম্ন-কক্ষপথের স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো শুকিয়ে যাওয়া ক্রিসমাস ট্রি থেকে ঝুলে থাকা অলঙ্কারের মতোই নিচে খসে পড়বে।

    এর আগে শনিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ও চীনের যেসব প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজ করছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন।

    জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়াকে এই প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করছে চীন। তার ধারণা, রাশিয়ার রাশভেট নেটওয়ার্ক চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে কার্যকর হতে পারে।

    তিনি বলেন, রাশিয়ার এ ধরনের স্যাটেলাইট সক্ষমতা ইউক্রেনে রুশ বিমান হামলার নির্ভুলতা বাড়াতে পারে। মস্কো বর্তমানে ইউক্রেনে তাদের আকাশপথের অভিযান আরও জোরদার করছে।

    মেদভেদেভের সর্বশেষ মন্তব্যে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় যে আবেগের সঞ্চার হয়েছে, সেটিই ফুটে উঠেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথায়।

    বেনিনের বিপক্ষে মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার চেয়েও যে চাহিদা বেশি, সেটি বোঝাতে স্কালোনি বলেছেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সবগুলো পূর্ণ হয়ে যেত।’

    বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিদায় নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি। তার মতে, এখন আর মেসির বিদায় নিয়ে বলার মতো কিছু বাকি নেই, সময়টা শুধু উপভোগ করার। ‘আমি সব জায়গা থেকে বার্তা পেয়েছি। হাহা। আমার মনে হয়, সবকিছু বলা হয়ে গেছে। এখন শুধু উপভোগ করার পালা,’ বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।

    ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। স্কালোনির মতে, মেসির বিদায়ের পর তাঁর অভাব প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভূত হবে। ‘আমরা সবসময় যে নস্টালজিয়ার কথা বলি, সে যখন থাকবে না, তখন সেটা অনুভব হবে। এখন সে আর এখানে থাকবে না,’ বলেন স্কালোনি।

    মেসির শেষ ম্যাচের আবেগ নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি সবাই আবেগপ্রবণ থাকবে। মেসিও থাকবে। সে যেদিন মনুমেন্টালের মাঠে পা রাখবে, সেদিনটি সবার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা অবশ্যই এগিয়ে যাবে, তবে তার মতো অনুভূতি আর কেউ দিতে পারবেন না বলেই মনে করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলতে হবে, দলও চলবে। কিন্তু মাঠে তাকে থাকার যে অনুভূতি, তা অনন্য। মাঠে সে যে অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, অন্য কারও মধ্যে আমি কখনো এমন কিছু দেখিনি। আমরা সেটাই সবচেয়ে বেশি মিস করব। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল চলতে থাকবে।’

    বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির জাতীয় দলের হয়ে ২০৮তম। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির সঙ্গে আরও দুটি অনুশীলন সেশন পাচ্ছেন স্কালোনি। তাই শেষ মুহূর্তগুলোও উপভোগ করতে চান আর্জেন্টাইন কোচ।

  • পুলিশের ২৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল

    পুলিশের ২৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তার রদবদল করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩ জন পূর্ণ ডিআইজি এবং ৯ জন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছে।

    রোববার (৪ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এই রদবদল করা হয়। এ আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

    বদলির আদেশে, স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট বা এসআরইউ (সাবেক এটিইউ) ড. মো. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়াকে পুলিশ স্টাফ কলেজে, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. মাহমুদুর রহমানকে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূরকে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা মেট্রোরেলে পদায়ন করা হয়েছে।

    অপর আরেক আদেশে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ সুপার এ টি এম মোশাররফ হোসেনকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলমকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে ট্যুরিস্ট পুলিশে, পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার আশ্রাফুজ্জামানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুনকে এসবিতে, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি নিশাত এ্যঞ্জেলাকে টুরিস্ট পুলিশে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইনকে এসআরইউয়ের পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কবীর আহম্মেদকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

  • সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, দিনে গড়ে ১৪ মৃত্যু

    সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, দিনে গড়ে ১৪ মৃত্যু

    দেশে গত সেপ্টেম্বর মাসে সড়কে ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে । এসব দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত এবং ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে নারী ৭৩, শিশু ৬১। রোববার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫৪ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৯ জন, যা মোট নিহতের ৩২.৮৬ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৪.৮৪ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫.৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ ১২.৫২ শতাংশ।

    এই সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

    যানবাহনভিত্তিক নিহতের হিসাবে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৯ জন, বাসের যাত্রী ২৬ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রলি আরোহী ১৯ জন এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও জীপের আরোহী ২১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া থ্রি-হুইলার—অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনার যাত্রী নিহত হয়েছেন ৮৮ জন। স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্র ও টমটমের যাত্রী ১৮ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৬ জন নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। সেপ্টেম্বর মাসে ১৭৮টি দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়কে, ১৪৫টি জাতীয় মহাসড়কে, ৬৩টি শহরের সড়কে এবং ৫৬টি গ্রামীণ সড়কে সংঘটিত হয়েছে। শতাংশের হিসাবে আঞ্চলিক সড়কে ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ, জাতীয় মহাসড়কে ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ, শহরের সড়কে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশ। এছাড়া ৯৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৯টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা, ৬১টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি দুর্ঘটনা অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৬৯১টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৬২টি মোটরসাইকেল, ১২৯টি থ্রি-হুইলার, ১১৩টি বাস, ৯৩টি ট্রাক, ২৯টি কাভার্ডভ্যান, ১৭টি পিকআপ, ১২টি মাইক্রোবাস, ১৫টি প্রাইভেটকার, ৮টি অ্যাম্বুলেন্স, ৫টি জীপ এবং ৪৬টি অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে।

    সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে সকালে। এ সময়ে ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ, বিকালে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাতে ১৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ভোরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রাণহানি, খুলনা বিভাগে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রাণহানি এবং রাজশাহী বিভাগে ১২ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে।

    অন্যদিকে বরিশালে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রাণহানি, সিলেটে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ প্রাণহানি, রংপুরে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রাণহানি এবং ময়মনসিংহে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন।

    রাজধানীতেও দুর্ঘটনার চিত্র উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

    নিহতদের পেশাগত পরিচয়েও উঠে এসেছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণহানির চিত্র। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের ২৪ জন নেতাকর্মী, স্থানীয় পর্যায়ের ২৫ জন ব্যবসায়ী, ১৮ জন এনজিও কর্মী, ১৪ জন দিনমজুর এবং ১৩ জন শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা কর্মচারী ১১ জন, পোশাক শ্রমিক ৬ জন, প্রকৌশলী ৪ জন, মোটর মেকানিক ৪ জন, সাংবাদিক ৩ জন, মসজিদের ইমাম/খাদেম ৩ জন, পুলিশ সদস্য ২ জন ও চিকিৎসক ২ জন নিহত হয়েছেন। সেনা সদস্য, কাস্টমস কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী একজন করে এবং একজন বিদেশি নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

    শুধু সড়কেই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে নৌ ও রেলপথেও প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। তাই গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

    সংস্থাটি আরও বলেছে, যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল এবং তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো। পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীনের অনুমোদনের পর দলীয় প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে নেছারাবাদ ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক কোনও ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    এদিকে স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য রাখা ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পরে বুধবার সকালে নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু বিদ্যালয়ে গিয়ে নেওয়া দুধের ৩০ প্যাকেটের মধ্যে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেন বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ এর আগে বলেছিলেন, তারা ৩ প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ে জমা দেন।

    ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    তাছাড়া ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রধান শিক্ষককে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • মহেশপুর ড্রাগন ক্ষেতে বিদ্যুৎ ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    মহেশপুর ড্রাগন ক্ষেতে বিদ্যুৎ ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে ড্রাগন ফলের বাগানে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিহাদ হোসেন (১৩) নামে এক কিশোর কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভৈরবা গ্রামের মাঠে একটি ড্রাগন বাগানের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত জিহাদ হোসেন চুন্নিরাইট গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর জিহাদ আর বাড়িতে ফেরেনি।

    পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ভৈরবা গ্রামের একটি ড্রাগন বাগানের পাশে জিহাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন।

    নিহতের স্বজনদের দাবি, ড্রাগন বাগানে যাওয়ার সময় সেখানে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিহাদের মৃত্যু হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় । বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ,আর

  • পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অসময়ে তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল। ভাল দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও। লাভজনক এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ ।

    কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ও মৌসুমী ফল হিসেবে পরিচিত হলেও, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি আর পরিবর্তিত ভাবনায় পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক বছর আগে দু-এক জন চাষি অসময়ে তরমুজ চাষ করলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে এই তরমুজ চাষ করা হলেও এবার চাষ হয়েছে প্রায় দেড়শ একর জমিতে। ফলন ও দাম উভয় ভাল পেয়েছেন চাষিরা। লভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।আব্দুল কাদের নামে এক তরমুজ চাষি জানান, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার দানাজপুর গনেশ ফার্মে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের জমি লিজ নিয়ে প্রতি বছর অসময়ে তরমুজ চাষ করেন। বেশ লাভ পান। এবার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। ৩০ টাকা কেজি দরে পাইকার ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

    তরমুজ চাষি রজব আলী, কালি চরণ ও জহিরুল ইসলাম জানান, গনেশ ফার্মে এবার দেড়শ বিঘা জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল প্রায় একশ বিঘা জমিতে। তারা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তরমুজ বিক্রি হয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তরমুজ বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হয় না। মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। দুই মাসেই তরমুজ তোলা যায়। অল্প সময়ে লাভ ভাল হওয়ায় আবাদ বাড়ছে। আগামী বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হাসান জানান, তরমুজ চাষের প্রধান সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাষিরা আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে অসময়ে ব্লাক বেরি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ভাল হয়। স্বাদও ভাল হয়। তারা অসময়ে তরমুজ চাষ করার জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন। তবে এ তরমুজ চাষে ঝুকিও রয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • বেশকটি দেশ মক্কা জোটে যোগ দিতে চায়

    বেশকটি দেশ মক্কা জোটে যোগ দিতে চায়

    ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দিতে ছয়টিরও বেশি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তবে কোন কোন দেশ এই জোটে যোগ দিতে আগ্রহী, তা প্রকাশ করেননি তিনি।

    শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসহাক দার। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইসহাক দার বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত আত্মরক্ষামূলক। এর কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই। চুক্তির আওতায় প্রথম বৈঠক গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে।

    গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

    চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী সপ্তাহে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান ইসহাক দার। তার দাবি, সৌদি আরব এরই মধ্যে ১৭ থেকে ১৮টি হামলার শিকার হয়েছে।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ জাতিসংঘ সনদ এ ধরনের জোটকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ন্যাটোর উদাহরণ টানেন ইসহাক দার।

    এদিকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নুমান মাহমুদকে মনোনীত করা হয়েছে। ইসহাক দার তাকে ‘অত্যন্ত ভালো ও ধর্মপ্রাণ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন ইসহাক দার। তিনি বলেন, কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমের জন্য কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ থাকা উচিত নয়।

    আফগানিস্তান প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে ইসহাক দার বলেন, আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শুভকামনা রয়েছে। তবে কাবুলকে নিশ্চিত করতে হবে, দেশটির ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়।

    তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আফগানিস্তানকে প্রমাণ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকা জোগাতে ৫ শিশুকে বিক্রি

    কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকা জোগাতে ৫ শিশুকে বিক্রি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাগুলো উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিস্তারের কারণে গ্রামের বেশ কিছু পরিবারের নারী-পুরুষ নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজেদের সন্তানদের বিক্রি করে দিচ্ছেন। সন্তান দেয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে তারা মাদক কিনে সেবন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে পৃথক সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দুলাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী ফারজানার নবজাতক ছেলেসন্তানকে গত ২ সেপ্টেম্বর ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ ছাড়া জজ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয়া দুটি শিশুকে যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন তার সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকা এবং মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়া তার সন্তানকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দিয়েছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

    এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, শিশুদের প্রথমে যাদের কাছে দেয়া হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরে বেশি টাকার বিনিময়ে অন্যত্র দিয়ে দিয়েছেন। ফলে এসব শিশুর বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    চরপুক্ষিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে মাদকাসক্ত স্বামী-স্ত্রী নিজেদের সন্তানদের টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিয়ে সেই অর্থ মাদক সেবনে ব্যয় করছেন বলে অভিযোগ তাদের।

    তারা আরও বলেন, মাদকের কারণে গ্রামের সামাজিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এ এলাকার ছেলে-মেয়েদের অন্যত্র বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মাদকাসক্ত। এ কারণে তারা নিজেরাও অসহায় হয়ে পড়েছেন এবং প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।

    স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদেরও ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। প্রতিবাদ করলে আমাদের সন্তানদেরও অন্যত্র বিক্রি করে দিতে পারে—এমন আতঙ্কে আমরা ভুগছি। ’

    এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মাদকসেবীরা নিজেদের শিশুদেরও মাদকের সংস্পর্শে নিয়ে আসছেন। পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে মাদক সেবন করানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া অনেক বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বসে মাদক সেবন করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি এখন আমার গ্রামের পরিচয় দিতে পারি না। উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের কথা বললেই অনেকে বলে, তোমরা সবাই মাদকাসক্ত। তোমাদের গ্রামের লোকজন মাদকের টাকার জন্য সন্তান বিক্রি করে দেয়। ’

    জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি শিশু সন্তান বিক্রি করে দেয়ার কথা শুনতে পেরেছি।

    এ সময় পরিষদের সব সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।

    কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামটি খুবই দরিদ্র। সেখানে মাদকসেবীর সংখ্যাও বেশি। মাদকের টাকা জোগাড় করতে সন্তানদের অন্যের কাছে তুলে দেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। এ,আর

  • গো-পাচারের গুজবে ভারতে পুড়িয়ে মুসলিম যুবক হত্যা

    গো-পাচারের গুজবে ভারতে পুড়িয়ে মুসলিম যুবক হত্যা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে চরম উগ্রবাদ ও সংখ্যালঘু নিধনের ভয়াবহ চিত্র। নিছক গরু পাচারের সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় যে পৈশাচিক বর্বরতা চালানো হলো, তা আরও একবার ভারতের মাটিতে মুসলমানদের চরম নিরাপত্তাহীনতা ও করুণ পরিস্থিতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

    শুক্রবার গভীর রাতে তারাবাড়ি এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি চারচাকা গাড়ি প্রবেশ করতেই সন্দেহবশত উন্মত্ত জনতা সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। কোনো রকম আইনি পদক্ষেপ বা যাচাইয়ের তোয়াক্কা না করে শুরু হয় নির্মম গণপিটুনি। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা, ভ্যানচালক শহিদ আখতারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বড় পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয় এবং পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    প্রাণভয়ে চারচাকা গাড়িটি ফেলে আরও চার যুবক পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাদের ধাওয়া করে বাগডোগরার ধিমাল বস্তি এলাকায় ধরে ফেলে। সেখানেও চলে অমানবিক নির্যাতন, যার জেরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হরিয়ানার বাসিন্দা শাদ মহম্মদের। বাকিদের মধ্যে কোনোক্রমে এক যুবক দৌড়ে পালিয়ে পানিঘাটা থানায় আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন। আমির, আরিফ খান ও আক্রম নামের আরও কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এক সুপরিকল্পিত সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘৃণ্য রূপ। গো-রক্ষার নামে এক শ্রেণির উগ্রবাদী মানুষ আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে মুসলিমদের ওপর নিয়মিত প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। বর্তমান ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা এমন এক ভয়াবহ ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতির শিকার, যেখানে স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে যেকোনো সময় তাদের পিটিয়ে মারা হতে পারে।

    পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে সম্প্রীতির কথা বলা হয়, সেখানেও এমন প্রকাশ্য গণপিটুনি ও পুড়িয়ে মারার ঘটনা প্রমাণ করে যে মুসলমানদের জীবনের নিরাপত্তা তলানিতে এসে ঠেকেছে।

    শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি ইস্ট অনির্বাণ মজুমদার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এ ধরনের গণপিটুনির ঘটনায় দোষীরা প্রায়শই পার পেয়ে যায়, যা এই উন্মত্ত জনতাকে আরও বেপরোয়া করে তোলে।

    পুরো রাজ্য জুড়েই যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনিই যে এখন বিচারব্যবস্থার বিকল্প হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ মিলেছে কলকাতার উপকণ্ঠে সোনারপুরেও। সেখানে পুরোনো খুনের আক্রোশের জেরে গোপাল হালদার নামের এক যুবককে গ্যারেজ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একইভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে।

    রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এভাবেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জনতা স্বঘোষিত বিচারকের ভূমিকা পালন করছে। এই সার্বিক নৈরাজ্য ও বিচারহীনতার বাতাবরণে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলমানরা আজ এক চরম অস্তিত্বসংকট ও ভীতির মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    তাদের রুটিরুজির পথ যেমন ক্রমশ সংকুচিত করা হচ্ছে, তেমনই রাস্তায় বেরোলে স্রেফ সন্দেহের বশে যখন-তখন প্রাণ হারানোর আতঙ্কে প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতে হচ্ছে। মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এই নগ্ন চিত্র গোটা উপমহাদেশের সভ্য সমাজের কাছেই আজ এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।

  • ভারতে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা

    ভারতে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা

    বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা’ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

    শনিবার ‘বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান’ এবং রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-এর যৌথ উদ্যোগে এ বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়।

    জানা গেছে, শনিবার দুপুরে শিয়ালদহ রেল স্টেশন থেকে দুটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলে বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনী এবং এনসিপিআই-এর অর্ধশতাধিক সমর্থক অংশ নেন। মিছিলটি বাংলাদেশ মিশনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মিশন থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে শক্ত ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়।

    বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে জোরপূর্বক মিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এর ফলে মিশন সংলগ্ন ব্যস্ত সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    পুলিশি বাধায় বিক্ষোভকারীরা মিশনের সামনে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ডেপুটি হাইকমিশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পাঁচজনের একটি প্রতিনিধি দলকে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

    প্রতিনিধি দলটি ডেপুটি হাইকমিশনে প্রবেশ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান এবং চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তির দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করে। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে আন্দোলনকারীরা মিশন চত্বর ত্যাগ করেন।

  • সকালে খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু, ছয় ঘণ্টা পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

    সকালে খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু, ছয় ঘণ্টা পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শরীয়তপুরের ডামুড্যায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন (৪) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার পশ্চিম আদাশন এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল শিকদার (২২) এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহত সোয়াইফ হোসেন পশ্চিম আদাশন গ্রামের সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় সোয়াইফ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে একই এলাকার আবু আলম শিকদারের বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় সোয়াইফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ডামুড্যা থানা পুলিশ জানায়, শিশুটির গলা কাটা ছিল।

    নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আবু আলম শিকদারের সঙ্গে সেলিম সরদারের পরিবারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

    শিশুটির বাবা সেলিম সরদার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় আমার মায়ের সঙ্গে আবু আলমের ঝগড়া হয়। আমার মা রাতে আমাকে বিষয়টি জানায়। শনিবার সকালে আমি বাজার থেকে এসে দেখি আমার সন্তান নেই। আমি থানায় গিয়ে জিডি করলে, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে আলী আকবরের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে আমার ছেলের বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। আমার ছেলেকে ওরা হত্যা করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

    মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আবু আলমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় আবু আলম শিকদারের ছেলে রাসেল শিকদারকে আটক করেছে পুলিশ।

    তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু আলমের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন গ্রাম থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ,আর

  • টঙ্গীতে ১০ ককটেলসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার উদ্ধার স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

    টঙ্গীতে ১০ ককটেলসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার উদ্ধার স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০টি ককটেল ও দুটি ব্যানার উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর গুটিয়ার আন্ধারুল এলাকায় এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করতে বোম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গুটিয়ার আন্ধারুল এলাকায় একটি বাড়ির সামনে সকালে ককটেলগুলো পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। রাত প্রায় ২টা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার আওতায় রেখেছে বলে জানা গেছে।

    টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ১০টি ককটেল ও দুটি ব্যানার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য বোম ডিসপোজাল টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। টিমটি ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করবে।

    এদিকে উদ্ধার হওয়া দুটি ব্যানারে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের রায় বাতিল এবং কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা রয়েছে। ব্যানার দুটিতে টঙ্গী পশ্চিম থানা ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    একটি ব্যানারে ৫২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের বিভিন্ন পদপ্রত্যাশী হিসেবে মো. ফরিদ, মো. হাবিবুর রহমান, মো. বাবুল ও আলী আকবরের নাম রয়েছে। অপর ব্যানারে টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরনবী, সাজিদ হোসেন দিপু, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের হাসান নাহিদ ও সজিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    ককটেল ও ব্যানারগুলো একই এলাকায় পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ককটেলগুলো সেখানে কারা রেখেছে এবং ব্যানারগুলোর সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ জানিয়েছে, বোম ডিসপোজাল টিমের কার্যক্রম শেষে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। পাশাপাশি ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ,আর

  • আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এখন ‘পূর্ণতা পেয়েছে’ : আইআরজিসি

    আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এখন ‘পূর্ণতা পেয়েছে’ : আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং মহাকাশ বাহিনীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি বলেছেন, ইরানের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সামরিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

    আল জাজিরা শনিবার (৩ অক্টোবর) জানায়, ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বালালি বলেন, দেশটির ‘ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এখন আর অন্য কারো সহায়তার প্রয়োজন নেই।’

    ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়টিকে ছবি আঁকা শেখার সাথে তুলনা করেন বালালি। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কৌশল আয়ত্তে চলে এলে একজন শিল্পী নিজের ইচ্ছামতো ‘যেকোনো ছবি আঁকতে পারেন’।