যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে

প্রতিবেদন:

·

, ,

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কোনো নতুন আগ্রাসন চালালে এবার চেনা নিয়মে জবাব দেওয়া হবে না। এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের তথাকথিত ‘সব বোমার মা’ বা বিশাল ক্ষমতার বোমা ব্যবহার করতে পারে—এমন খবরের মাঝেই এই কঠোর বক্তব্য এলো।

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি (১৮ অক্টোবর) জানায়, দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসেনএসসি) সচিব মহসিন রেজায়ি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘ইরানের নতুন রণ-পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চেনা ছকে চলবে না।’ তিনি আরো বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক হুমকিসর্বস্ব বক্তব্য বাস্তবতাকে বদলাতে পারবে না। যেকোনো সামরিক হঠকারিতার জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হুমকির মুখে ‘সব বোমার মা’

মার্কিন সামরিক বাহিনী এমন এক হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে, যেখানে জিবিইউ-৪৩/বি বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত বোমা ব্যবহার হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। ২০০০-এর দশকের শুরুতে একটি বোমা বানাতে খরচ হতো প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বর্তমান মূল্যস্ফীতিতে এই খরচ আরো অনেক বেশি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের আচিন জেলায় মাত্র একবার এই বোমা ফেলা হয়েছিল। একটি সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে চালানো সেই হামলায় এক শিক্ষক ও তার ছোট ছেলেও মারা যায়।

‘ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে’

মার্কিন হুমকির বিষয়ে কথা বলেছেন ইরানি সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ। তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী তৈরি।

মার্কিন এই হুমকিকে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘ইরানি জনগণকে ভয় দেখিয়ে পিছু হটানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’

হুমকির জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘ওরা যদি সব বোমার মা ফেলে, তবে আমাদের জনগণ হলো সব বোমার বাবা। শত্রুর কৌশলের চেয়ে এই জনগণের প্রতিরোধ হবে অনেক বেশি শক্তিশালী। বোমা মেরে কোনো সভ্যতাকে ধ্বংস করা যায় না।’ তিনি জানান, নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম আধুনিক করা হয়েছে এবং সব সেনার আঙুল এখন ট্রিগারেই রাখা আছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ