এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের সংকট এড়াতে রাশিয়া ও কানাডা থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় আরও দেড় লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চারটি সারের চালানের ক্রয় মূল্য হবে আনুমানিক প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে এ সারের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।
আর চলতি অর্থবছরে চাহিদা সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন। এর বাইরে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে আরও ৩ লাখ টন সার প্রয়োজন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে জুমে ভার্চুয়ালি সন্ধায় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবে কানাডা থেকে ৮০ হাজার এবং রাশিয়া থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার কথা বলা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভায় ৬ লাখ টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেসরকারি আমদানিকারকদের ২ লাখ ৫০ হাজার টন সার আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মোট সাড়ে ৮ লাখ টন সার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের (সিসিসি) কাছ থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় দুই চালানে ৪০ হাজার টন করে মোট ৮০ হাজার টন সার কেনা হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে দুই চালানে ৩৫ হাজার টন করে মোট ৭০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে চার চালানে আমদানি করা হবে দেড় লাখ টন।
কানাডা থেকে সপ্তম চালানের ৪০ হাজার টন সার ১ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এ চালানের সার ডিসেম্বরে আনার পরিকল্পনা থাকলেও মজুত ও মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। এ চালানের প্রতি টন সারের প্রস্তাবিত দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার। এতে ৪০ হাজার টন সার কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
অষ্টম চালানে কানাডা থেকে আরও ৪০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে নবম ও দশম চালানে ৩৫ হাজার টন করে ৭০ হাজার টন সার কেনার প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় লাখ টন সার আমদানিতে আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সারের চাহিদা বাইরে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে আরও অতিরিক্ত ৩ লাখ টন রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সরকার। সে হিসাবে মোট প্রয়োজন ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে এমওপি সারের চাহিদা দাঁড়াবে ৫ লাখ ৬ হাজার টন। আমদানির অনুমোদন, জাহাজে পরিবহন ও দেশের ভেতরে সরবরাহ করতে ৮০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। এ কারণে আসন্ন মৌসুমে কৃষকের চাহিদা মেটানো এবং নিরাপত্তা মজুত বজায় রাখতে দ্রুত সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আজকের সন্ধায় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩০ কেজি ধারণ ক্ষমতার এক কোটি বস্তা কেনার প্রস্তাবও রয়েছে। ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে (ই-জিপি) ৫০টি প্যাকেজের মাধ্যমে এসব বস্তা কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
