অর্থ ও বাণিজ্য

  • প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ১৭ ব্যাংক

    প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ১৭ ব্যাংক

    বন্ধ কলকারখানা চালু ও স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দিতে ১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

    প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থ দিতে সম্মত হওয়া ১৭টি ব্যাংক হলো—সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, ব্র্যাক, সিটি, যমুনা, ডাচ্-বাংলা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, উত্তরা, প্রাইম, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি, পূবালী, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

    গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালু, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থবির অর্থনীতিকে সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার এ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্যাকেজে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৪১ হাজার কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৯ হাজার কোটি টাকা।

    প্যাকেজের সবচেয়ে বড় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এ তহবিল থেকে বেসরকারি খাত গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে।

  • চীনমুখী হচ্ছে মালয়েশিয়া

    চীনমুখী হচ্ছে মালয়েশিয়া

    তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকার করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যে দেশটির দীর্ঘদিনের জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুয়ালালামপুর কি ধীরে ধীরে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে—এমন আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তবে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আনোয়ারের মন্তব্যকে মালয়েশিয়ার কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মালয়েশিয়ার শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার বলেন, তিনি তাইওয়ানকে ‘চীনের অংশ’ হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, বিষয়টি ‘সর্বত্র স্বীকৃত’।

    তবে এর পরই বিতর্ক তৈরি হয় তার আরেক মন্তব্য নিয়ে। শান্তিপূর্ণভাবে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের ‘পুনর্মিলন’ সম্ভব না হলে বেইজিং শক্তি প্রয়োগ করলে তিনি তার নিন্দা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার মালয়েশিয়ার উদাহরণ টানেন।

    তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার কোনো অঙ্গরাজ্য বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেষ্টা করলে দেশের ‘অখণ্ডতা ও ঐক্য রক্ষায়’ তিনি শক্তি প্রয়োগ করবেন। আনোয়ারের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তাইওয়ান ‘চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ’। চীনকে পুনরায় একীভূত করতেই হবে এবং করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অন্যদিকে তাইওয়ান সরকার আনোয়ারের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, চীনের প্রতি আনোয়ারের ‘একপেশে সমর্থন’ মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাইওয়ানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাইওয়ান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ উৎপাদক। দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোর মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার তার বক্তব্যের কিছুটা ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া চীনের অবস্থানকে সম্মান করে। তবে তাইওয়ান প্রণালির উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় কুয়ালালামপুর।

    সাবাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

    তাইওয়ান নিয়ে মন্তব্যের কয়েক দিন পরই আনোয়ার আবার আলোচনায় আসেন বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশিয়ান অঙ্গরাজ্য সাবাহর প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে।

    প্রতিবেশী ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সামরিক স্থাপনা উন্নয়নের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো প্রয়োজন।

    ফিলিপাইন বর্তমানে বালাবাক দ্বীপে সামরিক স্থাপনা আধুনিকায়ন করছে। দ্বীপটি মালয়েশিয়ার ব্যাংগি ও বালামবানগান দ্বীপ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে।

    সম্প্রতি বালাবাককে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের ‘এনহ্যান্সড ডিফেন্স কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা ইডিসিএর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে সেখানে থাকা নির্দিষ্ট স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর প্রবেশাধিকার রয়েছে।

    আনোয়ারের এই মন্তব্যের পর পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মধ্যে পুরোনো একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মালয়েশিয়া পশ্চিমের কাছ থেকে দূরে সরে চীনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

    চীনের সঙ্গে বাড়ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক

    মালয়েশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে চীন দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।

    চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পেরও অন্যতম বড় সুবিধাভোগী মালয়েশিয়া। ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মালয়েশিয়ার অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তার একটি উদাহরণ। ইসরাইলের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মালয়েশিয়া। আনোয়ারের নেতৃত্বে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতায় দেশটির অবস্থান আরো জোরালো হয়েছে।

    তবে এসব বিষয়কে মালয়েশিয়ার চীনের দিকে কৌশলগতভাবে ঝুঁকে পড়ার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। নটিংহাম মালয়েশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক চি মেং তান বলেন, তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বীকৃতি নতুন কিছু নয়। ১৯৭৪ সালে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তুন আবদুল রাজাকের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতেই এর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

    তার মতে, নতুন বিষয় হলো আনোয়ারের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য। কারণ, ‘এক চীন’ নীতির মধ্যে এ ধরনের অবস্থান সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়। তান আরো বলেন, সেপ্টেম্বরে আনোয়ারের সম্ভাব্য চীন সফরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। বেইজিংকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেও তিনি এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন।

    সাবাহ নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে পুরোনো বিরোধ

    বালাবাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আনোয়ারের উদ্বেগের সঙ্গে ফিলিপাইনের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের সাবাহ বিরোধেরও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    ১৯৬৩ সালে সাবাহ মালয়েশিয়ার অংশ হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটির ওপর দাবি করে আসছে ফিলিপাইন। মালয়েশিয়া বরাবরই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ম্যানিলা সাবাহর ওপর তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। ফিলিপাইনের দাবি, দেশটির ২০২৪ সালের মেরিটাইম জোনস অ্যাক্টে সাবাহর একটি অংশের ওপর তাদের ‘বিদ্যমান ও বৈধ দাবি’ বহাল রয়েছে।

    জুলাইয়ে এ বিষয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় মালয়েশিয়া। ফিলিপাইনের বর্ধিত মহীসোপানের দাবি সাবাহর জলসীমার ওপর হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করে কুয়ালালামপুর।

    অধ্যাপক তানের মতে, বালাবাকে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে আনোয়ারের মন্তব্যকে চীনপন্থী অবস্থান না ধরে ‘নিজের সীমান্ত রক্ষার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

    পশ্চিমের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও অটুট

    বোর্নিওতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের আরেকটি কারণ দক্ষিণ চীন সাগর। বিতর্কিত এই সাগরে মালয়েশিয়াও দাবিদার দেশ। চীনের সঙ্গে বিরোধ থাকলেও এ বিষয়ে ফিলিপাইনের তুলনায় মালয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে কম সরব।

    তবে চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও জোরালো রেখেছে কুয়ালালামপুর।

    এর অন্যতম উদাহরণ ‘ফাইভ পাওয়ার্স ডিফেন্স অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা এফপিডিএ। এতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য রয়েছে।

    এটি বাধ্যতামূলক কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়। তবে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সদস্যদেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শ করার অঙ্গীকার করেছে। এর আওতায় প্রতিবছর ‘বেরসামা শিল্ড’ ও ‘বেরসামা লিমা’ নামে দুটি বড় সামরিক মহড়াও হয়।

    মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের বাটারওয়ার্থে দেশটির বিমানঘাঁটিতে এফপিডিএ-এর বিমান প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের সদর দপ্তর রয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

    অস্ট্রেলিয়া বাটারওয়ার্থে একটি রাইফেল কোম্পানিও মোতায়েন রেখেছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় সামুদ্রিক টহল বিমান মোতায়েনের মাধ্যমে নিয়মিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম চালায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এফপিডিএ-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মালয়েশিয়া এ অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করছে। সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কুয়ালালামপুরের জন্য একধরনের নীরব প্রতিরোধও তৈরি করছে।

    চীনের ঘনিষ্ঠতা, কিন্তু জোট নয়

    যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিমা বিনিয়োগ থেকেও লাভবান হচ্ছে মালয়েশিয়া।

    যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যানিয়েল লোয়েবেল বলেন, মালয়েশিয়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ কারণে কোনো বড় শক্তির সঙ্গেই দেশটি গভীরভাবে জোটবদ্ধ হয়ে পড়েনি।

    তার মতে, অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মালয়েশিয়া চীনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে জোট বাঁধার চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন না।

    লোয়েবেল আরো বলেন, তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানগুলো মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। আনোয়ার বিষয়টি জানেন এবং এটিকে স্বাগতও জানান।

    সব মিলিয়ে তাইওয়ান নিয়ে আনোয়ারের সাম্প্রতিক মন্তব্য চীনের প্রতি মালয়েশিয়ার ঝুঁকে পড়ার আলোচনা জোরালো করলেও, দেশটির সামগ্রিক পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিতে এখনো ভারসাম্যের ছাপ স্পষ্ট। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি পশ্চিমের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখাই আপাতত কুয়ালালামপুরের কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।

  • কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেই খেলাপি ঋণ আদায়ের নির্দেশ সরকারের

    কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেই খেলাপি ঋণ আদায়ের নির্দেশ সরকারের

    রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও শুধু গতানুগতিক পরিসংখ্যান বা কাগজ-কলমে হিসাবের পরিবর্তনের সন্তুষ্টিতে থাকতে নারাজ সরকার। সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের হার ১৬.৪ শতাংশে নেমে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, সুস্থ ও দক্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রকৃত মানদণ্ডে তা এখনো বেশি বলেই মনে করছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকটির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে এবং আর্থিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বাড়াতে নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে—শুধু ঋণের শ্রেণি পরিবর্তন বা কৃত্রিমভাবে হিসাব সুন্দর (এভারগ্রিনিং) করার দিন শেষ; এখন থেকে কঠোর নজরদারি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত নগদ অর্থ আদায়কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

    একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ‘এক্সিট’ সুবিধা যেন প্রকৃত ঋণ নিষ্পত্তি ও নগদ আদায়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, ঋণ দীর্ঘায়িত করার আরেকটি পথ হয়ে না ওঠে—সে বিষয়েও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এসব বিষয় তুলে ধরেন। বৈঠকে ব্যাংকের আর্থিক ও পরিচালন অবস্থা, সাম্প্রতিক অগ্রগতি, সমস্যা, ঝুঁকি, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে সরকার, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে খোলামেলা মতবিনিময়ই ছিল এর উদ্দেশ্য।বিজ্ঞাপন

    জানা গেছে, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ও সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ‘এক্সিট’ সুবিধা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের কতসংখ্যক ও কী ধরনের শ্রেণিকৃত ঋণ এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে, কত আবেদন পাওয়া গেছে এবং কতগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে—এসব বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের তথ্য ও মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্পে অর্থায়ন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হলেও এসব খাতে সোনালী ব্যাংকের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর গড়ের তুলনায় কম।

    ব্যাংকের বড় শাখা নেটওয়ার্ক, শক্তিশালী আমানতভিত্তি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প, কৃষি, নারী ও নতুন উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নয়; কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের দৃশ্যমান অবদান নিশ্চিত করা।

    জানা গেছে, যথাযথ যাচাই, নজরদারি ও সুশাসন ছাড়া দ্রুত ঋণ সম্প্রসারণ পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারে। তাই ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ, ব্যবসার কার্যকারিতা, খাত নির্বাচন, একই গ্রুপে মোট ঋণ এবং প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় ঋণের ক্ষেত্রে শুধু জামানতের ওপর নির্ভর না করে ঋণ পরিশোধের প্রকৃত সক্ষমতা বিবেচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    সোনালী ব্যাংকের আকার ও আর্থিক ব্যবস্থায় ভূমিকার কারণে এর সুশাসন অন্যদের অনুসরণ করার মতো হওয়া উচিত। পরিচালনা পর্ষদকে দৈনন্দিন ঋণ প্রশাসনে অতিরিক্ত যুক্ত না হয়ে কৌশল, নীতি তদারকি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। ঋণ সুশাসন, ঝুঁকির কেন্দ্রীভবন, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ, বড় ঋণের মান, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা, পরিপালন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতেও পর্ষদের নজর প্রয়োজন।

    বড় শাখা নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ করে লেনদেন ব্যয় কমানো ও গ্রাহকসেবা উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। সরকারি অর্থ পরিশোধ, পেনশন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, প্রবাসী আয়, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও খুচরা ব্যাংকিংয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের পাশাপাশি কার্যপ্রক্রিয়া, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন ব্যবস্থার সমন্বয়ও জরুরি।

    সভায় আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের অগ্রাধিকার হিসেবে খেলাপি ও ঋণ হিসাব থেকে বাদ দেওয়া ঋণ থেকে নগদ আদায় বাড়ানো, মানসম্পন্ন ঋণ দিয়ে অগ্রিম-আমানত অনুপাত যৌক্তিক পর্যায়ে নেওয়া, ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়ানো, টেকসই মুনাফা ও ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করা, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণ এবং কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

    সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরচিালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার কড়া বার্তা দিল চীন

    ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার কড়া বার্তা দিল চীন

    ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চীন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের সকল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের সীমানার মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

    বেইজিং মনে করে, দুই দেশের এই স্বাভাবিক সহযোগিতায় তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করা মোটেও উচিত নয়। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র লিন জিয়ান এই বার্তা স্পষ্ট করেন।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত আসবে।

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বেইজিং পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। চীনের মূল ভূখণ্ড বা তাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা রক্ষায় চীন যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

    উল্লেখ্য, চীন ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসলেও বেইজিং শুরু থেকেই বলে আসছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এককভাবে আরোপিত কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনসম্মত নয়। ফলে মার্কিন নতুন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করেই চীন-ইরান বাণিজ্য অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং।

  • চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশটি থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    গতকাল সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া চার প্রতিষ্ঠান হলো—পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব কোম্পানি ইরান থেকে তেল আমদানি, মজুত, স্থানান্তর ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে ইরানকে তেল রপ্তানিতে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।

    ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই অভিযানকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অভিহিত করেছে।

    ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। ভারতের চার কোম্পানির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে এই নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তার প্রশাসন দেশটিকে অনেক সুযোগ ও ছাড় দিয়েছে। কিন্তু ইরান চুক্তিতে রাজি না হওয়ায় তার প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করছে।

    ট্রাম্প বলেন, এটি হবে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ। এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

    ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা দেশগুলোকেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, কোনো দেশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমানবন্দর বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করলে সেই দেশকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

    তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানকে সহযোগিতা বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।

    মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোর্টেজ পার্টনার্স ভারতে বিপুল পরিমাণ ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুই অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির ওপরও একই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি তেলজাত পণ্য আমদানি করে। পিপি সফটটেক একই সময়ে আমদানি করেছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রশান্ত গর্গও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন।

    এ ছাড়া প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ইরানি পণ্য আমদানি করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি থেকে আসা রাজস্ব পুরোপুরি বন্ধ করা।

    নিষেধাজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বা কোনো মার্কিন নাগরিকের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তাদের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সুখবর দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সুখবর দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তাদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।

    তিনি আরও জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী এরই মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ চলতি হিসাব, ‘মুদারাবা’ সঞ্চয়ী হিসাব এবং ‘মুদারাবা’ মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।

  • নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

    নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা, খেজুরও কিনবে সংস্থাটি।

    প্রাথমিকভাবে এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ তুলনামূলক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরের জন্য একটি ক্রয় পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এ পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে।

    পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও ভোক্তাদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে টিসিবি।

    মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে গুদাম সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামের ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

    চলমান কার্যক্রমের জন্য টিসিবির বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে, বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের জন্য ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।

    সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে আরো দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা বাড়ানো হচ্ছে।

    তিনি বলেন, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরো বেশি।

    ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে, যা এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা করে বলে জানান তিনি।

    পণ্যের তালিকাও বাড়াচ্ছে টিসিবি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফয়সল আজাদ বলেন, এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

    বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

    স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যু, স্থানান্তর বা অন্য কোনো কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত, নাম বাদ বা পরিবর্তন হতে পারে।

    টিসিবি সরবরাহব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকেও এগোচ্ছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদ পান।

    পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে তাদের স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

    ফয়সল আজাদ বলেন, টিসিবি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি ভিন্ন কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

    নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। টিসিবি প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যাতে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমে।

    তিনি বলেন, পণ্য ক্রয় বাড়ানো এবং বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের তালিকা বাড়ানোই সংস্থাটির লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, নতুন কোনো পণ্য চালুর আগে তারা জরিপ করেন। ভোক্তারা কোন পণ্য প্রয়োজন বলে জানালে তা সরবরাহের চেষ্টা করা হয়। নতুন যুক্ত হওয়া পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পণ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

  • আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

    আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের অলংকার কিনতে এখন গ্রাহককে গুনতে হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করে এই অলংকারের খুচরা দাম ঠিক করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকার আজ মঙ্গলবার থেকে বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকায়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা।

    এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বেড়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯৬৫ হাজার ৯২০ টাকা।

    তবে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম। নতুন তালিকায় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বহাল রয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।

  • সৌদি আরবকে ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে দেখছে ফরাসি

    সৌদি আরবকে ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে দেখছে ফরাসি

    ফরাসি কোম্পানিগুলোর কাছে সৌদি আরব এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। দেশটি উৎপাদন, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার ঘাঁটি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

    সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে শিল্প ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৪৬টিতে। ওই বছর ১ হাজার ৬৬০টি নতুন শিল্প লাইসেন্স দেওয়া হয়, যার সম্ভাব্য বিনিয়োগমূল্য প্রায় ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো। একই সময়ে ১ হাজার ২০১টি কারখানা উৎপাদনে যায়।

    দেশটিতে বর্তমানে ৩৬টি শিল্পনগরী এবং ৭০০টির বেশি প্রস্তুত কারখানা রয়েছে। চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড যোগ্য প্রকল্পের ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারে।

    সৌদি আরবে ইতোমধ্যে শ্নাইডার ইলেকট্রিক, ভ্যালুরেক ও টারকেটের মতো ফরাসি কোম্পানি শিল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। টারকেট জেদ্দায় উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগও প্রতিষ্ঠা করেছে।

    রপ্তানি ক্ষেত্রেও সৌদি আরব নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। ২০২৫ সালে দেশটির তেলবহির্ভূত রপ্তানি ও পুনঃরপ্তানি ৮৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে এবং তা ১৮০টির বেশি দেশে গেছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে ৮৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    এদিকে রিয়াদকে আঞ্চলিক সদর দপ্তরের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। আঞ্চলিক সদর দপ্তর কর্মসূচির আওতায় রাজধানীতে ৭৫০টির বেশি কোম্পানি কার্যক্রম স্থাপন করেছে। এর মধ্যে ৩৯টি ফরাসি কোম্পানি রয়েছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত কর সুবিধা পেতে পারে।

    ফরাসি বিনিয়োগও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে ফরাসি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো, যা তিন বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

    ফরাসি কোম্পানিগুলোর জন্য সৌদি আরব এখন শুধু একটি বিনিয়োগের বাজার নয়; বরং এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ব্যবসা ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারবেন

    একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারবেন

    একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে ব্যাংকটিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো আমানতকারীদের মুনাফা নিয়ে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতা দূর করা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সাক্ষাৎকালে গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, তাঁদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা তাঁদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থের নির্ধারিত অংশের বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সব ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকটিকে দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে হবে।

  • জাল সনদ থেকে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স

    জাল সনদ থেকে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে জাল সনদ ও সুপারিশপত্র ব্যবহার, প্যাটার্নবহির্ভূত নিয়োগ, মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ইনডেক্স কর্তন, বেতন-ভাতা স্থগিত এবং অবৈধভাবে উত্তোলন করা অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ফরিদপুরের ভাঙ্গার ইকরামউদ্দীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ফাজিল ও কামিল স্তরে প্যাটার্নবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    একই মাদ্রাসার ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ইকরামউদ্দীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ফাজিল ও কামিল স্তরে প্যাটার্নবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ইনডেক্স কর্তন করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের ৩ আগস্টের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ১৬ জুনের এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সিদ্ধান্তের পর ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সংশ্লিষ্টদের এক মাসের মধ্যে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ট্রেজারি চালানের কপি অধিদফতরে দাখিল করতে বলা হয়েছে। ব্যর্থ হলে ১৯১৩ সালের পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি আইন বা পিডিআর আইনে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে।

    ১৯ জনের মধ্যে ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক মো. ফারুক হোসেনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মো. কুদরাত-ই রহমান ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ফজলুল ইসলামের কাছে ১৮ লাখ ১ হাজার ১৩২ টাকা করে এবং আরবি প্রভাষক মো. রাশেদুল ইসলামের কাছে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৩৩২ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    আরবি প্রভাষক মো. আল আমিন ও প্রভাষক (গ্রন্থাগারিক) মো. সরোয়ার হোসেনের কাছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ২৪২ টাকা করে; প্রভাষক (ফকিহ) মো. আজিজুল হক, জাহিদ হোসেন ও প্রভাষক মো. মহিবুর রহমানের কাছে ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭০ টাকা করে এবং সহকারী মৌলভী মো. নুরনবীর কাছে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৭০২ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    অন্যদের মধ্যে সহকারী গ্রন্থাগারিক মহিউদ্দিনের কাছে ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৫ টাকা, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর কাজী আল মাসুদের কাছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৩ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. মাসুম বিল্লাহ ও হাবীব গাজীর কাছে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. নাজমুল ইসলামের কাছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৭ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. সাইফুল ইসলামের কাছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২১৫ টাকা, ল্যাব সহকারী মো. রেজাউল মিয়া ও সাম্মি আক্তারের কাছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯১১ টাকা করে এবং জুনিয়র শিক্ষক নাজরিনের কাছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৩ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    জাল সনদে এমপিও, ৯ শিক্ষকের ইনডেক্স কর্তন

    জাল ও ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ এবং সুপারিশপত্র ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ৯ শিক্ষকের ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে তাদের সনদ ও সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়। ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী তাদের মে ২০২৬ মাসের এমপিওশিট থেকে ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    তালিকায় রয়েছেন সিরাজগঞ্জের গোলকপুর সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার মো. নুরুজ্জামান, রংপুরের তারাগঞ্জ ওয়াক্ফ এস্টেট কামিল মাদ্রাসার মো. মাহবুব রশিদ, পিরোজপুরের বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার মো. আব্দুর রহমান, কুড়িগ্রামের নেওয়াশী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার মো. মাসুম বিল্লাহ ও মো. হারুনুর রশিদ।

    এ ছাড়া বাগেরহাটের মল্লিকেরবেড় ফাজিল মাদ্রাসার করিমা খাতুন, সাতক্ষীরার পাতাখালি ফাজিল মাদ্রাসার বিশ্বজিৎ সমদ্দার, কুমিল্লার পাঁচুখুরী আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শহীদুল হক এবং গাজীপুরের বেলাশী মদিনাতুল উলুম বালিকা আলিম মাদ্রাসার মো. রোকনুজ্জামানের ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্সে বেতন উত্তোলন

    ভোলার তজুমদ্দিনের মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত এক শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর গত ২ আগস্ট তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তার ইনডেক্স নম্বর বি-৬০২৭৮২। নোটিশে নিয়োগ-সংক্রান্ত সব মূল কাগজপত্র ও প্রমাণাদিসহ তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা না দিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি

    ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে একজনকে নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির সুপার মো. আমির হোসেনের বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তার এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    অধিদফতরের নোটিশ অনুযায়ী, ল্যাব সহকারী পদে মো. আব্দুর রাজ্জাকের এমপিও আবেদনের সঙ্গে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি, জাল ফলাফল বিবরণী ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। যাচাই-বাছাই কমিটি এসব শনাক্ত করে আবেদনটি বাতিলের সুপারিশ করে।

    সুপার মো. আমির হোসেনকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বা নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে অধিদফতর।

    গাইবান্ধায় জাল চিঠি-স্বাক্ষরে এমপিও আবেদন, সুপারকে শোকজ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা সরকারপাড়া আল-হিকমাহ মসজিদ একাডেমি দাখিল মাদ্রাসায় মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে একজনকে এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার আবুশাহাদাত মো. জাহাঙ্গীর আলমের এমপিও সাময়িক স্থগিতসহ কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    অধিদফতরের নোটিশে বলা হয়, ল্যাব সহকারী পদে মো. সুমন মিয়ার নতুন এমপিও আবেদনে জাল চিঠি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। যাচাই-বাছাই কমিটি এসব শনাক্ত করে সুমনের আবেদন বাতিলের সুপারিশ করে। সুপারকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    জাল এনটিআরসিএ সনদ, কিশোরগঞ্জের শিক্ষকের ইনডেক্স বাতিল

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মিরদী ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) আমিরুন্নেসার এনটিআরসিএ সনদ জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও ইনডেক্স কর্তন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    অধিদফতরের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও এনটিআরসিএর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় তার পঞ্চম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০০৯-এর প্রত্যয়নপত্রটি সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হয়। এ কারণে তার ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে উত্তোলন করা বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    থামছে না কেন

    সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, মাদ্রাসায় এমপিও ব্যবস্থাপনায় এখনও দুর্বলতা রয়েছে। নিয়োগের সময় যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি, জাল কাগজপত্র শনাক্তে ব্যর্থতা এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অনিয়মের সুযোগ থাকায় সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    এমপিও বাতিল ও অর্থ ফেরতের নির্দেশের পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে জালিয়াতি বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে, সেসব ঘটনায় কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

    শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে নিয়োগ হয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়। এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় না। যারা সুবিধাভোগী, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের পর যেনতেনভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমপিওভুক্ত করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান অনুমোদন এবং এমপিওভুক্তিতে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এভাবে নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। সবচেয়ে দুঃখ লাগে, ধর্মীয় ছাতার নিচের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এসব কর্মকাণ্ড হয়।”

    ‘অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শামিউল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লোকবল কম থাকায় দেশের সব মাদ্রাসা রাতারাতি যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বা সংশয় থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের যা এখতিয়ার, সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

  • রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে পড়া হল সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত, অর্থ কী

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে পড়া হল সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত, অর্থ কী

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআনের সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা সাইফুল কবির।

    আয়াতের অর্থ: হে নবী যারা তোমার হাতে বাইয়াত করছিলো প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর কাছেই বাইয়াত করছিলো। তাদের হাতের ওপর ছিল আল্লাহর হাত। যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার অশুভ পরিণাম তার নিজের ওপরেই বর্তাবে। আর যে আল্লাহর সাথে কৃত এ প্রতিশ্রুতি পালন করবে, আল্লাহ অচিরেই তাকে বড় পুরস্কার দান করবেন।

    রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে চারজন শপথ নিয়েছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

    শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

  • আজকের মুদ্রার বিনিময় হার 

    আজকের মুদ্রার বিনিময় হার 

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার নতুন বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তঃব্যাংক লেনদেনের চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করেই টাকার এই মান নির্ধারিত হয়েছে।

    মুদ্রাকেনাবেচা
    মার্কিন ডলার১২২.৫০০০১২২.৫৮০০
    ইউরো১৪৩.০৬৭৭১৪৩.১৭৩৪
    ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৭.০০৪২১৬৭.১৫০১
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৭.৮২০৩৮৭.৯৫১১
    জাপানি ইয়েন০.৭৭০৬০.৭৭১৩
    কানাডিয়ান ডলার৮৮.৯৬৮০৮৯.০৫৮৪
    সুইডিশ ক্রোনা১২.৯৩৭৪১২.৯৪৯৯
    সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.৪৫৬৭৯৬.৫৭২৯
    চীনা ইউয়ান১৮.২২৫৬১৮.২৪৩০
    ভারতীয় রুপি১.২৭৯৯১.২৮১০
    শ্রীলঙ্কান রুপি২.৬৮৭২২.৬৮৯৮

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত দরের চেয়ে খোলাবাজারে মুদ্রার দাম কিছুটা বেশি থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হারের ওপরই নির্ভর করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ।

  • পরিচালকদের ২ লাখ কোটি টাকা ঋণে ৪২ ব্যাংকের হাঁসফাঁস

    পরিচালকদের ২ লাখ কোটি টাকা ঋণে ৪২ ব্যাংকের হাঁসফাঁস

    তারা সবাই বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক। বেশ প্রভাবশালী। সংখ্যায় ৫০০। বিধিবিধানের তোয়াক্কা করেন না। প্রভাব খাটিয়ে ঋণ নিয়েছেন ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। কেউ কেউ মাঝেমধ্যে কিস্তি দেন, আবার অনেকে দেনই না। আইনের নানা ফাঁকফোকরে সামান্য টাকা জমা দিয়ে খেলাপি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখেন। এরপর আবার ঋণ নেন। বেড়ে যায় এর অঙ্ক। তাদের দাপট সব সরকারেই। কিছুটা কমেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। এরপর আবার লাগামহীন। অসহায় ব্যাংক এমডিরা (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)। এমনকি সবকিছু জানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু নেই কার্যকর ব্যবস্থা। শুধু তা-ই নয়, প্রকাশ হওয়া সরকারি প্রতিবেদনে এখন আর থাকে না এসব ঋণের তথ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিচালকদের ঋণের নথি বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিধান অনুযায়ী, একজন পরিচালক একটি ব্যাংকের শেয়ার কিনতে পারেন ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমান ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন সাধারণত ৫০০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার নিতে পারবেন। আর যেকোনো ব্যাংক থেকে পরিচালকের ঋণ নেওয়ার সীমা হচ্ছে নিজস্ব শেয়ারের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ ২৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিতে পারবেন না। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের ৫০০ পরিচালক যদি ঋণ নিয়ে থাকেন, এর অঙ্ক দাঁড়াবে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যদিও এ মুহূর্তে পরিচালকদের ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণ বেআইনি— এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।

    তাদের অভিমত, পরিচালকদের একটি বড় অংশ কৌশলে নিজের ব্যাংক ছাড়াও অন্য ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন। যার সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল আওয়ামী লীগ আমলে। তখন (২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত) ব্যাংক পরিচালকদের ঋণ ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে (২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত) পরিচালকদের ঋণ কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি; কিন্তু ২০২৫ সালের জুন থেকে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় ঋণের ধারা, যা বর্তমান সরকার গঠনের পর গত জুনে মাত্র ৪২টি ব্যাংকের কাছে ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্তত ১২ জন এমডি প্রায় একই ধরনের তথ্য দিয়ে আগামীর সময়কে বললেন, ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ বিতরণ ও তার ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এই পরিচালকরা ব্যবসায়ী, তারাই আবার ব্যাংকের উদ্যোক্তা। নির্বিঘ্নে ঋণ নেন ও খেলাপি হন, আবার কৌশলে ঋণও নেন। এ যেন একরকম ‘স্থায়ী সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অবৈধ হওয়ার পরও চলছে বছরের পর বছর। এটা ব্যাংক ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালকদের ঋণ ও খেলাপির বিষয়ে নজর দিচ্ছে না। আইন থাকার পরও পরিচালকরা ঋণ পরিশোধ করছেন না। এরপরও বাধ্য হয়েই নির্বাহীরা অসহায়ভাবে পরিচালকদের ঋণ অনুমোদন করেন। এতে স্পষ্ট অনুমান করা যায়, দেশের আইনের চেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক পরিচালকরা। তাদের হাতে বাড়তি ঋণ থাকায় অন্যরা ঋণ পাচ্ছেন না। এর সমাধান হতে পারে একমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছায়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘ব্যাংক পরিচালক স্বাভাবিকভাবে প্রভাবশালী। তাদের কাছে অনেক ঋণ আটকা। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ আদায়ে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে ব্যাংককে। পরিচালক হলে সব মাফ করতে হবে, তা নয়। আর ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাজ হবে অসহায়ত্ব না দেখিয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা। সেখানে সমাধান না পাওয়া গেলে ঋণ আদায়ে উপায় চাইতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে উপায় বের করতে পারে। তখন একটা ফলাফল আসবে। সেখানে তো সব ক্ষমতা দেখানো বা চর্চা করা যায় না।’

    পরিচালকদের ঋণের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংক খাতে সংকটের শুরুটা ২০১৩ সালে। ওই সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্তত ৯টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। এসব ব্যাংকের অধিকাংশ পরিচালক ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ব্যাংকে অবৈধ প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। যদিও এস আলম, সালমান এফ রহমান, নজরুল ইসলাম মজুমদার, জয়নুল হক সিকদার চক্র আরও আগে থেকে ব্যাংক খাতে মাফিয়া হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে ২০১৭ সালে এস আলমের ইসলামী ব্যাংক জবরদখলের মাধ্যমে ব্যাংক লুটপাটের শঙ্কা সৃষ্টি হয়। তখন থেকে ব্যাংক পরিচালকরাও বেপরোয়া হতে থাকেন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে পরিচালকদের ঋণ ছিল মাত্র ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা ১০ বছর পর গত জুনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার কোটিতে।

    তথ্য অনুযায়ী, নিজ ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— পূবালী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, ব্যাংক এশিয়া, শাহ্‌জালাল ইসলামী, ডাচ্‌-বাংলা, প্রাইম, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সাউথইস্ট, ব্র্যাক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, প্রিমিয়ার, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি)।

    এ ছাড়া অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ দিয়েছে এমন ব্যাংকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— পূবালী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, শাহ্‌জালাল ইসলামী, ডাচ্‌-বাংলা, প্রাইম, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সাউথইস্ট, ব্র্যাক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) নেতারা সাক্ষাৎ করেন। তখন খেলাপি আদায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন গভর্নর। পাশাপাশি পরিচালকদের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি নজরে আনেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক পরিচালনায় নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    এ প্রসঙ্গে বিএবির প্রধান ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এখন ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। পরিচালকরা ব্যাংক খাতের উন্নয়নে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ম অনুযায়ী চলছে। যথাযথ নিয়ম মেনে যাচাই-বাছাই করেই ঋণ বিতরণ করা হয়। সেক্ষেত্রে পরিচালকদের ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ঋণ পাওয়া তো দোষের কিছু নয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেছেন, ‘ব্যাংক পরিচালকরা প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারেন। তারাও সাধারণ গ্রাহকের মতো শর্ত ও বন্ধকি সম্পদ রেখে ঋণ নেবেন। ব্যাংকের উচিত ঋণের মানদণ্ড মেনে চলা। কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। আর বিশেষ যোগসাজশ বা আঁতাতের মাধ্যমে শর্ত মেনে ঋণ বিতরণ না করলে আগের মতো সংকট দেখা দেবে, যা এখনো রয়ে গেছে। মানুষের আস্থা কমে গেছে ব্যাংকের ওপর। এখন সময় এসে গেছে এরকম অপসংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার। কেননা, চিহ্নিত কিছু গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারাই আবার ব্যাংকের মালিক। আর ব্যাংক পরিদর্শনে যা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ‘ব্যাংক পরিচালকরা প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারেন। কিন্তু সীমা অতিক্রম করার সুযোগ নেই। এত টাকার ঋণ মালিকদের কাছে গেল কীভাবে? নিয়ম অনুযায়ী তাদের কাছে এত টাকা থাকার সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আর খেলাপিরা তো পরিচালক থাকতে পারেন না। ব্যাংকগুলো কেন ব্যবস্থা নেয় না। এভাবে কতদিন চলবে। এর একটা সুরাহা দরকার।’

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) সচিব নাজমা মোবারেক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত সব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অর্থাৎ ব্যাংক পরিচালনা, নজরদারি, পরিচালক ঋণ— সবই দেখভাল করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমরা বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ দেখি না। তাদের ঋণের তথ্য আমাদের কাছে আসে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি চায়, আমরা আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেব।’

  • নজরে মার্চেন্ট ব্যাংক

    নজরে মার্চেন্ট ব্যাংক

    প্রায় তিন দশকের পুরনো বিধিমালাকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ করে, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর যোগ্যতা-অযোগ্যতাসহ লাইসেন্সিং শর্ত, কার্যক্রম ও ফিডুশিয়ারি দায়িত্ব নির্ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬’ হালনাগাদ করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কমিশন।

    সম্প্রতি আইন বিভাগের সিএমআরআরসি ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি আদেশ জারি হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও ঝুঁকিভিত্তিক কাঠামোর আওতায় আনতে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।

    এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ১৯৯৬ সালের বিধিমালাটি অনেক পুরনো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেসব আপডেট প্রয়োজন, সেগুলো করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্চেন্ট ব্যাংকারের লাইসেন্সিংয়ের শর্ত, কার্যক্রম এবং যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়গুলো কী হওয়া উচিত, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এখানে মূল বিষয় হলো মার্চেন্ট ব্যাংকারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ। বিশেষ করে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে ফুল-ফ্লেজড মার্চেন্ট ব্যাংকার বলা হচ্ছে, তাদের কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফিডুশিয়ারি ডিউটি বা বিশ্বস্ততার দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়েই বিধিমালা হালনাগাদ করা হবে।

    বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিধিমালাটি হালনাগাদ করতে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক বিএসইসির পরিচালক মো. মাহমুদুল হক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা এবং সহকারী পরিচালক মেহরান আলী (সদস্য সচিব)। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাবসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনের কাছে।

    সূত্র বলছে, নতুন কাঠামোয় মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা, পেশাগত দক্ষতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন সক্ষমতার মানদণ্ড স্পষ্ট করা হবে। বিশেষ করে, ফুল-ফ্লেজড মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফিডুশিয়ারি দায়িত্ব কী হবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। গ্রাহকের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বার্থের সংঘাত, তথ্যের গোপনীয়তা, বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহির কাঠামো শক্তিশালী করা যেতে পারে।

    পাশাপাশি ইস্যু ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে করপোরেট বন্ড, সুকুক, এসএমই তালিকাভুক্তি এবং বিভিন্ন কাঠামোবদ্ধ আর্থিক পণ্যে কোন ধরনের মার্চেন্ট ব্যাংকার কী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে, তা স্পষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানভেদে সক্ষমতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় কার্যক্রম অনুমোদন সম্ভব হবে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজের সুযোগ দিয়ে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগাম নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ফলে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, পেশাগত মান ও বাজারের শৃঙ্খলা হবে শক্তিশালী।

    তথ্য বলছে, বর্তমানে কার্যকর ১৯৯৬ সালের বিধিমালাটি মূলত সেই সময়ের শেয়ারবাজারের কাঠামোকে সামনে রেখে তৈরি। এরপর বাজারের আকার, বিনিয়োগের ধরন ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন সময়ে সংশোধন আনা হলেও বিএসইসির ওয়েবসাইটে থাকা সংস্করণটি সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতা, নতুন আর্থিক পণ্য এবং পরিবর্তিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিধিমালাটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজন।

    নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের লাইসেন্সিং ও কার্যক্রমের সীমা স্পষ্ট হবে। বিনিয়োগকারীর অর্থ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব ও জবাবদিহি বাড়বে। দুর্বল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে নতুন আর্থিক পণ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার পথ তৈরি হবে।

  • অক্টোবরে ইসরাইলে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে ইরান

    অক্টোবরে ইসরাইলে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে ইরান

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নতুন কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করার আগেই তেহরানের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টতই এ লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন; শত্রু যখন পিছু হটার চেষ্টা করছে, তখন তার প্রধান কাজ কেবল নিজের অবস্থানে শক্ত হয়ে টিকে থাকা।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন আবার তেল পরিবহণ শুরু হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার তেহরানের যে চাল ছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো—যাদের ওপর তেহরান এতদিন হামলা চালিয়ে আসছিল—তারাও এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত গত সপ্তাহ থেকে আর্থিক লেনদেনসহ সব ধরনের লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

    কয়েক দশক ধরে তেহরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার প্রধান কেন্দ্র ছিল দুবাই; একই সঙ্গে ইরানের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসত এই শহরের মাধ্যমেই।

    এমনিতেই ব্যাপক বেকারত্ব আর নানা সংকটের মধ্যে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর ফলে দেশটির সাধারণ সেনাবাহিনীকে নিয়মিত বেতন দিতেও সরকার হিমশিম খাচ্ছিল।

    এখন এমনকি রেভল্যুশনারি গার্ডের ওপরও এর মারাত্মক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার কথা—যা এই শাসকগোষ্ঠীর আসল ভিত্তিকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেবে।

    শুক্রবার যে খবরটি এসেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। সপ্তাহে প্রায় ২০০টি জাহাজ (যা আরও বাড়ছে) এখন নিরাপদে যাতায়াত করছে, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি।

    অবশ্য এই হার এখনো যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে কম। তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উৎপাদন ও রপ্তানি পথের পরিবর্তনের বদৌলতে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এটি যথেষ্ট—যদিও জানুয়ারির স্তরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশিই রয়েছে।

    ইরানের নেতারা এখন আবার সেই পুরোনো ‘ভালো পুলিশ, খারাপ পুলিশ’ খেলা শুরু করেছেন। তাদের একদল প্রতিনিধি মুখে হুমকি-ধমকি দিয়ে ফেনা তুলছেন, আর আরেক দল দাবি করছেন যে, তারা শান্তি চান এবং আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে ওয়াশিংটন যদি এই ‘প্রস্তাবে’ সাড়া দেয়, তাহলে কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনায় বসার ভান করার আগেই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একের পর এক ছাড় আদায়ের দাবি তুলতে শুরু করবে।

    এই চালটি মূলত ট্রাম্পের দেশীয় সমালোচকদের তৈরি করা বয়ানকে সমর্থন দেওয়ার জন্যই চালাচ্ছ তেহরান। তাদের সেই বয়ানটি হলো—ইরানের নেতৃত্ব একটি স্থায়ী শান্তির জন্য উদগ্রীব ছিল, কিন্তু মার্কিন-ইসরাইল হামলার কারণে তথাকথিত মধ্যপন্থিরা মারা পড়েছেন এবং ‘কঠোরপন্থিরা ক্ষমতা দখল করেছে’। তাই এই কঠোরপন্থিদের হারাতে হলে বাকি ‘মধ্যপন্থিদের’ সঙ্গেই চুক্তি করতে হবে, যাতে তারা ‘চরমপন্ন্থিদের’ হটিয়ে দিতে পারে।

    ইরানের শাসকগোষ্ঠী কয়েক দশক ধরে এই এক কৌশল বারবার রূপ বদলে খেলে আসছে। কিন্তু পশ্চিমা উদারপন্থিরা (বিশেষ করে গণমাধ্যমগুলো) প্রতিবারই এই ফাঁদে পা দেয়, যদিও এই ‘ভালো পুলিশেরা’ বাস্তবে কখনোই কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

    গত সপ্তাহে দ্য পোস্টে মার্ক ডুবোউইৎস যেমনটা সতর্ক করেছিলেন—তেহরান এই কৌশলে শেষবারের মতো আরও একটি বড় ধরনের চাল চালতে পারে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ঠিক আগে, অক্টোবর মাসের শেষ দিকে তারা তাদের জমিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সাইবার সক্ষমতা ব্যবহার করে বড় ধরনের এক হামলা চালাতে পারে।

    তাদের উদ্দেশ্য থাকবে দুই দেশের ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যেন ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এতে তারা পেন্টাগনের বাজেট আটকে দেওয়ার সুযোগ পাবে এবং ট্রাম্পকে নতুন কোনো অভিশংসনের জটিলতায় ঝুলিয়ে রাখতে পারবে।

    ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের উচিত মার্কিন জনগণকে এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেভাগেই সতর্ক করা। তাদের বুঝিয়ে বলা দরকার যে, ইরান এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে; তবে তাদের হাতে এখনো কিছু ক্ষমতা বাকি আছে এবং তারা আমাদের মনোবল ভাঙার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

    বর্তমানে দুই পক্ষই মুখোমুখি লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে—সুতরাং, ওয়াশিংটনের জন্য এখন পিছিয়ে আসার বা চোখ সরানোর সময় নয়।

  • সরকারের ছয় মাস নিয়ে যে মূল্যায়ন করল সিপিডি

    সরকারের ছয় মাস নিয়ে যে মূল্যায়ন করল সিপিডি

    নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এখনো নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা উন্নতি হলেও রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের পর্যালোচনা তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে একটি মিশ্র চিত্র পাওয়া গেলেও নেতিবাচক প্রবণতার আধিক্য রয়েছে। এসব সমস্যার বড় অংশই কাঠামোগত।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের উপস্থাপনায় জানানো হয়, সরকারের প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়নে মোট ৩৬২টি পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে শাসন ও প্রশাসন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, জ্বালানি ও পরিবহন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ মোট ৯টি খাত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শুধু ঘোষণার পরিবর্তে বাস্তবে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকেই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

    মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি, কমেনি জীবনযাত্রার চাপ

    সিপিডির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

    তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি। পাশাপাশি প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক থাকায় মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি বলে মনে করছে সিপিডি।

    রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগে উদ্বেগ

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রাজস্ব সংগ্রহের দুর্বলতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে সময়ে মোট কর রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। ফলে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সিপিডি। এর ফলে উন্নয়ন ব্যয়, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতে কাটছাঁটের চাপ বাড়তে পারে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

    বিনিয়োগ পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছে সিপিডি। ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক হয়েছে। কমেছে নিট বিদেশি বিনিয়োগও।

    সিপিডির মতে, এসব সূচকে দ্রুত বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

    গ্যাস সংকটে ব্যাহত শিল্প উৎপাদন

    চলমান গ্যাস সংকটকে শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে সিপিডি। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা, বিকল্প এলএনজি কার্গো সংগ্রহে জটিলতা এবং সরবরাহ পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণে গ্যাসনির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব পড়েছে। মার্চ-এপ্রিল সময়ে শিল্প উৎপাদনের সাধারণ সূচক এবং উৎপাদনশিল্পের সূচক—দুটির প্রবৃদ্ধিই শূন্যে নেমে এসেছে। একই সময়ে শিল্প খাতে গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণও কমেছে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময়বদ্ধ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, কৌশলগত জ্বালানি মজুত, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর সুপারিশ করেছে সিপিডি।

    ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু হলেও আস্থা নিয়ে প্রশ্ন

    ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সরকারের কয়েকটি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। এর মধ্যে পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংক একীভূত করা এবং সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাংক রেজুলেশন আইন প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা, শীর্ষ পর্যায়ের নিয়োগ এবং ব্যাংক খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সিপিডির মতে, ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রয়োজন।

    রিজার্ভ বাড়লেও বহিঃখাতে চাপ

    বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করছে সিপিডি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে বিপিএম-৬ হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    তবে একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে গেছে। পাশাপাশি প্রবাসী আয় ও বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে দেখছে সিপিডি।

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতির কারণ কী

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে সিপিডি। এর মধ্যে রয়েছে সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কর্মসূচির অভাব, দুর্বল রাজস্ব ও আর্থিক কাঠামো, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যমূল্যে চাপ, প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ঘাটতি।

    সিপিডির মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে শুধু মূল্যস্ফীতি কমার মাধ্যমে মূল্যায়ন করলে চলবে না। মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার ও সুদের হারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দৃশ্যমান উন্নতি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি।

    সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির তাগিদ

    দীর্ঘায়িত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করতে আগামী অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত একটি বাস্তবসম্মত ‘মূল বাজেট’ বা কোর বাজেট প্রস্তুতের পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, এ বাজেট বাস্তব সময়ের তথ্য ও বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক কাঠামোর ভিত্তিতে তৈরি হওয়া উচিত।

    পাশাপাশি জ্বালানি, ব্যাংক সংস্কার, রাজস্ব প্রশাসন, উন্নয়ন ব্যয়ের যৌক্তিকীকরণ, নিরাপত্তা, সরবরাহব্যবস্থা ও ডিজিটালাইজেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে একটি সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং সংসদের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    সামগ্রিক মূল্যায়নে সিপিডি বলছে, সরকারের প্রথম ছয় মাসে কিছু সংস্কারমূলক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অর্থনীতির প্রধান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সংস্কার কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • উদ্ভাবন নির্ভর শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

    উদ্ভাবন নির্ভর শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী অর্জনের স্বীকৃতি প্রদান কেবল বিআইআরডিআই’র আওতাভুক্ত গবেষক ও উদ্যোক্তাদেরই নয়, বরং দেশজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে নিয়োজিত বৃহত্তর গবেষক ও উদ্ভাবক সমাজকেও ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

    তিনি বলেন, শিল্প খাতে উদ্ভাবন ও উন্নয়নে অবদান রাখা গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিসিপ) যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।

    সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন (বিআইআরডিআই) উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ দেশের শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পরিচালিত সিসিপের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্প উন্নয়নে উদ্ভাবনী অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব এবং সিসিপের জাতীয় প্রোগ্রাম পরিচালক ড. মো: খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

    তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় অর্থ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন বিআইআরডিআই উদ্যোগটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবমুখী ও শিল্পবান্ধব সমাধানের বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সক্ষমতা সুসংহতকরণ এবং দক্ষ জনশক্তির ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।

    তিনি আরো বলেন, বিআইআরডিআই উদ্যোগটি সিসিপের মূল লক্ষ্য ‘দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আলোকিত করা’- এর সাথে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে এডিবির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বক্তব্য রাখেন। তিনি কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের সাথে এডিবি’র দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে সিসিপের অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অনুষ্ঠানটি সফল ও সার্থকভাবে আয়োজনের জন্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিআইআরডিআই উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    বিআইআরডিআই উদ্যোগ শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।

  • সেপ্টেম্বরে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

    সেপ্টেম্বরে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

    সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ২৪ ডলারের বেশি দরে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

    অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৪.৬২৫ ডলারে কেনা হবে।

    এছাড়া ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.২৫ ডলার দরে আরো এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান (আরএফকিউ) প্রক্রিয়ায় সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক)-এর আওতায় প্রস্তাবটি কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। ক্রয়প্রক্রিয়া ও সুপারিশ করা দরদাতাদের প্রস্তাব বিবেচনার পর কমিটি তা অনুমোদন করে।

    বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ আমদানিকৃত এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বরের জন্য আরো দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিলো সরকার।

  • জনতা ব্যাংকের সংকট কাটাতে রূপরেখা তৈরির নির্দেশ

    জনতা ব্যাংকের সংকট কাটাতে রূপরেখা তৈরির নির্দেশ

    মারাত্মকভাবে আর্থিক সংকট ও অনিয়মে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসিকে ঘুরে দাঁড়াতে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    সভায় জানানো হয়, ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি (এনপিএল) হয়ে পড়েছে, যা সামগ্রিক ব্যাংক খাতের জন্য এক বিরাট উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া ব্যাংকটির মূলধন ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং চরম নেতিবাচক নিট ইন্টারেস্ট মার্জিন বা নেতিবাচক এনআইএমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভোগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাও ছিলেন। বৈঠকে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বড় শ্রেণিকৃত অ্যাকাউন্টগুলোর দ্রুত সুরাহা করা; খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা; নতুন বড় ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা; এসএমই, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে গুণগত ঋণ বিতরণ বাড়ানো; অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কালচার আরো শক্তিশালী করা।

    সভা সূত্র জানিয়েছে, খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ অল্পসংখ্যক প্রভাবশালী গ্রাহকের কাছে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এসব বড় অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে সময়াবদ্ধ ও আলাদা রেজুলুশন প্ল্যান তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুধু ঋণ পুনঃতফসিল বা মওকুফ নয়, ব্যাংকের তারল্য ও আয় বাড়াতে নগদ অর্থ আদায়কে আলাদা কেপিআই হিসেবে যুক্ত করতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া ওভারডিউ এক্সপোর্ট বিল এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং ঝুঁকি এড়াতে আরো কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুবাই বা ইউএই অপারেশন টিকিয়ে রাখা কিংবা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বন্ধ করার বিষয়ে দ্রুত পর্ষদকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে।

    উচ্চ ব্যয়ের আমানতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কম খরচে স্থিতিশীল আমানত ও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব বাড়াতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যমেয়াদি মূলধন পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। আটকে থাকা বড় মামলাগুলোর আইনি অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করা এবং প্যানেল আইনজীবীদের পারফরম্যান্স রিকভারির ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে জনতা ব্যাংককে দ্রুততম সময়ে ‘কৃষক কার্ড’ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’প্রস্তুত এবং বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুবছরের জন্য জনতা ব্যাংককে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় শ্রেণিকৃত অ্যাকাউন্টগুলোর দ্রুত সুরাহা করা, খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা, নতুন বড় ঋণ এড়িয়ে এসএমই, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে গুণগত ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কালচার আরো শক্তিশালী করা।

    এছাড়া বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে এমন একটি বাস্তবসম্মত ও পরিমাপযোগ্য রূপরেখা তৈরি করতে হবে, যেখানে স্পষ্ট থাকবে কী করা হবে, কে করবে, কতদিনের মধ্যে করবে এবং এর ফলাফল কী হবে।

    জনতা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান এম ফজলুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার আলোকে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করি আগামীতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

  • ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    নতুন করে আস্থার সংকট ও আমানত উত্তোলনের চাপের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫২.১৪ শতাংশ। দেশের ব্যাংক খাতে এটিই এখন সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

    এক সময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশই এস আলম গ্রুপ ও তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া, প্রকৃত ঋণচিত্র গোপন রাখা এবং পরে এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটি এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    বিপুল খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। প্রকৃত হিসাবে মূলধন ঘাটতিও প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। একইসঙ্গে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩১৬ কোটি টাকা। তারল্য সংকট, ব্যবসা কমে যাওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার কারণে সামনে ব্যাংকটির আর্থিক চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ব্যাংকের আর্থিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ৭,৭২৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪.৪২ শতাংশ। কিন্তু ওই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির প্রকৃত ঋণচিত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭,৭৫২ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ১০,৮৩ শতাংশ। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে তা আরো বেড়ে ৩২,৮১৭ কোটি টাকা বা ২১ শতাংশ হয়।

    ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৪৭,৬১৮ কোটি টাকা বা ২৭.৩৮ শতাংশ। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে জুন শেষে তা এক লাফে বেড়ে ১ লাখ ২,৭৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তখন ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬.৫৭ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়ে।

    পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬.২৭৫ কোটি টাকা বা ৫৮.২৪ শতাংশ। পরে বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধায় ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কমে ৯২,১১৫ কোটি টাকায় নামে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো সাধারণত ঋণ আদায়ে বিশেষ জোর দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নীতি সুবিধা ও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়। এর ফলে ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে আসে।

    তবে চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে আবারও বাড়তে শুরু করে খেলাপি ঋণ। মার্চ শেষে তা দাঁড়ায় ৯৫.৬২৯ কোটি টাকা। জুন শেষে আরো ৩.২৮৬ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৮.৯১৫ কোটি টাকায়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে দেওয়া বড় অঙ্কের বিতর্কিত ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা, পুনঃতফসিল করা ঋণ আবার খেলাপিতে পরিণত হওয়া এবং ঋণ আদায়ে ধীরগতির কারণেই খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে নতুন করে তারল্য ও আস্থার সংকট যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, মূলত ঋণগ্রহীতাদের পেমেন্ট বিহেভিয়ারের কারণেই এখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে। বিভিন্ন কারণে অনেক গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে যেভাবে কিস্তি পরিশোধ করার কথা, সেভাবে করতে পারছেন না। একটি বা একাধিক কিস্তি বকেয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী ওই ঋণকে শ্রেণিকৃত করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আগে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল বা অন্য ব্যবস্থায় নিয়মিত করা হয়েছিল, সেসব ঋণেও নির্ধারিত কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না হলে আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তায় অনেক ঋণের খেলাপি অবস্থা কমেছে। তবে কিছু ঋণগ্রহীতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

  • পানের জমিতে চুইঝাল চাষের নতুন সম্ভাবনা

    পানের জমিতে চুইঝাল চাষের নতুন সম্ভাবনা

    একসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রান্নার মসলা হিসেবে পরিচিত ছিল চুইঝাল। এখন সেই চুইঝাল ঢুকে পড়ছে রাজশাহীর কৃষকের মাঠেও। পরীক্ষামূলক চাষের ধাপ পেরিয়ে রাজশাহী ও নাটোরে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক চাষ। দাম ভালো, বাড়তি জমির প্রয়োজন নেই এবং পানের মতোই চাষপদ্ধতি হওয়ায় ফসলটি নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চান্দোপাড়ায় ইতিমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চুইঝাল চাষ করছেন কৃষক আব্দুর রশিদ মোল্লা। বাড়ির পাশে আমগাছের নিচে প্রায় ১০ শতক জমিতে চুইঝালের গাছ লাগিয়েছেন। জমিতে গাছগুলো বেশ সতেজ ও সবল হয়ে বেড়ে উঠছে।

    কৃষক আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, ‘মোহনপুর কৃষি অফিস ও রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের সহযোগিতায় চুইঝাল চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। পানের চাষের অভিজ্ঞতা থাকায় চুইঝালের পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ মনে হয়েছে। এখন পর্যন্ত গাছে কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন করে গ্রামের অন্য কৃষকদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চুইঝালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে। বাজারে দামও ভালো। আমাদের এলাকায় এখনো বড় বাজার তৈরি হয়নি। তবে হর্টিকালচার সেন্টার বাজারদরে চুইঝাল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।’

    কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মোহনপুরে পানের চাষ ভালো হওয়ায় চুইঝালের জন্য এলাকাটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। চুইঝালের চাষপদ্ধতিও অনেকটা পানের মতো। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এখানে পরীক্ষামূলকভাবে চুইঝালের চাষ শুরু করা হয়। প্রায় দুই বছর পর এর ফলন ও গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হওয়ায় এখন চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    চুইঝাল মূলত লতাজাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর কাণ্ড, শিকড় ও ডাল রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে গরু, খাসি, হাঁস ও মুরগির মাংসে চুইঝালের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। রান্নায় এটি যোগ করলে খাবারে ঝাঁঝালো স্বাদ ও আলাদা ঘ্রাণ তৈরি হয়।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে চুইঝাল দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মসলা। বাজারেও এর চাহিদা বাড়ছে। মানভেদে শুকনা চুইঝাল প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। কাঁচা ও শুকনা দুই অবস্থাতেই বাজার রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস এখন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে চুইঝালের সঙ্গে তেমন পরিচয় ছিল না। স্থানীয়ভাবে চাষ হচ্ছে জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজ নিয়ে এর জনপ্রিয়তার কথা জানতে পারি। আমাদের এলাকায় যখন চুইঝাল হচ্ছে, আমরাও এখন মাংসে দিয়ে খেয়ে দেখব।’

    শুধু উৎপাদন নয়, চারা নিয়েও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক শামীম ইকবাল জানান, সেখানে চুইঝালের চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি চুইঝালের কাটিং চারা ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

    তবে চুইঝাল চাষের জন্য তুলনামূলক উঁচু জমি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

    রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ছাইয়্যেদা দিল ছালিন বলেন, ‘মোহনপুরে পরীক্ষামূলকভাবে চুইঝাল দেওয়ার পর ফলন ও বৃদ্ধি ভালো পাওয়া গেছে। নাটোরেও চাষ হচ্ছে। পান ও চুইঝালের চাষপদ্ধতিতে মিল থাকায় মোহনপুরকে চাষ সম্প্রসারণের জন্য উপযোগী মনে করা হয়েছে।’

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশায় নতুন ভাইরাস

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশায় নতুন ভাইরাস

    ফিচার:

    বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে অনলাইন কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং ও কর্মক্ষেত্রÑপ্রায় সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবার লেখা, ছবি বা সফটওয়্যার তৈরির গণ্ডি পেরিয়ে জীববিজ্ঞানের আরো গভীরে প্রবেশ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে এমন নতুন ভাইরাসের জিনোম নকশা তৈরি করেছেন, যেগুলো গবেষণাগারে কার্যকর ব্যাকটেরিওফাজ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ, এআইয়ের তৈরি জিনগত নকশা ব্যবহার করে এমন ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে এবং ধ্বংস করতে পারে।

    এই গবেষ

    ণার কেন্দ্রে রয়েছে Evo সিরিজের জিনোম-ভাষা মডেল। এর আগের সংস্করণ Evo-1 এবং পরবর্তী আরো উন্নত সংস্করণ Evo-2 জিনগত তথ্যের কাঠামো ও সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে নতুন ডিএনএ সিকোয়েন্স তৈরির জন্য তৈরি করা হয়েছে। Stanford-এর তথ্য অনুযায়ী, Evo-এর প্রাথমিক প্রশিক্ষণে লাখ লাখ প্রোক্যারিওটিক ও ফাজ জিনোম এবং বিপুল পরিমাণ ডিএনএ সিকোয়েন্স ব্যবহার করা হয়েছিল। মানুষের সংক্রমণ ঘটাতে পারেÑএমন ভাইরাসের জিনোম প্রশিক্ষণ ডেটা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

    গবেষণায় ব্যাকটেরিওফাজ ΦX174-কে একটি জৈবিক রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে এআইকে এমন নতুন জিনোম নকশা তৈরি করতে বলা হয়, যা Escherichia coli বা E. coli ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে। উদ্দেশ্য ছিল প্রাকৃতিক কোনো ভাইরাসের হুবহু অনুলিপি তৈরি করা নয়; বরং জিনোমের কার্যকর কাঠামো অনুসরণ করে নতুন সিকোয়েন্স তৈরি করা। শত শত নকশার মধ্যে কার্যকর হলো মাত্র ১৬টি। এআই বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য জিনোম নকশা তৈরি করার পর গবেষকরা সেগুলোর একটি নির্বাচিত অংশ পরীক্ষাগারে সংশ্লেষণ ও পরীক্ষা করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, প্রায় ৩০০টি নকশা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়; এর মধ্যে ১৬টি কার্যকর ব্যাকটেরিওফাজে পরিণত হয়। এসব ফাজ E. coli সংক্রমিত করতে এবং ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমাতে সক্ষম হয়।

    এআইয়ের তৈরি প্রতিটি নকশা কার্যকর হয়নি। বরং বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য নকশার তুলনায় কার্যকর ফল পাওয়া গেছে খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে। ফলে গবেষণাটি এখনো মূলত proof of concept বা ধারণাটির বাস্তব কার্যকারিতার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    গবেষকদের লক্ষ্য ছিল ব্যাকটেরিয়া

    গবেষণায় তৈরি ভাইরাসগুলো ব্যাকটেরিওফাজÑঅর্থাৎ এমন ভাইরাস যেগুলো ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। এগুলো মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়নি। গবেষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জিনগত তথ্য প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দিয়েছেন, যা মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে এ ধরনের প্রযুক্তির কোনো ঝুঁকি নেই। বরং গবেষণাটি দেখিয়েছে, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে কম্পিউটারে তৈরি একটি জিনোমকে বাস্তব জৈবিক ব্যবস্থায় কার্যকর করা সম্ভব। আর এখানেই ভবিষ্যৎ বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

    অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী

    গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো ফাজ থেরাপি। ব্যাকটেরিওফাজ নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ করে ধ্বংস করতে পারে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো নির্দিষ্ট ও কার্যকর ফাজ তৈরির ক্ষেত্রে এআইনির্ভর জিনোম নকশা তৈরির নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

    তবে ফাজ থেরাপি এখনো সব ধরনের সংক্রমণের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না। কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট রোগীর জন্য উপযুক্ত ফাজ নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের মতো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। এআই দিয়ে কার্যকর ভাইরাসের জিনোম নকশা করার সক্ষমতা ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও জীবপ্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি ভুল হাতে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যায়।

    জৈবনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই যত দ্রুত জিনোম নকশার সক্ষমতা অর্জন করছে, সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা, গবেষণা-নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও উন্নত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কম্পিউটারে তৈরি জিনগত নকশা থেকে বাস্তব জৈবিক উপাদান তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত যাচাই ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। Stanford-এর গবেষকদের মতে, এই কাজ দেখাচ্ছে যে জেনারেটিভ মডেল শুধু বিদ্যমান জিনগত তথ্য বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা নতুন জিনোমের নকশাও প্রস্তাব করতে পারে এবং সেসব নকশার কিছু বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা দেখাতে পারে।এই গবেষণা দ্বারা প্রথমবারের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছেÑএআই ভবিষ্যতে জীববিজ্ঞানের নকশা ও পরীক্ষার কাজে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। একদিকে এটি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে। ফলে এআইনির্ভর জীববিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের পাশাপাশি দায়িত্বশীল গবেষণা, বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

  • অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ০.৬৯ শতাংশ

    অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ০.৬৯ শতাংশ

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ব্যয় করেছে ২ হাজার ১২১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হারও ছিল ০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে এ হার ছিল ১ দশমিক ০৫ শতাংশ।

    সোমবার প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরে সরকারি সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ এডিপিতে মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সেতু বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয় রয়েছে। এছাড়া ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়ন হার ছিল ১ শতাংশের নিচে।

    জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সরকারি কর্মকমিশন। সংস্থাটির বাস্তবায়ন হার ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। এরপর সংসদবিষয়ক সচিবালয় ৬ দশমিক ৬৯ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

    পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, অর্থবছরের শুরুতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বেশি সময় দেয়। ফলে এ সময়ে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ সাধারণত কম থাকে। পরবর্তী মাসগুলোতে বাস্তবায়ন বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

    এদিকে এডিপি বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে আইএমইডিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত পর্যালোচনা সভা করার উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো বাধা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

  • আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্যে আছি’: পেজেশকিয়ান

    আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্যে আছি’: পেজেশকিয়ান

    ইরান বর্তমানে একটি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে তাঁর সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রোববার (২৩ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থায় প্রচারিত টেলিভিশন ভাষণের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারী সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায় পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা বর্তমানে এক সর্বাত্মক অর্থনৈতিক, সামরিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

    অর্থনৈতিক সংকট ও ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা

    দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করে ইরানি প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ দূর করতে না পারায় তাঁর সরকার এক রকমের ‘লজ্জা’ অনুভব করছে।

    ভাষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতির সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ট্রাম্প খুব সহজেই বলে দেন যে তারা ইরানের ওপর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বা ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।’ চলমান পরিস্থিতিকে একটি ‘অসমান যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বৈরী চাপ থাকা সত্ত্বেও ইরান শক্তভাবে মাথা উঁচু করে টিকে আছে এবং ইরানি জনগণের সেবা দিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

    শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে পেজেশকিয়ান বলেন, “শত্রুপক্ষ ভেবেছিল ইরানের পতন হলে তা ভেনেজুয়েলায় পরিণত হবে। কিন্তু তা তো হয়ইনি, বরং নিজের প্রতিরোধ, সংহতি ও অভূতপূর্ব একতা দিয়ে ইরান বিশ্বকে বাক্‌রুদ্ধ করে দেওয়ার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।”

    অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও স্থবির আলোচনা

    অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাজন, সংঘাত ও ব্যক্তিস্বার্থ দূরে ঠেলে দিয়ে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে ইরানি প্রশাসন সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে উপনীত হওয়া।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে সমঝোতা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই দেশের এই কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে থমকে রয়েছে।

  • আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প জ্বালানিতে যেতে চায় সরকার

    আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প জ্বালানিতে যেতে চায় সরকার

    তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার ও কয়লাতেও জোর দিচ্ছি।’

    রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে গতকাল এক সেমিনারে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজক ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

    সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে মজুদকৃত কয়লা উৎপাদনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই সেদিকে যেতে হবে। সেখানেও ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

    স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক না কেন, সেগুলো নিরসন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, সরবরাহ চেইন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য বজায় থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে নিম্নমুখী ঋণপ্রবাহ অর্থনীতির জন্য খুবই উদ্বেগজনক। এ পরিপ্রেক্ষিতে রফতানিতে লিডটাইম কমাতে শিল্পাঞ্চলগুলোর সব ধরনের সেবার নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছি। এখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি পরিলক্ষিত হবে না।’

    অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রে মূল্যস্ফীতি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় নেমে আসেনি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতার পাশাপাশি শিল্প খাতও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।’

    পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, ‘আমাদের নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বেশ ফারাক রয়েছে। ফলে যেকোনো সিদ্ধান্তের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাই না আমরা। রফতানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আমরা যতটা উদার, পণ্য আমদানিতে ততটাই কঠিন নীতিমালা। এর ফলে আমদানিতে উচ্চ শুল্কহার বজায় থাকছে এবং স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্যও বাড়ছে।’

    বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিপ্লব ঘটাতে হবে বলে মনে করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাজেটে ভালো কিছু উদ্যোগ রয়েছে, কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেটির প্রতিফলন নেই। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি।’

    নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করা বেশ কঠিন। তাই ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই।’

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না। এজন্য নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি লজিস্টিকস খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে।’

    ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সীমিন রহমান বলেন, ‘বাজেটে ব্যবসাসহায়ক নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। এজন্য উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের অধিক হারে ঋণ গ্রহণই প্রধানত দায়ী।’

    অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, আবুল কাসেম খান, বেনজীর আহমেদ, রিজওয়ান রাহমান প্রমুখ।

  • পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

    পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

    পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ লক্ষ্য অর্জনে নীতিমালা সংস্কার, আমদানি সহজীকরণ এবং আধুনিক কারখানা ও ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

    ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল ২০২৬’-এ অনুষ্ঠানে গতকাল লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাজুসের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাজুস দেশের প্রায় ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

    বাজুস জানায়, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বমানের জুয়েলারি রফতানি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শিল্পটির অন্যতম বাধা হিসেবে নীতিমালার অস্পষ্টতাকে চিহ্নিত করে বলা হয়, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে স্থানীয় বাজারে ভরিপ্রতি অন্তত ৩০ হাজার টাকা কম দামে অলংকার বিক্রি করা সম্ভব।

    ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে আশা করছে বাজুস। একই সঙ্গে বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার ৫০০-৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। পাশাপাশি দেশের মোট স্বর্ণের মজুদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

    দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে বাজুস। এসব কারখানায় ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ ও এক লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জিডিপিতে অতিরিক্ত দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

    এ ছাড়া ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রফতানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ও আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কহার কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবিত ‘স্বর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন করা গেলে ৫-১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রফতানি সম্ভব হবে বলে জানায় বাজুস।

    বাজুসের বক্তব্যে বলা হয়, যুগোপযোগী নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।

    বক্তব্যের শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সুধীজন এবং কার্নিভাল আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আজাদ আহমেদসহ বিভিন্ন উপকমিটির সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

  • দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরলেন ড. তিতুমীর

    দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরলেন ড. তিতুমীর

    গভীর সঙ্কট থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনে তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

    সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর আওতায় এই তিন ধাপ হলো রিকভারি বা পুনরুদ্ধার, রেস্টোরেশন বা পুনঃস্থাপন এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন বা ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন।

    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিতুমীর বলেন, ‘এই তিন ধাপ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে এনে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া হবে।’

    প্রথম ধাপ ‘রিকভারি’ বা পুনরুদ্ধারের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার এবং সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা।

    তিনি বলেন, ‘এ পর্যায়ে সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার দীর্ঘদিনের জমে থাকা অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করা। এর মধ্যে রয়েছে ঋণের চাপ, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, তারল্যসঙ্কট, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং অর্থনীতির ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা।’

    এ লক্ষ্যে সরকার রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় জোরদার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তিতুমীর বলেন, ‘গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয় ১২ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশ।’ এটিকে রাজস্ব খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তিনি।

    সরকার বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, টাকার মূল্যমান শক্তিশালী হওয়া, প্রবাসী আয় বাড়া এবং সুদের হার কমে আসাকেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা।

    তিন ধাপের দ্বিতীয় পর্যায় ‘রেস্টোরেশন’ বা পুনঃস্থাপনের লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে শুধু স্থিতিশীল করা নয়, বরং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া।

    তিতুমীর বলেন, ‘এ পর্যায়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।’

    বিধিনিষেধ ও অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং প্রস্তাবিত ‘ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক’ পদ্ধতির মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একইসাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    তিনি বলেন, ‘উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়া থেকে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসব বিনিয়োগের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’

    সরকার এমন বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, যা উৎপাদন বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং রফতানি সক্ষমতা শক্তিশালী করবে। বিপরীতে ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর প্রকল্পে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হবে না।

    অগ্রাধিকার খাত হিসেবে কৃষি ও কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশলকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    পুনঃস্থাপন পর্যায়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামাজিক উন্নয়নকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

    তৃতীয় ধাপ ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’ বা দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করা এবং অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করা।

    তিতুমীর বলেন, ‘পুনরুদ্ধার ও পুনঃস্থাপন পর্যায়ে অর্জিত অগ্রগতিকে টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পুনর্গঠন অপরিহার্য।’

    এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কৌশল অনুযায়ী প্রথমে জ্বালানি খাতের তাৎক্ষণিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে। এরপর অর্থনীতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

    পরবর্তী পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    তিতুমীর বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন আর শুধু গ্রাহক নন, তিনি একজন উৎপাদকও।’

    তার মতে, এই তিন ধাপকে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, এরপর উৎপাদন সক্ষমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং সবশেষে দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।

    বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অতীত অর্থনৈতিক রূপান্তর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিতুমীর।

    তিনি বলেন, ‘সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। পরবর্তী সময়ে নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাক খাতের বিকাশও দেখিয়েছে, কীভাবে কৌশলগত নীতিগত সিদ্ধান্ত কাঠামোগত দুর্বলতাকে অর্থনীতির শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।’

    বর্তমান কৌশলের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তিগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সরকারের প্রথম ১৮০ দিনকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পদচিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সঙ্কট ব্যবস্থাপনার পর্যায় থেকে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, উৎপাদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির পথে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’ এই তিন ধাপের কাঠামো মূলত হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার, অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলার একটি রূপরেখা।

  • ইসরাইলিদের উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধের আহ্বান

    ইসরাইলিদের উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধের আহ্বান

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান ও লেবার পার্টির এমপি এমিলি থর্নবেরি। তিনি বলেছেন, ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ এবং সেখানে সহিংসতা বন্ধে শুধু ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়; বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যও বন্ধ করা প্রয়োজন।

    থর্নবেরি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণের কারণে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ অর্থ যেন এসব বসতি সম্প্রসারণে ব্যবহৃত না হয়, সে জন্য বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করা দরকার।

    তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা বর্তমানে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা হলে তা ইসরাইলি সরকারের ওপর চাপ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    এর আগে জুনে প্রায় ১৪০ জন লেবার এমপি পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে ব্রিটিশ সরকার এখনো এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেনি।

    ব্রিটিশ সরকার অবশ্য ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন বসতি প্রকল্পেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। সরকার জানিয়েছে, বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।

  • বৃটেনের সহায়তা কমছে ৫০ শতাংশের বেশি

    বৃটেনের সহায়তা কমছে ৫০ শতাংশের বেশি

    বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কমিয়ে দেয়ায় বাংলাদেশে বৃটেনের অর্থায়নে পরিচালিত সুন্দরবনভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকল্পটির আওতায় থাকা প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রত্যাশিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ইতোমধ্যে নেয়া কিছু উদ্যোগও কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়বে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


    বৃটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ২০২৩ সালে সুন্দরবন এলাকায় প্রকল্পটি শুরু করে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলার কথা থাকা প্রকল্পটির আওতায় সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মাছ চাষের প্রযুক্তি এবং ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। লক্ষ্য ছিল ৫৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো। কিন্তু অর্থ কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত

    প্রকল্পটির জন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার কথা থাকলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এর তুলনায় ‘অনেক কম’ অর্থ পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের জুনের মধ্যে প্রকল্প বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। পরে তদবিরের পর সময়সীমা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের প্রকল্পটি বৃটেন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহায়তা কমানোর বৃহত্তর সিদ্ধান্তের অংশ। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশে বৃটেনে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা ৬৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে কমে ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডে নামবে- অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি কমছে।
    একই সময়ে বৃটেনের সামগ্রিক বৈদেশিক সহায়তা বাজেট জিএনআইয়ের ০.৫ শতাংশ থেকে ০.৩ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক প্রধান তামান্না রহমান বলেন, আকস্মিকভাবে প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তৈরি হওয়া আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রকল্পের সুফল টেকসই করার সুযোগও কমে গেছে।

    এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা বিনা মণ্ডল একটি সৌর প্যানেল পেয়েছেন। এতে রাতেও কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তার পরিবারের মাছ ধরার আয় মাসে প্রায় ২-৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪-৫ হাজার টাকায় উঠেছে। আরেক বাসিন্দা বাসন্তী মণ্ডল সৌরচালিত ধান ভাঙানোর মেশিন পেয়ে বাড়িতে বসে আয় করার সুযোগ পেয়েছেন।


    প্রকল্প বন্ধের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেঁদেছেন, আবার কেউ বুঝতে পারেননি- যখন উদ্যোগগুলো সুফল দিতে শুরু করেছে, তখন কেন সহায়তা বন্ধ হচ্ছে।


    এ ছাড়া বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে ১৪০ জন উদ্যোক্তার একটি প্রকল্প নিয়ে। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও এখন প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে তারা আবার ‘শূন্য অবস্থায়’ ফিরে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন।


    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বলছে, প্রকল্পের ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে নতুন অনুদান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের নোটিশে প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ায় নতুন অর্থায়ন খোঁজার সময়ও পাওয়া যায়নি।


    বৃটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটির চেয়ার সারাহ চ্যাম্পিয়ন বলেছেন, এভাবে প্রকল্প দুই বছর আগে বন্ধ করে দেয়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিম্নআয়ের দেশগুলোর পাশে থাকার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। এতে বৃটিশ করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং লন্ডনের আন্তর্জাতিক সুনাম- দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    অন্যদিকে বৃটেনের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস তথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এফসিডিও) বলেছে, তারা উচ্চমাত্রার অনুদানভিত্তিক বৈদেশিক সহায়তা থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্বে বেশি গুরুত্ব দেবে।
    তাদের দাবি, এর মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, অর্থায়ন বাড়ানো এবং সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

  • ২০২৫ সালে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা যৌন নিপীড়নের শিকার

    ২০২৫ সালে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা যৌন নিপীড়নের শিকার

    মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ২০২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবে দুই বছর আগে এ সংখ্যা আরো বেশি ছিল । শুক্রবার প্রকাশিত পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিপীড়নের এ চিত্র দেখা দেখা গেছে। ২০২৫ অর্থবছরের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদনটি নিয়মিত প্রকাশ করতে হয়।

    প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ফলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই জরিপে সামরিক বাহিনীতে অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ, যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের পরিস্থিতি পরিমাপ করা হয়। সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট সময় পরপর এ ধরনের জরিপ পরিচালনা করে, যাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়নি—এমন ঘটনাগুলোরও একটি আনুমানিক চিত্র পাওয়া যায়।

    সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারীদের মধ্যে ২০২৩ সালে যেখানে যৌন হয়রানির আনুমানিক হার ছিল ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।

    তবে যৌন নিপীড়নের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর হার বেড়েছে। ২০২৩ সালে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সদস্যদের মধ্যে আনুমানিক ২৫ শতাংশ ঘটনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছিল। ২০২৫ সালে এ হার বেড়ে ৩৩ শতাংশ হয়েছে।

    পেন্টাগনের ভাষ্য, ভুক্তভোগী সদস্যদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে এবং অভিযোগের তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ঘটনাগুলো জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

    যুদ্ধবিষয়ক দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মূল্যবোধ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতির ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি এসব মূল্যবোধকে দুর্বল করে, সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করে এবং সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে।

    তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি সামরিক সদস্যদের সুরক্ষা, উচ্চমানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলার বিষয়ে দপ্তরের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২০ হাজার ৪৯২ জন ভুক্তভোগীর সংখ্যা সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যার সঙ্গে এক নয়। জরিপভিত্তিক এ হিসাবের উদ্দেশ্য হলো সামরিক সদস্যদের এমন অভিজ্ঞতাও শনাক্ত করা, যেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

    শুক্রবারের ঘোষণায় পেন্টাগন সামরিক বাহিনীর শাখাভিত্তিক হিসাব, ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত জনমিতিক তথ্য কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে বিভিন্ন পরিসংখ্যান, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের বিশ্লেষণ এবং যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি প্রতিরোধে নেওয়া কর্মসূচি ও ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগের হালনাগাদ তথ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    এদিকে যৌন নিপীড়নসহ গুরুতর কিছু অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে মার্কিন কংগ্রেস। এর ফলে এসব মামলার বিচার সামরিক বাহিনীর প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর পরিবর্তে স্বাধীন সামরিক প্রসিকিউটরদের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালে যৌন নিপীড়নের আনুমানিক হার ও ভুক্তভোগীর সংখ্যা কমে আসাকে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও, ২০ হাজারের বেশি সদস্যের আক্রান্ত হওয়ার হিসাব থেকে স্পষ্ট যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন এখনো একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

  • অবসরের টাকা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশ

    অবসরের টাকা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশ

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী এখনো অবসর সুবিধা পাননি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বোর্ডে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। ইনডেক্স নাম্বার, আবেদন আইডি নাম্বারসহ অন্যান্য তথ্য জমা দিতে হবে।

    সম্প্রতি শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, অবসর সুবিধা বোর্ডে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই পর্যন্ত জমাকৃত আবেদনগুলোর মধ্যে যে সব শিক্ষক, কর্মচারী অবসর সুবিধা পাননি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবসর সুবিধা বোর্ডে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

    শিক্ষক, কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব সচল করে হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট। শিক্ষক, কর্মচারীর এনআইডি কপি। শিক্ষক, কর্মচারীর (নিজ) এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নাম্বার। মৃত্যুজনিত আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন মৃত্যু সনদ, ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ক্ষমতা হস্তান্তর পত্র, ওয়ারিশ সনদ, নমিনির ব্যাংক হিসাব সচল করে হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নমিনির এনআইডি ও নমিনির (নিজ) এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নাম্বার। ইনডেক্স নাম্বার, আবেদন আইডি নাম্বার এবং জমার তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

    রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের প্রবাসী কল্যাণ ভবনের অবসর সুবিধা বোর্ডের অফিসে এসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে। স্কুলের শিক্ষকদের ১৪১৫ ও ১৪২১, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষকদের ১৪১৬ ও ১৪২১, মাদ্রাসার জন্য ১৪১৩ ও ১৪২১ নম্বর কক্ষে কাগজপত্র জমা দিতে হবে।বিশেষ সতর্কীকরণ: অবসর ভাতা পেতে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। দালাল, প্রতারক এবং মধ্যস্বত্বভোগীর খপ্পরে পড়বেন না। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

  • এসবিএসি ব্যাংকে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন শীর্ষক কর্মশালা

    এসবিএসি ব্যাংকে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন শীর্ষক কর্মশালা

    এসবিএসি ব্যাংক পিএলসিতে ‘ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এস. এম. মঈনুল কবীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় রিসোর্স পারসন ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি পলিসি অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-৫-এর অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

    কর্মশালায় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ভূঁইয়াসহ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী, বিভাগীয় প্রধান, শাখা ব্যবস্থাপক এবং উপশাখার ইনচার্জরা সশরীরে ও অনলাইনে উপস্থিত করেন।

  • বাণিজ্যিক জাহাজে মাছ আহরণ কিছুটা বাড়লেও ইলিশে ধস

    বাণিজ্যিক জাহাজে মাছ আহরণ কিছুটা বাড়লেও ইলিশে ধস

    অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ইলিশ আহরণে বড় ধরনের ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোট আহরণ কিছুটা বাড়লেও ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে আহরণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, মাছের মজুদ কমে যাওয়া, সরকারি নিষেধাজ্ঞা, ঝড়, সমুদ্রদূষণ, জেলিফিশের আধিক্য এবং নতুন বিনিয়োগের অভাব এ খাতের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭ টন সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়। পরের অর্থবছরে তা কমে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮০৪ টনে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আহরণ হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৫০ টন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৩২৫ টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আহরণ বেড়েছে ১৩ হাজার ২৮ টন বা ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের রেকর্ড আহরণের তুলনায় সর্বশেষ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৫৮ দশমিক ৬৭৫ টনে বা ১১ দশমিক ২০ শতাংশ।

    অন্যদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্যিক জাহাজে ৮ হাজার ১৩৮ টন সামুদ্রিক ইলিশ আহরণ হলেও বিদায়ী অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১ হাজার ৮২৩ টনে। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে আহরণ কমেছে ৬ হাজার ৩১৫ টন বা ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ হাজার ৩৬৮ টন ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৭৯০ টন ইলিশ আহরণ হয়েছিল।

    জানা যায়, দুই-তিন দশক আগেও দেশের সমুদ্র থেকে প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছ আহরণ করা হতো, বর্তমানে তা ৫০টিতে নেমে এসেছে। ফলে সামুদ্রিক জলসীমা বড় হলেও মাছের বৈচিত্র্য ও প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য প্রজাতির আহরণেও রয়েছে ওঠানামা। সর্বশেষ অর্থবছরে ৪০ হাজার ১৩৫ টনের বেশি সার্ডিন আহরণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় এ আহরণ বেড়েছে ১১ হাজার ৫৭১ টন বা ৪০ দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সার্ডিন আহরণ হয়েছিল রেকর্ড ৫০ হাজার ৭৮৩ টন।

    চিংড়ির আহরণও গত তিন অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টাইগার বা বাগদা, হোয়াইট বা চাদা/সাদা এবং ব্রাউন বা হরিণা জাতের চিংড়ি আহরণ হয় ৩ হাজার ৪৭৭ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২২ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চিংড়ির আহরণ বেড়েছে ৪৫৫ টন বা ১৫ শতাংশ। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ৫ হাজার ৬৪৬ টন ক্যাটফিশ আহরিত হলেও সর্বশেষ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ৩ হাজার ৫০৪ টন।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চইক্যা ও বড় চইক্যা মাছ আহরিত হয়েছে ১৭ হাজার ৩৭৮ টন। এছাড়া পোয়া বা ভোলা ৪ হাজার ১৪০ টন, ছুরি ৬ হাজার ৩৩৮, দাতিনা ৪৬, আইলা ৫ হাজার ৩৩০, ষোল ২২৯, লাল কোরাল ২৬০, রূপচাঁদা ৮৪২, রূপবান ৫ হাজার ৮৯৪, বাইন ৩৩৮ ও হাঙর ১৪৭ টন আহরিত হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের টুনা, নারকেলী, স্কুইডসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও বাণিজ্যিক জাহাজে আহরণ করা হয়।

    মৎস্য অধিদপ্তরের সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসাইন সাগর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ সর্বশেষ অর্থবছরে কিছুটা বেড়েছে। তবে যারা সমুদ্রে মাছ আহরণে যাবেন, তাদের মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। মাছের মজুদ বাড়াতে সব মাছ আহরণ করা ঠিক নয়। মাছ আহরণ হঠাৎ কমে বা বেড়ে যাওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। তাই মাছ আহরণ স্থিতিশীল রাখা উচিত। মাছের মজুদের পরিমাণ জানা গেলে কতটুকু মাছ ধরা যাবে, সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব।’

    সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজ মাছ ধরার অনুমতি পেলেও নিয়মিত মাছ আহরণে যাচ্ছে ২৩২টি। বাকি ৩৮টি জাহাজ মালিকানা জটিলতা, অপারেশনাল ও আর্থিক সংকট, লোকবলসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে সমুদ্রে যেতে পারছে না। নিয়মিত যাওয়া ২৩২টি জাহাজের মধ্যে স্টিলের ১৭০টি ও কাঠের ৬২টি।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকটি জাহাজ এক বা দুই ট্রিপ যাওয়ার পর আর্থিক সংকটের কারণে আর সমুদ্রে যেতে পারছে না। মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ৩০ হাজার ২২১টি বোটের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ ২৭০টি এবং ছোট নৌযান বা আর্টিশনাল বোট ২৯ হাজার ৯৫১টি। এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ২৬৯টি নৌযানের নিবন্ধন হয়েছে। এসব নৌযানে মোট ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮১৯ জন মানুষ কাজ করেন। তবে সমুদ্রে মাছ আহরণে ব্যবহৃত আর্টিশনাল বোটের প্রকৃত সংখ্যা ৬৮-৭০ হাজার বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    বাণিজ্যিক জাহাজসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামুদ্রিক এলাকা বড় হলেও সব জায়গায় মাছ আহরণ করা যায় না। মাছের প্রজাতিও অনেক কমে গেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা, সমুদ্রে অস্থিরতা, ঝড়, জাহাজ মেরামত ও সমুদ্রদূষণের কারণে জেলিফিশের আধিক্য—সব মিলিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ১৭০-১৮০ দিন মাছ আহরণ করা সম্ভব হয়।

    তাদের ভাষ্য, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে মাছ আহরণ করে। এর বাইরে আরো গভীরে গিয়ে মাছ ধরার সক্ষমতা নেই। ফলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের অধিকার থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

    দেশে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মাছ ধরার জাহাজের দৈর্ঘ্য ৪৭ মিটার। একটি জাহাজ একবার মাছ ধরতে গেলে জ্বালানি, খাবার, বেতনসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ২৫ দিনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু সমুদ্রে গিয়ে এখন আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। নতুন জাহাজ নির্মাণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি এ খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও তা হচ্ছে না।

    বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সমুদ্রে সর্বশেষ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত দুই থেকে আড়াই মাসে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মাত্র ১৪ দিন মাছ ধরতে পেরেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে জেলিফিশের আধিক্যের কারণে মাছ ধরা যায় না।’

    তিনি বলেন, ‘বছরে বিভিন্ন কারণে তিন মাস সরকারি নিষেধাজ্ঞা, প্রায় দুই মাস ঝড় এবং অন্যান্য সমস্যা মিলিয়ে প্রায় ছয় মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এর ওপর গত কয়েক বছরে সমুদ্রদূষণের কারণে জেলিফিশের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মাছের প্রাপ্যতাও কমেছে।’

    একটি বাণিজ্যিক জাহাজ একবার মাছ ধরতে গেলে প্রায় এক মাসের প্রস্তুতি নিতে হয় এবং এতে বড় অংকের অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু সমুদ্রে যাওয়ার পর নানা সংকটের কারণে জাহাজগুলোকে ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে মাছ আহরণ যে বেড়েছে, সেটি খুবই সামান্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এনাম চৌধুরী আরো বলেন, ‘এত বড় সমুদ্রের গভীরে গিয়ে মাছ আহরণের সক্ষমতা এখনো দেশের তৈরি হয়নি। তবে সমুদ্রে মাছ আহরণ বেড়ে যাওয়াও সব সময় ভালো নয়। সমুদ্রের মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এজন্য সমুদ্রদূষণ কমাতে কাজ করতে হবে, যাতে মাছের অভয়াশ্রমের কোনো ক্ষতি না হয়। অতিরিক্ত মাছ আহরণ করা যাবে না। পাশাপাশি অবৈধ নৌযানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। মাছের প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সময়সীমা পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কিনা, সে বিষয়েও সরকারকে কাজ করতে হবে।

  • তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

    তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

    ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন: এনগেজিং অ্যান্ড ইনস্পায়ারিং ইয়ুথ ইন ব্যাংকিং’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব। এতে তরুণদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা, স্বাধীনভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সঞ্চয়ের অভ্যাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রাইম ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে হবে।’ এ ধরনের আয়োজনের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব ও প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এমএম মাহবুব হাসান মূল বক্তব্যে আর্থিক সাক্ষরতা ও স্মার্ট মানি ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের স্বাস্থ্যকর আর্থিক অভ্যাস গড়ে তোলা, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, নিয়মিত সঞ্চয়, সচেতন আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’ এ সময় তিনি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ‘গ্র্যান্ডফাদার কনসেপ্ট অব পারসোনাল মানি ম্যানেজমেন্ট’ ধারণাটিও তুলে ধরেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ‘গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে ব্যাংক খাতে আরো কার্যকর ও যুগোপযোগী উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্র ও আর্থিক খাত সম্পর্কে ধারণা দেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশন মনোয়ারা খাতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মক ইন্টারভিউ পরিচালনা করেন। ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রিজিওনাল হেড (সাউথ) মোস্তফা মাহমুদ উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

    সেমিনারে মক ইন্টারভিউ, ক্যারিয়ার আড্ডা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসব পর্বে সেরা অংশগ্রহণকারীদের প্রাইম ব্যাংকের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন মুন্না।

  • ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ

    ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ

    এ ক্যাম্পেইনের আওতায় বাংলা কিউআর ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধকারী ৫০ জন গ্রাহক এবং ৫০ জন মার্চেন্ট স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ পাবেন। ২৩ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে।

    ২০ আগস্ট রাজধানীতে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহির হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলতাফ হুসাইন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম।

    অনুষ্ঠানে বাংলা কিউআর ও কিউআরভিত্তিক সিকিউরড স্টেটমেন্ট বিষয়ে আলোচনা করেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনজুজ্জামান। এ সময় ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব আলম, মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ ও মো. মাকসুদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন জোন ও শাখাপ্রধান এবং উপশাখার ইনচার্জরা জুম প্লাটফর্মে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বাংলা কিউআর একটি নতুন সংযোজন। এটি দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরো সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার পাশাপাশি প্রবাসীদের দ্রুত, সহজ ও নিরাপদে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ তৈরিতেও ইসলামী ব্যাংক কাজ করছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলা কিউআর ব্যবহারের বিস্তারের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা নিতে পারবেন। এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরো বিস্তৃত হবে এবং একটি আধুনিক, ক্যাশলেস ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলা কিউআরকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা হিসেবে নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ইসলামী ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ব্যাংকের বিস্তৃত শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীসহ অধিকসংখ্যক মার্চেন্টকে বাংলা কিউআরের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

  • ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কারখানার ফটকে এখন দুই ধরনের নোটিশ দেখা যাচ্ছে। একটিতে লেখা— স্থায়ীভাবে বন্ধ। অন্যটিতে—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছুটি। বাইরে থেকে দুটি সিদ্ধান্তকে একই রকম মনে হলেও এর অর্থ এক নয়। প্রথমটির অর্থ চাকরি হারানো; দ্বিতীয়টির অর্থ অনিশ্চয়তার মধ্যে চাকরি টিকে থাকা। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের দীর্ঘ সংকট, কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, আর্থিক দুরবস্থা, শ্রম অসন্তোষ এবং বকেয়া ঋণের চাপে শিল্প খাতে এখন এই দুই বাস্তবতাই পাশাপাশি চলছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) পর্যন্ত শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসে একদিকে কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে শত শত কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। এর সঙ্গে চলছে শ্রমিক ছাঁটাই ও কর্মসংস্থান সংকোচন। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এ পর্যন্ত আসলে কতগুলো কারখানা বন্ধ হয়েছে?

    এর একক কোনও উত্তর নেই। কারণ সরকারি ও শিল্পসংগঠনের তথ্যভাণ্ডারে স্থায়ী বন্ধ, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, শ্রম আইনের বিশেষ ধারায় বন্ধ, সাময়িক উৎপাদন স্থগিত এবং শ্রমিক ছাঁটাই—এসব তথ্য সব সময় একই তালিকায় রাখা হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে অন্তত চারটি আলাদা হিসাব দেখতে হয়।

    ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজিএমইএ’র সদস্য অন্তত ৮০টি কারখানায় প্রায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

    এটি পোশাক খাতের জন্য উদ্বেগজনক একটি সংখ্যা। কারণ একই সময়ে রফতানি খাতের বড় কারখানাগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কারখানাও টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে। কোথাও ক্রয়াদেশ নেই, কোথাও ব্যাংকঋণ ও নগদ অর্থের সংকট, কোথাও শ্রমিকের বকেয়া মজুরি নিয়ে বিরোধ, আবার কোথাও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে।

    তবে ২৭টি কারখানা বন্ধের তথ্য পাওয়া গেলেও এই ২৭টির পূর্ণ নামভিত্তিক তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

    শুধু সাত মাসেই তিন শিল্পাঞ্চলে বন্ধ ৯৫ কারখানা

    এর চেয়েও বড় চিত্র উঠে এসেছে শিল্পাঞ্চলভিত্তিক তথ্যে। গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অঞ্চলে গত সাত মাসে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৯৫টি কারখানা। এসব কারখানায় কাজ করতেন প্রায় ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক-কর্মচারী। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে— গাজীপুরে বন্ধ হয়েছে ৫৪টি কারখানা; নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অঞ্চলে ২৩টি; সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এলাকায় ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

    গাজীপুরের বন্ধ হওয়া ৫৪টি কারখানার প্রায় সবই তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্ট। শুধু এই জেলাতেই বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৩২ শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন।

    এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ— ২৭টি কারখানা বন্ধের ছয় মাসের হিসাব এবং ৯৫টি কারখানা বন্ধের সাত মাসের শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হিসাব— একই উৎস ও একই পরিধির নয়। তাই দুটি সংখ্যা যোগ করে “১২২টি কারখানা বন্ধ” বলা সঠিক নয়। বরং এগুলো বাংলাদেশের শিল্প খাতের সংকটের দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যান।

    নাম পাওয়া যাচ্ছে যেসব বন্ধ কারখানার

    প্রকাশ্য তথ্য ও শিল্প পুলিশের উদ্ধৃতি থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া বেশ কয়েকটি কারখানার নাম পাওয়া গেছে।

    গাজীপুর: গাজীপুরে বন্ধ হওয়া উল্লেখযোগ্য কারখানার মধ্যে রয়েছে— টিএমএস অ্যাপারেলস, নায়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, হার্ডি টু এক্সেল, পলিকন লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস, মাহমুদ জিন্স অ্যাপারেলস, টিআরজেড, দ্য ডেল্টা নিট। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে গাজীপুরে মোট ৫৪টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

    সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই: এই অঞ্চলে গত সাত মাসে স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, বেস্ট ওয়ান সোয়েটার, এমএস সোয়েটার, সাভার স্পোর্টসওয়্যার, বার্ডা গ্রুপ, র‍্যামস ফ্যাশন অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, প্রিয়াঙ্কা ফ্যাশন এবং জাভান টেক্স নিটওয়্যার। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে এ অঞ্চলে অন্তত ১০ হাজার ১২৭ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়েছেন।

    নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী: এই অঞ্চলে বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— গ্রিন বাংলা হোম টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়ান ফ্যালকন গার্মেন্টস, জিএল ফ্যাশন, মাস্টার টেক্সটাইল, ওয়েস্ট বেস্ট অ্যাটায়ার্স, এবং স্টার কাটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।

    শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, এই অঞ্চলে বন্ধ হওয়া বেশির ভাগ কারখানাই ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। আর্থিক সংকট ও পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গাজীপুরে স্থায়ীভাবে বন্ধ দুই কারখানা

    সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে স্পষ্ট ও যাচাইকৃত স্থায়ী বন্ধের ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে। ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড এবং ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড গত ১৬ জুন থেকে বন্ধ থাকার পর স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থিক সংকট ও অন্যান্য সমস্যার কারণে কারখানা দুটি বন্ধ করা হয়েছে বলে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে।

    দুটি কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় পড়েন। পরে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য আইনগত পাওনা পরিশোধ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা হয়।

    আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দুই কারখানা

    গত ১ এপ্রিল আশুলিয়ার দুটি পোশাক কারখানা— ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড ও জেএ অ্যাপারেলস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের পর কারখানার ফটকে বন্ধের নোটিশ টানানো হয় এবং তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। দুটি কারখানা মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক অনিশ্চয়তায় পড়েন। তবে এগুলো পরে পুনরায় চালু হয়েছে কিনা, সেই তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় এগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।

    লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানা একসঙ্গে বন্ধ

    জুলাইয়ের শুরুতে গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। এই ঘটনা দেখিয়েছে, শ্রমিক অসন্তোষ বা আর্থিক সংকট শুধু একটি কারখানার সমস্যা নয়; একটি শিল্পগোষ্ঠীর একাধিক কারখানাও একইসঙ্গে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে এসব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর পুনরায় চালু হয়েছে কিনা, সেটিও স্থায়ী বন্ধের হিসাব থেকে আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।

    ইসলাম গার্মেন্টসও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

    গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ইসলাম গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই ধরনের ঘটনা পোশাকশিল্পের আরেকটি দুর্বলতা তুলে ধরে— বেতন, সার্ভিস বেনিফিট বা অন্যান্য শ্রমসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে তা উৎপাদন বন্ধের দিকে গড়াতে পারে।

    দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট

    গত দুই বছরের আরও বড় একটি হিসাব শিল্প খাতের গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরে। আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ছিল— ১০৮টি বিজিএমইএ সদস্য কারখানা, ৩৫টি বিকেএমইএ সদস্য কারখানা, ৮টি বিটিএমএ সদস্য কারখানা এবং ১৯টি বেপজা-সংশ্লিষ্ট কারখানা। অর্থাৎ পোশাক, নিটওয়্যার, বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এই বন্ধের তালিকায় রয়েছে। বাকি ২৮৭টি ছিল পোশাকবহির্ভূত শিল্প।

    এই হিসাবে কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, মালিকের আর্থিক সংকট, শ্রম অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকট। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা ব্যাংকঋণের জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, কারখানা স্থানান্তর, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথাও বলছেন।

    নতুন সংকট:গ্যাস নেই, তাই উৎপাদন নেই

    স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া কারখানার তালিকার বাইরেও এখন শিল্প খাতে নতুন একটি সংকট তৈরি হয়েছে—গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত করা। আগস্টের শুরুতে গাজীপুরে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা তিন থেকে চার দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করে। বিভিন্ন সূত্রে কারখানার সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত বলা হয়েছে।

    সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করে অনেক কারখানা কার্যত উৎপাদন বন্ধ রাখে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কারখানার এই ছুটিকে স্থায়ী বন্ধ বলা যাবে না, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সংকট চললে এটি উৎপাদন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ছুটি এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    সর্বশেষ ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে তাদের ছুটি দেওয়া হয়।

    শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, ‘‘সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়নি। শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। ভালুকা পৌর এলাকা ও তিতাস কার্যালয়ের আশপাশে গ্যাসের কিছুটা চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে প্রায় গ্যাস নেই।’’

    শিল্প পুলিশের হিসাব অনুযায়ী ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে প্রায় সব গ্যাসচালিত কারখানাই সংকটে পড়েছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সীমিত উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে শিল্পাঞ্চলজুড়ে উৎপাদনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কারখানা বন্ধের প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে স্থায়ী বন্ধ, সাময়িক ছুটি এবং উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাগুলো আলাদা করে দেখতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কারখানা কয়েক দিনের জন্য ছুটি দিলেও এটিকে স্থায়ী বন্ধ বলা ঠিক হবে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, কারখানার আর্থিক চাপ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন কমে যাওয়ার পরও শ্রমিকদের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি, গ্যাস-বিদ্যুতের বিলসহ অন্যান্য স্থায়ী খরচ বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল, এলপিজি বা সিএনজি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে আগেই নির্ধারিত দামের কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয় সব সময় পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।’’

    মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘‘কারখানা টিকিয়ে রাখা এবং শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি সংকট দ্রুত স্বাভাবিক না হলে অনেক দুর্বল ও আর্থিক সংকটে থাকা কারখানা আরও বেশি চাপে পড়বে। তাই শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটে থাকা, আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য আর্থিক সহায়তা ও নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।’’

    ছুটি কি শুধুই ছুটি, নাকি কর্মসংস্থান সংকোচনের শুরু?

    শিল্প-মালিকদের একটি অংশের যুক্তি হলো— গ্যাস না থাকলে কারখানা খোলা রাখার অর্থই হয় না। শ্রমিক বসে থাকলেও বেতন দিতে হয়, কিন্তু উৎপাদন না হলে বিক্রি ও রফতানি আয় আসে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিকল্প উৎপাদনে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে অনেক কারখানা বাধ্য হচ্ছে উৎপাদন কমাতে। কোথাও অতিরিক্ত শিফট বাতিল হচ্ছে, কোথাও শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, আবার কোথাও নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাময়িক ছুটি ধীরে ধীরে শ্রমিক ছাঁটাইয়ে রূপ নিতে পারে— এমন আশঙ্কা রয়েছে শ্রমিক সংগঠন ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

    চার ধরনের বন্ধ, চার রকম প্রভাব

    বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে কারখানাগুলোকে অন্তত চারটি ভাগে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানা। এখানে শ্রমিকের চাকরি শেষ হয়ে যায়। বকেয়া মজুরি, সার্ভিস বেনিফিট ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন সংকট শুরু হয়।

    দ্বিতীয়ত, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কারখানা। এখানে শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন কিনা, তা সব সময় পরিষ্কার নয়। কারখানা পুনরায় খুলতে পারে, আবার দীর্ঘ বন্ধের পর স্থায়ীভাবেও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    তৃতীয়ত, সাময়িক উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি। গ্যাস, বিদ্যুৎ, কাঁচামাল বা ক্রয়াদেশের সংকটে কারখানা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ রাখতে পারে। এই সময়ে শ্রমিকের চাকরি টিকে থাকলেও আয় ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

    চতুর্থত, শ্রমিক ছাঁটাই। কারখানা চালু থেকেও উৎপাদন কমিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করা হতে পারে। ফলে শুধু বন্ধ কারখানার সংখ্যা দেখলে কর্মসংস্থান সংকটের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

    বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটকে শুধু সাময়িক জ্বালানি সমস্যা হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির গভীরতা বোঝা যাবে না। এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রফতানি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানের জন্য কাঠামোগত হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘যেসব কারখানা ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, তাদের সংকটের পেছনে কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, আর্থিক দুরবস্থা, ব্যাংকঋণের চাপ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো একাধিক কারণ রয়েছে। এখন নতুন করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় চালু কারখানাগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অনেক কারখানা উৎপাদনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি সমন্বয় করেছে কিংবা সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালাচ্ছে। ফলে এগুলোকে এখনই স্থায়ী বন্ধ বলা না গেলেও দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’’

    মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘কারখানা কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখা এবং একটি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় উৎপাদন ব্যাহত হলে এই সাময়িক বন্ধও একসময় আর্থিক সংকটে রূপ নিতে পারে। উৎপাদন না হলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদ, কারখানা রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য স্থায়ী খরচ বন্ধ থাকে না। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতার আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন ক্রয়াদেশও কমে যেতে পারে।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন শুধু নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করলেই হবে না; চলমান শিল্প ও বিদ্যমান কর্মসংস্থান রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ছোট ও মাঝারি আর্থিক সক্ষমতার কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। আর একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে যাওয়া নয়—এর সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার, স্থানীয় অর্থনীতি এবং দেশের রফতানি সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’

    কারখানা বন্ধের অর্থ শুধু একটি তালা নয়

    একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু মালিকের ব্যবসা বন্ধ হওয়া নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, ব্যাংক ও এনজিও ঋণ, স্থানীয় দোকানপাট এবং আশপাশের ক্ষুদ্র অর্থনীতি। গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে একটি কারখানা বন্ধ হলে তার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বাসা, দোকান, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারে। আর সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় যখন শ্রমিক চাকরি হারানোর পরও তাঁর বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়।

  • চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দ্বার হতে পারে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর

    চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দ্বার হতে পারে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর

    দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সম্ভাবনাময় বাণিজ্যপথ হতে পারে আলোচনাধীন কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোর। এটি বাস্তবায়িত হলে চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ, শিল্প স্থাপন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই সম্ভাবনা সামনে রেখেই ইউনানের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

    ‘কানেক্ট টু দ্য সাউথ, প্রসপার থ্রু ওপেন-কোঅপারেশন’ প্রতিপাদ্যে কুনমিংয়ের দ্য জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনান এন্টারপ্রেনার্স-এ আয়োজিত ‘ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড এনভায়রনমেন্ট প্রোমোশন ইভেন্ট’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন।

    অনুষ্ঠানে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান ‘বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন।

    তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, শিল্পভূমি, জ্বালানি সুবিধা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।

    বিশেষ করে কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বাণিজ্যপথ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সরাসরি সংযোগ আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ইউনানভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আঞ্চলিক বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে।

    রিদওয়ানুর রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শতভাগ মালিকানার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধাও দেওয়া হয়। চীনসহ ৩৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করেছে।

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, হাই-টেক পার্ক এবং চার বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাবনাময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

    বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার কথা উল্লেখ করা হয়।

    সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ খাতেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ রয়েছে বলে জানান রিদওয়ানুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে ইউনানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কনস্যুলেটের বাণিজ্যিক উইংয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, ইউনানের পাশাপাশি সিচুয়ান, চংচিং, গুইঝো ও গুয়াংশির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে তারা।

  • এবার আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করছে ইরান

    এবার আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করছে ইরান

    ইরানের ওপর হামলা হলে আগের তুলনায় আরো ব্যাপক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সামরিক কৌশল এখন ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থানের দিকে যাচ্ছে।

    আকরামিনিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশের সামরিক নীতি আগে ছিল প্রতিরক্ষামূলক। তবে গত দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, সামরিক কৌশল ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে এগিয়েছে।’

    তবে এই পরিবর্তনের অর্থ শত্রুর বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালানো নয় বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এর অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুর বিরুদ্ধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অভিযান চালাব। তবে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব আমরা তাৎক্ষণিকভাবে দেব এবং সেই জবাব হবে আগ্রাসনের মাত্রার চেয়েও ব্যাপক।’

    ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা জানান, আগের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কিছু সামরিক ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিও বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শত্রু আবার কোনো ভুল হিসাব করলে আমরা যাতে আগের চেয়েও বেশি বিধ্বংসী জবাব দিতে পারি, সে জন্য আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

    এদিকে, যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আরো বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের প্রসঙ্গ তুলে আকরামিনিয়া বলেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসার একটি ইঙ্গিত।

  • মূল্যস্ফীতি, ঋণসংকট ও বিনিয়োগে স্থবিরতায় উদ্বেগ বেসরকারি খাতের

    মূল্যস্ফীতি, ঋণসংকট ও বিনিয়োগে স্থবিরতায় উদ্বেগ বেসরকারি খাতের

    উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে রেকর্ড নিম্নগতি, উচ্চ সুদের হার এবং জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন চাপে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরানো কঠিন হবে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকা, ঋণের উচ্চ সুদ এবং জ্বালানি সংকট ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশ্ব অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ১ শতাংশ। বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে প্রকৃত ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশের বিপরীতে মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথাগত জামানতভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ডিজিটাল মূল্যায়নের মাধ্যমে নগদ প্রবাহভিত্তিক ঋণ সুবিধা বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

    আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় নামেনি। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না।

    তিনি বলেন, উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারের চাপ এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, রফতানি সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আহরণে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

    অনুষ্ঠানে ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সীমিন রহমান বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।

    তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন কমছে। এ অবস্থায় বন্দর, কাস্টমস ও লজিস্টিক সেবার দক্ষতা বাড়াতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে কাঠামোগত সমন্বয়ের দুর্বলতা রয়েছে। কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

    তিনি বলেন, জ্বালানি প্রাপ্তিসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু সুদের হার কমিয়ে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে না।

    সেমিনারে বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকা উদ্বেগের বিষয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়ানো এবং সার্বিকভাবে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ শুল্কের হুমকি কানাডার

    যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ শুল্কের হুমকি কানাডার

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দেশটির পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ‘ডলার-ফর-ডলার’ নীতিতে এই শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে অটোয়া।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার মধ্যরাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করার পরপরই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কানাডা। এর আগে শুক্রবার রাতে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেন কার্নি।

    কার্নি বলেন, আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা কানাডার কাছে অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের পরিবর্তনের কারণে সম্ভাব্য চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

    গত জুলাই থেকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে সাময়িকভাবে সেই শুল্ক স্থগিত করে তিনি জানিয়েছিলেন, দুই দেশ একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে কার্নি জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কানাডার প্রত্যাশা পূরণের মতো যথেষ্ট সমঝোতা হয়নি। ফলে আলোচকদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দেন তিনি।

    ওয়াশিংটনের পাল্টা অভিযোগ

    কানাডার ঘোষণার পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেন, সপ্তাহের শুরুতে যে শর্তে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছিল, কানাডা শেষ পর্যন্ত সেই ভিত্তিতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে রাজি হয়নি।

    তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে বড় বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে সবচেয়ে অনুকূল শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কানাডার নতুন কিছু দাবি এবং আগের কয়েকটি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণে আলোচনায় তৈরি হওয়া সমঝোতা নষ্ট হয়ে যায়।

    এর আগে আলোচনায় কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং কানাডীয় গাড়ির ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। বিনিময়ে কানাডার প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল।

    বাড়ছে দুই দেশের বাণিজ্য উত্তেজনা

    ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা চলছে। নতুন করে আলোচনাও ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন মহামন্দার সময়কার ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্ট ব্যবহার করে কানাডীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য পড়তে পারে। পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আগে থেকে থাকা মার্কিন শুল্কও বহাল থাকবে।

    কানাডার সবচেয়ে বড় প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবও শুল্ক দিয়ে এবং ডলারের বিপরীতে ডলার দিয়ে দেওয়া উচিত।

    এদিকে গত বছর মার্কিন শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার বেশ কয়েকটি প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

    কানাডার সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৬ শতাংশ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পাল্টা জবাব দেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সরকারের আলোচনার পথেই থাকা উচিত।

    তবে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি মেনে নেবে না।

  • বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরাতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর

    বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরাতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর

    দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার অঙ্গীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও সম্ভব নয়। তাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কথা বলা যতটা সহজ, বাস্তবে তা কার্যকর করা ততটাই কঠিন। তবে এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সরাসরি চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার একটি বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়; এর জন্য সময় প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে উদ্যোক্তারা ঋণ সহায়তা পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না।

    ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। এর আওতায় উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের নকশা এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সরকার পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতির দিকে নিয়ে যেতে কাজ করছে।

    কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো ছাড়া সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনতে অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই।

    একইসঙ্গে ব্যাংকঋণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। এ জন্য দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি নতুন বন্ড চালুর বিষয়ও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকারের জ্বালানি বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে প্রাথমিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেটে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    সেমিনারে উপস্থিত অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারাও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়াকে অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    মার্কিন ট্রেজারির বাইব্যাক সহায়তা পরিকল্পনার কারণে ডলারের মান কমে গেছে। এতে করে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও সমান ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৬৮০ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছে।

    চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। টিডি সিকিউরিটিজ-এর পণ্য কৌশলের গ্লোবাল হেড বার্ট মেলেক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই গতি অব্যাহত থাকলে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হবে ৪ হাজার ৭০০ ডলার। আমি মনে করি মার্কিন ডলারের দরপতনও এর (স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি) পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৬২ ডলার, প্ল্যাটিনাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৫৮ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে।

    এদিকে দেশের বাজারে এখন ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

    জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর সমাধান আসবে ধীরগতিতে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতির বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই। তাই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।’

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

  • সাত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

    সাত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

    গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গণমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি নিজেদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে এ তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তার লক্ষ্যে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন উদ্যোগের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন অর্থায়নে এ প্যাকেজ গঠন করা হয়েছে।

    এ অর্থায়নের মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি, রফতানি বহুমুখীকরণ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ১০ হাজার কোটি টাকা আর দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র তৈরিতে ৩ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনেও ভূমিকা রাখবে এ স্কিম। স্কিমের আওতায় শস্য ও ফসল উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং গ্রামীণ ও পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ নেয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শস্য ও ফসল উৎপাদনের জন্য একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে এ সীমা ২০ লাখ টাকা। আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য পল্লী ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়ার সুযোগ থাকছে। এছাড়া ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে এসব কৃষক কোনো জামানত ছাড়াই এককভাবে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। এ ঋণের বিপরীতে শুধু উৎপাদিত শস্য ও ফসল দায়বদ্ধকরণ হিসেবে থাকবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স বিভাগের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ তহবিলটির গুরুত্ব ও বহুমুখী ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত ৪১ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’

  • যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য এটি একটি নতুন মাইলফলক হলেও অর্থনীতিবিদেরা এটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। এতে সরকারের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচেও।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের কিছু কম। এক দশকের মধ্যে তা দ্বিগুণ হয়েছে। দেশটির ঋণ এখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার ডলার করে বাড়ছে। দিনে বাড়ছে প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১৯৮১ সালে প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তখন বিষয়টিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। অর্থনীতিবিদ মায়া ম্যাকগিনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বছরে এসে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই সেই সময়ের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে দেশটি।

    কেন এত ঋণ
    যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ব্যবধান রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে কর কমানোর ফলে সরকারের রাজস্ব কমেছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো সংকট মোকাবিলায়ও বিপুল পরিমাণ ঋণ করতে হয়েছে সরকারকে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদের হার। সুদের হার বেশি থাকায় সরকারের পুরোনো ও নতুন ঋণের সুদ পরিশোধের খরচও বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদ এরিক সোয়ানসনের মতে, এক দশক আগের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হলো সুদের হার। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর পেছনে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার বিষয়টিও ভূমিকা রাখছে।

    সুদ পরিশোধেই বড় চাপ
    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল-ইরিয়ানের হিসাবে, সরকারের মোট কর আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই এখন ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। এই ব্যয় প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের চেয়েও বেশি।

    ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে নতুন ঋণ নিতে আরও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ড কিনে অর্থ ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি মুনাফা চাইছেন।

    এর আরেকটি কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল বিনিয়োগ। এসব কোম্পানিও বড় অঙ্কের অর্থ ধার করছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের অর্থের জন্য সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

    এখনই সংকট নয়, তবে সতর্কসংকেত
    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ দেশটির অর্থনীতির আকারের প্রায় ১২৬ শতাংশ। তবে জাপান ও ইতালির মতো কয়েকটি উন্নত দেশের তুলনায় এই অনুপাত এখনো কম। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হওয়ায় দেশটি অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি সময় ধরে বড় ঋণের বোঝা বহন করতে পারে।

    তবে অর্থনীতিবিদেরা পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়কও মনে করছেন না। এল-ইরিয়ানের ভাষায়, এটি এখনো ‘লাল সংকেত’ নয়, বরং ‘হলুদ সংকেত’। অর্থাৎ পরিস্থিতি সংকটজনক পর্যায়ে না পৌঁছালেও সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

    অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, একপর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তখন বন্ড বিক্রি বাড়তে পারে এবং আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

    প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর
    সরকারের ঋণের বোঝা বাড়ার প্রভাব শুধু সরকারি হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উচ্চ সুদের হার অব্যাহত থাকলে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ বেশি পড়বে।

    এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুদে ঋণ নিলে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। ফলে ঋণের বোঝার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পড়তে পারে।

    সামনে কী করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
    যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে এখনো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ সামলানো তুলনামূলক সহজ হবে।

    কিন্তু প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট না হলে সরকারকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এর মধ্যে করব্যবস্থায় সংস্কার, সরকারি ব্যয় কমানো কিংবা কৃচ্ছ্রসাধনের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। চরম পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।

    সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সরকারি ঋণের কিছু বন্ড পুনরায় কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। এতে সাময়িকভাবে বন্ডের চাহিদা বাড়ে এবং ঋণ নেওয়ার খরচ কমে। কিন্তু এক দিন পরই দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদ আবার বেড়ে যায়।

  • টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ কিংবা সাগরে থাকা মানুষকে মুঠোফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (ডিটুসি) সেবা চালু করেছিল বাংলালিংক। এ কার্যক্রম সফল হয়েছে দাবি করে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সেবা এবার বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে চায় অপারেটরটি। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলালিংক।

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি।

    যেভাবে কাজ করে ডিটুসি

    সাধারণ মুঠোফোনের যোগাযোগব্যবস্থা মূলত ভূমিতে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল। ফোন থেকে পাঠানো সংকেত প্রথমে কাছের মোবাইল টাওয়ারে যায়। কিন্তু কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে মুঠোফোনের সংকেত সরাসরি মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে পৌঁছায়। স্যাটেলাইট সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠায়। এরপর সেটি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বার্তা বা ডেটা আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে। এ প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, সেবা পেতে আলাদা স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

    প্রযুক্তিগতভাবে উপযোগী সাধারণ ফোর–জি মুঠোফোন ব্যবহার করেই সেবা নেওয়া সম্ভব। মোবাইল টাওয়ারের কভারেজের বাইরে গেলে ফোনটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবে।

    কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    কেন দরকার

    বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের মোট মুঠোফোন গ্রাহক ১৯ কোটির কাছাকাছি। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ১২ কোটি গ্রাহক। অপারেটরগুলোর নিজস্ব টাওয়ার রয়েছে ২১ হাজার ৩৬৯টি। এর বাইরে সাত হাজারের বেশি টাওয়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি। ফলে কম জনসংখ্যার বা দুর্গম এলাকায় টাওয়ার স্থাপনে অপারেটরদের আগ্রহ কম থাকে।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। যেখানে টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে সীমিত যোগাযোগসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে।

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

    চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা পরীক্ষার জন্য বিটিআরসির অনুমতি চেয়েছিল বাংলালিংক। গত মে মাসে সরকার দুই মাসের প্রুফ অব কনসেপ্ট (পিওসি) পরীক্ষার অনুমতি দেয়। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের বাইরে থাকা এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে মোবাইল সংযোগ দেওয়া কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সময় বান্দরবান, সন্দ্বীপসহ নেটওয়ার্ক কভারেজের বাইরে থাকা এলাকায় প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক তথ্যমতে, সেখানে এসএমএস, ওটিটি-ভিত্তিক মেসেজিং, ওটিটি ভয়েস কলসহ বিভিন্ন কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।

    সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে

    বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান

    বাণিজ্যিক অনুমোদন চেয়ে চিঠি

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর অনুমোদন চেয়ে সম্প্রতি বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলালিংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত এলটিই-সক্ষম মুঠোফোন কোনো বাড়তি যন্ত্র ছাড়াই সরাসরি ডিটুসি সেবায় যুক্ত হতে পারে—পিওসিতে তা প্রমাণিত হয়েছে। এই ভিত্তিতে বিদ্যমান সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস অপারেটর লাইসেন্সের আওতায় প্রাথমিকভাবে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি চেয়েছে তারা।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিটুসি বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও অন্য সামুদ্রিক পেশাজীবীরা, যাঁরা বর্তমানে স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের কভারেজের বাইরে থাকেন, তাঁরাও এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলালিংক আরও জানিয়েছে, সেবা চালুর ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত সব শর্ত ও নির্দেশনা মেনে চলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    জানতে চাইলে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে।’

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    শুরুতে যে সেবা মিলবে

    বাংলালিংক সূত্র বলছে, বাণিজ্যিক অনুমোদন পেলে প্রথম পর্যায়ে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ভয়েস ও ডেটা সেবা যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতেই সাধারণ মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিরেক্ট-টু-সেলের বর্তমান ব্যবহারে মূল সুবিধা হলো, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অবস্থায়ও সীমিত ব্যান্ডউইথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা।

    নিয়ন্ত্রক অনুমোদনে প্রশ্ন

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পরও বাণিজ্যিক সেবা চালুর আগে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিটিআরসি বাংলালিংককে যে অনুমতি দিয়েছিল, তা ছিল শুধু পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য। সেই অনুমোদনকে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না—এমন শর্তও ছিল।

    এর বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার জন্য ব্যবহৃত স্পেকট্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) আওতায় মুঠোফোন সেবার জন্য নির্ধারিত আইএমটি ব্যান্ড স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে (ডব্লিউআরসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বাংলাদেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক কাঠামোতেও এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিটিআরসির এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) স্যাটেলাইট সার্ভিসের গাইডলাইনে এই লাইসেন্সের আওতায় ‘স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক আইএমটি সেবা’ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইএমটি বলতে মূলত মুঠোফোন সেবার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও স্পেকট্রামকে বোঝায়।

    যদিও বিটিআরসির একটি সূত্র বলছে, ডিটুসি প্রযুক্তির বিষয়টি কমিশন ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী প্রথম আলোকে বলেন, ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন এখনো কমিশনের হাতে আসেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কটের সমাধান কী?

    বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কটের সমাধান কী?

    কারেন্ট যেমন যাইতেছে, আবার টাকাও বেশি কাটতেছে। বিদ্যুতের কার্ড ভরেই সারতে পারি না। অনেক টাকা নিতেছে।’

    সাভারে পল্লী বিদ্যুতের একজন গ্রাহক রোজিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া জানান। রোজিনার মতো আরো বেশ কয়েকজন ভোক্তার অভিযোগ, দিনে-রাতে বিদ্যুৎ সঙ্কট অনেক বেশি।

    লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ বিল দুটোই বেড়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুতের গ্রাহকদের।

    বিশেষ করে গ্রামে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। কিছু এলাকায় ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে বা এখনো হচ্ছে।

    বাংলাদেশে বিদ্যুতের মোট পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা তিন কোটি ৭১ লাখ। সেই হিসেবে লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামে-গঞ্জে-মফস্বলের সাধারণ গ্রাহকরাই বিদ্যুতের বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

    বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতেও সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

    শিল্পখাতে গ্যাস ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কারখানা চালু রাখে, যেটি ক্যাভটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে পরিচিত। গ্যাস সঙ্কটের কারণে শিল্পকারাখানায় বিদ্যুতের ঘাটতিও এবছর তুলনামূলক বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

    গাজীপুরের একজন কারখানা মালিক বলেন, আমরা ডিজেল জেনারেটর দিয়ে চালাচ্ছি। সেটার কারণে আমাদের প্রোডাকশন কস্ট অনেক বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে। বিদ্যুতের কারণে প্রোডাকশন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অনেকের ডিজেল জেনারেটর দিয়ে চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণে এখানে খরচ অনেক বেশি।

    তিনি জানান, বিদ্যুতের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের থেকে অর্ডার পেলেও সঠিক সময় কাজ শেষ করতে পারছে না অনেকে, তারফলে চাপ বাড়ছে। বায়ার এয়ার শিপমেন্টের কথা বলছে। অথবা বলছে- যদি তোমরা সময়মত শিপমেন্ট না দিতে পারো আমরা অন্যত্র অর্ডারটা নিয়ে যাবো।

    এদিকে, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে এ মাসে দেশের কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকরা হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। যে কারণে গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোতে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।

    এছাড়া, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাছে পৃথক আবেদন করেছে গোপালগঞ্জ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ অফিস।

    বিদ্যুৎ সক্ষমতা এবং সঙ্কট
    বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ ৩৩ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য হলো নেপাল ও ভারত থেকে আমদানিসহ গ্রিড পর্যায়ে সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট।

    বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে চলতি বছর মে মাসে ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।

    তবে উৎপাদনে রেকর্ড করার সাথে এবছর লোডশেডিং বা ঘাটতির দিক থেকেও গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

    পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ বা পিজিসিবি’র তথ্যে গত ১০ই অগাস্ট একদিনে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।

    বিদ্যুৎ বিভাগের হিসেবে এ বছর গরমে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

    সরকার বলছে, প্রাথমিক জ্বালানির সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এবছর এলএনজি আমদানিতে সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়েছে।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানির পরিস্থিতির উন্নতি করতে তাদের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। বিদ্যুৎ খাতের দশ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

    বাংলাদেশে মারাত্মক বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বিগত সরকার জরুরি ভিত্তিতে তেলভিত্তিক, আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশেষ আইন প্রণয়ন করে বিনা দরপত্রে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেয় তারা।

    দেশে শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা হয় ওই সরকারের সময়। স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নে নানা প্রচারও তারা করে গেছে।

    বাস্তবতা হলো– উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হলেও গ্যাস উত্তোলন বাড়েনি; কয়লা উত্তোলন করা হয়নি, যার ফলে আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে। বড় সমস্যা তৈরি হয় ব্যয়বহুল প্রাথমিক জ্বালানি এবং আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে।

    এছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সময়মতো উৎপাদনে আসেনি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

    এছাড়া উৎপাদন সক্ষমতা থাকা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়া বাবদ বিপুল পরিমাণ খরচ বেড়েছে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে বলেন, ‘বিদ্যুতের সঙ্কট ক্রমাগত জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে।’

    বিগত সরকারের সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত নির্মাণ করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন পরিকল্পনা যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারেনি। শেষ দিকে এসে ডলার ও জ্বালানি সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মোটামুটি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে গেলেও দায়দেনা ও ভর্তুকি বেড়েছে। নতুন সরকার এসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি অবকাঠামোর যান্ত্রিক ত্রুটি মিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

    কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা, নীতি ও দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।

    তার বিশ্লেষণ হলো– বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকার ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পারেনি, গ্যাসের আমদানি বেড়েছে এবং নবায়নযোগ্য খাত থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারেনি।

    অতীতে একদিকে ব্যয়বহুল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। ওদিকে চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছে। আর সেটা করতে গিয়ে আইন পরিবর্তন করেছে, প্রতিযোগিতা শূন্য করে ফেলেছে। খুব কস্টলি বিনিয়োগ আনা হয়েছে। ব্যাপকহারে লুটপাটের ক্ষেত্র কাঠামোগতভাবে তৈরি হয়েছে, যে কাঠামো এখন পর্যন্ত ভাঙা হয়নি এবং ভাঙার কথা সরকারের মাথায় আছে কি না তা কোনোভাবেই দেখা যাচ্ছে না।

    শামসুল আলমের বিশ্লেষণে কাঠামোগত দিক থেকেও বিদ্যুৎ খাত সরকারের সেবাখাতের জায়গা থেকে সরে মুনাফাভিত্তিক একটা খাতে পরিণত হয়েছে, যা সঙ্কট বৃদ্ধি করেছে।

    তার মতে, সরকার জনগণকে সেবা দেবে সেটা কস্ট প্রাইসে, বিদ্যুৎখাতে সরকারকে মুনাফা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    মুনাফা সব জায়গা হচ্ছে। বিতরণে হচ্ছে, সঞ্চালনে হচ্ছে, উৎপাদনে হচ্ছে, ফুয়েল সাপ্লাইয়ে হচ্ছে। সরকার সব জায়গা থেকে মুনাফা খাচ্ছে। সরকার যেখানে যা কাজ করছে সমস্ত জায়গা থেকে ন্যায্য ব্যয় এবং প্রকৃত ব্যয় অপেক্ষা কস্ট প্লাস রেভিনিউ আর্ন করে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে এ খাতটাকে সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যে পরিমাণ জ্বালানি দরকার বিদ্যুতের জন্য সে পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করার মতো পরিস্থিতি আমাদের নেই। যে বিকল্প উৎসগুলো রয়েছে সেটার ব্যাপারে তড়িৎ উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রেও সরকার বিভিন্ন বাধার মুখে পড়ছে।

    নতুন সরকার বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিয়ম করছে জানিয়ে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘ভোক্তাদের পক্ষ থেকে সরকারকে সমস্যা মোকাবিলায় কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমাদের কয়লাভিত্তিক যে ক্ষমতা আছে সেটা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। সেটা বাড়াতে হবে। আমরা তেলটা বাতিল করতে দিতে বলেছি। আমরা পারমাণবিক থেকে বিদ্যুৎ আনতে বলেছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিশ পার্সেন্টের কথা বলেছি এবং এফিসিয়েন্সি বাড়াতে বলেছি। এভাবে পুরো জিনিসটাকে মোকাবিলা করতে বলেছি। আর বলেছি যে, প্রয়োজনে আরো বেশি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাড়ানো হোক। বাড়িয়ে এই যে জ্বালানি নিরাপত্তার নামে যে ফাঁদ তৈরি করে আমাদেরকে লুন্ঠন করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এরকম কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন সরকারকে আনতে হবে।’

    সমস্যা সমাধানে সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে সিপিডির খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমাদের আসলে গ্যাস ভিত্তিক সিস্টেম থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা ইলেকট্রিসিটি বেইজ সিস্টেমের দিকে যাওয়া-সেটা একটা সমাধান। যেমন গ্যাস ভিত্তিক বয়লারের যায়গায় ইলেকট্রিক বয়লারে শিফট করা প্রয়োজন। একইভাবে ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে ইলেকট্রিক ভিইকেলে যাওয়া। একইভাবে সোলার বেজ ইরিগেশনে গিয়ে ডিজেল সেচ থেকে সরে আসা। বাসাবাড়িতে রান্না হচ্ছে, সেটাতে গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক চুলায় রান্নায় যাওয়া।’

    বিদ্যুৎ আমদানি
    বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকরা।

    সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমরা যেটা আমদানি করি সেটা মোট বিদ্যুৎ চাহিদার নয় শতাংশের মতো। সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যদি এই মুহূর্তে রিজিওনাল গ্রিডটি সক্রিয় থাকতো এবং আরো বেশি পরিমাণে ক্যাপাসিটি সম্পন্ন হতো, তাহলে কিন্তু আমরা ভারতে আরো যেসমস্ত উদ্বৃত্ব বিদ্যুৎ অন্যান্য যায়গায় রয়েছে, সেটা এই ঘাটতি পূরণের জন্য কিন্তু আমরা জরুরি ভিত্তিতে নিতে পারতাম। সুতরাং রিজিওনাল এই গ্রিডটি আগামীতে আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে এম শামসুল আলম আদানি চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, ‘এই চুক্তি সংশোধন করে ট্যারিফ কমাতে হবে।’

    তবে গ্রিড ব্যবহার করে আমদানির পক্ষে তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আদানির সাথে নেগোসিয়েশন করে যদি ট্যারিফ না কমায় তাহলে ওই চুক্তি বাতিল করে বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে না। কিন্তু জিটুজি চুক্তির আওতায় সরকার যেটা আমদানি করছে এবং নেপাল বা ভুটান থেকে জলবিদ্যুতের সুযোগ আছে সরকার সে উদ্যোগ নিয়েছে কিছু এরই মধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আনার সুযোগ আছে গ্যাস বা বিদ্যৎ । এমনকি তেলও আনার সুযোগ আছে কয়লাও আনার সুযোগ আছে ইন্ডিয়া থেকে। যদি কমপিটিটিভ প্রাইসে সেখান থেকে আনার সুযোগ থাকে, আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণের স্বার্থে তা আনার বিষয়টি অবশ্যই জ্বালানি মিক্সের যে বৈচিত্রের কথা বলছি সে প্রশ্নে অবশ্যই সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।’

  • গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

    গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

    ইরানে আমেরিকা-ইসরাইলের হামলা, কাতারের সার রপ্তানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি না করা এবং গ্যাস-জ্বালানি সরবরাহ সংকটে দেশে সারের মজুতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। চাহিদা অনুযায়ী কারখানায় গ্যাস না পাওয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এতে নিরাপদ সার মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ টন থেকে বর্তমান মজুত ক্রমেই তলানিতে নামছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সার মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানিতেও তৈরি হয়েছে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে মিসরের ইয়ানবু বন্দর হয়ে প্রায় ১২০০ মাইল ঘুরে সার আনতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় ও সময় দুই-ই বাড়ছে। এর সঙ্গে কাতার চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় তিন দেশের পরিবর্তে এখন দুই দেশনির্ভর আমদানিতে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ করতে হয়। উৎপাদনে ঘাটতি ও বিলম্বে জাহাজ পৌঁছানো এবং কাতারের পিঠটান—এই তিন কারণে সার সরবরাহ চাহিদায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা কমানোর লক্ষ্যে বিকল্প দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই থেকে ইউরিয়া সার আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সার আমদানি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হলে আরো দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তখন কিন্তু আমন মৌসুমও শেষ হয়ে যাবে।

    সূত্র জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে বীজতলা ও চারা রোপণে আমনের এই ভরা মৌসুমে সার সংকটে ফসল উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এসব সংকটের মধ্যে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নিয়োগ করা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার ডিলারদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। এর বিপরীতে নতুন নীতিমালার আলোকে সরকার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।

    পুরাতনদের বাদ ও নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ে সারের মজুত ও বিতরণ নিয়ে একধরনের জট তৈরি হয়েছে। কৃষির মাঠ অফিসের কর্মকর্তাদের দাবি, পুরোনো ডিলাররা বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া দুই ক্ষেত্রেই দাম বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে কৃষকের ওপর নতুন করে আর্থিক খরচের চাপ তৈরি হয়েছে।

    দাম বৃদ্ধির কারণে শুধু সাতক্ষীরাতেই গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৩ অসাধু সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সময় শেরপুর জেলায় ১৫ ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশেই একই চিত্র দেখা গেছে।

    এদিকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের দাম ১,৩৫০ টাকা এবং ডিএপি ১০৫০ টাকা সরকার নির্ধারণ করেছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে সার না পেয়ে তারা খোলাবাজার থেকে টিএসপি কিনছেন ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়। আর ডিএপির জন্য তাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের কৃষক ওয়ালিউল্লাহর অভিযোগ, দোকানে সার না রেখে গোপনে অন্যত্র মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক আবির আহম্মেদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারদের একাংশের যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিলে অনেক ক্ষেত্রে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম বৃহস্পতিবার আমার দেশকে বলেন, সার সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। কোনো এলাকায় চাহিদা কম থাকলে কিছু ডিলার সেই সার অন্য এলাকায় বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কোনো কোনো ডিলার সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন করে নিজস্ব গোডাউন খালি রেখে খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারের মাধ্যমে সার বিক্রির চেষ্টা করছেন। এতে কৃষক ডিলারের দোকানে সার না পেলেও খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে পাচ্ছেন।

    এর আগে গত রোববার কৃষি সচিব সেলিম খান রংপুরে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষকের স্বার্থে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা) যুগ্ম সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম গত রোববার আমার দেশকে বলেন, আমন মৌসুমে সারের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে সরকারি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু নতুন নীতিমালার আলোকে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর থেকেই একটি অসাধু গোষ্ঠী ও কিছু ডিলার অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম আতঙ্ক ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

    এদিকে রোববার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেছেন, আগামী দুবছরেও দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে না। বিসিআইসির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি বিকল্প হিসেবে দেশের বন্ধ তিনটি সার কারখানা চালু করা না যায়, তাহলে আমনের পাশাপাশি আগামী বোরো মৌসুমে সারের বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। যার প্রভাবে কৃষিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ ২০ হাজার টন। এর সঙ্গে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে ৫ লাখ টন রাখতে হয়। সব মিলিয়ে প্রয়োজন ৩১ লাখ ২০ হাজার টন। বর্তমানে দেশে ইউরিয়া মজুত রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩২৯ টন, যা নিরাপদ মজুতের চেয়ে মাত্র ৩২৯ টন বেশি।

    কদিন আগে এ মজুত ছিল প্রায় ৮৫ হাজার টন বেশি। কারণ, আগে যেখানে ১০ শতাংশ উৎপাদন ঘাটতি ছিল, গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

    জানা যায়, বিদেশ থেকে মোট ১০ লাখ ২৯ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে আরো ১ লাখ ৬০ হাজার টন সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

    বিসিআইসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে কয়েকটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ঘোড়াশালের পলাশ ও শাহজালাল সার কারখানা প্রায় ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। দুটি কারখানা প্রতিদিন এক লাখ টনের ওপরে উৎপাদন করছে।

    বিসিআইসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মঞ্জুর রেজা আমার দেশকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আরো কয়েকটি বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া আশুগঞ্জসহ কয়েকটি কারখানা চালু করা সম্ভব হলে দেশে সার উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানির ওপর চাপ কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

    তবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরিয়ার পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মজুত নিরাপদসীমার নিচে রয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ডিএপি মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৫৩ টন। নিরাপদ মজুতের জন্য প্রয়োজন ৫ লাখ টন। অর্থাৎ, ঘাটতি ১ লাখ ৯৭ হাজার টন। টিএসপির মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৪৭৯ টন। নিরাপদ মজুত প্রয়োজন ৪ লাখ টন। ঘাটতি ৯৬ হাজার টন।

    অন্যদিকে এমওপির মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬২৩ টন। নিরাপদ সীমা ৩ লাখ টন হওয়ায় ঘাটতি ১ লাখ ৩৯ হাজার টন। এ ঘাটতি দিন দিন বাড়বে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬২ হেক্টরে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৮০,৫৭৬ টন।

    বিসিআইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ডিলাররা সরকারি গুদাম থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সার উত্তোলন করেন। এরপর জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির তত্ত্বাবধানে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করার কথা। ফলে কোনো পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটির নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ ও পরিবহন ঝুঁকি থাকায় একাধিক উৎস থেকে সার সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে কোনো একটি দেশ বা সরবরাহ রুটে সমস্যা হলেও বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানি করা সম্ভব হবে।

    তবে ইউরিয়া সরবরাহে আমদানিনির্ভরতা বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন তারা।

  • সংকটাপন্ন বেসিক ব্যাংক রক্ষায় সরকারের রোডম্যাপ

    সংকটাপন্ন বেসিক ব্যাংক রক্ষায় সরকারের রোডম্যাপ

    রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংককে নতুন ঋণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংকের পর্ষদকে একটি সিএমএসএমই বিশেষায়িত, সুশাসিত এবং আর্থিকভাবে টেকসই রাষ্ট্র-মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে বলা হয়েছে। আর্থিক অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ধকল কাটিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংককে পুনরায় একটি শক্তিশালী ও লাভজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে বেশকিছু নীতিগত নির্দেশনাও দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। একই সঙ্গে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগোতে বলা হয়েছে, যাতে ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর পথে নতুন ঋণ সমস্যা তৈরি না করে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে ব্যাংকের একটি বিশেষ বৈঠক হয়। সেখানেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি ও নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে অর্থ বিতরণের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেসিক ব্যাংক। বিতরণ করা ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ঘাটতি এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকটের কারণে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় বড় ঋণ কার্যক্রমও।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসিক ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি বা অবস্থান এখনো দুর্বল, ঘাটতি রয়েছে। মুনাফা অর্জনের সক্ষমতাও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার শক্তি ফিরে পায়নি। ব্যাংকটির হিসাব বলছে, এখনো পরিচালন ও নিট লোকসানে রয়েছে। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কিছু সতর্কতা ও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলছে, নতুন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে তাই বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন; বড় ঋণের প্রস্তাব অনুমোদনের আগে ঋণগ্রহীতার প্রকৃত ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা (রিপেমেন্ট ক্যাপাসিটি), ব্যবসার ক্যাশ-ফ্লো, গ্রুপ এক্সপোজার, প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা এবং জামানতের বাস্তব মূল্য কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে; ঋণের একক কেন্দ্রীকরণ এড়াতে অতিরিক্ত কনসেন্ট্রেশন রিস্ক পরিহার করে পোর্টফোলিও বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। সিএমএসএমই ঋণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও যথাযথ মূল্যায়ন, ক্যাশ-ফ্লো বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ঋণের মানের সাথে আপস না করা হয়; ব্যাংকের এই ঘুরে দাঁড়ানো যেন নতুন ঋণ সমস্যা তৈরি হয়ে ব্যাহত না হয়।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও ছিলেন। বৈঠকে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে ১২টি করণীয় ঠিক করে দেওয়া হয়। এগুলো হলো, বড় খেলাপি অ্যাকাউন্ট ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান; ক্লাসিফাইড ও রাইট অফ লোন থেকে ক্যাশ রিকভারি বাড়ানো, নতুন খেলাপি কঠোরভাবে প্রতিরোধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধার যথাযথ ব্যবহার, সিএমএসএমই মেন্টেটকে কেন্দ্র করে কোয়ালিটি ঋণ বৃদ্ধি, আমানত প্রবৃদ্ধিকে লাভজনক সম্পদে রূপান্তর, পরিচালন লোকসান কমিয়ে আনা, মূলধন ঘাটতি কমানো, ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো, দক্ষ জনবলকে সর্বোচ্চ ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং গ্রাহক আস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম পুনর্গঠন করা। এসব ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতেও বলা হয়।

    বর্তমানে বেসিক ব্যাংকের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা হলো এর উচ্চ খেলাপি ঋণ বা এনপিএল। ডিসেম্বর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির এনপিএল রেশিও ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ, যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। বৈঠকে ব্যাংকটিকে নগদ পুনরুদ্ধারকে (ক্যাশ রিকভারি) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বেসিক ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নগদ অর্থ পুনরুদ্ধার। এজন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, শুধু পুনঃতফসিল নয়, সরাসরি আদায়। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য কেবল ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ, পুনর্গঠন বা রাইট-অফ -এর মতো হিসাবগত সমন্বয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি ক্যাশ রিকভারি বা নগদ অর্থ আদায়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় বেসিক ব্যাংক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও শিল্প অর্থায়নে একটি স্বতন্ত্র ও সফল পরিচিতি বজায় রেখেছিল। ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ বিজনেস মডেলকে পুনরায় সেই আদি ও ঐতিহাসিক মূল পরিচিতি অর্থাৎ সিএমএসএমই, ক্ষুদ্রশিল্প, উৎপাদনশীল খাত, নারী উদ্যোক্তা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এমন খাতে অর্থায়নের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া নিজস্ব সক্ষমতায় মূলধন ঘাটতি পূরণ, একটি গ্রহণযোগ্য ক্যাপিটাল রিস্টোরেশন প্ল্যান তৈরি, প্রভিশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন, অ-কোর সম্পদ বিক্রি, নিজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে মূলধন শক্তিশালীকরণে রোডম্যাপ তৈরি, দক্ষ জনবলের সঠিক ব্যবহার, মেধার ভিত্তিতে পোস্টিং ও প্রমোশন, যোগ্য কর্মকর্তাদের ক্রেডিট ও রিস্ক ম্যানেজমেন্টে নিয়োজিত করা এবং একটি শক্তিশালী সিএমএসএমই ও রিকভারি টিম গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    বেসিক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান খান আমার দেশকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে আগামী দিনের কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

  • আগামী ৫ বছরে মাথাপিছু আয় ৪৫০০ ডলার ও প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ, সংস্কার অগ্রাধিকার

    আগামী ৫ বছরে মাথাপিছু আয় ৪৫০০ ডলার ও প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ, সংস্কার অগ্রাধিকার

    আগামী পাঁচ বছরে দেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় সাড়ে চার হাজার ডলারে উন্নীত করতে চায় সরকার। ২০৩০–৩১ অর্থবছরের মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯১ ডলার।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) ট্রান্সফর্মিং ইকোনমি ফ্রম ফ্রেজাইলিটি টু প্রসপারিটি শীর্ষক প্রতিবেদনে মাথাপিছু আয়ের এ লক্ষ্য আছে। বিদায়ী অর্থবছরে মাথাপিছু গড় আয় ২ হাজার ৯৫৮ ডলার।

    জিইডির ওই প্রতিবেদনে আগামী পাঁচ বছরে সরকার যেসব খাতে সংস্কার ও উন্নয়ন করতে চায়, সেই পরিকল্পনা আছে। গতকাল বুধবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছরের জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়।

    মাথাপিছু আয় ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরের আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয়সহ যত আয় হয়, তা একটি দেশের মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে মাথাপিছু ভাগ করে এই হিসাব করা হয়। এটি দেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয়।

    কয়েক বছর ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। পরিকল্পনা অনুসারে ২০৩০–৩১ অর্থবছর নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

    এদিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি আগামী পাঁচ বছরে রেকর্ড পর্যায়ে নিতে চায় সরকার। চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঠিক করা হয়েছে। জিইডির প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছরেই প্রবৃদ্ধি বাড়বে। ২০৩০–৩১ অর্থবছরে সাড়ে ৮ শতাংশে পৌঁছাবে।

    জিইডির পরিকল্পনা অনুসারে, অর্থনীতির রূপান্তরে আগামী পাঁচ বছরকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম বছরে বিনিময় হার স্থিতিশীল করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনা হবে। প্রথম বছরকে বলা হয়েছে পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতার বছর।

    প্রথম থেকে তৃতীয় বছরকে বলা হচ্ছে পুনঃস্থাপনের বছর। এই সময়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, কার্যকর সরকারি ব্যয় নিশ্চিত করা, চাপে থাকা ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম বছরকে বলা হচ্ছে পুনর্গঠন ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর বছর। এ সময়ে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘টেক–অফ’ করা হবে।

    অর্থনীতির এসব রূপান্তরে ব্যাংক, রাজস্ব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন খাতের সংস্কার পরিকল্পনা জিইডির ট্রান্সফর্মিং ইকোনমি ফ্রম ফ্রেজাইলিটি টু প্রসপারিটি শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, এই পরিকল্পনাটি সরকারের একটি ভবিষ্যৎ ভাবনা। এতে উন্নয়নের স্পৃহা আছে। মোটাদাগে কিছু দিকনির্দেশনা আছে। কিন্তু কর্মসংস্থান, কর, ব্যাংক, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মতো বিভিন্ন খাতে বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়সীমা ধরে কর্মপরিকল্পনা দরকার।

    এম মাসরুর রিয়াজ আরও বলেন, অর্থনীতিতে একধরনের সংকট বা সমস্যা আছে। যেমন তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি খাত, বিনিয়োগ মন্দা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি। অর্থনীতিতে চালিকা শক্তি কম। অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ কাটাতে কার্যকর ও বাস্তকবায়নযোগ্য কর্মকৌশল দরকার। এই জিইডির পরিকল্পনায় তা নেই।

    ব্যাংক

    ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ আদায়, তদারকি জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

    দেশের ব্যাংক খাতে রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ, দুর্বল সুশাসন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। এতে অনেক ব্যাংকের মূলধন ও মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।

    সরকার তিনটি ধাপে এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। প্রথম বছরে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, পরবর্তী দুই বছরে ব্যাংক পুনর্গঠন এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম বছরে গভীর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    প্রথম বছরে ব্যাংক খাতের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক, খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

    পরবর্তী দুই বছরে ব্যাংকের সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ আদায়ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সংস্কারের শেষ ধাপে ব্যাংকগুলোকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    ব্যাংকের সুশাসন ও স্বচ্ছতা বাড়ানো, তথ্য ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আনা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনাগত স্বাধীনতা বাড়াতে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

    রাজস্ব

    জিইডির পরিকল্পনা অনুসারে, রাজস্ব খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি ও আদায় বিভাগ আলাদা করা হবে। অবশ্য এই উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছে।

    রাজস্ব খাতের অন্য সংস্কারগুলোর মধ্যে আছে—একক ভ্যাট হার প্রবর্তন; করছাড় কমিয়ে আনা; ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যূনতম কর নির্ধারণ করে অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতা আনা; ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ করা।

    ২০৩০–৩১ অর্থবছরে কর–জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কম কর–জিডিপি অনুপাতের দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ।

    যোগাযোগ ও পরিবহন

    যোগাযোগ খাতের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ঠিক করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বেশ কিছু বড় প্রকল্প নিতে চায়। যেমন নারায়ণগঞ্জ–কুমিল্লা–লাকসাম–ফেনী কর্ডলাইন (রেলপথ)। এ ছাড়া রেলের ঢাকা–চট্টগ্রাম ডাবল লাইনে বিদ্যুতায়ন করতে চায় সরকার। পাশাপাশি ঢাকা–পঞ্চগড় ডাবল লাইন; ঢাকা–চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডাবল লাইন করার পরিকল্পনাও আছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত রেল সংযোগের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই পরিকল্পনায়।

    এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরের জন্য মেট্রোরেল, এলিভেটেড রেল, কমিউটার রেললাইন, মনোরেল করার পরিকল্পনা আছে।

    তরুণদের কর্মসংস্থান

    বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার সবচেয়ে বেশি। সরকার তরুণদের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। যেমন ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৫৬০ জন তরুণকে স্টার্টআপ ফান্ড থেকে টাকা দেওয়া হবে। প্রতিবছর ১ হাজার ২০০ নারী উদ্যোক্তাকে নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে।

    সুশাসন

    জিইডির প্রতিবেদনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুশাসন সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের ফলাফল নির্ধারণের একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এর আওতায় রয়েছে সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, আইনের শাসন মেনে চলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুশাসন কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করলে এমন একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে কার্যকর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি, নিম্ন মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় থাকে।

  • এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত আবাসন প্রতিষ্ঠান চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চীনের একটি আদালত এ রায় দেন। প্রতিষ্ঠানটির পতনের ফলে চীনের অর্থনীতি ও আর্থিক বাজার কেঁপে ওঠার পাঁচ বছর পর এ রায় এল।

    হুই কা ইয়ান একসময় এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। এপ্রিলে তহবিলের অপব্যবহার, অর্থ সংগ্রহের নামে প্রতারণা, বেআইনিভাবে জনগণের আমানত গ্রহণ, বেআইনিভাবে ঋণদান, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সিকিউরিটিজ ইস্যু করা, ঘুষ প্রদানসহ আটটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন তিনি।

    চীনের একসময়কার প্রধান আবাসন প্রতিষ্ঠান এভারগ্র্যান্ড ৩০ হাজার কোটি ডলারের দায়–দেনার অধিকাংশ পরিশোধে ব্যর্থ (ডিফল্ট) হয়েছে। তাদের এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নিচের দিকে টেনে রাখা আবাসন খাতের সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ‘আমাদের অর্থের কী হবে’

    চীনের দক্ষিণের শহর শেনঝেনের আদালতে দেওয়া এই রায়ে হুই কা ইয়ানের সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর গল্পের সমাপ্তি ঘটল। তবে এতে এভারগ্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি পাওনাদারদের আশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    এভারগ্র্যান্ডের অবসায়নকারীরা (লিকুইডেটর) এই রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রয়টার্স ইয়ানের আইনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। ২০২৩ সালে এভারগ্র্যান্ডের খেলাপি হওয়ার পর চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করেছিল। এরপর তাঁকে আর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

    আদালত থেকে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, দীর্ঘ হাতাযুক্ত নেভি ব্লু কলার শার্ট পরা ৬৭ বছর বয়সী পাকা চুলের ইয়ান দুই কর্মকর্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন এবং আদালত রায় পড়ে শোনাচ্ছেন।

    আদালত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এভারগ্র্যান্ড গ্রুপ, হেংদা রিয়েল এস্টেট এবং হুই কা ইয়ানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও চরম গুরুতর অনিয়ম জড়িত ছিল। এর ফলে গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে শাস্তিযোগ্য।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ক্রেতারা নানা মন্তব্য করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সব সাধারণ নাগরিককেই মাশুল দিতে হয়েছে।’ আরেকজনের মন্তব্য,‘কারাদণ্ড মূলত তাঁকে রক্ষা করার জন্য। তিনি বাইরে এলে তাঁর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘আমাদের অর্থের কী হবে?’

    ইয়ানের শাস্তির পাশাপাশি আদালত জানিয়েছেন, তাঁরা এভারগ্র্যান্ডকে ৮৮২ কোটি ইউয়ান(১৩১ কোটি ডলার) এবং এর প্রধান সহযোগী প্রতিষ্ঠান হেংদাকে ৭০০ কোটি ইউয়ান জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আরও পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে জরিমানা এবং ৬ থেকে ১৮ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ইয়ান ছাড়া এভারগ্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট ৫৬ ব্যক্তিকে আজ বৃহস্পতিবার কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    ওয়েলথ-ম্যানেজমেন্ট প্রোডাক্টের শত শত কোটি ডলার ফেরত দিতে কোম্পানির ব্যর্থতার কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছিল। কারণ, অনেক কম আয়ের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাঁদের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন।

    আকাশ থেকে তোলা ছবিতে চীনের হাইনান প্রদেশের দানঝৌতে চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের নির্মিত ৩৯টি ভবন। ৬ জানুয়ারি, ২০২২, হাইনান প্রদেশ

    বছরের পর বছর ঝুলছে এভারগ্র্যান্ডের অবসায়ন প্রক্রিয়া

    মধ্য হেনান প্রদেশের এক গ্রামে দাদির কাছে বেড়ে ওঠা সাবেক ইস্পাত টেকনিশিয়ান ইয়ান ১৯৯৬ সালে এভারগ্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। আগ্রাসীভাবে ঋণ নিয়ে বিক্রির দিক থেকে এটিকে চীনের সর্ববৃহৎ আবাসন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

    ফোর্বসের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে ইয়ানের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৫৩ কোটি ডলার, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

    হংকংয়ের এক আদালত ২০২৪ সালে এভারগ্র্যান্ডকে অবসায়নের (লিকুইডেশন) নির্দেশ দেন এবং হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ গত বছর এটিকে তালিকাচ্যুত করে। এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের পতন ত্বরান্বিত হয়।

    অবসায়নকারীদের মতে, অবসায়নপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত পাওনাদারদের ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের দাবির বিপরীতে মাত্র ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।

    চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবসায়নকারীরা ইয়ান ও তাঁর সাবেক স্ত্রীর অফশোর সম্পদ জব্দ করার জন্য আদালতে লড়াই করছেন, যাতে প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যান্য সাবেক কর্মকর্তার পরিশোধ করা ৬০০ কোটি ডলারের লভ্যাংশ ও বেতন উদ্ধার করা যায়।

    ২০২৪ সালে চীনের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইয়ানকে ৬৬ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। সিকিউরিটিজ মার্কেট থেকে তাঁকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। কারণ, তদন্ত করে দেখা গিয়েছিল, এভারগ্র্যান্ডের মূল শাখা আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছিল এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতি করেছিল।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছাড়াল ৪০ লাখ কোটি ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছাড়াল ৪০ লাখ কোটি ডলার

    আন্তর্জাতিক ডস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যয় যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, সে তুলনায় করছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় অনেক কম হচ্ছে। ফলে এক বড় ধরনের আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ ৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ঋণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার।

    মাত্র এক দশকের কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশটির সরকারি ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

    সরকারি ঋণ বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা সামলাতে সরকারের নেওয়া জরুরি ঋণ কর্মসূচির কারণে। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ ঋণের জন্য দায়ী এ দুই প্রেসিডেন্টের নেওয়া আর্থিক নীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও ব্যয়ের মধ্যকার কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা।

    বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা করছিল। তারা সতর্ক করে বলেছে, আইনপ্রণেতারা যদি এখনই এ বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর ব্যবস্থা না নেন, তবে দেশটিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট নেমে আসবে।

    নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু সরকারের খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে টের পাওয়া যায় এবং ঘুরেফিরে কোনো না কোনোভাবে সাধারণ মানুষের পকেটেই টান পড়ে।

    ম্যাকগিনিস বলেন, সরকার যত বেশি ঋণ নেবে, মূল্যস্ফীতির চাপ তত বাড়বে, বাজেটের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হবে এবং দেশের ভেতরের জরুরি পরিস্থিতি বা বিদেশে অস্থিরতার সময় যুক্তরাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    ম্যাকগিনিস আরও বলেন, ১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। অথচ ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েছে। গত ২০ বছরের কম সময়ে দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪ গুণ বেড়েছে।

    ট্রাম্প-বাইডেনের আমলে ঋণ বেড়েছে

    যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের সময়কার বিভিন্ন নীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আয়ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা দায়ী। এর মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সরকারের বিপুল ব্যয়ও বড় ভূমিকা রেখেছে।

    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর অর্ধেকের বেশি বেড়েছিল তাঁর মেয়াদের শেষ ৯ মাসে, মহামারি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ের কারণে।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আরও ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বেড়েছে; অর্থাৎ দুই মেয়াদ মিলিয়ে তাঁর সময়ে এখন পর্যন্ত সরকারি ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে জো বাইডেনের চার বছরের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তাঁর সময়েও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

    সুদ পরিশোধে বাড়ছে ব্যয়

    যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৬০ শতাংশ যায় বাধ্যতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা, বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা, নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এবং সাবেক সেনাসদস্যদের চিকিৎসা।

    এ ছাড়া প্রতিবছর প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে। ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যয়ও বাড়ছে।

    ২০২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ছাড়িয়ে যায়। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সুদ পরিশোধের ব্যয় স্বাস্থ্যসেবা খাতের বড় কর্মসূচি মেডিকেয়ারে ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পর এটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের খাত।

    বাজেট–ঘাটতিও বাড়ছে

    গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ছিল ৪৩২ বিলিয়ন ডলার। দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় বাজেট ঘাটতি।

    শুল্ক থেকে পাওয়া আয় কমে যাওয়া এবং বয়স্কদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট–ঘাটতি পুরো ২০২৫ অর্থবছরের ঘাটতিকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছর শেষ হতে এখনো দুই মাস বাকি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অবসর ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ও সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া বড় প্রজন্মটি অবসর নেওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ারের মতো কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু বেতন ও আয়কর থেকে সরকারের যে রাজস্ব আসে, তা এসব ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

  • মিত্রদের কাছে সাহায্য ভিক্ষা চাইছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    মিত্রদের কাছে সাহায্য ভিক্ষা চাইছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, পরাজয়ের পর মিত্রদের কাছে সাহায্যের জন্য ‘ভিক্ষা চাইছে’ যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেইসঙ্গে যেসব দেশ ইরানকে সহায়তা বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে তাদের ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    ট্রাম্পের এই হুমকির পর গারিবাদি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) দাবি করছে ইরান পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে, সুতোর ওপর ঝুলছে, অথচ তারা তাদের সব মিত্রদের কাছে সাহায্যের জন্য ভিক্ষা চাইছে!’

    তিনি আরো বলেন, ‘সামরিক যুদ্ধ কোনো ফল দেয়নি, তাই এখন তারা পরবর্তী ব্যর্থতার নাম দিয়েছে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’।’

    এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সদ্য ঘোষিত অর্থনৈতিক যুদ্ধ ওয়াশিংটনের জন্য আরেকটি পরাজয় ডেকে আনবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরো গভীর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘তথাকথিত ইকোনমিক ডি-ডে’ প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল। দেশটির ঋণ নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সুদের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে।’

  • জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা, ৬৩ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জে

    জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা, ৬৩ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জে

    ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন পর্ব শেষে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে বিএনপি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস রপ্তানিকে গতিশীল করা। সেই পরীক্ষায় দেশের রপ্তানি খাতের চিত্রে যেমন ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলেছে, তেমনি জ্বালানি সংকটে প্রবৃদ্ধির দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সংকটে রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের ৬৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট ৬,৩৪০ কোটি (৬৩.৪ বিলিয়ন) ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫,৫২০ কোটি এবং সেবা খাত থেকে ৮২০ কোটি ডলার আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সম্প্রতি এ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্জিত রপ্তানি আয়ের তুলনায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশি ও বৈশ্বিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৬৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ উচ্চাভিলাষী।

    নতুন লক্ষ্যমাত্রায় পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বড় অবদান থাকবে তৈরি পোশাক খাতের। এ খাত থেকে ৪,৪৫০ কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩,৮৭০ কোটি ডলার।

    এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পণ্য রপ্তানি থেকে ৫,৫০০ কোটি এবং সেবা খাত থেকে ৮৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ওই অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬,৩৫০ কোটি (৬৩.৫ বিলিয়ন) ডলার। তবে বছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি আয় কম হওয়ায় তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। দেশে ইতোমধ্যে গ্যাসের সংকট নতুন করে আবার তীব্র হয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে চাহিদা কমায় পণ্যের মূল্য বাড়ছে না। এ অবস্থার মধ্যে সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি খাত স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় পৌঁছায়নি। বরং মাসভেদে ক্রয়াদেশ, বৈশ্বিক চাহিদা, উৎপাদন সক্ষমতা ও শিপমেন্টের ওপর নির্ভর করেই রপ্তানি আয় ওঠানামা করছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-জুলাই ছয় মাসে রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ২৪.০৮ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ২০২৬ সালের একই সময় আয় হয়েছে ২৪.৩০ বিলিয়ন ডলার। ফলে ছয় মাস শেষে প্রবৃদ্ধি খুবই সামান্য—প্রায় ০.৯ শতাংশ। অথচ এ সময়ের মধ্যে দুই দফা বড় পতন এবং দুই দফা শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

    ইপিবির তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয় ৩.৪৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের ৩.৯৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম। দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় মাসটিতে বড় ধাক্কা খায় রপ্তানি। ফেব্রুয়ারিতে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক ১৩ শতাংশের বেশি কমার চিত্র উঠে আসে।

    মার্চে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। ওই মাসে রপ্তানি আয় নেমে আসে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের মার্চে আয় হয়েছিল প্রায় ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। রমজান, দীর্ঘ ঈদের ছুটি এবং উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্নের পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এ সময়ে রপ্তানি খাতে চাপ তৈরি করে।

    এরপর এপ্রিলে বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটে। রপ্তানি আয় ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের একই মাসের প্রায় ৩.০২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩২.৯২ শতাংশ বেশি। মার্চের ছুটিজনিত উৎপাদন ও শিপমেন্টের ব্যাকলগ এপ্রিলে পাঠানো এবং তৈরি পোশাকের চালান বাড়ার কারণে এ প্রবৃদ্ধি আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    তবে এ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা মে মাসে ধরে রাখা যায়নি। ওই মাসে রপ্তানি আয় হয় ৪.৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৭.০৭ শতাংশ কম। ঈদের দীর্ঘ ছুটি ও বৈশ্বিক চাহিদার মন্থরতা এ পতনের অন্যতম কারণ ছিল।

    জুনে আবার রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। মাসটিতে আয় হয়েছে ৪.২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ২৫.৯১ শতাংশ বেশি। তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর শক্তিশালী পারফরম্যান্সে মাসটি অর্থবছরের শেষদিকে রপ্তানিতে স্বস্তি আনে।

    নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় আরো বেড়ে ৪.৭২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। জুনের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয় ১২.৪৯ শতাংশ। তবে আগের বছরের জুলাইয়ের ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় আয় ০.৯ শতাংশ কম। তৈরি পোশাক রপ্তানিও এ মাসে ১.৯২ শতাংশ কমেছে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, কোনো সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। তারপরও ব্যবসা পরিচালনাকে সহজতর করে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করার জন্য এবং অর্থনীতির গতিধারা ফিরিয়ে আনতে নতুন সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, আংশিক রপ্তানিমুখী এবং বন্ড সুবিধাবিহীন রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এটি আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য অনেক সহায়ক হবে এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ করবে। করনীতিতেও ভালো কিছু পরিবর্তন এনে ব‍্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, এ মুহূর্তে শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। এর মধ্যে ব‍্যাংক খাতের সমস‍্যাগুলো এখনো সমাধান হয়নি। এ সময়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আশা করি তারা দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।

    সামগ্রিক চিত্র বলছে, রপ্তানি খাত এখনো স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় পৌঁছায়নি। বরং মাসভেদে ক্রয়াদেশ, বৈশ্বিক চাহিদা, উৎপাদন সক্ষমতা ও শিপমেন্টের ওপর নির্ভর করেই রপ্তানি আয় ওঠানামা করছে। গত অর্থবছরেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ০.৫৮ শতাংশ কম ছিল।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৩৮৪৯ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৩৮৪৯ টাকা

    দেশের বাজারে স্বর্ণের গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি বেড়েছে রুপার দামও। ভরিতে ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

    এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।

    নতুন এই বৃদ্ধির ফলে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, চলতি বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৬৩ বার। এর মধ্যে ৩৩ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩০ দফা কমেছে।

  • ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এবং ১০টি মেডিক্যাল কলেজে ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন আট হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক শেষে এসব কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া ১০টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সেতুসমূহের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

    পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পটিও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

    কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

    কৃষি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছানো এবং ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে কঠোরভাবে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর কারণ ও নতুন নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কৃষি খাতে ঋণ বিতরণে এখন বিশেষায়িত ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের অংশগ্রহণও আরো বাড়ানো হচ্ছে।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান বিবেচনায় কৃষি খাতে ঋণের অংশ বর্তমানে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কৃষি ঋণের অংশকে মোট ঋণের আড়াই শতাংশ থেকে এবার চার শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ অংশ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।কৃষির অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ বিতরণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, কৃষিকে স্বনির্ভর এবং কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করাই কৃষি ঋণ বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য। কৃষক যেন ঋণ মওকুফের আশায় না থেকে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে পারেন, উৎপাদন বাড়াতে পারেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন—সে লক্ষ্যেই কৃষি ঋণের পরিমাণ ও আওতা বাড়ানো হচ্ছে।

    কৃষি ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি গভর্নর বলেন, কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সঠিক সময়ে এবং প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছে দেওয়া। কোনো ব্যক্তি প্রকৃত কৃষক না হয়েও কৃষি ঋণ পেলে সেখানে ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের অর্থের অপব্যবহারকে অর্থপাচারের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যেতে পারে

    তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষক কার্ডধারীদের ঋণ দেওয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে কৃষক কার্ড না থাকলে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে, যাকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে তিনি সত্যিই কৃষক কি না। প্রকৃত কৃষক যাচাই না করে ঋণ দিলে এর দায়ভার ব্যাংককেই বহন করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাবিবুর রহমান স্বীকার করেন, কৃষি ঋণ বিতরণে মধ্যস্বত্বভোগী ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছাচ্ছে কি না এবং ঋণের অর্থ যথাযথ কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের জরিপ ও পর্যবেক্ষণ করে। এ ক্ষেত্রে আরো নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

    কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণ বিতরণে পুরোনো ঋণ সমন্বয় করে নতুন করে ঋণ দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, সব ক্ষেত্রে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। একজন কৃষকের আগের ঋণ পরিশোধের পর তার প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হলে সেটিকে নতুন ঋণের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই না করে একই ঋণ বারবার নবায়ন করা হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ঋণ দেওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই অর্থ সঠিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না। ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করে কৃষক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অর্জন করেছেন কি না, সেটিও ব্যাংককে দেখতে হবে। ঋণ বিতরণের শুরু থেকেই এর ব্যবহার ও পরিশোধ সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

    নতুন নীতিমালায় অঞ্চলভেদে কৃষির ধরন ও চাহিদা বিবেচনায় ঋণ বিতরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘এরিয়া অ্যাপ্রোচ’ পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ সরকারের ক্রপ জোনিং, ‘খামারি’ অ্যাপস এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ক্রপ জোনিংয়ের তথ্য ব্যবহার করে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও ঋণের চাহিদা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, কোনো এলাকায় ধান, কোথাও আলু, কোথাও মাছ বা অন্য কোনো কৃষিপণ্য বেশি উৎপাদিত হলে সে অনুযায়ী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ, জমির পরিমাণ, সার, বীজ, শ্রমিক ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করেই ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারদরের সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ থাকবে।

    নতুন নীতিমালায় নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য জামানতবিহীন ঋণসহ বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও ঋণ বিতরণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু চার্জ ডকুমেন্ট ছাড়া অন্য কোনো চার্জ ডকুমেন্ট গ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ বিতরণে প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও দলগত জামানত ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নীতিমালায় কৃষি ঋণের অর্থ যেন নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার হয়, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাংকগুলো একক বা দলবদ্ধ কৃষক ও খামারির অনুকূলে ঋণ দিতে পারবে। হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন, হ্যাচারি, মাছের পোনা উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতকে ঋণের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, চুক্তিভিত্তিক কৃষি, বিভিন্ন নতুন ফসলের উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনাকেও নীতিমালায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল-সংক্রান্ত নীতিমালার সারসংক্ষেপও নতুন কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষুদ্র মূলধনের কৃষক, নতুন উদ্যোক্তা এবং নির্দিষ্ট উৎপাদন খাতকে ঋণের আওতায় আনতে বিভিন্ন সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ২১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধু ঋণের পরিমাণ বাড়ানো নয়; বরং প্রকৃত কৃষকের কাছে ঋণ পৌঁছানো এবং উৎপাদনশীল কাজে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা। কৃষক যেন ঋণ নিয়ে উৎপাদন বাড়াতে পারেন এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করে পরবর্তী সময়ে আরো বড় ঋণ পাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন, সে বিষয়টিই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, কৃষি ঋণ বিতরণে কোনো ব্যত্যয় যেন না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব টিমও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ, ঋণের সঠিক ব্যবহার এবং সময়মতো ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি আরো জোরদার করা হবে।

  • হরমুজ নিয়ে ইরানের কাছে বিশেষ সুবিধা চাইল ইরাক

    হরমুজ নিয়ে ইরানের কাছে বিশেষ সুবিধা চাইল ইরাক

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ইরাককে বিশেষ বিবেচনা বা সুবিধা দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ আহ্বান জানান বলে ইরাকি বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরাকের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে আল-হালবুসি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে ইরাক সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম। এ অবস্থায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যা ইরাকের অর্থনৈতিক স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রাখতে সহায়তা করে।

    ইরাকি স্পিকারের এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, তেহরান ইরাকের সঙ্গে বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। একই সাথে তিনি দুই দেশের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও জোর দেন।

  • যুদ্ধের মধ্যেও তেল বেচে ইরানের আয় ৭৫০ কোটি ডলার

    যুদ্ধের মধ্যেও তেল বেচে ইরানের আয় ৭৫০ কোটি ডলার

    চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে সাড়ে সাত বিলিয়ন (৭৫০ কোটি) মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে ইরান।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং আন্তর্জাতিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দেশটি এই রাজস্ব অর্জন করতে সক্ষম হলো।

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্জিত সমস্ত বৈদেশিক মুদ্রা ইতিমধ্যেই ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান)-এর রিজার্ভে জমা দেওয়া হয়েছে।

    ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফারস নিউজ বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ গুণ বা ৫০ শতাংশ বেশি। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন রোধ ও বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা জোরদার করার ফলেই এই সফলতা এসেছে।

    ফারস নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই চার মাসে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে, তা দিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত ইরানি সরকারের যাবতীয় জরুরি পণ্য আমদানি ও প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

    ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বছরের দুই মাস পার হওয়ার পর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ সামরিক হামলা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, এই সংঘাতের ফলে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তাদের তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়বে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—সংঘাত সত্ত্বেও দেশটির তেল উত্তোলন ও আন্তর্জাতিক বাজারে তা পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিকল্প উপায়ে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখাই ইরানের আয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

    ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘ দিন ধরেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপে রয়েছে। এর মধ্যে সামরিক অভিযানের অতিরিক্ত ব্যয় ইরানের সরকারের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে এই সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলার পৌঁছানোয় সাময়িকভাবে দেশটির জাতীয় মুদ্রা (রিয়াল)-এর ওপর চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, তেল খাতের এই প্রবৃদ্ধি ইরানের বর্তমান সরকারকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বস্তি দেবে।