শিক্ষা ও সাহিত্য

  • শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকরা হলেন- কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছয় শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। ছুটির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তাঁরা কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুড়িগ্রাম জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদ্বীন। এ সময় জেলা ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক বাইজিদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজা, ফুলবাড়ী উপজেলা সভাপতি মিরাজ হোসেন, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, ছাত্রশিবির রংপুর মহানগরের সাবেক প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা ও কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক প্রচার সম্পাদক আবদুল হালিম রানা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেম ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

    অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, বই ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় সুধীজন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিদায়ী বার্তা ডাকসু ভিপির

    বিদায়ী বার্তা ডাকসু ভিপির

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর)। ২০২৫ সালের এই নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সরব থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সর্বাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডাকসু ভিপি। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়।

    চিঠিতে যা লিখলেন ডাকসু ভিপি

    চিঠির শুরুতে সাদিক কায়েম লেখেন, প্রিয় শিক্ষার্থীবন্ধু, আসসালামু আলাইকুম। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষায় অনুষ্ঠিত নিয়মতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হলো আজ।

    তিনি লেখেন, নানা অসহযোগিতা ও সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আপনাদের অকৃত্রিম সমর্থন ও ভালোবাসায় বিগত এক বছরে আমরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়োজিত রেখেছি। ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, বাধাবিপত্তি ও আঘাত সয়ে আমরা ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। বন্ধ হয়েছে গণরুম-গেস্টরুমের মতো দীর্ঘদিনের নিপীড়নমূলক সংস্কৃতি ফেরার পথ।

    চিঠিতে গত এক বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন ডাকসু ভিপি। তিনি লেখেন, একই সঙ্গে পরিবহণ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা, হলে পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেখেছে ইতিবাচক রূপান্তরের সূচনা। শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব শান্তিপূর্ণ স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণের এই অগ্রযাত্রায় আপনারা প্রত্যেকেই একজন গর্বিত অংশীদার।

    সবশেষে তিনি লেখেন, ডাকসুর এক বছরের পথচলায় পাশে থাকার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও উষ্ণ অভিনন্দন। নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন ও ক্যাম্পাসের ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, সেই প্রত্যাশায়..

  • দৌলতপুরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত

    দৌলতপুরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়েছে প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার।

    বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। সে হিসাবে পানি বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বেড়ে যাওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ তলিয়ে গেছে। এতে দুই ইউনিয়নের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে বন্যার পানি ঢুকে রোপা আমন ধান, কলা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতবাড়ির কাছাকাছি পানি পৌঁছে যাওয়ায় গবাদিপশুর নিরাপত্তা, গোখাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সম্ভাব্য সংকট নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

    চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য শেখ নুরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এবং বন্যা দীর্ঘায়িত হলে বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো প্রয়োজন।’

    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সব গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। সাধারণ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রেখে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।

    বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, পানি বাড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা না করলেও বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আপাতত ক্লাসে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষ সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং দুর্গত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষের সহায়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ইউএনও জানান, ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষা কর্মকর্তা

    শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষা কর্মকর্তা

    রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে অভিভাবকেরা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান।

    পরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে তাঁকেও অবরুদ্ধ করা হয়। আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে এই অবস্থা। পরে পুলিশি পাহারায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা সবাইকে বের করে নেওয়া হয়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বাইরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি অভিভাবকদের জানায়। এরপর ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। আজ সকালে এলে তাঁকে আটকের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।

    পরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ঘটনাস্থলে আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকের আচরণে মেয়ে শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি বোধ করত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছে।

    কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে থাকাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল।

    গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সবাইকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সবাইকে বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি বিদ্যালয়ে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করা উচিত।’

    অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

    বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি কখনো চিন্তা করতে পারিনি আমার এই শিক্ষক এ ধরনের কাজ করবেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফোন করে বিদ্যালয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার কথা জানানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

  • এবার প্রকাশিত হলো এপস্টেইন মামলায় বাদীর পরিচয়

    এবার প্রকাশিত হলো এপস্টেইন মামলায় বাদীর পরিচয়

    জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে ব্যাংক অব আমেরিকার বিরুদ্ধে করা ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারের মামলার অন্যতম প্রধান বাদী হিসেবে পরিচিত ‘জেন ডো’র পরিচয় ও ছবি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে। ওই নারী হলেন ৩৭ বছর বয়সি জুলিয়া মলচানোভা।

    মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং অনেক লড়াই করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। ২০১১ সালে নিউইয়র্কের একটি রাস্তায় এপস্টেইনের সঙ্গে আকস্মিকভাবে পরিচয় হয় রাশিয়ার তরুণ ডিজাইন শিক্ষার্থী মলচানোভার। তখন তিনি খুব সামান্য ইংরেজি জানতেন। এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্কের ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হতে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন।

    মলচানোভার দাবি, সেই প্রস্তাবের আড়ালেই শুরু হয় তার ওপর যৌন নির্যাতন এবং এমন এক দুঃস্বপ্ন, যা তার জীবনের বহু বছরকে গ্রাস করে নেয়। এপস্টেইন তার পোশাক, চুল কতটা লম্বা রাখবেন, কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, কার সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং কীভাবে অর্থ খরচ করবেন—এসব বিষয় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তার অজান্তে একটি কোম্পানি তার নামে খোলা হয়েছিল এবং সেই কোম্পানির মাধ্যমে এমন সব আর্থিক লেনদেন করা হয়, যেগুলো সম্পর্কে তিনি কিছুই বুঝতেন না ।

  • এসএসসি পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জের ফল জানবেন যেভাবে

    এসএসসি পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জের ফল জানবেন যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর পুন:নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। তিন পদ্ধতিতে এই ফল জানা যাবে।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্ত:শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রথমত, নিজ নিজ শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল ফোন নাম্বারে এসএমএস পাঠানো হবে। এছাড়াও, https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।

  • কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি, নেতৃত্বে শেকৃবি

    কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি, নেতৃত্বে শেকৃবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ভর্তি কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)।

    কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

    সূত্র জানায়, কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণসহ পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

    ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, আসনসংখ্যা, পরীক্ষার সময় ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হবে।

    শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য,কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকে। ফলে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তেরবিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

  • স্কুলে থেকে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু

    স্কুলে থেকে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু

    গাজা সিটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৮ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা। সম্প্রতি পশ্চিম গাজা সিটিতে বাবার সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সে ও তার বাবা ইউসুফ নাবিল রাবাহ আকিলা নিহত হন। হামলায় আরো ছয় ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    হামিদের মোড়ের কাছে গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ওয়াফা নীল রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরে ছবি তুলেছিল। ছবিতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় থাম্বস-আপ দিতে দেখা যায়। স্কুলে ফেরার আনন্দে নতুন বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য বাবার সঙ্গে বের হয়েছিল সে। হামলার পর বিধ্বস্ত গাড়ির পাশে তার স্কুলের বই ও শিক্ষাসামগ্রী ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

    ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রথমে জানায়, হামলাটি হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং হামলার ফলাফল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে তারা নিহত ওয়াফার বাবা ইউসুফ আকিলাকে হামাসের নুখবা বাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দাবি করে। ইসরাইলি বাহিনীর অভিযোগ, তিনি ইসরাইলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন। তবে এসব দাবির সমর্থনে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

    ওয়াফার মৃত্যু গাজায় শিশুদের শিক্ষাজীবনের বিপর্যয়ের চিত্রকে আবারও সামনে এনেছে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে গাজার বড় একটি অংশের শিক্ষা অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শিশু এখন তাঁবু, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ কিংবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পড়াশোনা করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছু স্কুল ও বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র এরই মধ্যে চালু হয়েছে।

    রোববার গাজার অন্যান্য স্থানেও হামলায় শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্য গাজায় দেইর আল-বালাহর পূর্বদিকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয় নেওয়া সাকিনা স্কুলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে সাত বছর বয়সি সাদি ঘালিয়াও নিহত হয়েছে। হামলায় আরো কয়েকজন আহত হন।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও হামলা ও প্রাণহানি অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওয়াফার মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই স্কুলে ফেরার আনন্দের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর নির্মম বৈপরীত্য তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে একটি শিশু নতুন বই-খাতা নিয়ে শিক্ষাজীবনে ফিরতে চেয়েছিল, সেখানে যুদ্ধ তার সেই পথও বন্ধ করে দিয়েছে।

  • পূর্ণাঙ্গ মানুষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ

    পূর্ণাঙ্গ মানুষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ

    তুরস্কের শিক্ষাবিদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মাহমুদ ওজেরে ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক নগরসমাজ’ধারণাগুলোকে ‘জাস্টিস ইন ইসলামিক থট’ বইয়ের আলোকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ওমর তুর্কার ও ইউনুস কাপলান সম্পাদিত বইটি ইসলামি চিন্তায় ন্যায়বিচারের ধারণা কীভাবে ব্যক্তি, পরিবার, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে- তা বিশ্লেষণ করে। লেখাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো—ন্যায়বিচার কেবল আদালত, আইন বা রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; এটি মানুষের অস্তিত্ব ও চরিত্র থেকে শুরু হয়ে পুরো সামাজিক ব্যবস্থাকে ধারণ করে।

    এখানে ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ দুটি আলাদা আদর্শ নয়। বরং একটি আরেকটির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যে মানুষ নিজের আত্মার ভেতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। আবার যে সমাজ ন্যায়, নৈতিকতা ও সুবিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেই সমাজ ব্যক্তিকে নৈতিকভাবে বিকশিত হওয়ার পরিবেশ দেয়। অর্থাৎ ব্যক্তি সমাজকে তৈরি করে, আবার সমাজও ব্যক্তিকে তৈরি করে।

    এই ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের আত্মার শৃঙ্খলা। প্লেটোনীয় ঐতিহ্যে মানুষের আত্মার তিনটি প্রধান শক্তির কথা বলা হয়—বুদ্ধি, উদ্দীপনা বা সাহসের শক্তি এবং আকাঙ্ক্ষা ও ভোগের প্রবৃত্তি। প্রত্যেকটির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হলে জ্ঞান, সাহস ও সংযমের মতো গুণের বিকাশ ঘটে। আর এই গুণগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সমন্বয় ঘটায় ন্যায়বিচার। ফলে ন্যায় হয়ে ওঠে অন্যান্য নৈতিক গুণের সমন্বিত ভিত্তি।

    এই দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ মানুষ সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের বুদ্ধি, সাহস ও আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথ ভারসাম্যের মধ্যে আনতে পেরেছেন। তার চরিত্রে জ্ঞান আছে, কিন্তু জ্ঞান অহংকারে পরিণত হয়নি; সাহস আছে, কিন্তু তা উগ্রতায় রূপ নেয়নি; আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু তা তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। ন্যায়বোধ এই প্রবৃত্তিগুলোকে যথাস্থানে রাখে।

    ইসলামি নৈতিক দর্শনে এই ধারণা ব্যক্তি থেকে পরিবারের দিকে বিস্তৃত হয়। নাসিরুদ্দিন তুসির ‘আখলাক-ই নাসিরি’তে নৈতিক দর্শনকে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—এই তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত স্তরে দেখা হয়েছে। এখানে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার আলাদা বিষয় নয়। ব্যক্তি যেমন নিজের চরিত্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে, তেমনি পরিবার পরিচালনা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক জীবনের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হবে।

    আধুনিক যুগে ন্যায়বিচারকে আমরা সাধারণত আইন, আদালত, অধিকার কিংবা রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তায় ন্যায়বিচারের পরিধি আরো বিস্তৃত। সেখানে ন্যায় মানে শুধু কারও অধিকার রক্ষা করা নয়; বরং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ অবস্থানে রাখা এবং প্রতিটি সম্পর্ককে তার উপযুক্ত ভারসাম্যের মধ্যে পরিচালনা করা। অন্যায় হলো কোনো কিছুকে তার যথার্থ স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    এই ধারণাটি আল-গাজ্জালির চিন্তাতেও গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে ন্যায় এমন একটি বাস্তব নৈতিক গুণ, যা মানুষের আচরণে প্রকাশ পেতে হবে। শুধু ন্যায় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা যথেষ্ট নয়; ন্যায়কে চরিত্রে পরিণত করতে হবে এবং জীবনের কাজে তার প্রকাশ ঘটাতে হবে। ফলে নৈতিকতা কোনো বক্তৃতা বা তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়—এটি জীবনযাপনের বিষয়।

    এই জায়গায় ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্পর্কটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমাজের ন্যায়বিচার শুধু ভালো আইন দিয়ে নিশ্চিত হয় না। আইন প্রয়োগকারী মানুষ, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পরিবার এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে ন্যায়বোধের চর্চা করতে হয়। ন্যায়বান মানুষ ছাড়া ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান টেকসই হয় না। আবার ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া ব্যক্তির নৈতিক বিকাশও কঠিন হয়ে পড়ে।

    আল-ফারাবির ‘গুণী নগর’ ধারণার মূল শক্তি এখানেই। গুণী নগর এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ বা সুখ অর্জনের পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষা, আইন, পরিবার, বাণিজ্য, প্রশাসন—সব সামাজিক প্রতিষ্ঠান মানুষের নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। ফলে রাষ্ট্র কেবল নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার যন্ত্র নয়; এটি মানুষের চরিত্র গঠনের পরিবেশও তৈরি করে।

    এই ধারণার সঙ্গে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব সাধারণত নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিন্তু ধ্রুপদি ইসলামি রাজনৈতিক দর্শনে রাষ্ট্রের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত—মানুষের নৈতিক ও সামগ্রিক উৎকর্ষের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে উন্নত করতে পারে।

    এ কারণে ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি শুধু জনগণের জন্য নয়, শাসকের জন্যও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রের ন্যায় অনেকাংশে নির্ভর করে তার নেতৃত্বের নৈতিক চরিত্রের ওপর। ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তায় শাসককে নিজেকেই ন্যায় ও আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ শাসকের চরিত্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। লেখক আল-গাজ্জালির আলোচনার সূত্র ধরে দেখিয়েছেন, শাসকের ন্যায়বিচার শুধু তার ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় নয়; তার চারপাশের ক্ষমতাকাঠামো ও সমাজেও এর প্রতিফলন ঘটে।

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায়। শুধু আইন তৈরি করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। যদি রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দুর্নীতিগ্রস্ত হন, বিচারব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, ক্ষমতাবানরা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন এবং নাগরিকের মধ্যে ন্যায়বোধ দুর্বল থাকে, তাহলে সংবিধান ও আইন থাকা সত্ত্বেও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে না।

    ন্যায় তাই একটি সামগ্রিক সংস্কৃতি। এটি পরিবারে যেমন প্রয়োজন, রাষ্ট্রেও তেমন প্রয়োজন। ব্যবসায় যেমন প্রয়োজন, রাজনীতিতেও তেমন প্রয়োজন। আদালতে যেমন প্রয়োজন, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও তেমন প্রয়োজন। একজন নাগরিকের ন্যায়বোধ এবং একজন শাসকের ন্যায়বোধ একই নৈতিক মূলনীতির অংশ।

    ইসলামি চিন্তায় ন্যায়কে আরও বৃহত্তর এক মহাজাগতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ইবনে আরাবির চিন্তায় আল্লাহর ‘আল-আদল’—ন্যায়বিচারক—নামের সঙ্গে সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলার সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জগতে অন্যায় সেই শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করে। ফলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা কেবল রাজনৈতিক প্রয়োজন নয়; এটি অস্তিত্বের একটি বৃহত্তর নৈতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কেরও অংশ।

    এই জায়গায় আধুনিক বিশ্বের সংকটগুলোর সঙ্গে ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি হয়। আজকের পৃথিবীতে আমরা দুর্নীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক সংকট, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আস্থার সংকট নিয়ে আলোচনা করি। এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে আমরা প্রায়ই নতুন আইন, নতুন প্রতিষ্ঠান কিংবা নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর কথা বলি। কিন্তু মানুষের চরিত্রের পরিবর্তন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর হবে—সেই প্রশ্নটি অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।

    ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘গুণী নগর’-এর ধারণা সেই জায়গাটিই সামনে আনে। একটি ভালো সমাজের জন্য শুধু ভালো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন নয়; ভালো মানুষও প্রয়োজন। আবার ভালো মানুষ তৈরির জন্য প্রয়োজন এমন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যা নৈতিকতাকে উৎসাহিত করবে।

    অর্থাৎ পরিবর্তনের পথ একমুখী নয়। শুধু মানুষ বদলালে সমাজ বদলাবে—এটিও পুরো সত্য নয়। আবার শুধু প্রতিষ্ঠান বদলালেই মানুষ বদলে যাবে—এটিও যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে পরিবর্তিত হতে হয়। ন্যায়বান নাগরিক ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, আর ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান নতুন প্রজন্মের ন্যায়বান নাগরিক তৈরিতে সহায়তা করে।

    এখানেই ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ থেকে ‘গুণী নগর’-এর যাত্রা। ব্যক্তি তার আত্মার মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে; পরিবার সেই ন্যায়কে সম্পর্কের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে; সমাজ সেটিকে সামাজিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেবে; রাষ্ট্র সেটিকে আইন ও শাসনের কাঠামোর মাধ্যমে সংরক্ষণ করবে। আবার রাষ্ট্র ও সমাজের সেই ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ ব্যক্তির নৈতিক বিকাশকে আরও শক্তিশালী করবে।

    এই দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ন্যায় কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এটি একটি জীবনদর্শন। ব্যক্তি যদি ন্যায়বান না হন, পরিবারে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় না; পরিবারে ন্যায় না থাকলে সমাজে ন্যায় দুর্বল হয়; সমাজে ন্যায় দুর্বল হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

    তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের আত্মার প্রশ্নেও ফিরে আসে। রাষ্ট্রের ন্যায় শুরু হয় মানুষের ভেতর থেকে, আবার মানুষের নৈতিক বিকাশের জন্য ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রয়োজন। ব্যক্তি ও সমাজের এই পারস্পরিক নির্মাণই ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘গুণী নগর’-এর সবচেয়ে গভীর শিক্ষা।

    সমকালীন পৃথিবীতে যখন ন্যায়বিচারকে অনেক সময় শুধু আদালত, অধিকার ও আইনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন ইসলামি চিন্তার এই বিস্তৃত ধারণা নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। ন্যায় মানে শুধু অপরাধীর বিচার নয়; ন্যায় মানে প্রত্যেক মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্পর্ককে তার যথাযথ মর্যাদা ও অবস্থান দেওয়া। ন্যায় মানে ক্ষমতার ব্যবহারেও সংযম, সম্পদের বণ্টনে ভারসাম্য, পরিবারে দায়িত্বশীলতা এবং ব্যক্তিজীবনে আত্মশুদ্ধি।

    এই অর্থে একটি ন্যায়ভিত্তিক শহর বা রাষ্ট্র কেবল উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অর্থনীতি কিংবা কার্যকর প্রশাসনের নাম নয়। এটি এমন একটি নৈতিক পরিবেশ, যেখানে মানুষ নিজেকে উন্নত করতে পারে এবং অন্যের উন্নতির পথও তৈরি করে। আর সেই সমাজের সূচনা হয় একজন মানুষের নিজের ভেতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।

    পূর্ণাঙ্গ মানুষ ও গুণী নগর তাই দুটি আলাদা স্বপ্ন নয়। একটি অন্যটির কারণও, ফলও। ন্যায় তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন। ব্যক্তি ন্যায়বান হলে সমাজের ভিত্তি শক্ত হয়; সমাজ ন্যায়বান হলে ব্যক্তির উৎকর্ষের পথ প্রশস্ত হয়। এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সভ্যতার সম্ভাবনা নিহিত।

    মানুষ একা বসবাসের জন্য সৃষ্টি হয়নি। পারস্পরিক প্রয়োজন ও সম্পর্কের কারণে মানুষ পরিবার গড়ে, সমাজ তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও নগরসভ্যতার জন্ম দেয়। কিন্তু মানুষের সম্মিলিত জীবন কীভাবে এমনভাবে সংগঠিত হবে, যাতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত হয়—এই প্রশ্নটি প্রাচীনকাল থেকেই দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম প্রধান বিষয়।

    প্লেটো ও অ্যারিস্টটল থেকে আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, আল-গাজ্জালি, নাসিরুদ্দিন তুসি, ইবনে বাজ্জাহ ও ইবনে খালদুন পর্যন্ত মুসলিম ও অমুসলিম বহু চিন্তক এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যে এ আলোচনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘আল-ইনসান আল-কামিল’—পূর্ণাঙ্গ বা পরিপূর্ণ মানুষ এবং ‘আল-মাদিনাহ আল-ফাদিলাহ’—গুণী বা ন্যায়ভিত্তিক নগররাষ্ট্র। আল-ফারাবি এই চিন্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি নির্মাণ করেন।

  • বিসিএসের ভাইভা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিসিএসের ভাইভা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকায় আসছিলেন শেখ মিশা খাতুন। পথে গোপালগঞ্জের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

    নিহত শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। শোকবার্তায় বলা হয়, শেখ মিশা খাতুন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে খুলনায় পরীক্ষক (কেমিক্যাল) পদে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নিজের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে ৫০তম বিসিএসের ভাইভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকার পথে যাত্রা করেছিলেন। তবে সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।

    শেখ মিশা খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। শোকবার্তায় বলা হয়, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত অপূরণীয় ক্ষতি। তার স্মৃতি সবার মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবে।

    ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের সই করা শোকবার্তায় মিশা খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

  • সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ছয়টি বিভাগ চালু করা হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব বিভাগ খোলার অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান উপাচার্য। প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পাঠদান শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগ চালুর অনুমোদন আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি জানান, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করা হবে। সেখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তাঁর প্রথম সরকারি সফর।

    সোমবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

    সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    কর্মসূচি শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

  • ১ অক্টোবর যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

    ১ অক্টোবর যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    এদিন শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের জবাব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এ ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেবেন এবং ৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।

    এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য ৩৬,৯৬০টি পদ শূন্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৭৩/২০২৩-এর মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

    সোমবার দুপুরের সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার আমতলী রেল ঘুন্টির ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মহেশালী (ভাতার মারি ফার্মে) প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট।প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’তিনি বলেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা । এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।

  • অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধ

    অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। বিবিসি অনলাইন বলছে, নতুন আইনে দেশটির সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলে ‘ঐতিহ্যবাহী মুসলিম’ মাথা ঢাকার পোশাক, যেমন হিজাব বা বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (ওভিপি) থেকে আসা দেশটির একীভূতকরণবিষয়ক মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার বলেন, হিজাব হলো ‘নিপীড়নের প্রতীক এবং শৈশবের শুরু থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম।’
    তবে সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই আইন অস্ট্রিয়ায় মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে এবং এটি অসাংবিধানিকও হতে পারে।দেশটির রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন তিন মধ্যপন্থী দলের জোট ওভিপি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিও) এবং উদারপন্থী নিওস- এই আইনটি প্রণয়ন করেছে। দলগুলোর দাবি, এটি ‘লিঙ্গসমতার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার’ এবং তরুণীদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই আইনটি করা হয়েছে।
    অস্ট্রিয়ার সরকারি ইসলামিক কমিউনিটির (আইজিজিও)কার্লা আমিনা বাগাজাতি বিবিসিকে বলেন, আমরা ‘এই নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করে।’
    তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই আইন ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলে।’
    ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ করার একটি আগের আইন বাতিল করে। সেই সময় আদালতের যুক্তি ছিল, ওই নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রিয়ার ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।তবে দেশটিতে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর দেয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা গেলে শিক্ষককে ওই শিক্ষার্থী এবং তার আইনগত অভিভাবকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করতে হবে। বারবার আইন লঙ্ঘন করা হলে শিশু সেবা বিভাগকে বিষয়টি জানাতে হবে। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো (৬৮৫ পাউন্ড) জরিমানা হতে পারে।এদিকে দেশটির বিরোধী উগ্র ডানপন্থী দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) বলছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। দলটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্কুলে হিজাব এবং মুখঢাকা পোশাক, উভয়ের ওপরই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।
    এফপিও’র রিকার্ডা বার্গার বলেন, ‘অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক ইসলামের কোনো স্থান নেই, আর আমাদের স্কুলগুলোতে তো অবশ্যই নয়।’

  • হতাশা থেকেই ইরানের ওপর মার্কিন হামলা

    হতাশা থেকেই ইরানের ওপর মার্কিন হামলা

    সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন অধ্যাপক পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্রদেরকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান শিকার বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা কৌশলগত হিসাবে নয় বরং হতাশা থেকে চালানো হচ্ছে।

    ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের বরাতে জানা গেছে, সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং পশ্চিম এশীয় অধ্যয়ন বিভাগের প্রধান স্টিভেন জোনস এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ বিভিন্ন স্তরে আমেরিকার সম্পর্ক ও সুনামের ক্ষতি করেছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্ররা অসন্তুষ্ট কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার আগে তাদের সাথে পরামর্শ করেনি।

    স্টিভেন জোনস বলেন, ‘এটা বেশ স্পষ্ট ছিল যে এই দেশগুলোই এই যুদ্ধের প্রধান শিকার হবে।’

    তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, অনেক দিক থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলাগুলো এক প্রকার আত্মতৃপ্তি মাত্র।

    স্টিভেন জোনস বলেন, ‘এই হামলাগুলো কৌশলগত হিসাবনিকাশের ভিত্তিতে নয় বরং হতাশা থেকে চালানো হচ্ছে এবং এর ফলে কোনো ফল পাওয়া যাবে না।’

  • স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির ওপর  নিষেধাজ্ঞা

    স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে সভাপতি জড়িত হতে পারবেন না।

    সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করে। একই সঙ্গে পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্যও আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়।

    তে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে অংশগ্রহণের ওপর বাধা-নিষেধ অংশে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে পূর্বে সভাপতি বা সদস্য হিসাবে নির্বাচিত বা মনোনীত হয়ে থাকলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো সভায় সভাপতিত্ব বা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না অথবা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে জড়িত হতে পারবেন না।

    এতে আরো বলা হয়, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করা যাবে না।

    নির্বাচন-পূর্ব সময়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল হতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো প্রকার অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ দেয়া বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারিবেন না।

    নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য বা অন্য কোনো পদাধিকারী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্প অনুমোদন বা ইতোপূর্বে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ অবমুক্ত বা দিতে পারবেন না।

  • প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

    প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, আগামী বছর দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে। তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে। যেহেতু তখন চেঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।’

    প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উপবৃত্তিসহ সব বিষয়ের দিকে আমরা নজর রাখছি এবং সেই আঙ্গিকে আমরা কাজ করব। তবে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাক পাই যে, এটা আরো নিড বেসড মানে ফাইনান্সিয়াল নিড বেস হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তখন আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন এটা ফাইনান্সিয়াল নিড বেসিসের ওপরে হয় এবং সংখ্যাটা আরো বাড়ে।’

    ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা-দর্শনের মূলকথা হলো-মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষমতায় সমৃদ্ধ নাগরিক।

  • ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া

    ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া

    নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে হিজাবসহ মুসলিম ধর্মীয় মাথা ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ করে নতুন আইন কার্যকর করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের স্কুলেই এ আইন প্রযোজ্য।

    সরকারের দাবি, মেয়েদের অধিকার ও লিঙ্গসমতা রক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়ন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, আইনটি মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দেশে ইসলামবিদ্বেষ বাড়াতে পারে এবং এটি সাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    অস্ট্রিয়ার ইসলামিক কমিউনিটি আইনটির তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করছে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব ফেলছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চাইলে সাংবিধানিক আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জে তারা সহায়তা করবে।

    এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন বাতিল করেছিল। আদালতের মতে, ওই নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

    নতুন আইনে কোনো শিক্ষার্থী হিজাব পরলে শিক্ষকরা প্রথমে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বারবার আইন ভঙ্গ হলে শিশু সেবা বিভাগকে জানানো হবে এবং সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবককে সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো জরিমানা করা হতে পারে।

    এদিকে শিক্ষক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর একাংশ আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গ্রিন পার্টির সিগি মাউরার অভিযোগ, সরকারের সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে নতুন সংঘাত তৈরি করবে।

    অন্যদিকে উগ্র ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি আরো কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। দলটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্কুলে হিজাব ও মুখঢাকা পোশাক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

    অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকারও সম্প্রতি ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক বা নেকাব নিষিদ্ধ থাকলেও, অস্ট্রিয়ার নতুন আইনটি বিশেষভাবে মুসলিম মেয়েদের হিজাবকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

  • হিমবাহের বরফ গলা ঠেকাবে ভেড়ার পশম!

    হিমবাহের বরফ গলা ঠেকাবে ভেড়ার পশম!

    জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে । বরফের এই ক্ষয় ঠেকাতে এবার অভিনব এক উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা— আর তা হলো ভেড়ার পশম।

    আল্পস পর্বতমালায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রীষ্মকালে হিমবাহের বরফ ও তুষারের ওপর কৃত্রিম ত্রিপল বা সিনথেটিক কভার বিছিয়ে দেওয়া হয়।

    এর উদ্দেশ্য ছিলো সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে বরফে তাপ শোষণের পরিমাণ কমানো। তবে এসব কভার সাধারণত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হওয়ায় তা থেকে পরিবেশদূষণকারী মাইক্রোফাইবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এই সমস্যার বিকল্প হিসেবে এবার পশম দিয়ে তৈরি কভার ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ‘কিপ ইট উল’ নামের প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন সামিট ফাউন্ডেশন ও ইউনিভার্সিটি অব লজান। পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের তসানফ্লেরন হিমবাহে বরফ গলার গতি কমাতে ভেড়ার পশম কতটা কার্যকর হতে পারে, তা পরীক্ষা করাই প্রকল্পটির লক্ষ্য।

    প্রকল্প ব্যবস্থাপক তিমোথি স্টেইনার বলেন, তারা এমন একটি বিকল্প উপাদান খুঁজছিলেন, যা পরিবেশবান্ধব ও সহজে পচনশীল। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে অব্যবহৃত থেকে যাওয়া বিপুল পরিমাণ ভেড়ার পশমেরও একটি ব্যবহার খুঁজে বের করা এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    প্রতিবছর সুইজারল্যান্ডে উৎপাদিত ভেড়ার পশমের প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই ফেলে দেওয়া হয়।

    গত জুনে সুইস প্রতিষ্ঠান ফিসোলানের তৈরি দুটি পরীক্ষামূলক পশমের কম্বল তসানফ্লেরন হিমবাহের প্রায় ২০০ বর্গমিটার এলাকায় বিছিয়ে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মজুড়ে গবেষকেরা প্রচলিত জিওটেক্সটাইল কভারের সঙ্গে পশমের তৈরি কম্বলের কার্যকারিতা তুলনা করেন।

    প্রাথমিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর নেওয়া পরিমাপে দেখা গেছে, সিনথেটিক কভারের মতোই পশমের কম্বলও হিমবাহের বরফ গলার হার কমাতে সক্ষম হয়েছে।

    ফিসোলানের কর্মকর্তা নিকলাউস সাগেসার বলেন, পশমের তৈরি উপাদানটির স্থায়িত্ব দেখে তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন। শুরুতে তার ধারণা ছিল, উপাদানটি হয়তো প্রয়োজনীয় স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারবে না।

    গবেষণা দলের শিক্ষার্থী এলিয়ট গাফিও বলেন, আমরা কী ফল পাব, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। এখন আমরা এমন একটি ফলাফল পেয়েছি, যা অবিশ্বাস্যভাবে ভালো কাজ করেছে।

    তবে প্রকল্পের উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ভেড়ার পশমের কম্বল কোনোভাবেই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সমাধান নয়।

    সুইজারল্যান্ডের মোট হিমবাহ এলাকার মাত্র প্রায় ০.০২ শতাংশ বর্তমানে এ ধরনের সুরক্ষামূলক কভার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহ গলার দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা ঠেকানোর একমাত্র কার্যকর উপায় হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো। এসব গ্যাসের সবচেয়ে বড় উৎস জীবাশ্ম জ্বালানি।

    ফলে ভেড়ার পশমের কম্বল স্থানীয়ভাবে হিমবাহের বরফ গলার গতি কমাতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

  • হাবিপ্রবি অনার্স ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৪ জানুয়ারি

    হাবিপ্রবি অনার্স ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৪ জানুয়ারি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) স্নাতক ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ২৪ জানুয়ারি। এ কার্যক্রম চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হবে।সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আরো বলা হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন অনুষদে স্নাতক কোর্সে লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য গঠিত ভর্তি কমিটির প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

  • শিক্ষক দিবসে ১০০ শিক্ষক পাবে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষক দিবসে ১০০ শিক্ষক পাবে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি আমাদের শিক্ষক সমাজ। যারা মাঠে চমৎকার কাজ করছেন, তাদের কাজের সঠিক স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং উৎসাহিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমরা দেশের শিক্ষকদের এই অবদানকে স্মরণ ও সম্মানিত করতে চাই।’

    তিনি জানান, এজন্য সেরা শিক্ষক নির্বাচনে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আগে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে ২ লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা। এরই আলোকে সরকার এই পরিধি বাড়িয়ে সারা দেশের দক্ষ ও গুণী শিক্ষকদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাছাইকৃত ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হবে।

    শিক্ষকদের আচরণবিধি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা নিজেদের শিক্ষিত আচরণ দিয়েই সমাজকে আলোকিত করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অযাচিত কর্মকাণ্ড রোধ ও শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নির্দেশিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষকদের নিজেদের কন্ট্রিবিউশনের বকেয়া অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রদেয় বাকি অনুদানের অর্থও ক্রমান্বয়ে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল খালেক জানান, নতুন পে স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কাজ চলছে। সরকারি কর্মচারীরা যে হারে সুবিধা পাবেন, শিক্ষকরাও সেই অনুপাতেই সুবিধা পাবেন।

    সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকে পড়ার আশঙ্কা

    ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকে পড়ার আশঙ্কা

    ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি ছয়তলা ভবন ধসে বেশ কয়েকজনের আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত চারজনকে । ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    ভবনটি পেইং গেস্ট থাকার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার হওয়ায় তাদের বেশির ভাগই ‘বাড়িতে’ ছিলেন বলে জানান তিনি।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনি সাহায্যের জন্য মানুষের চিৎকার শুনতে পেয়েছেন।

    ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ভবনটি ধসে পড়ার পর সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি কংক্রিটের একটি স্ল্যাবের নিচে আটকে আছেন। তাকে উদ্ধারে আশপাশের কয়েকজন মিলে স্ল্যাবটি সরানোর চেষ্টা করছেন।

    উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে দমকল বাহিনীর অন্তত ১২টি গাড়ি । দমকল বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতে দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত সত্য নিকেতন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বসবাস। ভবন ধসের খবর পেয়ে বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছেন।

  • নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁয় এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬শ’ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “মেধা সততা দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে ক্রেস্ট, বই এবং শিক্ষা উপকরণাদি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নোমান হোসেন নয়নসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, যোগ্য মানুষ তৈরীর কারিগর শিবির। আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এজন্য তাদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিবির শিক্ষার্থীদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।

    এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। শিবিরের এমন সংবর্ধনা পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

  • এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার

    এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষণের ফল আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রকাশিত হবে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন শেষ হয় ১৭ আগস্ট রাতে।

    নির্ধারিত সময়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চার লাখ দুই হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    অনেকে একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। ফলে মোট আবেদন জমা পড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন রয়েছে।

    বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় দুই লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন।

    এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

  • ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে  মাদরাসা

    ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মাদরাসা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরাখণ্ডে একের পর এক মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে ২০টি মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। অজুহাত হিসেবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, এসব মাদরাসার অনুমোদন নেই এবং এগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয় না।

    এরই ধারাবাহিকতায় দেরাদুন ও হালদোয়ানিতে কয়েকটি মাদরাসা সিলগালা করেছে প্রশাসন। উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, দেরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজাদ কলোনিতে অবস্থিত মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাজরায় অবস্থিত মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম এবং মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ঢাকাতে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১৭টি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে রাজ্যে মোট ২০টি মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।’

    এদিকে, নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানিতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। শহরের গৌজাজালি নর্থের শনি বাজার রোডে অবস্থিত মাদরাসা জামিয়া নূরিয়া বরকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    হালদোয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ বি বাজপেয়ী জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী সিলগালার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নির্ধারিত বিধি ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত না হয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • একাদশে ভর্তি: আবেদন ফি ২২০ টাকা, পছন্দক্রমে সর্বোচ্চ ১০ কলেজ

    একাদশে ভর্তি: আবেদন ফি ২২০ টাকা, পছন্দক্রমে সর্বোচ্চ ১০ কলেজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সদ্য এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে আজ বুধবার। অনলাইনে আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের গুনতে হবে ২২০ টাকা।

    একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম দিতে পারবেন। আবেদন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটে। গত বছরের মতো এবার তিন ধাপে নয়, এক ধাপেই আবেদন নেওয়া হবে।
    গত ২৪ আগস্ট একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। একই দিন ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি প্রকাশ করে আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান মঙ্গলবার জানান, একাদশে ভর্তির আবেদন গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের পর পরিবর্তিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

    একই সময়ে অন্য শিক্ষার্থীরাও পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।

    আবেদন শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়।নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে হবে। এ জন্য শিক্ষা বোর্ডকে বিভিন্ন খাতে মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

    নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজ ও মাদরাসায় ভর্তি নেওয়া হবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে একাদশ শ্রেণির ক্লাস।

    ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজের ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত কলেজে ঢাকা মহানগরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মহানগরে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার এবং উপজেলা ও মফস্বলে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত কলেজে এ হার আরো বেশি। এর বাইরে রেড ক্রিসেন্ট ফি ২৪ টাকা এবং বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি বাবদ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা নেওয়া যাবে।

  • অষ্টম-নবমের বই কিনতে ৭৩৯ কোটি টাকা

    অষ্টম-নবমের বই কিনতে ৭৩৯ কোটি টাকা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে মোট ৭৩৯ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৩৯ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের জন্য ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা এবং নবম শ্রেণির বইয়ের জন্য ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা ব্যয় হবে।

    বৈঠকে অষ্টম শ্রেণির মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এজন্য মোট ১০০টি দরপত্রের মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পর মোট ১৫৪টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৩৪টি দরপ্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ১০০টি দরপত্রের মধ্যে ৯৮টির বিপরীতে সুপারিশ করা গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বই কেনার সুপারিশ করে। সুপারিশ অনুযায়ী ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে ব্যয় হবে ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, কাগজসহ বাঁধাই ও সরবরাহে গড়ে ব্যয় হবে ৬৩ টাকা ১৭ পয়সা।

    এ ক্রয় প্রস্তাবে ৯২টি লটে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতাকে এবং ছয়টি লটে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি দুটি লটের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে, একই বৈঠকে নবম শ্রেণির মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

    এ প্রস্তাবের আওতায় মোট ২১৫টি দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৬ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। এ কাজে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা।২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দিতে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ করা হবে।

  • ৬,৮৮৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নলকূপের পানি পান নিষিদ্ধ

    ৬,৮৮৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নলকূপের পানি পান নিষিদ্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ৬ হাজার ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার না করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিলের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিটি দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, PEDP4, GPS ও NNGPS প্রকল্পের আওতায় আগে পানি পরীক্ষা করা হয়েছে– এমন বিদ্যালয়গুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ৪৭ হাজার ৩৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানির উৎস পরীক্ষা করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

    পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ হাজার ৪৮১টি বিদ্যালয়ের পানি নিরাপদ সুপেয় পানি হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, ৬ হাজার ৮৮৮টি বিদ্যালয়ের পানিতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় এসব বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    চিঠিতে আরো বলা হয়, পানি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিরাপদ সুপেয় পানি হিসেবে গ্রহণযোগ্য ৪০ হাজার ৪৮১টি বিদ্যালয় এবং পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইড পাওয়া ৬ হাজার ৮৮৮টি বিদ্যালয়ের পৃথক তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৩ আগস্টের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

  • ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মেসবাসার দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান করার পর শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসের বাইরের একটি মেসবাসায় সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বসবাস করেন। ওই মেসের দরজায় ছিটকিনি দেওয়া নিয়ে প্রথমে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

    একপর্যায়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের অপর পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

    অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলা রোড এলাকায় অবস্থান নেন। এতে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।

  • জেন জি’র পর ভারতে জেন আলফার উত্থান

    জেন জি’র পর ভারতে জেন আলফার উত্থান

    জেন-জি আন্দোলনের পর এবার আন্দোলনে নেমেছে ভারতের কমপক্ষে ১০টি রাজ্যের স্কুলশিক্ষার্থীরা। মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশসহ ১০টি রাজ্যে সরকারি স্কুলগুলোর দীর্ঘদিনের অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে আন্দোলন করছে তারা।

    এই বিক্ষোভ শুধু ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই চ্যালেঞ্জ নয়; তরুণদের সমর্থন ধরে রাখতে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারও সংগ্রাম করছে, তখন এগুলো সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

    জুনের শুরু থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল হিসেবে পরিচিত যন্তর মন্তরে হাজার হাজার জেন জি বিক্ষোভকারী জড়ো হতে শুরু করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর একটি ছিল একের পর এক আলোচিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এসব প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বহু তরুণ ভারতীয় আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কিন্তু মোদি সরকার বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার পরিবর্তে তাদের বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট উগ্রপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলে ক্ষমতাসীনদের প্রতি প্রশ্ন আরও বাড়তে থাকে। ভারতের ব্যাপক বেকারত্ব ও অপ্রতুল কর্মসংস্থানের সংকটও তখন বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে।

    এই জনপ্রিয় যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। তারা শিক্ষাসংস্কারের দাবি জানানোয় মারধরের শিকার হয়। ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এবং বিক্ষোভকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে মোদি সরকার পিছু হটে। মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

    সামুহি ভাটপুরওয়ার শিক্ষার্থীদের মতো স্কুলপড়ুয়ারা এখন এমন একটি কাজ করছে, যা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে তুলনামূলকভাবে বিরল। তারা শিক্ষক ও কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের প্রশ্ন করছে। জেন জির বিক্ষোভের পরপরই শুরু হওয়া এই নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে ‘জেন আলফা আন্দোলনের’ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ভারতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। দেশটিতে ১৫ লাখ স্কুলে প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ স্কুল কেন্দ্রীয়, রাজ্য বা স্থানীয় সরকার পরিচালনা করে। বাকি স্কুলগুলো পরিচালিত হয় দাতব্য সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা। ২০২৫-২৬ সালের সরকারি স্কুল অডিটে শিক্ষার সুযোগ বাড়ার কথা বলা হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতেরও উন্নতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি ২৪ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক।

    একই সঙ্গে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হারও কমছে বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে। ব্যাঙ্গালোরভিত্তিক শিক্ষা অধিকারকর্মী নাগসিমহা রাও বলেন, শিশুরা তাদের অধিকার দাবি করছে। তারা শিক্ষক, বেঞ্চ, স্কুল ভবন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শৌচাগার চায়।

    তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক অবকাঠামো ও জনবল অনুপস্থিত। দেশের অধিকাংশ সরকারি স্কুলের চিত্র এমনই। সরকারি স্কুলগুলোর প্রসঙ্গ টেনে রাও প্রশ্ন করেন, এর কারণ কি এসব স্কুলে দরিদ্র শিশুরা পড়াশোনা করে? সরকারি স্কুলে মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরাই পড়াশোনা করে।

  • মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে দেশ গড়তে হবে; ডা. ফরিদ এমপি

    মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে দেশ গড়তে হবে; ডা. ফরিদ এমপি

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    মেধা, সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগিয়ে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীর ফরিদ।

    তিনি বলেন, শুধু মেধা দিয়ে জীবনে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; মেধার সঙ্গে নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। অর্জিত জ্ঞান ও মেধাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

    শুক্রবার সকালে যশোরের চৌগাছা পৌর শহরের মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের হলরুমে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চৌগাছা উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    ডা. ফরিদ বলেন, ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এহসানুল কাদের ইমরোজ। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলফাজ হুসাইনের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কলেজ ক্যাম্পাস সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্নব বিশ্বাস পাপন ও তাজরিন নাহার অর্থি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    আয়োজকরা জানান, চলতি বছর চৌগাছা উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৬ জন, ২১টি মাদ্রাসা থেকে পাঁচজন এবং কারিগরি বিভাগ থেকে তিনজনসহ মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ প্রাপ্ত ১২০ জন শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

  • শিক্ষা ভাতা বঞ্চিত এমপিও শিক্ষক সন্তানরা

    শিক্ষা ভাতা বঞ্চিত এমপিও শিক্ষক সন্তানরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা ভাতা বঞ্চিত এমপিও শিক্ষক সন্তানরা

    এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালুর দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো)।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনটির নির্বাহী মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

    আবেদনে বলা হয়, শিক্ষাবান্ধব সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি বর্তমান সরকারের সহানুভূতি ও শিক্ষার মান উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৯৭ শতাংশ পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা শিক্ষা ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরা বঞ্চিত। শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরা শিক্ষা ভাতা পাবে না এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    অতএব, আপনার কাছে আবেদন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আপনার সুদৃষ্টি ও মহানুভবতা প্রার্থনা করছি।

  • ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ শিক্ষককে শোকজ, বন্ধ বেতন-ভাতা

    ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ শিক্ষককে শোকজ, বন্ধ বেতন-ভাতা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি পাঁচ মাদ্রাসার সুপার, অধ্যক্ষসহ আট শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। কেন তাদের বেতন-ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষর ও চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে ফলাফল শিট প্রস্তুত এবং মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

    শোকজ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজবলাইল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সোনারীপাড়া মীম ছীন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইস্কেন্দার মির্জা। এ ছাড়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মস্কিপুর দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আফতাব উদ্দীন, সহকারী মৌলভী মো. জহরুল ইসলাম ও মো. আখতার হোসেন এবং মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা ডি. এইচ. ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী মৌলভী শামছিয়া খাতুনকে শোকজ করা হয়েছে।

    নোটিশে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বেতন-ভাতা কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, সে বিষয়েও জবাব চাওয়া হয়েছে।

  • কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

    বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চিংড়ী ঘেরের উত্তোলনকৃত লোনা পানির তোড়ে খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। এতে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    উপজেলার শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাটামারী বাজার ভায়া তালতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কের তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ভেঙে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ওই অংশ দিয়ে লোনা পানি অভ্যন্তরের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গত চার দিন ধরে সেখানকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নদী ও চিংড়ী ঘের অধ্যুষিত জনপদের দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই সড়কটি দুই কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আমফান প্রকল্পের আওতায় পুনর্নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স।

    ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর কার্যক্রম শুরু করে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ শুরুর পর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে তারা।

    কাজ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্প এলাকা অত্যন্ত দুর্গম ও প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় রাস্তার অন্যতম প্রধান উপকরণ বালুর যোগান মেটাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাঠামারী থেকে বোট ও পাইপ ফিটিংয়ের মাধ্যমে বালু আনতে হয়। মাঝপথে ড্রেজার ও মেশিনের ত্রুটিজনিত কারণে বালুভরাট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাস্তার শেষ অংশের প্রায় দুই-তিন শ’ ফুট এলাকার বালুভরাট বাকি রয়েছে। এছাড়া শুরুর অংশের অন্তত এক কিলোমিটার এলাকায় সাববেইজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তারা জানান, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ও অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কের এ অংশ সহজেই আক্রান্ত হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাতে প্রান্তিক জনপদের মানুষকে তারা এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধসে গিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে তাদের দুর্ভোগ রীতিমতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে জনপদের কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরনের পোশাক ভিজিয়ে, বই-খাতা মাথায় তুলে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সড়কের ভাঙা অংশ। জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ হাটে-বাজারে পণ্য পরিবহনে বিপাকে পড়ছেন কৃষক ও সাধারণ খামারিরা।

    স্থানীয়দের ক্ষোভ, ঘের মালিকদের পানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা ও জোয়ারে অতিরিক্ত পানির চাপ নির্মাণাধীন সড়ক ভাঙনের কারণ হলেও এর জন্য দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের দীর্ঘসূত্রতা।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদফতর জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বালু সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় এই সঙ্কট। তবে, অতিদ্রুত দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু হবে।

    উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না।

  • ডুবেছে কলকাতা, বড় বিপদের পূর্বাভাস

    ডুবেছে কলকাতা, বড় বিপদের পূর্বাভাস

    দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবারও কলকাতায় সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যানজট ও জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। স্কুল-কলেজ, অফিস ও কর্মস্থলে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

    বাঁকুড়ায় ভেঙে পড়েছে একটি সেতু, পানিতে ডুবেছে একাধিক কজওয়ে। এদিকে বীরভূমে ময়ূরাক্ষী নদীর পানিস্তর বাড়ায় প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওড়ায় জমা পানিতে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে।

    বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি ক্রমে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করায় সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধবারও এর প্রভাবে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক ঘণ্টাতেও বৃষ্টি চলতে পারে।

    কলকাতা পৌরসভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত পামার ব্রিজ এলাকায় ৫৬ মিলিমিটার, তপসিয়ায় ৪৬ মিলিমিটার, বালিগঞ্জে ৪৪ মিলিমিটার এবং মোমিনপুরে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

    বৃষ্টির জেরে বাঘাযতীন উড়ালপুলের নিচে এবং ঠাকুরপুকুরের কয়েকটি এলাকায় পানি জমেছে। এছাড়া উডবার্ন পার্ক রোড, হসপিটাল রোড, এটিএম রোড, জাস্টিস চন্দ্রমাধব রোড, হেস্টিংস পার্ক রোড, উত্তীর্ণের সামনে, পিটিএস, পোর্ট এরিয়া-গেট নম্বর ৫, বর্ধমান রোড ও ডিএইচ রোডেও পানি জমেছে।

    হেস্টিংসের কাছে উড়ালপুল থেকে নামার মুখেও জমে থাকা পানির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে পথচারী ও যানবাহনকে। সেন্ট্রাল-আমহার্স্ট স্ট্রিট, থিয়েটার রোড ও ওয়াটার লু স্ট্রিটেও পানি জমেছে। ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার কালীঘাট, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট এবং ন্যাশনাল লাইব্রেরির সামনের রাস্তাও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে যানজটে আটকে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও তুলনামূলক কম থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বাঁকুড়ায় ভেঙে পড়ল ভাসা সেতু

    লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে বাঁকুড়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুমনি খালের পানির প্রবল স্রোতে জেলার পাত্রসায়র ব্লকের জামকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভেঙে গেছে একটি ভাসা সেতু। ফলে দুই পাশের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বরাদ্দ করা অর্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি ভেসে যাওয়ায় পাত্রসায়র ব্লক সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম।

    এদিকে দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভাদুল ও মীনাপুরের দুটি পৃথক কজওয়ে পানিতে ডুবে গেছে। মেজিয়ায় মাতাবেল খালের পানিতে কজওয়ে ডুবে যাওয়ায় মেজিয়া-ছাতনা রাজ্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

    ওই কজওয়ে দিয়েই বালিয়াড়া, সোনাতপল-সহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ বাঁকুড়া শহরে যাতায়াত করেন। কজওয়ের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে দ্বারকেশ্বর নদের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একইভাবে বাঁকুড়া শহর লাগোয়া মীনাপুর কজওয়েতেও যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।

    ময়ূরাক্ষীর পানি বাড়ছে, প্লাবনের শঙ্কা

    বৃষ্টির কারণে বীরভূমের ময়ূরাক্ষী নদীর পানিস্তরও বাড়ছে। বুধবার সকালে ডিম পাড়া বাঁধ থেকে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এতে নদী-সংলগ্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাঁধ থেকে আরও পানি ছাড়া হতে পারে। ফলে নদী পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    হাওড়ায় জমা পানিতে যুবকের লাশ

    অন্যদিকে, হাওড়ার ডোমজুরের মাকড়দহ এলাকায় বৃষ্টির জমা পানিতে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে। মৃত যুবকের নাম সহদেব বাছার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বাজারে গিয়েছিলেন সহদেব। বাজার করে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির কাছেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা ডোমজুর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

    তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

    স্থানীয়দের দাবি, মাকড়দহ এলাকায় কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও হাঁটুপানি জমেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

  • ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উঠলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মাথায় প্রথমে আসে আইইএলটিএস, জিআরই বা টোয়েফলের কথা। এর বাইরেও পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর একটি পথ আছে, যা দিয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়েও বিদেশে পড়াশোনা করা যায়। সেই পথটি হলো একটি বিদেশি ভাষা শেখা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সরকার পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে জার্মান, ফরাসি, চীনা, কোরিয়ান বা রুশ ভাষা শিখে সরাসরি সেই দেশের সরকারি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।

    গ্যোটে ইনস্টিটিউট
    ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ১৯৬১ সাল থেকে জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডির ১০ নম্বর বাড়িতে নতুন করে চালু হওয়া এই কেন্দ্রে এখন জার্মান ভাষার কোর্স, পরীক্ষা এবং একটি ডাড বা জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস এবং তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে। অর্থাৎ এখান থেকে জার্মান ভাষা শিখে সরাসরি ডাডের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, যা জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত অর্থায়ন করে। বিস্তারিত জানতে https://www.goethe.de/en/index.html
    –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ
    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ১৯৫৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ফরাসি ভাষা শেখাচ্ছে। বর্তমানে ধানমন্ডির মূল কেন্দ্রের পাশাপাশি গুলশান ও উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির আরও দুটি শাখা রয়েছে। বর্তমানে তিনটি কেন্দ্র থেকে কোর্স পরিচালনা করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে ফরাসি ভাষা শেখে। ডিইএলএফ ও ডিএএলএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সনদ অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফ্রান্সের মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করতে পারে। afdhaka.org –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এইচএসকে বা চীনা ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে এইচএসকে প্রস্তুতিমূলক কোর্স করানো হয়। এইচএসকেতে ভালো স্কোর করলে তা চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ বা সিএসসি-র জন্য আবেদনকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে। বেশিরভাগ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আবেদনের সময়সীমা থাকে, যদিও নির্দিষ্ট বৃত্তি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১২০০-র বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে কোনো না কোনো সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি নিয়ে অধ্যয়নে যায়। চীনে অবস্থানরত মোট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি বলে আমাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখতে কিংবা বিস্তারিত জানতে ci.cn/en –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    কিং সেজং ইনস্টিটিউট
    ঢাকায় বর্তমানে দুটি কিং সেজং ইনস্টিটিউট সক্রিয়। এর একটি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবিতে এবং অন্যটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে বা এআইইউবিতে। যেখানে কোরিয়ান সরকারের অধীনে কোরিয়ান ভাষা

    শেখানো হয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবেই গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস-এর জন্য যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে, আর ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় স্তরের জন্যই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। /www.iksi.or.kr/
    lms/main/main.do –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
    রুশ সরকারের বৃত্তির কোটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
    ঢাকার রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা রাশিয়ান হাউস হলো রাশিয়ার সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে রুশ ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারের কাজ করে। ঢাকার রুশ হা্উসের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই কোটা ছিল মাত্র ৬৫টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, আর রুশ ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি হয়েছে রুশ হাউসের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত সেন্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: ৪২, ভাষাসৈনিক এম এ মতিন সড়ক, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
    দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সেটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষায় কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত এই ইনস্টিটিউটে আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, কোরিয়ান, ফার্সি, রুশ, স্প্যানিশ, তুর্কি, হিন্দিসহ মোট চৌদ্দটির বেশি ভাষায় কোর্স করানো হয়। বছরজুড়ে এখানে কোর্স পরিচালিত হয়। যে কোনো সময়, যে কোনো বিষয়ে এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভর্তি হওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা শেখার বিস্তারিত জানতে www.iml-du.ac.bd –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।অন্যান্য ভাষা
    এছাড়াও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সেই দেশের ভাষা শিখে ফুল ফান্ডেড বৃত্তি পেতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের ভাষা। জাপানের এন-ফোর বা এন-ফাইভ পরীক্ষা দিয়েও ভালো বৃত্তি পেতে পারেন জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সৌদি আরব, কাতার, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কদর বেড়েছে। আগ্রহ থাকলে আরবি ভাষা শিখেও এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি পেতে নতুন একটি ভাষাও বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো
    দেশগুলোর ক্ষেত্রে; যেখানে বৃত্তির সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ঢাকায় বসে তুলনামূলক কম খরচে ভাষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরির সুযোগ আপনিও নিতে পারেন!

  • জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

    জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বাজেট থেকে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বুধবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যারা ভালো ফল করতে পারেনি, তাদের নিয়েও কাজ করতে হবে। আগামী শনিবার কচুয়ার পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন বলেও জানান তিনি। স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জনসেবা, নেতৃত্ব, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের শিক্ষা পায়। এখান থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হয়।

    খেলাধুলার মাধ্যমেও নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের মাদক ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও স্কাউটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ড্রেস ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস কালচার, ‘লার্নিং হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক স্কিম নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও আদর্শ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। জাতি গঠনে শৃঙ্খলা ও আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হবে। আগামী বাংলাদেশ আজকের শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠবে।

    বাংলাদেশ স্কাউটসের স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটকে বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে মেডেল, অভিনন্দনপত্র ও নির্ধারিত যাতায়াত ভাড়া দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রত্যেককে অনলাইনে দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্কাউটসের উপপ্রধান জাতীয় কমিশনার মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

  • কওমি বোর্ডের সনদে মাদ্রাসার দুই পদে নিয়োগের স্বীকৃতি

    কওমি বোর্ডের সনদে মাদ্রাসার দুই পদে নিয়োগের স্বীকৃতি

    ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে সরকারি-বেসরকারি মাদ্রাসার দুটি পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে এসব বোর্ডের সনদধারীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব কওমি মাদ্রাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এরপর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের মাধ্যমে ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বোর্ডগুলো হলো—বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে। এতে সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের কাম্য যোগ্যতা হিসেবে ওই ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

    এর ফলে ওই দুটি পদে কওমি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআন সনদপ্রাপ্তদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • নিউইয়র্কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে এআই নিষিদ্ধ

    নিউইয়র্কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে এআই নিষিদ্ধ

    যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্কুল জেলা নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর আওতায় পড়বে ২-কে (প্রি-স্কুল) থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস এবিসি নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আগামী সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রি-স্কুল বা ২-কে থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের স্থগিতাদেশ (মরাটোরিয়াম) কার্যকর করছে নগর কর্তৃপক্ষ। এই সময় প্রযুক্তিটির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা হবে।
    মামদানি বলেন, প্রযুক্তি শিল্প আমাদের বিশ্বাস করাতে চায় যে এআই নির্ভর প্রাথমিক শিক্ষা শুধু অনিবার্যই নয়, বরং প্রয়োজনীয়ও। আমরা বিষয়টিকে এভাবে দেখি না।
    শিক্ষাক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা তৈরির দাবি যখন জোরালো হচ্ছে, তখন নিউইয়র্কের এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো।
    স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিস্তৃত পদক্ষেপ। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যবহারের জন্য তৈরি এআইভিত্তিক সফটওয়্যার বন্ধ করা হবে এবং এআই সহকারী চ্যাটবট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

    তবে এই নিষেধাজ্ঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তাদের জন্য বছরে দুবার এআই বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্লাস নেয়া হবে। এসব ক্লাসের লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিটি সম্পর্কে সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে শেখানো, যাতে তারা এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে।
    এর আগে নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলগুলোতে শিক্ষাদানের সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে দিনব্যাপী বিধিনিষেধও চালু করা হয়েছিল।

    নতুন এআই নীতির মাধ্যমে নগর ও স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জেনারেটিভ এআইয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সৃজনশীলতা বিকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
    নিউইয়র্ক সিটি স্কুলসের চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস বলেন, এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের সেই গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাশক্তি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে, যা তাদের স্কুল থেকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন।

    এদিকে নিউইয়র্কের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে হোয়াইট হাউস শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এআই শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

  • শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত রাবেয়া খাতুন উপজেলার নাদপাড়া যুব মিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি নাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কাতলা গাড়ি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: কবির উদ্দিন বিশ্বাসের স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলী মেম্বার জানান, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে আসার পথে বাঁশগ্রাম নামক স্থানে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

    এই ব্যাপারে শৈলকূপা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসরত অবস্থায় মোসা: রাবেয়া খাতুন নামে নাদপাড়া স্কুলের এক শিক্ষিকা মারা গেছে বলে শুনেছি।

  • ম্যাক্রোঁর ৪২ বছরের মেয়ের প্রেম ২২ বছরের তরুণের সঙ্গে

    ম্যাক্রোঁর ৪২ বছরের মেয়ের প্রেম ২২ বছরের তরুণের সঙ্গে

    ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর মেয়ে টিফেন অজিয়েরের নতুন প্রেমের খবর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী টিফেনের সঙ্গে ২২ বছর বয়সী অঁতোয়ান লেকোম্তের সম্পর্ক প্রকাশ্যে এসেছে। দুজনের বয়সের ব্যবধান ২০ বছর।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে টিফেন ও অঁতোয়ানকে একসঙ্গে দেখা গেছে। সম্প্রতি তারা নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম ভ্রমণ করেন। অঁতোয়ান তাদের ভ্রমণের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এবং টিফেনও সেটি শেয়ার করেন। এর মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি কার্যত প্রকাশ্যে আসে।

    টিফেন ও অঁতোয়ানের পরিচয় হয় ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী শহর ল্য তুকেতে। সেখানে অঁতোয়ান কাইটসার্ফিং প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন এবং পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাদের মধ্যে ভ্রমণ, উদ্যোক্তা কর্মকাণ্ড ও অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি আগ্রহের মিল রয়েছে বলে টিফেনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।

    টিফেন অজিয়ের পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি লেখালেখিও করেন এবং ২০২৪ সালে ‘Assises’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন। এর আগে ফরাসি টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সিরিল হানুনার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সম্পর্কের ইতি ঘটে ২০২৬ সালের মে মাসে।

    টিফেনের নতুন সম্পর্কটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তার মা ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে এর বয়সের ব্যবধানের মিল থাকায়। ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বয়সের ব্যবধান ২৪ বছর। ব্রিজিত যখন শিক্ষক ছিলেন, তখন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ছিলেন তার ছাত্র। পরে দুজন ২০০৭ সালে বিয়ে করেন।

    ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ তার মেয়ের নতুন সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক এবং মেয়ের সুখকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। টিফেনের দুই সন্তানও অঁতোয়ানের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন।

    ম্যাক্রোঁ পরিবারের দুই প্রজন্মের সম্পর্কের বয়সের বড় ব্যবধানের কারণে ঘটনাটি ফ্রান্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

  • ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আওতায় কারিগরি, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিক্ষায় যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ফিলিপাইন দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেটের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বিশেষ করে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপিন্সের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দক্ষতা বাড়ানো এবং নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় আসে। হেলথকেয়ার, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইসিটি ও পর্যটন খাতে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিপক্ষীয় বিনিময় কর্মসূচি চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে স্কলারশিপ বা বৃত্তির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত।

    এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বায়নের এই যুগে ফিলিপাইনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্ক ও দেশের শিক্ষা বিস্তারে এর ভূমিকার প্রশংসা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের সহযোগিতায় ফিলিপাইন সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেমসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং ফিলিপাইন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ পরস্পরের হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেন।

  • ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ঘুষ দাবির মুখে পড়েছিল একটি পরিবার। নিজের পাসপোর্ট করতেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদ। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের এই অপসংস্কৃতির প্রতিবাদ জানাতে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের একটি ওয়েবসাইট।

    শাহেদের তৈরি ওয়েবসাইটের নেপথ্যের কারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন- হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান (সবুজ) এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে তাদের নোটিশ দেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন।

    তিনি বলেন, কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা লিখিতভাবে জানাতে দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    ‘মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ দাবি, ক্ষোভে কিশোর শাহেদের ‘ঘুষ.সাইট’’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাহেদের বাবা ও প্রয়াত শিক্ষিকা আমিনা খাতুনের স্বামী শরীফুল ইসলামকে (শামীম) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ডাকা হয়। বেলা ১১টার দিকে তিনি সেখানে যান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

    শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর খুব দ্রুত কাজ হতে শুরু করেছে। আগের তৈরি নথিপত্র পরিবর্তন করে নতুন নথি প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। এটি করতে আরও কিছু সময় লাগবে। আশা করছি, দ্রুত আমাদের পাওনা পেয়ে যাব।’

    শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। শাহেদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়।

    তার মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।

    পরিবারের অভিযোগ, চাকরির ১৩ বছরের মাথায় আমিনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ভবিষ্য তহবিল) প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে। এরমধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৮ হাজার টাকা- সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

    এছাড়া কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্য ৮ লাখ টাকা পেতে শিক্ষা কার্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

    পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সরকারি পাওনা পেতে ঘুষের দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়েই শাহেদ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুষের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের ওয়েব সাইটটি।

  • জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক
    এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ পেয়েছেন তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড দেবেন। এই ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেয়ার জন্য তাদেরকে উপহার হিসেবে ট্যাব দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলাচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় আরো বেশি মনোযোগী হয় সেজন্যই তাদের উপহার দেয়া হবে।

  • বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে যে ৫ বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরি

    বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে যে ৫ বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিদেশে পাড়ি জমানোকে সাধারণত এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং জীবন পরিচালনার ধরনেও বড় পরিবর্তন আনে। পরিচিত পরিবেশ, দৈনন্দিন রুটিন ও কাছের মানুষের সহায়তা থেকে দূরে গিয়ে নতুন দেশে প্রতিদিনের নানা সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়। ফলে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি শুধু শিক্ষা, চাকরি কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতাও।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দিনের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও বিদেশে পড়াশোনা বা কাজের ক্ষেত্রে শুধু এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট হবে না। নতুন পরিবেশের অনিশ্চয়তা সামলানো, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং পরিচিত সহায়তা কাঠামো ছাড়াই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    বিদেশে একা যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যে পাঁচটি জীবনদক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন-

    ১. অর্থ ব্যবস্থাপনা শিখুন

    বিদেশে গিয়ে অর্থ পরিচালনা মানে শুধু খরচ কমানো নয়। ভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি বা অন্যান্য বিল, ব্যাংকিং, কর এবং হঠাৎ আসা অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

    এর সঙ্গে নতুন দেশের মুদ্রার মূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বুঝে বাজেট তৈরি করতে হবে। দেশে থাকাকালীন নিজের আয়-ব্যয় হিসাব করার অভ্যাস গড়ে তুললে বিদেশে গিয়ে আর্থিক চাপ সামলানো সহজ হবে।

    ২. নিজের সহায়তার নেটওয়ার্ক তৈরি করুন

    বিদেশে যাওয়ার অর্থ পরিচিত মানুষ ও পরিবেশ থেকে দূরে চলে যাওয়া। ফলে শুরু থেকেই নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দেশে কমিউনিটি, সহকর্মী, বন্ধু, পরামর্শদাতা বা পরিচিতদের মাধ্যমে দ্রুত একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা মানসিকভাবে স্থির থাকতে সহায়তা করতে পারে।

    ৩. অপরিচিত ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিন

    বিদেশে স্বাস্থ্যসেবা, বিমা, ব্যাংকিং, বাসস্থান, অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম এবং সরকারি কাগজপত্রের প্রক্রিয়া নিজের দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য কোথায় পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো কীভাবে নিজে সম্পন্ন করতে হয়, তা শেখা জরুরি। এতে ছোটখাটো ভুল থেকে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে।

    ৪. নিজেকে হারিয়ে না ফেলে মানিয়ে চলুন

    ভিন্ন দেশে গেলে যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং সামাজিক মেলামেশার নিয়মেও পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোজনের অর্থ হলো নতুন সংস্কৃতির নিয়ম-কানুন শেখা, কিন্তু নিজের পরিচয় ও মূল্যবোধকে হারিয়ে না ফেলা। নতুন পরিবেশকে সম্মান করার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫. প্রয়োজন হলে দ্রুত সাহায্য চান

    স্বনির্ভর হওয়ার অর্থ প্রতিটি সমস্যার সমাধান একাই করতে হবে—এমন নয়। বরং কখন সাহায্যের প্রয়োজন তা বুঝতে পারা এবং ছোট সমস্যা বড় সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই সঠিক ব্যক্তির কাছে সহযোগিতা চাওয়া স্বনির্ভরতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বিদেশে একা থাকার ক্ষেত্রে এই দক্ষতা বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। কারণ সময়মতো পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া গেলে অনেক জটিল পরিস্থিতি সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব।

  • শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ। কাজেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) হিসেবে রূপান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে অচিরেই ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আর এই নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষায় প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।’

    শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে উৎসাহ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য গোলাপি সাইকেল উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

    কুয়েট প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আজকের খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই প্রকাশ্যে বা গুপ্ত অবস্থায় রাজনীতি করা যাবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক মেডিকেল সেন্টার ও ৫-১০টি বৈদ্যুতিক বাস দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

    এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী ও অধ্যাপক ড. হাসান আলী।

    বেলা সাড়ে ১২টায় অডিটরিয়ামের সামনে প্রীতি সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন, আনন্দ র‍্যালি, স্টল পরিদর্শন, ‘কুয়েটের অর্জন (ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ)’ বিষয়ক উপস্থাপনা, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিকেলে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নিচতলায় পোস্টার বা প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন, একই সময়ে দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবসমূহ উন্মুক্ত রাখা হয়। বিকেল ৪টায় শিক্ষক বনাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া, সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

  • শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর আগের পদ্ধতি বহাল

    শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর আগের পদ্ধতি বহাল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগে তিন ধাপে পরীক্ষা নেয়ার আগের পদ্ধতি বহাল থাকবে বলে জানা গেছে। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—এই তিন ধাপে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত করে পরিপত্র জারির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই পরিপত্র জারির জন্য শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এ সংক্রান্ত সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সভায় সিলেবাস অনুমোদনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আলোচনা করা হয়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর সরাসরি ভাইভা না নিয়ে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা—এই তিন ধাপে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনে পরিপত্রের সংশোধিত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

    এর আগে, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের সংশোধিত অনুসরণীয় পদ্ধতি পরিপত্র আকারে জারি ও নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস অনুমোদনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। সভাটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনটিআরসিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • অবশেষে পদত্যাগ করলেন ববির বিভাগীয় চেয়ারম্যান

    অবশেষে পদত্যাগ করলেন ববির বিভাগীয় চেয়ারম্যান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হক। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

    পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। ’

    স্বেচ্ছাচারিতা, কোর্সে নাম থাকলেও নিজে ক্লাস না নেওয়া, পরীক্ষা না নিয়ে পছন্দ অনুযায়ী নম্বর দেওয়াসহ নানা অভিযোগে হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে রোববার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন তাঁরা বিক্ষোভ করে বিভাগের চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষে তালা দিয়ে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী। রাত ১০টার দিকে হাফিজ আশরাফুল হক পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে উঠে যান।

    আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় শিক্ষার্থীরা জানান, চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করায় তাঁরা অনশন প্রত্যাহার করছেন। তবে হাফিজ আশরাফুল হককে দিয়ে কোনো ধরনের ক্লাস বা পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে তাঁকে বিভাগ থেকে অপসারণ করতে হবে।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, ‘হাফিজ আশরাফুল হক বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে আমরা যে দাবি করেছিলাম, তিনি কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে পারবেন না, সেটিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিশ্চিত করেছে। তাঁকে অপসারণের জন্য প্রশাসনকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই এক মাসের মধ্যে তাঁকে অপসারণ করা না হলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামব।

  • ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে গেট রাত ১১টায় বন্ধ হবে। এত দিন গেট বন্ধের সময়সীমা ছিল রাত ১০টা।

    গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    সভায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে তিনজন এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ তথ্য জানিয়েছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন, অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স ও মাস্টার্স এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল।

  • স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থীতার সুযোগ চায় জামায়াত

    স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থীতার সুযোগ চায় জামায়াত

    বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের (এমপিও) নির্বাচনে অযোগ্য করার ইসির প্রণীত বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পাওয়ার।

    মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এই দাবি জানান তিনি। ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন গোলাম পারওয়ার।

    তিনি বলেন, এটা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। এটা বাতিল না হলে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। প্রায় ৩০ হাজার এমপিও শিক্ষক চাকরি করছেন ।

    এছাড়া ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যকে পদায়ন করায় তাকে অপসারণের জন্য সরকারকে অবহিত করার অনুরোধ জানান।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন নতুন পে-স্কেল সুবিধা

    এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন নতুন পে-স্কেল সুবিধা

    জাতীয় ডেস্ক:

    দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা। আজ মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এর আগে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। কিন্তু সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় আসবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা এখন বলতে পারছি না। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত আসবে।’

    এ রকম পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে আজ সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন বিষয়টি জেনে জানাবেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চিত যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

    বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য আর্থিক অনুদান দেয় সরকার, যা এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) নামে পরিচিত। এসব শিক্ষক-কর্মচারী মূল বেতনের শতভাগ অংশ পান। এর সঙ্গে চিকিৎসা ভাতাসহ কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।

    শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।


    বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।

    এখন নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্তর এবং বিষয়ভেদে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে ভিন্নতা আছে। এখন যিনি যে গ্রেডে চাকরি করছেন, সে অনুযায়ী নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন কাঠামোয় এখনকার মতোই ২০টি গ্রেড থাকছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।এর মানে হলো প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে নতুন করে ২৫ শতাংশসহ মোট ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা। আর শেষ ধাপে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে তখন বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ পাবেন তাঁরা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সাল থেকে বেতন ও ভাতা একযোগে পাবেন।অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক বরখাস্ত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক বরখাস্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগ এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চার শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া এক শিক্ষাকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।ড. জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল। তার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।

  • পাঠ্যপুস্তক: রাজনৈতিক দলিল নয়, জাতি গঠনের নকশা

    পাঠ্যপুস্তক: রাজনৈতিক দলিল নয়, জাতি গঠনের নকশা

    উপসম্পাদকীয়

    একটি জাতির ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তার অনেকখানি নির্ধারিত হয় সেই জাতির শ্রেণিকক্ষের ভেতরে। আর শ্রেণিকক্ষের সবচেয়ে নীরব অথচ সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষক হলো পাঠ্যপুস্তক। পাঠ্যপুস্তক যদি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, তাহলে একটি আত্মবিশ্বাসী জাতি গড়ে ওঠে। আর যদি সেখানে বৈষম্য, সংকীর্ণতা কিংবা অযৌক্তিক সামাজিক ধারণার প্রতিফলন ঘটে, তবে সেই ক্ষতি বহু বছর ধরে সমাজকে বহন করতে হয়।

    একটি শিশুর কাছে পাঠ্যপুস্তকে যা লেখা থাকে, সেটিই অনেক সময় চূড়ান্ত সত্য। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদাবোধের ভিত্তি তৈরি হয় শৈশবেই। বিশ্বব্যাপী গবেষণাগুলো দেখিয়েছে, বিদ্যালয়ের পাঠ্যবস্তু, শিক্ষক এবং পরিবার—এই তিনটি উৎসই শিশুদের আত্মবিশ্বাস গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে পাঠ্যপুস্তক শুধু তথ্য নয়; এটি একটি মানসিক ও সামাজিক নির্মাণের উপকরণ।

    আজও আমাদের সমাজে রান্না, গৃহপরিচর্যা কিংবা পারিবারিক দায়িত্বকে অনেকেই নারীর একক কাজ হিসেবে ভাবেন। অথচ উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় এগুলোকে লাইফ স্কিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন ছেলে যেমন রান্না শিখবে, তেমনি একজন মেয়েও আর্থিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি বা নেতৃত্ব শিখবে। শিক্ষা যদি সমাজকে পরিবর্তন না করে, তবে সেই শিক্ষা শুধু পরীক্ষার খাতা পূরণের জন্যই রয়ে যায়।

    আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট পাঠ্যবই নয়, প্রণয়ন পদ্ধতিতে। আমাদের দেশে পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের আলোচনা প্রায়ই শুরু হয় বই ছাপার পর। অথচ প্রশ্ন হওয়া উচিত—বই লেখার আগেই কি পর্যাপ্ত গবেষণা হয়েছিল? বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জাতীয় পর্যায়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামতের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ থাকে। মাঠপর্যায়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা গবেষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক সময় নীতিনির্ধারণ পর্যন্ত পৌঁছায় না। ফলে যে কারিকুলাম সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নিখুঁত বলে মনে হয়, সেটি প্রত্যন্ত গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক কোনো অফিসকক্ষে বসে তৈরি হয় না; এটি তৈরি হয় শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষণার সম্মিলিত অভিজ্ঞতা থেকে।

    তাহলে কীভাবে হওয়া উচিত কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন? বাংলাদেশে পাঠ্যক্রম তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে। প্রথমেই যে শ্রেণির জন্য বই তৈরি হবে, সেই শ্রেণিতে পাঠদান করেন—এমন শহর ও গ্রামের অন্তত দুটি করে মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতামত সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে ওই বয়সের শিশুর মানসিক বিকাশ, ভাষাগত সক্ষমতা ও শেখার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন—এমন শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, ভাষাবিজ্ঞানী, বিষয়বিশেষজ্ঞ এবং কারিকুলাম গবেষকদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

    এরপর খসড়া পাঠ্যক্রম তৈরি করে সেটি বিভিন্ন গণমাধ্যম, শিক্ষা-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট এবং উন্মুক্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করতে হবে, যাতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ নাগরিক যুক্তিসংগত মতামত দেওয়ার সুযোগ পান।

    প্রথমে অন্তত এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক পাঠ্য করা উচিত। এ উদ্দেশ্যে জাতীয় অনলাইন কারিকুলাম ফিডব্যাক প্ল্যাটফর্ম চালু করা যেতে পারে, যেখানে নিবন্ধিত শিক্ষকরা নির্ধারিত ফরম্যাটে মতামত, সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাব জমা দেবেন। সেই মতামত বিশ্লেষণ করবেন গবেষক ও কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধন করে চূড়ান্ত পাঠ্যক্রম অনুমোদন দেওয়া হবে।

    বিশ্বের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থাগুলো দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—কারিকুলাম কখনো একদিনে তৈরি হয় না।

    ফিনল্যান্ডে জাতীয় মূল কাঠামো তৈরির পর স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যালয়গুলো নিজেদের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ্যক্রম অভিযোজিত করে। শিক্ষকরা শুধু বাস্তবায়নকারী নন; তারা কারিকুলাম উন্নয়নেরও অংশীদার।

    সিঙ্গাপুরে নতুন পাঠ্যক্রম চালুর আগে বহু বছর ধরে গবেষণা, পাইলটিং, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক এবং বিদ্যালয় একসঙ্গে কাজ করে।

    অস্ট্রেলিয়ান কারিকুলাম প্রণয়নের সময় খসড়া জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। হাজার হাজার শিক্ষক, গবেষক, অভিভাবক ও নাগরিকের মতামত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়।

    যুক্তরাজ্যেও জাতীয় কারিকুলাম সংশোধনের সময় ব্যাপক পরামর্শ, গবেষণা ও জনমত গ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

    এই দেশগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়—শিক্ষাব্যবস্থার স্থায়িত্ব আসে অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে, ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ থেকে নয়।একটি দেশের সরকার বদলাতে পারে। রাজনৈতিক দর্শনও পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু পাঠ্যপুস্তক এমন হওয়া উচিত নয়, যা প্রতি কয়েক বছর পরপর নতুন আদর্শের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীর প্রয়োজন স্থিতিশীলতা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান এবং নিরপেক্ষ ইতিহাস। কারণ শিক্ষা কোনো মন্ত্রণালয়ের একক সম্পদ নয়; শিক্ষা একটি জাতির সম্মিলিত বিবেক। আর সেই বিবেকের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল হওয়া উচিত আমাদের পাঠ্যপুস্তক।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জেলায় ব্যাপকভাবে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে গত ১২ দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫৫৬ জন শিশু, যার বড় একটি অংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একসাথে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০টিরও বেশি শিশু। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও গলিপথে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

    এদিকে, কেবল ইনডোরই নয়, আউটডোরেও রোগীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকরা জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও মাত্র দু’জন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক এ শিশুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

    হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনদের পদচারণায় চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মেঝেই ভরসা হয়ে উঠেছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের।

    চার মাস বয়সী শিশু জাবেরের স্বজনরা জানায়, বাড়িতে চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। একই অভিজ্ঞতা জীবননগর থেকে আসা এক মাসের শিশু রায়হানের বাবারও।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টির তারতম্য ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের মাত্র ২২টি বেড থাকলেও রোগী আসছে বহুগুণ। সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।’

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    এ সময়ে শিশুদের ঘাম বসতে না দেয়া, ধুলাবালি থেকে দূরে রাখা ও অতিরিক্ত গরমে সাবধানে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

    শিশুর দ্রুত শ্বাস নেয়া, বুক দেবে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    একইসাথে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর কথা বলেছেন চিকিৎসকরা।

  • পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামে পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ বন্ধু নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদরের পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।

    নিহতরা হলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাকুয়াবাড়ি গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে হিরা মিয়া (২৮) ও রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব মনশ্বর গ্রামের মিজানুর রহমান মজনুর ছেলে সফিউর রহমান শুভ (২৩)।

    নিহতদের স্বজনদের বরাতে ওসি কামাল জানান, কলেজের পরীক্ষা শেষে হিরা ও সফিউরসহ নয় বন্ধু তিন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

    তিনি আরও বলেন, আহতদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে হিরা ও সফিউরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে হিরার মৃত্যু হয় এবং শুভকে ডক্টরস ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

  • নেপালের বন্যায় নিখোঁজ ২০০ স্কুল শিক্ষার্থী

    নেপালের বন্যায় নিখোঁজ ২০০ স্কুল শিক্ষার্থী

    নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ২০০-এর বেশি স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৩টি জেলায় অন্তত ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ৯টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭টি স্কুল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

    এছাড়াও বন্যায় প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পানির স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    প্রলয়ংকারী এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা। এই দুই জেলার কয়েকটি স্কুল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বা মাটির নিচে চাপা পড়েছে। এসব স্কুলে মোট ২ হাজার ৪২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত।

    একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানির স্রোতে তাদের এক শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি বাসও ভেসে গেছে।

    বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া ভিজুয়াল জার্নালিজম বিভাগ স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করেছে।

    এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর দেশটির ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

    এ পর্যন্ত সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।

    অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে আগে জানিয়েছিল নেপাল। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিচ্ছে দেশটি।

  • রোজার পরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    রোজার পরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পবিত্র রমজান মাসের পরই উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও প্রস্তুতির স্বার্থে রোজার পরেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে বলেও জানান তিনি।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে চীন সফর পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    পরীক্ষার সময় ও সমন্বয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পরীক্ষাগুলোকে দেশের আবহাওয়া ও বৈশ্বিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করা। বিশেষ করে বর্ষাকালের ভোগান্তি এড়াতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে আসা জরুরি। এর সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চায়, তাদের সময়সূচিকেও একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী জানান, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত মাস হচ্ছে ফেব্রুয়ারি। কিন্তু রোজার কারণে এই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    কেন রোজার আগে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলো না এ প্রসঙ্গে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, অংশীজনদের অনুরোধে প্রথমে পরীক্ষা এগিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শিক্ষাবর্ষের হিসাব মিলিয়ে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে এক মাসের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হতো। কারণ আগামী বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হয়ে ১০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যেত।

    পরীক্ষা বেশি এগিয়ে নিয়ে আসলে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ হলেও তাদের কোর্স রিভিউ বা রিভিশন করার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রিভিউ প্রসেসটা ব্যাহত হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তো শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত (হার্ট) করব না। তাদেরকে রিভিউ দেওয়ার ও কোর্সের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাই পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে পরীক্ষা রোজার পরেই অনুষ্ঠিত হবে। যদিও কিছু পক্ষ রোজার আগেই পরীক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও প্রস্তুতির স্বার্থে রোজার পরেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।

    এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের বাড়তি চাপ বা আশঙ্কার কারণ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না ঘটলে পরীক্ষা যথাসময়েই হবে।

    শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় দেড় বছর আগেই তাদের পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষা নিয়ে বাড়তি কোনো চাপ নেওয়ার কারণ নেই।

  • নেপালে এক প্রধান শিক্ষকের উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থীর

    নেপালে এক প্রধান শিক্ষকের উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থীর

    নেপালে প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে ৯০০ শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচিয়েছেন একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাঁর নাম রাজেন্দ্র দাওয়াদি। ঢলের পানি স্কুলে আঘাত হানার মাত্র ১০ মিনিট আগে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেন।

    নুয়াকোট জেলার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র বিবিসিকে বলেন, স্থানীয় সময় গত বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি ৪টি ফোনকল পান। ফোনকলগুলোতে তাঁকে ভয়াবহ এই দুর্যোগের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এরপর তিনি দ্রুত শিক্ষার্থীদের উঁচু জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। স্কুলমুখী শিক্ষার্থীবোঝাই বাসগুলোকে দ্রুত ফিরে যেতে বলেন।

    রাজেন্দ্র বলেন, ‘আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে কিংবা আর ১০ মিনিট দেরি হলে আমিসহ শিক্ষার্থীদের কেউই আজ আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারত না।’

    রাজেন্দ্র জানান, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চারজন পৃথক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে সতর্ক করায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে তাঁর সুবিধা হয়েছিল।

    এ বিষয়ে রাজেন্দ্র বলেন, এক অভিভাবক এসে তাঁকে বলেছিলেন, ‘বড় বন্যা ধেয়ে আসছে। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে এসেছি।’

    কোনো জোরালো কারণ ছাড়া অভিভাবকেরা এভাবে স্কুলে ছুটে আসেন না বলে উল্লেখ করেন রাজেন্দ্র। তিনি বলেন, তাই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া উচিত।

    নেপালের নুওয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে দুর্যোগের পর কাদায় প্রায় ডুবে গেছে একটি স্থাপনা।

    রাজেন্দ্র বলেন, ‘আমি আর দেরি না করার সিদ্ধান্ত নিই। এমনকি ঢল না এলেও সর্বোচ্চ এক দিনের ক্লাসই হয়তো নষ্ট হতো। এত মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি, এর জন্য আমি গর্বিত।’

    বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নেপালের কয়েকটি এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ৪ হাজার ২৪৭ জন। বৈরী পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

    ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। রাজেন্দ্র জানান, নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে থাকা বিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাসও মুহূর্তের মধ্যে ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়।

    শুরুতে অনেক শিক্ষার্থীও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেনি। ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা আমাত্য বলে, ঢল আঘাত হানার ঠিক আগে সে তার বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

    ইউনিশা বলে, ‘মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য আমি আর আমার বন্ধুরা প্রাণে বেঁচে গেছি।’

    ইউনিশা আরও বলে, ঢল আসার ঠিক আগে তারা শ্রেণিকক্ষে পড়ছিল। শিক্ষকেরা এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন। শুরুতে কী ঘটছে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। পাঁচ মিনিট পর শিক্ষকেরা এসে তাদের ঢলের কথা জানান। তাদের দ্রুত বাসায় চলে যেতে বলেন।

    ঢলের কথা শুনে এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল বলে জানায় ইউনিশা। সে বলে, অনেক শিক্ষার্থী তখনো বিপদের মাত্রা বুঝতে পারেনি। তারা গণিতের ক্লাসে থাকা সহপাঠীদের জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে ইউনিশা ও তাঁর বন্ধুরা বিদ্যালয়ের পেছনের একটি পথ ধরে দ্রুত পাহাড়ের দিকে উঠে যায়।

    পানির তোড়ে নদীর তীরের জনবসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক জায়গায় আস্ত গ্রাম ভেসে গেছে।

    ইউনিশা বলে, ‘আমি দ্রুত হাঁটতে পারছিলাম না। বন্ধুরা আমাকে পাহাড়ের দিকে উঠতে সাহায্য করেছিল। আমরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। বিদ্যালয়ের পেছন দিকের একটি সরু সিঁড়ি দিয়ে আমরা বেরিয়ে গিয়েছিলাম। চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাজারটি পানির তোড়ে ভেসে যায়।’

    শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা প্রথমে কয়েক শ মিটার পাহাড়ে উঠে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পরে পাশের একটি গ্রামে চলে যান। ঢলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তাঁদের অনেকেই দুই রাত সেখানে আটকে ছিলেন। পরে উদ্ধারকারী দল তাঁদের কাছে পৌঁছায়।

    প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র ও শিক্ষার্থী ইউনিশা—দুজনের বাড়িই বিদ্যালয় থেকে নদীর ওপারে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেলিকপ্টারে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    এদিকে সন্তানেরা বেঁচে আছে কি না, তা জানতে উৎকণ্ঠায় ছিলেন অভিভাবকেরাও। ইউনিশার মা সাবিনা কুমারী শ্রেষ্ঠা বলেন, তিনি বারবার মেয়ের ও স্বামীর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

    ইউনিশার বাবা যুবরাজ আমাত্য খবর পেয়েই মেয়ের স্কুলের দিকে রওনা হন। তিনি বলেন, ‘ঢলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আমি মেয়ের ফোনে কল দিই। কিন্তু ওকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। ভীষণ ভয় পেয়ে যাই। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মেয়ের স্কুলের দিকে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি, ত্রিশূলী বাজার পুরোপুরি ভেসে গেছে। তখন মনে হয়েছিল, আমার মেয়ে হয়তো আর বেঁচে নেই। আমি খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। স্কুটার থামিয়ে ফেলি। চারদিকে পানি, কিন্তু মেয়েকে ছাড়া ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারছিলাম না।’

    আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর লিখু নদীর তীরে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি। গতকাল নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবঘাটে।

    মেয়ে বেঁচে আছে কি না, যুবরাজ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সেটা জানতেন না। বারবার ফোন করেও তিনি মেয়ের সাড়া পাননি। অবশেষে ফোনটি সংযোগ পায়। ওপাশ থেকে ইউনিশা ফোন ধরে।

    যুবরাজ বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমার মেয়ে ফোন ধরল। আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি, কেঁদে ফেলি। সঙ্গে থাকা দুজন আত্মীয়ও কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরেন।’

    প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র বলেন, আরও কার্যকর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকলে এলাকার বাসিন্দারা আরও আগে সাড়া দিতে পারতেন। তবে তিনি মনে করেন, তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।