দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এক সপ্তাহের ছুটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। এদিন দুপুর থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে ছুটির সুযোগে নতুন উপাচার্যের (ভিসি) ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে পাহারায় থাকার কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। একই সঙ্গে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে আর পা না রাখার শর্তেই নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ডিসি ও এসপির সহযোগিতায় ক্যাম্পাস ছাড়েন। তাকে সেই শর্তেই মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে আবারও তিনি প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
বৃহস্পতিবার চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী জানান, ‘চুয়েটে দুর্গাপূজার সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দুদিন সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটি এবং রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন পূজার ছুটি। এ সময়ে আমাদের কর্মবিরতি চলবে; সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রবীর চন্দ্র ভৌমিক জানান, ‘একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে পাঁচ দিন পূজার ছুটি। তবে প্রতিবার আগাম নোটিশ দেওয়া হলেও এবার কোনো নোটিশ জারি হয়নি। আমি নিজেও কোনো নোটিশ হাতে পাইনি। তবে ছুটি শুরু হয়েছে, এটি সঠিক।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্গাপূজার ছুটির আগে বৃহস্পতিবারই ছিল চুয়েটে শেষ কর্মদিবস। এদিন অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হল ছেড়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে চুয়েটে স্বাভাবিক কর্মদিবস শুরু হবে। টানা সাত দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হলেই অবস্থান করবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যদিও ছুটির দিনগুলোতে সরাসরি কোনো আন্দোলন কর্মসূচি থাকছে না।
এর আগে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দাবি আদায়ে অনড় থাকবেন। চলমান সংকট নিরসনে তারা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রফেসর ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনকে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এমনকি ছাত্রলীগের একটি পেজ থেকেও সেটিতে সমর্থন জানিয়ে প্রচার করা হয়েছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দাবিকে কেউ সরকারবিরোধী, কেউ রাষ্ট্রবিরোধী অসন্তোষের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টাকে আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো দলকে ক্ষমতায় আনা বা ক্ষমতা থেকে সরানো, রাষ্ট্রকে হেয় করা কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালানো আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নয়।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা জানিয়ে দিতে চাই, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বয়ানের কাঁচামাল নয়। আমাদের কণ্ঠস্বরকে বিকৃত করে অন্যের এজেন্ডা প্রতিষ্ঠার অধিকার কারও নেই। তাছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির স্মৃতি আমাদের কাছে গভীর বেদনা ও জবাবদিহির প্রশ্ন। সেই অভিজ্ঞতা অস্বীকার করে কিংবা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক প্রচারণার আড়াল বানিয়ে কোনো সংগঠন আমাদের আন্দোলনের নৈতিক সমর্থক সেজে উঠতে পারে না।’
চুয়েটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছুটিতে সব শিক্ষার্থী বাড়িতে যাচ্ছে না, অনেকেই হলে থাকছে। আমরা নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকাতে সজাগ থাকব। বন্ধের দিনেও আমাদের নিয়মিত পাহারা থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
এদিকে চুয়েটের উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর নিজ দপ্তরে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি)। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
