শিক্ষা ও সাহিত্য

  • শিশুদের সুরক্ষায় স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন স্মার্ট অভ্যাস

    শিশুদের সুরক্ষায় স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন স্মার্ট অভ্যাস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পরিবারকে সচেতন ও পরিকল্পিত ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রথমেই মোবাইল ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা জরুরি। পড়াশোনা, খাওয়া ও ঘুমের সময় মোবাইল ব্যবহার না করার নিয়ম করা যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বন্ধ রাখতে উৎসাহ দেওয়া উচিত।

    শিশুদের বিকল্প বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, গান, নাচ বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজে যুক্ত করলে তারা মোবাইলের প্রতি কম আকৃষ্ট হবে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ দিলে তাদের সামাজিক যোগাযোগও বৃদ্ধি পাবে।

    অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও সচেতন হতে হবে। শিশুদের সামনে সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করলে তারা সেটিই অনুসরণ করবে। তাই পরিবারের সবাই মিলে ‘নো মোবাইল আওয়ার’ বা মোবাইলমুক্ত সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

    পড়াশোনার সময় মোবাইল অন্য কক্ষে রাখা এবং প্রয়োজন হলে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি অনলাইনের সুবিধা ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শিশুদের সহজ ভাষায় বোঝানো প্রয়োজন।শিশু কোনো নিয়ম মেনে চললে তাকে প্রশংসা করা বা ছোট পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। তবে মোবাইলকে পুরস্কার বা শাস্তির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জোর করে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পরিবর্তে তাদের জন্য আনন্দদায়ক ও শিক্ষামূলক বিকল্প কার্যক্রম তৈরি করা। ধৈর্য, ভালোবাসা ও নিয়মিত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে ভারসাম্য আনা সম্ভব।

  • চুয়েট উত্তাল, নতুন ভিসিকে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধা

    চুয়েট উত্তাল, নতুন ভিসিকে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

    সকালে চুয়েটের প্রধান ফটকে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মূল ফটকে তালা দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।

    একই দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন চুয়েটের শিক্ষকরা। এ সময় তারা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান এবং বিভিন্ন বক্তব্য দেন।

    চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘এক মাস ২২ দিনে আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখেছি। কাজের মধ্যে গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জীবন ফিরে এসেছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। মাত্র এক মাস ২২ দিনের মধ্যে তাকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, এর সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক কারণ আমরা জানতে চাই।’

    তিনি বলেন, ‘নতুন উপাচার্য চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। তার প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। তবে আমরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল চাই, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। যৌক্তিক ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থানে থাকব।’

    চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির জিসান বলেন, ‘একজন উপাচার্যকে পদে রাখার দাবিতে আন্দোলন-এমন ঘটনা বিরল। কিন্তু এখানে শিক্ষার্থীরা তা করছে, কারণ তিনি শিক্ষার্থীদের একটি ভিশন দিয়েছেন। সরকার যাচাই-বাছাই করে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তাহলে আবার কেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো?’

    তিনি আরও বলেন, ‘এতে শিক্ষক সমাজ ও চুয়েটকে হেয় করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তার পুনর্বহাল চান। নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে নতুন যিনি এসেছেন, তাকেও যেন কোনোভাবে অপমানিত হতে না হয়। পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে।’

    মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানান।

    যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ‘আমাদের উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে কোনো কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল রাত থেকেই আমাদের কর্মসূচি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ক্যাম্পাস অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। সায়েম স্যার চুয়েট ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। আমরা তার পুনর্বহাল চাই।’

    সোমবার রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ শেষে উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

  • প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণির ভর্তিতে ডিজিটাল লটারি যেভাবে

    প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণির ভর্তিতে ডিজিটাল লটারি যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এ ভর্তি কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত শিগগির চূড়ান্ত হবে বলে জানায় সূত্রটি।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এ জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী নির্ধারিত সফটওয়্যারে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

    ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’ সারাদেশের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করবে।

    লটারির আগে নির্বাচিত কারিগরি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রস্তুত করা সফটওয়্যারের যথার্থতা সরকার স্বীকৃত অন্য একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করতে হবে। এ-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।

    ডিজিটাল লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমান শিক্ষার্থীর তালিকাও প্রস্তুত করা হবে। নির্ধারিত সময়ে কোনো নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমান তালিকার ক্রমানুসারে পরবর্তী শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপেক্ষমান তালিকার ক্রম বজায় রাখতে হবে।

    লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাবে ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি কমিটি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নির্ধারিত সময়ে ভর্তি সম্পন্ন করবে।

    যৌক্তিক কোনো কারণে ১ম থেকে ৯ম শ্রেণির কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।এদিকে ঢাকা মহানগরীর স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যালয় সংলগ্ন তিনটি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। এসব ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে।

  • এইচএসএসি পরীক্ষার ফল নভেম্বরের মাঝামাঝি

    এইচএসএসি পরীক্ষার ফল নভেম্বরের মাঝামাঝি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এইচএসএসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নভেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে বলে জানা গেছে। ফল তৈরির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল নভেম্বরের মাঝামাঝি দেয়ার চিন্তা করছি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এটার কাজ চলছে। আলাদা করে মেনশন করার মত পজিশন এখনো আসেনি।

    প্রসঙ্গত, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলতি বছরের ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে চলে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টে শেষ হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা চলতি মাসের ৯ তারিখে শেষ হয়েছে।

    এ বছর সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরির মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ

  • জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে,  নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে, নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণ যেমন আন্দোলন করে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনই আবার টেনেহিঁচড়ে নামাতেও পারে। প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। মনে রাখবেন, এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

    রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে (কুমিল্লায় নিহত) অপ্রতিমের মা-বাবা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে আহাজারি করছেন। তারা জানেন না এই সন্তানকে ছাড়া কীভাবে বেঁচে থাকবেন! দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। আমরা প্রতিটি পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করা সত্ত্বেও কেন সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে?

    তিনি আরও বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে ঘুরতে এসেছি। গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। আবার সরকারের সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেক শিশু প্রতিদিন নিখোঁজ হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছেন না, সংবিধানের সংস্কার করছেন না, জনগণের যুক্তিসঙ্গত দাবি মানছেন না, এমনকি গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তনগুলো আনছেন না। কেন মানছেন না—তার কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না। কেবল মুখে বলছেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, আর কালক্ষেপণ করে সব দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছেন। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এসব বোঝে না—তা মনে করার কোনো কারণ নেই। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    সংবর্ধিত কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি গোলাপের মতো সুবাস ছড়াবে, ততক্ষণ পিতা-মাতা ও এই সমাজ তোমার প্রশংসা করবে। তাই আত্মগঠন ও মেধার বিকাশ ঘটাতে ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়। সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ বা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের চবি ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের বাবা। এতে মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও পরিচালনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘ অপেক্ষার পর দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি হবে এই সমাবর্তন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকার সম্মতি জানিয়েছেন।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সমাবর্তন উপলক্ষে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

    সাক্ষাৎকালে ভাইস-চ্যান্সেলর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার সম্মতি দেন। একই সঙ্গে আয়োজনটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমাবর্তন বক্তা কে থাকবেন, কারা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং আয়োজনের বিস্তারিত বিষয় শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

    দেশের প্রায় আড়াই হাজার কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন আয়োজনের সুযোগ আসে দীর্ঘ বিরতির পর। ফলে বহু শিক্ষার্থীর কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও। উল্লেখ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি। এবার প্রথম সমাবর্তনের এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন।

  • নোবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

    নোবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও ভ্রমণ বিল উত্তোলন এবং ওবিই (OBE) কারিকুলাম সভায় অনুপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফাইনাল ট্যুরে সেন্ট মার্টিন যাওয়া ও ফেরার জন্য গত বছরের ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনের কর্তব্যরত ছুটি নেন মামুন মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেন। ওই সময় তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

    শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও বিল উত্তোলনের বিষয়টি মামুন মিয়া একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত হিসেবে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই উত্তোলন করা টাকা ফেরত দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

    প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর ভ্রমণ বিলের ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন মামুন মিয়া। আবেদনে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে ওই শিক্ষা সফরে অংশ নিতে পারেননি।

    আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা সফর শেষে ৫ মার্চ ২০২৫ অনুষ্ঠিত বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ভ্রমণ ভাতা বাবদ ওই বিল উপস্থাপন করেন। তার দাবি, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল—তিনি ট্যুরে অংশ না নিলেও বিল জমা দেবেন এবং শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে অর্থ সমন্বয় করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন। আবেদনটি ফরওয়ার্ড করেন পরিসংখ্যান বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগম।

    তবে ৫ মার্চ ২০২৫ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই সভায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের ভাষ্য, মামুন মিয়া শিক্ষা সফরে অংশ না নেওয়ায় তার নামে শিক্ষাসফরের বিল দেওয়া সমীচীন হবে না, এমন মতামত দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে পরে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।

    এদিকে, ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস বরাবর মামুন মিয়ার রিফান্ডসংক্রান্ত আবেদন ফরওয়ার্ড করার বিষয়ে ড. নাজমা বেগম বলেন, তিনি মামুন মিয়ার টাকা ফেরত দেওয়ার একটি চিঠি ফরওয়ার্ড করেছেন। তবে ট্যুরে না গেলেও বিল উত্তোলন এবং সেই অর্থ অন্য শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে উল্লেখ থাকা কোনো চিঠি তিনি ফরওয়ার্ড করেননি বলে জানান। মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে বলে জানা গেছে।

    এ ছাড়া ১০ জুলাই ২০২৪ অনুষ্ঠিত ওবিই কারিকুলাম সভা নিয়েও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, ওই সভায় দুইজন বহিঃস্থ সদস্য উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং একমাত্র উপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, সেদিন কোনো বহিঃস্থ সদস্য অনলাইনে যুক্ত ছিলেন না।

    এ ছাড়া কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তৎকালীন পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী কর্মকর্তা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানা গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়া বলেন, ‘আমি এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো মতামত দেব না। ’ এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

    তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ওবিই কারিকুলাম সভার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রুল

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রুল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহার করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

    সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর হাইকার্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট দায়ের করেন চার আইনজীবী।

    তাদের দাবি ব্যবস্থা নেওয়ার এ ধরনের কমিটি এখতিয়ার বর্হিভূত।

    গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। রিটকারীদের দাবি, এটার ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ‘যাচাইহীন’ সংবাদের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান/তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা এবং পরে নেওয়া সমস্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের একটি আবেদন দেন। সেটি নিষ্পত্তি না করায় তারা রিট করেন।রুলে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত একটি যাচাইহীন সংবাদের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান/তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা এবং পরে নেওয়া সমস্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে রিট আবেদনকারীদের আবেদনপত্রটি নিষ্পত্তি না করার বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আইনি এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব ছাড়া গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান/ইনকুয়েরি/তদন্ত কমিটি এবং বিবাদীদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে বেআইনি ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকুয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহার কেন বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

    অনলাইন পোর্টালটির সংবাদে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করা হয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে খোলা সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে।

    টেলিগ্রাম গ্রুপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। এটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।

    গোপন কার্যক্রম পরিচালনার ওই গ্রুপের ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট একটি অনলাইন পোর্টালের হাতে এসেছে। সেখানে ৪০৪ জনের নাম শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে অনেকের সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ২১ জনের শুধু মোবাইল নম্বর রয়েছে।

    গ্রুপের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টেলিগ্রাম ও এর বাইরে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।

  • একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় ধাপে ভর্তি আবেদন শুরু ২৭ সেপ্টেম্বর

    একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় ধাপে ভর্তি আবেদন শুরু ২৭ সেপ্টেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবারো দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনে আবেদন নেয়া হবে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এ আবেদন শুরু হয়ে চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। এ ধাপের ভর্তি কার্যক্রম চলবে ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এছাড়াও ফল প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ভর্তির সূচি জানানো হয়।

    সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে ফের ২য় ধাপে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবাইকে উল্লিখিত সময়সূচি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আবেদন পদ্ধতি শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইট: (https://xiclassadmission.gov.bd) পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কলেজে থাকা আসন সংখ্যা দেখে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করতে হবে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে অনলাইনের মাধ্যমে ২য় ধাপে যে সব শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন: যে সব শিক্ষার্থী আগে আবেদন করেনি বা আবেদন করেও কলেজ সিলেকশন পায়নি। যে সব শিক্ষার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে কিন্তু কোনো কারণে নিশ্চায়ন করতে পারেনি কিংবা কলেজে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি হতে পারেনি।

    যে সব শিক্ষার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন কিন্তু ভুল কোটা নির্ধারণ করায় কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে অনলাইনের মাধ্যমে ২য় ধাপে ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরু সংক্রান্ত সিডিউল: দ্বিতীয় ধাপে অনলাইন আবেদন ২৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল ১ অক্টোবর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে।

    নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্বাচন নিশ্চায়নের সুযোগ থাকবে ফল প্রকাশের পর থেকে ৩ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত। নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। এরপর পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল ৪ অক্টোবর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হননি—এমন শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন ফি ২২০ টাকা দিতে হবে না। তবে তাদের ভর্তি ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজ নির্বাচন বা এডিট সম্পন্ন করতে হবে। ২য় ধাপে আবেদনের সময় কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোটার যোগ্যতা বুঝে আবেদন করা এবং ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ফি জমা দেয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ফের অনুরোধ করা যাচ্ছে।

  • হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার সঙ্গে দেখা করে খুনিরা

    হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার সঙ্গে দেখা করে খুনিরা

    আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে ডেকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সি একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে।

    মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

    পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতকেরা অত্যন্ত নির্ভার থাকে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের কয়েকজন অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তার মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দেয়। সেখান থেকে ফিরে তুহিন নিজ বাসায় স্বাভাবিক সময় কাটাতে থাকে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিকালেই তুহিনকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করে। তুহিনের দেখানো স্থান থেকেই নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেফতার চারজন হলো—কুমিল্লা সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্র (১৫), শিশু হওয়ায় যার নাম প্রকাশ করা হলো না, কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।

    নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। অপ্রতিম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিবির টানা জিজ্ঞাসাবাদে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশেই যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

  • অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

    অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে সাধারণ শোক পালন ও বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাশ ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষকের সন্তানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিহত অপ্রতীমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

    প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ শোক দিবস উপলক্ষে রোববারের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে কুবির রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, আমাদের সহকর্মীর সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। আমরা এতটাই শোকাহত যে স্বাভাবিক কাজ চালানোর মতো অবস্থায় নেই। তাই আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • অপ্রতিমের জানাজা সম্পন্ন

    অপ্রতিমের জানাজা সম্পন্ন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাথীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বেলা ১১টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে অপ্রতিম আর ফেরিনি বলে জানান তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।

    এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট, ওজন ৪০ কেজি। তার গায়ের রং শ্যামলা এবং চুল কালো।

    পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও অপ্রতিমের সন্ধান পাননি।

    এ বিষয়ে ড. নাহিদা বেগম তার ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, আমার ছেলেকে আমি বিকাল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনে ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটা ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি- আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।

  • গুণী শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর সময় বাড়লো

    গুণী শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর সময় বাড়লো

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে গুণী শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা বা থানা থেকে ৩ জন গুণী শিক্ষকের প্যানেল প্রস্তুত করে তালিকা পাঠাতে হবে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। যা সব উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’-এ গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়ার লক্ষ্যে স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রাথমিক (মাদ্রাসা), মাধ্যমিক (মাদ্রাসা) ও কলেজ (মাদ্রাসা) স্তরের প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রতিটি উপজেলা ও থানা থেকে ১ জনের বিপরীতে ৩ জন গুণী শিক্ষকের প্যানেল প্রস্তুত করে প্রস্তুতকৃত তালিকা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে মেইল: ada@dme.gov.bd-এ পাঠানোর জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।

  • বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যা ঘটনায় মামলা

    বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যা ঘটনায় মামলা

    চুরির অভিযোগ তুলে খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন খুলনার হরিণটানা থানায় হত্যা মামলাটি করেন।

    মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    ওসি বলেন, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রাতেই ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।

    নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী আবাসিক হলের (খাজা হল) পেছনের ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে থাকতেন। গত শুক্রবার রাতে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পড়ে যান বলে আশপাশের ছাত্রদের ভাষ্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।ওই মেসের পাশের একটি বাড়ির এক নারী বলেন, ছাত্রদের কাছে তিনি শুনেছেন, শুক্রবার রাতে আজমুল এক ছাত্রের মিল (খাবার) খেয়ে ফেলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়া নিয়ে কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন। দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। এরপর ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ পান।

    আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন গতকাল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাত একটার দিকে কয়েকজন ছেলে কল করে বলে, ‘আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে, এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে।’ এরপর তিনি খুলনা এসে প্রথমে মেসে যান। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে ছেলে লাশ দেখতে পান।

    আজমুলের হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আজমুল যে মেসে থাকতেন, সে ভবনে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকতেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে আজমুলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। তাঁর প্রতি অনেক ক্ষোভ ছিল। বিভিন্ন সময় অনেকের জামা, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপে ফের সং/ঘ/র্ষ

    জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপে ফের সং/ঘ/র্ষ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীন ও ১৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় একটি চায়ের দোকানের পাশে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।

    এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতের মোট সংখ্যা ও তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার ভাষ্য, উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হয়নি; কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন

    চলমান ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

  • একাদশে ভর্তি: বাড়তি ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা

    একাদশে ভর্তি: বাড়তি ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম আজ (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ড অনুমোদিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়ার সুযোগ নেই। অনুমোদিত সব ফি যথাযথ রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নীতিমালা লঙ্ঘন করলে কলেজের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলের পাশাপাশি এমপিওভুক্তি বাতিল হতে পারে। সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    আন্তশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, ভর্তি কার্যক্রম শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে।নীতিমালার ৫.৭ ধারায় বলা হয়েছে, ৭কোন শিক্ষার্থীর নিকট হতে বোর্ড অনুমোদিত ফি-এর অতিরিক্ত কোন অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং অনুমোদিত সকল ফি যথাযথ রশিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।

    বেসরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচের তালিকা স্ব স্ব কলেজের নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে।

    ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ফি দেয়া কলেজ, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তন করতে পারবে। তবে অন্যান্য বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে বিভাগ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বিজ্ঞান বিভাগ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিভাগে প্রত্যাবর্তনের কোন সুযোগ নেই।

    কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এই শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করতে পারবেনা বা অন্য কোন অজুহাতে কোন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটক রাখতে পারবে না। অনুরূপ অভিযোগ পাওয়া গেলে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা জমাদানের সময় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান কে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র বিবরণীর সাথে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খাতওয়ারি গৃহীত অন্যান্য ফি’র বিবরণী আলাদাভাবে জমা দিতে হবে।

    কলেজ-সমমানের প্রতিষ্ঠান বোর্ডের নির্ধারিত আসন সংখ্যা (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ, শিফট, ছাত্র, ছাত্রী, সহশিক্ষা, ভার্সন) এবং বোর্ডের নির্ধারিত ভর্তি ফিসহ অনুমোদিত অন্যান্য সব ফি, ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা ইত্যাদি তথ্যগুলো ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ২৩ সেপ্টেম্বর, প্রজ্ঞাপন জারি

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ২৩ সেপ্টেম্বর, প্রজ্ঞাপন জারি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটির তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি থাকবে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে

    এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গত ১২ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে জারি করা ছুটির তালিকার অংশ-১৬৩ নম্বর প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধনক্রমে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম তারিখ সংশোধন করে ২৩ সেপ্টেম্বর করা হলো।

    এর আগে সর্বপ্রথম শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাডটকমে ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আসছে, মিলতে পারে টানা চার দিন’ এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপরপরই শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসার জায়গা তৈরি হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকায় ২৪ সেপ্টেম্বর লেখা রয়েছে। আর চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পড়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর- তাহলে ছুটি কবে? এসব প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ফের দৈনিক শিক্ষাডটকমে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ২৩ নাকি ২৪ সেপ্টেম্বর, সিদ্ধান্ত আসছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এবার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে।

    দৈনিক শিক্ষাডটকমের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। এর পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা নিয়মিত কার্যক্রম করবেন। এরপর ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কেউ যদি ঐচ্ছিক ছুটি নেয় তাহলে টানা চার দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সব সরকারি বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতায় পড়বে।

  • কওমি মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে নির্দেশনা জারি

    কওমি মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে নির্দেশনা জারি

    কওমি মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের অধিভুক্ত সব মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে জারি করা এক নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদ্রাসায় ছাত্র নির্যাতন এবং কতিপয় ব্যক্তির অনৈতিক কার্যকলাপসংক্রান্ত সংবাদ ও অভিযোগ প্রচারের প্রেক্ষাপটে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর সংশোধন ও কল্যাণই শাসনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তা প্রতিশোধমূলক হওয়া যাবে না। রাগের অবস্থায় শিক্ষার্থীকে শাস্তি না দেওয়ার পাশাপাশি শাসনের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে নম্রভাবে সতর্ক করা, প্রয়োজন হলে মৃদু ভর্ৎসনা এবং এরপর রাগ-ধমকের সুযোগ রাখা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন হলে সর্বশেষ ধাপে অভিভাবককে ডেকে লিখিতভাবে অবহিত করে অভিভাবকসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    তবে কোনো অবস্থাতেই ছাত্র-ছাত্রীকে শাস্তিস্বরূপ প্রহার করা যাবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। লাঠি, বেত বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা, মুখমণ্ডল, মাথা বা স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত করা এবং হাড় ভাঙা, রক্তপাত বা দাগ সৃষ্টি হয় এমন যেকোনো শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ, তিরস্কার, কটু ভাষা বা ঘৃণাসূচক উপনামে সম্বোধনসহ যেকোনো ধরনের মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণ পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে শরিয়ত ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।আল-হাইআতুল উলয়া বলেছে, কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে অপরাধ বা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়াই তাদের নীতি। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে সমগ্র কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ব্যক্তিবিশেষের অপরাধের দায় মাদ্রাসা, বোর্ড বা সামগ্রিক আলেম-উলামা ও ছাত্রসমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয় বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    সাত দিনের মধ্যে তদন্ত

    প্রতিটি মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদাচরণ, নির্যাতন বা হয়রানির অভিযোগ কমিটির কাছে জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    অভিযোগ পাওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

    কোনো মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি না থাকা, নিষ্ক্রিয় থাকা বা অভিযোগ পাওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার ইলহাক স্থগিত বা বাতিলের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    ইসলাহী কার্যক্রম ও অভিভাবক সমাবেশ

    নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইসলাহী মজলিস আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক তারবিয়াতি মজলিসের ব্যবস্থা এবং অভিভাবক-সমাবেশের আয়োজন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অভিভাবকদের সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ ও আস্থার সম্পর্ক জোরদার করা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষের নজরে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মনিটরিং সেল ও হটলাইন

    মাদ্রাসার কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি বোর্ডকে পৃথক মাদ্রাসা মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণে পৃথক হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর বোর্ড, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সুরক্ষা কমিটিকে সমন্বিতভাবে তাৎক্ষণিক নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর চরিত্র ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়েও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে মিথ্যা অপবাদ, ভিত্তিহীন সংবাদ বা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার নিরপরাধ শিক্ষক, শিক্ষিকা, মুহতামিম বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বোর্ডগুলোর আইনজীবী প্যানেলের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আল-হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বর ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ (হোয়াটসঅ্যাপ)-এ যোগাযোগ করা যাবে বলে নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।

    আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোকে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ৬৯তম সভা এবং এর আগে ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট সাবকমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দেশনাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি তৈরির ক্ষেত্রে হাকিমুল উম্মত খ্যাত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভীসহ উলামায়ে দেওবন্দের তা‘লিম-তারবিয়তসংক্রান্ত রচনাবলি এবং প্রসিদ্ধ দীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ফতোয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • অপ্রতীম হত্যার নেপথ্যে কী, উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পাঁচ বাহিনী

    অপ্রতীম হত্যার নেপথ্যে কী, উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পাঁচ বাহিনী

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নানা বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকার মাদক সিন্ডিকেট এবং কিশোর গ্যাং জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন ছিনতাই এবং অপ্রীতমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এতে জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

    এদিকে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, এসআরবি।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী এবং একমাত্র সন্তান অপ্রীতমকে নিয়ে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে একমাসের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    স্থানীয়রা জানায়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে মাদক সেবনরত অবস্থায় সালমানপুর এলাকার ৮জন কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেন। সে সময় সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী মিলন এবং আল আমিনের নাম উঠে আসে।

    ওই ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং এবং মাদক চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া অপ্রীতমের হাতের মূল্যবান আইফোন ছিনতাইসহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য জড়িত রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার প্রথমে ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে তুহিন নামের এক কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় আনাছ নামের অপর কিশোরসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিল বলে জানা যায়।

    সূত্র জানায়, সেখানে কিশোর গ্যাং এর একটি চক্র আগে থেকেই ওতপেতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে শ্বাসরুদ্ধ এবং মারধর করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তার আইফোন এবং মানিব্যাগ লুটে নেওয়া হয়। পরে ঘাতকরা পাহাড়ের ডালে তার লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

    শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক’-এর পেছনের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

    এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কুবি ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। নিহতের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

    এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার।

    নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতীমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।

    নিহত অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, কী কারণে আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হলো আমি জানি না। আমি ঘাতকদের বিচার চাই।

    কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত সন্দেহে একাধিক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে।

    তিনি বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। এ হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডটির পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

    সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশের হেফাজতে আছে। তবে তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাবে না। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    অপ্রতীমের লাশের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, আমরা বাঁশ কাটার জন্য এখানে এসেছিলাম। হাতে ঘড়ি বা সঙ্গে মোবাইল ছিল না। সময়টা আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা হবে। আমাকে ছেলে বলছিল ওখানে কেউ ঘুমায়। ভালোভাবে খেয়াল করে দেখি ওর মাথায় জখম আছে। ভয় পেয়ে যাই। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর দেই।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে আর জীবিত পেলাম না। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

  • খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় মো. আজমুল হোসেন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চার তলা ভবনের ছাদে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

    পরবর্তীতে গুরতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত আজমুল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিল।

    তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন আজমল তার বাবাকে জানায় যে, তিনি সেখানে থাকে এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছে। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না। এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়।

    এদিকে মারধর শেষে নিহত আজমলের বাবার কাছে ফোন দিয়ে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

    নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন বলেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায় এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি ঠিক আছে তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের পর ফোন দেই, কিন্তু ফোন ধরে না, পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়।

    হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে।

    হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চুয়েটের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২৩ জানুয়ারি

    চুয়েটের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২৩ জানুয়ারি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের লেভেল–১ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চুয়েট স্নাতক ভর্তি কমিটির সভাপতি ও তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তবে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, আসনসংখ্যা ও অন্যান্য বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

    চুয়েটে লেভেল–১ স্নাতক পর্যায়ে বর্তমানে ১২টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। বিভাগগুলো হলো—পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিকস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, পানি সম্পদ কৌশল, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা এবং স্থাপত্য।

    ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে চুয়েটের চারটি অনুষদের অধীনে ১২টি বিভাগে নিয়মিত আসন ছিল ৯২০টি। এর বাইরে রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য একটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১০টিসহ মোট ১১টি সংরক্ষিত আসন ছিল। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় মোট আসন দাঁড়ায় ৯৩১টি।

  • জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি

    জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি

    সবার আগে বাংলাদেশ, শ্রমজীবী মানুষের বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ, নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংলাপে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ‘সরকার কি প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের বর্তমান স্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছে, কিন্তু পাস করতে পারছে, অন্যদিকে দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেখানে ছাত্র খুঁজে পাচ্ছে না। আবার সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষক হতে চাচ্ছেন না। এই তিনটি বড় বড় সমস্যা আমাদের পীড়িত করছে। এটার সমাধান দরকার।

    তিনি বলেন, সবার আগে যদি বাংলাদেশ বলি, তাহলে সবার আগে মানসম্মত শিক্ষার বাংলাদেশ হতে হবে। যারা বলেন শ্রমজীবী মানুষের উত্থান চাই, সেই উত্থান হতে হবে তাদের সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে। শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের, পিছিয়ে পড়া মানুষের সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে। উপযুক্ত শিক্ষার জায়গা দিতে হবে। যারা বলেন একটা নতুন বন্দোবস্ত করবেন, সেই নতুন বন্দোবস্ত হতে হবে শিক্ষার অধিকারকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। আর যারা বলেন ইনসাফ চাই, শিক্ষা থেকে বঞ্চনার চেয়ে বড় বেইনসাফি আর কিছু হতে পারে না।

    সিপিডির নব নিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, জেন্ডার ইনডেক্স অনুযায়ী বাংলাদেশে শিক্ষার সুযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়লেও, নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের স্কোর আশানুরূপ নয়। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের সমতা নিশ্চিত হলেও, ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান ও জীবনদক্ষতা কেবল স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; জিপিএ-নির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জীবনদক্ষতা (যেমন: বিতর্ক ও খেলাধুলা) অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে অভিভাবকদের বের হয়ে আসা জরুরি, কারণ জিপিএ-৫ সন্তানের মেধা বা যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেয় না। সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলামের উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

    সিপিডির প্রতিবেদন বলছে, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি, বিদ্যালয়ের সুবিধা এবং ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে সাফল্য দেখা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসে এই সাফল্য স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যা বা কোভিডের মতো বড় ধাক্কায় শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুরতা প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমানে দেশের শিক্ষা খাতের প্রধান সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে শিক্ষার বিভিন্ন ধারার মধ্যকার বিভাজন, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সনদের মান সমান না থাকায় শিখনফল ও শিক্ষার গুণগত সুযোগে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ২০০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে গবেষকদল মূলত তিনটি প্রধান দিক নজরদারিতে রেখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ইশতেহারের বাইরে গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনা এবং বাজেটে এসব রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঠিক প্রতিফলন ঘটেছে কি না তা পরীক্ষা করা।সিপিডি মনে করে, শিক্ষায় কেবল প্রাথমিক প্রবেশগম্যতা বাড়ালেই চলবে না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য দূর করা এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক ঘোষণা বা সাধারণ বাজেট বরাদ্দেই শিক্ষার সার্বিক পরিবর্তন আসবে না। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি তা যথাযথভাবে ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ঘোষিত নীতিগুলোকে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • নবম পে-স্কেল: এমপিও শিক্ষকদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন শিগগিরই

    নবম পে-স্কেল: এমপিও শিক্ষকদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন শিগগিরই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় সরকারি শিক্ষকরা নতুন বেতন কাঠামোর সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন। অর্থাৎ আজ প্রকাশিত গেজেটি সরকারি শিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। অপরদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

    আজ শনিবার নবম পে-স্কেলের জারি করা গেজেটে এসব বিষয় উঠে এসেছে। গেজেটের গায়ে ১৭ সেপ্টেম্বর লেখা থাকলেও আজ শনিবার বিকেলে এটি হাতে পাওয়া গেছে।

    আজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ইতোমধ্যে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ গেজেট জারি হয়েছে।

    প্রকশিত গেজেটে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কার্যকর করা হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

    এরপর ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোর পরবর্তী ধাপ কার্যকর হবে। এ সময়ে নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে বেতন পাবেন।

    ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বেতন বৃদ্ধির পুরো অংশ বা শতভাগ কার্যকর হবে। যেহেতু নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই তারিখ থেকে প্রাপ্য বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থও পাবেন।প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর অন্যান্য সব ধরনের ভাতা পাওয়া শুরু করবেন। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় যাবতীয় সুবিধা পাবেন।নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।

  • বিএনপি নারীর শিক্ষা-ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী

    বিএনপি নারীর শিক্ষা-ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিএনপি গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধু পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সমাজ ও রাষ্ট্রও এর সুফল পায়।

    নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি পরিবারকে যেমন এগিয়ে নেওয়া যায়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    তিনি বলেন, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

    আরও পড়ুন: এক গুদামে আগুন লেগে পুড়ল আরও ১২ গোডাউন

    শিক্ষাকে উপেক্ষা করা হলে কোনো জাতিই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না। অথচ গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে।

    রিজভী বলেন, একটা সময় শিক্ষার গুরুত্বকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুন: পাংশায় দেয়াল ধসে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

    এর প্রভাব পড়েছে পুরো জাতির ওপরও।

    রিজভী অভিযোগ করেন, অনেক সময় প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ক্ষমতাশালী জায়গা থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। ‘আমাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কোনো জাতি শিক্ষার যথাযথ সুযোগ ও প্রণোদনা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য বিনিয়োগ ও প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

    অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ ও কনসার্ট অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অফিশিয়াল প্যাডে এ শোকজ দেওয়া হয়।

    শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন- জবি শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।

    নোটিশে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে ওই দুই নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দিয়েছেন।উল্লেখ্য, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জবি শাখা ছাত্রদল আয়োজিত কনসার্ট অনুষ্ঠান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এক গ্রুপের কর্মীর সঙ্গে অন্য গ্রুপের এক কর্মীর কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে।

    তবে জবি শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ও সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

  • জিপিএ-৫ পেয়েও ভর্তির জন্য কলেজ পায়নি ২২০৫ শিক্ষার্থী

    জিপিএ-৫ পেয়েও ভর্তির জন্য কলেজ পায়নি ২২০৫ শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে আবেদন করেও ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়নি। সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেও কেন তারা কলেজে আসন বরাদ্দ পেল না এবং তাদের ভর্তিপ্রক্রিয়া কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    একাদশে ভর্তির জন্য এসএসসি পাশ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। সেখানে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে চয়েজ বা পছন্দক্রম দিতে পারে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে এসএসসির ফল বিবেচনায় নিয়ে তাদের কলেজ মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    উদাহরণস্বরূপ: কোনো শিক্ষার্থী যদি তার পছন্দের তালিকায় ১ নম্বরে রাখে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তাহলে ওই কলেজে কতসংখ্যক আসন ফাঁকা রয়েছে এবং শিক্ষার্থীর ফলাফল অনুযায়ী অন্যদের চেয়ে তার অবস্থান কী, তা বিবেচনা করা হয়। যদি তার চেয়েও ভালো ফল বা বেশি নম্বর থাকা শিক্ষার্থীরা ভিকারুননিসা কলেজ পছন্দক্রমে দেয়, তাহলে তাকে ওই কলেজ বরাদ্দ দেওয়া হয় না। তার পছন্দক্রম ২ নম্বরে কোন কলেজ তা বিবেচনা করা হয়। এভাবে একের পর এক পছন্দক্রম বিবেচনায় নিয়ে এবং এসএসসির ফল বিশ্লেষণ করে একজন শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    ভর্তি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় তারা শুধু ভালো ২-৩টি কলেজ পছন্দক্রমে দেন। সেই কলেজগুলোতে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে দেখা যায়, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাড়া কেউ সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকছে না। এমনকি জিপিএ-৫ পেলেও নম্বর কম-বেশির কারণে কেউ পছন্দের কলেজ পায়, আবার কেউ পায় না। ঠিক এ কারণেই ২ হাজার ২০৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজ পায়নি।

    শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থীরাও ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে আবেদনের সময় তারা কম কলেজে চয়েজ (পছন্দক্রম) দেওয়ায় এ সমস্যায় পড়েছে। পরবর্তীতে আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাদের পছন্দের কলেজে অথবা নতুন করে পছন্দক্রম নিয়ে তাদের জন্য আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।

    প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, প্রথম ধাপে মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী এবার কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পাননি। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু হয়। আবেদনগ্রহণ শেষ হয় ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ দিতে পেরেছেন। এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন।

    ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওইদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ক্লাস শুরুর তারিখ একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়।

  • জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩

    জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত কনসার্টে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত রয়েছে। তাদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে জবি শাখা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দারের অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন-গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ মিথিল, কেমিস্ট্রি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাওন ও মনির। আহত তিনজনই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন বলেন, ‘তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত ছিল। একজনকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ’

    এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাতাহাতি হয়েছে। এটা আমরা মিটমাট করে ফেলেছি। ’

    তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রথম শুনলাম। বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেব। ’

  • ১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের যোগদানে সুখবর

    ১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের যোগদানে সুখবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানোর আদেশ অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যেই তাদের যোগদান করানোর পথে আর কোনো বাধা থাকলো না। পাশাপাশি যোগদানের পরপরই তাদের পদায়ন নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দুজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকদের যোগদানপত্র স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর বিষয়টির প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার এতে সই করেন। মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ অধিদপ্তরে এলে আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশনা দেবো। ’

    তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করি, ১ অক্টোবরের মধ্যেই সব সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক যোগদানপত্র হাতে পাবেন। এরপর তাদের পদায়ন করা হবে।

    এদিকে যোগদানের পর সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে।

    তবে তারা পদায়ন পেলেও ক্লাসে অংশ নেবেন না। নতুন এসব সহকারী শিক্ষক যোগদানের পর প্রশিক্ষণে যাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

    প্রশিক্ষণের আগে নতুন শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত। দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। এর আগে তাদের ক্লাসে পাঠানো হবে না, এটা উচিতও হবে না।

    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ পরীক্ষা কিছুটা তড়িঘড়ি করে নেওয়া হয়। বিএনপি সরকার এসে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনেক ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানে এ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাড়াহুড়ো নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

    পরে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান করানোর শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণে পাস করার কথাও বলেন মন্ত্রী। তবে এখন সেই কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের মূল্যায়ন থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করা নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, ‘প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হতে পারলে কারও নিয়োগ বাতিল হবে বলে আমি মনে করি না। তবে এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করা হবে কি না, তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। ’

    গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

    লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ১ অক্টোবরের মধ্যেই যোগদান ও পদায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

  • ঢাবিতে পরীক্ষায় অসদুপায়ের দায়ে ৬৪ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

    ঢাবিতে পরীক্ষায় অসদুপায়ের দায়ে ৬৪ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে ৬৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তালিকায় এসব শিক্ষার্থীর নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, সেশন, রোল, বিভাগ, হল এবং শাস্তির ধরন উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার ৩১ আগস্টের আদেশ এবং ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তালিকায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পেশাগত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

    তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও শাস্তির ধরন হলো-

    ১. কায়সুফুন নেছা — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপ্রবণতা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল — পরীক্ষা+২।

    ২. ফাহমিদ তাওসিফ ইসলাম — রোবোটিকস ও মেকাট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগ, ফজলুল হক মুসলিম হল — পরীক্ষা+২।

    ৩. মো. জায়েদুল আলম আবির — প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগ, ফজলুল হক মুসলিম হল — পরীক্ষা+১।

    ৪. মমি ভট্টাচার্যী — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপ্রবণতা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল — পরীক্ষা+২।

    আরও পড়ুন: চীনের মিসাইলের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র!

    ৫. মো. সাইফুজ্জামান — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপ্রবণতা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল — পরীক্ষা+১।

    ৬. সোহাগী আক্তার — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+১।

    ৭. নিপু আক্তার — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+২।

    ৮. সুফিয়া খাতুন — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+৩।

    আরও পড়ুন: ম্যাচ চলাকালে মাঠে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু পর্তুগিজ ফুটবলারের

    ৯. নিপু রাণী বাড়ৈ — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+২।

    ১০. আশরাফুল ইসলাম — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+১।

    ১১. ফারহানা আক্তার মিমি — বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+১।

    ১২. সৈয়দ শাফকাত জামিল — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, অমর একুশে হল — পরীক্ষা+১।

    ১৩. মো. জুনায়েদ খান রায়ান — ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগ, ফজলুল হক মুসলিম হল — পরীক্ষা+১।

    ১৪. মো. আসিফ ইকবাল — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল — পরীক্ষা+২।

    ১৫. আশরাফ হোসাইন — ফার্মেসি বিভাগ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল — পরীক্ষা+১।

    ১৬. তনুশ্রী বিশ্বাস — স্বাস্থ্য প্রযুক্তি (ল্যাবরেটরি) — পরীক্ষা+১।

    ১৭. সুমাইয়া কুইশে — স্বাস্থ্য প্রযুক্তি (ল্যাবরেটরি) — পরীক্ষা+২।

    ১৮. গোবিন্দ বণিক — স্বাস্থ্য প্রযুক্তি (ল্যাবরেটরি) — পরীক্ষা+২।

    ১৯. আবু জুবায়ের — স্বাস্থ্য প্রযুক্তি (ল্যাবরেটরি) — পরীক্ষা+২। ২০. সাব্বির উদ্দিন রিয়ন — আরবি বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+৩।

    ২১. মো. হায়াত মাহমুদ — ইংরেজি বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+১।

    ২২. মো. মিরাজ হোসাইন — সংস্কৃত বিভাগ, বিজয় একাত্তর হল — পরীক্ষা+২।

    ২৩. শিফুর রহমান — অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল — পরীক্ষা+২।

    ২৪. উর্মে আতিয়া — অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল — পরীক্ষা+২।

    ২৫. মো. ফারদাউস — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+১। ২৬. আতিক হাসান — নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল — পরীক্ষা+১।

    ২৭. অর্জ্য ব্যানার্জী — নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ হল — পরীক্ষা+১।

    ২৮. ফারিহা মেহজাবীন — নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, রোকেয়া হল — পরীক্ষা+২।

    ২৯. মাহমুদুল হাসান — নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল — পরীক্ষা+১।

    ৩০. ফাতহুন কারিব চৌধুরী — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল — পরীক্ষা+২।

    ৩১. মালিহা তাবাসসুম — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, শামসুন নাহার হল — পরীক্ষা+১। ৩২. নুরুল আবসার সম্রাট — এমবিবিএস — পরীক্ষা+২। ৩৩. ফারহান আহমেদ — এমবিবিএস — পরীক্ষা+২।

    ৩৪. ইত্তাবা মুত্তাকি খান টকি — এমবিবিএস — পরীক্ষা+২।

    ৩৫. জারগার ফয়সাল আলতাফ — এমবিবিএস — পরীক্ষা+১।

    ৩৬. মো. কিরণ হোসেন — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+২।

    ৩৭. সাদিয়া আক্তার — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+১।

    ৩৮. রাকিবুল ইসলাম — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৩৯. মো. তামজিদ — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪০. মো. মাহাদি হাসান — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ — পরীক্ষা+১।

    ৪১. রাজ তালুকদার জয় — দর্শন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪২. নাবিল আহমেদ রুদ্র — দর্শন বিভাগ — পরীক্ষা+৩। ৪৩. কানিজ ফাতেমা পুষ্প — সমাজকর্ম বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৪. মো. তামজিদ — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৫. মো. সাব্বির হোসান — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৬. রাকিবুল ইসলাম — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৭. মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন — পরিসংখ্যান বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৮. সৈয়দা শামীরা তাবাসসুম — ইতিহাস বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৯. মো. সোহেল রানা — ইংরেজি বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৫০. মো. মাহমুদ নূর মারুফ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+১।

    ৫১. সামিরা সুলতানা — আইন বিভাগ, রোকেয়া হল — পরীক্ষা+২।৫২. মো. মেহেদী হাসান — আইন বিভাগ, স্যার এ এফ রহমান হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৩. তাসনিম আজাদ তোহা — আইন বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল — পরীক্ষা+১।

    ৫৪. রফিকুল ইসলাম — আরবি বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৫. আকলিমা আক্তার — আরবি বিভাগ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৬. কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম — আরবি বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৭. মো. শাকিবুল ইসলাম — আরবি বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৮. আল জুবায়ের — আরবি বিভাগ, স্যার এ এফ রহমান হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৯. মো. জাহিদুল ইসলাম — আরবি বিভাগ, কবি জসীমউদ্দীন হল — পরীক্ষা+২। ৬০. আয়ান আবদুল্লাহ — অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ, সূর্যসেন হল — পরীক্ষা+১।

    ৬১. মুকিদুন্নেসা — মাস্টার অব সায়েন্স ইন নার্সিং — পরীক্ষা+২।

    ৬২. মো. মাসুম বিল্লাহ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+২।

    ৬৩. মো. শোহাগ মিয়া — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+২।

    ৬৪. সজীব মল্লিক — এমবিবিএস — পরীক্ষা+৩।

    পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা+১ বলতে যে পরীক্ষায় অপরাধ করেছে সেটি বাতিলসহ পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, পরীক্ষা+২ বলতে পরবর্তী দুটি এবং পরীক্ষা+৩ বলতে পরবর্তী তিনটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বোঝানো হয়েছে।

    শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে শাস্তি কমানোর আবেদন করতে পারবেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

  • শাপলা গণহত্যার ছবি সংগ্রহশালায়, ডাকসু নেতাদের প্রশংসা

    শাপলা গণহত্যার ছবি সংগ্রহশালায়, ডাকসু নেতাদের প্রশংসা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে পরিচালিত গণহত্যা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—বাংলাদেশের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলো স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায়। সংগ্রহশালায় শাপলা চত্বরে পরিচালিত নির্মম নির্যাতন এবং ছাত্রদের প্রতিরোধের ছবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ডাকসুর এই সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের কওমি অঙ্গনের আলেম সমাজ।২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমবেত আলেম, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো বর্বর দমনপীড়নই মূলত পরবর্তী ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিরোধের ভিত গড়ে দিয়েছিল। শাপলা চত্বরের সেই আত্মত্যাগ ও ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলন রূপ নেয় সর্বাত্মক ফ্যাসিবাদবিরোধী এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পতন ঘটে কর্তৃত্ববাদী শাসনের।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের শাপলা গণহত্যায় অন্তত ৬১ জন শহীদ ও নিখোঁজ হন। আর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শক্তির বুলেটে প্রাণ হারান এক হাজার চার শতাধিক মানুষ।

    আলেম নেতারা জানান, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা থেকেই। ডাকসুর সংগ্রহশালায় শাপলা চত্বরের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষিত হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম জাতীয় ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায় ও ত্যাগের প্রকৃত সত্য জানতে পারবে। একই সঙ্গে কেবল ছবির প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় ইতিহাস ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম-ওলামাদের ত্যাগ ও অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মূল্যায়ন করারও আহ্বান জানান তারা।ডাকসু নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় ডাকসুর নেতারা রেখেছেন। আমরা এটাকে সাধুবাদ জানাই। কারণ, ২০১৩ সালে হেফাজতের ওপর যে ম্যাসাকার হয়েছে, এই ইতিহাস বাংলাদেশের সব মানুষের জানার প্রয়োজন আছে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই একসময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন। আমি মনে করি, যারা এই সংগ্রহশালায় এগুলো রেখেছে, তারা খুবই ভালো কাজ করেছে। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

    ডাকসুর সংগ্রহশালায় শাপলা গণ-আন্দোলনের স্মৃতিস্মারক যুক্ত করা বাংলাদেশের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গভাবে দেখার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শাপলা সেকশনের গবেষক মুহিম মাহফুজ। তিনি বলেন, এজন্য আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, আমি শাপলাকে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনের প্রথম পর্ব এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখি। ২০১৩ সালে শাপলা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটেছিল, তার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম এগিয়েছে এবং চূড়ান্তভাবে ৩৬ জুলাই স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে তা সফল পরিণতি লাভ করেছে।

    তিনি আরও বলেন, তাই শাপলার ইতিহাস ছাড়া জুলাইয়ের ইতিহাস পূর্ণতা পাবে না। শাপলাকে ইতিহাসের যথাযথ জায়গায় স্থান দেওয়া মানে মহান জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক পটভূমি বুঝতে নতুন প্রজন্মকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেওয়া। আমি আশা করব, পরবর্তী ডাকসু নেতারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং আরও সমৃদ্ধ করতে উদ্যোগী হবে।ডাকসুর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে আলেম সমাজের অবদান এবং ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাবলির আলোকচিত্র সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এ উদ্যোগের জন্য ডাকসু কর্তৃপক্ষকে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি।তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের সেই রাত বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর অধ্যায়। ডাকসুর সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত আলোকচিত্রগুলো সেই রাতের সংঘাত, আহত মানুষের অসহায়ত্ব এবং ঘটনাস্থলের ভয়াবহ পরিস্থিতির স্মৃতি সামনে এনেছে। শাপলা চত্বরের সেই রাতের ঘটনাবলি নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস হিসেবে তুলে ধরতে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

    শাপলা স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামাল উদ্দিন বলেন, ডাকসু তাদের সংগ্রহশালায় ২০১৩ সালের শাপলা গণহত্যার আলোকচিত্র প্রদর্শন করায় শাপলা স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে আমরা ডাকসুকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে শাপলা স্মৃতি সংসদ প্রকাশিত ‘শহীদনামা’ এই সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করায় আমরা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, শাপলা গণহত্যার স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণে ডাকসু আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, প্রদর্শনী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করবে। শাপলাকে ঘিরে ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

    জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী বলেন, ২০১৩ সালের হেফাজতের আন্দোলন ছিল ঐতিহাসিক আন্দোলন। দেশ, দেশের মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ, দেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও তাহজিব-তামাদ্দুনের হেফাজতের জন্য এটা ছিল এক গণআন্দোলন। এটা ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং নাস্তিক্যবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে। মৌলিকভাবে এই আন্দোলন দেশ এবং জাতির সুরক্ষার জন্যই ছিল। সুতরাং এটাকে অবশ্যই দেশের ইতিহাসের একটা বড় অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা জরুরি।

    ডাকসু কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি ডাকসু কর্তৃপক্ষ সেটা করেছে। তা করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা আশা করি, আগামী দিনে শুধু সংগ্রহে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশ গঠনে যখনই সুযোগ আসবে, তখন হেফাজতের এই ভূমিকাকে স্মরণ করে সংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন করবে। দেশ গঠনে হেফাজতের যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হবে—এই প্রত্যাশাটুকু আমরা রাখি। ডাকসু কর্তৃপক্ষকে আমরা অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই তাদের এই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য।

    জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী বলেছেন, ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম তৌহিদী জনতার একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। হেফাজতে ইসলাম সবসময় ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করে আসছে। ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ইতিহাসসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস রচনা করতে গেলে হেফাজতে ইসলামকে বাদ দিয়ে ইতিহাস রচনার কোনো সুযোগ নেই।’

    মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী আরও বলেন, ‘যারা হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা মূল্যায়ন করবেন, আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে হেফাজতে ইসলাম সবসময়ই দেশের জন্য, ইসলামের জন্য কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’

  • ভাঙারির দোকানে ১ টন সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক

    ভাঙারির দোকানে ১ টন সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত প্রায় এক টন (১ হাজার কেজি) সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এ সময় বই পাচারের অভিযোগে ইব্রাহিম হোসেন নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

    জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে নবম ও দশম শ্রেণির এসব বই উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিনামূল্যে বিতরণের এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছে কীভাবে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর বাড়িতে গেল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে অবৈধভাবে এসব বই কিনে পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বইসহ ইব্রাহিমকে আটক করে।

    মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বই পাচারের অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে।

    এদিকে সরকারি অর্থে ছাপানো এই বইগুলো গুদাম থেকে বাইরে যাওয়ার পেছনে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

  • এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে খাতায় লেখানোর অভিযোগ

    এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে খাতায় লেখানোর অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এবারের এইচএসসি পরীক্ষার খাতায় মোবাইল নম্বর লিখে রেখে আসার পর খাতা পুনর্মূল্যায়নের নামে ঘুষ লেনদেনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে। পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেখে পরীক্ষার্থীকে সরাসরি ফোন দিয়ে ডাকেন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষক। এরপর দুই হাজার টাকার বিনিময়ে ওই পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করে দেওয়া হয়। এমন আরো পরীক্ষার্থী জোগাড় করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান ওই পরীক্ষক।

    জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট সকালে রাজশাহী শহরের এক পরীক্ষকের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই ছাত্রের নাম মেহেদী হাসান। সে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী হিসেবে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

    ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মেহেদী হাসান নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সে জানায়, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় কৌশল হিসেবে উত্তরপত্রের ভেতরে নিজের মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে এসেছিল। খাতা দেখার সময় নম্বরটি চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষক তাকে ফোন করে নিজের বাসায় ডেকে পাঠান।

    সেখানে যাওয়ার পর পরীক্ষক তাকে জানান, সে পরীক্ষায় মাত্র ২৫ নম্বর পেয়েছে। পাস করিয়ে দেওয়া এবং নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরীক্ষকের হাতে দুই হাজার টাকা দেয় মেহেদী। টাকা পাওয়ার পর পরীক্ষক তাকে খাতায় লেখার সুযোগ করে দেন। লেখা শেষ হলে মেহেদীর প্রাপ্ত নম্বর ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ নম্বর হিসেবে খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়।

    পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান সেদিন রুহুল আমিন নামের অপর এক বন্ধুকে নিয়ে ওই পরীক্ষকের বাসায় গেলেও তার পরিচয় জানাতে পারেনি। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এই পরীক্ষক সেকেন্দার আলী। তিনি রাজশাহী নগরের হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক। মেহেদীর সঙ্গে এই প্রভাষকের কথোপকথনের রেকর্ড শুনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল নিশ্চিত করেছেন, এটাই প্রভাষক সেকেন্দার আলী।

    দেখা করার আগে ওই পরীক্ষকের সঙ্গে মেহেদীর মোবাইলে কথা হয়। এতে শোনা যায়, সেকেন্দার আলী টাকা নিয়ে মেহেদীকে ডাকেন। বিষয়টি অভিভাবকদের জানাতেও নিষেধ করেন। মেহেদী বলেন, টাকা নিতে হলে তো অভিভাবককে জানাতে হবে। পরীক্ষক তখন বলেন, একজন ভিক্ষুকের কাছেও ২-১০-২০ হাজার টাকা থাকে। জবাবে মেহেদী বলেন, পরীক্ষক বলতে থাকেন, ‘না না ঠিক আছে। আরও ক্যান্ডিডেটদের নিয়ে আসো।’

    গত ১৪ আগস্ট সকালেই মেহেদী, ইমন আলী, সৌরভ, রুহুল, সোহাগ ও সামিসহ ছয়জন যায় রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে। কিছুক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে আসেন পরীক্ষক। এরপর সেই পরীক্ষকের বাড়ি যায় তারা। তারপর বের করে দেন খাতা। মেহেদীর মোবাইল নম্বর লেখা খাতাটি সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ অন্য সহপাঠীদেরও খাতা পাওয়া যায়নি।

    ১৪ আগস্ট দুপুরেই মেহেদীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সে জানায়, মোটরসাইকেলে প্রায় ১০ মিনিটে পরীক্ষকের বাড়িতে পৌঁছায়। কিন্তু জায়গাটা চেনে না। খাতায় লেখা শেষে পরীক্ষক নিজেই তাদের বিনোদপুরে রেখে যান।

    মেহেদী জানায়, পরীক্ষক তাদের নাম জানাননি। বরং তার মোবাইল নিয়ে নিজের নম্বরটি ডিলিট করে দেন। মেহেদী বলেন, ‘খাতায় ২৫ মার্কস ছিল। স্যার ২ হাজার টাকা নিয়েছেন। খাতায় লিখতে দিলেন। যেগুলো ভুল লিখেছিলাম সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। আর যেটা লিখিনি, সেটা ফাঁকা জায়গায় লিখে দিয়েছি।’ এখন কত নম্বর হয়েছে জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, ‘৫০ প্লাস হবে।’

    পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ১৪ আগস্ট পরীক্ষক যে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। রফিকুল ইসলাম সেন্টু চালিত মোটর সাইকেলটির মালিক তিনিই এবং সেন্টু ওই প্রভাষকের আত্মীয়। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলার কাকালকাটি গ্রামে। ৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনেই ওই মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। ওই এলাকার এক ব্যক্তিকে ছবি দেখাতেই তিনি প্রভাষক সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। তাঁর বাড়ি বেলঘরিয়া গ্রামে।

    তবে, সেকেন্দার আলীকে জানতে চাইলে পরীক্ষার্থীকে বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে লেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।

    হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল বলেন, অনেক আগে থেকে তাঁর কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলী এইচএসসির খাতা দেখেন। শিক্ষা বোর্ড যদি কোনো পদক্ষেপ নিতে বলে, তাহলে তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

    রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, ‘এমন হলে তো খুবই ভয়াবহ ঘটনা। কোনোভাবেই বরদাশত করব না।’

  • এনটিআরসিএ‘র শিক্ষক পদে রি-সুপারিশের ফল প্রকাশ

    এনটিআরসিএ‘র শিক্ষক পদে রি-সুপারিশের ফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ষষ্ঠ ও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত রি-সুপারিশের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনটিআরসিএ এই তথ্য জানায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ষষ্ঠ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি-২০২৫ এবং সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬-এর আওতায় মোট ১৯৫ জন সুপারিশকৃত প্রার্থীকে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পুনর্নির্ধারিত প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ইতোমধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রার্থীরা এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ntrca.gov.bd) কিংবা নির্ধারিত লিংকে (http://ngi.teletalk.com.bd) ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিজেদের নতুন নিয়োগ সুপারিশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।

    অন্যদিকে, ষষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতাভুক্ত প্রার্থীরা নিজস্ব ই-মেইল থেকে এই চিঠি ডাউনলোড করতে পারবেন। একইভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরাও ওয়েবসাইটে নিজ নিজ আইডি দিয়ে কিংবা প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল থেকে নতুন শিক্ষকদের সুপারিশপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রার্থীদের উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে এনটিআরসিএ।

    তবে এই পুনর্নির্ধারিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে জয়েনিং স্ট্যাটাস পূরণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

  • প্রস্তুতি ছাড়াই ৯ বিশ্ববিদ্যালয়, এখন সচল করাই চ্যালেঞ্জ

    প্রস্তুতি ছাড়াই ৯ বিশ্ববিদ্যালয়, এখন সচল করাই চ্যালেঞ্জ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সংকটের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পতিত আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৩ সালে অনুমোদিত আট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও অর্থায়ন ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটিতে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি; আবার কোনোটিতে ভাড়া ভবনে চলছে সীমিত পরিসরের কার্যক্রম। ফলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সচল করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এরই মধ্যে বেসরকারি সহযোগিতা ও সীমিত সরকারি উদ্যোগে ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাত সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিরও একাডেমিক কার্যক্রম চলতি বছর শুরু হয়েছে। অন্যগুলোও প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

    * ২০২৩-এ আটটি ও ২০২৬-এ একটির অনুমোদন

    * ভাড়া বাসায় কার্যক্রম, হচ্ছে সমালোচনা

    দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সংকটের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পতিত আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৩ সালে অনুমোদিত আট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও অর্থায়ন ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটিতে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি; আবার কোনোটিতে ভাড়া ভবনে চলছে সীমিত পরিসরের কার্যক্রম। ফলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সচল করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এরই মধ্যে বেসরকারি সহযোগিতা ও সীমিত সরকারি উদ্যোগে ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাত সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিরও একাডেমিক কার্যক্রম চলতি বছর শুরু হয়েছে। অন্যগুলোও প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

    বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৬২টি। এর মধ্যে ৫৫টির একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৩১টি। কিন্তু ক্ষমতায় এসে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই একের পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে পতিত সরকার। এক পর্যায়ে দেশের সব জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। সে অনুযায়ী ২০২৩ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরো আট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে তৎকালীন সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। চব্বিশের বিপ্লবের পর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর এসে পড়ে।

    নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা সমস্যা ও সংকটের কথা উঠে আসে ইউজিসি আয়োজিত সাম্প্রতিক উপাচার্য সংলাপ অনুষ্ঠানে। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যমান সংকট কাটাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয় আগের সরকারের সময়ে অনুমোদিত হলেও বর্তমান সরকার দায়বদ্ধতার কারণে সেগুলো বন্ধ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা বাজেটে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ বাড়িয়ে সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

    এদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে অন্তত পাঁচটি করে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী। আমার দেশকে তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য দুটি আবাসিক হল এবং লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার এবার শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। আগামীতে আরো বাড়িয়ে তারা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করবেন।

    ড. হাছানাত আলী আরো জানান, বিএনপি সরকারের সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আগে পিডি নিয়োগ করে তারপর চালু করা হতো। কিন্তু পতিত সরকার আগে ভিসি নিয়োগ করে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে শুরুতেই অব্যবস্থাপনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    নাম বদলে নতুন যাত্রা

    ২০২৩ সালে অনুমোদিত আট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটির নামকরণ করা হয়েছিল মুজিব পরিবারের সদস্যদের নামে। জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলোর নাম পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামে নামকরণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

    সূত্রমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে কয়েকটিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা উপদেষ্টার পক্ষ থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সেগুলোতেও নতুন শিক্ষক-কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি স্থগিত রাখতে উৎসাহিত করা হয়। মূলত বাজেট সংকটসহ নানা কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন। ফলে এগুলো স্থবির হয়ে ছিল। তবে পরে সে অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎপরতা শুরু হয়। সে অনুযায়ী একটিতে একাডেমিক কার্যক্রম চালু ও আরো কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন আছে।

    ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মহিবুল আহসান আমার দেশকে জানান, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুধু নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

    ভাড়া বাড়িতে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়

    আইন পাসের প্রায় তিন বছর পর গত ১৮ জুলাই ভাড়া বাড়ির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে দুটি বিভাগে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। আইন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শুরু হওয়া প্রথম ব্যাচের ক্লাসের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

    এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম নেই। সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করলে মানসম্মত প্রতিষ্ঠান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এই উপাচার্য জানান, বেসরকারি সহযোগিতায় ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম, ওয়াই-ফাই ও ডিজিটাল লাইব্রেরির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দুটি বিভাগে ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়টি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দের কারণে পাবলিক ও প্রাইভেট উদ্যোগের নতুন ডাইমেনশন শুরু করা হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এতে ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া ত্বরান্বিত হবে।

    বহু আন্দোলন-সংগ্রামেও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি শিক্ষা

    চালুর অপেক্ষায় মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়

    প্রতিষ্ঠার পর ভাড়া বাড়িতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়নি। গত তিন বছরে তেমন কোনো অগ্রগতি ছাড়াই পার হয়েছেন দুই উপাচার্য। সবশেষ প্রায় তিন মাস আগে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন। নানা সংকট নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় একাডেমিক কার্যক্রম চালুর চেষ্টা চালাচ্ছে তার প্রশাসন।

    তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি বাড়ি ভাড়া করে ক্লাসরুম প্রস্তুতের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় কাজ এগোতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দ্রুত জমি অধিগ্রহণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে গতি বাড়বে। তাছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম চালু হলে বইসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছু প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।

    দুই বিভাগে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি

    বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও এগোচ্ছে ধীরে। ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০২৩ সালে আইনটি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বর্তমান সরকার নতুন ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২৬’ পাস করে।

    ২০২৫ সালের ৩ জুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান জানান, নতুন আইনের পর অর্গানোগ্রাম এবং আট ফ্যাকাল্টির অধীনে ১৬টি বিভাগ খোলার প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কম্পিউটার সায়েন্স ও অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ভাড়া ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

    আইন পাস হওয়ার প্রায় চার বছরের মাথায় বর্তমান সরকারের সময় উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। গত ২৫ আগস্ট নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত আমার দেশকে জানান, বাজেট, জনবল ও অস্থায়ী কার্যালয়ের প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরু হবে।

    উপাচার্য বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে চাই। এর জন্য ছয় থেকে আট মাস লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা আগামী জুনে

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে গত ৬ মে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল। সাড়ে আট একর জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা এগোলেও আগামী বছরের জুনের মধ্যে দুটি ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ছয়টি বিভাগ চালুর জন্য ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল আমার দেশকে জানান, বর্তমানে ইউজিসি অনুমোদিত অস্থায়ী কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিকভাবে ১৫ অনুমোদিত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। স্থায়ী ক্যাম্পাসের ৮.৫৫ একর জমিও সরকার অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে কাজের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি, মাস্টারপ্ল্যানসহ প্রজেক্ট তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন।

    আগামী মাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু লবিপ্রবির

    লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গত ৮ জুন উপাচার্য নিয়োগের পর পাঁচতলা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী কার্যালয় তৈরির কাজ চলছে। আগামী বছর একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নির্বাচিত জমি পরিদর্শনে এ মাসেই ইউজিসি প্রতিনিধিদল আসবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে।

    শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

    শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

    অন্যদিকে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো উপাচার্য নিয়োগ হয়নি। গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিগগির নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিও সংকটে

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। নানা প্রক্রিয়ার পর গত ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদে এর অধ্যাদেশ অনুমোদিত হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যাদেশ জারির পর কার্যক্রম শুরু হয় এবং চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার আসনের বিপরীতে ৬১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির আলাদা ক্যাম্পাস হবে এবং সাত কলেজ এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তবে সেই কাঠামো বাস্তবায়নে সময় লাগবে। বর্তমানে বারিধারার একটি ভাড়া ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি অবকাঠামো, শিক্ষক, গবেষণা, আবাসন ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোও পুরোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো নানা সংকটের পুনরাবৃত্তির মুখে পড়তে পারে।

  • প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ভাইভা ১ অক্টোবর

    প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ভাইভা ১ অক্টোবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠান প্রধান-সহকারী প্রধান পরীক্ষার ভাইভা ১ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

    বুধবার এনটিআরসিএ‘র এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬ এর এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে প্রার্থী। আগে দেয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে উল্লিখিত কাগজপত্রের মূলকপি এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ১ সেট ফটোকপি নিয়ে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে (৩৭/৩/এ, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০) নির্ধারিত তারিখ এবং নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।যেসব কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে: শিক্ষাগত যোগ্যতার সমর্থনে সব সনদপত্র (Certificates) ও নম্বরপত্র (Transcripts/Marks Sheets. অভিজ্ঞতার সনদপত্র (সংযুক্ত নমুনা অনুযায়ী)। এমপিওভুক্তি ও এমপিও সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র, সব যোগদানপত্র ও নিয়োগপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনভাইজি), এমসিকিউ পরীক্ষার প্রবেশ পত্র।৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬ এর এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। বিস্তারিত তথ্যের জন্য এনটিআরসিএ-এর ওয়েবসাইট www.ntrca.gov.bd এবং টেলিটকের ওয়েবসাইট http:ontrca.teletalk.com.bd ভিজিট করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।

  • হাজরাখানা স্কুলের ছাদে মাইকের হর্ন, নিচে জেনারেটর, ব্যহত হচ্ছে শ্রেণিকার্যক্রম

    হাজরাখানা স্কুলের ছাদে মাইকের হর্ন, নিচে জেনারেটর, ব্যহত হচ্ছে শ্রেণিকার্যক্রম

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা শুরুর প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনের দেওয়া শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে। মেলা প্রাঙ্গণে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম, বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় রাইডার ও স্টল বসানো এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে মাইকের হর্ণ স্থাপনের কারণে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির শ্রেণিকার্যক্রম। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর মেলার কারণে হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজরাখানা দাখিল মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

    মেলার অনুমতিপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯টি শর্তে ১৫ দিনের জন্য চৌগাছার বলুহ মেলার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। আগামী ১৫ সেপ্টম্বর থেকে ২৯ সেপ্টম্বর পর্যন্ত মেলা চলার কথা রয়েছে। অনুমতিপত্রে শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো স্টল বসানো যাবে না, উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো যাবে না এবং রাত ৮টার পর মেলা বন্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া জুয়া, সার্কাস, লাকি কুপন, পুতুল নাচ, চরকি, র‌্যাফেল ড্রসহ জুয়া ও প্রতারণামূলক কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। মাজার এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না নেওয়ার শর্তও রয়েছে।

    তবে সরেজমিনে গিয়ে এসব শর্তের বেশ কয়েকটি বাস্তবায়ন না হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বসানো হয়েছে কয়েকটি রাইডার। বিদ্যালয়ের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে মাইকের হর্ন। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের পাশেই বসানো হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর। মেলা এলাকায় উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানোর পাশাপাশি লাকি কুপন, লটারি, জুয়া ও সার্কাস চলার অভিযোগও রয়েছে।

    বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, ‘মেলা হোক, কিন্তু স্কুলের কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়। সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা খুব কষ্টকর। বিদ্যুৎ থাকলে সাউন্ড বক্সের উচ্চ শব্দ, আর বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের শব্দে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যায় না।’

    হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘আমাদের কিছু বলার নেই, মেলা চলবেই। প্রতিবছরই মেলার সময় শ্রেণিকার্যক্রম ব্যাহত হয়। জেনারেটরটি একেবারে অফিসের পাশেই বসানো হয়েছে। বিদ্যুৎ থাকলে সাউন্ড বক্সের উচ্চ শব্দ আর না থাকলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরের শব্দে অফিসকক্ষে বসা যায় না’।

    হাজরাখানা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই মেলার সময় শ্রেণিকার্যক্রম ব্যাহত হয়। মেলার ভিড়ের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়। মেলা শেষে শিক্ষার্থীদের আবার নিয়মিত শ্রেণিতে ফিরিয়ে আনতেও অনেক কষ্ট হয়।’

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে স্কুলে গিয়ে দেখি বিভিন্ন গাড়ি পার্কিং করে স্কুল মাঠ ভরে গেছে। চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে স্কুলের জায়গায় কয়েকটি স্টল বসানো হয়েছিল। আমি নিজে সেগুলো সরিয়ে দিয়েছি। মেলা কর্তৃপক্ষকে বলেছি, কোনোভাবেই যেন স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন মেলা চলে। তাঁদের ভাষ্য, আগে সাত দিনের অনুমতি নিয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত মেলা চলার নজির রয়েছে। এবার ১৫ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের পরও মেলা চলবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। মেলার কারণে স্বাভাবিক চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘মেলার শর্ত ভঙ্গ করার কোনো সুযোগ নেই। স্কুল মাঠে বসানো দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্কুল আঙ্গিনায় শব্দ বন্ধ করার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অনুমতিপত্রে উল্লেখিত যেকোনো শর্ত ভঙ্গ করা হলে পুলিশ কঠোর ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষার্থীকে জরিমানা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষার্থীকে জরিমানা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র‍্যাগিংয়ের পৃথক দুই ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান, টার্ম ফাইনাল ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে আজ বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে।

    অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং করেন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং কান ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪ তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) ১৩ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং করা হয় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং বাকি ১১ জন নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

    অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮ এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী তাদের এ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে।

  • ঢাবিতে শিক্ষার্থী নিহত ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

    ঢাবিতে শিক্ষার্থী নিহত ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের পুরোনো দেয়াল অনেক কিছুর সাক্ষী। এই বিশ্ববিদ্যালয় একদিকে যেমন ন্যায়পন্থি বিভিন্ন আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় রয়েছে বিচারহীনতার কালো ইতিহাস। সেই নির্মম বাস্তবতায় আজও বিচারের অপেক্ষায় আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবার ও সহপাঠীরা।

    ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্যার এএফ রহমান হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে নিহত হন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মামলায় অভিযুক্ত দশজনই খালাস পান। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষ সেই খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল পর্যন্ত করেনি মর্মে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস এলাকায় নিহত হলেন, মামলা হলো, বিচার হলো; কিন্তু শেষ পর্যন্ত হত্যাকারী কে, সেটিই প্রমাণ করা গেল না!

    একইভাবে, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য টিএসসির নিকটস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় আজও সুষ্ঠু বিচার পাননি তার পরিবার ও সহপাঠীরা।

    এই যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি—এর নেপথ্যের কারণ কী? একটি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া অপরাধীদের আরেকটা হত্যার পথ সহজ করে দেয়। এরূপ হত্যার শিকার শুধু আবু বকর বা সাম্য নয়, আরো অনেকে হয়েছেন বিভিন্ন সময় এবং তারও অনেক ক্ষেত্রে কোনো বিচার হয়নি। অপরাধীদের কোনো শাস্তি হয়নি। ক্যাম্পাসে ক্ষমতার রাজনীতির অপচর্চা বিচারকে প্রভাবিত করেছে বহুবার। নৈতিক মূল্যবোধ আর সততার শিক্ষা দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব শিক্ষার্থীদেরই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি, এর চেয়ে লজ্জা আর কী হতে পারে?

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু বকর ও সাম্য হত্যার মতো প্রতিটি ঝুলে থাকা হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়। এটি তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা, জবাবদিহির অভাব এবং সর্বোপরি, সময়ের সঙ্গে বিচারপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের স্মৃতি থেকে ঘটনাগুলো হারিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তাই এর প্রতিকারও হতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক, ধারাবাহিক ও দৃশ্যমান মাধ্যমে।

    প্রথমত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব হত্যাকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ নথি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের নিহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ডেটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘আর্কাইভ’ তৈরি করা যেতে পারে। সেখানে শুধু নিহত শিক্ষার্থীর ছবি কিংবা স্মৃতিচারণই থাকবে না; বরং মামলার নম্বর, তদন্তের অবস্থা, চার্জশিট, বিচারিক অগ্রগতি, আসামিদের বর্তমান অবস্থা এবং মামলাটি কোথায় আটকে আছে—এসবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

    দ্বিতীয়ত, বিচার শুধু ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বিচারাধীন প্রতিটি মামলার অগ্রগতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডাকসু, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং প্রয়োজনে আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন সেল গঠন করা যেতে পারে। এই সেল কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না; বরং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে নির্দিষ্ট সময় পরপর তা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সামনে তুলে ধরবে।

    তৃতীয়ত, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যেকোনো মূল্যে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হতে হবে। অপরাধী কোনো দলের, কোনো সংগঠনের কিংবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ—এই পরিচয় যেন তদন্তের গতিপথ নির্ধারণ না করে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যদি একজন অপরাধীকে আইনের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়, তাহলে সেটি আর রাজনীতি থাকে না; সেটি হয়ে যায় শোষণের হাতিয়ার।

    চতুর্থত, বিচারপ্রত্যাশী সচেতন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিচার দাবির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের লেখালেখি, আলাপ, সভা-সেমিনার, পাঠচক্রে নিহতদের বিচার দাবি জীবন্ত রাখতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত এখানেই। একটি হত্যাকাণ্ডের পর আমরা সোচ্চার হই, মিছিল করি, প্রতিবাদ করি। কিন্তু কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছর পর যখন নতুন কোনো ঘটনা সামনে আসে, তখন পুরোনো মামলাটি আমাদের আলোচনার বাইরে চলে যায়। তাছাড়া ঘটনার সময়কার শিক্ষার্থীরা একসময় লেখাপড়া শেষে ক্যাম্পাস ছেড়ে যান এবং ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থীরা আসেন, যারা এ বিষয়ে জানতেও পারেন না। এভাবে বিচারহীনতা দীর্ঘায়িত হয়। নিহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করা শিক্ষার্থী, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সবারই দায়িত্ব।পাশাপাশি, নতুন করে যাতে আর কোনো হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। টিএসসি, কার্জন হল এলাকাসহ ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল ও আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে ক্যাম্পাস এলাকা সুরক্ষিত রাখতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী অপরাধ ঘটিয়ে সটকে পড়ার সুযোগ না পায়!

  • পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা

    পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা

    শিক্ষা ও সাহিত্য ডেস্ক:

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সেই সঙ্গে তার তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

    এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, “আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।”

    শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে, যা মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে একটি বড় মাইলফলক।

    এ বিষয়ে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বাসসকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধের ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বাসসকে বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫ মার্চের

    গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তূর্যধ্বনির মতো’।

    এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

    কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।

    প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূল কথায় যা আছেÑ

    মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো… ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো, যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’চট্টগ্রামে পকিস্তানি বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন এবং ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১ মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে… ১৩ মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন… এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস… দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সেই রাত। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌবাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য…’

    নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লেখেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল… ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চ স্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’

    জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে… ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে এলাম। লে. কর্নেল চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন রফিকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। সিভিল টেলিফোন সার্ভিসের একজন অপারেটরকে টেলিফোনে পেলাম। তাকে বললাম: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, এ সংবাদটি যেন সে চট্টগ্রামের ডিসি, কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি আর রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়ে দেয়। কারণ টেলিফোনে আমি তাদের কাউকে পাচ্ছিলাম না।

    টেলিফোন অপারেটর দারুণ আনন্দ প্রকাশ করল আমার কথায় এবং ঐ গভীর রাতেই সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করল সে।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘সেই মুহূর্তটি ছিল জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’

    পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লেখেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সাথে যোগ দিল… ২৬শে মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’

    কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন—‘দিনটি ছিল ২৭শে মার্চ… সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়… বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে…২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বাসস’কে বলেন, ‘এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।’

  • ভারতে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

    ভারতে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের মঙ্গলবার বিকেলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চল্লিশোর্ধ্ব বয়েসের এক স্কুল শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী গৌরব রাথি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।

    নিহত শিক্ষকের নাম নওশাদ আহমেদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে তার বয়স ৪০ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। দুপুর ২টার দিকে স্কুলের গেটের কাছে রাথি নওশাদকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ।

    এতে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নওশাদ। স্কুলশিক্ষক তরুণা চৌরাসিয়া তাকে উদ্ধার করে একটি ই-রিকশায় নাজিবাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঋষিকেশের এআইআইএমএসে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    পুলিশ জানায়, গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ পরই দুটি দেশীয় তৈরি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড কার্তুজসহ রাথি থানায় হাজির হন। সংবাদমাধ্যম আমর উজালার বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, রাথি কথিতভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি তিনবার গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি নৌশাদের বিরুদ্ধে কথিত ‘লাভ জিহাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন, যা পুলিশ তদন্ত করছে।

    বিজনোরের পুলিশ সুপার কে কে বিষ্ণোই জানান, অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলেও হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত নৌশাদ রাহাতপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রামের মুখিয়া মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, হত্যার নির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

    নৌশাদ মৃত্যুর পর তার মা, দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং হত্যার উদ্দেশ্য তদন্তাধীন রয়েছে।

    সূত্র: মুসলিম মিরর

  • বই কেন পড়বে

    বই কেন পড়বে

    সম্পাদকীয়:

    আমরা জানি, পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য পাঠ্যবই পড়া খুবই জরুরি। কিন্তু শুধু ক্লাসের পাঠ্যবই পড়লেই কি সব শেখা হয়ে যায়? না, যায় না। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, ধর্মীয়, জীবনী কিংবা বিজ্ঞানবিষয়ক বই আমাদের শেখার জগৎকে আরো বড় করে দেয়। এসব বই শুধু তথ্য দেয় না, জীবনকে নতুনভাবে দেখতেও শেখায়। সেই সঙ্গে জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে সঠিক পথে সমাধান করার পথ দেখায়।

    গল্পের বই পড়লে আমরা নানা মানুষের জীবন, সুখ-দুঃখ, সাহস, সংগ্রাম আর সাফল্যের কথা জানতে পারি। এতে আমাদের কল্পনাশক্তি বাড়ে আর নতুনভাবে ভাবতে শিখি। কবিতা পড়লে ভাষার সৌন্দর্যটা বুঝতে পারি, নতুন নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচয় হয় আর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাও সহজ হয়ে যায়। উপন্যাস পড়লে ধৈর্য ধরে পড়ার অভ্যাস হয়, মানুষের মন বুঝতে সাহায্য করে আর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটাও বোঝা যায়। আর ভ্রমণকাহিনি পড়লে ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের পাহাড়, নদী, সমুদ্র, বন, মরুভূমি আর নানা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়।

    বই আসলে আমাদের খুব ভালো একজন বন্ধু। মন খারাপ থাকলে একটি ভালো বই আনন্দ দেয়, একা থাকলে সঙ্গ দেয় আর অবসর সময়টাকে সুন্দরভাবে কাটাতে সাহায্য করে। নিয়মিত বই পড়লে চিন্তাশক্তি বাড়ে, স্মৃতিশক্তি ভালো হয় আর সুন্দরভাবে কথা বলা ও লেখার অভ্যাস তৈরি হয়। পরীক্ষার উত্তর লেখাও তখন সহজ হয়ে আসে, কারণ বই আমাদের ভাষা সমৃদ্ধ করে আর নিজের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে সাহায্য করে।

    যারা বেশি বই পড়ে, তারা সাধারণত বেশি প্রশ্ন করে, নতুন কিছু জানতে চায় আর সমস্যা সমাধানেও ভালো হয়। বই মানুষকে শুধু জ্ঞানীই না, আরো মানবিকও করে তোলে। অন্যের কষ্ট বোঝা, প্রকৃতিকে ভালোবাসা, সত্য কথা বলা, দায়িত্বশীল হওয়া আর দেশকে ভালোবাসার মতো গুণগুলো বই থেকেই আমরা শিখি। অনেক বড় বিজ্ঞানী, লেখক, নেতা আর আবিষ্কারকের জীবনে বইই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

    আজকাল মোবাইল, টিভি আর ইন্টারনেটে অনেক কিছু জানা যায় ঠিকই, কিন্তু বই পড়ার যে মজা আর গভীরতা, সেই সঙ্গে জ্ঞানের ভান্ডারের অধিকারী হওয়া, সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। বই আমাদের মনোযোগ বাড়ায়, ধৈর্য শেখায় আর গভীরভাবে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তোলে। তাই প্রতিদিন অল্প হলেও বই পড়ার অভ্যাস রাখা ভালো। দিনে মাত্র ২০-৩০ মিনিট বই পড়লেও বছরে অনেক বই শেষ করা সম্ভব।

    মনে রেখো, পাঠ্যবই আমাদের পরীক্ষায় ভালো করতে সাহায্য করে আর গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনি আমাদের মানুষ হিসেবে আরো ভালো করে তোলে। তাই শুধু ভালো ছাত্র না, ভালো মানুষ হতে চাইলে বইকে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বানিয়ে ফেলো।

  • যেসব বিষয়ে দাখিল ও এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন

    যেসব বিষয়ে দাখিল ও এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিতব্য দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র হবে অভিন্ন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সুপারকে এ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়া বিষয়গুলো হলো- বাংলা ২য় পত্র (১০২), ইংরেজি ১ম পত্র (১০৭), ইংরেজি ২য় পত্র (১০৮), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (১৫৪), গণিত (১০৯), বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (১৫০), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), রসায়ন (১৩৭), জীববিজ্ঞান (১৩৮), উচ্চতর গণিত (১২৬), পৌরনীতি ও নাগরিকতা (১৪০), কৃষিশিক্ষা (১৩৪), গার্হস্থ্যবিজ্ঞান (১৫১)।

    এতে আরো বলা হয়েছে, বাংলা ১ম পত্রের পরিবর্তিত বিষয় কোড ১০১ হলেও এসএসসি ও দাখিল স্তরের সিলেবাসের ভিন্নতার কারণে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বর্ণিত বিষয় কোড বহাল থাকবে এবং তাদের জন্য পূর্বের ন্যায় পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।

    এমতাবস্থায়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে উপর্যুক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।

  • চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় না করা, প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা এবং জরুরি সংস্কারকাজে ধীরগতিসহ নানা কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ ছাড়া খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও প্রভোস্টের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তারা।

    আলাওল হল সংসদের জিএস নুরুন্নবী বলেন, তিনি হল সংসদের কোনো কাজে সহায়তা করেন না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। হলটির সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তার কাছে গেলে নানা বিষয়ে হয়রানির শিকার হন। আমরা তার পদত্যাগ চাই।

    চবির সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম সুজন বলেন, আলাওল হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি সমস্যা সমাধানের জন্য হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছে।

  • ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

    ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। পাশাপাশি সংগ্রহশালার নিরাপত্তা জোরদার, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ‘মব কালচার’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    মঙ্গলবার বিকেলে ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডাকসুর ক্ষতিগ্রস্ত সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে ইউটিএল নেতারা বলেন, ডাকসু দেশের ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাধিকার, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ডাকসু সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ছবি, দলিল ও স্মারকের ক্ষতিসাধন অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

    অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালার আধুনিকায়নের উদ্যোগের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডাকসুর সভাপতি ও নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। তবে ঐতিহাসিক এই সংগ্রহশালায় কোনো ধরনের ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০১ সালে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে সেখানে সংরক্ষিত কিছু ছবি ও স্মারক ভাঙচুর করেছেন। বিষয়টি তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন।

    মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভাঙচুর, দখলদারিত্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতে পারে না। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে আইন ও নিয়মের পরিবর্তে এক ধরনের ‘মব কালচার’ দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, যুক্তি, সহনশীলতা ও মুক্ত বিতর্কের জায়গা। সেখানে এ ধরনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।

    এ সময় ডাকসু সংগ্রহশালার ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ইউটিএল। একই সঙ্গে সংগ্রহশালার নিরাপত্তা জোরদার এবং সেখানে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ছবি, দলিল, স্মারক ও অন্যান্য নিদর্শনের যথাযথ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

    ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানায় সংগঠনটি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ চাওয়া হয়। এ সময় শাহবাগ থানার সামনে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলে ধরেন ইউটিএল নেতারা।

    অধ্যাপক যুবাইর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহাসিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আইনের শাসন, একাডেমিক স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কোনো অভিযোগ বা অপরাধের বিচার ভাঙচুর কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে।

    পাশাপাশি ডাকসুর ঐতিহাসিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্য ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন ইউটিএল নেতারা।

    তারা বলেন, ডাকসু বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। এর ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নয়, এটি জাতীয় দায়িত্বও। নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

    এ সময় ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. মুনিরা আহসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ দিদারে আলম মুহসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবু সায়েম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • ডাকসুর মেয়াদ বাড়ছে আরও ৩ মাস

    ডাকসুর মেয়াদ বাড়ছে আরও ৩ মাস

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আরও ৯০ দিন বা তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন নির্বাচিত নেতারা। ফলে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত দায়িত্বে থাকছে সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি।

    গতকাল রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি।

    এ কারণে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত ৯০ দিন রুটিন দায়িত্ব পালন করবে বর্তমান কমিটি।

    ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ ৩৬৫ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে আরও ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন নির্বাচিত নেতারা।

    তবে এই সময়ের দায়িত্ব মূলত রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান কমিটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে বর্তমান কমিটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যে কোনো সময় দায়িত্ব ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন বর্তমান কমিটির একাধিক নেতা।

    এদিকে, নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রত্ব থাকা সাপেক্ষে ডাকসু থেকে নির্বাচিত বর্তমান নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের নির্বাচিত নেতারা ডাকসুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক বছর পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে নতুন নির্বাচন না হওয়ায় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী আরও তিন মাস রুটিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

  • আওয়ামী আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস

    আওয়ামী আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামী লীগ আমলের ১৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। মঙ্গলবার ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ছবি ও উদ্ধৃতি প্রদর্শন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দেওয়া বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এ ধরনের ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে বলে তিনি দেখেননি। প্রশাসন যেন কোনো একটি দলের দলীয় পোস্ট কপি করে তাদের পেজে দিয়ে দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালায় একটি ছবি এবং ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে উল্লেখ করতে গিয়ে জিন্নাহর সে সময়ের যে বক্তব্য—উর্দুর পক্ষে এবং বাংলা ভাষার বিপক্ষে, সে বক্তব্যকে আমরা কোট করেছিলাম। কোট করে ছবি দিয়েছিলাম। আজকে ভিসি স্যার বলছেন, আজকে প্রো-ভিসি স্যার বলছেন, সে অপরাধের কারণে নাকি তারা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

    জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্য বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে রয়েছে উল্লেখ করে জিএস ফরহাদ বলেন, জিন্নাহর এ বক্তব্য চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বাংলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে আপনি একটা বিবৃতি দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রতিহত করা হবে। অথবা আপনি একটা ব্যবস্থা নেন, যে শিক্ষকরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটা লেখার পেছনে শ্রম দিয়েছিলেন, তাদের চাকরিচ্যুত করেন।’

    উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগে উপাচার্য দুইবার সেখানে পরিদর্শন করেছেন এবং কাজের অগ্রগতি দেখেছেন। ডাকসুর সভাপতি হিসেবে তিনি চাইলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারতেন, কিন্তু তা না করে একটি দলের কথার প্রেক্ষিতে দলীয় বিবৃতি হুবহু কপি করে পেজে দিয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বর্তমান অবস্থানকে অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলের সঙ্গে তুলনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বা আর্মি ও বিএনপির আমল কিংবা আওয়ামী আমলের ১৫ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এমন ভাষায় তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেয়নি। বর্তমান প্রশাসন সেই নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    এ সময় তিনি ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা ও সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

  • ছাত্রলীগ নেত্রীর পরিচয় গায়েব, মিডিয়ায় ‘আবেগী’ খবর

    ছাত্রলীগ নেত্রীর পরিচয় গায়েব, মিডিয়ায় ‘আবেগী’ খবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বর্তমানে ছাত্রলীগ বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় এক পলাতক নেত্রীর ফেসবুক পোস্টের বরাতে দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এসব সংবাদকে ‘আবেগী সংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। ছাত্রলীগ নেত্রীকে নিয়ে এসব ‘আবেগী’ সংবাদ প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক পরিচয় গায়েব করে তাকে ‘শিক্ষার্থী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ফেসবুক পোস্টের দাবি যাচাই না করেই তাকে ‘মবের শিকার’ বা ‘মৌলবাদী মবের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানতে পেরেছে, ওই ছাত্রলীগ নেত্রী ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিদেশ পালিয়ে যান এবং বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অনার্সের ভাইবা পরীক্ষায় অংশ নেন। তার ওপর কোনো ধরনের মব হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছেন বিভাগের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

    কী দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেত্রী তাহসিন

    ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন এ আর তাহসিন জাহান। সেই পোস্টে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ তোলেন।

    পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কোনো পুরস্কারের মর্যাদা আমার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। এই পুরস্কার গ্রহণ করার অর্থ হতো এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি উদযাপন করা, যে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নিজেদের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেনি।’

    মবের শিকার হওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে শুধুমাত্র আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি মবের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই হুমকির মুখে পড়েছিলাম। আমাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নিজের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য একটা সময়ের পর ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারিনি।’

    প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘মৌলবাদী মব’কে সমর্থনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মতো ১০,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পায়নি। প্রশাসন নীরব থেকেছে এবং মৌলবাদী মবকে নীরবে সমর্থন করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ আরও অনেক নিরপরাধ মানুষের রক্তের দায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেও রয়েছে।’

    বর্তমান পরিস্থিতি ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সরকার পতনের পর যদি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন নিজেদের ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না? এখন অজুহাতটা কী? ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়। আর দয়া করে আমাদের বলবেন না, ‘আমরাই বিকল্প, আমরাই পরিবর্তন।’ কারণ অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো বিকল্প হতে পারে না।’

    ‘মবের কোনো প্রমাণ নেই, তিনি দেশের বাইরে ছিলেন’

    তাহসিন জাহান তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন , তিনি ক্যাম্পাসে ‘মব’ এর শিকার হয়েছেন এবং তাকে থিসিস জমা ও ভাইভা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের বক্তব্য তার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    শিক্ষকরা বলছেন, যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন তাহসিন দেশেই ছিলেন না।

    দ্য ডিসেন্ট এর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মবের শিকার হওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন।

    তিনি বলেন, ‘উনি তো ঐ সময়ে ছিলই না। আমরা যখন ভাইভা নিচ্ছি তখন তো দেশেই ছিল না। কানাডাতে ছিল। আমরা ডিপার্টমেন্টে কখনোই দেখি নাই তাকে। ও তো এখানে এভেইল্যাবলও ছিল না। মানে ঐ সময় যখন হয়েছিল ঐ সময় তো সে নেই। দেশেই তো নেই। আমরা এওয়্যার না আরকি। মানে আমরা ডিপার্টমেন্টের কোন কিছু দেখি নাই। বরং ডিপার্টমেন্ট যতটুকু করেছে হি শুড বি গ্রেটফুল অ্যাবাউট দ্যাট। ইউনিভার্সিটি থেকে তো এটা ভাইস চ্যান্সেলরের ওখান থেকে অ্যাপ্রুভ করা হয়েছে যে তাকে অনলাইন মানে পরীক্ষা নেয়া হবে। ডিপার্টমেন্টের রেসপন্স ঐরকম কোনো কিছু হয় নাই। আমরা জানি না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ও আমাদের খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল। আমরা চাই যে ও ওখান থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে আসুক। কিন্তু ও এই জিনিসটা এখানে আনলো আমরা ভাবতেও পারি নাই। তো আমার মনে হয় দিস ইজ ইরেলেভেন্ট। বরং ডিপার্টমেন্ট তাকে সাপোর্ট দিয়েছে এবং ইউনিভার্সিটি তাকে সাপোর্ট দিয়েছে।’

    ডেভলাপমেন্ট স্টাডিজের বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাঈম সুলতানা বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে কোনো ধরনের প্রবলেম আমি দেখি নাই। ওনার সাথে মব হওয়ার কথা আমরা জানি না উনি কানাডা থেকে আমাদের কাছে অ্যাপ্লিকেশন করেছেন যে, তিনি পরীক্ষা দিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশাল পারমিশনে ওনাকে অনলাইনে পরীক্ষা নিয়েছি। ভিসি এবং কন্ট্রোলার স্যারের স্পেশাল পারমিশন নিয়ে ওনার অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। উনি তো ডিপার্টমেন্টে ছিলেন না, ক্যাম্পাসেও ছিলেন না। উনি অ্যাপ্লিকেশন করেছেন যে, আসতে ভয় পাচ্ছে আমরা ডিপার্টমেন্ট থেকে ওনাকে সাপোর্ট দিয়েছি।’

    তাহসিনের অভিযোগ অনুযায়ী তিনি মবের শিকার হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক নাঈম সুলতানা বলেন, ‘না, আমি এগুলো দেখি নাই। এমন কিছু ঘটেছে শুনিও নাই।’

    শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তিনি কানাডা থেকে অনলাইনে ভাইভা পরীক্ষা দেয়ার আবেদন করলে সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হয়।

    ছাত্রলীগের পদধারী হওয়ায় সহপাঠীরা বয়কট করেছিল

    ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যায়নরত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতানেত্রীদেরকে একাডেমিকভাবে বৈঠকের ডাক ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। মূলত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলা ও হল থেকে বের করে দেয়ার একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে সংগঠনটির নেতাদের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। তাহসীন জাহান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যেক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক।

    তাহসীনের অন্তত দুইজন সহপাঠী দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের নেত্রী হওয়ার কারণে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেয় তার সাথে বসে কেউ পরীক্ষায় অংশ নেবে না। এটা বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তার পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরপর তাহসীন তার পরিবারসহ কানাডায় চলে যান বলে এসব শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।

    দ্য ডিসেন্টকে তাহসিনের একজন সহপাঠী বলেন, ‘ওরে যেহেতু সামাজিকভাবে বয়কট করা হইছে, তো আমাদের ব্যাচ থেকে একটা ডিসিশন আসলো যে ওর ভাইভা হচ্ছে আলাদাভাবে নিবে। এমন না যে আমরা বা ডিপার্টমেন্ট তার কোনো কিছু আটকায় দিছে। জাস্ট এইটুকুই ঘটনা।’

    অপর এক জুনিয়র শিক্ষার্থীও দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টে কোনো মব হয়নি। উনার পদের জন্য উনাকে বয়কট করা হইছে।’

    তাহসিনের সহপাঠী পদ্ম আলম (Poddo Alam) একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তাদের ব্যাচের ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ছাত্রলীগের পদপ্রাপ্ত নেত্রী হওয়ায় তাহসিনের সঙ্গে তারা পরীক্ষায় বসবেন না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে ঠিক কী মব তৈরি করেছি? কোথায়? কখন? কীভাবে? আমি এ আর তাহসিন জাহানের কাছে এর একটি নির্দিষ্ট প্রমাণ চাই।’

    ক্যাথলিন ধর আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তাহসিন যে মব হামলার কথা বলছেন, তা কখনোই ঘটেনি, কারণ তিনি তখন কানাডায় অবস্থান করছিলেন।’

    আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা উইং সিআরআই (CRI) এর সাথে সম্পৃক্ততা

    তাহসিন জাহানের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ, দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (CRI)-এর সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

    তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের বায়োতে তিনি লিখেছেন, ‘I also serve as a student politician of the former ruling party of Bangladesh (comprised of 5 million youth activists) where I’ve advised policymakers and contributed to both domestic and international government initiatives.’

    অর্থাৎ, তিনি সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র-রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন এবং নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দিয়েছেন।

    কালবেলার প্রতিবেদনে তাকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিডিনিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআরআই আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলেন।

    ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাহসিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে তাঁকে সিআরআই-এর লোগো সম্বলিত ব্যাকড্রপে এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে একই ফ্রেমে দেখা যায়।

    ক্যাপশনে তিনি লেখেন, Had a wonderful evening at Let’s Talk with Sheikh Hasina organized by CRI!

    নিজের ওয়েবসাইটে তাহসীন তাকে ‘দ্য কনফ্লুয়েন্স’ নামক পলিসি ব্লগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন।

    ২০২৩ সালের ২৯ মার্চে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা-প্রকাশক ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

    শাহ আলী ফরহাদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য এবং সিআরআইএর দীর্ঘদিনের সিনিয়র অ্যানালিস্ট ও কনসালটেন্ট ছিলেন।

    ৭ নভেম্বর তাহসিন ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন: “The Confluence team had an amazing evening with the policymakers from Bangladesh Government, National Parliament, and CRI.”

    ছবিতে সিআরআই এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।

    মূলধারার সংবাদমাধ্যমে তাহসিনের ছাত্রলীগ পরিচয় গায়েব

    তাহসিন জাহানের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি নিয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত ১৩টি জাতীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

    কিন্তু এসব প্রতিবেদনের শিরোনামে বা ভেতরের লেখায় তার ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

    এই প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা ও ইংরেজি), বিডিনিউজ (বাংলা ও ইংরেজি), কালের কণ্ঠ, জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, এশিয়া পোস্ট, আগামীর সময়, সিটিজেনস ভয়েস বিডি, রোকেয়া কালেকটিভ এবং কালবেলা।

    দ্য ডেইলি স্টার শিরোনামে লিখেছে, ‘Thousands of students’ lives were ruined’: DU topper refuses Dean’s Award’ এবং ‘হাজারো শিক্ষার্থী কেন ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না,’ প্রশ্ন তুলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা ঢাবি শিক্ষার্থীর’।

    বিডিনিউজ শিরোনামে লিখেছে, ‘DU student rejects Dean’s Award protesting administration’s ‘support for fundamentalist mob’ এবং ‘মৌলবাদী মবে ঢাবি প্রশাসনের সমর্থন’, প্রতিবাদে ডিনস অ্যাওয়ার্ড নিলেন না শিক্ষার্থী’।

    কালের কণ্ঠ: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন’।

    জাগো নিউজ ২৪: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান’।

    এশিয়া পোস্ট: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন তাহসিন’।

    আগামীর সময়: ‘ঢাবি ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান মবের শিকার তাহসিনের’।

    রোকেয়া কালেকটিভ: ‘যে কারণে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাবির প্রথম শ্রেণিতে প্রথম তাহসিন জাহান’।

    দৈনিক ইত্তেফাক: ‘প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ঢাবি শিক্ষার্থীর’।

    ১৩টি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালবেলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিবেদনের ভেতরেও তাহসিনের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা সিআরআই এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    তাহসিন তার পোস্টে নিজের যে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ এর কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন, সেই পরিচয়টি আসলে কী তা নিয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমই সামান্যতম অনুসন্ধান চালায়নি। তারা কেবল তাহসিনের বক্তব্যটি হুবহু কপি-পেস্ট করে তাকে একজন সাধারণ ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

    শুধুমাত্র কালবেলা তাদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ছাত্রলীগ নেত্রী, বললেন আমার ওপর মব করা হয়েছে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে তাহসিনকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    তাহসিনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি

    তাহসিন জাহানের ‘মব হামলা’, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ থেকে বাধা এবং তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবির বিষয়ে তার বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণ জানতে দ্য ডিসেন্ট-এর পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে তিনি কোন সময়, কোথায় এবং কীভাবে মব হামলার শিকার হয়েছিলেন এসব ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাহসিন জাহানের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • রাবিতে পরীক্ষার খাতায় চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

    রাবিতে পরীক্ষার খাতায় চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাডেমিক পরীক্ষার খাতায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের নাম ও রোল নম্বরবিহীন ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষকের পক্ষে পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় জানার কোনো সুযোগ থাকবে না।

    স্নাতক ১ম সেমিস্টার শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬ থেকেই এই কোডিং পদ্ধতি কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, ফলাফলে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা এবং যেকোনো ধরনের পক্ষপাতহীনতা দূর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টার থেকে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হবে।

    পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের দিক উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়া চালু ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণে আগামীকাল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এই পদ্ধতি চালু ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিষয়াবলী জানানো হবে।

    যেভাবে কাজ করবে কোডিং পদ্ধতি

    নতুন এ ব্যবস্থায় পরীক্ষার খাতার কভার পৃষ্ঠায় (মলাট) দুটি পৃথক অংশ থাকবে। একটি অংশে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে এবং অপর অংশে থাকবে একটি নির্দিষ্ট কোড নম্বর।পরীক্ষকের কাছে খাতা হস্তান্তরের আগেই নাম-রোল সম্বলিত অংশটি আলাদা রাখা হবে এবং কেবল কোড নাম্বারযুক্ত অংশটি পৌঁছবে পরীক্ষকের টেবিলে। ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষক শিক্ষার্থীর পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবিদিত থাকবেন। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গোপন কোডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা মূল অংশ মিলিয়ে নাম্বারপত্র তৈরি ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।এর আগে গত ২৫ জুন রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এসএম সালমান সাব্বির নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে পরীক্ষায় কোডিং পদ্ধতি সম্পর্কে চলমান কার্যক্রমের বিষয়ে তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার খাতা কোডিং পদ্ধতিতে মূল্যায়ন কার্যক্রম চালুর বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা হয়েছে। সফটওয়্যারজনিত সমস্যার কারণে এখনো এই পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হয়নি। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার মাধ্যমে এ পদ্ধতি চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দেশে ২৫২টি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ দেওয়া হয়েছে। বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই ‘খারিজি মাদ্রাসা’।

    রাজ্যটির বিজেপি সরকারের দাবি, এসব মাদ্রাসা কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যায় গত ২২ জুলাই কলকাতাসহ সব জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে সমীক্ষা চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা সমীক্ষা করতে হবে। এরপর জেলায় জেলায় শুরু হয় যাচাই পর্ব।

    সেই সমীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় রাজ্যের প্রায় দুই হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসায় সরকারি অনুমোদন নেই। পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নেয় দপ্তর।সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নোটিশের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে মাদ্রাসাগুলোকে শোকজ করা হয়েছে, তাদের যথেষ্ট পরিকাঠামো নেই। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।ভারতে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকারও। এরমধ্যে সেখানে একাধিক মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • কক্সবাজারে হচ্ছে বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

    কক্সবাজারে হচ্ছে বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে কক্সবাজারে বিশেষায়িত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের একটি আধা-সরকারি পত্র প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর পর তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    পেজে আধা-সরকারি পত্রটিও তিনি শেয়ার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া সেই পত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল সম্ভাবনাময় সামুদ্রিক সম্পদকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, যার এখনও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে।

    আধা-সরকারি পত্রে আরো লেখা হয়, একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় শূন্য থেকে প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘ সময়, বিপুল অর্থ এবং পৃথক অবকাঠামো প্রয়োজন। এ বাস্তবতা বিবেচনায়, কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান অবকাঠামো, ল্যাবরেটরি, গবেষণা-সুবিধা, বৈজ্ঞানিক জনবল, প্রশিক্ষণ পরিবেশ এবং উপকূলভিত্তিক গবেষণা কাঠামোকে ব্যবহার করে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির প্রাথমিক একাডেমিক ও ব্যবহারিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে একটি জাতীয় সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কক্সবাজারে সুপ্রতিষ্ঠিত।

    ‘ফলে এর বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রারম্ভিক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক তথ্য, পর্যটন ও হসপিটালিটি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অপেক্ষা না করে একটি গবেষণামুখী, ব্যবহারিক এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত চালু করা যাবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত বিদ্যমান জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশের ব্লু ইকোনমি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। পত্রের শেষে লেখা হয়, এ অবস্থায় কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান একাডেমিক ও গবেষণা সুবিধার উপর ভিত্তি করে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সানুগ্রহ সম্মতির জন্য বিনীত নিবেদন করছি।

  • ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

    ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৪৮ শিক্ষার্থী। অনুষদের ১৬টি বিভাগের এসব শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুই শিক্ষককেও এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

    সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশ ইউনেস্কো প্রতিনিধি অফিসের প্রধান ড. সুজান ভাইজ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না। তাঁদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে।

    অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কার পাওয়ার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁদের আরও বেশি গবেষণা, অধ্যয়ন ও পরিশ্রম করতে হবে।

    তিনি বলেন, সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।

    উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগও রয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে এবং উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানরা ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

    এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

    ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক ও শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।

    ২০২২ শিক্ষাবর্ষে সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান ও মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।

    ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম ও মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে সাড়ে ১৩ হাজার আবেদন

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে সাড়ে ১৩ হাজার আবেদন

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য ১৩ হাজার ৬৭৭টি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদন গ্রহণের পর এখন যাচাই শেষে বদলির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণে বৈঠক করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মহাপরিচালক বৈঠকের সময় নির্ধারণ করলে টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হবে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরর (মাউশি) একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ওই কর্মকর্তা জানান, ফল প্রকাশের জন্য একটি মিটিং ডাকা হবে। মাউশির মহাপরিচালক সময় নির্ধারণ করলে টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে। বৈঠকে বদলি কার্যক্রমের যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ফল প্রকাশের একটি সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হতে পারে।

    সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এর আগে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদনের সময় শেষ হয়েছে গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর। শিগগির বদলির পরবর্তী কার্যক্রম, ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় এবং আবেদনে থাকা বিভিন্ন ভুল সংশোধনের সুযোগসহ পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    সূত্র জানায়, মাাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে শিক্ষকদের বদলির সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    এ ছাড়া বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান ভুলভাবে শিক্ষক চাহিদা দেখিয়ে থাকলে সেই চাহিদা কর্তন করা হবে কি না, সেটিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে। একইসঙ্গে ইতোমধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাদের আবেদনে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য এডিট অপশন চালু করা হবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    এছাড়া, কোনো শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করার পর তার বদলির আদেশ হলে, পরবর্তী সময়ে নতুন কর্মস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর সেখানে যেতে অনিচ্ছুক হলে সেসব বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে। অর্থাৎ বদলির আদেশ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করা বাধ্যতামূলক হবে কি না, নাকি নির্দিষ্ট শর্তে বদলি গ্রহণ না করার সুযোগ রাখা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    সূত্র জানায়, শুধু ফল প্রকাশ নয়, আবেদন যাচাই, ভুল সংশোধন, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষক চাহিদা, বদলির আদেশ এবং আদেশের পর যোগদানের বিষয়—বদলি প্রক্রিয়ার প্রায় প্রতিটি ধাপ নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

    এর আগে গত ১৮ আগস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক—প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব শিক্ষককে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী বদলি করা হবে। টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় প্রস্তুত করা সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, বদলিতে আগ্রহী শিক্ষকরা মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে সময় বর্ধিত করে ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর বদলির আবেদনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

    একজন আবেদনকারী পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনগুলো বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে কর্তৃপক্ষ বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করবেন।

    বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকরা চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করা যাবে।এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায়ও বদলির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে। বদলি সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া এ-সংক্রান্ত তথ্য ভুল হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

    নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।

    এদিকে বদলির আবেদন চলমান থাকায় অনেক শিক্ষক আবেদন ফরমে বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার পর সাবমিট করার আগে তা নিয়ে যাচাই করছেন। কেউ কেউ আবেদন সাবমিট করার পর ভুল তথ্য দেখতে পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সংশোধনের সুযোগ না থাকায় আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি তথ্য যাচাই করে আবেদন চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • ২০২৭ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঠ্যবই

    ২০২৭ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঠ্যবই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    স্কুল পর্যায় থেকেই খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি পৃথক পাঠ্যবই সংযোজন করা হচ্ছে। বইটির লেখার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলা’ নামে যে পাঠ্যপুস্তকটি সংযোজন করা হচ্ছে, সেটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন বইটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা যায়। ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি জানান, নতুন এই পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে সরকারের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিরও সমন্বয় থাকবে। কর্মসূচিতে যে ১০টি খেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বইয়েও সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়ার অভ্যাস
    আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা বা পদক জয়ের বিষয় নয়; এটি সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা রয়েছে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদ তৈরির জন্য শুধু জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে কাজ করলে হবে না। তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

    ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ লাখো নিবন্ধন
    তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে অনলাইনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার নিবন্ধন হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে নিবন্ধন আরও ব্যাপক হয়েছে। এ সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখে পৌঁছেছে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলে তা ২০ লাখেও পৌঁছাতে পারে।
    তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজে বের করা হবে।

    ৩০৬ খেলোয়াড়ের বিশেষ প্রশিক্ষণ
    প্রথম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা ৩০৬ জন খেলোয়াড়কে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

    খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: আমিনুল হক
    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে যেসব খেলোয়াড় অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেবে, তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বিনা খরচে বিকেএসপিতে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার খরচও সরকার বহন করবে। ৫০৩ উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা
    তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এরই মধ্যে ২০১টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

    তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা থেকে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

    রাতারাতি ফল নয়খেলাধুলায় সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগের সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, এ ধরনের কার্যক্রমের ফল পেতে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এখন থেকে পরিকল্পিতভাবে শিশু ও তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে।

    এসময় তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা নয়; বরং পদক জয়ের মতো অবস্থানে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান গেমসের পর ১৩ থেকে ১৪টি খেলাকে বেছে নিয়ে বছরজুড়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়াবিদ উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

  • জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে সংগ্রহশালার ছবিতে জিন্নাহকে সেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রদল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল এখানে পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায় জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে এবং তারা চায় ছবিটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে। এমনকি তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে। এর মধ্যে এটা না সরালে তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’

    এর আগে দুপুরে সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ওই ছবি ভেঙে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যিনি জিন্নাহর ছবি ভেঙেছেন, শুনলাম তিনি উর্দু বিভাগের। আমি অবাক হলাম। সম্ভবত তিনি উর্দু বিভাগেরই, সে কারণে জিন্নাহর প্রতি আলাদা একটা দরদ আছে। আর এ কারণেই এটা হয়েছে। আমরা কিন্তু ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করেছি, তিনি উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যিনি ছবিটি ভেঙেছেন, তিনি হয়তো চান না উর্দুর ব্যাপারে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। সে কারণেই তিনি এটা ভেঙেছেন। অর্থাৎ, তিনিও জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছেন।’

  • ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    তারা উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্রসংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

    ছাত্রদলের অভিযোগ, ‘ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও পাকিস্তানপ্রেম জাহির করছে।’

    বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শচর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।

  • ডাকসুর জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন তৈয়ব হাবিলদার

    ডাকসুর জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন তৈয়ব হাবিলদার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভেঙে দিয়েছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

    আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’

    তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং উনার নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

  • নতুন বাংলাদেশ ও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠন

    নতুন বাংলাদেশ ও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় এনে দিয়েছে। রাজপথের অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের মাধ্যমে তরুণ সমাজ শুধু এক ফ্যাসিস্ট শাসনের শিকড় উপড়ে ফেলেনি, বরং রাষ্ট্রযন্ত্রের আমূল রূপান্তরের ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। তবে যে তরুণদের রক্তের বিনিময়ে এই নতুন বন্দোবস্তের সুযোগ তৈরি হলো, তাদের সেই স্বপ্নের ভিত্তি মজবুত করতে হলে হাত দিতে হবে জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত—শিক্ষাব্যবস্থায়। রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার যদি বিপ্লবের প্রথম পর্ব হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠনই হলো রাষ্ট্র টেকসই করার দ্বিতীয় ও প্রধানতম লড়াই।

    বিগত দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এক গভীর কাঠামোগত পঙ্গুত্বের মধ্য দিয়ে গেছে। আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা পরিণত হয়েছিল শুধু সনদ সর্বস্ব, মুখস্থনির্ভর এবং বৈশ্বিক কর্মবাজার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এক প্রক্রিয়ায়। ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের অন্তত ৬ শতাংশ অথবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকা উচিত। অথচ বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের শিক্ষা বাজেট বছরের পর বছর ধরে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশের ঘরে আটকে রয়েছে। যদিও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ২ শতাংশে উন্নীত করে। তবু দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেসকোর ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট’-এ বারবার এই বাজেট সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে। এই বরাদ্দের বড় অংশই আবার চলে যায় অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যয়ে, যা উদ্ভাবন বা গবেষণায় কোনো অবদান রাখে না।

    শিক্ষা খাতের এই গুণগত দেউলিয়াত্বের ফল দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে সামগ্রিক বেকারত্বের তুলনায় উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। বিআইডিএসের গবেষণায় দেখা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রিধারীদের এক বিরাট অংশই স্নাতকোত্তর শেষ করার পর দীর্ঘকাল উপযুক্ত কর্মসংস্থান পান না। এর মূল কারণ শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদা এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের মধ্যকার পর্বতসম ব্যবধান। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিকস ও বিশ্বমানের দক্ষতার যুগে আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো এখনো দুই দশক আগের সিলেবাস আঁকড়ে ধরে আছে।

    শিক্ষার এই নিম্নমানের প্রতিফলন ঘটছে বৈশ্বিক মূল্যায়নেও। কোয়াকুয়ারেলি সিমনডস বা টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ বা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুপস্থিতি এখন নিয়মিত চিত্র। গবেষণার অভাব এবং তার চেয়েও বড় কথা—শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধার পরিবর্তে নগ্ন রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়াই এই পতনের মূল কারণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিণত করা হয়েছিল শাসকদলের পেশিশক্তি চর্চার আখড়ায়। দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির তাণ্ডবে ছাত্র সংসদগুলো অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তা ও স্বাভাবিক নেতৃত্ব বিকাশকে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলে।

    এর পাশাপাশি আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বুনিয়াদও চরম হোঁচট খেয়েছে। বারবার কারিকুলাম পরিবর্তন, অপরিকল্পিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু এবং পর্যাপ্ত যোগ্য শিক্ষক তৈরির ঘাটতির কারণে শিক্ষার মৌলিক মানই ধ্বংস হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে শেখার চেয়ে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হয়েছে, যা শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ধরনের চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করেছে। গ্রামের সাধারণ প্রান্তিক পরিবারের সন্তানটি আজ শহরের ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়ছে।

    এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো—মেধাকেন্দ্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র পরিচালনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই তরুণরা কোনো খণ্ডিত সমাধান চায় না; তারা চায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং যোগ্যতার সঠিক মর্যাদা। পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং দলীয় পরিচয়ভিত্তিক স্বজনপ্রীতি চিরতরে বন্ধ করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

    দ্বিতীয়ত, তরুণ সমাজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেজুড়বৃত্তিক দলীয় রাজনীতির অবসান চায়। তবে এর অর্থ রাজনীতিবিমুখতা নয়; বরং তারা চায় সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ। প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বিরতিতে ছাত্র সংসদ (যেমন—ডাকসু, জাকসু, রাকসু ইত্যাদি) নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাডারভিত্তিক গণরুম, গেস্টরুমের নামে দখলদারিত্বের বদলে ছাত্র সংসদই হবে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, মুক্তচিন্তার চর্চা এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির একমাত্র স্বীকৃত প্ল্যাটফর্ম।

    একইভাবে ব্রেন ড্রেন বা মেধা পাচার রোধ করাও আজকের দিনে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষা ও উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়ছে এবং তারা আর ফিরছে না। এর একমাত্র কারণÑদেশে তাদের মেধার মূল্যায়ন নেই, নেই গবেষণার পর্যাপ্ত পরিবেশ। এই মেধাবীদের দেশে ধরে রাখতে না পারলে ২০৪১ সালের উন্নত বা স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন শুধু কাগজ-কলমেই থেকে যাবে।

    শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই পুনর্গঠনে এখন কয়েকটি জরুরি নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্যÑ

    * পাঠ্যক্রম সংস্কার ও কারিগরি শিক্ষা : সাধারণ তত্ত্বনির্ভর শিক্ষার বাইরে মাধ্যমিক স্তর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি, কোডিং, প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা-দক্ষতা ও প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রতি তিন বছর পরপর সিলেবাস হালনাগাদ করা আবশ্যক।

    * স্বাধীন জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন : শিক্ষক নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও আর্থিক দুর্নীতি বন্ধে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ বা ‘শিক্ষক নিয়োগ কমিশন’ গঠন করা যেতে পারে, যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শুধু মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেবে।

    * গবেষণায় বাজেট ও ইনকিউবেশন : শিক্ষায় জিডিপির অন্তত ৩-৪ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল গঠনের পাশাপাশি তরুণদের উদ্যোক্তা বানাতে স্টার্টআপ ইনকিউবেশন সেন্টার এবং জামানতহীন সহজ শর্তে ঋণের আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।

    * প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বৈষম্য দূরীকরণ : কোচিংনির্ভরতা কমাতে শ্রেণিকক্ষেই পড়াশোনা নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলোতে যোগ্য ও উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ত্বরান্বিত করতে হবে।শিক্ষা কোনো অনুদান নয়, এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। একটি মেরুদণ্ডহীন ও দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে কোনো শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। ২০২৪-এর তরুণ প্রজন্ম তাদের দায়িত্ব পালন করেছে—তারা পরিবর্তনের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এখন রাষ্ট্র ও নীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের দায়িত্ব হলো তরুণদের এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা। যে শিক্ষা তরুণকে দাসত্ব নয়, বরং স্বাধীন চিন্তা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেমের প্রেরণা জোগায়Ñসেই শিক্ষাব্যবস্থার গোড়াপত্তনই হোক নতুন বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া যে তা সম্ভব নয়, সে কথা প্রায় সবগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেরিতে বুঝলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজও বুঝতে চাইছে না। শুধু মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, সে বিষয়টি অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেরিতে হলেও বুঝেছে। প্রথমে সাহস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন করে সিন্ডিকেটে আইন পাস করে মৌখিক পরীক্ষার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন, ডেমো ক্লাস প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু করেন। পরে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ শুরু করে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো এ বিষয়টি আমলে নেয়নি।

    এমপিওভুক্ত কলেজ, সরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমনকি সরকারি প্রাইমারি স্কুলেও শিক্ষক নিয়োগে যেখানে লিখিত পরীক্ষার বিধান প্রচলিত আছে, সেখানে যে সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি, এমফিল, মাস্টার্স, অনার্স প্রভৃতি ডিগ্রি দেওয়া হয়, সেখানে শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক? পাশ্চাত্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হতে হলে শুধু উচ্চতর ডিগ্রি বা ভালো রেজাল্ট থাকলেই হয় না। আবেদনকারীকে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে তারপর শিক্ষকতার চাকরি পেতে হয়। এ ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীকে প্রথমে ‘জব টক’ দিতে হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের ফ্যাকাল্টি এবং সিনিয়র ও গবেষণা শিক্ষার্থীরা তাকে প্রশ্ন করে তার বিষয়বস্তুর ওপর জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করেন। একই সঙ্গে তার উপস্থাপনার ভঙ্গিমা, বিশ্লেষণ দক্ষতা এবং উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়।

    এরপর প্রার্থীকে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে এক এক করে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়, যারা তার গবেষণা পরিকল্পনা বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার প্রকাশিত গবেষণাকর্মের তালিকা দেখেন। এরা এসব দেখে এবং বিচার-বিশ্লেষণ করে বিভাগীয় সভাপতিকে প্রার্থী সম্পর্কে রিপোর্ট দেন। পরে বিভাগীয় সভাপতি প্রার্থীর সঙ্গে তার একাডেমিক যোগ্যতা ও পারফরম্যান্স বুঝতে বৈঠক করেন। তাকে নিয়োগ দিলে বিভাগে তিনি কী ধরনের একাডেমিক অবদান রাখতে পারবেন, তাও পরীক্ষা করেন। সবকিছু ইতিবাচক হলে প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপরও চাকরিতে যোগদান করে পড়ানো শুরু করলেও তার পদ স্থায়ী করা হয় না। সেমিস্টার শেষে স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন রিপোর্ট এবং প্রকাশিত গবেষণার সংখ্যা ও গুণগত মান বিবেচনা করা হয়। সেসব সন্তোষজনক না হলে তিনি শিক্ষকতায় টিকে থাকতে পারেন না। ফলে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর একজন শিক্ষক প্রচণ্ড একাডেমিক চাপে থাকেন। অনেকের সে চাপ মোকাবিলা করতে না পেরে শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার নজির আছে।

    শিক্ষক নিয়োগে এ দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সনাতনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। ফলে এ ক্ষেত্রে যোগ্য একাডেমিক বাছাই করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বার্থ, দলীয় প্রভাব, গোপন রাজনৈতিক সুপারিশ এবং নানা ফাঁকফোকর গলে অনেক কম যোগ্য আবেদনকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের সুযোগ পান। তুলনামূলক এসব কম যোগ্যরা যখন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন, তাদের অনেকেই লেখাপড়ার চেয়ে বর্ণদলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন। পদোন্নতির জন্য প্রকাশনার দরকার হলে তারা অন্যদের শরণাপন্ন হন। পাঁচ-সাতজন মিলে প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নকল করে প্রবন্ধ প্রকাশ করে পরে ধরা পড়েন। আবার অন্যদিকে, এদের শ্রেণিকক্ষের পারফরম্যান্সও ভালো হয় না। তাদের অনেকে ভালো করে ক্লাসও নিতে পারেন না। এ কারণে ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের সূচকে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন অনুযায়ী চলার কথা, তা চলছে কি? এ আইনে যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার কথা, সেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে কি? পদে পদে এ আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় যে আইন মেনে চলতে পারছে না, সে আইন কি তাদের যুগোপযোগী করা উচিত নয়? কই, তা করা হয়েছে কি? বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু তাদের দায়িত্বশীলতা সুনিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে শিক্ষকদের অনেকে ইচ্ছা হলে অনেক সময় ক্লাসে যাচ্ছেন না। অনেক শিক্ষক সময়মতো পাঠ্যক্রম শেষ করতে পারছেন না। ফলে সেশনজট তৈরি হচ্ছে। স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন পদ্ধতি চালু না থাকায় শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে মনোযোগী হচ্ছেন না। এতে শিক্ষার্থীরা একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ-পদবি ও সুযোগ-সুবিধার বণ্টন দলীয় পরিচিতির পরিমাপকেই করা হচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া কোনো কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পাদিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু না করায় ডাকসুর পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা সম্প্রতি অনলাইনে চালু করা হয়েছে। এ কাজটি অবশ্যই ডাকসুর নয়।

    ডাকসু এ কাজ করলে তা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে বলে মনে করা যায় না। কারণ, নাম না বললেও সবাই জানেন যে ডাকসুতে এখন একটিমাত্র দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রাধান্য রয়েছে। সে দলের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক মূল্যায়নের কাজ করলে এদের মুরব্বি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের যেভাবে এ দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা মূল্যায়ন করবেন, অন্য দলীয় পরিচয়ধারী শিক্ষকদের কি একইভাবে মূল্যায়ন করবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ করা যায়। ঢাবি প্রশাসনের উচিত এমনভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, যাতে শিক্ষার্থীরা গঠনমূলক এবং নির্মোহভাবে মূল্যায়নের কাজটি করতে পারেন। তবে শুধু শিক্ষক মূল্যায়ন করলেই তো হবে না। যাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পরপর কয়েক সেমিস্টার দুর্বল আসবে, তাদের জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকরা সবাই একরকমভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমান আচরণ করেন না। সংখ্যায় কম হলেও এমন কিছু শিক্ষক আছেন, যারা সব শিক্ষার্থীকে সমান চোখে দেখেন না। এরা অনেক সময় দু-একজন শিক্ষার্থীকে আগে থেকে টার্গেট করে বিভাগে শিক্ষক হিসেবে ঢোকাতে চেষ্টা করেন। তাদের যেভাবেই হোক বিভিন্ন কলাকৌশলে ভালো রেজাল্ট করিয়ে বিভাগে ঢোকাতে প্রয়াস নেন। আবার কাউকে টার্গেট করে সে শিক্ষার্থী যেন কিছুতেই ভালো জিপিএ না পান, সেজন্য তাকে ভিন্নভাবে ট্রিট করা হয়। তার টিউটোরিয়াল, মৌখিক পরীক্ষা এবং পরীক্ষার খাতায়ও হয়তো একটু ভিন্নভাবে তাকে মূল্যায়ন করা হয়। এর চেয়ে বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না। অত্যন্ত কম হলেও এমন শিক্ষক যে নেই, তা বলা যায় না। এ রোগ পুরোনো। আইনের মেধাবী ছাত্র প্রফেসর ড. সলিমুল্লাহ খানকে তার মৌখিক পরীক্ষায় ২৫-এর মধ্যে ৮ নম্বর এবং পরিসংখ্যানের ড. আনোয়ার জোয়ার্দার, যিনি পৃথিবীর ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন, তাকেও মাস্টার্স পরীক্ষায় একইভাবে ভিকটিমাইজ করা হয়েছিল।

    একাডেমিয়ার এ পুরোনো রোগ নিরসনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য একটি আইন পাস করেছেন। এ আইন অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থী কোনো কোর্সের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট না হয়ে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি একটি ফরম পূরণ করে নির্ধারিত ফি দিয়ে তার পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করে তা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ব্যবস্থা নেই। এ কারণে রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক টিউটোরিয়াল, অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কিংবা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ভিকটিমাইজ করার সুযোগ পান। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসিরও চিন্তাভাবনা করা উচিত।

    বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে ডজনাধিক সংস্কার কমিশন করলেও জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন গঠন করেনি। ফলে সংবিধান, বিচার, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু সংস্কার হয়েছে এবং সংস্কারের প্রক্রিয়া চলমান আছে। কিন্তু ধ্বংসের কার্নিশে উপনীত শিক্ষাব্যবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার করা হয়নি। বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর শিক্ষাব্যবস্থার নিম্নপর্যায়ে, বিশেষ করে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি পর্যায়ে শিক্ষা কারিকুলামে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উচ্চশিক্ষাঙ্গনে কোনো সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সরকার যদি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংস্কার করতে চায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির চর্চা বন্ধ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন প্রয়োজনে যুগোপযোগী করতে হবে। সরকার চাইলে তা করতে পারবে। কারণ, সরকারের এ সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে, শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য আরো কী কী করা দরকার, সেসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি তো স্বীকার করবে যে, সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল না মিলিয়ে শিক্ষক নিয়োগ শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ করার কাজটি বিবেচনাপ্রসূত হচ্ছে না। ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং অবদানমূলক গবেষণার কাজেও বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা আশা করব, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সে পথ অনুসরণ করবে। আশা করা যায়, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বোধোদয় হবে।

  • বিপ্লবোত্তর অন্যরকম ডাকসুর এক বছর

    বিপ্লবোত্তর অন্যরকম ডাকসুর এক বছর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিলুপ্তি, রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা, হলভিত্তিক জিমনেসিয়াম, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার সহায়তাসহ বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে এ কমিটি।

    গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এসএম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন কমিটি ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেয়। ৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও বেশ কয়েকটি খাতে ডাকসুর কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

    ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করেছেন তারা। ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    পরিবহনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

    ডাকসুর দৃশ্যমান অর্জনের তালিকায় পরিবহন সেবা অন্যতম। এ খাতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। নতুন কয়েকটি রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সান্ধ্যকালীন ও শনিবারের বাস ট্রিপ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি বাসের অবস্থান জানাতে ‘লালবাস’ অ্যাপ চালুর কাজও এগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের চাপ কমাতে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান

    জুলাই-পরবর্তী ডাকসুর সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো আবাসিক হলের গণরুম ও গেস্টরুম নির্যাতনের সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা। ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গণরুম ও গেস্টরুম স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    আগের গণরুমগুলোর কিছু অংশকে রিডিংরুমে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হলে জিমনেসিয়াম স্থাপন এবং হলভিত্তিক শিক্ষার্থীবান্ধব অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ

    কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই পরিমাণ অর্থায়নে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    বিভিন্ন আবাসিক হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনেও প্রায় ছয় কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রিডিংরুম ও শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সুবিধা উন্নয়নেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

    নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও কিছু আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। তাদের জন্য শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে জিমনেসিয়াম উন্নয়নে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কলাভবনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, মেয়েদের কমনরুমে এসি স্থাপন এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব দেওয়া এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    আধুনিক হচ্ছে মেডিকেল সেন্টার

    স্বাস্থ্য খাতেও এক বছরে বেশকিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু।

    তুরস্কের কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (TIKA)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় মেডিকেল সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স, এয়ার কন্ডিশনার, এক্স-রে, ইসিজি মেশিন, অ্যানালাইজার ও মাইক্রোস্কোপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্পে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় এবং বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। হলভিত্তিক ছারপোকা নিধন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধেও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে উদ্যোগ

    শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন বিনামূল্যের কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনেও প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে চারটি হলে ল্যাব স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো আটটি হলে কাজ চলমান।

    চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত জব ফেয়ারে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিল ডাকসু। সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সম্পাদনায় ২৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সেমিনার, সামিট ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ডাকসুর তথ্য। পাশাপাশি ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডাকসু।

    অর্থায়নে বড় অংশ স্পন্সর থেকে

    ডাকসু নেতারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা, সীমিত অর্থায়ন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহায়তায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে ডাকসু। এর বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহযোগিতায় বাকি কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক মূল্য হিসাব করলে ডাকসুর এক বছরের কাজের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, আমরা ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য কাজ করেছি। স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসুর প্রত্যেকে দিন-রাত কাজ করেছে। এবারের ডাকসু যে পরিমাণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কাজ করে দেখিয়েছে তা ইতিহাসের কোনো ডাকসু পারেনি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পাসে শিরদাঁড়া সোজা রেখে মাথা উঁচু করে চলবে। শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ক্যাম্পাসে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।

    ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ডাকসু দুই দফায় ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে। এর বাইরে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও অ্যালামনাইয়ের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি করেছে সংগঠনটি।

    কিছু ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ

    তবে এক বছরে এসব দৃশ্যমান উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু মৌলিক সংকট এখনো রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রথম বর্ষ থেকেই আবাসন নিশ্চিত, নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণের মতো ছয়টি মৌলিক বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এক বছর পর এসব প্রতিশ্রুতির কয়েকটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর।

    যে জায়গাগুলোতে ডাকসু পিছিয়ে তার অন্যতম আবাসন খাত। বিশেষ করে নারী হলগুলোতে সিট সংকট এখনো তীব্র। অনেক শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের কথা বলা হলেও নতুন আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা বিদ্যমান সংকট দূরীকরণে এখনো পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে ২,৮৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প এগুচ্ছে কচ্ছপগতিতে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহিতায় নিয়ে আসার কোনো উদ্যোগ দেখাতে পারেনি ডাকসু।

    নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে চুরি-ছিনতাই, মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের উপস্থিতি এবং নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে।

    এদিকে খাবারের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। হলের ক্যান্টিনগুলোতে মাঝে মাঝে ডাকসু নেতারা তদারকি করলেও বিভিন্ন সময়ে খাবারে পাথর, কেঁচো, ব্লেড, টিকটিকি, তেলাপোকা ও বড়শি পাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    এছাড়া প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। রেজিস্ট্রার ভবনকেন্দ্রিক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ই-লাইব্রেরি চালু না হওয়া এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়াও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের মন্তব্য

    ডাকসুর ব্যাপারে বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলের সদস্য নই। তবে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের কাজকর্ম আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ডাকসু খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। বাইরে এসব সেবা নিতে গেলে অনেক টাকা খরচ হতো, যা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন বাধার মধ্যেও ডাকসু যে কাজগুলো করার চেষ্টা করছে, তা প্রশংসার যোগ্য।

    তিনি আরো বলেন, ডাকসুর এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তাদেরও বর্তমানের চেয়ে আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে হবে।

    কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ডাকসু ও হল সংসদগুলো কার্যকর হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হল প্রশাসন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এখন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে ডাকসু।

    এদিকে ঢাবি ছাত্রদল নেতা ও ডাকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম ডাকসুর উন্নয়ন কাজের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে ৩৫ কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় করা হলো, তার স্বচ্ছ হিসাব শিক্ষার্থীদের দেওয়া উচিত। তার দাবি, ডাকসুর মেয়াদে আবাসন ও খাবারের সংকটের তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থী এখনো হলে উঠতে পারেননি। ক্যান্টিনের মালিকানা পরিবর্তন হলেও খাবারের মান বাড়েনি এবং স্থাপিত পানি ফিল্টারগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    সার্বিক বিষয়ে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি, চেষ্টা করেছি। আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার নতুন একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, অনেক কাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা জিমনেসিয়াম বানিয়েছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা চালু করছে না। মসজিদ-রিডিং রুমের জন্য আমরা এসি নিয়ে এলে প্রশাসন সেগুলো স্থাপন করে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান আমার দেশকে বলেন, নিরাপত্তা, খাবার ও আবাসন সংকট সমাধানে ডাকসু বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছিল। বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও ছিন্নমূলদের ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি। টিসিবির সঙ্গে কম দামে মানসম্পন্ন খাবারের উদ্যোগও রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর বাতিল হয়ে যায়। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগুতে পারিনি।

  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি নিয়ে নতুন রূপে ডাকসু সংগ্রহশালা

    ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি নিয়ে নতুন রূপে ডাকসু সংগ্রহশালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালার সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে সংগ্রহশালাটিকে আরও আধুনিক, নান্দনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্কার করা সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। সংস্কারকাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি

    বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

    সংগ্রহশালাটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে ফাতিমা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংগ্রহশালায় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও উপকরণ সংযোজন করা হবে। এতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডও স্থান পেয়েছে। ডাকসুর সাবেক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারকসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে এখানে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সংগ্রহশালাটি ডাকসুর একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    ডাকসুর ১৯৫৭-৫৮ সেশনের ভিপি বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম বলেন, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহশালায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডাকসুর সাবেক নেতাদের কর্মকাণ্ড, প্রতিকূলতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

    তিনি বলেন, তখনকার ছাত্র প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রসমাজের কথা বলেছিলেন। কোনো একক দল বা মতকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার এই উদ্যোগের জন্য ডাকসুর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সংগ্রহশালাটি সংস্কার করে নতুনভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রাচীন ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা কালানুক্রমিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    তবে কিছু সাবেক ভিপির ছবিসহ সংগ্রহশালায় এখনো কিছু তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ সংশোধন ও তথ্য সংযোজনের সময় হিসেবে রাখা হয়েছে। কারও কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি কিংবা সংশোধনী থাকলে তা ডাকসুকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

    ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সংস্কার করা সংগ্রহশালায় ১৯০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দলিল, ছবি এবং শহীদদের স্মৃতি এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯২১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি ও জিএসদের নামসংবলিত সম্মাননা ফলক সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটি আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক দলিল এবং জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।