চুয়েটে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা

প্রতিবেদন:

·

,

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব পালন করবেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান। ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনের জন্য তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে বিতর্কিত উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রদানকে প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে পাঠানো বিবৃতিতে চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় বিতর্কিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কর্তৃক অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান স্যারকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রদানকে আমরা সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

‘যে উপাচার্যের নিয়োগ ও অবস্থানকে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে, তার প্রদত্ত দায়িত্বকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আমাদের কাছে প্রত্যাখ্যাত উপাচার্যের মাধ্যমে প্রদত্ত কোনও দায়িত্বই আমাদের সম্মতি, আস্থা কিংবা গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি হতে পারে না। দায়িত্ব প্রদানের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চুয়েটের চলমান সংকটের কোনও সমাধান হবে না; বরং তা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা তৈরি করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, চুয়েট শিক্ষার্থীদের সুস্পষ্ট অবস্থান ও এক দফা দাবিকে উপেক্ষা করে কোনও ধরনের সাময়িক দায়িত্ব প্রদান কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহাল ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো না।

‘পাশাপাশি অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান স্যারের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনি অনুগ্রহ করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করুন। চুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন, যা ক্যাম্পাসের চলমান সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দাবি এক, অবস্থান এক, প্রত্যাখ্যানও স্পষ্ট। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ’

জানা গেছে, চুয়েটে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় যোগ দিতে ১০ অক্টোবর বিকালে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর তিনি সভায় অংশ নেবেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর কর্মস্থলে ফেরার আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। ৯ অক্টোবর একই মেইল বার্তায় অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের এ দায়িত্ব অর্পণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্ব সাধারণত অনুষদের ডিনদের দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এবার যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও অনুষদীয় ডিনের দায়িত্ব না থাকায় তাকে এ দায়িত্ব অর্পনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘যেকোনও একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দিলেই চলে। ডিনদেরকেই দিতে হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। ’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান করলেও এখনও ক্যাম্পাসে আসেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত আসে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিকসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ