শিক্ষা ও সাহিত্য

  • নেপালে এক প্রধান শিক্ষকের উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থীর

    নেপালে এক প্রধান শিক্ষকের উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থীর

    নেপালে প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে ৯০০ শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচিয়েছেন একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাঁর নাম রাজেন্দ্র দাওয়াদি। ঢলের পানি স্কুলে আঘাত হানার মাত্র ১০ মিনিট আগে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেন।

    নুয়াকোট জেলার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র বিবিসিকে বলেন, স্থানীয় সময় গত বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি ৪টি ফোনকল পান। ফোনকলগুলোতে তাঁকে ভয়াবহ এই দুর্যোগের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এরপর তিনি দ্রুত শিক্ষার্থীদের উঁচু জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। স্কুলমুখী শিক্ষার্থীবোঝাই বাসগুলোকে দ্রুত ফিরে যেতে বলেন।

    রাজেন্দ্র বলেন, ‘আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে কিংবা আর ১০ মিনিট দেরি হলে আমিসহ শিক্ষার্থীদের কেউই আজ আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারত না।’

    রাজেন্দ্র জানান, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চারজন পৃথক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে সতর্ক করায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে তাঁর সুবিধা হয়েছিল।

    এ বিষয়ে রাজেন্দ্র বলেন, এক অভিভাবক এসে তাঁকে বলেছিলেন, ‘বড় বন্যা ধেয়ে আসছে। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে এসেছি।’

    কোনো জোরালো কারণ ছাড়া অভিভাবকেরা এভাবে স্কুলে ছুটে আসেন না বলে উল্লেখ করেন রাজেন্দ্র। তিনি বলেন, তাই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া উচিত।

    নেপালের নুওয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে দুর্যোগের পর কাদায় প্রায় ডুবে গেছে একটি স্থাপনা।

    রাজেন্দ্র বলেন, ‘আমি আর দেরি না করার সিদ্ধান্ত নিই। এমনকি ঢল না এলেও সর্বোচ্চ এক দিনের ক্লাসই হয়তো নষ্ট হতো। এত মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি, এর জন্য আমি গর্বিত।’

    বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নেপালের কয়েকটি এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ৪ হাজার ২৪৭ জন। বৈরী পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

    ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। রাজেন্দ্র জানান, নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে থাকা বিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাসও মুহূর্তের মধ্যে ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়।

    শুরুতে অনেক শিক্ষার্থীও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেনি। ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা আমাত্য বলে, ঢল আঘাত হানার ঠিক আগে সে তার বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

    ইউনিশা বলে, ‘মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য আমি আর আমার বন্ধুরা প্রাণে বেঁচে গেছি।’

    ইউনিশা আরও বলে, ঢল আসার ঠিক আগে তারা শ্রেণিকক্ষে পড়ছিল। শিক্ষকেরা এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন। শুরুতে কী ঘটছে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। পাঁচ মিনিট পর শিক্ষকেরা এসে তাদের ঢলের কথা জানান। তাদের দ্রুত বাসায় চলে যেতে বলেন।

    ঢলের কথা শুনে এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল বলে জানায় ইউনিশা। সে বলে, অনেক শিক্ষার্থী তখনো বিপদের মাত্রা বুঝতে পারেনি। তারা গণিতের ক্লাসে থাকা সহপাঠীদের জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে ইউনিশা ও তাঁর বন্ধুরা বিদ্যালয়ের পেছনের একটি পথ ধরে দ্রুত পাহাড়ের দিকে উঠে যায়।

    পানির তোড়ে নদীর তীরের জনবসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক জায়গায় আস্ত গ্রাম ভেসে গেছে।

    ইউনিশা বলে, ‘আমি দ্রুত হাঁটতে পারছিলাম না। বন্ধুরা আমাকে পাহাড়ের দিকে উঠতে সাহায্য করেছিল। আমরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। বিদ্যালয়ের পেছন দিকের একটি সরু সিঁড়ি দিয়ে আমরা বেরিয়ে গিয়েছিলাম। চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাজারটি পানির তোড়ে ভেসে যায়।’

    শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা প্রথমে কয়েক শ মিটার পাহাড়ে উঠে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পরে পাশের একটি গ্রামে চলে যান। ঢলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তাঁদের অনেকেই দুই রাত সেখানে আটকে ছিলেন। পরে উদ্ধারকারী দল তাঁদের কাছে পৌঁছায়।

    প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র ও শিক্ষার্থী ইউনিশা—দুজনের বাড়িই বিদ্যালয় থেকে নদীর ওপারে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেলিকপ্টারে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    এদিকে সন্তানেরা বেঁচে আছে কি না, তা জানতে উৎকণ্ঠায় ছিলেন অভিভাবকেরাও। ইউনিশার মা সাবিনা কুমারী শ্রেষ্ঠা বলেন, তিনি বারবার মেয়ের ও স্বামীর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

    ইউনিশার বাবা যুবরাজ আমাত্য খবর পেয়েই মেয়ের স্কুলের দিকে রওনা হন। তিনি বলেন, ‘ঢলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আমি মেয়ের ফোনে কল দিই। কিন্তু ওকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। ভীষণ ভয় পেয়ে যাই। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মেয়ের স্কুলের দিকে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি, ত্রিশূলী বাজার পুরোপুরি ভেসে গেছে। তখন মনে হয়েছিল, আমার মেয়ে হয়তো আর বেঁচে নেই। আমি খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। স্কুটার থামিয়ে ফেলি। চারদিকে পানি, কিন্তু মেয়েকে ছাড়া ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারছিলাম না।’

    আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর লিখু নদীর তীরে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি। গতকাল নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবঘাটে।

    মেয়ে বেঁচে আছে কি না, যুবরাজ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সেটা জানতেন না। বারবার ফোন করেও তিনি মেয়ের সাড়া পাননি। অবশেষে ফোনটি সংযোগ পায়। ওপাশ থেকে ইউনিশা ফোন ধরে।

    যুবরাজ বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমার মেয়ে ফোন ধরল। আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি, কেঁদে ফেলি। সঙ্গে থাকা দুজন আত্মীয়ও কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরেন।’

    প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র বলেন, আরও কার্যকর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকলে এলাকার বাসিন্দারা আরও আগে সাড়া দিতে পারতেন। তবে তিনি মনে করেন, তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

  • ১৪ মানদণ্ডে সেরা শিক্ষক নির্বাচন, থাকছে পদক ও পুরস্কার

    ১৪ মানদণ্ডে সেরা শিক্ষক নির্বাচন, থাকছে পদক ও পুরস্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে ‘সেরা শিক্ষক’ নির্বাচন করতে এবছর ১৪টি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষকদের পদক ও পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পাঠানো হয়েছে।তে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পরিদর্শন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। এ লক্ষ্যে শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করে তাদের পাঠদান ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।

    সেরা শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব মানদণ্ড বিবেচনা করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও নিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে দক্ষতা।

    এ ছাড়া মূল্যায়নে পারদর্শিতা বা প্রশ্নপত্র

    প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে দক্ষতা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    শিক্ষকের চারিত্রিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিত্ব, সততা ও উদ্যম; পোশাক-পরিচ্ছদ ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সক্ষমতা এবং শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতাও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।

    পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে অবদান, পেশাগত বা গবেষণামূলক সৃজনশীল প্রকাশনা এবং গুণগতমানের শিক্ষার উদ্ভাবনী সৃজনশীল উদ্যোগ ও উত্তম চর্চার নির্দেশনার ভূমিকা বিবেচনা করা হবে।

    এ ছাড়া কমিটির কাজে দক্ষতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা, কার্যকর শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় পারদর্শিতা এবং সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস ও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পুন:সজ্জিতকরণও সেরা শিক্ষক নির্বাচনের মানদণ্ড হিসেবে রাখা হয়েছে।

  • রুশ হামলায় ইউক্রেনে নষ্ট হয়েছে এক কোটির বেশি বই

    রুশ হামলায় ইউক্রেনে নষ্ট হয়েছে এক কোটির বেশি বই

    ছাপাখানাটির দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ভিক্টোরিয়া হাইদাই। নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে সেখানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলার কথা ছিল। কিন্তু এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই ছাপাখানা। হামলার সময় নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য পুরোদমে ১৩ লাখ বই ছাপার কাজ চলছিল। এই সংখ্যাটি ইউক্রেনের স্কুলগুলোর মোট পাঠ্যবইয়ের প্রায় ১০ শতাংশ।

    ছাপাখানার ধ্বংসস্তূপের ছাইয়ের মধ্যে পড়ে ছিল ইংরেজি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের পোড়া পৃষ্ঠা। সেখানে লেখা, ‘আমার নাম উইলিয়াম। আমার বাড়ি যুক্তরাজ্যে। আমার দাদি নটিংহামে থাকেন। এটি একটি সুন্দর শহর।’

    সম্প্রতি ইউক্রেনজুড়ে ছাপাখানা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এসব হামলায় ১ কোটি ২০ লাখ বই নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইউক্রেনে ছাপা হওয়া মোট বইয়ের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করেছে রাশিয়া।

    কিয়েভের ওই ছাপাখানায় কোনো কিছুই আর উদ্ধারযোগ্য নেই। আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া বইয়ের পাতাগুলোও অগ্নিনির্বাপণের পানি কিংবা খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

    প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কনভির বাণিজ্যিক পরিচালক হাইদাই বলেন, ‘রাশিয়া ইচ্ছা করেই এসব করছে বলে আমি মনে করি। গত দুই মাসে সবচেয়ে বড় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকেন্দ্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এসব সরবরাহকেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক বই মজুত ছিল।’

    হাইদাই বলেন, ‘ইউক্রেন জাতিকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে রাশিয়া। তাই ছাপাখানাগুলো ধ্বংস করছে তারা। তবে সত্যি বলতে, তারা সফল হবে না।’

    গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৩৫টির বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। শুধু নতুন বই-ই হামলার লক্ষ্য হয়নি, কিয়েভের পুরোনো বইয়ের বাজারেও হামলা হয়েছে। এতে শত শত বিক্রয়কেন্দ্র এবং অসংখ্য মূল্যবান বই ধ্বংস হয়েছে।

    কিয়েভের ওই ছাপাখানায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ শেষ করার আগেই ২৮ বছর বয়সী বইবিষয়ক ব্লগার লিলিয়া ভেলিকা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কিছু বই উদ্ধারের শেষ চেষ্টা করছিলেন। তাঁর হাতে ছিল ভিজে যাওয়া একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি।

    লিলিয়া বলেন, ‘বই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এগুলো হারানো মানে আমাদের হৃদয় হারিয়ে ফেলার মতো।’

    ইউক্রেনের বিভিন্ন জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি, ফিল্ম স্টুডিও, গ্রন্থাগার এবং অপেরা হাউসগুলোও যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেজনা বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাসের প্রতীক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।’

    তেতিয়ানা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের ১ হাজার ৯০০-এর বেশি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন এবং ২ হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প ও সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শিশুদের পড়াশোনা সচল রাখতে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের পুরো প্রকাশনাশিল্পই চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং এই খাতটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন।

    যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বিবিসির কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের জন্য উল্টো দেশটির সরকারকেই দায়ী করেছে। তাদের দাবি, ইউক্রেন নিজেরাই নিজেদের পুরোনো স্মৃতিস্তম্ভগুলো ভেঙে ফেলছে এবং রাস্তাঘাটের নাম বদলে দিচ্ছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখার জন্য এসব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে ব্যবহার করছে।

    ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।

    https://4e5226d18b81482d9807891d30959302.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html
  • এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্ন

    এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্ন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার বিষয় কোডে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষা ধারার এসএসসি পরীক্ষার বিষয় কোডের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ধারার দাখিল স্তরের বিষয় কোড সমন্বয় করে নতুন বিষয় কোড নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ বিষয় কোড ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের দাখিল পরীক্ষা থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য সাধারণ শিক্ষাধারার এসএসসির বিষয় কোডের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষাধারার দাখিল স্তরের বিষয় কোড সময়োপযোগী পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। দাখিল স্তরের বিষয়গুলোর পুরাতন কোড ও নতুন কোড সম্বলিত তালিকা প্রকাশ করা হলো।

    পুনর্নির্ধারিত নতুন বিষয় কোডগুলো নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দাখিল পরীক্ষা ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। দাখিল পরীক্ষা ২০২৭ থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, পরীক্ষার্থী সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া, প্রবেশপত্র, প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, নম্বরপত্র, সনদপত্র এবং পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সব কার্যক্রমে সংযুক্ত তালিকায় বর্ণিত নতুন বিষয় কোড ব্যবহার করতে হবে।

    অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পূর্বের বিষয় কোড বহাল থাকবে। এমন অবস্থায়, সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।

  • নেই স্নাতক ডিগ্রি, তবুও হলেন রাবির রেজিস্ট্রার

    নেই স্নাতক ডিগ্রি, তবুও হলেন রাবির রেজিস্ট্রার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার পদে অনার্স ডিগ্রি না থাকা একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তিনি ২০০৬ সালে রাবিতে সরাসরি উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে অনার্স ডিগ্রী না থাকা একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনা।রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আদেশে অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    তবে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরির আবেদনের শর্তে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও তার নিয়োগের সময় এ শর্ত শিথিল এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের করা হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।

    তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন,”কোনো অনার্স ডিগ্রি নেই, মাদ্রাসায় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরির অভিজ্ঞতা আছে যদিও মাদ্রাসায় চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। উল্লেখ্য, একই সঙ্গে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের চাকরির আবেদনের শর্ত শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনার্স ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও উনার নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি শিথিল ছিল।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারলাম আজ রাবিতে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুনলাম এই বিষয়ে জোর রাজনৈতিক সুপারিশ আছে। এর আগে কোনো ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নিয়োগ দেবার ঘটনা কখনও ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।”

    একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদ্য অব্যহতিপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসুউদ। তিনি বলেন, আমি থাকাকালীন ওনার যে ফাইল দেখে আসছি তাতে উনি কোনোভাবেই যোগ্য বলে মনে করি না। আমি প্রকাশ্যেই বলতে পারব, এমন একজন মানুষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আরো অনেক পিছিয়ে যাবে। ওনার প্রোফাইল অনুযায়ী উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করি।

    তিনি বলেন, আমার ক্লাস-পরীক্ষা থাকার কারণে এ জায়গাটা আমার কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিলো। আমি মনে-প্রাণে চেয়েছি একজন যোগ্য লোক এ জায়গায় আসুক, কিন্তু এরকম একজন অথর্ব মানুষের কাছে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যাবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে ২০ বছরের বেশি কর্মরতদের মধ্য থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। বিধায় প্রয়োজনে আগে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়ে পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে বিবেচনা করা যেত অথবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরাসরি উন্মুক্ত পদে নিয়োগ দেওয়া যেত।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে কথা গুলো বলা হচ্ছে তা মিথ্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী আমাকে এখানে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে তিনি স্নাতক না করলেও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা দেখেই দেয়া হয়েছে ব্যতিক্রম হয়নি। যখন পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেয়া হবে, তখন সেটা সেই যোগ্যতা অনুযায়ী দেয়া হবে। তবে এ নিয়োগে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। “

    উল্লেখ্য, এ.এইচ.এম. আসলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮১ সালে সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

    চাকরিজীবনের শুরুতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ২০০৩ সালে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) পদে সরাসরি যোগদান করেন। রাবিতে যোগদানের পর থেকে তিনি একাডেমিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ফাইনালের ফল প্রকাশ আজ

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ফাইনালের ফল প্রকাশ আজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনুষ্ঠিতব্য ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল আজ সোমবার প্রকাশ করা হবে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, অনার্স ফাইনাল ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের রেজাল্ট আজকে দিবো ইনশাআল্লাহ। অল্প সময়ে রেজাল্ট বের করার এটা একটা রেকর্ড হবে। সদিচ্ছা থাকলে, পার্সোনাল এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত না থাকলে, সুশাসন থাকলে, কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলে সবই সম্ভব।

    উল্লেখ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনুষ্ঠিতব্য ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুন শেষ হয়েছে।

  • প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ: মাঠ প্রস্তুতের নির্দেশ

    প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ: মাঠ প্রস্তুতের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ সামনে রেখে দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত পাঁচটি করে ফুটবল খেলার উপযোগী মাঠ প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে মাঠগুলো প্রস্তুত হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সচিত্র প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) মাউশির শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। এতে দেশের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে প্রতিটি উপজেলায় পাঁচটি করে ফুটবল খেলার মাঠ প্রস্তুত আছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য মাধ্যমিক ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর মাঠের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে সচিত্র প্রতিবেদন আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মাউশিতে পাঠাতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। মাঠ প্রস্তুতির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    এদিকে মাউশি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সারাদেশে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় পরিসরে এ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে।

    প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

    উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

  • পরীক্ষায় নকল করার তালিকায় এবারো শীর্ষে ভিক্টোরিয়া কলেজ

    পরীক্ষায় নকল করার তালিকায় এবারো শীর্ষে ভিক্টোরিয়া কলেজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় নকল করার তালিকায় এবারো কুমিল্লার দুই কলেজ শীর্ষ স্থানে রয়েছে। কলেজ দুইটি হলো: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। কলেজ দুইটিতে ১০ জন করে শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মোট ২৮৭ জন পরীক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    চিঠি অনুযায়ী, কুমিল্লার পরের অবস্থানে রয়েছে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ। এ কলেজের তালিকায় ৯ পরীক্ষার্থী রয়েছেন। তাদেরও বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হয়েছে

    তে বলা হয়েছে, ১১ আগস্ট দুপুর ১২টায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহের সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার বিভিন্ন কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পর্যবেক্ষক, প্রধান পরীক্ষক বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার লক্ষ্যে পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভাপতি সভায় উপস্থিত সদস্যদেরকে স্বাগত জানিয়ে সভার আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করেন। বিস্তারিত আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষায় বিভিন্ন কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পর্যবেক্ষক, প্রধান পরীক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত অনুপস্থিতি পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসহ উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব, নকলের আলামত ইত্যাদি উপস্থাপন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

    সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে প্রাপ্ত আলামত ইত্যাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ক্রেডেনসিয়াল অনুযায়ী অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধারায় শাস্তি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

  • শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভিসা পেতে আগের তুলনায় সমস্যা কমেছে। দেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং চীন থেকে দক্ষ শিক্ষক আনতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি চীন সফরে শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ সম্ভাবনার পরিকল্পনা করা হয়েছে জানিয়ে ড. মিলন বলেন, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতেও চীনের সঙ্গে শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালু করবে সরকার।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চীনের সঙ্গে শিক্ষাখাতে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়বে।

    সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অংশ নেন।

  • দাখিলের ৯ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন শুরু ৬ সেপ্টেম্বর

    দাখিলের ৯ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন শুরু ৬ সেপ্টেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দাখিল ৯ম শ্রেণির (দাখিল পরীক্ষা-২০২৮) এর শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর। তথ্য এন্ট্রি করা যাবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    রোববার (৩০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

    আরো জানা যায়, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে ৬ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর। বিলম্বসহ রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে ১৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর। তথ্য (eSIF) এন্ট্রি চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পূরণকৃত e-SIF Final Submission করা যাবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    তদ্বারা অত্র বোর্ডের আওতাধীন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত দাখিল/আলিম এবং আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ফাযিল/কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ/সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো যাচ্ছে যে

    এতে বলা হয়েছে, দাখিল ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সময়ের মধ্যে অনলাইনে e-SIF পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

    নির্দেশায় জানা যায়, ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীরা অবশ্যই ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হবার সুযোগ পাবে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী লিস্ট প্রস্তুত করতে হবে এবং প্রস্তুতকৃত টটলিস্ট অনুযায়ী অনলাইনে তথ্য এন্ট্রি দেয়ার সময় ৬ষ্ঠ শ্রেণি পাসের খ্রিষ্টাব্দ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড সঠিক ভাবে সিলেক্ট করতে হবে। অন্যথায় ভুল শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি হয়ে থাকলে তার দায়-দায়িত্ব মাদ্রাসা প্রধানকে বহন করতে হবে। যে সব শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ, ৮ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করার সুয়োগ পায়নি সে সব শিক্ষার্থী প্রতিষ্টানপ্রধানের মাধ্যমে বোর্ডে আবেদন, জন্মনিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি, লিষ্ট, ছবি, ২৪১ টাকা ব্যাংক ড্রাগট করে সরাসরি ৯ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীর বয়স ১ জানুয়ারি তারিখে ১২ বছর পূর্ণ না হলে এবং ২০ বছরের অধিক হলে কোন শিক্ষার্থী দাখিল নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন হতে পারবেন না। তবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দাখিল পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের বয়স-সীমা ১২ থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত। বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠানের EIIN ভিত্তিক মোবাইল সিম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি দেয়ার সময় অবশ্যই তার ব্যক্তিগত (যদি থাকে) মোবাইল নম্বর অথবা অভিভাবকের মোবাইল নম্বর ইনপুট দিতে হবে। একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীরই রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

  • এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর

    এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে তাদের জন্য ‘বিশেষ পলিসি’ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

    তিনি বলেন, ‘আগের সরকার এসব অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু আমরা তাদের জন্য বিশেষ পলিসি তৈরি করছি।’ রোববার (৩০ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    মাহদী আমিন বলেন, ‘এসব তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

    ফল পরিবর্তন ও মূল্যায়নের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ এর বন্যা ভাসিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার কালচার ছিল। আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নে তাদের জিপিএ ও জেনুইন (সঠিক) ফলাফল পেয়েছে।

    গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বছর ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।প্রকাশিত ফলাফল অনুযাযী- এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। ফেল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।

  • ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের পক্ষে ছাত্রশিবির

    ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের পক্ষে ছাত্রশিবির

    ক্যাম্পাসে রাজনীতি পুরোপুরি বাদ না দিয়ে তা সংস্কারের পক্ষে মত দিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “দলীয় রাজনীতি বাদ দিলে তো এই প্রোগ্রামটা আপনাদের জন্য কেউ করতে পারত না। এগুলো বাদ দেওয়া ঠিক না। ”

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘ফ্রেশার রিসেপশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাদ্দাম বলেন, “মাথাব্যথা হয়েছে, মাথা কেটে দিলে তো আপনার অস্তিত্বই থাকবে না। তো মাথাটা রেখে কীভাবে এটাকে রিফর্ম করা যায়, সেই চিন্তাটা করা উচিত। ”

    শিবির নেতা এস এম ফরহাদ জুলাই আন্দোলনের সময় ৯ দফার একটিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন বলে এর আগে দাবি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাদের।

    তার ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি ফরহাদ সপ্তম দফায় ‘ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। পরে দাবিটি ‘দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার ভাষায় চূড়ান্ত করা হয়।

    ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, তিনি মনে করেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আওতায় ‘কোড অব কন্ডাক্ট’থাকা উচিত।

    সাদ্দাম বলেন, “আমরা বলেছিলাম, ইউনিভার্সিটিতে একটা কোড অব কন্ডাক্ট থাকা উচিত। ইউনিভার্সিটির নিজস্ব পলিসির আন্ডারে ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্স চলা উচিত। ”

    এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্রশিবির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    শিবির সভাপতি বলেন, “ইউনিভার্সিটিটা হবে কমন প্লেস অব ভ্যালুস। এখানে প্রত্যেকটা পলিটিক্যাল স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন তাদের আইডিওলজিক্যাল পারপাস স্টুডেন্টদের সামনে রিপ্রেজেন্ট করবে। স্টুডেন্ট এটা এক্সেপ্ট করতে পারে অথবা রিজেক্ট করতে পারে। ”কাউকে জোর করে কোনো রাজনৈতিক দলের বা ‘মাদার পার্টির’ স্বার্থ বাস্তবায়নে মিছিল-মিটিংয়ে নেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতির বিরোধিতা করে সাদ্দাম বলেন, “কখনোই গণরুম এবং গেস্টরুম চালু করা যাবে না। যারা চালু করবে, সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে হবে। ”

    ‘আইডিওলজি বাস্তবায়ন হবে, তবে ক্যাম্পাসের স্বার্থে’

    এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন রাখেন, ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি থাকলে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজনীতি করবেন।জবাবে শিবির নেতা নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “হ্যাঁ, তা তো স্বাভাবিক বিষয় যে, যার যার আইডিওলজি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সেটা ক্যাম্পাসের স্বার্থে হতে হবে। ”

    তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার পোস্টার ক্যাম্পাসে সাঁটানো যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা আসলে তাদের নামে স্লোগান এখানে দেওয়া যাবে না। ”

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন শিবির সভাপতি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারা হলে থাকেন জানতে চেয়ে তিনি হাত তুলতে বলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধান না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “ফার্স্ট ইয়ারের একজন স্টুডেন্ট মায়ের পেট ছেড়ে এই ইউনিভার্সিটিতে মেধার ভিত্তিতে চান্স পাওয়ার পরে কেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হলে একটা সিট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬০ বছরে দিতে পারবে না—এর জবাব কী আছে? এটা আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জা। ”

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের দুর্বলতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “আপনাদের ইউনিভার্সিটির পরেও এই বাংলাদেশে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টা ইউনিভার্সিটি তৈরি হয়েছে। এতগুলো ইউনিভার্সিটি তৈরি করতে পারে, হাজার হাজার টিচার বরাদ্দ দিতে পারে, অথচ চিটাগাং ইউনিভার্সিটির পূর্ণতা তৈরি করার জন্য সরকারের যে দুর্বলতা—এই দুর্বলতা ইনটেনশনালি তৈরি করা হয়েছে। ”

  • ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হবে

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তবে চলমান পাইলটিং কর্মসূচির ফলাফলে কোনো জটিলতা বা ত্রুটি ধরা পড়লে সময় কিছুটা পিছিয়ে গেলেও ২০২৭ সালের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রংপুরের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি মডেল বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, স্কুল ফিডিংয়ের পাইলটিং কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। আগামীকাল সোমবার দিনাজপুরে আয়োজিত একটি কর্মশালায় এই কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র ও মূল্যায়ন পাওয়া যাবে। পাইলটিং সফল হলে আগামী বছরের শুরুতেই একযোগে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু হবে।

    শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়াসংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থী বাড়ছে নাকি কমছে—সেটি মুখ্য নয়, বরং প্রতিটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে যায় এবং সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় সঠিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের কঠোর নজরদারি থাকবে। শিশুদের শিক্ষা অর্জনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী পিটিআই প্রশিক্ষণার্থীদের ছয় ঘণ্টাব্যাপী একটি কর্মশালায় অংশ নেন।

  • ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

    ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

    আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং তাদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

    মিছিল চলাকালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘ওলি ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘মুকাদ্দাস ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ওলি ভাইয়ের সন্ধান চাই, দিতে হবে দিতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দেন আন্দোলনকারীরা।

    বিক্ষোভ মিছিলে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইমরান বিশ্বাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

    সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো ২৫১ জনের সন্ধান না পাওয়ায় তাঁদের পরিবারগুলো উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার মধ্যে রয়েছে।

    তিনি বলেন, “অবিলম্বে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা জীবিত না থাকলে অন্তত তাঁদের কবরের সন্ধান পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের প্রসঙ্গে ইউসুফ আলী বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের সন্ধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের নিখোঁজের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, নিখোঁজের ঘটনায় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তৎকালীন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির প্রকাশ্যে চলাফেরার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে ছাত্রশিবির সভাপতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির অগ্রগতি ও স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং তাঁদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এটাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

    উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নতুন করে তাঁদের সন্ধানের দাবি সামনে এনে বিক্ষোভ মিছিল করল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

  • ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

    ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।

    সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। আর রাজশাহী, জগন্নাথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৮ জানুয়ারি। প্রথম দিন ‘বি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রাথমিক আবেদন চলবে ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। প্রথম দিন ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

    এরপর ৮ জানুয়ারি ‘ই’ ইউনিট, ১৫ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ২২ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ২৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তির আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টায়। আবেদন করা যাবে ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি। ওই দিন ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ৩০ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিট, ৩ ফেব্রুয়ারি ‘বি১’ ইউনিট, ৪ ফেব্রুয়ারি ‘বি২’ ইউনিট, ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ‘বি১’, ‘বি২’ ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। চবিতে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    তবে এসব সময়সূচির মধ্যে যেসব পরীক্ষা এখনো চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি, সেগুলো পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভর্তিচ্ছুদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও অফিসিয়াল নোটিশ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮ জানুয়ারি। এবার খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী- এ তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৮ ডিসেম্বর

    ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিট এবং ১৯ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    এবার পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শহরগুলো হলো—ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ।

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১ এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আহত শিক্ষার্থী তাফসির চহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ঘটনার পর ২০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়। একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে ৭ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে ৪ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশীষ চন্দ্র চন্দকে ২ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    অফিস আদেশে আরও বলা হয়, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে শাস্তি হ্রাস, বৃদ্ধি কিংবা পরিবর্তন হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী কালবেলাকে বলেন, ‘গত ১৯ আগস্ট মারামারিতে আমার এক ছাত্রের একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসের মধ্যে আপিল করতে পারবে। তবে মামলার বিষয়টি আদালত ফয়সালা দেবে। ’

    তিনি জানান, ২৯ আগস্ট থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

  • নৈতিকতা ও সততায় জোর দিলেন সেনাপ্রধান

    নৈতিকতা ও সততায় জোর দিলেন সেনাপ্রধান

    সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পশ্চিম ক্যাম্পাসে তিনটি নতুন ভবন উদ্বোধন করেন। রোববার মিরপুর সেনানিবাসে এই নতুন ভবনগুলো উদ্বোধন করেন তিনি।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য কেবল একাডেমিক উৎকর্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সততা এবং দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত। তিনি আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ তৈরি, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং একটি দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বিইউপির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানে বিইউপি সিনেটের সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিইউপির সাবেক উপাচার্যগণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, বিইউপি পশ্চিম ক্যাম্পাসের এই তিনটি নতুন ভবন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল চর্চার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • সাংবাদিক ওসমানের উপর সন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা।

    সাংবাদিক ওসমানের উপর সন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা।

    মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহ মহেশপুরে সস্তার হাইস্কুল মাঠে বিকাল পাঁচটার দিকে মহেশপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক শামীম ওসমানের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে।

    স্থানীয় সূত্রে, জানা গেছে সস্তার হাইস্কুল মাঠে হুদো গ্রাম এবং শিবানন্দপুর গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা কে কেন্দ্র করে নাটিমা ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেনের উপর হুদো গ্রামের ছেলেরা আক্রমণ করে।
    সাংবাদিক শামীম ওসমান তখন রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তার মুঠোফোনে মারামারির এই দৃশ্যটি ধারণ করার জন্য ভিডিও করা শুরু করেন। এই বিষয়টি স্থানীয় হুদো গ্রামের ছাত্রদলের আনোয়ার ও তার সাথে থাকা ছেলেরা দেখে ফেলে। এবং সঙ্গে সঙ্গে আনোয়ারের নেতৃত্বে আব্দুল্লাহ, বিল্লাল ,সাব্বির সহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ অতর্কিত হামলা করে বসে সাংবাদিক ওসমানের উপর। শামীম ওসমান সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা বলে ,তোর সাংবাদিকতা ছুটাচ্ছি।এ সময় তারা তাদের হাতে থাকা হকিস্টিক, কালো কালারের পাইপ, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেছন দিক থেকে এবং সামনে দিক থেকে সাংবাদিক শামীম ওসমানের উপর উপর্যুপরি হামলা করে। শামীম ওসমান রাস্তার উপর পড়ে যান ।আবার ওঠার চেষ্টা করে চলে যায়, তাকে আবার ধরে ফেলে এবং অমানবিক নির্যাতন করে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সাংবাদিক শামীম ওসমানকে স্থানীয় জনগণ উদ্ধার করে মহেশপুর হসপিটালে নিয়ে আসে।
    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে সাংবাদিক শামীম ওসমানের মাথায় সাতটা সেলাই দেওয়া লাগছে। এবং তার দুই পা ও হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে যখম করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ সাংবাদিক সমাজ চরম উদ্বিগ্ন ,সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    এ,আরো

  • মক্কা চুক্তি ও ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    মক্কা চুক্তি ও ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে- আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।

    সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কিনা, সেটি মূল বিষয় নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    ই-জুডিশিয়ারি বা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্কুল ভেসে গেছে, গাছে উঠে বাচলো ৮ বছরের শিশু

    স্কুল ভেসে গেছে, গাছে উঠে বাচলো ৮ বছরের শিশু

    নেপালের পাহাড়ি নদী বেয়ে যখন প্রলয়ংকরী ঢল নেমে একের পর এক জনপদ নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছিল, তখন ছুটে জঙ্গলে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায় ছোট্ট জোয়াল ঘালে। বয়স মাত্র আট বছর। তখন স্কুলে ছিল সে। দুর্যোগের মুহূর্তে বুদ্ধি করে পাহাড়ি জঙ্গলে ছুটে গিয়ে গাছের ওপর উঠে বসে। আর তাতেই বেঁচে যায় জোয়াল।

    গত বুধবারের ঘটনা এটি। নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসের পর ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে প্রবল বেগে কাদাপানি ও পাথরের ঢল নেমে আসে। এখন পর্যন্ত ৬২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯২৪–এ দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি।

    পরদিন বৃহস্পতিবার নেপালের উত্তরাঞ্চলের দুর্যোগকবলিত রাসুয়া জেলা থেকে জোয়ালকে উদ্ধার করা হয়। এক পা ভাঙা ও মুখে কাটা দাগ শিশুটির। পরে হেলিকপ্টারে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় জোয়ালকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন সে।

    সন্তান নিখোঁজ হওয়া মা মাট্টি মায়া তামাং (২৮) ভেবেছিলেন, আকস্মিক ঢলের সময় স্কুলে থাকা তাঁর দুই ছেলে হয়তো আর বেঁচে নেই। এক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আরেকটিতে ছুটে বেরিয়েছেন। ত্রাণ ও উদ্ধারকেন্দ্রেও খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু পাননি। অবশেষে তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার এক ছেলে জোয়ালের দেখা পেয়েছেন মা।

    মাট্টি মায়া তামাং রয়টার্সকে বলেন, ‘একে একে চার জায়গায় গেছি। কোথাও তালিকায় আমার সন্তানদের নাম ছিল না। আমি ধরে নিয়েছিলাম, দুই সন্তানের কেউই আর বেঁচে নেই। কান্না ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না। নিজেকে কোনোভাবেই সামলাতে পারছিলাম না।’

    রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরের রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় পাহাড়ি ঢলে অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের শনাক্ত ও নিবন্ধনের কাজ করছে সংস্থাটি। নেপাল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    চিকিৎসা চলছে আট বছরের শিশু জোয়াল ঘালের। গতকাল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালে

    সন্তানের খোঁজ দিলেন সাংবাদিক

    দুই সন্তানের খোঁজে বৃহস্পতিবার হন্যে হয়ে ছুটছিলেন মাট্টি মায়া তামাং। একপর্যায়ে তিনি রয়টার্সের সাংবাদিক শাহানা বজ্রাচার্যের ফোন নম্বর পান। তথ্যের আশায় তাঁকে ফোন করেন মাট্টি মায়া।

    এর কয়েক ঘণ্টা আগে নুয়াকোটের একটি হাসপাতালে ছোট্ট জোয়ালের সঙ্গে এই সাংবাদিকের দেখা হয়েছিল। একটি শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছে, এমন খবরে সেখানে ছুটে যায় শাহানা ও রয়টার্সের একটি দল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানত না, শিশুটির পরিবার কোথায় আছে। আদৌ কেউ বেঁচে আছে কি না।

    ততক্ষণে উন্নত চিকিৎসার জন্য জোয়ালকে হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। একটু পরই শিশুটিকে নিয়ে উড়াল দেওয়া হবে। তখনই জোয়ালের সঙ্গে কথা বলেন শাহানা। পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার আশায় জোয়ালকে নিয়ে একটি ভিডিও করার কথা জানান। জোয়ালও রাজি হয়ে যায়।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের ফোন নম্বর রেখে আসেন শাহানা। আশা ছিল, জোয়ালকে খুঁজতে নিশ্চয়ই কেউ তাঁকে ফোন করবেন। শেষমেশ সেটাই হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছেলের খোঁজে শাহানাকে ফোন করেন মাট্টি মায়া তামাং।

    শাহানা যখন ফোনে জানান, জোয়াল বেঁচে আছে, চিকিৎসার জন্য ওকে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তখন সেটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না মাট্টি মায়া তামাং। তিনি বলেন, ‘উনি (শাহানা) যখন বললেন, জোয়াল কোথায় আছে, সেটা জানেন; তখন কথাটা সত্যি বলে মনে হচ্ছিল না। আমি ধরে নিয়েছিলাম, আর কখনোই ছেলেকে খুঁজে পাব না।’

    যদিও এর আগেই ছোট ছেলেকে জীবিত খুঁজে পান মাট্টি মায়া তামাং। তিনি বলেন, ‘অবশেষে বড় ছেলের সন্ধান পেয়ে মনে হলো, আমার জীবনটা যেন আবার ফিরে পেলাম।’

    স্কুলটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে

    বুধবার সকালে অন্য দিনের মতো দুই ছেলে গাড়িতে চেপে স্কুলে যায়। বাড়িতে ছিলেন মাট্টি মায়া তামাং। তাঁত বুনছিলেন। হঠাৎ ভূমিকম্পের মতো আওয়াজ শোনেন।

    মাট্টি মায়া তামাং বলেন, ‘দেখতে পাচ্ছিলাম, সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। বারবার মনে হচ্ছিল, আমার ছেলেরাও নিশ্চয়ই ভেসে গেছে।’ তিনি ছেলেদের স্কুলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্বাভাবিক সময়ে বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে ১৫–২০ মিনিটের মতো লাগে। কিন্তু তখন পুরো এলাকার চেহারা বদলে গেছে। স্কুলের ভবনও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

    মাট্টি মায়া তামাং বলেন, কোথায় স্কুল ছিল, কোথায় বাজার ছিল—কিছুই বোঝার উপায় নেই। চারদিকে শুধু পানি, পাথর ও কাদা।

    ২০ রুপি হাতে ছেলেটি

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা। নুয়াকোটের ১৫ শয্যার চক্রদেব হাসপাতালে ছিল জোয়াল। সেখানেই তার দেখা পান শাহানা। তবে কেউই জানতেন না, শিশুটির পরিবারের সদস্যরা কোথায় আছেন।

    জোয়ালের ডান পা ভেঙে গেছে। মুখে আঁচড় আর আঘাতের দাগ। তখনো শিশুটির বাঁ হাতে শক্ত করে ধরা ১০ রুপির দুটি নোট।

    কর্মকর্তারা জানান, যে পুলিশ সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করেছিলেন, তাঁরা রুপিগুলো দিয়েছিলেন। হাসপাতালে যেতে রাজি করাতে শিশুটিকে এই রুপি দেওয়া হয়েছিল।

    শাহানা ধীরে ধীরে জোয়ালের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জোয়াল জানায়, ঢলের মুহূর্তে সে স্কুলে পড়ছিল। হঠাৎ চারপাশটা একেবারে অন্ধকার হয়ে যায়।

    শিশুটি জানায়, এক বন্ধুর সঙ্গে সে স্কুল থেকে দৌড়ে পাহাড়ি জঙ্গলের দিকে যায়। ঢলের পানি থেকে বাঁচতে গাছে উঠে পড়ে। তখন শাহানা জানতে চান, ভয় পেয়েছিলে? জোয়াল মাথা নেড়ে বলে, ‘না’।

    মা–ছেলের আবার সাক্ষাৎ

    জোয়ালের পরিবারের সদস্যরা গতকাল কাঠমান্ডু হাসপাতালে ছুটে আসেন। আগের দিন চিকিৎসার জন্য সেখানে ছোট্ট জোয়ালকে নেওয়া হয়েছিল।

    দুর্যোগের পর থেকে বাস চলছে না। শাহানা জোয়ালের পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাতে চেপে বাড়ি থেকে দুই ঘণ্টার যাত্রা শেষে রাজধানীতে পৌঁছান তাঁরা। ছেলের শয্যার পাশে নীরবে এসে দাঁড়ান মাট্টি মায়া তামাং।

    জোয়ালের বাবা জাপানে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন। তিনিও ছেলের কাছে আসার জন্য রওনা হয়েছেন।

    বুধবারের এই দুর্যোগ রাসুয়ার মানুষের জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুশি মাট্টি মায়া তামাং। খুশি মনে রয়টার্সকে তিনি বললেন, ‘সব সময়ই ও ভীষণ দুষ্টু। হাড় ভাঙার ঘটনা ওর জীবনে এটাই প্রথম নয়।’

  • আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

    বিদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু ইন্টার্নশিপের কাজের অনুমোদন সীমিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই সরকারি নির্দেশনা না মানলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হারাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু ইন্টার্নশিপের অনুমতি সীমিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকার সতর্ক করে বলেছে, নিয়ম না মানলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হারাতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

    ২৪ আগস্ট এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সংস্থা (আইসিই যা আইস নামে পরিচিত বেশি) আইসের অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) সম্প্রতি ‘কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ বা সিপিটির অনুমোদন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরবারের নজরে এসেছে। সিপিটির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণমূলক কাজে অংশ নিতে পারেন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য, সম্প্রতি দেওয়া কিছু অনুমোদন প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণটি কোনো প্রতিষ্ঠিত পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেই কেবল সিপিটির অনুমোদন দেওয়া যায়।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘এসইভিপির নিয়ম না মানলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হারাতে পারে।’ নতুন এই নির্দেশনার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমতির আবেদন সাময়িক স্থগিত করেছে।

    ইউসিএলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ফেডারেল নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্দিষ্ট কিছু কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের অনুমোদন স্থগিত রেখেছে।

    ইউসি বার্কেলির আন্তর্জাতিক অফিস জানিয়েছে, ২৪ আগস্টের আগের আগস্টের মাঝামাঝি জারি করা নির্দেশনার তুলনায় আরও সুনির্দিষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি কঠোর। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অদূরভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমোদনের আবেদনপ্রক্রিয়া করার সম্ভাবনা কম। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগেভাগেই পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    তবে ডিগ্রি অর্জনের শর্ত পূরণের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সিপিটি আবেদন আগের মতোই প্রক্রিয়াকরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বার্কেলি। পাশাপাশি ডক্টরাল ডিসার্টেশন ও মাস্টার্স থিসিস গবেষণাসংক্রান্ত সিপিটি আবেদনও প্রক্রিয়াকরণের কাজ আবার শুরু করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন ফেডারেল বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রক্রিয়া তৈরির জন্য আইনবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

    এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস), যার অধীন আইসিই, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব বিধিমালায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে এই সুবিধার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর তদন্ত ও অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে। এর মধ্যে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানবিরোধী ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, বৈচিত্র্যবিষয়ক উদ্যোগ, জলবায়ু কর্মসূচি ও ট্রান্সজেন্ডার নীতির মতো বিষয় রয়েছে। এসব পদক্ষেপ নিয়ে অধিকারকর্মীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, একাডেমিক স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    এদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ সার্ভিসেসের ভর্তিপ্রক্রিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারীদের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বৈচিত্র্যবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিচার বিভাগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং তাদের ভর্তি নীতি আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে; এতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয়নি।

    এ ছাড়া ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। ট্রাম্প প্রশাসন এসব বিক্ষোভকে ইহুদিবিদ্বেষী এবং উগ্রপন্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখছে। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের বিরোধিতা ইহুদিবিদ্বেষ নয় এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে উগ্রপন্থীদের সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

  • আশপাশের দেশ থেকে মাদক ঢুকিয়ে দেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    আশপাশের দেশ থেকে মাদক ঢুকিয়ে দেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    তরুণদের মাদক থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করার জন্য আমরা (সরকার) শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমাদের দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য আশপাশের দেশ থেকে মাদকটাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা আমাদের ভাবমূর্তি, অর্জন ও মেধাকে ধ্বংস করে দিতে চক্রান্তে লিপ্ত। এজন্য আমরা চাই তরুণ সমাজকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে। শিক্ষাকে যদি অগ্রাধিকার দিতে পারি তাহলে সমাজের অবক্ষয় থেকে মুক্তি হতে পারবো।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের সদর ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় এসএসসিসহ সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর সোসাইটির ব্যানারে শহরের টাউন হল মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

    শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, অভাব অনটনে আমরা এই বাংলাদেশ পরিচালনা করছি। একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পর আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা-স্বাস্থ্য এদিকে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করছেন। একটি নকলমুক্ত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম যেন চলে, সেটা আমাদের চ্যালেঞ্জের অংশ।

    লক্ষ্মীপুর সোসাইটির সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপির সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হানিফ মুরাদ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইউছুফ প্রমুখ।

  • শত বছর পর ক্যানসার টিকায় সাফল্য !

    শত বছর পর ক্যানসার টিকায় সাফল্য !

    ক্যানসারের চিকিৎসায় শত বছরের ব্যর্থতার পর নতুন আশার আলো দেখিয়েছে মডার্না ও মার্কের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমআরএনএ ক্যানসার টিকা। প্রাথমিক পর্যায়ের নয়, বরং শেষ ধাপের পরীক্ষায় এই প্রথম কোনো থেরাপিউটিক ক্যানসার টিকা সফলতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্কের তৈরি টিকাটি ১ হাজারের বেশি রোগীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ের মেলানোমা ক্যানসার অস্ত্রোপচারের পর পুনরায় ফিরে আসা বা শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে গবেষক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি ‘পার্সোনালাইজড’ বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকার নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।

    ফোনকলেই এলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার খবর

    গত ১৩ আগস্ট রাতে বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে একটি লেবানিজ রেস্তোরাঁয় ছিলেন মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টেফান বানসেল। সেখানেই তিনি পান বহুল প্রতীক্ষিত ফোনকলটি—মডার্না ও মার্কের যৌথভাবে তৈরি ক্যানসার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হয়েছে।

    বানসেল জানান, খবরটি তাকে ২০২০ সালের শেষ দিকে মডার্নার কোভিড-১৯ টিকার পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে আনন্দের মুহূর্ত খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। ফলাফল হাতে আসার পরপরই পরবর্তী করণীয় নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়।

    মার্ক রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের প্রেসিডেন্ট ডিন লির কাছেও বিষয়টি ছিল একই রকম। তার ভাষায়, এটি শুধু ‘আনন্দের মুহূর্ত’ নয়—বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করার সময়।

    এক দশকের গবেষণার ফল

    মডার্না ও মার্কের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রায় এক দশকের গবেষণা। ২০১৬ সালে ক্যানসারের টিকা তৈরির জন্য আনুষ্ঠানিক অংশীদারত্ব করে দুই প্রতিষ্ঠান। চুক্তির আওতায় মার্ক ২০১৬ সালে ২০ কোটি ডলার এবং ২০২২ সালে আরো ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে। গবেষণার খরচ ও ভবিষ্যৎ মুনাফা দুই প্রতিষ্ঠান ভাগ করে নেওয়ার কথা।

    সেই সময় মার্কের ক্যানসার চিকিৎসার ওষুধ কিট্রুডা নতুন ধরনের ইমিউনোথেরাপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। এই ধরনের ওষুধ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা থেকে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বাভাবিক বাধা সরিয়ে দেয়।

    মার্কের গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, কিট্রুডা বিজ্ঞানীদের দেখিয়েছে যে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু ক্যানসার কোষও নিজেদের রক্ষার জন্য নানা ধরনের বাধা তৈরি করে। কিট্রুডা সেই বাধা দূর করতে সাহায্য করে।

    এরপর গবেষকেরা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় খুঁজতে থাকেন। তবে বহু প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    মডার্নার সাবেক প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা তাল জ্যাকসও ক্যানসারের টিকা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার ভাষায়, অতীতে তারা বহুবার ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু এমআরএনএ প্রযুক্তি, ক্যানসারের জেনেটিক সিকোয়েন্সিংয়ের খরচ কমে যাওয়া এবং ইমিউনোথেরাপির অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।

    কীভাবে কাজ করবে এই টিকা?

    নতুন টিকাটির নাম ইন্টিসমেরান অটোজিন । এটি প্রচলিত টিকার মতো কোনো সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য নয়। বরং রোগীর নিজের ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সেই ক্যানসার কোষ আক্রমণ করতে প্রশিক্ষিত করে।

    এ ক্ষেত্রে প্রথমে রোগীর টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর ওই রোগীর ক্যানসারে থাকা নির্দিষ্ট মিউটেশন বা জেনেটিক পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা তৈরি করা হয়।

    আগের ক্যানসার টিকাগুলো সাধারণত একটি বা দুটি নির্দিষ্ট মিউটেশনকে লক্ষ্য করার চেষ্টা করত। কিন্তু নতুন এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক বেশি মিউটেশনকে লক্ষ্য করা সম্ভব হয়েছে।

    এই টিকাটি সর্বোচ্চ ৩৪টি নির্দিষ্ট ক্যানসারের লক্ষ্যবস্তু বা ‘টার্গেট’কে শনাক্ত করার জন্য রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করতে পারে। ফলে কোনো একটি লক্ষ্যবস্তু কাজ না করলেও অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তু ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

    মেলানোমাকেই কেন বেছে নেওয়া হলো?

    গবেষকেরা প্রথমে মেলানোমা ক্যানসারকে বেছে নেন। কারণ অন্যান্য অনেক ক্যানসারের তুলনায় মেলানোমায় জেনেটিক মিউটেশনের সংখ্যা বেশি। একই সঙ্গে এই ক্যানসারের বিরুদ্ধে কিট্রুডার কার্যকারিতারও ভালো রেকর্ড রয়েছে।

    গবেষণায় এমন রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের প্রাথমিক পর্যায়ের মেলানোমা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর হাতে থাকা সময়টি গবেষকদের রোগীর টিউমারের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা তৈরির সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া তৈরির জন্যও পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় সময়।

    গবেষকেরা টিকাটিকে কিট্রুডার সঙ্গে ব্যবহার করেছেন। কিট্রুডা শরীরের টি-সেল বা রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোকে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে সহায়তা করে, আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা ওই টি-সেলগুলোকে নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষ শনাক্ত করার ‘ঠিকানা’ বা লক্ষ্যবস্তু দেয়।

    বাজারে এলে শত কোটি ডলারের সম্ভাবনা

    টিকাটি সফলভাবে অনুমোদন পেলে মডার্না ও মার্ক—দুই প্রতিষ্ঠানই বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এর অনুমোদন আগামী বছরই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    মার্কের জন্য এই টিকার সাফল্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চলতি দশকের শেষ দিকে কিট্রুডার পেটেন্ট সুরক্ষা শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে কোভিড-১৯ টিকার চাহিদা কমে যাওয়ার পর মডার্নার জন্য ক্যানসার টিকা নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

    টিকার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মডার্নার শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে টিকাটি বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বিক্রি করতে পারে।

    সামনে আরো বড় পরীক্ষা

    তবে গবেষকদের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মেলানোমার মতো যেসব ক্যানসারে জেনেটিক মিউটেশনের সংখ্যা বেশি, সেখানে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর—তা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। কিন্তু ফুসফুস, কিডনি ও অগ্ন্যাশয়ের মতো তুলনামূলক কম মিউটেশনযুক্ত ক্যানসারে একই পদ্ধতি সফল হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

    গবেষকেরা মেলানোমার পরীক্ষার তথ্য আরো বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে টিকাটির কার্যকারিতা বাড়ানোর পথও খুঁজছেন।

    মডার্নার সিইও স্টেফান বানসেলের কথাতেও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ইঙ্গিত রয়েছে। তার মতে, বর্তমান সংস্করণটিই ইন্টিসমেরানের শেষ সংস্করণ নয়।

    শত বছরের ব্যর্থতার পর এই সাফল্য তাই শুধু একটি নতুন ক্যানসার টিকার সম্ভাবনাই তৈরি করেনি; বরং প্রতিটি রোগীর ক্যানসারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা করে তৈরি চিকিৎসার একটি নতুন যুগের সম্ভাবনাও সামনে এনেছে।

  • আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই ন্যূনতম তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে দেশ।

    আজ শনিবার যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব তো তেলের ওপর ভাসছে। সেখানে কেন তেলের দাম বাড়লো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন তেল-গ্যাসের দাম বাড়লো? বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশে সরকার কতদিন সমন্বয় না করে থাকবে?

    তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার জনগণের কথা ভেবে সমন্বয় করছে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে পরিমিতিবোধ তৈরি করার পাশাপাশি বাচ্চাদেরও পরিমিত ব্যবহার শেখাতে হবে।

    শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব বিস্তার কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক, পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, যশোর বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষকরা।

  • ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৯৯৬

    ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৯৯৬

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৯৯৬ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৯১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৬ জন, রংপুর বিভাগে ২১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৪ এবং সিলেট বিভাগে তিন জন রয়েছেন।চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৮৬ জন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৩১ হাজার ৩৯৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বর্তমানে হাসপাতালে দুই হাজার ১০১ জন চিকিৎসাধীন আছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বরাদ্দ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

    র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বরাদ্দ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি দেশীয় মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং বিবেচনা করে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় র‍্যাংকিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট বরাদ্দ করা হবে। আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি দেশীয় মানদণ্ডের র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা তৈরি করতে। এতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেই সুযোগ তৈরি হবে।

    দেশীয় র‍্যাঙ্কিং চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। দ্রুতই আপনারা এর ফল দেখতে পারবেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা ও মান বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

    এ সময় দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দ্বিতীয় ভাষা আমাদের অগ্রাধিকারের অংশ। আমরা ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করেছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ভাষা ইনস্টিটিউট রয়েছে। এটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে, যাতে এখানে শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার আরও ভালো ব্যবস্থা করা যায়।

    নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় এক ঘণ্টা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টিভির মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এসএম তারিক।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কয়েকজন শিক্ষার্থী টেবিলে বই খুলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

    পরে সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিক রাব্বি ও এসএম তারিক গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এর সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, হল সুপারসহ কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ—দুই বিষয়েই প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

  • নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হলে দেশ এগিয়ে যাবে। একটি পরিবারের মেয়েরা শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুঃস্থ, অসহায়, মেধাবী শিক্ষার্থী, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, একটি পরিবারের মেয়েরা যদি শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হয়, তাহলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই আমরা মা ও মেয়েদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এসব নারী ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের যদি আমরা সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আগামী দিনে বদলে যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সবাই ভালো থাকবে। মনের মধ্যে ক্রোধ না রেখে, সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তি মূলক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন স্তরে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে যেসব অনুদান দিচ্ছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। অনুদানের অর্থ দিয়ে সবজি চাষ, বাগান, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করলে, ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। এতে সন্তানদের পড়াশোনা, খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত ও চিকিৎসার খরচ বহন করা সহজ হবে। আমরা দেশের সকল পরিবারের মেয়েদের এসব সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে সরকারি সহযোগিতায় প্রত্যেক পরিবারের স্বচ্ছলতা বাড়ে। একটি নারীকে স্বাবলম্বী করা মানে, পুরো পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পথ তৈরি ও অগ্রগামী করার বাস্তবতা স্থাপন হয়।

    ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শামীম হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ ও পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট এবং হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হারেজ উদ্দিন, মন্ত্রীর পিএস ডা. জাবেদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাছুদ রানা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল বিতরণ করেন। এছাড়া ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ১১ জন, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, দুস্থ ১০৬ জন ব্যক্তি ও আদিবাসী ৬৪ জনসহ ১৮টি মসজিদ ও ৬টি মন্দিরে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

  • বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

    বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বগুড়া পৌর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ছানি রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ক্যাম্পে শনাক্ত হওয়া ৫০০ ছানি রোগীর লেন্সসহ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

    চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। তিনি ক্যাম্পের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি রোগীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ সেক্টরের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আহমেদ তাহের হামিদ আলী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির নেতা ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উল নবী সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বগুড়ার নেতৃবৃন্দের মধ্যে ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, ডা. আফসারুল হাবিব রোজ, আমিনুল হক দেয়ান সজল ও ডা. ইউনুস আলী, আল-নূর চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু সাঈদ, আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের ফ্রি ক্যাম্পিং ম্যানেজার মো. ওবায়দুজ্জামান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সুজন এবং গাবতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মজনুসহ চিকিৎসকরা।

    আয়োজকরা জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ সময়মতো প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

  • আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪২ জন। এ সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৮ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ২৮০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ৯৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন এবং রংপুরে ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৪৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৯০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী।

  • গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    রাশিদুল ইসলাম বোরহান গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় এক ঘণ্টা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টিভির মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এসএম তারিক।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কয়েকজন শিক্ষার্থী টেবিলে বই খুলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

    পরে সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিক রাব্বি ও এসএম তারিক গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এর সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, হল সুপারসহ কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ—দুই বিষয়েই প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

  • শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই ঘাতক। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের সময় গৃহকর্তা গণপতি দেখে ফেলায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে চালাতে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে চম্পট দেয় মাদকাসক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

    গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার সার্বিক পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদেই হত্যা করা হয়। পরে গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

    আরএমপি কমিশনার বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জানায়, গত ২০ আগস্ট রাত ১২টার পর সে ইয়াবা নিয়ে অপর আসামি মুগ্ধসহ তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় যায়। সেখানে তারা তিনটি ইয়াবা সেবন করে। রাত ৩টার দিকে আরো ইয়াবা খাওয়ার ইচ্ছা হলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তকে ফোন দিয়ে আরো চারটি ইয়াবা চায়। এরপর তারা গণপতির বাসার ছাদে যায়।

    শিক্ষক গণপতির ছাদের চারদিকে অর্ধেক দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে দেখা যেত না। বাসার ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকে। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। সে রাতে তারা দুজন আটটি ইয়াবা সেবন করেছিল। সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’

    জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরএমপি কমিশনার বলেন, তখন মানসম্মানের ভয়ে তাদের মাথা কাজ করছিল না। শিক্ষক গণপতিকে চিল্লাচিল্লির সুযোগ না দিয়ে তারা দুজন তাকে ধরে ফেলে এবং ধস্তাধস্তি হয়। তার ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুদিক থেকে টান মেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার লাশ টিন দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন। তারা দু-তিনবার চিৎকার দিলে মুগ্ধ শিক্ষক গণপতির স্ত্রীর গলা এবং সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা চেপে ধরে। পাঁচ মিনিটের মতো ধস্তাধস্তির পর তারা দুজনকে মেরে ফেলে। সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেছিল। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর দুজন মিলে গামছা দিয়ে আবার মেয়ের গলায় প্যাঁচ দেয়। তাতেও মেয়ে না মরলে পাশের কবুতরের খাবার রাখার বক্স থেকে রশি এনে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে দুদিক থেকে টান দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না সে ভয়ে সিদ্ধার্থ ছাদ থেকে নিচে নেমে পুরোনো প্লায়ার্স দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেয়, যাতে সিসিটিভি থাকলে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। তখন মুগ্ধ ছাদে ছিল। এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে ফিরে যায় এবং দুজনে মিলে মা-মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরের সিঁড়ির দিকে এমনভাবে রাখে যেন পাশের ছাদ থেকে দেখা না যায়।

    এরপর তারা দোতলায় শিক্ষকের রুমে ঢোকে। তখন ১২ বছর বয়সি ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থকে দেখে বলে ওঠে ‘সিদ্ধার্থ দা, তুমি এখানে কেন?’ তখন তারা তাকে পেটিকোট দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।

    এরপর আসামিরা খুব ক্লান্ত হয়ে বাথরুমে গিয়ে গায়ে-মাথায় পানি ঢালে এবং তাদের কাছে থাকা আরো একটি ইয়াবা সেবন করে। ডাকাতি বা চুরির নাটক সাজাতে মুগ্ধর বুদ্ধিতে তারা ঘরের আলমারি, ড্রয়ার, জামাকাপড় ও খাতা-বই ওলটপালট করে। মুগ্ধ স্বর্ণালংকার এনে দিলে সিদ্ধার্থ তা প্লাস্টিকের বাক্সে ও কাপড়ের প্যাকেটে ঢোকায়। ঘরে তারা ১৫ হাজার টাকা নগদ পায়।

    জুমার নামাজের সময় রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেলে তারা শিক্ষক গণপতির ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যায়। মুগ্ধ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আর সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগ নিয়ে গলির ভেতর দিয়ে নিজের বাসায় চলে যায়। ওই সন্ধ্যায় সবার অগোচরে সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগটি তার পূর্ণিমা কাকির বাসার পেছনের মাটিতে পুঁতে রাখে।

    অপর আসামি মুগ্ধর স্বীকারোক্তির সারসংক্ষেপও প্রায় একই রকম উল্লেখ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, আসামি মুগ্ধকে তিন কিলোমিটার দূরের এক শ্মশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে পালিয়ে গিয়ে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে পানি ও আশ্রয় চেয়ে সে স্বীকার করে, ‘দাদা, আমাকে পানি ও আশ্রয় দাও। আমি আর সিদ্ধার্থ মিলে গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে এসেছি।’ কিন্তু বিদ্যুৎ তাকে আশ্রয় দেয়নি। এর পরপরই পুলিশ পৌঁছে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুৎ আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহত আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর লাশের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় লাশ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, লাশের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।

    গত বুধবার রাতে সিদ্ধান্তের ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করে বলেছিলেন, বাড়ির আলামত নষ্ট করার জন্য পুলিশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তার এ দাবির বিষয়ে আরএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছে। এগুলো বলে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা মাত্র।

  • ইখতেয়ারের খামারে তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার

    ইখতেয়ারের খামারে তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার

    বিসিএস ক্যাডারে চাকরির সুযোগ, সরকারি কলেজে শিক্ষকতার সম্ভাবনা, একাধিক ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—সবই ছিল ইখতেয়ার উদ্দিন আহমেদ মুন্নার সামনে। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার পথও খোলা ছিল। কিন্তু এসবের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত তাকে আটকে রাখতে পারেনি। নিজের এলাকার কৃষি ও মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদে নিরাপদ চাকরি ছেড়ে তিনি নেমেছেন কৃষির মাঠে।

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকী গ্রামে প্রায় দুই বছর আগে গড়ে তোলেন ‘এমএম এগ্রো’ নামে সমন্বিত কৃষি খামার। এখানে একই সঙ্গে চলছে মাছ চাষ, মুরগি পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, নেপিয়ার ঘাস ও সবজি চাষ এবং ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। খামারের একটি প্রকল্পের বর্জ্যই আবার অন্য প্রকল্পের সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কমছে উৎপাদন খরচ, তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান; পাশাপাশি জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষারও চেষ্টা চলছে।

    চাকরি থেকে কৃষির মাঠে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষে ২২তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুযোগ পান ইখতেয়ার। তার পোস্টিং হয়েছিল কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে। তবে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ না দিয়ে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হন তিনি।

    ইউসিবিএল, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে কাজ করেছেন। ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় যুক্ত হন। ঠিকাদারি, কনস্ট্রাকশন ও গার্মেন্টস ব্যবসাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে কৃষির সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই ভাবনা থেকেই চরটেকীতে শুরু করেন এমএম এগ্রো।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘আমি মূলত কমার্শিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ। কৃষিতে আগে থেকে খুব বেশি অভিজ্ঞতা ছিল না। এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। কোনো কিছু করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে শিখেছি। এই শেখাটাকেই আমি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ মনে করি।’

    এক খামারে অনেক প্রকল্প

    প্রায় ১৮ থেকে ২০ বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে চলছে এমএম এগ্রোর কার্যক্রম। রয়েছে চারটি ফিশারি। এসব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। আছে প্রায় দুই হাজার ফাওমি মুরগি। চলছে ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণ। গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য চাষ করা হচ্ছে নেপিয়ার ঘাস। পাশাপাশি গবাদিপশুর বর্জ্য ও জৈব উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার।

    তবে ইখতেয়ারের উদ্যোগের বিশেষত্ব শুধু একসঙ্গে এতগুলো প্রকল্প চালানো নয়। তার পরিকল্পনা হলো, একটি প্রকল্পের উৎপাদিত উপকরণ যেন অন্য প্রকল্পে কাজে লাগে।

    নেপিয়ার ঘাস গরু-ছাগল ও গ্রাস কার্পের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। গবাদিপশুর বর্জ্য ও অন্যান্য জৈব উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে। অর্থাৎ খামারে বর্জ্যও হয়ে উঠছে সম্পদ।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘১০ টাকায় কিনে ৯ টাকায় বিক্রি করলে যত ব্যবসাই করেন, কোনো লাভ নেই। তাই কীভাবে উৎপাদন খরচ কমানো যায়, সেটাই বড় বিষয়।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। তাই কৃষিনির্ভরতা আরও বাড়ানো এবং কৃষিকে আরও উন্নত করা দরকার। আমি মনে করি, এটিই প্রকৃত উন্নয়ন—কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন।’

    মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় কেঁচো সার

    এমএম এগ্রোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ভার্মি কম্পোস্ট। গবাদিপশুর বর্জ্য ও বিভিন্ন জৈব উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে এই সার। উদ্যোক্তার কাছে এটি শুধু ব্যবসার একটি খাত নয়; কৃষির ভবিষ্যতের সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘আমাদের মাটিতে জৈব উপাদান কমে যাচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য ঠিক না রেখে কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি চাই, ভার্মি কম্পোস্ট শুধু আমার খামারে নয়, ঘরে ঘরে তৈরি হোক।’বর্তমানে এ প্রকল্পের উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে কেঁচো সার বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

    খামার ঘিরে কর্মসংস্থান

    এমএম এগ্রো এখন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও জায়গা। খামারের বিভিন্ন প্রকল্পে স্থায়ী ও স্থানীয় মিলিয়ে প্রায় আটজন কাজ করছেন। এর বাইরে ভার্মি কম্পোস্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন কাজে আরও স্থানীয় যুবকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    খামার পরিচর্যা কর্মী রবি বলেন, ‘এখানে গরু, মাছ, ভার্মি কম্পোস্ট ও মুরগির প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজে প্রায় আটজন যুক্ত আছি। এর মধ্যে ছয়জন স্থায়ীভাবে কাজ করেন, আর স্থানীয় আরও দুজন রয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বেতন পাই। প্রয়োজন হলে মাস শেষ হওয়ার আগেও বেতন থেকে অগ্রিম নিতে পারি। ঘাস কাটা, গোবর সংগ্রহ, জৈব সার তৈরির উপকরণ সংগ্রহ, মুরগিকে খাবার ও পানি দেওয়া—এসব কাজ করতে হয়।’

    কর্মী রিপন বলেন, ‘আমি এখানে প্রায় এক বছর ধরে কাজ করছি। এই কাজ করে আমার চার সদস্যের পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি। খামারটি যত বড় হবে, তত বেশি মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।’

    পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাজ

    খামারে শুধু পূর্ণকালীন কর্মীরাই নন, পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও কাজ করছেন। পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নিলয় তাঁদের একজন।

    নিলয় বলেন, ‘আমার দাদা এখানে কাজ করেন। তাঁর সঙ্গে আমিও কলেজের সময়ের ফাঁকে ফাঁকে এখানে কাজ করি। এখানে আমার মতো আরও চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী আছে, তারাও পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে।’তিনি বলেন, ‘এই কাজ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে আমরা নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারি। নিজেরা কিছুটা আয় করে পড়াশোনার খরচ দিতে পারছি—এতে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’

    ব্যবস্থাপনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য

    খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বদিউল আলম। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত হন।

    বদিউল আলম বলেন, ‘কে কী কাজ করছে, কোন জায়গায় কী করতে হবে—সবকিছুর দেখাশোনার দায়িত্ব আমার। এক কথায়, পুরো খামার পরিচালনার দায়িত্ব আমি পালন করছি।’

    কেঁচো সার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা যে সার উৎপাদন করছি, কৃষকরা সেটা ব্যবহার করলে ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।’

    ইখতেয়ারের বড় ভাই ইলিয়াস উদ্দিন চুন্নুর চোখে, চাকরির নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছেড়ে কৃষিতে আসার পেছনে তার ভাইয়ের ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই সবচেয়ে বড় বিষয়।

    তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই বিসিএস ক্যাডার ও ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা ছিল। সেই নিরাপদ জায়গাগুলো ছেড়ে নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা থেকেই কৃষিতে এসেছে।’তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখেননি তারা। ইলিয়াস উদ্দিন চুন্নু বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা লাভের মুখ দেখছি না। কিন্তু সে বলে, পিছু হটব না। একবার না পারলে শতবার চেষ্টা করব। দেখতে দেখতে একসময় সফলতা আসবে।’

    কৃষি বিভাগের আশাবাদ

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে-ই-আলম বলেন, ‘ইখতেয়ার উদ্দিনের এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তার উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্টে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন যুবক কাজ করছেন।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষির গুণগত পরিবর্তন ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় জৈব উপকরণও এখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও স্থানীয় যুবকেরা যুক্ত হয়েছেন। ফলে একদিকে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে এটি একটি উৎপাদনশীল কৃষি খামার হিসেবেও গড়ে উঠছে।’

    সামনে আরও বড় স্বপ্ন

    এখনো নিজের উদ্যোগকে সফল বলে মনে করছেন না ইখতেয়ার। বরং ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত কৃষি মডেল গড়ে তুলতে চান তিনি। ভবিষ্যতে ডেইরি ও আরও কিছু কৃষিভিত্তিক প্রকল্প যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘অন্যান্য ব্যবসা থাকার পরও কৃষির প্রতি আমার আগ্রহ বেশি। আমি চাই, এটাকে আরও বড় করা যায়। একদিনে কিছু হয়নি। আস্তে আস্তে একটার পর একটা প্রকল্প যুক্ত করেছি। সামনে আরও বড় করার ইচ্ছা আছে।’

    চাকরির নিরাপদ পথ ছেড়ে কৃষিতে আসা ইখতেয়ারের এমএম এগ্রো এখনো সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছায়নি। তবে মাছ, গরু, মুরগি, ঘাস ও কেঁচো সারকে একই উৎপাদনচক্রে যুক্ত করে তিনি যে পথ তৈরি করছেন, তাতে একদিকে কৃষির নতুন সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ। তাঁর স্বপ্ন—এই ছোট উদ্যোগ একদিন বড় হবে, আর সেই সঙ্গে বড় হবে মাটি ও মানুষের জন্য কিছু করার পরিসর।

  • মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা

    মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেন আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

    তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকা, ইভটিজিং প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়া এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন।

    সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সচেতনতামূলক এ আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খোকসা থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • ধ্বংসের হুমকিতে ফিলিস্তিনের ৮৪ স্কুল

    ধ্বংসের হুমকিতে ফিলিস্তিনের ৮৪ স্কুল

    ফিলিস্তিনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দেশটির আরও একটি স্কুল। অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার শা’ব আল-বুতুম স্কুলের দুটি প্রশাসনিক কক্ষ ও একটি স্টোররুম গত ৪ আগস্ট গুঁড়িয়ে দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল বলছে—নির্মাণের অনুমতি না থাকায় এসব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু স্কুলটির বাকি অংশও এখন ধ্বংসের হুমকিতে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা।

    মাসাফের ইয়াত্তার স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানের দাবি, পুরো এলাকায় থাকা সাতটি স্কুলই এখন ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

    জাতিসংঘের হিসাবে, পশ্চিম তীরের এরিয়া সি ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা ৮৪টি ফিলিস্তিনি স্কুল বর্তমানে ধ্বংসাদেশ বা নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশের আওতায় রয়েছে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, স্কুল ধ্বংসের পাশাপাশি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও চলাচলে বিধিনিষেধও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

    জাতিসংঘ বলছে, এরিয়া সি-তে ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলি নির্মাণ অনুমতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফলে ধ্বংসের হুমকিতে থাকা স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের সহজে অন্য স্কুলে স্থানান্তর করাও সম্ভব নয়।

    শিক্ষাবর্ষ শুরুর মুখে তাই বই-খাতা নিয়ে স্কুলে ফেরার বদলে, ফিলিস্তিনি শিশুদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে—তাদের স্কুলটি আদৌ টিকে থাকবে কি না, সেই অনিশ্চয়তায়।

  • হলি ক্রস কলেজে বিবাহিতদের ভর্তি নিষেধ, বিয়ে করলে টিসি

    হলি ক্রস কলেজে বিবাহিতদের ভর্তি নিষেধ, বিয়ে করলে টিসি

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিবাহিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেবে না রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলি ক্রস কলেজ। কলেজের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিবাহিতদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেয়া হবে।

    কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০, মানবিক বিভাগে জিপিএ ৩.০০ থেকে ৫.০০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ ৪.০০ থেকে ৫.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

    এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮০টি এবং মানবিক বিভাগে ২৭০টি আসন রয়েছে।

    ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে হবে। কলেজের ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত লিংকে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করে বিকাশের মাধ্যমে চার্জ ছাড়া ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পর আবেদন ফরম ও ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (Admit Card) ডাউনলোড করা যাবে।

    ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সিলেকশন টেস্টে অংশ নিতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সিলেকশন টেস্ট হবে ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) এবং বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা হবে ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)।

    সিলেকশন টেস্টের শিফট ও সময় ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার পর কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। আর সিলেকশন টেস্টের বিস্তারিত আসন ব্যবস্থা—ভবনের নাম ও রুম নম্বরসহ—৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুর ১টার পর প্রকাশ করা হবে।

    সিলেকশন টেস্টে বিজ্ঞান বিভাগের বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা হবে। মানবিক বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, ভূগোল, পৌরনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস ও সাধারণ জ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, ব্যবসায় উদ্যোগ ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    সিলেকশন টেস্টে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর কলেজের ওয়েবসাইট, হলি ক্রস কলেজ ফেসবুক পেজ ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।

    চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে ভর্তি টাকা জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি টাকা জমা না দিলে ভর্তির সুযোগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি, কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, শরীরচর্চা ও সহ-পাঠ্যক্রম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    ভর্তি-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য কলেজের ওয়েবসাইট www.hcc.edu.bd ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

  • দাখিল ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ২ সেপ্টেম্বর

    দাখিল ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ২ সেপ্টেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দাখিলের ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরমপূরণ শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর। চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অনলাইনে বোর্ড ফি জমা দেয়া যাবে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ফরম পূরণের মোট ফি ৬০০ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, দাখিল ৮ম শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর ফরমপূরণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে যথা সময়ের মধ্যে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশাগুলো হলো- অনুমোদিত দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে শতকরা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ দাখিল ৮ম শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ফরমপূরণ করতে পারবে; প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ৪০০ টাকা বোর্ড ফি বাবদ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুকূলে অনলাইনে জমা দিতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ২০০ টাকা কেন্দ্র ফি বাবদ সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় জমা দিতে হবে। অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র ফি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বা সুপারিনটেনডেন্ট কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের অনুকূলে জমা দিতে হবে; প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ফরমপূরণ প্রক্রিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।অনলাইনে ফরমপূরণ এবং ফি প্রদান প্রক্রিয়া- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইন সেবা-২ প্যানেলে e-SIF/e-FF এ ক্লিক করে JDC/৮ম বৃত্তি e-FF ২০২৬ সিলেক্ট করে Ccontinue বাটনে click করে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার EIIN ও Password দিয়ে Login করে Probable List এ যেতে হবে এবং Print করে হার্ডকপিতে লালকালি ব্যবহার করে টিক চিহ্ন দিয়ে পরীক্ষার্থী নির্ধারণ করতে হবে; এ হার্ডকপি অনুসরণ করে কম্পিউটারে প্রদর্শনকৃত Probable List থেকে পরীক্ষার্থী Select করতে হবে; Probable List থেকে পরীক্ষার্থী Select করা হলে একটি Temporary List তৈরি হবে; Temporary List প্রিন্ট করে যাচাই বাছাই করে প্রয়োজন হলে পরীক্ষার্থী Select/Unselectকরা যাবে; এরপর পেমেন্ট বাটনে ক্লিক করে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ফরমপূরণের ফি দিতে হবে; ফি এর টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে Final Candidate List Print Active হবে; Final Candidate List Print করে পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় মাদ্রাসা প্রধান স্বাক্ষর করবেন; প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থেকে ফরমপূরণের কাজ একইভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাপ আতঙ্ক

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাপ আতঙ্ক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপ দেখা গেছে। জনবহুল অফিসে সাপের উপস্থিতির মতো এমন বিরল ঘটনায় কর্মকর্তার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯ তলার করিডোরে সাপগুলো দেখা যায়।

    এত উঁচু ভবনের ১৯ তলায় সাপ উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ধারণা, ভবনের কোনো স্টোরেজে আরো সাপ থাকতে পারে।রাজধানী ঢাকায় বসবাস উপযোগী নয় বলে সাপের উপস্থিতি দেখা যায় না সচারাচার। তবে সাপগুলো কোন প্রজাতির তা নিশ্চিত জানা যায়নি।

    গত বছরের নভেম্বরে রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় সবচেয়ে সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। সে সময় সব থেকে বেশি সংখ্যক সাপ দেখা যায় রাজধানীতে। গত বছরে চার মাসে ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা থেকে তিনশো’র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

    এর আগেও ঢাকায় কিছুসংখ্যক বিষধর সাপ পাওয়া গেলেও সেবারই প্রথম এতো বেশিসংখ্যক সাপের খবর পাওয়া গেছে।

    কিন্তু ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরণের বিষধর সাপ পাওয়ায় গবেষকদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, আবার কোনো কোনো গবেষক বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।

    ঢাকার বনশ্রী, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, বসিলা, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, খিলগাঁও, কচুক্ষেত, মিরপুর-২, নিকেতন, উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখান থেকে এখন পর্যন্ত বিষধর সাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ পাওয়া গেছে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায়।

  • ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি’

    ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি’

    সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা এবং নিজেকে শিক্ষক মনে করার মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন—এমন দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই।’

    বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আজ নতুন করে এসব শব্দ উচ্চারণ করেননি; বরং সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলে আসছেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

  • স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের রাখার বিপক্ষে ৯৬ শতাংশ

    স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের রাখার বিপক্ষে ৯৬ শতাংশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা থাকতে পারবেন না। বরং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই কমিটিতে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। এমতাবস্থায় দেশের ৯৬ শতাংশ মানুষও তাদের সঙ্গে একমত। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের রাখার বিপক্ষে মত দিয়েছেন তারা।

    দৈনিক শিক্ষাডটকমের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে জরিপে অংশ নেয়া ৩ শতাংশ মানুষ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের থাকার পক্ষে। আর অবশিষ্ট ১ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে বিপক্ষে কোনো মতামত দেননি।

    গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত দৈনিক শিক্ষাডটকমের ওয়েবসাইটে এই জরিপ চালানো হয়। দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিচালিত এই জরিপে অংশ নিয়েছেন মোট ছয় হাজার ৪৬২ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ছয় হাজার ১৯২ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২২২ জন। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো মন্তব্য করেননি ৪৮ জন।

    জরিপে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতা থাকতে পারবেন না—ডেপুটি স্পিকারের মন্তেব্যের সঙ্গে আপনিও কি একমত? জরিপে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ এর পাশাপাশি ‘মন্তব্য নেই’ নামে আরেকটি ঘর ছিলো।

    প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কায়সার কামাল আরো বলেন, বিগত দিনে দলীয়করণের অপসংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, স্কুলের পরিচালনা কমিটির কাছে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হয়। যারা রাজনীতি করবেন, তাদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। একজন শিক্ষক আজীবনই শিক্ষক। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তারা সমাজের কাছে “স্যার” বা “ম্যাডাম” হিসেবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র।

  • শিগগিরই চালু হবে মায়েদের রান্না করা মিড-ডে মিল

    শিগগিরই চালু হবে মায়েদের রান্না করা মিড-ডে মিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে।’বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহিদ সাটু হলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।’

    মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্প আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো- কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

    একই সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদটি প্রথম কোথা থেকে ছড়ানো হয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে নিসচা। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সবশেষে ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুন্দর জীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে নিসচার নেতৃবৃন্দ।

  • প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    অনেকদিন ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় এই শূন্যপদ পূরণে অবশেষে অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা প্রণয়নের পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। পরে সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে।

    পিএসসির অনুমোদন মিললে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় তিন মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, মামলার জটিলতা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বাকি কাজ শিগগির শেষ হবে।

    পদোন্নতি আটকা ছিল যে মামলায়

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা দীর্ঘদিনের। শূন্যপদ থাকলেও এসব পদে বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না। এর পেছনে ছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতা।

    ২০১৩ সালে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়।

    মামলার কারণে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকে ছিল।দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়।

  • চবিতে ১২ ফুট লম্বা বার্মিজ অজগর উদ্ধার

    চবিতে ১২ ফুট লম্বা বার্মিজ অজগর উদ্ধার

    ফিচার

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ১২ ফুট লম্বা একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে সাপ ও সাপের দংশন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করা সংগঠন সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেস (3SA) এর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করেন।

    পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর বনাঞ্চলে অজগরটি অবমুক্ত করা হয়।

    সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের মসজিদের পাশের ভাই ভাই স্টোরসংলগ্ন একটি বিল্ডিং থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়।

    জিরো পয়েন্টের ইমাম মো. ইয়াকুবের হেল্পলাইনে ফোন পেয়ে 3SA-এর উদ্ধারকারী দলের সদস্য মো. ইমরান, মো. জাহিদ ও মো. জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া অজগরটি বার্মিজ প্রজাতির এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট ও ওজন প্রায় ২০ কেজি।

    3SA-এর রেসকিউ টিমের সদস্য মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘এটি বার্মিজ জাতের। প্রায় ১২ ফুট লম্বা এবং ওজন ২০ কেজি।

    উদ্ধার করার পর আমরা এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর বনাঞ্চলে অবমুক্ত করেছি। খাবারের অভাব, পাহাড় কেটে ফেলা ও আবাসস্থল ধ্বংসসহ নানা কারণে এ ধরনের সাপ লোকালয়ে চলে আসে’।

  • ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৫৫০

    ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৫৫০

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ৫৫০ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৪৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০২ জন, খুলনা বিভাগে ৩৮ জন, রংপুর বিভাগে আট জন, বরিশাল বিভাগে ছয় জন এবং সিলেট বিভাগে তিন জন রয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোটডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৩৮০ জন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ যাবত মোট ২৯ হাজার ৬৫২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে দুই হাজার ৮০ জন চিকিৎসাধীন আছেন।২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের ৭ নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের ৭ নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ ঘিরে দেশজুড়ে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোতে লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনসহ সাত ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানানো এবং প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সভায় প্রতিযোগিতার প্রচার-প্রচারণা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সব অফিস তাদের আওতাধীন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে প্রতিযোগিতার লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক বা গেটে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরের দর্শনীয় স্থানেও ড্রপডাউন ব্যানার ঝোলাতে হবে। এছাড়া ক্লাস চলার সময় প্রতিটি শ্রেণিতে নোটিশ পাঠ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মূল নোটিশ বোর্ডে এ-সংক্রান্ত তথ্য টাঙানোর পাশাপাশি নিজস্ব অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা গ্রুপেও প্রতিযোগিতার প্রচার চালাতে হবে। একইভাবে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত তথ্য ও ব্যানার প্রকাশ করতে হবে।

    প্রচার উপকরণ হিসেবে লোগো, মাসকট, ব্যানার ও ফেস্টুনের নমুনা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে নির্দিষ্ট গুগল ড্রাইভে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে এসব উপকরণ সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ফুটবল দল গঠনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের উপজেলা বা থানা পর্যায়ের খেলা হবে ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর। জেলা পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ের খেলা হবে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর।

    উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের খেলা হবে ১ থেকে ১০ অক্টোবর, জেলা পর্যায়ের খেলা ১৩ থেকে ২০ অক্টোবর এবং শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা যথাক্রমে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক পর্যায় (বালক), মাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক), উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালক) এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক)-এই চার বিভাগে খেলা হবে। প্রতিযোগিতাটি উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয়-চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও যাতায়াত সহজ করতে উপজেলা পর্যায়ের খেলা চার থেকে পাঁচটি ভেন্যুতে আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল জেলা পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ে খেলবে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-এই সাত শিক্ষা অঞ্চলের বিজয়ী দলের সঙ্গে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের যৌথ বাছাই থেকে একটি দল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মোট আটটি আঞ্চলিক দল অংশ নেবে।

    জাতীয় পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক-দুই স্তরে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ৩২টি দল খেলবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি দল থাকবে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৯ বছর হতে হবে। বয়স নির্ধারণের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়কে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। চলমান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে খেলতে পারবেন। প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং দুজন কর্মকর্তা বা শিক্ষক-ম্যানেজার ও কোচ-থাকবেন। বালিকা দলের ক্ষেত্রে অন্তত একজন নারী শিক্ষিকা থাকা বাধ্যতামূলক। খেলা হবে নকআউট পদ্ধতিতে। প্রতিটি ম্যাচের সময় ৯০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ে খেলা অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।

    প্রতিযোগিতায় অবৈধ, ভুয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো দল পাতানো খেলায় জড়িত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে মাঠ থেকে উঠে গেলে শৃঙ্খলা উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এ ছাড়া রেফারি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করলে দল ও খেলোয়াড়কে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড়, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি, মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ী দল এবং সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও পুরস্কৃত করা হবে।

  • পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মারা যাওয়া ১০ নবজাতকের মধ্যে আটজনকে বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অর্থাৎ, ওই আট শিশুর কেউ অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে, আবার কেউ নার্সিংহোমে জন্মেছিল।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে আনা এসব নবজাতকের মধ্যে কারও শ্বাসকষ্ট, কারও জন্ডিস এবং কারও হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতা ছিল। এসব কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

    মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রসেনজিৎ বর বলেন, ‘সম্প্রতি মালদা মেডিক্যালে এক দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই ১০ শিশুর মধ্যে মাত্র দুজনের জন্ম হয়েছিল মালদা মেডিক্যালে। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দ্রুত পাঠানো হবে।

  • চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বুধবার চীনের গুয়াংজুতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা মধ্যাহ্নভোজ’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়াংসি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নর্মাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, বাজার থেকে ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

    মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, বাজার থেকে ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

    ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

    বুধবার বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই প্রদত্ত লাইসেন্স কেনো বাতিল করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য ক্রয় হতে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

    সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশকিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গিয়েছে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল এবং মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায় তা অকৃতকার্য হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ির ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন, বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং- ১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং- ১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং- ২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট এ্যাস এবং লবণের মাত্রা অতিরিক্ত থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।

    বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ০১.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩০.০৭.২০২৮ খ্রি.), কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১৭.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ: ২৪.১২.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ: ১৫.০৪.২০২৫ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১৪.০৪.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১০.০১.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১০.১২.২০২৮ খ্রি.) এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ

    নং-০২২০২৬)। বাংলাদেশ মান অনুযায়ী এসকল ঘি বিভিন্ন প্যারামিটারে অকৃতকার্য হয়। পরীক্ষায় এসকল পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজার রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চলমান রেখেছে ।পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইর মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইর মহাপরিচালক। একই সঙ্গে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইর মান চিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে হটলাইন: ১৬১১৯ এ কল করে অথবা dg@bsti.gov.bd তে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।

  • আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    ধর্ম আমাদের। আমরা বুঝব। আদালত কে, এই বিষয়ে কথা বলার। ’ হিজাব ইস্যুতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পালটা এমনটাই জানালেন মিম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার দাবি, ‘ধর্ম বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলে আমরা নেব। বিচারপতি কে?’ সাংসদের এহেন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্কুলপড়ুয়া। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্টে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ‘হিজাব পরাটা ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক কোনও বিষয় নয়। স্রেফ ধর্ম পালনে স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে স্কুল ইউনিফর্মের গুরুত্বকে খাটো করা যায় না। ’ আদালতের এই নির্দেশ সামনে আসতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আদালতের রায়ের সমালোচনা করে ওয়েইসি বলেন, এটা আমাদের ধর্ম।

    আমাদের যা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে? এটি আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ।

    ওয়েইসির মতে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ সংবিধানের ১৯ (মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এবং ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। শবরীমালা মামলার বিষয়টি মাথায় রেখে হাইকোর্টের এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

    শুধু তাই নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত মুসলিম মহিলাদের শিক্ষায় খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, স্কুল শিক্ষায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম মহিলাদের ভর্তির হার গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খারাপ প্রভাব ফেলবে। সাংসদের কথায়, “মেয়েরা হিজাব মাথায় পরে, মনে নয়। সমতার অর্থ এই নয় যে সবার উপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে। ”

    উল্লেখ্য, এলাহাবাদ হাইকোর্টে পড়ুয়ার আবেদন ছিল, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরত সে। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও আপত্তি করেননি। কিন্তু একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু হয় সমস্যা। তারপরেই ওই পড়ুয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়। তার আবেদন, ধর্মপালনের স্বাধীনতা রয়েছে প্রত্যেক মানুষেরই।

    তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ হিসাবে হিজাব পরে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা এবং পোশাক বিধির অধিকার রয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পোশাক বিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। হাইকোর্ট জানায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হিজাব পরা যে ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা, এমন কোনও ধর্মীয় প্রমাণ নেই।

  • রাকসু নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি রাবি শিবিরের

    রাকসু নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি রাবি শিবিরের

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

    তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যেই রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখনই যদি পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়, তবে যথাসময়ে রাকসু বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই এখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক এবং সিদ্ধান্ত নিক। তার আলোকে যাতে যথা সময়ে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে রাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। আমরা শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতি বছর রাকসু নির্বাচন পাই, এটি নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

    আবাসন সংকট ও ভাতার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, শতভাগ আবাসিকতার বিষয়ে আমরা শুনেছি গত অর্থবাজেটে এটি সবুজ পাতায় সংযুক্ত হয়েছে। আমরা এটি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। ২০২৫ সালেই আমরা সংবাদ সম্মেলন করে রোডম্যাপ চেয়েছিলাম। যেহেতু বাজেট হয়েছে, তাই কতদিনের মধ্যে হলগুলো নির্মাণ হবে তার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। তাই আমরা শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ চাচ্ছি। যতদিন শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত না হবে ততদিন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি ভাতা প্রদান করতে হবে।

    ১০ মাসে রাকসুর অর্জন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আপনারা দেখবেন যে ক্যাম্পাসে ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং কিন্তু আগের মতো ওভাবে হচ্ছে না। আগের মতো ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং সিট বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছে। গেস্টরুম কালচার, গণরুম কালচার নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা এবং সিনিয়রিটির ভিত্তিতে সিট বণ্টন হচ্ছে, যেটি সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তন। এসবই কিন্তু রাকসু থাকার জন্য সম্ভব হয়েছে। ক্যাম্পাসে বর্তমানে একটি জবাবদিহির পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি।

    রাকসু নির্বাচন দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, বিগত রাকসু নির্বাচনেও আমরা দেখেছি প্রশাসনের সদিচ্ছা ছিল না; কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমর্থন নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, ফলে তারা তফসিল দিতে বাধ্য হয়েছিল। তখন বিভিন্নভাবে নির্বাচন বানচাল এবং বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছিল; কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে তা রুখে দিয়ে রাকসু নির্বাচন আদায় করেছি। আবারও রাকসু নিয়ে যদি প্রশাসন গড়িমসি করে, তাহলে আমরা আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে রাকসুর দাবি আদায় করে নেব।

  • নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্বাসরোধে হত্যা পর মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মো: শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অনিক (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়

    নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

    গ্রেফতার অনিক উপজেলার ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে অনিক ফোন করে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভ্যাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন।

    শামিমের কল লিস্টের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির পাশে চাপা দেয়া কথা স্বীকার করেন। পুলিশ অনিকের বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে ও মঙ্গলবার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশটি উদ্বার করে।

    নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বলেন, ‘ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।’ তিনি সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদককারবারি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • নড়াইলে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    নড়াইলে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফির ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জি এম মাশরাফিকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সম্প্রতি লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফির ইয়াবা সেবনের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাছপালাবেষ্টিত একটি নির্জন স্থানে বসে ইয়াবা সেবন করছেন ছাত্রদল নেতা মাশরাফি। তবে কোথায় বসে ইয়াবা সেবন করছেন, তা জানা যায়নি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়লে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    এ ব্যাপারে ছাত্রদল নেতা জি এম মাশরাফির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে-‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নড়াইল জেলা শাখার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফিকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

    নড়াইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সনি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল এবং সদস্য সচিব মামুন গাজী এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

  • সকল সরকারি প্রাথমিকে  শূন্যপদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    সকল সরকারি প্রাথমিকে শূন্যপদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি শিক্ষকের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের নির্ধারিত ইমেইলে এ তথ্য পাঠাতে হবে। সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। এ চিঠি সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

    এসব তথ্যে সফট কপি ও হার্ডকপি পাঠাতে হবে। ঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি শিক্ষকের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে ১২টার মধ্যে ad.recruitdpe@yahoo.com-জেলার শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। যেসব তথ্য দিতে হবে তা হলো: উপজেলার নাম, সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদের সংখ্যা, কর্মরত পদের সংখ্যা, শূন্যপদের সংখ্যা (চলতি বছরের দায়িত্বের পদসহ) এবং চলতি দায়িত্ব প্রদানকৃত সংখ্যা, নিয়োগযোগ্য পদসংখ্যা, মন্তব্য- মামলা জনিত সংরক্ষণ।

  • কর্মমুখী হবে মাদরাসা শিক্ষা

    কর্মমুখী হবে মাদরাসা শিক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মবাজারমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এ বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক মামুন বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো কারিকুলামকে কর্ম বাজারমুখী করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে দেশে পাশাপাশি বিদেশেও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।

    তিনি বলেন, অন্যান্য শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সুযোগের যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চায় সরকার। দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তাদের জাতি গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

    কারিকুলাম যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, ওপর থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেই কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে চলতি মাসের মধ্যেই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

    কর্মশালায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ, ইউজিসির দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে যুক্ত করা, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্টার্টআপসহ দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিদ্দিকী ও কোষাধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম। কর্মশালায় ৩০০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।

  • এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষককে বদলি

    এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষককে বদলি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখা থেকে একসঙ্গে ৪৬ শিক্ষককে বনশ্রী ও মুগদা শাখায় বদলি করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সম্মতিক্রমে এসব শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

    প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, দুর্নীতির মূল উৎপাটনের লক্ষ্যেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বদলিকৃত শিক্ষকরা গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে টানা মতিঝিল মূল শাখায় কর্মরত ছিলেন। একাধিক শিক্ষক বলেন, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই ৪৬ শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করা হয়। পরে, বদলি হওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

    শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি তাদের বদলির তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশের আগেই অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার করেন। এ ঘটনায় বদলি প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। প্রসঙ্গত, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনটি শাখা রয়েছে। এগুলো হলো, মতিঝিলের মূল শাখা, বনশ্রী ও মুগদা শাখা। তিন শাখায় প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৭০০ জন।এ ছাড়া, কর্মচারী রয়েছেন দুই শতাধিক।

  • ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধা, উপস্থিতি ও আর্থিক অসচ্ছলতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়।তালিকা প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধা, নিয়মিত উপস্থিতি ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রদল-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

    মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শাহিন আলম জানান, তিনি সিটের জন্য ভাইভায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। পরে চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর পরিবর্তে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ভাইভায় অংশ না নেওয়া একজনকে সিট দেওয়া হয়েছে।

    ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিট বরাদ্দ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি প্রশাসনের সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার অভিযোগ, প্রশাসন উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনার কথা বললেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। বিভাগ থেকে ভাইভার মাধ্যমে সুপারিশ করা শিক্ষার্থীদের নাম পরবর্তীতে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আবাসিক ছাত্রাবাসে সিটের সংখ্যা সীমিত। এর বিপরীতে একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করায় সিট বরাদ্দ দিতে সমস্যা হয়েছে। কোনো ভুল হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সিটের বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হবে। এদিকে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

  • জাল সনদ থেকে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স

    জাল সনদ থেকে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে জাল সনদ ও সুপারিশপত্র ব্যবহার, প্যাটার্নবহির্ভূত নিয়োগ, মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ইনডেক্স কর্তন, বেতন-ভাতা স্থগিত এবং অবৈধভাবে উত্তোলন করা অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ফরিদপুরের ভাঙ্গার ইকরামউদ্দীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ফাজিল ও কামিল স্তরে প্যাটার্নবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    একই মাদ্রাসার ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ইকরামউদ্দীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ফাজিল ও কামিল স্তরে প্যাটার্নবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ইনডেক্স কর্তন করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের ৩ আগস্টের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ১৬ জুনের এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সিদ্ধান্তের পর ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সংশ্লিষ্টদের এক মাসের মধ্যে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ট্রেজারি চালানের কপি অধিদফতরে দাখিল করতে বলা হয়েছে। ব্যর্থ হলে ১৯১৩ সালের পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি আইন বা পিডিআর আইনে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে।

    ১৯ জনের মধ্যে ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক মো. ফারুক হোসেনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মো. কুদরাত-ই রহমান ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ফজলুল ইসলামের কাছে ১৮ লাখ ১ হাজার ১৩২ টাকা করে এবং আরবি প্রভাষক মো. রাশেদুল ইসলামের কাছে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৩৩২ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    আরবি প্রভাষক মো. আল আমিন ও প্রভাষক (গ্রন্থাগারিক) মো. সরোয়ার হোসেনের কাছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ২৪২ টাকা করে; প্রভাষক (ফকিহ) মো. আজিজুল হক, জাহিদ হোসেন ও প্রভাষক মো. মহিবুর রহমানের কাছে ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭০ টাকা করে এবং সহকারী মৌলভী মো. নুরনবীর কাছে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৭০২ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    অন্যদের মধ্যে সহকারী গ্রন্থাগারিক মহিউদ্দিনের কাছে ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৫ টাকা, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর কাজী আল মাসুদের কাছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৩ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. মাসুম বিল্লাহ ও হাবীব গাজীর কাছে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. নাজমুল ইসলামের কাছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৭ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. সাইফুল ইসলামের কাছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২১৫ টাকা, ল্যাব সহকারী মো. রেজাউল মিয়া ও সাম্মি আক্তারের কাছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯১১ টাকা করে এবং জুনিয়র শিক্ষক নাজরিনের কাছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৩ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    জাল সনদে এমপিও, ৯ শিক্ষকের ইনডেক্স কর্তন

    জাল ও ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ এবং সুপারিশপত্র ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ৯ শিক্ষকের ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে তাদের সনদ ও সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়। ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী তাদের মে ২০২৬ মাসের এমপিওশিট থেকে ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    তালিকায় রয়েছেন সিরাজগঞ্জের গোলকপুর সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার মো. নুরুজ্জামান, রংপুরের তারাগঞ্জ ওয়াক্ফ এস্টেট কামিল মাদ্রাসার মো. মাহবুব রশিদ, পিরোজপুরের বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার মো. আব্দুর রহমান, কুড়িগ্রামের নেওয়াশী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার মো. মাসুম বিল্লাহ ও মো. হারুনুর রশিদ।

    এ ছাড়া বাগেরহাটের মল্লিকেরবেড় ফাজিল মাদ্রাসার করিমা খাতুন, সাতক্ষীরার পাতাখালি ফাজিল মাদ্রাসার বিশ্বজিৎ সমদ্দার, কুমিল্লার পাঁচুখুরী আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শহীদুল হক এবং গাজীপুরের বেলাশী মদিনাতুল উলুম বালিকা আলিম মাদ্রাসার মো. রোকনুজ্জামানের ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্সে বেতন উত্তোলন

    ভোলার তজুমদ্দিনের মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত এক শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর গত ২ আগস্ট তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তার ইনডেক্স নম্বর বি-৬০২৭৮২। নোটিশে নিয়োগ-সংক্রান্ত সব মূল কাগজপত্র ও প্রমাণাদিসহ তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা না দিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি

    ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে একজনকে নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির সুপার মো. আমির হোসেনের বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তার এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    অধিদফতরের নোটিশ অনুযায়ী, ল্যাব সহকারী পদে মো. আব্দুর রাজ্জাকের এমপিও আবেদনের সঙ্গে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি, জাল ফলাফল বিবরণী ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। যাচাই-বাছাই কমিটি এসব শনাক্ত করে আবেদনটি বাতিলের সুপারিশ করে।

    সুপার মো. আমির হোসেনকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বা নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে অধিদফতর।

    গাইবান্ধায় জাল চিঠি-স্বাক্ষরে এমপিও আবেদন, সুপারকে শোকজ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা সরকারপাড়া আল-হিকমাহ মসজিদ একাডেমি দাখিল মাদ্রাসায় মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে একজনকে এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার আবুশাহাদাত মো. জাহাঙ্গীর আলমের এমপিও সাময়িক স্থগিতসহ কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    অধিদফতরের নোটিশে বলা হয়, ল্যাব সহকারী পদে মো. সুমন মিয়ার নতুন এমপিও আবেদনে জাল চিঠি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। যাচাই-বাছাই কমিটি এসব শনাক্ত করে সুমনের আবেদন বাতিলের সুপারিশ করে। সুপারকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    জাল এনটিআরসিএ সনদ, কিশোরগঞ্জের শিক্ষকের ইনডেক্স বাতিল

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মিরদী ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) আমিরুন্নেসার এনটিআরসিএ সনদ জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও ইনডেক্স কর্তন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    অধিদফতরের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও এনটিআরসিএর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় তার পঞ্চম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০০৯-এর প্রত্যয়নপত্রটি সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হয়। এ কারণে তার ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে উত্তোলন করা বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    থামছে না কেন

    সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, মাদ্রাসায় এমপিও ব্যবস্থাপনায় এখনও দুর্বলতা রয়েছে। নিয়োগের সময় যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি, জাল কাগজপত্র শনাক্তে ব্যর্থতা এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অনিয়মের সুযোগ থাকায় সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    এমপিও বাতিল ও অর্থ ফেরতের নির্দেশের পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে জালিয়াতি বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে, সেসব ঘটনায় কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

    শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে নিয়োগ হয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়। এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় না। যারা সুবিধাভোগী, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের পর যেনতেনভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমপিওভুক্ত করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান অনুমোদন এবং এমপিওভুক্তিতে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এভাবে নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। সবচেয়ে দুঃখ লাগে, ধর্মীয় ছাতার নিচের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এসব কর্মকাণ্ড হয়।”

    ‘অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শামিউল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লোকবল কম থাকায় দেশের সব মাদ্রাসা রাতারাতি যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বা সংশয় থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের যা এখতিয়ার, সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

  • চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চৌদ্দগ্রামে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফ হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ শাফকাত আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেন।

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জামাল হোসেন।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর হোসেন, অভিভাবকদের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তাসনিয়া মোস্তফা, ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুজরাত জাহান ইশফা, মাইশা ফাইরোজ পাটোয়ারী প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সনদ ও বই উপহার দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেন।

  • মেয়েদের উপবৃত্তি ফের চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ

    মেয়েদের উপবৃত্তি ফের চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পর্যায়ে ‘মিড-ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচির কার্যকারিতা যাচাইয়ে দুটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে সরকারপ্রধানকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সার্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়।

    ওই সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিয়ে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে।
    এরই পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
    পাশাপাশি, ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদেরও উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার যেন পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয় এবং কোনোভাবেই খাদ্যের মান নিয়ে আপস করা যাবে না।

    মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাইয়ের লক্ষ্যে পৃথক দুটি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।