শিক্ষা ও সাহিত্য

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯৯৪ জন।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২৬, খুলনা বিভাগে ২১৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭১, রাজশাহী বিভাগে ৭৬, রংপুর বিভাগে ২৩ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৯২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৬২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩১ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তামাক কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রমোশনসহ প্রচারণা বন্ধ এবং পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) ঢাবি সদস্যরা।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বাটার দুই ঢাবি প্রতিনিধি তারানা জাহিদ সন্ধি ও ফাইয়াজ আনাম স্বনন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিঠি দুটি হস্তান্তর করেন।

    চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির প্রচারণা, ব্র্যান্ড প্রমোশন, চাকরি ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কার্যক্রম এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    ক্যাম্পাসে পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে পৃথক ধূমপান এলাকা স্থাপনের পরিবর্তে পুরো ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করতেই হবে।’

  • স্কুল দেখতে গিয়ে হামলার শিকার ককরোচ পার্টি

    স্কুল দেখতে গিয়ে হামলার শিকার ককরোচ পার্টি

    ভারতের রাজস্থানে ‘ভারতে গোয়ালঘরে’ স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদল। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিল। ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্কুল পরিদর্শন করছে সিজেপি। স্কুলগুলো কীভাবে চলছে, কী ধরনের সমস্যা ও ঘাটতি রয়েছে—এসব বিষয় সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে দলটি।

    এরই অংশ হিসেবে গত ২১ আগস্ট রাজস্থানের জয়পুরের রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামের একটি স্কুল পরিদর্শনে যান আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। সিজেপির অভিযোগ, গ্রামে ঢোকার আগেই তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হেঁটে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীদের একাংশ তাদের বাধা দেন। আগে থেকেই কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়ে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে দলটি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।

    সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগে রেখা শর্মা জানান, জয়পুরের একটি গোয়ালঘরে সরকারি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে তাদের দল ওই গ্রামে যায়। কিন্তু গ্রামের সীমানায় তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পরে তারা হেঁটে এগোতে শুরু করলে কিছু দূর গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের গালিগালাজ করেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বার বার অনুরোধ করি, আমাদের কথা শুনতে বলি। গ্রামবাসীদের আমন্ত্রণেই আমরা স্কুলটা দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দলের উপর চারদিক থেকে ইট, পাথর ছোড়া হয়, লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয়।’

    সিজেপির অভিযোগ, তাদের প্রতিনিধি সঞ্জু বর্মার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সলমন নামে আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রেখা শর্মার চোখে ধুলো ছুড়ে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটির কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে, ভগবান সহায় ধানকা নামে এক গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিজেপি প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আশুতোষ রাঙ্কা ৫০-৬০ জনকে নিয়ে গ্রামে আসেন। স্কুল পরিদর্শনের কথা বলে তারা গ্রামবাসীদের গালিগালাজ করেন এবং গ্রামের নারীদেরও কটূক্তি করেন। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলে সিজেপি প্রতিনিধিরা মারধর শুরু করেন এবং জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করে অপমান করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

    অন্যদিকে, সিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেও একটি এফআইআর করেছে পুলিশ।

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশায় নতুন ভাইরাস

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশায় নতুন ভাইরাস

    ফিচার:

    বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে অনলাইন কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং ও কর্মক্ষেত্রÑপ্রায় সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবার লেখা, ছবি বা সফটওয়্যার তৈরির গণ্ডি পেরিয়ে জীববিজ্ঞানের আরো গভীরে প্রবেশ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে এমন নতুন ভাইরাসের জিনোম নকশা তৈরি করেছেন, যেগুলো গবেষণাগারে কার্যকর ব্যাকটেরিওফাজ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ, এআইয়ের তৈরি জিনগত নকশা ব্যবহার করে এমন ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে এবং ধ্বংস করতে পারে।

    এই গবেষ

    ণার কেন্দ্রে রয়েছে Evo সিরিজের জিনোম-ভাষা মডেল। এর আগের সংস্করণ Evo-1 এবং পরবর্তী আরো উন্নত সংস্করণ Evo-2 জিনগত তথ্যের কাঠামো ও সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে নতুন ডিএনএ সিকোয়েন্স তৈরির জন্য তৈরি করা হয়েছে। Stanford-এর তথ্য অনুযায়ী, Evo-এর প্রাথমিক প্রশিক্ষণে লাখ লাখ প্রোক্যারিওটিক ও ফাজ জিনোম এবং বিপুল পরিমাণ ডিএনএ সিকোয়েন্স ব্যবহার করা হয়েছিল। মানুষের সংক্রমণ ঘটাতে পারেÑএমন ভাইরাসের জিনোম প্রশিক্ষণ ডেটা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

    গবেষণায় ব্যাকটেরিওফাজ ΦX174-কে একটি জৈবিক রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে এআইকে এমন নতুন জিনোম নকশা তৈরি করতে বলা হয়, যা Escherichia coli বা E. coli ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে। উদ্দেশ্য ছিল প্রাকৃতিক কোনো ভাইরাসের হুবহু অনুলিপি তৈরি করা নয়; বরং জিনোমের কার্যকর কাঠামো অনুসরণ করে নতুন সিকোয়েন্স তৈরি করা। শত শত নকশার মধ্যে কার্যকর হলো মাত্র ১৬টি। এআই বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য জিনোম নকশা তৈরি করার পর গবেষকরা সেগুলোর একটি নির্বাচিত অংশ পরীক্ষাগারে সংশ্লেষণ ও পরীক্ষা করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, প্রায় ৩০০টি নকশা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়; এর মধ্যে ১৬টি কার্যকর ব্যাকটেরিওফাজে পরিণত হয়। এসব ফাজ E. coli সংক্রমিত করতে এবং ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমাতে সক্ষম হয়।

    এআইয়ের তৈরি প্রতিটি নকশা কার্যকর হয়নি। বরং বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য নকশার তুলনায় কার্যকর ফল পাওয়া গেছে খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে। ফলে গবেষণাটি এখনো মূলত proof of concept বা ধারণাটির বাস্তব কার্যকারিতার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    গবেষকদের লক্ষ্য ছিল ব্যাকটেরিয়া

    গবেষণায় তৈরি ভাইরাসগুলো ব্যাকটেরিওফাজÑঅর্থাৎ এমন ভাইরাস যেগুলো ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। এগুলো মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়নি। গবেষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জিনগত তথ্য প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দিয়েছেন, যা মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে এ ধরনের প্রযুক্তির কোনো ঝুঁকি নেই। বরং গবেষণাটি দেখিয়েছে, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে কম্পিউটারে তৈরি একটি জিনোমকে বাস্তব জৈবিক ব্যবস্থায় কার্যকর করা সম্ভব। আর এখানেই ভবিষ্যৎ বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

    অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী

    গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো ফাজ থেরাপি। ব্যাকটেরিওফাজ নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ করে ধ্বংস করতে পারে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো নির্দিষ্ট ও কার্যকর ফাজ তৈরির ক্ষেত্রে এআইনির্ভর জিনোম নকশা তৈরির নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

    তবে ফাজ থেরাপি এখনো সব ধরনের সংক্রমণের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না। কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট রোগীর জন্য উপযুক্ত ফাজ নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের মতো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। এআই দিয়ে কার্যকর ভাইরাসের জিনোম নকশা করার সক্ষমতা ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও জীবপ্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি ভুল হাতে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যায়।

    জৈবনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই যত দ্রুত জিনোম নকশার সক্ষমতা অর্জন করছে, সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা, গবেষণা-নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও উন্নত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কম্পিউটারে তৈরি জিনগত নকশা থেকে বাস্তব জৈবিক উপাদান তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত যাচাই ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। Stanford-এর গবেষকদের মতে, এই কাজ দেখাচ্ছে যে জেনারেটিভ মডেল শুধু বিদ্যমান জিনগত তথ্য বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা নতুন জিনোমের নকশাও প্রস্তাব করতে পারে এবং সেসব নকশার কিছু বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা দেখাতে পারে।এই গবেষণা দ্বারা প্রথমবারের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছেÑএআই ভবিষ্যতে জীববিজ্ঞানের নকশা ও পরীক্ষার কাজে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। একদিকে এটি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে। ফলে এআইনির্ভর জীববিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের পাশাপাশি দায়িত্বশীল গবেষণা, বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

  • স্থানীয় নির্বাচন কবে হতে পারে, জানালেন সিইসি

    স্থানীয় নির্বাচন কবে হতে পারে, জানালেন সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না।’ তার মতে, এটা নির্ভর করবে—দুর্গাপূজা, বন্যা, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা ওপর।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ফর বাংলাদেশ লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন’ বিষয়ে এক্সেল এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমাদের কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতে হচ্ছে। তবে তেমন সময় লাগবে না। আমাদের তরফ থেকে আমরা কাজ করে ফেলেছি এবং মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি।

    তিনি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টের কোনও ঘাটতি নেই। আমরা ঠিক যে নির্বাচন (জাতীয় নির্বাচন) করেছি, যেভাবে করেছি, তার চেয়ে খারাপ হবে না। বরং আমরা তার চেয়ে আরও ভালো করতে চাইব। ওই নির্বাচনে যে স্ট্যান্ডার্ড আমরা সেট করেছি, তার নিচে তো আমরা যেতে পারি না। সুতরাং ওই স্ট্যান্ডার্ড থাকবেই। যদি পারি, তার চেয়েও আরও ভালো করবো। আশা করি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা পারবো। কোনও অসুবিধা হবে না।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে জানিয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে না, আমরাই নেব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব। দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করবো। এটা এমন নয় যে সরকার একটি তারিখ দেবে আর আমরা তা ঘোষণা করে দেব। আমাদের সামগ্রিক প্রস্তুতি চলমান আছে।’

    এ সময় অনুষ্ঠানে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৪ মার্চ শুরু হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

    ১৪ মার্চ শুরু হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারির পরিবর্ততে ১৪ মার্চ শুরু হবে। চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সোমবার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজই পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।

    এর আগে ৭ জানুয়ারি এই পরীক্ষা শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই পরীক্ষার প্রাথমিক সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তবে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি সহ নানা দিক বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। দুই মাস পরে ১৪ মার্চ এই পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে সরকার

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে সরকার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামীতে জাতীয় পর্যায়ে পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার।

    শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বাড়াতে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে এই প্রতিযোগিত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।গত ১৮ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, সরকার শিক্ষার সব ক্ষেত্রেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

  • দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগে তেলেসমাতি

    দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগে তেলেসমাতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আইনের ব্যত্যয়বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ উপাচার্য (ভিসি)। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভিসির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। নিয়োগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন বাতিল, মাসের মধ্যে ভিসিকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে ভিসি পদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, গবেষণা ও একাডেমিক ডিগ্রিকে খুব বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। নিয়োগ পাওয়া এসব ভিসির অনেককে ঘিরে রয়েছে নানা বিতর্ক।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩০টি পদে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ, দলীয় ঘনিষ্ঠতা, সুপারিশ ও তদবিরের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৫ কোটি পর্যন্ত। দেশের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সিন্ডিকেট এসব নিয়োগে সক্রিয় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, দলীয় পরিচয় বা কোটায় নয়-মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ভিসি নিয়োগ অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু ঘটেছে উলটো। দলীয় আনুগত্য ও বিষয়ভিত্তিক-একাডেমিক দক্ষতার ঘাটতি থাকা ব্যক্তিদেরও এ পদে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেই দলীয় শিক্ষকরা ভিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এজন্য যা যা করা দরকার তারা সব ধরনের চেষ্টাই করেন। এভাবে কেন তারা নিয়োগ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন-এমন প্রশ্নেরও জবাব রয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ, টেন্ডার, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এসব কাজে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের ঘটনা ঘটে। ফলে ভিসি পদটি হয়ে উঠেছে লোভনীয়। আর এসব উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানোর কাজটি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং থেকে ছিটকে পড়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

    আইন লঙ্ঘন করে নিয়োগ : গাজীপুর ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) ভিসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে রয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে খ্যাতিসম্পন্ন ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ভিসি হিসাবে নিয়োগ দিতে হবে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে-আইনে এমনটিই বলা আছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এমন একজনকে ভিসি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মানা হয়নি। একই ভাবে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এমন একজন ব্যক্তিকে উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করার আইনটি এখানেও উপেক্ষিত।

    অপরদিকে, কয়েকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে বিশেষ যোগ্যতার উল্লেখ না থাকার সুযোগ নিয়েছে নিয়োগ কমিটি। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলামকে। পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এ সুযোগ থাকায় একাডেমিক অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে ব্যবসা প্রশাসন বা মানবিক বিভাগের শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

    নিয়োগ দিয়ে ফের বাতিল : নিয়োগের অসঙ্গতির বড় দৃষ্টান্ত বেগম রোকেয়া ও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ ও বাতিলের ঘটনা। ১৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. শওকত আলীকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। দায়িত্ব গ্রহণের ২৩ দিনের মাথায় ৬ জুন তাকে ভিসি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক মো. আমির হোসেনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইও করা হয়নি বলে জানা যায়।

    রাজনৈতিক পরিচয় যখন হাতিয়ার : সাম্প্রতিক ভিসি নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ রাজনৈতিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের দাবি, উপাচার্য নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য ও ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এমন অভিযোগের মাঝেই আলোচনায় আসে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাতের ঘটনা। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন চারজন সদস্য পদ পাওয়ায় ভিসির অফিশিয়াল প্যাডে ১৭ আগস্ট পৃথক অভিনন্দন বার্তা জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদটি নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক হলেও কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোয় তার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক নিয়োগকৃত ভিসিদের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়েছে এবং ৩০ শতাংশ নিয়োগ হয়েছে যোগ্যতা-দক্ষতা ও একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে।

    দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ২ এপ্রিল ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভিসি নিয়োগে অনিয়ম বা বিতর্কের বিষয়ে জানতে কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসানকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। কমিটির অপর সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি এসব বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানি না।

    ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ভিসি নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যারা এ পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন বা তদবির করেন, সবার আগে তাদের বাদ দেওয়া উচিত। এ পদে আবেদন করে আসা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, আওয়ামী লীগ আমলের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবার অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ফিরে আসবে কিনা, সেটিও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

    আওয়ামী আমলে শুরু দলীয় অনুগতদের নিয়োগ প্রক্রিয়া : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আসে। ওই ফোনালাপে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে ফোনালাপটির সত্যতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথিতে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার, উন্নয়ন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্তের অভিযোগ ওঠে। বিশেষজ্ঞরা সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে বলছেন, ৫ আগস্টের পরও সেই পুরোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে পক্ষপাতমূলক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইনের ব্যত্যয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করা ঠিক নয়। যদি নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের মতো ঘটনা ঘটে থাকে তা খতিয়ে দেখা জরুরি। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান বলেন, নোবিপ্রবি যেহেতু বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞ কাউকে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। ভিসির ব্যাকগ্রাউন্ড সমাজ বিজ্ঞানের হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণায় অবদান রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • স্কুলের কমিটিতে রাজনৈতিক নেতা নয়, থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: ডেপুটি স্পিকার

    স্কুলের কমিটিতে রাজনৈতিক নেতা নয়, থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: ডেপুটি স্পিকার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা থাকতে পারবেন না। বরং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই কমিটিতে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

    রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কায়সার কামাল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দুর্গাপুর উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    বিগত দিনে দলীয়করণের অপসংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘স্কুলের পরিচালনা কমিটির কাছে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হয়। যারা রাজনীতি করবেন, তাদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। ’

    শিক্ষকতা পেশার মর্যাদার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ‘একজন শিক্ষক আজীবনই শিক্ষক। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তারা সমাজের কাছে “স্যার” বা “ম্যাডাম” হিসেবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র। ’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের সর্বজনীন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) সবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জন্য প্রতিদিন ১৮-২০ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। তার সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে দেখতে হবে। ’

    বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি দুর্গাপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান আনছারী প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

  • ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীতে নিজ বাড়ি থেকে স্কুলশিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

    মহানগর পুলিশ কমিশনারের দাবি, ইয়াবা সেবনের সময় দেখে ফেলায় পরপর তাদের হত্যা করে দুই মাদকসেবী। পরে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গোসল করে খুনিরা। পরে বয়ামে রাখা খেজুর খাওয়ার পর ইয়াবা সেবন করে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

    ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, ঘটনার সাথে সাথেই আমাদের পুলিশের সকল সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, মিডিয়াকর্মী, সমাজকর্মী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কারো সাথে কোনো কলহ-বিবাদ কিছু ছিল না। ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতারের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় ঘটনার মোটিভ।

    গ্রেফতার হওয়া দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার ঘটনার বর্ণনা দেন ব্রিফিংয়ে। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত শেষ রাতে পার্শ্ববর্তী দেবু চক্রবর্তীর বাসার ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে যায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ। ওই ছাদে বসে তারা আড্ডা মারে এবং ইয়াবা সেবন করে।

    ইয়াবা সেবনকালে গণপতি চক্রবর্তী শব্দ শুনে ছাদে যান। তিনি সে সময় খালি গায়ে ছিলেন, কাঁধে একটা গামছা ছিল। তিনি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে ছাদে বসে আড্ডা দেয়া এবং মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভয় পায়। আসামিরা তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় যে গামছাটা ছিল, সেই গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে উনাকে সেখানে হত্যা করে।

    কমিশনার আরো দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করার সময় তিনি বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং কিছু শব্দ হয়। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বোলা বাসারি নিচে থেকে উপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপরে যাওয়ার সময় খুনি দু’জন তাকে সিঁড়ির মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    পরে গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে ও মেয়ের হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রীতিলতা চক্রবর্তীর চিৎকার-চেঁচামেচিতে উনার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসে। এ সময় তারা প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    খুনিদের বক্তব্যে আমি যেটা শুনলাম, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না। চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময়ে তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। একটা প্যাঁচ গলার উপর দিয়ে যায়, একটা প্যাঁচ মুখের উপর দিয়ে যায়। তারা এত জোরে এই রশিটা টান দেয়, তার মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখটা ঠিকরে বের হয়ে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রার্থী চকবর্তীকে মারার পরে খুনিরা নিচে যায়। নিচে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়মকে হত্যা করে।

    এ সময় বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রিয়ম নামে ছোট ছেলেটাকে মারার কারণ হলো সিদ্ধার্থের একটা ছোট ভাই আছে অপূর্ব। অপূর্ব এই খুন হওয়া নিষ্পাপ শিশু প্রিয়ের সাথে খেলাধুলা করে এবং প্রিয়ম এই খুনিদেরকে চেনে। তখন সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রিয়মকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। না দিলে সে তাদের পরিচয় বলে দিতে পারে। পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দু’জনে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুর ওপর। কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে, তার চোখ ঠিকরে বের হয়ে যায়। এরপরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, শুধু খুন করেই খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি। পরে তারা ওই বাসায় প্রিয়মের বাথরুমে গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ গোসল করে। সিদ্ধার্থ বের হওয়ার পরে মুগ্ধ গোসল করে। গোসল করার পরে তাদের ডাইনিং টেবিলে বসে তারা খেজুর খায়। সেখানে একটা বয়ামে খেজুর ছিল।

    খেজুর খাওয়ার পরে তাদের কাছে এক পিস ইয়াবা ছিল। তারা ডাইনিং টেবিলে বসে সেটি সেবন করে। ইয়াবার আলামত আমরা পেয়েছি। ইয়াবা সেবনের পরে সকাল হয়ে যায়। জুমার দিন ছিল। তারা অপেক্ষা করতে থাকে বাইরে লোকজন যেন কমে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, যখন জুমার নামাজের সময় হয়, তখন মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত ছিল, রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। এ সময় দু’জন বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তারা লুট করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

    সিদ্ধার্থ একটা স্বর্ণের দোকানের কারিগর। পি কে পাল জুয়েলার্সে আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করছে সিদ্ধার্থ। কাজেই সে কোনটা স্বর্ণ, কোনটা ইমিটেশন তা ভালো করে চেনে। সে কারণে একটা স্বর্ণের চুরি সে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে।

    আমরা যখন কালকে আলামতটা পেলাম যে, একটা স্বর্ণের চুরি পরীক্ষা করার জন্য আগুন দিয়ে টেস্ট করা হয়েছিল। তখন আমরা অনুমান করেছিলাম স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ হয়তো কেউ থাকতে পারে। আমাদের সে অনুমানটা সঠিক হয়, সিদ্ধার্থ স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ।

    তিনি বলেন, পুলিশ যেন ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে করে সেজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসপত্র এলোমেলো করে। অর্থাৎ তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে।

    দুপুরের দিকে তারা বের হয়ে যাওয়ার আগে বাসায় থাকা দুইটা মোবাইলফোন ডিটারজেন্ট দিয়ে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে তারা এটা পানিতে ভিজিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্থাৎ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনাটা তারা সারাদিন ঘটায়।

    তিনি আরো বলেন, আমরা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, যেগুলা তারা নিয়ে যায়। সেগুলো ওরা মন্দিরের পেছনে একটা পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দিয়েছিল। তাদের দেখানো মতে আজকে ওই জায়গা থেকে আলামতগুলা জব্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ তারা দু’জনই আত্মীয়। এই ঘটনা ঘটানোর আগে তারা একটা বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে, সেটা হলো সীমান্তের বাসায়। সীমান্ত খুনের সাথে ছিল না, কিন্তু সীমান্তের বাসায় তারা বসে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন করার পরে তারা এই বাসার ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করে।

    সিটি বাজারের রামনাথের মাছের দোকানে মুগ্ধর বাসার সামনে খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। যে ইয়াবা ব্যবসা করে এবং তার থেকে ইয়াবা কিনে নেয় খুনিরা। প্রতি পিস ৩৫০ টাকা ধরে তারা ইয়াবা ক্রয় করে।

    তিনি বলেন, এরপরও আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগোনো হচ্ছে। নতুন কোনো কিছু থাকলে তা ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

    এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে রোববার দুপুরে মানববন্ধন করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোররাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগের সদ্য মাস্টার্স পাশ করা প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তী। অবসরে যাওয়ার পর নগরীর সমবায় মার্কেটে চেম্বার দিয়ে হোমিও চিকিৎসার প্রাকটিস করতেন গণপতি চক্রবর্তী।

    শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাছুয়া পাড়ার মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর তালাবদ্ধ দোতলা বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ দোতলার ছাদ থেকে, সিঁড়ির চিলেকোঠার নিচ থেকে স্ত্রী প্রীতিলতা বোলা চক্রবর্তী (৫৫) ও মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তীর লাশ (২৫) এবং ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়।

    নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সবশেষ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড় বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীর সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে দিদিকে ফোন দিলে বন্ধ পাই। পরপর জামাই বাবু, ভাগনি ও ভাগনেকে ফোন দেই। কিন্তু সবার ফোন বন্ধ থাকায় স্বামীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়ার দিদির বাড়িতে যাই।

    তিনি আরো বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি, তারাও কিছুই বলতে পারে না। পরে পাশের তিনতলা দেবুদার বাসায় নক করি। তারা গেট খুলে দিলে ভেতর দিয়ে দিদির বাড়িতে ঢুকে দেখি সব এলোমেলো। আলমিরাসহ সব আসবাবপত্র খোলা। মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো সবকিছু। সাথে সাথে আমার স্বামী বিপুল আচার্য্যকে থানায় পাঠাই।

    নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভায়রা বিপুল আচার্য্য জানান, প্রথমে আমি ৯৯৯-এ ফোন করি। তারা আমাকে পরামর্শ দেন কোতোয়ালী থানায় যাওয়ার। পরে কোতোয়ালী থানায় গেলে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা আসেন। তারা সিল করে ফেলেন পুরো বাড়ি। এরপর বাসায় ছাদে ওঠার সিড়ির চিলেকোঠার নিচে মা প্রীতিলতা আর মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তী, ছাদে উঠার দরজার বাম পাশে গণপতি চক্রবর্তী এবং দোতলার খাটের নিচে প্রিয়মের লাশ শনাক্ত করা হয়। এ সময় মশারি টানানো ছিল গণপতির বিছানায়। হয়তো শোয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। পাশের টেবিলে ছিল প্রিয়মের স্কুলের আইডি কার্ড।

    রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রত্যেকটি লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে, এটা আসলে সুরতহাল রিপোর্ট এলে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা দেখেছি, সবাইকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। সবার মুখের মধ্যে গামছা বা নাইলনের দড়ি পেঁচানো ছিল।

    মহানগর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদির জানান, এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ১৩ দাবি

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ১৩ দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    একাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় কলেজের শহিদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

    সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, গত কয়েকদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে ডিসিইউ প্রশাসন রানিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের বিষয়ে গণভোট আয়োজন করে। এই গণভোটের বিষয়ে প্রায় ১৭ হাজারের উপরে শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’-কে জয়ী করেছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন হতে চায় এই বিষয়ে তারা একমত প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার গণভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা শেষ করে একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতিদ্রুত সকল সেশন বিশেষ করে ২০২১-২২ সেশন এবং প্রথম বর্ষ ২০২৪-২৫ সেশনের পরীক্ষা যাতে অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং তাদেরকে এই একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক একাডেমিক রোডম্যাপ এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন যাতে আজকের মধ্যেই জারি করা হয় সে দাবি জানান তিনি।

    শিক্ষার্থীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি একাডেমিক মাইগ্রেশন ব্যাপারে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করেছে সেসব শিক্ষার্থীরা যদি ঢাকা শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে তাহলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছি না। আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি গণতান্ত্রিক উপায়ে জানিয়ে দিয়েছি যে আমরা সবাই সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে একমত। এমনকি উপাচার্য এই বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

    এসময় শিক্ষার্থীরা ১৩টি দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- ১। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা ২। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গণস্বাক্ষরের ফলাফল প্রজ্ঞাপন আকারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ৩। ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সবার জন্য সমান অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা ৪। বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনে বাংলা ও ইংরেজি-উভয় ভাষায় পাঠদান ও উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখা ৫। আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা ৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করা এবং প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের জন্য দুটি করে বাস বরাদ্দ দেওয়া ৭। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে ৮। গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়ানো ৯। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করা ১০। বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফলপ্রকাশ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা ১১। ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু ও পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করা ১২। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী এবং বিষয় সংযোজন করা ১৩। উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং টিএসসি কেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কাজ, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবাসহ নানা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা।

  • চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মার-ধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মার-ধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    ময়মনসিংহ নগরে চাঁদার দাবিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ওই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।

    শুক্রবার নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ারে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পশু চিকিৎসকের নাম আশিকুর রহমান। এ ঘটনায় শনিবার সদ্য বহিষ্কৃত মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিব নামের তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিকুর রহমান।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তার চেম্বারে এসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চেম্বারে ঢুকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তাকে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয়। তার স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও জোর করে চেম্বার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

    আশিকুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, চেম্বারের ক্যাশবাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া চেম্বারের লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে তাকে, তার কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

    শনিবার মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বারে ঢোকেন। একপর্যায়ে ওই নারী জুতা খুলে চিকিৎসককে পেটাতে থাকেন। পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে তালহাজুর চিকিৎসককে কিল-ঘুষি মারেন।

    সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরে চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে আশিকুর রহমান চেম্বারে আসেন। তখন তিনি বলেন, অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করছিলেন আফরিন রশিদ। তখন তাকে আক্রমণ করে বিভিন্ন আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়। ভুয়া আইডি দিয়ে তিনি (আশিকুর) সেগুলো করছেন—এমন সন্দেহ থেকে হামলা করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি গালিগালাজের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই বিরোধের জেরেই চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রংপুরের ঘটনার দায় নিতে হবে: জামায়াত আমির

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রংপুরের ঘটনার দায় নিতে হবে: জামায়াত আমির

    রংপুরের একটি বাসা থেকে স্কুলশিক্ষক ও তার পরিবারকে শ্বাসরোধে হত্যার মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও ময়মনসিংহে চিকিৎসকদের ওপর হামলা এবং চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটেছে।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে বলেও আখ্যায়িত করেন।

    পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘গতরাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    নিহতরা হলেন—জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।

    গোটা পরিবারকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক।

    সম্প্রতি দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঢাকায় একজন চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে তার ওপর হামলা করে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। ময়মনসিংহে একজন পশুচিকিৎসকের কাছেও অনুরূপভাবে চাঁদা দাবি করে হামলা করা হয়েছে।

    আর সর্বশেষ রংপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

    দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তা কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, এই তিনটি ঘটনাসহ অসংখ্য ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনগণ উদ্বিগ্ন। জনগণ এর সুরাহা চায়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকা জনগণকে শঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে রংপুরের এ ঘটনায় যে দুর্বৃত্তরা এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    একটার পর একটা অপরাধ সংঘটিত হয়ে চলেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। আদালতে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা জনগণকে দারুণভাবে হতাশ করছে। এই হতাশা থেকে জনগণকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

    তাই সরকারের ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের নিজেদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারকে তার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে বাধ্য করা দরকার।

    আসুন, সকলে মিলে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অপরাধের হাত থেকে আমাদের দেশের প্রিয় জনগণকে রক্ষা করি।
    আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে এসব অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।’

  • কলেজ ভর্তিতে থাকছে মাইগ্রেশনের সুযোগ

    কলেজ ভর্তিতে থাকছে মাইগ্রেশনের সুযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে মাইগ্রেশন সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আগের মতোই ভর্তিতে মাইগ্রেশনের সুযোগ পাবেন।

    শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা তিন ধাপে অনলাইনে একাদশে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ পেতো। তবে এ বছর প্রথম পর্যায়ে একবারই সুযোগ পাবে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

    কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, আবেদনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি–ইচ্ছুক সবাইকে আবেদন করতে হবে। যারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে, তাদেরও আবেদন করতে হবে। তবে পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের পুনরায় আবেদনের সময় দেওয়া হবে। ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা।

    শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে, তারা আবেদন করতে পারবে। এভাবে যাচাই–বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তির কাজ হবে। তারপর ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হবে।

    তবে যারা এ সময়ে ও প্রক্রিয়ায় কোনো কলেজ-মাদ্রাসা পাবে না বা প্রত্যাশিত কলেজ পাবে না অথবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারবে না, ২৩ সেপ্টেম্বরের পরপর তাদেরও ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।

    এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।

    গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে মোট আসনের অর্ধেকের বেশি এবার খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় আসনসংখ্যা সীমিত। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

  • জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর। এরপর ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষাগুলো সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য দেয়া হয়েছে ছয়টি বিশেষ নির্দেশনা।

    সুচি দেখুন

    রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সূচি প্রকাশ করে।

    সূচি অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর বাংলা, ১০ ডিসেম্বর ইংরেজি, ১৩ ডিসেম্বর গণিত ও ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।পরীক্ষার্থীদের যেসব নির্দেশনা মানতে হবে- পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে; প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য দেড় ঘন্টা + বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের জন্য দেড় ঘন্টা সর্বমোট তিন ঘণ্টা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে; পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের থেকে হতে পরীক্ষা আরম্ভের কমপক্ষে সাত দিন পূর্বে সংগ্রহ করবে; পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের OMR ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্তভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না; পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন; কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সঙ্গে আনতে পারবেন না।

  • এনটিআরসিএ‘র ভুল পদে সুপারিশ প্রাপ্তদের রি-সুপারিশ চলতি সপ্তাহে

    এনটিআরসিএ‘র ভুল পদে সুপারিশ প্রাপ্তদের রি-সুপারিশ চলতি সপ্তাহে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর ৬ষ্ঠ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ফের-সুপারিশ করার প্রক্রিয়া চলমান। ইতোমধ্যে এনটিআরসিএ থেকে টেলিটককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তাদের রিসুপারিশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

    রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    জানা যায়, ভুল পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯৯ জন প্রার্থীর তথ্য টেলিটককে পাঠানো হয়েছে। সে প্রক্রিয়ায় কাজ চলমান রয়েছে। চলতি সপ্তাহে রিসুপারিশ করা হতে পারে। এর আগে গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সভায় এনটিআরসিএকে এক সপ্তাহের মধ্যে রিসুপারিশ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। । সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

  • কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণেরও বিকল্প নেই।রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘অ্যা ন্যাশনাল ডায়ালগ অন টিভিইটি ফর অ্যা স্কিল্ড অ্যান্ড প্রোডাক্টিভ বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদেরকে শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এজন্য কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি।

    এসময় তিনি আরো বলেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাদেরকে যদি আমরা দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারি তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা আরো ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করতে যাচ্ছি। এছাড়াও, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে আমরা একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আলাদা একটা প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

  • ঢাবিতে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না: উপাচার্য

    ঢাবিতে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না: উপাচার্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অন্যায় করে কেউ পার পাবে না এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল।

    আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় টিএসসি মিলনায়তনে ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি বিভীষিকাময় অধ্যায়। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর যে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা বিশ্ববিদ্যালয় কখনো ভুলবে না।

  • খুনি সিদ্ধার্থের ছোট ভাইয়ের খেলার সঙ্গী ছিল প্রিয়ম, সেই পরিচয়ই কাল হলো শিশুটির

    খুনি সিদ্ধার্থের ছোট ভাইয়ের খেলার সঙ্গী ছিল প্রিয়ম, সেই পরিচয়ই কাল হলো শিশুটির

    রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা একই এলাকার বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতেই ইয়াবা সেবনের আলামতও পেয়েছে পুলিশ।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সি আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে হত্যার কারণও উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত বলেই তাকে বাঁচিয়ে রাখলে পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা করেছিল খুনিরা।

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ প্রিয়মকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দুজন মিলে শিশুটির ওপর হামলা চালায়। গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দেওয়া হয়।

    হত্যাকাণ্ডের পরও ওই বাড়িতে অবস্থান করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তারা বাড়ির বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং সেখানেই আবার ইয়াবা সেবন করে। পরে সুযোগ বুঝে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে সরে যায়। এর আগে তারা বাড়িতেই চেয়ারে বসে কিছু সময় বিশ্রাম নেয়।

    পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এর আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তারা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যায়।

    মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। পুলিশ জানিয়েছে, খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে তারা প্রতি পিস ৩৫০ টাকা দরে ইয়াবা কিনেছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাদের আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।

    ডিআইজি জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাঁচার চেষ্টা ও চিৎকারের শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এগিয়ে এলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাকে হত্যা করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। একপর্যায়ে আসামিরা রশি দিয়ে তার গলা ও মুখ পেঁচিয়ে জোরে টান দেয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বেরিয়ে আসে।

    এরপর নিচতলায় গিয়ে শিশু প্রিয়মকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়েও তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। শিশুটির বয়স নিজের সন্তানের সমান হওয়ায় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

    পুলিশ জানায়, হত্যার পর স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় অভিযুক্তরা। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। পরে মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রাখা হয়। তাদের দেখানো জায়গা থেকে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

    রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল জানান, চারজনের হত্যার খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে ছিলেন। পরে পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অন্যরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

    রংপুর সিআইডি কার্যালয়ের ইনচার্জ সুমিত চক্রবর্তী জানান, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। আসবাবপত্রের ড্রয়ার ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলোও ভাঙা পাওয়া যায়। প্রথমদিকে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

    রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ি তছনছ করার ধরন দেখে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

  • রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    প্রথমে এক বাড়িতে ইয়াবা সেবন, পরে ছাদ টপকে আসেন আরেক বাড়ির ছাদে। বাড়ির মালিকের চোখে পড়ে যাওয়ায় একে একে খুন করেন তাকেসহ পরিবারের চারজনকে। রাতভর হত্যা শেষে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ছিলেন ওই বাড়িতেই। এরপর ফের ছাদ টপকে পালিয়ে যান দুজন।

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার এই বর্ণনা দিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। আজ রবিবার ভোরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এসব জানিয়েছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন, নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা প্রায়ই এলাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন বাড়িতে বসে ইয়াবা সেবন করতেন, বলছে পুলিশ।

    রবিবার দুপুরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, মাছুয়াপাড়া এলাকায় দোতলা বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫)। একই এলাকার হওয়ায় আসামিরা ছিলেন পরিচিত। গণপতিকে ‘স্যার’ ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ‘কাকি’ ডাকতেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তাদের ছোট ছেলে প্রিয়মের সঙ্গে এলাকায় খেলাধুলা করত সিদ্ধার্থের ছোট ভাই।

    গণপতির বাড়িটি নির্মাণাধীন। পুলিশ বলছে, ওই বাড়িতে তাকেসহ পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আর মরদেহ উদ্ধার হলো গতকাল শনিবার মধ্যরাতে।

    আরএমপির বর্ণনা থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর পাশের বাড়ির ছাদ টপকে গণপতির বাড়ির ছাদে আসেন তারা। সেখানে আরেক দফা ইয়াবা সেবন করে দিচ্ছিলেন আড্ডা।

    ছাদে শব্দ শুনে দেখতে যান গণপতি। চিনে ফেলেন দুজনকে, বাধা দেন মাদক সেবনে। পরিচয় প্রকাশ হওয়ার শঙ্কায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।

    হট্টগোল শুনে ছাদে উঠতে গেলে সিঁড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতাকে। এরপর ঘরে ঢুকে রশি পেঁচিয়ে মারা হয় তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকে। সবশেষে ঘুমন্ত ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন আসামিরা।

    একে একে সবাইকে হত্যার পর সকালের দিকে গোসল করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর খেজুর ও শসা খান তারা। আরেক দফা সেবন করেন ইয়াবা। শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় রাস্তায় লোকজন কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন দুজন।

    এর মধ্যে ঘটনাটি ডাকাতি হিসেবে দেখানোর উদ্দেশে আসবাবপত্র তছনছ করেন। সঙ্গে নেন কিছু স্বর্ণালংকার। দুপুরের দিকে ছাদে উঠে ফের টপকে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে নেমে চলে যান দুজন। স্বর্ণালংকারগুলো এলাকার মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে দেন।

    আরএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তছনছ হওয়া আসবাবপত্র দেখে ঘটনাটি ডাকাতি বলে ধারণা হয়েছিল। পরে ইয়াবাসহ বেশকিছু আলামত জব্দের পর তদন্ত করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে মন্দিরের পেছন থেকে স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। দুজনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে বলে জানায় আরএমপি।

  • চবির ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

    চবির ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও ভর্তি কমিটির সচিব এস. এম. আকবর হোছাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এবার ভর্তি পরীক্ষা চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগীয় শহরেও অনুষ্ঠিত হবে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, C ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৯ জানুয়ারি, A ইউনিটের ৩০ জানুয়ারি, B ইউনিটের ৫ ফেব্রুয়ারি এবং D ইউনিটের পরীক্ষা ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া B1 উপ-ইউনিটের পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি, B2 উপ-ইউনিটের ৪ ফেব্রুয়ারি এবং D1 উপ-ইউনিটের পরীক্ষা ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬-২০২৭ ভর্তি পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একই তারিখ ও সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে B1, B2 ও D1 উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

  • অবসরের টাকা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশ

    অবসরের টাকা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশ

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী এখনো অবসর সুবিধা পাননি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বোর্ডে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। ইনডেক্স নাম্বার, আবেদন আইডি নাম্বারসহ অন্যান্য তথ্য জমা দিতে হবে।

    সম্প্রতি শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, অবসর সুবিধা বোর্ডে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই পর্যন্ত জমাকৃত আবেদনগুলোর মধ্যে যে সব শিক্ষক, কর্মচারী অবসর সুবিধা পাননি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবসর সুবিধা বোর্ডে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

    শিক্ষক, কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব সচল করে হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট। শিক্ষক, কর্মচারীর এনআইডি কপি। শিক্ষক, কর্মচারীর (নিজ) এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নাম্বার। মৃত্যুজনিত আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন মৃত্যু সনদ, ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ক্ষমতা হস্তান্তর পত্র, ওয়ারিশ সনদ, নমিনির ব্যাংক হিসাব সচল করে হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নমিনির এনআইডি ও নমিনির (নিজ) এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নাম্বার। ইনডেক্স নাম্বার, আবেদন আইডি নাম্বার এবং জমার তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

    রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের প্রবাসী কল্যাণ ভবনের অবসর সুবিধা বোর্ডের অফিসে এসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে। স্কুলের শিক্ষকদের ১৪১৫ ও ১৪২১, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষকদের ১৪১৬ ও ১৪২১, মাদ্রাসার জন্য ১৪১৩ ও ১৪২১ নম্বর কক্ষে কাগজপত্র জমা দিতে হবে।বিশেষ সতর্কীকরণ: অবসর ভাতা পেতে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। দালাল, প্রতারক এবং মধ্যস্বত্বভোগীর খপ্পরে পড়বেন না। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

  • চৌগাছায় শিক্ষক  সমিতির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় শিক্ষক  সমিতির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি জিএমএ মুনিব, চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম বজলুর রশিদ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাটগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তবিবর রহমান, সমিতির সাবেক সভাপতি ও পুড়াহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

    সাধারণ সভায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষকদের বিরাট ভুমিকা রয়েছে। শিক্ষকরা যদী তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন তাহলে দেশ ও জাতি দ্রুত উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহন করতে পারবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান।

  • তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

    তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

    ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন: এনগেজিং অ্যান্ড ইনস্পায়ারিং ইয়ুথ ইন ব্যাংকিং’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব। এতে তরুণদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা, স্বাধীনভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সঞ্চয়ের অভ্যাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রাইম ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে হবে।’ এ ধরনের আয়োজনের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব ও প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এমএম মাহবুব হাসান মূল বক্তব্যে আর্থিক সাক্ষরতা ও স্মার্ট মানি ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের স্বাস্থ্যকর আর্থিক অভ্যাস গড়ে তোলা, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, নিয়মিত সঞ্চয়, সচেতন আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’ এ সময় তিনি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ‘গ্র্যান্ডফাদার কনসেপ্ট অব পারসোনাল মানি ম্যানেজমেন্ট’ ধারণাটিও তুলে ধরেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ‘গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে ব্যাংক খাতে আরো কার্যকর ও যুগোপযোগী উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্র ও আর্থিক খাত সম্পর্কে ধারণা দেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশন মনোয়ারা খাতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মক ইন্টারভিউ পরিচালনা করেন। ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রিজিওনাল হেড (সাউথ) মোস্তফা মাহমুদ উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

    সেমিনারে মক ইন্টারভিউ, ক্যারিয়ার আড্ডা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসব পর্বে সেরা অংশগ্রহণকারীদের প্রাইম ব্যাংকের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন মুন্না।

  • ১১ মাসে যা করেছি,  ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    ১১ মাসে যা করেছি, ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এমন কাজ করা হয়েছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    আজ পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, শিক্ষার্থীরাই বলে আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে ১০৫ বছরের সে কাজ করতে পারেনি। ’

    ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সময়ে ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একাধিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ডাকসুর ভিপি বলেন, ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

    ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা গবেষণা করা চিন্তা করা প্রশ্ন করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। এজন্য সেই একাডেমিক পরিবেশ আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছি।

    দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই দেশে আমরা গত ৫৫ বছর জুড়ে আমাদের যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল আমাদের তরুণ প্রজন্মদেরকে নিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি। সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান। এতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • প্র্রাথমিকের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    প্র্রাথমিকের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিবছর বিনা মূল্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা ও পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমানো এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

    সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ লাখের বেশি স্কুল ড্রেস তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউনিফর্মের নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মেয়েদের জন্য আকাশি রঙের ফ্রক বা টিউনিক এবং ছেলেদের জন্য হালকা নীল জামা ও গাঢ় নীল হাফ প্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের সুবিধার জন্য ফিতাবিহীন সাদা জুতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় পাট দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব স্কুল ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি উদ্যোগে স্কুল ড্রেস তৈরিতে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল মিলও সহযোগিতা করছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গত ১১ আগস্ট বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পক্ষ থেকে ১ লাখ শিক্ষার্থীর স্কুল ড্রেস শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও এ উদ্যোগকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাইয়ে কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ১৬ আগস্ট করা হয়। এরপর আবারও সময় পরিবর্তন করে চলতি মাসের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কমতে পারে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই ধরনের পোশাক ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক অবস্থার পার্থক্যও কিছুটা কম দৃশ্যমান হবে। তবে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, পোশাক বা ব্যাগের পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি পর্যায়ে বড় পরিসরে পোশাক বিতরণে কাপড়ের মান, সঠিক মাপ, সময়মতো সরবরাহ এবং অনিয়মের মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)’-এর আওতায় স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তবে ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহে আলাদাভাবে কত অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মনোয়ারা ইসরাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো দাম ঠিক করিনি। প্রকল্প শুরু হলে বুঝতে পারব ড্রেসপ্রতি কত টাকা ব্যয় হয়।প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে।

    প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার ১ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য কমন রুম, স্বাস্থ্য উপকরণ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্যও বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণের জন্য নির্বাচিত বিদ্যালয়ের তালিকা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বুধবার বিভাগীয় উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো এক জরুরি অফিস আদেশে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

  • রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—এই ফ্যাসিবাদ ফিরবে। তার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য তাকে ফিরতে হবে। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কয়েকবার বলেছেন, আমি আসছি, আসব। পাশেই আছি, যেকোনও মুহূর্তে টুক করে ঢুকে যাব। কিন্তু আসি আসি বলে আর আসেন না। এটা তাদের একটি চরিত্র। ’

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হলেও তাকে দেশে আনতে হবে এবং তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তাফহিমুল ইসলাম মারুফ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা ইসহাক খন্দকার।

    নোবিপ্রবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে ‘ফ্রেশার্স রিসেপশন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ১০০ নবীন শিক্ষার্থীকে কুরআন শরিফ উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই, কলম, ফুলসহ বিভিন্ন উপহার দেয়া হয়।

  • কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জজ মিয়াকে (৫৫) দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সুপারিশ ও দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মো: জজ মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জজ মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে। শিশুটিকে তার বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড়ে ফারুক মিয়ার জমি থেকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে পাশের নদীর পাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জজ মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেন।

  • এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

    এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফল আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি প্রকাশ করা হতে পারে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান।

    তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আর চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। পরিকল্পনা রয়েছে- আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করার। শিক্ষাবোর্ডগুলো এ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।

    গত ২ জুলাই চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে ফরম পূরণ করেছে। এবার সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে।

    আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা গত ৮ আগস্ট শেষ হয়েছে। তবে বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। এ বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা ৮ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল।

    এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের বিশেষ পরীক্ষা আগামী ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ১০টায় রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে।

  • কর্মক্ষম শিক্ষার্থী গড়ে তোলার আহবান মাহদী আমিনের

    কর্মক্ষম শিক্ষার্থী গড়ে তোলার আহবান মাহদী আমিনের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শুধু সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না তুলে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, তারা যেন পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপান্তর ও গুণগত মানোন্নয়ন করার লক্ষ্যে সাভারে উপাচার্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল রেখে কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অন-ক্যাম্পাস পার্টটাইম চাকরির ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়াও ব্রেইন ড্রেইন বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

  • ২৩ আগস্ট ঢাবির কালো দিবস, স্মরণে নানা কর্মসূচি

    ২৩ আগস্ট ঢাবির কালো দিবস, স্মরণে নানা কর্মসূচি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘কালো দিবস’ আগামী ২৩ আগস্ট। দিবসটি উপলক্ষে নানান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি প্রশাসন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ২০-২৩ আগস্ট ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তথা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর সংঘটিত অমানবিক, বেদনার্ত ও নিন্দনীয় ঘটনার স্মরণে দিবসটি প্রতিবছর পালন করা হয়।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাবি জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৩ আগস্ট রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া, সকাল ১১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৯ জনে। একই সময়ে হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯৪০ শিশু।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজন ঢাকার, একজন সিলেটের এবং একজন খুলনার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯৪০ শিশুর মধ্যে ৬৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৮৭৬ শিশু।

  • স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    তরুণদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডিজিটাল যোগাযোগ ও তথ্য প্রচারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণরা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় অনলাইনে কাটায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য প্রদান ও সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

    গত ১২ থেকে ১৪ আগস্ট তানজানিয়ায় তিন দিনের একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে দেশটির ১৩টি উচ্চ ও তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী সহপাঠী শিক্ষকরা অংশ নেন। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সঙ্গে বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে।

    প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় ও তরুণবান্ধব ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে অনলাইনে যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্লেষণী তথ্য ব্যবহার করে পাঠক ও দর্শকদের আগ্রহ বোঝার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    ইউনেস্কো জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে এসব সহপাঠী শিক্ষক নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে তরুণদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করবেন। তাদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা বাড়ানো এবং তরুণদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তরুণরা যেসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত ব্যবহার করে, সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুস্থতা বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: ফয়সাল মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলছাত্র ফয়সাল মিয়া লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আওয়াল মিয়ার ছোট ছেলে। সে স্থানীয় লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, ফয়সাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের কাছ থেকে লাশ দাফনের অনুমতি আনার পর লাশ দাফনের ব্যবস্থা করবে পরিবারের সদস্যরা।

  • ভারতে ঋণ নিয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরি পাচ্ছেন না স্নাতকেরা

    ভারতে ঋণ নিয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরি পাচ্ছেন না স্নাতকেরা

    ভারতে ‘নলেজ পার্ক’ বলতে এমন এক পরিকল্পিত অঞ্চলকে বোঝায়, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি এবং স্টার্ট-আপগুলো একত্রে গড়ে তোলা। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে কয়েকটি নলেজ পার্ক গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চল মূলত অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচিত।

    উত্তর ভারতের ‘নলেজ পার্ক থ্রি’ (গ্রেটার নয়ডা এলাকা) তেমনি একটি বড় শিক্ষা কেন্দ্রের অংশ। এটি গড়ে উঠেছিল এমন একটি প্রতিশ্রুতির ওপর—কলেজের ডিগ্রি তরুণ ভারতীয়দের মধ্যবিত্ত জীবনে পৌঁছে দেবে। কিন্তু রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্র থেকে দুই ঘণ্টার দূরত্বে গড়ে ওঠা বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এলাকায় পড়তে আসা প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীর অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। ডিগ্রির বদলে তাঁদের অনেকের ভাগ্যে জুটছে ঋণ আর একরাশ হতাশা।

    এ এলাকার পাঁচটি নলেজ পার্কে গত এক দশকে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়াতে পরিবারগুলো তাদের সঞ্চয় শেষ করছে। কিন্তু প্রতিবছর যত শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করছেন, সেই তুলনায় ভালো বেতনের চাকরি তৈরি হচ্ছে অনেক কম।

    উত্তর ভারতের বারানসি শহরের ১৮ বছর বয়সী হর্ষিত রাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিংসহ চাকরি পেতে কাজে লাগতে পারে—এমন সব বিষয় পড়ছেন। নয়ডা ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে তাঁর ডিগ্রি শেষ করতে প্রায় ১৫ হাজার ডলার খরচ হবে। এর মধ্যে সাত হাজার ডলার ব্যাংকঋণ। তাঁর লক্ষ্য মাসে ৮০ হাজার রুপি বা বছরে প্রায় ১০ হাজার ডলার আয় করা। তবে এর অর্ধেক বেতনের চাকরি পেলেও তিনি রাজি হয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে শুধু পড়াশোনার খরচের সমান অর্থ আয় করতে তাঁর পাঁচ থেকে ছয় বছর চলে যাবে। স্নাতক হওয়ার এক বছর পর তাঁর ঋণের ওপর বছরে ১০ শতাংশ হারে সুদ যোগ হওয়া শুরু হবে। হর্ষিত বলেন, ‘কিছুটা চাপ অনুভব করি। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে?’

    ভারতের তরুণদের মধ্যে এই উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। গত মাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের (ককরোচ জনতা পার্টি সিজেপির ডাকে) মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিরলভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য বিক্ষোভ এখন কমে এসেছে, কিন্তু যে হতাশা থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা রয়ে গেছে।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তা ভালো জীবনের পথে তরুণদের সামনে থাকা নানা বাধার বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে শুরু হয় বিক্ষোভ। ভারতের প্রধান বিচারপতি মে মাসে দেশটির বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে একটি মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যের ইঙ্গিতেই দলের এই নাম রাখা হয়। তরুণদের অসন্তোষের একটি বড় কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও।

    ভারতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। প্রতিবছর এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ করে বাড়ছে।

    যেসব পরিবারের কিছু অর্থ আছে, তাদের কাছে শিক্ষা কম মজুরির কৃষিকাজ ও শ্রমের জীবন থেকে বেরিয়ে আসার কয়েকটি পথের একটি। সবচেয়ে ভালো সুযোগ হলো দেশের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো একটিতে ভর্তি হওয়া। যাঁরা সেখানে সুযোগ পান না, তাঁদের সামনে বিকল্প হিসেবে থাকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভারতে বেসরকারি শিক্ষার এই ব্যবসা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরের এক দশকে বেসরকারি কলেজের সংখ্যা তিন গুণ হয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ। এক দশক আগের তুলনায় এটি ৪১ শতাংশ বেশি। উচ্চশিক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েন। উচ্চশিক্ষা যত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে, সেই গতিতে ভালো চাকরি তৈরি হয়নি।

    আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২৫ বছরের কম বয়সী কলেজ স্নাতকদের প্রায় ৪০ শতাংশ বেকার।

    ভারতে মাসে ৫০০ ডলারের বেশি বেতনের নতুন চাকরি বছরে তৈরি হয় মাত্র প্রায় আড়াই লাখ। দেশটির বেশি আয় করা ব্যক্তিদের মধ্যে আরামদায়ক জীবনযাপনের একটি মানদণ্ড হিসেবে এই বেতনকে বিবেচনা করা হয়। এসব চাকরির প্রতিযোগিতায় নামী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকেরা অনেক এগিয়ে থাকেন।

    উদ্যোক্তা ও একটি শিক্ষা ফেলোশিপ কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা অক্ষয় সাক্সেনা বলেন, ‘তরুণদের কাছে একটি মিথ্যা বিক্রি করা হয়েছে। সেটি হলো, ডিগ্রি পেলেই চাকরি পাওয়া যাবে।’

    ভারতীয় শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে

    ভারতে প্রায় ৫৫০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এগুলোর মাত্র এক-দশমাংশকে অভিজাত বা সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদনকারীদের ৫ শতাংশেরও কম ভর্তির সুযোগ পান। সেখানে বছরে গড় টিউশন ফি ২৫০ ডলারের কম। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি ডিগ্রি একজন শিক্ষার্থীকে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরিগুলোর দিকে এগিয়ে দিতে পারে। বাকিদের সামনে থাকে অনেক বেশি ঝুঁকির হিসাব।

    অক্ষয় সাক্সেনার হিসাবে, প্রতিবছর প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রকৌশল কলেজে পড়ার জন্য ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করেন। তাঁদের আশা, ডিগ্রি শেষ করে তাঁরা বড় অঙ্কের বেতন পাবেন। কিন্তু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতকদের বার্ষিক মধ্যম বেতন প্রায় তিন হাজার ডলার। তিনি বলেন, ‘গড়পড়তা একজন স্নাতকের চাকরি পাওয়ার উপযোগিতা মাত্র ২০ শতাংশের মতো।’

    এই অসামঞ্জস্য এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাকে অক্ষয় সাক্সেনা বলেছেন ‘ভয়াবহ জাতীয় মানসিক সংকট’।

    একসময় প্রকৌশল ডিগ্রিকে ভারতের প্রযুক্তি খাতে ঢোকার নির্ভরযোগ্য পথ মনে করা হতো। তাই এসব ডিগ্রি পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো কোম্পানি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে এখন এসব চাকরির ভবিষ্যৎও আগের চেয়ে অনিশ্চিত মনে হচ্ছে।

    ভারতের ক্লাউড সফটওয়্যার কোম্পানি জোহো সহপ্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ভারতে ডিগ্রি নেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষার নামে তরুণদের ঋণের ফাঁদে ফেলা উচিত নয়।’

    নয়াদিল্লির উপকণ্ঠ নয়ডায় অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে কম খরচের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেলে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় বিকল্প হিসেবে আসে। অতুল আনন্দ নিজের রাজ্য বিহারের একটি শীর্ষ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছর আগে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে তিনি সেখানে ভর্তি হতে পারেননি। পরে ঋণ করে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ডিগ্রি ও জীবনযাত্রার খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ১৫ হাজার ডলার (১ ডলার সমান ৯৫ দশমিক ৭০ ভারতীয় রুপি) লাগবে। রাজ্য সরকার এ খরচের জন্য তাঁকে চার হাজার ডলার ঋণ দিয়েছে। বাকি অর্থ জোগাতে তাঁর পরিবার সঞ্চয়ের প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছেছে।

    অতুলের বাবা গ্রামের একটি স্কুলে গণিত ও হিন্দি পড়ান। নিজের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে অতুল রাতে ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করেন। ভাগ্য ভালো হলে প্রযুক্তি খাতে বছরে ১০ হাজার ডলার বেতনের চাকরি পেতে পারেন বলে তাঁর আশা। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন খুব বড় নয়। আমি ঋণ ও পরিবারের খরচের বোঝা কমাতে চাই।’

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই অতুল গত মাসের দিল্লির যন্ত্রর মন্ত্ররে সিজেপির আন্দোলনের শেষ দিনে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি আন্দোলনকারী হিসেবে নয়, বরং নিজেদের নানা অভিযোগ জানানোর জন্য সেখানে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক কারণে সেখানে যাইনি।’ তাঁর বন্ধু এম জে বিশ্বাস আন্দোলনকারীদের ঘোষিত দাবির বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন। তাঁদের দাবির মূল বিষয় ছিল ভারতের পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা। বিশ্বাসের মতে, আন্দোলনের পেছনে আরও গভীর একটি কারণ ছিল। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ক্ষোভ আসলে তোমাদের ভয় ঢাকার মুখোশ। তোমরা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব ভীত।’

    অক্ষয় সাক্সেনা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সুবিধাপ্রাপ্ত দিকটি কেমন, তা জানেন। তিনি দেশের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বোম্বেতে পড়েছেন। পরে তিনি বোস্টন কনসালটিং গ্রুপে যোগ দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে নতুন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। এখন তিনি অবন্তী ফেলোসের মাধ্যমে মেধাবী ও নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    কিন্তু শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যত আসন আছে, সেখানে ভর্তির চেষ্টা করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। একইভাবে ভালো চাকরির সংখ্যার তুলনায় স্নাতকের সংখ্যা অনেক বেশি। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষার বিশাল একটি খাত পরিবারগুলোর কাছে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ওপরে ওঠার সম্ভাবনা বিক্রি করছে। অথচ সেই সম্ভাবনা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অক্ষয় সাক্সেনা বলেন, ‘বাস্তবে কেউই চাকরি পাবে না। মানুষের অসহায়তাকেই অর্থ উপার্জনের উপায় বানানো হবে।’

  • এবার মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন ককরোচ প্রধান

    এবার মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন ককরোচ প্রধান

    ভারতের মহারাষ্ট্রের সরকারি স্কুলগুলোর বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বরং এবং তাদের চেয়ে মন্ত্রীদের কুকুররা ভালো সুযোগ-সুবিধা পায়।

    গত সপ্তাহে শুরু হওয়া সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি স্কুল পরিদর্শনের পর এসব কথা বলেন দিপকে।

    তার অভিযোগ, রাজ্যের বহু সরকারি স্কুলে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টয়লেট এবং নিরাপদ যাতায়াতের রাস্তার মতো মৌলিক সুবিধা নেই। কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘পশুর চেয়েও খারাপ আচরণ’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    দিপকে বলেন, ‘এটি শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রশ্ন। রাজনৈতিক নেতারা যদি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুই না করেন, তাহলে মানুষ কেন তাদের ভোট দেবে? শুধু হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করার জন্য কি মানুষ তাদের ভোট দেয়? মানুষের উচিত তাদের সন্তানরা কী অবস্থায় পড়াশোনা করছে, তা দেখা। এই অবস্থার চেয়ে এসব মন্ত্রীর কুকুরও ভালো সুবিধা পায়।’

    শিক্ষার উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট চাইতে আসার আগে নেতাদের স্কুলসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়, জাতপাত ও সম্প্রদায়ের পতাকা নিয়ে মানুষ যেমন ঘর থেকে বের হয়, তেমনি সন্তানদের স্কুলের স্বার্থেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতির সমালোচনা করে দিপকে বলেন, শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘তারা সব সময় বলে ধর্ম বিপদে আছে। এত বছরেও যে ধর্ম শেষ হয়নি, সেটি কি তাদের শাসনামলেই শেষ হয়ে যাবে? ধর্ম কোথাও যাবে না, কিন্তু শিশুদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

    তিনি আরও বলেন, সরকারি স্কুলগুলোর প্রকৃত অবস্থা বুঝতে মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিজেদের সন্তানদের এসব স্কুলে পড়ানো উচিত।

    শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের পদে থাকা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দিপকে বলেন, স্কুলগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখে তার মনে হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রীর ওই পদে থাকা উচিত নয়।

    দিপকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও সরকার সরকারি স্কুলগুলোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে পারেনি। এখনও অনেক শিক্ষার্থী টিনের ফুটো ছাদের নিচে এবং পর্যাপ্ত বেঞ্চ ছাড়াই পড়াশোনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘১০ বছরেও যদি এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান করা না যায়, তাহলে সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে তারা কী অর্জন করেছে।’

    স্কুলে পৌঁছাতে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহনের ব্যবস্থারও দাবি জানান তিনি। স্কুলে সাপের কামড়ে শিশুদের মৃত্যুর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এমন ঘটনা নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতাকেই সামনে আনে।

    এর আগে সিজেপির একটি দল যে স্কুল পরিদর্শন করেছিল, সেখানে স্কুল ভবনের পেছনে জমে থাকা আবর্জনা ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্রের কারণে সাপের উপদ্রবের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দিপকে।

    তবে সিজেপির পরিদর্শনের পর কিছু স্কুলে কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    ২০২৯ সালের নির্বাচনে জেন-জেড প্রজন্ম বড় একটি ভোটশক্তি হয়ে উঠবে উল্লেখ করে দিপকে বলেন, তরুণদের সমস্যাগুলো উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে সরকারকে তাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

    সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থার উন্নতি না হলে গ্রামজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    এ ছাড়া লাতুরে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিপকে। তার অভিযোগ, তদন্তে নিচু পর্যায়ের অভিযুক্তদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, আর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো হোস্টেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    আহতদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।শিক্ষার্থীরা জানান, হোস্টেলে তাফসির ও শরীফ উদ্দিনের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তাদের মধ্যে আগে থেকেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল। একপর্যায়ে তারা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লোহার রড, স্টাম্পসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তাসরিফ আহমেদ, শরীফ উদ্দিন, রায়হান রাজ, রজব সানি, ফারদিন ইফতি, সামি, রিয়াদ, আব্দুল্লাহ চৌধুরী, সামিউল আল আরিফ ও হুজাফ সৌমি।

    হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

    স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

    স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    গত সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    সেখানে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ডা. নাজমুল হোসেনকে আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে এক বছর মেয়াদে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার অবসরোত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

    চৌগাছায় ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৭৪০টি পদের মধ্যে ৮৩টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। শিক্ষকরা জানান, ফিডিং কার্যক্রম না থাকায় টিফিনের পর অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৫ হাজার ৯৯৩ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৩৫ জন উপবৃত্তির আওতাভুক্ত। গত ছয় মাসে উপবৃত্তি পেয়েছে ১৭ হাজার ২৩৫ জন।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর কার্যালয়েও জনবল সংকট রয়েছে। পাঁচটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিনজন। এছাড়া উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে। এই জনবল দিয়ে ১৩৯টি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা কঠিন বলে জানান তিনি।

  • একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর

    একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ আগামী ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করেছে শিক্ষাবোর্ডগুলো।

    এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না।

    কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিক্ষা বোর্ড সূত্র গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে। পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফলাফল পরিবর্তন হবে, কিংবা যারা প্রথম ধাপে আবেদন করতে পারেননি—তারা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন।

    এই ধাপের ভর্তির ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।

    পরে নির্বাচিতদের ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে ভর্তির কাজ শুরু হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।

    গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই হিসাবে এবার অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে।

    সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার আরও কমেছে। ফলে আসনসংখ্যা আরও বেশি শূন্য থাকবে।

    তবে মোট আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন কম। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

  • ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট

    ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট

    বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জুলাই থেকেই বাড়ছে। তবে আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই জুলাইয়ের চেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২০০-এর বেশি।

    চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৭৬ জন। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ।

    অন্যান্য বছরের মতো এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক নয়। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে কোন এলাকায় ডেঙ্গু দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং সামনে কোথায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এ কারণে সামনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরো বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

    ঢাকার বাইরে বেশি সংক্রমণ যে পাঁচ জেলায়

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময়ে ঢাকায় মারা গেছেন ৩৪ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে ঢাকাতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

    ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে খুলনা জেলায়। এ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও খুলনা শীর্ষে। সেখানে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন।

    এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৯১ জন। মারা গেছেন তিনজন।

    আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশালের পিরোজপুর। এ জেলায় এ বছর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন একজন।

    চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। সেখানে ৯২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ছয়জন।

    ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে গাজীপুরে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২০। তবে সেখানে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। এই বিভাগের শুধু মানিকগঞ্জে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    কেন এই পাঁচ জেলা বেশি ঝুঁকিতে

    একসময় ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যেত। এবার ঢাকার বাইরের কয়েকটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি।

    জনস্বাস্থ্য ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বলেন, এ বছর উপকূলীয় অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে এর উপস্থিতি বেশি।

    এর একটি কারণ হিসেবে উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা এবং বছরজুড়ে বৃষ্টির পানি মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

    ডা. মুশতাক বলেন, কোনো পাত্র বা স্থানে ৪৮ ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে। লার্ভাও তৈরি হতে পারে। সংরক্ষিত পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব। কিছু এলাকায় এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হলেও সব লবণাক্ত এলাকায় একইভাবে সচেতনতা কার্যক্রম হয়নি।

    গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপের পেছনে ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন ডা. মুশতাক।

    তার মতে, নিম্ন আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। পরিবেশের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।

    ময়মনসিংহের ক্ষেত্রেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানি জমে থাকার মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

    বাংলাদেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাহাড় চট্টগ্রাম বিভাগে। এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলা দ্বিতীয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও গাছপালাযুক্ত এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। তবে শুধু এ কারণে ডেঙ্গু ছড়ায় না।

    ডা. মুশতাক বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকা একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাহাড়ি এলাকা জনবিরল হলে সমস্যা কম। কিন্তু পাহাড়ি এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে।

    কীটতত্ত্ববিদ ও জাতীয় নদী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি যেসব এলাকায় পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি, সেসব এলাকাতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি হতে পারে।

    তিনি বলেন, আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় মানুষ অনেক সময় নিরাপদ নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন পাত্রে জমিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় এভাবে পানি সংরক্ষণ করা হলে এসব পাত্র এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।

    ডেঙ্গু বাড়ার পেছনে আরও যেসব কারণ

    পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে। বাংলাদেশে বেশি দেখা যায় এমন ক্ষতিকর মশার মধ্যে অ্যানোফিলিস, এডিস ও কিউলেক্স অন্যতম।

    স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ছড়ায়। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। আর কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ হতে পারে।

    ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিকটাস জাতের মশা।

    কীটতত্ত্ববিদ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, এডিস ইজিপ্টাই প্রধানত শহরকেন্দ্রিক। অন্যদিকে এডিস এলবোপিকটাস বেশি দেখা যায় গাছপালাসমৃদ্ধ গ্রামীণ এলাকায়।

    হাঁড়ি-পাতিল, প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, দইয়ের পাত্রসহ বিভিন্ন কৃত্রিম পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস ইজিপ্টাই বংশবিস্তার করে। এ কারণে এই মশাকে ‘কন্টেইনার ব্রিডিং মসকুইটো’ বলা হয়।

    অন্যদিকে গাছের কোটর বা কচুর পাতার গোড়ার মতো প্রাকৃতিকভাবে পানি জমে থাকা স্থানে এডিস এলবোপিকটাসের প্রজনন হয়।

    মনজুর আহমেদ চৌধুরীর মতে, ডেঙ্গু ছড়ানোর ক্ষেত্রে এডিস ইজিপ্টাই তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর বাহক। তবে কোনো কোনো এলাকায় এডিস এলবোপিকটাসই প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।

    এমন এলাকাও রয়েছে, যেখানে এডিস ইজিপ্টাই পাওয়া না গেলেও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ডেঙ্গুকে এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    কীটতত্ত্ববিদদের মতে, আগে শহর এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও নগরায়নের প্রভাবে এখন গ্রামেও এই মশা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামেও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ বেড়েছে।

    মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, দুই-তিন দশক আগে ঢাকার যেসব এলাকায় নিয়মিত পানির সংকট ছিল, সেখানে মানুষ ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমিয়ে রাখতেন। পুরান ঢাকার কিছু এলাকা ও এলিফ্যান্ট রোডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পানির সংকটের কারণে এসব এলাকায় ড্রামে পানি সংরক্ষণ করা হতো। এতে মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতো।

    এখন পরিস্থিতি আরো বদলেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ও ভোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পাত্রের ব্যবহারও বেড়েছে। আগে যত হাড়িপাতিল ও পাত্র ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি। বেড়েছে ছাদবাগানও। গ্রামেও অনেকে প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করেন। বিশেষ করে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক শহর ও গ্রামের পার্থক্য কমিয়ে দিয়েছে।

    ফলে শহর ও গ্রামের উভয় এলাকাতেই এডিস মশার জন্য নতুন নতুন প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে।

    এ ছাড়া সারাদেশে এডিস মশার বিস্তার বাড়ার পেছনে আবহাওয়া এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ঘাটতির কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এতে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

    তার মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সারাদেশে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে সিটি করপোরেশন বা উপজেলায় জনপ্রতিনিধি নেই। ফলে মশা নিধনের কাজও সেভাবে হয়নি। এতে মশার সংখ্যা বেড়েছে।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু কবে

    বাংলাদেশে কবে থেকে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

    ১৯৯৮ সালে কিছু রোগীর দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরের বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর অনেক রোগীর দেহে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়।

    ২০০০ সালের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ে। তখন থেকেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা ধীরে ধীরে শুরু হয়।

    অধ্যাপক মুশতাক হোসেন বলেন, অতীতে এডিস মশা থাকলেও ডেঙ্গু শনাক্তের সুযোগ কম ছিল। তাই এ মশার উপস্থিতি নিয়ে তখন এত গবেষণা বা উদ্বেগের সুযোগ ছিল না। এখন সেই সুযোগ বেড়েছে।

    আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করে ২০১৯ সালে। ওই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। মারা যান ১৭৯ জন।

  • ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এবং ১০টি মেডিক্যাল কলেজে ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন আট হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক শেষে এসব কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া ১০টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সেতুসমূহের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

    পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পটিও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • কিন্ডার গার্টেন স্কুলের জন্য দুঃসংবাদ

    কিন্ডার গার্টেন স্কুলের জন্য দুঃসংবাদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিবন্ধন না নিয়ে পরিচালিত দেশের সব কিন্ডার গার্টেন স্কুল ২০২৮ সালের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নিয়ম-নীতির আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের পিটিআই কনফারেন্স হলে ‘প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর ও কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নিবন্ধনহীন কিন্ডারগার্টেনগুলোকে নিয়মের আওতায় আনা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না নেওয়া দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুল ২০২৮ সালের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল সংকট দূর করতেও সরকার কাজ করছে।

    ববি হাজ্জাজ আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি নতুন সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের পদোন্নতি, বেতন কাঠামো এবং দায়িত্বের পরিধি পুনর্নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    নতুন নীতিমালার মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্বের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

    বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি ও সরকারি সংস্থার ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে, এসব হামলার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪২টি কোম্পানি ও সরকারি সংস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৩১ টেরাবাইটের বেশি একাডেমিক তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, হামলাগুলোর কিছু ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), ইরানি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে চালানো হয়েছিল।

    মার্কিন তদন্তকারীরা সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি সাইবার হামলার সঙ্গেও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর যোগসূত্রের কথা জানিয়েছেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩০টি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা হয়েছিল। এসব হামলায় ইরান-সংশ্লিষ্ট ‘হানজালা’ হ্যাকার গোষ্ঠীর ব্যবহৃত কৌশলের মিল পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।

    এ ছাড়া মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিবহন ব্যবস্থায় চালানো একটি সাইবার হামলার ঘটনাও তদন্তে এসেছে। ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গ্যাম্বিট সিকিউরিটির গবেষকেরা ওই হামলার জন্য ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করেছেন।

    তাদের দাবি, হামলায় লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির ই-মেইল, ব্যাকআপ কপি ও অন্যান্য নথিসহ অন্তত ৭০০ গিগাবাইট তথ্য চুরি করা হয়েছিল।

  • ভারতের স্বাধীনতা দিবসে হিন্দু ছাত্রীদের বোরকা নাচ: স্কুল সিলগালা

    ভারতের স্বাধীনতা দিবসে হিন্দু ছাত্রীদের বোরকা নাচ: স্কুল সিলগালা

    উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় ভারতের স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে হিন্দু ছাত্রীদের বোরকা পরে নাচার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর একটি বেসরকারি স্কুল সিলগালা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাবানজোট এলাকার আউসানি বুজুর্গ গ্রামে অবস্থিত এই স্কুলটিতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ পরিদর্শন চালায়। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কোনো অনুমতি বা স্বীকৃতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (বিএসএ) অমিত কুমার সিং জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পর তিনি ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা (বিইও) রিয়াজ আহমেদকে বিষয়টি নিয়ে পরিদর্শন করার নির্দেশ দেন।
    রিয়াজ আহমেদের তথ্যমতে, শিক্ষা বিভাগ প্রায় এক সপ্তাহ আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই স্কুলটি চালু রাখা হয়।

    পরিদর্শনের সময় অনুমোদনহীনভাবে স্কুলটি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কর্তৃপক্ষ স্কুলের ম্যানেজার ও অধ্যক্ষের কক্ষ তালাবদ্ধ করে এবং প্রধান ফটক সিলগালা করে দেয়, যার ফলে স্কুলটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

    রিয়াজ আহমেদ জানান, পরিদর্শন ও সিলগালার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলগালা হওয়া স্কুলের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অমিত কুমার সিং নির্দেশ দিয়েছেন যে, আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের পাশের সরকারি বা অন্যান্য অনুমোদিত স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    গত ১৫ আগস্টের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। শিক্ষার্থীরা কেন বোরকা পরে এমন পারফর্ম করেছিল— সেই সম্পর্কিত ঘটনাটি আলোচনার জন্ম দিলেও, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাদের এই প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূল কারণ হলো স্কুলটির প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি বা স্বীকৃতি না থাকা।

    কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার সাথে সাথে ভিডিওটি এবং এই আয়োজনের পেছনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮২ শতাংশই বুকের দুধ পায়নি

    হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮২ শতাংশই বুকের দুধ পায়নি

    হামে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি রোগীদের ৮২ শতাংশই মায়ের পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই অপুষ্টির শিকার এবং তাদের অনেকে জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে ভর্তি রোগীদের মধ্য থেকে ৩৫৪ জনের ওপর এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।

    গবেষণাটি এখনো চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। শিশু হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী।

    অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

    গবেষণার মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, চিকিৎসাধীন অবস্থায় যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টির শিকার।

    গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ জন শিশুকে চারটি দলে ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি (৯ মাসের কম) এমন ১৪৬ শিশুর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের (১৪২ জন) হাম শনাক্ত হয়। টিকার বয়স হওয়া সত্ত্বেও টিকা না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ৯৭ শতাংশের (১২২ জন) শরীরে হামের সংক্রমণ মেলে।

    অন্যদিকে, এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ জনের মধ্যে ৪৪ জন এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

    তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পাওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশ আক্রান্ত হচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন রোগীদের ক্ষেত্রেই এই হার দেখা গেছে। টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হওয়ার পেছনে অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া, অপুষ্টি বা স্বাস্থ্যগত নানা ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে, যা নিয়ে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

    গবেষণায় আরও শনাক্ত হয়েছে, আক্রান্তদের শরীরে বিদ্যমান সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার অন্তর্ভুক্ত, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের বি৩ ভাইরাসের অনুরূপ। এ ছাড়া ভাইরাসের এইচ (H) প্রোটিনের এপিটোপ অঞ্চলে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশন চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।

  • পেছাতে পারে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

    পেছাতে পারে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ মাস পেছানোর চিন্তা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা ভাবছে শিক্ষা বিভাগ।

    পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি এবং অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা আগামী মার্চে শুরু করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবকিছু চূড়ান্ত হলে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা শুরু হতে পারে। শিক্ষা বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রমজান ও ঈদুল ফিতরের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এসব বিষয় পর্যালোচনা করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা মার্চে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাই আগামী মার্চে পরীক্ষা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে।সে হিসাবে রমজান ও ঈদুল ফিতর শেষে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি থেকে। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এ দিকে আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৬ জুন ২০২৭ থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষা চলবে ১৩ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত।

    ১৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীদের জন্য, ২ বছরে গ্যাপ নিরসনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসকে শিক্ষা বছরের শেষ এবং পরীক্ষার মাস হিসেবে ধরা হবে।

    দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে হয়ে আসছিল। তবে করোনা মহামারির পর সেই সূচি আর বজায় রাখা যাচ্ছে না; বরং পরীক্ষা আরও পিছিয়েছে। চলতি বছরও (২০২৬) এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় জুলাই মাসে।

    এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছরের পরীক্ষা এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা বিভাগ। এর আগে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    পরে অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত সভাতেও ডিসেম্বরে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত আসে। এরপর আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি জুনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

    তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা কোন মাসে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়টি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানাবে মন্ত্রণালয় এমনটাই বলছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • ৪০ পেরোলেই চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    ৪০ পেরোলেই চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    বয়স ৪০ পার হওয়ার পর শরীরে ধীরে ধীরে নানা পরিবর্তন শুরু হয়। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও শরীরের ভেতরে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা নীরবে তৈরি হতে পারে। এসব সমস্যার অনেকগুলোরই প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই মধ্যবয়সে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘৪০ বছর হলেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একই চারটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক’¬Ñএমন কোনো সর্বজনীন চিকিৎসা-নির্দেশনা নেই। বয়সের পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস, ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান, পূর্ববর্তী রোগ ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

    ১. লিপিড প্রোফাইল (রক্তে কোলেস্টেরল ও চর্বির মাত্রা)

    কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। কোষের গঠন ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে এর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ধমনিতে চর্বি জমে প্লাক তৈরি হতে পারে। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ কোলেস্টেরল সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না; রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই এটি শনাক্ত করা যায়। লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় সাধারণত মোট কোলেস্টেরল, HDL বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল, LDL এবং ট্রাইগ্লিসারাইডসহ রক্তের বিভিন্ন চর্বির মাত্রা মূল্যায়ন করা হয়। HDL তুলনামূলকভাবে হৃদযন্ত্রের জন্য সুরক্ষামূলক ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে LDL বেশি থাকলে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহার কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারো ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

    ২. কিডনির কার্যক্ষমতা

    কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ, পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও শুরুতে অনেক সময় কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই ফলের ভিত্তিতে সাধারণত EGFR (estimated glomerular filtration rate) হিসাব করা হয়, যা কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত পরিশোধন করছে তার একটি ধারণা দেয়। কিডনি রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে শুধু রক্তের ক্রিয়েটিনিন নয়, প্রস্রাবে albumin-to-creatinine ratio (ACR)-ও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা বা কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে কিডনি পরীক্ষা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে রোগের অগ্রগতি ধীর করার সুযোগ থাকে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করা উচিত।

    ৩. দীর্ঘমেয়াদি রক্তে শর্করার হিসাব

    ডায়াবেটিস এখন বিশ্বজুড়েই একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা এবং স্নায়ুর ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। HbA1c একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে গত কয়েক মাসে একজন ব্যক্তির রক্তে গ্লুকোজের গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রক্তের গ্লুকোজ হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে glycated haemoglobin তৈরি করে, HbA1c পরীক্ষায় সেটিই পরিমাপ করা হয়। এটি শুধু পরিচিত ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণেই নয়, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করতেও ব্যবহৃত হয়। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে শুধু HbA1c দিয়েই ডায়াবেটিস নির্ণয় করা যায় না; কিছু বিশেষ শারীরিক অবস্থায় অন্য রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ বা আগে রক্তে শর্করা বেশি থাকার ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমানো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

    ৪. রক্তচাপ মাপাচতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আসলে কোনো রক্ত পরীক্ষা নয়Ñরক্তচাপ মাপা। ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণভাবে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের কাছে মাপার সময় ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি এবং বাড়িতে মাপার ক্ষেত্রে ১৩৫/৮৫ mmHg বা তার বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। তবে একটি মাত্র উচ্চ রিডিংয়ের ভিত্তিতে সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না; প্রয়োজন হলে বারবার মাপা বা ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেটরি মনিটরিং করা হয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান ত্যাগ এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হয়।

  • বিধিমালা অনুমোদনে জটিলতা, সংকটে এফআরসি

    বিধিমালা অনুমোদনে জটিলতা, সংকটে এফআরসি

    মামলাজনিত কারণে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে যাওয়া ও আইন অনুযায়ী প্রণীত বিধিমালার অনুমোদন না পাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংকটের মুখে পড়েছে ফাইন্যান্সিয়াল ‍রিপোরর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। এফআরসি গঠিত হওয়ার এক দশকের বেশি সময় পার হলেও এখনো স্থায়ী জনবল নিয়োগ হয়নি। ২০১৬ সালের এপ্রিলে যাত্রা শুরু হয় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিরীক্ষকদের নিয়ন্ত্রণকারী এ প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু এখনো প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো স্থায়ী জনবল নিয়োগ হয়নি। ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্ন হিসেবে এফআরসিতে কাজ করছে। বছরের পর বছর ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নানাভাবেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    অপরদিকে এফআরসির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় ৪টি বিধিমালা প্রণয়ন করে তা অনুমোদনে অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অর্থ বিভাগে পাঠানো হলেও সেগুলো প্রায় এক বছর ধরেই ঝুলে রয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑ প্রশাসনিক জরিমানা বিধিমালা, আর্থিক বিবরণী দাখিল সংক্রান্ত বিধিমালা, হিসাবরক্ষণ ও আপিল কর্তৃপক্ষ বিধিমালা এবং চার্টার্ড অব লিগ্যাল ফিস বিধিমালা। এসব বিধিমালা অনুমোদন না হওয়ায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না এফআরসি।

    এফআরসির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে গত সোমবার নিয়োগ পেয়েছেন। গতকাল তিনি পদত্যাগও করেছেন। ফলে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও সংস্থাটির কার্যক্রমে নতুন করে ধীরতা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত এফআরসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিধিমালাগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ রাশেদুল হোসেন দৈনিক আমার দেশ-কে জানান যে, প্রশাসনিক জরিমানা বিধিমালার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি এখন ভ্যাটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, আর্থিক বিবরণী দাখিল সংক্রান্ত বিধিমালা, আপিল কর্তৃপক্ষ বিধিমালা এবং চার্টার্ড অব লিগ্যাল ফিস বিধিমালা সংশোধনের কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

    জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে এফআরসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক কর কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর নতুন করে এফআরসিতে স্থায়ী জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেন তিনি। ১৫০ জন জনবল নিয়োগে অর্থমন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রথম দফায় ৫৭ জন নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া যায়। নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এফআরসি এবং ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞিপ্তি প্রকাশের পর স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের ঘটনা ঘটে। স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আপিল বিভাগ নিয়মিত শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলাটি প্রেরণের নির্দেশ দেন। বর্তমানে নিয়মিত বেঞ্চে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনবল নিয়োগে এফআরসির পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে ৫৭ জনকে বাদ দিয়ে ১৫০ জনবলের বাকি ৯৩ জনবল নিয়োগের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। নতুন জনবল অনুমোদনে এফআরসির যুক্তি, ৫৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। সে ব্যাপারে আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই পরিপালন করবে এফআরসি। ওই ৫৭টি শূন্য পদ বাদ দিয়ে নতুন করে জনবল নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেলে এ সংক্রান্ত সংকটের একটা সমাধান হবে। তবে নতুন এ প্রস্তাবনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত মেলেনি।

    এফআরসির সদ্য বিদায়ি চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া আমার দেশকে বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এফআরসিকে শক্তিশালী করতে হবে। স্থায়ী জনবল ছাড়াই এফআরসি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। আইনগত জটিলতার কারণে সেটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করছি বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন, এফআরসির কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ৪টি বিধিমালা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এগুলোর দ্রুত অনুমোদন হবে বলে আশা করছি। তখন এফআরসি আরো বেশি কার্যকর ও কার্যক্ষম হবে। এদিকে হিসাবরক্ষণ ও আপিল কর্তৃপক্ষ বিধিমালা অনুমোদিত না হওয়ায় আপিল কর্তৃপক্ষ গঠন করতে পারছে না এফআরসি। এ কারণে এফআরসির সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ পক্ষের কোনো ধরনের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ মিলছে না। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট এফআরসি কাউন্সিলের কাছে সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিউ আবেদন করতে পারবেÑ এ ধরনের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এফআরসি। আপিল কর্তৃপক্ষ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ অনুযায়ী এফআরসি গঠিত হলেও এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় আন্তর্জাতিক আইনে। বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন, অডিট রিপোর্ট পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নীরিক্ষক ও নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজের গুনগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব এফআরসির।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, আর্থিক প্রতিবেদন সঠিক হলে তার ভিত্তিতে সরকার সঠিক রাজস্ব যেমন পাবে তেমনী বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। পুঁজিবাজারে বিদেশ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হলে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন যথার্থ হতে হবে।

    খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের যথার্থতা নিশ্চিতে এফআরসিকে শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই। জটিলতা নিরসন করে দ্রুত জনবল নিয়োগে ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় বিধিমালার অনুমোদন দেওয়া উচিত।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল আমিন আমার দেশকে বলেন, এফআরসিকে কার্যকর করতে হলে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে। ইন্টার্ন দিয়ে এ ধরনের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর চলতে পারে না। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চারশো থেকে সাড়ে চারশো প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষার মান নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) উদ্বিগ্ন। কিন্তু রেজিস্টার্ড অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত সাড়ে তিন লাখের মতো প্রতিষ্ঠানের নীরিক্ষার বিষয়টি যে প্রতিষ্ঠানের (এফআরসি) অধিক্ষেত্র সেটিকে শক্তিশালী করার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। এফআরসিতে জনবল নিয়োগে আইনী জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে রিভিউ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। জনবল নিয়োগে আইনী জটিলতা নিরসনে রিভিউ কমিটি করণীয় নির্ধারণে কাজ করবে।

  • নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। গতকাল মধ্যরাতের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ অন্তত ৯ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে এক বহিরাগতকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

    অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পকেট গেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। কঠোরভাবে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করার পরই হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে প্রক্টরিয়াল বডি সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

  • এতিম মেয়েদের শিক্ষার আশ্রয়স্থল হাবিবে জান্নাত

    এতিম মেয়েদের শিক্ষার আশ্রয়স্থল হাবিবে জান্নাত

    শেরপুরের নকলা উপজেলায় এতিম ও অসহায় মেয়েদের ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নিতে কাজ করছে হাবিবে জান্নাত মহিলা এতিমখানা।

    সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, আবাসন, খাবার ও সামগ্রিক পরিবেশের খোঁজ নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আলহাজ মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিরাপদ ও নিরিবিলি পরিবেশে এতিম ও অসহায় মেয়েদের নূরানি, নাজেরা, হিফজ ও কিতাব শাখায় মিশকাত জামাত পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

    প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাবিবে জান্নাত মহিলা এতিমখানায় ৪৫ জন এতিম এবং ৫৩ জন দুস্থসহ প্রায় ৩০০ ছাত্রী পড়াশোনা করছে। তাদের শিক্ষা ও আবাসনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তবে সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তাঁরা বলেন, এতিম ও অসহায় মেয়েদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সবার সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

  • মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

    মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামে নিখোঁজের পর দুই দিন হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল ১৫ বছর বয়সী কিশোর সায়েদ মুনিফ আহমেদ শানের লাশ। এদিকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা পরিবারকে অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের প্রকাশ করা ছবি দেখে মর্গে থাকা লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে পরিবার।

    শান চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার হালিশহরের চুনা ফ্যাক্টরি এলাকার বাসা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয় সে। পরে আর বাসায় ফেরেনি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর মধ্যে পরদিন এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে ফিরে পেতে টাকা দাবি করে ওই ব্যক্তি। পরে ষোলশহর এলাকায় আসতে বলা হয় পরিবারকে।

    বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শানের মামার বিকাশ নম্বর থেকে ওই নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, নম্বরটি লোহাগাড়া উপজেলার এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।

    অন্যদিকে, শনিবার রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের দেওয়া ছবি দেখে পরিবার ও হালিশহর থানা পুলিশ লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে।

    পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. পারভেজ জানান, দুই দিন আগে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হলে পরিবার ও হালিশহর থানার পক্ষ থেকে কিশোরটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

    পুলিশ জানায়, শান পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে কোচিং শেষে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়েছিল। সেখানে সবাই পানিতে নামলে ঢেউয়ের তোড়ে শান ভেসে যায়। ভয়ে তার চার বন্ধু বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এ ঘটনায় শানের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, শান বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গায় গিয়ে পানিতে ভেসে যায়। পরে বন্ধুরা ভয় পেয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। অপহরণের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

    শানের চাচা গোফরান উদ্দিন অভিযোগ করেন, দুই দিন ধরে পরিবার তাকে খুঁজলেও মর্গে থাকা লাশটি যে শানের, সে তথ্য তারা আগে জানতে পারেনি। অপহরণের কথা বলে যারা টাকা নিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

  • ‘তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর!’

    ‘তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর!’

    শোবিজের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও বেশ সক্রিয়। ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার ও সমসাময়িক নানা ইস্যুতে নিয়মিতই মত প্রকাশ করে থাকেন এই মাধ্যমে।

    গতকাল মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। বিষয়টি স্মরণ করে প্রধান সড়কে মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শবনম ফারিয়া।

    আজ মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে ফারিয়া লিখেছেন, ‘গতকাল ঠিক যে সময়ে আমি আইইউবি থেকে মাস্টার্স শেষ করার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময়ই আইইউবি-এর আরেকজন ছাত্র ওলি নুর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছিলেন। আমাদের সরকার, আইনপ্রণেতা আর প্রশাসনের চেয়ে কি মোটরচালিত রিকশা চালকেরা বেশি শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না? আমাদের এই চাওয়াটা তো বহুদিনের, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা দেখতে চাই না। এটা কি খুব বড় কোনো দাবি?’

    কয়েক দিন আগের একটি ঘটনা বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কিছুদিন আগে ৩০০ ফিটের একটা ভিডিও দেখছিলাম। এআই ক্যামেরা বসানোর পর রাস্তা ফাঁকা থাকলেও গাড়িচালকেরা সিগন্যাল মেনে থামছেন। ভাবছিলাম, প্রযুক্তি এই কয়েকদিনের মধ্যে মানুষের আচরণ কি চমৎকারভাবে বদলে দিতে পারে, আর তখনই চোখে পড়ে আমাদের “বিশেষ” কিছু মোটররিকশা চালক। গাড়ি থেমে আছে, সিগন্যাল লাল, কিন্তু তারা দিব্যি চলে যাচ্ছে। তাদের আবার কিসের সিগন্যাল? তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সিগন্যালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে পারেন, কিন্তু তারা পারেন না!’

    বহুদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা হচ্ছে অথচ বাস্তবায়ন নেই। একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, ‘ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন, লাইসেন্সিং ও রুট নির্ধারণের কথা বহুদিন ধরেই হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিশাল ফারাক, তার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রশ্ন হলো, নুরের মতো আর কতজনের মৃত্যুর পর একটা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? আর কত পরিবার তাদের সন্তান, স্বামী, বাবা কিংবা ভাইকে হারানোর পর আমরা বলব, “দুঃখজনক দুর্ঘটনা?” না কি শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন শুরু হলে তবেই আমাদের পলিসি মেকারদের মনে হবে, এবার কিছু একটা করা দরকার?’

    মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধ করে কারো জীবিকা কেড়ে নেওয়ার কথা বলছেন না শবনম ফারিয়া। বরং আইনসম্মত-নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার পক্ষে তার মত। তিনি বলেন, ‘কারো জীবিকা কেড়ে নেওয়ার কথা বলছি না। আমরা চাই- নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা। কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে কোনো গোষ্ঠীর রাস্তার ওপর প্রভাব যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে প্রশ্নটা শুধু সড়ক নিরাপত্তার থাকে না, প্রশ্নটা হয়ে যায়, এই শহরের রাস্তায় আসলে কার অধিকার বেশি? আর কত মৃত্যু লাগবে উত্তরটা পাওয়ার জন্য?’

  • মূত্রথলি থেকে বের হলো ৩.১ কেজি পাথর

    মূত্রথলি থেকে বের হলো ৩.১ কেজি পাথর

    শ্রীলঙ্কায় এক ব্যক্তির মূত্রথলি থেকে ৩ দশমিক ১ কেজি ওজনের একটি ‘দানবাকৃতির’ পাথর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। তাদের দাবি, এটি অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা সবচেয়ে বড় মূত্রথলির পাথর।

    গত সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিনকোমালি জেনারেল হাসপাতালে ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির অস্ত্রোপচার করা হয়। পাথরটির ওজন প্রায় পূর্ণ মেয়াদের একটি নবজাতক শিশুর সমান। আকারেও এটি ছিল উটপাখির ডিমের মতো- দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার।

    চিকিৎসকেরা জানান, ওই ব্যক্তি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা চলাকালে তার প্রস্রাব করতে সমস্যা হচ্ছে বলে চিকিৎসকদের নজরে আসে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মূত্রথলিতে পাথরের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

    অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক প্রহালাহান বালাকৃষ্ণান বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা মূত্রথলির পাথরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পর রোগী ‘খুব ভালো’ আছেন।চিকিৎসকদের ধারণা, পাথরটি ওই ব্যক্তির মূত্রথলিতে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ বছর ধরে ছিল। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও চিকিৎসা চলছে।

    কীভাবে তৈরি হয় মূত্রথলির পাথর
    মূত্রে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ জমে স্ফটিকের মতো শক্ত হয়ে গেলে মূত্রথলিতে পাথর তৈরি হয়। সাধারণত মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হলে সেখানে ঘন মূত্র জমে থাকে। এ অবস্থায় খনিজ পদার্থগুলো স্ফটিকে পরিণত হয়ে ধীরে ধীরে পাথরের আকার নিতে পারে।

    খুব ছোট পাথর বালুকণার মতো হতে পারে এবং অনেক সময় নিজে থেকেই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে এক সেন্টিমিটারের বেশি বড় পাথর প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। চার সেন্টিমিটারের বেশি আকারের মূত্রথলির পাথরকে সাধারণত বিশাল পাথর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    আগের রেকর্ড কত ছিল
    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ব্রাজিলে এক রোগীর মূত্রথলি থেকে ১ দশমিক ৯ কেজি ওজনের একটি পাথর

    অপসারণ করা হয়েছিল। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৭ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার।

    শ্রীলঙ্কায় অপসারণ করা নতুন পাথরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৩ দশমিক ১ কেজি। এ কারণে চিকিৎসকেরা এটিকে মূত্রথলির পাথর অপসারণের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড বলে দাবি করছেন।

  • এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

    এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

    ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে আলোচিত ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার সরকারি স্কুলগুলোর দুরবস্থা নিয়ে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে এই কর্মসূচি শুরুর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এক আন্দোলনকর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের এই চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে ভূমিকা রাখার দাবি করে। ৩৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচির পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে গত জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

    এবার সংগঠনটির নতুন কর্মসূচির নাম ‘ফিক্স দ্য স্কুলস’। এর আওতায় সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকার সরকারি স্কুল পরিদর্শন করে সেখানকার অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপদ পানীয় জল, কার্যকর শৌচাগার, বিদ্যুৎ, ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ, স্কুলের নিরাপত্তা, মধ্যাহ্নভোজ এবং শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গত ১৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ২৬ বছর বয়সী আবদুল হাফিজ। ওই স্কুলেই একসময় পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় হাফিজ ও তার বাবা মোহাম্মদ মাফিক আহত হন। দুই দিন পর ৫১ বছর বয়সী মাফিক মারা যান।

    তবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব হামলাকারীদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে এবং ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পরও আবদুল হাফিজ জানিয়েছেন, উন্নত শিক্ষার দাবিতে তাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না।

    সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, শুধু ভালো স্কুলের দাবি জানানোর কারণে মানুষের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    এদিকে রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় স্কুলে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও পানীয় জলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের এক নেতা। স্থানীয় কর্মকর্তারা পরে এসব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান।

    তবে রাজস্থান সরকার সরকারি স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিও ধারণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

    শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অনেক সরকারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও শিক্ষার নিম্নমানের মতো সমস্যা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এসব বিষয়কে নতুন করে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

    তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংগঠনটির কর্মীরা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তারা হামলা ও সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, বাধা যতই আসুক সরকারি স্কুলগুলোর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৩

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৩

    মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭৫৩ জন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • শিক্ষকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার মনিটরিংয়ে কমিটি, স্ক্রিনশট পাঠাতে হবে মাউশিতে

    শিক্ষকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার মনিটরিংয়ে কমিটি, স্ক্রিনশট পাঠাতে হবে মাউশিতে

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন শিক্ষক-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নজরদারিতে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক টিপু সুলতানকে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশিকাবহির্ভূত, আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য কোনো কনটেন্ট নজরে এলে তা স্ক্রিনশটসহ কমিটির আহ্বায়কের কাছে পাঠাতে হবে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারসংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ এবং সরকারি আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা পরিবীক্ষণের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    মাউশির আওতাধীন কোনো সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশিকাবহির্ভূত স্ট্যাটাস, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও, পোস্ট বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচার করলে তা নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমিটির আহ্বায়ককে জানাতে বলা হয়েছে।

    এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম, পদবি ও কর্মস্থল, ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইলের লিংক, পোস্ট প্রকাশের তারিখ ও সময় এবং পোস্টের স্ক্রিনশট বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পাঠাতে হবে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব তথ্য কমিটির আহ্বায়কের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে।

    মাউশির সব পরিচালক, আঞ্চলিক পরিচালক, অধ্যক্ষ, সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট এবং মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীকে চিঠিটির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

  • শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিবিরের সাংবাদিক সম্মেলন

    শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিবিরের সাংবাদিক সম্মেলন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অভিযোগ করে। সংগঠনটির দাবি, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে গেলে ছাত্রদলের শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক হল শাখার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ফজলুল হক হলের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

    অভিযোগ অস্বীকার বা এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

    শিবির প্রভোস্টের পদত্যাগ ও শাস্তি, জড়িত কর্মচারীদের বহিষ্কার, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

  • নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১ দিন পর কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার

    নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১ দিন পর কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট (৩৯) নামে এক কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আলী আহাম্মদের বাড়ির সামনের মসজিদের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট ওই এলাকার মইনুল হক রতনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়েস্ট ব্যাংক কলেজের শিক্ষক ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সম্রাট বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সোমবার বাড়ির পাশে মসজিদের পুকুরে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

    কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করি। এরপর ঘটনাস্থলেই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

    তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৭০ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৮৪৮ জনে। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯০ জন, খুলনা বিভাগে ১৫৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৫১ জন, রাজশাহী বিভাগের ৫৭ জন, সিলেট এবং রংপুর বিভাগের ১৩ জন রোগী রয়েছেন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৭১ জনের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৪৩ জন নারী।