সারাদেশ

  • চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের রুটি পুকুরে

    চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের রুটি পুকুরে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব পৌর শহরের কচি-কাঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত মিড-ডে মিলের বনরুটি পুকুরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের আয়া লিপি দাসকে রুটিগুলো পুকুরে ফেলে দিতে দেখেন স্থানীয়রা। এতে এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ক্ষুব্ধ একাধিক অভিভাবক জানান, শিশুদের পুষ্টির জন্য সরকার যে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের না দিয়ে এভাবে পুকুরে ফেলে দেয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা এ ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

    এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: কামরুল ইসলাম বলেন, ‘রুটি বিতরণের দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় কিছু বনরুটি রয়ে গিয়েছিল। সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুকুরে ফেলে দেয়া হয়েছে।’

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর বিদ্যালয়ে এসে বনরুটিগুলো পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • লালপুরে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১

    লালপুরে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় দু‘জন গুরুতর আহত হন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-নাটোর সড়কে শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের মরহুম শহীদুল ইসলাম লাকীর ছেলে।

    আহতরা হলেন একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ইমরান (২০) ও বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের নাজির হোসেনের ছেলে মনি (২০)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল্লাহ, ইমরান ও মনি একটি মোটরসাইকেলযোগে গোপালপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। এঘটনায় দু‘জন গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় লালপুর ফায়ার সার্ভিস আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: রুমাইয়া হক রাকা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। আহত ইমরান ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

  • রায়পুরে সাফল্যের স্বীকৃতি পেল জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

    রায়পুরে সাফল্যের স্বীকৃতি পেল জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: আবুল খায়ের ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিলে মাছ ধরছিলেন যুবক, বজ্রপাতে মৃত্যু

    বিলে মাছ ধরছিলেন যুবক, বজ্রপাতে মৃত্যু

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বজ্রপাতে শামসুল হক (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অপর একজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের মেদীয়াশুলাই গ্রামের আলুয়ার বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত শামসুল হক গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শৈলাট মেডিকেল মোড় এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। একই এলাকার জলিল নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে উপজেলার আলুয়ার বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে আসেন শামসুল হক ও তার সহপাঠীরা। ১১টার দিকে হঠাৎ করে বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় জলিল আহত হয়েছেন।

    কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাটি আমি অবগত নই।

  • মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতার দোকান থেকে ৩ টন সার জব্দ

    মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতার দোকান থেকে ৩ টন সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতা মো: জাকির হোসেনের দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে মজুদ তিন টন সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় তাকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ১ নম্বর দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জাকির ওই এলাকার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।

    জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্রের নেতৃত্বে অভিযানে জাকিরের দোকান মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজ থেকে ১৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ টিএসপি, ৪১ বস্তা ইউরিয়া ও সাত বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। এ সময় দোকানের মালিক জাকিরকে না পাওয়ায় তাকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ইউএনও বলেন, ‘এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ইছাখালি বাজারে অভিযান পরিচালনা করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

    নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

    নদীর নাব্য হারিয়ে এ অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। আবহমান গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে ঢাকার নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীর দিঘীরপাড় পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হলো নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার বিকালে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নদীতীরবর্তী পুরো এলাকা নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ‘হেইয়োরে, হেইয়োরে’ ডাকে মুখর ছিল। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-নির্বিশেষে কয়েক হাজার মানুষ এ বাইচ উপভোগ করতে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে উপচেপড়া দর্শক। ইঞ্জিনচালিত ও পানসি নৌকা নিয়ে নদীতেও মানুষের উপস্থিতি। কোনো কোনো নৌকায় উচ্চৈঃস্বরে বাজছিল গান। দর্শকের টান টান উত্তেজনার মধ্যেই বাইচের নৌকার মাঝিরা হাঁক দিলেন, ‘হেইয়ো রে হেইয়ো’। দর্শকদের হর্ষধ্বনি আর হাততালি বাড়তি উৎসাহ জোগায় নৌকাগুলোকে। নদীর পাড়ে বিভিন্ন খাবারের পসরা নিয়ে বসে গ্রাম্যমেলা। দিঘীরপাড় নওমোজাহিদ ক্লাব আয়োজিত বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি, নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বাইচে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ-মানিকগঞ্জ জেলা থেকে ছোট-বড় ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। বাইচ বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয়। পরে ক্লাবের সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ঢাকা-১ আসনের সংসদ-সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর আমরা নৌকাবাইচের আয়োজন করে থাকি।

    সংসদ-সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য নৌকাবাইচ। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতিবারই বাইচ আয়োজনের চেষ্টা করি। আমরা চাই, মানুষ যেন শিকড় ভুলে না যায়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌকাবাইচ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ আল-মামুন, সদস্য সচিব মোহসীন হাসান লিটু, বিএনপি নেতা মো. আমজাদ হোসেন, আবুল কালাম খন্দকার, আব্দুস সালাম প্রমুখ।

  • বকশীগঞ্জে কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু

    বকশীগঞ্জে কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে সবুজ (১৭) নামে এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে পৌরসভার চরকাউড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ছটফট করতে থাকে সবুজ। মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের দাবি, সবুজ দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

    বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • ভেড়ামারায় ট্রাক-সিএনজি-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    ভেড়ামারায় ট্রাক-সিএনজি-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে রাশিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুই যাত্রী।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ভোড়ামারার ১২ মাইল গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাশিদুল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা নতুন আমদহ গ্রামের ছোয়াদ আলী মন্ডলের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ট্রাকটি লালনশাহ ব্রিজের দিক থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বিপরীত দিক ভেড়ামারা থেকে কুষ্টিয়ার রাস্তায় উঠছিল। আর দ্রতগতির একটি মোটরসাইকেল কুষ্টিয়া থেকে ১২ মাইল মোড়ের দিকে আসছিল।

    প্রথমে সিএনজি আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পতিত হয়। মোটরসাইকেলের আঘাতে সিএনজির ভেতরের সিটে বসে থাকা যাত্রী রাশিদুল ইসলাম সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় দ্রুতগতির ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এছাড়া সিএনজির দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা: মিজানুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসাপাতালে আনা হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় রাশিদুল ইসলামকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়দুর রহমান জানান, ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • পড়াশোনা করে দেশের সম্পদ হতে হবে: ঢাকার ডিসি

    পড়াশোনা করে দেশের সম্পদ হতে হবে: ঢাকার ডিসি

    ‘আমার বাবা আমাকে ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা মেনে নেইনি। লেখাপড়া শেষ করে আজ আমি নিজের যোগ্যতায় দেশের সম্পদ হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তাই তোমাদের (শিক্ষার্থীদের) প্রতি আমার আহ্বান তোমরা মন দিয়ে পড়াশোনা করবে, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।’

    গত ২ আগস্ট বিকাল ৫টায় ঢাকার দোহার উপজেলায় ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম এসব কথা বলেন।

    একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন ডিসি।

    দোহার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে দোহার উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল, বিজ্ঞান শিক্ষাকে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি এবং ‘হ্যালো ডিসি অ্যাপ’- এর মাধ্যমে সহায়তার আবেদনকারী ১৪ জন অসচ্ছল ও দুস্থ মহিলার মাঝে সেলাইমেশিন বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উদ্যমী হবে। পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত।

    অনুষ্ঠানে দোহারের ইউএনও মো. মাঈদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঢাকার ৪শ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসে মিজ ফরিদা খানমই হলেন ১ম নারী জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে ‘ক্লিন স্কুল গ্রিন স্কুল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুই শতাধিক ছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারে উপজেলার ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৯টি ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়।

    এছাড়াও ‘গ্রিন দোহার’ কার্যক্রমের আওতায় বিলাশপুর ইউনিয়নের কুলছড়িতে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করে ‘কৃষ্ণ কানন’-এর শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

    সফর শেষে তিনি দোহারের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মৈনটঘাট পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শামীম হোসেন, ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক, ঢাকা জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবুল হাশেম বেপারী, দোহার উপজেলা বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, পৌরসভা বিএনপি সভাপতি এসএম কুদ্দুসসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

  • ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন তোজাম্মেল হক

    ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন তোজাম্মেল হক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বন্দিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হক (এম.এ)। তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত থেকে এই শিক্ষককে সসম্মানে বিদায় জানান। অবসর জীবনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাসহ তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবদান স্মরণ করে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। শেষে অশ্রু সজল নয়নে ঘোড়ার গাড়িতে করে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তোজাম্মেল হক ২৯ জুন ১৯৯৫ সালে বন্দিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছিলেন। তার কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন বিদায় সংবর্ধনা তোজাম্মেল হকের কর্মজীবনের সোনালী স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।

  • দৌলতপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

    দৌলতপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাড়ির পাশের বিলের ধারে বসে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে আরজ আলী (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আরোজ আলী রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকেই দৌলতপুরের আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। একপর্যায়ে মুষলধারে বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড মেঘের গর্জন শুরু হয়। এ সময় আরোজ আলী বাড়ির পাশের বিলের ধারে বসে ছিলেন। আকস্মিক বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    বজ্রপাতের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আরোজ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তিনি বজ্রপাতেই মারা গেছেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

  • গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধা সদর উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে আবদুল সামাদ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শিমুলতাড়ই এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আবদুল সামাদ মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবুদখালী গ্রামের মরহুম আবদুল সালাম মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গাইবান্ধা রেলওয়ে ফাঁড়ি থানার আইসি সাহেব গণি বলেন, সকালে রেললাইনের পাশে ওই যুবকের লাশ দেখে গাইবান্ধা রেলস্টশন মাস্টারকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ সময় লাশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বায়োমেট্রিক করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই লাশের ছবি পোস্ট করেন স্থানীয়রা। পরে নিহত যুবকের চাচাতো ভাই সাজু মিয়া থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন থেকে আবদুল সামাদ মিয়া মানসিক রোগে ভুগছিলেন।

    আইসি সাহেব গণি আরো বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের স্ত্রী ময়না বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

  • কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত, আহত ৩

    কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত, আহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রফিকুল ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড়সংলগ্ন গোপিরায়ের বেড় এলাকার মরহুম জামিল উদ্দিন সানার ছেলে। আহতরা হলেন পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের বিল্লাল গাজীর ছেলে মো: রায়হান গাজী, কাঠিপাড়া (বাঁকা) গ্রামের সন্দীপ মণ্ডলের ছেলে অন্তর মণ্ডল ও একই এলাকার আজিজ সরদারের ছেলে মো: হৃদয় হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলার বাঁকা বাজার এলাকা থেকে কয়েকজন মোটরসাইকেলে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাছারীবাড়িতে অনুষ্ঠিত বৃক্ষ মেলা দেখতে যাচ্ছিলেন। তারা ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রফিকুলকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই রফিকুলের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত তিনজনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

    কয়রা থানার ওসি মো: রাশেদুল আলম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • নারী নিয়ে মাদক সেবন, বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

    নারী নিয়ে মাদক সেবন, বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান। একইদিনে হত্যার শিকার মায়িদার মা রহিমা বেগম পলাশবাড়ি থানায় এই মামলা দায়ের করেন। রহিমা বেগম পলাশবাড়ি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের নকল নবিশ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

    মামলার একমাত্র নামীয় আসামি করা হয়েছে সিয়াম আল মুরসালিন আকাশকে । এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে দুই থেকে তিনজনকে। আসামি সিয়াম আল মুরসালিন আকাশ পলাশবাড়ি উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের মৃত মাজহারুল ইসলাম সন্টুর ছেলে।

    হত্যার শিকার মায়িদা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের অনার্স (সমাজ বিজ্ঞান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বাদ আছর নামাজে জানাজা শেষে পারবারিক কবরস্থানে দাফন হয় তাকে।

    নিহত মায়িদার চাচা মাজেদুর রহমানের অভিযোগ, গতকাল বিকেলে নিজের বাড়িতে অন্য মেয়ে নিয়ে মাদক সেবনের সময় আপত্তি জানায় মায়িদা। এর জের ধরে তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

    তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, সিয়ামের বাড়িতে মাদক সেবনের জন্য আলাদা রুম আছে। সেখানে বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত মাদক সেবন করতো সিয়াম। কিন্তু গতকাল তিন বন্ধু এবং এক নারীসহ ৫ জন মিলে মাদক সেবন করে। এতোদিন বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করলেও তা সহ্য করে গেছে নিহত মায়িদা। কিন্তু গতকাল বিকেলে নারী নিয়ে মাদক সেবনে আপত্তি জানায় আমার ভাতিজি মায়িদা। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে মায়িদাকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মারপিটে প্রাণ গেলে মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝোলানো হয়।

    তিনি আরও জানান, গলায় ওড়না বা রশি দিয়ে বাধার সময় তাদের ৪ বছরের ছোট্ট শিশু আয়াশ মায়ের কাছে গেলে শিশুকে স্ত্রীর সাথে খেলা খেলানোর কথা বলে বোঝায় সিয়াম। শিশুটি পুলিশের কাছেও তা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন নিহত মায়িদার চাচা মাজেদুর।

    নিহতের পরিবার, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে মায়িদাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সিয়াম আল মুরসালিন আকাশ।

    সিয়াম আগে থেকেই নেশা করতেন। বিয়ের পর কারণে-অকারণে স্ত্রী মায়িদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে সিয়াম। তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। দুই, তিন দিন আগেও সিয়াম স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন।

    হত্যার পর নিজেই প্রাইভেটকার ড্রাইভ করে স্ত্রীকে পলাশবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মায়িদাকে মৃত ঘোষণা করলে পালিয়ে যান সিয়াম। পরে খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ পলাশবাড়ি থানায় নেয় পুলিশ। পরদিন দুপুরে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।

    পরে স্থানীয়দের খবরে সিয়ামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পলাশবাড়ি থানা পুলিশ।

    এ ঘটনায় নিহত আল মায়িদার মা বাদি হয়ে জামাতা সিয়ামকে একমাত্র আসামি এবং অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় সিয়ামকে।

    পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযুক্ত স্বামী মোরসালিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে, তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশে পূর্বের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • গাইবান্ধায় প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থী

    গাইবান্ধায় প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থী

    গাইবান্ধার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোর সূত্র জানায়, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি উপবৃত্তির সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৩ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয় উপজেলায় কেবল চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় মাসে উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৮৪ জন। যার বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ ২৯ হাজার ৫৩০ টাকা। বিগত বছর হিসেব করলে শিক্ষার্থী ও বঞ্চিত অর্থের পরিমাণ আরও বেশ বাড়বে বলে ধারণা দেন দপ্তর সংশ্লিষ্টরা।

    ছয় উপজেলায় উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪২৪ জন, যার বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫২৭ টাকা। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জে ২১৮ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮৩ হাজর ৬৪৫ টাকা, সাদুল্লাপুরে ২২২ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৮ টাকা, পলাশবাড়িতে ২২৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৩ টাকা, গোবিন্দগঞ্জে ২১৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৩১ টাকা ও ফুলছড়িতে ৮৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে অর্থ ফেরতের পরিমাণ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।

    প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ৬ সেপ্টেম্বর করা ওই অভিযোগে তিনি উপবৃত্তির সরকারি টাকা না পাওয়ার প্রতিকার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

    সেখানে বলা হয়েছে, গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি হতে অদ্যবদি শিক্ষা শুরু থেকেই সরকারি উপবৃত্তির টাকা পেয়ে আসছিল। কিন্তু সর্বশেষ গত দুই দফায় কোনো টাকা পাননি।

    পত্রে অভিযোগ করে উল্লেখ করা হয়, উপবৃত্তির ১ম দফার টাকা বঞ্চিত হয়ে বিষয়টি প্রথমে শিশুটির শ্রেণি শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা এবং পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার অবগত করা হয়। সর্বশেষ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা তাদের সংরক্ষণে থাকা ‘গৃহীত’ লেখা সম্বলিত একটি সিট দেখিয়ে টাকা প্রদান হয়েছে মর্মে জানান। এসবের মধ্যেই অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির ২য় দফার টাকাও পায়।

    পরে ওই অভিভাবক নগদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তার উপবৃত্তিতে ব্যবহৃত নগদ অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট তুলে দেখতে পান সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২ জুলাইয়ের পরে ওই অ্যাকাউন্ট নম্বরে কোনো উপবৃত্তির টাকা জমা হয়নি। পরে গত ২১ জুলাই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। এতেও বিষয়টির সন্তোষজনক কোনো সমাধান না পেয়ে টাকা উদ্ধারের প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়সহ কেন এবং কি কারণে টাকা পাওয়া হতে বঞ্চিত হলো তার সঠিক কারণ উদঘাটনে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন।

    এদিকে, সম্প্রতি কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৬ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। যা একাধিক গণমাধ্যমসহ চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব রয়েছে। বিষয়টি তদন্তে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামকে প্রধান করে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়া টাকা ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ফিরিয়ে দিয়েছেন।

    প্রধান শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা নেওয়া ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন চতুর্থ শ্রেণির জিম। জানতে চাইলে জিমের মা স্বপ্না বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে হেড আপা (প্রধান শিক্ষক আমাকে ডেকে ৯০৫ টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা পরে দিতে চেয়েছেন। আমার অ্যাকাউন্টে হঠাৎ টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে গেছিল।

    উপবৃত্তির অর্থ বঞ্চিত হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে জানান, দফায় দফায় যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান পাননি, তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের অবগত করার প্রায় দুইমাস পর জানানো হলো টাকা রিটার্ন গেছে। হঠাৎ কেন বন্ধ হলো, আর কোথায় ফেরত গেলো এটি বের হওয়া জরুরি।

    এ বিষয়ে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগম ওই শিক্ষার্থীদের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তা সমাধান করা হয়েছে বলে জানান।

    তবে, এ সময় তিনি উপবৃত্তি-সংক্রান্ত অনলাইনের কাজ নিজে করেননি দাবি করে কাজটি শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে হয়েছে বলে জানান।

    উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া প্রশ্নে উপবৃত্তি-সংক্রান্ত আইটি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল্লাহ্ বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদনকারী অভিভাবকের শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আইবাসে রিটার্ন (বাউন্স) দেখানো হয়েছে। তবে, কি কারণে এমনটা হয়েছে সে সম্পর্কে জানা যায়নি, বলেন এ কর্মকর্তা।

    উপবৃত্তি-সংক্রান্ত আইটি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী যার আইডিকার্ড তার নামেই নগদ/বিকাশ অ্যাকাউন্ট হতে হচ্ছে। এ ছাড়া পুরাতন এনআইডি কার্ডের সঙ্গে নতুন স্মার্টকার্ডের সংখ্যার অমিল থাকার কারণে কিছু কিছু শিক্ষার্থীর টাকা বন্ধ হচ্ছে। সব ঠিক থাকার পরেও যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে না, সেটি আমাদের জানার বাইরে।

    সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন, উপবৃত্তির এরকম সমস্যা-সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো সমাধানে আমাদের হাতে প্রকৃত পক্ষে কিছুই নেই। তবে, আনঅফিসিয়ালি এক সূত্রের বরাতে তিনি জানান, অর্থ ফেরত দেখানো শিক্ষার্থীরদের এসব টাকা প্রদান করা হবে। কিন্তু কোন সময়ে বা কোন প্রক্রিয়ায় এসব অর্থ ফেরত আসবে তার কোনো সদুত্তুর মেলেনি তাদের কাছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিজের অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের টাকা নেওযার বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ ঢাকা পোস্টকে বলেন, উপবৃত্তি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস দেখে থাকে। ফলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই

    কলেজ শিক্ষক ও গাইবান্ধা প্রেসক্লবাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা অনেকভাবে আত্মসাতের ঘটনা রয়েছে। বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের টাকা আসলেই সরকারি হিসেবে ফেরত যাচ্ছে কি-না? বা কেন যাচ্ছে সেটি খতিয়ে দেখা দরকার এবং সমাধান দরকার। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা এই টাকা পাবে কি-না বা পেলেও তা কিভাবে পাবে বা কোন সময়ে পেতে পারে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের পরিষ্কার নোটিশ থাকা উচিৎ।

    এ ব্যাপারে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রেদুয়ানুল হালিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি জানলাম। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সরকারি অর্থ বঞ্চিত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

  • হাজরাখানা স্কুলের ছাদে মাইকের হর্ন, নিচে জেনারেটর, ব্যহত হচ্ছে শ্রেণিকার্যক্রম

    হাজরাখানা স্কুলের ছাদে মাইকের হর্ন, নিচে জেনারেটর, ব্যহত হচ্ছে শ্রেণিকার্যক্রম

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা শুরুর প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনের দেওয়া শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে। মেলা প্রাঙ্গণে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম, বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় রাইডার ও স্টল বসানো এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে মাইকের হর্ণ স্থাপনের কারণে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির শ্রেণিকার্যক্রম। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর মেলার কারণে হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজরাখানা দাখিল মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

    মেলার অনুমতিপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯টি শর্তে ১৫ দিনের জন্য চৌগাছার বলুহ মেলার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। আগামী ১৫ সেপ্টম্বর থেকে ২৯ সেপ্টম্বর পর্যন্ত মেলা চলার কথা রয়েছে। অনুমতিপত্রে শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো স্টল বসানো যাবে না, উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো যাবে না এবং রাত ৮টার পর মেলা বন্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া জুয়া, সার্কাস, লাকি কুপন, পুতুল নাচ, চরকি, র‌্যাফেল ড্রসহ জুয়া ও প্রতারণামূলক কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। মাজার এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না নেওয়ার শর্তও রয়েছে।

    তবে সরেজমিনে গিয়ে এসব শর্তের বেশ কয়েকটি বাস্তবায়ন না হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বসানো হয়েছে কয়েকটি রাইডার। বিদ্যালয়ের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে মাইকের হর্ন। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের পাশেই বসানো হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর। মেলা এলাকায় উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানোর পাশাপাশি লাকি কুপন, লটারি, জুয়া ও সার্কাস চলার অভিযোগও রয়েছে।

    বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, ‘মেলা হোক, কিন্তু স্কুলের কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়। সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা খুব কষ্টকর। বিদ্যুৎ থাকলে সাউন্ড বক্সের উচ্চ শব্দ, আর বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের শব্দে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যায় না।’

    হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘আমাদের কিছু বলার নেই, মেলা চলবেই। প্রতিবছরই মেলার সময় শ্রেণিকার্যক্রম ব্যাহত হয়। জেনারেটরটি একেবারে অফিসের পাশেই বসানো হয়েছে। বিদ্যুৎ থাকলে সাউন্ড বক্সের উচ্চ শব্দ আর না থাকলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরের শব্দে অফিসকক্ষে বসা যায় না’।

    হাজরাখানা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই মেলার সময় শ্রেণিকার্যক্রম ব্যাহত হয়। মেলার ভিড়ের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়। মেলা শেষে শিক্ষার্থীদের আবার নিয়মিত শ্রেণিতে ফিরিয়ে আনতেও অনেক কষ্ট হয়।’

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে স্কুলে গিয়ে দেখি বিভিন্ন গাড়ি পার্কিং করে স্কুল মাঠ ভরে গেছে। চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে স্কুলের জায়গায় কয়েকটি স্টল বসানো হয়েছিল। আমি নিজে সেগুলো সরিয়ে দিয়েছি। মেলা কর্তৃপক্ষকে বলেছি, কোনোভাবেই যেন স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন মেলা চলে। তাঁদের ভাষ্য, আগে সাত দিনের অনুমতি নিয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত মেলা চলার নজির রয়েছে। এবার ১৫ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের পরও মেলা চলবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। মেলার কারণে স্বাভাবিক চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘মেলার শর্ত ভঙ্গ করার কোনো সুযোগ নেই। স্কুল মাঠে বসানো দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্কুল আঙ্গিনায় শব্দ বন্ধ করার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অনুমতিপত্রে উল্লেখিত যেকোনো শর্ত ভঙ্গ করা হলে পুলিশ কঠোর ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

  • কুমিল্লায় জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

    কুমিল্লায় জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার মুরাদনগরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো: লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।

    গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন— মামলার প্রধান আসামি মো: মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু (৫৮), তার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) ও মেয়ে ইতি (১৮)।

    পুলিশ জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার ধরানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলম তিতু (৩৫) ও খালেদা আক্তার বেবি (৭০) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

    মামলার পর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি হনুফা বেগম ও ৩ নম্বর আসামি ইতিকে গ্রেফতার করা হয়।

    পরে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু ট্রেনযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পুলিশ আরো জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মঞ্জুরুল আলম তিতু ও খালেদা আক্তার বেবি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো: লুৎফর রহমান বলেন, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

  • কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব

    কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা আমীর প্রকৌশলী মোঃ সায়েদ আলী বলেছেন, আধুনিক যুগে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক আমাদের জীবন যদি ঢেলে সাজাতে পারি আজকের এই যুগে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি সুনালি সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলা সম্ভব। এই চেষ্টাই জামায়াতে ইসলামী বিগত ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশে করছে। আমরা যদি কুরআন সুন্নাহ আলোকে জীবন সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারি তাহলে সমাজের যে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে তা থাকবে না ।

    তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং কাগাবলা ইউনিয়নের দাওয়াতি সভায় প্রধান অতিথির রক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

    মঙ্গলবার রাতে কাগাবলা বাজারে ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী সুমন আহমদের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আমীর মো: ফখরুল ইসলাম, উপজেলা কর্ম ও শুরা সদস্য দেওয়ান আশিক আল রশিদ চৌধুরী।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি অলিউর রহমান তালুকদার, আমতৈল ইউনিয়ন সেক্রেটারী আশরাফুল ইসলাম, যুব বিভাগের ইউনিয়ন সভাপতি শরফ উদ্দীন।

    তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে একটি গণঅভ্যত্থান হয়েছিল। সেখানে যুবক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিল। সকলের চাওয়া পাওয়া কিছুই ছিলনা। তারা টাকা পয়সা চায়নি। তারা চেয়েছিল একটি পরিবর্তনশীল ও বৈষ্যমহীন নতুন বাংলাদেশ।

    দুভাগ্যভাবে আমরা লক্ষ্য করছি ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এদেশের জনগণ এ পরিবর্তনের জন্য ২টি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল। সবাই নিজ দায়িত্বে উৎসবমুখর পরিবেশ ভোট প্রয়োগ করেছিল কিন্তু রাত ১২টার পর থেকে রিজাল্ট পরিবর্তন করতে শুরু করে। দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ রাখার জন্য আমাদের আমীরে জামায়াত তা মেনে নিয়েছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকার গঠন হয়ে জুলাইয়ের আক্ষাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করে জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করবে।

  • ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ৩০০ পিস ইয়াবাসহ ভূঞাপুর যুবদলের দুই নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের বৃষ্টি হোটেলের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতুলিয়াপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)। পুলিশ প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

    জানা গেছে, জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তারা দুজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারি করে আসছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে চাপে রাখতেন জুলাই যোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে।

    জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুজন জুলাই যোদ্ধাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা ট্যাবলেট গাবসারা থেকে নিয়ে এসে এলেঙ্গাতে বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন।’

  • আজমিরীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

    আজমিরীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ–বানিয়াচং সড়কে বাসের ধাক্কায় শ্রাবণ সরকার (১৫) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই কিশোর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়।

    বুধবার আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দিকে আসার পথে স্থানীয় পিঠাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রাবণ সরকারসহ তিন কিশোর একটি মোটরসাইকেলে করে আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দিকে আসছিল। তারা পিঠাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

    বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা শ্রাবণ ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

    পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই কিশোর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়।

    নিহত শ্রাবণ সরকার (১৫) বানিয়াচং উপজেলা সদরের ২ নম্বর উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের বাবুর বাজার সংলগ্ন বিদ্যাভূষণ পাড়ার বাসিন্দা। সে সুন্দর সরকারের ছোট ছেলে। শ্রাবণ বানিয়াচং নতুনবাজারের একটি সেলুনে কাজ করতেন।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খবর পেয়ে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বাসটির পরিচয় জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

  • মেলান্দহে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

    মেলান্দহে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের মেলান্দহে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত শেখ ব্রিকসের ফিক্সড চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বুধবার দুপুরে মেলান্দহ পৌরসভার ফুলছেন্না এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে চিমনিটি উচ্ছেদ করা হয়।

    অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ইমন হোসেনের নেতৃত্বে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম ছামিউল আলম কুরসি উপস্থিত ছিলেন। মেলান্দহ থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শেখ ব্রিকসটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। অভিযানের সময় ইটভাটাটির কার্যক্রম বন্ধ পাওয়া যায়। ভাটার মালিকও ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফলে এ সময় কোনো জরিমানা করা হয়নি।

    তবে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভাটাটির ফিক্সড চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়।

    জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম ছামিউল আলম কুরসি বলেন, ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ইটভাটা। এখানে থাকা ফিক্সড চিমনি ২০১০ সাল থেকেই নিষিদ্ধ।’

    তিনি বলেন, সারাদেশে ফিক্সড চিমনি ও ড্রাম চিমনি উচ্ছেদের যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও আইনবহির্ভূত ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • চাকরি পৌরসভায়, কাজ করেন প্রশাসকের বাসায়

    চাকরি পৌরসভায়, কাজ করেন প্রশাসকের বাসায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন রিতা রানী ও নাসিমা বেগম। পৌরসভার দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করাই তাদের দায়িত্ব। তবে অভিযোগ উঠেছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তাদের দিয়ে নিয়মিত পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসকের বাসায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে দুই নারী কর্মচারীকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। এ অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। তবে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

    অভিযোগ অনুসন্ধান

    অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিস সহায়ক রিতা রানী প্রতিদিন সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে এসে হাজিরা দেওয়ার পর চলে যান পৌর প্রশাসকের বাসায়। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে দুপুর ১টার দিকে আবার পৌরসভায় ফেরেন তিনি।

    বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে নড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে রিতা রানীকে পাওয়া যায়নি। পরে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে এসে হাজিরা দেন। এরপর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। সেখানে কাজ শেষে দুপুর ১টার দিকে আবার কার্যালয়ে ফেরেন।

    স্বীকারোক্তি

    পরে দুপুর ১টার দিকে রিতা রানীকে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় কথা হলে তিনি প্রশাসকের বাসা থেকে কাজ করে ফেরার কথা জানান।

    সপ্তাহে কতদিন প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়—জানতে চাইলে রিতা রানী বলেন, ‘প্রতিদিনই যেতে হয়।’

    পৌরসভার একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, রিতা রানীর পাশাপাশি আরেক অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকেও মাঝে মধ্যে প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়। অর্থাৎ, তাদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজেও পাঠানো হচ্ছে।

    অন্য কর্মচারীদের অভিযোগ

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন রিতা রানীকে প্রশাসকের বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। তিনি যেতে না চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। মাঝে মধ্যে রিতা রানী ও নাসিমা বেগম দুজনকেই একসঙ্গে বাসায় কাজ করতে যেতে হয়।

    ওই কর্মচারীর দাবি, একজন অফিস সহায়ক দিনের বড় একটি সময় পৌরসভা কার্যালয়ের বাইরে থাকায় দাপ্তরিক কাজে অন্য কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    ‘স্যারের অনুরোধে পাঠাই’

    দুই নারী কর্মচারীকে প্রশাসকের বাসায় পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    তবে তিনি বলেন, প্রশাসকের বাসায় স্থায়ীভাবে কাজের লোক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্যারের এখানে কেউ থাকেন না। ছোট একটা মেয়ে নিয়ে থাকেন। তার বাসায় পার্মানেন্ট কাজের মানুষ আছে। তবুও মাঝে মধ্যে রিতা তার মেয়েকে একটু রাখতে যায়। স্যারের অনুরোধে আমি পাঠাই।’

    তবে দুই কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

    একপর্যায়ে প্রকৌশলী বলেন, ‘স্যারের জন্য কিছু করলেও তিনি কখনো খুশি হন না। তিনি সবসময় আরও চাইতেই থাকেন।’

    প্রশাসকের সহজ স্বীকারোক্তি

    অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনিও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    তবে পৌরসভার কর্মচারীকে নিজের বাসায় পাঠানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।

    লাকি দাস বলেন, ‘আমি ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে একা থাকি। আমার বাসায় পার্মানেন্ট কাজের লোক রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে রিতাকে আমার মেয়েকে একটু রাখার জন্য বাসায় পাঠাই।’

    অফিসের কর্মচারী দিয়ে ব্যক্তিগত বাসার কাজ করানো যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমি পারি না। তবে মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়ে নিতে হয়।’

    পরে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ছোট বিষয়। যেহেতু আপনারা বলেছেন, তাকে আর বাসায় নেব না।’

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস।

    বিষয়টাকে মানবিক বললেন: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

    এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘বিষয়টা একটু মানবিক। তিনি এখানে একা থাকেন। বাসায় তার ছোট মেয়ে থাকে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘পৌরসভা আমার অধীনস্থ না। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। যদিও এসিল্যান্ড হিসেবে তিনি আমার সহকর্মী। সেই ক্ষেত্রে আমি তাকে বলতে পারি, যেন এ ধরনের কাজ সে আর না করে।’

    পৌরসভার কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে প্রশাসকের বাসায় কর্মচারী পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করা হলেও, চাকরিচ্যুতির হুমকির অভিযোগ নিয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

  • হাতিয়ার জোড়খালী স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    হাতিয়ার জোড়খালী স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও একসঙ্গে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল তিনবার।

    বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল।

    এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২১ শিক্ষার্থী। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ওই ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরপর তিনবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, ৫-৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

    হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে।

  • শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষক আছেন তিনজন। খাতায় শিক্ষার্থীর নামও আছে ১১ জনের। তবে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসে না একজন শিক্ষার্থীও। নেই শ্রেণিপাঠ, পরীক্ষা বা কোলাহল। নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন শিক্ষকরা। ওঠে জাতীয় পতাকা, তবে বাজে না ঘণ্টা। এমনই অবস্থা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

    ১৯৮১ সালে বওলাতলা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হয়। ২০১৪ সালে দেশের অন্যান্য রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে এটিও সরকারি করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। একপর্যায়ে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও শিক্ষা বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাবে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকার অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন।

    গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ তিন শিক্ষকই বিদ্যালয়ে উপস্থিত। অপর দুই শিক্ষক হলেন সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে জন্মেছে আগাছা। বড় বড় ঘাসে ঢেকে গেছে মাঠ। দীর্ঘদিন যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের দেয়ালে ময়লা জমেছে, বারান্দার গ্রিলে ধরেছে জং। মলিন হয়ে পড়েছে বিদ্যালয় ভবনটিও।

    প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার বলেন, বিদ্যালয়ের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে তাদের কেউ বিদ্যালয়ে আসে না। ফলে শ্রেণিপাঠদান কিংবা কোনো পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয় না।

    তিনি জানান, তার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি গ্রামে। শিক্ষার্থী না থাকলেও প্রতিদিন প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। বিদ্যালয়টির আশপাশের এলাকায় মানুষের বসবাসও তুলনামূলক কম। সেখানে প্রায় ৭৫টি পরিবার রয়েছে।

    সুশীল কুমার বলেন, ২০২৪ সালের জুনে তারা নতুন নিয়োগ পেয়ে এই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। যোগদানের পর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কোনো অভিভাবকই তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাননি। এলাকার শিশুরা সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুল, সলঙ্গা বেসরকারি আদর্শ স্কুল ও স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আনতে পারিনি। শ্রেণিপাঠদান না হলেও আমরা বিদ্যালয়ে এসে অফিসের কাজ করি এবং নিয়মিত বেতন পাই।’

    শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে তারা বিপাকে পড়েছেন।

    উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি কয়েক মাস আগে এই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৭৮টি। এসব বিদ্যালয় তদারকির জন্য ১১টি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে মাত্র একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে এতগুলো বিদ্যালয় একজন কর্মকর্তার পক্ষে যথাযথভাবে তদারকি করা সম্ভব ছিল না।

    তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থার বিষয়টি দেখতে পান। সেদিন বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী আনার চেষ্টা চলছে।

    স্থানীয় অভিভাবক মনিরা ও আনোয়ারা খাতুন বলেন, একসময় বিদ্যালয়টিতে কিছু শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু ভালো পড়াশোনা না হওয়ায় ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ কমে যায়। পরে তারা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। শিক্ষকদেরও আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি এলাকার মানুষও শিক্ষার বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন। বিদ্যালয়টি রক্ষায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের এখানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

  • চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে দুই যুবক গ্রেপ্তার

    চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে দুই যুবক গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই যুবক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ।

    গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে কালীগঞ্জের দিঘারপাড়া গ্রামের প্রবাসী পারভেজ কামালের বাড়ির জানালা ভেঙে চোরেরা প্রায় সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণের গহনাসহ নগদ পাঁচ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায়। পরদিন এ ঘটনায় কামালের স্ত্রী সীমা খাতুন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় এজাহার দেন।

    সীমা খাতুনের ভাষ্য, সেদিন গভীর রাতে চোরেরা তাঁর ঘরের জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে। এতে বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে চোরেরা জানালার রড কেটে ঘরে ঢুকে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে ভোরের দিকে তাঁর মা ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখেন, জানালা ও আলমারি ভাঙা। এ সময় তারা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।

    পুলিশ জানায়, প্রবাসীর স্ত্রীর এজাহার পেয়ে তারা চুরির রহস্য ও মালপত্র উদ্ধারে মাঠে নামেন। তারা গোপন সূত্রে জানতে পারেন, চোরেরা বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজারে স্বর্ণ বিক্রি করতে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানার এসআই রানা প্রতাপের নেতৃত্বে পুলিশ ওই বাজারে অভিযান চালিয়ে কালীগঞ্জের দিঘারপাড়া গ্রামের রাহুল হোসেন (৩০) ও মেহেদী হাসানকে (২৫) আটক করেন। এ সময় তাদের শরীরে তল্লাশি করে স্বর্ণের চেন, কানের দুলসহ আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত দুই চোরকে আটক ও কিছু স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।

  • আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

    আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

    ‘বৃক্ষরোপনে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— প্রতিপাদ্যে নওগাঁর আত্রাইয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিএমডিএর সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের দাঁড়িয়াগাঁথি ব্রিজ থেকে পারব্রজপুর সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী (বিএমডিএ) মো. আলী হোসেন, উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মৃধা, যুবদলের সিনিয়র আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম প্রমুখ।

    উপজেলা প্রশাসন ও বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় পাঁচ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য

  • হাটহাজারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের স্বপ্নের ঘর; ক্ষয়ক্ষতি ৪-৫ লাখ টাকা

    হাটহাজারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের স্বপ্নের ঘর; ক্ষয়ক্ষতি ৪-৫ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় আরও একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারহাট বাজারের পশ্চিম পাশে সোমপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবার হলো—মিলন দে, তপু দে, প্রভা রানী নাথ, তপন নাথ ও খোকন নাথের পরিবার।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে একটি বসতঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় পাঁচ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ সময় আরও একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে তাদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মন্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিটারের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তাল বীজ রোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উদ্যোগে পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবসংলগ্ন সড়কের পাশে ৩০০টি তাল বীজ রোপণ করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো: সোলায়মান হোসেন, প্রশিক্ষক ছত্র কুমার বিশ্বাস, প্রশিক্ষক কাজী তাহেরা খাতুন, ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়ন দলনেতা হুমায়ুন কবির, দলনেত্রী সানজিদা আক্তার এবং পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবের সদস্যরা।

    এ সময় উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সোলায়মান বলেন, ‘সম্মানিত দিনাজপুরের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মহোদয়ের নির্দেশনায় পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাব সংলগ্ন সড়কের পাশে তালবীজ রোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দিন দিন তালগাছ বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।‘

  • কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরে কাউখালীতে গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-ছারছীনা-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী মহাসড়কের উপজেলার কচুয়াকাটি বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে সড়কের উপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে থাকা টিনশেড ভবনসহ পাঁচটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস ও পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আল আমিনের উপস্থিতিতে সড়ক বিভাগ বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

    ওই স্থানে একটি আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হলেও সওজের জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সওজের পক্ষ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে অপসারণ না করায় আদালতের নির্দেশনায় এবং জনস্বার্থে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস জানান, জনস্বার্থে ও আদালতের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরকারি জায়গায় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সায়েম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই স্থাপনাটি অপসারণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এর ফলে সেতু নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

  • নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামে এক বৃদ্ধের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাসুদ করিম এ রায় দেন।

    সাজাপ্রাপ্ত মোখছেদ আলী প্রামাণিক জেলার সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মরহুম বাছরা প্রামাণিকের ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সাথে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    পরে ঘটনাটি ভুক্তভোগী শিশু পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে আদালত এ রায় দেন।

    মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সাথে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র এক বছরে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দিয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে ভুক্তভোগীর বাবা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে বৃদ্ধের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সাপের দংশনে শফি মন্ডল (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শফি মন্ডল উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের নূর বাক্স মন্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভোরে বাড়ির পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছিলেন শফি মন্ডল। এ সময় সাপ তাকে দংশন করে। বাড়িতে পৌঁছানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

  • কুষ্টিয়ায় বন্যাকবলিত ৫৫০ পরিবারকে বিজিবির খাদ্য সহায়তা প্রদান

    কুষ্টিয়ায় বন্যাকবলিত ৫৫০ পরিবারকে বিজিবির খাদ্য সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী ৫৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার চরচিলমারী গ্রামের ডিগ্রীরচর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    একইদিন চিলমারী, চল্লিশপাড়া ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আরো ৩০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়। এভাবে সর্বমোট ৫৫০টি পরিবার বিজিবির এ মানবিক সহায়তার আওতায় আসে।

    চলমান বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকসহ অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ব্যাহত হওয়ায় এসব পরিবারের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

    দুর্যোগকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর উদ্যোগে এই খাদ্য সহায়তার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক, ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক, জুনিয়র কর্মকর্তা ও বিজিবির অন্যান্য সদস্য ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।

    বিজিবির এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, বন্যার কারণে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার খাদ্য ও কর্মসংস্থানের সঙ্কটে পড়েছে। এ সময়ে বিজিবির খাদ্য সহায়তা দুর্গত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা হিসেবে এসেছে।

    সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সঙ্কটের সময়ে সীমান্তবর্তী মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এর অংশ হিসেবে বন্যার্তদের ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • কোটচাঁদপুরে প্রবাসীর ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    কোটচাঁদপুরে প্রবাসীর ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মোঃ তরিকুল ইসলামের ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। একই মামলায় রেহাই পেতে তরিকুলকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    মামলা ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ তরিকুল ইসলাম দুই ভাই মোঃ রিকু বিশ্বাস ও মোঃ জিকু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর আদালতে সি.আর মামলা নং-২৯৫/২০২৫ দায়ের করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, জিকু বিশ্বাসের প্রস্তাবে তাঁর ভাই রিকু বিশ্বাসের মালিকানাধীন ‘আর টি জে এইচ’ কোম্পানিতে মাসিক ২ লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাসে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই সিঙ্গাপুর যান তরিকুল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ জুন সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে ছয় মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে রিকু বিশ্বাস তরিকুলের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    তরিকুলের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল তাঁর ওয়ার্ক পারমিট ব্লক করে দেশে ফিরতে বাধ্য করা হয়।

    পরে ২০২৫ সালের ৮ জুন গুড়পাড়া বাজারে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রিকু বিশ্বাস টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন বলে তরিকুলের দাবি। তবে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের সময় তিনি সেখান থেকে চলে গিয়ে পুনরায় সিঙ্গাপুরে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তরিকুল।

    পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিকু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অপরদিকে লেনদেনের মূল প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় জিকু বিশ্বাসকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

  • বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

    দীর্ঘ শিক্ষকতা, শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

    অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত থেকে মাওলানা নূরুল হুদা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিস ও কামিল অর্জনকারী তিনি ছিলেন বিরল প্রতিভার অধিকারী। কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও আরবি সাহিত্যে তাঁর ছিল গভীর পাণ্ডিত্য।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও নৈতিকতার শিক্ষায় গড়ে তোলার পাশাপাশি বহু আলেমে দ্বীন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মৃত্যুর সময় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হারবাইদ দারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল বহুমুখী। গাজীপুরের টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং মানিকদি সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ও ভাদাদিয়া মাদরাসাতেও শিক্ষকতা করেছেন। আমৃত্যু তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

    শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন দেশবরেণ্য ওয়ায়েজ, একাধিক মসজিদের খতিব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নূরাইন ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    জমিয়াতুল মোদার্রেছীন, মাদরাসা শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষকদের অধিকার আদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাওলানা নূরুল হুদা।

    লেখালেখির সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘সংবাদদাতা’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জ্ঞানচর্চা, শিক্ষকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবাকে সমন্বিত করে তিনি একটি দীর্ঘ ও কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন।

    পারিবারিক জীবনে প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদা ছিলেন চার পুত্র ও সাত কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক। মেঝো পুত্র এম এনায়েত উল্লাহ কমফোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেজো পুত্র মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের (জেইউজি) সাধারণ সম্পাদক ও আল-হেলাল স্কুলের প্রিন্সিপাল। কনিষ্ঠ পুত্র অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী।

    মরহুমের সহধর্মিণীও ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন।

    মৃত্যুর ১৩ বছর পরও শিক্ষা ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কর্ম ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেঁচে থাকার জন্য গাছের কোন বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষার্থে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছের গুরত্ব ও চাহিদার কারলেই বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৩ শতাধিক সরকারী বেসরকারী নার্সারী। সফলতা এসেছে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার নার্সারী ব্যবসায় । বৃক্ষরোপন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলার নার্সারী মালিকরা তৎপর হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারীর ব্যবসা। সরকারী নার্সারীর পাশাপাশি বেকার যুবকরাও নার্সারী গড়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৃক্ষরোপনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছে।

    ফুলফলসহ নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার নার্সারীগুলো। নার্সারীর চারিদিকে তাকালেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কুষ্টিয়া শহরতলীসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক সরকারী-বেসরকারী নার্সারী।

    বিভাগীয় বন অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ কুষ্টিয়ায় ১৩টি উপজেলায় ৩ শতাধক নার্সারী গড়ে উঠেছে। এসব নার্সারীতে ফল-ফুল ও ঔষধী গাছের চারার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এমন গাছের চারাও উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার নার্সারীগুলোতে এ ব্যবসায় এসেছে সফলতা।

    বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ নার্সারী ব্যবসা। বৃক্ষের আর্থিক মূল্য অনুধাবন করেই গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষরোপন প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃক্ষ রোপন মৌসুমকে সামনে রেখে নার্সারীগুলো চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তৎপর হয়ে কাজ করছে। নার্সারীর শ্রমিকরা একদিকে যেমন গাছ পরিচর্যা ও গাছ তুলে বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত। তেমনি মালিকরাও নিজেদের নার্সারীর সুনাম বয়ে আনতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সমাহার ঘটিয়ে নার্সারীকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ মৌসুমে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারেও বিভিন্ন ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিক্রি করা হচ্ছে।

    বৃক্ষরোপনের উদ্যোগকে বেগবান করতে জেলার গড়ে ওঠা নার্সারীগুলো ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ মৌসুমে গাছের চারার চাহিদা থাকায় দিনদিন নার্সারী ব্যবসার প্রসার ঘটছে। জেলার অনেকেই নার্সারী গড়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অনেক বেকার যুবক নার্সারী করে স্বাবলম্বী হলেও সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় এ ব্যবসায় আগের মতো আর লাভ নেই বলে নার্সারী মালিকরা জানালেন।

    নার্সারী মালিকরা অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সরকারীভাবে চারা ক্রয় করা হয় না। চারা ক্রয়ে সরকারী কর্মকর্তারাও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন না। নার্সারী মালিকদের নিকট থেকে যদি চারা ক্রয় করা হয় তাহলে নার্সারী মালিকরা আরো উপকৃত হবে। এদিকে সবুজ বনায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বন বিভাগ কার্যক্রম চালালেও এ বছর তাদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই। প্রতি বছর জেলার স্কুল কলেজে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হলেও এ বছর কোন বরাদ্দ না আসায় বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কুষ্টিয়া জেলার ৬৬ ইউনিয়নসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় নার্সারী ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বৃক্ষরোপন আন্দোলন জনসাধারণের মাঝে সাড়া পেয়েছে। বন বিভাগের সহযোগিতা পেলে কুষ্টিয়া জেলায় আরো নার্সারী ব্যবসা বাড়তে পারে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ার উৎপাদিত চারা জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠানো যাবে বলে নার্সারী মালিকরা অভিমত প্রকাশ করেন। নার্সারী সবুজ বনায়নে যেমন রাখতে পারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তেমনি জেলার বেকার সমস্যার সমাধানেও যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতে পারে।

  • কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কথিত সমাবেশ ও মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পৃথক মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাপাসিয়া থানা পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে কাপাসিয়া থানার বারিষাব ইউনিয়নের পূর্ব লোহাদী এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান ও অপপ্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে সমবেত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর কাপাসিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৮/৯(১)/৯(২)/৯(৩)/১০/১১/১২ ধারায় মামলা করা হয়।

    মামলার পর ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাপাসিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা (৪৫), তরগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আঃ হান্নান (৫১), মো. জহিরুল ইসলাম (২৯), মোস্তাকিম (৩৭), সুমন (২৬), শ্রাবন (১৯), যোবায়ের (১৯), হৃদয় খান (২০), মুন্না হোসেন (১৯), সানী (২২), নিয়ান খান অমি (১৭) ও সুমন (১৬)।

    গ্রেপ্তার জুয়েল রানা কাপাসিয়া উপজেলার তরুন এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং মো. আঃ হান্নান মৈশন এলাকার মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে। অন্যদের বাড়ি কাপাসিয়া উপজেলার খিলগাঁও, ভিটিপাড়া, বেগুনহাটি ও আশপাশের এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শহরের এ মালেক কনভেনশন হলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক মোহাইমেন।

    ইসলামী ছাত্রশিবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি সজিব মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, জেলা জামায়াতের আইসিটি সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক রাজিফুল হাসান বাপ্পী, প্রচার সম্পাদক মো: রুকন উদ্দিন ও জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়া ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবনের এ অর্জন ভবিষ্যতের পথচলায় কাজে লাগাতে হবে। শুধু অ্যাকাডেমিক সাফল্য নয়; মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর জন্য তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

  • কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো: ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রায়েরবাজারের ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বসিলা ব্রিজ-সংলগ্ন আরশিনগর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। দুপুরে তিনি চুল কাটানোর জন্য আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে সাগর, হাবিব, আরমানসহ বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিক তার ওপর হামলা চালায়। তারা ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা ও বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ হোসেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। চার বছর আগে বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় না করা, প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা এবং জরুরি সংস্কারকাজে ধীরগতিসহ নানা কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ ছাড়া খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও প্রভোস্টের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তারা।

    আলাওল হল সংসদের জিএস নুরুন্নবী বলেন, তিনি হল সংসদের কোনো কাজে সহায়তা করেন না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। হলটির সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তার কাছে গেলে নানা বিষয়ে হয়রানির শিকার হন। আমরা তার পদত্যাগ চাই।

    চবির সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম সুজন বলেন, আলাওল হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি সমস্যা সমাধানের জন্য হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছে।

  • বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীর হাতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদারকে (৫৫) খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের ভাড়াটিয়ার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মরহুম সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় আইনজীবীর সহকারি (মুহুরি) ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে নুরুজ্জামানের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতে স্ত্রী নাসিমা তার স্বামী নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

    বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাখাওয়াত হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ওই বাসা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিহতের পলাতক স্ত্রীকে আটক ও পুরো ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

  • কুমিল্লায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড়ের ঘাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের বয়স ও পরিচয় শনাক্তে সিআইডির একটি দলকে খবর দেয়া হয়েছে।

    পুলিশের ধারণা, রাতের কোনো এক সময় ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। লাশ উদ্ধারের সময় তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে খবর পেয়ে কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • নোয়াখালীতে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

    নোয়াখালীতে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মো: এরশাদ (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীর তীরে তার লাশ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন লাশটি উদ্ধার করেন।

    নিহত এরশাদ উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং চার সন্তানের জনক।

    নিহতের ভগ্নিপতি (বোনের স্বামী) মো: নুর উদ্দিন বলেন, এরশাদ কৃষি কাজ করত। পাশাপাশি মেঘনা নদীতে জাল দিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ধরত। মঙ্গলবার এরশাদ মাছ ধরার জন্য জাল নিয়ে সন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীতে যায়। এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল না। স্থানীয় লোকজন নদীর তীরে জালসহ তার লাশ ভাসতে দেখেন।

    নুর উদ্দিনের ভাষ্য, এরশাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। মাছ ধরার সময় জোয়ারের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, নিহতের স্বজনদের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তারা লাশ নিয়ে ঘাটে আসছে। সেখানে লাশ দেখে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেয়া হবে।

  • শ্বশুরবাড়ির নারিকেল গাছে প্রাণ গেল জামাইয়ের

    শ্বশুরবাড়ির নারিকেল গাছে প্রাণ গেল জামাইয়ের

    চৌগাছা (যশোর ) প্রতিনিধি

    শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন স্বাভাবিকভাবেই। হয়তো পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডাব পাড়তে নারিকেলগাছে ওঠার পর মুহূর্তেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল রাসেদুল (২৮) নামে এক যুবকের।

    মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের চৌগাছা উপজেলার শিবনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাসেদুল ওই গ্রামের রেজাউল ইসলামের জামাই। এবং ঝিকরগাছা উপজেলার কায়েমকোলা গ্রামের রফিউদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে থাকা অবস্থায় ডাব পাড়ার জন্য নারিকেলগাছে ওঠেন রাসেদুল। ডাব পাড়ার সময় হঠাৎ গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রান্তিক চাষীদের ২ দিনব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ

    লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রান্তিক চাষীদের ২ দিনব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিকাজে আরো দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় দুই সপ্তাহব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দুল্যাতলী ইউনিয়ন ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ২০ প্রান্তিক কৃষকের অংশগ্রহণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ।

    এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন এবং দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

    দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণে পাহাড়ি এলাকার বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি, ফসল উৎপাদন এবং কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেয়া হবে।

    প্রশিক্ষণ শেষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে তাদের মাঝে সনদপত্র, সার, বীজ ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে। দুর্গম পাহাড়ে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে এ উদ্যোগ তাদের কৃষি উৎপাদন ও স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, সার ও খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ সময় সার বিক্রয়ে অনিয়ম, ভুয়া চিকিৎসা ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরির অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার গোকুলখালী এবং ভালাইপুর বাজারে এ তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

    অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তদারকি চলাকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় অবৈধভাবে সার বিক্রয় করার অপরাধে গোকুলখালীর মেসার্স হামিদুল ট্রেডার্সের মালিক মো: হামিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণামূলক চিকিৎসা প্রদানের দায়ে মেসার্স জিকু মেডিক্যাল হলের মালিক মো: সাইফুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের অপরাধে ভালাইপুরের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: কালাম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ ঝুলিয়ে রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন বা নিষিদ্ধ কোনো ওষুধ, সার, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: রিয়াজ মাহমুদ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেমের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি টিম। জনস্বার্থে ও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    এ,আর

  • মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে মো: ফয়সাল (২৬) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড় মহেশখালীর পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে চোর সন্দেহে আটক করে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালেও কয়েক দফা পেটানোর পর তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চুরির অভিযোগে একদল কিশোর ফয়সালকে ইট দিয়ে পেটাচ্ছে। এমন লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

    বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে শুনেছি।

    মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান জানান, এভাবে কাউকে পিটিয়ে মারা অন্যায়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • চৌগাছায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    চৌগাছায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ১০ দিন ব্যাপী প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ হল রুমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন । উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেজবাহ উদ্দিনের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ চঞ্চল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক প্রমুখ। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন প্রশিক্ষক আসাদুজ্জামান। কার্যক্রমে উপজেলার প্রান্তিক পেশাজীবীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন পেশার ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জি,এম,এ মুনিব, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হবিবর রহমান হবি, ধুলিয়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম মমিনুর রহমান, স্বরুপদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল কদর, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহসভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, হিন্দু ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি গোবিন্দ কুমার রাহা প্রমুখ।

    সভায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করনে।

  • দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুরের কয়েকটি জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা মাছ অবমুক্ত করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

    মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার নয়টি জলাশয়ে মোট ২৮৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিলের বিলশা বিলে ৫৫ কেজি, খামারপাথুরিয়া মাদ্রাসার পুকুরে ৫০ কেজি, উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৩০ কেজি, দিকদারিয়া বিলে ৩০ কেজি, মির্জা মাহমুদ খালে ৩০ কেজি, খোলাগাড়ি বিলে ৩০ কেজি, পাটপাড়া মরা তুলশী নদীতে ২০ কেজি, থানা পুকুরে ২০ কেজি এবং বিল কাঠোর মরা নদীতে ২০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়।

    উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বাড়বে জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের মাছের জোগানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুর রশীদ, উপজেলা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মৎস্যজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবমুক্ত পোনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এসব জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বাড়বে।

  • ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গরুর খামার গড়ে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৌহিদুল আলম তুষার। গরু পালন, দুধ, মাঠা ও ঘি বিক্রির মাধ্যমে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি, নিজের এলাকায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। তার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনে আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ২০০৫ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে মাত্র একটি বকনা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে বড় পরিসরের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এখন তিনি ‘তৌফিক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট’-এর মালিক। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি গাভী রয়েছে।

    জুনিয়াদহ তহশিল অফিসের পেছনে নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামার। টিনশেডের বড় শেডে ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালন করছেন তিনি। খামারের দেখভালের জন্য সেখানে কয়েকজন বেতনভুক্ত শ্রমিক কাজ করছেন।

    খামারের পাশে রয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাদ্য দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আরও একটি নতুন শেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে নিজস্ব খামারের গাভীর উৎপাদিত দুধ দিয়ে দই উৎপাদন করবেন তিনি।

    তুষারের খামারে বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো সময় তা ১৫০ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দুধ সংগ্রহ, দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করা ও মাঠা তৈরির কাজ স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মেশিনের মাধ্যমে করেন তিনি। দুধ সংগ্রহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারক করেন তুষার। তার চারজন কর্মচারীও রয়েছেন। তাঁদের ২০ হাজার টাকা বেতনসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁর খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।খামারি তৌহিদুল আলম তুষার জানান, ‘দুধ বিক্রি করি ১০০ টাকা লিটার। এখন দুধ বিক্রি করি কম। কারিগর রেখেছি। এখন আমার ফার্মের দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করে ভেড়ামারার বাজারগুলোতে ভ্যানে করে মাঠা বিক্রি করি। মাঠা বিক্রির জন্য দুটি গাড়ি বানিয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। এতে আরও দুজন মানুষের কর্মসংস্থান করেছি আমি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় থেকে মাঠা বিক্রি শুরু করি। সকাল থেকে গাড়িতে করে আমার বিকিকিনি চলে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত মাঠা বিক্রি করতে পারি। শুক্রবার হলে আরও বেশি বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আমার বাড়িতেও মাঠা খেতে আসে। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা ও লিটার ১৪০ টাকা বিক্রি করি। এতে করে আমার প্রতিদিন আয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।’

    তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, এলাকায় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।

    মাঠা নিতে আসা লিটন বলেন, ‘আমার ফ্যামিলির সবাই এই মাঠা খুব পছন্দ করে। তাই এখানে মাঠা নিতে আসছি।’

    ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিক হাসান জানান, ‘আমরা উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খামার পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তৌহিদুল আলম তুষারের মতো উদ্যোক্তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।’

    ছোট পরিসর থেকে শুরু করে তুষার এখন একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার খামার এখন উপজেলার বড় ও সফল খামারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে তুষারের এই গরুর খামার এখন ভেড়ামারার সফল উদ্যোক্তার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

  • চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন

    চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    প্রতি বছর বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকেযশোরের চৌগাছা উপজেলারহাজরাখানা গ্রামে শুরু হয়ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা। এ বছর মেলা চলবে ১৫ দিন।মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমিতি মিলেছে ১৫ দিনের বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় এ মেলার উদ্বোধন করবেন মহিলা সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে জায়গা পছন্দ করে দোকান বসিয়েছেন। শিশুদের হরেক রকমের খেলার সামগ্রীতে ভরে উঠেছে মেলার মাঠ । প্রতিবছর প্রশাসনিকভাবে ৫/৭ দিন মেলার অনুমতি থাকে। এ বছর প্রশাসনিক ভাবে ১৫ দিনের অনুমোতি দেওয়া হয়েছে।

    শত বছরের বেশি সময় ধরে চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ মেলা প্রতি ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার শুরু হয়। মেলার সঠিক বয়স আজ অবধি কেউ সঠিক বলতে পারেনি। এলাকার বয়স্ক ব্যক্তিরা জানান, তাদের দাদার আমল থেকে এই মেলার গল্প শুনছেন।

    মেলার আয়োজক সূত্র জানায়, এবারের মেলার কপোতাক্ষ নদে স্পিড বোড চলবে মাশিলা খাট থেকে । কাঠের তৈরি হরেক রকমের আসবাবপত্র দোকান বসেছে। মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, ‘নৌকা-দোলা’, নাগরদোলা, জাম্পিং, স্লিপিংসহ বিভিন্ন রাইডিং বসানো হয়েছে।

    মেলায় কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে এসেছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ব্যবসায়ী আশাদুল ইসলাম, সালামত হোসেন ও আরব আলী। তারা বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে এই মেলায় আসেন। ভালো বেচাবিক্রি করে ব্যাপক লাভনিয়ে বাড়িতে ফিরে যান।

    যশোরের বাঘারপাড়ার বসুন্দিয়ার নামকরা খোকন ভাইয়ের চটপটি এসেছে মেলায়। ইতোমধ্যে কম বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক খোকন। প্রসাধনী পণ্য নিয়ে এসেছেন মাদারীপুরের উসমান মোল্লা। তিনি বলেন, বলুহর মেলা বলে কথা; প্রতি বছরই আসি। এবারও এসেছি; আশা করছি ব্যবসায় মন্দ হবে না।

    শিশুদের হরেক রকমের খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বগুড়ার ব্যবসায়ী লিটন হোসেন। তিনি বলেন, এবার ভাল ব্যবসায়ী হবে প্রত্যাশা করছি। ঢাকার গুলিস্থান থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী আবু তাহের। তিনি কম্বল নিয়ে এসেছেন।

    বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান ও কমিটির সাধারণ বিএম বাবুল আক্তার জানান, বলুহ মেলা হচ্ছে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। যা যুগযুগ ধরে চলে আসছে। গ্রামবাসীসহ এ অঞ্চলের সকলের সহযোগিতা নিয়ে মেলা চালানো হবে। ইতোমধ্যে সেই ব্যপারে আলোচনাও করা হয়েছে।

    তবে এলাকাবাসী দাবী মেলার নামে অশ্লীলনৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অসামাজিক কার্যকালাপ যেন না হয়।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, শর্তসাপেক্ষে ১৫ দিনের জন্য বলু মেলার অনুমতি দিয়েছেন যশোর পুলিশ সুপার মহোদয়। মেলায় আইনশৃঙ্খা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে। অশ্লীলনৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অসামাজিক কার্যকালাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডোমার পৌরসভার কাজিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুপা ছোট রাউতা কাজিপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুপা বেগম সহিদা দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদক ব্যাবসা করে আসছেন। তিনি এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করেন।

    ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩৩ টি মাদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আরও একটি মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত

    হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল অঞ্চলে হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হানার পর মসজিদটির পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য ভবন ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দুজন আহত হন। সিভিল ডিফেন্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এ ধরনের ঘটনার জন্য নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

    সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র বলেন, মসজিদসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের শারুরাহ এলাকায় একটি সৌদি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

  • ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগে। এ সময় আগুনের আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহত হন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন।

    তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ সময় ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া জমে যায়।

    জুলহাজ উদ্দিন বলেন, আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের লিফটের মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও সচল আছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    সেতুবন্ধন পাঠাগারটি খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামে অবস্থিত। ২০১৭ সালে স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর দান করা তিন শতক জমিতে সেতুবন্ধন নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ছোট্ট টিনশেড ঘরে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামটির জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

    এক সময়ে এলাকার মানুষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। এখন সেই চিত্র বদলেছে বইয়ের টানে প্রতিদিনই বাড়ছে পাঠাগারে পাঠকের সংখ্যা। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠাগারে আসেন। পাঠাগারের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি বই। শুরুতে ছিল হাতে গোনা কয়েকজন পাঠক ও সীমিত বই। কিন্তু পাঠকের আগ্রহ আর স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বড় হয়েছে পাঠাগারটির পরিসর। পাঠাগারটির সারি সারি বইয়ের তাক, চেয়ার টেবিল, আর শান্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বাড়ির বাইরের আরেকটি শিক্ষাঙ্গণ।

    পাঠক কলেজ শিক্ষার্থী সুজন ইসলাম বলেন, এখানে এসে গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ি। পত্রিকা পড়ে দেশ বিদেশের খবরও জানতে পারি। এই পাঠাগার আমাদের অনেক উপকার করছে।

    অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, স্কুল ছুটির পর প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি। ছোটগল্পের বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে সব ধরনের বই রয়েছে। অবসর সময় এখন বই পড়েই কাটাই। এতে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।

    সেতুবন্ধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকুক এবং পাঠাগারটি একটি আদর্শ লাইব্রেরিতে পরিণত হোক। এ জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ যেন জ্ঞান ও তথ্যের সুযোগ থেকে পিছিয়ে না থাকে এবং নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, সেতুবন্ধনের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসনীয়। সেতুবন্ধন পাঠাগার এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

  • লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    ব্যয়বহুল ও জটিল এই চিকিৎসায় লিভার প্রতিস্থাপনে দরকার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে বর্তমান চিকিৎসা ব্যয় মেটানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় পাবেন তারা। ফলে অর্থের অভাবে এশামনির বেঁচে থাকাটাই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিশুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    কুড়িগ্রাম পৌর শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় শিশু নিকেতন স্কুলের দক্ষিণের দেওয়ালের পাশে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম আহম্মেদ। বড় মেয়ে এশামনি (১১) পিটিআই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে ইফতি আক্তারের বয়স ৫ বছর। দুই মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন— সন্তানদের শিক্ষিত করে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন। কিন্তু চার মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মারুফা।

    এশামনির মা মারুফা ইয়াসমিন বলেন, চার মাস আগে পিটিআই স্কুল থেকে শিক্ষকরা আমার বাসায় পিয়ন পাঠিয়ে জানালেন, এশামনি ক্লাসে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত স্কুলে গিয়ে অচেতন মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসকরা ভর্তি না করায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। এর মধ্যেই আমার মেয়ের পা, মুখ, মাথা ও পেটে পানি জমে ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। মেয়ে আমার কথা বলতে পারছে না। হাসপাতালে টানা ১৬ দিন আমাদের থাকতে হয়েছে। সেখানে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে আমার সন্তান লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রোগটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আস্তে আস্তে যখন জানতে পারলাম তখন আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমার প্রথম সন্তান। আমার প্রথম মা ডাক শোনা। এমন ফুটফুটে সুন্দর একটা মেয়ে কিনা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছটফট করছিলাম। ভাবছিলাম কীভাবে এর চিকিৎসা করাবো। ওর বাবা কাঁচামালের ব্যবসার জন্য একটা দোকান বরাদ্দ নিয়েছিল, সেটি ছাড়িয়ে নেওয়া হলো। সেই টাকা দিয়েই চিকিৎসা ব্যয় মেটানো হলো। এতেই প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হলো। ওর একটা ইনজেকশন নিতে খরচ লাগে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আমরা এত টাকা কোথায় পাবো।

    এশামনির বাবা ইব্রাহিম বলেন, অসুস্থ হলেই তাকে উচ্চমূল্যের অ্যালবুমিন প্রোটিন ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হয়। এই ইনজেকশন নাকি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। এখন তার খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থা। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর ছাড়া দেশে এর ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। ভারতের হায়দরাবাদে চিকিৎসা করাতে গেলে তার লিভার কেটে ফেলে তার মায়ের বা আমার লিভার প্রতিস্থাপন করলে সে কিছুটা ভালো থাকবে। এ ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা নেই। আমি গরিব কাঁচামালের দোকানদার। জমিজমা নেই। ভাড়া বাসায় থাকি। এখন নিজেরা খাব কী, মেয়ের চিকিৎসা করাব কীভাবে।

    এশামনির দাদি বেবা বেগম বলেন, আমার নাতনি ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ। চার মাস আগে জানা গেল তার কঠিন রোগ হয়েছে। কিছুদিন পরপর আমার নাতনিটার পেট, পা, মুখ ও মাথায় পানি জমে। সারাক্ষণ মাথাব্যথা করে। শ্বাসকষ্ট হয়। পাতলা পায়খানা করে। সারা রাত ঘুমাতে পারে না। ফুটফুটে নাতনিটার দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়।

    প্রতিবেশী আনজুম আরা বলেন, মেয়েটি ছোট থেকেই অসুস্থ। সে লেখাপড়ায় অনেক ভালো। অসুস্থ হওয়ার কারণে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হলে সে আবার সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে পারত।

    এশামনির দাদা মোসাবের বলেন, আমার ছেলের পক্ষে নাতনির চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে মেয়েটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    এশামনি বলে, আমি খেতে পারি না, খেলে খারাপ লাগে। হাত-পা ব্যথা করে, বমি লাগে। শরীর ভারী লাগে, বসলে উঠতে পারি না। একটুতেই ক্লান্ত হয়ে যাই। হাঁফিয়ে উঠি।

    এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি জটিল রোগ। তাকে দ্রুততম উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দরাবাদে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া দরকার। একমাত্র লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমেই হয়তো তাকে চিকিৎসা করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রয়োজন।

  • জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় ১৮ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

    আব্দুল খালেক বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। যারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখলে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জ্ঞান ও সঠিক দক্ষতা থাকলে কোনো তরুণই পিছিয়ে থাকবে না। এলাকার প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

    অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট জেলা শাখার সদস্য সচিব স্বপন কুমার সাহার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন মন্ডল, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবু জাফর সোহেল রানা, রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক জিএস ফিরোজ কবির কাজল, সাবেক বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম মঈন, নাজমুল হুদা ও উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রাজু প্রমুখ।

  • কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গরুর গাড়ি এবং তা তৈরির অন্যতম উপাদান চাকা নিয়ে জনপ্রিয় গান, নাটক ইত্যাদি রচিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এক সময় ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল চাকা দিয়ে তৈরি গরুর বা ঘোড়ার গাড়ি। সময়ের বিবর্তনে যান্ত্রিক যুগে সেসব এখন আর চোখে পড়ে না তেমন একটা। তবুও সেই গাড়ি তৈরির অন্যতম উপাদান চাকার কারিগর, মিস্ত্রি বা এ কুটির শিল্পের মানুষেরা ব্রিটিশ আমল থেকে এখনো চাকার ওপরই নির্ভরশীল। চাকা ঘুরলে ঘোরে তাদের ভাগ্যের চাকাও।

    কুষ্টিয়া ৬ উপজেলায় রয়েছে চাকা তৈরির শত শত মিস্ত্রি। চাকা তৈরি ও বিক্রির জন্য সারা বাংলাদেশের মধ্যে এ এলাকাটি বিখ্যাত বলে জানান কর্মরত মিস্ত্রিরা। ব্রিটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এ পেশাটিকেই আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তারা। বাজারের চাকা তৈরির মহাজন ও মিস্ত্রিরা জানান, এখানে অনেক পরিবার গরুর গাড়ির চাকা তৈরিতে অত্যান্ত পারদর্শী।

    তারা বলেন, তার বাপ-দাদার পেশা ছিল চাকা তৈরি। তিনিও এ পেশা ছাড়তে পারেননি। একদিনে একটা অর্থাৎ মাসে ২৫ জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। এক জোড়া চাকা তৈরি করতে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকার মত। বাবলা গাছের কাঠই এ চাকা তৈরির একমাত্র উপাদান। কোনো যান্ত্রিক মেশিনে নয়, হাতুড়-বাটাল করাত দিয়ে হাতের কাজের মাধ্যমেই তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন এই চাকা।

    বাবলা গাছ ছোট অবস্থাতেই মজবুত ও সারিযুক্ত হয়। দুই আড়াই হাজার টাকায় ছোট সাইজের একটা গাছ থেকে এক জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। তবে পাঁচ বা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার একটি বড় বাবলা গাছ থেকে দুই জোড়া চাকা তৈরি করা যায়।

    পোড়াদহের চাকা তৈরির মিস্ত্রি ইনতাজ আলী জানান, স মিল থেকে বাবলা গাছের কাঠ চেরাই করে একমাস রোদে শুকাতে হয়। এরপর নিজেদের তৈরি ফর্মা বা মেশিনে করাত দিয়ে চিরে কাজ শুরু করা হয়। চাকার মাঝের গোল অংশ (বেলন), ভেতরের লম্বা লাঠি (পাকে) ও মূল কাঠের বৃত্ত (কৈঠা) লাগিয়ে একদিনের মধ্যেই চাকা সেট হয়ে যায়। এর পর ফিনিশিং করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। একজন মিস্ত্রিকে দিনে ৭০০ টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এক জোড়া চাকা ৭ থেকে ১০ বছর গাড়িতে চলার জন্য উপযুক্ত থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিরপুরে এসে চাকা নিয়ে যান। বিভিন্ন জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষকরা চাকার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    মিস্ত্রি ও মহাজনরা জানান, চাকা তৈরির বাবলা গাছ এক সময় ছিল সহজলভ্য। কিন্তু এখন আর সারিবদ্ধভাবে মেঠো রাস্তা, ক্যানেলের ধারে বা আশপাশে তা আর দেখতে পাওয়া যায় না। চাকা তৈরির কাজ বারো মাস ধরেই চলে। গরু, মহিষ বা ঘোড়ার গাড়ির জন্য এ চাকা ব্যবহৃত হলেও ঘোড়ার গাড়ি প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামাঞ্চলে কাদাযুক্ত মেঠো রাস্তা ও মাঠ থেকে ফসল আনা নেয়ার জন্য এখনো গরু ও মহিষের গাড়ি ব্যবহৃত হয়।

    চাকা তৈরিতে ব্যস্ত কুটির শিল্পের কারিগররাও জানান, অনেক সময় পুঁজির অভাবে বেশি মূল্যে বাকিতে গাছ কিনতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, ব্যাংকঋণ ইত্যাদির সুবিধা পেলে চাষাবাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এ চাকা শিল্প তথা গরু ও মহিষের গাড়ি টিকে থাকবে, ভাগ্যের চাকা ঘুরবে এ শিল্পের শত শত কারিগর বা পেশার সঙ্গে জড়িতদের এমনটি জানান সংশি¬ষ্টরা।

  • শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

    গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।