সারাদেশ

  • ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গরুর খামার গড়ে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৌহিদুল আলম তুষার। গরু পালন, দুধ, মাঠা ও ঘি বিক্রির মাধ্যমে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি, নিজের এলাকায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। তার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনে আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ২০০৫ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে মাত্র একটি বকনা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে বড় পরিসরের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এখন তিনি ‘তৌফিক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট’-এর মালিক। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি গাভী রয়েছে।

    জুনিয়াদহ তহশিল অফিসের পেছনে নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামার। টিনশেডের বড় শেডে ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালন করছেন তিনি। খামারের দেখভালের জন্য সেখানে কয়েকজন বেতনভুক্ত শ্রমিক কাজ করছেন।

    খামারের পাশে রয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাদ্য দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আরও একটি নতুন শেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে নিজস্ব খামারের গাভীর উৎপাদিত দুধ দিয়ে দই উৎপাদন করবেন তিনি।

    তুষারের খামারে বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো সময় তা ১৫০ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দুধ সংগ্রহ, দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করা ও মাঠা তৈরির কাজ স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মেশিনের মাধ্যমে করেন তিনি। দুধ সংগ্রহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারক করেন তুষার। তার চারজন কর্মচারীও রয়েছেন। তাঁদের ২০ হাজার টাকা বেতনসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁর খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।খামারি তৌহিদুল আলম তুষার জানান, ‘দুধ বিক্রি করি ১০০ টাকা লিটার। এখন দুধ বিক্রি করি কম। কারিগর রেখেছি। এখন আমার ফার্মের দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করে ভেড়ামারার বাজারগুলোতে ভ্যানে করে মাঠা বিক্রি করি। মাঠা বিক্রির জন্য দুটি গাড়ি বানিয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। এতে আরও দুজন মানুষের কর্মসংস্থান করেছি আমি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় থেকে মাঠা বিক্রি শুরু করি। সকাল থেকে গাড়িতে করে আমার বিকিকিনি চলে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত মাঠা বিক্রি করতে পারি। শুক্রবার হলে আরও বেশি বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আমার বাড়িতেও মাঠা খেতে আসে। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা ও লিটার ১৪০ টাকা বিক্রি করি। এতে করে আমার প্রতিদিন আয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।’

    তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, এলাকায় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।

    মাঠা নিতে আসা লিটন বলেন, ‘আমার ফ্যামিলির সবাই এই মাঠা খুব পছন্দ করে। তাই এখানে মাঠা নিতে আসছি।’

    ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিক হাসান জানান, ‘আমরা উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খামার পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তৌহিদুল আলম তুষারের মতো উদ্যোক্তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।’

    ছোট পরিসর থেকে শুরু করে তুষার এখন একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার খামার এখন উপজেলার বড় ও সফল খামারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে তুষারের এই গরুর খামার এখন ভেড়ামারার সফল উদ্যোক্তার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

  • চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন

    চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    প্রতি বছর বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকেযশোরের চৌগাছা উপজেলারহাজরাখানা গ্রামে শুরু হয়ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা। এ বছর মেলা চলবে ১৫ দিন।মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমিতি মিলেছে ১৫ দিনের বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় এ মেলার উদ্বোধন করবেন মহিলা সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে জায়গা পছন্দ করে দোকান বসিয়েছেন। শিশুদের হরেক রকমের খেলার সামগ্রীতে ভরে উঠেছে মেলার মাঠ । প্রতিবছর প্রশাসনিকভাবে ৫/৭ দিন মেলার অনুমতি থাকে। এ বছর প্রশাসনিক ভাবে ১৫ দিনের অনুমোতি দেওয়া হয়েছে।

    শত বছরের বেশি সময় ধরে চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ মেলা প্রতি ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার শুরু হয়। মেলার সঠিক বয়স আজ অবধি কেউ সঠিক বলতে পারেনি। এলাকার বয়স্ক ব্যক্তিরা জানান, তাদের দাদার আমল থেকে এই মেলার গল্প শুনছেন।

    মেলার আয়োজক সূত্র জানায়, এবারের মেলার কপোতাক্ষ নদে স্পিড বোড চলবে মাশিলা খাট থেকে । কাঠের তৈরি হরেক রকমের আসবাবপত্র দোকান বসেছে। মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, ‘নৌকা-দোলা’, নাগরদোলা, জাম্পিং, স্লিপিংসহ বিভিন্ন রাইডিং বসানো হয়েছে।

    মেলায় কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে এসেছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ব্যবসায়ী আশাদুল ইসলাম, সালামত হোসেন ও আরব আলী। তারা বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে এই মেলায় আসেন। ভালো বেচাবিক্রি করে ব্যাপক লাভনিয়ে বাড়িতে ফিরে যান।

    যশোরের বাঘারপাড়ার বসুন্দিয়ার নামকরা খোকন ভাইয়ের চটপটি এসেছে মেলায়। ইতোমধ্যে কম বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক খোকন। প্রসাধনী পণ্য নিয়ে এসেছেন মাদারীপুরের উসমান মোল্লা। তিনি বলেন, বলুহর মেলা বলে কথা; প্রতি বছরই আসি। এবারও এসেছি; আশা করছি ব্যবসায় মন্দ হবে না।

    শিশুদের হরেক রকমের খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বগুড়ার ব্যবসায়ী লিটন হোসেন। তিনি বলেন, এবার ভাল ব্যবসায়ী হবে প্রত্যাশা করছি। ঢাকার গুলিস্থান থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী আবু তাহের। তিনি কম্বল নিয়ে এসেছেন।

    বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান ও কমিটির সাধারণ বিএম বাবুল আক্তার জানান, বলুহ মেলা হচ্ছে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। যা যুগযুগ ধরে চলে আসছে। গ্রামবাসীসহ এ অঞ্চলের সকলের সহযোগিতা নিয়ে মেলা চালানো হবে। ইতোমধ্যে সেই ব্যপারে আলোচনাও করা হয়েছে।

    তবে এলাকাবাসী দাবী মেলার নামে অশ্লীলনৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অসামাজিক কার্যকালাপ যেন না হয়।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, শর্তসাপেক্ষে ১৫ দিনের জন্য বলু মেলার অনুমতি দিয়েছেন যশোর পুলিশ সুপার মহোদয়। মেলায় আইনশৃঙ্খা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে। অশ্লীলনৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অসামাজিক কার্যকালাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডোমার পৌরসভার কাজিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুপা ছোট রাউতা কাজিপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুপা বেগম সহিদা দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদক ব্যাবসা করে আসছেন। তিনি এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করেন।

    ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩৩ টি মাদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আরও একটি মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত

    হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল অঞ্চলে হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হানার পর মসজিদটির পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য ভবন ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দুজন আহত হন। সিভিল ডিফেন্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এ ধরনের ঘটনার জন্য নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

    সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র বলেন, মসজিদসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের শারুরাহ এলাকায় একটি সৌদি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

  • ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগে। এ সময় আগুনের আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহত হন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন।

    তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ সময় ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া জমে যায়।

    জুলহাজ উদ্দিন বলেন, আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের লিফটের মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও সচল আছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    সেতুবন্ধন পাঠাগারটি খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামে অবস্থিত। ২০১৭ সালে স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর দান করা তিন শতক জমিতে সেতুবন্ধন নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ছোট্ট টিনশেড ঘরে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামটির জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

    এক সময়ে এলাকার মানুষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। এখন সেই চিত্র বদলেছে বইয়ের টানে প্রতিদিনই বাড়ছে পাঠাগারে পাঠকের সংখ্যা। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠাগারে আসেন। পাঠাগারের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি বই। শুরুতে ছিল হাতে গোনা কয়েকজন পাঠক ও সীমিত বই। কিন্তু পাঠকের আগ্রহ আর স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বড় হয়েছে পাঠাগারটির পরিসর। পাঠাগারটির সারি সারি বইয়ের তাক, চেয়ার টেবিল, আর শান্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বাড়ির বাইরের আরেকটি শিক্ষাঙ্গণ।

    পাঠক কলেজ শিক্ষার্থী সুজন ইসলাম বলেন, এখানে এসে গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ি। পত্রিকা পড়ে দেশ বিদেশের খবরও জানতে পারি। এই পাঠাগার আমাদের অনেক উপকার করছে।

    অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, স্কুল ছুটির পর প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি। ছোটগল্পের বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে সব ধরনের বই রয়েছে। অবসর সময় এখন বই পড়েই কাটাই। এতে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।

    সেতুবন্ধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকুক এবং পাঠাগারটি একটি আদর্শ লাইব্রেরিতে পরিণত হোক। এ জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ যেন জ্ঞান ও তথ্যের সুযোগ থেকে পিছিয়ে না থাকে এবং নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, সেতুবন্ধনের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসনীয়। সেতুবন্ধন পাঠাগার এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

  • লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    ব্যয়বহুল ও জটিল এই চিকিৎসায় লিভার প্রতিস্থাপনে দরকার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে বর্তমান চিকিৎসা ব্যয় মেটানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় পাবেন তারা। ফলে অর্থের অভাবে এশামনির বেঁচে থাকাটাই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিশুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    কুড়িগ্রাম পৌর শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় শিশু নিকেতন স্কুলের দক্ষিণের দেওয়ালের পাশে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম আহম্মেদ। বড় মেয়ে এশামনি (১১) পিটিআই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে ইফতি আক্তারের বয়স ৫ বছর। দুই মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন— সন্তানদের শিক্ষিত করে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন। কিন্তু চার মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মারুফা।

    এশামনির মা মারুফা ইয়াসমিন বলেন, চার মাস আগে পিটিআই স্কুল থেকে শিক্ষকরা আমার বাসায় পিয়ন পাঠিয়ে জানালেন, এশামনি ক্লাসে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত স্কুলে গিয়ে অচেতন মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসকরা ভর্তি না করায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। এর মধ্যেই আমার মেয়ের পা, মুখ, মাথা ও পেটে পানি জমে ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। মেয়ে আমার কথা বলতে পারছে না। হাসপাতালে টানা ১৬ দিন আমাদের থাকতে হয়েছে। সেখানে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে আমার সন্তান লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রোগটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আস্তে আস্তে যখন জানতে পারলাম তখন আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমার প্রথম সন্তান। আমার প্রথম মা ডাক শোনা। এমন ফুটফুটে সুন্দর একটা মেয়ে কিনা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছটফট করছিলাম। ভাবছিলাম কীভাবে এর চিকিৎসা করাবো। ওর বাবা কাঁচামালের ব্যবসার জন্য একটা দোকান বরাদ্দ নিয়েছিল, সেটি ছাড়িয়ে নেওয়া হলো। সেই টাকা দিয়েই চিকিৎসা ব্যয় মেটানো হলো। এতেই প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হলো। ওর একটা ইনজেকশন নিতে খরচ লাগে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আমরা এত টাকা কোথায় পাবো।

    এশামনির বাবা ইব্রাহিম বলেন, অসুস্থ হলেই তাকে উচ্চমূল্যের অ্যালবুমিন প্রোটিন ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হয়। এই ইনজেকশন নাকি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। এখন তার খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থা। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর ছাড়া দেশে এর ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। ভারতের হায়দরাবাদে চিকিৎসা করাতে গেলে তার লিভার কেটে ফেলে তার মায়ের বা আমার লিভার প্রতিস্থাপন করলে সে কিছুটা ভালো থাকবে। এ ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা নেই। আমি গরিব কাঁচামালের দোকানদার। জমিজমা নেই। ভাড়া বাসায় থাকি। এখন নিজেরা খাব কী, মেয়ের চিকিৎসা করাব কীভাবে।

    এশামনির দাদি বেবা বেগম বলেন, আমার নাতনি ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ। চার মাস আগে জানা গেল তার কঠিন রোগ হয়েছে। কিছুদিন পরপর আমার নাতনিটার পেট, পা, মুখ ও মাথায় পানি জমে। সারাক্ষণ মাথাব্যথা করে। শ্বাসকষ্ট হয়। পাতলা পায়খানা করে। সারা রাত ঘুমাতে পারে না। ফুটফুটে নাতনিটার দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়।

    প্রতিবেশী আনজুম আরা বলেন, মেয়েটি ছোট থেকেই অসুস্থ। সে লেখাপড়ায় অনেক ভালো। অসুস্থ হওয়ার কারণে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হলে সে আবার সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে পারত।

    এশামনির দাদা মোসাবের বলেন, আমার ছেলের পক্ষে নাতনির চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে মেয়েটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    এশামনি বলে, আমি খেতে পারি না, খেলে খারাপ লাগে। হাত-পা ব্যথা করে, বমি লাগে। শরীর ভারী লাগে, বসলে উঠতে পারি না। একটুতেই ক্লান্ত হয়ে যাই। হাঁফিয়ে উঠি।

    এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি জটিল রোগ। তাকে দ্রুততম উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দরাবাদে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া দরকার। একমাত্র লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমেই হয়তো তাকে চিকিৎসা করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রয়োজন।

  • জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় ১৮ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

    আব্দুল খালেক বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। যারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখলে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জ্ঞান ও সঠিক দক্ষতা থাকলে কোনো তরুণই পিছিয়ে থাকবে না। এলাকার প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

    অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট জেলা শাখার সদস্য সচিব স্বপন কুমার সাহার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন মন্ডল, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবু জাফর সোহেল রানা, রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক জিএস ফিরোজ কবির কাজল, সাবেক বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম মঈন, নাজমুল হুদা ও উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রাজু প্রমুখ।

  • কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গরুর গাড়ি এবং তা তৈরির অন্যতম উপাদান চাকা নিয়ে জনপ্রিয় গান, নাটক ইত্যাদি রচিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এক সময় ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল চাকা দিয়ে তৈরি গরুর বা ঘোড়ার গাড়ি। সময়ের বিবর্তনে যান্ত্রিক যুগে সেসব এখন আর চোখে পড়ে না তেমন একটা। তবুও সেই গাড়ি তৈরির অন্যতম উপাদান চাকার কারিগর, মিস্ত্রি বা এ কুটির শিল্পের মানুষেরা ব্রিটিশ আমল থেকে এখনো চাকার ওপরই নির্ভরশীল। চাকা ঘুরলে ঘোরে তাদের ভাগ্যের চাকাও।

    কুষ্টিয়া ৬ উপজেলায় রয়েছে চাকা তৈরির শত শত মিস্ত্রি। চাকা তৈরি ও বিক্রির জন্য সারা বাংলাদেশের মধ্যে এ এলাকাটি বিখ্যাত বলে জানান কর্মরত মিস্ত্রিরা। ব্রিটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এ পেশাটিকেই আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তারা। বাজারের চাকা তৈরির মহাজন ও মিস্ত্রিরা জানান, এখানে অনেক পরিবার গরুর গাড়ির চাকা তৈরিতে অত্যান্ত পারদর্শী।

    তারা বলেন, তার বাপ-দাদার পেশা ছিল চাকা তৈরি। তিনিও এ পেশা ছাড়তে পারেননি। একদিনে একটা অর্থাৎ মাসে ২৫ জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। এক জোড়া চাকা তৈরি করতে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকার মত। বাবলা গাছের কাঠই এ চাকা তৈরির একমাত্র উপাদান। কোনো যান্ত্রিক মেশিনে নয়, হাতুড়-বাটাল করাত দিয়ে হাতের কাজের মাধ্যমেই তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন এই চাকা।

    বাবলা গাছ ছোট অবস্থাতেই মজবুত ও সারিযুক্ত হয়। দুই আড়াই হাজার টাকায় ছোট সাইজের একটা গাছ থেকে এক জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। তবে পাঁচ বা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার একটি বড় বাবলা গাছ থেকে দুই জোড়া চাকা তৈরি করা যায়।

    পোড়াদহের চাকা তৈরির মিস্ত্রি ইনতাজ আলী জানান, স মিল থেকে বাবলা গাছের কাঠ চেরাই করে একমাস রোদে শুকাতে হয়। এরপর নিজেদের তৈরি ফর্মা বা মেশিনে করাত দিয়ে চিরে কাজ শুরু করা হয়। চাকার মাঝের গোল অংশ (বেলন), ভেতরের লম্বা লাঠি (পাকে) ও মূল কাঠের বৃত্ত (কৈঠা) লাগিয়ে একদিনের মধ্যেই চাকা সেট হয়ে যায়। এর পর ফিনিশিং করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। একজন মিস্ত্রিকে দিনে ৭০০ টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এক জোড়া চাকা ৭ থেকে ১০ বছর গাড়িতে চলার জন্য উপযুক্ত থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিরপুরে এসে চাকা নিয়ে যান। বিভিন্ন জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষকরা চাকার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    মিস্ত্রি ও মহাজনরা জানান, চাকা তৈরির বাবলা গাছ এক সময় ছিল সহজলভ্য। কিন্তু এখন আর সারিবদ্ধভাবে মেঠো রাস্তা, ক্যানেলের ধারে বা আশপাশে তা আর দেখতে পাওয়া যায় না। চাকা তৈরির কাজ বারো মাস ধরেই চলে। গরু, মহিষ বা ঘোড়ার গাড়ির জন্য এ চাকা ব্যবহৃত হলেও ঘোড়ার গাড়ি প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামাঞ্চলে কাদাযুক্ত মেঠো রাস্তা ও মাঠ থেকে ফসল আনা নেয়ার জন্য এখনো গরু ও মহিষের গাড়ি ব্যবহৃত হয়।

    চাকা তৈরিতে ব্যস্ত কুটির শিল্পের কারিগররাও জানান, অনেক সময় পুঁজির অভাবে বেশি মূল্যে বাকিতে গাছ কিনতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, ব্যাংকঋণ ইত্যাদির সুবিধা পেলে চাষাবাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এ চাকা শিল্প তথা গরু ও মহিষের গাড়ি টিকে থাকবে, ভাগ্যের চাকা ঘুরবে এ শিল্পের শত শত কারিগর বা পেশার সঙ্গে জড়িতদের এমনটি জানান সংশি¬ষ্টরা।

  • শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

    গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • ময়মনসিংহে ড্রাম ট্রাকচাপায় দুইজন নিহত

    ময়মনসিংহে ড্রাম ট্রাকচাপায় দুইজন নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও সড়কে উপজেলার কানিহারী তিরখী কালিরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জসিম (৩৮) সদর উপজেলার ২৩নং ওয়ার্ডের সুতিয়াখালী এলাকার মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

    এছাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অজ্ঞাত এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে গফরগাঁওগামী যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তিরখী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ৫ জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • দিনাজপুরে অবৈধ মজুত ১,৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

    দিনাজপুরে অবৈধ মজুত ১,৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা ১ হাজার ৩৯১ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ ঘটনায় চার সার ব্যবসায়ীকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং একটি সার গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

    সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানায়, গত দুই দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সার উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজাউল ইসলাম।

    এ সময় মেসার্স শাহির ট্রেডার্সের গুদাম থেকে ৭৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৪৪৬ বস্তা টিএসপি, ২৭৬ বস্তা ডিএপি, ৪৬ বস্তা এমওপি ও ১৪ বস্তা ইউরিয়া রয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: নাসিম ইকবাল খোকনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরে একই এলাকায় অনুমোদনহীন খুচরা বিক্রেতা মো: আলিমের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে সাত বস্তা টিএসপি, সাত বস্তা এমওপি ও তিন বস্তা ডিএপি রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ৪ নম্বর শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মনোয়ার হোসেন। সেখানে মেসার্স নবাব ট্রেডার্সের মালিক মশিউর রহমানের নিবন্ধনবিহীন দুইটি ঘর থেকে ৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া একই দিন চককাঞ্চন মোড়ে পৃথক অভিযানে বিসিআইসি ডিলার মেসার্স হাসেম ট্রেডার্সের মালিক মো: হাসেমের ভাই মো: জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে ৫১০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উদ্ধার করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে উন্মুক্তভাবে বিক্রির নির্দেশ দেন।

    অভিযান চলাকালে বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আল এমরান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের কৃত্রিম সঙ্কট প্রতিরোধে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মতলবে ২৫ মামলার আসামি সুমন গ্রেফতার

    মতলবে ২৫ মামলার আসামি সুমন গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলবে অভিযান চালিয়ে ২৫ মামলার আসামি মাদককারবারি সুমন প্রধানকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাপাতিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে তিনটি জিআর সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতার করা হয়।

    সুমন ওই গ্রামের মো: এবাদুল্যাহ প্রধানিয়ার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, সুমন প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় পাঁচ বছর চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছর তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদালতের আদেশ রয়েছে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্য ২৫টি মামলা রয়েছে। আমাদের বিশেষ অভিযানে তাকে তার বসতবাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামার (উপশাখা) নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সুরমা ইউনিয়নর শিমুলতলা গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থান। ফলে আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা শিমুলতলা পঞ্চায়েতী কবরস্থানের কিছু অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী খাশিয়ামারা নদীতে মিশে গেছে। বেশ কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কবরের হাড়গোড় তুলে নিয়ে অন্যত্র কবর দিয়েছেন স্বজনরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শত বছর আগে শিমুলতলা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শত বছরে এই কবরস্থানে কয়েকটি প্রজন্মের স্বজনরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এই এলাকার মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে কবরস্থানকে ঘিরে। সুযোগ পেলেই গ্রামের মানুষ কবরস্থানে গিয়ে তাদের বাপ-দাদাসহ স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং দোয়া করেন। কিন্তু নদী ভাঙনের এই কবল থেকে মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের শেষ স্মৃতি রক্ষায় আতষ্কে পড়েছে স্থানীয়রা।

    এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কবরস্থান নয় পুরো গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

    শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন জানান, বহুবছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এই গোরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদী ভাঙনের তীব্রতা দিনদিন বাড়ায় গ্ৰামের অনেক পরিবার তার স্বজনদের শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে, হাড়গোড় ও কঙ্কাল খুঁড়ে নিয়ে অন্যত্র কবরস্থ করছেন। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি কবর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরিভাবে কবরস্থানটি সংরক্ষণ করা না হলে, আমাদের পূর্ব-পুরুষের স্মৃতি সম্বলিত কবরগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    শিমুলতলা গ্রামের মইনূল হক বলেন, ‘চোখের সামনে শতশত কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।’

    সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন আর-রশীদ বলেন, ‘কবরস্থান হলো মানুষের পার্থিব জীবনের শেষ ঠিকানা এবং অনন্তকালের যাত্রার প্রথম ধাপ। এ কবরস্থান নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শুনে অনেক ব্যতিত হয়েছি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি জানা নেই। একবার পরিদর্শন করে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

    মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করায় বর্তমান স্বামীর স্বজনেরা এমন নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধূ কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯)। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। মামলার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত বুধবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন কুলসুম বেগম। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুন (৪০)। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)।

    মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কনিকা রায় গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কুলসুম বেগম নাম ধারণ করে দারগালী নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তারা একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছিলেন।

    এজাহারে বলা হয়, ধর্ম পরিবর্তন ও দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার রাতে আসামিরা লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে ঢোকেন। তারা তাকে গালিগালাজ করেন এবং ধর্মান্তর ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার একটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার মাথার একাংশের চুল কেটে দেন। একপর্যায়ে কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এ সময় কুলসুমের চিৎকার শুনে তার স্বামী দারগালী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও প্রায় ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
    পরে কুলসুম ও তার স্বামীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    কুলসুম বেগম বলেন, তারা আমাকে ধরে মেরেছে। ২০ বছর ধরে আমি একা থাকতাম। দ্বিতীয় বিয়ের দিন আমি আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেই। ওই দিন আমার বর্তমান স্বামীর পরিবারের লোকজন এসে আমার ওপর অত্যাচার চালায়। তার বড় বউ এসে আমাকে ধরে। তারা সবাই মিলে আমার চুল কেটে দেয়। আমি এর বিচার চাই।

    কুলসুমের স্বামী দারগালী বলেন, যারা আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করেছেন, তারা সম্পর্কে আমার মামাতো ভাই, আমার প্রথম স্ত্রী ও ছেলে। কেন বিয়ে করেছি এই জেদ ধরে তারা এভাবে অত্যাচার করেছে। আমি এখনো আমার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেইনি। তবে সেখান থেকে সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছি।

    দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • আড়াইহাজারে ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯ দোকানিকে জরিমানা

    আড়াইহাজারে ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯ দোকানিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯টি দোকানকে মোট ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার পৌরসভার সদরের বিভিন্ন মার্কেটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ জরিমানা আদায় করা হয়।

    পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মিত্রপ্লাজায় ২৬টি, আবদুল কাদির সুপার মার্কেটে ২৩টি এবং হাবিব সুপার মার্কেটে ৪০টি দোকানে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এসব দোকানের প্রতিটিকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুর রহমান।

    এ সময় আড়াইহাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, লাইসেন্স পরিদর্শক মো: সুমন মিয়া, কর আদায়কারী মো: হানিফ শিকদার, সহকারী কর নির্ধারক মো: ওমর ফারুকসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোবাইল কোর্ট চলাকালে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য দুই দিনের সময় দেয়া হয়।

  • চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী এলাকার দুর্গম এলাকায় চকরিয়া থানার পুলিশের অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে। এ সময় দুই নারীসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    আজ সোমবার (১৪ আগস্ট) চকরিয়া থানার পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিং-এ তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রাজিব উরপে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দীন( ৪০), জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসু ডাকাত (২৬), সাগার রানা ওরফে শুটার সাগার (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর রানু (৫৫)।

    থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, রোববার গভীর রাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়াডের দুর্গম পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকার এক বসত বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এসময়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালাতে গেলে পুলিশ কয়েক জনকে আটক করে। তাদের শিকার উক্তি মোতাবেক পুকুর জলাশয় ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ।

    গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল, একটি দেশীয় শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুই রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ এবং ২য় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ডসহ সর্বমোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

  • পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

    এ সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। রাত ১২টার পর দুই পক্ষই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত ১৫ জন হলেন, রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আমরা জেনেছি, রাজনৈতিক সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন।

    জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।

    পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় বেদভিটা গ্রামে নিখোঁজের তিনদিন পর পরি রানী হাজরা নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার সকালে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে পাটখেত থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, পরি রানী হাজরা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত, জলবায়ু পরিবর্তনের লবণাক্ততা আর সাদা মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব—সব মিলিয়ে দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাগেরহাটের নারকেল উৎপাদন। একসময় জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও নারকেল তেলের শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামালের অভাবে। তবে ঐতিহ্যের এই ধ্বসে আশার আলো জ্বালিয়েছে ‘কাঁচা নারকেল’ বা ডাব। পাকা নারকেলের বাজার হারালেও দেশজুড়ে তুঙ্গে থাকা ডাবের চাহিদাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

    বাগেরহাটের দেপাড়া, মুনিগঞ্জ, বৈটপুর, সাইনবোর্ড কিংবা দৈবজ্ঞহাটির মতো অন্তত দেড় শতাধিক মোকামে প্রতিদিন চলে শত শত মণ ডাব কেনাবেচা। এসব আড়ত থেকে ট্রাকে করে ডাব চালান হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে।

    দেপাড়া বাজারের ‘বরকত ডাব ঘর’-এর ব্যবসায়ী লিটন জানান, সাধারণত সপ্তাহে ৩-৪ দিন গড়ে দেড় হাজার ডাব চালান করলেও গ্রীষ্মের মৌসুমে প্রতিদিন ৩ হাজার পর্যন্ত ডাব পাঠান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সাইনবোর্ড বা দেপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাগান ও ঘেরের পাড় থেকে ৪০-৮৫ টাকায় ডাব কিনে আড়তে ৭৫-১২০ টাকায় হাতবদল করেন, যা শেষপর্যন্ত শহরের খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
    সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ডাটাবেজ না থাকলেও ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, জেলায় প্রায় দেড়শ আড়তদার, শতাধিক খুচরা বিক্রেতা এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি ফড়িয়া ডাব ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাগেরহাটে ৩ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে নারকেলের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৩৩ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নারকেল ও ডাব খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আয় আসছে।

    বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরীফ সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ—আগে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল লাখ মেট্রিক টনের বেশি, সেখানে কাঁচামাল সংকটে তেলের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসা ধরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

    কচুয়া উপজেলার কৃষক মনির শেখ জানান, ‘গাছে আর আগের মতো নারকেল ধোবে না। রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে ডাবের দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি পোষাচ্ছে।’
    কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও গরম বাড়লে সারা দেশেই ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়, যা বাগেরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’

    তবে কেবল ডাব বেচে দীর্ঘমেয়াদে এ খাত ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেনের মতে, সাদা মাছি, মাকড় ও ইঁদুর দমনে কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলে একটি ‘নারকেল ও সুপারি গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করা গেলে এই উপকূলীয় সম্পদ আবার আগের রূপে ফিরে পেতে পারে।

  • মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে সুমি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    সুমি ডাসার উপজেলার পূর্ব দর্শনা এলাকার চান্দু মোল্লার মেয়ে।

    মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, আড়াই বছর আগে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটির ইরান হাওলাদারের ছেলে আকবর হাওলাদারের সাথে সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কলহ শুরু হয়। সম্প্রতি দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য সুমিকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমিকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। এরই সূত্র ধরে রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

    পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত স্বামী আকবর হাওলাদারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মৃতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে নেয়া হবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা।

  • চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষণের দায়ে একটি ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার হিজলগাড়ী ও ডিঙেদহ এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

    অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হিজলগাড়ী বাজারের মেসার্স সুমি ফার্মেসির ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষিত ছিল। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আশরাফুল আলমকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা মানহীন পণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানটি পরিচালনা করেন। এ সময় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ৫৫

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ৫৫

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সংঘর্ষ এবং ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে দুই গ্রুপের সদস্যরা আহত হন।

    গ্রাহক ফোরামের ৩০ জন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি নুর উন নবী মানিক বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় হামলা চালানো হয়েছে।’

    তিনি জানান, ‘পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন, তারা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। যারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

    অন্যদিকে, চাকরিচ্যুতদের ২৫ জনের ওপর হামলার দাবি করেন তাদের একজন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আজ উপস্থিত হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, ‘সকালের ঘটনা আমি জানি না। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু এটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের এখান থেকে চলে যেতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।’

  • গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামে পানিতে ডুবে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আরিশা খাতুন তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদী মাঠপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত আরিশা শফিকুল ইসলামের পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

  • মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের মুলাদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে মুলাদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার সিনেমা হল এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের সুলতান খানের ছেলে মো. আমিনুল খান (৩৫), একই এলাকার মৃত ইসমাইল খানের ছেলে আব্দুস সালাম খান (৪৮) এবং মুলাদী পৌরসভার পশ্চিম চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের দেলোয়ার দর্জির ছেলে সজল দর্জিকে (২৮) আটক করা হয়।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের তিনজনের কাছ থেকে মোট ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    অপরদিকে পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফ পাঠানকে (২০) আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার সালাম পাঠানের ছেলে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, ইয়াবাসহ আটক চার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    মাদকসেবী ও কারবারিদের নির্মূল করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া কৃষকরা

    কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া কৃষকরা

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন– উপজেলার গণাইয়েরকুটি গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা। তারা বলছেন, সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে এখন তারা মামলার আসামি হয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকে রাতে বাড়িতে থাকছেন না।

    গত সোমবার উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় কৃষকরা। এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরদিন তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদামে সেপ্টেম্বরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৮৭ বস্তা সার। এর মধ্যে ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ১৫৭ বস্তা এমওপি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওই সার বিতরণের জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুদামে যান। সেখানে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছিল।

    এজাহারে কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় কয়েকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালাগাল করা হয়। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার সময় হামলা চালিয়ে কিলঘুসি মারা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহত কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

    তবে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের দাবি, তারা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার আশায় ডিলারের কাছে গিয়েছিলেন। সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদের কেউ কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলা করেননি।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহীদ মোড় এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ? আমরা তো কাউকে আঘাত করি নাই। সার না পেয়ে রাস্তায় বসে পড়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা দিয়ে দুইজনকে ধরে নিয়ে গেছে। এখন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আসে। সারাদিন রোদে কাজ করি। অজ্ঞাতনামা আসামি করেও ধরে নিয়ে যেতে পারে। রাতে বাসায় ঘুমানোরও উপায় নেই।’
    আরেক কৃষক বলেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে এক রকম বাড়িছাড়া এখন আমরা। সার চাওয়াটাই কি এখন আমাদের অপরাধ?

    এদিকে সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি। গতকাল শনিবার বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, সারের সংকট, বিতরণে অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের সমাধান না করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবেশ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো নিরপরাধ কৃষক যাতে হয়রানি বা অযথা গ্রেপ্তারের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

  • যুবলীগ নেতার গোডাউন থেকে ৩৫৫ কেজি সার জব্দ

    যুবলীগ নেতার গোডাউন থেকে ৩৫৫ কেজি সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যুবলীগ নেতার গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৩ শত ৫৫ কেজি সার জব্দ করেছে পুলিশ।

    রোববার দুপুড়ে উপজেলার পালুহাটি বাজারের ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন (৪৫) এর গোডাউন থেকে এসব সার জব্দ করা হয়। সুজন অচিন্তপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক। তিনি পালুহাটি গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

    জানা যায়, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিস আফিয়া আমীন পাপ্পার নেতৃত্বে পালুহাটি বাজারে অভিযান চালায় গৌরীপুর থানা পুলিশ।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান- অবৈধ সার মজুদের খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) কাওসার আহমেদসহ গৌরীপুর থানা পুলিশ নিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

    জানা যায়, অভিযানের পূর্বেই খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা সুজন গোডাউনে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।

    উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) কাওসার আহমেদ জানান- সুজন একজন খুচরা কীটনাশক ব্যবসায়ী, কিন্তৃ তিনি খোলা বাজারে সার বিক্রয় বা মজুত করার বৈধতা রাখেন না।

  • কুড়িগ্রামে ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন

    কুড়িগ্রামে ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন

    কুড়িগ্রামে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় শহরের কলেজ মোড় এলাকায় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

    ‘একটি করে গাছ লাগাই, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বাঁচাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সভাপতি হাসন রানা।

    পরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর ছোবাহান জুয়েল, উপদেষ্টা নুর আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা গত এক দশকে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক উন্নয়নে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমাজ, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বিশিষ্ট গুণীজনকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

    সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ও ভাওয়াইয়া ভাস্কর ভূপতি ভূষণ বর্মার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জাহিদ ও জুয়েল। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সমকাল প্রতিনিধি মো. মোন্নাফ আলীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আবু জোবায়েদ ও মুন্নি।

    এ ছাড়া রাজারহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম হাবিবুর রহমানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আশিক ও গালিব। বামনাছড়া গ্রাম রক্ষক সমিতির রানা মিয়ার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মোশাররফ ও সোহাগ। সংগঠনের উপদেষ্টা নুর আমিনকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    এ সময় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের আলতাব উদ্দীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পরিবেশকর্মী, সংগঠনের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

  • সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

    সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুলিশের সীমানা জটিলতায় এক নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল ৯ ঘণ্টা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর এই নারীর দাফন সম্পন্ন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

    ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকতেন ভবঘুরে ওই নারী। নাম-পরিচয় না জানা ওই নারী গত শুক্রবার সকালে ধাপেরহাট ওভারব্রিজের ওপর অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকেন। একজন পথচারী সেই দৃশ্য দেখে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেটি দেখে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

    খবর পেয়ে স্থানীয় ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশও আসে। দুপুর ১২টার দিকে ওই নারীকে অটোভ্যানে করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পথেই মারা যান তিনি।

    অটোভ্যানের চালক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মরদেহ নিয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। কিন্তু সেখানকার পুলিশ সদস্যরা মরদেহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাদের পরামর্শে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ রেখে আসেন মহাসড়কের ওপর, যেখান থেকে নারীকে ভ্যানে উঠিয়েছিলেন সেখানে। এজন্য একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে ১০০ টাকা দেন।

    এরপর শুরু হয় মরদেহ নিয়ে টানা-হ্যাঁচরা ! সংবাদকর্মী আমিনুল ইসলাম ও শিক্ষক আব্দুল মালেক সাজু জানান, ঘটনাস্থল ‘মহাসড়ক’ হওয়ায় সংবাদ দেওয়া হয় হাইওয়ে পুলিশে। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আসে ঘটনাস্থলে। তারা রাত ১০টা অবধি থেকে চলে যান মরদেহ না নিয়েই। আবার শুরু হয় পুলিশের দুই ইউনিটের রশি টানাটানি।

    এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র মরদেহ সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়। এর পর গতকাল শনিবার ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে।

    ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাফিজ উদ্দিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর গাইবান্ধা আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফন করা হয়। এসব কাজ সম্পন্ন করতে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করলেও তারা মরদেহ নিয়ে যায়নি।

    ঘটনাস্থলে আসা গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফারুক হোসেন বলেন, ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহায়তায় ওই নারীর মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়। তাতে ওই নারীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সাদুল্লাপুর থানার ওসি একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, হাইওয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় আমাদেরই সবকিছু করতে হয়েছে। কিছু বিষয় থাকে মানবিক। তাই দায়িত্ব এড়াতে পারিনি। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

  • বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ২১ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ২১ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

    বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী এমদাদুল হকের বাড়িতে অবৈধভাবে সার মজুত করা হয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৫০ কেজি ওজনের টিএসপি ও পটাশ সারসহ মোট ২১ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ী এমদাদুল হক এন্তাজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • মোবাইল দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    মোবাইল দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে পুকুরের পানিতে পড়ে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিশা খাতুন ওই গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আরিশা বাড়িতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল।

    খাওয়া শেষে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতেই বাড়ির পাশে খেলতে যায় সে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

    পরে দ্রুত তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত শিশুর ফুফু চুমকি খাতুন বলেন, আরিশা মোবাইল দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল। খাওয়া শেষ হলে মোবাইল নিয়েই খেলতে যায়। পরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

  • দম্পতির ছোট উদ্যোগে বদলেছে শতাধিক নারীর জীবন

    দম্পতির ছোট উদ্যোগে বদলেছে শতাধিক নারীর জীবন

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী পাগলার চওড়া এলাকায় বসতবাড়িতে কারখানাটি গড়ে তুলেছেন আসাদুল হাবিব ও শিউলি বেগম দম্পতি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে চলে পোশাক তৈরির নানা কাজ। কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ রং করছেন, আবার কেউ কাপড়ে আঁকছেন নকশা। স্থানীয় নারীদের কেউ কারখানায় এসে কাজ করেন, আবার কেউ বাড়িতে বসেই বুটিক ও চুমকির কাজ করে তা কারখানায় জমা দেন। তৈরি পোশাক বিভিন্ন শহরের মার্কেটে সরবরাহ করা হয়।

    ক্ষুদ্র কারখানার উদ্যোক্তা আসাদুল হাবিব ও শিউলি বেগম দম্পতি জানান, বিগত ৪-৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান তারা। সেখানেই পোশাক তৈরির কাজ করে আয় করেন কিন্তু এলাকার টানে বেশি দিন ঢাকায় থাকতে পারেননি তারা। নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে এসে হাতে নেন নতুন উদ্যোগ।

    নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি এলাকার বেকার নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে নেন বড় চ্যালেঞ্জ। অল্প পুঁজিতে শুরু করা উদ্যোগটি এখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার আরও বেকার নারীদের কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    উদ্যোক্তা আসাদুল-শিউলি দম্পতি আরও বলেন, প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ শুরু করেছি। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে এখন আমাদের কারখানায় প্রায় শতাধিক নারী কাজ করছেন। আমাদের কারখানায় তৈরি হয় জামা, ওড়না, থ্রি পিসসহ নারীদের নানা ধরনের পোশাক। এগুলো বিভিন্ন শহরের মার্কেট থেকে অর্ডার আসে। সেখানে সাপ্লাই দেওয়া হয়।

    কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক আনিছা খাতুন বলেন, আগে কাজের জন্য রোদে পুড়তে হয়েছে, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। কখনও কাজ পেয়েছি, কখনও পাইনি। এখন নিজের এলাকার এই কারখানায় কাজ করে আমার সংসার অনেক ভালো চলছে।

    নারীশ্রমিক রিয়া আক্তার বলেন, আগে আমরা ঘরেই বসে থাকতাম। এখন আমরা এই কারখানার কাপড়ে বুটিকের কাজ করে দেই, চুমকি লাগাই। এই কাজে আমাদের কারখানাতেও আসতে হয় না। নিজের ঘরে বসে কাজ করি। কাপড়ে বুটিক লাগানো হলে এসে জমা দিয়ে যাই। নিজ এলাকায় থেকে ঘরে বসে আয় করার একটি ভাল মাধ্যম পেয়েছি।

    ভেলাবাড়ী ইউপি সদস্য আব্দুল করিম জানান, আমাদের অবহেলিত অঞ্চলে এরকম ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা চালু হয়েছে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এই কারখানায় কাজ করে অনেক বেকার নারীরা তাদের পরিবারে অর্থ যোগান দিতে পারবে। আমরা চাই সরকার এই সকল ক্ষুদ্র কারখানায় নজর দিয়ে বৃহৎ পরিসরে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

    আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা গড়ে তুলে বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এই ধরনের কারখানার উদ্যোক্তাগণ আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

  • খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনা কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৯০ হাজার ৮৫৪ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ের সমীক্ষা চালিয়ে যোগ্য কৃষক বাছাই করা হয়েছে। তিন ধাপের সমীক্ষার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপের সমীক্ষা চলছে। সেই হিসেবে প্রথম দফায় কৃষকের সংখ্যা এক লাখ চাড়িয়ে যাবে।

    খুলনা কৃষি অঞ্চল খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলা নিয়ে গঠিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে কৃষক কার্ডের জন্য যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে খুলনা জেলায় ২৮ হাজার ৪০৩, সাতক্ষীরায় ২৯ হাজার ৬৮৫, বাগেরহাটে ২৬ হাজার ৩৩৮ এবং নড়াইলে ৬ হাজার ৪২৮ কৃষককে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলার অবশিষ্ট যোগ্য কৃষকদের নামও পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হবে।

    কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী কৃষকরা জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাঁচ বছরে খুলনা কৃষি অঞ্চলের মোট ১১ লাখ ৯১ হাজার ১০৪ কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সেচসেবা, প্রশিক্ষণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা, বালাই দমনসংক্রান্ত পরামর্শ, কৃষিপণ্য বিপণন, কৃষি বীমা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ঋণ এবং কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    খুলনা অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড পাবেন। কার্ডটি ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।’

  • পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    যশোরের শার্শার মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। সবুজ মাঠ জুড়ে কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ, আবার কোথাও কৃষকেরা ব্যস্ত জাগ দেওয়ার প্রস্তুতিতে। অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি প্রণোদনায় চলতি মৌসুমে শার্শায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কৃষকের ঘরে সোনালি আঁশ উঠলেও মুখে হাসি নেই; বাড়ন্ত উৎপাদন খরচের কারণে বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০৩ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে ভালো ফলনের আনন্দের চেয়ে কৃষকদের বেশি ভাবাচ্ছ শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি, জ্বালানি তেল ও পরিবহন খরচ।

    বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম ও রফিকুল ইসলাম জানান, বীজ বোনা থেকে শুরু করে পাট ধোয়া পর্যন্ত প্রতি ধাপে খরচ বহুগুণ বেড়েছে। দাম না পেলে চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।
    স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শুরুতে কৃষকেরা কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন, যার সুযোগ নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। তবে কিছু কৃষক পাটখড়ি বিক্রি করে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, প্রণোদনা ও পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে কৃষকদের মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে সহায় দেওয়া হচ্ছে। আঁশের গুণগত মান ভালো থাকলে বাজারে সঠিক মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ‘আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব’

    ‘আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব’

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। আগামী ২০২৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা যাবে। তিস্তা নদী ও এর আশপাশের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এই মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এ সময় তিনি মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধ বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে ১১টি সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইনুল হক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মনোনিতা দাসসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, মূল আসামি গ্রেপ্তার

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, মূল আসামি গ্রেপ্তার

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গোসলের সময় বাথরুমে ঢুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে মামলার প্রধান আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    আজ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আল আমিন (৩০) নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তাঁর বাবার বাড়িতে গোসল করছিলেন। এ সময় আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। নারী সেখান থেকে বাইরে বের হলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রেপ্তার আসামি আল আমিন তাঁর গলা ধরে পুনরায় বাথরুমে ঢুকিয়ে দেন। এ সময় আসামি জনি ওই নারীর নগ্ন ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে এবং তাঁকে ধর্ষণ করে। এরপর আসামি আল আমিনও ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে সেই ধারণ করা ভিডিও আসামিরা অন্যত্র স্থানান্তর করে। এরপর থেকে আসামিরা ওই নারীকে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতে থাকে।

    সর্বশেষ গত ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম তাঁর মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিও ওই নারীকে দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেন।

    এই ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় একটি দলবদ্ধ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।

    মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিকে গ্রেপ্তারে র‍্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সদর কোম্পানি, র‍্যাব-১৩, রংপুর এবং র‍্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুরের একটি যৌথ দল গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।

    র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • বালিয়াডাঙ্গীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

    বালিয়াডাঙ্গীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর পারভেজ (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে তার বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    পারভেজ উপজেলার চাড়োল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পারভেজের মা পারভীন বেগম জানান, গত মঙ্গলবার ছয় হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় পারভেজ। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। আজ সকালে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ পারভেজের বলে শনাক্ত করা হয়।

    বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামীর হাতেই খুন হয়েছেন মিম আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূ। স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত স্বামী তরিক সিকদার।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাবড়াশুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় শাকপাইলদিয়া গ্রামের হিন্দুধর্মীয় সিদাম মাঝির মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ভাবড়াশুর গ্রামের ছরোয়ার সিকদারের ছেলে তরিক সিকদার। পরে তাকে ধর্মান্তরিত মুসলিম করে মিম আক্তার নাম দিয়ে বিয়ে করেন।

    কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

    রোববার সকালে দাম্পত্য কলহে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তরিক সিকদার তার স্ত্রীকে পিটিয়ে করে হত্যা করে।

    মুকসুদপুর সার্কেল এসপি নাফিজুর ইসলাম বলেন, ‘মিম আক্তার নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

  • শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকরা হলেন- কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছয় শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। ছুটির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তাঁরা কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ও আরো দুইজনের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হক (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আরো দুই বাংলাদেশি নাাগরিক গুরুতরভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আমি এই হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করছি।

    তিনি বলেন, পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক আহত হওয়ার পর ভারতীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে কোনো কারণেই গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির পরিপন্থী।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে বারবার প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশিত সুসম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ও জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • মুসলিমের বাড়ির আগুনের ভিডিও হিন্দু বাড়ির বলে প্রচার

    মুসলিমের বাড়ির আগুনের ভিডিও হিন্দু বাড়ির বলে প্রচার

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি শাহ আলম নামের এক মুসলিম কৃষকের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের। তার স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরে থাকা ফ্রিজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, ‘সনাতনীদের ঘরবাড়ী আগুন জালানোহচ্চে ,লাঙ্গলকো,বাংলাদেশ!’ (বানান অপরিবর্তিত)। ভিডিওর ওপর লেখা ছিল, ‘সনাতনীদের অবস্থা, লাঙ্গলকোট বাংলাদেশ।’ এতে রাস্তার পাশের একটি বাড়িতে আগুন জ্বলতে এবং চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যেতে দেখা যায়।

    ভিডিওটির উৎস খুঁজতে কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ‘নাঙ্গলকোট ২৪’ (Nangalkot 24) নামের একটি ফেসবুক পেজে ১১ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘নাঙ্গলকোটে মৌকরা ইউনিয়নের ডিপজল মার্কেটের ২০০গজ দক্ষিণে অগ্নি/কাণ্ড।’ এই ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়

    একই দিনে ‘বর্তমান টিভি’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনও পাওয়া যায়। ‘নাঙ্গলকোটে অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, আগুন লেগেছিল নাঙ্গলকোটের কৃষক শাহ আলমের বাড়িতে। প্রতিবেদনে তার স্ত্রী জোহরা বেগম জানান, ঘরে থাকা ফ্রিজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    পরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধানে ঘটনাটি নিয়ে একটি দৈনিকের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির মালিক হিসেবে শাহ আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

  • রূপগঞ্জে ১৮৪ বোতল স্কাফসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    রূপগঞ্জে ১৮৪ বোতল স্কাফসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১৮৪ বোতল স্কাফ সিরাপসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার প্রাকপুর এলাকার মরহুম কুতব উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৫৫) ও চাঁদপুর জেলার মতলব থানার কলাকান্দা এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে রাসেল (৩৫)। তারা রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

    জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় ও রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এএসআই (নিরস্ত্র) হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন অভিযানিক দল রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১৮৪ বোতল স্কাফসহ বিল্লাল ও রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়।

    ওসি সালাউদ্দিন জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।

    মাদকদ্রব্যসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে রূপগঞ্জ থানা পুলিশসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

  • দখল ও অব্যবস্থাপনায় চৌগাছা চাবাজারে ক্রেতাদের ক্ষোভ

    দখল ও অব্যবস্থাপনায় চৌগাছা চাবাজারে ক্রেতাদের ক্ষোভ

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে দখল, খুচরা দোকান বসতে দেওয়া ও অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে ব্যবসার জায়গা। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বেচাকেনায়। সোমবার বাজারে কাঁচামাল না কিনেই ফিরে গেছেন পাইকারি ক্রেতারা। বাজারের পরিবেশ ও জায়গার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হলে তারা বাজারে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য বাজারসংলগ্ন কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও মূল বাজারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট চটের দোকান, মাছের দোকান, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে বাজারের চলাচলের জায়গা কমে গেছে।

    তারা আরো জানান, স্কুলের যে জায়গায় মডেল মসজিদ স্থাপন করার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে মাত্র ১৭ টি দোকান ছিল। এই দোকানগুলোর জন্য বাজেরর নির্মাণাধীণ বিল্ডিংয়ের টিনশেডে জায়গা দেওয়া হয়েছে। যা বাজারে জণ্য নূন্যতম প্রভাব পড়ার কথা না। অথচ সরকার বিরোধী একটি কুচক্রিমহল বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার ককরার চেষ্ঠা করছে।

    বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজার মালিক আতিকুর রহমান লেন্টু কাঁচাবাজারের জন্য ১’শ ৫৭ শতক জায়গা ইজারা নিয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাজারের পরিসর ও আশপাশের জায়গা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ শতক জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এর মধ্যে মাত্র ৪৭ শতাংশ জায়গায় মসজিদ নির্মান করা হচ্ছে। কিন্তু বাজারে অব্যবস্থাপনার কারণে বাজারের মূল অংশে অব্যবস্থাপনার জন্য জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে।

    পাইকারি ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে খুচরা বিক্রেতারা চট বসিয়ে জায়গা দখল নিয়েছে। যে কারনে বাজার সংকুচিত হয়েছে। বার বার বলা সত্বেও হাট ইজাদার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

    হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টুর দাবি, তাঁর ইজারা নেওয়া বাজারের জায়গাও বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। ফলে বাজারে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে পাইকারি ক্রেতারা মাল না কিনে চলে গেছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের জায়গা নামমাত্র টাকায় ভাড়া নিয়ে কাঁচাবাজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে একটি মহল। অথচ বাজারের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

    পাইকারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে; বাজারের মাঝখান থেকে মাছের দোকান সরানো, খুচরা কাঁচাবাজার অন্যত্র নেওয়া, অপরিকল্পিত ও অবৈধ ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ, বাজারের মাঝখানের আড়তগুলো নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা ।

    ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকি করা গেলে চৌগাছা কাঁচাবাজারের পুরোনো পরিবেশ ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

  • ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আটক হওয়া মাসুদুর রহমান (৩৪) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে আনসার সদস্যরা। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব। ’

    বিষয়টি সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন। তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর পিসি মোঃ সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।

  • ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুড়িগ্রাম জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদ্বীন। এ সময় জেলা ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক বাইজিদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজা, ফুলবাড়ী উপজেলা সভাপতি মিরাজ হোসেন, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, ছাত্রশিবির রংপুর মহানগরের সাবেক প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা ও কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক প্রচার সম্পাদক আবদুল হালিম রানা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেম ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

    অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, বই ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় সুধীজন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিজিবির অভিযানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুই স্ট্যাম্প ও কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার

    বিজিবির অভিযানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুই স্ট্যাম্প ও কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি, তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরা, প্রাচীন আমলের দুটি মদের খালি বোতল, একটি শঙ্খ এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুটি স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে চালানো এ অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি।

    উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের মূর্তিটির ওজন ১৪ কেজি ৪০০ গ্রাম। তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরার ওজন ২২ কেজি ১০০ গ্রাম। সব মিলিয়ে কষ্টিপাথরের ওজন ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম।

    বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা দুটি স্ট্যাম্প ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত এবং প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো।

    বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা সব সামগ্রীর জব্দমূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

    নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের স্থানটি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে।

    ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে।’

  • আদাবরে হাত-গলাকাটা ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার

    আদাবরে হাত-গলাকাটা ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার

    জধানীর আদাবর থেকে হাত ও গলাকাটা অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি প্রায় ১০ টুকরো করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আদাবর ১০ নম্বরের হাক্কার মোড় এলাকা থেকে লাশটিটি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি টি উদ্ধার করা হয়। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।

  • ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    একসময় আগাছায় ঢাকা পড়ে ছিল জমিটি। চা চাষের উপযোগিতা হারানোয় বছরের পর বছর পড়ে ছিল অনাবাদি। সেই পতিত জমিতেই এখন সারি সারি ড্রাগনগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে রক্তিম লাল ও গোলাপি ফল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে লাল রঙের অসংখ্য প্রদীপ।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সিরাজনগর চা বাগানের এ দৃশ্য এখন কেবল চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও। প্রায় এক হেক্টর চা চাষের অনুপযোগী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের বাগান। প্রায় ১৪ হাজার গাছের এ বাগানে ফলছে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের ড্রাগন।

    ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়ে গেছে। মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজনগর চা বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে চায়ের চিরচেনা সবুজ। তবে সেই সবুজের মাঝেই যেন আলাদা গল্প লিখেছে ড্রাগন বাগান। সারি সারি খুঁটির ওপর বেড়ে উঠেছে ড্রাগনগাছ। কোনো গাছে ফুল, কোনো গাছে কাঁচা ফল, আবার কোনো গাছে পেকে ঝুলছে রক্তিম লাল ড্রাগন। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফলের সমারোহে পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক দৃশ্য।

    ভোরের আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে বাগানটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। আর সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই চলছে পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন।বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চা চাষের অনুপযোগী জমি ফেলে না রেখে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার চিন্তা থেকেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু হয় প্রকল্পটি। প্রথম বছর গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার পর দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে উৎপাদন।

    চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের আশা, মৌসুম শেষ হলে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে।

    এ বাগানের আরেকটি বড় সাফল্য শুধু আয় নয়—এটি বদলে দিয়েছে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও। চা বাগানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগন বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গাছের পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহ—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কাজ ও আয়ের সুযোগ।

    শুধু তাই নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে ফল অনেক শ্রমিক পরিবারের নিয়মিত বাজার থেকে কেনা সম্ভব নয়, সেটিই এখন তারা কর্মস্থল থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন।

    চা শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ‘ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। এতে পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছেন। যেমন আনন্দ লাগছে, তেমনি পুষ্টিরও জোগান হচ্ছে।’

    চা শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, ‘এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।’বাগানের শ্রমিকরা জানান, ড্রাগন গাছে ফুল আসার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফলে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

    ড্রাগন প্রকল্পের ম্যানেজার খান মো. আল মিকাত বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পরিত্যক্ত জায়গা ব্যবহার করতেই আমরা এ ড্রাগন প্রজেক্টটি শুরু করি। এক বছর পর থেকেই ফল আসতে শুরু করে। এখন ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নান্দনিক এ বাগানে রয়েছে টাটকা ও সুস্বাদু ড্রাগন। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগানের এই সাফল্য দেখে কুলাউড়া ও আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে চা-নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি পতিত জমিতে বিকল্প ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’

    সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, ‘চা প্লান্টেশনের বাইরে থাকা পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রগন বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এখন এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

    তিনি জানান, বাগানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত।

    কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি এখন আর পড়ে থাকছে না, এসব জমিকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় এনে গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান। এতে চা বাগানগুলোতে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ তাই শুধু বিকল্প কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং আয়বর্ধক ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাময় এক নতুন দৃষ্টান্ত।’

  • জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ভাগনের বিরুদ্ধে মামার অভিযোগ

    জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ভাগনের বিরুদ্ধে মামার অভিযোগ

    রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত ভাগনের অত্যাচার ও হত্যার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামা মাহাবুবুল ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ভাগনে সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে জমি দখল, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি ও হত্যার হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

    ভুক্তভোগী মাহাবুবুল ইসলাম ও অভিযুক্ত সাজু মিয়া উপজেলার বলদীপুকুর হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাজু মিয়ার বাড়ির কাছে সাড়ে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তাঁর মামা মাহাবুবুল ইসলাম। ইতিমধ্যে ওই জমির নামজারিও তাঁর নামে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওই জমির ওপর নজর পড়ে ভাগনে সাজু মিয়ার। তিনি জমিটি ক্রয় করার জন্য মাহাবুবুল ইসলামের কাছে প্রস্তাব দেন। কিন্তু মাহাবুবুল জমি বিক্রি করতে অসম্মতি জানালে ক্ষুব্ধ হন সাজু মিয়া। তিনি ইতিমধ্যে জমির একাংশ দখলে নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছেন। অবশিষ্ট অংশও দখলের চেষ্টা করেছেন তিনি।

    মাহাবুবুল ইসলামের অভিযোগ, সাজু মিয়া একজন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি ও হত্যার হুমকি দেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাজু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

    মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে জরিমানা

    মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    জামালপুরের মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে টিএসপি সার বিক্রির অভিযোগে এক সার ডিলারকে আট হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার বাজিতেরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার মেসার্স এস এন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনতাজুর আলীকে অতিরিক্ত দামে টিএসপি সার বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জের ইউএনও ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চৌধুরী। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় কৃষক আনিস বলেন, ‘সার কেনার জন্য কয়েকবার দোকানে গিয়ে সার পাইনি। পরে শুনতে পাই এখানে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে সার কিনতে এখানে আসি।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যেন নির্ধারিত দামে ও সহজে পাওয়া যায়, প্রশাসনের কাছে আমরা এটাই চাই।’

    ইউএনও সুমন বলেন, ‘কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি বা কৃষকদের হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়ন শাখা।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের সদর পূর্ব থানা শাখার সভাপতি ফজলুল করিম শাহাদাত। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এরফানুল হক সাকিব।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরফানুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির কর্ণধার। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের অর্জনকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার বিশাল দ্বার উন্মুক্ত। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, সততা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার পাশাপাশি দেশকেও এগিয়ে নিতে পারে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষিত, দক্ষ ও নৈতিক প্রজন্মই একটি জাতির মূল শক্তি। আজকের কৃতি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান খান, ছাত্রশিবির গাজীপুর জেলা সেক্রেটারি বায়জিদ মাহমুদ, শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক মো: আবুল কালাম আজাদ ও প্রহলাদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মো: আলী হোসাইন পালোয়ান।

    অনুষ্ঠান শেষে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৮০ শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেয়া হয়।

  • জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সিজারিয়ান অপারেশনের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ‘নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বৈধ কোনো কাগজপত্র বা সরকারি লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয়া হয়। একই সাথে আদায় করা হয় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা।

    অভিযানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা এবং জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, অনুমোদনহীন ও অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জীবননগর উপজেলায় গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • খালিয়াজুড়ীতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    খালিয়াজুড়ীতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ডোবার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডোবায় পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

    মৃতরা হলো জাহেরপুর গ্রামের মো: সেলিম মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৫) ও একই গ্রামের মো: সেকুল মিয়ার ছেলে শাহাদত (৪)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওবায়দুল্লাহ ও শাহাদত উপজেলার জাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে মারা যায়। খবর পেয়ে এসআই মন্জুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    খালিয়াজুড়ী থানার ওসি নাসিরউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি কার্যক্রম শেষে দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন,সভাপতি শফিকুল-সম্পাদক মহাসিন

    চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন,সভাপতি শফিকুল-সম্পাদক মহাসিন



    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন বছরের জন্য শফিকুল ইসলামকে সভাপতি ও মহসিন আলীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের চৌগাছা অফিসে এ কমিটি গঠন করা হয়।

    এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার কামাল আহমেদ। সহকারী নির্বাচন কমিশনার ছিলেন প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর ও এ্যাড. হায়দার আলী।
    কমিটির অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আবু তাহের এবং ওজ্জেত আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও মনিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম সালাম, দপ্তর সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, প্রচার সম্পাদক শান্ত ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ, কার্য নির্বাহী সদস্য শরিফুল ইসলাম ও শাকিল।
    প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাস্টার কামাল আহমেদ জানান, এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ২৪ আগস্ট ২০২৬, মনোনয়ন পত্র বিক্রি ২৬ আগস্ট, যাচাই ২৯ আগস্ট, প্রত্যাহার ৩ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৩ টি পদে কোন প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী না থাকায় তাদেরকে বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
    নির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, প্রধান নির্বাচন কমিশনার চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ। সহকারী নির্বাচন কমিশনার প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, এ্যাড. হায়দার আলী, চৌগাছা মোটরযান শ্রমিক সংস্থার সভাপতি আনিছুর রহমান, প্রেসক্লাব চৌগাছার যুগ্ম-সম্পাদক এম এ রহিম, সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াকুল আলী ও চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন প্রমুখ ।

  • করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

    করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন চংনোয়াগাঁও গ্রামের মরহুম ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৩৮) ও নজরুল ইসলামের ছেলে মোকাররম হোসেন (২৪)। তারা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সকাল ৭টার দিকে শাহ আলম ও মোকাররম জাল নিয়ে গ্রামের সামনের হাওরে মাছ ধরতে যান। এ সময় হালকা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    সকাল ১০টা পর্যন্ত তারা বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা হাওরে খোঁজ করতে যান। পরে হাওরের হাঁটুপানিতে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

    স্থানীয়রা জানায়, মোকাররম হোসেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। শাহ আলম ধানবাহী নৌকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

  • খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার দৌলতপুরে জলিল মুন্সি নামে এক যুবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে থানার কুলিবাগান বটতলার অদূরে এ ঘটনা ঘটে।

    পাট শ্রমিক জলিল ওই এলাকার সাধু বাগানের দিলু মুন্সির ছেলে।

    পুলিশ জানায়, কুলিবাগান এলাকায় জলিলের বাবার একটি পানের দোকান আছে। সেখানে যাওয়ার জন্য এক যুবককে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে পৌনে ৮টার দিকে বের হন তিনি। কিছুক্ষণ পর তার মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। ফোনে তর্কতর্কি হয়।

    এরপর বটতলা থেকে দুই গজ দূরে যাওয়া মাত্র একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তির সাথে তার কথা হয়। এক পর্যায়ে আগতদের একজন তাকে লক্ষ্য করে পরপর দু’টি গুলি করে। গুলি তার বুকের ডান পাশে ও পিঠের বাম পাশে বিদ্ধ হয়।

    স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

    কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কি কারণে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা জানার চেষ্টা করছি।’

  • কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা দুর্ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। তীব্র স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয় নৌকাটি। পরে স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। এ সময় নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিং ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজরা হলেন শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রকি, একই উপজেলার কবিরপুরের লিটন এবং আব্দুল ওহাব।

    ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকাটি কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিলেন। ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে নৌকাটি ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়।

    এতে নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে নদীতে পড়ে যান। এরপর নৌকাটি স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। পরে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণে এনে তীরে নেয়া সম্ভব হয়। স্থানীয়রা নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে যান।

    দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। প্রথমে চারজন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানা গেলেও পরে ওহাব নামে একজনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত। তিনি বলেন, ‘এটি শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা ছিল। তারা ভেড়ামারা সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিল। তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। আমি ঘটনাস্থলে আছি।’

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নিখোঁজ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নৌকাটিতে প্রায় ১১০ জন ছিলেন। রাতে উদ্ধার সম্ভব না হলে খুলনা থেকে ডুবুরি পৌঁছলে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।’

    নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেও অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।

  • আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।

    এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

    এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

  • ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানে বসা নিয়ে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহির উদ্দিন (৬০)। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ মহির উদ্দিন।

    পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলশান মোড় এলাকায় মহির উদ্দিনের একটি মুদি দোকান রয়েছে। ছোট ছেলে রশিদুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় কিছুদিন ধরে তাঁকে দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না মহির উদ্দিন ও তাঁর বড় ছেলে মাইদুল। এ নিয়ে আজ দুপুরে মাইদুল ও রশিদুলের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মালামাল নিয়ে দোকানের সামনে হাজির হন মহির উদ্দিন। দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি। উদ্ধার করে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

    থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, মহির উদ্দিনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় রয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, স্বজনেরা জানিয়েছেন, ছেলেদের মারামারি দেখে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে মহির উদ্দিনের। এর আগেও দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। চিকিৎসক মহির উদ্দিনকে হার্টে রিং পরানোর জন্য পরামর্শ দিলেও অসচ্ছলতার কারণে সম্ভব হয়নি।