সারাদেশ

  • শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা। মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত তিনি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বারোমাসি এ পেঁপে চাষে তার সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাস্টারের ছেলে সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)। একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই তরুণ উদ্যোক্তা বর্তমানে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছেন। তার ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগান এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় এক মণ পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে শাহী জাতের পাকা পেঁপের ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বীজ কিনতে তার খরচ হয় ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হলেও চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে তার আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘সবাই যখন প্রচলিত সবজি চাষ করছিল, তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে শুরুতে পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ভাবিনি, এই পেঁপে চাষ এত ভালো ফল দেবে।’

    স্থানীয় কৃষকরা যখন প্রচলিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিন্তা থেকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকেন সাইদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলেন ১০ বিঘার বাগান। বর্তমানে বাগানজুড়ে গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দৌলতপুরের মাটি এমনিতেই উর্বর। এর সঙ্গে কৃষকরা সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

    দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের পেঁপে চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, শাহী জাতের পেঁপে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজির বেশি পেঁপে পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগানোর পর একাধিকবার ফলন পাওয়া এ জাতের অন্যতম সুবিধা।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘সাইদুর রহমানের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি আধুনিক কৃষিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দেখানো পথে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কৃষিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

  • শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন হলেও শুধু সরকার পরিবর্তন হয়েছে, জনগণের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জে দলটির উপজেলা শাখার আয়োজনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন বা বৈষম্য সমর্থন করে না। অমুসলিমদের জানমাল ও ইবাদতখানার নিরাপত্তা দেওয়া ইসলামের অন্যতম বিধান।

    একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মাঝেমধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন চরমোনাই পীর। দেশবাসীকে এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘তারা ক্ষমতার লোভ থেকে আকস্মিক নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা কী দেখলাম—তারা রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে। আবার সংসদে বলেছে, তেল-গ্যাসের সংকট বর্তমান সরকারের আমলে সৃষ্টি হয়নি, আগের সরকারের সৃষ্টি।’

    লংমার্চের সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে লাখ লাখ টাকার তেল-গ্যাস পুড়িয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আপনারা দেশের ক্ষতি করেছেন।’

    মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের আত্মদানের কথা উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল একটি সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। যে কারণে দেশে বারবার অভ্যুত্থান হয়েছে।

    সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পীরগঞ্জ উপজেলার সন্তান শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানে অনেকে মা, স্ত্রী, স্বামী ও সন্তান হারিয়েছেন।

    সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা সভাপতি এ টি এম গোলাম মোস্তফাসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

  • খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খাল-বিল, ডোবা আর জলাশয়ে একসময় কচুরিপানা ছিল কৃষকের কাছে নিছক আগাছা। জলাশয় পরিষ্কার করতে গিয়ে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। সেই কচুরিপানাই এখন কিশোরগঞ্জের অনেক কৃষক ও খামারির কাছে হয়ে উঠেছে গবাদিপশুর খাবারের অন্যতম ভরসা। সকাল হলেই হাতে দা নিয়ে জলাশয়ে নেমে পড়ছেন তারা। কেউ ভ্যানে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কচুরিপানা।

    এর পেছনে রয়েছে চলতি বছরের ফসলহানি। টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল। ফলে কমেছে খড়ের জোগান। অন্যদিকে বেড়েছে ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম। এতে গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। তাই বিনা খরচে বা কম খরচে পাওয়া কচুরিপানাকেই বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকে।

    বিশেষ করে গাভি ও গরুর খাবারের জোগান ঠিক রাখতে বাড়ির আশপাশের কলাগাছ কেটে ছোট ছোট টুকরো করেও খাওয়াচ্ছেন কৃষকেরা। কচুরিপানা ও কলাগাছের সঙ্গে খড়, ঘাস, ভুসি কিংবা অন্যান্য খাবার মিশিয়ে গবাদিপশুকে দেওয়া হচ্ছে।

    কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান, কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করেন। আবার অনেকের কাছে গবাদিপশু সঞ্চয়ের বিকল্প। প্রয়োজনের সময় গরু বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বিয়ে কিংবা অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটান তারা। ফলে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট শুধু খামারেই নয়, এর প্রভাব পড়ে কৃষকের পারিবারিক অর্থনীতিতেও।জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খড় প্রতি কেজি প্রায় ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি মণ খড়ের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা। ৩৭ কেজির এক বস্তা গমের ভুসি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৩০ টাকা এবং ৪০ কেজির এক বস্তা ভুট্টার গুঁড়া ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে।

    এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ। অন্যদিকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাসও মিলছে না। অল্প কিছু উঁচু জমি, রাস্তার পাশ কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে ঘাস পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট খামারিরা।

    খামারিরা বলছেন, গরুর খাবারের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় গরু বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে বাড়ছে খাবারের খরচ, অন্যদিকে কম দামে গরু বিক্রি করলে লোকসানের আশঙ্কা থাকছে। তাই গরু বিক্রি না করে কোনোভাবে লালন-পালন চালিয়ে যেতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিকল্প খাবারের ওপর নির্ভর করছেন তারা।

    জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক ও খামারিরা। কেউ বাড়ির পাশের জলাশয় থেকেই কচুরিপানা তুলে আনছেন। আবার কেউ কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে করে তা সংগ্রহ করছেন। কোনো কোনো খামারি শ্রমিক নিয়োগ করেও কচুরিপানা সংগ্রহ করছেন।

    সকালে জলাশয়ের পানিতে নেমে কচুরিপানা তুলে স্তূপ করছেন কৃষকেরা। পরে ভ্যান, রিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহনে করে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়িতে। সেখানে পরিষ্কার করে কেটে খড়, ঘাস বা অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হচ্ছে।

    করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামের জেসি এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক হোসেন মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, “গরুর জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার দরকার, তা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে জমি থেকে খড় ও ঘাস পাওয়া যেত, এখন সেগুলোর সংকট। তাই বাধ্য হয়ে কলাগাছ কেটে গাভিকে খাওয়াচ্ছি। এর সঙ্গে ভুসি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম কমানো বা সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে কৃষকদের জন্য অনেক উপকার হতো।”

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, “এবার অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলও ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারিনি। এতে মানুষের খাবারের পাশাপাশি গরুর খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। খাল-বিলে কচুরিপানা না থাকলে গরুগুলো বাঁচিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যেত।”তিনি বলেন, “আগে কচুরিপানাকে কেউ তেমন গুরুত্ব দিত না। জলাশয়ে বেশি হলে আগাছা মনে করে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। এখন গরুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এটিই অনেকটা ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু কচুরিপানা দিয়ে গরুর খাবারের চাহিদা পূরণ করা যায় না। এর সঙ্গে অন্য খাবারও দিতে হয়।”

    সদর উপজেলার বটকিলা গ্রামের বাচু মিয়াকে রৌহা বিল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এসব কিনে গরুকে ঠিকমতো খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে এসেছি।”

    নিজের গরুর কথা বলতে গিয়ে বাচু মিয়া বলেন, “একটি ছোট বাছুর ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনে প্রায় চার বছর ধরে লালন-পালন করছি। গরুটি এখন দুধ দেয়। প্রতিদিন প্রায় ছয় লিটার দুধ পাওয়া যায়। এই গরুটি আমাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবারের সংকট হলেও কোনোভাবে লালন-পালন করে যাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “গরুর পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়। সব খাবার বাজার থেকে কিনে দিলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। তাই কচুরিপানা, খড় ও অন্যান্য স্থানীয় খাবার সংগ্রহ করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছি।”

    সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের সল্প যশোদল নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক রাকিব মিয়া বলেন, “আগে বাড়িতে উৎপাদিত ধানের খড় দিয়েই কয়েক মাস গরু পালন করা যেত। এবার ফসলের ক্ষতির কারণে খড় কম হয়েছে। বাইরে থেকে খড় কিনতে হচ্ছে। তার ওপর ভুসি ও অন্যান্য খাবারের দামও বেশি। সব মিলিয়ে গরু পালন এখন আগের চেয়ে অনেক ব্যয়বহুল।”তিনি বলেন, “কচুরিপানা বিনা খরচে পাওয়া যায়। তাই জলাশয় থেকে তুলে এনে অন্য খাবারের সঙ্গে গরুকে দিচ্ছি। এতে কিছুটা হলেও খরচ কমানো যাচ্ছে। এখন গরু পালন করতে হলে শুধু বাজারের খাবারের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন।”

    কৃষক রাকিব বলেন, “বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়। কিন্তু গরু বিক্রি করতে নিয়ে গেলে অনেক সময় সেই হিসাবে দাম পাওয়া যায় না। খাদ্যের দামও বেশি। ফলে খামারিরা দুই দিক থেকেই চাপে আছেন।”

    তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের কাজলা (বগারবাইদ) গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে কয়েকটি গরু পালন করি। প্রতিদিন অনেক খাবারের প্রয়োজন হয়। বাজার থেকে সব খাবার কিনে দিলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও ধরে রাখা কঠিন।

    প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, খাদ্যের দাম বাড়লেও গরু বিক্রি করে দেওয়া তাদের জন্য সহজ কোনো সমাধান নয়। কারণ এসব গবাদিপশুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের সঞ্চয়, ঋণ, শ্রম ও ভবিষ্যতের আশা। অনেকেই বছরের পর বছর গরু পালন করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তাই সাময়িক খাদ্যসংকটের কারণে গরু বিক্রি করে দিলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে বর্তমানে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৯ লাখ ২২ হাজার ৪৪৯টি এবং মহিষ ৭ হাজার ৭৪৫টি। এছাড়া জেলায় বছরে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ৭৫ দশমিক ০৩ লাখ মেট্রিক টন। এত বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুর খাদ্যের বড় একটি অংশ স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ফসলের উৎপাদন কমে গেলে একই সঙ্গে কমে যায় খড় ও অন্যান্য কৃষিজাত উপজাতের জোগান। এতে গবাদিপশুর খাদ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং বাড়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ।

    কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “কচুরিপানায় পুষ্টিমান বা খাদ্যগুণ খুব বেশি নয়। তবে এটি সবুজ ঘাসের মতো এক ধরনের বাল্ক ফিড হিসেবে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। খাদ্যের সংকটের সময় অনেক খামারি কচুরিপানা ব্যবহার করছেন।”

    তিনি বলেন, “পরিমিত পরিমাণে কচুরিপানা খাওয়ালে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কোনো খাদ্যই গবাদিপশুর জন্য ভালো নয়। তাই কচুরিপানার পাশাপাশি খড়, ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যও গবাদিপশুর খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “চলতি বছরের এপ্রিল মাসে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জে ১১ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫২ হাজার ৯৮০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফসল উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাবে এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।”

    তিনি বলেন, “ফসলের পাশাপাশি খড়ও নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে গো-খাদ্যের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সংকটও ধীরে ধীরে কেটে যাবে।”

  • ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বিভিন্ন জাতের সবজির চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। নতুন চারায় সয়লাব হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজার। এ মৌসুমে ২০-২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন চাষি ও উদ্যোক্তারা।

    চার জেলার চাষি-উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও বারোমাসি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ও আনন্দে আছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিচর ইউনিয়নের দুর্গম পদ্মাচরের চাষি-কৃষক ও উদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, চরের আটটি পয়েন্টে এবার বাম্পার সবজি ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগে ও পরে কমপক্ষে ১৭-১৮ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি কৃষক ও সবজি চাষিরা আশা করছেন, উন্নত জাতের বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন তাদের ভাগ্য বদলাবে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের চার জেলার ২০টি উপজেলার ২০-২৫টি চরে আগাম নতুন শীতকালীন বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কৃষকের উৎপাদিত উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, আনাচি কপি, শিমের চারা, লাউগাছ ও পুঁইশাকের চারাসহ কমপক্ষে ১০-১২ জাতের শীতকালীন চারার। বিক্রিতেও ধুম পড়ে গেছে।

    প্রতি বছরই শীত আসার আগে পূজার মধ্যে বাজারে উঠে যায় শীতকালীন আগাম শাকসবজি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

    বিশেষ করে রাজবাড়ীর চরাঞ্চল, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল, শরীয়তপুরের চরাঞ্চল, ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিশাল বিশাল চরের মধ্যে মাথা উঁচু করে উঁকিঝুঁকি মারছে বহু জাতের শীতকালীন সবজির চারা ও গাছ।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর, কাঁঠালবাড়ী ঘাট, ডাইয়ারচর, সন্যাসীরচর, মুন্সীরচর ও গাবতলা বাজার চর এলাকায় শীতকালীন নতুন চারার বিক্রিতে বড় বড় হাট বসছে। বিক্রিও হচ্ছে জমজমাটভাবে।শীত আসার আগেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় উল্লেখিত বীজতলাগুলোতে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর, চরমাদবদিয়া, মাইজামিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গীসহ দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকহারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চারার কেনাবেচা।

    এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের চার-পাঁচটি চর ও পদ্মাপাড়েও বসছে সবজি ও সবজির চারা বিক্রির হাট।

    ওই ইউনিয়নের সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে। কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের এ মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

    ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত জেলার উপজেলাগুলোর ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়।

    উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এসব এলাকায়। এর মধ্যে চরের বিশেষ সুবিধা হলো, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট চর থেকেই সুলভমূল্যে চারা কেনা যায়। এ কারণে ক্রেতারা শহরের বাজারের চেয়ে চরের বীজতলা থেকেই বেশি চারা কিনে নেন।বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাদারীপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চারার। এসব এলাকার চারা পাশের জেলার সবজি চাষিরা কিনে নেন।

    স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর পাবনা, দাশুড়িয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নেন।

    চারা ব্যবসায়ী আরমান, কাইয়ুম, সোবাহান, মনো ও সুজিতের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ভাল চারা পাওয়া যায় এবং মানে ভাল এমন চারা নিতে দূর হলেও আমাদের কষ্ট হয় না। চারা কিনে যদি ভাল ফলন না পাওয়া যায়, তখন অনেক কষ্ট লাগে।’

    ফরিদপুরের সবজির রাজধানী কানাইপুর, চরভদ্রাসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সদরপুরের কৃষ্ণপুর, গজারিয়া, যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রাম, সদর উপজেলার ডিক্রিচর ও নর্থচ্যানেল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই চাটাইয়ের নিচে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা। কোথাও চাটাই সরিয়ে চারায় পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরির কাজে।

    কানাইপুর এলাকার চাষি হাসান ১০০টি মাচা করছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে দুই-তিন দফায় চারা করেন। সব মিলিয়ে তাদের বীজতলা থেকে প্রতি মৌসুমে ৫০-৬০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।চরভদ্রাসন এমপিডাঙ্গীর নওশের বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’

    চারার ব্যবসায় বেড়ে ওঠে যেভাবে :

    চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ২৫ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে। আস্তে আস্তে এই ব্যবসায়ের বিস্তার ঘটে। কৃষকেরা খৈল, জৈব সার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুর অঞ্চলের চারার সুনাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলার বাইরে আরও ১২-১৩ জেলায় এসব চারার চাহিদা তৈরি হয়।

    কৃষকদের দাবি, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

    ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল এলাকার চারা ব্যবসায়ী আ. হক বলেন, ‘চরের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়।’

  • সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে গত এক সপ্তাহে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

    উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার মৌজার ভোরের পাখি, সিঙ্গীজানী ও লালচামার পাড়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আকস্মিক তিস্তা নদীতে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অনেক পরিবার এক বস্ত্রে প্রাণে বাঁচলেও আসবাবপত্র, পরনের কাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গবাদিপশু রক্ষা করতে পারেনি।

    নতুন করে আরো ৮৩টি পরিবারের ভিটা সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো দুই শতাধিক পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীর পাড় পাঁচ থেকে দশ ফুট খাড়াভাবে ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বসতবাড়ি এবং দুই হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তা বিলীন হয়েছে। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের মানুষ নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে আছে। রাতে ঘুমাতে পারছে না, কখন বাড়ি নদীতে চলে যায়।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’

  • ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকার বাসিন্দা ময়নাল হক (৬৫), মাসুম হোসেন (৪৪) ও নজরুল ইসলাম (৪১) এবং একই ইউনিয়নের খামার পত্রনবীশ এলাকার বাসিন্দা গাজীউর রহমান (৪৭)।

    পুলিশ জানায়, বাগভান্ডার বাজারের পেছনের একটি সুপারি বাগানে দীর্ঘদিন যাবত জুয়ার আসর চলছিল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা সেখানে জুয়া খেলতে আসতো। জুয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক সেবন চলত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জুয়া খেলার স্থানটি ঘিরে ফেলে। এ সময় চারজনকে জুয়া খেলার সরঞ্জামাসহ গ্রেফতার করা হয়। তবে কয়েকজন জুয়াড়ি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘গ্রেফতার ও পালিয়ে যাওয়া জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জুয়ার আসরগুলোতে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন একসাথে চলতে থাকে। মাদক, চোরাকারবার ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • নড়াইলের কালিয়ায় মাদকসেবনের দায়ে ৪ যুবকের কারাদণ্ড

    নড়াইলের কালিয়ায় মাদকসেবনের দায়ে ৪ যুবকের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের কালিয়া শ্মশানঘাট এলাকায় গাঁজা সেবনের দায়ে চার যুবককে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের প্রত্যেককে তিন মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম এ কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার হাড়িডাঙা গ্রামের মান্নান লস্করের ছেলে শিহাব লস্কর (৩৮), বিলবাউস গ্রামের লিকু সরদারের ছেলে ওলি সরদার (২৩), বাকা গ্রামের আফতাব উদ্দিন শিকদারের ছেলে বাহাউদ্দিন তিতাস শিকদার (৩৫) এবং কালিয়া পৌরসভার বড়কালিয়ার বাচ্চু গাজীর ছেলে মাহাবুর গাজী (৩০)।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিয়া থানা পুলিশের একটি দল শ্মশানঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় গাঁজা সেবনের অভিযোগে ওই চার যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাতুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে আদালত তাদেরকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

  • ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সারের বস্তা বিক্রি করায় দুই সার বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    জানা গেছে, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে ইউরিয়া সারের বস্তা বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুচরা সার বিক্রেতা আসাদুল আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    আসাদুল আলমের দাবি, না বুঝে দুজন ক্রেতার নিকট থেকে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা করে বেশি নিয়েছেন। দাম বেশি নেয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর ওই দুই ক্রেতাকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

    অপরদিকে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারের স্বত্বাধিকারী নিতাই চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার পরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। অপরাধ না করেও জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগে একজন খুচরা বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা ডিলারের নিকট থেকে সার নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে, ডিলার তা মনিটরিং না করায় ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একটি চক্র সরকার ও উপজেলা প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে সার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পায়তারা করছে। সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • চৌগাছায় ২৫০ শিক্ষার্থীর  ফলজ ও বনজ গাছের চারা  উপহার

    চৌগাছায় ২৫০ শিক্ষার্থীর  ফলজ ও বনজ গাছের চারা  উপহার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    “বই মানুষের মনকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ করে, আর গাছ জীবন বাঁচিয়ে রাখতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে”— এ বার্তা নিয়ে যশোরের চৌগাছায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। ‘বই ও গাছই পরম বন্ধু’ শ্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের উদ্যোগে স্থানীয় দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে এ গাছের চারা উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগার মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে পাঠাগার চত্বরে এ চারা বিতরণ হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সভাপতি রওশন আলী। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফারজানা ইসলাম বলেন, “গ্রামের এমন নিভৃত পল্লীতে অত্যন্ত সুন্দর ও সুসংগঠিত একটি পাঠাগার দেখে আমি বিমোহিত। সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা থেকে বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।” তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ নিজ চারাগাছ যত্ন সহকারে লালন-পালন করার আহ্বান জানান।

    বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের পরিচালনায়

    বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন নাহার।

    কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন শিক্ষার্থীদের চারা রোপণের সঠিক পদ্ধতি এবং পরিবেশবান্ধব ও ফলদ গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে পরামর্শ দেন।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সাহিত্য সম্পাদক জুবায়ের হোসেন, সদস্য উবাঈদ সামি, সদস্য নূরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সাহাজুর রহমান প্রমুখ।

    আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ বাড়ীয়ালী-হাউলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাড়ীয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে পরিবেশবান্ধব নানা প্রজাতির ফলজ,বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। পাঠাগার কর্তৃপক্ষের এই ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক পদক্ষেপে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

  • লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা

    লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ইসলাম শেখ (৫০) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত ইসলাম শেখ উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মরহুম বজলু শেখের ছেলে। তিনি পেশায় অটোভ্যানচালক ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টিপু সুলতান সমর্থিত লোকজনের সাথে একই গ্রামের মফিজার শেখ সমর্থিত লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

    এর জেরে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর বিকেল ৩টার দিকে ভ্যান চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রঘুনাথপুর কবরস্থান এলাকায় পৌঁছালে টিপু সুলতান পক্ষীয় লোকজন ইসলাম শেখকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।

    স্থানীয়রা ইসলাম শেখকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুর রহমান বলেন, ‘ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ৩ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাবা কারাগারে। মা তিন অবুঝ সন্তান রেখে চলে গেছেন—এমন অবস্থায় ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় তিন শিশুকে নিয়ে তৈরি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। ওই শিশুদের রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান গ্রামপুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুদের উদ্ধার করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন শিশুর মধ্যে বড়টির নাম আলিবা (৮ বছর), দ্বিতীয়টির নাম ইভা (৫ বছর) এবং সবচেয়ে ছোটটির নাম মুনিয়া (৩ মাস)। শিশুদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে তারা জানায়।

    এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন আগে শিশুদের মা নতুন করে মুক্তিরবাগ এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। বাড়ির মালিকের নাম তোরাব আলী। তবে তিন দিন আগে মা শিশুদের রেখে চলে যাওয়ার পর তারা একা হয়ে পড়ে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তিনি মুক্তিরবাগ এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তায় একটি শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিন শিশুকে নিরাপদে নিয়ে যান এবং কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করেন।

    শিশুদের উদ্ধারের পর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। তিন মাসের শিশুটিকে নিয়ে অনেকেই সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাকে নিজেদের কাছে রাখার আগ্রহ দেখান।

    শিশু তিনটি কয়েক দিন ধরে ক্ষুধার্ত ছিল। ছোট শিশুটির বয়স মাত্র তিন মাস হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা, খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মায়ের অনুপস্থিতি এবং বাবার কারাগারে থাকার কারণে শিশুদের তাৎক্ষণিক অভিভাবকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, বড় দুই শিশুকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর তিন মাস বয়সি শিশুটির জন্যও সাময়িক নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

  • ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদীকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী বলেন, ‘আমি মনে করি, হল শিক্ষার্থীদের স্থান। হলের প্রতিটি বিষয়ে পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যয়—সবকিছুই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হওয়া উচিত। তাদের উন্নয়ন এবং একুশ শতকের যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য হল থেকে যেকোনো ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হলের আমানতদারিতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্বস্ততা রক্ষা এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হল একটি পরিবারের মতো। এখানে মত ও চিন্তার ভিন্নতা থাকলেও কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।’

    উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

  • কোটচাঁদপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    কোটচাঁদপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার দুধসরা এলাকার দারুল উলুম মাদ্রাসাতুস সুফফাহর প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পৌর এলাকার দুধসরা বাসস্ট্যান্ডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে তারা মনে করেন। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় না করার আহ্বান জানান তারা।

    মানববন্ধনে মাওলানা আমানুল্লাহ, মাওলানা ইব্রাহিম, মুফতি জসিম উদ্দিন, হাফেজ আলী আজম, মাওলানা নুরুল কবির, মুফতি মোহাম্মদ ইসমাইল ও মাওলানা আব্দুল কাদের বক্তব্য দেন।

    বক্তারা প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের মুক্তির দাবি জানিয়ে বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • মুরাদনগরে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

    মুরাদনগরে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার পূর্ব ধইর পশ্চিম ও দারোরা ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন।

    এ সময় বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিউল আলম এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মালিপাড়া এবং নবীয়াবাদ এলাকায় সংঘবদ্ধ ড্রেজার সিন্ডিকেট কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে বালু উত্তোলনের প্রমাণ মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ৩টি ড্রেজার ও প্রায় ২০০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। অপরদিকে মুরাদনগর থানা এলাকার দারোরা ইউনিয়নের বরই বাগান এলাকা থেকে ১টি ড্রেজার এবং প্রায় ৮০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন বলেন, কৃষি জমির উর্বরতা ও টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি) রক্ষায় প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। অবৈধভাবে ড্রেজার চালিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানান এবং কৃষি জমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

  • মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ গোপদিঘী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো দক্ষিণ গোপদিঘী গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে হাফিজা আক্তার (৫) ও একই এলাকার জুয়েল মন্ডলের ছেলে জয়ন্ত মন্ডল (৬)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পেছনে খেলতে যায় দুই শিশু। একপর্যায়ে তারা পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাদের পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মিঠামইন থানার এসআই শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • নালিতাবাড়ী ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

    নালিতাবাড়ী ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গরবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাটাবাড়ীনামক স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি জানায়, মঙ্গরবার ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ীনামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি।

    আটককৃত ভারতীয় মদের আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

    ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি দিনরাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

    সীমান্তে মাদক, চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • বগুড়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বগুড়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার উদ্যোগে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিন শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি শাহরিয়ার হাসান বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খন্দকার।

    বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার সেক্রেটারি তৌফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, বগুড়া জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী ডা. মাসুদা করিম, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও গার্ডিয়ান পাবলিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া মহানগর সভাপতি শফিকুল ইসলাম, শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম, বগুড়া মহানগর মজলিসুল মোফাসসিরিনের সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম যুক্তিবাদী এবং সাজাপুর ফুলতলা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনের পথচলায় জ্ঞান, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি চরিত্র গঠন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াও জরুরি।

    আয়োজকরা জানান, বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার আওতাধীন এলাকার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিন শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নাটোরে ২৬১ বস্তা অবৈধ সার মজুত, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা-কারাদণ্ড

    নাটোরে ২৬১ বস্তা অবৈধ সার মজুত, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা-কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে চার ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের দোকান থেকে ২৬১ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়গ্রাম বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত পরিচালনা ও দণ্ডাদেশ দেন সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম।

    অভিযানে ব্যবসায়ী সোহেল হোসেনের দোকান থেকে আট বস্তা সার জব্দ করে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের কাছ থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

    অন্যদিকে ব্যবসায়ী আবুল হাসেমের কাছ থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপর ব্যবসায়ী মোবারকের কাছ থেকে ১৪৭ বস্তা সার জব্দ করে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    অভিযানে মোট ২৬১ বস্তা সার জব্দ এবং চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

    অভিযানে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

    সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম বলেন, ‘অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি কিংবা বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও; আশ্রয়হীন তিন শিশু

    বাবা কারাগারে, মা উধাও; আশ্রয়হীন তিন শিশু

    নিউজ:

    বাবা কারাগারে, মা-ও নেই। তিন অবুঝ শিশুকে রেখে চলে গেছেন মা। এরপর থেকে একাই দিন কাটছিল তাদের। শেষ পর্যন্ত রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ।

    ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায়। শিশু তিনটির বয়স ৮ বছর, ৫ বছর ও মাত্র ৩ মাস।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে শিশুদের মা তোরাব আলীর বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। তিন দিন আগে তিনি সন্তানদের রেখে চলে যান। তাদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি রাস্তায় এক শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কাঁদতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিন শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

    স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে শিশুরা ঠিকমতো খাবারও পায়নি। বিশেষ করে মাত্র তিন মাস বয়সী শিশুটিকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, বড় দুই শিশুর জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন মাস বয়সী শিশুটির জন্যও সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    পাবনা শহরের ইসকন মন্দিরে প্রতিমা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

    গত সোমবার সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    প্রান্থ কুমার দাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সুধিরপুর এলাকায়। তিনি প্রশান্ত চন্দ্র ম-লের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


    মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মন্দির খোলার পর প্রান্থ সেখানে প্রবেশ করে মন্দিরে ভাঙচুর করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরের লোকজন তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। আটকের পর মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, প্রান্থ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানো গেছে। মন্দিরে প্রবেশের পর তার মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাঙচুর শুরু করেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রান্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলায় কী কী ধারা দেওয়া হয়েছে এবং মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পাবনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • নড়াইলে দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা

    নড়াইলে দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা

    সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং এর নানাবিধ আর্থিক সুরক্ষাসংক্রান্ত সুবিধাসমূহ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নড়াইলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘সর্বজনীন পেনশন মেলা ও তথ্য প্রদর্শনী’।

    জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়) এবং নড়াইল জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা উপলক্ষে দুপুরে এক মনোজ্ঞ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নড়াইল-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের এই সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বৃদ্ধ বয়সে যেন কাউকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়, সে জন্য যুবক ও কর্মক্ষম বয়সেই এই স্কিমে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

    অনুষ্ঠানের সভাপতি নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নড়াইল জেলার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বেসরকারি চাকরিজীবী এবং প্রবাসীদের পেনশন সুবিধার আওতায় আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই স্কিমের বার্তা ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: সুরাতুজ্জামান বলেন, “সর্বজনীন পেনশন কোনো সাময়িক সঞ্চয় নয়, এটি শতভাগ সরকারি জামানতযুক্ত দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অত্যন্ত স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে গ্রাহকরা ঘরে বসেই তাঁদের হিসাব পরিচালনা করতে পারেন।”

    আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা মেলায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও ব্যাংকের স্থাপন করা ২৩টি স্টল ঘুরে দেখেন।

    মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতাধীন ৪টি প্রধান ক্যাটাগরি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ‘প্রবাস’, বেসরকারি কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্ম ও অ-প্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের জন্য ‘সুরক্ষা’ এবং স্বল্প আয়ের ব্যক্তিদের জন্য ‘সমতা’ স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান ও তাৎক্ষণিক নিবন্ধন সেবা দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এই মেলায় স্থানীয় বিপুলসংখ্যক সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (তহবিল ব্যবস্থাপনা) সদস্য মুন্সী আবদুল আহাদ, অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব আ ফ ম ফজলে রাব্বী, জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরই আলম সিদ্দিকী এবং নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক মো: মোস্তাফিজুর রহমান আলেক,অতিুরক্ত জেলা প্রশাসক আহসান মাহমুদ রাসেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের চলাচল সহজ করতে গাজীপুরে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জামায়াত-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে তুরস্কভিত্তিক একটি সংস্থার সহযোগিতায় এসব হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

    হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, গাজীপুরকে তারা এমন একটি বাসযোগ্য ও মানবিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেকে অবহেলিত মনে করবেন না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং নানা কারণে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য নগরীতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘গাজীপুরকে আমরা সবার জন্য বাসযোগ্য একটি নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা নানাভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য আলাদা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’

    ড. হাফিজুর রহমান বলেন, নগর পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং নাগরিক সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সুযোগ পেলে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।’

    আয়োজকরা জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে হুইলচেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনীয় এই সহায়তা পেলে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে আরও সক্রিয় হতে পারেন। সেই বিবেচনায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে হুইলচেয়ারগুলো বিতরণ করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সদর মেট্রো থানার আমির ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট সাদিকুজ্জামান খান, বাসন থানার আমির ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা আকরামুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পানি নিষ্কাশনের জন্য খোঁড়া ১০ ফুট গভীর ড্রেনটি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নিলো মরণফাঁদে। ওপরের মাটির বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে ভেতরে কাজ করা তিন শ্রমিক চাপা পড়েন।

    দীর্ঘ ৪০ মিনিটের প্রাণপণ চেষ্টার পর উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি ২০ বছর বয়সী তরুণ শ্রমিক রাব্বি হোসেনকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপর দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদেমপুর ইউনিয়নের রংপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাব্বি হোসেন (২০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে। আহত অন্য দুই শ্রমিক একই গ্রামের রাজন (১৯) ও তানজিল (১৭)। বর্তমানে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রংপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বসতবাড়িতে সকাল থেকেই পানি নিষ্কাশনের ড্রেন খননের কাজ করছিলেন তিন শ্রমিক। প্রায় ১০ ফুট গভীরে নেমে কাজ করার সময় বিকেলে হঠাৎ পাশের উঁচুকৃত মাটির টিলা বা দেয়াল ধসে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী আমেনা বেগম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো মাটির স্তূপ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ওপর এসে পড়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আজিমুল্লাহ বলেন, বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে তারা দুই শ্রমিকের মাথা কোনোমতে মাটির ওপরে ভেসে থাকতে দেখেন। দ্রুত গ্রামের মানুষজন এক হয়ে মাটি সরিয়ে রাজন ও তানজিলকে জীবিত উদ্ধার করলেও রাব্বি পুরোপুরি মাটির নিচে হারিয়ে যান।

    প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়রা মাটি কেটে রাব্বিকে নিথর অবস্থায় বের করে আনেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

  • সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ছয়টি বিভাগ চালু করা হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব বিভাগ খোলার অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান উপাচার্য। প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পাঠদান শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগ চালুর অনুমোদন আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি জানান, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করা হবে। সেখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তাঁর প্রথম সরকারি সফর।

    সোমবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

    সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    কর্মসূচি শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

  • ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

    সোমবার দুপুরের সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার আমতলী রেল ঘুন্টির ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মহেশালী (ভাতার মারি ফার্মে) প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট।প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’তিনি বলেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা । এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।

  • ১৪ ভুয়া প্রকল্পে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    ১৪ ভুয়া প্রকল্পে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কাগজে-কলমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৪টি কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রমিজ উদ্দিন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দারোরা ইউনিয়নে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিনের দাবি, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগেরই বাস্তবে কোনো কাজই করা হয়নি। অথচ কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গত ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া পৃথক অভিযোগে ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের আরও দুটি ভুয়া প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

    রমিজ উদ্দিন আরো জানান, টি-আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোতেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং একই স্থানে বারবার প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কাজিয়াতল এলাকায় মবিনের বাড়ি থেকে অজিদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশে পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাকে জানানো হয় প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, প্রকল্প বাতিল দেখালেও বরাদ্দকৃত পুরো টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।

    লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার পর বিষয়টি আমলে নিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। গত ১৫ জুলাই অভিযোগ জমা পড়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    তবে আত্মসাৎ ও অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর কাজ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরেই সম্পন্ন হয়েছে, যা মূলত ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের বরাদ্দের আওতাভুক্ত ছিল। ফলে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    মুরাদনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাছান খান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এবং তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রকল্পের ফাইল, বরাদ্দ, বিল-ভাউচার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কার্যক্রম এবং সরেজমিন বাস্তবতা যাচাই করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • বিছানার নিচ থেকে পাইপগান-কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক

    বিছানার নিচ থেকে পাইপগান-কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে। অবৈধ অস্ত্র নিজ হেফাজতে রাখার দায়ে মো. জাবেদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার।

    এর আগে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর এলাকার কালা মিয়ার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেন ওই গ্রামের মো. সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনবাগ থানা-পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাবেদের বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার শয়নকক্ষের বিছানার নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহা ও কাঠ সংযুক্ত পাইপগান, একটি কার্তুজ এবং দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার আরো জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • নবীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল

    নবীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে নবীগঞ্জ নতুন বাজার মোড়ে জামায়াতের উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী।

    সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন মুফতি আলী হাসান ওসামা এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ এবং জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি লায়েক আহমদ। মাহফিলের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা এমদাদুল হক।

    নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি এহসানুল হাদী রুম্মান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল হক সাদিকের পরিচালনায় মাহফিলে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

    ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

    বিডি গ্লাবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের ফ্লোর ধসে চার ফুট নিচে পড়ে শিক্ষক রুমা আক্তারসহ পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনার পর পরই বিদ্যালয় ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি—শুধুমাত্র এই শ্রেণিকক্ষই নয়, ভবনের প্রায় সবকটি কক্ষের ফ্লোরই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মেঝের নিচে পর্যাপ্ত মাটি না দিয়ে ফাঁকা রেখে নির্মাণকাজ করায় এ ধরণের বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা।

    শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলছিল। ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষার্থী মেঝের টাইলসে হঠাৎ ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষককে জানায়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ফ্লোরের একটি অংশ প্রায় চার ফুট নিচে ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েক শিশু শিক্ষার্থী সরাসরি ধসে যাওয়া গর্তে পড়ে আহত হয়। শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষক রুমা আক্তারও নিচে পড়ে গিয়ে আঘাত পান।

    পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে—রাহিম বাদশা, আব্দুল মান্নান মিয়া, মোজাক্কির মিয়া ও আজিনুর মিয়া। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুতর নেসা বলেন, চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ফ্লোরটি চার ফুট নিচে ধসে যায়। ফ্লোরের নিচে প্রয়োজনীয় মাটি না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমার বিদ্যালয়ের প্রায় সবকটি কক্ষের একই অবস্থা, পুরো ভবনটিই এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়ার পর অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে গেছেন। আগামীকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আদৌ বিদ্যালয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি।

    আহত শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, এক শিক্ষার্থী মেঝের ফাটল দেখা যাওয়ার কথা বলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফ্লোর ধসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে আঘাত পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই আতঙ্কজনক ছিল।

    মেঝে ধসে পড়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। বহু অভিভাবক দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে নিজ সন্তানদের নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যান। ভবনটির স্থাপত্য নিরাপত্তা পুরোপুরি যাচাই না করে পুনরায় পাঠদান শুরু করা হলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা।

    আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এলজিইডির একজন প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ফেনীতে ক্রাসিং মেশিনে লুঙ্গি পেঁচিয়ে মালিকের মৃত্যু

    ফেনীতে ক্রাসিং মেশিনে লুঙ্গি পেঁচিয়ে মালিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীতে হলুদ-মরিচ ও চাল গুঁড়ো করার ক্রাসিংমিলের মেশিনের সঙ্গে পরনের লুঙ্গি পেঁচিয়ে আটকা পড়ে নুরুল ইসলাম ছুট্টু (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী ও মিল মালিকের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ফেনী শহরের মুক্ত বাজার এলাকার ‘খান সুপার মার্কেটে’ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নুরুল ইসলাম ছুট্টু ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খান সুপার মার্কেটের ‘হজরত শাহজালাল ক্রাসিংমিল’র প্রোপ্রাইটর ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে মিলের ভেতরে মেশিন চালু থাকা অবস্থায় কাজ করছিলেন নুরুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত তার পরনের লুঙ্গিটি চলন্ত মেশিনের ঘূর্ণায়মান অংশের সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি মেশিনের সঙ্গে আটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় মসজিদ কুষ্টিয়ার শাহী মসজিদ। এ মসজিদটি দর্শনে প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে জেলার অজপাড়া গাঁ নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়ায়। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

    শত শত দর্শক আর ভ্রমন পিপাসুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে এ স্থানটি। কিন্তু দর্শকদের জন্য তেমন সুযোগ সুবিধা নেই এখানে। নেই তেমন বিশ্রামের জায়গা। নেই থাকা ও খাওয়ার সুবিধা। ফলে এ স্থানটি দর্শনীয় হওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের জন্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় এ স্থানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মসজিদটির দীর্ঘদিন উন্নয়ন না থাকায় জৌলুসও নষ্ট হতে বসেছে। মসজিদের মূল কাঠামোতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। চার কোণে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনারসদৃশ উঁচু কাঠামো। দেয়াল, খিলান ও গম্বুজের নকশায় ফুটে উঠেছে প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের সৌন্দর্য। ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলী এবং নান্দনিক কারুকাজ মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    জানা যায়, এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য অনেক ওলি আউলিয়া এসেছিলেন বাংলাদেশে। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তারা নিজেদের জানমাল সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ধর্ম প্রচারসহ সকল দ্বীনি কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করেছিলেন মসজিদকে। সেই হিসাবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছিলেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ।

    কুষ্টিয়া ইবি থানার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়া গ্রাম। এই গ্রামে সম্রাট শাজাহানের আমলে ঐতিহ্যবাহি শাহী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ থেকে তিনশত বছর পূর্বে সম্রাট শাহজাহান এই মসজিদ নির্মান ব্যয় বহন করেন। সে সময় মসজিদটির নির্মান কাজ পরিচালনা করেন শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী। উপ-মহাদেশ থেকে আসা ধর্ম প্রচারক শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী ৮৫ বছরে বয়সে এখানে মৃত্যু বরণ করেন। ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তিনি কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়।

    তার মৃত্যুর পর ১৯৬৯ সালে সুনামধন্য ব্যক্তি হাসান চৌধুরী তৎকালীন সরকারের সাথে একটি রেজিঃ চুক্তিনামা অনুযায়ী মসজিদটি প্রত্মত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তিনামা অনুযায়ী এই মসজিদের মতওয়ালী (তত্বাবধায়ক) হিসেবে থাকবে হাসান আলী চৌধুরী অথবা তারই বংশধর। বর্তমানে মসজিদ কমিটিতে তারই বংশধর মসজিদটি পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ দেখতে আসেন। মসজিদটির প্রাচীন স্থাপত্য, পরিবেশ ও ইতিহাস দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ শুধু একটি পুরোনো মসজিদ নয়; এটি তাঁদের এলাকার গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কুষ্টিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে।

    অনেকের ধারণা মসজিদটি গায়েবীভাবে তৈরি হয়েছে। এ জন্য সুদর্শন মসজিদটি পরিদর্শনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষের ভীড় করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবারে এখানে লোক ধারণের জায়গা থাকেনা। অনেকেই মান্নত গরু,ছাগল, হাঁস, মুরগী নিয়ে এখানে উপস্থিত হন। মসজিদটিকে ঘিরে কিছু কুটির শিল্পের লোকজনও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ তাই কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি একটি মূল্যবান প্রত্মত্ত্ব ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যসৌন্দর্য সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

  • পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার শহরের নিকটস্থ ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার। এঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক ও একই পরিবারের মোট তিনজনকে আটক করেছে সংস্থাটি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে শুরু করে প্রায় তিনঘন্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানা যায়।

    আটকরা হলেন- আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), সাদিয়া ফারহানা (২৩) ও সায়মন সরোয়ার (১৬)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের এসআই শহীদের শ্যালক। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শামসুল আলমের পুত্র। প্রায় ৭/৮ বছর আগে ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। এই বাড়িতেই পরিবার সহ বসবাস করতেন আজকের অভিযানে ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা আমির আলী জানান- পুলিশ কর্মকর্তা শহীদের যোগসাজসে তার শ্যালক মোমেন মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছে। কিছুদিন আগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদের খবর পেলে স্থানীয় কিছু যুবক প্রতিবাদ জানায়। এর জের ধরে উল্টো ওই যুবকদের বিরুদ্ধেই ছিনতাই মামলা দেওয়ারও প্রস্তুতি নেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ। বিষয়টি থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ মাদক মজুদের ঘটনাটি আমলে না নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমলে নেন।

    আমির আলী আরও জানান- পরে তথ্যদাতা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মাদক মজুদের ঘটনাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারে জানালে সংস্থাটি আজ ভোর সকালে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক এসব মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক সোমেন মন্ডল জানান- অভিযানে প্রাথমিক ভাবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে যদি ওই বাড়ির মালিক তথা পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাকেও আসামী করা হবে।

  • সিলেটে ১২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ নারী আটক

    সিলেটে ১২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ নারী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক হাজার ২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় কুটিনা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনী গ্রামে কুটিনা বেগমের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক জব্দ করা হয়।

    আটক কুটিনা ওই গ্রামের তেরা মিয়ার স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একটি দল কুটিনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এক হাজার ২০৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক কুটিনা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় শত শত কৃষক এই অবরোধে অংশগ্রহণ করেন। এতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

    গত দু’মাস ধরে পুঠিয়ায় কৃত্রিম সার সঙ্কটের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ধান চাষের ভরা মৌসুমে ন্যায্য মূল্য দিয়েও সার পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা। সরকারি দামে সার কেনা কৃষকের কাছে এখন যেন সোনার হরিণ। টিএসপি আর ডিএপি সারের তো দেখাই মিলছে না ডিলারদের কাছে। এগুলো ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর আগেই যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। বেশি দাম দিলে খুচরা ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে।

    কৃষকরা সরকারি বাজারমূল্য অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন না। সরকার নির্ধারণ করে দেয়া সারের বাজারমূল্য প্রতি কেজি পটাশ ২০ টাকা, ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা। অথচ অজানা কারণে ডিলার-সাব ডিলারের হাত ঘুরে বালাইনাশক বিক্রেতাদের দোকানে টিএসপি ৬০ টাকা, ডিএপি ৫০ টাকা আর এমওপি ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে তাদের কাছেও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের শর্ত হচ্ছে সারের সাথে বালাইনাশকের ওষুধগুলো তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে।

    অবরোধে অংশ নেয়া কৃষক আব্দুস সালাম জানান, চার বিঘা রোপা আমন ধান রোপণ করেছি কিন্তু সারের অভাবে ধান চাষ করতে পারছি না ঠিকমতো। ডিলারদের কাছে গেলে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সারের অভাবে ধান চাষে লাভবান হতে পারবে না কৃষকরা। সার কিনতে গেলে ডিলারদের কাছে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্বিগুণ দাম দিলে বালাইনাশকদের কাছে সার মিলছে।’

    এদিকে বানেশ্বরে কৃষকদের অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। প্রতি মাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ আসছে। তবে ধান চাষের মৌসুমে চাষের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।’

    ডিলারদের কাছে সার নেই, সব সার বালাইনাশক বিক্রেতাদের কাছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নীরব থাকেন তিনি।

  • লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার লালমোহনে নিখোঁজের পর খাল থেকে মো: ফরহাদ (১৪) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পূর্ব পাশের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ফরহাদ পাশের চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (ভূঁয়ার হাট এলাকা) মো: বশির উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিক লালমোহন থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান অবস্থায় কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অপরাধে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অপরাধে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে মাদরাসা ছাত্র বলাৎকারের অপরাধে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক মেরাজ আলী মিরাজকে (২৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইল শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মিরাজ চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়া বকরী রুদ্রপুর গ্রামের আমানুল্লাহ হকের ছেলে।

    নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিবুর রহমান আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিরাজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাকে বিমর্ষ দেখা যায়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই ভোররাতে নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর-বাদামতলা জামিয়া রহমানিয়া তাইসিরুল উলুম মাদরাসার ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ওই মাদরাসার শিক্ষক মিরাজ পায়ুপথে ধর্ষণ (বলাৎকার) করে।

    এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই মিরাজকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মিরাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন বিচারক।

  • কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা ‘ফল ২০২৬’ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভর্তি মেলা চলবে।

    এ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    মানবিক ও সামাজিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: নওয়াব আলী।

    বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, সাইকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল ইকবাল খান প্রমুখ। পরে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী এই শিক্ষা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    ভর্তি মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।

    আয়োজকেরা জানান, এই মেলায় ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী, আবেদন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ, ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা ছাড়, ১ম সেমিস্টারের টিউশন ফি’র ওপর ২৫% ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

  • ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার সদর উপজেলার পৃথক দুই ইউনিয়নে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাপ্তা ও আলীনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশু হলো বাপ্তা ইউনিয়নের ভোটের ঘর এলাকার ব্যবসায়ী শফিকের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ ও আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান (১)।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে দুই শিশুই নিজ নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাদের দেখতে না পেয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর ও ডোবায় খোঁজ করলে পানিতে শিশু দু’টির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পুকুর ও ডোবার পানিতে শিশু দু’টির লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি!

    জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি!

    ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জীবিত মাকে সরকারি কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।

    ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান সনদের ভিত্তিতে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

    ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম জমসেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল প্রায় সাত মাস আগে তার জীবিত মা রহিমাকে কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন।

    সম্প্রতি মজিবুর রহমান লোকজন নিয়ে ওই জমি ও বাড়ির আশপাশের পানের বরজ ও পুকুর দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।

    পরে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল সংগ্রহ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—জীবিত রহিমাকেই কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে তার সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে।

    দলিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বরসহ তিনটি দলিলের মাধ্যমে মোট ২১ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমির ক্রেতা পূর্ব রাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম আমির হোসেনের ছেলে মজিবুর রহমান।

    দলিলের সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মো: হোসেন মিয়া। দলিলটি সম্পাদন করেন দলিল লেখক ঝন্টু সরকার।

    জীবিত নারীকে ‘মৃত’ বানানোর প্রমাণ মিলল সরেজমিনে

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজাবাড়িয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দলিলে যাকে মৃত দেখানো হয়েছে সেই বৃদ্ধা রহিমা জীবিত। নিজের বাড়ির সামনে বসে থাকা ওই বৃদ্ধা ক্ষোভ ও অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘আমি তো মরছি না। তা অইলে কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।’

    এ সময় তার পাশে ছিলেন আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম, ছোট ছেলে অলি মিয়া, ছোট ছেলের স্ত্রী হাফছা বেগম ও একমাত্র মেয়ে রোকিয়া বেগম।

    আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিজের মাকে জীবিত রেখেও মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করেছেন। তার দাবি, আব্দুল জলিল জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে এর আগেও পরিবারের আরো জমি বিক্রি করেছেন তিনি।

    ছোট ছেলে অলি মিয়া বলেন, ‘তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে জুয়ায় আসক্ত এবং ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েছেন।’ জুয়ার দেনা পরিশোধ করতেই মাকে মৃত দেখিয়ে গোপনে জমি বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    অলি মিয়া প্রশ্ন তোলেন, ‘মা যদি মারা না গিয়ে থাকেন, তাহলে তার ভুয়া মৃত্যু সনদ কে দিলো? সেই কাগজের ভিত্তিতে ওয়ারিশান সনদই বা কীভাবে হলো? আর এসব কাগজ দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কীভাবে জমির দলিল রেজিস্ট্রি হলো?’

    দলিল লেখক বলছেন, ‘দায়িত্ব আমার নয়’

    অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক ঝন্টু সরকার বলেন, ‘আমাকে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দেয়া হয়েছে। সেগুলো দেখেই দলিল সম্পন্ন করেছি। যাচাই করার দায়িত্ব আমার নয়।’

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: হামিদুলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে। এখন বিষয়টি দেখছি।’

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

  • লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

    লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার দক্ষিণ লোহাগাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মাহি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শাহারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশিক জানান, দক্ষিণ লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাহিকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল পৌনে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এসআই নুরুল আলম।

  • আদমদীঘিতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    আদমদীঘিতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় সান্তাহার রেলওয়ে ইয়ার্ড কলোনি এলাকায় ছাতিম গাছের ডাল থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছে লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    মৃত এমডি বাঁধন (২৩) সান্তাহার পৌর শহরের ইয়ার্ড কলোনি মহল্লার মাসুদ রানার ছেলে।

    স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি কেবল আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

    এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিঞা জানান, লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া ১০ বছরের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ময়নুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাবার মৃত্যু হয়েছে। সন্তানকে রক্ষা করতে পারলেও নিজে আর বিলের পানি থেকে উঠে আসতে পারেননি তিনি।

    শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত ময়নুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া তার ১০ বছর বয়সী ছেলের নাম মাহিদ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ময়নুল ইসলাম ও তার ছেলে মাহিদ একসঙ্গে জাল নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার একপর্যায়ে দুজনেই বিলের গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এমন মুহূর্তে সন্তানকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান মাইনুল। একপর্যায়ে ছেলেকে বিপদমুক্ত করে পাড়ে ঠেলে দিতে সক্ষম হলেও নিজে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

    ঘটনাটি দূর থেকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে বোনারপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে ময়নুল ইসলামের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, নিজের জীবন দিয়ে ছেলেকে বাঁচানো অভিভাবকের অতুলনীয় এক আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    বোনারপাড়া ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

  • সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের গৌরনদীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া দুটি সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সংযোগ সড়ক গৌরনদী পৌরসভার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে এ অভিনব প্রতিবাদ করা হয়।

    সড়কের গর্ত ও কাদায় ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী গৌরনদী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সোয়া কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাদামাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।

    এতে সড়ক দুটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও সড়ক দুটি সংস্কারে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই রোববার সকালে কাদাপানি ও খানাখন্দে ভরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান তারা।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কার বা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে থাকায় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগানোর মতো অভিনব পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করেছেন।

    স্থানীয় পথচারী মো. সামসুল হক বলেন, ‘সংস্কারের অভাবে পৌরসভার এ সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই, সড়কের সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে আসবে।’

    শৌলকর সড়কের সংস্কারের বিষয়ে বাটাজোর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা গৌরনদী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, ‘সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে শিগগিরই সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’

    অন্যদিকে, পৌরসভার হ্যালিপ্যাড সড়কের বিষয়ে গৌরনদী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, ‘জনগুরুত্ব বিবেচনায় সড়কটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

  • কুমিল্লায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান

    কুমিল্লায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান

    কুমিল্লা মহানগরের রাজগঞ্জ বাজার এলাকায় নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিংয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাজারের মুদি, মাছ, মাংস, মুরগি ও শাক-সবজির দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করা হয়।

    ভোক্তা অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয় জানায়, অভিযানে ওজনে কারচুপি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) এর চেয়ে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়

    এসব অপরাধে মেসার্স প্রদীপ স্টোরকে ৪৮ হাজার টাকা, রঞ্জিত স্টোরকে ২ হাজার টাকা, সুমন পোল্ট্রিকে ২ হাজার টাকা এবং বিসমিল্লাহ গোস্তের দোকানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

    অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া এবং অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযান পরিচালনায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা করে।

    এ বিষয়ে কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো: কাউছার মিয়া জানান, ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য ও বিক্রয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

    নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শারমিন আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বকর সিদ্দিক নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের মো: আবু হানিফের ছেলে।

    মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছিল। পথে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক তাকে রাস্তা থেকে ডেকে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    পরে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। এরপর স্বজনরা তাকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠায়।

    দীর্ঘদিন ধরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপন শেষে রোববার বিকেলে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। কিন্তু আসামী জামিনে মুক্ত রয়েছে।

    নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, দীর্ঘদিন সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। জরিমানার টাকা নিহতের পরিবারকে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

  • সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জেলার সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষকরা পৃথকভাবে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

    এর মধ্যে কালীগঞ্জের কাকিনায় বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ১০ বস্তা সারসহ একটি ভ্যান আটক করেন স্থানীয়রা। পরে এক ডিলারকে আটক করে তার গোডাউন সিলগালা করে প্রশাসন।

    সদর উপজেলার বাফা গুদামের সামনে সকালে সার নিতে আসা কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

    কৃষকরা অভিযোগ করেন, ডিলারদের কারসাজির কারণে বাজারে সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে আমন ধানের জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

    অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কৃষকরা কৃষি বিভাগের কয়েকজন মাঠকর্মী ও এক ডিলারকে ধাওয়া করেন। পরে তারা একটি পেট্রোল পাম্পে আশ্রয় নিলে কৃষকরা সেখানে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সাথে আলোচনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় একটি ভ্যানগাড়িতে করে ১০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা সেটি আটক করেন। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলে তারা ভ্যানটি আটকে রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। তাদের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নয়ন মিয়াকে আটক করা হয়। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটির সার রাখার গোডাউন সিলগালা করা হয়।

    ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে। অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে রহমান ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক বলেন, লালমনিরহাটে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিতরণ ব্যবস্থার কিছু ত্রুটির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সার বিতরণে অনিয়ম, কালোবাজারি বা সিন্ডিকেটের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    দুই উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামে চাহিদা মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ।

  • ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ২৪ টন সার উদ্ধার

    ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ২৪ টন সার উদ্ধার

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ২৪ টন সার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এসব সার উদ্ধার করেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ২০০১/এমপি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ৯ টন টিএসপি সার ও সাড়ে ১৪ টন ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।

    তিনি আরও জানান, ট্রাকে থাকা সারের কাগজপত্র তল্লাশি করে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করা হয়েছিল। উদ্ধার করা সারসহ ট্রাকটি আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় ৩ বছরের শিশু ফারিয়া নিহত

    বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় ৩ বছরের শিশু ফারিয়া নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বেপরোয়া গতির ট্রলির ধাক্কায় ফারিয়া নামে তিন বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওভারটেকিং করতে গিয়ে বেপরোয়া গতিতে ট্রলি চালিয়ে রাস্তার পাশে থাকা শিশুটির ওপর তুলে দেন চালক। দুর্ঘটনার পর ট্রলিটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ছেংগারচর বাজারের সুরুজ প্লাজার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী কাউসারের মেয়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে মায়ের সঙ্গে বাজারে যাওয়ার সময় ফারিয়া রাস্তার একেবারে পাশে দিয়ে হাঁটছিল। সে সময় শিশুটি মূল সড়ক থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল। এর মধ্যে একটি ট্রলি বেপরোয়া গতিতে এসে অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেকিং করার চেষ্টা করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলিটি রাস্তার পাশে উঠে গিয়ে শিশু ফারিয়াকে চাপা দেয়।

    গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাত্র তিন বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে বেপরোয়া গতিতে ট্রলি চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তারা এ ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রলিটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। চালককে শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • জমি নিয়ে বিরোধে যাতায়াতের পথে বেড়া

    জমি নিয়ে বিরোধে যাতায়াতের পথে বেড়া

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের বাড়ির যাতায়াতের পথ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারটির সদস্যরা দুই সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। তাঁদের শৌচাগার ও নলকূপ ওই বেড়ার বাইরে আছে।

    ঘটনাটি উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কর্মকারপাড়ার। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রতিবেশী রফিক মিয়ার পরিবারের লোকজন ৯ আগস্ট তাঁদের বাড়ির দরজার সামনে ও উঠানের পথের ওপর বাঁশের বেড়া দেন। এতে তাঁদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শৌচাগার ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নলকূপটি টিন ও ময়লা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মকারপাড়ার বাসিন্দা মন্টু কর্মকার ২০০৩ সালে তাঁর চাচাতো ভাই উত্তম রায়ের কাছ থেকে সাবেক ১৮৯৭ দাগের ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি বায়না দলিলমূলে কেনেন। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি সদস্য আশিকুর রহমানের মাধ্যমে জমি কেনার দলিল সম্পাদন করা হয়। এতে উত্তম রায় স্বাক্ষর করেন। মন্টুর দাবি, তিনি জমির দাম বাবদ ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার আগেই উত্তম চলে যাওয়ায় দলিলটি নিবন্ধন হয়নি।

    দলিলে উত্তম স্বাক্ষর করলেও সেটি নিবন্ধন হয়নি। অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতেই আমি আদালতে মামলা করেছি। এখন রফিক মিয়ার লোকজন বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়েছে। মামলা ও বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরিবার নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

    পরে ২০১৭ সালে একই জমি সৌদি আরবপ্রবাসী রফিক মিয়ার কাছে বিক্রি করেন উত্তম। বিষয়টি জানার পর মন্টু গত এক বছরের মধ্যে দুই দফায় আদালতে মামলা করেন। এর পর থেকেই দুই পক্ষের বিরোধ আরও বেড়ে যায়।

    এই জায়গা প্রথমে মন্টু কিনছেন জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তাউস মিয়া বলেন, পরে উত্তম একই জায়গা রফিকের কাছে বিক্রি করেছেন। আরেক বাসিন্দা সুজন পাঠান বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস হয়েছে। তবে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় সমাধান হয়নি।

    মন্টুর পরিবারের সদস্যরা জানান, ৯ আগস্ট দিনের বেলায় তাঁদের ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁরা ঘরে ফিরতে পারলেও বেড়া সরানো হয়নি। ঘরের দরজার সামনে প্রায় ২০ ফুট এবং উঠান থেকে বের হওয়ার পথে প্রায় ২৫ ফুট দীর্ঘ বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

    মন্টুর পরিবারের সদস্য সুবর্ণা কর্মকার বলেন, দিনের বেলায় শৌচাগার ব্যবহারের কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে রাতে পাশের পুকুরপাড়ে যেতে হচ্ছে। খাবার পানির জন্যও প্রতিদিন কলস নিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যেতে হচ্ছে।

    মন্টু কর্মকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলিলে উত্তম স্বাক্ষর করলেও সেটি নিবন্ধন হয়নি। অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতেই আমি আদালতে মামলা করেছি। এখন রফিক মিয়ার লোকজন বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়েছে। মামলা ও বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরিবার নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

    তবে রফিক মিয়ার স্ত্রী জানাহারা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা নিজেদের জায়গায় বেড়া দিয়েছেন। মন্টুর জায়গায় বেড়া দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। হামলা-মামলা করলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

    জমির আগের মালিক উত্তম রায় বলেন, মন্টু জালিয়াতি করে তাঁর কাছ থেকে দলিলে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি ওই জমি রফিকের কাছে বিক্রি করেছেন। মন্টুর সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেও দাবি করেন তিনি।

    হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, উত্তম রায়ের কাছ থেকে মন্টু কর্মকার জায়গা কিনেছেন বলে তিনি শুনেছেন। মন্টুর কাছে দলিল বা বায়নাপত্রও রয়েছে। পরে একই জায়গা রফিক কিনেছেন বলেও শুনেছেন। উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন।

    নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও হরিপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, উত্তমের কাছ থেকে জায়গা কেনা হলেও দলিলটি নিবন্ধন হয়নি। মন্টুর লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বাঁশ ও টিনের বেড়ার কিছু অংশ সরিয়ে দিয়েছে। উভয় পক্ষকে থানায় বসে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও কেউ আসেনি।

  • জলকন্যার বুকে গোলাপি আলপনা

    জলকন্যার বুকে গোলাপি আলপনা

    ফিচার

    জলকন্যার বুকে গোলাপি আলপনাবর্ষার প্রচ্ছদ পেরিয়ে যখন রূপসী বাংলার আকাশে শরতের অমল ধবল মেঘের খেয়া ভেসে বেড়ায়, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তর-পূব সীমান্তের এক অখ্যাত জলাশয় রূপ নেয় কোনো এক অলৌকিক চিত্রপটে। চোখের সীমানা ছাড়িয়ে যেখানেই দৃষ্টি যায়, শুধুই সবুজের সমারোহ আর তার বুক চিরে উঁকি দেওয়া অজস্র অমলিন পদ্ম। প্রভাত ও গৌধুলীর স্নিগ্ধ রোদ যখন কালচে জলের বুকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন হাজার হাজার গোলাপি ও শ্বেতপদ্ম শিশিরবিন্দু ধারণ করে যেন প্রকৃতির এক অনুপম রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করে।

    আখাউড়ার সীমানা ঘেঁষা ঘাঘুটিয়া ও মিনারকুটের এই জলাভূমি এখন আর কেবল জলের আধার নয়, রূপসী বাংলার এক প্রাণবন্ত কাব্যগ্রন্থ।

    প্রতি শরতেই প্রাকৃতিকভাবেই এই বিলে ফুটে ওঠে শত শত পদ্ম। সাম্প্রতিককালে রূপপিপাসু পথিক ও আলোকচিত্রীদের কল্যাণে এ যেন এক জনাকীর্ণ স্বর্গে পরিণত হয়েছে। ভোর হতে না হতেই বিলের শান্ত জলরাশি জেগে ওঠে গুঞ্জন আর মুগ্ধতার গুঞ্জরণে। পলিমাটির সুবাস, জলজ উদ্ভিদের তীব্র আকুলতা আর পদ্মের মৌ মৌ গন্ধ মিলেমিশে বাতাসকে করে তোলে সুবাসিত। সুদূর দিগন্ত থেকে ভেসে আসা বালিহাঁস, পানকৌড়ি আর গাঙচিলের কিচিরমিচির সেই সৌন্দর্যকে দেয় এক অনন্য ছন্দ ও সুর।

    ভোরের প্রথম আলো থেকে গৌধুলী লগ্ন পর্যন্ত ফুটতেই বিলের ঘাটে বাঁধা ডিঙ্গি নৌকাগুলো রূপসী কূলের পানে ছুটে চলে। মেহগনি বা সাল কাঠের নৌকায় বসে যখন কেউ বিলের বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন তিনি ভেসে যাচ্ছেন সময়ের কোনো অচিন মায়াপুরে। জলের সমতলে মাথা তুলে থাকা এক একটি পদ্মফুল যেন এক একটি রহস্যময় রোমাঞ্চ। কোনোটি সবেমাত্র কলি মেলে হাসছে, কোনোটি আবার পূর্ণাঙ্গ পাপড়ি মেলে সূর্যের প্রথম রশ্মিকে আলিঙ্গন করছে। কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলে তরুণ পদ্মের প্রতিবিম্ব দেখে মনে হয়, আকাশের মেঘ আর মাটির জল একাকার হয়ে গেছে এক অলৌকিক মায়াজালে।শহরের যান্ত্রিক কোলাহল, ইট-কাঠের নির্জীব চার দেওয়াল আর ব্যস্ততার আত্মাহুতি থেকে মুক্তি পেতে হাজারো গৃহকাতর মানুষ ছুটে আসেন এই নিভৃত স্বর্গে। তারা জলের ছোঁয়া নেন, পদ্মের পাপড়ির কোমলতায় খুঁজে পান আত্মিক শান্তি। কেউবা নিঃশব্দে অনুভূতির ছবি আঁকেন মনের ক্যানভাসে, কেউবা ক্যামেরার লেন্সে বন্দী করেন ক্ষণিকের অমরত্ব। তরুণদের কোলাহল, প্রবীণদের মুগ্ধ নিঃশ্বাস আর শিশুদের কলকাকলিতে শান্ত জলধি হয়ে ওঠে মুখরিত।

    ঢাকার গুলশান থেকে আসা মো. নুরুজ্জামান নামে একজন বলেন, এখানকার পরিবেশটি খুব কোমল। আমার পরিবারের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করি সেখানে এক ধরনের চিড়িয়াখানার মতো থাকি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে, পদ্মবিলে নৌকা নিয়ে গিয়েছি মনে শান্তি লাগছে।

    ঢাকার বনস্রী থেকে আসা শাহিদা বেগম বলেন, এই পরিবেশে এত মুগ্ধ যা বলে বুঝানো যাবে না৷ তিনি আরও এই পদ্মবিলে জীবনে প্রথমবার আসলাম ঘুরে দেখলাম অনেক ভালো লেগেছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা তাসমিয়া আক্তার বলেন, এখানে এত ভালো লেগেছে, বাড়িতে যাওয়ার মন মানছে না। পরিবেশটা মুগ্ধ ছড়িয়ে রেখেছে।

    প্রকৃতির এই রূপবদল শুধু যে কাব্যিক তৃষ্ণা মেটায় তা নয়, স্থানীয় জনজীবনের ক্যানভাসেও এঁকে দেয় এক টুকরো সচ্ছলতার হাসি। যে মাঝিরা বর্ষার জল নেমে গেলে কর্মহীনতায় ভোগেন, এই পদ্ম-মৌসুমে তাদের হাতে ওঠে বৈঠা। মৃদু ঢেউয়ের তালে তালে দর্শনার্থীদের বিলের গহীনে নিয়ে গিয়ে তারা উপার্জন করেন দু-মুঠো অন্ন।

    পদ্মবিলের মাঝি মো. শাহআলম মিয়া বলেন এই পদ্মবিলের কারণে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো উপার্জন হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে। আমি দৈণিক ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারি।

    আরেক মাঝি বিল্লাল হোসেন বলেন, পর্যটক এখন প্রতিদিন আসতেছে নৌকা নিয়ে তাদের পদ্ম ফুলের মাঝে নিয়ে যায় তারা অনেক আনন্দ করে। তাদের এই আনন্দ দেখে অনেক ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, এই পদ্মবিলের কারণে বর্ষার মৌসুমে আমরা বেকার অবস্থায় থাকতাম। এখন আর অবসর থাকতে হচ্ছে না এই বিলের কারণে।

    তবে এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে এক আকুল মিনতি। মানুষের অবাধ পদচারণায় অহেতুক ফুল ছিঁড়ে ফেলার উন্মাদনা বিলের স্বকীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। প্রকৃতির এই অবিনাশী সৌন্দর্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতা।

    পরিবেশ ও নদী সুরক্ষাবিষয়ক সংগঠন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, শত শত বছর ধরে প্রকৃতি নিজের নিয়মে এই বিলকে সাজিয়েছে। অযথা ছবি তোলার জন্য বা সাময়িক আনন্দের বশে পদ্মফুল, পদ্মাকাঁট বা ফুলগাছ উপড়ে ফেলবেন না। আপনার ছেঁড়া একটি ফুল বিলের প্রজনন প্রক্রিয়া এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করে। তিনি আরও বলেন পদ্মবিল অসংখ্য দেশি ও অতিথি পাখির বিচরণক্ষেত্র। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ বজায় রাখুন।

    স্থানীয় মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপক চৌধুরী এই পদ্মবিল কেন্দ্রিক সম্ভাবনা ও সার্বিক পরিবেশ রক্ষা নিয়ে বলেন আমাদের মনিয়ন্দ ইউনিয়নের এই সীমান্তঘেঁষা বিলটি প্রকৃতি এক অপূর্ব সাজে সাজিয়েছে। শত শত মানুষ প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসছেন, যা আমাদের পুরো এলাকার জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এলাকার পরিবেশ রক্ষা ও দর্শনার্থীদের সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় এবং তারা যেন নির্বিঘ্নে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য স্থানীয়ভাবে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি।

    আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, পদ্মবিলটি আখাউড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এলাকাটিকে পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও বিরল বাস্তুতন্ত্র যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সেদিকে আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি।সবুজের বুকে গোলাপি পদ্মের এই রূপকথা শুধুই এক নৈসর্গিক দৃশ্য নয়, বরং প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক অস্তিত্বের এক মায়াবী সেতু। স্থানীয় প্রশাসনের সদিচ্ছা, পরিবেশপ্রেমীদের সচেতনতা আর দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ যদি এক সুতোয় গাঁথা যায়, তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই পদ্মবিল কেবল শরতের ক্ষণস্থায়ী স্বর্গ হয়ে থাকবে না—হয়ে উঠবে প্রকৃতির এক চিরন্তন উদ্যান। গোধূলির আলোয় শান্ত জলের বুকে হেলে পড়া পদ্মগুলো যেন নিঃশব্দে বলে যায়, প্রকৃতিকে ভালোবেসে বাঁচিয়ে রাখলেই মানুষ খুঁজে পাবে তার কাঙ্ক্ষিত প্রশান্তি।

  • পাহাড়ে লেগেছে সোনালি রঙ

    পাহাড়ে লেগেছে সোনালি রঙ

    বান্দরবানে পাহাড়ে উৎপাদিত জুমের পাকা ধানে ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে। গ্রামীণ সড়কের দুপাশে এবং দূরের সবুজ পাহাড়গুলোর ঢালে ঢালে শোভা পাচ্ছে জুমের পাকা ধানের সোনালি রঙ, দূর থেকে মনে হচ্ছে পাহাড়ে লেগেছে সোনালি রঙ।

    ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও পাহাড়ে চাষ করা জুমের পাকা ধান ঘরে তুলতে কাটা শুরু করেছেন জুমিয়ারা। কোথাও জুমে উৎপাদিত সাথি ফসল ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়িরা।

    কৃষি বিভাগ ও জুমিয়াদের তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলায় প্রতি বছরই জুম চাষের পরিমাণ বাড়ছে। গত বছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুম চাষ হয়েছিল ৮ হাজার ২৬৭ হেক্টর। ফসল উৎপাদন হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টনের বেশি। এ বছর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর পাহাড়ি ঢালুতে। জুমে উৎপাদনের ফসলের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

    এদিকে জুমের ভালো ফলনে জুমিয়া পরিবারদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। চোখের দৃষ্টি যতদূর যায়, সবুজ পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে শোভা পাচ্ছে জুমের পাকা ধানের সোনালি রঙ। এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় জুমের ধান বপনে খুব বেশি সময়ের ব্যবধান হয়নি। ফলে অনেক এলাকায় জুমের ফলনও তুলনামূলক ভালো হয়েছে।

    তবে পাহাড়ি অঞ্চলে সব জায়গায় বৃষ্টিপাত সমান না হওয়ায় জুমের ধানও একই সময়ে পাকে না। যারা বৈশাখ মাসের শুরুতে প্রথম বৃষ্টির পর ধান বপন করতে পেরেছেন, তাদের জুমের ধান আগে কাটার উপযোগী হয়েছে।

    জুমের ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কোথাও জুমচাষিরা ধান কাটতে শুরু করেছেন, আবার কোথাও ধান পাকার অপেক্ষায় রয়েছেন। পাকা ধান ও ফসল পাহারা দিতে অনেক জুমচাষি সপরিবারে জুমঘরে অবস্থান করছেন। কেউ ধান কাটার আগেই মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, মারফা ও চিনালসহ বিভিন্ন সাথি ফসল সংগ্রহ করছেন। কেউবা পাকা ধান কাটার উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায়।

    সরেজমিন রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের যামিনীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জুমের পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমচাষিরা। ছোটবড় কেউই ঘরে বসে নেই। জুমের ফসল গড়ে তোলতে সপরিবারে উঠেছেন জুম খেতের পাহাড়ে।

    যামিনীপাড়ার বাসিন্দা রিং লট ম্রো সপরিবারে এবং শ্রমের বিনিময়ে কাজ করা আট নারী শ্রমিককে নিয়ে জুমের পাকা ধান কাটার কাজ করছেন।

    জুমচাষি ইয়াংরি ম্রো বলেন, এ বছর প্রায় তিন একর পাহাড়ি জমিতে তিন ‘আড়ি’ বীজের ধান রোপণ করে জুম চাষ করেছেন। এক আড়ি সমান প্রায় ১০ কেজি ধান। এবারের জুমের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আগে সময়মতো রোদ-বৃষ্টি হলে জুমের ধান ভালো হতো। এখন সময়মতো রোদ-বৃষ্টি হয় না। প্রকৃতিও যেন উল্টো হয়ে গেছে। তারপরও এ বছর জুমের ভালো ফলনের আশাবাদী। তিন একর জুম থেকে এবার প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ আড়ি ধান পাওয়া যাবে আশা জুমচাষির। আরও ভালো হলে আড়াইশ আড়ি পর্যন্ত ধান পাওয়া সম্ভব।

    স্থানীয় জুমচাষি রিং লট ম্রো বলেন, পুলিশে চাকরি করার পর চলতি বছরের জুন মাসে অবসর নিয়েছেন রিং লট ম্রো। অবসরের পর বসে না থেকে বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী পেশা জুম চাষে ফিরেছেন। ‘জুমে শুধু ধান হয় না। বেগুন, মারফা, তিল, যব, ভুট্টা, চিনাল, মরিচ, রোজেলাসহ ৩০-৩৫ ধরনের সাথি ফসল হয়। বাজার থেকে শুধু লবণ আর নাপ্পি (এক ধরনের শুঁটকি) কিনলেই চলে। জুম যেন আমাদের জন্য একটি বাজারের মতো, প্রয়োজনীয় অনেক সবজি এখান থেকেই পাওয়া যায়।

    নারী শ্রমিক সংডং ম্রো বলেন, জুম না করলে আমরা কী খাব? জুম করতেই হবে। প্রতি বছর আমরা জুম চাষ করি। এটা আমাদের ঐতিহ্য।

    তিনি জানান, জুমে ধানের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, মারফা, বেগুন, ভুট্টা, তিল, মরিচ, ঢেঁড়সসহ ৩০-৩৫ ধরনের সাথি ফসল উৎপাদন করা হয়। এসব সাথি ফসল নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে কিছু অর্থও আয় করেন জুমচাষিরা।

    জুমিয়াদের দাবি, জুম চাষ মূলত প্রকৃতি ও মৌসুমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা একটি দীর্ঘ কৃষি প্রক্রিয়া। প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পরবর্তী বছরের জুম চাষের জায়গা নির্বাচন করা হয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে নির্ধারিত পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গল কাটা শুরু হয়। কাটা জঙ্গল রোদে শুকানোর পর মার্চ-এপ্রিল মাসে নির্দিষ্ট জায়গায় ‘ফায়ারিং লাইন’ তৈরি করে আগুন দিয়ে জঙ্গল পোড়ানো হয়। এরপর পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে জুমের জায়গা পরিষ্কার করে ধান ও সাথি ফসল বপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

    প্রথম বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকেন জুমচাষিরা। বৈশাখের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হলে জুমে ধানসহ বিভিন্ন সাথি ফসলের বীজ বপন করা হয়। যারা প্রথম বৃষ্টির পর দ্রুত বীজ বপন করতে পারেন, তাদের জুমের ধান আগে পাকে। আর যারা কিছুটা দেরিতে বপন করেন, তাদের ধানও দেরিতে কাটার উপযোগী হয়।

    সাধারণত আগস্টের শেষ অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জুমের ধান কাটা শুরু হয়। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে চলে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ। ধান শুকানোর পর জুমঘর থেকে মূলঘরে ধান স্থানান্তর করা হয়।

    এরপর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাহাড়ি জনপদে ঘরে ঘরে চলে জুমের ধানের নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের ভাত ও নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় এই উৎসব।

    পাহাড়ের ঢালে ঢালে এখন তাই চলছে ধান কাটার উৎসব। সোনালি ধানের শীষে ভরে উঠছে জুমঘর। বছরের দীর্ঘ শ্রমের ফসল ঘরে তোলার আনন্দে ব্যস্ত পাহাড়ের মানুষ। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা জুমচাষিদের কাছে এই ধান শুধু খাদ্য নয়—এটি তাদের জীবন, জীবিকা ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যের অংশ।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ তৌফিক আহমেদ নূর বলেন, এবার জেলায় প্রায় ১১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে জুমের আবাদ হয়েছে। জুমে ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সাথি ফসলও উৎপাদন হয়ে থাকে।

    এ বছর জুমের ফলন ভালো হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। তবে পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় সব জায়গায় সমানভাবে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে একেক এলাকার ফলন একেক রকম হয়। রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলার দুর্গম এলাকায় ইতোমধ্যে জুমের পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলাতেও ধান কাটা শুরু হবে। জুম চাষে উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত ও হাইব্রিড জাতের ধান উৎপাদনে জুমচাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

  • লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দাদা ও নাতি-নাতনির মৃত্যু

    লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দাদা ও নাতি-নাতনির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিবাগ এলাকার ইব্রাহিম পাটওয়ারী বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন- ওই বাড়ির আবু সিদ্দিক (৭০) এবং তার ছেলে আব্দুল আজিজের শিশুপুত্র পিয়াস (৭) ও মেয়ে সুমি আক্তারের শিশুকন্যা পপি আক্তার (৮)।

    স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধ আবু সিদ্দিক তার দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যান। তিনি পানিতে নেমে ডুব দিলেও পানির নিচ থেকে আর উঠতে পারেননি। একপর্যায়ে তাকে পানির নিচে খুঁজতে গিয়ে পিয়াস ও পপিও ডুবে মারা যায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুকুরের পানিতে তাদের ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

    স্বজনদের ধারণা, আবু সিদ্দিক পানিতে ডুব দিয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তাকে খুঁজতে গিয়ে নাতি-নাতনিও পানিতে ডুবে মারা গেছে।

    লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

    ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমিয়ে ছিল আয়েশা আক্তার নামে চার বছরের এক শিশু। এ সময় বজ্রপাতে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তার মৃত্যু হয়েছে। এতে তার বাবা সিদ্দিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধীতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিরুনীয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ও ফারজানা আক্তার দম্পতি তাদের মেয়ে আয়েশা আক্তারকে নিয়ে ধীতপুর এলাকায় তার নানা মন্তাজের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার সকালে বাড়িতে একটি মাটির ঘরে বাবা সিদ্দিক তার শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটির দেয়াল ধসে বাবা ও শিশুর ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয় এবং বাবা সিদ্দিক গুরুতর আহত হন। আহত সিদ্দিককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হালিম উদ্দিন সরকার রিপন। তিনি বলেন, নিহত শিশুর বাবা সিদ্দিক নিজেও অসুস্থ, তাই স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

  • সিলেট সীমান্তে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাবাজার, তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট ও কালাইরাগ বিওপি কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু, শাড়ী, জিরা, কসমেটিক্স, বিড়ি, চকলেট, কম্বল, চা-পাতা, ফুচকা, চিনি, সবজি ও বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে টি-শার্ট, সোয়েটার, জিন্স প্যান্ট জব্দ করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    জব্দ চোরাইপণ্যের বাজারমূল্য এক কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দ পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ তিন মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা শুভ দাসের (২৪) লাশ।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামে শুভ দাসের লাশ এসে পৌঁছায়।

    লাশবাহী গাড়িটি গ্রামে প্রবেশ করতেই স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপার্জনক্ষম তরুণকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। এ সময় তাকে শেষ নজর দেখতে হাজারো শোকাহত মানুষ শুভদের বাড়িতে ভিড় জমান। পরে দুপুরে পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি সম্পন্ন হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন শুভ। পরিবারের অভাব মেটাতে বসতভিটার দুই শতক জমি বিক্রি করে লেবাননে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মস্থলে কাজ করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো এক ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন শুভ। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সরকারি তৎপরতা শেষে মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর আজ তার লাশ দেশে ফিরল।

  • নোয়াখালীতে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় আসামির মৃত্যু

    নোয়াখালীতে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় আসামির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো: সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান।

    তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তার বিরুদ্ধে থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশকে মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ইদ্রিস মিয়া বাজার ওরফে নবীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নূর নবী চৌধুরীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেফতারের জন্য ইদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে নিহত হন।

  • চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

    চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক


    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কনক কুমার (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন পুলিশ ।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় কনক কুমারকে আটক করা হয়। পরে তার দখল থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক কনক কুমার বর্ণি গ্রামের (হিন্দুপাড়া) শ্যামল কুমারের ছেলে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে চৌগাছা থানা ওসি মামুনুর রশিদ জানান, মাদকবিরোধীসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁয় এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬শ’ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “মেধা সততা দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে ক্রেস্ট, বই এবং শিক্ষা উপকরণাদি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নোমান হোসেন নয়নসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, যোগ্য মানুষ তৈরীর কারিগর শিবির। আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এজন্য তাদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিবির শিক্ষার্থীদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।

    এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। শিবিরের এমন সংবর্ধনা পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

  • রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের গেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১টার দিকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান।

    দুদিনের সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। জেলা প্রশাসন ও নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

    নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির জানান, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল আলমগীরকে ঠাকুরগাঁওয়ে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। সেখান থেকে তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করার পর নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।

    বিকালে তিনি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

    ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটি জেলা স্কুল মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এসএসএফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। ফেস্টুন ব্যানারসহ বর্ণিল সাজে সেজেছে ঠাকুরগাঁও।

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহিন জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন দুপুরে জামালপুর ইউনিয়নের মহেশখালীতে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    জেলা প্রশাসক রফিকুল হক জানান, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় ৮৭ শতাংশ পুরুষ। একই সময়ে মারা গেছেন ৯ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্কসহ নানা কারণে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ মাসে পরীক্ষা করা ২,১৬৪ জনের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। এ সময়ে বগুড়া জেলার ৯২ জন এবং অন্য জেলার একজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এইচআইভি সন্দেহে ৫৯৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

    চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্ক, যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমণ, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মতো আচরণ থেকে এইচআইভি ছড়াতে পারে।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসেন। পজিটিভ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং করা হয়। আক্রান্তদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়।

    তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য

    শজিমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওয়াদুদুল তরফদার নাহিদ বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সি মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কসহ বিভিন্ন কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের পাশাপাশি সার্জারি করা রোগীদেরও এইচআইভি পরীক্ষা করা জরুরি।

    সপ্তাহব্যাপী শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে বিভিন্ন বয়সি কয়েকজনকে এইচআইভি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নওগাঁর নজিপুরের এক দম্পতিও ছিলেন। মাদকাসক্ত কয়েকজনের শরীরেও এইচআইভি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

    সাত বছরে ৯ মৃত্যু

    গত ২০ আগস্ট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এইচআইভিবিষয়ক সেমিনারে সংক্রমণের আরো তথ্য উঠে আসে।

    সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সাত বছরে বগুড়ায় ৪,০৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে পরীক্ষা করা হয়েছে ১,৭৯৪ জনের। এ সময়ে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাত বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

    এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক। নারী-পুরুষের পাশাপাশি পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের সময় ও বুকের দুধের মাধ্যমেও শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

    সচেতনতায় গুরুত্বচিকিৎসক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।