সারাদেশ

  • প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে; চরমোনাই পীর

    প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে; চরমোনাই পীর

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর সাহেব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে,এটা শোনার পর তাদের ঘুম হচ্ছেনা। তারা অস্থির হয়ে পড়েছেন। ফ্যাসিষ্ট হাসিনা ৩ ঘন্টা আগেও জানতো না দেশ থেকে পালাতে হবে। আল্লাহ যখন এত বড় শক্তিশালী খুনিকে দেশ ছাড়া করিয়ে এদেশ স্বাধীন করিয়েছেন, তখন আরেক ফ্যাসিষ্ট আসবে, খুনি আসবে, টাকা পাচারকারী আসবে, আমাদের মনে হয় আল্লার রহমতে এটা হবে না। তিনি বলেন, দৃশ্যমান খুনি জালেম টাকা পাচারকারীদের বিচার হতে হবে। এর পরে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে।

    (২৮ জুলাই) সোমবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা টাউনহল ফুটবল মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বর্ক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মানবতার পক্ষে কথা বলে। খুনি চাঁদাবাজদের,বিদেশে টাকা পাচারকারীদের সিঁড়ি হিসেবে কখনো ব্যবহার হয়নি।

    একটি দলের কিছু ব্যক্তির কাছে এ দেশ এক প্রকার জিম্মি অবস্থায় ছিল। দেশ সুন্দর করার চেষ্টা থাকলেও তাদের কারনে সুন্দর করার পরিবেশ তৈরী হয়নি। ৫ আগস্টের পরে পরিবেশ তৈরী হয়েছে। বিগত দিনে নিজের এবং দলের স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করেছে। এজন্য কোনো দলের স্বার্থে বিবেচনা না করে দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

    সেই নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন হলো পিআর সিস্টেমে নির্বাচন। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ভোটারদের মূল্যায়ণ হবে। আর বার বার চেষ্টা করেও ফ্যাসিষ্টরা ঘুরে দাড়ানোর সুযোগ পাবেনা। যারা এক সময় নিজের এবং দলের স্বার্থকে অগ্রাধীকার দিয়ে দেশের স্বার্থ ভুলন্ঠিত করেছে তারা এই পিআর পদ্ধতি বোঝে না। তারা বলে পিআর পদ্ধতি খাই না মাথায় দেয়? আমরা বলবো পিআর পদ্ধতি খাইও না মাথায়ও দেয়না। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে এ দেশ সুন্দর হবে মানবতার কল্যাণ হবে মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন হবে। যারা পিআর পদ্ধতি বোঝেন না তাদের উদ্দেশ্যে বলি, দলের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন। পিআর পদ্ধতিতে ভোট হলে হাজার হাজার ভাইকে মিথ্যা মামলায় দমন করা যাবে না । তিনি বলেন, এদেশে জন্মগ্রহণ করেছি, এদেশে সুন্দর করার দায়িত্ব আমাদের। চাঁদাবাজদের জায়গা বাংলার জমিনে হবেনা। আমাদের দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতে দেয়া যাবে না।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ হাসানুজ্জামান সজিবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম- মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা আমীর রুহুল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা সহকারী সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলার খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি সোয়াইব হোসাইন কাসেমী, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বকারী খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান রনি ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারী মাওলানা মাহবুবুর রহমান গওহরী প্রমুখ।

  • কোটচাঁদপুরে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

    কোটচাঁদপুরে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

    কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগেে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    “জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ( জুলাই দ্রোহ)-এই স্লোগান লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে মিছিলটি বলুহর বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে হাসপাতাল রোড, ব্রীজঘাট মোড়, পায়রা চত্বর, পৌর পাঠাগার, পোস্ট অফিস মোড় হয়ে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন স্ট্যান্ডে শেষে হয়। এতে অংশ নেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোটচাঁদপুর উপজেলা শাখার শতশত নেতাকর্মী।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, শিবিরের জেলা সেক্রেটারি উবাইদুর রহমান । তিনি বলেন, “জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা চালানো হয়েছিল। আজও সে হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

    উপস্থিত ছিলেন জেলা অফিস সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা সভাপতি শফিক হাসান, উপজেলা সভাপতি হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম।

  • মেহেরপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় একজনের মৃত্যুদন্ড

    মেহেরপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় একজনের মৃত্যুদন্ড

    মেহেরপুর প্রতিনিধি

    মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের ইজিবাইক চালক জামাল হোসেন হত্যা মামলার একমাত্র আসামি বাচ্চু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ এস এম নাসিম রেজা এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাচ্চু মিয়া সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।

    মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেহেরপুর সদর উপজেলার নতুন শেখপাড়া এলাকার একটি লিচু বাগান থেকে জামাল হোসেনের (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন। ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মেহেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে শোলমারী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে বাচ্চু মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ। মামলার অভিযোগত্র, দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আসামি বাচ্চু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

    মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাইদুর রাজ্জাক এবং আসামি পক্ষে এহান উদ্দিন মনা আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন। আদেশ ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। জামাল হত্যার বিচার পেয়ে তার পরিবার স্বস্তি পাবে বলে আশা করছি।”

    অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা বলেন, ’আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

    রায় ঘোষণার সময় আসামি বাচ্চু মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি পাহারায় তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমন্তে বাংলাদেশীকে নির্যাতনের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা সীমন্তে বাংলাদেশীকে নির্যাতনের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হুদাপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে আলী আকবর (৫৪) নামের একজনকে বেধড়ক মারধর, রাইফেলের বেওয়ানেট দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। আহত আলী আকবর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মাজপাড়ার মৃত নুর ইসলামের ছেলে।

    রোববার (২৭ জুলাই) দুপুরে আলী আকবরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার পরিবারের সদস্যরা এ সময় বিষয়টি জানাজানি হয়।

    এর আগে শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে স্থানীয় এক যুবক ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এসময় তার হাত-পায়ের ক্ষতস্থানগুলোতে একাধিক সেলাই দেয়া হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গোপন রাখার চেস্টা করেন।

    আহত বৃদ্ধ আলী আকবর বলেন, খুব সকালে চা পান শেষে হুদাপাড়া সীমান্তের কাছাকাছি গেলে তিন বিএসএফ সদস্য আমাকে ধরে বেধড়ক পেটাতে থাকে। তাদেরকে বলি, আমি সীমান্ত অতিক্রম করিনি।
    আমাকে ছেড়ে দেন, তবুও তারা আমাকে রাইফেলের সামনের অংশ (বেওনেট) দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্নস্থানে খোচাতে থাকে এবং পেটাতে থাকে। এরপর আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়।
    অহতের স্ত্রী ময়না খাতুন বলেন, ওই দিন ভোর বেলা স্থানীয় এক যুবক হুদাপাড়া সীমান্তের পাশে একটি কৃষি জমিতে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ দেখে কুড়ুলগাছি গ্রামের পারভিন ড্রাগ হাউজ ডা. আকরাম হোসেনের (সাবেক উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) কাছে নেয়া হয়। তিনি হাত-পায়ের বিভিন্নস্থানে একাধিক সেলাই দেয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শুনেছি, বিএসএফের সদস্যরা আলী আকবরকে বেধড়ক মারধর করেছে।

    জানতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৬) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নাজমুল হাসান বলেন, তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন বলে তার পরিবারের মাধ্যমে জেনেছি। সীমান্তের কোন পিলার এবং কোন স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

  • চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগ সেক্রেটারী গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগ সেক্রেটারী গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবিরকে (৫৮) গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী বিশ্বাসের ছেলে।
    জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪জুলাই) বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের বাড়ির সামনে থেকে সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়।
    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, আসাদুজ্জামান কবির ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর সদর থানায় দায়ের হওয়া মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামি ছিলেন। চুয়াডাঙ্গা সদর আমলী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
    আসাদুজ্জামান কবির চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত।

  • জীবননগর সীমান্ত থেকে পরিত্যক্ত বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি উদ্ধার

    জীবননগর সীমান্ত থেকে পরিত্যক্ত বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশী পিস্তল (ইউএসএ), ১টি ম্যাগজিন ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী গোয়ালপাড়া গ্রামের একটি ইটভাটার পাশ থেকে এসব উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫মিনিটে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপনে খবর পেয়ে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন নতুনপাড়া বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ৬৪/৪-এস হতে ৩ কিলোমিটার বাংলােদেশের অভ্যন্তরে গোয়ালপাড়া গ্রামের একটি ইটভাটার পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি জীবননগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • কোটচাঁদপুরে পৌর জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশ

    কোটচাঁদপুরে পৌর জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশ

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    “সত্য সমাগত মিথ্যা বিতাড়িত, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী” পবিত্র কোরআনের এ বাণীকে সামনে রেখে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    বুধবার (২৩জুলাই) রাত ৯ টায় স্থানীয় আল ফালাহ ইসলামি সেন্টারে পৌর আমীর মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহফুজুল হক মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ গড়তে হলে কোরানের শাসন কায়েম করতে হবে। কল্যাণ মূলক দেশ গঠনে সকলের অগ্রণী ভুমিকা পালন করার আহবান জানান তিনি।

    এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর যুব ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কোটচাঁদপুর উপজেলা সভাপতি হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড দ্বায়িত্বশীল মাওলানা শহিদুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন শাবু, বাবলু মিয়া প্রমুখ।

    সমাবেশ শেষে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যাপক মতিয়ার রহমান।

  • গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লাল পদ্ম ফুল

    গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লাল পদ্ম ফুল

    গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লাল পদ্ম ফুল। তবে এ সময়ে আশার আলো দেখাচ্ছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের গরীবপুর নিউমার্কেটের পাশের পুকুরে ফোটা লাল পদ্মফুল।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে ধ্বংস

    চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে ধ্বংস

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিজিবি-৬ বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর, জুড়ানপুর ও নতিপোতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল আটক করা হয়।

    বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. হায়দার আলী বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টার সময় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর, জুড়ানপুর ও নতিপোতা গ্রামে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল মজুদ রয়েছে বলে তথ্যে পাওয়া যায়। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণপুর, জুড়ানপুর ও নতিপোতা গ্রামে সকাল ১১ টা হতে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বিজিবির নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. হায়দার আলীর নেতৃত্বে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য, দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএইচ তাশফিকুর রহমান, দামুড়হুদা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফারুক মহলদার এবং দামুড়হুদা থানা পুলিশের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। টাস্কফোর্স অভিযান চলাকালে মোট পনের লক্ষ টাকা মূল্যের ১০০ টি অবৈধভাবে রক্ষিত চায়না দূয়ারী জাল জব্দ করে। জব্দকৃত জালগুলো টাস্কফোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে।

    বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ মজুদ ও পরিবেশ বিধ্বংসী সামগ্রীর বিরুদ্ধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও বিজিবির এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মফিজ জোয়ার্দ্দার,চুয়াডাঙ্গা।

  • চৌগাছায় জুলাই শহীদ আল আমিনের পরিবারকে আরও এক লাখ টাকা দিলো জামায়াত

    চৌগাছায় জুলাই শহীদ আল আমিনের পরিবারকে আরও এক লাখ টাকা দিলো জামায়াত

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে চৌগাছার একমাত্র শ’হিদ আল্ আমিনের পরিবারকে ঘর নির্মাণে আরও এক লাখ টাকা দিলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় আল আমিনের বাড়িতে এই টাকা প্রদান করা হয়।

    যশোর জেলা জামায়াতের আমিরের পক্ষে আল আমিনের বাবা আনোয়ার হোসেন বাবুর হাতে তাদের ঘর নির্মাণের জন্য আরও এক লক্ষ টাকা তুলে দেন যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী। এর আগে যশোরে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার আল আমিনের বাবা আনোয়ার হোসেনের হাতে নগদ দুই লাখ টাকা তুলে দেন। পরে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও কিছু টাকা দেয়া হয়।

    টাকা প্রদানের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা জামায়াতের এই সেক্রেটারি বলেন আমরা সব সময় আল আমিনের পরিবারের পাশে আছি। আল আমিন যেন শাহাতদের মর্যাদা পান সেই দোয়া করে তিনি বলেন, আল আমিনের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোন ক্ষমতা আমাদের নেই। আমারা শুধুমাত্র সামাজিক কাজের অংশ হিসেবে এই পরিবারের পাশে আছি, থাকবো ইনশাআল্লাহ।

    উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদের পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়তের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, ফুলসারা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাস্টার এনামুল হক, শ্রমিক নেতা আহসান হাবিব, সিংহঝুলী ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি জিকো খান, সিংহঝুলী ইউনিয়ন শ্রমিক বিভাগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিকসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • চৌগাছায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান; ৩’শ কেজি পলিথিন ও ৫ টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ

    চৌগাছায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান; ৩’শ কেজি পলিথিন ও ৫ টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় দূষণের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেছেন। অভিযানে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে ৩’শ কেজি পলিথিন ও ৫ টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২১ জুলাই সোমবার বিকেলে চৌগাছা শহরের চুড়িপট্রি ও প্রেক্লাব মোড়ে আদালত পরিচালনা করেন উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান।

    অভিযানের সময় পরিবেশ দূষণকারি পলিথিন বিক্রির অভিযোগে শহরের চুড়িপট্রি এলাকার দিসার স্টোরের মালিককে ২০ হাজার টাকা এবং নয়ন স্টোরের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করে আদালত। এসময় দুটি দোকন থেকে প্রায় ৩’শ কেজি পলিথিন জ¦ব্দ করে ধ্বংশ করা হয়।

    অন্যদিকে, শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ এর ১৮ ধারায় তিনটি যাত্রীবাহি বাসে ক্ষতিকর হাইড্রোলিক হর্ণ থাকার কারনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জরিমানা ১ হাজার টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এবং এসব পরিবহন থেকে ৫টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসমিন জাহান বলেন, ‘যেথনেই দূষণ সেখানেই মিশন’ এই শ্লোগান সামনে রেখে পরিবেশ দূষণকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত থাকবে।

    ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় পরিবেশ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক ইমদাদুল হক, পরিদর্শক জিহাদ হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

  • সাংবাদিক পরিবারের সন্তান রিজুর জিপিএ-৫ অর্জন , চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

    সাংবাদিক পরিবারের সন্তান রিজুর জিপিএ-৫ অর্জন , চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)

    মোবারকগঞ্জ চিনিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় অংগ্রহণ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মোঃ রিজু আহমেদ। সে কালীগঞ্জ থানা আড়মুখী গ্রামের মোঃ মামুন বিশ্বাস, মাতাঃ হ্যাপি খাতুনের ছোট ছেলে। ভবিষ্যতে রিজু ডাক্তার হতে চাই।

    এই সাফল্যের জন্য বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

    এই ফলাফলে দৈনিক গ্রামের কাগজের সাংবাদিক শওকত আলী অঙ্কুর আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন । রিজু সকলের দোয়া প্রার্থী।

  • জাতীয় সমাবেশ সফল করতে চৌগাছায় জামায়াতের মিছিল

    জাতীয় সমাবেশ সফল করতে চৌগাছায় জামায়াতের মিছিল

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯ জুলাই মহাসমাবেশকে সফল করার লক্ষ্যে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোরের চৌগাছা উপজেলা শাখা।

    ৬ জুলাই বুধবার বিকেলে শহরের কামিল মাদ্রাসা মাঠ থেকে থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কামিল মাদরাসা মাঠে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদের নেতৃত্বে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, বায়তুলমাল সম্পাদক মাষ্টার ইমদাদুল হক, সহকারী সেক্রেটারী ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদ, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, সাবেক চেয়ারম্যান চৌগাছা কামিল মাদ্রাসার অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, সাবেক কাউন্সিলর মহিউদ্দীন, আব্দুর রহমান, হাসানুজ্জামানসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষসহ ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সোহরাওয়াার্দী উদ্যানে সমাবেশে যোগ দিয়ে সমাবেশকে সফল করার আহ্বান জানান। সেই সাথে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

  • গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে যশোরে সড়ক অবরোধ, আল্টিমেটাম

    গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে যশোরে সড়ক অবরোধ, আল্টিমেটাম

    যশোর প্রতিনিধি
    গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে যশোরের চাঁচড়া মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
    বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে দলের নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে এনসিপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল বলেন, আমাদের তিন দফা দাবি
    অবিলম্বে মানতে হবে। গোপালগঞ্জসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে হবে, পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে এবং গোপালগঞ্জের ডিসি ও এসপিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
    প্রত্যাহার করতে হবে।
    তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নেমেছি, প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, যদি আমাদের ভাইদের কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে আমরা পুরো দেশ অচল করে দেবো। তাঁরা আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারেরও দাবি জানান।
    সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা সংগঠক নুরুজ্জামান, আল মামুন লিখন, বায়োজিত হোসেন প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন সাকিব হোসেন, মোহাম্মদ ইবনে সাহাদ, ওসমান গণি, সাইদ সান, সোহানুর রহমান, মিনহাজ, সুলতানা খাতুন জান্নাত, ফারহিন আহমেদ, আসমা ইসলাম, রুবাইয়াসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া নেতৃবৃন্দ।

  • চৌগাছায় জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা

    চৌগাছায় জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুসাব্বির হোসেন। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেহেদী হাসানের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রকৌশলী তাসমিন জাহান, চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের উপজেলা আমীর মাওলানা আনিছুর রহমান, চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদ, পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা বি এম রাশেদুল ইসলাম রিতম, এ বি পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক রিপন মাহমুদ, প্রেসক্লাব চৌগাছার সেক্রেটারি আজিজুর রহমান প্রমুখ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মন্ডলী,উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুধীমন্ডলী। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবস টি পালন করা হয়। ২০২৪ সালে ১৬ জুলাই তারিখে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ রংপুর রোকেয়া বিশ্বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

  • মেহেরপুরে জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ কর্মশালা

    মেহেরপুরে জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ কর্মশালা

    মেহেরপুর প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর-১ ও ২ আসনের নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের প্রশিক্ষন কর্মশালা মেহেরপুর জেলা শাখার আয়োজনে মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও মেহেরপুর জেলা আমীর মাওঃ তাজউদ্দীন খান। প্রধান প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য ডঃ আলমগীর বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও চুয়াডঙ্গা জেলা আমীর এ্যাডঃ রুহুল আমিন। আরও উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওঃ মাহাবুবু-উল আলম, মেহেরপুর জেলা নির্বাচন পরিচালক জারজিস হুসাইন, মেহেরপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী নাজমুল হুদা, মেহেরপুর-১ আসন নির্বাচনী কমিটির সদস্য সচিব খাইরুল বাসার, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারী কাজী রুহুল আমীন, শ্রমিকল্যান ফেডারেশন মেহেরপুর জেলা সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল, মেহেরপুর সদর জামায়াত আমীর মাও, সোহেল রানা, মুজিবনগর উপজেলা আমীর মাও, খানজাহান আলী,মেহেরপুর পৌর জামায়াত আমীর সোহেল রানা ডলার, গাংনী উপজেলা জামায়াত আমীর ডাঃ রবিউল ইসলাম, গাংনী পৌর জামায়াতের আমীর আহসান উল্লাহ প্রমুখ।

  • চৌগাছায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবাদ মিছিল

    চৌগাছায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবাদ মিছিল

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে যশোরের চৌগাছায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

    ১৬ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় চৌগাছা উপজেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা রাশেদুল ইসলাম রিতম এর নেতৃতে চৌগাছা প্রেসক্লাব মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    মিছিলে অংশগ্রহণ করেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি শিহাব উদ্দিন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হুরাইরা বিন লাম, মাহিন, সাকিনুর রহমান শুভ, ফজলুর রহমান রাব্বি, ইসরাত হামদা কুয়াশা, রিফাত আহমেদ, নিহাল আহমেদ, সম্রাট শাকিল হোসেন, সাগর আহমেদ, আজিজুর রহমান, মাহাফুজ আলম, ইয়াসিন আরাফাতসহ সাধারণ ছাত্ররা।

    মিছিল শেষে প্রেসক্লাব মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

    উল্লেখ্য সারা দেশে পথযাত্রার অংশ হিসেবে ১৬ জুলাই দুপুরে গোপালগঞ্জ থেকে মাদারীপুরে রওয়ানা দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তাঁদের ওপর হামলা চালায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বেলা ৩টায় মাদারীপুরে এনসিপির সমাবেশের কথা থাকলেও হামলার কারণে তাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি।

  • কালীগঞ্জের রিজুর জিপিএ-৫ অর্জন , চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

    কালীগঞ্জের রিজুর জিপিএ-৫ অর্জন , চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় অংগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে রিজু আহমেদ। সে কালীগঞ্জ থানা আড়মুখী গ্রামের মোঃ মামুন বিশ্বাস ও হ্যাপি খাতুন দম্পতির ছোট ছেলে। সে সকলের দোয়া প্রার্থী। রিজু ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়।

    রিজুর এই সাফল্যের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দসহ সকলের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

  • চৌগাছায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ আলামিনের পরিবারের সাথে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    চৌগাছায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ আলামিনের পরিবারের সাথে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ আলামিনের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যশোর জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সকালে সাক্ষাৎ শেষে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আলামিনের কবর জিয়ারত করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    জানাযায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ আলামিনের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন,
    শহীদ আলামিনের গর্বিত পিতা আনোয়ার হোসেন বাবু, যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাও নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদ, শুরা সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান মাও আব্দুল লতিফ, ফুলসারা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাও. শরিফুল ইসলাম,সেক্রেটারি মাষ্টার এনামুল হক, সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন জামায়াত নেতা মাসুদ, মাসুম,হাবিবুর রহমান,মাও ফকরুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ আলী, আলমগীর কামাল, সাইফুল ইসলামসহ আলামিনের পরিবারে সদস্য ও স্থানীয়রা।

    উল্লেখ্য, চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের আফরা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাবুর ছেলে আল আমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দাবি আদায়ে বরিশালের রাজপথে তিনিও ছিলেন সরব। ১৮ জুলাই রাতে আল আমিনের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দূবত্তিরা। আগুনে ঝলসে মারাত্মক আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল মেডিকেল এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন। অবশেষে ১৫ আগস্ট মৃত্যু বরণ করেন।

  • সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন (১৪ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের অস্ত্র চুক্তি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি হয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার এই চুক্তি ছাড়াও দেশটিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের চুক্তি করেছে সৌদি আরব।

    সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি সইয়ের পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশ সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আজ ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে তা বেড়ে ১ ট্রিলিয়ন (এক হাজার বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে আজ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপর দুজন প্রাথমিক বৈঠক করেন। পরে সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। হোয়াইট হাউস বলছে, এদিন সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি’ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি চুক্তির আওতায় মোট পাঁচটি খাত রয়েছে। সেগুলো হলো বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও মহাকাশ সক্ষমতা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থলবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশটির সেনাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামরিক চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে কাজ করা হবে। অস্ত্র চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্যাস টারবাইন, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।

    চুক্তি স্বাক্ষরের পর মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘অসাধারণ একজন মানুষ’ অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সৌদি আরব একটি ‘চমৎকার জায়গা’। এখানে ‘চমৎকার মানুষ’ বসবাস করেন।

    সৌদি আরব সফর শেষে আগামীকাল বুধবার কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) যাবেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এ সফরের সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ইসরায়েল ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের। এমন সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইসরায়েলে না গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সফরের সময় বৃহস্পতিবার তুরস্কে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দেশটির ইস্তাম্বুল শহরে অনুষ্ঠিত মস্কো ও কিয়েভের বৈঠকে অংশ নিতে পারেন তিনি। গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই এই যুদ্ধ থামাতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। গত শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। কূটনৈতিক এই আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

  • আট বছর পর নেমেসিসের অ্যালবাম

    আট বছর পর নেমেসিসের অ্যালবাম

    আট বছর পর অ্যালবাম আনার ঘোষণা দিল নেমেসিস। ২৩ মে প্রকাশ পাবে ব্যান্ডটির চতুর্থ অ্যালবাম ভিআইপি। ব্যান্ডের ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট জোহাদ রেজা চৌধুরী জানান, অ্যালবামে ‘ভিআইপি’, ‘ঘুম’, ‘ডাক’, ‘মায়া’, ‘তোমার চেহারা’সহ ১০টি গান থাকবে। অ্যালবামের ‘ঘোর’ ও ‘ভাঙা আয়না’ শিরোনামের দুটি গান আগেই প্রকাশিত হয়েছে।

    স্পটিফাই, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১০টি গান একসঙ্গে প্রকাশ করবে নেমেসিস। অ্যালবামটি নিয়ে জোহাদ রেজা চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রায়ই ভিআইপি কালচার দেখি, রাস্তাঘাটে বের হলে ভিআইপিদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়; ট্রাফিকে আটকে থাকতে হয়। প্রতিদিন কেউ না কেউ ভুক্তভোগী হন। ভিআইপি কালচার নিয়েই “ভিআইপি” গানটি করেছি।’

    অ্যালবামের ধরন নিয়ে জোহাদ বলেন, ‘সাউন্ডওয়াইজ আরেকটু নিরীক্ষা করার চেষ্টা করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি ইলেকট্রনিক মিউজিক খুব পছন্দ করি। তাই সেই সাউন্ডগুলো নতুন গানে যুক্ত করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটা গান লিরিক অনুযায়ী আরও বেশি আপন মনে হয়েছে। কারণ, এসব গানের বেশির ভাগই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বানানো। ২৫ বছর ধরে নেমেসিস আছে, তাই আরেকটু নিরীক্ষাধর্মী কাজ না করলে নিজেদের মধ্যে অনুতাপ থেকে যাবে ভেবেছি।’

    ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে নেমেসিস। ২০০৫ সালে আসে তাদের প্রথম একক অ্যালবাম অন্বেষণ। ২০১১ সালে দ্বিতীয় অ্যালবাম তৃতীয় যাত্রা। ২০১৭ সালে গণজোয়ার। ‘বীর’, ‘নির্বাসন’, ‘তৃতীয় যাত্রা’, ‘এগিয়ে যাও’, ‘গণজোয়ার’সহ বেশ কয়েকটি গানের জন্য শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে নেমেসিস।

    বর্তমানে নেমেসিসের সদস্য পাঁচজন। লাইনআপ হচ্ছে জোহাদ রেজা চৌধুরী (ভোকাল ও গিটার), রাফসান (গিটার), ইফাজ (গিটার), রাতুল (বেজ গিটার) ও জেফ্রি (ড্রামস)।

  • সেই আদমপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে মোদি, পাকিস্তানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি

    সেই আদমপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে মোদি, পাকিস্তানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি

    এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পেছনে রেখে পাঞ্জাবের আদমপুর বিমানঘাঁটি থেকে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পাকিস্তান শুধু ভারতের কোনো সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে ব্যর্থই হয়নি, যদি তাদের মাটি থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তাহলে তাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে এটিই ছিল নরেন্দ্র মোদির প্রথম ভাষণ। তিনি চার দিনের অভিযানে নয়টি ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ ধ্বংস এবং পাকিস্তানের আটটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানায় সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    প্রায় ২৭ মিনিট দীর্ঘ ওই ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আপনারা যা করেছেন, তা অভূতপূর্ব, অকল্পনীয় ও বিস্ময়কর।’ তাঁর এই বক্তব্যে কার্যত সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া মোদির ভাষণের বার্তাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

    তবে মোদির এই ভাষণের তাৎপর্য অনেক। ভাষণটি পাঞ্জাবের আদমপুর বিমানঘাঁটি থেকে দেওয়া হয়। এটি পাকিস্তান সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ–ব্যবস্থাসহ ঘাঁটিটি ধ্বংস করেছে। ভারত এসব দাবি সরাসরি উড়িয়ে দেয়।

    নরেন্দ্র মোদি বলেন, অপারেশন সিঁদুর এখন পাকিস্তানের জন্য একটি স্পষ্ট ‘লক্ষ্মণরেখা (চূড়ান্তসীমা)’ টেনে দিয়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই মঙ্গলবার ভোরে তিনি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান এবং ইউনিফর্মে থাকা বিমানবাহিনীর সেনাদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় সেনারা ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি দেন।

    সেনাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর নরেন্দ্র মোদি ভাষণ দেন। এ সময় পেছনে দৃশ্যমান ছিল এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা আর তাঁর মাথায় ছিল ‘ত্রিশূল’ চিহ্ন–সংবলিত দেশটির বিমান বাহিনীর ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের টুপি।

    সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকরা এখন বুঝে গেছে, ভারতের দিকে দৃষ্টি দেওয়া মানেই তাদের নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।’

    উল্লেখ্য, আদমপুর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানঘাঁটি। এখানে রাফাল ও মিগ-২৯ স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে। ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে এই বিমানঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • জিপিও ভবন ‘সচিবালয়ে যুক্ত করার প্রস্তাবের’ প্রতিবাদ

    জিপিও ভবন ‘সচিবালয়ে যুক্ত করার প্রস্তাবের’ প্রতিবাদ

    রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) ভবন ও ডাক বিভাগের সাবেক প্রধান কার্যালয়কে পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত উল্লেখ করে তা সচিবালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তার প্রতিবাদ করেছেন বিভাগের কর্মীরা। পাশাপাশি এই প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    সম্প্রতি বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ও ডাক বিভাগের (ডাক জীবন বীমা, পূর্বাঞ্চল, ঢাকা) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আতিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিপিও ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত’ দাবি করে তা সচিবালয়ের এক্সটেনশন হিসেবে সচিবালয়ের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্তি ও হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    এ প্রস্তাবে উল্লিখিত তথ্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, জিপিও কম্পাউন্ড সরকারঘোষিত একটি কেপিআইভুক্ত স্থাপনা। এখানে ডাক বিভাগের ১৪টি অপারেশনাল অফিস সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখান থেকে ডাকসেবা গ্রহণ করছে। ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার এই কেন্দ্র কখনোই পরিত্যক্ত ছিল না।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ডাক ভবনে স্থানান্তরিত হলেও অন্যান্য অপারেশনাল অফিস আগের মতো জিপিও কম্পাউন্ডেই চলমান।

    ডাক বিভাগের মতামত ছাড়াই এ ধরনের চিঠি দেওয়া এবং তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করায় নিন্দা জানিয়ে বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, জিপিও ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ডাক বিভাগের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের জায়গা, তাদের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ভবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো উদ্যোগকে তারা সরাসরি দেশের ডাকসেবার ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করে।

  • সাবেক সংসদ সদস্য রুবিনা আক্তার ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের পৃথক মামলা

    সাবেক সংসদ সদস্য রুবিনা আক্তার ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের পৃথক মামলা

    জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই অভিযোগে তাঁর স্বামী মো. মোশারফ হোসাইন সরদারের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।

    রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা নিজের নামে ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৪ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন, যার বৈধ কোনো উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাঁর নামে থাকা ১০টি ব্যাংক হিসাবে ১৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৯৬৪ টাকা জমা এবং ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৬৮ টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

    দুদক জানায়, এসব লেনদেন সন্দেহজনক এবং তা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একই ধরনের অভিযোগে সৈয়দা রুবিনা আক্তারের স্বামী মো. মোশারফ হোসাইন সরদারের বিরুদ্ধেও একটি মামলা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি নিজের নামে ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে থাকা তিনটি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ১৮৪ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৪০৪ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ১৮২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৮ টাকা। এ হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

    এ মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। মো. মোশারফ হোসাইন সরদারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্ত্রী রুবিনা আক্তারের সহায়তায় তিনি এসব করেছেন।

  • মাছের বাজারে চেরি ব্লসম

    মাছের বাজারে চেরি ব্লসম

    টকটকে লাল ট্রেনটা অন্তত দুবার ঘুরে গেল আমাদের সামনে দিয়ে। ট্রেনের জন‍্য অপেক্ষা করতে করতে আমাদের একটা আইসক্রিম খাওয়া শেষ। আরেকটি খাব? এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গরমও লাগছে। আইসক্রিমের লাইনে বিরাট লম্বা ভিড়। ট্রেনে চড়ার লাইনেও। কোনটা ধরব? টরন্টো শহরে লাইনে না দাঁড়িয়ে কোনো কিছু করার মতো অর্বাচীন আছে কে?

    তৃতীয়বারও ট্রেনটা একদম যাত্রীভর্তি হয়ে আমাদের স্টপেজে এল, আর এখান থেকে কোনো যাত্রীই নিল না। টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে আছে এক জেন-জি। ‘আমি কী করব’-জাতীয় ভাব ধরে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে সে।

    আমার বন্ধু ফারজানা শাহরিনের জেদ চেপে গেল। ‘তুই এইখানে দাঁড়া, কাহিনি কী দেখে আসি,’ বলে আমি তার পিছু নেওয়ার আগেই জ‍্যাকেট, ব‍্যাগসহ ছুট দিলাম সামনে। ওখান থেকে ফোনে জানাল আসল কাহিনি। ওটা প্রথম স্টপেজ। সেখান থেকেই একদম ভরে পরের স্টপেজগুলোয় আসছে। এটাও কি সম্ভব! ওরা সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী তুলবে না! মতিঝিল কিংবা ফার্মগেটের কন্ডাক্টর হলে এমনটা করতে পারত! আর আমাদের এত কষ্ট করে ট্রেনে ওঠার কী দরকার! চেরি তো আমরা দেখেই ফেলেছি। আর ট্রেনে কি জীবনে উঠিসনি। আমরা তো ট্রেনে যমুনা ব্রিজ পার করেছি, কতবার আমার মা-খালারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পার করেছে…আর কানাডার এই খেলনা ট্রেন… ‘দৌড় দিয়ে এই স্টপে আয়। ট্রেন প্রায় চলে এসেছে,’ শাহরিনের শীতল কণ্ঠ শুনে আমি আর তর্ক করার সাহস পেলাম না।

    গিয়ে শুনি ওখানেও এতক্ষণ ছিল এক জেন-জি। এই স্টপেজেই ট্রেন ভরে গেলে পরের স্টপেজে মানুষ উঠবে কীভাবে, এ নিয়ে তার হেলদোল নেই। যাক, বুদ্ধি করে প্রথম স্টপেজে এসে ট্রেন ধরব আর পরের স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে ‘কানাডিয়ান নাইসনেস’ দেখিয়ে বেশ একটা সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকাব, একটু মাথা নেড়ে ‘সরি’ বলার ভঙ্গি করব, এসব ভেবে ভালো লাগছে। এর মধ্যে জেন-জির শিফট শেষ হলো। এলেন বুমার আর মিলেনিয়ালের মাঝামাঝি এক নারী। ট্রেন এলে কয়েকটা সিট ভরলে তিনি রীতিমতো দরজা আগলে ‘নো, নো, নেক্সট ট্রেন’ করতে থাকলেন।

    আমরা এসেছি টরন্টোর হাই পার্কে চেরি ব্লসম দেখার মৌসুমে। সকালে-বিকেলে জ্যাকেট লাগে, আবার দুপুরে কটকটে রোদ। কানাডার আবহাওয়ার মুড সুইংয়ের সময় এটা। অবশ্য তৈরি হয়েই এসেছি আমরা। জ‍্যাকেটের নিচে পছন্দের পোশাক, ব‍্যাকপ‍্যাকে পানি।

    লাল টুকটুকে ছোট্ট একটা ট্রেন। বড়জোর ১৫-২০ জন বসতে পারে। লাল লাল বেঞ্চ। ট্রেন বলাও যায় না বোধ হয় একে। ট্র্যাক নেই কোনো। চারপাশ খোলা। টরন্টো শহরের মধ্যে হাই পার্কটা এত বিশাল, ট্রেনে চড়ে একবারে ঘুরে দেখার জন্যই রয়েছে এটা। এটুকু ট্রেনে ওঠার জন্য এত পাগল হওয়ার কী আছে! এ তো শিশুপার্কের ট্রেনের চেয়েও ছোট! আমরা আন্তনগর ভেজে খেয়ে ফেলার দেশের মানুষ। আমার বন্ধুর এই ট্রেন ব‍্যাকুলতার কোনো ব‍্যাখ‍্যা নেই।

    তবে সিটি বাজিয়ে সত্যিই যখন ট্রেনটা চলা শুরু করল, মুখে লাগল হাই পার্কের ঘাস-মাটি আর দূর থেকে আসা কোনো ফুলের মিষ্টি গন্ধ—আমি আমার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে হাসলাম যার অর্থ, ‘ইটস টোটালি ওয়ার্থ ইট।’ পাল্টা হাসিতে সে-ও বুঝিয়ে দিল, ‘জানতাম।’ স্কুলজীবনের বন্ধুদের তো আর সব মুখে বলে বোঝাতে হয় না!

    দুই-তিন স্টপেজ পরেই আমরা নেমে গেলাম। ছবি তুলতে হবে তো! ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বড় ক‍্যামেরা, ট্রাইপড, বিরাট বিরাট লাইট নিয়ে ছবি তুলতে এসেছে মানুষ। বড় গাছগুলোর সামনে বেজায় ভিড়। আমরা ধারেকাছেই যেতে পারছি না। এরপর ঠিক করলাম আমাদের তো গাছ দরকার নেই। লাগবে চেরি ফুলের বড়সড় কয়েকটা ছড়া। একটু ফাঁকা দেখে ছোট একটা গাছ খুঁজে বের করে জ‍্যাকেট-ব্যাগ মাটিতে রেখে ছবি তোলা শুরু করলাম। পরে দেখি অনেকেই এই বাঙালি বুদ্ধি খাটানো শুরু করল। ছোট গাছের সামনেও ভিড় জমতে থাকল। আমরা ফোন চেক করলাম। অন্তত পাঁচটা ছবি হয়েছে না পোস্ট করার মতো! আবার চোখাচোখিতে যোগাযোগ, ‘ডান! চল এবার খেতে যাই।’

    ওগো বিদেশিনী/ তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার শিউলি নাও

    চেরি ফুলের ছবি পোস্ট করেছি আর এই কথাটুকু কেউ মন্তব্যে লেখেনি, আজ পর্যন্ত তা ঘটেনি। এই গান আমার আগে শোনা হয়নি। ব‍্যাপারটা কী। একবার ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখলাম। লাল মেমসাহেব সিনেমার গান। প্রয়াত শিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের গাওয়া গান। অভিনয়ে অলিভিয়া ও ওয়াসিম।

    পুরো গানটা শুনে বুঝলাম চতুর্থ লাইনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
    ওগো বিদেশিনী
    তোমার চেরি ফুল দাও
    আমার শিউলি নাও
    দু’জনে প্রেমে হই ঋণী

    চেরি ফুল নিয়ে এত সুন্দর গান কি জাপানেও হয়েছে? আমি হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় ক‍্যাটাগরিতে পড়ি। একদল আছে না, যাদের বিদেশের সবকিছুই ভালো লাগে। আরেক দল যা-ই দেখে মুখ বাঁকা করে বলে এ তো আমাদের দেশেই আরও ভালো পাওয়া যায়!

    শিউলির সঙ্গে চেরির অদলবদল? নাহ আমি মনে হয় রাজি হতাম না। এক, চেরি ফুলের স্থায়িত্ব খুব কম। মার্চ-এপ্রিল-মে বলা হলেও গোটা বছরে বড়জোর সপ্তাহ চারেক থাকে এই ফুল। আর তার চেয়েও বড় কথা, আমি আসলে আজ অবধি বুঝিইনি এর হালকা গোলাপি থেকে সাদার মাঝের নরম, খুব সূক্ষ্ম সৌন্দর্য। আমরা তো আগুনরঙা ফুলের দেশের মানুষ—কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জবা, রক্তকরবী, জারুল। আমাদের হালকা রঙের ফুলগুলোও তীব্র সুগন্ধে জানান দেয় তার উপস্থিতি—শিউলি, বকুল, হাসনাহেনা, কামিনী। অত নরম, পলকা, ‘এসেই বলে যাই যাই’ চেরিতে আমাদের পোষায় নাকি!

    ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইছবি: রুহিনা তাসকিন

    তবে কানাডার সরকার কিন্তু এই গানের কপিরাইট নিয়ে অনুবাদ করে কাজে লাগাতে পারে। কানাডার চেরি ফুল সব জাপানের উপহার দেওয়া। বন্ধুত্ব-সৌহার্দ‍্যের প্রতীক হিসেবে। এর বদলে কানাডাও কিন্তু গান গেয়ে ধন্যবান জানাতে পারে।
    কানাডার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গাইছেন—ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার মেপল নাও।
    দারুণ না ব‍্যাপারটা!

    শহরের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা

    ‘ছয় টাকা ভাড়া। যাবেন?’
    ‘ওঠেন।’
    রিকশাওয়ালার এই কথা শুনলেই আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করত। তার মানে আমরা বড় খালার বাসায় যাচ্ছি। আর খালার বাসায় যাওয়ার পথেই পড়বে সেই রাস্তাটা। জানি, তা-ও জিজ্ঞেস করতাম, ‘আমরা কি ওই রাস্তাটা দিয়ে যাব?’ অনেক পরে জেনেছি, ওই রাস্তাটা হলো শহীদ মিনার থেকে নীলক্ষেত। লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়ায় ভরা। আমি আজও এই দুই ফুলের পার্থক্য মনে রাখতে পারি না।

    শহীদ মিনারের দিকে এগোতে থাকলেই আমরা রিকশার হুড ফেলে দেব। আম্মা শক্ত করে ধরে রাখবেন চার-পাঁচ বছরের আমাকে। আমাদের মাথার ওপর ছাউনি হয়ে থাকবে অজস্র লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়া। আমার মাথার ওপর টুপটুপ করে ঝরবে কিছু পাপড়ি। আম্মা সাবধানে সরিয়ে দিয়ে আমার ক্লিপ দিয়ে চুল ঠিক করে দেবেন।
    এরপর ওই রাস্তাই একরকম আমার ঘরবাড়ি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে পড়ার সময়। কতবার হেঁটে, রিকশায় পার করেছি শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তাটা। তখন আর তা সবচেয়ে সুন্দর মনে হতো না। জ্যাম পড়লে বিরক্ত হতাম, ক্লাস ধরার তাড়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার বিরক্তি। আম্মাকেও কোনো দিন বলিনি, মা চলো তোমাকে হুডখোলা রিকশায় আমার ক‍্যাম্পাস দেখিয়ে আনি।

    প্রতিবছর কানাডায় আমি আর শাহরিন চেরি ব্লসম দেখতে যাই। ওর ডাকনাম তিসি, আর আমার শামা। সময় অনুযায়ী চেরি ফুলের রং বুঝে একই রকম কাপড় পরে তিসি আর শামা চেরি ব্লসম দেখতে যাবেই। এ বছর চেরি ব্লসমের সময়টা আমি কানাডায় নেই। তিসি অনেকবার টেক্সট দিয়েছে, ‘তুই আসলি না, আমরা চেরি দেখতে যাব না?’

    অন‍্য সময় হলে হয়তো আমার খারাপ লাগত। কিন্তু এবার ওর সঙ্গে আছে ছোট্ট আরিশা। স্ট্রলারে করে আরিশাকে নিয়ে ও ঠিকই যাবে হাই পার্ক। আরিশা ফুল দেখার চেয়ে রঙিন আইসক্রিমের দিকেই তাকিয়ে থাকবে। ওর কপালে এসে পড়বে চেরির পাতলা পাপড়ি। তিসি আলতো হাতে তুলে নিয়ে ক্লিপ দিয়ে ওর চুলটা ঠিক করে দেবে। ওরা হয়তো পার্ক থেকে ভিডিও কল দেবে আমাকে। আমি না থাকলেও আরিশার সঙ্গে লাল টুকটুকে ট্রেনে চড়ে মা-মেয়ে এবার চেরি ব্লসম দেখবে।

  • চিকিৎসক-সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

    চিকিৎসক-সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, পেশাগত মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭ হাজার চিকিৎসককে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির (ওএসবি) ৫২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

    এ সময় নূরজাহান বেগম বলেন, ‘চিকিৎসকদের পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগকে আমরা মূল্য দিই। দীর্ঘদিন ধরে অনেক চিকিৎসক তাঁদের ন্যায্য পদোন্নতি ও বেতনকাঠামো পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে বড় পরিসরে পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই, চিকিৎসকেরা উৎসাহ নিয়ে দায়িত্ব পালন করুন।’

    বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির আহ্বায়ক শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর শাহিনুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

    তিন দিনের এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি চক্ষুবিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।






  • টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    উপকরণ

    টক দই ২ কাপ, ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ১ কাপ, শর্ষে অল্প পরিমাণ, পেঁয়াজবাটা ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ টেবিল চামচ, শর্ষের তেল অল্প পরিমাণ।

    প্রণালি

    ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ভেজে তুলে রাখুন। দই অল্প পানিতে মসৃণভাবে গুলে নিতে হবে। কোনো রকম দানা দানা ভাব থাকতে পারবে না। শর্ষে ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজবাটা হালকা করে ভেজে নিতে পারেন। গোলানো দই ঢেলে দিন। লবণ ও চিনি দিন। ফুটে উঠলে ভাজা বেগুনগুলো দিয়ে নামিয়ে নিন। দই বেশি ফুটতে থাকলে ফেটে গিয়ে ছানা কেটে যাবে। সেদিকে লক্ষ রাখুন।

  • যোগাসন না পিলাটিস, ফিটনেসের জন্য কোনটি ভালো

    যোগাসন না পিলাটিস, ফিটনেসের জন্য কোনটি ভালো

    যোগাসন ও পিলাটিস এই সময়ের জনপ্রিয় দুই শরীরচর্চার পদ্ধতি। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে অনেকেই এই দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটির দিকে ঝুঁকছেন। অনেকে আবার দুটি পদ্ধতির চর্চা করছেন সমন্বয় করে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, পিলাটিস না যোগাসন, শরীরের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর? বা কোনটিতে বেশি উপকার?

    যোগাসন

    নিয়মিত যোগাসন করলে শরীর নীরোগ থাকে। এটি এমন এক শরীরচর্চা, যার কোনো নেতিবাচক দিক নেই। প্রয়োজন হয় না কোনো যন্ত্রপাতিরও। যেকোনো বয়সে যে কেউ যোগাসন শুরু করতে পারেন। জিমে গিয়ে যাঁরা শরীরচর্চার সময় পান না, তাঁদের জন্য যোগাসন আদর্শ। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে যোগাসন বেশ কার্যকর। এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় যে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে, তা প্রতিরোধের জন্যও যোগাসনে রয়েছে বিভিন্ন আসন। ঋতু পরিবর্তনে যে রোগগুলো শরীরে হানা দেয়, নিয়মিত যোগচর্চায় সেসব থেকেও মিলবে মুক্তি।

    পিলাটিস

    অপর দিকে পিলাটিসকে বলা হয় কার্ডিও ব্যায়াম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জোসেফ পিলাটিস আহত সৈনিকদের নানা ধরনের শারীরিক কসরতের মাধ্যমে আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই পিলাটিস নামের শরীরচর্চার জন্ম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যখন নানা ধরনের ব্যথার উৎপত্তি হয়, তখন পিলাটিস অনুশীলনে আরাম মেলে।

    শরীরচর্চার জন্য এই দুটি পদ্ধতিই জনপ্রিয়। যোগ প্রসঙ্গে যোগব্যয়াম প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তুনু জানান, যোগাসনে সাধারণের রোগ বা শারীরিক সমস্যার প্রতিকার মিলবে। তবে যোগাসনের ক্ষেত্রে ব্রিদ্রিং এক্সারসাইজ বা শ্বাসপ্রশ্বাসের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাস ঠিক না থাকলে নিয়মিত যোগাসন করলেও কোনো উপকার মিলবে না। তবে শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক রেখে যাঁরা যোগাসন করেন, তাঁরা অনেক উপকার পান। যেহেতু শরীর ও মনের যোগকে বলে যোগাসন বা ইয়োগা, এই যোগ সম্পন্ন করে নিশ্বাস। মানুষ নিশ্বাস নিতে নিতে প্রাণায়ামের মধ্য দিয়েই নানা আসন করেন। যোগাসনে শরীরের প্রতিটি সমস্যা ধরে ধরে আলাদাভাবে আসন করা হয়। উচ্চতা বৃদ্ধি, মুখের গড়নে পরিবর্তন, পেটের মেদ কমানোর মতো আরও অনেক উপকারিতা মেলে যোগাসনে।

    অপর দিকে যাঁরা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন, তাঁদের জন্য পিলাটিস বেশ কার্যকর। পিলাটিস শরীরের কাঠামো ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের জটিল সব রোগ সারাতে সাহায্য করে। তবে শরীরের ধরন ও জীবনযাপন বুঝে পিলাটিস করা ভালো। অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া একসময় নিয়মিত যোগাসন করতেন। এখন পিলাটিসে ঝুঁকেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত হলো, যোগাসনের চেয়ে পিলাটিসে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। পিলাটিস বডি টোনিংয়ের জন্য খুব ভালো। শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়। লুকে একধরনের বোল্ডনেস আনে বলেও মনে করেন নুসরাত ফারিয়া।

  • রোজ এক কাপ চানা বুট খেলে কী হয়, জানেন?

    রোজ এক কাপ চানা বুট খেলে কী হয়, জানেন?

    চানা বুট বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার। কোনো এক বেলার স্ন্যাকস তো বটেই, রাতের খাবারের বিকল্পও হতে পারে এক কাপ চানা বুট। চানা বুটে আছে আমিষ, শর্করা এবং দেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান। আরও আছে পর্যাপ্ত আঁশ। এ সম্পর্কে জানালেন টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খান।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ

    পর্যাপ্ত আঁশ ও আমিষ থাকায় চানা বুট খেলে আপনার সহজে ক্ষুধা লাগবে না। আবার এতে শর্করাও পাবেন। অর্থাৎ কর্মক্ষম ও সতেজ থাকার জন্য আপনি পর্যাপ্ত ক্যালরিও পাবেন তা থেকে। বুঝতেই পারছেন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে রোজ চানা বুট খেতে পারেন। এভাবে ওজন কমানো সহজ হবে।

    আঁশের উপকার এখানেই শেষ নয়

    পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ। রক্তের খারাপ চর্বি কমাতেও কাজে আসে এই আঁশ। তা ছাড়া আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে হুট করে রক্তের সুগার বেড়ে যায় না, যেমনটা বাড়ে সাদা ভাত খেলে। চানা বুটের মতো আঁশযুক্ত খাবার খেলে রক্তের সুগার বাড়ে ধীরে ধীরে, স্বাস্থ্যকরভাবে।

    খনিজ উপাদানের উপকার অনেক

    চানা বুটে আছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও সেলেনিয়াম। চুল ও ত্বক সতেজ রাখার জন্য তো বটেই, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এসব উপাদান আমাদের প্রয়োজন রোজ। এসবের মধ্যে জিংক ও সেলেনিয়াম অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তার মানে তারুণ্য ধরে রাখতেও কাজে আসে এসব উপাদান। তা ছাড়া চানা বুটে আরও আছে সামান্য পটাশিয়াম ও আয়রন। তবে এই আয়রন দেহের কাজে লাগানোর জন্য এর সঙ্গে চাই ভিটামিন সি। অর্থাৎ টক ফল বা ফলের রসের সঙ্গে খেলে তবেই এই আয়রন কাজে লাগবে। হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতার জন্য সঠিক মাত্রায় পটাশিয়াম জরুরি। আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক। তবে কেবল এক কাপ চানা বুটের আয়রনের ওপর নির্ভর করে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

    বিকল্প আমিষ

    চানা বুটে যে আমিষ থাকে, তা দেহের আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। তবে এটি উদ্ভিজ্জ আমিষ হওয়ায় একে দ্বিতীয় শ্রেণির আমিষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, উদ্ভিজ্জ আমিষে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে না। সুস্থ থাকতে সারা দিনে চানা বুটের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও আমিষ গ্রহণ করতে হবে। আপনি চাইলে এক কাপ চানা বুটের সঙ্গে একটা সেদ্ধ ডিম কুচি করে যোগ করে নিতে পারেন। ডিম প্রাণিজ আমিষ বলে তা প্রথম শ্রেণির আমিষ। অর্থাৎ এতে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব কটি অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। চানা বুটে যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো নেই, সেসবের ঘাটতি মেটানো যায় এভাবে। অর্থাৎ চানা বুটের সঙ্গে ডিম যোগ করলে আমিষের মোট পরিমাণও বাড়ে, আবার আমিষের গুণগত মানও বাড়ে।

    খেয়াল রাখুন

    • চানা বুটে টক ফলের রস যোগ করলে আপনি ভিটামিন সির উপকারও পাবেন।
    • কাঁচা সবজি যোগ করলে পাবেন ভিটামিন বি।
    • চানা বুট সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো। তেল যোগ করা হলে ক্যালরির মাত্রা বেড়ে যাবে। তাতে ওজন নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হবে।
  • গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?

    গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?

    প্রচণ্ড গরমে বড়দের চেয়ে অনেকটাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। তাপপ্রবাহে সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে তাদের ছোট্ট দেহ। তৃষ্ণা পেলে অনেক সময় তারা তা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম না-ও হতে পারে। শিশুরা যদি বোঝার মতো বয়সী হয়, তাহলে গরমের সময় কী খাওয়া উচিত, কী খাওয়া উচিত নয়—এসব বিষয়ে শিশুকে জানিয়ে রাখা ভালো। পোশাক বা খেলাধুলার মতো রোজকার সাধারণ ব্যাপারেও যত্নবান হোন। নিত্যদিনের জীবনযাপনে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

    মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. তাসনুভা খান বলেন, ‘গরমে শিশুর পানির চাহিদা মেটানোর অর্থ কিন্তু এই না, তাকে বারবার জবরদস্তি পানি পান করাতে হবে। বরং তার দেহের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন। শিশু প্রস্রাব করার সময় রং ও পরিমাণ খেয়াল করুন। শিশু যদি পর্যাপ্ত প্রস্রাব করে এবং প্রস্রাবের রং যদি হয় হালকা হলুদ খড়ের মতো, তাহলে

    এই চিকিৎসকের কাছ থেকে এই সময়ে শিশুর যত্নে কিছু ভুল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

    পানি নিয়ে জোরাজুরি

    বয়স ছয় মাস পার হলে শিশুকে পানি পান করানো শুরু করতে হয়। দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ থেকেই পানির চাহিদা অনেকটা মিটে যায়। পানি, অন্যান্য তরল ও ফলমূল থেকেও সে পানি পায়। সারা দিনই মাঝেমধ্যে শিশুকে পানি বা তরল খাবার খেতে উৎসাহ দিন। ফলের রস বা স্মুদি করে দিতে পারেন। তবে খুব বেশি চিনি দেওয়া পানীয় দেবেন না। তার সঙ্গে নিজেও পানি পান করুন। স্কুলে গেলেও যাতে পর্যাপ্ত পানি পায়, সে ব্যবস্থা রাখুন। তবে পানিশূন্যতার লক্ষণ না থাকলে শিশুকে পানি পান করানোর ব্যাপারে জোর করবেন না। অকারণ বিরক্তি ভাব বা জেদ, খানিকটা নিস্তেজ ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের প্রস্রাব হওয়া, মুখ বা জিব শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া প্রভৃতি হতে পারে পানিশূন্যতার লক্ষণ।

    যা খুশি তা–ই খাওয়া

    গরমে পানি ও খাবারের মাধ্যমে বহু মারাত্মক রোগ ছড়ায়। অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা পানীয় ও খাবারের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণ হয়। এগুলো এড়িয়ে চলার ব্যাপারে শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, স্কুলের পথে একলা সুযোগ পেলেও যেন সে এসব খাবার না খায়। রসনার তৃপ্তি মেটাতে বাড়িতে তার পছন্দের খাবার ও পানীয় তৈরি করে দিন। আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করবেন না, যদি না ঠান্ডায় তার খুব বেশি অ্যালার্জি থাকে। মাঝেমধ্যে আইসক্রিম বা হালকা ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার সুযোগ দিন, তবে তা যেন নিরাপদভাবে তৈরি করা হয়। তাকে এটাও বুঝিয়ে বলুন, কড়া রোদ থেকে ঘরে বা ক্লাসে ঢোকামাত্রই ঠান্ডা কিছু খাওয়া উচিত নয়। একটু রয়েসয়ে তারপর সে খেতে পারে হালকা ঠান্ডা পানীয় বা খাবার।

    পোশাক ও পরিচ্ছন্নতার ভুল

    • বাইরে গেলে হাতাকাটা পোশাক পরানো ভুল। কারণ, তাতে রোদ আর ধুলা–ময়লায় বেশি ক্ষতি হয়। পাতলা সুতি কাপড়ের ফুলহাতা জামা-পায়জামা পরালে শিশু সুরক্ষিত থাকবে।

    • আঁটসাঁট পোশাক পরানোও ভুল।

    • গাঢ় রঙের পোশাক পরানোও উচিত নয়। কারণ, এগুলো তাপ ধরে রাখে।

    • যিনি খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশন করবেন, হাত ধোয়ার ব্যাপারে তাঁর উদাসীন হওয়াটা মারাত্মক ভুল।

    • দুধ ও অন্যান্য খাবার খুব বেশি সময় বাইরে রাখা ঠিক নয়। এগুলো গরমে নষ্ট হয়ে যায়। সব খাবারই সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা জরুরি।

    খেলার সময়কার ভুল

    • কড়া রোদের সময় বাইরে বা ছাদে খেলতে দেওয়ার ভুলটা করবেন না। খুব গরমে ঘরেই খেলুক। দুপুরে স্কুলে থাকলেও যাতে সে ভুলটা না করে।

    • শিশু যদি পার্কে খেলতে যায়, তাহলে তাকে আগেই ধাতব খেলার সামগ্রীগুলোতে উঠতে দেওয়া আরেক ভুল। প্রথমে এগুলোর তাপমাত্রা হাতের তালুর উল্টো পিঠ দিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কারণ, দুপুরের রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ধাতবসামগ্রী পরেও গরম থাকতে পারে। এগুলো তাপমাত্রাসহনীয় হলে তাকে উঠতে দিন।

    • পানির কাছে তাকে একা ছাড়ার ভুলটি করা যাবে না। ঝোপঝাড়ে শিশু যেন হাত না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।