চট্টগ্রাম বিভাগ

  • কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৩৫১

    কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৩৫১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লায় মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অংশ নেয়। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা ও কুমিল্লা মহানগরীর যেসব স্থানে কিশোরদের উৎপাত, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

    তিনি আরো জানান, আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই শেষে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মোট পাঁচ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিন হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া দুই হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ,আর

  • পান বিক্রি হচ্ছে তিন ভাগের এক ভাগ দামে

    পান বিক্রি হচ্ছে তিন ভাগের এক ভাগ দামে

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পানের উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর যে পান ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এ বছর তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে বেচাকেনা জমজমাট থাকলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

    রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকার পান কেনাবেচা হয়। মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন এলাকার চাষিরা পান নিয়ে বাজারে আসেন। ভোরে শুরু হয় বেচাকেনা, যা চলে সকালজুড়ে। এ বাজারের পান স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাতিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

    বাজারে পান বিক্রি করতে এসে হতাশা প্রকাশ করেন চাষি সাহেদ মাঝী। তিনি বলেন, “এত পান নিয়ে আসছি, বিক্রি করে বলদের পয়সাও হবে না।” তার কথায়, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় চাষিদের দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে।

    চাষিরা জানান, এ বছর পানের সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারদর না বাড়ায় তারা প্রত্যাশিত আয় পাচ্ছেন না। এতে চাষের খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

    পানচাষি বারেক উদ্দিন বলেন, শ্যামবাজার ও চাঁদপুরের মতো রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারেও ব্যাপক পরিসরে পানের বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে পান কিনতে আসেন।

    রায়পুরে পানের বেচাকেনার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন বাজার পানহাটা, হায়দরগঞ্জ বাজার ও ক্যাম্পেরহাট। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে পানচাষি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পান সরবরাহ করা হয়।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে নিয়মিত বেচাকেনা সত্ত্বেও দাম কম থাকায় চাষিরা আর্থিক সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের পানকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।

  • জমির উর্বর মাটি না কাটার  আহ্বান

    জমির উর্বর মাটি না কাটার আহ্বান

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়।

    বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট অবৈধ ইটভাটাগুলোকে লক্ষ্য করে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এসব ভাটায় আগুন দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং ইট তৈরিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

    পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ বাড়ে। অন্যদিকে, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

    এ কারণে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা এবং ইট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কর্মসূচিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, অবৈধ ইটভাটায় আগুন দেওয়া এবং ইট তৈরিতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করে কেউ যেন ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা না করেন, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

  • কুমিল্লায় পরিত্যক্ত বস্তা থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার

    কুমিল্লায় পরিত্যক্ত বস্তা থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কটকবাজার এলাকা থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কটকবাজার এলাকায় পুরোনো প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল ও ম্যাগাজিন দুটি পাওয়া যায়।

    উদ্ধার করা অস্ত্র ও ম্যাগাজিনের ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র মামলা দায়েরের মাধ্যমে তা হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষা, অপরাধ দমন এবং সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর ভূমিকা পালন করছে।’ এ,আর

  • রামগড়ে দরিদ্র পরিবারের পাশে বিজিবি

    রামগড়ে দরিদ্র পরিবারের পাশে বিজিবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খাগড়াছড়ির রামগড়ে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, আর্থিক সহায়তা, শিক্ষাসামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৩ ব্যাটালিয়ন।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রামগড় জোন সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা তুলে দেন জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আহসান উল ইসলাম। এ সময় ৪৩ বিজিবির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    রামগড় ৪৩ বিজিবি জানায়, সহায়তার মধ্যে ছিল বসতঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন, বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বৌদ্ধবিহারে আর্থিক অনুদান এবং উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সহায়তা। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য খেলাধুলার সামগ্রী এবং অসুস্থ ও দুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়।

    বিজিবি আরো জানায়, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জনকল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আহসান উল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাও আমাদের দায়িত্ব। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি সব সময় কাজ করে যাবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলবে।’ এ,আর

  • বিজয়নগরে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার, চাচাতো ভাই আটক

    বিজয়নগরে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার, চাচাতো ভাই আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নিখোঁজের দুদিন পর আজিম (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাইকে আটক করা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষ্মীমোড়া গ্রামের বড় পুকুর নামক স্থানের পুকুরের ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    মৃত আজিম ওই গ্রামের আলী আজগর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আজিমের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তিনি মরহুম হাসেম মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিখোঁজ হন আজিম। নিখোঁজের দিন ভোরে আটক রফিকুলের সাথে মোবাইলে তার সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকেই আজিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সোমবার রাতে রফিকুলের বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্গন্ধ পান স্থানীয়রা। পরে বাড়ির পাশের বড় পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে ঝোঁপ থেকে আজিমের লাশ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরের ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

    বিজয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব চন্দ্র সরকার জানান, জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • লাকসামে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি : থানায় জিডি

    লাকসামে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি : থানায় জিডি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার লাকসামে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়ার অভিযোগে গোলাম মাহবুব ছোবহানী নামে এক সাংবাদিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) লাকসাম থানায় এ জিডি করেন তিনি।

    জিডি সূত্রে জানা যায়, গোলাম মাহবুব ছোবহানী লাকসাম প্রেস ক্লাবের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং দৈনিক মাতৃছায়া পত্রিকার লাকসাম উপজেলা প্রতিনিধি ও বাংলা নিউজ টুযেন্টি ফোর-এর ডিজিটাল বিভাগের কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি ‘লাকসাম (সিটি নিউজ)’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন এবং একই নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করেন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে মনজুরুল হক নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকির শিকার হয়েছেন তিনি। তার বাড়ি পাশ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে।

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর লাকসাম কলেজের এক ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিজের পরিচালিত ‘লাকসাম সিটি নিউজ’ ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন সাংবাদিক রুবেল। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে এবং পরবর্তীতে পেজের ইনবক্সে মনজুরুল হক নামের এক ব্যক্তি তাকে প্রকাশ অযোগ্য অশ্লীল শব্দোচ্চারণে গালাগাল, প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এতে ভবিষ্যতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিয়ে লাকসাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ পান তিনি। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

    অভিযোগকারী গোলাম মাহবুব ছোবহানী বলেন, ‘মনজুরুল আমাকে হুমকি, ধমকি ও অশালীন আচরণের যাবতীয় প্রমাণাদি আছে। আমি প্রাথমিকভাবে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। প্রয়োজনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে মামলা করব।’

    লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ,আর

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক নিহত

    দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো: রুবেল (৩৯) নামে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

    নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মরহুম শাহ আলমের বড় ছেলে।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রুবেল। সেখানে ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে চাকরি করতেন তিনি। শনিবার রাতে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাস্থলেই রুবেল মারা যান।

    রুবেলের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।

    সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেবেন। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলোচনা করে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায়  বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির ৬০ সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০বিজিবি) একাধিক বিওপি এসব অভিযান পরিচালনা করে।

    রোববার (২৬ অক্টোবর) মঈনপুর, সালদানদী ও শংকুচাইল বিওপির বিজিবি সদস্যদের পৃথক অভিযানে এসব চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

    ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে আনা বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়।

    সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

    তিনি জানান, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ পণ্য প্রবেশ বন্ধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • জলবায়ুর ঝুঁকি বদলাচ্ছে পূর্বাঞ্চলের কৃষি

    জলবায়ুর ঝুঁকি বদলাচ্ছে পূর্বাঞ্চলের কৃষি

    জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, আকস্মিক বন্যা ও কৃষি উৎপাদনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পূর্বাঞ্চলের কৃষিকে আরও সক্ষম ও সহনশীল করে গড়ে তুলতে বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং) প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও বাংলাদেশ সরকারের ম্যাচিং গ্রান্টে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত বীজ উৎপাদন ও পানি সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

    কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর ৪০টি উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। প্রায় ৬৫ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে ৬ হাজার ৭৪০টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরও ১০ হাজার প্রদর্শনী বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

    একই সঙ্গে কৃষকের বাড়ির আঙিনা, অনাবাদি জমি, পুকুরপাড়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা ও রাস্তার পাশের পরিত্যক্ত জমি উৎপাদনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্যোগের পর কৃষি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।

    মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষে সুফল
    কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মন্তলী গ্রামের কৃষক হাসান এবার প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করেছেন। আগে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জমিতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি মরিচ চাষের কথা ভাবতেন না। বি-স্ট্রং প্রকল্পের সহায়তায় এবার সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।
    হাসান জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে জমিতে বেড তৈরি করে মালচিং শিট বিছিয়ে চারা রোপণ করেন। এতে জমির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সহজ হয়েছে, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা গেছে এবং আগাছার সমস্যাও কমেছে।
    পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে তিনি ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করেছেন। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে সার প্রয়োগ, সেচ, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্ষার মধ্যেও গাছ ভালো রয়েছে এবং কয়েক দফায় মরিচ সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

    হাসানের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ৩৩ শতাংশ জমি থেকে প্রথম দফায় ২০০ কেজি এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯০ কেজি—মোট ৪৯০ কেজি মরিচ বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তাঁর আয় হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার টাকা। গাছে এখনো মরিচ রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

    হাসানের অভিজ্ঞতা বলছে, উপযুক্ত প্রযুক্তি ও পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিকূল মৌসুমেও সবজি চাষের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ পদ্ধতির প্রকৃত লাভ নির্ধারণে উৎপাদন খরচ, ফলন ও বিক্রির হিসাব যাচাই করা জরুরি।
    দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারই একমাত্র লক্ষ্য নয়

    বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দুর্যোগের পর কৃষি ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করাই শুধু প্রকল্পের লক্ষ্য নয়; ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগে কৃষকের ক্ষতি কমানোর সক্ষমতা তৈরি করাও অন্যতম উদ্দেশ্য।
    তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশের পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে ফেনী ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই ক্ষতি কাটিয়ে কৃষি পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষকদের প্রস্তুত করার প্রয়োজন থেকেই প্রকল্পটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রকল্পের প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সহ-প্রধান সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়নসংশ্লিষ্ট সংস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনসহ একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে।

    উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ
    প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কমানো। একই সঙ্গে কৃষিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে ৩০ শতাংশ নারী এবং ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২০ শতাংশ তরুণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
    ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্পের পরিচালকসাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কম পানি, কম সময় ও কম খরচে বেশি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
    দুর্যোগের পর কৃষকের অন্যতম বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায় মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা। এ সমস্যা মোকাবিলায় ধান, গম, ডাল, তেলবীজ ও মসলাজাতীয় ফসলের উন্নত প্রযুক্তি এবং কৃষক পর্যায়ে বীজ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, বিএডিসির গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দুর্যোগের পর দূরবর্তী এলাকা থেকে বীজ সংগ্রহে সময়ক্ষেপণ ও সরবরাহসংকট কমবে বলে আশা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

    ডাল-তেলবীজ থেকে পেঁয়াজ-মরিচ
    এলাকার মাটি ও পরিবেশ উপযোগী করে খেসারি, মাষকলাই, মসুর, সরিষা, সূর্যমুখী ও সয়াবিনের মতো ফসলের চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গমের উন্নত জাতের প্রদর্শনী চলছে। নোয়াখালীতে পরীক্ষামূলকভাবে পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মরিচসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনেও কৃষকদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
    বর্ষাকালে উদ্যান ফসল চাষের ঝুঁকি কমাতে মালচিং প্রযুক্তি এবং উঁচু বেডে চাষের প্রদর্শনী করা হচ্ছে। টমেটো, মরিচ ও করলার মতো ফসলের ক্ষেত্রে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং গাছের গোড়া উঁচু রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
    বসতবাড়ির আশপাশের খালি জায়গা কাজে লাগাতে কৃষকদের মধ্যে ৫০ হাজার জিও ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। এসব ব্যাগে আদা ও মরিচ চাষের মাধ্যমে স্বল্প জায়গায় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
    প্রকল্প পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘কৃষকের বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা জায়গাটুকুও যদি উৎপাদনে আনা যায়, তাহলে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ও সম্ভব।’

    আমন কাটার আগেই সরিষা চাষ
    জমি চাষের খরচ, সময় ও পানি সাশ্রয়ে প্রকল্পের আওতায় জিরো টিলেজ বা চাষ ছাড়াই সরিষা উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে আমন ধান কাটার প্রায় ১০ দিন আগে জমিতে সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ধান কাটার পর সরিষা চাষের জন্য নতুন করে জমি প্রস্তুতের প্রয়োজন কমে যায়।
    একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ না করে স্বল্পমেয়াদি সরিষা বা খেসারির মতো ফসল অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    পানি সাশ্রয়ে বিকল্প সেচব্যবস্থা
    ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে ধান চাষে অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে জমিতে সব সময় পানি জমিয়ে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষকদের বিনামূল্যে লো লিফট পাম্প সরবরাহ এবং সেচ চ্যানেল নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
    ফলবাগানে সৌরশক্তিচালিত ড্রিপ ইরিগেশন বা ফোঁটা সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে কম পানি ব্যবহার করে গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

    অনাবাদি জমিতে কমিউনিটি গার্ডেন
    পতিত জমি ও অব্যবহৃত জায়গাকে উৎপাদনের আওতায় আনতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুকুরপাড় ও পতিত জমিতে মাচা তৈরি করে ফসল উৎপাদন, রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত জমিতে তিনজন কৃষকের যৌথ উদ্যোগে কমিউনিটি গার্ডেন এবং স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অব্যবহৃত জায়গায় চাষাবাদ করা হচ্ছে।

    মাটির গুণাগুণ রক্ষায় ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদনেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাইকো কম্পোস্ট মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি ছত্রাকজনিত রোগ ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানোর উদ্যোগ রয়েছে।
    উৎপাদন খরচ কমাতে শেড ছাড়াই গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের প্রদর্শনী করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষক নির্বাচন ও কারিগরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করে পলিশেড প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রকল্পের পুরো দল গত কয়েক মাস ধরে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছে। শুরু থেকেই মাঠ পরিদর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা করলে প্রকল্পের বাস্তব চিত্র বোঝা যায় না; কৃষকের জমিতে কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্প তৈরির শুরু থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাঁর ধারণা রয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে কৃষকের কাছে সুফল পৌঁছে দেওয়াই প্রধান লক্ষ্য।

  • ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপাচার্য প্রবেশের চেষ্টা করলেই কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    তারা বলছেন, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এড়াতেই তারা ক্লাসে ফিরতে চান। এ জন্য শিক্ষকদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে ঠিক কবে তারা ক্লাসে ফিরছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। অপরদিকে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বুধবার চুয়েট পরিদর্শনে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি। ওই দিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন কমিটির সদস্যরা।

    রোববার শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে রোববারের সাধারণ সভায় একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে একই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে চুয়েটের রেজিস্ট্রারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বুধবার কমিটির সদস্যরা চুয়েট পরিদর্শন করবেন। এ সময় তারা পৃথক সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

    শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। তারা আর এই ক্ষতি বাড়াতে চান না এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, এক দফা দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন চলছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    শিক্ষার্থীরা আরো জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা আবারো কঠোর আন্দোলনে যাবেন। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

    এ বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। তবে ক্লাসে ফেরা মানে আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়।’

    একই দিন চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাধারণ সভা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। ওই সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চায় বলে তারা জানিয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।’ ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নির্ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

  • শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে ৯ হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ

    শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে ৯ হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ায় অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে নয় হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    এক প্রেস রিলিজে তিনি বলেন, হাতিয়া থানাধীন নলচিরা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিজি স্টেশন হাতিয়া একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা নয় হাজার ৫০০ লিটার অবৈধ ও অপরিশোধিত পামওয়েল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।

    এ সময় চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের বোটও জব্দ করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিসিজি স্টেশন দক্ষিণ জোন মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দকৃত পামওয়েল ও বোটের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ,আর

  • মহালছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

    মহালছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মাহফুজা আক্তার মনি (১৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরের দাবি, মাহফুজা আত্মহত্যা করেছে। তবে, ভুক্তভোগী মাহফুজার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

    রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মাহফুজা আক্তার মনি উপজেলা সদর ইউনিয়নে মো: মজিবুর রহমানের মেয়ে।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামের মো: নুর আলমের ছেলে মো: সুজনে (২০) সাথে মাহফুজা আক্তার মনির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

    মাহফুজা আক্তার মনির শ্বশুর মো: নুর আলম জানান, গতকাল রাতে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর তিনি তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে মিলিয়ে দেন। রাতে সবাই একসাথে ভাত খাওয়ার পর ঘুমাতে চলে যান, ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে বাহিরে গেলে তিনি তার ছেলে সুজনের ঘরের দরজা খোলা দেখে সুজনকে ডাকেন। সুজন ঘুম থেকে উঠে দেখেন, পাশে তার সন্তান থাকলেও স্ত্রী মাহফুজা পাশে নেই। এরপর ডাকাডাকি শুরু করে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির একটি খালি ঘরের দরজা বন্ধ থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর ওই ঘরের দরজা খুলে মাহফুজার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

    মাহফুজার পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় মাহফুজাকে নির্যাতন করা হতো। সেই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

    নিহতের মামা মো: সমের আলী বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার ভাগ্নিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। গতকালও আমার ভাগ্নি ফোন করে মারধরের কথা জানিয়েছিল। তার কথাবার্তায় আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়ি। আজ জানতে পারলাম, তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে, ঝুলে থাকার বিষয়টি আমরা কেউ দেখিনি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’

    এ বিষয়ে মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ,আর

  • চাঁদপুরে জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রশিক্ষণ

    চাঁদপুরে জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুর জেলা জামায়াতের মানবসম্পদ বিভাগের আয়োজনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং নির্বাচন বিভাগের সভাপতি ও পৌরসভা নির্বাচন বিভাগের সভাপতি ও সেক্রেটারিদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী।

    কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।

    প্রশিক্ষণ প্রদান করেন কেন্দ্রীয় কোর্ট ট্রেইনার সাদেক হোসেন ভূঁইয়া, মো. হারুন আর রশিদ ওসমানী, আবদুল মালেক, রুহুল আমিন খান ও কামরুজ্জামান সোহেল। এ,আর

  • কুমিল্লায় বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লায় বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নে মোবারক হোসেন (৮০) নামে এক বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে শাকপুর ইউনিয়নের চৌওড়ী এলাকায় শহীদ স্মৃতি ক্যাডেটের পাশের একটি বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মোবারক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বরুড়া সদরের এমএস ফার্মেসির সামনে বসে লুঙ্গি সেলাইয়ের কাজ করতেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তবে পারিবারিক বিরোধের সাথে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও কীটনাশকের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সৌরভ (৩২) ও আসিফ (২৬) নামে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সৌরভ দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাসিন্দা। তবে নিহত অপরজনের ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।

    এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বাসের কমপক্ষে ১৫ যাত্রী। এদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, গত শুক্রবার রাতে রংপুর থেকে দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেয়। শনিবার সকালে বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেড়তলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুভর্তি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কে উল্টে যায়।

    তিনি আরো জানান, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিফ ও সৌরভের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ,আর

  • ফেসবুক  সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ভাগ্নের  পোস্ট, মামাকে হত্যা

    ফেসবুক সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ভাগ্নের পোস্ট, মামাকে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ভাগ্নের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে মামা ফজলে আলী হাজারীকে (৬০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফজলে আলী চরকাদিরা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী এলাকার বাসিন্দা। মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।

    জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় দুই বছর আগে ফজলে আলীর ভাগ্নে দেলোয়ার মাহমুদের সাথে বটতলী এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে জেরিন আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছুদিন পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

    সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হলে ফেনীতে কর্মরত সাবেক স্বামী দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেরিনকে নিয়ে আবেগময় একটি পোস্ট দেন। এ নিয়ে জেরিনের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    শুক্রবার রাতে জেরিনের স্বজনরা বটতলী বাজারে মামা ফজলে আলীর কাছে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় ফজলে আলী বিষয়টি দেলোয়ার বাড়ি ফিরলে সমাধানের কথা জানান।

    কিন্তু এরই মধ্যে জেরিনের স্বজনরা ফজলে আলীর ওপর আকস্মিক হামলা করেন। তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ফজলে আলীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    নিহতের ছেলে মো: ফয়সাল বলেন, সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেরিনের খালাতো ভাই মো: মাহফুজের নেতৃত্বে স্বজনরা হামলা চালিয়ে আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। অন্যদিকে একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এজন্য আইনি পদক্ষেপের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

    এদিকে অভিযুক্ত মাহফুজসহ অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেফতারসহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ,আর

  • মতলবে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

    মতলবে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বা ওয়ান শুটার গানসহ মো: ফরহাদ হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চর ওয়েস্টার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটক ফরহাদ হোসেন মোহনপুর ইউনিয়নের চর ওয়েস্টার (ছৈয়াল বাড়ি) এলাকার মরহুম আব্দুল কুদ্দুস ছৈয়ালের ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মিজানুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মানস বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চর ওয়েস্টার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ফরহাদ হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (ওয়ান শুটার গান) উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় বাবার মৃত্যু

    সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর সোনাগাজীতে মাদককারবারির সঙ্গ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় মোহাম্মদ হানিফ (৫৫) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পরিবার।

    নিহত মোহাম্মদ হানিফ চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল আহাদের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ রিয়াদ (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে।

    পুলিশ, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, হানিফ মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘরের আলমারির মধ্যে রেখেছিলেন। তার ছেলে বখাটে মেহেরাজ স্থানীয় মাদককারবারিদের সাথে মিলে ওই টাকা চুরি করে নিয়ে খরচ করে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে নিজের ছেলেকে শাসনের পাশাপাশি স্থানীয় মাদককারবারিদের সঙ্গ না দেয়ার জন্য নিষেধ করেন।

    এতে মাদককারবারিরা ক্ষুব্ধ হয়ে, গত ৯ অক্টোবর বাদ জুমা দুপুর ২টার দিকে জুমার নামাজ পড়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে পূর্বে থেকে ওত পেতে থাকা মাদককারবারি বেলায়েত হোসেন মামুন, তার সহযোগী মো: শুভ ও রিয়াদসহ ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হানিফকে গুরুতর জখম করে।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি মারা যান।

    সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’এ,আর

  • ফেনীতে বিজিবি অভিযানে ৯৫৭ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

    ফেনীতে বিজিবি অভিযানে ৯৫৭ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ১৩টি ব্যাটেলিয়নে ৯৫৭ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৩২৮ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম জানান, বিজিবি সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় এক হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্তের চারটি সেক্টরের অধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়নের অভিযানে ১১টি পিস্তল, সাতটি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান, ৬২ রাউন্ড কার্তুজ, ১৯ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর ও ৭৭মিটার ডেটোনেটরের তার উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩টি ব্যাটালিয়ন মোট তিন লাখ ৪০ হাজার ৮১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪ হাজার ৯৬৭ কেজি গাঁজা, ৬৩ হাজার ৭৫৫ বোতল বিদেশী মদ, ১৬ হাজার ৬৮০ বোতল ফেনসিডিল ও কফ সিরাপ এবং চার লাখ ৩২ হাজার ৫১০ পিস বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট জব্দ করেছে। এসময় আটক করা ৩৩৩ জন আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম আরো বলেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলন বিরোধী অভিযানেও সাফল্য পেয়েছে বিজিবি। এসব অভিযানে ১৬ হাজার ৮০০ ঘনফুট পাথর ও আট হাজার ২০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।’

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফেনী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পরশুরাম বক্স মাহমুদ উচ্চবিদ্যালয়ে একটি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনসহ পাঁচটি প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।‘

    এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক নজরদারি রাখা হচ্ছে। এ,আর

  • সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী বাপ্পী হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ গ্রেফতার ৬

    সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী বাপ্পী হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ গ্রেফতার ৬

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি হত্যার প্রধান আসামি আরিফসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত দেশী-বিদেশী তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাপ্পীকে মেরে নিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

    আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম।

    এর আগে নিহত বাপ্পীর মা জমিলা খাতুন ছাত্রদলের উত্তর জেলা কমিটির যুগ্ন সম্পাদক আরিফ হোসেনকে প্রধান আসামি করে শনিবার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মোট আঠার জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের সবাই যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড মধ্যম মাহমুদাবাদের মো: আরিফ হোসেন (২৮), রনি ওরফে নুর আহমদ রনি (২৭), অলিনগর এলাকার ফখরুল ইসলাম (৩১), নডালিয়া এলাকার আব্দুল মান্নান (২৮) এবং মুরাদপুর হাসনাবাদ এলাকার আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫)।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম বলেন, ‘নিহত তারেক হোসেন বাপ্পির সাথে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তার সহযোগীদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।’

    পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা সীতাকুণ্ডের অলিনগর এলাকায় যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে বাপ্পির মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা তাফসির আলম শাওনও হামলার শিকার হন। তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। হামলাকারীরা তাদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে।

    ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

    সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকাশ্যে গুলি করে বাপ্পিকে হত্যার ঘটনায় তার মা জমিলা খাতুন শনিবার রাতে মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার ছয়জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • ফেনীর জুলাই যোদ্ধা সাদ্দাম  ৭ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে

    ফেনীর জুলাই যোদ্ধা সাদ্দাম ৭ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদা দাবি, রেস্টুরেন্ট দখল, জোরপূর্বক নৃত্য করানো ও উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করে বারবার হামলার বিচারসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন করছেন ফেনীর জুলাই যোদ্ধা সাদ্দাম হোসাইন।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে তার মা এই অনশনে যোগ দিয়েছেন। এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে তিনি আমরণ অনশনে রয়েছেন।

    ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসাইনের দাবি, ‘আমি আমার দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত এবং ফেনী-১ আসনের এমপি রফিকুল আলম মজনু ভাইকে পর্যন্ত জানিয়েছি। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের ছেলে ইকবাল ভাটকেও জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। বরং ওরা আমাকে বারবার হেনস্তা করেছে। আমার দখলকৃত দোকান উদ্ধারের চেষ্টা করলে হুমকি দিয়েছে। প্রশাসন থেকেও কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

    তিনি বলেন, ‘আমার অবস্থা খারাপ। সময় যত যাচ্ছে, তত আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে। আমি দ্রুত আমার দাবির বাস্তবায়ন চাই। আমি এদের বিচার ও রেস্টুরেন্টের উদ্ধার চাই দ্রুত।’ এ,আর

  • কক্সবাজারে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

    কক্সবাজারে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার শহরের নবনির্মিত একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে শহরের শহীদ স্মরণি এলাকার কোরাল রিফের নবনির্মিত পূর্বিতা ভবনে এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন শরীয়তপুরের আবদুল কাদেরের ছেলে মো: আরমান, বরিশালের শামীম ও ভোলার কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রাকিব।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, নারায়ণগঞ্জের রাহাত নামে এক ব্যক্তি ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। ঢাকায় পাচারের উদ্দেশে সেখানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদ করা হতো। এর আগে ওই ফ্ল্যাট থেকে ২০ লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।

    কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। রাহাতসহ চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ,আর

  • ১১২৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ

    ১১২৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ

    বান্দরবানের আলীকদমে পাহাড়ের ঢালে ঢালে বাড়ছে কলার আবাদ। কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রান্তিক কৃষকেরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার কলা সরবরাহ করা হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে সারসংকট, সরকারি প্রণোদনার অভাব ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় এ খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছেন না চাষিরা।

    উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে বছরজুড়েই বাংলা, চাপা, সাগর, সরবি ও কাঁচকলার চাষ হয়। তবে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কলার ফলন বেশি পাওয়া যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রবিবারেই পানবাজার ও আমতলী নদীঘাট থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ছড়া কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ভরিমুখ কর্মকারপাড়া এলাকার দুই তরুণ কৃষক মো. হাসান ও খুরশেদ আলম ১০ একর জমিতে কলা চাষ করেছেন। তাঁরা জানান, প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ২৫০টি কলার ছড়া বিক্রি করেন। ছড়াপ্রতি দাম পান ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা গেলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।

    কলা পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। চকরিয়ার ব্যবসায়ী মো. শামশুল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও টোলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কলা পরিবহনে ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, আকার ও গুণগত মানের কারণে পাহাড়ি কলার চাহিদা ভালো।

    কৃষকদের মতে, পর্যাপ্ত সার, সরকারি প্রণোদনা ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আলীকদমে কলা চাষের পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে প্রান্তিক কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আলীকদমে মোট ১ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি ও পাহাড়ের ঢালে কলার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা কলা ৬৭৭ হেক্টর, চাপা কলা ৩৫৪ হেক্টর, সাগর কলা ৫২ হেক্টর, সরবি কলা ২৭ হেক্টর এবং কাঁচকলার আবাদ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, পাহাড়ের মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই কলাগাছ বেড়ে ওঠে। চারার আশপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করা, মরা পাতা অপসারণ এবং অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলার মতো পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। সার ও কীটনাশক ছাড়াই চাষ করা হয় বলে এ কলার পুষ্টিগুণ অটুট থাকে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি।

    তিনি আরও বলেন, উপজেলায় সারের চারজন ডিলার থাকলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। তবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সব কৃষকের মধ্যে সার বিতরণের চেষ্টা চলছে।

  • কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ঢাবি শিক্ষার্থী  মৃত্যু

    কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ঢাবি শিক্ষার্থী মৃত্যু

    কক্সবাজারের ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাবিধুর। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। তিনি নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

    নিহত শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামীর বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ চুনাখালী গ্রামে। তার বাবার নাম মো. জেয়াদুল কবির এবং মায়ের নাম কাজল রেখা।

  • কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানি বেড়ে ১০

    কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানি বেড়ে ১০

    শনিবার সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন রাজধানীর বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহমেদ (৫)।

    এ ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহাব উদ্দিন (৩১), তাঁর স্ত্রী ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

    স্থানীয় সংবাদকর্মী শামিমুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ভোরে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

    পুলিশ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিমন ঘোষ বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল।

    অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • কুমিল্লায় অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের  ৫১৯ জন আটক

    কুমিল্লায় অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৫১৯ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরো ৫১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মাগরিবের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ নিয়ে আট দফার অভিযানে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৭২ জনে। তাদের মধ্যে অন্তত এক হাজার জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো: লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, এমন স্থানগুলোকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ রোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।’

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সাত দফার অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপের প্রধানসহ মোট দুই হাজার ৯৫৩ জনকে আটক করা হয়। সর্বশেষ অভিযানে আরো ৫১৯ জনকে আটকের পর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৭২ জনে।

    প্রসঙ্গত, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপকের একমাত্র সন্তান, সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম উঠে আসে। এরপর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। এ,আর

  • কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

    কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা মহানগরীর ছত্রখিল এলাকায় কাউছার নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত কাউছার কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ছত্রখিল এলাকায় কাউছারের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে কী কারণে এবং কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান বলেন, যুবদল নেতা কাউছার মারা গেছেন বলে জেনেছি। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ,আর

  • চুয়েটে ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে ছুটির দিনেও পাহারায় শিক্ষার্থীরা

    চুয়েটে ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে ছুটির দিনেও পাহারায় শিক্ষার্থীরা

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এক সপ্তাহের ছুটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। এদিন দুপুর থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে ছুটির সুযোগে নতুন উপাচার্যের (ভিসি) ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে পাহারায় থাকার কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। একই সঙ্গে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।

    শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে আর পা না রাখার শর্তেই নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ডিসি ও এসপির সহযোগিতায় ক্যাম্পাস ছাড়েন। তাকে সেই শর্তেই মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে আবারও তিনি প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

    বৃহস্পতিবার চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী জানান, ‘চুয়েটে দুর্গাপূজার সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দুদিন সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটি এবং রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন পূজার ছুটি। এ সময়ে আমাদের কর্মবিরতি চলবে; সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’

    ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রবীর চন্দ্র ভৌমিক জানান, ‘একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে পাঁচ দিন পূজার ছুটি। তবে প্রতিবার আগাম নোটিশ দেওয়া হলেও এবার কোনো নোটিশ জারি হয়নি। আমি নিজেও কোনো নোটিশ হাতে পাইনি। তবে ছুটি শুরু হয়েছে, এটি সঠিক।’

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্গাপূজার ছুটির আগে বৃহস্পতিবারই ছিল চুয়েটে শেষ কর্মদিবস। এদিন অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হল ছেড়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে চুয়েটে স্বাভাবিক কর্মদিবস শুরু হবে। টানা সাত দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হলেই অবস্থান করবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যদিও ছুটির দিনগুলোতে সরাসরি কোনো আন্দোলন কর্মসূচি থাকছে না।

    এর আগে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দাবি আদায়ে অনড় থাকবেন। চলমান সংকট নিরসনে তারা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রফেসর ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনকে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এমনকি ছাত্রলীগের একটি পেজ থেকেও সেটিতে সমর্থন জানিয়ে প্রচার করা হয়েছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দাবিকে কেউ সরকারবিরোধী, কেউ রাষ্ট্রবিরোধী অসন্তোষের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টাকে আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো দলকে ক্ষমতায় আনা বা ক্ষমতা থেকে সরানো, রাষ্ট্রকে হেয় করা কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালানো আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নয়।’

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা জানিয়ে দিতে চাই, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বয়ানের কাঁচামাল নয়। আমাদের কণ্ঠস্বরকে বিকৃত করে অন্যের এজেন্ডা প্রতিষ্ঠার অধিকার কারও নেই। তাছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির স্মৃতি আমাদের কাছে গভীর বেদনা ও জবাবদিহির প্রশ্ন। সেই অভিজ্ঞতা অস্বীকার করে কিংবা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক প্রচারণার আড়াল বানিয়ে কোনো সংগঠন আমাদের আন্দোলনের নৈতিক সমর্থক সেজে উঠতে পারে না।’

    চুয়েটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছুটিতে সব শিক্ষার্থী বাড়িতে যাচ্ছে না, অনেকেই হলে থাকছে। আমরা নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকাতে সজাগ থাকব। বন্ধের দিনেও আমাদের নিয়মিত পাহারা থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

    এদিকে চুয়েটের উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর নিজ দপ্তরে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি)। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

  • নোয়াখালীতে গ্যারেজ থেকে ইয়াবা, পাইপগান ও কার্তুজসহ গ্রেফতার ৩

    নোয়াখালীতে গ্যারেজ থেকে ইয়াবা, পাইপগান ও কার্তুজসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্র, কার্তুজ ও সিসি ক্যামেরাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এক প্রেস রিলিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    এর আগে একই দিন সকাল ৯টায় পরিচালিত এক এসআরবি-১১, ডিএনসি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামের মরহুম ইউছুপ মিয়ার ছেলে মামুন উর রশিদ (৩৭), চাড়ুবানু গ্রামের মো: আব্দুল হানিফের ছেলে আব্দুল মন্নান (২৭) এবং বারাইপুর গ্রামের মাফিজুর রহমানের ছেলে মানজুর রহমান সাকিল (৩৮)।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো: হাবিবুর রহমান, এসআরবি-১১ সিপিসি-৩ ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন এবং সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন বণিকের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ৮নম্বর এওয়াজবালিয়া ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামে মামুন উর রশিদের অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান চালায়।

    অভিযানকালে গ্যারেজের ভেতরের একটি বিশ্রামকক্ষ থেকে ৪৪ পিস ইয়াবা, ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ১টি সতেজ সিসা কার্তুজ, ৩টি মোবাইল ফোন, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ব্যবহৃত ৩টি সিসি/আইপি ক্যামেরা জব্দ করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে গ্যারেজের ভেতরের কক্ষটিতে ক্যামেরা বসিয়ে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির আখড়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পাইপগান ও কার্তুজ মজুত রাখা হয়েছিল।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরো জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সুধারাম মডেল থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • বিএনপির নেতা রমিজের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

    বিএনপির নেতা রমিজের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

    উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনকে (৭৫) লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপির একাংশ ও সর্বস্তরের জনগণ।

    মেঘনা উপজেলা নাগরিক সমাজ ব্যানারে রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ওয়াদুদ মুন্সি, সাবেক সদস্য সচিব আজাহারুল হক শাহিন, শাহাবুদ্দিন, ফাতেমা আক্তার হেনা, জাকির হোসেন, সেলিম সরকার ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ওসির উপস্থিতিতে মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. আলী হোসেনকে লাঞ্ছিত করেছেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

    তারা আরও জানান, রমিজ উদ্দিন দলের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলেন, ‘আমি মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সদস্য সচিব। সে সুবাদে আমি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টায় মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে যাই। গিয়ে দেখি ওসি শহিদুল ইসলাম, বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীসহ তার সঙ্গে আরও কয়েকজন অফিসে বসে আছেন। আমি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ইউএনওর হাতে দিয়ে বলি স্যার ছয় হাজার টাকা বিল আসে, দোকান তো ৮টা। এমন সময় রমিজ উদ্দিন লন্ডনী আমাকে বলে তুই এখানে কেন? তুই হোমনা যা। তুই তো মোশাররফ স্যারকে ভোট দেসনি। এই কথা বলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রমিজ আমার গলা চেপে ধরে এবং সঙ্গে থাকা একজন আমাকে পেছন থেকে ঘুসি মারে। তখন ওসি শহিদুল ইসলাম আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে অফিস থেকে বের করে দেন।’

    এ বিষয়ে বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘আমার সঙ্গে আলী হোসেনের কিছুই হয়নি। ইউএনও এবং ওসির কাছ থেকে জেনে নিন।’

    ওসি শহিদুল ইসলাম বলেছেন তর্কাতর্কি হয়েছে— এমন প্রশ্নের পর রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলে আমাদের এমপি মোশাররফ হোসেন স্যার মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বাইরে ছিল, উনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ওনার গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

    মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে। তখন আমি দুজনকে দুদিকে সরিয়ে দিয়েছি।’

    নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমি আক্তার বলেন, বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তখন ওসি সাহেব দুজনকে দুদিকে সরিয়ে দিয়েছেন। কী নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে জানতে চাইলে, ইউএনও বলেন, ‘দাউদকান্দি-মেঘনা আসন নিয়ে এমন একটা কিছু। আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম পুরো বিষয়টি খেয়াল করতে পারিনি।’

  • চৌদ্দগ্রামে চুরির মামলায় সাবেক এমপি প্রার্থী আটক

    চৌদ্দগ্রামে চুরির মামলায় সাবেক এমপি প্রার্থী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত (জিওপি) এমপি প্রার্থী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কে এম ফরিদ আমিনকে চুরির মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাংপাইলে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ব্যাংকের টাকা চুরির মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

    চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই আবুল কালাম জানান, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার একটি ব্যাংকের টাকা চুরির মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন ফরিদ আমিন। ওই সময় তিনি ব্যাংকের ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এদিকে, ফরিদের বিরুদ্ধে তার বাবাকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর চৌদ্দগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তার বাবা রুহুল আমিন। ছেলের শাস্তির দাবিতে একই মাসের ৮ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি। এ,আর

  • মিরসরাইয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি

    মিরসরাইয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের শেখেরতালুক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে রাতেই মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মতিন উল্লাহ জানান, দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খুন্তি দিয়ে দরজা ভেঙে মুখোশ পরিহিত ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। ডাকাতরা পাঁচ ভরি আট আনা স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট প্রায় ১৭ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বিপুল কর্মকার বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডাকাতির ঘটনা সংঘঠিত হয়। খবর পেয়ে ওসি মহোদয়সহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।’ এ,আর

  • কুমিল্লায় পুলিশের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের  ২৫২ জন আটক

    কুমিল্লায় পুলিশের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ২৫২ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে এবার ২৫২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেন।

    জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম চালানো হয়। কুমিল্লা নগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর ও তরুণ বখাটেদের উৎপাত রয়েছে—এমন চিহ্নিত স্থানগুলোতে পুলিশের একাধিক ইউনিট একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি উপস্থিত থেকে তদারকি করেন।

    এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান বলেন, ‘অভিযানে মোট ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    উল্লেখ্য, কিশোর গ্যাং দমনে জেলা পুলিশের চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৫ দিনে ছয় দফায় অভিযানে মোট দুই হাজার ২৯১ জনকে আটক করেছে কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ,আর

  • জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

    জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র ও চাঁদা আদায় তালিকার একটি খাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সীতাকুণ্ড থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ত্র উদ্ধার ও চারজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রাসেল বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর বাহাদুরঘোনা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো: মোরশেদ (৩৩), মো: রাসেল (৩০), মো: বাবু (৩২) ও মো: সাব্বির (৩২)। তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তারা বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকার বিভিন্ন সমাজে বসবাস করছেন।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্যদিকে মোরশেদ, বাবু ও সাব্বিরের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দু’টি ডাকাতি ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে অভিযান চালিয়ে একটি শর্টগান, একটি চাইনিজ পিস্তল, নয়টি সীসার বুলেট, ছয়টি কার্তুজ, একটি টেঁটা, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক ও চাঁদা আদায়ের তালিকাসংবলিত একটি খাতা উদ্ধার করা হয়।

    সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • লামায় ছাত্রদল ও যুবদলের মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী র‍্যালি

    লামায় ছাত্রদল ও যুবদলের মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী র‍্যালি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বান্দরবানের লামায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা যুবদল, পৌর যুবদল ও উপজেলা ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

    বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব জাবেদ রেজার নির্দেশনায় আয়োজিত র‍্যালিতে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

    এতে বান্দরবান জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শেদ বিন ওমর, জেলা যুবদলের সহসভাপতি কাশেম, জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাফায়েত রাশেল ও পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামির হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে। এ,আর

  • মতলবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

    মতলবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব উত্তরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের পূর্ব ষাটনল গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক রবিন (২৬)। তিনি ষাটনল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত।

    অন্যরা হলেন—লুধুয়া গ্রামের হাবিব উল্লাহ বেপারীর ছেলে আব্দুল হাসেম (৬০), যিনি আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত এবং পশ্চিম ইসলামাবাদ গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৪৮), যিনি আওয়ামী লীগের সুজাতপুর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি হিসেবে পরিচিত।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, ‘মতলব উত্তর থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ এ,আর

  • আনোয়ারায় বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা লাখ টাকা

    আনোয়ারায় বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে চার ব্যবসায়ীকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার কালাবিবির দিঘী ও চাতরী চৌমুহনী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার।

    অভিযানকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিনিময় ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী খোরশেম আলম (৪৪) ও সাদিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: সাদিম উদ্দিনকে (২৯) ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া চাতরী চৌমুহনী বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের ক্রয় রশিদ না থাকা ও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে জহির স্টোরের স্বত্বাধিকারী জহির উদ্দিন আহমদ (৪০) ও ইব্রাহিম স্টোরের স্বত্বাধিকারী ইব্রাহিমকে (৫৮) ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার জানান, জনস্বার্থে আনোয়ারা উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় আধা ঘণ্টায় দুই ভাইয়ের মৃত্যু একসাথে জানাজা ও দাফন

    ব্রাহ্মণপাড়ায় আধা ঘণ্টায় দুই ভাইয়ের মৃত্যু একসাথে জানাজা ও দাফন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বড় ভাইয়ের মৃত্যুর আধা ঘণ্টা পর মারা গেছেন ছোট ভাইও। জীবদ্দশায় দুই ভাইয়ের মধ্যে ছিল গভীর সখ্য। কর্মজীবনেও তারা ছিলেন একসাথে। মৃত্যুর পরও যেন সেই বন্ধন অটুট রইল। একইসাথে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বাদ জোহর হুড়ারপাড় গ্রামের ঈদগাহ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।

    এর আগে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বড় ভাই আব্দুল জলিল মিয়া (৭৫) মারা যান। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ছোট ভাই জয়নাল আবেদীন জুনু (৭০) নিজ বাড়িতে মারা যান। তারা উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের হুড়ারপাড় গ্রামের মরহুম আস্কর আলীর ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে ছোট ভাই জয়নাল আবেদীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর নিজ বাড়িতে তারও মৃত্যু হয়।

    দুই ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।

    নিহতদের ভাতিজা জসীমউদ্দীন বলেন, ‘আমার দুই চাচার মধ্যে আজীবন গভীর মেলবন্ধন ছিল। জীবনের শুরুতে তারা দু’জন একসাথে আদমজী জুট মিলে চাকরি করতেন। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার একসাথেই বাড়িতে ফিরে আসেন। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও তাদের আলাদা করা গেল না।’

    মৃত্যুকালে আব্দুল জলিল মিয়া স্ত্রী, পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। অন্যদিকে জয়নাল আবেদীন জুনু স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

    চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মুরাদ বলেন, ‘জীবদ্দশায় দুই ভাইয়ের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক ছিল। একইদিনে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের এমন প্রস্থান সত্যিই বিরল ও হৃদয়বিদারক। তাদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’ এ,আর

  • রায়পুরে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই ১২ জেলে আটক

    রায়পুরে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই ১২ জেলে আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১২ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পাঁচ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল ও চারটি নৌকা জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার মেঘনা নদীর আজগর সওদাগরের চর এলাকায় উপজেলা মৎস্য অফিস ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের রায়পুর স্টেশনের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান চালান।

    আটককৃত জেলেরা হলেন—বিল্লাল মাল (৫২), খোকন (৩৮), হৃদয় গাইন (৩০), আবুল কালাম (৩৯), মোহাম্মদ আলী (৪০), মো: রাসেল (১৮), মনির মিঝি (৩২), সবুজ হাওলাদার (৩৬), আব্দুল জাব্বার (৩৭), কাদির সর্দার (৫০) ও তসলিম (২৮)।

    অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

    অভিযানে জব্দ করা পাঁচ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। চারটি নৌকার বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য অফিস।

    মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য অফিস ও কোস্টগার্ড মেঘনা নদীতে অভিযান জোরদার করেছে।

    রায়পুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হাসনাইন বলেন, ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইনে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুই হাজার করে মোট ২২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ এ,আর

  • কুমিল্লায় ক্ষেত থেকে কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার

    কুমিল্লায় ক্ষেত থেকে কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুরে ফসলি জমি থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় লাশের পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয়রা জানান, কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক তরুণীর লাশ দেখতে পান তারা। তার গলায় গামছা পেঁচানো এবং মুখমণ্ডল মাটিতে চেপে রাখা ছিল।

    নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) তাজমিন এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমন্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। পরে সে ওই বান্ধবীর সাথে কক্সবাজারে যায়। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এসে নামার পর মেয়ের সাথে তার ফোনে কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ করতে না পেরে সকালে মেয়ের মোবাইলফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ফোনটির অবস্থান লালমাই এলাকায় জানতে পেরে খোঁজ করতে গিয়ে জগতপুরে মেয়ের লাশ উদ্ধারের খবর পান।

    লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে লাশটি অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • রাঙ্গামাটিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় ফাঁসি

    রাঙ্গামাটিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় ফাঁসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হালিমা বেগম সুমি হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি মো: মহিবুর কামাল ওরফে মহিবুল্লাহকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আহসান তারেক এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ মার্চ রাতে কাপ্তাই এলাকার বিএফডিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত বাথরুমে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে থেঁতলে হালিমা বেগমকে হত্যা করা হয়।

    পরে প্রমাণ গোপনে লাশে আগুন ধরিয়ে দেয় আসামি। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। এ,আর

  • অস্ত্র হাতে ভাইরাল ‘বুলেট শিবলু’ গ্রেফতার

    অস্ত্র হাতে ভাইরাল ‘বুলেট শিবলু’ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা মো: শিবলু ওরফে বুলেট শিবলুকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি ওই এলাকার নাছির মেম্বারের বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে। এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নগরের ষোলশহর এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা মামলায় ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শিবলু ওই মামলার ৬৯ নম্বর আসামি।

    এ ছাড়া আনোয়ারায় এক মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় শিবলুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্সে কর্মরত সদস্য মো: আরিফুল ইসলামকে মারধর, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়া ও হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র হাতে শিবলুর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি এলাকায় ফিরে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

    আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারের সময় শিবলুর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিবলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্য কোনো থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।’ এ,আর

  • মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রধান শাখা খাল ধুরুং। এ খালের বুকজুড়ে জেগে ওঠা একটি চর এখন পরিণত হয়েছে সবজি চাষের উর্বর ভূমিতে। এ চরের তিন দিক দিয়ে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’ আকৃতিতে বয়ে চলেছে খালের পানি। আর মাঝখানে জেগে থাকা চরের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। চরের কোথাও শসার লতাপাতা মাটিজুড়ে ছড়িয়ে আছে, কোথাও মাচাজুড়ে ঝুলছে বরবটি ও ঝিঙা। কোনো জমিতে দুলছে লাউ, শিম, চিচিঙ্গা ও বেগুনের গাছ। এমনকি এ চরে চাষ হচ্ছে পটলও। আগাম সবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

    স্থানীয়ভাবে ‘মুজরি চর’ নামে পরিচিত এ চরটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও পাইন্দং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেড়াজালীর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১৬০ হেক্টর আয়তনের এ চরে পুরো বছর কৃষিকাজ করেন ২৪০-২৫০ জন কৃষক। তবে শুষ্ক মৌসুমে ধুরুং খালের পানি কমে গেলে তখনই চরজুড়ে শুরু হয় সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ। উর্বর পলিমাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই এ চরে বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। কৃষকেরা আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। খালের পানিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ চর যেনো মৌসুমি কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার এক সবুজ অধ্যায়।

    চরের কৃষকরা জানান, তিন পাশ দিয়ে খালের পানি প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার জমিতে পলি পড়ে। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আগাম সবজি চাষ করেন। বাজারে যখন এ সব সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন ফসল তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে।

    মুজরি চরের কৃষক মো. আফজল হোসেন আড়াই কানি জমিতে এবার বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। তার জমিতে রয়েছে বরবটি, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, বেগুন, লাউ, শিম ও তিতকরলা।

    কৃষক আফজল হোসেন বলেন, ‘লাভের আশায় আমরা চরের জমিতে আগাম শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি ও বেনটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করি। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠে না। কৃষি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি-সহায়তা নিয়মিত পাই না। তাই চরের কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি সহায়তা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাই। এতে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং কষ্টের ফসলের যথাযথ মূল্যও পাবেন।’

    কৃষক আলী আহমদ বলেন, ‘আমাদের এ চরে প্রায় আড়াই শত কৃষক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু চরে কাজ করতে এসে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে কৃষকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি টংঘর বা ছাউনি থাকলেও দুর্যোগের সময় আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারতাম। তাই কৃষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চরে একটি টংঘর বা ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’ শুধু আফজল বা আলী আহমদ নন, মুজরি চরের অধিকাংশ কৃষকই আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তাদের লক্ষ্য, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফসল তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া। তবে ভালো ফলন হলেই যে কৃষকের লাভ নিশ্চিত হবে, তা নয়। উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরের ওপর নির্ভর করে তাদের লাভ-লোকসান।

    মো. মহিন উদ্দিনসহ অন্য কৃষকের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজির সব সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাঠ থেকে সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারে সবজির দাম বেশি হলেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আসে না।

    বর্গাচাষী মো. এরশাদ বলেন, ‘সব ধরনের কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি, কিন্তু সে তুলনায় সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ বছর যদি সবজির দাম ভালো না পাই, তাহলে উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে সেটাও তুলে আনতে পারব না। কৃষকরা এত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে আমাদের জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’

    মুজরি চরের কৃষকদের আরেকটি বড় সমস্যা পানি। খালের পাশে চাষ হলেও সবজি খেতে প্রয়োজনের সময় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কৃষককে নিজেদের উদ্যোগে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া চরে কৃষকদের বসার বা বিশ্রামের জন্য কোনো ছাউনিও নেই। প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিয়মিত পরামর্শ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে সহযোগিতা পেলে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘মুজরি চরের সম্ভাবনা অনেক। এখানকার মাটি বেশ উর্বর এবং সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগাম সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। সেচ, রোগবালাই দমন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। মুজরির চরের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    ধুরুং খালের বুকে জেগে ওঠা মুজরি চর তাই শুধু একটি চর নয়। কয়েক শত কৃষকের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ সবুজ জমিতে এখন তারা আগাম সবজি ফলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ফসল ভালো হবে, বাজারে ভালো দাম মিলবে, আর ঘরে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত লাভ।

  • ফেনীতে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র ইমনের সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন

    ফেনীতে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র ইমনের সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পরও সন্ধান মেলেনি মাদরাসাছাত্র মাহফুজুর রহমান ইমনের।

    মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ট্রাংক রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তার সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

    ইমন বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরিয়া আলিম মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সে স্থানীয় পঁচি ফকির বাড়ির শহীদুল ইসলাম সুজনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, শহীদুল ইসলাম সুজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছোট ছেলে ইমন পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার অটোরিকশা নিয়ে বের হতো। অন্যদিনের মতো গত ২৮ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি সে। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর দুই দিন পর পুলিশ ফতেহপুর স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন স্থান থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম সুজন, মা মোমেনা বেগম, ভাই মোশাররফ হোসেন জাবেদ, স্থানীয় সমাজকর্মী ছালাউদ্দিন মামুন, মাওলানা হাসান আহমদ, মাহফুজুর রহমান ও কামাল উদ্দিন মিন্টুসহ স্থানীয়রা।

    ইমনের মা মোমেনা বেগম বলেন, ‘আজ নয় দিন হয়ে গেছে। আমি এখনো আমার ছেলের খোঁজ পাইনি। আমার ছেলে মৃত হোক বা জীবিত হোক, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন।’

    ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘গত নয় দিন সবার ধারে ধারে ঘুরতেছি, আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমার ছেলে কোথায় আছে, কিভাবে আছে কিছুই জানি না। আমার ছেলে ফেরত চাই। কিছু চাই না, শুধু আমার ছেলেকে ফেরত দিন।’

    মেঝো ভাই মোশাররফ হোসেন জাবেদ বলেন, ‘নয় দিন হয়ে গেছে, আজ পর্যন্ত আমার ভাইকে পাইনি। মডেল থানায় জিডি করার পরও পুলিশ আমার ভাইয়ের খোঁজ এখনো দিতে পারেনি। প্রশাসন কোনো কাজ করছে না। আমরা অনুরোধ করবো আমার ভাইয়ের সন্ধান যেন দেয়া হয়। আমার ভাইকে আমরা ফেরত চাই।’ এ,আর

  • ফেনীতে ‘মিথ্যা’ গণধর্ষণ মামলা: জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

    ফেনীতে ‘মিথ্যা’ গণধর্ষণ মামলা: জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীতে গণধর্ষণসহ অর্ধশতাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পলাতক জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

    সোমবার দুপুরে জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর, কিল্লাদিঘী ও তালপাড়িয়ার বাসিন্দারা।

    মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জাল কবির ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি ঘটনাকে গণধর্ষণ হিসেবে সাজিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এছাড়া অর্ধশতাধিক মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

    ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ছাগলনাইয়া সুবেদারি রাস্তার মাথায় মাস্টার ম্যানশনে আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় এক গৃহকর্মীর সাথে জাল কবিরের লোকজন আপসে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পরে সেটিকে গণধর্ষণ হিসেবে সাজিয়ে মামলা করা হয়।

    তারা আরো জানান, গত বছরের জুলাইয়ে একটি গণধর্ষণ মামলায় জাল কবিরকে গ্রেফতার করা হলে তিনি পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান।

    ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাল কবির চক্রের মামলায় জর্জরিত। এখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বয়স্ক মানুষগুলো সবাই এ চক্রের মামলার শিকার। সর্বশেষ এ মামলার যখন কোনো কুল কিনারা পাচ্ছিল না আমাদের বিরুদ্ধে। তখন জাল কবিরের ভাই তাদের কাজের বুয়ার সাথে আপসে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো গণধর্ষণ মামলা দেন। আমরা গত ১ অক্টোবর খালাস পেয়েছি।’

    মোহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, ‘জাল কবির ও তার পুরো চক্র আমাদের সাথে প্রতারণা করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। আমরা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। আমরা চাই, জাল কবিরকে গ্রেফতার করা হোক। সে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে গ্রেফতার করা হলে কেউ আর এমন করার সাহস পাবে না।’

    আরেক ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জাল কবির আমাদের হয়রানি করেছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানির শিকার হয়েছি। সে আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিল। আমরা চাই, জাল কবির ও তার ভাইকে গ্রেফতার করা হোক।’ এ,আর

  • সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নানিয়ারচরে সেলাই প্রশিক্ষণ

    সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নানিয়ারচরে সেলাই প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাহাড়ি-বাঙ্গালি তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে সেলাই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানিয়ারচর জোন।

    রোববার (৪ অক্টোবর) নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মশিউর রহমানের দিক নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম।

    এ প্রশিক্ষণের আওতায় পাহাড়ী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মোট ১৬ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। প্রশিক্ষণটি আজ রোববার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    আয়োজকেরা জানায়, প্রশিক্ষণার্থীদের দর্জি প্রশিক্ষণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেলাই ও কাটিং বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ারা জানায়, দর্জি প্রশিক্ষণ একটি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক দক্ষতা। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটিকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ নিজস্ব দর্জি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন বলেও জানায় তারা।

    সকল জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে প্রশিক্ষনার্থীদের অংশ নেয়ার সুযোগ পাওয়ায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহাদ্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ নানিয়ারচর গড়ে তোলা সম্ভব বলেও জানান প্রশিক্ষনার্থীরা।

    এবিষয়ে নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নানিয়ারচর জোন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • ‘ঝাক্কাস’ মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪

    ‘ঝাক্কাস’ মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি পানীয় সেবনের পর মোহাম্মদ সাকিব (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরো চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

    রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান। এর আগে, ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামে।

    নিহত সাকিব উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মুসলিম কলোনির মরহুম এফরান মিয়ার ছেল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে খালপাড় এলাকায় এক প্রবাসী বন্ধু বিদেশ থেকে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা মিলনের বাড়িতে কয়েকজন যুবক শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। পার্টিতে তারা মদের সাথে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামে একটি পানীয় তৈরি করে সেবন করেন। পরে রাতের খাবার ও আড্ডা শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।

    পরদিন শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে সাকিবসহ পাঁচজন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাকিব ও মো: টিপুর (২৫) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেলা ১১টার দিকে তাদের নোয়াখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, অসুস্থ হয়ে পড়া সাইফুল ইসলাম পাখিকে (২২) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর যুবক মো: টিপু, মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মোহাম্মদ রাসেলকে (২৩) নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ,আর

  • নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নির্মাণাধীন সড়কে কংক্রিট পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকের ধাক্কায়
    মনিজা খাতুন (৮০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
    রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের
    ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম উদ্দিন জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনিজা খাতুন ওই এলাকার মৃত সায়েদুল হকের স্ত্রী।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে মনিজা খাতুন হাবিবপুর বাজার থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় গ্রাম্য সড়কে সংস্কারকাজের জন্য কংক্রিট পরিবহনে নিয়োজিত একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে অবহিত করে।
    কোম্পনীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • চকরিয়ায় বনভূমির জমি দখল করে বসত বাড়ী নির্মাণ

    চকরিয়ায় বনভূমির জমি দখল করে বসত বাড়ী নির্মাণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বনবিটের সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে দখল নিয়ে গড়ে উঠেছে বসতি ও স্থাপনা। সংকোচিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমি। দিন-রাতে বিপুল পরিমাণ অংশ একের পার এক দখল করে নিচ্ছে দলীয় প্রভাব কাটিয়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল। তাদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা প্রদানের অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

    সংরক্ষিত বনভূমি দখল নিয়ে এ দখলবাজ সিন্ডিকেট মোটা অংকে দখল বেচা—বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠছে। প্রভাবশালী এ সিন্ডিকেট হাওয়ায় ক্ষমতার দাপটে সরকারি বিধি নিষেধের কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে সংরক্ষিত বনভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে পাকা ঘর- বাড়ি ও খামার বাড়িসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। যার ফলে ধীরে ধীরে সংকোচিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমি।

    স্থানীয়রা জানায়, ডুলাহাজারা বনবিটের পশ্চিম পাশে বিটের লাগোয়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সংরক্ষিত এ বনভূমি দিবারাত্রি দখল বাজ এ সিন্ডিকেট দখল করে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। এতে করে সংরক্ষিত বনের অনেক পুরানো মাদার ট্রি গর্জন সহ সামাজিক নবায়নের মূল্যবান বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি দখলদারিত্বে কারণে সংকোচিত হয়ে আসছে সংরক্ষিত বনভূমি এবং হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

    সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বনবিট কার্যালয়ের কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল। গত এক মাস ধরে এসব বনভূমি দখল নিয়ে অবৈধ বসতি, মুরগির খামার ঘরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

    স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনা উচ্ছেদ করলে হবে না, উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ-সব চিহ্নিত দখলবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

    তারা আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের বন কর্মকর্তাদের নীরব সহযোগিতার সুযোগে এ প্রভাবশালী একাধিক সিন্ডিকেট সংরক্ষিত বনভূমি একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

    ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দখল বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মামলা করে আসছি এবং প্রতিবাদ করছি কিন্তু দখলবাজ চক্রকর্তৃক প্রাণে হত্যার হুমকির আশঙ্কা থাকায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছি না।’

    চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিকরা বলেন, অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

    চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ‘ডুলাহাজারা বনবিটের ওই জায়গায় ইতোমধ্যে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা, মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়।’অভিযানের পর জড়িত দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ,আর

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    ব্রাহ্মণপাড়ায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে জুনায়েদ (১০) ও হাসিব (৯) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর উত্তরপাড়া ইছামতি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু জুনায়েদ উপজেলার রামনগর গ্রামের হালিমের ছেলে। সে গোপালনগর উত্তরপাড়ায় তার খালার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। অপর নিহত শিশু হাসিব গোপালনগর উত্তরপাড়া ইছামতি বাড়ির কাউসারের ছেলে। সে স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে জুনায়েদ ও হাসিবসহ কয়েকজন শিশু বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে জুনায়েদ ও হাসিব পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুকুরে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা ছুটে এসে পুকুরে নেমে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন।

    পরে দ্রুত তাদের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেদওয়ান আহম্মদ হিমেল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধারণা করা হয়। পরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে উভয়ের ইসিজি করা হয়। ইসিজি পরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। এ,আর

  • রাউজানে সন্ত্রাসীর গুলিতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত

    রাউজানে সন্ত্রাসীর গুলিতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত

    দুই অস্ত্র ও ১২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধসহ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময় হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি ও ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার দিবাগত রাতে রাউজান থানার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

    আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই (নিরস্ত্র) জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই রবিউল হোসেনসহ ১২ জন।

    পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাসী জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় জানে আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ।

    তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) ও মো. বাঁচা (৪৫)সহ অন্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    গুলিবিনিময়ের সময় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। এ,আর

  • ১০ কেজি সারের জন্য ৬ ঘণ্টার অপেক্ষা, কৃষকের ক্ষোভ

    ১০ কেজি সারের জন্য ৬ ঘণ্টার অপেক্ষা, কৃষকের ক্ষোভ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাত্র ১০ কেজি সার পেতে সকাল থেকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে ডিলারের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে কৃষকদের। টাকা দিয়েও চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

    কারো জমি পাঁচ কানি, কারো সাত কানি, আবার কারো আমন ধানের আবাদ ১৪ কানি পর্যন্ত। অথচ দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মিলছে মাত্র ১০ কেজি সার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকানে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ভোর থেকেই সার নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

    কৃষক নুরুল আলম বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো সার পাইনি। যারা পেয়েছেন, তারা ১০ কেজি করে পেয়েছেন। আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, তা বলা মুশকিল।

    কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় জমিতে প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদার তুলনায় অল্প পরিমাণ সার পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

    উখিয়া উপজেলা সার ডিলারদের সভাপতি মোহাম্মদ কবির বলেন, এই মৌসুমে পুরো উখিয়ায় নয় হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর বাইরে প্রচুর পরিমাণ পিএফ জায়গাতেও ধান চাষ হয়। সোনারপাড়াসহ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বিশাল সুপারি বাগান। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করেন। এসব আবাদে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, তার পুরোটা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

    তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সার মিয়ানমারে পাচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, কৃষিজমি, বাগান ও আঙিনার চাষাবাদসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি চাহিদা এবং সার পাচারের অভিযোগ, সব মিলিয়ে উখিয়ায় বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সঙ্কট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার। তিনি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কৃষকরা ডিলারদের দোকান থেকে সার নিচ্ছেন। সার সঙ্কট নিরসনে আমরা কাজ করছি। কৃষকদের মধ্যে যারা একেবারেই সার পাননি, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার দেয়া হবে। আশা করছি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

    কৃষকদের প্রশ্ন, আমন ধানের মৌসুমে যেখানে সময়মতো সার প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ১০ কেজি সার পেতেই যদি ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে বড় আকারের আবাদ করা কৃষকের প্রয়োজন মিটবে কিভাবে?

    উখিয়ার কৃষকদের দাবি, সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বরাদ্দের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সার পাচার ও অবৈধ মজুতের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ,আর

  • কসবায় শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

    কসবায় শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে পিস্তল দেখিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা রাতেই কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত দেলোয়ার একই গ্রামের বাসিন্দা।

    থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে শিক্ষিকা উল্লেখ করেন, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করেন। ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি পিস্তল বের করে ভয় দেখান এবং জোর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন। এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, সিএনজিটি কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন ওই শিক্ষিকা। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর প্রায় এক মাসের সম্পর্ক ছিল। শিক্ষিকার রাগ কমাতে তাঁকে নিয়ে সিএনজিতে করে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। অপহরণের অভিযোগটি মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে শিক্ষিকা দেলোয়ারের সঙ্গে সম্পর্কের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করে কথা বলতে চান। তিনি রাজি না হওয়ায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে সিএনজিতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

    ওই শিক্ষিকা আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৭

    নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ৬৭ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার, একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার এবং তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিনের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযানগুলো চালানো হয়।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ মডেল থানা, সেনবাগ, চাটখিল ও চরজব্বর থানায় আটক কিশোরদের মধ্যে যথাক্রমে ৭, ৭, ১৩, ১১, ১১ ও ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় একজনকে ১৫১ ধারায় এবং একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কবিরহাট থানায় তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।এ,আর

  • উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

    শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলনে আছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারাও। এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিও যোগাদানের বিষয়ে অটল। এরইমধ্যে অনলাইনে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। এতে বিষয়টি সুরাহা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    সপ্তম দিনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে চুয়েট গেটে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সাদা কাপড়ে গণসাক্ষ্য কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবেন আন্দোলনরতরা। ছাড়া প্রশাসনিক ভবনের দরজাও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। টানা আন্দোলনে সেশনজটের শঙ্কা বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এমতাবস্থায় দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নিয়ে সংকট সমাধানের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

    মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর আগের ভিসি আবু সাদাত মো সায়েমকে বদলি করে ড শেখ শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। আগের ভিসিকে দক্ষ ও চুয়েট বান্ধব দাবি করে প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

  • সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবাগ্যা গ্রামের দীঘি বাজারে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি শৌচাগার ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাজারে আগত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীঘি বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এলজিএসপি প্রকল্পের আনুমানিক ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেটি ভেঙে দুটি কক্ষ তৈরি করে নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবি সংবলিত বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। বর্তমানে ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    এ ঘটনার জন্য স্থানীয়রা ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. কামাল ও বিএনপি নেতা মো. রাজিবকে অভিযুক্ত করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রাজিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শৌচাগারটি কামাল ভেঙেছে, পরে আমি সেখানে ঘর তৈরি করি। তবে সাইনবোর্ড কে টাঙিয়েছে তা আমার জানা নেই এবং সেখানে এখনো দলীয় কোনো কার্যক্রম চালানো হয়নি।”

    সরকারি খাস জায়গা ও জনগণের ব্যবহারের স্থাপনা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় বানানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীরা। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে, বিষয়টিকে দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: গাঁজাসহ গ্রেফতার ১৬

    ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: গাঁজাসহ গ্রেফতার ১৬

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    একই অভিযানে বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আরো দুই আসামি এবং মাদক সেবনের অভিযোগে সামারি ট্রায়ালের জন্য আরো ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক এসব অভিযানে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের শশীদল ও আশাবাড়ীর মধ্যবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়।

    এ সময় রেজাউল মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশে একটি ব্রিজের ওপর থেকে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী এলাকার শফিউল আলম (২০), শশীদল পশ্চিমপাড়ার সালাউদ্দিন হোসেন সাগর (২২) এবং আনন্দপুরের উত্তর তেতাভূমি এলাকার আক্তার হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।

    এদিকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পৃথক অভিযানে সিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো: শহিদ সরকার এবং জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩৬) গ্রেফতার করে পুলিশ।

    এ ছাড়া একই দিনে পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে আরো ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের সামারি ট্রায়ালের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, পৃথক এসব অভিযানে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও অটোরিকশা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। এ,আর

  • বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে চট্টগ্রাম নগরী। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর জন্য বেড খালি নেই। শত চেষ্টা করেও হাসপাতালের বারান্দা কিংবা ভেতরে বেড মিলছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর অনেকে জ্বরের যন্ত্রণায় আইসিইউতে কাতরাচ্ছেন। কয়েক দিনের যুদ্ধ শেষে জীবনের কাছে হার মানতে হচ্ছে জ্বরে আক্রান্তদের। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো।

    বর্তমানে আক্রান্তের দিক থেকে শহর এলাকা গ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের নামও। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিধনে চসিক ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের ওপর আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। চসিকের দেওয়া ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক ক্রাশ প্রোগ্রাম চললেও ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে না। তা ছাড়া ওষুধ প্রয়োগের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া উচিত। অথচ চসিক তা করছে না। সংস্থাটির ব্যবহৃত বিটিআই ওষুধ মশা নিধনে আদৌ কাজে আসছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোয় কোনো বেড খালি নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৪ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন করে রোগী ভর্তি করতে নারাজ সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।

    চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ইশতিয়াক আহমেদ মেহেরাজ বলেন, বহু কষ্টে সন্তানের জন্য একটি বেড পেয়েছি। ২০ দিন ধরে আমার চার বছর বয়সি সন্তানের গায়ে জ্বর কমছেই না। অথচ কোনো ভাইরাসই ধরা পড়ছে না। উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, নগরীর হালিশহর ডেঙ্গুর হটস্পট। অথচ সেখানে তেমন কোনো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চসিকের কর্মীদের অবহেলা অথবা ওষুধ প্রয়োগে অদক্ষতার কারণে মশা মরছে না বলে মনে করেন তিনি।

    আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে কোনো বেড পেলেও সেখানে চিকিৎসা নেই বললেই চলে। চসিকের কোনো লোকজনকে মশার ওষুধ দিতে দেখিনি। তিন মাস আগে একবার এলেও তাদের মতো করে ফগিং করে চলে যান। এতে মশার আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে না।

    দুই নম্বর গেটের বাসিন্দা রেজাউল রাজু বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ে। কাজ থেকে ফিরে মশা মারতে নানা আয়োজন করতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। অথচ সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তার অভিযোগ, ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে লোকদেখানো প্রচার চলছে। ওষুধ কাজ করে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ।

    এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। চলতি মাসে চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার নগরীর বেসরকারি সাজিনাস হাসপাতাল থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে নেন মনি আক্তার নামে এক নারী। ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার আট বছর বয়সি ছেলে আবু জাহেদও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে।

    আবু জাহেদের বাবা আল আমিন জানান, স্ত্রী হারানোর আগেই ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হন। সাজিনাস হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসার বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা বকেয়া রেখে তিনি চলে যান। সেদিনই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোক এখনো কাটেনি। এখন ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) উদ্বেগে রয়েছেন।

    এদিকে জেলার ১৫টি উপজেলার ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও নাজুক। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে। ওই উপজেলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে সিরাজুল মুনিরা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর কোরবান আলী রিফাত নামে ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উপদ্রব কমাতে সেই উপজেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্য উপজেলায় আক্রান্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

    বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমানে পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় কোনো কাউন্সিলর-মেম্বার ও মেয়র-চেয়ারম্যান নেই। সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ দেওয়ার স্থানও তারা পাচ্ছেন না। মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।

    জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ২,৫১৫ জন। বিপরীতে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২২ জন। এর মধ্যে জেলার ১৫ উপজেলায় ১,৭১১ জন। আর চসিক এলাকায় ১,৭৭০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্ত বেড়েছে ১,৪০৭ জন।

    তবে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৯৩৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে আক্রান্ত ১,৭৮৬ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ৯১.০২ শতাংশ এবং মৃত্যু ২২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহী জানান, ১৫৮টি স্প্রে মেশিন ও ৮৬টি ফগার মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। ৬০ জনের একটি বিশেষায়িত টিমও মাঠে রয়েছে। স্প্রে ও ফগিংÑএই দুভাবে মশা নিধন করা হচ্ছে। বিটিআই ওষুধটি একটি ব্যাকটেরিয়া। সরাসরি মশার পাকস্থলীতে আক্রমণ করে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওষুধটি ব্যবহার করা হবে।

    এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। পাঁচটি হটস্পটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করতে গেলে কিছুটা গ্যাপ থেকে যায়। আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিটিআই আগের চেয়ে ভালো করছে বলেই আমরা এটি ব্যবহার করছি।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চসিকের সঙ্গে আমরা ওষুধ নিয়ে কথা বলব। নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সিজন থাকবে। আমরা মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যৌথভাবে কাজ করছি।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রধান অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, তিন কারণে ডেঙ্গু বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, বিদ্যমান তাপমাত্রা ও বাতাসে ৮০ শতাংশের ওপরে আর্দ্রতা। এটি এডিস বৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য সহায়ক। এতে বৃষ্টির সংস্পর্শে এডিস মশার পেড়ে রাখা ডিম তিন দিনের মধ্যে অ্যাডাল্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা নভেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। আর থেমে থেমে বৃষ্টি কমে গেলে আরো আগে কমে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চার ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে চট্টগ্রামের ডেঙ্গুর ধরন জানতে নমুনা দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

  • নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।