চট্টগ্রাম বিভাগ

  • লালমাইয়ে ১৯ বছর ধরে এক সেতুর অপেক্ষায় ২০ হাজার মানুষ

    লালমাইয়ে ১৯ বছর ধরে এক সেতুর অপেক্ষায় ২০ হাজার মানুষ

    কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ও বাকই উত্তর ইউনিয়নের অন্তত সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। বর্ষা এলে এ সাঁকোই হয়ে ওঠে ডাকাতিয়া নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা।

    জানা গেছে, আলীশ্বর ও ভাবকপাড়া নামক স্থানে নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় আলীশ্বর, নুরপুর, কসরাইশ, ভাবকপাড়া, শিকারিপাড়া, গছকড়া ও পাড়া ভাবকপাড়া গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়ে নিজেরাই প্রতিবছর বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকোটি সংস্কার করে আসছেন।

    স্থানীয়রা জানান, নদীর পূর্ব পাশে রয়েছে আলীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলীশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বীনিয়া মাদ্রাসা ও আলীশ্বর বাজার। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই পথচলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।

    স্থানীয় কৃষক মকবুল মিয়া বলেন, গত বছর মাঠ থেকে খড় নিয়ে ফেরার পথে বাঁশের ফাঁকে পা আটকে পড়ে যাই, পরে লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন জানান, বছরের পর বছর ধরে ব্রিজ হবে শুনছি, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।

    বাকই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, এই গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই— একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এই জনদুর্ভোগ দূর করা হোক।

    লালমাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি ড. শাহজাহান মজুমদার বলেন, একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে শুধু মানুষের দুর্ভোগই কমবে না, এলাকার শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সার্বিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

    লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিমাদ্রী খীসা বলেন, জনসাধারণের যাতায়াত সহজ করতে সংশ্লিষ্ট স্থানে সেতু নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। সূত্রঃ কালবেলা

  • লংগদুতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে মানববন্ধন

    লংগদুতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে মানববন্ধন

    আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে, লংগদুতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের একতা” গড়বে আগামী শুদ্ধতা”‘ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়। মানববন্ধনে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক -শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ,অংশ নেন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এসময় জনসাধারণের মাঝে দুর্নীতির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করা হয।

  • রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি স্কুলে বিজির শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ

    রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি স্কুলে বিজির শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ

    পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বিলাইছড়িতে দুর্গম প্রংজাং পাড়ার একটি প্রাইমারি স্কুলে বেঞ্চ, চেয়ার ও টেবিলসহ শিক্ষাসামগ্রী দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সোমবার (২০ অক্টোবর) বিজিবির রুমা ব্যাটালিয়নের (৯ বিজিবি) অধীনস্থ রাইক্ষ্যংপুকুরপাড়া লগ বেস ক্যাম্প কমান্ডার বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ইউনিয়নের প্রংজাং পাড়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করেন।

  • রাঙ্গামাটিতে দুই ভারতীয় নাগরিকসহ আটক ৬

    রাঙ্গামাটিতে দুই ভারতীয় নাগরিকসহ আটক ৬

    রাঙ্গামাটিতে অবৈধভাবে নদী পথে বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে দুই ভারতীয় নাগরিকসহ ছয়জনকে আটক করেছে বিজিবি। দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন— সুরেশ চাকমা (৩৯) ও অরংখান চাকমা (৩০)। তাদের দুজনের বাড়ি ভারতের লুংলে জেলার দিমাগরী থানার ত্রিপুরাঘাটে। তবে তাদের সহায়তাকারী চার বাংলাদেশি নাগরিকের নাম জানা যায়নি।

    শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটির বরকলে তাদেরকে আটক করা হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি বরকলের ৪৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাসুদ আল ফেরদৌস। তিনি ঢাকা মেইলকে জানান, বিকেলে সাড়ে পাঁচটার দিকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের টিপরাঘাট থেকে দুজন ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্তের ছোট হরিণা দিয়ে অনুপ্রবেশ করে। পরে চারজন বাংলাদেশি নাগরিকের সহযোগিতায় একটি স্পীড বোট ভাড়া করেন তারা। স্পীড বোট ৮০০ টাকায় ভাড়া করে নদী পথে রাঙামাটির দিকে আসছিল।

  • বাঘাইছড়িতে ২৭ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিগারেট ও মিনি ট্রাক জব্দ

    বাঘাইছড়িতে ২৭ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিগারেট ও মিনি ট্রাক জব্দ

    রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন খেদারমারা ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেটসহ একটি মিনি ট্রাক জব্দ করেছে ২৭ বিজিবি (মারিশ্যা জোন)।

    শনিবার (২১ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদের নির্দেশনায় ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে টহল দলটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১৪৫ কার্টন (১,৪৫০ প্যাকেট) ভারতীয় সিগারেট এবং ঢাকা মেট্রো-ন-১৫৯৩৮২ নাম্বারের একটি মিনি ট্রাক পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকচালক সিগারেট ফেলে পালিয়ে যায়।

    বিজিবি জানায়, আটককৃত সিগারেট ও ট্রাকের আনুমানিক মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

    জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, “মারিশ্যা জোন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ চোরাচালান রোধে সর্বদা সচেষ্ট। চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

  • কাপ্তাইয়ে ধরা পড়ল ২৩ কেজি ওজনের কাতল!

    কাপ্তাইয়ে ধরা পড়ল ২৩ কেজি ওজনের কাতল!

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২৩ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কাপ্তাই উপজেলার ১নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কয়লার ডিপুঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয় জেলে উজ্জ্বল মল্লিকের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

    রাতে হরি মন্দির এলাকায় স্থানীয়দের কাছে প্রতি কেজি এক হাজার টাকা দরে মোট ২৩ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করেন তিনি।

    মঙ্গলবার ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে জেলে উজ্জ্বল মল্লিক বলেন, সোমবার বিকালে কাচকি জাল নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরতে যাই। সন্ধ্যার দিকে কয়লার ডিপুঘাট এলাকায় জালে একটি বড় কাতল মাছ ধরা পড়ে। মাছটির ওজন ২৩ কেজি। এরপর স্থানীয়দের কাছে কেজি প্রতি এক হাজার টাকা দরে মাছটি বিক্রি করেছি।

    তিনি আরও জানান, এর আগেও তার জালে ২৩ কেজি ওজনের আরেকটি বড় মাছ ধরা পড়েছিল।

  • রাঙ্গামাটিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

    রাঙ্গামাটিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

    হরতালের কারণে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের পর কোটাবিরোধী ঐক্য জোট তাদের ডাকা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর ২টার পর জোট এই ঘোষণা দেয়।

    সংগঠনের অন্যতম নেতা নুরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের ছয় দফা দাবির বিষয়ে জেলা পরিষদ শনিবারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমরা আশা করছি। তাই দুপুর ২টা থেকে হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছি।

    জানা গেছে, হরতালকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামীকালের (শুক্রবার) নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা পরিষদ। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো একই পরীক্ষা স্থগিত হলো। এর আগে ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সালের ২১ মে এবং ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।

    বুধবার দুপুরে কোটাবিরোধী ঐক্যজোট বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৩৬ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হরতালের সমর্থনে শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুপুর ১টায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার নিরাপত্তা বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন।

    কাজল তালুকদার বলেন, পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে আসা-যাওয়া ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অপরদিকে কোটাবিরোধী ঐক্যজোটের নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নীতিমালা অনুসরণ করার পরিবর্তে জেলা পরিষদ ৭০ শতাংশ পাহাড়ি ও ৩০ শতাংশ বাঙালি কোটা মেনে নিয়োগ দিতে চাইছে, যা তারা ‘চরম বৈষম্য’ বলে দাবি করেন। পরীক্ষা স্থগিতের পর আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানায় সংগঠনটি।

  • শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি রক্ষায় অভিযান

    শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি রক্ষায় অভিযান

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি কাটায় মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রাগৈ এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে আজ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ফসলি জমি নষ্ট করে গভীরভাবে মাটি কাটায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

    উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার স্থান পরিদর্শন করেন এবং অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি তল্লাশি করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    অভিযানে শাহরাস্তি থানা পুলিশের একটি টিম এবং উপজেলা আনসার সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।

    স্থানীয়রা জানান, ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কাটার কারণে কৃষির ক্ষতি হচ্ছিল এবং তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছিল। মোবাইল কোর্টের এ অভিযান তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে বলে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

  • হাইমচরে ৫০ কোটি টাকার পান বিক্রি

    হাইমচরে ৫০ কোটি টাকার পান বিক্রি

    চাঁদপুরের উপকূলীয় উপজেলা হাইমচরের অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পান। প্রতিবছর এখানকার পান বিক্রি হয় প্রায় ৫০ থেকে ৫২ কোটি টাকায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পান সরবরাহ করা হয় পাশের উপজেলা ও জেলার বাজারেও। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাইয়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানচাষিরা সরকারের কাছ থেকে কখনো কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা পাননি—এমনটাই বলছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

    ভৌগোলিকভাবে হাইমচরবাসী মেঘনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম দুই পাড়ে বিভক্ত। পূর্বপাড়ের লোকজন মূলত কৃষিকাজ এবং পশ্চিমের চরাঞ্চলের বাসিন্দারা মাছ ধরা ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে মহানলী, চালতা কোঠা, নল ডোগ, সাচি জাতের পান চাষ করে পরিবার চালাচ্ছেন হাজারো মানুষ। অনেকেই বংশপরম্পরায় যুক্ত এই আবাদে।

    উপজেলা ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি সময়জুড়ে প্রতিদিনই চলে পান সংগ্রহ ও বিক্রি। আগে পানের বাজার ছিল জেলা শহরের বাইরে, এখন হাইমচর উপজেলা সদরের কাছেই গড়ে উঠেছে পানের আড়ত, যেখানে প্রতিদিন চলে পাইকারি বেচাকেনা।

    উত্তর আলগী ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের চাষি ফারুকুল ইসলাম গাজী দেড় একর জমিতে পান চাষ করেন। প্রতিদিন তাঁর বরজে কাজ করেন তিন-চারজন শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তবে যখন দাম ভালো থাকে, তখন ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে আসে। কিন্তু কোনো দুর্যোগে কখনো সরকারি সহায়তা পাইনি।’

    বরজের একাধিক শ্রমিক জানান, অল্প বয়সেই তাঁরা পান চাষের কাজ শিখেছেন এবং এ কাজ দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।

    একই গ্রামের আরেক চাষি মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘আমাদের বাবারা এই বরজ রেখে গেছেন। এখন আমরাই আবাদ করছি। পানে রোগ দেখা দিলে উৎপাদন কমে যায়, শিকড় পচে নষ্ট হয়, আবার নতুন করে শিকড় লাগাতে হয়। কোনো প্রশিক্ষণ পাই না, আগেরদের দেখে কাজ শিখে নিচ্ছি।’

    হাইমচরের পান ব্যাপারী মো. রাসেল দুই দশক ধরে এই ব্যবসায় যুক্ত। তিনি বলেন, ‘হাইমচরের বরজ থেকে পান কিনে স্থানীয় বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করি। বাবুরহাট, মহামায়া, চান্দ্রা বাজারসহ আশপাশের শতাধিক ব্যবসায়ী এ পেশায় যুক্ত।’

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্রামের চেরাগ আলী ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ‘প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার আমি বিভিন্ন বাজারে পান বিক্রি করি। হাইমচর থেকে প্রতিবার অর্ধলাখ টাকার পান কিনি। এই ব্যবসার ওপরই আমার সংসার চলে।’

    হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার জানান, ‘চলতি বছর হাইমচরে ২৩৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় বরজের সংখ্যা ১ হাজার ৭২। প্রতিবছর প্রায় ৫০–৫২ কোটি টাকার পান বিক্রি হয়। দুর্যোগ বা রোগ দেখা দিলে কৃষকদের পাশে থাকি, পরামর্শ দিই। প্রণোদনার প্রয়োজন হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত পান চাষে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।’

  • মেসি হতে চায় চাদপুরের ক্ষুদে বালক

    মেসি হতে চায় চাদপুরের ক্ষুদে বালক

    পায়ে বল, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। বলের ওপর অসম্ভব নিয়ন্ত্রণ। তার পায়ে যখন বল থাকে, মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে থাকেন দর্শকেরা। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই এমন ফুটবল প্রতিভা শিশু সোহানের!

    প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যায় অনেকটা লিওনেল মেসির মতো করে, আর তার রেইনবো ফ্লিক ঠিক নেইমারের মতো। মিনিটের পর মিনিট পায়ের ওপর বল রাখতে পারে যেকোনো তারকা ফুটবলারের মতোই। সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তার ভিডিও যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিস্মিত—বড় হয়ে কী হবে এই ছেলে!

    লিওনেল মেসির মতো ফুটবলার হতে চায় খুদে ফুটবলার সোহান। এই বয়সেই তার ফুটবল কসরত এবং মেসির মতো ফুটবলার হতে চাওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, যা নজর এড়ায়নি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও। খুদে সোহানের ফুটবল প্রতিভায় মুগ্ধ তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সোহান ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

    প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অনুশীলন করে সোহান। তাকে সাহায্য করেন বাবা সোহেল প্রধানিয়া। পেশায় সাইকেল মেকানিক। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাড়ে পাঁচআনি গ্রামে বসবাস তাঁদের। প্রধানিয়া জানান, তাঁর ছেলের নির্দিষ্ট কোনো কোচ নেই। সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে নিজেই ছেলেকে শেখান ফুটবল খেলার নানান কৌশল। পাস দেওয়া, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কিংবা রেইনবো ফ্লিক এতই চমৎকার হয় যে তা দেখে মুগ্ধ হয় মানুষ। সোহানের বয়স, বয়স অনুযায়ী খেলার ধরন, সাহস নিয়ে কথা বলা ছড়ায় মুগ্ধতার রেশ। বড় হয়ে বড় ফুটবলার হতে হবে, এমন স্বপ্নের বীজ ছেলের মধ্যে বপন করেছেন সোহেল প্রধানিয়া।

  • বিতর্কিতদের নিয়ে এনসিপির কমিটি

    বিতর্কিতদের নিয়ে এনসিপির কমিটি

    ফেনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটিকে ঘিরে বিরোধ দেখা দিয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফেনী প্রেসক্লাবে কমিটি ঘোষণার এক দিনের মাথায় সংবাদ সম্মেলন করেন কমিটিতে স্থান পাওয়া একাংশের নেতারা।

    এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটিতে যুগ্ম সদস্য সচিব পদ পাওয়া আবদুল কাইয়ুম সোহাগ। এসময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জোবায়ের, ফজলে এলাহী সায়েমসহ অন্যরা।সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কাইয়ুম সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভাবনা ও সাংগঠনিক বিধি উপেক্ষা করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি গঠনে তৃণমূলের মতামত নেওয়া হয়নি। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা অনেককে বাদ দিয়ে নতুন মুখ দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এমনকি চাঁদা ও ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ থাকা দুই ব্যক্তিকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে, যা জুলাই চেতনার পরিপন্থী। বিষয়টি কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের জানালেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হোক।আরেক যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জোবায়ের বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও ৫ আগস্ট পরবর্তী এনসিপির কার্যক্রমে অগ্রভাগে থাকা সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল আজিজ ও সক্রিয় সদস্য তাহমিদুল ইসলামকে কমিটিতে না রাখায় আমরা ক্ষুব্ধ। এনসিপির কার্যক্রম মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের জায়গা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয় জাহিদুল ইসলাম সৈকতকে এবং শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিককে সদস্য সচিব করা হয়।

  • ফ্যাসিবাদি সরকার পালিয়ে গেলেও দেশ ফাসিবাদমুক্ত হয়নি : শফিকুর রহমান

    ফ্যাসিবাদি সরকার পালিয়ে গেলেও দেশ ফাসিবাদমুক্ত হয়নি : শফিকুর রহমান

    শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ২টায় ৮ দলের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গাড়ি দিয়ে পালানোর সাহস বিগত ফ্যাসিবাদি সরকার হারিয়ে ফেলেছিল। এজন্য তারা আকাশপথে পালিয়েছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিকেও এই অপকর্মে ব্যবহারের অপচেষ্টা করেছিল। দেশের সবকিছু তারা ধ্বংস করেছে। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। ফ্যাসিবাদকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে দেয়া হবে না।’ ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।’

    ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের উন্নয়ন করেছিল। রাস্তাঘাট তৈরি করেছিল রডের বদলে বাঁশ দিয়ে। বাংলাদেশের টাকা লুট করে সিঙ্গাপুরে গিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর কুখ্যাত প্রধানমন্ত্রী বলেছিল রঙ দিয়ে শুয়েছিল। তারা রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছিল রক্তাক্ত হাতেই বিদায় নিয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে কোরআনের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম থেকে ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজানো হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ।’

    ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে মন্তব্য করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।’

    আন্দোলনরত ৮ দলের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঐক্য আমাদেরকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।’

    ‘প্রয়োজনে আবারো ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে,’ হুঁশিয়ার করেন তিনি।

    সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের রক্তে গড়া। বনেদিদের বাংলাদেশ আর থাকবে না। অনেক দল থেকে আসন সমঝোতার অফার দেয়া হয়েছিল। আমরা বাংলাদেশের অধিকার মালিকানা কায়েম করতে চাই। ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। পুঁজিবাদি অর্থব্যবস্থার কবর রচনা করে আল্লাহর আইনের ব্যবস্থা রচনা করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এবার ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার মাটিতে জেগে উঠেছে। সকল চক্রান্ত, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে জনতার বিজয় হবে।’

    বাংলার মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, “দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাক্স ভরতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সরকারকে তার দায় নিতে হবে।”

    তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘ব্রিটিশ এই দেশ থেকে চলে গেলেও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বৈষম্য দূর হয়নি। সেই থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যারা শাসক ছিল তারা বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। তাই ৫ আগস্টের আন্দোলনে হাজার হাজার জীবনের বিনিময়েও মানুষ মুক্তি পায়নি। আগামীতে আবারো চাঁদাবাজ, জালেমদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে বৈষম্য থাকবে না। কেউ দশ তলায় কেউ নিচতলায় থাকবে সেটা আর হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা ইসলামের পক্ষে, বাংলাদেশের পক্ষে থাকতে চাই। ইসলামকে বিজয় করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইসলাম আগামীতে ক্ষমতায় যাবে ইনশাআল্লাহ। যথাসময়ে নির্বাচন দিতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মানবে না। হুমকি-ধমকি চলবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।’

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে চট্টগ্রামকে ইসলামের ঘাঁটি বানাই। চট্টগ্রামের মাটি ইসলামের ঘাঁটি। ৮ দলের এই শক্তি ক্ষমতায় গেলে আপনারাই দেশ শাসন করবেন। কারো দাদার শক্তিতে এ দেশ আর চলবে না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদশ এমন পর্যায়ে দাঁড়াবে বিদেশীরা এখানে পড়ালেখা করতে আসবে, আমাদের দেশে কাজ করতে আসবে। আসুন আমরা সবাই মিলে সেই দেশ গড়ি।’

    ৮ দলের প্রধানদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

    সমাবেশে ৮ দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মুন্সি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আলাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব আল্লামা মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, খেলাফত মজসিলের যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ইসলামী

    আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি রেজাউল করিম আববার, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু মুজাফফর মোহাম্মদ আনাছ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক খুরশিদ আলম ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন।

    আরো বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার, দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ প্রমুখ।

    সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম জামায়াতের অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী বান্দরবান জেলা আমির মাওলানা আবদুস সালাম আজাদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আল মুহাম্মদ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল ওয়াহেদ, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জালাল উদ্দীন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা মোহাম্মদ ফয়সাল, নগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: এ কে এম ফজলুল হক, ডা: ছিদ্দিকুর রহমান, এস এম লুৎফর রহমান, শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ ইসহাক, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহসভাপতি নুর উদ্দিন, জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক ও অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান প্রমুখ।

    ওইদিন সকাল থেকে নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে মিছিলে মিছিলে জড়ো হতে থাকেন ৮ দলের নেতাকর্মী ও নগরবাসী। দুপুর পৌনে ২টা থেকে শুরু হয় সমাবেশের মূল কার্যক্রম। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    বক্তাদের বক্তব্যের সময় নেতাকর্মীরা পাঁচদফা দাবি নিয়ে স্লোগান দেন।

  • একটি সড়কের অপেক্ষায়

    একটি সড়কের অপেক্ষায়

    গ্রামের নাম কাঠালিয়া। চাঁদপুরের কচুয়া ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রামটির অবস্থান। কচুয়া উপজেলার ৫ নম্বর পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামে প্রায় এক হাজার ২শ জনসংখ্যা। অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী মাধব সরকার বলেন, আমার বয়স ৫৮। সেই শৈশব কাল থেকে দেখে আসা যাতায়াতের কষ্ট যেন শেষ হয়নি আজও। শেষ বয়সে এসেও আধুনিক যুগে এমন দুর্বিষহ কষ্ট আমাদের গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

    দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা পায়নি কাঠালিয়া গ্রামের মানুষজন। গ্রামটিতে রাস্তা না থাকার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। গ্রামবাসী বর্ষা মৌসুমে কখনও নৌকায়, আবার কখনও হাঁটু বা কোমর পানিতে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে ইরি ক্ষেতের কর্দমাক্ত আইল দিয়ে যাতায়াত করছে।

    ওই গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের গ্রামে যাতায়াতের জন্য কোনও রাস্তা না থাকায় সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছি না। এতে পড়ালেখায় আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
    দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তারা।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের গ্রামটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় আমরা অবহেলিত। দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে চলাচলে পথ। একটি পক্ষ আদালতে মামলা করলে সেখানে রাস্তার নির্মাণ কাজ থমকে যায়। আধুনিক যুগেও একরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদের নাম কাঠালিয়া গ্রাম। অনেকেই জনপ্রতিনিধি হয়ে আসেন কিন্তু আমাদের দুঃখ ও দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরে ওই গ্রামে রাস্তা নেই। কিছুদিন আগে আমি ওই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের জন্য পরিদর্শন করি। কিন্তু যে স্থানে রাস্তা নির্মাণ করা হবে তার দু পাশে কৃষকের মালিকানা জমি থাকায় এবং মামলা থাকায় রাস্তা নির্মাণে সমস্যা হচ্ছে। তবে মতলব ও কচুয়া জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণে চেষ্টা চলছে।

    উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলিম লিটন বলেন, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের রাস্তা নির্মাণ কাজের বরাদ্দের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কাঠালিয়া গ্রামের রাস্তাটি বরাদ্দের আওতায় বাদ পড়লে তালিকা তৈরি করে পুনরায় পাঠানো হবে।

    উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান শিশির বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি দুবার কাঠালিয়া গ্রাম পরিদর্শন করি। রাস্তা না থাকায় আমি ও আমার সঙ্গের লোকজনকে ওই গ্রামে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতে গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪টি সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। কাঠালিয়া গ্রামের মানুষ অনেক কষ্টে যাতায়াত করেন এবং দুর্ভোগ নিরসনের জন্য আমরা জোরালো চেষ্টা করছি।

  • ফরিদগঞ্জে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে সভা

    ফরিদগঞ্জে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে সভা

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেচ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রধানদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় সেচ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কৃষকদের নানান সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান শেষে দ্রুত তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, কৃষক সংগ্রাম কমিটি চাঁদপুর-লক্ষীপুর সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলাল।

    সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র ফরিদ্গঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তাফিজুুর রহমান, বিএডিসি চাঁদপুর (ক্ষুদ্রসেচ) ইউনিট’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষক প্রতিনিধি ও কৃষির সাথে সম্পক্ত দপ্তরের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • পাহাড়ি নারীদের তৈরি পিনন-হাদির কদর দেশ পেরিয়ে বিদেশে

    পাহাড়ি নারীদের তৈরি পিনন-হাদির কদর দেশ পেরিয়ে বিদেশে

    পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘পিনন-হাদি’ এখন কেবল সংস্কৃতির প্রতীক নয়, এটি পাহাড়ি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম এমনকি বিদেশেও এর চাহিদা বাড়ায় ব্যবসার দ্রুত প্রসার লাভ করছে। তবে এই ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা সরকারি ঋণ ও সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে পুঁজির সংকটে ভুগছেন।

    জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ভাষাভাষীর পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। পাহাড়ি এসব জনগোষ্ঠী নারীদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি। ছোট বড় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পাহাড়ের প্রধান উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু উপলক্ষে পাহাড়ি নারীদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের পরিচয় বহন করা এই পোশাকপাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী এই পরিধেয় বস্ত্রের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। রাঙ্গামাটি শহরের বনরুপা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন শনি ও বুধবারে জমজমাট বাজার বসে পিনন-হাদির। খুচরা ও পাইকারি দামে বিক্রি হয় নারীদের এই পোশাক। হাটের দিন ভোরে দূরদূরান্ত থেকে নানা ডিজাইনের পিনন-হাদি নিয়ে বিক্রি করতে আসেন বিক্রেতারা। চাহিদা বাড়তে থাকায় ঢাকা -চট্টগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। ঐতিহ্যবাহী এই পোশাকের বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে পাহাড়ি নারীরা।

    সম্প্রতি রাঙ্গামাটির বনরুপা বাজার ঘুরে দেখা যায়, নানা ডিজাইনের সারি সারি পিনন-হাদি বিক্রি করছেন নারী বিক্রেতারা। একজোড়া পিনন-হাদির দাম সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতা শতাব্দী চাকমা ও পহেলী চাকমা বলেন, আমরা সকালে ঘাগড়া থেকে এসেছি। এখানে কম দামে পিনন-হাদি পাওয়া যায় তাই কিনতে আসেছি।

    বিক্রেতা তিশা চাকমা বলেন, প্রতিটি পিনন-হাদির ডিজাইন ও কাপড়ের কোয়ালিটির ওপর দাম নির্ভর করে। একটা পিনন-হাদি সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    বিক্রেতা শ্যামলী চাকমা বলেন, পাহাড়ি নারী কারিগরের মাধ্যমে বুনন করে আমরা সপ্তাহে দুই দিন বাজারে এনে বিক্রি করি। মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়। অনেকে পাইকারি দরে কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে নিয়ে যায়। বিশেষ করে যেসব দেশে চাকমা কমিউনিটির লোকজন বসবাস করে।নির্মলা চাকমা বলেন, এই পিনন-হাদি বিক্রি করে আমরা আর্থিকভাবে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছি। অন্যদিকে আমাদের যে ঐতিহ্য সেটা টিকিয়ে রাখছি। বিজু ও বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক উৎসবে পিননের চাহিদা বেশি থাকে। তবে আমাদের ব্যবসা করতে অনেক অর্থের দরকার হয়। কিন্তু আমরা কোনো সরকারি সহযোগিতা বা কোনো ঋণ পাই না। নিজেদের জমানো টাকা আর নানাজনের থেকে ধারদেনা করে ব্যবসা চালাতে হয়।বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, এই ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য যে প্রণোদনামূলক বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে সেই প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। যার কারণে তাদেরকে ঋণ দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা চাইলে আমরা তাদেরকে ঋণের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকে সুপারিশ করতে পারি।

  • চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ আটক ৫১

    চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ আটক ৫১

    চাঁদপুরে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ ৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুরু করে মধ্য রাত পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের মুখার্জিঘাট, চৌধুরীঘাট, লন্ডনঘাট, ছায়াবানী মোড় ও পৌর সিএনজি স্ট্যান্ড (পুরান আদালতপাড়া), কালীবাড়ি প্ল্যাটফর্মসহ বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালায় সদর মডেল থানার পুলিশ। এতে ৪৫ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কিশোর অপরাধী সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে।

    সদর মডেল থানার ওসি বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে, প্রাথমিকেভাবে যাচাই-বাছাই শেষে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে বা যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ-সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে, তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আজ থেকে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি পাচ্ছেন পর্যটকরা

    আজ থেকে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি পাচ্ছেন পর্যটকরা

    পর্যটন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার ১০ মাস পর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে অবশেষে রাতযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। আজ সোমবার চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার অনুমতি পেয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অনুমতি বহাল থাকবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে প্রতিদিন সকাল ৭টায় উত্তর নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে জাহাজগুলো ছেড়ে যাবে। তবে, পর্যটকদের রাতযাপনের অনুমতি থাকলেও পর্যটকবাহী জাহাজগুলো একই দিন বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে। সেক্ষেত্রে পর্যটকরা পরেরদিন বেলা ৩টায় ফিরতে পারবেন।কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ ও রাতযাপন করতে পারবেন। তবে, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সরকার প্রদত্ত বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে হবে।জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, প্রথম দিনের যাত্রার জন্য এরই মধ্যে দেড় হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।এর আগে, দীর্ঘ ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞার পর গত ১ নভেম্বর সীমিত পরিসরে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু, রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় গত এক মাসে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপটিতে যাত্রা করেনি। এছাড়া কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটের পাশাপাশি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথও বছর খানেক সময় ধরে বন্ধ ছিল।কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই পর্যটনে সহায়তার জন্য পর্যটকদের সহযোগিতা করতে হবে।জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, ভ্রমণকারীদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। এছাড়া সেন্টমার্টিনে রাতযাপন করতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা পর্যটকদের কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণ সময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

  • রাঙ্গুনিয়ায় শ্রমিক দল নেতাকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা

    রাঙ্গুনিয়ায় শ্রমিক দল নেতাকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা

    ডে স্ক নিউজ:

    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে শ্রমিক দলের এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর নাম আবদুল মান্নান (৪০)। তিনি উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি।

    গতকাল রাত ১১টার দিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মধ্যম সরফভাটা বুলইন্যা বাপেরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাতে রাস্তার পাশে নির্জন এলাকায় গুলিবিদ্ধ আবদুল মান্নানকে পথচারীরা দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ছিল। তবে কারা, কী কারণে তাঁকে গুলি করেছে, তা জানা যায়নি।

    প্রবাসফেরত আবদুল মান্নান বালুসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।

    নিহত আবদুল মান্নানের শরীরে চারটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি তাঁর বাঁ চোখের কাছে, একটি বাঁ হাতে ও দুটি পেটের ডান পাশে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কেন, কী কারণে মান্নানকে গুলি করা হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • চট্টগ্রামে কম্বলের গোডাউনে আগুন ৩ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

    চট্টগ্রামে কম্বলের গোডাউনে আগুন ৩ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

    চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী এলাকার একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবনের চতুর্থ তলায় কম্বল ও শীতবস্ত্রের গুদামে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরপর ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। ৩ ঘণ্টার চেষ্টায়, বিকেল চারটার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    ঘটনাস্থলের সামনে কথা হয় নিচতলার দোকানকর্মী জামাল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ উপরের দিক থেকে ধোঁয়া নামতে দেখি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারতলার জানালায় আগুনের লেলিহান শিখা। তখন সবাই দৌড়ে নিচে নেমে আসে।খবর পেয়ে প্রথমে নন্দনকানন স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরে আরও ছয়টি ইউনিট যোগ দেয়। আগুন নেভাতে অংশ নেন ফায়ার সার্ভিসের ৬০ জনের বেশি কর্মী।চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, দাহ্য কাপড় ও কেমিক্যাল থাকায় আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আমাদের আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। উপপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ধারণা করছি, ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হবে। তবে তদন্ত শেষে আমরা সঠিক কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারব।

  • সোনালি আমনে ভরে গেছে সন্দ্বীপের ডুবোচর

    সোনালি আমনে ভরে গেছে সন্দ্বীপের ডুবোচর

    ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ আর ৩ কিলোমিটার চওড়া চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের নতুন চরটির নাম ডুবোচর। স্থানীয় মানুষেরা একে ডোবাচর বা ডুবাগা বলে। ডুবাগা শব্দের অর্থ—যে চর প্রবল জোয়ারে ডুবে যায়। চরটিতে এর আগে মাছ চাষের জন্যই কৃষকেরা ধানের আবাদ করতেন। এবার প্রথমবারের মতো ধানের ফলন কৃষকের প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। মাছের পাশাপাশি ধান থেকেও ভালো আয়ের আশা করছেন তাঁরা।

    ডুবোচর ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি রঙের পাকা ধানের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। মাঠে কৃষকেরা ব্যস্ত ধান কাটতে। কেউ মাঠ থেকে ধান তুলে এনে স্তূপ সাজাচ্ছেন। কেউ কেউ ট্রাক্টরে ধান বোঝাইয়ে ব্যস্ত। কৃষকদের মতে, চরের প্রায় ৫০০ কানি (১৬০ শতকে ১ কানি) আবাদি জমিতে এ বছর ধান উঠবে অন্তত ৩০ হাজার মণ বা ১ হাজার ২০০ টন। কৃষকেরা যেটিকে বাম্পার ফলন বলে উল্লেখ করেছেন।

    কৃষকেরা জানিয়েছেন, ডোবাচরে এ বছরই প্রথম এত বেশি পরিমাণে চাষ হলো। গত মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষে বাজিমাত হয়েছে বলেই এবার চাষ বেড়েছে বহুগুণে। আগামী মৌসুমগুলোতে চাষ উত্তরোত্তর বাড়বে বলেই তাঁদের ধারণা। আমনের বাম্পার ফলন হলেও কৃষি বিভাগের কোনো মাঠ

    কর্মকর্তার দেখা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে কৃষকের। সন্দ্বীপের কৃষি কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, ডুবোচরে তাঁর যাওয়া হয়নি, তবে সেখানকার আমনের ফলন সম্পর্কে তিনি জানেন।

    বাড়ছে ধানের চাষ

    কৃষকেরা জানিয়েছেন, গত মৌসুমে তাঁরা ধানের ফলন যাচাই করেছেন। জোয়ারের নোনাজলে ডুবে যায় বলে তাঁরা আমনের শতবর্ষী জাত ‘রাজাশাইল’ আবাদ করেছিলেন। খুব ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ হয়েছে অন্তত ৫০০ কানি জমিতে, যা গতবারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। চরের মধ্যভাগে নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন মো. নুরুল ইসলাম (৫৫)। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই চরের চাষ এক হাজার কানি ছাড়িয়ে যাবে।

    জমিতে বিছিয়ে রাখা ধানের ছড়া স্তূপ করছিলেন মো. নুর উদ্দিন (৫০)। নুর উদ্দিন এ বছর ১২ কানি জমিতে চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি ২০ কানি জমিতে আমন লাগানোর স্বপ্ন দেখছেন। নুর উদ্দিন, নুরুল ইসলামদের মতো প্রায় সব চাষির আশা, তাঁরা ভবিষ্যতে আরও বেশি আমনের চাষ করবেন।

    ধানে আর মাছে সাফল্য

    ডুবোচরে গিয়ে দেখা গেল, মাঠজুড়ে সোনালি ধান নিয়ে কৃষকের তৎপরতা। তবে কেবল ধান নিয়েই এখানে কৃষকের কারবার থেমে নেই। ধানের জমিতে মাছও চাষ করছেন। অনেক কৃষক মাছ চাষ করবেন বলে ধান লাগিয়েছিলেন। দুটিতেই এসেছে সাফল্য।

    তালিম হোসেন পূর্বপুরুষের জমিতে ফিরে চাষ শুরু করেছেন। ১২ কানি জমিতে ধান চাষ করেছেন তিনি। একই জমিতে মাছও ছেড়েছিলেন। এবার তিনি মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ২২ লাখ টাকার মতো। ভবিষ্যতে চাষ আরও বাড়াবেন। মাছের বিক্রিও বাড়বে বলে আশা তাঁর।

    ডুবোচরে ফলন বেশি

    জোয়ারের সঙ্গে ডুবোচরে পলি জমা হয় প্রতিবছর। আর এ কারণেই এখানকার জমি উর্বর। পাশের সবুজচর ও স্বর্ণদ্বীপের জমিতে এখন আর নতুন পলি জমে না। যত দিন পলি জমার সুযোগ পাবে, তত দিন উর্বরতা থাকবে অক্ষুণ্ন। ধানের ফলন যেমনি বেশি হবে, তেমনি মাছের আনাগোনাও থাকবে বেশি। এমন তথ্যই দিয়েছেন কৃষকেরা। তালিম হোসেন স্নাতক শেষ করে এখানে চাষে নেমে উপার্জন করছেন লাখ লাখ টাকা। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, পলি জমতে পারে বলেই বাম্পার ফলন হচ্ছে আমনের। ক্রমে চর উঁচু হয়ে জোয়ারে ডুবে যাওয়া বন্ধ হবে। তখন মাছ আহরণ আর ধানের ফলনে ভাটা পড়বে।

  • ফটিকছড়িতে গুলি করে টাকা ছিনতাই

    ফটিকছড়িতে গুলি করে টাকা ছিনতাই

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের রাবার ড্যামের পশ্চিম পাশে রঈপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মোটরসাইকেল আরোহী দুই দুর্বৃত্ত এ ঘটনায় জড়িত ।

    গুলিবিদ্ধ ওই ব্যবসায়ীর নাম মো. রমজান আলী (৪২)। তিনি মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের এজেন্ট। পাশাপাশি বাজারে তাঁর কুলিং কর্নার রয়েছে। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রমজান আলী। তবে মাঝপথে তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন দুজন মোটরসাইকেল আরোহী। এরপর ওই মোটরসাইকেলে থাকা একজন রমজান আলীকে অতর্কিত গুলি করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। পরে তাঁরা পালিয়ে যান। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে রমজান আলীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন।

    জানতে চাইলে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুল হক বলেন, ‘ওই বিকাশ ব্যবসায়ী দোকান থেকে বের হলে তাঁর পিছু নেন মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারী। আমরা ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

  • মিরসরাইয়ে খেজুরগাছ থেকে পড়ে শিবির নেতার মৃত্যু

    মিরসরাইয়ে খেজুরগাছ থেকে পড়ে শিবির নেতার মৃত্যু

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খেজুরগাছ থেকে পড়ে সাইফুল্লাহ মনোয়ার হোসেন (১৯) নামে এক ছাত্রশিবির নেতার মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়নের বামনসুন্দর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ জকি উদ্দিন মিজিবাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নুরের সালামের ছেলে।

    সুফিয়া নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল হক সিরাজী জানান, সাইফুল্লাহ মনোয়ার হোসেন সুফিয়া মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আজ খেজুরগাছে উঠতে গিয়ে পুকুরের পানিতে পড়ে যান তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ছাত্রশিবির মিরসরাই উত্তরের সভাপতি জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সাইফুল্লাহ মনোয়ার হোসেন ছাত্রশিবিরের কাটাছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। আজ বিকেলে রসের জন্য খেজুরগাছ কাটতে উঠলে নিচে পুকুরের পানিতে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে এক ঘণ্টা পর তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে: ধর্ম উপদেষ্টা

    ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে: ধর্ম উপদেষ্টা

    ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ইমাম খতিব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা রাজনীতিকে সমাজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করতে চাই। আমাদের রাজনীতি, সমাজ, কূটনীতি সব জায়গায় আমরা একটা ধর্মীয় আবেগ জাগ্রত করতে চাই। ধর্ম বাদ দিলে আমরা যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারি।

    ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্র হোক, রাজতন্ত্র হোক, ধর্ম থেকে রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা যদি আলাদা হয় এবং ধর্ম থেকে বিশ্লেষণ যদি আলাদা হয় তাহলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে।তিনি বলেন, দায়িত্বশীলদের অনুরোধ করব ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও খাদেমদের জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় সম্মানজনক বেতন এবং উৎসব ভাতা প্রদান করবেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ মুফতি শামীম মজুমদার, মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ তারেকী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আশেকুর রহমান প্রমুখ।

  • দেবিদ্বারে মাদক উদ্ধারে গিয়ে সংঘর্ষ; আহত-১২

    দেবিদ্বারে মাদক উদ্ধারে গিয়ে সংঘর্ষ; আহত-১২

    কুমিল্লার দেবিদারে মাদক কারবারিদের সাথে ডিবি পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ১৮ নভেম্বর উপজেলার ভিড়াল্লা গ্রামে এঘটনা ঘটে।

    এঘটনায় কম পক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান চালায় ভিড়াল্লা গ্রামে।

    এসময় ক্রেতা সেজে মাদক কারবারিদের সাথে যোগাযোগ করে ডিবি পুলিশ। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হাসান আহমেদ (২৫) কে আটক করে। তকে তল্লাশি করে ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ডিবি।

    এর পরে মাদক কারবারিরা পুলিশের উপরে হামলা করে। এতে ডিবি পুলিশের সাথে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ গ্রামবাসির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশসহ মোট ১২ জন আহত হয়।

    এঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হাসান ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

    দেবিদ্বার থানার ওসি ইয়াসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেন।

    বি/এ

  • ২৮ জেলেসহ ট্রলার নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড

    ২৮ জেলেসহ ট্রলার নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড

    বঙ্গোপসাগর থেকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার ২৮ জেলে-মাঝিসহ একটি মাছ ধরার ফিশিং ট্রলার ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ভারতীয় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে।

    বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আটকের বিষয়টি জানতে পারেন।

    এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর রাতে ২৮ মাঝি-মাল্লাসহ ফিশিং ট্রলারটি কুতুবদিয়া উপজেলার মলমচর এলাকা থেকে বঙ্গোপসাগরে রওনা দিলে ঘন কুয়াশায় ফিশিং ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভারতের জলসীমায় প্রবেশ করে। এ সময় তাদেরকে আটক করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

    কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নজরআলী মাতবর পাড়া এলাকার এফ.বি আদিব-২ ফিশিং ট্রলারের মালিক নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ভারতে আটক জেলেরা হলেন— দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন, নুরুল বশর, মোহাম্মদ শাহিন, তারেক মুহাম্মদ নওশাদ, আতিকুর রহমান, শাহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মামুনুর রশিদ, মোহাম্মদ রাকিব, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, নুরুল ইসলাম, জোবাইদুল হক, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের জকির আলম, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ তুহিন আলম, মোহাম্মদ মোজাহেদ, শাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের হাফিজুর রহমান, লেমশীখালী আবুল বশর, মোহাম্মদ নাজেম উদ্দিন, এনামুল হক, মোহাম্মদ শরীফ, রবিউল হাছান, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ওমর ফারুক, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, আকতার হোছাইন ও নজরুল ইসলাম।

    আটক মাঝি-মাল্লা পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আটকরা বর্তমানে ভারতের নারায়নপুর কান্দিব থানা হেফাজতে রয়েছেন।

    ট্রলারটির মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ২৮ মাঝি-মাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড। এ বিষয়ে লিখিতভাবে কুতুবদিয়া থানায় অবহিত করা হয়েছে।

    কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে কুতুবদিয়া উপজেলার মলমচর এলাকা থেকে ট্রলারটি যাত্রা করে। বৃহস্পতিবার রাতে ২৮ মাঝি-মাল্লাসহ ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে আটকের বিষয়টি জানতে পারে তাদের পরিবারের সদস্যরা। আটক জেলে ও ট্রলার উদ্ধারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এ বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরমান হোসেন বলেন, বিষয়টি থানায় একটি অবহিতকরণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • আড়াইহাজারে পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেল মুখোমুখি নিহত- ১

    আড়াইহাজারে পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেল মুখোমুখি নিহত- ১

    আড়াইহাজারে পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে রুহেল (১৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের নোয়াপাড়া চৌরাস্তার সংলগ্ন পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার থেকে মদনপুরগামী একটি পিকআপ (নং- ঢাকা মেট্রো ন-১৩-৯৩১৪) এবং মারুয়াদী থেকে আড়াইহাজারমুখি অনটেস্ট মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী রুহেল গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত রুহেল ছোট ফাউশা দেওয়ানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ হানিফা।

    সংবাদ পেয়ে আড়াইহাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

    আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

    আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    মঙ্গলবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইনগত সহায়তা প্রদান অধ্যাদেশ সংশোধন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে আমাদের একটা ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দেবে, এ ধরনের প্রত্যাশা আমরা করেছিলাম। কিন্তু প্রত্যাশা করেই আমরা বসে থাকিনি, নিজেদের মতো কাজ করেছি। সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, তা আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে পরিষ্কারভাবে জানতে পারবেন।

    তিনি বলেন, আমরা উপদেষ্টা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ে এটা আলোচনা করছি। সব দলের প্রত্যাশার প্রতি সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের এবং জনগণের স্বার্থে যা করা দরকার সেটাই আমরা করতে যাচ্ছি।’

  • বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

    বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন,বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে। ৫ আগস্ট পরর্বতী সময়ে দলটি নিজেদের আদর্শ থেকে সরে গেছে। যারা বিএনপির এ পরিবেশে থাকতে অস্বস্তিবোধ করছেন আমরা আপনাদেরকে ওয়েলকাম জানাচ্ছি। আমরা আপনাদের নমিনেশন দেব। আমরা কুমিল্লার ১১টি আসনে সৎ যোগ্য প্রার্থী দেব। আমরা প্রথম ধাপের প্রার্থী নভেম্বরের ৩য় সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করব। আমরা এ প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা একটি প্রতিনিধিত্ব মূলক, ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী এবং ফ্যাসিবাদ মুক্ত সংসদ চাচ্ছি। যে সংসদ হবে বাংলাদেশপন্থি সংসদ।

    রোববার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে এনসিপির কুমিল্লা মহনগর, কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলার সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা বাংলাদেশপন্থি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে যারা বিশ্বাস করে, যারা ভারতীয় আধিপত্য বিরোধীতায় বিশ্বাস করে, যারা এই গণঅভ্যুত্থান বিশ্বাস করে, সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং যারা এই বাংলাদেশে যে জনআকাঙ্খার কারণে এ বিপ্লব হয়েছে, সেটিতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে নিয়ে আগামীর সংসদ গঠিত হোক।

    ব্যারিস্টার মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন শিশির। কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাভিদ নওরোজ শাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য হাফসা জাহান, সালাউদ্দিন জামিল সৌরভ কুমিল্লা মহানগর এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

  • চট্টগ্রামে ফের গোলাগুলি, বিএনপির ৫ নেতা গুলিবিদ্ধ

    চট্টগ্রামে ফের গোলাগুলি, বিএনপির ৫ নেতা গুলিবিদ্ধ

    চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এবার জেলার রাউজানে প্রতিপক্ষের গুলিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৫ নেতা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কুইয়াপাড়া চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    গুলিবিদ্ধরা হলেন- রাউজান উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমন, বাগোয়ান ইউনিয়ন কৃষক দলের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, বাগোয়ান ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম চৌধুরী, বাগোয়ান ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও বিএনপি কর্মী মোহাম্মদ সোহেলকে গুরুতর জখম করে। তাদের সবার বাড়ি ওই ইউনিয়নে।

    এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ সুমনের বুকে গুলি লাগায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহত ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, আসন্ন ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাউজান উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইস্তিয়াক চৌধুরী অভি প্রকাশ ‘সন্ত্রাসী অভ্যার’ নেতৃত্বে আলতাফ চৌধুরী টুটুল, জনি চৌধুরীসহ ৭/৮ জন অতর্কিত গুলি চালায়।

    স্থানীয়রা জানান, দুর্বৃত্তরা গুলি করে একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তখন কাউকে পাইনি। বর্তমানে আমরা অভিযানে আছি। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে জানার চেষ্টা করছি। ঘটনায় জড়িতের আটকের চেষ্টা চলছে।

    এর আগে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব বায়েজিদ এলাকার চাইল্লাতলীতে গণসংযোগের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী) আসনের দলীয় প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩)।

  • এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ

    এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ

    চট্টগ্রাম মহানগরী বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়া এবং এ ঘটনায় একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য চরম হুমকি। যখন প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা এরকম প্রাণহানির ঘটনা ঘটায়, তখন তা গোটা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আতঙ্কিত করে তোলে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, আহত জনাব এরশাদ উল্লাহর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    অধ্যক্ষ নুরুল আমিন আরও বলেন, “এই ধরণের ঘটনা ঘটতে থাকলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে- রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।”

    তিনি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  • খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় এরশাদ উল্লাহকে

    খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় এরশাদ উল্লাহকে

    চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর গুলি চালানো হয় তার নির্বাচনি প্রচারণার সময়। বুধবার সন্ধ্যায় বায়েজিদ থানার চাইল্লাতলী এলাকায় এ হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সঙ্গে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা আটজন যুবক এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গণসংযোগের সময় দুই হাত দূর থেকে বিএনপির প্রার্থীর দিকে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়া হয়।

    ঘটনাস্থলে রক্তে ভিজে পড়ে থাকা প্রচারণার ব্যানার ও ছেঁড়া প্যাডফ্লেক্স- যেন সহিংস নির্বাচনের ভয়াবহ এক পূর্বাভাস।

    বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হামজারবাগ চাইল্লাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। পরে গণসংযোগ করে সবার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন। হঠাৎ গলির দিক থেকে মোটরসাইকেলের শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটির পর একটি গুলি। সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এরশাদের পায়ে গুলি লাগে বলে জানিয়েছেন তার সহযোগীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    ‘আমরা বুঝে ওঠার আগেই গুলির শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে,’ বলেন প্রত্যক্ষদর্শী মো. হুমায়ান নামে এক দোকানদার। ‘তিনটা মোটরসাইকেলে অন্তত আটজন ছিল। তারা হেলমেট পরা, মুখ ঢেকে এসেছিল।’ আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রায় সবারই কাছে পিস্তল ছিল। গুলির শব্দ শোনার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।

    ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দোকানে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এই সময় তার দিকে দুই হাত দূর থেকে পিস্তল বের করেন একজন। তারপর তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন বানচাল করতেই এই হামলা। প্রশাসনকে দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানাই।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সরোয়ার বাবলা নামে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, পরে তিনি মারা যান।

    ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। দলটির পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়।

    চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ

    গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ

    চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার হামজারবাগ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে বের হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তিনি চট্টগ্রাম–৮ (বাকলিয়া–বোয়ালখালী) আসনের প্রার্থী। বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এরশাদ উল্লাহকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এরশাদ উল্লাহ তার নির্বাচনি কার্যালয় থেকে কর্মীদের সঙ্গে প্রচারণায় বের হন। হামজারবাগ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি চালায়। এতে এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় একজন নিহতের খবর শোনা গেছে, তবে এখনো নিশ্চিত নই।

    এভারকেয়ার হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, এরশাদ উল্লাহর বুকের বাঁ পাশে গুলির আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। দলটির পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।

  • আলীকদমে মাইন বিস্ফোরণ

    আলীকদমে মাইন বিস্ফোরণ

    বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা সীমান্তের শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি আহত এবং মিয়ানমারের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পোয়ামুহুরী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হটাওমগপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহত বাংলাদেশি যুবকের নাম ম্যাংসার মোরং (৩০)। তিনি আলীকদমের কুরুকপাতা ইউপির গর্জনপাড়া এলাকার শাংওয়ান মোরংয়ের ছেলে। অপরদিকে নিহত মিয়ানমারের নাগরিকের নাম মেনথ্যাং (৪০)। তিনি দেশটির নতুন পাড়া এলাকার তাংলাইয়ের ছেলে বলে জানা যায়।

    স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জুম খেত দেখতে যাওয়ার সময় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েন তারা। এতে ঘটনাস্থলে থেকে আহত অবস্থায় বাংলাদেশি যুবক ম্যাংসার মোরং ফিরতে পারলেও ঘটনাস্থলেই নিহত হন মিয়ানমারের নাগরিক মেনথ্যাং। ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হটাওমগপাড়া এলাকায় ঘটেছে।

    কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

  • খাগড়াছড়িতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ২

    খাগড়াছড়িতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ২

    খাগড়াছড়িতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কের সাপমারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, বাসটির সুপারভাইজার চৌধুরীপাড়া এলাকার বিন্দু চাকমার ছে‌লে অ‌নিল চাকমা (৩২) ও দী‌ঘিনালা কোবাখালী মুস‌লিমপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল ক‌রিমের ছেলে আবদুর রাজ্জাক সওদাগর (৭২) ।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালের দিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী শান্তি পরিবহনের একটি বাস সাপমারা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ চেকপোস্টর পর পাহাড় নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৭ জনকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান আছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে হেফাজতে আনা হয়েছে।

  • কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র

    কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র

    কক্সবাজারের উন্নয়ন কেবল জাতীয় ইস্যু নয়, এটি এখন বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতের অংশ, বঙ্গোপসাগরের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

    কক্সবাজারের পর্যটন, নিরাপত্তা, পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো—এই পাঁচ স্তম্ভেই টেকসই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল।

    আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘কক্সবাজারের উন্নয়নযাত্রার জোয়ার ভাটা: সমস্যা, সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত তুলে ধরেন।

    কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স (সিসিএডি) এ সংলাপের আয়োজন করে। রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মানবাধিকারকর্মীরা সংলাপে অংশ নেন।

    বক্তারা বলেন, কক্সবাজার এখন একটি গ্লোবাল হাব। এটি এখন আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন, নীল অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। কক্সবাজারের উন্নয়ন এখন আর সম্ভাবনার প্রশ্ন নয়; বরং কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় এসেছে।

    আলোচনায় অংশ নেন কক্সবাজার-২ (পেকুয়া-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. সহিদুজ্জামান, কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম, এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক এম এম সুজা উদ্দিন প্রমুখ।

    হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, রাষ্ট্রকে দেওয়ার মতো কক্সবাজারের অনেক কিছু আছে—অসীম প্রাকৃতিক সম্পদ, সমুদ্র অর্থনীতি ও সম্ভাবনাময় মানুষ। এই উন্নয়নকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে এনে জনগণ ও স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, আগামীর কক্সবাজার হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির মূল কেন্দ্র হবে কক্সবাজার। কক্সবাজারের খনিজ নিয়ে প্রযুক্তিবান্ধব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

  • মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল দুজনের

    মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল দুজনের

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৃথক দুই স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ও সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ ও বারইয়ারহাট এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    সীতাকুণ্ড রেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ সিদ্দিকী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

    জানা যায়, বিকেল ২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় চট্টগ্রামমুখী রেললাইনের ডাউন লেনে খদিজা বেগম (৫৫) নামে এক নারী ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত খতিজা সোনাপাহাড় এলাকার একটি দরগা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। নিহত খতিজা বেগম উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মোহাম্মদ হানিফের স্ত্রী।

    অন্যদিকে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট কলেজ গেইট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন। দুর্ঘটনায় তার দেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ দুই মরদেহ উদ্ধার করে।

  • চাঁদপুর কিশোর গ্যাংসহ ১২ জন আটক

    চাঁদপুর কিশোর গ্যাংসহ ১২ জন আটক

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যৌথবাহিনী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে সাত কিশোর গ্যাং সদস্যসহ ১২ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রেস রিলিজে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে আর্মি ক্যাম্প।

    বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় হামিদিয়া জুট মিল এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রবিউল আহম্মেদ, মাঈনুদ্দিন খান, বিল্লাল কাজী, কাজী পলাশ, হৃদয় হোসেন, শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ছুরি, ১টি চায়নিজ কুড়াল ও তিনটি স্থানীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হাজীগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।

    পৃথক অভিযানে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনকালে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন, হিরণ, রাশেদ ও শফিউল আলম। এছাড়া টোরাগড় এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ শামীম হোসেন ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ পলি বেগমকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হাজীগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।

    হাজীগঞ্জ থানা ওসি মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হবে।

  • চাদপুর কিশোর গ্যাংসহ ১২ জন আটক

    চাদপুর কিশোর গ্যাংসহ ১২ জন আটক

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যৌথবাহিনী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে সাত কিশোর গ্যাং সদস্যসহ ১২ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রেস রিলিজে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে আর্মি ক্যাম্প। বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় হামিদিয়া জুট মিল এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রবিউল আহম্মেদ, মাঈনুদ্দিন খান, বিল্লাল কাজী, কাজী পলাশ, হৃদয় হোসেন, শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ছুরি, ১টি চায়নিজ কুড়াল ও তিনটি স্থানীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হাজীগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। পৃথক অভিযানে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনকালে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন, হিরণ, রাশেদ ও শফিউল আলম। এছাড়া টোরাগড় এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ শামীম হোসেন ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ পলি বেগমকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হাজীগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। হাজীগঞ্জ থানা ওসি মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হবে।

  • নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

    নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

    নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকত থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাহাজমারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    আসামিরা হলেন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক সহ সভাপতি মো. শাহেদ উদ্দিন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন, হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুর রহিম ও সমর্থক আফছার উদ্দিন।

    এজহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি সমুদ্র সৈকত এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মিলিত হয়। পরবর্তীতে তারা সরকারি সি-বিচ এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকে।

    এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বালু উত্তোলনে বাধা দিলে আসামিরা তাকে গালাগাল করে এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়। তাদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সরকারের প্রায় ১০ (দশ) লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেনের বন্দোবস্ত জমিতে চাষাবাদের জন্য বালু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ পান নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুর রহিম। তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ড্রেজার মেশিন ভাড়া নিয়ে বালু উত্তোলন করেন। বালু উত্তোলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তারপর প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করেন এবং সরঞ্জাম জব্দ করে মামলা দায়ের করেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাবেক বিএনপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও আব্দুর রহিম নিঝুম দ্বীপ সী-বীচ এলাকা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করেছে। যা দ্বীপের পরিবেশ ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার বন্দোবস্ত জমিতে ধান হয়। কিন্তু জোয়ারে বালু আসায় ধান চাষ করতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বালু উত্তোলনের জন্য আব্দুর রহিমকে দায়িত্ব দিয়েছি। কে বা কারা গুজব বানিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেছে এবং প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করেছে।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে। এজহারভুক্ত আসামি ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

  • কাউখালীতে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা

    কাউখালীতে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা

    রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দিনব্যাপী ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চলিয়েছ। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ জনপদে এই প্রচারণা চালায় চালায়।

    দিনব্যাপী প্রচারণার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাঙ্গামাটি-২৯৯ নং আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোখতার আহম্মদ। এসময় তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

    প্রচারণাকালে তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে ন্যায়, ও সুশাসনের ভিত্তিতে একটি কল্যাণকর সমাজ গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাবে।”

    এ সময় তিনি নৌকা, পাহাড় ও নদীর জনপদ কাউখালীর উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কৃষি ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোসহ নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

    প্রচারণার সময় দলিটর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কুমিল্লায় ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু

    কুমিল্লায় ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু

    কুমিল্লা নগরের বিষ্ণুপুর মুন্সেফ কোয়ার্টার এলাকায় চালু হয়েছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল’। বিশেষায়িত এই হাসপাতালে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন ডায়াবেটিক রোগীরা। পাশাপাশি সব রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবাও মিলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অর্ন্তবর্তী সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, এই হাসপাতাল কুমিল্লার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে। ঢাকায় গিয়ে নয়, এখন থেকে কম খরচে কুমিল্লাতেই ডায়াবেটিকসহ যেকোনো রোগের উন্নত সেবা পাবেন রোগীরা।’হাসপাতালটি নির্মাণ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। কুমিল্লার বাসিন্দা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব প্রয়াত এ টি এম শামসুল হক এই প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য ১ দশমিক ২৫ একর) সম্পত্তি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতিকে দান করেছেন।

    হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।

    বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক (এনএইচএন) বোর্ড অব অ্যাডভাইজার্সের চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজওয়ানুল কবির, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান, জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর, অধ্যাপক হাজেরা মাহাতাব, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত এটিএম শামসুল হকে সহধর্মিণী রাবেয়া হক, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. এম এ সামাদ প্রমুখ।

  • লক্ষীপুরে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

    লক্ষীপুরে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

    লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক কর্মী–সমর্থক নিয়ে বিএনপি নেতা হোসেন আহমেদ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের নবীগঞ্জ বাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি জামায়াতে যোগ দেন।

    হোসেন আহমেদ চররুহিতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ওমর ফারুক, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    জামায়াত নেতা ওমর ফারুক বলেন, ‘হোসেন আহমেদ অর্ধশতাধিক কর্মী–সমর্থক নিয়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।’

    নতুন সদস্য হোসেন আহমেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের পরও আমি বিএনপি করতাম। পরে বুঝেছি, বিএনপির সঙ্গে ইসলামী আদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই। একজন মুসলিম হিসিবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতে যোগ দিয়েছি।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুকুরে গোসলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ছোট দেওয়ানপাড়া ও হাওলাপাড়া গ্রামের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে হাওলাপাড়া গ্রামের তাইম কয়েকজন বন্ধু নিয়ে ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের একটি পুকুরে গোসল করতে যান। এ সময় ছোট দেওয়ানপাড়ার শাকিল ও শিপনসহ কয়েকজন হাওলাপাড়ার তরুণদের মারধর করে। এরপর রাতের আঁধারে দুই গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র, বল্লম ও টেঁটা ব্যবহার করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।

    সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে  ফেনীর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

    মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ফেনীর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

    খেলায় জেলার ছয়টি উপজেলার দল অংশ নিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। উদ্বোধনী খেলা ফেনী সদর ও ফুলগাজী উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

    আয়োজক সূত্রে জানায়, টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে এক লাখ টাকা। রানার্স-আপ দল পাবেন ৫০ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ২০ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের ক গ্রুপে রয়েছে পরশুরাম, সদর ও ফুলগাজী উপজেলা, আর খ গ্রুপে আছে ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা। টুর্নামেন্টের প্রতিটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথমে লীগ পর্ব খেলবে। লীগ পর্ব শেষ করে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচন করা হবে এবং দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা গোলকিপারকে যথাক্রমে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

  • খাগড়াছড়ির সেই কিশশোরীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি

    খাগড়াছড়ির সেই কিশশোরীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি

    খাগড়াছড়ির সেই কিশশোরীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি

    খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতার মধ্যেই ঘটনার নতুন মোড় নিয়েছে। ওই কিশোরীর মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মেলেনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার ১০টি সূচকের প্রতিটিতে ‘স্বাভাবিক’ উল্লেখ রয়েছে।

    মারমা এই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর খাগড়াছড়িতে ব্যাপক উত্তেজনা, অবরোধ আর সহিংসতা ছড়িয়েছে; গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারির মধ্যে গুলিতে তিনজনের প্রাণ গেছে।

    জানা গেছে, খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়া চাকমা, ডা. মীর মোশাররফ হোসেন ও ডা. নাহিদ আক্তারের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম পরীক্ষা করে। চিকিৎসক দলটির প্রধান খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) জয়া চাকমা বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি।’

    খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, প্রতিবেদন মঙ্গলবার পেয়েছি। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খাগড়াছড়িতে ছড়ানো সহিংসতাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত সহিংসতায় তিনটি জীবন ঝরে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক।’

    উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি ক্ষেত থেকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল (১৯) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় খাগড়াছড়িতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একসময় সহিংসতায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এর পরও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। ১৪৪ ধারার মধ্যেই জেলার গুইমারায় ঝরে যায় তিন প্রাণ।

    এদিকে খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় মারমা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে গত রোববার গুইমারা সহিংসতার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।

  • বন্দরে পণ্য হাতে পেতে অপেক্ষা কমছে

    বন্দরে পণ্য হাতে পেতে অপেক্ষা কমছে

    জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য সপ্তাহখানেক অপেক্ষায় থাকা যেন নিয়মে দাঁড়িয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। তাতে জাহাজ আসার পরও পণ্য হাতে পেতে ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা করতে হতো। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অপেক্ষার সময় এখন কমতে শুরু করেছে।

    গত মঙ্গলবার বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবে ক্রেনযুক্ত যে দুটি কনটেইনার জাহাজ ভিড়েছে, সেগুলো বন্দর জলসীমায় আসার দুই-এক দিন পরই জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে। তবে ক্রেনবিহীন জাহাজের অপেক্ষার সময় এখন ৭ থেকে ১০ দিনের বদলে ৪ দিনে নেমে এসেছে। আবার জেটিতে ভেড়ানোর জন্য সাগরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা ১৪–১৫ থেকে ৬–এ নেমেছে।

    রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানি হয় কনটেইনারে। ফলে পণ্য হাতে পেতে দেরি হলে এসব কারখানার পণ্য উৎপাদনে বাড়তি সময় লাগে। আবার রপ্তানির পুরোটাই পরিবহন করা হয় কনটেইনারে। প্রায় ছয় মাস ধরে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করলেও এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে আছেন উদ্যোক্তারা।

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি হারানো শিক্ষকদের সড়ক অবরোধ

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি হারানো শিক্ষকদের সড়ক অবরোধ

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিক্ষা প্রকল্প থেকে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করেছে

    সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে সড়কের উখিয়ার কোটবাজার এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।এতে ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, বিনা কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত স্থানীয় ১ হাজার ২৫০ শিক্ষককে ছাঁটাই করা হয়।

    জানাগেছে সকাল ৭টায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কোটবাজার এলাকায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে যান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি হারানো স্থানীয় শিক্ষকরা। সড়ক অবরোধ করে দিতে থাকেন স্লোগান, আটকে দেওয়া হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

    চাকরি হারানো স্থানীয় শিক্ষকদের দাবি, অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে তালবাহানা করছে এনজিওগুলো। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নেমেছেন তারা।