চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, কবি-সাহিত্যিক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়েই তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অনন্য অবদান রাখেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

কার্পাসডাঙ্গার সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রয়েছে গভীর স্মৃতির সম্পর্ক। কবি ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দুবার নদীপথে স্বপরিবারে এখানে এসেছিলেন। স্ত্রী প্রমীলা, দুই ছেলে সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগানবাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে অবস্থান করেন। ঐতিহাসিক সেই ঘরটি এখনো কবির স্মৃতি বহন করছে।

স্থানীয়দের মতে, কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থানকালে নজরুল বিভিন্ন ছড়া, কবিতা ও গান রচনা করেন। ফলে স্থানটি নজরুলপ্রেমী ও সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কবির স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে প্রতিবছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ