ক্যাটাগরি চুয়াডাঙ্গা

Chuadanga district

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, সার ও খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ সময় সার বিক্রয়ে অনিয়ম, ভুয়া চিকিৎসা ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরির অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার গোকুলখালী এবং ভালাইপুর বাজারে এ তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

    অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তদারকি চলাকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় অবৈধভাবে সার বিক্রয় করার অপরাধে গোকুলখালীর মেসার্স হামিদুল ট্রেডার্সের মালিক মো: হামিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণামূলক চিকিৎসা প্রদানের দায়ে মেসার্স জিকু মেডিক্যাল হলের মালিক মো: সাইফুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের অপরাধে ভালাইপুরের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: কালাম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ ঝুলিয়ে রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন বা নিষিদ্ধ কোনো ওষুধ, সার, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: রিয়াজ মাহমুদ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেমের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি টিম। জনস্বার্থে ও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষণের দায়ে একটি ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার হিজলগাড়ী ও ডিঙেদহ এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

    অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হিজলগাড়ী বাজারের মেসার্স সুমি ফার্মেসির ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষিত ছিল। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আশরাফুল আলমকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা মানহীন পণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানটি পরিচালনা করেন। এ সময় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সিজারিয়ান অপারেশনের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ‘নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বৈধ কোনো কাগজপত্র বা সরকারি লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয়া হয়। একই সাথে আদায় করা হয় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা।

    অভিযানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা এবং জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, অনুমোদনহীন ও অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জীবননগর উপজেলায় গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পানি নিষ্কাশনের জন্য খোঁড়া ১০ ফুট গভীর ড্রেনটি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নিলো মরণফাঁদে। ওপরের মাটির বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে ভেতরে কাজ করা তিন শ্রমিক চাপা পড়েন।

    দীর্ঘ ৪০ মিনিটের প্রাণপণ চেষ্টার পর উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি ২০ বছর বয়সী তরুণ শ্রমিক রাব্বি হোসেনকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপর দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদেমপুর ইউনিয়নের রংপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাব্বি হোসেন (২০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে। আহত অন্য দুই শ্রমিক একই গ্রামের রাজন (১৯) ও তানজিল (১৭)। বর্তমানে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রংপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বসতবাড়িতে সকাল থেকেই পানি নিষ্কাশনের ড্রেন খননের কাজ করছিলেন তিন শ্রমিক। প্রায় ১০ ফুট গভীরে নেমে কাজ করার সময় বিকেলে হঠাৎ পাশের উঁচুকৃত মাটির টিলা বা দেয়াল ধসে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী আমেনা বেগম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো মাটির স্তূপ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ওপর এসে পড়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আজিমুল্লাহ বলেন, বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে তারা দুই শ্রমিকের মাথা কোনোমতে মাটির ওপরে ভেসে থাকতে দেখেন। দ্রুত গ্রামের মানুষজন এক হয়ে মাটি সরিয়ে রাজন ও তানজিলকে জীবিত উদ্ধার করলেও রাব্বি পুরোপুরি মাটির নিচে হারিয়ে যান।

    প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়রা মাটি কেটে রাব্বিকে নিথর অবস্থায় বের করে আনেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

  • দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদার দাবিতে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। হামলায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ডসংলগ্ন রিফাত আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি এর আগে কয়েক দফায় টাকা দিলেও সম্প্রতি স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তার কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, শুক্রবার জুমার নামাজের কিছু আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং সেখানে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে এলে তিনি দ্রুত রিফাত আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

    লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, চাঁদার দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতর করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজের খাবার খেয়ে গত চারদিনে শিশুসহ অন্তত ২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্রেতারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হন। একই দোকানের খাবার খেয়ে একাধিক পরিবারের সকল সদস্য একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গার ওই দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান ক্রেতারা। তা খাওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অসুস্থদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন জোড়গাছা গ্রামের মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তার দুই ছেলে তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮)। রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী, মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) ও আত্মীয় সুবর্ণা খাতুন (২১)। চিলাভালকী গ্রামের সোনিয়া খাতুন (২২), সাবিনা খাতুন (৩২), জনি (১১) ও রনি (১৫)।

    এছাড়া হাপানিয়া, গৌরীহ্রদ ও খাসকররা গ্রামের শিরিনা খাতুন (৪০), নুসরাত জাহান (১৬), পারুলা বেগম (৪২), পরিছন নেছা (৪৫), আইভি খাতুন (২৩), জিসান (৫) ও মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশু জায়ান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো অন্তত ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ও তাদের চিকিৎসা চলছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রহস্যজনকভাবে খাবার রান্না করা হতো, যেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা খাদ্য নিরাপত্তার কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্স সম্বল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান।

    ঘটনার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী মঙ্গলবার বিকেলে দোকানটিতে অভিযান চালান। প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি দ্রুত সব প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল সতর্কতায় সন্তুষ্ট নন; অনতিবিলম্বে লাইসেন্সহীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও খাবারের মান পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ধরন ও ব্যবহারে এসেছে এক আশঙ্কাজনক পরিবর্তন।

    ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি জেলাজুড়ে এখন মারাত্মকভাবে বেড়েছে ট্যাপেন্টাডলের মতো নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের বিস্তার।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অভিযান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও মাদকের এ রূপান্তরের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও, পরবর্তী এক বছরে শুধু ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৪৮৫টিতে। একই সময়ে বিজিবি ১০ হাজার৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার করেছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, উদ্ধার অভিযান ও নজরদারির কৌশলের ওপর মাদকের পরিমাণ নির্ভর করলেও, বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ও বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন জব্দ হওয়ার ঘটনাটি মাদকের নতুন এই প্রবণতাকেই সামনে আনছে।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘ট্যাপেন্টাডল’ ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু করায় ২০২০ সালে সরকার এটিকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে আইনের তফসিলে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে।

    অন্যদিকে, বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের শুরু থেকেই ‘ক’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে এসব ওষুধজাত নেশাদ্রব্য মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদক চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করছে। তবে এর বিস্তার এখন আর শুধু সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫,৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে—সীমান্ত পেরিয়ে পরিবহন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে জেলার অভ্যন্তরে।

    মাদকের এই নতুন রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। সম্প্রতি জীবননগরে এক সচেতনতামূলক সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সীমান্তে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

    মাদক দমনে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলী বলেন, ‘কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে একা এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।’

    চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানান, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। দ্রুত সাজা নিশ্চিত হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি আত্মসমর্পণের সুযোগও দেয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু জানান, ‘সামারি ট্রায়াল’ বা দ্রুত বিচার চালু থাকায় অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সনাতনী কৃষি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যমী কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর তার ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামের এক সমন্বিত কৃষি খামার। সেখানে ফল চাষের পাশাপাশি দুম্বা, ভেড়া, ছাগল ও গরুর ডেইরি খামার থাকলেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে ১০ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকা হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে এ চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে এখন ঝুলছে আট-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটি সদৃশ ভ্যানিলা ফল।

    কৃষক হুমায়ুন জানান, এ পর্যন্ত তার প্রায় নয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এ বছরই সা-আট লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এটি উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি প্রমাণ করেছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মূল্যায়ন
    উচ্চমূল্যের এই ফসলটি দেশে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপক চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। সঠিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে, যা বৈচিত্র্যময় কৃষিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।’

    হুমায়ুনের এমন বৈচিত্র্যময় সাফল্য স্থানীয় তরুণদের সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক ও আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

  • দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা দর্শনা পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনা এলাকায় এই তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযান সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তদারকি করার পাশাপাশি বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযানকালে লাইসেন্স না থাকা এবং অননুমোদিত রং ও ফ্লেভার ব্যবহারের অপরাধে মো: জামাল মিয়ার মালিকানাধীন ‘মেসার্স রিমি ফুড’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরবর্তীতে একই অপরাধের পাশাপাশি খাবারে শিল্প লবণ ব্যবহার ও চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ‘মুসলিম ফাস্ট ফুড অ্যান্ড বেকারি’-কে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। একই সাথে বেকারিগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে এই ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।