ধর্ম ও ইসলাম

  • দাঁতের সুরক্ষায় নববী সুন্নত: মেসওয়াকের গুরুত্ব

    দাঁতের সুরক্ষায় নববী সুন্নত: মেসওয়াকের গুরুত্ব

    বর্তমানে সবচেয়ে অবহেলিত একটি সুন্নাত হলো মেসওয়াক। কিছু কিছু মুমিন পুরুষ মেসওয়াক ব্যবহার করলেও নারীরা এক্ষেত্রে উদাসীন। অথচ নারী-পুরুষ সবার জন্য মেসওয়াক করা আবশ্যক।

    মেসওয়াকের গুরুত্ব:

    মেসওয়াকের গুরুত্ব অনেক। ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) এর অভিমতে এটা অজুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাজের সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (বুখারি, হাদিস: ৮৪৩ )

    আল্লাহর আদেশে মেসওয়াক :

    আল্লাহতাআলা রাসুলুল্লাহকে (সা.) মেসওয়াক করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এই আমল থেকে খুব সহজেই গুরুত্বের বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জিব্রাইল (আ.) যখনই আমার নিকট আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। তাতে আমার ভয় হতে লাগলো যে, আমি আমার মুখের সামনের দিক ক্ষয় করে ফেলব। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস:৩৫৬)

    ইন্তেকালের পূর্বে মেসওয়াক :

    অসুস্থ অবস্থায় ইন্তেকালের পূর্বে রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াকের আগ্রহ প্রকাশ করেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বুঝতে পেরে মেসওয়াকের বন্দোবস্ত করেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) একটি মেসওয়াক হাতে নিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে প্রবেশ করলেন। রাসুল (সা.) তার দিকে তাকালেন। আমি তাকে বললাম, হে আব্দুর রহমান ! মেসওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিলো। আমি ব্যবহৃত অংশ ভেঙে ফেললাম এবং তা চিবিয়ে রাসুলকে দিলাম। তিনি আমার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় তা দিয়ে মেসওয়াক করলেন। (বুখারি, হাদিস: ৮৪৬)

    নারীদের মেসওয়াক জরুরি :

    নবীর সুন্নাত সবাইকে মেনে চলতে হয়। মেসওয়াক বিষয়ে নারী পুরুষের কোন পার্থক্য নেই। সবার জন্য একই বিধান। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) মেসওয়াক করার পর তার মেসওয়াক আমাকে ধৌত করতে দিতেন। অতঃপর আমি উক্ত মেসওয়াক দ্বারা নিজে মেসওয়াক করতাম। পরে আমি তা ধৌত করে (সংরক্ষণ জন্য) তার নিকট প্রদান করতাম। (আবু দাউদ, হাদিস:৫২, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস:৩৫৪)

    মেসওয়াকের দুটি পুরস্কার :

    ইসলামের প্রত্যেকটি বিধান ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণে পরিপূর্ণ। মেসওয়াকের মাধ্যমে দাঁতের ময়লা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। অর্জিত হয় আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি।

    রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা মেসওয়াক কর। কেননা তা মুখের পবিত্রতার উপায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম। (সুনানে নাসায়ী, হাদিস:৫ ,ইবনে মাজাহ, হাদিস:২৮৯)

    মেসওয়াকের উপকারিতা :

    মেসওয়াকের অনেক উপকারিতা বিজ্ঞানের গবেষণার প্রমাণিত। মূলত মেসওয়াকের সুন্নাত ছেড়ে দেওয়ার কারণেই মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ডেন্টাল সার্জনদের উৎপত্তি হয়েছে। নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারে দাঁত জীবাণুমুক্ত হয়, দাঁতের গোড়া মজবুত হয়, দাঁতের ক্যালসিয়াম পূরণ হয় , পাকস্থলী রোগ মুক্ত হয়, মস্তিষ্ক সজীব থাকে , স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ইবাদাতে বিশেষ এক স্বাদ তৈরি হয়। ( সুন্নাতে রাসুল ও আধুনিক বিজ্ঞান )

    ব্রাশ ও মেসওয়াকের পার্থক্য :

    ব্রাশ ও মেসওয়াকের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। ব্রাশ ব্যবহার করার জন্য এ্যান্টিসেপটিক সমৃদ্ধ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে অধিকাংশ টুথপেস্টে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান। মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

    অথচ মেসওয়াকে উন্নত মানের এ্যান্টিসেপটিক উপাদান আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন। একই ব্রাশ জীবাণুর স্তর জমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু মেসওয়াক সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারের ফলে মুখের ভেতরের রোগ জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। ছত্রাক নিঃশেষ হয়ে যায়। ব্যবহারকারী আরও অসংখ্য রোগবালাই থেকে সুরক্ষিত থাকে। তাই সকলের নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করা উচিত।

  • রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে ৮৬,৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

    রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে ৮৬,৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

    চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে ৮৭,৩০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩,০০০টি মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা রয়েছে। এসকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসেই এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।

    সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে গঠিত সেলের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্দা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এ সম্মানী ভাতার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন হতে ১৫টি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভাসমূহের মধ্য হতে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড হতে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড হতে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড হতে দুইটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। এছাড়া, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড হতে ছয়টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হতে পাঁচটি মন্দির নির্বাচন করা হবে যার মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি হতে দুইটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি হতে একটি মন্দির নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট মন্দির ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। তবে, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।

    এ কার্যক্রমের অধীনে নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক প্রত্যেকে পাঁচ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে, মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজক তিন হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেম মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানী পান। সম্মানীর এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটির মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।

    মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদানের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থবছের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবে।

    উল্লেখ্য, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ছয় হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো সম্মানী দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের একমাস না পেরোতেই চলতি বছরের ১৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

  • সম্মানী পাচ্ছেন আড়াই লাখ ধর্মীয় নেতা

    সম্মানী পাচ্ছেন আড়াই লাখ ধর্মীয় নেতা

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও কর্মী মাসিক সম্মানী ভাতা পাবেন। এ জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

    সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা।

    ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয়কে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। পরে তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবাইতসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবার রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়া হয়।

    সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পাঠানো হবে।

  • আজ আখেরি চাহার সোম্বা

    আজ আখেরি চাহার সোম্বা

    আখেরি পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। আরবি ও ফারসি বাক্য। এর অর্থ হলো, শেষ। ফারসি ‘চাহার’ শব্দের অর্থ হলো, সফর মাস এবং ফারসি ‘সোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো, বুধবার। এখন অর্থ দাঁড়ায় ‘আখেরি চাহার সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়, সফর মাসের শেষ বুধবার।

    হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার সোম্বা বলে।

    আজ বুধবার (১২ আগস্ট) আখেরি চাহার সোম্বা।

    সফর মাসের শেষ বুধবারে মহানবী (সা.) প্রচণ্ড অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করলে সাহাবিরা খুশি হয়ে দান সদকা করেন ও শুকরিয়া আদায় করেন বলে মত পাওয়া যায়। এ জন্য কোনো কোনো দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ দিনে দান সদকাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত পালন করেন। বাংলাদেশে এ দিবস উপলক্ষে বার্ষিক সরকারি ছুটির তালিকায় একটি ঐচ্ছিক ছুটি উল্লেখ আছে। তবে বাংলাদেশে এ দিবস পালন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা যায়।

    কারো মতে মহানবী (সা.) কোন দিনে সুস্থ হয়েছিলেন, কোন অসুস্থতার পর সুস্থ হয়েছিলেন ইত্যাদি স্পষ্ট করে ইতিহাসে বর্ণিত নেই। আবার মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর কোনো সাহাবি এই দিবস পালন করতেন না। তাই এই দিবস পালনে তারা নিরুৎসাহিত করেন।

    এই দিবস পালন করে থাকেন তারা দুই সময়ের অসুস্থতার কথা বলে থাকেন। কেউ বলেন সপ্তম হিজরিতে মহানবী (সা.)-এর জাদুতে আক্রান্ত হওয়ায় অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    এবং সফর মাসের শেষ বুধবারে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন। আবার কেউ কেউ বলেন, মহানবী (সা.) মৃত্যুর আগে যে অসুস্থ হয়েছিলেন সে সময় সফর মাসের শেষ বুধবারে সুস্থতা অনুভব করেন এবং মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। এ সময় হজরত আবু বকর (রা.)-কে ইমামতির দায়িত্ব দেন তিনি। সে বুধবারের পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    মহানবী (সা.) যখন সুস্থ হয়ে মসজিদে আসেন তখন উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম অনেক আনন্দিত হন এবং শুকরিয়া স্বরূপ দান সদকা করেছিলেন। সে ঘটনাকে স্মরণ করে অনেকে সফর মাসের শেষ বুধবারে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ পালন করে থাকেন। তবে মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পরে সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়িদের মধ্যে কেউই কখনো এই দিন উদযাপন করেননি।

    বর্ণিত আছে, আবু বকর (রা.) খুশিতে ৭ হাজার দিনার এবং ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ৫ হাজার দিনার, ওসমান (রা.) ১০ হাজার দিনার, আলী (রা.) ৩ হাজার দিনার, আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) ১০০ উট ও ১০০ ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করেছিলেন। এসব বর্ণনা ‘বারো চান্দের ফজিলত’ ও ‘রাহাতুল কুলুব’ ইত্যাদি বইয়ে বলা আছে। তবে উল্লিখিত কিতাব দুটিতে বর্ণিত ও বহুল প্রচলিত সফর মাসের শেষ বুধবারের বিষয়টিকে ইসলামি পণ্ডিত ও গবেষকগণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

    তাদের বক্তব্য হলো, মহানবী (সা.) অসুস্থ হওয়ার দিনক্ষণ নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য থাকায় নির্দিষ্ট কোনো দিনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অথচ রসুল (সা.)-এর অসুস্থতাজনিত বর্ণনা অসংখ্য হাদিসে রয়েছে, তবে কোথাও দিন-তারিখ নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। তা ছাড়া প্রখ্যাত তাবেয়ি ইবনে ইসহাক বলেন, মহানবী (সা.) যে অসুস্থতায় ইন্তিকাল করেন, সেই অসুস্থতার শুরু হয়েছিল সফর মাসের শেষ কয়েক রাত থাকতে অথবা রবিউল আউয়াল মাসের শুরু থেকে। (ইবনে হিশাম, সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ : ৪/২৮৯)

    এ ছাড়া ইবনে হিশাম বিভিন্ন বর্ণনার আলোকে মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিন ঠিক করেছেন ১৮ সফর থেকে একনাগাড়ে ১৩ দিন পর্যন্ত। (ইবনে হিশাম ৯৯৯) এই মতের মতোই হুবহু পাওয়া যায় ইসলামি বিশ্বকোষের ১৩নং পৃষ্ঠায়।

    শুধু তা-ই নয়, মহানবী (সা.) কোন দিন থেকে অসুস্থ হয়েছিলেন, সে বিষয়েও বিস্তর মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন শনিবার, কেউ বলেছেন বুধবার এবং কেউ বলেছেন সোমবার। এমনকি কত দিনের অসুস্থতার পর তিনি ইন্তিকাল করেন, সে বিষয়েও রয়েছে মতভেদ। কেউ বলেছেন ১০ দিন, কেউ বলেছেন ১২ দিন, কেউ বলেছেন ১৩ দিন, কেউ বলেছেন ১৪ দিন। এরপর তিনি ইন্তিকাল করেন। (জারকানি/শারহুল মাওয়াহিব-১২/ ৮৩; কাসতালানি, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া : ৩/ ৩৭৩)

    সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, মহানবী (সা.)-এর ওপর জনৈক ইহুদির জাদুর প্রভাব ছিল হুদায়বিয়ার সন্ধির পরে সপ্তম হিজরির মহররম মাসের প্রথম দিকে। এই জাদুর প্রভাব কোনো বর্ণনায় ছয় মাসের কথা এসেছে, আর কোনো বর্ণনায় এসেছে ৪০ দিনের কথা। সুতরাং সুস্থতার তারিখ কোনোভাবেই ১১ হিজরির সফর মাসের ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ বা ‘শেষ বুধবার’ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত অনেক গবেষক আলেম। (ফাতহুল বারি : ৭/৭৪৮, কিতাবুল মাগাজি : ৪৪৪২, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৪/১৯৩, সিরাতুন নবী, শিবলী নোমানী : ২/১১৩)

    এ কথাও ঠিক নয় যে, বুধবারের পর সুস্থতায় কোনোরূপ উন্নতি হয়নি। বরং এরপর আরেক দিন সুস্থতা বোধ করেছিলেন এবং জোহরের নামাজ আদায় করেছিলেন। (বুখারি ৬৬৪, ৬৮০, ৬৮১; মুসলিম ৪১৮) এমনকি সোমবার সকালেও সুস্থতা অনুভব করেছিলেন, যার কারণে আবু বকর (রা.) অনুমতি নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। (সিরাতে ইবনে ইসহাক ৭১১-৭১২, আর রাওজাতুল উলুফ ৭/৫৪৭-৫৪৮)

    এই দিনটি যদি আমলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতো তাহলে এ দিনটি সম্পর্কে হাদিসে বা সাহাবিদের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতো। আর ধর্মীয় সব রীতিনীতি নির্ভরযোগ্য সনদে পাওয়া না গেলে সেটার অনুকরণ-অনুসরণ উম্মতের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সেটা শরিয়তে বিদআত এবং নিষিদ্ধ।

    কেননা ইসলামে কেউ যদি নিজের থেকে ভালো মনে করে ইবাদতের পদ্ধতি তৈরি করে সওয়াবের আশায় পালন করে তাহলে সেটা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হয়। কেননা, মহানবী (সা.) বলেন, কেউ যদি এমন কোনো আমল করে, যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। (বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭; মুসলিম, হাদিস : ১৭১৮)

  • আপন ভাই-বোনকে কি জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে

    আপন ভাই-বোনকে কি জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত বা হকদার কারা, তার মধ্যে গরিব ও অভাবী আত্মীয়-স্বজনরা অন্যতম। নিজের ভাই-বোন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন,অর্থাৎ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন এবং জাকাত নেওয়ার মতো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, তবে তাদের জাকাত দেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং এতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়—একটি সওয়াব আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার, অন্যটি জাকাত আদায়ের।

    তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, ভাই-বোন যেন আসলেই অভাবগ্রস্ত হন এবং আপনার প্রত্যক্ষ বা আইনগত ভরণপোষণের দায়িত্বে না থাকেন, তবেই তাদের জাকাত দেওয়া যাবে। নিজের ওপর নির্ভরশীল ভাই-বোনকে জাকাতের টাকা দেওয়া যায় না, কারণ তাদের ভরণপোষণ করা এমনিতেই আপনার দায়িত্ব।আপন ভাই-বোন বা নিকটাত্মীয়দের জাকাত দেওয়া এবং এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা নিচে কোরআন ও হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো:

    পবিত্র কোরআনে জাকাতের হকদার বা যাদের এই অর্থ দেওয়া যাবে, তাদের আটটি খাতের কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরিব ও অভাবী আত্মীয়-স্বজনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    আল্লাহ তাআলা সুরা আত-তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘সদকা (জাকাত) তো কেবল ফকির (অভাবী), মিসকিন (অসহায়), জাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্তাকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য এবং তা দাসমুক্তিতে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের (অসহায় অভিযাত্রী) জন্য নির্ধারিত—আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অবধারিত বিধান।’

    এই আয়াতে বর্ণিত ‘ফকির’ ও ‘মিসকিন’ খাতের আওতায় সমাজের অন্যান্য গরিব মানুষের পাশাপাশি নিজের রক্তসম্পর্কের দরিদ্র ভাই-বোন ও নিকটাত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত।

    হাদিসে নিকটাত্মীয়দের জাকাত বা সদকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ গরিবকে দেওয়ার চেয়ে দ্বিগুণ সওয়াবের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ এতে জাকাত আদায়ের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াবও অর্জিত হয়।

    নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সাধারণ গরিবকে সদকা দিলে একটি সদকার সওয়াব হয়, আর আত্মীয়কে দিলে দুটি সওয়াবের সওয়াব হয়—একটি হলো সদকার সওয়াব, অপরটি হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াব।’ (সুনান আত-তিরমিজি: ৬৫৮, সুনান আন-নাসায়ী: ২৫৮১)

    ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, যার ওপর আপনার ভরণপোষণ আইনগত বা শরিয়তসম্মতভাবে ফরজ (যেমন: আপনার স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা এবং দাদা-দাদি বা নাতি-নাতনি), তাদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ তাদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা আপনার নিয়মিত দায়িত্ব।

    কিন্তু ভাই-বোন যদি আপনার সরাসরি পোষ্য বা আপনার ওপর নির্ভরশীল না হন (অর্থাৎ তারা আলাদা পরিবার বা স্বাধীনভাবে চলেন এবং অভাবগ্রস্ত হন), তবে তাদের জাকাত দেওয়া সম্পূর্ণরূপে জায়েজ এবং অধিক সওয়াবের কাজ। এমনকি অনেক ফকিহ ও আলেমদের মতে, নিজের ভাই-বোন যদি প্রকৃত অর্থেই জাকাতের উপযুক্ত হন, তবে অন্য গরিবকে না দিয়ে তাদের জাকাত দেওয়া আরও বেশি উত্তম।

  • শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কোন শ্রেণির আত্মীয়, জানালেন আহমাদুল্লাহ

    শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কোন শ্রেণির আত্মীয়, জানালেন আহমাদুল্লাহ

    আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা মানে রক্ত ও বৈবাহিক সূত্রে যাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে, সম্পর্ক অনুযায়ী তাদের খোঁজ-খবর রাখা, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা, বিপদ-আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের নিন্দা করা হয়েছে।

    মুমিনের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। আল্লাহ জ্ঞানী মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তা অটুট রাখে এবং তাদের রবকে ভয় করে, আর মন্দ হিসাবের আশঙ্কা করে। (সুরা রা’দ: ২১)একটি ভিডিওতে ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন,

    ১. প্রথম শ্রেণির আত্মীয়: এই শ্রেণিতে রয়েছেন বাপের দিকের আত্মীয়রা, যাদের অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রয়েছেন—বাবা, চাচা, দাদা, ফুফু, ভাই, বোন, সন্তান-সন্ততি এবং মা।

    ২. দ্বিতীয় শ্রেণির আত্মীয়: যারা রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় কিন্তু সরাসরি সম্পদের ভাগ পান না। এর মধ্যে রয়েছেন—মামা, নানা, নানি এবং খালা। যেহেতু মায়ের রক্ত আপনার শরীরে আছে, তাই মায়ের ভাই-বোনদের সঙ্গে আপনার রক্তের সম্পর্ক বিদ্যমান।

    ৩. তৃতীয় শ্রেণির আত্মীয়: এই শ্রেণিতে পড়ে শ্বশুরবাড়ি বা বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তৈরি হওয়া আত্মীয়তা। সাধারণত এদের সঙ্গে সরাসরি রক্তের সম্পর্ক থাকে না।

  • পাঁচটি বিষয় জীবনে বাস্তবায়ন করলে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া যাবে: আল্লামা নোমানী

    পাঁচটি বিষয় জীবনে বাস্তবায়ন করলে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া যাবে: আল্লামা নোমানী

    দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেছেন, পরিপূর্ণ মুমিন হতে হলে হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা, প্রতিবেশীর হক আদায় করা এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া জরুরি।

    শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার পূর্বের বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।বয়ানের শুরুতে আল্লামা নোমানী হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একবার সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেন, ‘কে আছো যারা আমার কাছ থেকে কিছু বিষয় গ্রহণ করবে, তা নিজেরা আমল করবে অথবা অন্যদের শেখাবে?’

    তখন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি প্রস্তুত আছি হে আল্লাহর রাসুল।’ এরপর রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর হাত ধরে পাঁচটি বিষয় শিক্ষা দেন।

    আল্লামা নোমানী বলেন, প্রথমত, হারাম থেকে বেঁচে থাকতে হবে। এতে মানুষ বড় ইবাদতগুজার হতে পারে। আল্লাহ তাআলা কিছু বিষয় হালাল করেছেন এবং কিছু বিষয় হারাম করেছেন। তাই জীবনের সবক্ষেত্রে হারাম থেকে দূরে থাকা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    তিনি বলেন, কোনো কাজ করা অনেক সময় সহজ হলেও কোনো নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখা কঠিন। তাই হারাম বর্জনকে রাসুলুল্লাহ (স.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

    দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা যে রিজিক দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এতে মানুষ প্রকৃত ধনী হতে পারে। বাহ্যিক সম্পদের চেয়ে অন্তরের তৃপ্তিই প্রকৃত সম্পদ।

    তৃতীয়ত, প্রতিবেশীর হক আদায় করতে হবে। প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যার আচরণ থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে পূর্ণ মুমিন হতে পারে না।

    চতুর্থত, অন্যের জন্য সেই বিষয়ই পছন্দ করতে হবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করা হয়। অন্যের সুবিধা-অসুবিধা, সুখ-কষ্ট ও পছন্দ-অপছন্দের প্রতি খেয়াল রাখা একজন প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়।

    তিনি বলেন, মানুষের হাত ও জবান থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকবে- এটাই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়। কোনো কথা বা কাজের মাধ্যমে অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    পঞ্চমত, অতিরিক্ত হাসি থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, বেশি হাসি অন্তরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই অপ্রয়োজনীয় হাসি-তামাশায় সময় নষ্ট না করে আল্লাহর জিকির ও আত্মশুদ্ধির কাজে মনোযোগী হওয়া উচিত।

    আল্লামা নোমানী বলেন, হাদিসে বর্ণিত এই পাঁচটি বিষয় জীবনে বাস্তবায়ন করলে একজন মানুষ প্রকৃত মুমিন ও উত্তম মুসলিম হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।

  • মডেল মসজিদের শুভ উদ্বোধন: প্রথম জুমায় হাজারো মুসল্লির ঢল

    মডেল মসজিদের শুভ উদ্বোধন: প্রথম জুমায় হাজারো মুসল্লির ঢল

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করা হলো দৃষ্টিনন্দন উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) পৌর শহরের হেলিপ্যাড মাঠ সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত এই আধুনিক মসজিদে প্রথম জুমার নামাজে ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসল্লির ঢল নামে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াশিন আলী, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান আলী, সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী, এমপি প্রতিনিধি জমিরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মিজানুর রহমান মাস্টার, সাবেক মেয়র আলমগীর সরকার এবং জুলাই যোদ্ধা হাবিবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

    উদ্বোধনী প্রথম জুমায় পৌরশহরের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। উদ্বোধনী আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করে আগত স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, এমন একটি আধুনিক ধর্মীয় কেন্দ্রের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। চারতলা বিশিষ্ট এই আধুনিক মডেল মসজিদে একসাথে প্রায় এক হাজার মুসল্লি স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এটি কেবল ইবাদতের স্থান হিসেবেই নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক স্থানে অজু ও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা, আধুনিক অজুখানা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনের আলাদা আবাসন ব্যবস্থা।

    ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ইসলামিক বই বিক্রয়কেন্দ্র, গবেষণা ও দাওয়াহ কার্যক্রম, হেফজখানা এবং শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা।জনসেবামূলক ব্যবস্থা: হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অতিথিশালা এবং মৃত ব্যক্তির গোসলের বিশেষ সুব্যবস্থা। ধর্মীয় শিক্ষা, ইবাদত ও বৈচিত্র্যময় জনসেবামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে নির্মিত এই মডেল মসজিদটি রাণীশংকৈলবাসীর জন্য একটি অনন্য ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • ৩৬ জুলাই ও ইসলাম

    ৩৬ জুলাই ও ইসলাম

    জুলুম কখনো দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। জালিমকে আল্লাহতায়ালা ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর কারুন, ফেরাউন ও হামানকে (আমি ধ্বংস করেছি) তাদের কাছে মুসা গিয়েছিল প্রমাণাদিসহ। এরপরও তারা জমিনে অহংকার করেছিল; কিন্তু তারা (আমার আজাব) এড়াতে পারেনি। এদের প্রত্যেককেই তাদের অপরাধের কারণে আমি পাকড়াও করেছিলাম। তাদের কারো প্রতি আমি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে পাকড়াও করেছে বিকট আওয়াজ, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি পানিতে নিমজ্জিত। আল্লাহ এমন নন যে, তাদের ওপর জুলুম করবেন বরং তারা নিজেরা নিজেদের ওপর জুলুম করত।’ (সুরা আনকাবুত : ৩৯-৪০)

    এই আয়াতের দিকে লক্ষ করলে জালিম তথা স্বৈরশাসকের শেষ পরিণতি সম্পর্কে বোঝা বেশখানিকটা সহজ হয়ে যায়। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ৩৬ জুলাই তথা ৫ আগস্ট সেই বাস্তবচিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। শাসকের জুলুম যত বাড়তে থাকবে, ফুরোতে থাকবে তার শাসনকাল, ঘনিয়ে আসে লাঞ্ছিত হওয়ার সময়। হাদিসে নববিতে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন, সে আর ছুটে যেতে পারে না।’ (বুখারি : ৪৬৮৬)৩৬ জুলাই এমনি এমনি আসেনি। এর পেছনে রয়েছে হাজারো অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মাজলুমের আত্মচিৎকার আর ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড! কোটা আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও শত শত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে রূপ নেয় স্বৈরাচারী সরকার পতনের আন্দোলনে।

    ৫ আগস্ট দেশের মানুষ শুধু রাজপথেই নামেনি; সালাত, জিকির আর অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় তারা রবের সাহায্য চেয়েছিল। অনেকে রোজা রেখে, সালাতুল হাজত আদায় করে বেড়িয়েছিল ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য। আর যখন স্বৈরাচার হাসিনার পতন হয়, তাকবির আর সিজদার মাধ্যমে সবাই মহান রবের দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে শুকরিয়া আদায় করেছিল। রাস্তায় রাস্তায় মুজিব-মূর্তি ভাঙা হয়েছিল তাকবির ধ্বনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলার মাধ্যমে। এ যেন শিরক মূলোচ্ছেদ করার একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস।

    দেশের আইন যেখানে প্রণিত হয়, সেই মহান জাতীয় সংসদে প্রবেশ করে ছাত্র-জনতা তাকবির, অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা আর সুরা নাসর তিলাওয়াতের মাধ্যমে উদযাপন করেছিল এ বিজয়। মাজলুমদের এই বিজয় মনে করিয়ে দেয় পবিত্র কোরআনের সেই আয়াত, যাতে নবীজিকে লক্ষ করে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘বলুন, হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন। আর যাকে চান অপমানিত করেন, আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (সুরা আলে ইমরান : ২৬)

    আল্লাহতায়ালা জালিমদের পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও দুনিয়াবি ক্ষমতাকে মাকড়সার জাল বোনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। মাকড়সা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে জাল বোনে। অনেক পোকামাকড় তার জালে ধরা পড়ে জীবন হারায়, তার খাদ্য হয়। সে হয়তো ভাবে খুব শক্তিশালী জাল সে বুনেছে। জালিমদের অবস্থাও তাই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সার মতো, যে নিজের জন্য ঘর বানায় আর নিশ্চয় সবচেয়ে দুর্বল ঘর হলো মাকড়সার ঘর, যদি তারা জানত।’ (সুরা আনকাবুত : ৪১)

    সর্বকালের সব শাসকগোষ্ঠীর এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করতে হবে যে, আসমানগুলো, পৃথিবীসহ সমগ্র বিশ্ব জগতের সর্বময় ক্ষমতার প্রকৃত মালিক আল্লাহতায়ালা। প্রকৃত রাজত্ব, বাদশাহি ও সম্মান তারই। তিনি যাকে চান সম্মান ও ক্ষমতা দান করেন, যাকে চান ক্ষমতাচ্যুত করেন, অসম্মানিত করেন।

    তাই শাসক যেন ন্যায়পরায়ণ হয়, কারণ কিয়ামতের ময়দানে সাত শ্রেণির মানুষকে আরশের নিচে ছায়া দেওয়া হবে, এর মধ্যে প্রথম শ্রেণি হলো ন্যায়পরায়ণ শাসক; শাসক যেন ইসলামকে ধারণ করে, তাকওয়াবান হয়। তবেই আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত সোনালি দিন ফিরে পেতে পারি, যার ভিত্তি হবে ইনসাফ।

  • আদর্শ জাতি বিনির্মাণে দ্বীনি শিক্ষা

    আদর্শ জাতি বিনির্মাণে দ্বীনি শিক্ষা

    ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। সারা বিশ্বে যা আজ এক স্বীকৃত বাস্তবতা। যে কারণে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল দিন দিন শুধু বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু অমুসলিম বিদ্বান-পণ্ডিত বিজ্ঞানী ইসলাম গ্রহণে ধন্য হচ্ছেন। ইসলাম বিষয়ে তুলে ধরছেন তারা তাদের মূল্যবান অভিব্যক্তি। জানাচ্ছেন তাদের অভিজ্ঞতা। ইসলামের মহান আদর্শ ও শিক্ষায় মুগ্ধ হয়েই তারা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন। কিন্তু আমরাই শুধু ইসলাম ও কোরআন সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। এমনকি অনেক সময় অসম্পূর্ণভাবে বা আংশিক ইসলামের অনুসরণ করছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় কখনোই! মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’ (সুরা বাকারা : ২০৮)

    মুসলমানদের একসময়ের সমৃদ্ধ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অবদানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আঘাত হানা হয়েছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়। সেহেতু আদর্শ ও নৈতিকতাশূন্য শিক্ষার ফলে সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে নানা অসংগতি ও ভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। ইসলামের নামেও অনেক ভ্রান্ত বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের ইসলামি আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেই আমাদের ধ্বংস করা হয়েছে। ইংরেজরা আমাদের সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটি ঐতিহাসিকভাবেও প্রমাণিত। এজন্য আদর্শ জাতি বিনির্মাণে ইসলাম ও নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষা নিশ্চিত করা ছিল একটি জরুরি পদক্ষেপ। দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে যুগোপযোগী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেউ এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ জাতীয় উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ দায়িত্বও বটে। আশা করছি, ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’-এ গুরু দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এ প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।গত ৩ আগস্ট আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের (AIII) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘বর্তমান আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আবার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক শিক্ষার উপস্থিতি পর্যাপ্ত নয়। ফলে ইসলামিক শিক্ষা নিয়ে বেড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন না।’

    প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি আরও বলেন, ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো, ইসলামি মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা; যা ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।’

    এছাড়া তিনি বলেন, ‘আমরা যে ইবাদত করি, ইবাদতের মধ্যে দেখা যাচ্ছে যে, আমরা কোরআন বুঝি না। আল্লাহতায়ালা (কোথায়) কী আদেশ দিয়েছেন? সেটি সম্পর্কে আমরা জানি না। বিদআতের (ইসলামের নামে নতুন মনগড়া কখনো বানোয়াট বিষয়ে) অনুসরণ করি, (এভাবেই) বিদআতে ছেয়ে গেছে এদেশ। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত, সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটা সুস্থ সমাজ, ইসলামিক সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই।’

    হাদিসে রাসুল (সা.) আমাদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন। আমরা এ জাতীয় দুটো বর্ণনা উল্লেখ করছি। ইমাম মালিক (রহ.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতক্ষণ এ দুটিকে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। আর এ দুটি হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব তথা কোরআন শরিফ ও তাঁর নবীর সুন্নত তথা হাদিস।’ (মুয়াত্তা মালিক : ১৬০২)

    রাসুল (সা.)-এর একজন সাহাবি ইরবাজ (রা.)। তিনি বলেন, একদিন রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে আমাদের উদ্দেশে জ্বালাময়ী এক ভাষণ দিলেন। তাতে (আমাদের) চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরগুলো বিগলিত হলো। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ যেন কারো বিদায়ি ভাষণ! অতএব আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন?

    রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের আল্লাহভীতির (বিষয়ে), শ্রবণ ও আনুগত্যের উপদেশ দিচ্ছি। যদিও সে (অর্থাৎ, যার অনুসরণ ও আনুগত্য করা হবে এমন আমির বা শাসক) একজন হাবশি গোলাম হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নত এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নত অনুসরণ করবে, তা দাত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে থাকবে। সাবধান! (ইসলাম ধর্মে) প্রতিটি নবাবিষ্কার তথা বিদআত সম্পর্কে! কারণ প্রতিটি নবাবিষ্কার হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা। (আবু দাউদ : ৪৬০৭)

    উল্লিখিত বর্ণনায় পরিষ্কারভাবে আমাদের ইসলামের নামে নতুন বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও তার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ, তথা সঠিক পথের অনুসারী সাহাবিদের সুন্নাহকে মজবুত করে আঁকড়ে ধরতে বিশেষ উপদেশ দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের জন্য উচিত হবে, আমরা বিদআতমুক্ত সুন্নাহসম্মত আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রাজি সন্তুষ্টি অর্জন করতে সচেষ্ট হব। আমরা বিদআতমুক্ত সুন্নাহসম্মত আদর্শ জাতি বিনির্মাণের এই মহৎ ভূমিকাকে স্বাগত জানাই!