ধর্ম ও ইসলাম

  • দুই সন্তান রেখে ধর্ম বদলে অন্যত্র বিয়ে

    দুই সন্তান রেখে ধর্ম বদলে অন্যত্র বিয়ে

    নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মুসলিম তরুণীকে বিয়ের আগে ধর্মান্তরিত হয়ে নাম পরিবর্তনের পর ৮ বছর সংসার করার অভিযোগ উঠেছে এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে। দুই সন্তান জন্মের পর ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে অন্য এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগে অর্জুন ধর হীরা ওরফে হীরা মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন তার প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম। মামলায় অর্জুনের মা কৃষ্ণা রানী ঘোষকেও আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২০ জুলাই নেত্রকোনা সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন শিপুল। পিবিআইয়ের এসআই মো. জামান আলী বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অর্জুন ধর হীরা একসময় মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে শিপুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১৪ সালে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মো. হীরা মিয়া রাখেন। এরপর শিপুলকে বিয়ে করেন। সংসার জীবনে ২০১৫ সালে তাদের একটি কন্যাসন্তান এবং ২০২২ সালে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।

    বাদীর অভিযোগ, মুসলিম পরিচয়ে থাকাকালে হীরা নামাজ-রোজাও পালন করতেন। তবে বিভিন্ন অজুহাতে বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করেননি। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তার মা কৃষ্ণা রানীর প্ররোচনায় ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে যান তিনি। পরে গোপনে অন্য এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে শিপুলকে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। মামলায় আরও বলা হয়, প্রতিকারের জন্য ২০২৫ সালের ২০ মে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন শিপুল। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে ৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আপসনামা ও এফিডেভিট করা হয়। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন ও জমি কিনে বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন শর্ত থাকলেও পরে সেগুলো পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিপুল। শিপুল বলেন, স্বামী ও শাশুড়ি তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। দুই সন্তানের বাবার পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শঙ্কিত। অভিযোগের বিষয়ে অর্জুন ধর হীরা বলেন, তিনি অনেক আগেই শিপুলকে তালাক দিয়েছেন। এরপর তিনি কী করবেন, তা শিপুলের জানার বিষয় নয়। এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

  • ইসলাম গ্রহণের পাঁচ মাসেই কুরআন হাফেজ

    ইসলাম গ্রহণের পাঁচ মাসেই কুরআন হাফেজ

    ইসলাম গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির তরুণ পেন্ট্রা বুশিমা আমিন।

    ৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৯ আগস্ট (৬ রবিউল আউয়াল) পর্যন্ত চলা এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির বিভাগে ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের মতে, এটি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক অংশগ্রহণ।

    এই বিষয়ের আরও খবর:

    মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর আহ্বানে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির পেন্ট্রা। ইসলামের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জীবনাদর্শ তাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। একপর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার সিদ্ধান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবা-মা ও এক বোনসহ পরিবারের আরও চার সদস্য ইসলাম গ্রহণ করেন।

    ইসলাম গ্রহণের পরপরই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার যাত্রা শুরু করেন পেন্ট্রা। অদম্য আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মাসে সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করেন তিনি। পরে নিয়মিত পুনরাবৃত্তি ও অনুশীলনের মাধ্যমে হিফজ ও তিলাওয়াত আরও শুদ্ধ ও দৃঢ় করেন।

    আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীসহ যেসব মন্ত্রী-উপদেষ্টা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না এরপর বুরুন্ডির একটি জাতীয় কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন পেন্ট্রা। এ সাফল্যের সুবাদে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তিনি।

    এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পেন্ট্রা।

    আরও পড়ুন: গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য সত্ত্বেও ৩৫ কোটি টাকায় প্রধান প্রকৌশলী তিনি জানান, ইসলাম গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি কুরআন ও কুরআনের খাদেমদের প্রতি সৌদি আরবের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতার প্রশংসা করেন এবং এমন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

    আন্তর্জাতিক ইসলামি সংবাদ সংস্থা আইকিউএনএ ও সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পেন্ট্রা বুশিমা আমিনের এই অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইসলাম গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই অর্জন কুরআনের প্রতি ভালোবাসা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • একনজরে খলিফা আলী (রা.)

    একনজরে খলিফা আলী (রা.)

    পূর্ণ নাম : আলী ইবন আবি তালিব ইবন আবদুল মুত্তালিব আল-হাশিমী

    • কুনিয়াত : আবুল হাসান

    • প্রসিদ্ধ নাম : আবু তুরাব

    • গোত্র : বনু হাশিম, কুরাইশ

    • পিতা : আবু তালিব ইবন আবদুল মুত্তালিব

    • মাতা : ফাতিমা বিনতে আসাদ (রা.)

    • সম্পর্ক : নবী (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা

    • স্ত্রী : ফাতিমা (রা.)—নবী (সা.)-এর কন্যা

    • সন্তান : হাসান ও হোসাইন (রা.)-সহ অন্যান্য সন্তান

    • শাহাদত : ৪০ হিজরি, কুফা

    বিশেষ মর্যাদা

    ১. নবী (সা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাহাবি।

    ২. খায়বারের দিন বিশেষ মর্যাদা ও ভূমিকা। সহিহ মুসলিম : ২৪০৫

    ৩. ‘আবু তুরাব’ নামটি নবী (সা.)-এর দেওয়া। সহিহ বুখারি : ৩৭০৩

    ৪. আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। সহিহ মুসলিম : ২৪০৪

    ৫. জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত। জামে আত-তিরমিজি : ৩৭৪৮

    ৬. খোলাফায়ে রাশেদিনের একজন এবং মুসলিম উম্মাহর চতুর্থ খলিফা।

    আলী (রা.) সম্পর্কে নবী (সা.)

    • তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার সঙ্গে তোমার মর্যাদা এমন, যেমন মুসার সঙ্গে হারুনের মর্যাদা ছিল? তবে আমার পরে কোনো নবী নেই। (মুসলিম : ২৪০৪)

    আলী (রা.) সম্পর্কে আহলে সুন্নাহর অবস্থান

    • আলী (রা.) ছিলেন একজন সাহসী মুজাহিদ এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় প্রসিদ্ধ একজন মহান সাহাবি।

    • আমরা আলী (রা.)-কে গভীরভাবে ভালোবাসি ও সম্মান করি এবং তাকে খোলাফায়ে রাশেদিনের চতুর্থ খলিফা হিসেবে বিশ্বাস করি। তার ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদিসে যা প্রমাণিত, আমরা তা গ্রহণ করি; তবে তার ব্যাপারে অতিরঞ্জন বা নবী (সা.)-এর পর নির্ধারিত উত্তরসূরি মনে করা—সহিহ দলিল ছাড়া গ্রহণ করি না।

    • একইভাবে কোনো সাহাবির অবমাননা বা গালাগালকেও সমর্থন করি না।

    প্রধান সূত্র : সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, জামে আত-তিরমিজি এবং সাহাবিদের জীবনী গ্রন্থগুলো

  • এক বছরের ওমরাহ ভিসায়ও নতুন শর্ত সৌদির

    এক বছরের ওমরাহ ভিসায়ও নতুন শর্ত সৌদির

    একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ থাকা ওমরাহ ভিসাধারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরব। এক বছরের জন্য বৈধ এই ভিসা থাকলেও প্রতিবার সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালনের আগে অনুমোদিত সেবা প্যাকেজ বুকিং এবং ওমরাহর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

    রোববার (১৬ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে নতুন এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ভিসাধারীদের নুসুক প্ল্যাটফর্মে অনুমোদিত ওমরাহ সেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সেবা প্যাকেজ কিনতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে যাওয়ার আগে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ পালনের অনুমতিও নিতে হবে।

    জুলাইয়ে চালু হওয়া একাধিকবার প্রবেশের এই ওমরাহ ভিসা ইস্যুর তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ভিসাধারীরা একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ভিসার পুরো মেয়াদে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৯০ দিন সৌদিতে অবস্থান করা যাবে।

  • ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ভিন্ন মতাদর্শের প্রতিমন্ত্রী দেখতে চাই না

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ভিন্ন মতাদর্শের প্রতিমন্ত্রী দেখতে চাই না

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ভিন্ন মতাদর্শের কাউকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী।

    মন্ত্রিসভায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ, রদবদল কিংবা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।সম্প্রতি নিজের এক লেখায় মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তার দাবি, দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলমানের কাছে বিচ্ছিন্ন হিসেবে বিবেচিত কোনো মতাদর্শের ব্যক্তিকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না দেওয়াই ভালো।

    তিনি লেখেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান হানাফি মাজহাবের অনুসরণ করে থাকেন। তার ভাষ্য, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সাধারণ মুসলমানরা কোরআন-সুন্নাহ পালনের ক্ষেত্রে চার মাজহাবের যেকোনো একটির অনুসরণ করেন। শরিয়ার বিভিন্ন ব্যাখ্যাসাপেক্ষ বিষয়ে অনুসরণীয় আলেমদের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগকেও তিনি ইসলামের সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধর্মীয় জীবনাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন হানাফি মাজহাব অনুসারী ব্যক্তিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলেও মত দেন মাওলানা নদভী।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশের মুসলমানদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এতে সরকারের প্রতি ভুল বোঝাবুঝির পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

  • বিয়ে গোপনে নয়, প্রকাশ্যে

    বিয়ে গোপনে নয়, প্রকাশ্যে

    বিয়ে শুধু দুটি মানুষের সহাবস্থানের নাম নয়; এটি দুটি আত্মার আস্থার সেতুবন্ধ, দুটি পরিবারের মিলন, দুটি বংশধারার ধারক এবং একটি সভ্যসমাজের নৈতিক ভিত্তি। তাই ইসলাম বিয়েকে নিছক ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মর্যাদা এবং আল্লাহপ্রদত্ত এক পবিত্র অঙ্গীকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে সম্পন্ন করে দাও। আর তোমাদের সৎ দাস-দাসীদেরও। তারা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আন-নূর : ৩২) এই আয়াত শুধু বিয়ের অনুমতি দেয় না; বরং সমাজকে বিয়ে সম্পন্ন করার দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ বিয়ে এমন একটি বিষয়, যা সমাজের জ্ঞাতসারে, মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কাম্য।সুন্নাহর আলোকে বিয়ের স্বচ্ছতা

    ইসলাম বিয়েকে শুধু বৈধ সম্পর্ক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি; বরং এমনভাবে সম্পন্ন করার শিক্ষা দিয়েছে, যাতে সমাজে এর বৈধতা সুস্পষ্ট হয়। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ওয়ালিমাকে সুন্নাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওয়ালিমা শুধু আপ্যায়নের আয়োজন নয়; এটি নতুন দাম্পত্য জীবনের সামাজিক স্বীকৃতির এক সুন্দর ঘোষণা। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে।

    ১. ওয়ালিমার নির্দেশ

    আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা.)-এর বিয়ের সংবাদ শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন—‘ওয়ালিমা করো, যদিও একটি ছাগল দিয়েও হয়।’ (বুখারি : ৫১৬৭) ওয়ালিমার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সমাজকে জানিয়ে দেওয়া যে এই বিয়েটি বৈধ ও স্বীকৃত। তাই এ হাদিস পরোক্ষভাবে বিয়েকে গোপন না রেখে প্রকাশ করার দিকনির্দেশনা দেয়।

    ২. রাসুল (সা.)-এর ওয়ালিমার আমল

    নবী (সা.) জয়নব বিনতে জাহশ (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ের পর ওয়ালিমার আয়োজন করেছিলেন এবং সাহাবিদের আহ্বান করেছিলেন। আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, ‘নবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে জয়নব (রা.)-এর বিয়ে যত বড় ওয়ালিমা করেছিলেন, অন্য কারো ক্ষেত্রে তত বড় করেননি। তিনি একটি ছাগল দিয়ে ওয়ালিমা করেছিলেন।’ (বুখারি : ৫১৬৮)

    নবী (সা.)-এর এই আমল প্রমাণ করে যে বিয়েকে সামাজিকভাবে পরিচিত করা সুন্নাহ। এছাড়া বিয়ে ঘোষণা করা এবং মসজিদে সম্পন্ন করার মাধ্যমে বিয়ের প্রচার-প্রচারণা হয়। মানুষ কুধারণা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব আমলও ছিল বিয়েকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা।

    ৩. সাক্ষীহীন গোপন বিয়ে গ্রহণযোগ্য নয়

    সাক্ষী ছাড়া বা শরয়ি বিধান উপেক্ষা করে গোপনে তথাকথিত বিয়ে করা ইসলামে সম্পূর্ণ অবৈধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিয়ে নেই।’ (বায়হাকি)

    সাহাবায়ে কেরামের আমল

    হাসান আল বসরি (রহ.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এক নারীকে বিয়ে করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখেন। তিনি গোপনে ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এক ব্যক্তি তাকে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়। পরে বিষয়টি ওমর (রা.)-এর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

    ওমর (রা.) ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি সামান্য কিছু মোহরের বিনিময়ে এই নারীকে বিয়ে করেছি এবং বিষয়টি গোপন রেখেছি।’ ওমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের এই বিয়েতে কে সাক্ষী ছিল?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘কনের পরিবারের কিছু লোক সাক্ষী ছিল।’ তখন ওমর (রা.) অপবাদদাতার ওপর থেকে অপবাদের শাস্তি মওকুফ করে দিয়ে বলেন, ‘তোমরা এই বিয়ের ঘোষণা ও প্রচার করো এবং এর মাধ্যমে নিজেদের লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করো।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ)

    ইমাম মালেক (রহ.) বর্ণনা করেন, ওমর (রা.)-এর কাছে এমন একটি বিয়ের ঘটনা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে সাক্ষী ছিলেন মাত্র একজন পুরুষ ও একজন নারী এবং বিয়েটি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর ওমর (রা.) বলেন, ‘এটি একটি গোপন বিয়ে এবং আমি এর অনুমতি দিই না। আমি যদি এই বিয়ের বিষয়ে আগে জানতে পারতাম, তবে অবশ্যই তাদের পাথর ছুড়ে মারতাম (ব্যভিচারের শাস্তি দিতাম)।’ (মুয়াত্তা মালেক)

    উভয় ঘটনাই বিয়ে গোপন রাখার নেতিবাচক দিক তুলে ধরে। প্রথম ঘটনায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া বিয়েকে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপবাদ ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটে। দ্বিতীয় ঘটনায় এমন গোপন বিয়ের কঠোর নিন্দা করা হয়েছে, যেখানে বিয়ের স্বচ্ছতা ও যথাযথ সাক্ষ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ছিল। কেননা সাক্ষী যদি একজন পুরুষ থাকে, তাহলে কমপক্ষে আরো দুজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে।

    ইজমা ও ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি

    ফকিহরা একমত যে, সাক্ষী ছাড়া বিয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। চার মাজহাবই সাক্ষীর গুরুত্ব স্বীকার করেছেন, যদিও কিছু শর্তে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম মালিক (রহ.) বিশেষভাবে এমন গোপন বিয়ের সমালোচনা করেছেন, যেখানে সাক্ষীদেরও বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়। তার মতে, এতে বিয়ের সামাজিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং ফিতনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    ইসলামি আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য (মাকাসিদুশ শরিয়াহ) হলো—বংশধারা সংরক্ষণ, সম্মান রক্ষা এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তাই বিয়ের প্রকাশ্যতা এই উদ্দেশ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    চার মাজহাবের দৃষ্টিতে গোপন বিয়ে

    হানাফি মাজহাব : হানাফি ফকিহদের মতে, দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে বিয়ে বৈধ। তবে সাক্ষীদের উপস্থিতি সত্ত্বেও বিয়েকে অযথা গোপন রাখা সুন্নাহর পরিপন্থী এবং সামাজিকভাবে অপছন্দনীয়। কারণ ওয়ালিমা ও ই’লান (ঘোষণা) বিয়েকে পরিচিত করে এবং ভবিষ্যতের বিরোধ ও অপবাদের পথ বন্ধ করে। ইমাম আল-কাসানী (রহ.) বলেন, সাক্ষীর বিধান নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিয়েকে জিনা থেকে পৃথক করা এবং মানুষের কাছে তা সুস্পষ্ট করা। (হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ)

    মালিকি মাজহাব : মালিকি মাজহাবে গোপন বিয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান দেখা যায়। যদি স্বামী, স্ত্রী এবং সাক্ষীদের বলা হয় যে, ‘তোমরা এই বিয়ে গোপন রাখবে’, তবে ইমাম মালিক (রহ.) এটিকে নিকাহুস-সির (গোপন বিয়ে) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এমন বিয়েকে বাতিল করার মতও তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে।

    ইবনু আবদুল বার (রহ.) বলেন, ‘যে বিয়ে গোপন রাখার শর্তে সম্পন্ন হয়, সেটিই নিকাহুস-সির; মালিক (রহ.) এটিকে বৈধ মনে করতেন না।’ (আল মুদাওওয়ানুল কুবরা, দ্বিতীয় খণ্ড, ইবনু আবদুল বার)

    শাফেয়ি মাজহাব : ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে, দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে বৈধ। তবে বিয়ের ঘোষণা (ই’লান) ও ওয়ালিমা সুন্নাহ এবং সমাজে বিয়েকে পরিচিত করার উত্তম মাধ্যম। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘সাক্ষী উপস্থিত থাকলে বিয়ে শুদ্ধ হবে; তবে ওয়ালিমা ও বিয়ের প্রচার সুন্নাহ।’ (মাজমু শারহুল মুহাজজাবা, ইমাম নববি)

    হাম্বলি মাজহাব : ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহ.)-এর মতে, সাক্ষী ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। তিনি বিয়েকে প্রকাশ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং ওয়ালিমাকে সুন্নাহ হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন। ইবনু কুদামাহ (রহ.) লিখেছেন, ‘বিয়ের উদ্দেশ্যগুলোর একটি হলো বংশ সংরক্ষণ এবং মানুষকে এ সম্পর্ক সম্পর্কে অবহিত করা; এজন্য সাক্ষী ও ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।’ (মুগনি, ইবনু কুদামাহ, কিতাবুন নিকাহ)

    সমসাময়িক বাস্তবতা : কেন বাড়ছে গোপন বিয়ে

    প্রযুক্তিনির্ভর এ সময়ে মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজে যোগাযোগ করতে পারছে; কিন্তু সম্পর্কের স্বচ্ছতা অনেক ক্ষেত্রেই কমে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন পরিচয় এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনধারা অনেক তরুণ-তরুণীকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে বিয়েকে পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে গোপন রাখাই নিরাপদ বলে মনে হয়। কেউ পারিবারিক অসম্মতির ভয়ে, কেউ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায়, আবার কেউ দ্বিতীয় বিয়ে আড়াল করার উদ্দেশ্যে এই পথ বেছে নেন।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, গোপন বিয়ে খুব কম ক্ষেত্রেই দীর্ঘ মেয়াদে কল্যাণ বয়ে আনে। যখন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করা হয়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন স্ত্রী ও সন্তান। স্ত্রীর ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং সন্তানের বৈধ পরিচয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক অপবাদ, পারিবারিক বিরোধ এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইও দেখা দেয়। ইসলামের উদ্দেশ্য এসব সংকট সৃষ্টি করা নয়; বরং প্রতিরোধ করা।

    শরিয়তের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য (মাকাসিদুশ শরিয়াহ) হলো—ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ এবং বংশধারা রক্ষা করা। বিয়েকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা এই উদ্দেশ্যগুলোর অন্তত দুটি—বংশধারা ও সম্মান—সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রকাশ্য বিয়ে শুধু একটি ধর্মীয় সুন্নাহ নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদারও অনিবার্য শর্ত।

    আজ আমাদের সমাজের প্রয়োজন এমন একটি বিয়ে-সংস্কৃতি, যেখানে পারিবারিক সম্মতি, আইনগত নিবন্ধন, সাক্ষীর উপস্থিতি এবং সামাজিক স্বীকৃতি একসঙ্গে নিশ্চিত হবে। কারণ বিয়ে শুধু দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব, একটি নৈতিক অঙ্গীকার এবং একটি প্রজন্ম নির্মাণের ভিত্তি।

  • কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলমানদের পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। একসময় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে জুমার দিন মসজিদে জায়গা না হলে রাস্তায় নামাজ পড়তেন অগণিত ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এখন সরাসরি মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনাও সামনে আসছে। এর জেরে শুক্রবার কলকাতা ও সংলগ্ন বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি। আজানের ধ্বনি না পৌঁছানোয় বহু মুসল্লি ঠিকমতো নামাজেও যোগ দিতে পারেননি। সব মিলিয়ে চারদিকে এক অজানা আতঙ্ক ও হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    এদিন কলকাতার পার্ক সার্কাসের এক ইমামের কণ্ঠে এই করুণ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। চরম অসহায়তার সুরে তিনি বলেন, ‘মাইক কেড়ে নিয়ে আমাদের ওপর নানাভাবে জুলুম করা হচ্ছে। আমরা সব সহ্য করব, কারণ আমাদের আর কিছু করার নেই। শনিবার (১৫ আগস্ট) আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, সবাই নিজের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করুন। না হলে এই সরকার মুসলমানদের গায়ে খুব সহজেই দেশদ্রোহীর তকমা সেঁটে দেবে।’ তার এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, রাজ্যের মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে বর্তমানে কতটা ভীতির সঞ্চার হয়েছে।এরইমধ্যে মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার এই বিতর্কিত বিষয়টি গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ ছাড়াই শুধু মৌখিক নির্দেশে পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিচারপতি ভগবতী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চের পুরোনো রায়ের প্রসঙ্গ টেনে সব মসজিদে পুনরায় মাইক লাগানোর অনুমতির আবেদন জানান। পাশাপাশি, ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে কেন এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি জানান, শুধু হুগলির চাঁপদানি থেকেই অন্তত ১০০টি মসজিদের পক্ষ থেকে এমন আবেদন আসতে পারে।

    অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) আদালতে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে মাইক খোলার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং কোন পুলিশ কর্মকর্তা এমন নির্দেশ দিয়েছেন, তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নাম মামলাকারী দিতে পারেননি। এ ছাড়া, ৪ হাজার মাইক খোলার অভিযোগ উঠলেও কোনো ইমাম নিজে থেকে এগিয়ে এসে মামলা করেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এএজি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হোক।

    পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানতে চান, ঠিক কোন জেলার কোন কোন মসজিদ থেকে মাইক খোলা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইক ব্যবহারের শব্দবিধি মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তার আগে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

    এই তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে গত সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সরকার কোনো নতুন আইন আনছে না; বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশিকাই কার্যকর করছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ধর্মীয় স্থান বলতে মন্দির ও মসজিদ—উভয়ই বোঝায় এবং সেই অনুযায়ী ৪২০০টি মসজিদ ও ১০৯৬টি মন্দির থেকে মাইক খোলা হয়েছে।

    কিন্তু সরকারের এই পরিসংখ্যানে বিন্দুমাত্র আশ্বস্ত হতে পারছেন না সংখ্যালঘু সমাজ। তারা জানান, এই পদক্ষেপ আসলে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়ার একটি সুকৌশলী প্রয়াস মাত্র। সব মিলিয়ে এক দমবন্ধ করা ভয়ের আবহে শনিবার স্বাধীনতা দিবস পালন করতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মুসলিম নাগরিকরা।

  • বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় এক বাংলাদেশি আলেম

    বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় এক বাংলাদেশি আলেম

    হাদিস শরিফের সংরক্ষণ মুসলিম উম্মাহর অনন্য বৈশিষ্ট্য। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই লিখিতভাবে হাদিস সংরক্ষণের চর্চা থাকলেও হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে ব্যাপকভাবে গ্রন্থাকারে কিতাব সংকলনের জোয়ার শুরু হয়। তৃতীয় শতাব্দীতেই কুতুবে সিত্তাহ (যা সিহাহ সিত্তাহ নামে প্রসিদ্ধ) বা হাদিসের প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাব সংকলিত হয়। সেসবের মধ্যে ‘জামে তিরমিজি’ অনন্য উচ্চতায় সমাসীন। ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন সাওরা তিরমিজি (রহ.) [২০৯-২৭৯ হি.] সংকলিত এই গ্রন্থটি রচনাকাল থেকেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও পঠিত হতে থাকে।

    ব্যাপক সমাদৃত এই গ্রন্থটির একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হলেও গুণগত মানে আরো সমৃদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা সুধীমহলে অনুভূত হচ্ছিল । দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে বাংলাদেশি আলেম বিদগ্ধ মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল মতীন [জন্ম ১৯৬৪ খ্রি.] ২৫ বছরের দীর্ঘ সাধনায় আরবি ভাষায় ১৭ খণ্ডে জামে তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন; নাম ‘কিফায়াতুল মুগতাজি ফি শরহি জামিয়িত তিরমিজি’। ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে রুচিশীল ও সমাদৃত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুয়াসসাসা ইলমিয়্যা বাংলাদেশ থেকে। চলতি বছরেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পূর্ণতা পায়।গত ৫ আগস্ট ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা সম্পন্ন হয়, যেখানে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকসহ দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক গবেষণার অপূর্ব সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থটিকে আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক হাদিস গবেষকরা এক যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নুমানি বলেন, “ইমাম তিরমিজি তাঁর ‘জামে তিরমিজি’ গ্রন্থে শুধু হাদিস সংকলনই করেননি; বরং ফকিহদের মতপার্থক্য, দলিলের বিশ্লেষণ এবং ফিকহি আলোচনাকেও অনন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন। মাওলানা আব্দুল মতিন দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং আধুনিক গবেষণাপদ্ধতির সমন্বয়ে তিনি একটি উচ্চমানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম হয়েছেন।”

    সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিফায়াতুল মুগতাজি শুধু একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়; এটি হাদিস পাঠদান, গবেষণা এবং দরস পরিচালনার একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল।’ তার মতে, এই গ্রন্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ আলেমদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ও বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ ও গবেষক ফকিহ মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, ‘তিরমিজি শরিফের বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইতিহাসের নানা পর্যায়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় থেকে গেছে। কিন্তু ‘কিফায়াতুল মুগতাজি’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি হাদিসের ধারাবাহিক ও বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এতে সালাফে সালেহিনের মানহাজ, মতভিন্নতার শিষ্টাচার এবং গবেষণার ভারসাম্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ তিনি মনে করেন, এই গ্রন্থ হাদিস গবেষণার দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা পূরণ করবে।

    কিফায়াতুল মুগতাজির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা তাহমিদুল মাওলা বলেন, ‘গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পরই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা-মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের আদলে ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে।’

  • শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা কি স্ত্রীর জন্য ফরজ, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

    শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা কি স্ত্রীর জন্য ফরজ, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

    ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, আক্ষরিক অর্থে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা পুত্রবধূর ওপর ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। তবে, একজন ভালো মুসলমান হওয়ার জন্য তাদের প্রতি সাধ্য অনুযায়ী সদাচরণ করা একটি মহৎ কর্তব্য। তারা যেহেতু বয়সে বড় এবং বাবা-মায়ের সমতুল্য, তাই তাদের সম্মান করা ও যত্ন নেওয়া দ্বীনদার মানুষের পরিচায়ক।

    সাম্প্রতিক একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।শায়খ আহমাদুল্লাহ আরো বলেন, স্বামী তার স্ত্রীর সুখের জন্য এবং সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য অনেক কিছু করেন, যা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়—যেমন শহরে বাড়ি করা, গাড়ি কেনা বা ব্যাংক ব্যালেন্স করা। স্বামী যখন ফরজের বাইরে স্ত্রীর জন্য এত কিছু করেন, তখন স্ত্রীরও উচিত স্বামীর বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং তাদের সেবা করা।

    তিনি আরো বলেন, স্বামী যেহেতু সংসারের উন্নতির জন্য বাইরে ব্যস্ত থাকেন এবং নিজের বাবা-মাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না, তাই স্ত্রীর উচিত মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের পাশে দাঁড়ানো। আজকের পুত্রবধূ একসময় নিজেই শাশুড়ি হবেন। তখন তিনি যেমন তার পুত্রবধূর কাছ থেকে সেবা ও আদর-আপ্যায়ন আশা করবেন, তেমনি বর্তমানে তারও উচিত শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি একই রকম আচরণ করা।

    হাদিসে যা এসেছে

    পুত্রবধূ যদি নিজের সদিচ্ছা ও ভালোবাসা থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করেন, তাহলে তা প্রশংসনীয়, এতে রয়েছে সওয়াবও। তবে তাকে এ কাজ করতে বাধ্য করা কখনোই ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ, হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মা-বাবার সেবা-শুশ্রূষা করা সন্তানের দায়িত্ব—কোনোভাবেই পুত্রবধূর নয়।’ (আল-বাহরুর রায়েক : ৪/১৯৩; কিফায়াতুল মুফতি : ৫/২৩০)

  • বিয়ে পবিত্র ইবাদত

    বিয়ে পবিত্র ইবাদত

    ইসলামে বিয়ে হলো একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্বপূর্ণ অঙ্গীকার এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সম্মানজনক চুক্তি। মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, সমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে সুরক্ষা এবং পারিবারিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ তাআলা বিবাহ ব্যবস্থাকে হালাল ও সুন্নাহ হিসেবে প্রবর্তন করেছেন। সুন্নাহ তরিকায়, সঠিক নিয়ত ও শরীয়তসম্মত নিয়মে সম্পন্ন বিয়েই কেবল বরকতপূর্ণ হয়।

    ১. বিয়ে ইসলামে কেন এত গুরত্বপূর্ণ?

    ইসলাম বিয়েকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    কুরআনের ঘোষণা:

    আর কিভাবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, অথচ তোমরা একে অন্যের সাথে মিলিত হয়েছো এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে। (সূরা নিসা: ২১)

    এটি প্রমাণ করে বিয়ে কোনো সাধারণ চুক্তি নয়; বরং আল্লাহর সামনে করা এক পবিত্র অঙ্গীকার।

    রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন:

    “বিয়ে করা আমার সুন্নত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে অপছন্দ করে, সে আমার উম্মত নয়। (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬)

    অতএব, বিয়ে করা শুধু বৈধই নয় বরং নবী (সা.) এর সুন্নাহ পালন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

    ২. সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন ইসলামের দৃষ্টিতে

    দুনিয়ার মানুষ সাধারণত সৌন্দর্য, সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু ইসলাম মানুষের অন্তরের গুণকে গুরুত্ব দেয়।

    রাসূল (সা.) বলেন:

    একজন নারীকে সাধারণত চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয় তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য এবং দ্বীন। তুমি দ্বীনদার নারীকে গ্রহণ করো। (সহিহ বুখারি: ৫০৯০। সহিহ মুসলিম: ১৪৬৬)

    এই হাদিস আমাদের শেখায় দ্বীন ও চরিত্রই হলো টেকসই সুখের মূল চাবিকাঠি।

    ৩. অভিভাবকের অনুমতি (ওলি) অপরিহার্য শর্ত

    ইসলামে নারীর বিয়েতে ওলির অনুমতি বাধ্যতামূলক।

    রাসূল (সা.) বলেন:

    ওলির অনুমতি ছাড়া কোনো নারী বিবাহ করতে পারে না। (আবু দাউদ: ২০৮৫। তিরমিজি: ১১০১)

    অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সম্পন্ন বিয়ে শরীয়তসম্মত নয় এবং এতে বরকতও থাকে না।

    ৪. বিয়েতে সাক্ষীর গুরুত্ব

    নিকাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কমপক্ষে দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম সাক্ষী আবশ্যক।

    রাসূল (সা.) বলেন:

    ওলি ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো নিকাহই সম্পন্ন নয়। (বায়হাকি: ১৬৩৬)

    ৫. মোহর নারীর সম্মান ও অধিকার

    মোহর হলো স্ত্রীর শরীয়তসম্মত অধিকার, যা স্বামীকে অবশ্যই আদায় করতে হবে।

    কুরআন বলে:

    তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর স্বেচ্ছায় দিয়ে দাও। (সূরা নিসা: ৪)

    মোহর কম বা বেশি হতে পারে, তবে তা অবহেলা করা জুলুমের শামিল।

    ৬. নিকাহর খুতবা (খুতবাতুন্নিকাহ্)

    রাসূল (সা.) নিকাহর সময় যে খুতবা পাঠ করতেন, তা আজও সুন্নাহ হিসেবে প্রচলিত।

    কুরআনের আয়াতসমূহ:

    ১। সূরা আলে ইমরান: ১০২

    ২। সূরা নিসা: ১

    ৩। সূরা আহযাব: ৭০-৭১

    এই খুতবার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা, তাকওয়ার নির্দেশ ও রাসূল (সা.) এর সাক্ষ্য উচ্চারিত হয়।

    ৭. সুন্নতি পদ্ধতিতে কবুল

    নিকাহর সময় ওলি বলেন:

    আমি তোমাকে আমার কন্যা অমুককে মোহর অমুকের বিনিময়ে বিবাহ দিলাম।

    বর বলেন:

    আমি কবুল করলাম।

    এই সরল ও স্পষ্ট কবুলই সুন্নাহ তরিকাহ।

    ৮. বিয়ের পর দোয়া

    রাসূল (সা.) দোয়া করতেন:

    বারাকা আল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জামা‘আ বাইনা কুমা ফী খায়র।

    (তিরমিযি: ১০৯১)

    অর্থ:

    আল্লাহ তোমাদের জীবনে বরকত দিন এবং তোমাদের সম্পর্ক কল্যাণের উপর স্থাপন করুন।

    ৯. বিয়েতে ইসলাম যেগুলো বারণ করেছে

    ইসলাম সহজ ও বরকতময় বিয়ে চায়। তাই নিষিদ্ধ করেছে

    ১। যৌতুক

    ২। অহংকার

    ৩। অপব্যয়

    ৪। বেহায়াপনা

    ৫। গান-বাজনা

    ৬। ছবি ও ভিডিও প্রদর্শন

    কুরআনের সতর্কবাণী:

    নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।

    (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭)