ট্যাগ ধর্ম ও ইসলাম

  • সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা

    সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা

    সুসম্পর্ক বজায় রাখা, পরস্পরের অধিকার আদায় করা এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসাকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানবদেহের ন্যায় যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয় তখন তার সমস্ত দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্রা। ’ (মুসলিম, হাদিস: ৬৪৮০)।যত দিন যাচ্ছে, মানুষ ততই অন্য রকম হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে দুই ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরেছে, তারা প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান থেকে নিজেকে সঠিক মনে করে।

    প্রত্যেকের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে চেষ্টা করছে।কিন্তু বাস্তবে সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। তাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও আল্লাহভীতি। ইসলাম এই সমস্যার ভারসাম্যপূর্ণ কিছু সমাধান দিয়েছে।নিজের কষ্ট বড় করে দেখে, কিন্তু অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করে না। যার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে অহংকার, নিজের ভুল অস্বীকার করার প্রবণতা, দ্রুত রাগ করা ও অন্যের অবদানকে ছোট করে দেখা। এসব মানবীয় দুর্বলতা মানুষকে হক বুঝতে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় ন্যায় ও হক বুঝেও এগুলোর কারণে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা সম্ভব হয় না। অথচ কোরআনের নির্দেশ হলো নিজের বা নিজের আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে গেলেও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকতে হবে।

    পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা ন্যায়ের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর জন্য সাক্ষীরূপে। যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা মা-বাবার অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৫)।

    উত্তম আচরণ করা:

    মানুষ সাধারণত তার সঙ্গে হয়ে যাওয়া অবিচার, অপমান কিংবা অবহেলা ভুলতে পারে না। তাই সময় সময় তার সেই চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে গেলে তা সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এই সমস্যার কোরআনি সমাধান হলো, মন্দ আচরণের মোকাবেলা ভালো আচরণ দিয়ে করা।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত করো তা দ্বারা, যা উত্কৃষ্টতর; ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে সে যেন হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু। ’ (সুরা: ফসসিলাত, আয়াত: ৩৪)। এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়, সুযোগ পেলেই মন্দ আচরণ করে প্রতিশোধ নয়, উত্তম আচরণই সম্পর্ক পুনর্গঠনের চাবিকাঠি।

    সন্দেহ ও গিবত থেকে বিরত থাকা:

    বেশির ভাগ সম্পর্কে ফাটল ধরে সন্দেহ ও গিবতের কারণে। শয়তান মানুষের মস্তিষ্কে তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অলীক চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। তার চলমান সংকট ও সমস্যাগুলোর পেছনে তার প্রতিপক্ষের হস্তক্ষেপ থাকার সন্দেহ তৈরি করে। ফলে সেও প্রতিশোধ না নিলেও প্রতিপক্ষের গিবত করে মনের কষ্ট নিবারণের চেষ্টা করে। অথচ অলীক চিন্তা ও অহেতুক সন্দেহ করা নিষিদ্ধ।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান তো পাপ। ’ (সুরা: হুজুরাত, আয়াত: ১২)।

    রাগ নিয়ন্ত্রণ করা:

    অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায় অতিরিক্ত রাগের কারণে। অথচ রাগের মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই; বরং বীরত্ব হলো, আত্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে। (বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)

    কথা বন্ধ না করা:

    বেশির ভাগ সম্পর্ক শেষ হয় ভুল-বোঝাবুঝি ও পরস্পর কথা বন্ধ করার কারণে। অথচ বাস্তবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তারা যদি খোলামেলা আলোচনা করত, একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করত, তাহলে তাদের শত্রুতা বন্ধুত্বে রূপ নিত। তারা কেউই কারো খারাপ চায়নি, শুধু দূরত্ব তাদের আলাদা করে রেখেছে।

    ইসলাম এভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখাকে সমর্থন করে না। মানুষ যদি অভিযোগ কমিয়ে সহমর্মিতা বাড়ায়, দোষারোপ না করে দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলেই ভাঙা সম্পর্ক আবার বন্ধুত্বে রূপ নেওয়া সহজ হয়ে যায়।

  • হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত

    হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল অঞ্চলে হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হানার পর মসজিদটির পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য ভবন ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দুজন আহত হন। সিভিল ডিফেন্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এ ধরনের ঘটনার জন্য নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

    সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র বলেন, মসজিদসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের শারুরাহ এলাকায় একটি সৌদি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

  • হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের ক্ষেত্রে যে ভুল থেকে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস

    হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের ক্ষেত্রে যে ভুল থেকে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস

    পবিত্র কাবা শরীফে নামাজ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর চুম্বনের জন্য তাড়াহুড়ো করে ছুটে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের প্রধান ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইমামের চূড়ান্ত সালাম ফেরানো শেষ হওয়ার আগেই যারা স্থান ত্যাগ করেন, তাদের নামাজ বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

    সম্প্রতি পবিত্র মসজিদুল হারামে এক বিশেষ ধর্মীয় আলোচনায় ইমাম শায়খ সুদাইস উপস্থিত ইবাদতকারী ও মুসল্লিদের উদ্দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।

    তিনি বলেন, মসজিদুল হারামে আসা অনেক মুসল্লির মধ্যেই একটি মারাত্মক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইমাম নামাজ শেষ করার জন্য প্রথম সালাম ফেরানো শুরু করতেই অনেকে হাজরে আসওয়াদ এবং মুলতাজামের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এমনকি অনেক সময় ইমামের পুরো সালাম শেষ হওয়ার আগেই মুসল্লিরা কাতার ছেড়ে নড়াচড়া শুরু করে দেন। এটা ঠিক নয়। এ কারণে নামাজ নষ্ট হয়।

    কেন নামাজ বাতিল হবে, তার ব্যাখ্যায় শায়খ সুদাইস বলেন, নামাজের নিয়ম অনুযায়ী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইমামকে পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে। ইমামের আগেই কোনো রোকন বা নিয়ম সম্পন্ন করা কিংবা তার আগেই নামাজ শেষ করে দেওয়া শরিয়তের পরিপন্থী। ফলে ইমামের পুরোপুরি সালাম শেষ হওয়ার আগেই যারা স্থান ত্যাগ করার জন্য তাড়াহুড়ো করেন, তাদের নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।

    এদিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মসজিদের অন্য ইমামদের প্রতিও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন শায়খ সুদাইস। তিনি ইমামদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, নামাজের একদম শেষভাগে অর্থাৎ সালাম ফেরানোর সময় যেন খুব বেশি দীর্ঘায়িত বা দীর্ঘ বিরতি দেওয়া না হয়। অনেক সময় সালাম ফেরানোর মাঝে লম্বা বিরতির কারণে মুসল্লিরা বিভ্রান্ত হন এবং ভুলবশত ভাবেন নামাজ শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা অবচেতনভাবেই ইমামের আগে নড়েচড়ে বসেন, যা তাদের নামাজকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

  • ‘বদনজর সত্য’ হাদিসের বৈজ্ঞানিক সত্যতা

    ‘বদনজর সত্য’ হাদিসের বৈজ্ঞানিক সত্যতা

    ‘নজর বলে কিছু নেই, এসব কুসংস্কার!’Ñকথাটা আমরা খুব সহজেই বলে ফেলি। কারো নতুন চাকরি হয়েছে, নতুন গাড়ি কিনেছে, বিয়ে হয়েছে, সন্তান হয়েছে কিংবা জীবনে হঠাৎ ভালো কিছু ঘটেছেÑকেউ যদি বলে, ‘নজর থেকে সাবধান’, আমরা অনেক সময় কথাটাকে কুসংস্কার বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু নজর নিয়ে যে বিশ্বাসকে আমরা এত সহজে ‘গ্রাম্যকথা’ বলে উড়িয়ে দিই, ইসলাম কি সত্যিই সেটিকে সেভাবে দেখেছে?প্রায় ১৪০০ বছর আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল-আয়নু হাক্ক’ নজর সত্য। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে একই মর্মের হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সহিহ মুসলিমের ৫৫৯৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, ‘নজর সত্য; যদি কোনো কিছু তাকদির অতিক্রম করতে পারে, তবে তা হলো নজর।’ পবিত্র কোরআনের সুরা ফালাকেও আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেনÑ‘হিংসুক যখন হিংসা করে, তার অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাই।’ (সুরা আল-ফালাক : ৫)

    এবার দেখা যাকÑদৃষ্টির পেছনে বিজ্ঞান কী যুক্তি দেয়। মানুষ যখন কারো দিকে তাকায়, তখন শুধু চোখই কাজ করে না। সেই দৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার অনুভূতি, মূল্যায়ন, আকর্ষণ, ঈর্ষা, ভয় কিংবা বিদ্বেষও। ভালোবাসার চোখে কাউকে দেখা আর হিংসার চোখে দেখা একই বিষয় নয়।

    আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের এই সামাজিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে। বিশেষ করে, Social-Evaluative Threat বা অন্যের নেতিবাচক মূল্যায়নের আশঙ্কা মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা রয়েছে।

    মনোবিজ্ঞানী Sally S. Dickerson ও Margaret E. Kemeny-এর ২০০৪ সালের একটি গবেষণা-পর্যালোচনায় দেখা যায়, সামাজিকভাবে মূল্যায়িত বা বিচারিত হওয়ার আশঙ্কা মানুষের শরীরে cortisol-নির্ভর stress response বাড়াতে পারে। (Dickerson, S. S., & Kemeny, M. E. 2004)

    অর্থাৎ অন্যের দৃষ্টি বা মূল্যায়ন সবসময় আমাদের শরীরের কাছে অর্থহীন কোনো বিষয় নয়। কেউ আপনার দিকে এমনভাবে তাকাল যে, আপনি বুঝতে পারলেনÑআপনাকে বিচার করা হচ্ছে। হয়তো কিছুক্ষণ পর বুক ধড়ফড় করছে, অস্বস্তি লাগছে, হাত ঘামছে, মাথা ভার লাগছে। আমাদের মস্তিষ্ক সামাজিক হুমকিকেও কখনো কখনো বাস্তব চাপ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। ফলে শরীরে stress response তৈরি হতে পারে। মন ও শরীর যে আলাদা কোনো জগৎ নয়, বিজ্ঞান এখন সে বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই জানে।

    এখানে আসে Nocebo Effect-এর কথাও। কোনো নেতিবাচক প্রত্যাশা, ভয় কিংবা আশঙ্কা কখনো কখনো মানুষের বাস্তব শারীরিক অস্বস্তিকে বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ কোনো কিছু আমাদের ক্ষতি করবেÑএই প্রত্যাশাটিও শরীরের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়Ñমানুষের নেতিবাচক অনুভূতি, দৃষ্টি ও সামাজিক আচরণ যে অন্য মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, সেটা কি একেবারেই অস্বীকার করা যায়?

    সুনান ইবনে মাজাহ ৩৫০৬-তে সাহাবি সাহল ইবন হুনাইফ (রা.)-এর একটি ঘটনা এসেছে। আমির ইবন রাবিয়াহ (রা.) তাকে দেখে তার সৌন্দর্য ও শারীরিক গঠনের প্রশংসা করেছিলেন। এরপর সাহল (রা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ কেন তার ভাইয়ের জন্য বরকতের দোয়া করে না?’ এরপর তিনি আমির (রা.)-কে গোসল করতে বলেন।

    এখানে ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করার কথা নেই। বরং একজন মানুষ অন্যজনকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, প্রশংসা করেছেন। তারপরও রাসুলুল্লাহ (সা.) বরকতের দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন। অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রশংসার ক্ষেত্রেও সতর্কতা আছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই আমরা অন্যের জীবনের দিকে তাকাই। কারো নতুন বাড়ি, নতুন গাড়ি, বিয়ে, সন্তান, বিদেশযাত্রা, পুরস্কার কিংবা সাফল্যÑসবকিছুই এখন আমাদের চোখের সামনে। আমরা কেউ আনন্দ নিয়ে দেখি। কেউ মুগ্ধ হয়ে দেখি। কেউ আবার অজান্তেই ঈর্ষা নিয়ে দেখি।

    আমরা প্রায়ই নজরকে শুধু ‘অন্যের চোখের সমস্যা’ হিসেবে দেখি। অথচ নিজের চোখের ভেতর কী আছে, সেটিও তো ভেবে দেখা দরকার। ইসলাম তাই হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে শেখায়। আর কারো ভালো কিছু দেখলে তার জন্য বরকতের দোয়া করতে শেখায়। অন্যদিকে বিজ্ঞান আমাদের দেখাচ্ছে, মানুষের সামাজিক অভিজ্ঞতা, নেতিবাচক মূল্যায়ন ও প্রত্যাশা শরীর ও মনের ওপর বাস্তব প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

    কারো ভালো কিছু দেখলে হিংসা নয়, তার জন্য বরকত চাইতে পারি। কারো সাফল্য দেখে নিজের অপূর্ণতার হিসাব না কষে তার আনন্দে আনন্দিত হতে পারি। কারো জীবনে ভালো কিছু দেখে শুধু তাকিয়ে না থেকে বলতে পারিÑ‘আল্লাহ তাকে বরকত দিন’। কারণ শেষ পর্যন্ত নজর নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো এটা নয় যে, নজর আছে কি নেই। প্রশ্ন হলোÑআপনি যখন অন্যের দিকে তাকান, আপনার চোখে আসলে কী থাকে।

  • শিরোনামহীন পোস্ট 35549

    সিজদায় দোয়া, আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ

    নামাজে সিজদা বান্দার জন্য আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভের সময়গুলোর একটি। এ কারণে সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন সিজদায় থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। সুতরাং তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।’ (সহিহ মুসলিম)

    সিজদায় গিয়ে প্রথমে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা’ পড়ার পর আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা, হেদায়েত, রিজিক, সুস্থতা, বিপদ থেকে মুক্তি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া করা যায়।

    সিজদায় পড়ার জন্য হাদিসে বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—

    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ، دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি যাম্বি কুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আমার সব গুনাহ ক্ষমা করুন—ছোট-বড়, প্রথম ও শেষের সব গুনাহ।

    এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো সংক্ষিপ্ত দোয়াও সিজদায় পড়া যায়—

    رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي

    উচ্চারণ: রব্বিগফির লি ওয়ারহামনি।

    অর্থ: হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন।

    তবে দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। বান্দা আন্তরিকভাবে দোয়া করবে এবং কবুলের ব্যাপারে আশাবাদী থাকবে। কোনো দোয়ার ফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যেতে পারে, আবার কোনো দোয়ার বিনিময়ে আল্লাহ বিপদ দূর করতে পারেন কিংবা তা আখিরাতের জন্য সঞ্চিত রাখতে পারেন।

    তাই নামাজের সিজদাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

  • অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

    অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

    স্মার্টফোনের অবাধ বিস্তারের এই যুগে প্রতিদিনের ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামী জীবনযাপন সহজ করতে ‘ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপ’-এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। সালাতের সময়সূচি, কিবলার দিকনির্ণয় কিংবা ডিজিটাল কোরআন তেলাওয়াতের সুবিধা দিয়ে এগুলো আধুনিক মুসলিমদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আত্মিক গভীরতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ধর্মীয় অনুশীলনে কতটা কার্যকর—তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর গবেষণার তথ্য সামনে এসেছে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন (আইজেএইচসিআই)-এ প্রকাশিত ‘ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপ্লিকেশনস: মিটিং দ্য স্পিরিচুয়াল নিডস অব মডার্ন মুসলিমস’ শীর্ষক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, জনপ্রিয় অধিকাংশ ইসলামিক অ্যাপই কেবল প্রাথমিক কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা দিচ্ছে। তবে ব্যবহারকারীদের অন্তর্নিহিত প্রেরণা, ধর্মীয় আত্মশাসন, দক্ষতা এবং সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধিতে এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। কারণ এসব ব্যবহারকারীদের মানসিক ও আত্মিক বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাধীন ভাবনায় ঘাটতি তৈরি করছে।গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক মহসিনুল কবির, মোহাম্মদ রিজওয়ান কবির ও রিয়াসাত ইসলাম। গবেষণায় বহুল পরিচিত ১১টি ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপের কারিগরি ও মনস্তাত্ত্বিক দিক পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি তরুণ মুসলিম ব্যবহারকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    গবেষণায় মনস্তাত্ত্বিক ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন থিওরি’ (এসডিটি) এবং ‘টেকনোলজি-অ্যাজ-এক্সপেরিয়েন্স’ (টিএই) ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে অ্যাপগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশিরভাগ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন অনুশীলনে স্বল্পমেয়াদি তাগিদ দিলেও আত্মিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে সঠিক মানসিক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব বিবেচনা করে নির্মিত অ্যাপগুলো প্রযুক্তি ও ইসলামের মেলবন্ধনে আধুনিক মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার ‘আধ্যাত্মিক সঙ্গী’ হয়ে উঠতে পারে।

    গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণসমূহ হচ্ছে স্বাধীন অনুশীলনের অভাব (অটোনমি) রয়েছে। অধিকাংশ অ্যাপেই নামাজের তাগিদ বা অ্যালার্ম থাকলেও ইবাদতের সঠিক নিয়ম, অন্তর্নিহিত শিক্ষা বা ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক বিকাশের গাইডলাইন অনুপস্থিত। দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুর্বলতা (কম্পিটেন্স) রয়েছে। প্রোগ্রেস ট্র্যাকার বা লক্ষ্য নির্ধারণের যেসব ফিচার রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহারকারীর অগ্রগতি সম্পর্কে সঠিক ও বিশ্লেষণাত্মক প্রতিক্রিয়া (ফিডব্যাক) দেওয়া হয় না। ফলে কিছুদিন পর ব্যবহারকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (রিলেটেডনেস) তৈরি করে। অ্যাপগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য শেয়ারের সুবিধা থাকলেও, বিশ্বস্ত ধর্মীয় গ্রুপ বা আলেমদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়ার কোনো সুরক্ষিত মাধ্যম নেই।

    বিজ্ঞাপন ও প্রাইভেসির বিতর্ক হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ইবাদতের পরিবেশ। গবেষণায় অ্যাপগুলোর নীতিগত ও কারিগরি নানা ত্রুটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে অনুচিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন। অনেক অ্যাপের বিনামূল্যে সংস্করণে এমন সব বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে, যা একজন মুসলিমের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মনোযোগ নষ্ট করে। কোরআন পাঠ বা ইবাদতের সময়ে আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ব্যবহারকারীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

    এছাড়া বিশ্বজুড়ে ‘মুসলিম প্র’-এর মতো শীর্ষ অ্যাপগুলোর ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপনীয়তা ও সুরক্ষার ঘাটতির বিষয়টি গ্রাহকদের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। ফলে প্রাইভেসির ভয়ে অনেকেই এসব অ্যাপের ব্যবহার সীমিত করছেন বা মুছে ফেলছেন।

    গবেষণার অংশ হিসেবে তরুণ ব্যবহারকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হলে তারা জানান, মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন তাদের নিয়মিত সালাত আদায়ে কিছুটা সহায়তা করে ঠিকই, তবে অ্যাপগুলোর যান্ত্রিক নোটিফিকেশন একঘেয়ে হয়ে উঠলে তা কার্যকর থাকে না। এছাড়া কেবল অ্যাপভিত্তিক একাগ্রতা যে মসজিদ বা প্রকৃত আলেমদের সাহচর্যের বিকল্প হতে পারে না, তা-ও ব্যবহারকারীরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

    গবেষকরা প্রযুক্তি ডেভেলপারদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছেন: ১. আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন: অ্যাপগুলোতে কোরআনের ব্যাখ্যা, হাদিস শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিস্থিতির উপযোগী দোয়ার জন্য কাঠামোবদ্ধ শিক্ষামূলক মডিউল যুক্ত করা। ২. নৈতিক বিজ্ঞাপন মডেল: ইবাদতের সুপবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে বিজ্ঞাপনভিত্তিক উপার্জনের বদলে ‘ওয়াকফ’ বা দানভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৩. আলেমদের অন্তর্ভুক্তি: অ্যাপের বিষয়বস্তু যেন ইসলামের সহিহ শিক্ষার পরিপন্থী না হয়, সে জন্য কেবল প্রযুক্তিবিদ নয়, বরং বিজ্ঞ ইসলামী আলেমদের তত্ত্বাবধানে ফিচারগুলো ডিজাইন করা। ৪. নিরাপদ সামাজিক স্পেস: প্রাইভেসির ঝুঁকি ছাড়াই ছোট ছোট ভার্চুয়াল তালিম বা চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।

  • শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে যেসব সমস্যা

    শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে যেসব সমস্যা

    সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এ এমন একটি বিধান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাঁদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখল করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। একই ধরনের বিধান নির্দিষ্ট অন্যান্য পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।

    আইনটির উদ্দেশ্য হিসেবে বয়স্ক পিতা-মাতার নিরাপত্তা ও সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এমনকি আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থা প্রচলিত হেবা বা মুসলিম আইনের অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরকে প্রভাবিত করবে না; বরং এটিকে একটি স্বতন্ত্র আইনগত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।কিন্তু এখানে মৌলিক প্রশ্ন হলো—একটি সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করার পর একই সঙ্গে দাতা নিজের জন্য সেই সম্পত্তির জীবনকালীন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন কি-না? ইসলামী আইনে এর অবস্থান কী?

    এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রথমে ইসলামে মালিকানা হস্তান্তরের প্রকৃতি এবং বিশেষত হেবা (الهبة)-এর শরয়ী সংজ্ঞা ও বিধান বুঝতে হবে।

    ১. ইসলামে হেবার প্রকৃতি : ইসলামী ফিকহে হেবা বলতে বোঝায়

    تَمْلِيكُ الْعَيْنِ فِي الْحَيَاةِ بِلَا عِوَضٍ

    অর্থাৎ, জীবদ্দশায় কোনো বিনিময়মূল্য ছাড়াই কোনো সম্পদের মূল মালিকানা (عين) অন্যের কাছে হস্তান্তর করাকে হেবা বলা হয়। ফিকহি বিশ্বকোষেও হেবার মূল সংজ্ঞা হিসেবে ‘বিনা বিনিময়ে জীবদ্দশায় কোনো সম্পদের মালিকানা প্রদান’-কে উল্লেখ করা হয়েছে। (তাকমিলা: ৭/১৩, শামী: ৪/৫৩০, বাহরুর রায়েক: ৭/৩০৯)

    এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, হেবার মাধ্যমে শুধু সম্পত্তির ব্যবহারাধিকার দেওয়া উদ্দেশ্য নয়; বরং কবজের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল মালিকানা (رقبة) গ্রহীতার কাছে চলে যায়।

    সুতরাং কেউ যদি বলে, ‘আমি এই বাড়িটি তোমাকে দিয়ে দিলাম; কিন্তু যতদিন আমি জীবিত থাকব, ততদিন এর মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পূর্ণ ভোগাধিকার আমার কাছেই থাকবে’—তাহলে প্রশ্ন দেখা দেবে, এখানে প্রকৃতপক্ষে হেবার মাধ্যমে সম্পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তর হয়েছে কি না? উত্তর—না। তার মানে এই শর্তের কারণে হেবা সম্পন্ন হয়নি।

    ২. হেবা, হাদিয়া ও সদকার পার্থক্য:

    হেবা, হাদিয়া ও সদকা—তিনটিই মূলত: বিনিময় ছাড়া সম্পদ প্রদানমূলক চুক্তি। ফিকহি দৃষ্টিকোণে হেবা একটি ব্যাপকতর পরিভাষা; হাদিয়া ও সদকা তার বিশেষ রূপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কাউকে সম্মান ও সৌজন্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হলে তা হাদিয়া, আর আল্লাহর নৈকট্যে বা সাওয়াবের প্রত্যাশায় অভাবীকে দেওয়া হলে তা সদকা হিসেবে পরিচিত।

    অতএব, ‘দান’, ‘গিফট’, ‘হাদিয়া’ ও ‘হেবা’—শব্দের পার্থক্য থাকলেও সম্পত্তির মালিকানা বিনা বিনিময়ে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এগুলোর মূল ফিকহি কাঠামো একই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। (আল-মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ: ৪২/১২০)

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের পরিচয়

    পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের পরিচয়

    পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবন সময়ের স্রোতে প্রবাহিত হলেও একজন মুমিনের জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার নামাজের মাধ্যমে। সম্পদ, সম্মান কিংবা ক্ষমতা মানুষের প্রকৃত সফলতার মানদণ্ড নয়; বরং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে সময়মতো আন্তরিকতার সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। নামাজ এমন এক ইবাদত, যা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে, গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই ইসলামে ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সালাত বা নামাজকে।

    কোরআনে প্রায় ৮০টিরও বেশি স্থানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ এসেছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা : ১০৩) আরো বলেন, ‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা আল-বাকারা : ৪৩) আল্লাহ আরো বলেন, ‘আমার স্মরণের জন্য নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা ত্ব-হা : ১৪)এছাড়া সুরা আল-বাকারা (২:১১০), সুরা হুদ (১১:১১৪), সুরা আল-ইসরা (১৭:৭৮), সুরা আল-মুমিনুন (২৩:১-২), সুরা আল-আনকাবুত (২৯:৪৫), সুরা আল-মাউনসহ (১০৭:৪-৫) বহু আয়াতে নামাজের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

    নামাজ ফরজ হওয়ার মূল দলিল

    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা : ১০৩) রাসুল (সা.) বলেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ; যে তা প্রতিষ্ঠা করল, সে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করল, আর যে তা ধ্বংস করল, সে দ্বীনকে ধ্বংস করল।’ (বায়হাকি : ১৫৩৯)

    মুসলিম ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য

    একজন প্রকৃত মুসলিম নামাজকে জীবনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, আর মুনাফিক নামাজকে অবহেলা করে। আল্লাহ বলেন, ‘মুনাফিকরা যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়; তারা লোকদেখানোর জন্য নামাজ পড়ে এবং আল্লাহকে খুব সামান্যই স্মরণ করে।’ (সুরা আন-নিসা : ১৪২)

    রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন নামাজ হলো এশা ও ফজরের নামাজ। তারা যদি এর ফজিলত জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাতে উপস্থিত হতো।’ (বুখারি : ৬৫৭; মুসলিম : ৬৫১) আরো বলেছেন, ‘মানুষ ও কুফর বা শিরকের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।’ (মুসলিম : ৮২)

    পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়

    ফজর : সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসলিম : ৬১৩)

    জোহর : সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার পর থেকে আসরের পূর্ব পর্যন্ত। (তিরমিজি : ১৪৯)

    আসর : বিকালে নির্ধারিত সময় থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ছেড়ে দিল, তার আমল বিনষ্ট হয়ে গেল।’ (বুখারি : ৫৫৩)

    মাগরিব : সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে পশ্চিমের লাল আভা মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম : ৬১২)

    এশা : লাল আভা মিলিয়ে যাওয়ার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত; প্রয়োজনে ফজরের আগেও আদায় করা যায়। (মুসলিম : ৬১২)

    মসজিদে জামাতে নামাজের বিধান

    ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য সামর্থ্য থাকলে মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘জামাতের নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।’ (বুখারি : ৬৪৫; মুসলিম : ৬৫০)

    তিনি আরো বলেছেন, ‘আমি ইচ্ছা করেছিলাম যারা জামাতে উপস্থিত হয় না, তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিই।’ (বুখারি : ৬৪৪; মুসলিম : ৬৫১)

    কোন কোন ওজরে ঘরে নামাজ পড়া যাবে

    শরিয়ত মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য কিছু বৈধ ওজরে ঘরে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ঘরে নামাজ আদায় করলে গুনাহ হবে না। যেমনÑ

    ১। অসুস্থতা বা শারীরিক দুর্বলতা।

    ২। প্রবল বৃষ্টি, ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

    ৩। জীবন বা সম্পদের নিরাপত্তার আশঙ্কা।

    ৪। সফররত অবস্থায়।

    ৫। এমন কাদা বা দুর্ভোগ, যাতে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।

    নামাজ মানুষকে কী শিক্ষা দেয়

    নামাজ শুধু কিছু শারীরিক আন্দোলনের নাম নয়; এটি মানুষের চরিত্র গঠন করে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আল-আনকাবুত : ৪৫) আরো বলেন, ‘সফলকাম হয়েছে সেই মুমিনরা, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী।’ (সুরা আল-মুমিনুন : ১-২)

    নারী ও পুরুষের নামাজ

    নামাজের মূল বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একই। তবে পোশাক, পর্দা এবং কিছু শারীরিক ভঙ্গি সম্পর্কে ফিকহের বিভিন্ন মাজহাবে কিছু পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে। এসব পার্থক্যের উদ্দেশ্য হলো শালীনতা ও পর্দা রক্ষা; তবে নামাজের মৌলিক রুকন ও শর্ত নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য অভিন্ন।

    পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একজন মুসলমানের পরিচয়, ঈমানের প্রমাণ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। যে ব্যক্তি সময়মতো নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তার জীবনকে বরকতময় করেন এবং আখিরাতে সফলতা দান করেন। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ অবহেলা করে, সে নিজেকেই চরম ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। তাই আসুন, কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী সময়মতো, একাগ্রচিত্তে এবং সম্ভব হলে মসজিদে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

  • ‘রাসুলের জীবনী শুধু পড়লে হবে না, তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে তুলুন’

    ‘রাসুলের জীবনী শুধু পড়লে হবে না, তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে তুলুন’

    মুসলিম বিশ্বকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন নতুন করে পাঠ করার পাশাপাশি তার শিক্ষা ও আদর্শকে বাস্তব জীবনযাপনের অংশ করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ড. সৈয়দ রুহুল্লাহ হোসেইনি। তিনি বলেছেন, মহানবী (সা.) শুধু একটি নির্দিষ্ট জাতি, ভূখণ্ড বা সময়ের জন্য প্রেরিত নন; তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত, নৈতিকতা, মানবিক মর্যাদা ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে এসেছেন।

    মাজার-ই-শরিফ শহরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও হজরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণ নয়; এটি এমন এক আলোর উদয়ের স্মরণ, যা মানবজাতিকে অজ্ঞতা, নিপীড়ন ও অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সঠিক পথ দেখানোর জন্য প্রেরিত হয়েছিল। পবিত্র কোরআনের ‘আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি’ আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবীজির (সা.) বার্তা রহমত, তাওহিদ ও মানবিক মর্যাদার বার্তা।

    নৈতিকতাই নবীজির শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি

    মহানবী (সা.)-এর চরিত্রকে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করে হোসেইনি বলেন, কোরআন তাকে ‘মহান চরিত্রের অধিকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, নবীজির (সা.) শিক্ষায় নৈতিকতা কোনো গৌণ বিষয় নয়; বরং তার দাওয়াত ও জীবনাদর্শের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

    সততা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, দয়া, ন্যায়বিচার, মানুষের প্রতি সম্মান এবং অসহায়দের প্রতি দায়িত্বশীলতা—এসব নবীজির (সা.) নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের মুসলিম সমাজের এসব গুণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, মানুষের অন্তরে যদি মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে সেই ভালোবাসার প্রতিফলন সামাজিক আচরণেও দেখা যেতে হবে। নবীজির (সা.) সম্পর্কে জ্ঞান শুধু আলোচনা, মাহফিল বা জন্মবার্ষিকী পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা মানুষের নৈতিকতা, আচরণ ও জীবনযাপনে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

    বিভেদ নয়, ঐক্য

    মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কথা তুলে ধরেন হোসেইনি। তার ভাষায়, মহানবী (সা.) এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যার ভিত্তি ছিল তাওহিদ ও ঈমান। পবিত্র কোরআনও মুসলমানদের আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে এবং বিভক্ত না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    তিনি বলেন, শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাওহিদ, পবিত্র কোরআন, মহানবী (সা.)-এর নবুয়ত ও কিবলার মতো মৌলিক বিষয়ে তাদের অভিন্নতা রয়েছে। এসব অভিন্ন বিষয় মুসলিম ঐক্য ও সংহতির শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

    মতপার্থক্য যেন শত্রুতা ও বিভাজনে পরিণত না হয়—এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতভেদকে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সুযোগে পরিণত করা উচিত।

    জ্ঞান ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন সভ্যতা

    মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শে জ্ঞান ও শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে হোসেইনি বলেন, নবীজির (সা.) দাওয়াতের সঙ্গে শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক প্রশিক্ষণও যুক্ত ছিল। কোরআনে নবীজির দায়িত্বের মধ্যে আয়াত পাঠ, মানুষের পরিশুদ্ধি এবং কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    তার মতে, মহানবী (সা.) যে সমাজ নির্মাণ করেছিলেন, তা ছিল জ্ঞান, শিক্ষা ও মানবিক প্রশিক্ষণের সমাজ। তাই মুসলিম বিশ্বের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাকেন্দ্রগুলোর দায়িত্ব হলো অজ্ঞতা, পশ্চাৎপদতা ও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে কাজ করা।

    বিশেষ করে মুসলিম তরুণদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও নিজস্ব পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সমন্বয় করে তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন ও মানবিক সভ্যতা নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা

    হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষায় মানুষের মর্যাদা সম্পদ, ক্ষমতা, বংশ, জাতি বা সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। ঈমান, তাকওয়া ও মানবিকতাই ছিল মানুষের মর্যাদার মূল ভিত্তি।

    নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে মুসলমানদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন এবং মুসলিম বিশ্বের বিবেক ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানান।

    আধুনিক সংকটেও নবীজির আদর্শ প্রাসঙ্গিক

    বর্তমান বিশ্বের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে হোসেইনি বলেন, এত উন্নতির পরও মানুষ যুদ্ধ, সহিংসতা, বৈষম্য, অবিচার, উগ্রবাদ, নৈতিক অবক্ষয় ও আধ্যাত্মিক সংকট থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ফলে বর্তমান বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর রহমত, নৈতিকতা, মানবিক মর্যাদা ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

    কোরআনের ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ’ আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন শুধু ইতিহাস পাঠের বিষয় নয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর জীবন আজও পথনির্দেশ দিতে পারে।

    ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ অনুসরণে

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার অর্থ তার পথ ও নৈতিকতাকে অনুসরণ করা। তার মতে, মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্তার সারকথা এক বাক্যে বলতে হলে বলা যায়—মুহাম্মদ (সা.) রহমত, নৈতিকতা, ঐক্য, জ্ঞান ও ন্যায়বিচারের নবী। তাই এসব মূল্যবোধকে শুধু অনুষ্ঠান ও বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের বাস্তব পরিসরে নিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত মুসলমানদের দায়িত্ব।

  • শুক্রবারের দিনটি যেভাবে কাটাবেন

    শুক্রবারের দিনটি যেভাবে কাটাবেন

    মুসলমানদের জীবনে শুক্রবার একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন। এটি কেবল কর্মব্যস্ততা বা ছুটির দিন নয়, বরং ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনকে সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই একজন মুমিনের উচিত দিনটিকে সুন্দর আমলে সাজিয়ে নেওয়া।

    ফজরের পর কোরআন তিলাওয়াত করুন
    দিনের শুরুটা কোরআন তিলাওয়াত দিয়ে করা উত্তম। বিশেষ করে জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, এ দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত থাকে।

    বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন
    শুক্রবারে বিশ্বনবী (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ পাঠের গুরুত্ব অনেক। পথচলার সময়, কাজের ফাঁকে বা অবসর মুহূর্তে জিকির ও দরুদ পাঠের মাধ্যমে দিনটি কল্যাণময় করে তোলা যায়।

    পরিচ্ছন্নতা ও প্রস্তুতি
    জুমার নামাজের আগে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে যেমন শরীর পরিচ্ছন্ন থাকে, তেমনই জুমার দিনের প্রতি বিশেষ সম্মানও প্রকাশ পায়।

    আগেভাগে মসজিদে গমন
    সম্ভব হলে জুমার জামাতের বেশ কিছুক্ষণ আগেই মসজিদে পৌঁছানো উচিত। সেখানে মনোযোগের সঙ্গে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে সময় কাটানো উত্তম। খুতবা চলাকালে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া এবং যেকোনো ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

    দোয়ার কবুলিয়াতের সময় খোঁজা
    জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। আলেমদের মতে, আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়টি দোয়া কবুলের অত্যন্ত সম্ভাব্য সময়। তাই এই সময়ে নিজের ও সবার কল্যাণে দোয়া করা উচিত।

    আত্মসমালোচনা ও তওবা
    সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে পেছনের ভুলত্রুটিগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিগত সময়ের গুনাহের জন্য তওবা করে