ধর্ম ও ইসলাম

  • জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিও কত ভয়াবহ!

    জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিও কত ভয়াবহ!

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে জান্নাতের সুসংবাদ যেমন দিয়েছেন, তেমনি জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। একজন মুমিনের জন্য জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনা ভয় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়; বরং তাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখা, তওবার দিকে আহ্বান করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে দৃঢ় করা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে শাস্তিকে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি বলা হয়েছে, সেটিও মানুষের কল্পনার অতীত ভয়াবহ। এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাহান্নাম থেকে মুক্তিই প্রকৃত সফলতা।কুরআনের সতর্কবার্তা

    আল্লাহ তাআলা বলেন—

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরীম: আয়াত ৬)

    আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

    فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ

    ‘যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই-ই প্রকৃত সফলকাম।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)

    জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    إِنَّ أَهْوَنَ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا رَجُلٌ تُوضَعُ فِي أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ جَمْرَتَانِ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ، كَمَا يَغْلِي الْمِرْجَلُ وَالْقُمْقُمُ، مَا يَرَى أَنَّ أَحَدًا أَشَدُّ مِنْهُ عَذَابًا، وَإِنَّهُ لَأَهْوَنُهُمْ عَذَابًا

    ‘জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি হবে সেই ব্যক্তি, যার পায়ের তলায় দুটি আগুনের অঙ্গার রাখা হবে। এর তাপে তার মস্তিষ্ক এমনভাবে ফুটতে থাকবে, যেমন হাঁড়ি ফুটতে থাকে। সে মনে করবে, তার চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কারো নেই; অথচ সে-ই হবে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।’ (মুসলিম ২১৩)

    এই হাদিস আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

    • জাহান্নামের সামান্যতম শাস্তিও মানুষের সহ্যের বাইরে।
    • দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আনন্দের জন্য আখিরাতকে বিসর্জন দেওয়া চরম ক্ষতির কারণ।
    • আল্লাহর রহমত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য আন্তরিক তওবা, নেক আমল ও তাকওয়া অর্জনের বিকল্প নেই।
    • একজন মুমিনের উচিত প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া।

    জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

    উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।’

    অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’

    রাসুলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন, এই দোয়া বেশি বেশি পড়তে এবং আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইতে। (আবু দাউদ ৫০৭৯)

    জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তির এই বর্ণনাই প্রমাণ করে যে, আখিরাতের শাস্তি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, নিয়মিত তওবা করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করুন, জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং ইমানের ওপর অবিচল রেখে মৃত্যু দান করুন। আমিন।

  • মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন ববিতার

    মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন ববিতার

    জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সমাজের জন্য কল্যাণকর কাজ করে যেতে চান বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা ববিতা। সেই ভাবনা থেকেই গ্রামের বাড়ি যশোরের পৈতৃক ভিটায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।

    সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে সঙ্গে নিয়ে জন্মভিটা যশোরের বিজয়নগর সফরে গিয়ে তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি চূড়ান্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন।গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘এবার দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদের জন্য জমি দেখে এসেছি। জমি চূড়ান্ত করে এসেছি। এতে আমার খুব শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তা আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আমি খুব সুন্দর করে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই।’

    জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার সবচেয়ে বড় চাওয়া একটি মসজিদ নির্মাণ করা। আল্লাহ যেন তাকে এই মহৎ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের তৌফিক দান করেন, সেই প্রার্থনাও করেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

    ববিতা বলেন, ‘একদিন তো সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জন্ম হয়েছে, মৃত্যু একদিন হবেই। তাই চলে যাওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যেতে চাই। খুব শিগগির মসজিদের নকশা করব। তারপর ধীরে ধীরে কাজ শুরু করব। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

    ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন রুপালি পর্দার এই অভিনেত্রী। এছাড়াও ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা ও ২০২৬ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

  • যে পাপের বিচার স্রষ্টা ছেড়েছেন মানুষের হাতে

    যে পাপের বিচার স্রষ্টা ছেড়েছেন মানুষের হাতে

    মহান আল্লাহ অসীম দয়াময়, পরম করুণাময় ও ক্ষমার আধার। বান্দা যদি নিজের অজান্তে বা শয়তানের প্ররোচনায় কোনো পাপ করে ফেলে এবং পরে আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে চোখের জল ফেলে ক্ষমা চায়, তবে আল্লাহতায়ালা তার পাহাড় সমান গুনাহও মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু ইসলামের একটি অমোঘ ও অলঙ্ঘনীয় বিধান হলো, আল্লাহতায়ালা মানুষের সব পাপ ক্ষমা করলেও একটি বিশেষ শ্রেণির পাপ তিনি নিজে চাইলেও সরাসরি ক্ষমা করবেন না। আর তা হলো ‘হাক্কুল ইবাদ’ বা মানুষের অধিকার ও হক। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন— ‘হে মুমিনরা, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সুরা আন-নিসা : ২৯)

    আমাদের সমাজ ও প্রাত্যহিক জীবনে ‘বান্দার হক’ বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক ও সংবেদনশীল। দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমরা নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো ইবাদতগুলো নিয়মিত পালন করলেও, অবহেলায় এবং অসচেতনতায় প্রতিনিয়ত অন্যের হক নষ্ট করে চলেছি। অথচ এই একটি মাত্র ভুলের কারণে কিয়ামতের দিন জীবনের সব নেক আমল ধুলায় মিশে যেতে পারে।নিত্যজীবনে নানা উপায়ে আমরা অন্যের হক বা প্রাপ্য হরণ করছি, যা আমরা অনেক সময় পাপ বলেই গণ্য করি না। ব্যবসা-বাণিজ্যে ওজনে কম দেওয়া, খাদ্যে ভেজাল মেশানো, চড়া সুদে টাকা খাটানো কিংবা পাওনাদারের টাকা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সময়মতো পরিশোধ না করে ঘোরানো—বান্দার হক নষ্ট করার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তবে সব থেকে ভয়ংকর দিক হলো উত্তরাধিকারের হক পরিশোধ না করা। বোন, স্ত্রী বা কন্যাদের শরিয়তসম্মত মিরাস বা উত্তরাধিকারের সম্পত্তি থেকে কৌশলে বঞ্চিত করা এক ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ পরিশোধ করলেও তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে যথাযথ থাকে না। আবার কারো পেছনে তার অনুপস্থিতিতে পরনিন্দা (গিবত) করা, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কারো সম্মানহানি করা অথবা কথা ও আচরণের মাধ্যমে কাউকে মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়াও ‘হাক্কুল ইবাদে’র অন্তর্ভুক্ত।

    আর কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে আমরা কখনোই ভাবি না; রাস্তায় জ্যাম তৈরি করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো, সরকারি সম্পত্তি বা জনকল্যাণের অর্থ আত্মসাৎ করা, কিংবা কর্মক্ষেত্রে ফাঁকি দিয়ে বেতন নেওয়া—এগুলো সবই কোটি কোটি মানুষের হক নষ্ট করার শামিল। পবিত্র কোরআনে অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎকারীদের তীব্র নিন্দা করে বলা হয়েছে— ‘নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা মূলত নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং শিগগিরই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।’ (সুরা আন-নিসা : ১০)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমরা কি জানো নিঃস্ব বা দেউলিয়া কে?’ সাহাবিরা উত্তর দিলেন, যার ধন-সম্পদ বা টাকাপয়সা নেই। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) উম্মতকে সতর্ক করে বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সেই ব্যক্তিই প্রকৃত দেউলিয়া, যে কিয়ামতের দিন অনেক নামাজ, রোজা, জাকাত নিয়ে হাজির হবে; কিন্তু সে দুনিয়াতে কাউকে গালি দিয়েছিল, কারো প্রতি অপবাদ আরোপ করেছিল, অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ গ্রাস করেছিল, কারো রক্তপাত করেছিল এবং কাউকে আঘাত করেছিল। ফলে (বিচারের মাঠে) তার নেক আমলগুলো থেকে একে একে ভুক্তভোগীদের পাওনা চুকানো হবে। একপর্যায়ে যদি তার নেক আমল শেষ হয়ে যায়, তবে পাওনাদারদের পাপগুলো তার ঘাড়ে চাপানো হবে এবং পরিশেষে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম : ২৫৮১)

    এই হাদিসটি প্রমাণ করে, মানুষের হক কতখানি স্পর্শকাতর। আল্লাহর ইবাদতে ঘাটতি থাকলে তিনি চাইলে মাফ করতে পারেন, কিন্তু কোনো মানুষের অধিকার খর্ব করা হলে, যতক্ষণ না সেই মানুষটি মন থেকে ক্ষমা করবেন, ততক্ষণ স্রষ্টা নিজেও সেই পাপ মোচন করবেন না। আজ আমরা অনেকেই বাহ্যিক ইবাদত নিয়ে অহংকার করি, কিন্তু পর্দার আড়ালে কত মানুষের চোখের জল ও দীর্ঘশ্বাসের কারণ হচ্ছি, তার খবর রাখি না। দুনিয়ার আদালতে টাকা বা ক্ষমতার জোরে পার পাওয়া গেলেও, কিয়ামতের সেই মহাবিচারের দিনে কিন্তু রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেদিন নিজের অতি কষ্টের নেক আমলগুলো অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে।

    আসুন, আজই আমরা নিজেকে একটু হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। সচেতন বা অবচেতন মনে আমরা কি কারো জমি দখল করেছি? কোনো শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি আটকে রেখেছি? কোনো ভাই, বোন বা আত্মীয়ের মন ভেঙেছি? দায়িত্ব পালনে মানুষের অধিকার নষ্ট করেছি? যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে অহংকার ও লোকলজ্জা ভুলে আজই তাদের কাছে ছুটে যাই। জীবিত থাকলে তাদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিই, তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিই। আর যদি তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়ে থাকেন, তবে তাদের পক্ষ থেকে দান-সদকাহ করি এবং আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করি। খাঁটি মুসলমান হতে হলে শুধু আল্লাহর হক নয়, মানুষের হকের প্রতিও সর্বোচ্চ যত্নশীল হই।

  • সাহাবিদের সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য

    সাহাবিদের সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য

    সাহাবায়ে কিরাম হেদায়াতের নক্ষত্র, তাকওয়া ও ঈমানের দীপ্তিমান তারকা, সুদীপ্ত পূর্ণিমা। রাসুল (সা.)-এর পর তারাই বহন করেছেন ইসলামের ঝান্ডা এবং উড্ডীন করেছেন পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এ কারণেই আমরা চিরকাল তাদের কাছে ঋণী। তারাই যুগশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম প্রজন্ম। আল্লাহতায়ালা তাদের নবীজির সহচর হিসেবে নির্বাচন করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার যুগের লোকরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর এমন সব ব্যক্তি আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দেবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে।’ (বুখারি : ২৬৫২)

    আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তিটি এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অনুসরণ করতে চায় তবে সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ করে। কারণ, তারাই ছিলেন এ উম্মতের মধ্যে আত্মার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নেককার, ইলমের দিক থেকে গভীরতর, লৌকিকতার দিক থেকে স্বল্পতম, আদর্শের দিক থেকে সঠিকতম, অবস্থার দিক থেকে শুদ্ধতম। তারা এমন সম্প্রদায় আল্লাহ যাদের আপন নবী (সা.)-এর সংস্পর্শধন্য হওয়ার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে বাছাই করে নিয়েছেন। অতএব তোমরা তাদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। কারণ, তারা ছিলেন সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত। (মিশকাত : ১৯৩)ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তির মর্ম হলো, নবীজি (সা.)-এর পর পৃথিবীতে অনুসরণযোগ্য কেউ থাকলে তারা হলেন সাহাবায়ে কিরাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা করেছেন। আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।

    সমগ্র দুনিয়ার সব মানুষের নেক আমল এক করলেও সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালমন্দ করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্ত আমলের মর্যাদা তোমাদের সারাজীবনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬২)

    আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার সাহাবাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার নিশানায় পরিণত করো না। কারণ, যে তাদের ভালোবাসবে, সে আমার মুহাব্বতেই তাদের ভালোবাসবে। আর যে তাদের অপছন্দ করবে, সে আমাকে অপছন্দ করার ফলেই তাদের অপছন্দ করবে। আর যে তাদের কষ্ট দেবে, সে আমাকেই কষ্ট দেবে। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকেই কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেবে, অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।’ (তিরমিজি :

    সাহাবায়ে কিরাম হেদায়াতের নক্ষত্র, তাকওয়া ও ঈমানের দীপ্তিমান তারকা, সুদীপ্ত পূর্ণিমা। রাসুল (সা.)-এর পর তারাই বহন করেছেন ইসলামের ঝান্ডা এবং উড্ডীন করেছেন পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এ কারণেই আমরা চিরকাল তাদের কাছে ঋণী। তারাই যুগশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম প্রজন্ম। আল্লাহতায়ালা তাদের নবীজির সহচর হিসেবে নির্বাচন করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার যুগের লোকরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর এমন সব ব্যক্তি আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দেবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে।’ (বুখারি : ২৬৫২)

    আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তিটি এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অনুসরণ করতে চায় তবে সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ করে। কারণ, তারাই ছিলেন এ উম্মতের মধ্যে আত্মার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নেককার, ইলমের দিক থেকে গভীরতর, লৌকিকতার দিক থেকে স্বল্পতম, আদর্শের দিক থেকে সঠিকতম, অবস্থার দিক থেকে শুদ্ধতম। তারা এমন সম্প্রদায় আল্লাহ যাদের আপন নবী (সা.)-এর সংস্পর্শধন্য হওয়ার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে বাছাই করে নিয়েছেন। অতএব তোমরা তাদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। কারণ, তারা ছিলেন সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত। (মিশকাত :

    ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তির মর্ম হলো, নবীজি (সা.)-এর পর পৃথিবীতে অনুসরণযোগ্য কেউ থাকলে তারা হলেন সাহাবায়ে কিরাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা করেছেন। আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।

    সমগ্র দুনিয়ার সব মানুষের নেক আমল এক করলেও সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালমন্দ করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্ত আমলের মর্যাদা তোমাদের সারাজীবনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬২)

    আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার সাহাবাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার নিশানায় পরিণত করো না। কারণ, যে তাদের ভালোবাসবে, সে আমার মুহাব্বতেই তাদের ভালোবাসবে। আর যে তাদের অপছন্দ করবে, সে আমাকে অপছন্দ করার ফলেই তাদের অপছন্দ করবে। আর যে তাদের কষ্ট দেবে, সে আমাকেই কষ্ট দেবে। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকেই কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেবে, অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।’ (তিরমিজি : ৩৮৬২)

    মুসলমান দাবি করে যদি কেউ তাদের গালমন্দ করে, তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখে, তার এই আচরণ কাফের-মুশরিকদের সঙ্গে মিলে যায়। পবিত্র কোরআনের ভাষ্যমতে, একমাত্র কাফিররাই সাহাবাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। মুসলিম হয়েও যারা সাহাবায়ে কিরামের সমালোচনা করে, তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়, নিশ্চিত বলা যায়, তারা কাফের মুশরিকদের সাথি-সঙ্গী। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে সাহাবাদের ঈমানের মতো ঈমান আনতে বলেছেন। এখন যারা সাড়ে চৌদ্দশ বছর পরে এসে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাদের মুসলমান বলার সুযোগ আছে কি!?

    মুসলমান তো তারা যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছে, তাদের ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।’ (সুরা হাশর : ১০)

    সুরা ফাতাহ ২৯ আয়াতে ‘লি ইয়াগিজা বিহিমুল কুফফার’। অর্থ— ‘কাফেরদের অন্তর্দাহ সৃষ্টি হয়’ এর ব্যাখ্যায় ইমাম মালেক (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, সেও এই হুকুমের আওতায় পড়বে।’

    ইমাম আবু জুর‘আ আর রাজি (রহ.) বলেন, ‘যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে সাহাবাদের কোনো একজনের মর্যাদাহানি করতে দেখবেন, তখন বুঝে নেবেন যে, ধর্মদ্রোহী নাস্তিক। কারণ হলো, রাসুল (সা.) সত্য, কোরআনও সত্য। আর কোরআন ও সুন্নাহ আমাদের কাছে পৌঁছিয়েছেন সাহাবায়ে কিরাম। নিশ্চয় তারা চায় আমাদের প্রমাণগুলোয় আঘাত করতে। যাতে তারা কোরআন-সুন্নাহকে বাতিল করতে পারে। এরাই ধর্মদ্রোহী-নাস্তিক। এদের খতম করে দেওয়া শ্রেয়।’ (মিনহাজুস সুন্নাহ : ১/১৮)

    সাহাবাবিদ্বেষী শ্রেণি সম্পর্কে নবীজি ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন, ‘শিগগিরই একদল বের হবে, যারা আমার সাহাবাদের দোষারোপ করবে, অভিযুক্ত করবে এবং গালি দেবে। সাবধান! সাবধান! তোমরা তাদের মজলিসে বসবে না, তাদের সঙ্গে পানাহার করবে না, তাদের সঙ্গে নামাজ পড়বে না এবং তাদের জন্য দোয়াও করবে না।’ (আল জামে’ লি আখলাকির রাবি ওয়া আদাবিস সামে : ১৩৫৩)

    আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে আমার সাহাবিকে গালি দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা সব মানুষের অভিশাপ। আল্লাহ তার নফল বা ফরজ কিছুই কবুল করবেন না।’ (তাবারানি : ২১০৮)

  • জামায়াতের ফেসবুক পেজে সূরা মুমিনুনের ৪ আয়াত, কারণ কী

    জামায়াতের ফেসবুক পেজে সূরা মুমিনুনের ৪ আয়াত, কারণ কী

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআনের সূরা মুমিনুনের চারটি আয়াত পোস্ট করা হয়েছে। সূরাটির ২ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন—

    ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে; যারা যাকাত দান করে এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে।’এই চার আয়াত আসলে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ইবাদত, সামাজিক আচরণ, অর্থনৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক চরিত্র—সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা এই গুণগুলো অর্জন করতে পারবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবেন।

    ২ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে মুফাসসিররা বলেছেন, কেবল যান্ত্রিকভাবে রুকু-সিজদা করার নাম নামাজ নয়। নামাজ পড়ার সময় মনকে দুনিয়াবি চিন্তা, ব্যবসা বা মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুক্ত রাখা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এই গুণের অন্তর্ভুক্ত। মুমিন ব্যক্তি মনে করেন, তিনি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন এবং আল্লাহ তাকে দেখছেন।

    ৩ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ট্রল করা, পরনিন্দা, অর্থহীন আড্ডা বা সময় নষ্টকারী বিনোদনে মেতে থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। একজন সফল মুমিন নিজের সময়ের মূল্য বোঝেন এবং যা কোনো কল্যাণে আসে না, তা থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে রাখেন।

    ৪ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, নিজের সম্পদের ওপর যখন গরিবের হক বা অধিকার তৈরি হয়, তখন তা স্বেচ্ছায় ও সঠিক নিয়মে অভাবী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। এটি একদিকে যেমন মানুষের মন থেকে কৃপণতা ও লোভ দূর করে আত্মাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে।

    ৫ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, আধুনিক সমাজে যেখানে পর্নোগ্রাফি, অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ খুব সহজলভ্য, সেখানে একজন মুমিন নিজের চোখ, মন এবং চরিত্রকে আল্লাহর দেওয়া সীমানার ভেতরে ধরে রাখেন। বৈধ উপায়ের (বিবাহের) বাইরে সব ধরনের অনৈতিকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

  • হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ

    হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ

    তাহাজ্জুদ শব্দটি গভীর রাতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে। রাত গভীর হলেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়। হৃদয়ের আবেগ ঢেলে প্রেমপেয়ালা পরিপূর্ণ করার সময় হলো তাহাজ্জুদ। সেজদায় রবের কাছে গিয়ে প্রেমালাপের উত্তম তরিকা তাহাজ্জুদ। মনের ভাষাগুলো চোখ দিয়ে বের করে হাতে ও মুখে শান্তি মাখানোর নাম-ই তাহাজ্জুদ।

    তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে রব বান্দার খুব কাছাকাছি চলে আসেন। বান্দারও সুযোগ থাকে রবকে কাছে পেয়ে সব হাজত তুলে ধরার। দুনিয়াবাসী এ সময় ঘুমের কোলে পরম আরামে থাকে। আরশ থেকে নামা রবের বিশেষ রহমত পেতে বান্দার আরাম বিসর্জন দেওয়া জরুরি। ইবাদত যত ত্যাগ ও মেহনতময় হবে, তত লাভজনক হবে এর ফল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম : ১১৬৩)গোনাহ মাফ, নৈকট্যলাভ ও মন ভালো রেখে মন্দ থেকে দূরে থাকার অন্যতম পথ হলো রাতের নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজ আদায় করা উচিত। কারণ, রাতে ইবাদত করা তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের রীতি। এটি তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পথ, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ-অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার মাধ্যম।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১১৩৫)

    পৃথিবীর প্রাসাদ মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। আর মাটিও ইসরাফিল (আ.)-এর ফুঁতকারের অপেক্ষায়। আকাশ-মাটি সব ধ্বংস হবে। দুনিয়ার প্রাসাদ তো দুনিয়ার চোখে নামমাত্র সুন্দর, কিন্তু রাতজাগা ইবাদতকারীদের জন্য রয়েছে, অবর্ণনীয় সুন্দরের জান্নাতি চিরস্থায়ী প্রাসাদ। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতের মধ্যে প্রাসাদগুলো এমন হবে যে, এর ভেতর থেকে বাইরের সবকিছু দেখা যাবে এবং এর বাইরে থেকে ভেতরের সবকিছু দেখা যাবে।’ এক বেদুইন দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! এসব কাদের জন্য? তিনি বললেন, ‘যারা মানুষের সঙ্গে নরম কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়, সিয়াম পালন করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করে ।’ (তিরমিজি : ২৫২৭)

    আমরা মানুষ। আল্লাহর বান্দা। তিনি জানেন আমরা অপরাধ করতে পারি! তাই তো, তিনিই ক্ষমার অপার সুযোগ রেখে তাহাজ্জুদের সময় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে আমাদের ডাকতে থাকেন। সাহাবি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদিগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনÑকেউ আছে কি! যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিয়ে দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি : ৬৩২১)

    বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাপ্রেমিকরা শেষরাতে প্রিয় দলের লড়াই দেখার জন্য জেগে ওঠে। (কপালপোড়া সেই মুসলিমরা আল্লাহর সব নিয়ামত ভোগ করেও তাঁর হুকুমে একটু পর ফজর পড়তে পারে না।) তেমনি প্রকৃত মুমিনরা শেষ রাতে আল্লাহর সান্নিধ্যের টানে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। তাহাজ্জুদকে সেতু বানিয়ে সেজদার বাহনে চড়ে চলে যায় মহান রবের দরবারে। আল্লাহর দরবারের চেয়ে উত্তম গন্তব্য মুমিমের আর কী হতে পারে! রব আমাদের সবাইকে কবুল করুন।

  • ইমাম খতিবদের সতর্ক থাকার আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের

    ইমাম খতিবদের সতর্ক থাকার আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের

    সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নজরে এসেছে।

    শনিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতারক চক্রটি কখনো টেলিফোন, কখনো মোবাইল, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় কিংবা এর কোনো জেলা বা উপজেলা কার্যালয় কখনোই অননুমোদিত ব্যক্তি বা নম্বরের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে না। কোনো আর্থিক সুবিধা, সম্মানী, ভাতা, অনুদান বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধার নামে যদি কেউ ব্যাংক হিসাব নম্বর, ওটিপি, পিন নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য অথবা অন্য কোনো গোপনীয় তথ্য জানতে চায়, তবে তা প্রতারণার অংশ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

    এমতাবস্থায় দেশের সব ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক ফোনকলের মাধ্যমে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেবেন না। ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য, ওটিপি, পিন নম্বর কিংবা অন্য কোনো গোপন তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো তথ্য বা অর্থ দাবি করলে তা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই করে নেবেন। প্রতারণার কোনো প্রচেষ্টা বা সন্দেহজনক যোগাযোগের ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

  • নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’  কি ইসলামে বৈধ? আলেমরা কি বলেন

    নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ কি ইসলামে বৈধ? আলেমরা কি বলেন

    হজ পালন শেষে নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ উপাধি ব্যবহার করা নিয়ে সমাজে প্রচলিত একটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলেমরা। তাদের মতে, ইসলামে ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, কোনো সামাজিক উপাধি বা পরিচিতি নয়।

    ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের একটি হিসেবে হজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। হজ মানুষকে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেয়। তবে হজ পালনকারীকে নামের আগে বিশেষ উপাধি ব্যবহার করতে ইসলামে বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নেই।

    বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘হাজি’ শব্দের অর্থ হজ পালনকারী ব্যক্তি এবং ‘আলহাজ’ শব্দটিও একই অর্থ বহন করে। কিন্তু আরবি ভাষা বা ইসলামী পরিভাষায় একাধিক হজের ভিত্তিতে আলাদা উপাধি ব্যবহারের কোনো প্রমাণ নেই।

    আলেমরা আরও বলেন, সব ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। কেউ যদি উপাধি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হজ পালন করেন বা হজের পর মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাশা করেন, তবে তা ইবাদতের আন্তরিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    ইসলামী দৃষ্টিতে আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিজেকে পবিত্র বা বিশেষ মর্যাদার দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন না করাই উত্তম।

    সাহাবায়ে কেরামের জীবনে হজ পালন থাকলেও তাঁদের নামের আগে কোনো ধরনের উপাধি ব্যবহারের প্রচলন ছিল না বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।

    তবে আলেমরা এটিও উল্লেখ করেন, সম্মান বা পরিচয়ের অংশ হিসেবে কেউ কাউকে ‘হাজি সাহেব’ বলে ডাকলে তা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু এটিকে স্থায়ী উপাধি হিসেবে গ্রহণ করা বা না ডাকলে অসন্তুষ্ট হওয়া অনুচিত।

    সবশেষে বলা হয়েছে, হজের প্রকৃত সফলতা কোনো উপাধিতে নয়, বরং তাকওয়া, বিনয় এবং আল্লাহর আনুগত্যে পরিবর্তনের মধ্যেই নিহিত।

  • ইসলামের বিধান নিয়ে বিদ্রুপ ঈমান নষ্টের কারণ, কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কতা

    ইসলামের বিধান নিয়ে বিদ্রুপ ঈমান নষ্টের কারণ, কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কতা

    মহান আল্লাহ মানুষের কল্যাণে যুগে যুগে দ্বিন ও শরিয়তের বিধান দিয়েছেন। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো শরিয়তের বিধানগুলোকে মান্য করা এবং তাকে সম্মান করা।

    এটা তার ঈমানের দাবি ও নিদর্শন। পক্ষান্তরে ইসলামের কোনো বিধান, নিদর্শন বা শরিয়তের কোনো অংশ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, যা মানুষের ঈমান পর্যন্ত বিনষ্ট করে দিতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বোলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসুলকে বিদ্রুপ করছিলে? ঈমান আনার পর তোমরা দোষ ঢাকার চেষ্টা কোরো না।

    ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬৫-৬৬)
    তাফসিরবিদরা বলেন, তাবুক অভিযানের সময় কিছু লোক সাহাবায়ে কেরাম ও দ্বিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিল, তখন এই আয়াত নাজিল হয়। আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে দ্বিনকে নিয়ে উপহাস করা কুফরির নামান্তর।

    কোরআনের অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘এটাই বিধান; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর সম্মান রক্ষা করে, তা অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩২)

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শরিয়তের বিধি-বিধান ও দ্বিনের প্রতীক বিষয়গুলোকে সম্মান করা আল্লাহভীতির লক্ষণ, বিপরীতে তা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও বাঁকা মন্তব্য করা তাকওয়া পরহেজগারির পরিপন্থী কাজ।

    মহানবী (সা.)-ও এ বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বান্দা কখনো এমন একটি কথা বলে, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়। কিন্তু সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না, অথচ এর কারণে সে জাহান্নামে পতিত হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৭)

    বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, পারস্পরিক কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কে অনেকেই ইসলামের বিধান, দাড়ি, হিজাব, নামাজ, কোরবানি কিংবা অন্য কোনো বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকে। অনেকের দৃষ্টিতে এটাকে বাকস্বাধীনতার অংশ বা তুচ্ছ বিষয় মনে হলেও শরিয়তে এটি অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ।

    কারণ এতে দ্বিনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং মানুষের অন্তরে দ্বিনের প্রতি অবজ্ঞা সৃষ্টি হয়।
    ফিকহের কিতাবগুলোতে শরিয়তের বিধি-বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করাকে কুফরির কারণ বলা হয়েছে। ফাতাওয়ায়ে আলমগিরিতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি শরিয়তের কোনো বিষয় নিয়ে বিদ্রুপ করে, সে কাফির হয়ে যায়।’ (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ২/২৫৯)

    ইমাম ইবনু নুজাইম (রহ.) বলেছেন, ‘দ্বিন বা দ্বিনের কোনো বিধান নিয়ে উপহাস করা কুফরি।’ (আল বাহরুর রায়িক : ৫/১৩৪)

    তবে মনে রাখতে হবে, শরিয়তের কোনো বিধানের দলিল, প্রয়োগ পদ্ধতি বা ফিকহি ব্যাখ্যা নিয়ে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা আর বিদ্রুপ করা এক বিষয় নয়। ইসলাম চিন্তা, গবেষণা ও প্রশ্নকে উৎসাহিত করে; কিন্তু উপহাস ও অবজ্ঞাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনার প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। কোনো বিধানের হিকমত বা প্রজ্ঞা তার বোধগম্য না হলেও এই বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করা যে আল্লাহর প্রতিটি বিধানই কল্যাণকর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করে দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর সেই বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকে না।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৬)

    পরিশেষে বলতে চাই, ইসলামের বিধি-বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা শুধু একটি নৈতিক অপরাধ নয়; বরং তা ঈমানের জন্যও মারাত্মক হুমকি। দেশের প্রচলিত আইনও তা অনুমোদন করে না। একজন মুসলমানের উচিত দ্বিনের প্রতিটি বিধানকে সম্মান করা, অন্যদেরও এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উৎসাহিত করা এবং কথাবার্তা ও আচরণে এমন সব বিষয় থেকে দূরে থাকা, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দান করুন। আমিন।