ধর্ম ও ইসলাম

  • দুশ্চিন্তা ও বিষাদ দূর করার দোয়া

    দুশ্চিন্তা ও বিষাদ দূর করার দোয়া

    اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি।

    অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্ত ও দুঃখ-বেদনা থেকে।

    হাম (الْهَمِّ): ভবিষ্যৎ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ বা এনজাইটি (Anxiety) কাজ করে।

    হাযান (الْحَزَنِ): অতীত নিয়ে যে দুঃখ, শোক বা ডিপ্রেশন (Depression) তৈরি হয়।

    আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) চিন্তাযুক্ত অবস্থায় এই দোয়া পড়তেন। (বুখারি, হাদিস : ২৮৯৩)

    একদা রাসুল (সা.) ভাষণ দেন এবং বলেন, তোমরা কৃপণতার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা কৃপণতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অর্থলোভ তাদের কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে তারা কৃপণতা করেছে, তাদের আত্মীয়তা ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে, তখন তারা তা-ই করেছে এবং তাদের পাপাচারে প্ররোচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে।

  • কিয়ামতে সাক্ষী দেবে জিকিরে ব্যবহৃত আঙুল

    কিয়ামতে সাক্ষী দেবে জিকিরে ব্যবহৃত আঙুল

    ইসলামে জিকিরের তাৎপর্য ও ফজিলত অপরিসীম। মহান আল্লাহর প্রশংসা ও জিকির গণনার ক্ষেত্রে অনেকেই তাসবিহর মালা ব্যবহার করেন। তবে ইসলামি শরিয়তে মালা বা দানার চেয়ে নিজের আঙুল ব্যবহার করে তাসবিহ গণনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) ডান হাতের আঙুলে জিকির গণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

    হজরত ইয়াসিরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা আঙুলের সাহায্যে জিকির গণনা করো। কারণ কিয়ামতের দিন এই আঙুলগুলো সম্পর্কে জবাবদিহি চাওয়া হবে এবং এগুলো সেদিন আল্লাহর দরবারে কথা বলবে। (আবু দাউদ)

    কিয়ামতের কঠিন দিনে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার ভালো-মন্দ আমলের সাক্ষ্য দেবে। যে আঙুল দিয়ে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ মেনে আল্লাহর জিকির গণনা করা হবে, বিচার দিবসে সেই আঙুলই বান্দার ইবাদতের পক্ষে সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াবে।

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) উল্লেখ করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সর্বদা ডান হাতের সাহায্যে জিকির গণনা করতে দেখা গেছে। তাই বাম হাত বা অন্য কোনো মাধ্যমের চেয়ে ডান হাতের আঙুল ব্যবহার করাই সুন্নাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী ও উত্তম পদ্ধতি।

    তাসবিহর মালা দিয়ে জিকির গণনার বিষয়ে কিছু বর্ণনা থাকলেও সেগুলোর সনদ তুলনামূলক দুর্বল। ফলে মালা ব্যবহারকে সরাসরি ‘সুন্নতি পদ্ধতি’ বলা সঠিক নয়। তবে জিকিরের সংখ্যা মনে রাখার সুবিধার্থে কেউ যদি মালা বা আধুনিক কোনো কাউন্টার ব্যবহার করেন, সেটিকে শরিয়তে নিষিদ্ধ বলা হয় না। যদিও রাসুল (সা.)-এর শেখানো আঙুলে গণনা করার পদ্ধতিতেই সওয়াব ও ফজিলত বেশি।

    ইসলামে প্রতিটি ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। কেবল সংখ্যা পূরণের চেয়ে জিকিরের অর্থ বোঝা ও মনোযোগ ধরে রাখা অধিক জরুরি। লোকদেখানো আমল থেকে বেঁচে থেকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে ডান হাতের আঙুলে জিকির করাই ইবাদতের সঠিক রূপ।

  • অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ: ইসলামি শরিয়তে নসব ও মাতৃত্বের বিধান কী?

    অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ: ইসলামি শরিয়তে নসব ও মাতৃত্বের বিধান কী?

    প্রশ্ন— যদি কোনো স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম হন, তাই স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিয়ে তা কোনো অপরিচিত নারীর গর্ভে স্থাপন করা হয় এবং ওই নারী সন্তান জন্ম দেন, তাহলে সেই সন্তানের নসব কার সঙ্গে সাব্যস্ত হবে?

    ওই সন্তান কি স্বামী-স্ত্রীর সন্তান হিসেবে গণ্য হবে, নাকি যে নারী তাকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই তার মাতৃত্বের সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে?

    উত্তর— এই পদ্ধতিতে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কোনো অপরিচিত নারীর গর্ভে স্থাপন করা জায়েয নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ হারাম। তবে এভাবে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে, যে নারী সন্তানটিকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই সন্তানের মাতৃত্বের সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে। উক্ত নারী বিবাহিত হলে, «الولد للفراش»-এর ভিত্তিতে তার স্বামীর সঙ্গেই সন্তানের নসব সাব্যস্ত হবে।

    আর যদি ওই নারী অবিবাহিত হন, তাহলে সন্তানের নসব শুধু যে নারী তাকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই সাব্যস্ত হবে।পক্ষান্তরে, যে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের সঙ্গে সন্তানের নসব সাব্যস্ত হবে না।

    قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الولد للفراش وللعاهر الحجر (صحيح البخارى-1/276، رقم-2007، سنن الترمذى-1/219)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘সন্তান বিছানার (অর্থাৎ বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের) অধিকারীর, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (অর্থাৎ সে সন্তান থেকে বঞ্চিত ও তার অংশ কেবলই হতাশা বা শাস্তি)। ’

    الولد لصاحب الفراش لا ينتفى عنه أبدا…. ولا بوجه من الوجوه إلا باللعان (أوجز المسالك، كتاب الأقضية، دار القلم دمشق-14/75/ تحت رقم الحديث-1445)

    সন্তান বিছানার মালিকের (অর্থাৎ বৈধ স্বামীর); তার থেকে সন্তানের বংশপরিচয় কখনোই কোনো উপায়ে বিচ্ছিন্ন বা অস্বীকার করা যাবে না, কেবল ‘লিআন’ (ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ অভিশাপের প্রক্রিয়া) ছাড়া।

    فنسب الولد من الرجل لا يثبت إلا بالفراش، وهو أن تصير المرأة فراشا له، لقوله عليه السلام “الولد للفراش وللعاهر الحجر” (بدائع الصنائع، زكريا-5/362)

    পুরুষের পক্ষ থেকে সন্তানের বংশপরিচয় কেবল ‘ফিরাশ’ (বৈধ বিবাহ বা বৈবাহিক সম্পর্ক)-এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়।আর ‘ফিরাশ’ হলো নারী তার জন্য বৈধ স্ত্রী হিসেবে পরিগণিত হওয়া। কারণ রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছেন— ‘সন্তান বিছানার অধিকারীর, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। ’

    فعلى هذا إذا زنا رجل بامرأة فجاءت بولد فادعاه الزانى لم يثبت نسبه منه لانعدام الفراش، وأما المرأة فيثبت نسبه منها (بدائع الصنائع، زكريا-5/363)

    সুতরাং এই মূলনীতির ভিত্তিতে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় এবং এর ফলে কোনো সন্তান জন্মায়, এরপর সেই ব্যভিচারী পুরুষ সন্তানটিকে নিজের বলে দাবি করে, তবুও তার সাথে সন্তানের বংশপরিচয় সাব্যস্ত হবে না; কারণ সেখানে কোনো বৈধ ‘ফিরাশ’ বা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না। তবে মায়ের সাথে সন্তানের বংশপরিচয় ঠিকই সাব্যস্ত হবে।

  • রিজিক বাড়াতে কী করবেন, কী বলছে কোরআন-হাদিস

    রিজিক বাড়াতে কী করবেন, কী বলছে কোরআন-হাদিস

    রিজিক আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য একটি বড় নেয়ামত। মানুষের জীবনযাত্রা, প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা দুশ্চিন্তার মধ্যেও রিজিকের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    মানবজীবন সবসময় একই গতিতে চলে না। কখনো স্বস্তি আসে, আবার কখনো কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়। জীবনের কোনো পর্যায়ে মনে হতে পারে, সব পথ যেন বন্ধ হয়ে গেছে। তখন মানুষ আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের আশায় তাঁর দিকে ফিরে যায়।

    ইসলাম মানুষকে শুধু দোয়া করার শিক্ষা দেয়নি; বরং হালাল পথে পরিশ্রম করে জীবিকা অন্বেষণের পাশাপাশি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার নির্দেশ দিয়েছে। রিজিকে বরকত ও প্রশস্ততার জন্য নিয়মিত ইবাদত, দোয়া, ইস্তিগফার এবং সৎকাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    হালাল পথে রিজিক অন্বেষণ

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—

    فَاِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانۡتَشِرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ ابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰهِ وَ اذۡکُرُوا اللّٰهَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ

    অর্থ: “অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো। আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”

    —সুরা আল-জুমুআহ, আয়াত ১০

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইবাদতের পাশাপাশি বৈধ ও হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

    ইবাদতে মনোযোগ

    হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান, তুমি আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করো; আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্যে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। আর তুমি যদি তা না করো, তাহলে তোমার হাত ব্যস্ততায় পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না।

    এই বর্ণনাটি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং সুনানে তিরমিজিতে এসেছে।হাদিসটির শিক্ষা হলো—দুনিয়াবি ব্যস্ততার পাশাপাশি আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় বের করা জরুরি। জীবনের প্রয়োজন পূরণে চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করাও একজন মুমিনের দায়িত্ব।

    রিজিকে বরকতের জন্য দোয়া

    রিজিক ও জীবনে বরকতের জন্য একটি দোয়া রয়েছে—

    اللهم اغفر لي ذنبي ووسع لي في رزقي وبارك لي فيما رزقتني

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি‘ লি ফি রিযকি, ওয়া বারিক লি ফিমা রাজাকতানি।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার রিজিক প্রশস্ত করে দিন এবং আপনি আমাকে যে রিজিক দিয়েছেন, তাতে বরকত দান করুন।

    সুনানে তিরমিজিতে এ দোয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন, অভাব ও রিজিকের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।

    বেশি বেশি ইস্তিগফার

    রিজিক ও কল্যাণের জন্য ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার প্রতিও কোরআনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সুরা নুহে হজরত নুহ (আ.) তাঁর জাতিকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। এরপর বৃষ্টি, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থাৎ, গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা মুমিনের জন্য কল্যাণের পথ খুলে দিতে পারে।

    সূরা আল-ওয়াকিয়া তিলাওয়াত

    অনেক মুসলমান রিজিকে বরকতের আশায় নিয়মিত সূরা আল-ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করেন। তবে ‘প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াকিয়া পড়লে কখনো দারিদ্র্য আসবে না’—এ মর্মে যে বর্ণনাটি প্রচলিত, তার সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এটিকে নিশ্চিত বা অকাট্য হাদিস হিসেবে প্রচার না করাই সতর্কতার বিষয়।

    তবে কোরআনের প্রতিটি সূরা তিলাওয়াতই সওয়াবের আমল। তাই সূরা আল-ওয়াকিয়াসহ কোরআন নিয়মিত পড়া, অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা একজন মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।

    তাওয়াক্কুলের সঙ্গে পরিশ্রম

    শুধু দোয়া করলেই হবে না, রিজিকের জন্য হালাল পথে চেষ্টা করাও জরুরি। একজন মানুষ তার সাধ্য অনুযায়ী কাজ করবে, পরিশ্রম করবে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে।

    হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ যত বেশি হোক, তাতে প্রকৃত বরকত থাকে না। তাই রিজিকের ক্ষেত্রে পরিমাণের পাশাপাশি তার উৎস হালাল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    রিজিক শুধু অর্থ-সম্পদের নাম নয়। সুস্থতা, পরিবার, নিরাপত্তা, জ্ঞান, সময়, শান্তি—সবই আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত। তাই জীবনে অভাব বা সংকট এলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা, দোয়া করা এবং বৈধ পথে নিজের দায়িত্ব পালন করা উচিত।

    মানুষের কাজ হলো চেষ্টা করা; আর ফলাফল আল্লাহর হাতে। তাই রিজিকের জন্য দোয়ার পাশাপাশি হালাল উপায়ে পরিশ্রম, ইবাদত, ইস্তিগফার ও সৎকাজকে জীবনের অংশ করে নেওয়াই হতে পারে একজন মুমিনের সুন্দর পথ।

  • বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা

    বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা

    আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বে আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার দুপুরে তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতেই ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর যুক্তিসংগত সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজন করতে চায় সাদপন্থীরা। এ বিষয়ে অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া হবে।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সরকার সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অতীতে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সাদপন্থীদের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুবায়েরপন্থীরা প্রস্তাবিত প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা করতে চান। অন্যদিকে সাদপন্থীরা রমজানের আগে, ওই দুই পর্বের পর মধ্যবর্তী কোনো সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া নভেম্বরের শেষ দিকে, প্রস্তাবিত দুই পর্বের ইজতেমা শুরুর আগেও তারা ইজতেমা আয়োজন করতে চান।

    এর আগে সাদপন্থীদের অন্য কোনো স্থানে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছিল। তবে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অন্য কোথাও ইজতেমা করতে সম্মত হননি। সরকার দুই পক্ষকেই একসঙ্গে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

    এদিকে মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয় হিসেবে মাওলানা সাদের আগমনের বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। ভিসানীতি অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার তারিখ ও আয়োজন নিয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশাল অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসেন। বিদেশ থেকেও বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।

    ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানে মুসল্লিদের থাকা, খাবার, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

  • অসুস্থতাও আল্লাহর নেয়ামত

    অসুস্থতাও আল্লাহর নেয়ামত

    যাপিত জীবনের সকল কাজ উৎফুল্লতার সাথে সম্পন্ন করতে সুস্থতা একটি আবশ্যক বিষয়। সু্স্থ মন ও সুস্থ দেহ ব্যতিত দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যহত হয়। সুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অফুরন্ত এক নিয়ামত। এ নিয়ামতের গুরুত্ব ও মূল্য একজন অসুস্থ ব্যক্তিই ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে। মানবদেহে অসুস্থতা জেকে বসলে দুনিয়াবি কার্যাবলির পাশাপাশি দ্বীনি ইবাদতেও ব্যঘাত ঘটে। ফরয ও ওয়াজিব ইবাদতগুলো কষ্টের সাথে আদায় করলেও সুন্নাত ও নফল ইবাদতগুলো অধিকাংশ সময় ছুটে যায়।

    তবে, মুমিন-মুসলিম বান্দাদের জন্য অসুস্থতাও এক নিয়ামত। নবী (সা.) বলেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (মুসলিম : ২৫৭৩)। অর্থাৎ, অসুস্থতা মুমিন বান্দার গুনাহ মাফের অন্যতম মাধ্যম। যে অসুস্থতার কারণে তাঁর ইবাদতে কিছুটা ভাটা পড়ে যাচ্ছে, সেই অসুস্থতাই তাঁর আত্মার নিয়ামকের কাজ করছে।অধিকন্তু, অসুস্থকালীন ধৈর্য ধরার মাধ্যমে মুমিন বান্দার স্তর আল্লাহর নিকট উচ্চতর হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে কোন মুসলিমের গায়ে কাটা বিদ্ধ হয় কিংবা তার চাইতে অধিক (কোন আঘাত লাগে), তার পরিবর্তে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম : ৬৩২৭)। অসুস্থতার কঠিন সময়ে ধৈর্যধারণ ও আল্লাহর উপর ভরসা করার প্রতিদানস্বরূপ বান্দা এ পুরষ্কার লাভ করে।

    সুস্থতাকালীন মুমিনের আমল অসুস্থতায় তাঁর জন্য পুণ্য বয়ে আনে। অপারগতাবশত আমল করতে না পারলে আদায়কৃত আমলের সমপরিমাণ সওয়াব তাঁর জন্য বহাল থাকে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফরে যায়, তখন তার জন্য সেই আমলের সওয়াবই লেখা হয়, যে আমল সে স্বগৃহে অবস্থানকালে সুস্থ থাকা অবস্থায় করত।’ (বুখারি : ২৯৯৬)। এতবড় প্রতিদান শুধুমাত্র সুস্থাবস্থায় আল্লাহর ইবাদত আদায়ের কারণে।

    মানুষ মাত্রই বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। কেউ বিপদে পড়ে জীবন নিয়ে, কারো বা আফসোস হয় অপ্রতুল সম্পদ নিয়ে। পৃথিবীর বুকে কোনো মানুষই বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত নয়। অসুস্থতা তেমনই এক আপদ। তবে, মুমিন বান্দাগণ এর ব্যতিক্রম। কেননা, অসুস্থতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও ধৈর্য ধারণ করলে অগণিত সওয়াব অর্জিত হয়। তবে, এজন্য পূর্বশর্ত আল্লাহর উপর পূর্ণ ঈমান ও নিয়তের একনিষ্ঠতা। অন্যথায়, অসুস্থতা শুধু এক শারীরিক ব্যধি ব্যতিত অন্য ফলপ্রসূ হবে না। হাদিসে আছে, মানুষকে তার দ্বীনের বা ঈমানের শক্তি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। যদি কারও দ্বীন মজবুত হয়, তবে তার বিপদও কঠিন হয়। আর যদি তার দ্বীনে দুর্বলতা বা নম্রতা থাকে, তবে তাকে সেই দ্বীনের মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। (তিরমিজি : ২৩৯৮)

  • মিলাদুন্নবী যেভাবে বিশ্বসংস্কৃতি হলো

    মিলাদুন্নবী যেভাবে বিশ্বসংস্কৃতি হলো

    মিলাদুন্নবী ঘিরে আজ আমরা মুসলিম বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জায়গায় যে উৎসব দেখি, তার কোনো একক শুরু নেই; আছে বহু শুরু, বহু ভূগোল, বহু শতাব্দী জুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি দীর্ঘ যাত্রা। আর সেই যাত্রাটা বুঝতে হলে আমাদের ধীরে ধীরে হাঁটতে হবে। হাঁটতে হয় শতাব্দীর পর শতাব্দী, রাজদরবার থেকে খানকা, কবির কলম থেকে পথের মিছিল, একের পর এক ভূখণ্ড পেরিয়ে।

    নবীজির নিজের জীবদ্দশায় তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ‘আলাদা’ কোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবের প্রচলন ছিল না। কারণ, সাহাবায়ে কেরামের কাছে প্রতিটি সময়ই ছিল উৎসবের! প্রতি মুহূর্তে তাঁর দেখা পাওয়া, প্রতিটি মুহূর্তে জগতের সবচেয়ে সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া—সে কত মনোহর দৃশ্য!প্রথম প্রজন্মের মুসলিমদের কাছে নবীপ্রেম প্রকাশের মাধ্যম ছিল তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা, তাঁর প্রতিটি হাদিস মুখস্থ রাখা, তাঁর জীবনের ঘটনা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে মুখে মুখে বলে যাওয়া, রণাঙ্গনে তাঁর নাম নিয়ে অগ্রসর হওয়া, নামাজের প্রতিটি রাকাতে ভালোবেসে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা। কোনো নির্দিষ্ট দিনে সমবেত হয়ে আলাদা উৎসব করার রীতি তখনো জন্ম নেয়নি। কারণ, ভালোবাসা তখন বিচ্ছুরিত ছিল জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে; কোনো একটি দিনে ঘনীভূত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এই দীর্ঘ নীরবতা, প্রায় ৩৫০ বছরের নীরবতা, ভাঙে হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, মিসরের মাটিতে।

    দশম শতাব্দীর কায়রো তখন এক জমজমাট রাজধানী, ফাতেমীয় খিলাফতের কেন্দ্র। এই রাজবংশ তখন শাসন করছে উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফাতেমীয় দরবারে বছরজুড়ে চলত একের পর এক আনুষ্ঠানিক উদযাপন—নওরোজ, রজবের প্রথম রাত, শাবানের মাঝামাঝি রাত। আর এই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হয় নবীজির জন্মদিন।

    নবীজির জন্মদিন পালিত হতো রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, দরবারের জাঁকজমকে, মিষ্টান্ন বিতরণ ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে। এই রীতি প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কায়রোর সমাজে টিকে ছিল, এখনো আছে। আজও কায়রোর অলিগলিতে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিক্রি হয় রঙিন চিনির পুতুল, যাকে বলা হয় আরুসাতুল মাওলিদ। ছেলেদের জন্য ঘোড়সওয়ার আকৃতির আর মেয়েদের জন্য কনে সাজে সজ্জিত পুতুল—দোকানে দোকানে সাজানো থাকে বাহারি রঙের এই মিষ্টান্ন। আজও মিসরীয় পরিবারে সন্ধ্যার পর বিশেষ খাবার তৈরির আয়োজন হয়। রুজ বি লাবান নামের দুধ ও চাল দিয়ে তৈরি একটি মিষ্টি পায়েস ছোট ছোট পাত্রে করে প্রতিবেশী ও পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই লোকজ ঐতিহ্যের শিকড় হাজার বছর আগের সেই ফাতেমীয় দরবারি সংস্কৃতিতেই প্রোথিত।ফাতেমীয়দের এই উদ্যোগের পর প্রায় ২০০ বছর কেটে যায়। সুন্নি মুসলিম বিশ্বে তখনো এই ধরনের আনুষ্ঠানিক স্মরণের প্রচলন হয়নি। এই নীরবতা ভাঙে সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট রাজ্য ইরবিলে, যেখানে সিংহাসনে বসে আছেন আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দিন কুকুবুরি—একজন সুন্নি শাসক, বিদ্যানুরাগী ও কাব্যরসিক বলে ইতিহাসে পরিচিত। ৬০৪ হিজরি সাল থেকে তিনি একেবারে নতুন করে, বিপুল আড়ম্বরে এই স্মরণকে পুনরুজ্জীবিত করেন। আর এবার তা হয়ে ওঠে সুন্নি মুসলিম বিশ্বের প্রথম বড় আকারের মিলাদ উদযাপন।

    ইতিহাসবিদ ইবনে খাল্লিকান তাঁর বিখ্যাত জীবনীগ্রন্থে এই আয়োজনের বিবরণ রেখে গেছেন। অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী, কুকুবুরি প্রতিবছর এই উৎসবের পেছনে ব্যয় করতেন প্রায় ৩ লাখ মুদ্রা, যা সেই সময়ের হিসাবে একটি বিশাল অঙ্ক। দিনের বেলায় অনুষ্ঠিত এই উৎসবে শাসক নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিতেন। বিশাল তাঁবু খাটানো হতো শহরের বাইরে। সেখানে সমবেত হতেন দূরদূরান্তের আলেম, কবি, সুফি-সাধক ও সাধারণ মানুষ। কোরআন তিলাওয়াত হতো নিরবচ্ছিন্নভাবে, খুতবায় আলোচনা হতো সিরাত, নবী পরিবার তথা আহলে বাইতকে নিয়ে। পশু কোরবানি করে বিপুল ভোজের আয়োজন করা হতো, হাজারো মানুষকে একসঙ্গে বসিয়ে খাওয়ানো হতো। রাতে জ্বলে উঠত অসংখ্য মোমবাতি ও মশাল। শহরের অলিগলি আলোকিত হয়ে উঠত সেই আলোয়। আর সুফি দরবেশরা সমবেত হয়ে সামা ও জিকিরের মাহফিল বসাতেন, নাচ ও সুরের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন।

    এই উৎসবে আকৃষ্ট হয়ে সেই সময়ের একজন পণ্ডিত, স্পেন থেকে আসা আবুল খাত্তাব ইবনে দিহয়া, মিলাদ উদযাপনের সমর্থনে একটি গোটা গ্রন্থ রচনা করে বাদশাহকে উপহার দেন। নাম দেন ‘কিতাবুত তানবীর’। বাদশাহ এই গ্রন্থ পড়ে এতটাই সন্তুষ্ট হন যে লেখককে পুরস্কার দেন এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা। কুকুবুরির এই উদ্যোগের পরই মূলত সুন্নি মুসলিম বিশ্বে মিলাদ উদযাপনের রীতি একের পর এক শহরে, একের পর এক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে তা হয়ে ওঠে সুন্নি মুসলিম সংস্কৃতির একটি পরিচিত অংশ।

    কুকুবুরির ইরবিল থেকে সময় আরো দুই শতাব্দী এগিয়ে আমরা পৌঁছাই উসমানীয় সাম্রাজ্যে, চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগে, বুরসা শহরে, যেখানে বসবাস করতেন কবি সুলাইমান চেলেবি। তিনি রচনা করেন একটি দীর্ঘ কবিতা, তুর্কি ভাষায়, নাম ‘মেভলিদ ই শরিফ’। নবীজির জন্ম থেকে শুরু করে তার জীবনের বিভিন্ন পর্ব এই কবিতায় বর্ণিত হয় গভীর ভক্তি ও কাব্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে। বিশেষত নবীজির জন্মমুহূর্তের বর্ণনায় যে আবেগময় ছন্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শ্রোতাদের চোখে পানি এনে দিয়েছে।

    উসমানীয় সমাজে এই কবিতা এমনভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তা আর শুধু জন্মদিনের উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিয়ের অনুষ্ঠান, নবজাতকের নামকরণ, এমনকি মৃত্যুর পর শোকপালনের অনুষ্ঠানেও এই কবিতা আবৃত্তি করার রীতি চালু হয়ে যায়। ঘরে ঘরে সন্ধ্যাবেলায় পরিবার সমবেত হয়ে এই কবিতা শোনার একটি নিয়মিত অভ্যাস গড়ে ওঠে। মায়েরা সন্তানদের কোলে নিয়ে এই কবিতার সুরে ঘুম পাড়াতেন, বৃদ্ধরা এই কবিতা মুখস্থ বলে যেতেন।

    উসমানীয় যুগে সুলাইমান চেলেবির এই কবিতার পাশাপাশি আরো অনেক কবি নিজস্ব মেভলিদ রচনা করেছেন। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সুর ও পরিবেশনার রীতি তৈরি হয়েছে। আজও তুরস্কে রবিউল আউয়াল মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয় মেভলিদ কান্দিলি। মসজিদে মসজিদে এই ঐতিহ্যবাহী কবিতা আবৃত্তি করা হয়, মিনার থেকে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়, সন্ধ্যাবেলায় ঘরে ঘরেও একই রীতি অনুসরণ করা হয়। উসমানীয়দের হাতে মিলাদ উদযাপন তাই মূলত হয়ে ওঠে একটি সাহিত্যিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান—রাজপথের জাঁকজমকের চেয়ে অনেক বেশি ঘরোয়া, অনেক বেশি কাব্যকেন্দ্রিক, অনেক বেশি নিভৃত।

    একই সময়ের কাছাকাছি ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল দরবারে এই স্মরণ মিশে যায় আরেক ধরনের কাব্যসংস্কৃতির সঙ্গে। দরবারি কবিরা নবীপ্রশস্তিতে কবিতা রচনা করতেন সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায়। দিল্লি ও আগ্রার দরবারে নাত রচনা একটি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্যিক চর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই একই উপমহাদেশে, দাক্ষিণাত্যে, পরে গড়ে ওঠে মাওলিদ উদযাপনের এক জমকালো ধারা, বিশেষত হায়দরাবাদে, যা আজও ধর্মীয় সভা, রাতব্যাপী প্রার্থনা, বিশাল সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও বর্ণিল সাজসজ্জার জন্য বিখ্যাত। অমুসলিম-প্রধান দেশ হয়েও ভারত এই ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় আয়োজক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় সবুজ রঙের আলোকসজ্জা, মসজিদে মসজিদে সমবেত নাত পাঠ এবং রাত জেগে ধর্মীয় আলোচনার এক গভীর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

    বাংলায় এই আয়োজন রূপ নিয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মাধ্যমে—পুঁথিসাহিত্যে। ষোড়শ শতাব্দীতে সৈয়দ সুলতানের মতো কবিরা রচনা করেন ‘নবীবংশ’ কাব্য। নবীজির জীবনকাহিনি বাংলার নিজস্ব পয়ার ছন্দে বিবৃত হয়। আরবের মরুভূমির কাহিনি বাংলার নদীবিধৌত জনপদের ভাষায় ধরা দেয়। এই কাব্যে রাজকীয় জাঁকজমক নেই; আছে গ্রামবাংলার সহজ শ্রোতার কাছে পৌঁছানোর একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা। কোনো কথক গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে বসে যেভাবে পুরাণকথা বলতেন, ঠিক সেই একই ঢঙে নবীজির জীবনকাহিনি বলা হয়েছে এই পুঁথিতে। শেখ পরানের মতো কবিরাও এই ধারাকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। আর এভাবেই গড়ে উঠেছে বাংলার নিজস্ব একটি নাত ঐতিহ্য, যা আরবি-ফারসি মূল উৎস থেকে প্রেরণা নিলেও পুরোপুরি বাংলার রঙে রঙিন হয়েছে।সাগর পেরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, জাভা দ্বীপে ইসলাম প্রবেশের পর সেখানকার সুলতানি দরবারগুলো এই স্মরণকে মিশিয়ে নেয় নিজস্ব সাংস্কৃতিক রীতির সঙ্গে। জাভার দরবারে গামেলান বাদ্যযন্ত্রের সুরে, স্থানীয় মেলা ও বাজারের আবহে নবীজির জন্মদিন পালিত হতে থাকে। ইসলামি ভক্তি ও জাভানীয় দরবারি সংস্কৃতির এক অনন্য মিশ্রণ ঘটে সেখানে, যা আজও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংস্কৃতির একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হয়ে আছে।

    উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য অঞ্চলও এই উৎসব নিজস্ব রূপ পেয়েছে। তিউনিসিয়ার কাইরাওয়ান শহরে মানুষ নবীজির প্রশংসায় নাশিদ আবৃত্তি করেন সমবেতভাবে, আর ঘরে ঘরে তৈরি হয় আসিদা জগগুউ নামের একটি বিশেষ মিষ্টান্ন। গমের আটা, বাদাম ও মধু দিয়ে তৈরি এই খাবার পরিবারের সবাই মিলে ভাগ করে খান। মরক্কোয় ফেজ শহরকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে মিলাদ উদযাপনের নিজস্ব একটি ধারা আছে।

    প্রতিটি অঞ্চল তার নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও ভাষায় এই একই আনন্দকে ধরে রেখেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী—কোথাও মিষ্টান্নে, কোথাও কবিতায়, কোথাও সমবেত গানে।

    বিংশ শতাব্দীতে উপমহাদেশের আরেক প্রান্তে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুরে, সিরিকোট শরিফ নামের একটি খানকা। সেখানকার কাদেরিয়া তরিকার পীর সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে প্রবর্তন করেন এক নতুন ধরনের মিলাদ উদযাপন—রাজপথে শোভাযাত্রার আকারে, যাকে বলা হয় ‘জশনে জুলুস’। তিনি এই শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত। তাঁর ইন্তেকালের পর এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাঁরই পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ, যিনি ১৯৮৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অন্তত ৫১ বারের বেশি এই জুলুসের নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রতিবছর পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে এসে।

    চট্টগ্রামের এই শোভাযাত্রা স্থানীয়ভাবে জন্ম নেওয়া বাঙালি সুফি ঐতিহ্য না হলেও বর্তমানে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া একটি রীতি, যা ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাসে যেসব আমল করবেন

    নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাসে যেসব আমল করবেন

    সফর মাস বিদায় নিয়ে হাজির হয়েছে আরবি বর্ষপঞ্জিকার তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। এই মাসের ১২ তারিখ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিনেই তাঁর ওফাত (ইন্তেকাল) হয়। এজন্য মুসলিমদের কাছে মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    রাসুল (সা.) এর জন্মগ্রহণের কারণে যেমন রবিউল আউয়াল মাসের ফজিলত বেড়েছে, তেমনি সোমবার দিনেরও গুরুত্ব বেড়েছে। হাদিসে এসেছে, সোমবারের সওম (রোজা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নবীজি (সা.) বলেন, এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনই আমি নুবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার ওপর (কুরআন) নাজিল করা হয়েছে। তিনি রাসুল (সা.) আরও বলেন, প্রতি মাসে তিনদিন এবং গোটা রমজান মাস সওম পালন করা হলো সারা বছর সওম পালনের সমতুল্য। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৪২৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

    প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা মানবজাতির জন্য একটি বড় অনুগ্রহ ও বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘আর আমি তো আপনাকে (রাসুল সা.) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)

    এজন্য খোদ মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার পাশাপাশি পরকালে সফল হতে রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী (সা.) আপনি বলুন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ইমরান, আয়াত: ৩১)তবে নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাস রবিউল আউয়ালের আমল বা করণীয় নিয়ে পবিত্র কুরআন বা হাদিসে সরাসরি কোনো আমলের কথা আসেনি। এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মত, রবিউল আউয়াল উপলক্ষে বিশেষ কোনো আমলের কথা কুরআন ও হাদিসে নেই। তবে রাসুল (সা.) এর জন্ম এ মাসে হওয়ায় মাসটি তাৎপর্যপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কিছু আমল রয়েছে, অন্যান্য মাসের মতো যে আমলগুলো এই মাসেও করা যায়। যেমন: প্রতি সোমবারে রোজা রাখা।

    খোদ নবীজিও (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে) আমল পেশ করা হয়। সুতরাং, আমার আমলসমূহ রোজা পালনরত অবস্থায় পেশ করা হোক, এটাই আমার পছন্দনীয়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৭৪৭)

    এ ছাড়াও ফজিলতপূর্ণ মাস হওয়ায় রবিউল আউয়াল মাসের সম্মানে এ মাসে গাফিলতি না করে ফরজ ইবাদতে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নফল ইবাদত করা যেতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে অনেকে ১২ রবিউল আউয়ালে নবীজির (সা.) জন্মদিনকে উৎসব হিসেবে পালন করেন, যা মোটেও উচিত নয়।

    ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি সাহাবায়ে কেরামরাও কখনো ১২ রবিউল আউয়ালকে খুশি কিংবা শোক দিবস হিসেবে পালন করেননি। সুতরাং, এই দিবসকে কেন্দ্র করে কোনোরূপ উদ্‌যাপন শরিয়তসম্মত নয়।

    মনে রাখতে হবে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ আমাদের শরিয়তে সংগত নয়- এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে, তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫১৭)

  • একনজরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

    একনজরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

    উসমান (রা.) ছিলেন অতুলনীয় লজ্জাশীল, অত্যন্ত দানশীল এবং কোরআনের খেদমতে অনন্য অবদান রাখা একজন মহান সাহাবি। সংক্ষেপে তাঁকে জেনে নিন।

    * পূর্ণ নাম : উসমান ইবন আফফান ইবন আবিল আস আল-কুরাইশী আল-উমাবী* কুনিয়াত : আবু আবদুল্লাহ

    * উপাধি : যুন-নূরাইন (দুই নূরের অধিকারী)

    * গোত্র : বনু উমাইয়্যা (কুরাইশ)

    * জন্ম : আনুমানিক ৫৭৬-৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দ, মক্কা

    * শাহাদাত : ৩৫ হিজরি (৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ), মদিনা (কোরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় বিদ্রোহীদের হাতে শাহাদত লাভ করেন)

    বিশেষ মর্যাদা

    ১. নবীদের পরে এই উম্মতের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।

    ২. প্রথম দিকের ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম।

    ৩. নবী (সা.)-এর দুই কন্যাকে ধারাবাহিকভাবে বিয়ে করেন; এজন্য ‘যুন-নূরাইন’ উপাধিতে ভূষিত হন।

    ৪. জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির একজন।

    ৫. মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।

    ৬. কোরআনের মুসহাফ একীভূত করে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেন।

    ৭. তাঁর শাসনামলে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়।

    ৮. তাবুক অভিযানে বিপুল দান করেন এবং রুমা কূপ মুসলিমদের জন্য ওয়াক্ফ করেন।

    উসমান (রা.) সম্পর্কে নবী (সা.)

    নবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি সে লোককে (উসমানকে) লজ্জা করব না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা পান।’ (মুসলিম : ২৪০১)

    [প্রধান সূত্র : সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইবন কাসির), হাদিস বিডিÑ উসমান (রা.)-এর ফজিলত অধ্যায়]

    আমল

  • কোরআনের বিধান কায়েমে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে

    কোরআনের বিধান কায়েমে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে

    জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পবিত্র কোরআন হচ্ছে আমাদের এক জীবন্ত মু‘জিজা। আমরা যদি এই কোরআনকে নিজেদের বুকে ধারণ ও তার বিধানে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারি তবেই আমরা স্বার্থক। ‍কোরআনের বিধান কায়েমের জন্য ওলামা-মাশায়েখদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

    ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ইসলামী বিপ্লব অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এদেশের আলেম সমাজ। ওলামা-মাশায়েখ শুধু মসজিদের মিনারে নয় আগামীতে সংসদেও নেতৃত্ব দেবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।তিনি শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে সীরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের মতিঝিল জোন আয়োজিত ওলামা-মাশায়েখ ও আইম্মায়ে মাসাজিদদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, কোরআনের বিধানকে জারি করতে প্রয়োজনীয় ত্যাগের জন্য আমরা যদি প্রস্তুত থাকতে পারি, তাহলে সামানে কেন কোনো বাধাবিপত্তি কাজে লাগবে না। সব বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরো বলেন, সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্দেশ্য হতে হবে মহানবী (সা.) আদর্শ ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করা। মহানবী (সা.) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় নিঃস্বার্থ ভূমিকা রাখতে তিনি আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মহানবী (সা.) আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে। বিদ্যমান প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য সীরাতুন্নবী (সা.) আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মানুষের তৈরি মতবাদে হাজার বার বিপ্লব হলেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সিস্টেমের পরিবর্তন করতে হবে।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের ওলামা বিভাগের মতিঝিল জোন সভাপতি মাওলানা আ ন ম হেলাল উদ্দিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মুফতি মহিউদ্দিন, পল্টন জোন ওলামা বিভাগের সভাপতি ড. মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ওলামা-মাখায়েখ উপস্থিত ছিলেন।