অর্থ ও বাণিজ্য

  • বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ীরা

    বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ীরা

    বাংলাদেশে বস্ত্র, ওষুধ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এগ্রি-বিজনেস, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং ভোগ্যপণ্য খাতে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ : এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারে বাংলাদেশে বাজার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো।

    বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরে অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো বলেন, দেশটি (বাংলাদেশ) টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫ সালে যার বাণিজ্যের আকার ছিল প্রায় ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো।

    সেমিনারে বাংলাদেশে সবুজ বিনিয়োগের (গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট) সম্ভাবনার কথা তুলে তিনি আরো বলেন, ২০১৮ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার, অবকাঠামো এবং বর্জ্যব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ’গ্রিন ইনভেস্টমেন্টে’র সুযোগ রয়েছে। এ সময়, রফতানি বহুমুখীকরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা হিসেবেও উল্লেখ করেন মাদ্রিদ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট।

    ইউরোপের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে জমি প্রদানের মতো বড় সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে থেকে সরকার নির্দিষ্ট মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারবে।’

    সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন স্পেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: মাসুদুর রহমান। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নুরিয়া লোপেজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরামর্শক পাবলো আরাউজো, মলিন্সের এশিয়া ও আফ্রিকার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক এলবা এবং রিকভারের সাস্টেইনেবিলিটি বিভাগের গ্লোবাল ডিরেক্টর আনা রোডেস।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো: আলমগীরসহ স্পেনে সফররত এফবিসিসিআইর ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা, মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরা ও ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

    উল্লেখ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্প-সংযোগ স্থাপন এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ১১ দিনের সফরে ইউরোপ গেছে এফবিসিসিআইর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। ২৬ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো: ফজলুল হক।

  • বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

    বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

    বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য ব্লক রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক একটি বিশেষ (অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং) গ্রুপ গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।

    গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসিইপি যৌথ কমিটির (আরজেসি) দেয়া এ সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানান। বাংলাদেশের পাশাপাশি এ তালিকায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ও হংকং (চীন)।

    বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আরসিইপি চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।

    বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের নিয়ে গঠিত এই মেগা বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের যোগদান দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সাথে নিবিড় সংযোগ এবং দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

    বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানানো হয়।

    এ সময় সদস্যপদ চেয়ে আবেদন করা দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূরীকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি ও নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি এ যৌথ বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করেন।

  • বাণিজ্য সহজীকরণে ডব্লিউটিওর শর্ত বাস্তবায়নের তাগিদ

    বাণিজ্য সহজীকরণে ডব্লিউটিওর শর্ত বাস্তবায়নের তাগিদ

    বাণিজ্য সহজীকরণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পণ্য চালান খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সরকার দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভার কার্যপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত মোট ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-‘এ’-এর ২১টি এবং ক্যাটাগরি-‘বি’-এর ১৮টি বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে ডব্লিউটিওকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যাটাগরি-‘সি’-এর ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে ৮টি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকি ৭টি পদক্ষেপ আগামী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দেশের সক্ষমতা অটুট রাখতে অবশিষ্ট কার্যক্রমগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর সভায় তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে বাণিজ্য সুরক্ষার সমীকরণ আরো বদলে যাবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক-সুবিধা সংকুচিত হওয়ার এই ক্রান্তিকালে দেশি শিল্প খাতকে বিদেশি পণ্যের অন্যায্য প্রতিযোগিতা ও তীব্র প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করতে এখন থেকেই নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি। এ লক্ষ্যে এলডিসি উত্তরণে নতুন রোডম্যাপ তৈরি করেছে সরকার। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনমুখী, উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্প অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট রূপকল্প সামনে রেখে একটি রোডম্যাপ করা হয়েছে। সেখানে ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ যে মূল লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চায়, তার মধ্যে রয়েছে—সামষ্টিক অর্থনীতি এবং বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা, তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যব্যবস্থার গভীর ও টেকসই ইন্টিগ্রেশন নিশ্চিত করা।

    পাশাপাশি শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে টিকিয়ে রাখতে এফটিএ, সিইপিএ বা পিটিএ চুক্তি চূড়ান্ত করা, ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের দৃশ্যমান উন্নতি সাধন, দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মী বাহিনী তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।

    সভায় জানানো হয়েছে, বাণিজ্য-সংক্রান্ত সব সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সেবা একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ বাস্তবায়ন করেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখন পর্যন্ত ১৯টি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে এবং আরো ১৮টি নতুন দপ্তরকে এর আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া, এই পুরো কার্যক্রমটি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য একটি পৃথক ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট’ গঠনের কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

    এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএসের কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এ ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য খালাস দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে। অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতেও এনবিআর উদ্যোগ নিয়েছে।

    জানা গেছে, পচনশীল পণ্য বা পেরিশেবল গুডস দ্রুত খালাস ও সংরক্ষণের জন্য বন্দরগুলোতে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় কোল্ড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি স্থাপন এবং তা আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরামর্শক সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে এবং পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বেনাপোল স্থলবন্দরে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে যার দরপত্র মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সীমান্ত এজেন্সিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বর্ডার এজেন্সি কোঅপারেশন-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে তা ডব্লিউটিওকে অবহিত করা হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।

  • চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে মতামত নেওয়া হবে অংশীজনদের

    চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে মতামত নেওয়া হবে অংশীজনদের

    চামড়া ও পাদুকা শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়াতে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্য সচিব বলেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। ট্যানারির মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা এতে প্রতিফলিত করা হবে।

    দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের কাঁচামাল দেশেই রয়েছে এবং এ খাতে দেশের প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতাও বেড়েছে। দেশের মানুষকে দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    রপ্তানি বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে সরকারের সহযোগিতার কথা জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের একটি কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    চামড়া শিল্পে গবেষণা জোরদারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মো: আতাউর রহমান খান। তিনি বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক এবং উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

    অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই চামড়া শিল্পের অবস্থান। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এ শিল্পের। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও বিশেষ উদ্যোগ। বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে। চামড়ার তৈরি বিভিন্ন শৌখিন পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। দেশের অনেক হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করে বিশ্ববাজারে পাঠাচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম।

    দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর বেশিরভাগ রপ্তানি করা হয়; অবশিষ্ট অংশ দেশের চামড়াজাত পণ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের চামড়া প্রধানত ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ানে রপ্তানি হয়। দেশের বাজারেও পাদুকার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাদুকা তৈরির ক্রয়াদেশ পাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। ফলে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীটি ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ। এছাড়াও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক ও প্রযুক্তিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ল

    কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ল

    কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে পরবর্তী দুই বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এতে বলা হয়েছে, কাঁচা পাট রপ্তানি খাতে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে নেওয়া পূর্ববর্তী পদক্ষেপগুলোর শর্ত পূরণে রপ্তানিকারকদের যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কাঁচা পাট রপ্তানিজনিত জটিলতার কারণে এ খাতের গ্রাহকেরা এখনো পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণের জন্য এককালীন টাকা জমা দিয়ে ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বরাবর আবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণের জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলো। সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে হবে।

    এর আগেও কয়েক দফায় কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

  • ঢাকায় পাঁচ দিনব্যাপী পাকিস্তান মেলা শুরু

    ঢাকায় পাঁচ দিনব্যাপী পাকিস্তান মেলা শুরু

    ঢাকায় শুরু হয়েছে পাকিস্তানি পণ্য ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরার পাঁচ দিনব্যাপী প্রদর্শনী। পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রি (পিএইআই) আয়োজিত চতুর্থ ‘মেড ইন পাকিস্তান এক্সিবিশন অ্যান্ড বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) উদ্বোধন করা হয়।

    উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাকিস্তানের এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হুসাইন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, পিএইআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খুরশিদ বারলাস, চেয়ারম্যান ফাহাদ বারলাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, খাদ্যপণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রান্নাঘরের সামগ্রী ও ক্রোকারিজ, ভোগ্যপণ্য, জুতা, গৃহস্থালি পণ্য, রত্ন ও জুয়েলারি, ফ্যাশন ও ফেব্রিক, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, হস্তশিল্প এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা সেবা।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে ৫ হাজারের বেশি দর্শনার্থী ও প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তারা পাকিস্তানি পণ্য এবং দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রদর্শনী সফলভাবে আয়োজন ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

    প্রদর্শনীতে পাকিস্তানি বিভিন্ন কোম্পানি, ব্র্যান্ড ও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ অনুসন্ধান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে ফাহাদ বারলাস বলেন, এ প্রদর্শনী বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরো জোরদারে ভূমিকা রাখবে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আরো বেশি অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এ আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    পিএইআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খুরশিদ বারলাস বলেন, প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশি ভোক্তা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পাকিস্তানি পণ্য তুলে ধরা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই রপ্তানির ক্ষেত্রে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। তাই দুই দেশের রপ্তানি খাতকে আরো শক্তিশালী করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    নারী উদ্যোক্তাদের জন্যও দুই দেশের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন খুরশিদ বারলাস। তিনি বলেন, পাকিস্তানের নারী উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বিকাশমান টেক্সটাইল শিল্প থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ নিতে পারেন। একইভাবে বাংলাদেশের নারী ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানের বিকাশমান খুচরা বাজারে নতুন ক্রেতা খুঁজে নিতে পারেন।

  • এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ নিয়োগ

    এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ নিয়োগ

    গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে দেশের বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই ৮,৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেশিরভাগই সাইফুল আলমের (এস আলম) জন্মস্থান চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী বর্তমানে পলাতক এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময়ে ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রি (সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ) এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরাসরি নিয়োগ পাওয়া

    কর্মীদের মধ্যে ৬,৩৭৫ জনকে প্রথমে এন্ট্রি পদে রাখা হয়। বাকি ৩,৯৯১

    জনকে সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগের বিধান অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

    তবে ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানায় পরিবর্তনের পর ওই বিধানের তোয়াক্কা না করে ৮,৫৪২ জনকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করেই নিয়োগ দেওয়া হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে ওই সময় ব্যাংকটি তাদের মানবসম্পদ নীতিমালা সংশোধন করেছিল। নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার পদমর্যাদার অবিলম্বে নিচের দুই স্তর বাদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করা যাবে’ বলে যুক্ত করা হয়।

    তবে এই বিধানের ৭.০১ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ৭.০১ ধারায় বলা হয়েছে, সাধারণত বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সাধারণত নিয়োগ বিধিমালায় এ ধরনের ধারা রাখা হয়, যাতে জরুরি মুহূর্তে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে লেটারাল এন্ট্রির এক-দুটি পদ বা কারিগরি পদে নিয়োগ দেওয়া যায়। কিন্তু ওই ধারা নতুন করে সংযোজন করে ব্যাংকের প্রবেশনারি এন্ট্রি পদে ছয় হাজারের বেশি কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়, যা খুবই অস্বাভাবিক।

    নতুন যুক্ত করা ওই ধারায় ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দেওয়ার কথা বলা হলেও’ ব্যাংকটির ওই সময়কার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের কখনো বড় ধরনের জনবল সংকট ছিল না। বরং ওই সময় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই যে পরিমাণ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

    নিয়োগের অর্ধেকই পটিয়ার

    এস আলমের নিয়ন্ত্রণের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ছিল ৮,০৯৯ জন। এর মধ্যে ৫,১৪৮ জনই এস আলমের জন্মস্থান পটিয়ার। মূলত নিয়োগের বিজ্ঞাপন না থাকার কারণেই চট্টগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই জেলা থেকে উচ্চহারে নিয়োগের কারণে একটি কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মেধাবী ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

    এস আলমের বাসায় সিভি সংগ্রহ

    বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়ার জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়। জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহের জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি ও চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ অফিসে বিভিন্ন ধরনের বক্স রাখা হতো। ওই সব বক্সে ‘পটিয়া জেনারেল’, ‘পটিয়া ক্যাশ’, ‘পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’, ‘পুরুষ ক্যাশ-গন্ডামারা-বাঁশখালী’, ‘মহিলা-ক্যাশ’, ‘নারী’, ‘ডিপ্লোমা’ ইত্যাদি লেখা থাকত। পরে পছন্দের প্রার্থীদের ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো। পরে প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হতো বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে।

    প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগে নিয়ম লঙ্ঘন

    ইসলামী ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার ২৪তম ব্যাচের নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের ২৬টি প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের মধ্যে শুধু ২৪তম ব্যাচেই কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ২০১৯ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে ৮৪০ প্রার্থীর তালিকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে এসব প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে। ওই পরীক্ষায় ৭৬৩ জন অংশ নেন। ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু এই নম্বর পান মাত্র ৩৬ জন। পরে পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এতে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩০৪ জন। এর বাইরে লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই ১২ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    পরে তালিকার প্রথম ১৭৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ মোট ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১২৬ জনকে পাঠানো হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এসব প্রার্থীর সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন চাকরিতে যোগ দেন।

    এছাড়া নিয়ম ভেঙে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২,২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসারকে (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। একই ঘটনা ঘটেছে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) ও ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও। এসব পদে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যথাক্রমে ২,৮২৮ জন ও ৫০১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এছাড়া লেটারাল এন্ট্রি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, ২০১৭-২৪ সাল পর্যন্ত ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের লক্ষ্য করা হয়েছে। এ সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৬৪ জনকে চট্টগ্রাম জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় ২০১৭-২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাকায় কর্মরত ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। তাদের সবাই সিভি জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু ভাইভা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানান। দুই প্রার্থী কোনো ভাইভাও দেননি বলে জানানো হয়। তাদের কেউ কেউ সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশে (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি) এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ অফিসের বক্সে সিভি জমা দেন। সেখানে ভাইভা দেন এবং যোগদানপত্রও সংগ্রহ করেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

    ডিএমডি হিসেবে পদোন্নতিতেও অনিয়ম

    ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে যোগদানের আগে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিন মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত থাকলেও মাত্র এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি ডিএমডি হন।

    এছাড়া আরেক ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন ২০ বছরের বিপরীতে মাত্র ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি হন। একই সঙ্গে ডিএমডি হওয়ার আগে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত থাকলেও তার ছিল মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতা।

    যা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর নীতিগত পরিবর্তনগুলো শুধু একটি গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক বাড়তি সুবিধা দিতে সংযোজন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের নিয়োগের জন্য লিখিত ও ভাইভা নেওয়া এবং যোগ্যতার নম্বর হিসেবে ৫০ শতাংশ পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

    জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি জড়িত নয়। এটি ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। তবে ব্যাংক খাতের অভিভাবক হিসেবে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা রাখে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    ৪৬৮৫ জনকে চাকরিচ্যুত

    ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তের জন্য বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনায় চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। নিরীক্ষায় এস আলমের সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের চিত্র উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

    তবে এই পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

    এরপর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার আয়োজন করে।

    ব্যাংকের তথ্যমতে, মোট ৫,৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে বহাল আছেন।

    অন্যদিকে ৪,৯৭২ জন ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। এদের মধ্যে কিছু কর্মী পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন। পাশাপাশি তারা কর্মবিরতি পালন, সড়কে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ আনা হয়।

    ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিমালাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে। বোর্ডের পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ৪,৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘তাদের নিয়োগের বৈধতা-অবৈধতার বিষয় বিবেচনা করে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। সে সময় যে প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সার্ভিস রুল অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে তাদের পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাপার এবং প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

  • মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরির ঝুঁকি: বাংলাদেশ ব্যাংক

    মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরির ঝুঁকি: বাংলাদেশ ব্যাংক

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কারণে দেশে মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি)। এ কারণে এখনই নীতি সুদহার পরিবর্তন না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এমপিসির ১৪তম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

    বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক ও বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি

    পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।

    কমিটি মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো অস্থির। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিটি।

    এ পরিস্থিতিতে বর্তমান নীতি সুদহারে এখনই কোনো পরিবর্তন না এনে অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিঘাতের প্রভাব পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমপিসি। বিশেষ করে এসব অভিঘাত দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক (সিপিআই) মূল্যস্ফীতির ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা পর্যালোচনা করা হবে।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফিরদৌসী নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ইমাম আবু সায়েদ। এছাড়া এমপিসির সদস্যসচিব ও মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

    চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

    যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে সরকারি গম সংগ্রহ অভিযানে এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। খোলাবাজারের তুলনায় সরকারি দর কম এবং জটিল নিয়মকানুনের কারণে কৃষকেরা সরকারি গুদামে গম বিক্রিতে আগ্রহ দেখাননি। গত ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে চলতি মৌসুমের সরকারি গম সংগ্রহ অভিযান।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে থেকে ৫২ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠপর্যায়ে ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়।

    এবার প্রতি কেজি গমের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি।

    চৌগাছায় এবার প্রায় আড়াই হাজার কৃষক ২৮৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেছেন। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন। এত উৎপাদনের পরও সরকারি গুদামে কোনো কৃষক গম বিক্রি করেননি।

    কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি মণ গম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দরের তুলনায় খোলাবাজারে মণপ্রতি অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষকেরা গুদামে গম দিতে আগ্রহী নন।

    এ ছাড়া সরকারি গুদামে গম বিক্রির ক্ষেত্রে আর্দ্রতার মাত্রা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ রাখার শর্ত রয়েছে।

    অন্যদিকে, খোলাবাজারে ১৮ শতাংশ আর্দ্রতার গমও ব্যবসায়ীরা কিনছেন।

    চাষিদের অভিযোগ, গুদামে গম নিতে গেলে পরিবহন, কুলি ও পরিমাপ বাবদ মণপ্রতি আরও ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচ হয়। এসব কারণে লোকসান ও ঝামেলা এড়াতে তারা খোলাবাজারেই গম বিক্রি করছেন।

    রামকৃষ্ণপুর গ্রামের গমচাষি লাবলু রহমান বলেন, খোলাবাজারে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভালো দামে নগদ টাকা পাওয়া যায়। সরকারি গুদামে বাজারের তুলনায় মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দাম দেওয়া হলে কৃষকেরা সেখানে গম বিক্রি করতেন।

    খাদ্য পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা খোলাবাজারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ টাকা কম। এ কারণে কৃষকেরা গুদামে গম দেননি।

    উপজেলা গম, ধান ও চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, বাজারের প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বাস্তবসম্মত দর নির্ধারণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

  • গভর্নরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

    গভর্নরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

    বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্প্রসারণ, আন্তসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

    ভারতের হাইকমিশনার বিদেশি বিনিয়োগ আরও সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বিনিয়োগবান্ধব একাধিক নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ ও মুনাফা সহজে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবেন। তিনি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শিল্প খাতে অধিক ভারতীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    বৈঠকে ছিলেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, সরোয়ার হোসেন, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে, দ্বিতীয় সচিব (অর্থনীতি ও বাণিজ্য) গৌরব কুমার আগারওয়াল উপস্থিত ছিলেন।