অর্থ ও বাণিজ্য

  • একনেকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    আর্থিক খাত সংস্কারসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৭১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৫ হাজার ২১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া’, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এবং ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উন্নয়ন, মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর-ধনিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষা প্রকল্প রয়েছে।

    আরও রয়েছে রংপুর বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ, মাদারীপুর-শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, এসআরবির কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প।

    এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধনও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • টানা তৃতীয় দফা কমল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম

    টানা তৃতীয় দফা কমল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দফা স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানায় বাজুস।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

    ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন বেড়ে ৭৪৬ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন বেড়ে ৭৪৬ কোটি টাকা

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ছয় দশমিক ৭৫ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৫২৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে নেমেছে।

    একইসাথে ডিএস৩০ সূচক এক দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৯৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস সূচক তিন দশমিক ১২ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১০০ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    ডিএসইতে আজ এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৯টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মোট ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৯টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টির দর বেড়েছে, ২২৪টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৯ টাকা। বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা।

    ক্যাটাগরিভিত্তিক লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০২টি কোম্পানির মধ্যে ৭৯টির দর বেড়েছে, ১০৯টির কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৪টি কোম্পানির মধ্যে ২০টির দর বেড়েছে, ৫০টির কমেছে এবং চারটির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১১৮টি কোম্পানির মধ্যে ২৬টির দর বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ২৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৩৩টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে তিনটির দর বেড়েছে, ২৮টির কমেছে এবং দু’টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ডিএসইতে আজ চারটি করপোরেট বন্ডের মধ্যে দু’টির দর বেড়েছে ও দু’টির কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজের সাতটির দরই কমেছে।

  • ব্যবসায়ীদের ফের প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে

    ব্যবসায়ীদের ফের প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে

    ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের যে সুবিধা দেয়া হয়েছিল, তা বাতিল করেছে সরকার। ফলে আগের নিয়মানুযায়ী ব্যবসায়ীদের আবারো প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে।

    গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ-সংক্রান্ত খসড়া সংশোধনীর অনুমোদন দেয়া হয়।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের লক্ষ্যে খসড়াটি উপস্থাপন করা হয়।

    খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেয়ার পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

    তবে দাখিলপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে তা জমা দেয়া যাবে।

    এ ছাড়া সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেয়ার সুযোগ পাবে।

  • বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর

    বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর

    স্বল্পোন্নত (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে রপ্তানি বাজার ধরে রাখা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে বর্তমান রপ্তানি বাজারগুলো সম্প্রসারণে বিভিন্ন চুক্তি, পণ্য প্রদর্শনীসহ দ্বিপক্ষীয়-বহুপক্ষীয় সভা-সেমিনারেও অংশ নিচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতারা। দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয়ে জানা গেছে।

    এই সময়ের মধ্যে বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে হংকংয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো, বাটেক্সপো ২০২৬, জাপান ডেস্ক চালু, মালয়েশিয়ায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের (ডিসিসিআই) ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানো। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিসহ (সেপা) বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন করে সাজানো হয়েছে সরকারি উদ্যোগও। এসব উদ্যোগের পেছনে এলডিসি উত্তরণও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৪৮.৩০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ০.১৭ শতাংশ বেশি। সে হিসাবে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এখনো খুব সীমিত। একই সময়ে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে সেই নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে চান সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের ৩৭টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। তবে ভ্যালু অ্যাডিশন ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে দেশ। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে সক্রিয় উদ্যোগগুলো আসছে পোশাক খাত থেকে।

    এর মধ্যে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডকে আকৃষ্ট করতে আগামী ২৮ অক্টোবর বিজিএমইএ হংকংয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো আয়োজন করছে। পাশাপাশি এক যুগ পরে আবারও আগামী ১৮-১৯ নভেম্বর ঢাকায় বাটেক্সপো ২০২৬ আয়োজন করছে সংগঠনটি। এতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের এক ছাতার নিচে আনতে চায় বিজিএমইএ।

    জাপানের বাজারেও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের পোশাকশিল্প। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ জাপান ডেস্ক চালু করেছে। এর লক্ষ্য জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর যোগাযোগ, বাজার গবেষণা, ক্রেতা শনাক্তকরণ ও ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা।

    এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সেপা) বিষয়ে আগস্টে দুই দেশ নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই চুক্তি বাংলাদেশকে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    মালয়েশিয়ার বাজারেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সরাসরি তৎপরতা বাড়ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ৩৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর করেছে। দলটি সেখানে বিটুবি বৈঠক এবং মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করেছে বলে জানা গেছে।

    সরকারও এই বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাণিজ্য চুক্তির পরিধি বাড়াচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি দেশ ও বাণিজ্য জোটের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য চুক্তি বা বাজার-সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বা আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগও চলছে।

    বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর পেছানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি ২০২৯ সালের নভেম্বরে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আছে। বাংলাদেশের এসব উদ্যোগের পেছনে এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর ও একটি পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। কারণ, এলডিসিভুক্ত হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে বিশেষ শুল্ক সুবিধা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থারও কিছু বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে। এলডিসি উত্তরণের পর এসব সুবিধা কমে যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক বাজারে রুলস অব অরিজিন, শ্রম ও পরিবেশগত মান এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্ব বাড়বে।

    জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদ্দৌজা চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, বিজিএমইএর সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো মূলত বাজার সম্প্রসারণেরই অংশ। প্রথমত, জাপানের সঙ্গে আমাদের ইপিএ সম্পাদিত হয়েছে, যা এখন সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তি সম্পাদিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের বায়ারদের আস্থা অর্জিত হয় এবং তারা ব্যবসা বাড়াতে উৎসাহিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যেই জাপান থেকে তিন-চারটি বড় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে, যারা আমাদের দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়।

    শিহাব উদ্দৌজা চৌধুরী আরো বলেন, বিজিএমইএর সাম্প্রতিক উদ্যোগের একটি মূল উদ্দেশ্য হলো—আমাদের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বাজার সম্প্রসারণ। ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের একটি শক্তিশালী বিকল্প বা তৃতীয় বাজার গড়ে তুলতে হবে।

    তবে উদ্যোগগুলোকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতির পরিবর্তে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ বলে মন্তব্য করে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, এক অর্থে সে রকম নয়। তবে আবার কিছুটা এলডিসির প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পৃক্তও বটে। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে আমাদের উত্তরণ করতেই হবে। এই বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং এ জন্য তিন বছরের একটি কৌশলগত সময় নেওয়া হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একাধিক কমিটি গঠন করেছে এবং এসব কমিটির একাধিক বৈঠকও হয়েছে।

  • ১৮ দেশের বাজার ঘিরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার

    ১৮ দেশের বাজার ঘিরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার

    দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানিতে তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমাতে পণ্য ও বাজার উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনতে সমন্বিত কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশ্লেষণ করে পৃথক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘Bangladesh Export Diversification Strategy: Product and Market Diversification Across 18 Key Trading Destinations’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বাণিজ্য সচিব বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণ—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

    এ উদ্দেশ্যে নির্বাচিত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশভিত্তিক প্রোফাইল এবং বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল প্রস্তুত করা হচ্ছে। ”

    তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য সমন্বয় করে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। ”

    মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাজার বিশ্লেষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় এবং বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ—এসব বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, “১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। ”

    কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, সেবা রপ্তানিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি এবং সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

    তিনি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ”

    একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

    কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস এসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা রপ্তানি সম্প্রসারণে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।

    অংশগ্রহণকারীরা তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রণীত এ কৌশল বাংলাদেশের রপ্তানির ভিত্তি বিস্তৃত করা, নতুন পণ্য ও বাজার সৃষ্টি, বিদ্যমান বাজারে অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুমুখী ও টেকসই রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ডিম ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    ডিম ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মুনাফা ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের চাপে ফেলা যাবে না বলে সতর্ক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উৎপাদক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করে ভোক্তাদের সহনীয় দামে ডিম সরবরাহে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে ডিম ও পোলট্রি খাতের ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিম সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য।

    দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করবেন—এটি স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক মুনাফা, কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহে বাধা দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ নেই।

    সারা বছর ডিমের দাম স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের ব্যবধান পর্যালোচনা করতে হবে।

    সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, ভুট্টা, সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় বর্তমানে প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকায় পৌঁছেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ টাকা ৯১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, বছরের বড় একটি সময় উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করতে হলেও দাম বাড়ার সময়টিই বেশি আলোচনায় আসে। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হয়।

    দামের মৌসুমি ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় ডিম এক থেকে দেড় মাস সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে টার্নওভার কর ও আয়করের চাপ যৌক্তিক করা, পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং প্রতিদিনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরের তথ্য প্রকাশের সুপারিশ করেন তারা।

    আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

    ব্যবসায়ীদের এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাতটির যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কাজ করবে। তবে কোনও পক্ষ যাতে সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো উৎপাদক যেন ন্যায্য মূল্য পান, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করতে পারেন এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে ডিম কিনতে পারেন।

    বাজারে কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে অস্বাভাবিক বাধা কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

    সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ড. আহমেদ উল্লাহ, কাজী ফার্মস লিমিটেডের পরিচালক কাজী জিসান হাসান, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মশিউর রহমান, অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ইসি মেম্বার আফতাব আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, বিপিআইসিসি ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মো. নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাফির রহমান উপস্থিত ছিলেন।

  • বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আইসিএসবি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আইসিএসবি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

    আজ সোমবার আইসিএসবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মন্ত্রীর সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করা হয়।

    মন্ত্রী প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং আইসিএসবি’র কার্যক্রমে তার সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন।

    গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে আইসিএসবি প্রেসিডেন্ট প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার উন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইসিএসবি’র বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

    সাক্ষাৎকালে আইসিএসবি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: রফিকুল ইসলাম, কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, কাউন্সিল সদস্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং সেক্রেটারি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাব্বিরুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিনিধিদলকে মূল্যবান সময় দেয়ায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইসিএসবি’র নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তার অব্যাহত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম জানানোর কথা জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নতুন মূল্যতালিকায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। গতকাল এই দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। অর্থাৎ, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা।

    এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৯১ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৩২ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকা।

  • বিদেশযাত্রায় বিমানের টিকিট কাটার সুবিধা বাড়ল

    বিদেশযাত্রায় বিমানের টিকিট কাটার সুবিধা বাড়ল

    বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে কেনার সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশ ভ্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে টিকিট কিনতে পারবেন। আগে টিকিট বিক্রির অর্থ দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকলেই এ সুবিধা পাওয়া যেত। এখন ভিসা থাকলেই এ সুবিধা মিলবে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো তাদের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তি করলেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে পরিচালিত ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন শনাক্ত করবে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, এ সুবিধার আওতায় কেনা টিকিটের মূল্য ভ্রমণ কোটার সীমার বাইরে থাকবে। যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন যাচাইয়ের পর গ্রাহকের আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট কেনায় ব্যয় করা অর্থ পুনরায় জমা বা রিফিল করতে পারবে ব্যাংক। তবে এটি গ্রাহকের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের আওতাধীন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। এ ধরনের লেনদেন নির্ধারিত রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এর ফলে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশে স্থানীয় অ্যাকোয়ারিং ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা ব্যবস্থা করার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে অনলাইনে টিকিট বিক্রিও সহজ হবে।