অর্থ ও বাণিজ্য

  • সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

    সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

    চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীনের ইউনিপ্যাক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর বাইরেও দরপত্র ছাড়া একই সময়ের জন্য আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল এবং জেট ফুয়েল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের নীতিগত অনুমোদন লাগে।

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় এর আগে দরপত্র ছাড়া ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এ কমিটির সভায়।

    অগাস্টেও একইভাবে দরপত্র ছাড়া দুই দফায় ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ১৯ অগাস্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪টি কার্গো এলএনজি কেনার। ৮ কার্গো এলএনজি এবং দেশের ‘আপৎকালীন’ এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের ‘স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।

    বুধবারের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে কেনার যে শর্ত ছিল তা বৈঠকে শিথিল করা হয়েছে।

    সে অনুযায়ী দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি (চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি) থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় এসব পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।
    তাতে খরচ হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা মান্দেব প্রণালিতেও হুমকি তৈরি করায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

    জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে অন্য উৎস থেকে বাড়তি দামে তেল-গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। কখনও আবার দরপত্র ছাড়াই কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

  • ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা

    রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সচেতন গ্রাহক ফোরাম ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে যায়।

    পরে তারা আবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ফিরে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের সড়কে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত নারী-পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাতা মাথায় দিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। চাকরি পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

    কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়েছে। এর আগে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চাকরিচ্যুতরা।

    সচেতন গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।

    চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের এক দফা দাবি তারা চাকরি পুনর্বহালের চাই।

    ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবি, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এস আলম গ্রুপ কোনো পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে অনেকে মূল সনদ ছাড়াই চাকরি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বেশির ভাগ কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেননি। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা চাকরি হারান।

  • মূল্যস্ফীতি কমছে, বেড়েছে বাজার খরচ

    মূল্যস্ফীতি কমছে, বেড়েছে বাজার খরচ

    সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমছে, মানে মূল্যবৃৃদ্ধির হার কমছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বাজারের খরচ কমছে না; বরং নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এর প্রধান কারণ- মূল্যস্ফীতির হার কমেছে, কিন্তু গত কয়েক বছরে যে উচ্চ মূল্যস্তর তৈরি হয়েছে, তা নিচে নামেনি। ফলে বাজারে নতুন করে দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমলেও আগের বাড়তি দামের ওপরই নতুন দাম যোগ হচ্ছে।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে আগস্টে দেশের সার্বিক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ; অর্থাৎ এক মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে। কিন্তু একই সময়ে খাদ্যপণ্যের মাসওয়ারি মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ; অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমলেও বাজারে দামের স্তর কমেনি। আরো উদ্বেগের বিষয়, আগস্টে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশে; অর্থাৎ গড় মজুরি বৃদ্ধির হারও ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির নিচে। এর অর্থ গড়ে মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, তার চেয়ে সামান্য বেশি হারে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। ফলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
    মূল্যস্ফীতি কমলেই দাম কমে না : অর্থনীতির এই পার্থক্যটিই এখন সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি করছে। ধরা যাক, একটি পণ্যের দাম এক বছর আগে ছিল ১০০ টাকা। এক বছর পর দাম হলো ১০৮ টাকা। তা হলে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ। পরের বছর দাম ১০৮ টাকা থেকে ১১২ টাকা হলে মূল্যস্ফীতি কমে প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। কিন্তু পণ্যের দাম ১০০ টাকায় ফিরে যায়নি; বরং দুই বছরে তা ১২ টাকা বেড়েছে।
    বাংলাদেশের বাজারেও অনেকটা একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে চাল, তেল, ডাল, মাছ, গোশত, মসলা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও আগের মূল্যস্তর বহাল রয়েছে। ফলে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমার যে স্বস্তির কথা বলা হচ্ছে, তা বাজারে গিয়ে অনেক পরিবার অনুভব করছে না।
    এক বছরে কোন পণ্যে কী পরিবর্তন
    টিসিবির বাজারদর বিশ্লেষণেও এই দ্বৈত চিত্র স্পষ্ট। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি সময়ে কিছু পণ্যের দাম কমেছে, আবার বেশ কয়েকটি মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
    সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত টিসিবি-ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছর আগের থেকে মোটা চালের দাম প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ, সরু চাল ১১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং মাঝারি মানের চিকন চাল ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি ছিল। দেশী পেঁয়াজ অবশ্য গত বছরের একই সময়ের ১১০-১২০ টাকা থেকে নেমে ৫০-৬০ টাকার আশপাশে এসেছিল; অর্থাৎ পেঁয়াজে বড় ধরনের বার্ষিক স্বস্তি তৈরি হয়েছে।
    অন্য দিকে টিসিবির পরবর্তী এক বছর মেয়াদি তুলনায় দেখা গেছে, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, মাছ ও গোশতসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে; বিপরীতে পেঁয়াজ, রসুন ও ডিমের মতো কিছু পণ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। টিসিবি-ভিত্তিক ওই বিশ্লেষণে মোটা চাল, আটা, খোলা সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, ব্রয়লার মুরগি, রুই মাছ ও গরুর গোশতে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির কথা উঠে আসে; অর্থাৎ বাজারে এখন একক কোনো প্রবণতা নেই। কিছু পণ্যের দাম কমেছে, কিন্তু পরিবারের মোট খাদ্যঝুড়ির ব্যয় কমার মতো পর্যায়ে তা নামেনি।
    এক বছরের হিসাব ছাড়িয়ে এখনকার বাজার
    রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে পণ্যের দামে আবার নতুন করে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকায়। কয়েক দিন আগেও দাম ছিল ১৪০-১৪৫ টাকা; অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।
    সবজির বাজারেও একই সাথে বৃদ্ধি ও পতনের প্রবণতা রয়েছে। আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৫ টাকা, টমেটো ১০০, পেঁয়াজ ৫০, করলা ৮০, সাদা বেগুন ১২০ ও লম্বা বেগুন ১০০ টাকায়। সাদা বেগুন কিছু দিন আগেও ৯০-১০০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ৮০ টাকা ছিল।
    পটোল ৬০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। অন্য দিকে মুলা ৬০ থেকে কমে ৫০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে কমে ১২০ টাকা হয়েছে।
    লাউ আকারভেদে ৫০-৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং ধনেপাতা প্রায় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাস আগে আলু ছয় কেজি ১০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন কেজি ২৫ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
    মুরগির বাজারে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ব্রয়লার ১৮০ টাকা কেজি, যা প্রায় এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৯০ টাকা। তবে লেয়ার ও কক মুরগি প্রায় ৩৭০ টাকা কেজি।
    মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা কেজি। বিক্রেতাদের হিসাবে আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে। বড় পাঙ্গাশ ২২০-২৫০ টাকা এবং ছোট পাঙ্গাশ প্রায় ২০০ টাকা কেজি।
    এই ওঠানামার মধ্যেই প্রকৃত সমস্যা হলো- একটি পণ্যের দাম কমলেও অন্য কয়েকটি পণ্যের বৃদ্ধি সেই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে।
    নিম্নআয়ের পরিবারের বাজেটে কোথায় কাটছাঁট?
    ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ছয় সদস্যের সংসার চালান মনির হোসেন। তার মাসিক আয় প্রায় ১৮ হাজার টাকা এবং ছেলের আয় প্রায় ২৪ হাজার টাকা; অর্থাৎ পরিবারের মোট আয় প্রায় ৪২ হাজার টাকা।
    বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা এবং খাবারে ২৩-২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। প্রতিদিন বাজারে গড়ে ৭০০-৮০০ টাকা খরচ হয়।
    দেড় মাসে পরিবারের প্রায় ৫০ কেজি চাল লাগে। মাসে প্রায় ছয় লিটার ভোজ্যতেল প্রয়োজন। প্রতি লিটার ২১০ টাকা হিসাবে শুধু তেলেই মাসে প্রায় এক হাজার ২৬০ টাকা চলে যাচ্ছে।
    মনিরের হিসাবে, তিন-চার মাস আগেও নিত্যপণ্যের পেছনে মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা কম খরচ হতো। তার বক্তব্যের মূল সঙ্কটটি হলো- আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে।
    এর অর্থ মূল্যস্ফীতি শুধু বাজারের সমস্যা নয়; এটি পরিবারের বাজেট পুনর্বিন্যাসের সমস্যা। খাবারের ব্যয় বাড়লে চিকিৎসা, শিক্ষা, পোশাক, যাতায়াত কিংবা সঞ্চয়ে কাটছাঁট করতে হয়। নিম্নআয়ের পরিবারে এ কাটছাঁট আরো দ্রুত ঘটে।
    তেজগাঁওয়ের ক্ষুদ্র টং দোকানদার হাসানের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। দুই-তিন মাস আগে যেখানে সপ্তাহে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় কাঁচাবাজার করা যেত, এখন একই ধরনের বাজারে তার ব্যয় বেড়েছে। তার হিসাবে দুই-তিন মাসে সাপ্তাহিক বাজার খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
    আসল চাপ খাদ্যে নয়, ক্রয়ক্ষমতায়
    মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃত আয় বা ক্রয়ক্ষমতায়। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হলেও জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ; অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার ০ দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
    এই ব্যবধানকে ছোট মনে হলেও নিম্নআয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বড়। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও জ্বালানিতে চলে যায়। উচ্চ আয়ের পরিবারের মতো তারা ব্যয়ের বড় অংশ সহজে সঞ্চয় বা বিলাসী খাত থেকে কমিয়ে সামঞ্জস্য করতে পারে না।
    তাই মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে স্বস্তি আসতে হলে একই সাথে প্রয়োজন- খাদ্যপণ্যের মূল্যস্তর স্থিতিশীল হওয়া; প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি; সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি; পরিবহন ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যয় কমানো; বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো; এবং আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি।
    বাজারে সমস্যা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়
    নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় প্রায়ই আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানি ব্যয় ও ভর্তুকির প্রসঙ্গ সামনে আসে। তার মতে, এর পাশাপাশি দেশীয় কাঠামোগত অদক্ষতা, অস্বচ্ছ চুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমস্যাও বিবেচনায় নিতে হবে।
    তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো কার্যকরভাবে মোকাবেলা না করলে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যচাপ সামাল দেয়া কঠিন। তবে তার দাবি, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ঢাকায় পণ্যের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে- এটি তার একটি অনুমান; এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য পরিমাণগত প্রমাণ ছাড়া এটিকে বাজারদরের নিশ্চিত সম্ভাব্য পতন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
    এ জায়গাটিই নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে কোনো একটি পণ্যের দাম কত শতাংশ বেশি, সেটি জানা জরুরি; কিন্তু সেই অতিরিক্ত দামের কত অংশ উৎপাদন ব্যয়, কত অংশ পরিবহন, কত অংশ পাইকারি-খুচরা মার্জিন এবং কত অংশ অনানুষ্ঠানিক খরচ- সেটি না জানলে প্রকৃত কারণ নির্ণয় কঠিন।
    সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কঠিন
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, মূল্যস্ফীতি কমলেই বাজারে পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। মৌসুমি পণ্যের দাম, উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেশি থাকতে পারে।
    তার মতে, উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে বেসরকারি খাতকে সক্রিয় করা প্রয়োজন। বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
    এ বক্তব্যের সাথে সাম্প্রতিক বাজারচিত্রের একটি সরাসরি যোগ রয়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে, কিন্তু খাদ্যদ্রব্যের মাসওয়ারি মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে; অর্থাৎ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কমলেও মাসের মধ্যে বাজারদর বাড়ার চাপ ছিল।
    সরকারি পরিসংখ্যান বনাম বাজারের অভিজ্ঞতা- দু’টিই সত্য
    এখানে সরকারি পরিসংখ্যান এবং সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার মধ্যে আসলে কোনো সরাসরি বিরোধ নেই। বিবিএস বলছে, দাম বাড়ার হার কমেছে। ভোক্তা বলছেন, দাম কমেনি। দু’টি বক্তব্য একই সঙ্গে সত্য হতে পারে।
    মূল্যস্ফীতি হলো দাম বৃদ্ধির হার; এটি সরাসরি বাজারদরের মাত্রা নয়। ফলে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নামার অর্থ এই নয় যে বাজারে পণ্য ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বরং এর অর্থ এক বছর আগের তুলনায় সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো প্রায় ৮ শতাংশের বেশি হারে বেশি।
    আর এই উচ্চ মূল্যস্তর যখন একাধিক বছর ধরে জমা হয়, তখন সামান্য মূল্যস্ফীতি কমে সাধারণ মানুষের জীবনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি তৈরি নাও হতে পারে।
    সামনে নীতির বড় প্রশ্ন
    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখন মূল প্রশ্ন শুধু ‘হার কত’ নয়; বরং কোন পণ্যের দাম কত, কেন বেশি এবং কার আয় কতটা বাড়ছে- এ তিনটি বিষয় একসাথে দেখা।
    টিসিবির বাজারদর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং তাদের দৈনিক ও গত ৩০ দিনের বাজারদরের তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য শুধু তথ্য প্রকাশ যথেষ্ট নয়। কোন পণ্যে অস্বাভাবিক মার্জিন তৈরি হচ্ছে, কোথায় সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কোথায় পরিবহন বা মধ্যস্বত্বভোগীর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে- সেগুলোরও ধারাবাহিক অনুসন্ধান দরকার।
    কৃষি বিপণন অধিদফতরের বর্তমান বাজারদর ব্যবস্থাতেও পণ্যভিত্তিক, বাজারভিত্তিক ও সময়ভিত্তিক তুলনার সুযোগ রয়েছে; অর্থাৎ তথ্যের ঘাটতি পুরোপুরি নেই; ঘাটতি রয়েছে তথ্যকে দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে।
    স্বস্তির মাপকাঠি কোথায়?
    একজন নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ হবে তখনই, যখন মাস শেষে হাতে কিছু টাকা থাকবে। বাজার থেকে আগের চেয়ে বেশি পণ্য কেনা যাবে। চিকিৎসা বা সন্তানের পড়াশোনার জন্য ধার করতে হবে না। হঠাৎ ডিম, মাছ বা সবজির দাম বাড়লে পুরো খাদ্যতালিকা পাল্টাতে হবে না।
    সুতরাং মূল্যস্ফীতির ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নামা একটি ইতিবাচক পরিসংখ্যানগত পরিবর্তন হলেও এটিকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমে যাওয়ার সমার্থক বলা যাবে না; বরং বর্তমান বাস্তবতা হলো- মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে, কিন্তু উচ্চ মূল্যস্তর রয়ে গেছে; একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হারও মূল্যস্ফীতির নিচে নেমেছে।
    টিসিবির এক বছরের তুলনাতেও একই দ্বৈত চিত্র- পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যে বড় স্বস্তি, কিন্তু চাল, তেল, ডাল, মাছ-গোশতসহ বহু প্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয়ের চাপ।
    তাই বাজারে প্রকৃত স্বস্তি আনতে শুধু মূল্যস্ফীতির হার কমানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মূল্যস্তর স্থিতিশীল করা, প্রকৃত আয় বাড়ানো এবং উৎপাদন-সরবরাহ থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলে অদক্ষতা ও অস্বাভাবিক ব্যয় কমানো।
    কারণ শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের কাছে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানটি হলো- মাস শেষে বেতন বা আয় থেকে বাজার করার পর হাতে কত টাকা থাকে।

  • ৫ বছরের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে

    ৫ বছরের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। ৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরবরাহ ও সাপ্লাই চেইনের মধ্য একটা বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে বাজারে এখনো স্থিতিশীলতা নেই। ভর্তুকির মাধ্যমে টিসিবি যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা দেশের মানুষের জন্য উপকারী হবে।

    তিনি জানান, টিসিবির কার্ড ডিজিটাল রূপান্তর করার ফলে, ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। টিসিবির কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও যাতে কার্ডধারীরা পণ্য পাওয়া থেকে বাদ না পড়েন, সে ব্যবস্থা করা হবে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এই সেবা আরও সহজ করা হবে।

  • সরকারি কোম্পানির কর্মীরা আসছেন ‘প্রগতি’ পেনশন স্কিমে

    সরকারি কোম্পানির কর্মীরা আসছেন ‘প্রগতি’ পেনশন স্কিমে

    সরকারি মালিকানাধীন যেসব কোম্পানির কর্মীরা সরকারের প্রচলিত পেনশন সুবিধা পান না, তাদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

    একই সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালু, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনির সুবিধার বয়সসীমা বাড়ানো এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কর্তৃপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর যেসব কর্মী সরকারের সরাসরি পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নেই, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মীর অবসর-সুবিধা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির চাকরি বিধি ও নিজস্ব ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে; তারা সরকারি সিভিল কর্মচারীদের মতো রাষ্ট্রীয় পেনশন পান না। সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও আনুতোষিকের জন্য আলাদা সরকারি ব্যবস্থা রয়েছে।

    প্রগতি স্কিমে সরকারি কোম্পানির কর্মীরা

    জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মীরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন, যারা সরাসরি সরকারি চাকরির পেনশন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত নন।

    তবে কোন কোন কোম্পানির কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন, তার পূর্ণ তালিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    সর্বোচ্চ মুনাফা ১১.৭২%

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলে ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ।

    এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১১.৬১% মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।

    ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    চালু হবে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা

    সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে পর্ষদ।

    এ বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থার জন্য আলাদা বিধিমালা করা হবে বলে জানান নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    ৫৫ বছর থেকে পেনশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা

    ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়ার প্রস্তাবটি একচুরিয়াল পরামর্শ নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

    ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, অন্যান্য দেশের অবসর ও পেনশন ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, স্পেনে ৬৭ বছর এবং যুক্তরাজ্যে ৬৬ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। তাই ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবটি আর্থিক ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হবে।

    নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়স ৮০ বছর

    পেনশনভোগী মারা গেলে তার নমিনির পেনশন সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, পেনশনভোগীর স্বামী বা স্ত্রী পেনশনভোগীর ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন।

    পাঁচ বছর পর টাকা তুলে বের হওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনায়

    পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পাঁচ বছর পর অংশগ্রহণকারী তার জমা করা পুরো অর্থ তুলে নিয়ে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন—এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান ড. সুরাতুজ্জামান।

    পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে। ঋণ দেওয়া হলে তাতে অংশগ্রহণকারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ঋণের সুদের হারও একচুরিয়াল পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

    স্বাস্থ্যবীমা নিয়েও পর্যালোচনা

    পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবীমা চালু করা হবে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব বা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পেনশন তহবিলের আকার আরও বড় হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বিদেশ যাওয়ার সময় পেনশনে অন্তর্ভুক্তির তথ্য

    প্রবাসীদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে বিদেশে যাওয়ার সময়ই তাদের এ কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হবে।

    এ জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে জানান ড. সুরাতুজ্জামান।

    এ ছাড়া পেনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানিগুলোর অন্তর্ভুক্তির এককালীন ফি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেনশন তহবিল বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্মের মাধ্যমে অডিট করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

  • এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বল স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়বহুল দুই প্রকল্প

    এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বল স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়বহুল দুই প্রকল্প

    বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা স্বাস্থ্য খাতে এবার সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যক্ষ্মা, এইচআইভি বা এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মা-শিশু ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে প্রকল্প দুটিতে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আইএমইডির তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এডিপি বরাদ্দের মাত্র ৩১ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৩৬.৭২ শতাংশ অর্থ খরচ করতে পেরেছে। এমন বাস্তবতায় বড় অঙ্কের নতুন প্রকল্প নেওয়া নিয়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    আজ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সভায় স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের মোট ১৫টি প্রকল্প উঠবে।

    পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপির বিপরীতে বাস্তবায়ন হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৬৭.৫২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা এডিপি বাস্তবায়নের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা খাতগুলোর একটি স্বাস্থ্য।

    এর মধ্যেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন এডিপিতে এ খাতে রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্থ এ খাতে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    প্রস্তাবিত দুই প্রকল্পের মধ্যে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে প্রায় ৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। দ্য গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস, টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া থেকে অনুদান হিসেবে আসবে প্রায় ৮৭০ কোটি টাকা।

    প্রকল্পটির বড় অংশ ব্যয় হবে চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে। চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কেনায় ১ হাজার ৪৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে ৯৫৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পুষ্টি সহায়তায় ব্যয় হবে ৪১৬ কোটি টাকা। স্থানীয় প্রশিক্ষণে ৭০ কোটি এবং জরিপে ১৪৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৮ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ লাখ মানুষের প্রতিরোধমূলক যক্ষ্মা চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ২৩টি অগ্রাধিকার জেলায় চলমান কার্যক্রম ৬৪ জেলার হাসপাতাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। মেয়াদ শেষে সম্ভাব্য এইচআইভি আক্রান্তদের ৮৫ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

    ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণেও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের। এর মধ্যে বান্দরবানে ৪১ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৩৬ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৯ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতি হাজারে আক্রান্তের হার একের নিচে নামিয়ে আনা এবং ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।

    তবে প্রকল্পটির মূল্যায়নে কিছু দুর্বলতাও উঠে এসেছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগের কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের মাত্র ২০ শতাংশ সচল রয়েছে। তাই নতুন যন্ত্রপাতি কেনার আগে বিদ্যমান সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং বৈদেশিক অনুদান শেষ হওয়ার পর কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাস্তবসম্মত ‘এক্সিট প্ল্যান’ তৈরির কথা বলা হয়েছে। অন্য প্রকল্প ‘হেলথ সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং থ্রু এমএনসিএইচ সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড এনসিডি কন্ট্রোল’-এ ব্যয় হবে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ মেয়াদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রাস্ট এটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারের অর্থায়ন ৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং জাইকার ঋণ ৩২১ কোটি ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

    প্রকল্পের আওতায় ১৪ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক, ৪৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ৩০টি জেলা হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। মা, নবজাতক ও শিশুর চিকিৎসার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা ও ফলোআপের ব্যবস্থা করা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে উচ্চতর প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর রেফারেল ব্যবস্থাও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। হৃদরোগেই প্রায় ৩৪ শতাংশ মৃত্যু ঘটে। ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার ৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের হার ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে এসব রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কিনতে ১৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা, স্থানীয় প্রশিক্ষণে ১০৪ কোটি ৩৭ লাখ এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। গবেষণায় ৮ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার এবং বিদেশি প্রশিক্ষণে ৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

  • আইপিওর পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে বিএসইসি

    আইপিওর পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে বিএসইসি

    দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য আইপিওর পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন মূলধন প্রয়োজন এমন কোম্পানিগুলো বিদ্যমান নিয়ম মেনে আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসতে পারবে। আর নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, তবে পুরোনো শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে চায়—এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য রাখা হচ্ছে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পথ।

    বুধবার বিএসইসির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চায়, তাদের ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৫’ অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। ইতোমধ্যে আইপিওর জন্য আবেদন করা কিংবা নতুন করে আবেদন করতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোকে ভবিষ্যতে বিধিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে—এমন কারণে তাদের আবেদন স্থগিত বা প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার প্রয়োজন নেই।

    বিএসইসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, সংশোধন বা শিথিলতা আনা হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদন করা কোম্পানিগুলোও সেই সুবিধার আওতায় আসবে।

    অন্যদিকে, এমন কিছু প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি রয়েছে যাদের ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের জন্য নতুন মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। তবে বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোড করে পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি চান। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করছে কমিশন।

    প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থায় কোম্পানিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করে জনসাধারণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে হবে না। বরং বিদ্যমান শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমেই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে।

    এ জন্য ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে বিএসইসি। খসড়াটি জনমত আহ্বানের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী কোম্পানিগুলো ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।

    বিএসইসির ভাষ্য, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে পুঁজিবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বাজারের গভীরতা ও পরিধিও বাড়তে পারে।

    কমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৬’ খুব শিগগির গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করা হবে। ফলে প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং কাঠামোর আওতায় পড়তে পারে এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি।

    কমিশনের মতে, কোম্পানির ধরন ও প্রয়োজন বিবেচনায় তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

    জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

    অনলাইনভিত্তিক তৈরি পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনারের নির্দেশনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের সেকশন-১২ এলাকায় জে-ক্রিয়েশনের কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি ও বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক বিক্রি করে।

    অভিযানের সময় মূসক ফাঁকির আলামত পাওয়ার পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মূসক-১২.৩ ফরমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সিপিইউসহ বিভিন্ন দলিলপত্র জব্দ করা হয়।

    পরে জব্দ করা নথি ও প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে সংগৃহীত দলিলপত্র আরো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

    ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

    প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশ পরিবহণ ও মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

    নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।

    মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়ন এবং প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একইসাথে এ সময় ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ ও বাজারজাত ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরো জোরদার করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইলিশের হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেয়া হবে।’

    অবৈধভাবে ধরা ইলিশ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ৎ ও বাজারগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেয়া যাবে না।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরো বাড়বে।’

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে। এই সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।’

    ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।’

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, ‘বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।’

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

    সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে গিয়ে একটি ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের জন্য আর আটকে থাকতে হবে না বিনিয়োগকারীকে। ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে। এ জন্য জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালু হয়েছে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস)।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে আজ মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর করা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব এখন তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বাস্তবায়িত স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এনএসসি সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বলছে, এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর এন্ট্রির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীর ভোগান্তি হ্রাস পাবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজও কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে পাঠানো সহজ হবে।

    ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি) সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহক সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সঙ্গে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮,০০০ নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়। গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু ছিল। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো ব্যাংক হিসাব যাচাই কার্যক্রম।

    পূর্বে অনলাইন সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। আবেদনকারী যে হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই হুবহু সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়া হতো। কোনো সংখ্যা ভুল হলে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো মুনাফা বা মূল অর্থ ফেরত আসত। পরে তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তির পাশাপাশি ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপ বাড়ত। ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।

    নতুন ব্যবস্থায় এনএসসি সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে সেটি যাচাই করা হবে। প্রথমে দেখা হবে হিসাব নম্বরটি সঠিক ও সচল কি না। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে লেনদেনের আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য ধরা পড়বে।

    এভিএস দুই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় ব্যাংক হিসাব যাচাই হবে। আবার কেনার পর বিনিয়োগকারী ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে নতুন হিসাবটিও একইভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই করা হবে।

    অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা সঞ্চয়পত্রের লেনদেনকে আরো নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করবে। এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক লেনদেনে ভুল কমবে এবং গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ সঠিক সময়ে দ্রুত ও নিরাপদভাবে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।