অর্থ ও বাণিজ্য

  • পোলারের নতুন ‘পিস্তা গ্লেজ’ আইসক্রিম

    পোলারের নতুন ‘পিস্তা গ্লেজ’ আইসক্রিম

    ভোক্তাদের জন্য নতুন স্বাদের আইসক্রিম বাজারে এনেছে পোলার আইসক্রিম। ‘পিস্তা গ্লেজ’ নামের এই আইসক্রিমে ক্রিমি পিস্তাচিও, রোস্টেড পিস্তা ডাইস ও চকোলেট চিপসের সমন্বয় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পিস্তা গ্লেজ আইসক্রিমের উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে পোলার আইসক্রিমের চিফ অপারেটিং অফিসার শাহ্ মাসুদ ইমাম বলেন, ‘বর্তমান বাজারে আসল পিস্তাচিওর স্বাদের আইসক্রিমের অভাব পূরণের লক্ষ্যে আমরা অথেনটিক পিস্তাচিওর স্বাদে পিস্তা গ্লেজ আইসক্রিম বাজারে আনছি।’

    অনুষ্ঠানে পোলার আইসক্রিমের হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন রাশেদ সরোয়ার, হেড অব মার্কেটিং মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেজুতি সালেক সেতু, হেড অব এইচআর অ্যান্ড আইটি কাজী সাইফুল ইসলাম, জিএম-ফ্যাক্টরি অ্যান্ড প্রজেক্ট মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, হেড অব সাপ্লাই চেইন সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন, হেড অব প্ল্যান্ট অপারেশন মোহাম্মদ ইফতেখার আহসান এবং হেড অব ইন্টারনাল অডিট নিজামুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক শরৎ মেলা শুরু ৭ অক্টোবর

    পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক শরৎ মেলা শুরু ৭ অক্টোবর

    শরতের শুভ্রতা, বাংলার ঐতিহ্য এবং দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে একসূত্রে গাঁথতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আয়োজন করেছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা আগামী ৭ অক্টোবর শুরু হবে। চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত।

    তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বিসিক ভবনের নিচতলায় প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে।

    বিসিক সূত্র জানায়, এবারের আসরে মোট ৬০টি স্টল বসবে। দেশীয় ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তাদের কর্মপ্রয়াসকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তারা তাদের নান্দনিক ও মানসম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন।

    মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ৭ অক্টোবর বেলা ৩টা অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান।

  • স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে

    স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে

    ডলারের তেজ আর বন্ডের সুদের হার বাড়ায় বিশ্ববাজারে ফের কমেছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে টানা এক সপ্তাহের ব্যবধানে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে লাভহীন এই মূল্যবান ধাতু।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ ডলারে নেমে এসেছে। সবমিলিয়ে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। এছাড়া মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দামও ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৬২ ডলারে ঠেকেছে।

    বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান বলেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড এখনো কঠোর নীতিতে অটল থাকায় বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত আশা করতে ভয় পাচ্ছেন। সামনে মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারের দুর্বলতা ফেড কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা ও চড়া সুদের হারের কারণে স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।

    বিশ্ববাজারের মতো অন্য ধাতুর অবস্থাও ভালো নয়। রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে, যা সার্বিকভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারকে সাপ্তাহিক লোকসানের মুখে ফেলেছে।

    এদিকে এর প্রভাব দেশের বাজারেও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার নেবে সরকার

    অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার নেবে সরকার

    চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে নিট ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ডিসেম্বর প্রান্তিকের ট্রেজারি বিল-বন্ডের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কারণে সরকারের অর্থের চাহিদা বাড়ছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় ২৯ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় আদায় কমেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

    নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আগামী তিন বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

    এর মধ্যে চলতি বছরই অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। জুলাই, ডিসেম্বর ও আগামী বছরের জুলাইয়ে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে। এছাড়া ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ধরনের ভাতা পাবেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ কোন খাতে ব্যয় হবে, তা নির্ধারণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    তবে সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়লে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়বে। এতে ভবিষ্যতে রাজস্ব আয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

  • ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

    ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

    দেশের কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার ক্রয় ও আমদানির একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিসিজিপির ৪৭তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট ১৯টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সার ক্রয়-সংক্রান্ত সাতটি প্রস্তাব ছিল।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয়ের তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

    এর মধ্যে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩৮ দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ব্যাগিং চার্জ হিসেবে রয়েছে পাঁচ মার্কিন ডলার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এটি তৃতীয় লটের সার ক্রয়।

    এছাড়া সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ১০ শতাংশ কম-বেশির সুযোগসহ ৪০ হাজার টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬৩ দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার।

    অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ১০ শতাংশ কম-বেশির সুযোগসহ আরো ৪০ হাজার টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪৫ মার্কিন ডলার।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার আমদানির চারটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

    এর মধ্যে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানির দু’টি প্রস্তাব রয়েছে। ষষ্ঠ লটে ৪০ হাজার টন এবং সপ্তম লটে ৪০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। প্রতিটি লটের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৮৭৭ মার্কিন ডলার।

    একই প্রতিষ্ঠান থেকে অষ্টম লটে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

    এছাড়া নবম লটে ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে ৪০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

    কৃষি মৌসুমে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা এবং সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এসব সার ক্রয় ও আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

  • সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ডলার

    সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ডলার

    গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আগস্টে যার পরিমাণ ছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে আগস্টের তুলনায় রেমিট্যান্স ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। তবে বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং ওই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। বিশেষ করে নতুন কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার হার কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে এর প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে ভিসা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ির কারণে নতুন কর্মী যাওয়ার গতি কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়াও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলছে।

    বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। গত বছরের একই ছয় মাসে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। চলতি বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বিদেশে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৯ হাজার ১১ জন। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।

    ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বৈধ চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার ও সরকারের নগদ প্রণোদনা রেমিট্যান্সকে এখনো উৎসাহিত করছে। ফলে মাসভিত্তিক প্রবাহ কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    টানা চার মাস ধরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। জুলাই ও জুন মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল যথাক্রমে ২৮৬ কোটি ও ২৮২ কোটি ডলার। তবে এর আগে টানা ছয় মাস দেশের প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার বা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টানা চার মাস প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও এটিকে এখনই বড় ধরনের পতন বলা ঠিক হবে না। কারণ, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—চার মাসেই প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি এসেছে। বরং কয়েক মাসের অস্বাভাবিক উচ্চ প্রবাহের পর প্রবাসী আয় এখন কিছুটা স্বাভাবিক বা মৌসুমি পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন তারা।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

    গতকাল বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, স্বস্তির বিষয় হলো রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈদেশিক খাতে কিছুটা সহায়তা দিয়েছে। তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হারও আমদানি করা পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।

  • দুই ভাই-বোন চেয়ারম্যান, ডুবছে দুই প্রাইভেট ব্যাংক

    দুই ভাই-বোন চেয়ারম্যান, ডুবছে দুই প্রাইভেট ব্যাংক

    পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেঘনা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের হাতে। আর মিডল্যান্ড ব্যাংক ছিল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর মেঘনা ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী। মিডল্যান্ড ব্যাংকের শীর্ষ পদে আসীন হন একই গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। নতুন ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর থেকে ব্যাংক দুটিতে খেলাপি ঋণ আরো বেড়েছে।

    জানা যায়, ২০১৩ সালে চালুর সময় উজমা চৌধুরী ছিলেন মেঘনা ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা। ব্যাংকটি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরই ব্যাংকটি উজমা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে।

    অন্যদিকে আহসান খান চৌধুরীও ২০১৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় উদ্যোক্তা ছিলেন । মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সর্বশেষ তার স্ত্রী নিলুফার জাফরুল্লাহ ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ব্যাংকের সভায় অনুপস্থিত হতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক দুটিতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন উজমা চৌধুরী। দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৬০ শতাংশ।

    এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান উজমা চৌধুরীকে কল করা হলে তিনি আমার দেশ-এর প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন। পরে কল দিলেও আর রিসিভ করেননি। ব্যাংকটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

    এদিকে আহসান খান চৌধুরী মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৬৭ শতাংশ।

    ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী ও এমডি ইমতিয়াজ ইউ আহমেদকে ফোন করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

    ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, একই পরিবারের দুই ভাই-বোন দেশের দুটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো সব সময়ই খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে। এর আগেও এসব চিত্র দেখা গেছে।

  • জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

    জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

    জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিলের সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    আদেশে বলা হয়, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ ভ্যাট রিটার্ন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি।

    এ অবস্থায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪ এর উপ-ধারা (৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে যেসব প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন এখনো ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি, তাদের জন্য সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন অবশ্যই ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

    জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

  • ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন ৭২৩ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন ৭২৩ কোটি টাকা

    দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচকের বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩১ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

    বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ২২ কোটি ৯৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭২টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭২৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

    অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ দশমিক ২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ২৪২টির দাম কমেছে এবং ৫৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, মালেক স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ স্টিল, সায়হাম কটন, ইভিন্স টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইলস ও আরগন ডেনিমস।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- তুং হাই নিটিং, ডমিনেজ স্টিল, সমতা লেদার, পিপলস লিজিং, বাংলাদেশ অটোকারস, আরগন ডেনিমস, প্রিমিয়ার লিজিং, সায়হাম টেক্সটাইল, ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও অ্যাপেক্স ট্যানারি।

    অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ন্যাশনাল পলিমার, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ১৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এবং ১৫ বছর মেয়াদি বিজিটিবি (ইএমই)।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটররা

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটররা

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক একটি টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

    আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএ’স নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই)’ শীর্ষক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার খসড়া কনসেশন চুক্তির প্রস্তাবটি কমিটির কাছে উপস্থাপন করে।

    চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।

    এর গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধাগুলোর মধ্যে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল অন্যতম। নতুন চুক্তির আওতায় টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।